13. আর রা‘দ
الٓمّٓرٰ ۫ تِلْكَ اٰیٰتُ الْكِتٰبِ ؕ وَ الَّذِیْۤ اُنْزِلَ اِلَیْكَ مِنْ رَّبِّكَ الْحَقُّ وَ لٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا یُؤْمِنُوْنَ 1
1. আলিফ-লাম-মিম-র। এগুলো আল্লাহর কিতাবের আয়াত। হে নবী, তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার কাছে যা কিছু নাযিল হয়েছে, তা যথার্থ সত্য। যদিও অধিকাংশ লোক এ সত্য মানতে চাচ্ছে না।
اَللّٰهُ الَّذِیْ رَفَعَ السَّمٰوٰتِ بِغَیْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ثُمَّ اسْتَوٰی عَلَی الْعَرْشِ وَ سَخَّرَ الشَّمْسَ وَ الْقَمَرَ ؕ كُلٌّ یَّجْرِیْ لِاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ یُدَبِّرُ الْاَمْرَ یُفَصِّلُ الْاٰیٰتِ لَعَلَّكُمْ بِلِقَآءِ رَبِّكُمْ تُوْقِنُوْنَ 2
2. তোমরা দেখতে পাচ্ছো, কোনো ধরনের খুটি ছাড়াই আল্লাহ তোমাদের মাথার উপরে আকাশকে স্থাপন করেছেন। অতঃপর নিজে মহান আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করেছেন। প্রত্যেকেই নিজ কক্ষপথে নির্দিষ্ট সময়ে আবর্তিত হয়। এক কথায় মহাবিশ্বের সবকিছুই আল্লাহর ব্যবস্থাপনায় চলছে। এভাবেই তিনি তাঁর আয়াতগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যাতে আল্লাহর সামনে হাজির হওয়ার ব্যাপারে তোমাদের আন্তরিক বিশ্বাস জন্মে।
وَ هُوَ الَّذِیْ مَدَّ الْاَرْضَ وَ جَعَلَ فِیْهَا رَوَاسِیَ وَ اَنْهٰرًا ؕ وَ مِنْ كُلِّ الثَّمَرٰتِ جَعَلَ فِیْهَا زَوْجَیْنِ اثْنَیْنِ یُغْشِی الَّیْلَ النَّهَارَ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّتَفَكَّرُوْنَ 3
3. তিনি জমিনকে বিস্তৃত করেছেন এবং তার মধ্যে পাহাড়-পর্বত গেড়ে দিয়েছেন ও নদ-নদী প্রবাহিত করেছেন। তিনি দুই বিপরীত লিঙ্গে সব ধরনের ফল সৃষ্টি করেছেন। তিনি দিনকে রাত দ্বারা আবৃত করে দেন। এসব নিদর্শনের মধ্যে চিন্তা-ভাবনাশীল লোকদের শেখার অনেক কিছু আছে।
وَ فِی الْاَرْضِ قِطَعٌ مُّتَجٰوِرٰتٌ وَّ جَنّٰتٌ مِّنْ اَعْنَابٍ وَّ زَرْعٌ وَّ نَخِیْلٌ صِنْوَانٌ وَّ غَیْرُ صِنْوَانٍ یُّسْقٰی بِمَآءٍ وَّاحِدٍ ۫ وَ نُفَضِّلُ بَعْضَهَا عَلٰی بَعْضٍ فِی الْاُكُلِ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّعْقِلُوْنَ 4
4. লক্ষ্য করো, পৃথিবীর সব ভূখন্ডই পরস্পর সংযুক্ত। এ জমিনেই রয়েছে আঙুরের বাগান, রয়েছে শস্যক্ষেত। আরো রয়েছে এক মাথাওয়ালা ও বহু মাথাওয়ালা খেজুর গাছ। এসব বাগানে একই পানির সেচ দেওয়া হয়; অথচ ফলগুলো একটা আরেকটা থেকে স্বাদের ব্যাপারে ভিন্ন। এসবই এক সত্তার অস্তিত্বের প্রমাণ। বুদ্ধিজ্ঞান সম্পন্ন লোকেরা এ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
وَاِنْ تَعْجَبْ فَعَجَبٌ قَوْلُهُمْ ءَاِذَا كُنَّا تُرٰبًا ءَاِنَّا لَفِیْ خَلْقٍ جَدِیْدٍ ؕ۬ اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِرَبِّهِمْ ۚ وَاُولٰٓىِٕكَ الْاَغْلٰلُ فِیْۤ اَعْنَاقِهِمْ ۚ وَاُولٰٓىِٕكَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ 5
5. হে নবী, সবচেয়ে বিস্ময়কর কথা তো সত্য অস্বীকারকারীরা বলছে। ওরা বলে, কী! মরে মাটিতে মিশে যাওয়ার পর নাকি আমরা আবার নতুন করে জীবিত হবো? আসলে ওরা ওদের রবের সক্ষমতাকে অস্বীকার করছে। ওরা জেনে রাখুক, অচিরেই ওদের গলায় শিকলের বেড়ি পরানো হবে। জাহান্নামই হবে ওদের নিবাস। চিরকালের জন্য ওরা সেখানে পড়ে থাকবে।
وَ یَسْتَعْجِلُوْنَكَ بِالسَّیِّئَةِ قَبْلَ الْحَسَنَةِ وَ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِمُ الْمَثُلٰتُ ؕ وَ اِنَّ رَبَّكَ لَذُوْ مَغْفِرَةٍ لِّلنَّاسِ عَلٰی ظُلْمِهِمْ ۚ وَ اِنَّ رَبَّكَ لَشَدِیْدُ الْعِقَابِ 6
6. হে নবী, এসব সত্য অস্বীকারকারীরা নিজেদের ব্যাপারে কল্যাণের বদলে আমার আযাবকে ত্বরান্বিত করার চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে। অথচ ওদের শিক্ষা নেয়া উচিত, ওদের মতো বহুজাতি আমার আযবে ধ্বংস হয়ে গেছে। আসলে সীমালঙ্ঘন করার পরেও তোমার রব মানুষকে ক্ষমা করে থাকেন। যদিও তোমার রব শাস্তি দানে মারাত্মক কঠোর।
وَ یَقُوْلُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَوْ لَاۤ اُنْزِلَ عَلَیْهِ اٰیَةٌ مِّنْ رَّبِّهٖ ؕ اِنَّمَاۤ اَنْتَ مُنْذِرٌ وَّ لِكُلِّ قَوْمٍ هَادٍ۠ 7
7. সত্য প্রত্যাখ্যানকারীরা অভিযোগ করে, ইনি যদি নবীই হবেন, তবে এর প্রমাণে তার রবের পক্ষ থেকে কোনো অলৌকিক নিদর্শন নাযিল হয় না কেন? নবী হে, আসলে তুমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র। এভাবেই প্রত্যেক জাতি-গোষ্ঠীর জন্য পথ প্রদর্শক পাঠিয়েছি।
اَللّٰهُ یَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ اُنْثٰی وَ مَا تَغِیْضُ الْاَرْحَامُ وَ مَا تَزْدَادُ ؕ وَ كُلُّ شَیْءٍ عِنْدَهٗ بِمِقْدَارٍ 8
8. প্রত্যেক নারী তার গর্ভে যা ধারণ করে এবং তার সে সন্তানের পূর্ণতা-অপূর্ণতা ও সময়ের কম-বেশি সম্পর্কে আল্লাহ পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। আসলে আল্লাহ প্রতিটি জিনিসই সৃষ্টি করেন নির্দিষ্ট নিয়ম ও মাপ অনুসারে।
عٰلِمُ الْغَیْبِ وَالشَّهَادَةِ الْكَبِیْرُ الْمُتَعَالِ 9
9. তিনি সৃষ্টির অদৃশ্য ও দৃশ্য সব বিষয়ে পূর্ণ ওয়াকিবহাল। তিনি সুমহান এবং মহা মর্যাদাবান।
سَوَآءٌ مِّنْكُمْ مَّنْ اَسَرَّ الْقَوْلَ وَ مَنْ جَهَرَ بِهٖ وَ مَنْ هُوَ مُسْتَخْفٍۭ بِالَّیْلِ وَ سَارِبٌۢ بِالنَّهَارِ 10
10. জেনে রেখো, তোমাদের যে কেউ চুপেচুপে কথা বলুক কিংবা প্রকাশ্যে বলুক, রাতের আঁধারে চলুক অথবা দিনের আলোয় চলুক সব অবস্থায় আল্লাহ সবকিছু সমানভাবে দেখেন।
لَهٗ مُعَقِّبٰتٌ مِّنْۢ بَیْنِ یَدَیْهِ وَ مِنْ خَلْفِهٖ یَحْفَظُوْنَهٗ مِنْ اَمْرِ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یُغَیِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتّٰی یُغَیِّرُوْا مَا بِاَنْفُسِهِمْ ؕ وَ اِذَاۤ اَرَادَ اللّٰهُ بِقَوْمٍ سُوْٓءًا فَلَا مَرَدَّ لَهٗ ۚ وَ مَا لَهُمْ مِّنْ دُوْنِهٖ مِنْ وَّالٍ 11
11. প্রত্যেক মানুষের সামনে ও পিছনে আল্লাহর পক্ষ থেকে একাধিক পাহারাদার রয়েছে, যারা আল্লাহর হুকুমে তার সকল কাজকর্মের দেখাশুনা করছে। আসলে কোনো জনগোষ্ঠী নিজেদের উদ্যোগে না বদলালে, আল্লাহ নিজে থেকে তাদের অবস্থান বদলিয়ে দেন না। আর আল্লাহ যখন অবাধ্যতার কারণে কোনো কওমকে শাস্তি দেয়ার ফয়সালা করেন, তখন তা ঠেকানোর ক্ষমতা কারো নেই। আল্লাহ ছাড়া তাদেরকে কেউ বাঁচাতে পারে না।
هُوَ الَّذِیْ یُرِیْكُمُ الْبَرْقَ خَوْفًا وَّ طَمَعًا وَّ یُنْشِئُ السَّحَابَ الثِّقَالَۚ 12
12. তিনি তোমাদের দেখান বিদ্যুতের চমক, যা তোমাদের মধ্যে ভয় ও আশার সঞ্চার ঘটায়। আর তিনিই বৃষ্টিগর্ভা মেঘমালা উত্থিত করেন।
وَ یُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهٖ وَ الْمَلٰٓىِٕكَةُ مِنْ خِیْفَتِهٖ ۚ وَ یُرْسِلُ الصَّوَاعِقَ فَیُصِیْبُ بِهَا مَنْ یَّشَآءُ وَ هُمْ یُجَادِلُوْنَ فِی اللّٰهِ ۚ وَ هُوَ شَدِیْدُ الْمِحَالِؕ 13
13. মেঘের প্রতিটি গর্জনই আল্লাহর প্রশংসা, মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করছে এবং ফেরেশতারা ভীত সন্ত্রস্তভাবে সবসময় তাঁর গুণগানে ব্যস্ত রয়েছে। তিনি বজ্রপাত ঘটান এবং তা দিয়ে যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন। অথচ এসব দেখেও লোকেরা আল্লাহর ব্যাপারে বিতর্কে জড়াচ্ছে। ওরা জেনে রাখুক, আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশালী এবং অপ্রতিরোধ্য।
لَهٗ دَعْوَةُ الْحَقِّ ؕ وَ الَّذِیْنَ یَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِهٖ لَا یَسْتَجِیْبُوْنَ لَهُمْ بِشَیْءٍ اِلَّا كَبَاسِطِ كَفَّیْهِ اِلَی الْمَآءِ لِیَبْلُغَ فَاهُ وَ مَا هُوَ بِبَالِغِهٖ ؕ وَ مَا دُعَآءُ الْكٰفِرِیْنَ اِلَّا فِیْ ضَلٰلٍ 14
14. একমাত্র আল্লাহই মানুষের প্রার্থনায় সাড়া দিতে সক্ষম। তাঁকে বাদ দিয়ে লোকেরা অন্য যেসব খোদাদের কাছে প্রার্থনা করে, তারা ওদের ডাকে সাড়া দিতে পারে না। এ ধরনের প্রার্থনার দৃষ্টান্ত হলো এমন যে, কোনো লোক পানির দিকে দু’হাত বাড়িয়ে দিয়ে ভাবে, পানি আপনা-আপনি তার মুখে ঢুকে যাবে। অথচ পানি কখনো নিজে নিজে তার মুখে ঢুকতে পারে না। এভাবেই কাফেরদের দোয়া বরাবরই নিষ্ফল হয়।
وَ لِلّٰهِ یَسْجُدُ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ طَوْعًا وَّ كَرْهًا وَّ ظِلٰلُهُمْ بِالْغُدُوِّ وَ الْاٰصَالِ۩ 15
15. ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায় মহাকাশ ও পৃথিবীর প্রতিটি বস্তু আল্লাহকে সিজদা করে। এমনকি এসবের ছায়াগুলোও আল্লাহর সামনে সকাল-সন্ধ্যা লুটিয়ে পড়ে। (সিজদা)
قُلْ مَنْ رَّبُّ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ قُلِ اللّٰهُ ؕ قُلْ اَفَاتَّخَذْتُمْ مِّنْ دُوْنِهٖۤ اَوْلِیَآءَ لَا یَمْلِكُوْنَ لِاَنْفُسِهِمْ نَفْعًا وَّ لَا ضَرًّا ؕ قُلْ هَلْ یَسْتَوِی الْاَعْمٰی وَ الْبَصِیْرُ ۙ۬ اَمْ هَلْ تَسْتَوِی الظُّلُمٰتُ وَ النُّوْرُ ۚ۬ اَمْ جَعَلُوْا لِلّٰهِ شُرَكَآءَ خَلَقُوْا كَخَلْقِهٖ فَتَشَابَهَ الْخَلْقُ عَلَیْهِمْ ؕ قُلِ اللّٰهُ خَالِقُ كُلِّ شَیْءٍ وَّ هُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ 16
16. হে নবী, এ মুশরিকদের জিজ্ঞেস করো, কে মহাকাশ ও পৃথিবীর আসল রব? তুমিই বলে দাও, আল্লাহ। জিজ্ঞেস করো, তবে কেন তোমরা তাকে বাদ দিয়ে এমন কাউকে উপাস্য বানাচ্ছো, যারা নিজেদেরই সামান্য উপকার কিংবা ক্ষতি কোনোটাই করতে পারে না? জিজ্ঞেস করো, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? আলো ও অন্ধকার কি কখনো এক হতে পারে? নাকি ওদের এসব শরিক খোদারা আল্লাহর সৃষ্টির মতো কোনো কিছু সৃষ্টি করতে পেরেছে, যা দেখে ওদের মনে হচ্ছে যে, এসব খোদারাও সৃষ্টি করতে সক্ষম? তুমি বলে দাও, একমাত্র আল্লাহই সব কিছুর স্রষ্টা তিনি একক এবং সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।
اَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَسَالَتْ اَوْدِیَةٌۢ بِقَدَرِهَا فَاحْتَمَلَ السَّیْلُ زَبَدًا رَّابِیًا ؕ وَ مِمَّا یُوْقِدُوْنَ عَلَیْهِ فِی النَّارِ ابْتِغَآءَ حِلْیَةٍ اَوْ مَتَاعٍ زَبَدٌ مِّثْلُهٗ ؕ كَذٰلِكَ یَضْرِبُ اللّٰهُ الْحَقَّ وَ الْبَاطِلَ ؕ۬ فَاَمَّا الزَّبَدُ فَیَذْهَبُ جُفَآءً ۚ وَ اَمَّا مَا یَنْفَعُ النَّاسَ فَیَمْكُثُ فِی الْاَرْضِ ؕ كَذٰلِكَ یَضْرِبُ اللّٰهُ الْاَمْثَالَؕ 17
17. আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তখন শুষ্ক উপত্যকা ও নদীতটগুলো নিজ নিজ আয়তন অনুসারে পানিতে প্লাবিত হয়। এ সময় স্রোতে পানির ফেনাগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। একই দৃশ্য দেখা যায় অলংকার ও তৈজসপত্র বানানোর জন্য যখন ধাতু গলানো হয়, তখন পরিত্যাজ্য ফেনা বের হয়ে আলাদা হয়ে যায়। আসলে এভাবেই আল্লাহ সত্য থেকে মিথ্যাকে আলাদা করে উপস্থাপন করেন। ফেনারাশি আবর্জনা হয়ে ভেসে যায়। আর যা মানুষের জন্য কল্যাণকর, তা জমিনে থেকে যায়। এভাবেই আল্লাহ উপমার সাহায্যে সত্যকে পরিষ্কার করে তুলে ধরেন।
لِلَّذِیْنَ اسْتَجَابُوْا لِرَبِّهِمُ الْحُسْنٰی ؔؕ وَالَّذِیْنَ لَمْ یَسْتَجِیْبُوْا لَهٗ لَوْ اَنَّ لَهُمْ مَّا فِی الْاَرْضِ جَمِیْعًا وَّ مِثْلَهٗ مَعَهٗ لَافْتَدَوْا بِهٖ ؕ اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ سُوْٓءُ الْحِسَابِ ۙ۬ وَ مَاْوٰىهُمْ جَهَنَّمُ ؕ وَبِئْسَ الْمِهَادُ۠ 18
18. কাজেই যারা নিজেদের রবের আদেশ মেনে চলে তাদের জন্য আখেরাতে উত্তম প্রতিদান রয়েছে। আর যারা তাঁর আদেশ মেনে চলে না, ওরা যদি এ পৃথিবীর সব সম্পদ, এমনকি এর দ্বিগুন সম্পদেরও মালিক হয়, তবে তাও বিচারের দিন মুক্তিপণ হিসাবে দিতে চাইবে; কিন্তু না, তাতে কোনো লাভ হবে না। কেননা ওদের হিসাব কঠিনভাবে ধরা হবে। ওদের আবাস হবে জাহান্নাম। আহ! কতোই না নিকৃষ্ট আবাস।
اَفَمَنْ یَّعْلَمُ اَنَّمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْكَ مِنْ رَّبِّكَ الْحَقُّ كَمَنْ هُوَ اَعْمٰی ؕ اِنَّمَا یَتَذَكَّرُ اُولُوا الْاَلْبَابِۙ 19
19. আচ্ছা! যে ব্যক্তি জানে যে, তোমার রবের পক্ষ থেকে নাযিল হওয়া এ কিতাব সত্য, সে কি কখনো ঐ অন্ধের মতো আচরণ করতে পারে, যে এ সত্যকে দেখতেই পায়নি? আসলে উপদেশ তো কেবল বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন লোকেরাই নিতে পারে।
الَّذِیْنَ یُوْفُوْنَ بِعَهْدِ اللّٰهِ وَ لَا یَنْقُضُوْنَ الْمِیْثَاقَۙ 20
20. এসব সত্যপন্থীরা (এক) আল্লাহকে দেয়া নিজেদের অঙ্গীকার রক্ষা করে এবং (দুই) কখনোই কোনো মযবুত প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করে না।
وَ الَّذِیْنَ یَصِلُوْنَ مَاۤ اَمَرَ اللّٰهُ بِهٖۤ اَنْ یُّوْصَلَ وَ یَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ وَ یَخَافُوْنَ سُوْٓءَ الْحِسَابِؕ 21
21. (তিন) আল্লাহ যেসব সম্পর্ক ও বন্ধন অক্ষুণ্য রাখতে বলেছেন, তারা তা রক্ষা করে চলে এবং (চার) সচেতনভাবে তাদের রবের বিধান মেনে চলে ও (পাঁচ) বিচারদিনে নিজেদের ব্যাপারে কঠিন জবাবদিহির আতঙ্কে থাকে।
وَ الَّذِیْنَ صَبَرُوا ابْتِغَآءَ وَجْهِ رَبِّهِمْ وَ اَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَ اَنْفَقُوْا مِمَّا رَزَقْنٰهُمْ سِرًّا وَّ عَلَانِیَةً وَّ یَدْرَءُوْنَ بِالْحَسَنَةِ السَّیِّئَةَ اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ عُقْبَی الدَّارِۙ 22
22. তারা (ছয়) সকল বিপদাপদে নিজেদের রবের সন্তুষ্টির আশায় ধৈর্য ধারণ করে, (সাত) নামাজ কায়েম করে, (আট) আল্লাহর দেয়া জীবনোপকরণ থেকে প্রকাশ্যে ও গোপনে খরচ করে এবং (নয়) ভালো দিয়ে মন্দের মোকাবেলা করে। এসব লোকেরাই পরকালে সুখরাজ্য লাভ করবে।
جَنّٰتُ عَدْنٍ یَّدْخُلُوْنَهَا وَ مَنْ صَلَحَ مِنْ اٰبَآىِٕهِمْ وَ اَزْوَاجِهِمْ وَ ذُرِّیّٰتِهِمْ وَ الْمَلٰٓىِٕكَةُ یَدْخُلُوْنَ عَلَیْهِمْ مِّنْ كُلِّ بَابٍۚ 23
23. তারাই সেদিন স্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান-সন্তুতির মধ্যে যারা সৎকর্মশীল হবে, তারাও জান্নাতে তাদের সাথে মিলিত হবে। জান্নাতের প্রতিটি তোরণেই ফেরেশতারা তাদের স্বাগত-সম্ভাষণ জানাবে।
سَلٰمٌ عَلَیْكُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَی الدَّارِؕ 24
24. বলবে, ‘সালামুন আলাইকুম’ তোমাদের জীবন আজ শান্তিময়। দুনিয়ার জীবনে তোমরা এর জন্য ধৈর্য ধরেছিলে। আহ! তোমাদের এ সুখের আবাস কতোই না মনোমুগ্ধকর।
وَ الَّذِیْنَ یَنْقُضُوْنَ عَهْدَ اللّٰهِ مِنْۢ بَعْدِ مِیْثَاقِهٖ وَ یَقْطَعُوْنَ مَاۤ اَمَرَ اللّٰهُ بِهٖۤ اَنْ یُّوْصَلَ وَ یُفْسِدُوْنَ فِی الْاَرْضِ ۙ اُولٰٓىِٕكَ لَهُمُ اللَّعْنَةُ وَ لَهُمْ سُوْٓءُ الدَّارِ 25
25. অপরদিকে যারা আল্লাহর সাথে দৃঢ় অঙ্গীকার করার পর তা ভেঙ্গে ফেলে, আল্লাহ যেসব সম্পর্ক ও বন্ধন বহাল রাখার হুকুম দিয়েছেন তা ছিন্ন করে এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায়, ওদের উপর অভিশাপ নামুক। পরকালে ওদের আবাস হবে জাহান্নামের মতো নিকৃষ্ট স্থানে।
اَللّٰهُ یَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ یَّشَآءُ وَ یَقْدِرُ ؕ وَ فَرِحُوْا بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ؕ وَ مَا الْحَیٰوةُ الدُّنْیَا فِی الْاٰخِرَةِ اِلَّا مَتَاعٌ۠ 26
26. আল্লাহ যাকে ইচ্ছা জীবনোপকরণে প্রাচুর্য দান করেন, আবার যাকে ইচ্ছা পরিমিত জীবনোপকরণ দিয়ে থাকেন। তবে অধিকাংশ লোক দুনিয়ায় প্রাচুর্য পেলে পার্থিব ভোগ-বিলাসে ডুবে যায়। অথচ আখেরাতের জীবনের তুলনায় দুনিয়ার এ ভোগ সামান্য কয়েক মুহূর্ত মাত্র।
وَ یَقُوْلُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَوْ لَاۤ اُنْزِلَ عَلَیْهِ اٰیَةٌ مِّنْ رَّبِّهٖ ؕ قُلْ اِنَّ اللّٰهَ یُضِلُّ مَنْ یَّشَآءُ وَ یَهْدِیْۤ اِلَیْهِ مَنْ اَنَابَۖۚ 27
27. হে নবী, কাফেরেরা বলে, ইনি যদি নবীই হবেন, তবে তার রবের পক্ষ থেকে কোনো অলৌকিক নিদর্শন তার জন্য নাযিল হয় না কেন? তুমি ওদের বলো, যে পথভ্রষ্ট হতে চায়, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট হওয়ার সুযোগ করে দেন। আর যে সত্যপথে আসতে চায়, আল্লাহ তাকেই পথ দেখান।
اَلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَتَطْمَىِٕنُّ قُلُوْبُهُمْ بِذِكْرِ اللّٰهِ ؕ اَلَا بِذِكْرِ اللّٰهِ تَطْمَىِٕنُّ الْقُلُوْبُؕ 28
28. তারাই কেবল সত্যপন্থী, যারা সত্যিকারেই ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণ দ্বারা নিজেদের অন্তরকে প্রশান্ত করে। জেনে রেখো, মানুষের অন্তর কেবল আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই তৃপ্ত হতে পারে।
اَلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ طُوْبٰی لَهُمْ وَ حُسْنُ مَاٰبٍ 29
29. এটাই সত্য, যারা ঈমানের সাথে সৎকাজ করে চলে, তারাই আসল সুখ উপভোগ করে। আর পরকালীন শুভ পরিণামতো তাদের রয়েছেই।
كَذٰلِكَ اَرْسَلْنٰكَ فِیْۤ اُمَّةٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهَاۤ اُمَمٌ لِّتَتْلُوَاۡ عَلَیْهِمُ الَّذِیْۤ اَوْحَیْنَاۤ اِلَیْكَ وَ هُمْ یَكْفُرُوْنَ بِالرَّحْمٰنِ ؕ قُلْ هُوَ رَبِّیْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ عَلَیْهِ تَوَكَّلْتُ وَ اِلَیْهِ مَتَابِ 30
30. হে নবী, আমি তোমাকে এমন এক জাতির কাছে রসুল করে পাঠিয়েছি, যাদের পূর্বে এ রকম বহুজাতি অতিক্রান্ত হয়েছে। অতএব তোমার কাছে আমি যে কিতাব নাযিল করেছি, তা ওদের পড়ে শুনাও। কেননা ওরা দয়াময় আল্লাহর সাথে কুফরি করে চলছে। তুমি ওদের বলে দাও, এই দয়াময় আল্লাহই আমার রব, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আমি তাঁর উপরেই ভরসা করছি এবং তাঁর কাছেই আমি ফিরবো।
وَ لَوْ اَنَّ قُرْاٰنًا سُیِّرَتْ بِهِ الْجِبَالُ اَوْ قُطِّعَتْ بِهِ الْاَرْضُ اَوْ كُلِّمَ بِهِ الْمَوْتٰی ؕ بَلْ لِّلّٰهِ الْاَمْرُ جَمِیْعًا ؕ اَفَلَمْ یَایْـَٔسِ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَنْ لَّوْ یَشَآءُ اللّٰهُ لَهَدَی النَّاسَ جَمِیْعًا ؕ وَ لَا یَزَالُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا تُصِیْبُهُمْ بِمَا صَنَعُوْا قَارِعَةٌ اَوْ تَحُلُّ قَرِیْبًا مِّنْ دَارِهِمْ حَتّٰی یَاْتِیَ وَعْدُ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یُخْلِفُ الْمِیْعَادَ۠ 31
31. শোনো! কুফরিতে যারা জেদ ধরে আছে, আমি যদি ওদের চোখের সামনে এ কুরআন দ্বারা কোনো পাহাড়কে চলমান করি কিংবা জমিনের মাটি ফেটে চৌচির করি অথবা কবর থেকে কোনো লাশ উঠিয়ে ওদের সাথে কথা বলাই, তবুও ওরা এ কুরআনকে মানবে না। যদিও এমনটা করার পূর্ণ ক্ষমতা আল্লাহর রয়েছে। তবে কি সকল মানুষকে আল্লাহ বাধ্য করে হেদায়েতের পথে আনছেন না দেখে ঈমানদারেরা হতাশ হচ্ছে? না! এমনটা করা আল্লাহর নীতি নয়। বরং যারা কুফরি করছে, ওদের পাপের ফল হিসেবে ক্রমাগত ওদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে বিপদ আসবে অথবা ওদের আশেপাশে বিপদ ছেয়ে যাবে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এ বিপদ থামবে না। আর হ্যা! আল্লাহর প্রতিশ্রুতি কখনো হেরফের হয় না।
وَ لَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّنْ قَبْلِكَ فَاَمْلَیْتُ لِلَّذِیْنَ كَفَرُوْا ثُمَّ اَخَذْتُهُمْ ۫ فَكَیْفَ كَانَ عِقَابِ 32
32. হে নবী, তোমার পূর্ববর্তী বহু রসুলের সাথে কাফেরেরা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে। প্রথম দিকে আমি ঐসব অপরাধীদের সামান্য অবকাশ দিলেও পরে ওদেরকে পাকড়াও করেছি। আহ! আমার সেসব শাস্তি কতই না ভয়ঙ্কর ছিলো!
اَفَمَنْ هُوَ قَآىِٕمٌ عَلٰی كُلِّ نَفْسٍۭ بِمَا كَسَبَتْ ۚ وَ جَعَلُوْا لِلّٰهِ شُرَكَآءَ ؕ قُلْ سَمُّوْهُمْ ؕ اَمْ تُنَبِّـُٔوْنَهٗ بِمَا لَا یَعْلَمُ فِی الْاَرْضِ اَمْ بِظَاهِرٍ مِّنَ الْقَوْلِ ؕ بَلْ زُیِّنَ لِلَّذِیْنَ كَفَرُوْا مَكْرُهُمْ وَ صُدُّوْا عَنِ السَّبِیْلِ ؕ وَ مَنْ یُّضْلِلِ اللّٰهُ فَمَا لَهٗ مِنْ هَادٍ 33
33. তবে কি তাঁকে অক্ষম মনে হয়, যিনি প্রত্যেক প্রাণী কী উপার্জন করে চলছে সে সম্পর্কেও পূর্ণ খবর রাখেন? এটা ভেবেই কি ওরা আল্লাহর সাথে অন্যদের শরিক বানাচ্ছে? হে নবী, বলো, সত্যিই যদি আরো খোদা থেকে থাকে, তবে তাদের নাম বলো। তোমাদের পৃথিবীতে এমন কোন্ খোদা তৈরি হলো, যার ব্যাপারে আল্লাহ কিছুই জানেন না? নাকি তোমরা রূপকথার গল্প সাজিয়ে চলছো? বস্তুত কাফেরদের কাছে এসব ভুয়া রূপকথাগুলো খুবই চিত্তাকর্ষক মনে হয়। তাই ওরা সত্যপথ থেকে দূরে অবস্থান করে। বাস্তবে আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কেউ সত্য পথে আনতে পারে না।
لَهُمْ عَذَابٌ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ لَعَذَابُ الْاٰخِرَةِ اَشَقُّ ۚ وَ مَا لَهُمْ مِّنَ اللّٰهِ مِنْ وَّاقٍ 34
34. ওরা দুনিয়াতেই আল্লাহর আযাবের শিকার হবে। আর আখেরাতে তো ওদের জন্য আরো কঠিন শাস্তি থাকছেই। আল্লাহর শাস্তি থেকে ওদেরকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।
مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِیْ وُعِدَ الْمُتَّقُوْنَ ؕ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ ؕ اُكُلُهَا دَآىِٕمٌ وَّ ظِلُّهَا ؕ تِلْكَ عُقْبَی الَّذِیْنَ اتَّقَوْا ۖۗ وَّعُقْبَی الْكٰفِرِیْنَ النَّارُ 35
35. অপরদিকে মুত্তাকী বান্দাদের জন্য যে জান্নাতের ওয়াদা করা হয়েছে, তার পাশ দিয়েই বয়ে যাবে স্রোতস্বিনী ঝর্নাধারা। ঐ জান্নাতের প্রতিটি ফলফলাদি ও ছায়া চিরদিনের জন্য সেবা দিবে। যারা দুনিয়ায় আল্লাহকে ভয় করে চলেছে, এটাই তাদের প্রাপ্য। আর অন্যদিকে কাফেরদের পরিণতি হবে জাহান্নাম।
وَ الَّذِیْنَ اٰتَیْنٰهُمُ الْكِتٰبَ یَفْرَحُوْنَ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْكَ وَ مِنَ الْاَحْزَابِ مَنْ یُّنْكِرُ بَعْضَهٗ ؕ قُلْ اِنَّمَاۤ اُمِرْتُ اَنْ اَعْبُدَ اللّٰهَ وَ لَاۤ اُشْرِكَ بِهٖ ؕ اِلَیْهِ اَدْعُوْا وَ اِلَیْهِ مَاٰبِ 36
36. আর হ্যাঁ! হে নবী, তোমার পূর্বে যারা আমার কিতাব পেয়েছে, তারাও তোমার এ কিতাবের ব্যাপারে সন্তুষ্ট; যদিও তাদের কেউ কেউ তোমার এ কিতাবের কিছু অংশ মানে না। কাজেই তুমি ওদের বলো, আমাকে হুকুম করা হয়েছে শিরক মুক্ত থেকে এক আল্লাহর ইবাদত করতে। অতএব আমি তোমাদের সবাইকে এ দিকেই ডাকছি। আর আল্লাহর কাছেই আমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল।
وَ كَذٰلِكَ اَنْزَلْنٰهُ حُكْمًا عَرَبِیًّا ؕ وَ لَىِٕنِ اتَّبَعْتَ اَهْوَآءَهُمْ بَعْدَ مَا جَآءَكَ مِنَ الْعِلْمِ ۙ مَا لَكَ مِنَ اللّٰهِ مِنْ وَّلِیٍّ وَّ لَا وَاقٍ۠ 37
37. হে নবী, তোমার প্রতি নাযিলকৃত এ কুরআনের প্রতিটি ফরমানই তোমার মাতৃভাষা আরবিতে শুনিয়েছি। এখন এ সুস্পষ্ট জ্ঞানলাভ করেও যদি তুমি ঐসব নাফরমানদের পছন্দ-অপছন্দ ও খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো, তবে মনে রেখো, আল্লাহর মোকাবেলায় তোমার কোনো সাহায্যকারী থাকবে না। তাঁর পাকড়াও থেকে কেউ তোমাকে বাঁচাতে আসবে না।
وَ لَقَدْ اَرْسَلْنَا رُسُلًا مِّنْ قَبْلِكَ وَ جَعَلْنَا لَهُمْ اَزْوَاجًا وَّ ذُرِّیَّةً ؕ وَ مَا كَانَ لِرَسُوْلٍ اَنْ یَّاْتِیَ بِاٰیَةٍ اِلَّا بِاِذْنِ اللّٰهِ ؕ لِكُلِّ اَجَلٍ كِتَابٌ 38
38. তোমার পূর্বে আমি যেসব নবী-রসুলদের বিভিন্ন জনপদে পাঠিয়েছিলাম, তাদের অধিকাংশেরই স্ত্রী ও সন্তান-সন্তুতি ছিলো। কাজেই এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আর আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো অলৌকিক নিদর্শন হাজির করার শক্তিও তাদের ছিলো না। প্রত্যেক বিষয়েরই নির্দিষ্ট দিনক্ষণ লিপিবদ্ধ রয়েছে।
یَمْحُوا اللّٰهُ مَا یَشَآءُ وَ یُثْبِتُ ۖۚ وَ عِنْدَهٗۤ اُمُّ الْكِتٰبِ 39
39. আল্লাহ এসব পূর্ববর্তী কিতাবের যে কোনো কিছু বাতিল করতে পারেন, আবার বহালও রাখতে পারেন। কেননা তাঁর কাছেই রয়েছে সব কিতাবের মূল উৎস-কিতাব।
وَ اِنْ مَّا نُرِیَنَّكَ بَعْضَ الَّذِیْ نَعِدُهُمْ اَوْ نَتَوَفَّیَنَّكَ فَاِنَّمَا عَلَیْكَ الْبَلٰغُ وَعَلَیْنَا الْحِسَابُ 40
40. হে নবী, অবাধ্য-পাপীদের যে শাস্তির ঘোষণা দিয়েছি, তার কিছু নমুনা যদি আমি তোমার জীবদ্দশায় পাঠাই কিংবা তার আগেই আমি তোমায় মৃত্যু দেই উভয় অবস্থায় তোমার দায়িত্ব কেবল বাণী পৌঁছে দেয়া। হিসাব নেয়ার দায়িত্ব আমার।
اَوَ لَمْ یَرَوْا اَنَّا نَاْتِی الْاَرْضَ نَنْقُصُهَا مِنْ اَطْرَافِهَا ؕ وَ اللّٰهُ یَحْكُمُ لَا مُعَقِّبَ لِحُكْمِهٖ ؕ وَ هُوَ سَرِیْعُ الْحِسَابِ 41
41. এসব সত্য অস্বীকারকারীরা কি দেখছে না যে, আমি ওদের জন্য জমিনকে চারদিক দিয়ে সংকুচিত করে আনছি? বস্তুত সমস্ত ফয়সালা আল্লাহর হাতে। তাঁর ফয়সালা রদ করার কেউ নেই। আর হিসাব নিতে আল্লাহর মোটেই সময় লাগে না।
وَ قَدْ مَكَرَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلِلّٰهِ الْمَكْرُ جَمِیْعًا ؕ یَعْلَمُ مَا تَكْسِبُ كُلُّ نَفْسٍ ؕ وَ سَیَعْلَمُ الْكُفّٰرُ لِمَنْ عُقْبَی الدَّارِ 42
42. ওদের পূর্ববর্তী অস্বীকারকরীরাও অনেক চক্রান্ত করেছিলো। কিন্তু চুড়ান্ত কৌশলের চাল তো আল্লাহই চালেন। কাজেই কার কী পরিণতি হবে তা আল্লাহ ভালো করেই জানেন। শীঘ্রই এসব কাফেরেরা জানতে পারবে, পরকালের সুখ কাদের ভাগ্যে লেখা রয়েছে।
وَ یَقُوْلُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَسْتَ مُرْسَلًا ؕ قُلْ كَفٰی بِاللّٰهِ شَهِیْدًۢا بَیْنِیْ وَ بَیْنَكُمْ ۙ وَ مَنْ عِنْدَهٗ عِلْمُ الْكِتٰبِ۠ 43
43. কাফেরেরা বলে, তুমি আল্লাহর প্রেরিত রসুল নও। হে নবী, বলো, এ ব্যাপারে আমার ও তোমাদের মধ্যে আল্লাহর সাক্ষ্যই যথেষ্ট। অবশ্য যারা কিতাবের জ্ঞান রাখে, তারাও এ ব্যাপারে আমার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে।