27. আন নামল
طٰسٓ ۫ تِلْكَ اٰیٰتُ الْقُرْاٰنِ وَكِتَابٍ مُّبِیْنٍۙ 1
1. ত্ব-সিন। এ সবই কুরআনের আয়াত। সুস্পষ্ট এক কিতাবের আয়াত।
هُدًی وَّ بُشْرٰی لِلْمُؤْمِنِیْنَۙ 2
2. এগুলো ঈমানদারদের জন্য সঠিক পথনির্দেশ ও সুসংবাদের বাহক।
الَّذِیْنَ یُقِیْمُوْنَ الصَّلٰوةَ وَ یُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَ هُمْ بِالْاٰخِرَةِ هُمْ یُوْقِنُوْنَ 3
3. আর ঈমানদারেরা সব সময় নামাজ কায়েম করে, যাকাত আদায় করে এবং সদা সর্বদা আখেরাতের জবাবদিহিতার অনুভূতি লালন করে।
اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ زَیَّنَّا لَهُمْ اَعْمَالَهُمْ فَهُمْ یَعْمَهُوْنَؕ 4
4. বস্তুত যারা আখেরাতের জীবনকে অস্বীকার করে, আমি তাদের পার্থিব কাজকর্মকে তাদের চোখে সুন্দর, আকর্ষণীয় ও যথার্থ হিসেবে তুলে ধরি। ফলে ওরা গোমারাহির মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে।
اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ لَهُمْ سُوْٓءُ الْعَذَابِ وَ هُمْ فِی الْاٰخِرَةِ هُمُ الْاَخْسَرُوْنَ 5
5. ওদের কপালে কঠিন আযাব নির্ধারিত হয়ে আছে। ওরাই আখেরাতে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
وَ اِنَّكَ لَتُلَقَّی الْقُرْاٰنَ مِنْ لَّدُنْ حَكِیْمٍ عَلِیْمٍ 6
6. হে নবী, নিঃসন্দেহে প্রজ্ঞাময় সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকেই তোমার উপর এ কুরআন নাযিল করা হচ্ছে।
اِذْ قَالَ مُوْسٰی لِاَهْلِهٖۤ اِنِّیْۤ اٰنَسْتُ نَارًا ؕ سَاٰتِیْكُمْ مِّنْهَا بِخَبَرٍ اَوْ اٰتِیْكُمْ بِشِهَابٍ قَبَسٍ لَّعَلَّكُمْ تَصْطَلُوْنَ 7
7. স্মরণ করো, যখন মুসা মিশর ফেরার পথে তার পরিবার-পরিজনকে বললো, ঐ যে! আমি আগুন দেখতে পাচ্ছি। তোমরা এখানে একটু অপেক্ষা করো, হয়ত সেখান থেকে তোমাদের জন্য কোনো ভালো খবর আনতে পারবো কিংবা অন্তুত কিছু জ্বলন্ত আঙ্গার নিয়ে আসবো, যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পারো।
فَلَمَّا جَآءَهَا نُوْدِیَ اَنْۢ بُوْرِكَ مَنْ فِی النَّارِ وَ مَنْ حَوْلَهَا ؕ وَ سُبْحٰنَ اللّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ 8
8. অতঃপর মুসা যখন সে আগুনের কাছাকাছি পৌঁছলো, তখন আওয়াজ এলো, বড়ই বরকতময় সত্তা তিনি, যিনি এ আগুনের আলো এবং এর চারপাশকে ধারণ করে রেখেছেন। সুবহানাল্লহ! মহাবিশ্বের প্রতিপালক মহান আল্লাহ বড়ই পাক-পবিত্র ও মহামহিম সত্তা।
یٰمُوْسٰۤی اِنَّهٗۤ اَنَا اللّٰهُ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُۙ 9
9. হে মুসা, আমিই আল্লাহ। মহা পরাক্রমশালী এবং পরম প্রজ্ঞাময়।
وَ اَلْقِ عَصَاكَ ؕ فَلَمَّا رَاٰهَا تَهْتَزُّ كَاَنَّهَا جَآنٌّ وَّلّٰی مُدْبِرًا وَّ لَمْ یُعَقِّبْ ؕ یٰمُوْسٰی لَا تَخَفْ ۫ اِنِّیْ لَا یَخَافُ لَدَیَّ الْمُرْسَلُوْنَۗۖ 10
10. এরপর আল্লাহ বললেন, হে মুসা, তোমার হাতের লাঠিটা নিক্ষেপ করো। এরপর মুসা নিক্ষেপ করতেই তা এক আস্ত সাপ হয়ে ছোটাছুটি করতে লাগলো। এ দৃশ্য দেখে মুসা ভয়ে পিছন ফিরে উর্ধ্বশ্বাসে দৌঁড়াতে লাগলো। এমনকি সে পিছনে ফিরে তাকালোও না। আল্লাহ ডাক দিলেন, হে মুসা, ভয় পেয়ো না। আমার সামনে আমার রসুলেরা ভয় পায় না।
اِلَّا مَنْ ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسْنًۢا بَعْدَ سُوْٓءٍ فَاِنِّیْ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 11
11. তবে কেউ সীমালঙ্ঘন করলে, ভিন্ন কথা। আর হ্যাঁ, কেউ পাপ ছেড়ে ভালো কাজ করলে, অবশ্যই সে আমায় ক্ষমাশীল ও মেহেরবান পাবে।
وَ اَدْخِلْ یَدَكَ فِیْ جَیْبِكَ تَخْرُجْ بَیْضَآءَ مِنْ غَیْرِ سُوْٓءٍ ۫ فِیْ تِسْعِ اٰیٰتٍ اِلٰی فِرْعَوْنَ وَ قَوْمِهٖ ؕ اِنَّهُمْ كَانُوْا قَوْمًا فٰسِقِیْنَ 12
12. হে মুসা, তোমার হাত বগলের মধ্যে রেখে বের করো, দেখবে তা কোনো কষ্ট ছাড়াই শুভ্র উজ্জল হয়ে আছে। হে মুসা, তোমাকে এ দুটিসহ মোট নয়টি অলৌকিক নিদর্শন দিচ্ছি। তুমি এসব নিয়ে ফেরাউন ও তার জাতির কাছে যাও। কেননা ওরা দুষ্কর্মপরায়ণ সত্যত্যাগী হয়ে আছে।
فَلَمَّا جَآءَتْهُمْ اٰیٰتُنَا مُبْصِرَةً قَالُوْا هٰذَا سِحْرٌ مُّبِیْنٌۚ 13
13. কিন্তু না! ফেরাউন ও তার জাতির সামনে এসব নিদর্শন সুস্পষ্টভাবে উদ্ভাসিত হবার পরেও ওরা বললো, এ তো স্রেফ যাদু।
وَ جَحَدُوْا بِهَا وَ اسْتَیْقَنَتْهَاۤ اَنْفُسُهُمْ ظُلْمًا وَّ عُلُوًّا ؕ فَانْظُرْ كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِیْنَ۠ 14
14. ওদের অন্তর এসব নিদর্শনকে সত্য মনে করলেও, অবাধ্যতা ও দাম্ভিকতার কারণে ওরা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করলো। এখন একবার চেয়ে দেখো, সেসব দুরাচারী বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কতো করুণ হয়েছিলো।
وَ لَقَدْ اٰتَیْنَا دَاوٗدَ وَ سُلَیْمٰنَ عِلْمًا ۚ وَ قَالَا الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْ فَضَّلَنَا عَلٰی كَثِیْرٍ مِّنْ عِبَادِهِ الْمُؤْمِنِیْنَ 15
15. দাউদ ও সুলাইমানকে আমি সত্যের জ্ঞান দান করেছিলাম। তারা শোকরগুজার হয়ে বলেছিলো, আলহামদুলিল্লাহ। সেই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা, যিনি তাঁর অনেক মুমিন বান্দার চেয়ে আমাদের প্রতি বেশি অনুগ্রহ করেছেন।
وَ وَرِثَ سُلَیْمٰنُ دَاوٗدَ وَ قَالَ یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ عُلِّمْنَا مَنْطِقَ الطَّیْرِ وَ اُوْتِیْنَا مِنْ كُلِّ شَیْءٍ ؕ اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الْفَضْلُ الْمُبِیْنُ 16
16. দাউদের মৃত্যুর পর সুলাইমান তার সিংহাসনের উত্তারাধিকারী হলো। এরপর সে জনগনের উদ্দেশ্যে বললো, হে লোক সকল, আমাদেরকে প্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসই পর্যাপ্ত দেয়া হয়েছে। এমনকি পাখিদের ভাষা পর্যন্ত আমাকে শিখানো হয়েছে। এ সবই হচ্ছে আমার রবের বিশেষ করুণা।
وَ حُشِرَ لِسُلَیْمٰنَ جُنُوْدُهٗ مِنَ الْجِنِّ وَ الْاِنْسِ وَ الطَّیْرِ فَهُمْ یُوْزَعُوْنَ 17
17. সুলাইমানের জন্য জিন, মানুষ ও পাখির সমন্বয়ে এক বিশাল যৌথবাহিনী সমবেত করা হলো। এরপর তারা খুব সুবিন্যস্ত ও সুনিয়ন্ত্রিতভাবে অভিযানে বের হতো।
حَتّٰۤی اِذَاۤ اَتَوْا عَلٰی وَادِ النَّمْلِ ۙ قَالَتْ نَمْلَةٌ یّٰۤاَیُّهَا النَّمْلُ ادْخُلُوْا مَسٰكِنَكُمْ ۚ لَا یَحْطِمَنَّكُمْ سُلَیْمٰنُ وَ جُنُوْدُهٗ ۙ وَ هُمْ لَا یَشْعُرُوْنَ 18
18. এভাবে এক অভিযাত্রায় তার এ বিশাল বাহিনী চলতে চলতে পিঁপড়ার উপত্যাকায় এসে পড়লো। তখন রানী পিঁপড়া চিৎকার করে বললো, হে পিঁপড়ারা, দ্রুত তোমরা নিজেদের ঘরে ঢুকে পড়ো, তা না হলে সুলাইমান ও তার বাহিনী তোমাদেরকে পায়ের তলায় পিষে ফেলবে; অথচ তারা তা টেরও পাবে না।
فَتَبَسَّمَ ضَاحِكًا مِّنْ قَوْلِهَا وَ قَالَ رَبِّ اَوْزِعْنِیْۤ اَنْ اَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِیْۤ اَنْعَمْتَ عَلَیَّ وَ عَلٰی وَالِدَیَّ وَ اَنْ اَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضٰىهُ وَ اَدْخِلْنِیْ بِرَحْمَتِكَ فِیْ عِبَادِكَ الصّٰلِحِیْنَ 19
19. রানী পিঁপড়ার এ কথা শুনে সুলাইমান মৃদু হাসলো। এ সময় সে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করলো, হে আমার রব, তুমি আমার ও আমার পিতা-মাতার উপর যে অনুগ্রহ করেছো, তার জন্য আমাকে তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার তাওফিক দাও। তোমাকে খুশি করার মতো নেক কাজ করে যাওয়ার সুযোগ দাও এবং মেহেরবানি করে তোমার নেক বান্দাদের মধ্যে আমাকে শামিল করো।
وَ تَفَقَّدَ الطَّیْرَ فَقَالَ مَا لِیَ لَاۤ اَرَی الْهُدْهُدَ ۖؗ اَمْ كَانَ مِنَ الْغَآىِٕبِیْنَ 20
20. একবার সুলাইমান তার পাখি বাহিনী পর্যবেক্ষণ করছিলো। হঠাৎ সে বললো, কী ব্যাপার? হুদহুদকে তো দেখছি না। সে কোথায়? সে কি তাহলে গায়েব হয়ে গেছে?
لَاُعَذِّبَنَّهٗ عَذَابًا شَدِیْدًا اَوْ لَاۡاَذْبَحَنَّهٗۤ اَوْ لَیَاْتِیَنِّیْ بِسُلْطٰنٍ مُّبِیْنٍ 21
21. আজ সে আসুক! উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পারলে, আমি তাকে কঠিন শাস্তি দিবো। এমনকি যবেহ করে ফেলবো।
فَمَكَثَ غَیْرَ بَعِیْدٍ فَقَالَ اَحَطْتُّ بِمَا لَمْ تُحِطْ بِهٖ وَ جِئْتُكَ مِنْ سَبَاٍۭ بِنَبَاٍ یَّقِیْنٍ 22
22. কিছুক্ষণের মধ্যেই হুদহুদ এসে হাজির হলো। এসে বললো, আমি এমন কিছু জেনে এসেছি, যা আপনার জানা নেই। আমি আপনার জন্য সাবা রাজ্যের সুনিশ্চিত তথ্য নিয়ে এসেছি।
اِنِّیْ وَجَدْتُّ امْرَاَةً تَمْلِكُهُمْ وَ اُوْتِیَتْ مِنْ كُلِّ شَیْءٍ وَّ لَهَا عَرْشٌ عَظِیْمٌ 23
23. আমি দেখে এসেছি, সে রাজ্যে ধন-সম্পদের কোনো অভাব নেই। আর সেখানকার শাসনকর্তা একজন নারী এবং তার একটা জমকালো দারুণ সিংহাসন রয়েছে।
وَجَدْتُّهَا وَ قَوْمَهَا یَسْجُدُوْنَ لِلشَّمْسِ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَ زَیَّنَ لَهُمُ الشَّیْطٰنُ اَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِیْلِ فَهُمْ لَا یَهْتَدُوْنَۙ 24
24. হুদহুদ বলতে লাগলো, আমি রানী ও তার জাতির লোকদের দেখলাম, তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে দেবতা হিসেবে উপাসনা করছে। শয়তান তাদের এসব কাজকর্মকে তাদের চোখে খুবই আকর্ষণীয় ও মোহনীয় করে আল্লাহর পথ থেকে তাদেরকে দূরে সরিয়ে রাখছে। ফরে তারা পথভ্রষ্ট হয়ে আছে।
اَلَّا یَسْجُدُوْا لِلّٰهِ الَّذِیْ یُخْرِجُ الْخَبْءَ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ یَعْلَمُ مَا تُخْفُوْنَ وَ مَا تُعْلِنُوْنَ 25
25. বস্তুত শয়তানই তাদেরকে ভুলিয়ে রাখছে, যাতে তাদেরকে মহাকাশ ও পৃথিবীর সকল গোপন রহস্য উন্মোচক আল্লাহকে সেজদা করা থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে। অথচ লোকেরা যা প্রকাশ করে আর যা গোপন রাখে আল্লাহ তা সবই জানেন।
اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِیْمِ۩ 26
26. হ্যাঁ! এ কথাই সত্য যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আর তিনিই মহান আরশের একচ্ছত্র অধিপতি। (সিজদা)
قَالَ سَنَنْظُرُ اَصَدَقْتَ اَمْ كُنْتَ مِنَ الْكٰذِبِیْنَ 27
27. সুলাইমান বললো, তুমি সত্য বলছো না মিথ্যা বলছো তা এখনই পরীক্ষা হয়ে যাবে।
اِذْهَبْ بِّكِتٰبِیْ هٰذَا فَاَلْقِهْ اِلَیْهِمْ ثُمَّ تَوَلَّ عَنْهُمْ فَانْظُرْ مَا ذَا یَرْجِعُوْنَ 28
28. তুমি আমার এ পত্র নিয়ে তাদের সামনে ফেলে দাও। তারপর একটু আঁড়ালে বসে দেখো, তারা কী প্রতিক্রিয়া দেখায়?
قَالَتْ یٰۤاَیُّهَا الْمَلَؤُا اِنِّیْۤ اُلْقِیَ اِلَیَّ كِتٰبٌ كَرِیْمٌ 29
29. অতঃপর পত্র পেয়ে রানী তার সভাসদদের ডেকে বললো, হে আমার সভাসদ, আমার কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ পত্র ফেলা হয়েছে।
اِنَّهٗ مِنْ سُلَیْمٰنَ وَ اِنَّهٗ بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِۙ 30
30. এ পত্র এসেছে সম্রাট সুলাইমানের পক্ষ থেকে। আর এর শুরু হচ্ছে দয়াময় মেহেরবান আল্লাহর নামে- দিয়ে।
اَلَّا تَعْلُوْا عَلَیَّ وَ اْتُوْنِیْ مُسْلِمِیْنَ۠ 31
31. পত্রের মূল কথা হচ্ছে, আমার অবাধ্য হয়ো না; বরং খাঁটি মুসলিম হয়ে আমার সামনে হাজির হয়ে যাও।
قَالَتْ یٰۤاَیُّهَا الْمَلَؤُا اَفْتُوْنِیْ فِیْۤ اَمْرِیْ ۚ مَا كُنْتُ قَاطِعَةً اَمْرًا حَتّٰی تَشْهَدُوْنِ 32
32. এরপর রানী বললো, হে সভাসদেরা, এখন আমার কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত এ ব্যাপারে তোমরা মতামত দাও। কেননা তোমাদের মতামত ছাড়া তো আমি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কখনো একক সিদ্ধান্ত নেই না।
قَالُوْا نَحْنُ اُولُوْا قُوَّةٍ وَّ اُولُوْا بَاْسٍ شَدِیْدٍ ۙ۬ وَّ الْاَمْرُ اِلَیْكِ فَانْظُرِیْ مَا ذَا تَاْمُرِیْنَ 33
33. সভাসদেরা বললো, আমাদের লড়ার মতো শক্তি আছে এবং আমরা যুদ্ধেও যথেষ্ট পারদর্শী। তবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপনার হাতে। এখন আপনিই ভেবে দেখুন, আমাদের কী আদেশ দিবেন।
قَالَتْ اِنَّ الْمُلُوْكَ اِذَا دَخَلُوْا قَرْیَةً اَفْسَدُوْهَا وَ جَعَلُوْۤا اَعِزَّةَ اَهْلِهَاۤ اَذِلَّةً ۚ وَ كَذٰلِكَ یَفْعَلُوْنَ 34
34. রানী বললো, রাজা-বাদশারা যখন কোনো জনপদে বিজয়ীবেশে প্রবেশ করে, তখন সেখানে তারা তান্ডব চালায়। সবকিছু শেষ করে দেয় এবং সেখানকার সম্মানিত লোকদের লাঞ্ছিত-অপমানিত করে। তারা সাধারণত এমনটাই করে থাকে।
وَ اِنِّیْ مُرْسِلَةٌ اِلَیْهِمْ بِهَدِیَّةٍ فَنٰظِرَةٌۢ بِمَ یَرْجِعُ الْمُرْسَلُوْنَ 35
35. কাজেই আপাতত কিছু উপঢৌকন দিয়ে দূত পাঠাই। এরপর দেখি দূত কী সংবাদ নিয়ে আসে।
فَلَمَّا جَآءَ سُلَیْمٰنَ قَالَ اَتُمِدُّوْنَنِ بِمَالٍ ؗ فَمَاۤ اٰتٰىنِى اللّٰهُ خَیْرٌ مِّمَّاۤ اٰتٰىكُمْ ۚ بَلْ اَنْتُمْ بِهَدِیَّتِكُمْ تَفْرَحُوْنَ 36
36. এরপর রানীর দূত সুলাইমানের দরবারে উপস্থিত হলো। সুলাইমান উপঢৌকন দেখে বললো, তোমরা কি আমাকে এসব ধন-সম্পদ দিয়ে সাহায্য করতে চাও? আল্লাহ তোমাদের যা কিছু দিয়েছেন, তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি আমাকে দিয়েছেন। কাজেই এসব উপঢৌকন পেয়ে তোমরা খুশি হতে পারো, আমি নই।
اِرْجِعْ اِلَیْهِمْ فَلَنَاْتِیَنَّهُمْ بِجُنُوْدٍ لَّا قِبَلَ لَهُمْ بِهَا وَ لَنُخْرِجَنَّهُمْ مِّنْهَاۤ اَذِلَّةً وَّ هُمْ صٰغِرُوْنَ 37
37. এসব নিয়ে তোমাদের রানীর কাছে ফিরে যাও। তাকে বলবে, আমি শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে এমন সৈন্যবাহিনী নিয়ে আসছি, যার সামনে তারা এক মুহূর্তের জন্যও দাঁড়াতে পারবে না। আমি তাদেরকে নাকে খত দিয়ে দেশ ছাড়া করবো। সেদিন তারা চরমভাবে লাঞ্ছিত-অপমানিত হবে।
قَالَ یٰۤاَیُّهَا الْمَلَؤُا اَیُّكُمْ یَاْتِیْنِیْ بِعَرْشِهَا قَبْلَ اَنْ یَّاْتُوْنِیْ مُسْلِمِیْنَ 38
38. এরপর যখন রানী নিজেই সুলাইমানের সাথে দেখা করার জন্য আসতে লাগলো, তখন সুলাইমান তার সভাসদকে বললো, আচ্ছা! তোমাদের মধ্যে কে আছো যে, তারা অনুগত হয়ে আমার কাছে পৌঁছার আগেই রানীর সিংহাসনটি এনে দিবে?
قَالَ عِفْرِیْتٌ مِّنَ الْجِنِّ اَنَا اٰتِیْكَ بِهٖ قَبْلَ اَنْ تَقُوْمَ مِنْ مَّقَامِكَ ۚ وَ اِنِّیْ عَلَیْهِ لَقَوِیٌّ اَمِیْنٌ 39
39. তখন শক্তিশালী এক সাহসী জিন বললো, আপনি এ সভা শেষ করে ওঠার আগেই আমি তা এনে দিতে পারি। এমনটা করার ক্ষমতা আমার রয়েছে। আর আমি বিশস্তও।
قَالَ الَّذِیْ عِنْدَهٗ عِلْمٌ مِّنَ الْكِتٰبِ اَنَا اٰتِیْكَ بِهٖ قَبْلَ اَنْ یَّرْتَدَّ اِلَیْكَ طَرْفُكَ ؕ فَلَمَّا رَاٰهُ مُسْتَقِرًّا عِنْدَهٗ قَالَ هٰذَا مِنْ فَضْلِ رَبِّیْ ۖ۫ لِیَبْلُوَنِیْۤ ءَاَشْكُرُ اَمْ اَكْفُرُ ؕ وَ مَنْ شَكَرَ فَاِنَّمَا یَشْكُرُ لِنَفْسِهٖ ۚ وَ مَنْ كَفَرَ فَاِنَّ رَبِّیْ غَنِیٌّ كَرِیْمٌ 40
40. কিন্তু বিশেষ কিতাবের জ্ঞান সম্পন্ন আরেক জিন বললো, আপনি চোখের পলক ফেলার আগেই আমি তা এনে দিচ্ছি এবং মুহূর্তের মধ্যেই সে সিংহাসনটি এনে সুলাইমানের সামনে রাখলো। এ দৃশ্য দেখে সুলাইমান নিজের থেকে বলে উঠলো, এ সবই আমার রবের একান্ত অনুগ্রহ। আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকি, নাকি অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ি তা পরীক্ষা করার জন্য দেয়া হয়েছে। আর প্রকৃতপক্ষে যে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে, সে নিজেরই কল্যাণ বয়ে আনে। আর যে অকৃতজ্ঞ হয় তার জানা উচিত, আমার রব কারো মুখাপেক্ষী নন; বরং তিনি স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল।
قَالَ نَكِّرُوْا لَهَا عَرْشَهَا نَنْظُرْ اَتَهْتَدِیْۤ اَمْ تَكُوْنُ مِنَ الَّذِیْنَ لَا یَهْتَدُوْنَ 41
41. এরপর সুলাইমান বললো, তোমরা রানীর সিংহাসনটির রূপ কিছুটা বদলে দাও। দেখি, সে এসে এটা দেখে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারে নাকি বিভ্রান্তিতে ডুবে থাকে?
فَلَمَّا جَآءَتْ قِیْلَ اَهٰكَذَا عَرْشُكِ ؕ قَالَتْ كَاَنَّهٗ هُوَ ۚ وَ اُوْتِیْنَا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهَا وَ كُنَّا مُسْلِمِیْنَ 42
42. অতঃপর রানী সুলাইমানের দরবারে এলো। এ সময় তাকে সিংহাসনটি দেখিয়ে বলা হলো, তোমার সিংহাসন কি এ রকম? রানী বললো, হ্যাঁ, দেখে তো সে রকমই মনে হচ্ছে। রানী আরো বললো, আমরা ইতোপূর্বে আপনার সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছি। আর আমরা মুসলিম হয়েছি।
وَ صَدَّهَا مَا كَانَتْ تَّعْبُدُ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ؕ اِنَّهَا كَانَتْ مِنْ قَوْمٍ كٰفِرِیْنَ 43
43. আসলে এতকাল সে আল্লাহ ছাড়া অন্য যাদের উপাসনা করেছে, মূলত তারাই তাকে সত্য থেকে দূরে রেখেছিলো। বস্তুত সে একটা কাফের অধ্যুষিত জনপদে বাস করতো।
قِیْلَ لَهَا ادْخُلِی الصَّرْحَ ۚ فَلَمَّا رَاَتْهُ حَسِبَتْهُ لُجَّةً وَّ كَشَفَتْ عَنْ سَاقَیْهَا ؕ قَالَ اِنَّهٗ صَرْحٌ مُّمَرَّدٌ مِّنْ قَوَارِیْرَ ؕ۬ قَالَتْ رَبِّ اِنِّیْ ظَلَمْتُ نَفْسِیْ وَ اَسْلَمْتُ مَعَ سُلَیْمٰنَ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ۠ 44
44. এরপর রানীকে মূল প্রাসাদে প্রবেশের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলো। প্রবেশ করেই তার মনে হলো, সামনে পানির জলাধার রয়েছে এবং তা পার হওয়ার জন্য সে নিজের কাপড় গোড়ালী থেকে একটু উপরে তুলে নিলো। এ দৃশ্য দেখে সুলাইমান বললো, এটা জলাধার নয়; বরং স্বচ্ছ কাঁচের তৈরি মেঝে। একথা শুনে রানী বলতে লাগলো, হে আমার রব, আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমি আজ সুলাইমানের সাথে মহাবিশ্বের রবের কাছে নিজেকে সমার্পণ করছি।
وَلَقَدْ اَرْسَلْنَاۤ اِلٰی ثَمُوْدَ اَخَاهُمْ صٰلِحًا اَنِ اعْبُدُوا اللّٰهَ فَاِذَا هُمْ فَرِیْقٰنِ یَخْتَصِمُوْنَ 45
45. আমি সামুদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালেহ কে এ বাণী দিয়ে পাঠালাম যে, তোমরা কেবল আল্লাহর ইবাদত করো। এ দাওয়াতে জাতি দুই দলে ভাগ হয়ে ঝগড়ায় জড়ালো।
قَالَ یٰقَوْمِ لِمَ تَسْتَعْجِلُوْنَ بِالسَّیِّئَةِ قَبْلَ الْحَسَنَةِ ۚ لَوْ لَا تَسْتَغْفِرُوْنَ اللّٰهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ 46
46. সালেহ তখন জাতির অবাধ্যদের বললো, হে ভাইয়েরা, কেন তোমরা কল্যাণের পরিবর্তে আল্লাহর শাস্তিকে ত্বরান্বিত করতে চাইছো? তোমরা কেন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইছো না? চাইলে তোমরা তাঁর দয়ায় সিক্ত হতে।
قَالُوا اطَّیَّرْنَا بِكَ وَ بِمَنْ مَّعَكَ ؕ قَالَ طٰٓىِٕرُكُمْ عِنْدَ اللّٰهِ بَلْ اَنْتُمْ قَوْمٌ تُفْتَنُوْنَ 47
47. জাতির অবাধ্যরা বললো, আমরা তোমাকে ও তোমার সঙ্গীদেরকে আমাদের অমঙ্গলের কারণ মনে করছি। সালেহ বললো, না; বরং তোমাদের অমঙ্গল আল্লাহর হাতে। এর মাধ্যমে তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
وَ كَانَ فِی الْمَدِیْنَةِ تِسْعَةُ رَهْطٍ یُّفْسِدُوْنَ فِی الْاَرْضِ وَ لَا یُصْلِحُوْنَ 48
48. সে জনপদে ছিলো নয়জন গোত্রপতি। তারা সর্বদাই দাঙ্গা-ফাসাদ করে বেড়াতো। কোনো ভালো কাজে তাদের আগ্রহ ছিলো না।
قَالُوْا تَقَاسَمُوْا بِاللّٰهِ لَنُبَیِّتَنَّهٗ وَ اَهْلَهٗ ثُمَّ لَنَقُوْلَنَّ لِوَلِیِّهٖ مَا شَهِدْنَا مَهْلِكَ اَهْلِهٖ وَ اِنَّا لَصٰدِقُوْنَ 49
49. একদিন গোত্রপতিরা বললো, চলো আমরা আল্লাহর নামে শপথ করে রাতের আঁধারে সালেহ ও তার পরিবারকে হত্যা করি। তারপর তার আত্মীয়-স্বজনদের কাছে কসম কেটে বলবো, না! না! আমরা এসব করিনি। আমরা সত্যবাদী।
وَ مَكَرُوْا مَكْرًا وَّ مَكَرْنَا مَكْرًا وَّ هُمْ لَا یَشْعُرُوْنَ 50
50. ওরা সেদিন এক গভীর ষড়যন্ত্র এঁটেছিলো। অথচ আমিও ওদের বিরুদ্ধে এক নিরব কৌশল তৈরি করলাম, যার কিছুই ওরা ধরতে পারেনি।
فَانْظُرْ كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ مَكْرِهِمْ ۙ اَنَّا دَمَّرْنٰهُمْ وَ قَوْمَهُمْ اَجْمَعِیْنَ 51
51. এখন দেখো! ওদের চক্রান্তের কী করুণ পরিণতিই না হলো! আমি ঐসব পাপিষ্ঠ নেতাসহ পুরো জাতিকেই ধ্বংস করে দিলাম।
فَتِلْكَ بُیُوْتُهُمْ خَاوِیَةًۢ بِمَا ظَلَمُوْا ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لِّقَوْمٍ یَّعْلَمُوْنَ 52
52. ঐ যে দেখো! ওদের বাড়ি-ঘরগুলোর ধ্বংসাবশেষ আজও ওদের পাপাচারের সাক্ষী হয়ে আছে। জ্ঞানীদের জন্য এ সবের মধ্যে অনেক শিক্ষা রয়েছে।
وَ اَنْجَیْنَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ كَانُوْا یَتَّقُوْنَ 53
53. সেদিন আমি কেবল ঈমানদারদের বাঁচিয়েছিলাম। কেননা তারা আমার নাফরমানী করা থেকে দূরে থেকেছিলো।
وَ لُوْطًا اِذْ قَالَ لِقَوْمِهٖۤ اَتَاْتُوْنَ الْفَاحِشَةَ وَ اَنْتُمْ تُبْصِرُوْنَ 54
54. আমি লুতকে তার জাতির কাছে পাঠালাম। স্মরণ করো, যখন সে তাদের বললো, এ তোমাদের কী হলো? কেন তোমরা জেনে বুঝে প্রকাশ্যে-জনসম্মুখে এ ধরনের অশ্লীল কাজ করে চলছো?
اَىِٕنَّكُمْ لَتَاْتُوْنَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّنْ دُوْنِ النِّسَآءِ ؕ بَلْ اَنْتُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُوْنَ 55
55. নিজেদের যৌন তৃপ্তির জন্য স্ত্রীদের ছেড়ে পুরুষে উপগত হচ্ছো? তোমরা তো দেখছি, চরম মূর্খতার মধ্যে ডুবে রয়েছো।
فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهٖۤ اِلَّاۤ اَنْ قَالُوْۤا اَخْرِجُوْۤا اٰلَ لُوْطٍ مِّنْ قَرْیَتِكُمْ ۚ اِنَّهُمْ اُنَاسٌ یَّتَطَهَّرُوْنَ 56
56. জাতির নেতারা যৌক্তিক উত্তর দিতে না পেরে শুধু বললো, লুতকে তার পরিবারসহ এ জনপদ থেকে বহিষ্কার করে দাও, সে নিজেকে বড়ই পাক-পবিত্র, পরহেযগার বানাতে চায়।
فَاَنْجَیْنٰهُ وَ اَهْلَهٗۤ اِلَّا امْرَاَتَهٗ ؗ قَدَّرْنٰهَا مِنَ الْغٰبِرِیْنَ 57
57. এভাবে শেষ পর্যন্ত আমি তাকে ও তার পরিবারকে উদ্ধার করলাম। তবে তার স্ত্রীকে নয়, কেননা সে পিছনে রয়ে গিয়েছিলো।
وَ اَمْطَرْنَا عَلَیْهِمْ مَّطَرًا ۚ فَسَآءَ مَطَرُ الْمُنْذَرِیْنَ۠ 58
58. আমি পুরো জনপদের উপর বৃষ্টির মতো পাথর বর্ষণ করলাম। ওদেরকে আগেই সতর্ক করেছিলাম; কিন্তু হায়! ওদের কপালে কী খারাপ পাথর বৃষ্টিই না লেখা ছিলো!
قُلِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ وَ سَلٰمٌ عَلٰی عِبَادِهِ الَّذِیْنَ اصْطَفٰی ؕ آٰللّٰهُ خَیْرٌ اَمَّا یُشْرِكُوْنَؕ 59
59. হে নবী, বলো, সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহর জন্য। আর তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি সালাম ও দরুদ। জিজ্ঞেস করো, আচ্ছা! কে শ্রেষ্ঠ? আল্লাহ নাকি তারা- যাদেরকে ওরা আল্লাহর সাথে শরিক করছে?
اَمَّنْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ وَ اَنْزَلَ لَكُمْ مِّنَ السَّمَآءِ مَآءً ۚ فَاَنْۢبَتْنَا بِهٖ حَدَآىِٕقَ ذَاتَ بَهْجَةٍ ۚ مَا كَانَ لَكُمْ اَنْ تُنْۢبِتُوْا شَجَرَهَا ؕ ءَاِلٰهٌ مَّعَ اللّٰهِ ؕ بَلْ هُمْ قَوْمٌ یَّعْدِلُوْنَؕ 60
60. হে নবী, ওদেরকে জিজ্ঞেস করো, মহাকাশ ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন? কে তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন? দেখো! সে পানি দিয়ে আমিই সবুজ শ্যামল মনোরম বাগান সাজিয়ে তুলছি। অথচ একটি সামান্য বীজ অঙ্গুরোদগম করার ক্ষমতাও তোমাদের নেই। আচ্ছা! আল্লাহর সথে ওদের অন্যান্য খোদারাও কি এসব কাজে অংশীদার আছে? না! বরং ওরা সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে।
اَمَّنْ جَعَلَ الْاَرْضَ قَرَارًا وَّ جَعَلَ خِلٰلَهَاۤ اَنْهٰرًا وَّ جَعَلَ لَهَا رَوَاسِیَ وَ جَعَلَ بَیْنَ الْبَحْرَیْنِ حَاجِزًا ؕ ءَاِلٰهٌ مَّعَ اللّٰهِ ؕ بَلْ اَكْثَرُهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَؕ 61
61. জিজ্ঞেস করো, কে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে সাজিয়েছেন? কে এ জমিনের বুকে অসংখ্য নদ-নদী ও ঝর্নাধারা প্রবাহিত করেছেন এবং পাহাড়গুলোকে সুদৃঢ়ভাবে স্থাপন করেছেন? কে দুই সমুদ্রের মাঝে অদৃশ্য অন্তরাল সৃষ্টি করেছেন? জিজ্ঞেস করো, এসব কাজে কি আল্লাহর সাথে ওদের ভ্রান্ত ইলাহরা শরিক রয়েছে? না, কখনোই নয়। আসল সত্য হলো, ওদের অধিকাংশই সত্যটা জানে না।
اَمَّنْ یُّجِیْبُ الْمُضْطَرَّ اِذَا دَعَاهُ وَ یَكْشِفُ السُّوْٓءَ وَ یَجْعَلُكُمْ خُلَفَآءَ الْاَرْضِ ؕ ءَاِلٰهٌ مَّعَ اللّٰهِ ؕ قَلِیْلًا مَّا تَذَكَّرُوْنَؕ 62
62. হে নবী, ওরা জবাব দিক, কে সেই সত্তা, যিনি অসহায় বিপন্ন-দুর্দশাগ্রস্তের ডাক শোনেন? কে তাদের দুঃখ-কষ্ট মোচন করেন? কে তোমাদেরকে এ পৃথিবীর খলিফার আসনে বসিয়ে রেখেছেন? এসব কাজে কি আল্লাহর সাথে তোমাদের কাল্পনিক খোদাদের কোনো অবদান রয়েছে? না, কখনো নয়; বরং তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ করো।
اَمَّنْ یَّهْدِیْكُمْ فِیْ ظُلُمٰتِ الْبَرِّ وَ الْبَحْرِ وَ مَنْ یُّرْسِلُ الرِّیٰحَ بُشْرًۢا بَیْنَ یَدَیْ رَحْمَتِهٖ ؕ ءَاِلٰهٌ مَّعَ اللّٰهِ ؕ تَعٰلَی اللّٰهُ عَمَّا یُشْرِكُوْنَؕ 63
63. নবী হে, বলো, কে তোমাদের জলে ও স্থলে ভ্রমণকালীন গভীর অন্ধকারেও পথ দেখান? কে নিজ অনুগ্রহে বৃষ্টি নামানোর আগে তার সুসংবাদবাহী বাতাসকে পাঠান? এসব কাজে কি তোমাদের খোদারা আল্লাহর সাথে শরিক রয়েছে? না! বরং ওদের শিরক থেকে, আল্লাহ অনেক অনেক উর্ধ্বে।
اَمَّنْ یَّبْدَؤُا الْخَلْقَ ثُمَّ یُعِیْدُهٗ وَ مَنْ یَّرْزُقُكُمْ مِّنَ السَّمَآءِ وَ الْاَرْضِ ؕ ءَاِلٰهٌ مَّعَ اللّٰهِ ؕ قُلْ هَاتُوْا بُرْهَانَكُمْ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ 64
64. জিজ্ঞেস করো, কে এ মহাবিশ্বের সবকিছুর সৃষ্টি সূচনা করেছেন এবং কে এগুলোকে পুনঃসৃষ্টি করে চলছেন? কে তোমাদেরকে আকাশ ও পৃথিবী থেকে জীবিকা দিয়ে যাচ্ছেন? কে? এসব কাজে কি আল্লাহর সাথে তোমাদের খোদারাও শরিক রয়েছে? না! না! হে নবী, ওদের চ্যালেঞ্জ করো, তোমরা নিজেদের দাবিতে সত্যবাদী হলে এর স্বপক্ষে প্রমাণ হাজির করো।
قُلْ لَّا یَعْلَمُ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ الْغَیْبَ اِلَّا اللّٰهُ ؕ وَ مَا یَشْعُرُوْنَ اَیَّانَ یُبْعَثُوْنَ 65
65. হে নবী, জানিয়ে দাও, আল্লাহ ছাড়া মহাকাশ ও পৃথিবীর গায়েবের জ্ঞান কারোরই নেই। কেউ জানে না, কখন তাদের পুনরুত্থিত করা হবে।
بَلِ ادّٰرَكَ عِلْمُهُمْ فِی الْاٰخِرَةِ ۫ بَلْ هُمْ فِیْ شَكٍّ مِّنْهَا ۫ؗ بَلْ هُمْ مِّنْهَا عَمُوْنَ۠ 66
66. আসলে ওদের থেকে আখেরাতের চেতনা হারিয়ে গেছে; বরং ওরা এখন এ ব্যাপারে সন্দিহানও বটে। অনেকটা অন্ধ হয়ে আছে।
وَ قَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا ءَاِذَا كُنَّا تُرٰبًا وَّ اٰبَآؤُنَاۤ اَىِٕنَّا لَمُخْرَجُوْنَ 67
67. কাফেরেরা বলে, আচ্ছা! আমরা যখন মরে মাটি হয়ে যাবো, এমনকি আমাদের বাপ-দাদারা যারা ইতোমধ্যে মাটি হয়ে গেছে, সবাইকে কি পুনরুত্থিত করা হবে?
لَقَدْ وُعِدْنَا هٰذَا نَحْنُ وَ اٰبَآؤُنَا مِنْ قَبْلُ ۙ اِنْ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیْرُ الْاَوَّلِیْنَ 68
68. এটা অসম্ভব। আজ আমাদেরকে এ ব্যাপারে যে ভয় দেখানো হচ্ছে, পূর্বে আমাদের বাপ-দাদাকেও তা দেখানো হতো। আসলে এসবই পুরানো কল্পকাহিনী মাত্র।
قُلْ سِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَانْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِیْنَ 69
69. নবী, ওদের বলো, তোমাদের বিশ্বাস না হলে দেশ-বিদেশে একটু ঘুরে দেখো। বুঝতে পারবে, অপরাধীদের পরিণতি কী ভয়ানকই না হয়ে থাকে।
وَ لَا تَحْزَنْ عَلَیْهِمْ وَ لَا تَكُنْ فِیْ ضَیْقٍ مِّمَّا یَمْكُرُوْنَ 70
70. আর হ্যাঁ! হে নবী, ওরা গোমরাহিতে জেদ ধরে থাকায় তুমি দুঃখ করো না। ওরা তোমার বিরুদ্ধে যে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে চলছে, তার জন্য মনঃক্ষুণ্ণ হয়ো না।
وَ یَقُوْلُوْنَ مَتٰی هٰذَا الْوَعْدُ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ 71
71. ওরা প্রায়শ দম্ভকরে বলে, তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে বলো, কবে আসবে তোমাদের হুমকি-ধামকির সেই আযাব?
قُلْ عَسٰۤی اَنْ یَّكُوْنَ رَدِفَ لَكُمْ بَعْضُ الَّذِیْ تَسْتَعْجِلُوْنَ 72
72. বলে দাও, অসম্ভব কি! যে শাস্তির জন্য তোমরা তাড়াহুড়ো করছো, হয়তো তার কিছু অংশ ইতোমধ্যেই তোমাদের পিছনে এসে দাঁড়িয়ে আছে।
وَ اِنَّ رَبَّكَ لَذُوْ فَضْلٍ عَلَی النَّاسِ وَ لٰكِنَّ اَكْثَرَهُمْ لَا یَشْكُرُوْنَ 73
73. নিশ্চয়ই হে নবী, তোমার রব মানুষের প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল। কিন্তু আফসোস! ওদের অধিকাংশই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।
وَ اِنَّ رَبَّكَ لَیَعْلَمُ مَا تُكِنُّ صُدُوْرُهُمْ وَ مَا یُعْلِنُوْنَ 74
74. আসলে মানুষ আপন মনের ভিতরে যা কিছু লুকিয়ে রাখে আর যা কিছু প্রকাশ করে আল্লাহ তার সবই জানেন।
وَ مَا مِنْ غَآىِٕبَةٍ فِی السَّمَآءِ وَ الْاَرْضِ اِلَّا فِیْ كِتٰبٍ مُّبِیْنٍ 75
75. মহাকাশ ও পৃথিবীর সূক্ষ্ণাতিসূক্ষ্ণ প্রতিটি গোপন রহস্যই তিনি এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিখে রেখেছেন।
اِنَّ هٰذَا الْقُرْاٰنَ یَقُصُّ عَلٰی بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ اَكْثَرَ الَّذِیْ هُمْ فِیْهِ یَخْتَلِفُوْنَ 76
76. এটা কি কুরআনের সত্যতার প্রমাণ নয় যে, বনি ইসরাইলের মধ্যে যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সে সবের সঠিক ব্যাখ্যা এ কুরআন তাদের জানিয়ে দিচ্ছে?
وَاِنَّهٗ لَهُدًی وَّ رَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِیْنَ 77
77. হ্যাঁ, এ কুরআন ঈমানদারদের জন্য অবশ্যই সত্য-সঠিক পথের প্রদর্শক এবং রহমত স্বরূপ।
اِنَّ رَبَّكَ یَقْضِیْ بَیْنَهُمْ بِحُكْمِهٖ ۚ وَ هُوَ الْعَزِیْزُ الْعَلِیْمُۙۚ 78
78. হে নবী, অচিরেই এসব সত্য অস্বীকারকারী ও ঈমানদারদের মধ্যে আল্লাহ নিজ কর্তৃত্বে চুড়ান্ত ফয়সালা করে দিবেন। বস্তুত তিনি বড়ই পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ।
فَتَوَكَّلْ عَلَی اللّٰهِ ؕ اِنَّكَ عَلَی الْحَقِّ الْمُبِیْنِ 79
79. কাজেই একমাত্র আল্লাহর উপর আস্থা ও ভরসা রাখো। নিঃসন্দেহে তুমি সুস্পষ্ট সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
اِنَّكَ لَا تُسْمِعُ الْمَوْتٰی وَ لَا تُسْمِعُ الصُّمَّ الدُّعَآءَ اِذَا وَلَّوْا مُدْبِرِیْنَ 80
80. হে নবী, মৃতকে তো তুমি কথা শোনাতে পারবে না। আর যে বধির, তোমাকে দেখা মাত্রই পিছন ফিরে পালিয়ে যাচ্ছে, তার কাছেও তোমার দাওয়াত পৌঁছাতে পারবে না।
وَ مَاۤ اَنْتَ بِهٰدِی الْعُمْیِ عَنْ ضَلٰلَتِهِمْ ؕ اِنْ تُسْمِعُ اِلَّا مَنْ یُّؤْمِنُ بِاٰیٰتِنَا فَهُمْ مُّسْلِمُوْنَ 81
81. এবং যাদের অন্তর অন্ধ হয়ে আছে, ওদেরকে বিভ্রান্তি থেকে ফিরাতে পারবে না। আসলে তুমি কেবল তাদেরকেই শুনাতে পারবে, যারা আমার আয়াতে বিশ্বাসী, আমায় সমর্পিত।
وَ اِذَا وَقَعَ الْقَوْلُ عَلَیْهِمْ اَخْرَجْنَا لَهُمْ دَآبَّةً مِّنَ الْاَرْضِ تُكَلِّمُهُمْ ۙ اَنَّ النَّاسَ كَانُوْا بِاٰیٰتِنَا لَا یُوْقِنُوْنَ۠ 82
82. জেনে রেখো, সত্যিই যেদিন ওদের উপর কেয়ামত এসে পড়বে, সেদিন আমি ভূগর্ভ থেকে একটি প্রাণী বের করে আনবো, যে ওদেরকে বলবে, তোমরা তো সেসব লোক, যারা আল্লাহর আয়াতে বিশ্বাস আনোনি।
وَ یَوْمَ نَحْشُرُ مِنْ كُلِّ اُمَّةٍ فَوْجًا مِّمَّنْ یُّكَذِّبُ بِاٰیٰتِنَا فَهُمْ یُوْزَعُوْنَ 83
83. সেদিনের চিত্র একবার ভেবে দেখো, যেদিন আমি প্রত্যেক জাতির থেকে আমার আয়াত অস্বীকারকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় জড়ো করবো এবং পাপের স্তুর অনুসারে বিভিন্ন সারিতে ওদেরকে বিন্যস্ত করবো।
حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوْ قَالَ اَكَذَّبْتُمْ بِاٰیٰتِیْ وَ لَمْ تُحِیْطُوْا بِهَا عِلْمًا اَمَّا ذَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ 84
84. যখন বিচারের জন্য ওদেরকে হাজির করা হবে, তখন আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন, তোমরা কি নিজেদের জ্ঞান দিয়ে আমার আয়াতসমূহকে সত্য নয় বলে বুঝতে পারায় তা প্রত্যাখ্যান করেছিলে, নাকি অন্য কোনো কারণে এমনটা করেছিলে?
وَ وَقَعَ الْقَوْلُ عَلَیْهِمْ بِمَا ظَلَمُوْا فَهُمْ لَا یَنْطِقُوْنَ 85
85. সেদিন জুলুমের অপরাধে ওদের উপর শাস্তির রায় হয়ে যাবে। নিজেদের সাফাই গাওয়ার মতো একটা শব্দও ওদের মুখ থেকে বের হবে না।
اَلَمْ یَرَوْا اَنَّا جَعَلْنَا الَّیْلَ لِیَسْكُنُوْا فِیْهِ وَ النَّهَارَ مُبْصِرًا ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ 86
86. আফসোস! ওরা কি লক্ষ্য করে না যে, আমি বিশ্রামের জন্য রাতকে সৃষ্টি করেছি এবং কাজকর্মের জন্য দিনকে করেছি আলোকোজ্জ্বল? অবশ্যই ঈমানদারদের জন্য এর মধ্যে অনেক শিক্ষণীয় নিদর্শন রয়েছে।
وَ یَوْمَ یُنْفَخُ فِی الصُّوْرِ فَفَزِعَ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَنْ فِی الْاَرْضِ اِلَّا مَنْ شَآءَ اللّٰهُ ؕ وَ كُلٌّ اَتَوْهُ دٰخِرِیْنَ 87
87. আর যেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে, সেদিন আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্তরা ছাড়া মহাকাশ ও পৃথিবীর সকলেই ভীত-বিহ্বল হয়ে পড়বে এবং প্রত্যেকেই অবনত মস্তকে আল্লাহর দরবারে হাজির হয়ে যাবে।
وَ تَرَی الْجِبَالَ تَحْسَبُهَا جَامِدَةً وَّ هِیَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ ؕ صُنْعَ اللّٰهِ الَّذِیْۤ اَتْقَنَ كُلَّ شَیْءٍ ؕ اِنَّهٗ خَبِیْرٌۢ بِمَا تَفْعَلُوْنَ 88
88. হে মানুষ, আজ তুমি যে পাহাড়-পর্বতকে দেখছো অটল-অবিচল হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, সেদিন এগুলো সব মেঘমালার মতো শুধু উড়তে থাকবে। এটা হবে আল্লাহর কুদরতের মূর্ত প্রকাশ, যিনি সমস্ত কিছুকে সুনিপূণ করে সৃষ্টি করেছেন। মনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে পূর্ণ খবর রাখেন।
مَنْ جَآءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهٗ خَیْرٌ مِّنْهَا ۚ وَ هُمْ مِّنْ فَزَعٍ یَّوْمَىِٕذٍ اٰمِنُوْنَ 89
89. সেদিন যারা সৎকর্ম নিয়ে হাজির হবে, তারা সকল শঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকবে। তদুপরি তাদের প্রাপ্যের তুলনায় অনেক অনেক বেশি প্রতিদান দেয়া হবে।
وَ مَنْ جَآءَ بِالسَّیِّئَةِ فَكُبَّتْ وُجُوْهُهُمْ فِی النَّارِ ؕ هَلْ تُجْزَوْنَ اِلَّا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ 90
90. অন্যদিকে যারা অপকর্ম নিয়ে হাজির হবে ওদের সবাইকে ‘পা উপরে- মাথা নিচে’ করে জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। আর বলা হবে, কী! তোমরা নিজেদের কাজের যথার্থ প্রতিদান পেয়েছো তো?
اِنَّمَاۤ اُمِرْتُ اَنْ اَعْبُدَ رَبَّ هٰذِهِ الْبَلْدَةِ الَّذِیْ حَرَّمَهَا وَ لَهٗ كُلُّ شَیْءٍ ؗ وَّ اُمِرْتُ اَنْ اَكُوْنَ مِنَ الْمُسْلِمِیْنَۙ 91
91. হে নবী, লোকদের বলো, আমি আদিষ্ট হয়েছি একমাত্র এ সম্মানিত মক্কা নগরীর রবের ইবাদত করতে, যিনি মহাবিশ্বের প্রতিটি জিনিসের একক মালিক। তিনি আমায় হুকুম করেছেন, আমি যেনো তাঁর প্রতি পূর্ণ সমর্পিত থাকি।
وَ اَنْ اَتْلُوَا الْقُرْاٰنَ ۚ فَمَنِ اهْتَدٰی فَاِنَّمَا یَهْتَدِیْ لِنَفْسِهٖ ۚ وَ مَنْ ضَلَّ فَقُلْ اِنَّمَاۤ اَنَا مِنَ الْمُنْذِرِیْنَ 92
92. এবং আমি যেনো তোমাদের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করে শুনাই। আর আমাকে জানানো হয়েছে যে, কেউ সত্য-সঠিক পথে চললে, তাতে তারই কল্যাণ। আর কেউ ভুল পথে চললে, আমি যেনো তাকে বলে দেই, আমি তো কেবল একজন সতর্ককারী মাত্র।
وَ قُلِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ سَیُرِیْكُمْ اٰیٰتِهٖ فَتَعْرِفُوْنَهَا ؕ وَ مَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ۠ 93
93. হে নবী, বলো, আলহামদুলিল্লাহ! সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা একমাত্র আল্লাহর জন্য। তিনি অচিরেই তোমাদেরকে এমন নিদর্শনের মুখোমুখি করবেন, যাতে তোমরা সত্যকে হাড়েহাড়ে বুঝতে পারবে। মনে রেখো, তোমরা যেসব কাজকর্ম করে যাচ্ছো, সে সম্পর্কে তোমাদের রব মোটেই বেখবর নন।