29. আল আনকাবুত

الٓمّٓۚ 1
1. আলিফ-লাম-মিম।
اَحَسِبَ النَّاسُ اَنْ یُّتْرَكُوْۤا اَنْ یَّقُوْلُوْۤا اٰمَنَّا وَ هُمْ لَا یُفْتَنُوْنَ 2
2. লোকেরা কি ভেবে নিয়েছে যে, আমরা ঈমান আনলাম এ ঘোষণা দিলেই তারা পার পেয়ে যাবে? তাদের এ ঈমানের ব্যাপারে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে না?
وَ لَقَدْ فَتَنَّا الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَیَعْلَمَنَّ اللّٰهُ الَّذِیْنَ صَدَقُوْا وَلَیَعْلَمَنَّ الْكٰذِبِیْنَ 3
3. অথচ তাদের পূর্বসূরিদের পরীক্ষা নেয়া হয়েছিলো। আল্লাহ অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে দেখবেন, কে ঈমানের দাবিতে সত্যবাদী, আর কে মিথ্যাবাদী।
اَمْ حَسِبَ الَّذِیْنَ یَعْمَلُوْنَ السَّیِّاٰتِ اَنْ یَّسْبِقُوْنَا ؕ سَآءَ مَا یَحْكُمُوْنَ 4
4. আর দুরাচারী পাপীরা কি ভেবে বসে আছে যে, ওরা আমার হাত থেকে নিস্তার পেয়ে যাবে? হায়! কতো ভ্রান্ত ওদের ধারণা।
مَنْ كَانَ یَرْجُوْا لِقَآءَ اللّٰهِ فَاِنَّ اَجَلَ اللّٰهِ لَاٰتٍ ؕ وَ هُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ 5
5. যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের অনুভূতি লালান করে, তার সে জন্য প্রস্তুতি নেয়া উচিত। কেননা আল্লাহর নির্ধারিত সেই মুহূর্তটি অবশ্যই আসবে। আল্লাহ সব শোনেন, সব জানেন।
وَ مَنْ جَاهَدَ فَاِنَّمَا یُجَاهِدُ لِنَفْسِهٖ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَغَنِیٌّ عَنِ الْعٰلَمِیْنَ 6
6. যে ব্যক্তি সত্যের জন্য অনবরত চেষ্টা-সাধনা চালায়, সে তা নিজের কল্যাণের জন্যেই এটা করে। কেননা আল্লাহ এ মহাবিশ্বের কারো মুখাপোক্ষী নন।
وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَنُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَیِّاٰتِهِمْ وَ لَنَجْزِیَنَّهُمْ اَحْسَنَ الَّذِیْ كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 7
7. মনে রেখো, যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে চলে, আমি তাদের অতীত জীবনের সমস্ত গুনাহ মুছে দেবো এবং অবশ্যই তাদের কর্মের যথাযথ পুরস্কার দান করবো।
وَ وَصَّیْنَا الْاِنْسَانَ بِوَالِدَیْهِ حُسْنًا ؕ وَ اِنْ جَاهَدٰكَ لِتُشْرِكَ بِیْ مَا لَیْسَ لَكَ بِهٖ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا ؕ اِلَیَّ مَرْجِعُكُمْ فَاُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ 8
8. আমিই প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার হুকুম দিয়েছি। তবে এটাও বলেছি যে, সেই পিতা-মাতাই যদি আমার সাথে অন্য কাউকে ইলাহ হিসাবে শরিক করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে, তবে তা কখনোই মানবে না। কেননা তুমি ভালো করেই জানো যে, আমার কোনো শরিক নেই। আর হ্যাঁ, এরপর আমার কাছেই তোমাদের সবাইকে ফিরতে হবে। তখন তোমরা দুনিয়ায় যা কিছু করছিলে, আমি তার হিসাব ঠিকঠাকভাবে চুকিয়ে দেবো।
وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَنُدْخِلَنَّهُمْ فِی الصّٰلِحِیْنَ 9
9. সেদিন যারা ঈমানের সাথে সৎকর্ম নিয়ে হাজির হবে, আমি তাদেরকে নেক বান্দাদের সাথে জান্নাতবাসী করবো।
وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ اٰمَنَّا بِاللّٰهِ فَاِذَاۤ اُوْذِیَ فِی اللّٰهِ جَعَلَ فِتْنَةَ النَّاسِ كَعَذَابِ اللّٰهِ ؕ وَ لَىِٕنْ جَآءَ نَصْرٌ مِّنْ رَّبِّكَ لَیَقُوْلُنَّ اِنَّا كُنَّا مَعَكُمْ ؕ اَوَ لَیْسَ اللّٰهُ بِاَعْلَمَ بِمَا فِیْ صُدُوْرِ الْعٰلَمِیْنَ 10
10. খেয়াল করে দেখো, কিছু লোক বলে, আমরাও আল্লাহর উপর ঈমান রাখি। কিন্তু যখনই এ ঈমানের কারণে নির্যাতনের মুখোমুখি হয়, তখন মানুষের এ সামান্য নিপীড়নকে ওরা আল্লাহর আযারের মতো কঠিন ভীতিকর মনে করে। আর যখনই তোমার রবের পক্ষ থেকে কোনো সাহায্য-বিজয় আসে, তখন ওরা বলে, আমরা তো তোমাদের সাথেই ছিলাম। আচ্ছা! মানুষের অন্তরে যা কিছু থাকে, সে সম্পর্কে কি আল্লাহ যথার্থ জ্ঞাত নন?
وَ لَیَعْلَمَنَّ اللّٰهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ لَیَعْلَمَنَّ الْمُنٰفِقِیْنَ 11
11. আসলে কে সত্যিকারের মুমিন, আর কে মুনাফিক এটা যাচাই-বাছাই করার জন্যই আল্লাহ এ পরীক্ষাগুলো নিয়ে থাকেন।
وَ قَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لِلَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّبِعُوْا سَبِیْلَنَا وَ لْنَحْمِلْ خَطٰیٰكُمْ ؕ وَ مَا هُمْ بِحٰمِلِیْنَ مِنْ خَطٰیٰهُمْ مِّنْ شَیْءٍ ؕ اِنَّهُمْ لَكٰذِبُوْنَ 12
12. দেখো, এসব কাফেরেরা ঈমানদারদের বলে, তোমরা এ নতুন ধর্ম ছেড়ে আবার আমাদের রীতিনীতিতে ফিরে এসো। এতে যদি কোনো পাপ হয়, তবে তোমাদের সে পাপের বোঝা আমরা বহন করবো। কিন্তু না, বিচারের দিন ওরা তাদের কোনো বোঝাই বহন করতে রাজি হবে না। ওরা স্ব্রেফ মিথ্যাচারী।
وَ لَیَحْمِلُنَّ اَثْقَالَهُمْ وَ اَثْقَالًا مَّعَ اَثْقَالِهِمْ ؗ وَ لَیُسْـَٔلُنَّ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ عَمَّا كَانُوْا یَفْتَرُوْنَ۠ 13
13. সেদিন ওরা নিজেদের পাপের বোঝা যেভাবে বহন করবে, তেমনি অন্য অনেকের বোঝাও ওদেরকে বইতে হবে। সন্দেহ নেই, কিয়ামতের দিন ওদের প্রতিটা মিথ্যাচারের পুঙ্খানুপুঙ্খ জবাবদিহি নেয়া হবে।
وَ لَقَدْ اَرْسَلْنَا نُوْحًا اِلٰی قَوْمِهٖ فَلَبِثَ فِیْهِمْ اَلْفَ سَنَةٍ اِلَّا خَمْسِیْنَ عَامًا ؕ فَاَخَذَهُمُ الطُّوْفَانُ وَ هُمْ ظٰلِمُوْنَ 14
14. আমি নুহকে তার জাতির কাছে আমার রসুল করে পাঠিয়েছিলাম। সে ওদের মধ্যে দীর্ঘ সাড়ে নয়শ বছর বসবাস করেছিলো। কিন্তু না, শেষ পর্যন্ত ওদেরকে ভয়ানক প্লাবন গ্রাস করলো। কেননা ওরা অবাধ্যতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিলো।
فَاَنْجَیْنٰهُ وَ اَصْحٰبَ السَّفِیْنَةِ وَ جَعَلْنٰهَاۤ اٰیَةً لِّلْعٰلَمِیْنَ 15
15. সেদিন নুহ ও তার সাথে ঈমান এনে যারা জাহাজে আরোহণ করেছিলো, আমি কেবল তাদেরকে রক্ষা করলাম। এভাবেই এ ঘটনাকে বিশ্ববাসীর জন্য এক স্মরণীয় নিদর্শন বানিয়ে রাখলাম।
وَ اِبْرٰهِیْمَ اِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ اعْبُدُوا اللّٰهَ وَ اتَّقُوْهُ ؕ ذٰلِكُمْ خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ 16
16. এক সময় ইবরাহিম তার কওমকে বললো, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করো এবং সদা-সর্বদা তাঁকে ভয় করে চলো। তোমাদের জ্ঞান থাকলে বুঝতে, এ পথেই তোমাদের কল্যাণ।
اِنَّمَا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اَوْثَانًا وَّ تَخْلُقُوْنَ اِفْكًا ؕ اِنَّ الَّذِیْنَ تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ لَا یَمْلِكُوْنَ لَكُمْ رِزْقًا فَابْتَغُوْا عِنْدَ اللّٰهِ الرِّزْقَ وَ اعْبُدُوْهُ وَ اشْكُرُوْا لَهٗ ؕ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ 17
17. হে লোকেরা, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসবের উপাসনা করছো, তা তো কেবল ইট-পাথরের কিছু মূর্তি, যাদেরকে তোমরা অলিক কল্পনায় উপাস্য হিসাবে বানিয়ে নিয়েছো। ভেবে দেখো, এসব ভ্রান্ত-কাল্পনিক উপাস্যরা তোমাদেরকে সামান্য জীবিকাও দিতে পারে না। কাজেই একমাত্র আল্লাহর কাছেই তোমরা জীবিকা চাও এবং তাঁরই ইবাদত করো। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকো। বস্তুত তাঁর কাছে তোমাদের ফিরতেই হবে।
وَ اِنْ تُكَذِّبُوْا فَقَدْ كَذَّبَ اُمَمٌ مِّنْ قَبْلِكُمْ ؕ وَ مَا عَلَی الرَّسُوْلِ اِلَّا الْبَلٰغُ الْمُبِیْنُ 18
18. হে আমার জাতি, এখন তোমরা যদি আমায় মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করো, তবে তোমাদের পূর্বে যারা তাদের রসুলদের প্রত্যাখ্যান করেছিলো, তাদের করুণ পরিণতি দেখে নাও। আর রসুল হিসাবে আমার দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টভাবে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেয়া।
اَوَ لَمْ یَرَوْا كَیْفَ یُبْدِئُ اللّٰهُ الْخَلْقَ ثُمَّ یُعِیْدُهٗ ؕ اِنَّ ذٰلِكَ عَلَی اللّٰهِ یَسِیْرٌ 19
19. হে নবী, ওরা কি দেখে না যে, আল্লাহ কিভাবে কোনো কিছুকে নতুনভাবে সৃষ্টি করেন এবং তারপর ক্রমাগত তার পুনঃসৃষ্টি করে যান? নিশ্চয়ই আল্লাহর জন্য এসব করা বড়ই সহজ।
قُلْ سِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَانْظُرُوْا كَیْفَ بَدَاَ الْخَلْقَ ثُمَّ اللّٰهُ یُنْشِئُ النَّشْاَةَ الْاٰخِرَةَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌۚ 20
20. ওদেরকে বলো, তোমরা একটু চোখ মেলে পৃথিবীটা ঘুরে দেখো। আল্লাহ কিভাবে সৃষ্টির সূচনা করেছেন তা চেয়ে দেখো! এভাবেই আল্লাহ দ্বিতীয়বার সব কিছুকে সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের উপর সর্বময় ক্ষমতার মালিক।
یُعَذِّبُ مَنْ یَّشَآءُ وَ یَرْحَمُ مَنْ یَّشَآءُ ۚ وَ اِلَیْهِ تُقْلَبُوْنَ 21
21. তিনি চাইলে যে কোনো অপরাধীকেই শাস্তি দিতে পারেন। আবার যে কাউকেই আপন অনুগ্রহে সিক্ত করতে পারেন। বস্তুত তাঁর দিকেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন।
وَ مَاۤ اَنْتُمْ بِمُعْجِزِیْنَ فِی الْاَرْضِ وَ لَا فِی السَّمَآءِ ؗ وَ مَا لَكُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ مِنْ وَّلِیٍّ وَّ لَا نَصِیْرٍ۠ 22
22. পৃথিবীর অতল ভূগর্ভে কিংবা আকাশের কোনো উচ্চতায় যেখানেই লুকাও না কেন, আল্লাহর ক্ষমতার বাইরে যেতে পারবে না। আল্লাহর মোকাবেলায় তোমাদের কোনো অভিভাবক কিংবা সাহায্যকারী কাজে আসবে না।
وَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِاٰیٰتِ اللّٰهِ وَ لِقَآىِٕهٖۤ اُولٰٓىِٕكَ یَىِٕسُوْا مِنْ رَّحْمَتِیْ وَ اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ 23
23. যারা আল্লাহর বাণী ও আখেরাতে তাঁর সামনে দাঁড়ানোকে অস্বীকার করে, ওরাই কেবল আমার ক্ষমা ও করুণার ব্যাপরে নিরাশ হয়। কাজেই ওদের জন্য এখন মর্মান্তিক শাস্তিই অপেক্ষা করছে।
فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهٖۤ اِلَّاۤ اَنْ قَالُوا اقْتُلُوْهُ اَوْ حَرِّقُوْهُ فَاَنْجٰىهُ اللّٰهُ مِنَ النَّارِ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ 24
24. সে সময় জবাবে ইবরাহিমের জাতি শেষ পর্যন্ত এটাই বললো যে, ইবরাহিমকে হত্যা করে ফেলো কিংবা আগুনে পুড়িয়ে মারো। কিন্তু আল্লাহ সেদিন আগুন থেকে ইবরাহিমকে উদ্ধার করেছিলেন। বস্তুত বিশ্বাসীদের জন্য ঐ ঘটনা এক শিক্ষণীয় স্মারক হয়ে আছে।
وَ قَالَ اِنَّمَا اتَّخَذْتُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ اَوْثَانًا ۙ مَّوَدَّةَ بَیْنِكُمْ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۚ ثُمَّ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ یَكْفُرُ بَعْضُكُمْ بِبَعْضٍ وَّیَلْعَنُ بَعْضُكُمْ بَعْضًا ؗ وَّمَاْوٰىكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُمْ مِّنْ نّٰصِرِیْنَۗۙ 25
25. ইবরাহিম ওদেরকে বললো, তোমরা আজ পার্থিব স্বার্থের জন্য আল্লাহকে বাদ দিয়ে এসব মূর্তিকে নিজেদের উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছো; অথচ কাল বিচারের ময়দানে তোমরাই পরস্পরকে অভিশাপ দিবে। একে অপরকে অস্বীকার করবে; কিন্তু সেদিন তোমাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। হায়! তোমাদেরকে বাঁচানোর জন্য সেদিন কেউ এগিয়ে আসবে না।
فَاٰمَنَ لَهٗ لُوْطٌ ۘ وَ قَالَ اِنِّیْ مُهَاجِرٌ اِلٰی رَبِّیْ ؕ اِنَّهٗ هُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ 26
26. সে সময় একমাত্র লুত ঈমান আনলো। এরপর ইবরাহিম বললো, আমি আমার রবের উদেশ্যে তোমাদের এ জনপদ ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাচ্ছি। নিশ্চয়ই তিনি মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।
وَ وَهَبْنَا لَهٗۤ اِسْحٰقَ وَ یَعْقُوْبَ وَ جَعَلْنَا فِیْ ذُرِّیَّتِهِ النُّبُوَّةَ وَ الْكِتٰبَ وَ اٰتَیْنٰهُ اَجْرَهٗ فِی الدُّنْیَا ۚ وَ اِنَّهٗ فِی الْاٰخِرَةِ لَمِنَ الصّٰلِحِیْنَ 27
27. এরপর আমি ইবরাহিমকে ইসাহাক ও ইয়াকুবের মতো নেক সন্তান দান করলাম। তার বংশ পরিচয়ে নবুওয়াত ও কিতাব জারি করলাম। দুনিয়ায় তাকে পুরস্কৃত করলাম। আখিরাতেও সে সৎকর্মশীলদের দলভুক্ত হবে।
وَ لُوْطًا اِذْ قَالَ لِقَوْمِهٖۤ اِنَّكُمْ لَتَاْتُوْنَ الْفَاحِشَةَ ؗ مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ اَحَدٍ مِّنَ الْعٰلَمِیْنَ 28
28. স্মরণ করো, লুত তার সম্প্রদায় কে বললো, তোমরা এমন অশ্লীল-নোংরা কাজ করে চলছো, যা তোমাদের পূর্বে দুনিয়ার কেউ কোনো দিন করেনি।
اَىِٕنَّكُمْ لَتَاْتُوْنَ الرِّجَالَ وَ تَقْطَعُوْنَ السَّبِیْلَ ۙ۬ وَ تَاْتُوْنَ فِیْ نَادِیْكُمُ الْمُنْكَرَ ؕ فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهٖۤ اِلَّاۤ اَنْ قَالُوا ائْتِنَا بِعَذَابِ اللّٰهِ اِنْ كُنْتَ مِنَ الصّٰدِقِیْنَ 29
29. তোমরা স্ত্রীদের ছেড়ে পুরুষে উপগত হচ্ছো। দেশজুড়ে লুটতারাজ-রাহাজানি করে বেড়াচ্ছো। এমনকি, ভরা মজলিসে সবাই মিলে ঐ অশ্লীল কাজ করে চলছো। জবাবে তার সম্প্রদায় বললো, এতো কথা না বলে যদি পারো আমাদের উপর আল্লাহর আযাব এনে ফেলো! দেখা যাবে তুমি কতবড় সত্যবাদী।
قَالَ رَبِّ انْصُرْنِیْ عَلَی الْقَوْمِ الْمُفْسِدِیْنَ۠ 30
30. জবাবে লুত ফরিয়াদ করলো, হে আমার রব, এ ফাসাদকারী জনগোষ্ঠীর মোকাবেলায় তুমি আমাকে সাহায্য করো।
وَ لَمَّا جَآءَتْ رُسُلُنَاۤ اِبْرٰهِیْمَ بِالْبُشْرٰی ۙ قَالُوْۤا اِنَّا مُهْلِكُوْۤا اَهْلِ هٰذِهِ الْقَرْیَةِ ۚ اِنَّ اَهْلَهَا كَانُوْا ظٰلِمِیْنَۚۖ 31
31. শেষ পর্যন্ত ফেরেশতাদের একটি দল ইবরাহিমের কাছে এলো এবং তাকে পুত্র সন্তানের সুখবর দিলো। বললো, আমরা লুতের জনপদ ধ্বংসের জন্যেই মূলত এসেছি। নিশ্চয়ই এর অধিবাসীরা মারাত্মক জালেম হয়ে গেছে।
قَالَ اِنَّ فِیْهَا لُوْطًا ؕ قَالُوْا نَحْنُ اَعْلَمُ بِمَنْ فِیْهَا ؗۥ لَنُنَجِّیَنَّهٗ وَ اَهْلَهٗۤ اِلَّا امْرَاَتَهٗ ؗۗ كَانَتْ مِنَ الْغٰبِرِیْنَ 32
32. ইবরাহিম বললো, কিন্তু সেখানে তো লুতও রয়েছে। ফেরেশতারা বললো, সেখানে কারা কারা রয়েছে, তা আমরা ভালোকরেই জানি। আমরা লুত ও তার নেক পরিবারকে উদ্ধার করবো। তবে তার স্ত্রীকে নয়। কেননা সে পিছনে পড়ে থাকা লোকদের দলভুক্ত।
وَ لَمَّاۤ اَنْ جَآءَتْ رُسُلُنَا لُوْطًا سِیْٓءَ بِهِمْ وَ ضَاقَ بِهِمْ ذَرْعًا وَّ قَالُوْا لَا تَخَفْ وَ لَا تَحْزَنْ ۫ اِنَّا مُنَجُّوْكَ وَ اَهْلَكَ اِلَّا امْرَاَتَكَ كَانَتْ مِنَ الْغٰبِرِیْنَ 33
33. এরপর ফেরেশতারা সুদর্শন বালকের বেশে লুতের বাড়ি এলো। তাদেরকে দেখামাত্র লুত দারুণভাবে চিন্তিত ও বিষণ্ণ হয়ে পড়লো এবং তার মনটা ছোট হয়ে এলো। তখন ফেরেশতারা পরিচয় প্রকাশ করে বললো, ভয় পাবেন না, আমাদের নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না। আমরা আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে রক্ষা করবো। তবে আপনার স্ত্রীকে ছাড়া, কেননা সে পিছনে থাকা লোকদের দলভুক্ত।
اِنَّا مُنْزِلُوْنَ عَلٰۤی اَهْلِ هٰذِهِ الْقَرْیَةِ رِجْزًا مِّنَ السَّمَآءِ بِمَا كَانُوْا یَفْسُقُوْنَ 34
34. এ ভয়ানক পাপাচারে ডুবে থাকার অপরাধে আমি সেদিন ঐ জনপদের উপর আকাশ থেকে কঠিন আযাব নাযিল করেছিলাম।
وَ لَقَدْ تَّرَكْنَا مِنْهَاۤ اٰیَةًۢ بَیِّنَةً لِّقَوْمٍ یَّعْقِلُوْنَ 35
35. ওদেরকে ইতিহাসের পাঠ বানিয়ে রাখলাম, যাতে সহজাত বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগকারীরা এ থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
وَ اِلٰی مَدْیَنَ اَخَاهُمْ شُعَیْبًا ۙ فَقَالَ یٰقَوْمِ اعْبُدُوا اللّٰهَ وَ ارْجُوا الْیَوْمَ الْاٰخِرَ وَ لَا تَعْثَوْا فِی الْاَرْضِ مُفْسِدِیْنَ 36
36. আর হ্যাঁ! আমি মাদিয়ানবাসীর কাছে তাদেরই ভাই শোয়াইবকে রসুল করে পাঠিয়েছিলাম। সে তাদের বলেছিলো, হে আমার কওম, তোমরা কেবল আল্লাহর ইবাদত করো। আখেরাতের মুক্তির জন্য কাজ করো। জমিনে বিপর্যয়-বিশৃঙ্খলা করে বেড়িয়ো না।
فَكَذَّبُوْهُ فَاَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَاَصْبَحُوْا فِیْ دَارِهِمْ جٰثِمِیْنَؗ 37
37. কিন্তু না, জাতির লোকেরা তাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করলো। পরিণামে ভয়াবহ ভূমিকম্প ওদেরকে আঘাত হানলো। ফলে নিজেদের ঘর-বাড়িতেই ওরা মুখ থুবড়ে পড়ে রইলো।
وَ عَادًا وَّ ثَمُوْدَاۡ وَ قَدْ تَّبَیَّنَ لَكُمْ مِّنْ مَّسٰكِنِهِمْ ۫ وَ زَیَّنَ لَهُمُ الشَّیْطٰنُ اَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِیْلِ وَ كَانُوْا مُسْتَبْصِرِیْنَۙ 38
38. আমি আদ ও সামুদ জাতিকেও শেষ পর্যন্ত ধ্বংস করেছিলাম। তোমাদের চোখের সামনেই ওদের বিধ্বস্ত বাড়ি-ঘরগুলো আজও পড়ে আছে। শয়তান ওদের পাপাচারকে ওদের চোখে জাঁকজমকপূর্ণ ও মোহনীয় করে রেখেছিলো। কান্ডজ্ঞানসম্পন্ন বিচক্ষণ এক জাতি হওয়া সত্ত্বেও শয়তান ওদেরকে আমার পথ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলো।
وَ قَارُوْنَ وَ فِرْعَوْنَ وَ هَامٰنَ ۫ وَ لَقَدْ جَآءَهُمْ مُّوْسٰی بِالْبَیِّنٰتِ فَاسْتَكْبَرُوْا فِی الْاَرْضِ وَ مَا كَانُوْا سٰبِقِیْنَۚۖ 39
39. কারুন, ফেরাউন ও হামান সকলকেই ধ্বংস করে দিয়েছি। মুসা ওদের সামনে সত্যের সুস্পষ্ট নিদর্শন পেশ করেছিলো। কিন্তু না, ওরা তা মানেনি; বরং জমিনে অহঙ্কার করে বেড়ালো। পরিণামে আমার শাস্তি থেকে বাঁচতে পারেনি।
فَكُلًّا اَخَذْنَا بِذَنْۢبِهٖ ۚ فَمِنْهُمْ مَّنْ اَرْسَلْنَا عَلَیْهِ حَاصِبًا ۚ وَ مِنْهُمْ مَّنْ اَخَذَتْهُ الصَّیْحَةُ ۚ وَ مِنْهُمْ مَّنْ خَسَفْنَا بِهِ الْاَرْضَ ۚ وَ مِنْهُمْ مَّنْ اَغْرَقْنَا ۚ وَ مَا كَانَ اللّٰهُ لِیَظْلِمَهُمْ وَ لٰكِنْ كَانُوْۤا اَنْفُسَهُمْ یَظْلِمُوْنَ 40
40. আমি ওদের প্রত্যেককেই অপরাধের জন্য কঠিনভাবে পাকড়াও করেছিলাম। আমি ওদের কাউকে ধ্বংস করেছি পাথরবৃষ্টি দিয়ে, কাউকে গগণবিদারী ভয়ানক শব্দের আওয়াজে, কাউকেবা ভূগর্ভের মধ্যে পুতে ফেলেছি, আবার কাউকে পানিতে চুবিয়ে মেরেছি। বস্তুত আল্লাহ ধ্বংস করে ওদের উপর কোনো অবিচার করেননি; বরং ওরা নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংসের উপযুক্ত পাত্র বানিয়েছিলো।
مَثَلُ الَّذِیْنَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اَوْلِیَآءَ كَمَثَلِ الْعَنْكَبُوْتِ ۚۖ اِتَّخَذَتْ بَیْتًا ؕ وَ اِنَّ اَوْهَنَ الْبُیُوْتِ لَبَیْتُ الْعَنْكَبُوْتِ ۘ لَوْ كَانُوْا یَعْلَمُوْنَ 41
41. জেনে রেখো, যারা আল্লাহকে ত্যাগ করে অন্য কাউকে নিজেদের অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষক বানিয়ে নিয়েছে, ওদের উদাহরণ হচ্ছে ঠিক মাকড়সার মতো। সে নিজের জন্য অনেক কষ্ট করে ঘর বুনে; অথচ জগতের সব ঘরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল ঘর মাকড়সারটাই। হায়! যদি ওরা এ সত্যটা জানতে পারতো।
اِنَّ اللّٰهَ یَعْلَمُ مَا یَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِهٖ مِنْ شَیْءٍ ؕ وَ هُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ 42
42. ওরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে আর যাদের উপাসনা করে চলছে, আল্লাহ তাদের সম্পর্কে খুব ভালোকরেই অবগত রয়েছেন। নিশ্চয়ই তিনি মহাপরাক্রমশালী এবং প্রজ্ঞাবান।
وَ تِلْكَ الْاَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ ۚ وَ مَا یَعْقِلُهَاۤ اِلَّا الْعٰلِمُوْنَ 43
43. আমি সকল মানুষের জন্য এসব ঘটনাময় দৃষ্টান্ত পেশ করে যাচ্ছি, তবে এর অন্তর্নিহিত মর্ম কেবল মুক্তমনা জ্ঞানীরাই বুঝতে পারে।
خَلَقَ اللّٰهُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ بِالْحَقِّ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لِّلْمُؤْمِنِیْنَ۠ 44
44. বস্তুত আল্লাহ মহাকাশ ও পৃথিবীকে এক যথার্থ সত্যের উপর সৃষ্টি করেছেন। ঈমানদারদের জন্য এর মধ্যে দেখার মতো, শেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে।
اُتْلُ مَاۤ اُوْحِیَ اِلَیْكَ مِنَ الْكِتٰبِ وَ اَقِمِ الصَّلٰوةَ ؕ اِنَّ الصَّلٰوةَ تَنْهٰی عَنِ الْفَحْشَآءِ وَ الْمُنْكَرِ ؕ وَ لَذِكْرُ اللّٰهِ اَكْبَرُ ؕ وَ اللّٰهُ یَعْلَمُ مَا تَصْنَعُوْنَ 45
45. হে নবী, লোকদেরকে তোমার উপর নাযিলকৃত কিতাবের বাণী পড়ে শোনাও এবং নামাজ কায়েম করো। কেননা নামাজই পারে মানুষকে অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে দূরে রাখতে। আর হ্যাঁ! অবশ্যই আল্লাহর স্মরণ জারি রেখো। এটাই সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত রয়েছেন।
وَ لَا تُجَادِلُوْۤا اَهْلَ الْكِتٰبِ اِلَّا بِالَّتِیْ هِیَ اَحْسَنُ ۖۗ اِلَّا الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا مِنْهُمْ وَ قُوْلُوْۤا اٰمَنَّا بِالَّذِیْۤ اُنْزِلَ اِلَیْنَا وَ اُنْزِلَ اِلَیْكُمْ وَ اِلٰهُنَا وَ اِلٰهُكُمْ وَاحِدٌ وَّ نَحْنُ لَهٗ مُسْلِمُوْنَ 46
46. আর আহলে কিতাবের সাথে কখনো দ্বীনের ব্যাপারে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ো না; বরং অতি উত্তম পন্থায় আলাপ আলোচনা করো। তবে হ্যা! তাদের কেউ যদি বাড়াবাড়ি করলে বলে দাও, আমরা আমাদের ও তোমাদের উপর যা কিছু নাযিল হয়েছে, তা সত্য বলে মানি। আর আমাদের ও তোমাদের ইলাহ একজনই। আমরা সেই ইলাহের প্রতি পূর্ণ সর্মপিত রয়েছি।
وَ كَذٰلِكَ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكَ الْكِتٰبَ ؕ فَالَّذِیْنَ اٰتَیْنٰهُمُ الْكِتٰبَ یُؤْمِنُوْنَ بِهٖ ۚ وَ مِنْ هٰۤؤُلَآءِ مَنْ یُّؤْمِنُ بِهٖ ؕ وَ مَا یَجْحَدُ بِاٰیٰتِنَاۤ اِلَّا الْكٰفِرُوْنَ 47
47. ৪৭. হে নবী, আসলে আমি এমনভাবে এ কিতাব তোমার উপর নাযিল করেছি, যাতে আহলে কিতাবের ন্যায়নিষ্ঠরা সহজেই ঈমান আনতে পারে এবং অন্যরাও একে মেনে নিতে পারে। প্রকৃতপক্ষে কাফেরেরাই কেবল এ মহাসত্যকে অস্বীকার করতে পারে।
وَ مَا كُنْتَ تَتْلُوْا مِنْ قَبْلِهٖ مِنْ كِتٰبٍ وَّ لَا تَخُطُّهٗ بِیَمِیْنِكَ اِذًا لَّارْتَابَ الْمُبْطِلُوْنَ 48
48. আচ্ছা! ওরা কি ভেবে দেখে না যে, তুমি ইতঃপূর্বে না ওদের সামনে কোনো কিতাব পড়েছো, আর না নিজে কোনো কিতাব লিখেছো। যদি তা করতে, তবে না হয় এসব মিথ্যাপূজারীরা সন্দেহ করার কারণ দেখাতে পারত।
بَلْ هُوَ اٰیٰتٌۢ بَیِّنٰتٌ فِیْ صُدُوْرِ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْعِلْمَ ؕ وَ مَا یَجْحَدُ بِاٰیٰتِنَاۤ اِلَّا الظّٰلِمُوْنَ 49
49. প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে, যেসব জ্ঞানীরা মুক্তমনে ভাবে, তাদের প্রত্যেকের মনেই এসব সুস্পষ্ট নিদর্শন অবশ্যই দাগ কাটে। একমাত্র পাপিষ্ঠ হঠকারীরাই আমার আয়াতকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
وَ قَالُوْا لَوْ لَاۤ اُنْزِلَ عَلَیْهِ اٰیٰتٌ مِّنْ رَّبِّهٖ ؕ قُلْ اِنَّمَا الْاٰیٰتُ عِنْدَ اللّٰهِ ؕ وَ اِنَّمَاۤ اَنَا نَذِیْرٌ مُّبِیْنٌ 50
50. এরপরও ওরা বলে, ইনি যদি সত্যিই নবী হবেন, তবে তাঁর রবের পক্ষ থেকে কোনো অলৌকিক নিদর্শন এলো না কেন? হে নবী, বলো, অলৌকিক নিদর্শন দেখানো কিংবা না দেখানো সবটাই আল্লাহর ব্যাপার। আমি তো কেবল একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।
اَوَ لَمْ یَكْفِهِمْ اَنَّاۤ اَنْزَلْنَا عَلَیْكَ الْكِتٰبَ یُتْلٰی عَلَیْهِمْ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَرَحْمَةً وَّ ذِكْرٰی لِقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ۠ 51
51. ওদের জন্য কি এ নিদর্শন যথেষ্ট নয় যে, আমি তোমার মতো এক নিরক্ষর লোকের উপর এ কিতাব নাযিল করেছি এবং তুমি নিজেই তা ওদেরকে পড়ে শুনাচ্ছো? নিশ্চয়ই ঈমানদারদের জন্য এ কিতাব বড়ই রহমত ও নসিহত স্বরূপ।
قُلْ كَفٰی بِاللّٰهِ بَیْنِیْ وَ بَیْنَكُمْ شَهِیْدًا ۚ یَعْلَمُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِالْبَاطِلِ وَ كَفَرُوْا بِاللّٰهِ ۙ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْخٰسِرُوْنَ 52
52. হে নবী, এ অবাধ্যদের বলো, আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি মহাকাশ ও পৃথিবীর সবকিছু সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। কাজেই এখন যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে এবং বাতিলপন্থাকে মেনে চলে, তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
وَ یَسْتَعْجِلُوْنَكَ بِالْعَذَابِ ؕ وَ لَوْ لَاۤ اَجَلٌ مُّسَمًّی لَّجَآءَهُمُ الْعَذَابُ ؕ وَ لَیَاْتِیَنَّهُمْ بَغْتَةً وَّ هُمْ لَا یَشْعُرُوْنَ 53
53. হে নবী, ওরা তোমাকে আমার আযাব দ্রুত আনার জন্য চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে! আল্লাহ যদি ওদের অবকাশের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে না রাখতেন, তবে ওরা যে পাপ কামিয়েছে, তার জন্য বহু আগেই আযাবের শিকার হতো। ওরা জেনে রাখুক, আল্লাহর আযাব আকস্মিক ওদের গ্রাস করবে; ওরা বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে যাবে।
یَسْتَعْجِلُوْنَكَ بِالْعَذَابِ ؕ وَ اِنَّ جَهَنَّمَ لَمُحِیْطَةٌۢ بِالْكٰفِرِیْنَۙ 54
54. ওরা তোমাকে বার বার আযাব নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ দিয়ে যাচ্ছে। হায়! অথচ ওরা বুঝতেই পারছে না যে, জাহান্নাম ওদেরকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে।
یَوْمَ یَغْشٰىهُمُ الْعَذَابُ مِنْ فَوْقِهِمْ وَ مِنْ تَحْتِ اَرْجُلِهِمْ وَ یَقُوْلُ ذُوْقُوْا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ 55
55. সেদিন জাহান্নামের লেলিহান শিখা উপর নিচ সবদিক দিয়ে ওদেরকে গ্রাস করে নেবে। ওদেরকে বলা হবে, দুনিয়ায় যে অপকর্ম করে এসেছো, আজ তার মজা বোঝো।
یٰعِبَادِیَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِنَّ اَرْضِیْ وَاسِعَةٌ فَاِیَّایَ فَاعْبُدُوْنِ 56
56. হে আমার ঈমানদার বান্দারা, নিশ্চয়ই আমার দুনিয়া অনেক বড়। কাজেই একমাত্র আমার ইবাদতের উপর দৃঢ় থাকো।
كُلُّ نَفْسٍ ذَآىِٕقَةُ الْمَوْتِ ۫ ثُمَّ اِلَیْنَا تُرْجَعُوْنَ 57
57. মনে রেখো, প্রত্যেক জীবনকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এভাবে তোমরা সবাই আমার কাছে একদিন ফিরে আসবে।
وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَنُبَوِّئَنَّهُمْ مِّنَ الْجَنَّةِ غُرَفًا تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ نِعْمَ اَجْرُ الْعٰمِلِیْنَۗۖ 58
58. যারা ঈমানের সাথে সৎকর্ম করে যাবে, আমি অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতে সুরম্য প্রাসাদ দান করবো, যার পাদদেশে থাকবে প্রবাহমান ঝর্নাধারা। চিরদিনের জন্যই তারা এ সুখ ভোগ করবে। আহ! সৎকর্মশীলদের জন্য এটা কতই না চমৎকার পুরস্কার।
الَّذِیْنَ صَبَرُوْا وَ عَلٰی رَبِّهِمْ یَتَوَكَّلُوْنَ 59
59. কেননা তারা দুনিয়ায় দ্বীনের পথে ধৈর্য ধারণ করেছে এবং সকল অবস্থায় আপন রবের উপর আস্থা ও ভরসা রেখে চলেছে।
وَ كَاَیِّنْ مِّنْ دَآبَّةٍ لَّا تَحْمِلُ رِزْقَهَا ۗۖ اَللّٰهُ یَرْزُقُهَا وَاِیَّاكُمْ ۖؗ وَهُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ 60
60. চেয়ে দেখো, দুনিয়ায় কতো-শতো প্রাণী, যারা নিজেদের জন্য খাবার সঞ্চয় করে রাখে না; অথচ আল্লাহই তাদেরকে খাবার দিয়ে থাকেন। তোমাদের খাবারও সে আল্লাহই দেন। বস্তুত তিনি সব শোনেন, সব জানেন।
وَ لَىِٕنْ سَاَلْتَهُمْ مَّنْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ وَ سَخَّرَ الشَّمْسَ وَ الْقَمَرَ لَیَقُوْلُنَّ اللّٰهُ ۚ فَاَنّٰی یُؤْفَكُوْنَ 61
61. নবী হে, যদি এসব লোকদের জিজ্ঞেস করো যে, কে এ মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন? কে-ই বা ঐ সূর্য ও চন্দ্রকে আপন কক্ষপথে নিয়ন্ত্রণ করছেন? ওরা বলবে, হ্যাঁ! একমাত্র আল্লাহই এসব করছেন। হায়! এসব বুঝেও কিভাবে ওরা অন্ধকারে ঘুরপাক খাচ্ছে।
اَللّٰهُ یَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ یَّشَآءُ مِنْ عِبَادِهٖ وَ یَقْدِرُ لَهٗ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ 62
62. আসলে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে কাউকে কাউকে অঢেল রিযিক দান করেন। আবার কাউকে সীমিত-পরিমিত করে দেন। বস্তুত আল্লাহই সব বিষয়ে নির্ভুল জ্ঞান রাখেন।
وَ لَىِٕنْ سَاَلْتَهُمْ مَّنْ نَّزَّلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَحْیَا بِهِ الْاَرْضَ مِنْۢ بَعْدِ مَوْتِهَا لَیَقُوْلُنَّ اللّٰهُ ؕ قُلِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ ؕ بَلْ اَكْثَرُهُمْ لَا یَعْقِلُوْنَ۠ 63
63. তুমি যদি ওদেরকে প্রশ্ন করো, আকাশ থেকে বারে বারে বৃষ্টি বর্ষণ করে কে এই মৃত জমিনকে সবুজ-সতেজ করে তোলেন? ওরা বলবে, হ্যাঁ! একমাত্র আল্লাহই করেন। হে নবী, বলো, আলহামদুলিল্লাহ! সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা একমাত্র সেই আল্লাহরই। কিন্তু আফসোস! ওদের অধিকাংশই বোঝে না।
وَ مَا هٰذِهِ الْحَیٰوةُ الدُّنْیَاۤ اِلَّا لَهْوٌ وَّ لَعِبٌ ؕ وَ اِنَّ الدَّارَ الْاٰخِرَةَ لَهِیَ الْحَیَوَانُ ۘ لَوْ كَانُوْا یَعْلَمُوْنَ 64
64. হায়! ওদের জ্ঞান থাকলে বুঝতো যে, দুনিয়ার জীবন সামান্য খেলাধুলার মতো ক্ষণিকের। বস্তুত আখিরাতের জীবনই আসল ও স্থায়ী।
فَاِذَا رَكِبُوْا فِی الْفُلْكِ دَعَوُا اللّٰهَ مُخْلِصِیْنَ لَهُ الدِّیْنَ ۚ۬ فَلَمَّا نَجّٰىهُمْ اِلَی الْبَرِّ اِذَا هُمْ یُشْرِكُوْنَۙ 65
65. হায়! ওরা যখন নৌযানে চড়ে কোনো বিপদের মুখোমুখি হয়, তখন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর প্রতি সর্মপিত হয়ে তাঁকে ডাকতে থাকে। কিন্তু যখন তিনি ওদেরকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন, তখন ওরা তাঁর সাথেই শরিক করতে শুরু করে।
لِیَكْفُرُوْا بِمَاۤ اٰتَیْنٰهُمْ ۙۚ وَ لِیَتَمَتَّعُوْا ۥ فَسَوْفَ یَعْلَمُوْنَ 66
66. এভাবেই ওরা আমার দয়া ও সাহায্যের প্রতি না-শোকর হয় এবং দুনিয়ার ভোগবিলাসে মত্ত হয়। কিন্তু না, শীঘ্রই ওরা এর পরিণতি জানতে পারবে।
اَوَ لَمْ یَرَوْا اَنَّا جَعَلْنَا حَرَمًا اٰمِنًا وَّ یُتَخَطَّفُ النَّاسُ مِنْ حَوْلِهِمْ ؕ اَفَبِالْبَاطِلِ یُؤْمِنُوْنَ وَ بِنِعْمَةِ اللّٰهِ یَكْفُرُوْنَ 67
67. আচ্ছা! ওরা কি একবারও ভেবে দেখে না যে, আমি এ মক্কা নগরীকে পূর্ণ নিরাপদ স্থান বানিয়ে রেখেছি; অথচ এর আশে-পাশে প্রতিনিয়তই কতো খুন-খারাপি ঘটে চলছে? এরপরও কি ওরা বাতিলকে আঁকড়ে থাকবে? আমার এতসব অনুগ্রহের প্রতি অকৃতজ্ঞ-অস্বীকার করে চলবে?
وَ مَنْ اَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا اَوْ كَذَّبَ بِالْحَقِّ لَمَّا جَآءَهٗ ؕ اَلَیْسَ فِیْ جَهَنَّمَ مَثْوًی لِّلْكٰفِرِیْنَ 68
68. আল্লাহর সাথে যে শরিক করে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা মহাসত্যকে জেনে-বুঝে অস্বীকার করে, তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে? এখন তোমরাই বলো, এসব কাফেরদের জন্য জাহান্নাম ছাড়া আর কী আবাস হতে পারে?
وَ الَّذِیْنَ جَاهَدُوْا فِیْنَا لَنَهْدِیَنَّهُمْ سُبُلَنَا ؕ وَ اِنَّ اللّٰهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِیْنَ۠ 69
69. যারা আমার জন্য সর্বাত্মক সংগ্রাম-সাধনা করে, আমি অবশ্যই-অবশ্যই তাদেরকে আমার পথের সন্ধান দেবো। সন্দেহ নেই, আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথে থাকেন।