31. লুকমান
الٓمّٓۚ 1
1. আলিফ-লাম-মিম।
تِلْكَ اٰیٰتُ الْكِتٰبِ الْحَكِیْمِۙ 2
2. এসবই এক জ্ঞানগর্ভ কিতাবের আয়াত।
هُدًی وَّ رَحْمَةً لِّلْمُحْسِنِیْنَۙ 3
3. সৎকর্মশীলদের জন্য এসব বড়ই রহমত ও পথনির্দেশ স্বরূপ।
الَّذِیْنَ یُقِیْمُوْنَ الصَّلٰوةَ وَ یُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَ هُمْ بِالْاٰخِرَةِ هُمْ یُوْقِنُوْنَؕ 4
4. বস্তুত সৎকর্মশীলেরা নামাজ কায়েম করে, যাকাত আদায় করে এবং আন্তরিকভাবে আখেরাতের জীবনে ঈমান রাখে।
اُولٰٓىِٕكَ عَلٰی هُدًی مِّنْ رَّبِّهِمْ وَ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ 5
5. নিঃসন্দেহে এসব লোক আপন রবের দেখানো সত্য সঠিক পথের উপর রয়েছে। ফলে তারাই চূড়ান্ত সফলকাম।
وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یَّشْتَرِیْ لَهْوَ الْحَدِیْثِ لِیُضِلَّ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ بِغَیْرِ عِلْمٍ ۖۗ وَّ یَتَّخِذَهَا هُزُوًا ؕ اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِیْنٌ 6
6. দেখো! এক শ্রেণির লোক সাধারণ মানুষদেরকে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখার জন্য অসার কথাবার্তা ও গান-বাজনা কিনে আনছে। অথচ ওরা সত্য-মিথ্যার কোনো জ্ঞানই রাখে না। ওরা আল্লাহর পথের দাওয়াতকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে উড়িয়ে দিতে চাইছে। অপেক্ষা করুক, ওদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে চরম অপমানজনক শাস্তি।
وَ اِذَا تُتْلٰی عَلَیْهِ اٰیٰتُنَا وَلّٰی مُسْتَكْبِرًا كَاَنْ لَّمْ یَسْمَعْهَا كَاَنَّ فِیْۤ اُذُنَیْهِ وَقْرًا ۚ فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ اَلِیْمٍ 7
7. এ ধরনের কাউকে যখন আমার কোনো আয়াত শোনানো হয়, তখন সে দম্ভভরে মুখ ফিরিয়ে নেয়। যেন সে কিছুই শোনেনি, যেনো সে একেবারেই বধির। অতএব ওদেরকে মর্মান্তিক আযাবের সুসংবাদ দাও।
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَهُمْ جَنّٰتُ النَّعِیْمِۙ 8
8. অন্যদিকে যারা ঈমানের সাথে সৎকর্ম করে চলেছে, তাদের জন্য রয়েছে এক নেয়ামতে ভরা জান্নাত।
خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ وَعْدَ اللّٰهِ حَقًّا ؕ وَهُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ 9
9. সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটা আল্লাহর ওয়াদা। আর এ ওয়াদা অবশ্যই পূর্ণ হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী এবং প্রজ্ঞাময়।
خَلَقَ السَّمٰوٰتِ بِغَیْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا وَ اَلْقٰی فِی الْاَرْضِ رَوَاسِیَ اَنْ تَمِیْدَ بِكُمْ وَ بَثَّ فِیْهَا مِنْ كُلِّ دَآبَّةٍ ؕ وَ اَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَنْۢبَتْنَا فِیْهَا مِنْ كُلِّ زَوْجٍ كَرِیْمٍ 10
10. তোমরা তো দেখতেই পাচ্ছো যে, আল্লাহ মহাকাশকে কোনো ধরনের দৃশ্যমান খুটি ছাড়াই দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। তিনি জমিনের ভারসাম্য ধরে রাখার জন্য তার বুকে বিরাট বিরাট পাহাড় গেড়ে দিয়েছেন এবং এ জমিনের বুকেই সব ধরনের প্রাণীর আবাসের ব্যবস্থা করেছেন। আর আমিই আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করে জমিনের বুকে সব ধরনের সুকোমল কল্যাণময় উদ্ভিদের জন্ম দিচ্ছি।
هٰذَا خَلْقُ اللّٰهِ فَاَرُوْنِیْ مَا ذَا خَلَقَ الَّذِیْنَ مِنْ دُوْنِهٖ ؕ بَلِ الظّٰلِمُوْنَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ۠ 11
11. এ সব আল্লাহরই সৃষ্টি। ওদের বানানো খোদারা এ মহাবিশে^র কী সৃষ্টি করেছে তা আমাকে দেখাক। আসল কথা হচ্ছে, জালেমেরা সুস্পষ্ট গোমরাহিতে ডুবে আছে।
وَ لَقَدْ اٰتَیْنَا لُقْمٰنَ الْحِكْمَةَ اَنِ اشْكُرْ لِلّٰهِ ؕ وَ مَنْ یَّشْكُرْ فَاِنَّمَا یَشْكُرُ لِنَفْسِهٖ ۚ وَ مَنْ كَفَرَ فَاِنَّ اللّٰهَ غَنِیٌّ حَمِیْدٌ 12
12. আমি লুকমানকে প্রজ্ঞা দিয়েছিলাম, যাতে সে আল্লাহর এক শোকরগুজার বান্দা হতে পারে। আসলে যে কৃতজ্ঞ হয়, সে তার কল্যাণই বয়ে আনে। আর যে অকৃতজ্ঞ হয়, তার জানা উচিত, নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং সদা সপ্রশংসিত।
وَ اِذْ قَالَ لُقْمٰنُ لِابْنِهٖ وَ هُوَ یَعِظُهٗ یٰبُنَیَّ لَا تُشْرِكْ بِاللّٰهِ ؔؕ اِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِیْمٌ 13
13. একবার লুকমান তার সন্তানকে উপদেশ দিচ্ছিলো। শোনো! সে তখন বলছিলো, হে আমার প্রিয় সন্তান, (এক) কখনো আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করো না। নিশ্চয়ই শিরক এক ভয়ানক জুলুমের নাম।
وَ وَصَّیْنَا الْاِنْسَانَ بِوَالِدَیْهِ ۚ حَمَلَتْهُ اُمُّهٗ وَهْنًا عَلٰی وَهْنٍ وَّ فِصٰلُهٗ فِیْ عَامَیْنِ اَنِ اشْكُرْ لِیْ وَ لِوَالِدَیْكَ ؕ اِلَیَّ الْمَصِیْرُ 14
14. আর আমি সন্তানকে তার পিতা-মাতার সাথে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। আসলে মা কষ্টের পর কষ্ট করে সন্তানকে গর্ভে ধারণ করে এবং এক টানা দু’বছর বুকের দুধ খাওয়ায়। অতএব সন্তানের দায়িত্ব আমার প্রতি এবং আপন পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। আর হ্যাঁ, তোমাদের সবাইকে আমার কাছে ফিরতেই হবে।
وَ اِنْ جَاهَدٰكَ عَلٰۤی اَنْ تُشْرِكَ بِیْ مَا لَیْسَ لَكَ بِهٖ عِلْمٌ ۙ فَلَا تُطِعْهُمَا وَ صَاحِبْهُمَا فِی الدُّنْیَا مَعْرُوْفًا ؗ وَّ اتَّبِعْ سَبِیْلَ مَنْ اَنَابَ اِلَیَّ ۚ ثُمَّ اِلَیَّ مَرْجِعُكُمْ فَاُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ 15
15. কিন্তু সন্তানদের আমি এ কথাও বলেছি যে, যদি তোমার পিতা-মাতা আমি আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরিক করতে চাপাচাপি করে; অথচ তুমি জানো যে আমার কোনো শরিক নেই, তাহলে কোনোভাবেই তাদের এ কথা মানবে না। তবে অন্যান্য ব্যাপারে তাদের সাথে সুন্দর আচরণ করবে। আর অনুসরণ করবে কেবল তার পথ, যে বিশুদ্ধচিত্তে আমার অভিমুখী হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তোমরা ও তোমাদের পিতা-মাতা সবাই আমার দরবারে হাজির হবে। সেদিন আমি জানিয়ে দেবো, তোমাদের কে কী আমল নিয়ে এসেছো।
یٰبُنَیَّ اِنَّهَاۤ اِنْ تَكُ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ فَتَكُنْ فِیْ صَخْرَةٍ اَوْ فِی السَّمٰوٰتِ اَوْ فِی الْاَرْضِ یَاْتِ بِهَا اللّٰهُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَطِیْفٌ خَبِیْرٌ 16
16. লুকমান বলতে লাগলো, হে আমার বৎস, (দুই) মনে রেখো, সরিষার দানা পরিমাণ কোনো ক্ষুদ্র জিনিসও যদি পাথরের ভিতরে, জমিনের অতল গভীরে কিংবা মহাকাশের কোথাও লুকিয়ে থাকে, তবে বিচারের দিন আল্লাহ তাও হাজির করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সূক্ষ্ণদর্শী, সব বিষয়ে অবহিত।
یٰبُنَیَّ اَقِمِ الصَّلٰوةَ وَ اْمُرْ بِالْمَعْرُوْفِ وَ انْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَ اصْبِرْ عَلٰی مَاۤ اَصَابَكَ ؕ اِنَّ ذٰلِكَ مِنْ عَزْمِ الْاُمُوْرِۚ 17
17. হে আমার কলিজার টুকরা, (তিন) সদা-সর্বদা নামাজ কায়েম করো। (চার) সৎকাজের হুকুম জারি রাখো। (পাঁচ) খারাপ কাজে বাঁধা দাও এবং (ছয়) ধৈর্যের সাথে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করো। নিশ্চয় দৃঢ়চেতা প্রত্যয়ী ব্যক্তিরা এমনটাই করে থাকে।
وَ لَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَ لَا تَمْشِ فِی الْاَرْضِ مَرَحًا ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُوْرٍۚ 18
18. (সাত) কখনো অহংকারবশে মানুষকে অবজ্ঞা করো না। (আট) দম্ভভরে জমিনে চলাফেরা করো না। দাম্ভিক অহংকারীকে আল্লাহ কখনো পছন্দ করেন না।
وَ اقْصِدْ فِیْ مَشْیِكَ وَ اغْضُضْ مِنْ صَوْتِكَ ؕ اِنَّ اَنْكَرَ الْاَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِیْرِ۠ 19
19. হে আমার সন্তান, (নয়) সব সময় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে চলবে। (দশ) লোকদের সাথে নম্র-ভদ্রভাবে কথা বলবে। মনে রাখবে, গাধার কণ্ঠস্বর সবচেয়ে অপ্রীতিকর।
اَلَمْ تَرَوْا اَنَّ اللّٰهَ سَخَّرَ لَكُمْ مَّا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ وَ اَسْبَغَ عَلَیْكُمْ نِعَمَهٗ ظَاهِرَةً وَّ بَاطِنَةً ؕ وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یُّجَادِلُ فِی اللّٰهِ بِغَیْرِ عِلْمٍ وَّ لَا هُدًی وَّ لَا كِتٰبٍ مُّنِیْرٍ 20
20. হে মানুষ, তোমরা কি লক্ষ্য করো না যে, মহাকাশ ও পৃথিবীর সব কিছুকেই আল্লাহ তোমাদের খেদমতে নিয়োজিত রেখেছেন এবং তোমাদের উপর তিনি প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে তাঁর হাজারটা নেয়ামত পূর্ণ করেছেন? হায়! এরপরও কিছু লোক আল্লাহকে নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করছে; অথচ ওদের না আছে সত্যের জ্ঞান, না আছে সঠিক পথনির্দেশ, আর না আছে ওদের কাছে দীপ্তিময় কোনো কিতাব।
وَ اِذَا قِیْلَ لَهُمُ اتَّبِعُوْا مَاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ قَالُوْا بَلْ نَتَّبِعُ مَا وَجَدْنَا عَلَیْهِ اٰبَآءَنَا ؕ اَوَ لَوْ كَانَ الشَّیْطٰنُ یَدْعُوْهُمْ اِلٰی عَذَابِ السَّعِیْرِ 21
21. দেখো, এসব সত্য অস্বীকারকারীদের যখন বলা হয়, তোমরা আল্লাহর নাযিলকৃত এ বাণীর অনুসরণ করে চলো, তখন ওরা বলে, না! না! আমরা আমাদের বাপ-দাদার পথেই চলবো। আচ্ছা! শয়তান যদি ওদেরকে জ্বলন্ত আগুনের শাস্তির দিকে ডাকে, তবুও কি ওরা সে পথে হাঁটবে?
وَ مَنْ یُّسْلِمْ وَجْهَهٗۤ اِلَی اللّٰهِ وَ هُوَ مُحْسِنٌ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقٰی ؕ وَ اِلَی اللّٰهِ عَاقِبَةُ الْاُمُوْرِ 22
22. আসলে যে ব্যক্তি পূর্ণভাবে আল্লাহতে সমর্পিত হয় এবং সৎকর্ম করে চলে, সে মূলত নিজের জন্য এক নিভর্রযোগ্য আশ্রয় ধারণ করে। আর সব ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা তো একমাত্র আল্লাহর হাতে।
وَ مَنْ كَفَرَ فَلَا یَحْزُنْكَ كُفْرُهٗ ؕ اِلَیْنَا مَرْجِعُهُمْ فَنُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُوْا ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ 23
23. এরপরও কেউ যদি সত্যকে অস্বীকার করে তবে হে নবী, তার এ কুফরিতে তুমি কষ্ট পেয়ো না। ওদেরকে তো আমার কাছে ফিরতেই হবে। সেদিন আমি এক এক করে জানিয়ে দেবো, জীবনে ওরা কী কী করে এসেছে। কেননা আল্লাহ মানুষের অন্তরের গোপন বিষয়গুলোও জানেন।
نُمَتِّعُهُمْ قَلِیْلًا ثُمَّ نَضْطَرُّهُمْ اِلٰی عَذَابٍ غَلِیْظٍ 24
24. আমি ওদেরকে দুনিয়ায় সামান্য কয়েক মুহূর্তের জন্য ভোগবিলাসে থাকার সুযোগ দিচ্ছি। অচিরেই ওদেরকে কঠিন আযাব ভোগ করাবো।
وَ لَىِٕنْ سَاَلْتَهُمْ مَّنْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ لَیَقُوْلُنَّ اللّٰهُ ؕ قُلِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ ؕ بَلْ اَكْثَرُهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ 25
25. তুমি যদি ওদের জিজ্ঞেস করো, এ মহাকাশ ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন? ওরা বলবে, হ্যাঁ, একমাত্র আল্লাহই এসবের স্রষ্টা। নবী হে, ওদের বলো, আলহামদুলিল্লাহ- মহাবিশ্বের সব প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা কেবল আল্লাহরই। কিন্তু না, ওদের অধিকাংশই এ সত্যটা জানে না।
لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ هُوَ الْغَنِیُّ الْحَمِیْدُ 26
26. নিশ্চয়ই মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, সব কিছুই আল্লাহর । তিনি অভাবমুক্ত, তিনি সপ্রশংসিত।
وَ لَوْ اَنَّ مَا فِی الْاَرْضِ مِنْ شَجَرَةٍ اَقْلَامٌ وَّ الْبَحْرُ یَمُدُّهٗ مِنْۢ بَعْدِهٖ سَبْعَةُ اَبْحُرٍ مَّا نَفِدَتْ كَلِمٰتُ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَزِیْزٌ حَكِیْمٌ 27
27. জেনে রেখো, পৃথিবীর সব গাছ যদি কলম হয় এবং সব সমুদ্রের পানি যদি কালি হয়, এমনকি আরো সাতসমুদ্রও যদি যোগ করা হয়; তবুও আল্লাহর কালিমা লেখা শেষ হবে না। আল্লাহ পরাক্রমশালী, আল্লাহ প্রজ্ঞাময়।
مَا خَلْقُكُمْ وَ لَا بَعْثُكُمْ اِلَّا كَنَفْسٍ وَّاحِدَةٍ ؕ اِنَّ اللّٰهَ سَمِیْعٌۢ بَصِیْرٌ 28
28. নিশ্চয়ই তোমাদের সকলের সৃষ্টি ও পুনরুত্থান আল্লাহর কাছে একটিমাত্র প্রাণীর সৃষ্টি ও পনুরুত্থানের মতোই অতি সামান্য ব্যাপার। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব শোনেন, সব দেখেন।
اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللّٰهَ یُوْلِجُ الَّیْلَ فِی النَّهَارِ وَ یُوْلِجُ النَّهَارَ فِی الَّیْلِ وَ سَخَّرَ الشَّمْسَ وَ الْقَمَرَ ؗ كُلٌّ یَّجْرِیْۤ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی وَّ اَنَّ اللّٰهَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرٌ 29
29. তোমরা কি লক্ষ্য করো না যে, আল্লাহ রাতকে বড় করে দিনকে ছোট করেন, আবার দিনকে বড় করে রাতকে ছোট করেন? তিনিই সূর্য ও চন্দ্রকে এক বিশেষ নিয়মের অধীন করে রেখেছেন। মহাকাশের প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে। মনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে সব খবর রাখেন।
ذٰلِكَ بِاَنَّ اللّٰهَ هُوَ الْحَقُّ وَ اَنَّ مَا یَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِهِ الْبَاطِلُ ۙ وَ اَنَّ اللّٰهَ هُوَ الْعَلِیُّ الْكَبِیْرُ۠ 30
30. দেখো, মহাবিশ্বের প্রতিটি জিনিস সাক্ষ্য দিচ্ছে, আল্লাহই একমাত্র সত্য এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে লোকেরা যাদেরকে উপাস্য হিসাবে ডাকছে, তারা ডাহা মিথ্যা, কাল্পনিক। সন্দেহ নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বোচ্চ-সুমহান।
اَلَمْ تَرَ اَنَّ الْفُلْكَ تَجْرِیْ فِی الْبَحْرِ بِنِعْمَتِ اللّٰهِ لِیُرِیَكُمْ مِّنْ اٰیٰتِهٖ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُوْرٍ 31
31. আচ্ছা! তোমরা কি লক্ষ্য করো না যে, আল্লাহর অনুগ্রহেই নৌযানগুলো সমুদ্রে বিচরণ করে? এ তো তোমাদের সামনে তাঁর এক উজ্জ্বল নিদর্শন। অবশ্য কেবল ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ বান্দারাই এসব থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
وَ اِذَا غَشِیَهُمْ مَّوْجٌ كَالظُّلَلِ دَعَوُا اللّٰهَ مُخْلِصِیْنَ لَهُ الدِّیْنَ ۚ۬ فَلَمَّا نَجّٰىهُمْ اِلَی الْبَرِّ فَمِنْهُمْ مُّقْتَصِدٌ ؕ وَ مَا یَجْحَدُ بِاٰیٰتِنَاۤ اِلَّا كُلُّ خَتَّارٍ كَفُوْرٍ 32
32. উত্তাল তরঙ্গ যখন নৌযানকে চারদিক দিয়ে আঘাত হানে, তখন মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে ওরা অন্তরের গভীর থেকে আল্লাহকে ডাকে এবং তাঁর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের প্রতিজ্ঞা করে। কিন্তু যখন আল্লাহ ওদেরকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন, তখন ওদের খুব কম সংখ্যকই ঈমানের উপর অটল থাকে। আসলে ওদের অধিকাংশই বিশ্বাসঘাতক ও অকৃতজ্ঞ। নইলে আমার এ নিদর্শনকে অস্বীকার করতে পারতো না।
یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّكُمْ وَ اخْشَوْا یَوْمًا لَّا یَجْزِیْ وَالِدٌ عَنْ وَّلَدِهٖ ؗ وَ لَا مَوْلُوْدٌ هُوَ جَازٍ عَنْ وَّالِدِهٖ شَیْـًٔا ؕ اِنَّ وَعْدَ اللّٰهِ حَقٌّ فَلَا تَغُرَّنَّكُمُ الْحَیٰوةُ الدُّنْیَا ۥ وَ لَا یَغُرَّنَّكُمْ بِاللّٰهِ الْغَرُوْرُ 33
33. হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবের ব্যাপারে সচেতন হও। মহাবিচারের দিনকে ভয় করো। সেদিন পিতা আপন সন্তানের কোনো উপকারে আসবে না। আর সন্তানও তার পিতার কোনো উপকারে লাগবে না। আল্লাহর ওয়াদা সত্য। সুতরাং পার্থিব জীবনের মোহ যেনো তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে। সাবধান হও, কোনো শয়তানি শক্তিই যেনো তোমাদেরকে আল্লাহর ব্যাপারে প্রতারিত করতে না পারে।
اِنَّ اللّٰهَ عِنْدَهٗ عِلْمُ السَّاعَةِ ۚ وَ یُنَزِّلُ الْغَیْثَ ۚ وَ یَعْلَمُ مَا فِی الْاَرْحَامِ ؕ وَ مَا تَدْرِیْ نَفْسٌ مَّا ذَا تَكْسِبُ غَدًا ؕ وَ مَا تَدْرِیْ نَفْسٌۢ بِاَیِّ اَرْضٍ تَمُوْتُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌ خَبِیْرٌ۠ 34
34. কিয়ামত কবে হবে তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। তিনিই মেঘ থেকে বৃষ্টি নামান। তিনিই জানেন মাতৃগর্ভে কী লালিত হচ্ছে। কেউই জানে না আগামীকাল তার জন্য কী অপেক্ষা করছে। কেউই জানে না কোথায় তার মৃত্যু হবে। বস্তুত একমাত্র আল্লাহই সর্বোজ্ঞ। সব বিষয়ে অবহিত।