39. আয্ যুমার
تَنْزِیْلُ الْكِتٰبِ مِنَ اللّٰهِ الْعَزِیْزِ الْحَكِیْمِ 1
1. মহাপরাক্রমশালী ও পরম প্রজ্ঞাময় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই এ কুরআন নাযিল করা হয়েছে।
اِنَّاۤ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ اللّٰهَ مُخْلِصًا لَّهُ الدِّیْنَؕ 2
2. হে নবী, আমি এ কিতাব তোমার কাছে যথার্থ সত্যসহ নাযিল করেছি। কাজইে পূর্ণ আনুগত্যের সাথে বিশুদ্ধচিত্তে আল্লাহর ইবাদত করে চলো।
اَلاَ لِلّٰهِ الدِّیْنُ الْخَالِصُ ؕ وَ الَّذِیْنَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِهٖۤ اَوْلِیَآءَ ۘ مَا نَعْبُدُهُمْ اِلَّا لِیُقَرِّبُوْنَاۤ اِلَی اللّٰهِ زُلْفٰی ؕ اِنَّ اللّٰهَ یَحْكُمُ بَیْنَهُمْ فِیْ مَا هُمْ فِیْهِ یَخْتَلِفُوْنَ ؕ۬ اِنَّ اللّٰهَ لَا یَهْدِیْ مَنْ هُوَ كٰذِبٌ كَفَّارٌ 3
3. মনে রেখো, একনিষ্ঠ পূর্ণ আনুগত্য কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য। কিন্তু যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের উপাস্য হিসাবে গ্রহণ করছে, ওরা যুক্তি দেখিয়ে বলে, আমরা তো এদের উপাসনা কেবল এ জন্যেই করি, যাতে এরা আমাদেরকে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে দিতে পারে। হে নবী, ওরা আজ নিজেদের মধ্যে সত্যের ব্যাপারে যে মতবিরোধ করছে, মহাবিচারের দিন আল্লাহ নিজেই সে ব্যাপারে ফয়সালা করবেন। আসলে কোনো মিথ্যাবাদী অকৃতজ্ঞ দুরাচারী, আল্লাহর দেখানো সত্যপথ খুঁজে পায় না।
لَوْ اَرَادَ اللّٰهُ اَنْ یَّتَّخِذَ وَلَدًا لَّاصْطَفٰی مِمَّا یَخْلُقُ مَا یَشَآءُ ۙ سُبْحٰنَهٗ ؕ هُوَ اللّٰهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ 4
4. শোনো, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করতে চাইলে তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা বাছাই করে নিতে পারতেন। সুবহানাল্লহ! তিনি এসব করা থেকে পবিত্র ও মুক্ত। তিনিই আল্লাহ, একক-অদ্বিতীয় এবং প্রবল প্রতাপশালী।
خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ بِالْحَقِّ ۚ یُكَوِّرُ الَّیْلَ عَلَی النَّهَارِ وَ یُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَی الَّیْلِ وَ سَخَّرَ الشَّمْسَ وَ الْقَمَرَ ؕ كُلٌّ یَّجْرِیْ لِاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ اَلَا هُوَ الْعَزِیْزُ الْغَفَّارُ 5
5. দেখো! আল্লাহ মহাকাশ ও পৃথিবীকে এক সুনিপুণ পরিকল্পনার আলোকে তৈরি করেছেন। তিনি দিন ও রাতকে পালাক্রমে ঘুরিয়ে আনেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে এক বিশেষ নিয়মের অধীন করে রেখেছেন। মহাকাশের প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নিজ নিজ কক্ষপথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মনে রেখো, আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী এবং অতীব ক্ষমাশীল।
خَلَقَكُمْ مِّنْ نَّفْسٍ وَّاحِدَةٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَ اَنْزَلَ لَكُمْ مِّنَ الْاَنْعَامِ ثَمٰنِیَةَ اَزْوَاجٍ ؕ یَخْلُقُكُمْ فِیْ بُطُوْنِ اُمَّهٰتِكُمْ خَلْقًا مِّنْۢ بَعْدِ خَلْقٍ فِیْ ظُلُمٰتٍ ثَلٰثٍ ؕ ذٰلِكُمُ اللّٰهُ رَبُّكُمْ لَهُ الْمُلْكُ ؕ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ فَاَنّٰی تُصْرَفُوْنَ 6
6. ভেবে দেখো, আল্লাহ তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকেই সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকেও বানিয়েছেন। তিনি তোমাদের জন্য নর ও মাদি মিলে মোট আটটি গবাদি পশু সৃষ্টি কারেছেন। তোমাদেরকে মাতৃগর্ভে তিন-তিনটি গভীর অন্ধকারে পর্যায়ক্রমে সৃষ্টি করেছেন। হ্যাঁ, তিনিই আল্লাহ। তোমাদের রব। সার্বভৌম কর্তৃত্ব-ক্ষমতার একমাত্র মালিক। তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। এরপরও এ মহাসত্য থেকে তোমাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?
اِنْ تَكْفُرُوْا فَاِنَّ اللّٰهَ غَنِیٌّ عَنْكُمْ ۫ وَ لَا یَرْضٰی لِعِبَادِهِ الْكُفْرَ ۚ وَ اِنْ تَشْكُرُوْا یَرْضَهُ لَكُمْ ؕ وَ لَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِّزْرَ اُخْرٰی ؕ ثُمَّ اِلٰی رَبِّكُمْ مَّرْجِعُكُمْ فَیُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ؕ اِنَّهٗ عَلِیْمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ 7
7. তোমরা অকৃতজ্ঞ হলে মনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। বস্তুত অকৃতজ্ঞ হওয়াকে আল্লাহ বান্দার স্বার্থেই অপছন্দ করেন। তোমরা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকলে, তিনিও তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকবেন। মনে রেখো, মহাবিচারের দিন কেউই অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না। আর শেষ পর্যন্ত তোমাদের সবাইকে তোমাদের রবের কাছে ফিরে আসতেই হবে। পার্থিব জীবনে যা কিছু করে চলছো, সেদিন তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খ তা তোমাদের জানিয়ে দিবেন। বস্তুত আল্লাহ তোমাদের অন্তরের খবরও জানেন।
وَ اِذَا مَسَّ الْاِنْسَانَ ضُرٌّ دَعَا رَبَّهٗ مُنِیْبًا اِلَیْهِ ثُمَّ اِذَا خَوَّلَهٗ نِعْمَةً مِّنْهُ نَسِیَ مَا كَانَ یَدْعُوْۤا اِلَیْهِ مِنْ قَبْلُ وَ جَعَلَ لِلّٰهِ اَنْدَادًا لِّیُضِلَّ عَنْ سَبِیْلِهٖ ؕ قُلْ تَمَتَّعْ بِكُفْرِكَ قَلِیْلًا ۖۗ اِنَّكَ مِنْ اَصْحٰبِ النَّارِ 8
8. মানুষের অবস্থা দেখো, দুঃখ-বিপদ যখন তাকে স্পর্শ করে, তখন সে একনিষ্ঠচিত্তে আপন রবকে ডাকতে থাকে। কিন্তু যখন তিনি নিজ অনুগ্রহে তাকে বিপদমুক্ত করেন, তখন সে ভুলেই যায় যে, একসময় সে আল্লাহকে ডেকেছিলো। উল্টো সে অন্যদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করায়। সাধারণ লোকদেরকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। হে নবী, ওদের বলো, এ অকৃতজ্ঞ অবস্থায় তোমরা সামান্য কিছু সময়ের জন্য পার্থিব জীবন ভোগ করে নাও। কেননা আখেরাতে তোমাদের জন্য কেবল জাহান্নামের শাস্তিই অপেক্ষা করছে।
اَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ اٰنَآءَ الَّیْلِ سَاجِدًا وَّ قَآىِٕمًا یَّحْذَرُ الْاٰخِرَةَ وَ یَرْجُوْا رَحْمَةَ رَبِّهٖ ؕ قُلْ هَلْ یَسْتَوِی الَّذِیْنَ یَعْلَمُوْنَ وَ الَّذِیْنَ لَا یَعْلَمُوْنَ ؕ اِنَّمَا یَتَذَكَّرُ اُولُوا الْاَلْبَابِ۠ 9
9. ভেবে দেখো, যে ব্যক্তি রাতে সেজদায় অবনত হয়ে বা দাঁড়িয়ে আল্লাহর ইবাদত করে, আখেরাতের জবাবদিহিতা নিয়ে শঙ্কিত থাকে এবং আপন রবের দয়া খুঁজে বেড়ায়, সে কি কখনো ওর সমান যে এর কিছুই করে না? হে নবী, জিজ্ঞেস করো, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি কখনো সমান হতে পারে? আসলে বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেরাই সত্যের উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।
قُلْ یٰعِبَادِ الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوْا رَبَّكُمْ ؕ لِلَّذِیْنَ اَحْسَنُوْا فِیْ هٰذِهِ الدُّنْیَا حَسَنَةٌ ؕ وَ اَرْضُ اللّٰهِ وَاسِعَةٌ ؕ اِنَّمَا یُوَفَّی الصّٰبِرُوْنَ اَجْرَهُمْ بِغَیْرِ حِسَابٍ 10
10. হে নবী, আমার ঈমানদার বান্দাদের বলো, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করে চলো। যারা পার্থিব জীবনে ভালো কাজ করে, শেষ পর্যন্ত তারাই কল্যাণ লাভ করবে। আর হ্যাঁ, আল্লাহর দুনিয়া অনেক বড়। আর যারা ধৈর্যের সাথে কঠিন প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করছে, তারা অবশ্যই এর বিনিময়ে বেহিসাব পুরস্কার পাবে।
قُلْ اِنِّیْۤ اُمِرْتُ اَنْ اَعْبُدَ اللّٰهَ مُخْلِصًا لَّهُ الدِّیْنَۙ 11
11. হে নবী ঘোষণা দাও, আমি আদিষ্ট হয়েছি, আল্লাহর পূর্ণ অনুগত থেকে নিষ্ঠার সাথে তাঁর ইবাদত করতে।
وَ اُمِرْتُ لِاَنْ اَكُوْنَ اَوَّلَ الْمُسْلِمِیْنَ 12
12. আরো আদিষ্ট হয়েছি, যারা আল্লাহয় সমর্পিত হয়েছে, তাদের মধ্যে অগ্রগামী হতে।
قُلْ اِنِّیْۤ اَخَافُ اِنْ عَصَیْتُ رَبِّیْ عَذَابَ یَوْمٍ عَظِیْمٍ 13
13. নবী হে, বলো, আমি আমার রবের অবাধ্য হলে, আমার ভয় হয় মহাবিচার দিন আমাকেও শাস্তি দেয়া হবে।
قُلِ اللّٰهَ اَعْبُدُ مُخْلِصًا لَّهٗ دِیْنِیْۙ 14
14. ঘোষণা করো, আমি পূর্ণ অনুগত থেকে একনিষ্ঠভাবে কেবল আল্লাহর ইবাদত করছি।
فَاعْبُدُوْا مَا شِئْتُمْ مِّنْ دُوْنِهٖ ؕ قُلْ اِنَّ الْخٰسِرِیْنَ الَّذِیْنَ خَسِرُوْۤا اَنْفُسَهُمْ وَ اَهْلِیْهِمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ اَلَا ذٰلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِیْنُ 15
15. হে নবী, ওদের বলো, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে আর যাদের ইবাদত করার ইচ্ছা, করে নাও; তবে জেনে রেখো, আসল ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা নিজেদের ও পরিবার-পরিজনের আখেরাতের জীবনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ভালোকরে শুনে নাও, এটাই হচ্ছে চূড়ান্ত সর্বনাশ।
لَهُمْ مِّنْ فَوْقِهِمْ ظُلَلٌ مِّنَ النَّارِ وَ مِنْ تَحْتِهِمْ ظُلَلٌ ؕ ذٰلِكَ یُخَوِّفُ اللّٰهُ بِهٖ عِبَادَهٗ ؕ یٰعِبَادِ فَاتَّقُوْنِ 16
16. হায়! সেদিন ওদের উপরে-নিচে চারপাশে আগুনের লেলিহান শিখা আর ওরা তার মাঝখানে। আহ! কী এক ভয়ানক অবস্থা! আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে এ ব্যাপারে সতর্ক করছেন, হে আমার বান্দারা, আমাকে ভয় করো। আমার আযাব থেকে বাঁচো।
وَ الَّذِیْنَ اجْتَنَبُوا الطَّاغُوْتَ اَنْ یَّعْبُدُوْهَا وَ اَنَابُوْۤا اِلَی اللّٰهِ لَهُمُ الْبُشْرٰی ۚ فَبَشِّرْ عِبَادِۙ 17
17. অন্যদিকে যারা আল্লাহদ্রোহী শক্তির ইবাদত করা থেকে দূবে থেকে এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি অনুরাগী হয়েছে, তাদের জন্য রয়েছে মহা সুসংবাদ। হে নবী, আমার এসব বান্দাদের সুসংবাদ দাও।
الَّذِیْنَ یَسْتَمِعُوْنَ الْقَوْلَ فَیَتَّبِعُوْنَ اَحْسَنَهٗ ؕ اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ هَدٰىهُمُ اللّٰهُ وَ اُولٰٓىِٕكَ هُمْ اُولُوا الْاَلْبَابِ 18
18. যারা মনোযোগসহ আমার বাণী শোনে এবং আন্তরিকভাবে তা মেনে চলার চেষ্টা করে, তাদেরকেই আল্লাহ সত্য-সঠিক পথে পরিচালিত করেন। বস্তুত এসব বান্দারাই সত্যিকারের বুদ্ধিমান।
اَفَمَنْ حَقَّ عَلَیْهِ كَلِمَةُ الْعَذَابِ ؕ اَفَاَنْتَ تُنْقِذُ مَنْ فِی النَّارِۚ 19
19. পক্ষান্তরে যার ব্যাপারে আল্লাহর আযাবের চূড়ান্ত ফয়সালা হয়ে গেছে, তাকে কে রক্ষা করতে পারে? হে নবী, যে চারদিক দিয়ে আগুনে পরিবেষ্টিত হয়ে আছে, তাকে কি তুমি বাঁচাতে পারবে?
لٰكِنِ الَّذِیْنَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ غُرَفٌ مِّنْ فَوْقِهَا غُرَفٌ مَّبْنِیَّةٌ ۙ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ ؕ۬ وَعْدَ اللّٰهِ ؕ لَا یُخْلِفُ اللّٰهُ الْمِیْعَادَ 20
20. তবে যারা নিজেদের রবের নাফরমানী করা থেকে বেঁচে থাকবে, তাদের জন্য জান্নাতে বহুতল বিশিষ্ট সুউচ্চ প্রাসাদ প্রস্তুত রয়েছে, যার পাদদেশ দিয়ে প্রবহমান থাকবে স্রোতস্বিনী ঝর্নাধারা। এটা আল্লাহর ওয়াদা। আর আল্লাহ কখনো তাঁর ওয়াদা খেলাফ করেন না।
اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللّٰهَ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَسَلَكَهٗ یَنَابِیْعَ فِی الْاَرْضِ ثُمَّ یُخْرِجُ بِهٖ زَرْعًا مُّخْتَلِفًا اَلْوَانُهٗ ثُمَّ یَهِیْجُ فَتَرٰىهُ مُصْفَرًّا ثُمَّ یَجْعَلُهٗ حُطَامًا ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَذِكْرٰی لِاُولِی الْاَلْبَابِ۠ 21
21. তোমরা কি দেখো না যে, আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। অতঃপর সে পানি ঝর্না ও নদ-নদীর মাধ্যমে জমিনে পৌঁছে যায় এবং তা দিয়েই জমিন নানা বর্ণের ফল-ফসল উৎপন্ন করে। এরপর যখন সে ফসল পেকে শুকিয়ে যায়, তখন তোমরা তাকে হলুদ বর্ণে দেখতে পাও। অবশেষে আল্লাহ তা খড়কুটো ও ধুলোয় পরিণত করে দেন। জ্ঞানবুদ্ধি সম্পন্ন লোকদের জন্য এ জীবনচক্রের মধ্যে অনেক অনেক শিক্ষা রয়েছে।
اَفَمَنْ شَرَحَ اللّٰهُ صَدْرَهٗ لِلْاِسْلَامِ فَهُوَ عَلٰی نُوْرٍ مِّنْ رَّبِّهٖ ؕ فَوَیْلٌ لِّلْقٰسِیَةِ قُلُوْبُهُمْ مِّنْ ذِكْرِ اللّٰهِ ؕ اُولٰٓىِٕكَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ 22
22. ইসলামের জন্য আল্লাহ যার অন্তরকে খুলে দিয়েছেন, ফলে সে আল্লাহর দেয়া হেদায়তের আলোর উপর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, সে কি কখনো তার সমান হতে পারে যার অন্তর জমাটবাঁধা গোমরাহিতে বদ্ধ, ফলে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল? ধ্বংস ওদের জন্য। ওরা সত্যিই সুস্পষ্ট গোমরাহির মধ্যে রয়েছে।
اَللّٰهُ نَزَّلَ اَحْسَنَ الْحَدِیْثِ كِتٰبًا مُّتَشَابِهًا مَّثَانِیَ ۖۗ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُوْدُ الَّذِیْنَ یَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ۚ ثُمَّ تَلِیْنُ جُلُوْدُهُمْ وَ قُلُوْبُهُمْ اِلٰی ذِكْرِ اللّٰهِ ؕ ذٰلِكَ هُدَی اللّٰهِ یَهْدِیْ بِهٖ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَ مَنْ یُّضْلِلِ اللّٰهُ فَمَا لَهٗ مِنْ هَادٍ 23
23. দেখো, আল্লাহ সর্বোত্তম শিক্ষা সম্বলিত এ কিতাব নাযিল করেছেন, যাতে কোনো বৈপরীত্য নেই বরং সবই সুসামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে সত্যের বিষয়গুলো বারবার বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কাজেই যারা আপন প্রভুকে ভয় করে চলে, এ কিতাবের পাঠ শুনলে তাদের শরীরের পশম শিউরে ওঠে এবং আপন দেহ-মন বিগলিত করে আল্লাহর স্মরণে নিজেদেরকে সঁপে দেয়। হ্যাঁ! এটাই আল্লাহর পথনির্দেশ। যে পথ খোঁজে, আল্লাহ চাইলে তাকে পথ দেখান। আর আল্লাহ যাকে পাপাচারের মধ্যে বিভ্রান্ত হতে ছেড়ে দেন, তাকে কেউই সঠিক পথ দেখাতে পারে না।
اَفَمَنْ یَّتَّقِیْ بِوَجْهِهٖ سُوْٓءَ الْعَذَابِ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ وَ قِیْلَ لِلظّٰلِمِیْنَ ذُوْقُوْا مَا كُنْتُمْ تَكْسِبُوْنَ 24
24. আচ্ছা! তুমি কি সে ব্যক্তির দুর্দশা কখনো ভেবে দেখেছো, কিয়ামতের দিন আল্লাহর আযাব ঠেকাতে গিয়ে যার চেহারা পর্যন্ত থেতলে যাবে? হায়! সেদিন জালেমদের বলা হবে, জীবনভর যে পাপ কামিয়ে এসেছো, আজ তার স্বাদ গ্রহণ করো।
كَذَّبَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَاَتٰىهُمُ الْعَذَابُ مِنْ حَیْثُ لَا یَشْعُرُوْنَ 25
25. ওদের পূর্বেও বহু মানুষ সত্যকে অস্বীকার করেছিলো। কিন্তু তাদের উপর আল্লাহর আযাব এমন হঠাৎ এসে পড়েছিলো যে, তারা কোনো কিছু বুঝেই উঠতে পারেনি।
فَاَذَاقَهُمُ اللّٰهُ الْخِزْیَ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۚ وَلَعَذَابُ الْاٰخِرَةِ اَكْبَرُ ۘ لَوْ كَانُوْا یَعْلَمُوْنَ 26
26. আল্লাহ দুনিয়ার জীবনেই তাদেরকে লাঞ্ছিত করেছেন। আর আখেরাতের শাস্তি তো আরো ভয়ানক। হায়! যদি সত্য অস্বীকারকারীরা এ ভয়বহতা টের পেতো।
وَ لَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِیْ هٰذَا الْقُرْاٰنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ لَّعَلَّهُمْ یَتَذَكَّرُوْنَۚ 27
27. আমি এ কুরআনে সব ধরনের উপমা-উদাহরণ দিয়ে মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, যাতে তারা এ থেকে উপদেশ গ্রহণ করে।
قُرْاٰنًا عَرَبِیًّا غَیْرَ ذِیْ عِوَجٍ لَّعَلَّهُمْ یَتَّقُوْنَ 28
28. আরবি ভাষায় এ কুরআন নাযিল করেছি, এর মধ্যে কোনো ধরনের বক্রতা বা জড়তা রাখিনি। হয়তো মানুষ তাদের মন্দ পরিণাম থেকে বাঁচতে পারবে।
ضَرَبَ اللّٰهُ مَثَلًا رَّجُلًا فِیْهِ شُرَكَآءُ مُتَشٰكِسُوْنَ وَ رَجُلًا سَلَمًا لِّرَجُلٍ ؕ هَلْ یَسْتَوِیٰنِ مَثَلًا ؕ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ ۚ بَلْ اَكْثَرُهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ 29
29. আল্লাহ তোমাদের বোঝার জন্য এমন দুই ক্রীতদাসের উপমা পেশ করছেন, যার একজনের কতিপয় কঠোর স্বভাবের মনিব রয়েছে এবং যাদের প্রত্যেকেই তাকে নিজের দিকে টানে। আর অপর ক্রীতদাসটির মনিব মাত্র একজনই। এখন তোমরাই বলো, এ দুই ক্রীতদাসের অবস্থা কি এক হতে পারে? আলহামদুলিল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা একমাত্র আল্লাহর। যদিও অধিকাংশ মানুষ এ সত্যটা জানে না।
اِنَّكَ مَیِّتٌ وَّ اِنَّهُمْ مَّیِّتُوْنَؗ 30
30. হে নবী, একদিন যেমন তোমার মৃত্যু হবে, ঠিক পাপীদেরও একদিন না একদিন মরতে হবে।
ثُمَّ اِنَّكُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ عِنْدَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُوْنَ۠ 31
31. অতঃপর মহাবিচারের দিন তোমরা প্রত্যেকেই আপন রবের দরবারে নিজ নিজ জবানবন্দি পেশ করবে।
فَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ كَذَبَ عَلَی اللّٰهِ وَ كَذَّبَ بِالصِّدْقِ اِذْ جَآءَهٗ ؕ اَلَیْسَ فِیْ جَهَنَّمَ مَثْوًی لِّلْكٰفِرِیْنَ 32
32. তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে এবং তার কাছে আসা সুস্পষ্ট সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে চলে? এমন কাফেরদের বাসস্থান জাহান্নাম ছাড়া আর কী হতে পারে?
وَ الَّذِیْ جَآءَ بِالصِّدْقِ وَ صَدَّقَ بِهٖۤ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُتَّقُوْنَ 33
33. মনে রেখো, যারা মানুষকে সত্যের পথে ডাকে, আর যারা সে ডাকে সাড়া দিয়ে সত্যের পথে চলে, একমাত্র তারাই মুত্তাকী বান্দা।
لَهُمْ مَّا یَشَآءُوْنَ عِنْدَ رَبِّهِمْ ؕ ذٰلِكَ جَزٰٓؤُا الْمُحْسِنِیْنَۚۖ 34
34. সেদিন তারা আপন রবের কাছে যা-ই চাবে, তা-ই পাবে। আর এটাই হবে সৎকর্মশীলদের প্রতিদান।
لِیُكَفِّرَ اللّٰهُ عَنْهُمْ اَسْوَاَ الَّذِیْ عَمِلُوْا وَ یَجْزِیَهُمْ اَجْرَهُمْ بِاَحْسَنِ الَّذِیْ كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 35
35. সেদিন আল্লাহ তাদের আমনলামা থেকে সব ভুলত্রুটি ও পাপগুলো মুছে দিবেন। সৎকর্মের জন্য তাদেরকে মহাপুরস্কারে সম্মানিত করবেন।
اَلَیْسَ اللّٰهُ بِكَافٍ عَبْدَهٗ ؕ وَ یُخَوِّفُوْنَكَ بِالَّذِیْنَ مِنْ دُوْنِهٖ ؕ وَ مَنْ یُّضْلِلِ اللّٰهُ فَمَا لَهٗ مِنْ هَادٍۚ 36
36. হে নবী, আল্লাহ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? অথচ এসব দুরাচারী পাপীরা তোমায় ওদের কল্পিত মিথ্যা খোদাদের গযবের ভয় দেখায়! আসলে আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট হওয়ার জন্য ছেড়ে দেন, তার জন্য কোনো পথ প্রদর্শক থাকে না।
وَ مَنْ یَّهْدِ اللّٰهُ فَمَا لَهٗ مِنْ مُّضِلٍّ ؕ اَلَیْسَ اللّٰهُ بِعَزِیْزٍ ذِی انْتِقَامٍ 37
37. আর আল্লাহ যাকে সৎপথ প্রদর্শন করেন, জেনে রেখো, কেউ তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না। ভাবো! আল্লাহ কি প্রতিশোধ গ্রহণে মহাপরাক্রমশালী নন?
وَ لَىِٕنْ سَاَلْتَهُمْ مَّنْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ لَیَقُوْلُنَّ اللّٰهُ ؕ قُلْ اَفَرَءَیْتُمْ مَّا تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اِنْ اَرَادَنِیَ اللّٰهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كٰشِفٰتُ ضُرِّهٖۤ اَوْ اَرَادَنِیْ بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكٰتُ رَحْمَتِهٖ ؕ قُلْ حَسْبِیَ اللّٰهُ ؕ عَلَیْهِ یَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكِّلُوْنَ 38
38. হে নবী, যদি এ মুশরিকদর জিজ্ঞেস করো যে, কে এ মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন? ওরা নিজেরাই বলবে, ‘আল্লাহ’। ওদের বলো, এটাই যখন সত্য, তখন কি একবার ভেবে দেখেছো, আল্লাহ যদি আমার কোনো ক্ষতি করতে চান; তবে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের উপাসনা করছো, তারা কি আমায় রক্ষা করতে পারবে? কিংবা আল্লাহ যদি আমার কোনো কল্যাণ করতে চান, তবে কি তারা তা ঠেকাতে পারবে? নবী হে, বলে দাও, না, পারবে না। সুতরাং আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। বস্তুত ভরসাকারীদের উচিত একমাত্র তাঁর উপরই ভরসা করা।
قُلْ یٰقَوْمِ اعْمَلُوْا عَلٰی مَكَانَتِكُمْ اِنِّیْ عَامِلٌ ۚ فَسَوْفَ تَعْلَمُوْنَۙ 39
39. হে নবী, ওদেরকে সাফসাফ বলে দাও, তোমরা তোমাদের মতো কাজ চালিয়ে যাও। আমিও আমার কাজ করে যাচ্ছি। কাজেই এখন অপেক্ষা করো।
مَنْ یَّاْتِیْهِ عَذَابٌ یُّخْزِیْهِ وَ یَحِلُّ عَلَیْهِ عَذَابٌ مُّقِیْمٌ 40
40. অচিরেই জানতে পারবে, কারা দুনিয়ায় লাঞ্ছিত-অপমানিত হয় এবং আখেরাতে চিরস্থায়ী আযাবের পাত্রে পরিণত হবে।
اِنَّاۤ اَنْزَلْنَا عَلَیْكَ الْكِتٰبَ لِلنَّاسِ بِالْحَقِّ ۚ فَمَنِ اهْتَدٰی فَلِنَفْسِهٖ ۚ وَ مَنْ ضَلَّ فَاِنَّمَا یَضِلُّ عَلَیْهَا ۚ وَ مَاۤ اَنْتَ عَلَیْهِمْ بِوَكِیْلٍ۠ 41
41. হে নবী, সমগ্র মানব জাতির কল্যাণের জন্যই আমি এ কিতাবকে সত্যের মশাল হিসাবে তোমার উপর নাযিল করেছি। কাজেই এখন যে এ সত্যপথ ধরে চলবে, প্রকৃতার্থে সে নিজের কল্যাণই বয়ে আনবে। আর যে ভ্রান্ত পথ বেছে নিবে, সে তার নিজের ধ্বংস ডেকে আনবে। কাজেই তুমি ওদের জন্য দায়ী থাকবে না।
اَللّٰهُ یَتَوَفَّی الْاَنْفُسَ حِیْنَ مَوْتِهَا وَ الَّتِیْ لَمْ تَمُتْ فِیْ مَنَامِهَا ۚ فَیُمْسِكُ الَّتِیْ قَضٰی عَلَیْهَا الْمَوْتَ وَ یُرْسِلُ الْاُخْرٰۤی اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّتَفَكَّرُوْنَ 42
42. তিনিই আল্লাহ! একমাত্র তিনিই মৃত্যুর মুহূর্তে মানুষের রূহ হরণ করেন। এমনকি মানুষ যখন ঘুমায়, তখনও তার রূহ তিনি নিয়ে যান। এরপর যার ব্যাপারে মৃত্যুর ফয়সালা করেন, তার রূহ আটকে রাখেন। আর বাকিদের রূহ এক নির্দিষ্ট হায়াতের জন্য ফিরিয়ে দেন। এসবের ভিতরে অনেক অনেক নিদর্শন রয়েছে। অবশ্য চিন্তাশীল লোকেরাই তা বুঝতে পারে।
اَمِ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ شُفَعَآءَ ؕ قُلْ اَوَ لَوْ كَانُوْا لَا یَمْلِكُوْنَ شَیْـًٔا وَّ لَا یَعْقِلُوْنَ 43
43. আফসোস! এরপরও কিছু মানুষ আল্লাহকে বাদ দিয়ে মিথ্যা খোদাদেরকে নিজেদের সুপারিশকারী মানছে। হে নবী, ওদের জিজ্ঞেস করো, তোমাদের এসব খোদারা যদি সুপারিশ করার ক্ষমতা না রাখে কিংবা তোমাদের কোনো চাওয়াই বুঝতে না পারে, তবুও কি তোমরা তাদেরকে মানবে?
قُلْ لِّلّٰهِ الشَّفَاعَةُ جَمِیْعًا ؕ لَهٗ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ ثُمَّ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ 44
44. বলো, সমস্ত সুপারিশের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে। মহাকাশ ও পৃথিবীর সবকিছুই তাঁর মালিকানাধীন। আর তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরতে হবে।
وَ اِذَا ذُكِرَ اللّٰهُ وَحْدَهُ اشْمَاَزَّتْ قُلُوْبُ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ ۚ وَ اِذَا ذُكِرَ الَّذِیْنَ مِنْ دُوْنِهٖۤ اِذَا هُمْ یَسْتَبْشِرُوْنَ 45
45. আখেরাত অস্বীকারকারীদের অবস্থা দেখো, যখন ওদের সামনে শুধু এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর কথা বলা হয়, তখন ওদের মন বিষণ্নতায় সংকুচিত হয়ে আসে। কিন্তু যখনই আল্লাহর কথা বাদ দিয়ে অন্যদের কথা বলা হয়, তখন ওরা আনন্দে উল্লসিত হয়ে উঠে।
قُلِ اللّٰهُمَّ فَاطِرَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ عٰلِمَ الْغَیْبِ وَ الشَّهَادَةِ اَنْتَ تَحْكُمُ بَیْنَ عِبَادِكَ فِیْ مَا كَانُوْا فِیْهِ یَخْتَلِفُوْنَ 46
46. হে নবী, বলো, হে আল্লাহ, হে মহাকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা, হে দৃশ্য-অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত সত্তা, তোমার এসব বান্দারা আজ যেসব ব্যাপারে মতবিরোধ করে চলছে, নিশ্চয়ই মহাবিচারের দিন তুমি এসবের চূড়ান্ত ফয়সালা করে দিবে।
وَ لَوْ اَنَّ لِلَّذِیْنَ ظَلَمُوْا مَا فِی الْاَرْضِ جَمِیْعًا وَّ مِثْلَهٗ مَعَهٗ لَافْتَدَوْا بِهٖ مِنْ سُوْٓءِ الْعَذَابِ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ وَ بَدَا لَهُمْ مِّنَ اللّٰهِ مَا لَمْ یَكُوْنُوْا یَحْتَسِبُوْنَ 47
47. জেনে রেখো, জালেমেরা যদি এক পৃথিবীর সব সম্পদ বা তার দ্বিগুন সম্পদের মালিকও হয়, মহাবিচারের দিন আল্লাহর কঠিন আযাব থেকে বাঁচার জন্য তার সবটুকুই মুক্তিপণ হিসাবে দিতে চাইবে। কিন্তু না, সেদিন আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হবে, যা হবে ওদের কল্পনারও বাইরে।
وَ بَدَا لَهُمْ سَیِّاٰتُ مَا كَسَبُوْا وَ حَاقَ بِهِمْ مَّا كَانُوْا بِهٖ یَسْتَهْزِءُوْنَ 48
48. সেদিন ওদের সারাজীবনের সমস্ত দুষ্কর্ম একের পর এক ওদের সামনে প্রকাশ করা হবে। আর যে শাস্তি নিয়ে ওরা দুনিয়ায় ঠাট্টা-তামাশা করতো, তা-ই ওদেরকে চারিদিক দিয়ে ঘিরে নিবে।
فَاِذَا مَسَّ الْاِنْسَانَ ضُرٌّ دَعَانَا ؗ ثُمَّ اِذَا خَوَّلْنٰهُ نِعْمَةً مِّنَّا ۙ قَالَ اِنَّمَاۤ اُوْتِیْتُهٗ عَلٰی عِلْمٍ ؕ بَلْ هِیَ فِتْنَةٌ وَّ لٰكِنَّ اَكْثَرَهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ 49
49. অথচ দেখো, এ মানুষই যখন কোনো বিপদে পড়ে, তখন সাহায্যের আশায় সে কেবল আমাকেই ডাকতে থাকে। কিন্তু যখন আমি তাকে নিজ অনুগ্রহে সমৃদ্ধ করে তুলি, তখন সে আত্ম-অহংকার করে বলে, এ সবই আমার জ্ঞান ও যোগ্যতা দিয়ে অর্জন করেছি। কিন্তু না, এটা ছিলো তার জন্য একটি পরীক্ষা। হায়! অধিকাংশ মানুষই এ পরীক্ষাটা বুঝতে পারে না।
قَدْ قَالَهَا الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَمَاۤ اَغْنٰی عَنْهُمْ مَّا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ 50
50. ওদের পূর্বসূরীরাও এমন কথা বলতো। কিন্তু না, শেষ পর্যন্ত ওদের আত্ম-অহংকার ও উপার্জিত ধন-সম্পদ ওদেরকে রক্ষা করতে পারেনি।
فَاَصَابَهُمْ سَیِّاٰتُ مَا كَسَبُوْا ؕ وَ الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا مِنْ هٰۤؤُلَآءِ سَیُصِیْبُهُمْ سَیِّاٰتُ مَا كَسَبُوْا ۙ وَ مَا هُمْ بِمُعْجِزِیْنَ 51
51. অতীতে ওদের বাপ-দাদারা যেভাবে তাদের পাপের শাস্তি ভোগ করেছে, এসব জালেমরাও শীঘ্রই ওদের পাপের শাস্তি ভোগ করবে। কোনোভাবেই ওরা আল্লাহর আযাবকে প্রতিহত করতে পারবে না।
اَوَ لَمْ یَعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ یَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ یَّشَآءُ وَ یَقْدِرُ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ۠ 52
52. ওরা কি জানে না যে, আল্লাহ আপন ইচ্ছানুযায়ী কাউকে অধিক পরিমাণে রিযিক দিয়ে থাকেন, আবার কাউকে দেন পরিমিত? বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য এভাবে রিযিক বাড়া-কমা এক বড়ই নিদর্শন।
قُلْ یٰعِبَادِیَ الَّذِیْنَ اَسْرَفُوْا عَلٰۤی اَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوْا مِنْ رَّحْمَةِ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِیْعًا ؕ اِنَّهٗ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِیْمُ 53
53. হে নবী, মানুষদেরকে আমার এ কথা জানিয়ে দাও যে, হে আমার বান্দারা, তোমরা যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছো, তারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ তোমাদের সমস্ত গুনাহই মাফ করবেন। নিশ্চয়ই তিনি বড়ই ক্ষমাশীল এবং পরম দয়ালু।
وَ اَنِیْبُوْۤا اِلٰی رَبِّكُمْ وَ اَسْلِمُوْا لَهٗ مِنْ قَبْلِ اَنْ یَّاْتِیَكُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنْصَرُوْنَ 54
54. তোমাদের উপর আল্লাহর আযাব আসার পূর্বেই পাপ ছেড়ে, তাঁর দিকেই ফিরে এসো এবং তাঁর কাছে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সঁপে দাও। মনে রেখো, একবার আযাব এসে গেলে, তোমাদের সাহায্য পাওয়ার আর কোনো পথ থাকবে না।
وَ اتَّبِعُوْۤا اَحْسَنَ مَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ یَّاْتِیَكُمُ الْعَذَابُ بَغْتَةً وَّ اَنْتُمْ لَا تَشْعُرُوْنَۙ 55
55. সাবধান হও! তোমাদের উপর তোমাদের অজান্তে হঠাৎ করে আল্লাহর আযাব এসে পড়ার আগেই, তোমাদের কাছে যে কল্যাণময় কিতাব তিনি নাযিল করেছেন, তার পূর্ণ অনুসরণ করো।
اَنْ تَقُوْلَ نَفْسٌ یّٰحَسْرَتٰی عَلٰی مَا فَرَّطْتُ فِیْ جَنْۢبِ اللّٰهِ وَ اِنْ كُنْتُ لَمِنَ السّٰخِرِیْنَۙ 56
56. যেন বিচারের ময়দানে তোমাদের কাউকেই আফসোস করে বলতে না হয় যে, হায়! কেন আমি আল্লাহর কথাগুলো ঠিকমতো শুনিনি। হায়! কেন আমি সত্য নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করে বেড়িয়েছি।
اَوْ تَقُوْلَ لَوْ اَنَّ اللّٰهَ هَدٰىنِیْ لَكُنْتُ مِنَ الْمُتَّقِیْنَۙ 57
57. অথবা তোমাদের কাউকেই যেন এ কথা বলতে না হয় যে, আল্লাহ আমাকে সত্য পথ দেখালে আজ আমি মুত্তাকীদের সাথে জান্নাতবাসী হতে পারতাম।
اَوْ تَقُوْلَ حِیْنَ تَرَی الْعَذَابَ لَوْ اَنَّ لِیْ كَرَّةً فَاَكُوْنَ مِنَ الْمُحْسِنِیْنَ 58
58. অথবা চোখের সামনে জাহান্নামের শাস্তি এসে যাবার পর এমনটা বলতে না হয় যে, যদি আমি এক বারের জন্য দুনিয়ায় ফিরে যেতে পারতাম, তবে অবশ্যই সৎকর্মশীল হয়ে ফিরতাম।
بَلٰی قَدْ جَآءَتْكَ اٰیٰتِیْ فَكَذَّبْتَ بِهَا وَ اسْتَكْبَرْتَ وَ كُنْتَ مِنَ الْكٰفِرِیْنَ 59
59. সে সময় এ জবাব দেয়া হবে যে, তোমার কাছে আমার সত্যবণী পৌঁছে ছিলো। কিন্তু তুমি তা মেনে নাওনি বরং উল্টো দম্ভভরে এর বিরোধিতা করেছিলে। আসলে তুমি সত্যিই কাফের ছিলে।
وَ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ تَرَی الَّذِیْنَ كَذَبُوْا عَلَی اللّٰهِ وُجُوْهُهُمْ مُّسْوَدَّةٌ ؕ اَلَیْسَ فِیْ جَهَنَّمَ مَثْوًی لِّلْمُتَكَبِّرِیْنَ 60
60. যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে, তুমি কিয়ামতের দিন দেখবে, ওদের মুখ কালিমালিপ্ত হয়ে আছে। বস্তুত দাম্ভিক পাপিষ্ঠদের আবাস জাহান্নাম ছাড়া আর কী হতে পারে?
وَ یُنَجِّی اللّٰهُ الَّذِیْنَ اتَّقَوْا بِمَفَازَتِهِمْ ؗ لَا یَمَسُّهُمُ السُّوْٓءُ وَ لَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ 61
61. সেদিন আল্লাহ তাঁর মুত্তাকী বান্দাদের নাজাত দিবেন। তারাই সফল হবে। কোনো অমঙ্গল বা দুঃখ-দুর্দশা তাদের স্পর্শ করবে না।
اَللّٰهُ خَالِقُ كُلِّ شَیْءٍ ؗ وَّ هُوَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ وَّكِیْلٌ 62
62. আল্লাহই সব কিছুর স্রষ্টা। তিনিই সব কিছুর অভিভাবক ও কর্মবিধায়ক।
لَهٗ مَقَالِیْدُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ وَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِاٰیٰتِ اللّٰهِ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْخٰسِرُوْنَ۠ 63
63. মহাকাশ ও পৃথিবীর চাবিকাঠি একমাত্র আল্লাহরই হাতে। কাজেই যারা তাঁর আয়াতকে অমান্য করে, পরিণামে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
قُلْ اَفَغَیْرَ اللّٰهِ تَاْمُرُوْٓنِّیْۤ اَعْبُدُ اَیُّهَا الْجٰهِلُوْنَ 64
64. হে নবী বলো, ওহে মূর্খরা, তোমরা কি আমায় এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহ কে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করতে বলছো?
وَ لَقَدْ اُوْحِیَ اِلَیْكَ وَ اِلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكَ ۚ لَىِٕنْ اَشْرَكْتَ لَیَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَ لَتَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ 65
65. অথচ তুমি তো জানো যে, তোমার ও তোমার পূর্ববর্তী নবীদের কাছে অহি করে বলা হয়েছে যদি আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরিক করো, তবে তোমার সকল আমলই বরবাদ হয়ে যাবে এবং তুমি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
بَلِ اللّٰهَ فَاعْبُدْ وَ كُنْ مِّنَ الشّٰكِرِیْنَ 66
66. অতএব তুমি এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর শোকরগুজার বান্দা হয়ে থাকো।
وَ مَا قَدَرُوا اللّٰهَ حَقَّ قَدْرِهٖ ۖۗ وَ الْاَرْضُ جَمِیْعًا قَبْضَتُهٗ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ وَ السَّمٰوٰتُ مَطْوِیّٰتٌۢ بِیَمِیْنِهٖ ؕ سُبْحٰنَهٗ وَ تَعٰلٰی عَمَّا یُشْرِكُوْنَ 67
67. এসব শরিককারীরা আল্লাহর ক্ষমতার অসীমত্বকে আন্দাজ করতে পারেনি। ওরা জেনে রাখুক, কিয়ামতের দিন আল্লাহ গোটা পৃথিবীকে স্রেফ এক হাতের মুঠোয় নিয়ে নিবেন এবং মহাকাশকে ভাঁজ করে ডান হাতে নিয়ে নিবেন। সুবহানাল্লাহ! ওরা আল্লাহর সাথে যে শরিক করছে, তিনি তা থেকে মহাপবিত্র এবং অনেক অনেক ঊর্ধ্বে।
وَ نُفِخَ فِی الصُّوْرِ فَصَعِقَ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَنْ فِی الْاَرْضِ اِلَّا مَنْ شَآءَ اللّٰهُ ؕ ثُمَّ نُفِخَ فِیْهِ اُخْرٰی فَاِذَا هُمْ قِیَامٌ یَّنْظُرُوْنَ 68
68. যখন শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে, তখন আল্লাহ যাদের রক্ষা করতে চান, তারা ছাড়া মহাকাশ ও পৃথিবীর অন্য সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকবে। এরপর যখন দ্বিতীয়বার ফুঁৎকার দেয়া হবে, তখন সবাই উঠে দাঁড়াবে এবং ভীত-সন্ত্রস্ত চোখে এদিক-সেদিক তাকাতে থাকবে।
وَ اَشْرَقَتِ الْاَرْضُ بِنُوْرِ رَبِّهَا وَ وُضِعَ الْكِتٰبُ وَ جِایْٓءَ بِالنَّبِیّٖنَ وَ الشُّهَدَآءِ وَ قُضِیَ بَیْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَ هُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ 69
69. এরপর পুরো পৃথিবী তার রবের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। সবার আমলনামা প্রকাশ করা হবে। এক এক করে নবী-রসুল ও সকল সাক্ষীকে হাজির করা হবে। সেদিন প্রত্যেকের প্রতি ন্যায় বিচার করা হবে, কারো প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুমও করা হবে না।
وَ وُفِّیَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ وَ هُوَ اَعْلَمُ بِمَا یَفْعَلُوْنَ۠ 70
70. প্রত্যেকেই তার কৃতকর্মের পুরোপুরি প্রতিফল লাভ করবে। কেননা মানুষের কোনো কৃতকর্মই আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়।
وَ سِیْقَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِلٰی جَهَنَّمَ زُمَرًا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوْهَا فُتِحَتْ اَبْوَابُهَا وَ قَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَاۤ اَلَمْ یَاْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنْكُمْ یَتْلُوْنَ عَلَیْكُمْ اٰیٰتِ رَبِّكُمْ وَ یُنْذِرُوْنَكُمْ لِقَآءَ یَوْمِكُمْ هٰذَا ؕ قَالُوْا بَلٰی وَ لٰكِنْ حَقَّتْ كَلِمَةُ الْعَذَابِ عَلَی الْكٰفِرِیْنَ 71
71. সেদিন বিচার শেষে কাফেরদেরকে দলে দলে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নেয়া হবে। ওরা জাহান্নামের কাছে পৌঁছালে জাহান্নামের ফটকগুলো খুলে দেয়া হবে। ওদের প্রবেশ মুহূর্তে জাহান্নামের প্রহরীরা জিজ্ঞেস করবে, আচ্ছা! তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে আল্লাহর রসুলগণ যাননি, যারা তোমাদের রবের বাণী তোমাদেরকে শোনাতো এবং আজকে এ বিচার-ফয়সালার দিনের মুখোমুখি হওয়ার ব্যাপারে তোমাদের সতর্ক করতো? তখন ওরা বলবে, হ্যাঁ! এসেছিলো। কিন্তু আমরা তাদেরকে মানিনি। আসলে সত্য অস্বীকারকারীদের উপর আল্লাহর অবধারিত শাস্তি আজ পূর্ণ হতে চলেছে।
قِیْلَ ادْخُلُوْۤا اَبْوَابَ جَهَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ۚ فَبِئْسَ مَثْوَی الْمُتَكَبِّرِیْنَ 72
72. তখন ওদেরকে প্রহরীরা বলবে, জাহান্নামের মধ্যে প্রবেশ করো। এখানেই তোমরা চিরকাল থাকবে। আহ! দাম্ভিক পাপাচারীদের জন্য এটা কতোই না নিকৃষ্ট আবাস!
وَ سِیْقَ الَّذِیْنَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ اِلَی الْجَنَّةِ زُمَرًا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوْهَا وَ فُتِحَتْ اَبْوَابُهَا وَ قَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلٰمٌ عَلَیْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوْهَا خٰلِدِیْنَ 73
73. অন্যদিকে আল্লাহভীরু বান্দাদেরকে একসাথে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা সেখানে পৌঁছাবে, তখন সেখানকার সেবকেরা জান্নাতের তোরণ খুলে দিয়ে তাদেরকে স্বাগত জানাবে। বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম। তোমরা সুখী হও। এসো, এ জান্নাতেই তোমরা চিরদিনের জন্য সুখ ভোগ করো।
وَ قَالُوا الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْ صَدَقَنَا وَعْدَهٗ وَ اَوْرَثَنَا الْاَرْضَ نَتَبَوَّاُ مِنَ الْجَنَّةِ حَیْثُ نَشَآءُ ۚ فَنِعْمَ اَجْرُ الْعٰمِلِیْنَ 74
74. তারা বলবে, আলহামদুলিল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহর। তিনি আমাদের দেয়া তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন। তিনি আমাদেরকে এ বিশাল জান্নাতি ভূমির মালিক বানিয়ে দিয়েছেন। আমরা এখন এ জান্নাতের যেখানে ইচ্ছে থাকতে পারবো। বাহ! সৎকর্মশীলদের জন্য এটা কতোই না উত্তম প্রতিদান।
وَ تَرَی الْمَلٰٓىِٕكَةَ حَآفِّیْنَ مِنْ حَوْلِ الْعَرْشِ یُسَبِّحُوْنَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ ۚ وَ قُضِیَ بَیْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَ قِیْلَ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ۠ 75
75. হে নবী, তখন তুমি দেখবে, একদল ফেরেশতা আরশের চারপাশ ঘিরে তাদের রবের সপ্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে। সেদিন সবার সাথেই ন্যায় ফয়সালা করা হবে। চারদিক দিয়ে স্লোগান উঠবে, মহাবিশ্বের রবের জন্যই সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা।