48. আল ফাতহ
اِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِیْنًاۙ 1
1. হে নবী, আমি এ চুক্তির মধ্য দিয়ে তোমাকে এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি।
لِّیَغْفِرَ لَكَ اللّٰهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْۢبِكَ وَ مَا تَاَخَّرَ وَ یُتِمَّ نِعْمَتَهٗ عَلَیْكَ وَیَهْدِیَكَ صِرَاطًا مُّسْتَقِیْمًاۙ 2
2. যাতে আল্লাহ তোমার জীবনের অতীত ও ভবিষ্যতের সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করেন, তোমার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করেন এবং তোমাকে সত্যের সহজ-সরল পথে পরিচালিত করেন।
وَّیَنْصُرَكَ اللّٰهُ نَصْرًا عَزِیْزًا 3
3. আর তোমাকে সর্বাত্মক সাহায্য-সহযোগিতা করেন।
هُوَ الَّذِیْۤ اَنْزَلَ السَّكِیْنَةَ فِیْ قُلُوْبِ الْمُؤْمِنِیْنَ لِیَزْدَادُوْۤا اِیْمَانًا مَّعَ اِیْمَانِهِمْ ؕ وَ لِلّٰهِ جُنُوْدُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَلِیْمًا حَكِیْمًاۙ 4
4. আল্লাহ এ অভিযাত্রায় ঈমানদারদের অন্তরকে বড়ই প্রশান্ত, স্থির-দৃঢ়চিত্ত রেখেছিলেন। ফলে উদ্ভূত নতুন পরিস্থিতি তাদের ঈমানী শক্তিকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আসলে মহাকাশ ও পৃথিবীর সকল বাহিনী আল্লাহর কর্তৃত্বাধীন। তিনি মহাজ্ঞানী, পরম প্রজ্ঞাময়।
لِّیُدْخِلَ الْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا وَ یُكَفِّرَ عَنْهُمْ سَیِّاٰتِهِمْ ؕ وَ كَانَ ذٰلِكَ عِنْدَ اللّٰهِ فَوْزًا عَظِیْمًاۙ 5
5. এ কঠিন অভিযাত্রার মাধ্যমে আল্লাহ মূলত ঈমানদার পুরুষ ও নারীদের জান্নাতের চিরস্থায়ী মেহমান বানাতে চেয়েছেন, যার পাদদেশে থাকবে বহমান স্রোতস্বিনী ঝর্নাধারা। সেদিন আল্লাহ তাদের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন। আল্লাহর দৃষ্টিতে এটাই মহাসাফল্য।
وَّ یُعَذِّبَ الْمُنٰفِقِیْنَ وَ الْمُنٰفِقٰتِ وَ الْمُشْرِكِیْنَ وَ الْمُشْرِكٰتِ الظَّآنِّیْنَ بِاللّٰهِ ظَنَّ السَّوْءِ ؕ عَلَیْهِمْ دَآىِٕرَةُ السَّوْءِ ۚ وَ غَضِبَ اللّٰهُ عَلَیْهِمْ وَ لَعَنَهُمْ وَ اَعَدَّ لَهُمْ جَهَنَّمَ ؕ وَ سَآءَتْ مَصِیْرًا 6
6. অন্যদিকে মুনাফিক ও মুশরিক নারী-পুরুষ, যারা আল্লাহ সম্পর্কে বাজে আকিদা-বিশ্বাস পোষণ করে, ওদেরকে সেদিন তিনি কঠিন শাস্তি দিবেন। ওদের উপর একের পর এক অমঙ্গল আপতিত হবে। আল্লাহ ওদের উপর ভীষণ রাগন্বিত হয়েছেন। ওদের উপর তাঁর অভিশাপ পড়েছে। এখন ওদের জন্য কেবল জাহান্নামই অপেক্ষা করছে। হায়! ওটা কতোই না জঘন্য জায়গা!
وَ لِلّٰهِ جُنُوْدُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَزِیْزًا حَكِیْمًا 7
7. বস্তুত মহাকাশ ও পৃথিবীর সকল বাহিনী আল্লাহর কর্তৃত্বের অধীন। আর আল্লাহ বড়ই পরাক্রমশালী, বড়ই প্রজ্ঞাময়।
اِنَّاۤ اَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا وَّ مُبَشِّرًا وَّ نَذِیْرًاۙ 8
8. হে নবী, আমি তোমাকে মানুষের কাছে সত্যের সাক্ষীরূপে, সুসংবাদ দানকারী এবং সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি।
لِّتُؤْمِنُوْا بِاللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ وَ تُعَزِّرُوْهُ وَ تُوَقِّرُوْهُ ؕ وَ تُسَبِّحُوْهُ بُكْرَةً وَّ اَصِیْلًا 9
9. যাতে হে মানুষ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের কথা মেনে নাও এবং রসুলের শক্তি যোগাও এবং তাকে সর্বোচ্চ সম্মান করো। আর সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর মহিমা ও পবিত্রতা জপতে থাকো।
اِنَّ الَّذِیْنَ یُبَایِعُوْنَكَ اِنَّمَا یُبَایِعُوْنَ اللّٰهَ ؕ یَدُ اللّٰهِ فَوْقَ اَیْدِیْهِمْ ۚ فَمَنْ نَّكَثَ فَاِنَّمَا یَنْكُثُ عَلٰی نَفْسِهٖ ۚ وَ مَنْ اَوْفٰی بِمَا عٰهَدَ عَلَیْهُ اللّٰهَ فَسَیُؤْتِیْهِ اَجْرًا عَظِیْمًا۠ 10
10. হে নবী, সেদিন যারা তোমার হাতে আমৃত্যু লড়াইয়ের জন্য বায়াত করেছিলো, প্রকৃতার্থে তারা আল্লাহর হাতেই বায়াতবদ্ধ হচ্ছিলো। তাদের হাতের উপর ছিলো আল্লাহর হাত। অতএব এখন যে এ প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করবে, সে এর কঠিন পরিণাম ভোগ করবে। আর যে তা পূর্ণ করবে, আল্লাহ খুব শীঘ্রই তাকে মহাপুরস্কারে সম্মানিত করবেন।
سَیَقُوْلُ لَكَ الْمُخَلَّفُوْنَ مِنَ الْاَعْرَابِ شَغَلَتْنَاۤ اَمْوَالُنَا وَ اَهْلُوْنَا فَاسْتَغْفِرْ لَنَا ۚ یَقُوْلُوْنَ بِاَلْسِنَتِهِمْ مَّا لَیْسَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ ؕ قُلْ فَمَنْ یَّمْلِكُ لَكُمْ مِّنَ اللّٰهِ شَیْـًٔا اِنْ اَرَادَ بِكُمْ ضَرًّا اَوْ اَرَادَ بِكُمْ نَفْعًا ؕ بَلْ كَانَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرًا 11
11. হে নবী, মদিনার যেসব বেদুইন এ অভিযাত্রায় যোগ না দিয়ে পিছনে রয়ে গিয়েছিলো, ওরা অচিরেই তোমার কাছে এসে বলবে, আমরা আমাদের ধন-সম্পত্তি ও পরিবার-পরিজন নিয়ে খুবই ব্যস্ততার মধ্যে ছিলাম। দয়াকরে আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রর্থনা করুন। আসলে ওদের মনের কথার সাথে মুখের কথার কোনো মিল নেই। তুমি ওদের বলে দাও, ঠিক আছে! তোমাদের ব্যাপারে আল্লাহ কোনো ক্ষতি বা কল্যাণ করতে চাইলে কে তাঁর ফয়সালা আটকাতে পারে? আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে খুব ভালোই খবর রাখেন।
بَلْ ظَنَنْتُمْ اَنْ لَّنْ یَّنْقَلِبَ الرَّسُوْلُ وَ الْمُؤْمِنُوْنَ اِلٰۤی اَهْلِیْهِمْ اَبَدًا وَّ زُیِّنَ ذٰلِكَ فِیْ قُلُوْبِكُمْ وَ ظَنَنْتُمْ ظَنَّ السَّوْءِ ۖۚ وَ كُنْتُمْ قَوْمًۢا بُوْرًا 12
12. না, আসলে তোমরা মনে করেছিলে যে, রসুল ও তার ঈমানদার সাথিরা এ যাত্রায় আর পরিবার-পরিজনের কাছে বেঁচে ফিরতে পারবে না। এমনটা ভেবে মনে মনে তোমরা খুব খুশিই হচ্ছিলে। আহ! কতোই না নিকৃষ্ট ধারণায় তোমরা ডুবে ছিলে! তোমাদের মানসিকতা কতোইনা জঘন্য!
وَ مَنْ لَّمْ یُؤْمِنْۢ بِاللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ فَاِنَّاۤ اَعْتَدْنَا لِلْكٰفِرِیْنَ سَعِیْرًا 13
13. যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের প্রতি ঈমান আনেনি, সেসব কাফেরদের জন্য আমি দাউদাউ করে জ্বলা অগ্নিকুন্ড প্রস্তুত করে রেখেছি।
وَ لِلّٰهِ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ یَغْفِرُ لِمَنْ یَّشَآءُ وَ یُعَذِّبُ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا 14
14. মহাকাশ ও পৃথিবীর সর্বময় ক্ষমতার চাবিকাঠি একমাত্র আল্লাহর হাতে। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আবার যাকে ইচ্ছা পাপের শাস্তি দেন। তবে তিনি অতীব ক্ষমাশীল, অতীব দয়াময়।
سَیَقُوْلُ الْمُخَلَّفُوْنَ اِذَا انْطَلَقْتُمْ اِلٰی مَغَانِمَ لِتَاْخُذُوْهَا ذَرُوْنَا نَتَّبِعْكُمْ ۚ یُرِیْدُوْنَ اَنْ یُّبَدِّلُوْا كَلٰمَ اللّٰهِ ؕ قُلْ لَّنْ تَتَّبِعُوْنَا كَذٰلِكُمْ قَالَ اللّٰهُ مِنْ قَبْلُ ۚ فَسَیَقُوْلُوْنَ بَلْ تَحْسُدُوْنَنَا ؕ بَلْ كَانُوْا لَا یَفْقَهُوْنَ اِلَّا قَلِیْلًا 15
15. হে ঈমানদারেরা, অচিরেই তোমরা যখন এমন কোনো অভিযানে বের হবে, যেখানে বিজয় ও যুদ্ধলব্ধ ধন-সম্পত্তি পাওয়ার সহজ সম্ভাবনা রয়েছে, তখন আজকের পিছনে পড়ে থাকা লোকগুলো এসে বলবে, আমাদেরকে তোমাদেরে সাথে এ অভিযানে নিয়ে চলো। ওরা আল্লাহর ফয়সালাকে বদলে দিতে চায়। ওদের সাফ বলে দাও, না, তোমরা আমাদের সাথে আসবে না। কারা যাবে আর কারা যাবে না আল্লাহ তা আগেই ঠিক করে দিয়েছেন। তখন এসব কপোট লোকেরা বলবে, তোমরা তো আমাদেরকে হিংসার চোখে দেখছো। আসলে ওরা সঠিক কথা খুব কমই বোঝে।
قُلْ لِّلْمُخَلَّفِیْنَ مِنَ الْاَعْرَابِ سَتُدْعَوْنَ اِلٰی قَوْمٍ اُولِیْ بَاْسٍ شَدِیْدٍ تُقَاتِلُوْنَهُمْ اَوْ یُسْلِمُوْنَ ۚ فَاِنْ تُطِیْعُوْا یُؤْتِكُمُ اللّٰهُ اَجْرًا حَسَنًا ۚ وَ اِنْ تَتَوَلَّوْا كَمَا تَوَلَّیْتُمْ مِّنْ قَبْلُ یُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا اَلِیْمًا 16
16. তোমরা পিছনে পড়ে থাকা ঐসব বেদুইনদের বলো, তোমাদেরকে খুব শীঘ্রই এক প্রবল-পরাক্রান্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ডাকা হবে। তারা আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত তোমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। জিহাদের এ নির্দেশ পালন করলে আল্লাহ তোমাদের উত্তম পুরস্কার দিবেন। আর যদি আগের মতো তখনো পিছু হটো, তবে আল্লাহ তোমাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি দিবেন।
لَیْسَ عَلَی الْاَعْمٰی حَرَجٌ وَّ لَا عَلَی الْاَعْرَجِ حَرَجٌ وَّ لَا عَلَی الْمَرِیْضِ حَرَجٌ ؕ وَ مَنْ یُّطِعِ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ یُدْخِلْهُ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ ۚ وَ مَنْ یَّتَوَلَّ یُعَذِّبْهُ عَذَابًا اَلِیْمًا۠ 17
17. তবে হ্যাঁ! কোনো অন্ধ, পঙ্গু ও রুগ্ন ব্যক্তি জিহাদে শরিক না হয়, তবে তাতে তার কোনো দোষ নেই। জেনে রেখো, যে সত্যিকারে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই এমন জান্নাতের মেহমান বানাবেন, যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্নাধারা প্রবাহিত থাকবে। আর যে এ আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, আল্লাহ তাকে কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি দিবেন।
لَقَدْ رَضِیَ اللّٰهُ عَنِ الْمُؤْمِنِیْنَ اِذْ یُبَایِعُوْنَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِیْ قُلُوْبِهِمْ فَاَنْزَلَ السَّكِیْنَةَ عَلَیْهِمْ وَ اَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِیْبًاۙ 18
18. হে নবী, আল্লাহ তোমার সেসব ঈমানদার সাথিদের উপর বড়ই সন্তুষ্ট হয়েছেন, যখন তারা গাছের নিচে তোমার হাতে আমৃত্যু লড়াইয়ের বায়াত করেছিলো। তখনকার তাদের মনের অবস্থা আল্লাহ ভালো করেই জানতেন। তাই তিনি তাদের মনকে করেছিলেন প্রশান্ত ও স্থির-দৃঢ়চেতা এবং পুরস্কার হিসেবে দিলেন আসন্ন বিজয়।
وَّ مَغَانِمَ كَثِیْرَةً یَّاْخُذُوْنَهَا ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَزِیْزًا حَكِیْمًا 19
19. আর অচিরেই তারা বিপুল যুদ্ধলব্ধ সম্পদ লাভ করবে। বস্তুত আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, পরম প্রজ্ঞাময়।
وَعَدَكُمُ اللّٰهُ مَغَانِمَ كَثِیْرَةً تَاْخُذُوْنَهَا فَعَجَّلَ لَكُمْ هٰذِهٖ وَ كَفَّ اَیْدِیَ النَّاسِ عَنْكُمْ ۚ وَ لِتَكُوْنَ اٰیَةً لِّلْمُؤْمِنِیْنَ وَ یَهْدِیَكُمْ صِرَاطًا مُّسْتَقِیْمًاۙ 20
20. হে ঈমানদারেরা, আল্লাহ তোমাদেরকে ওয়াদা দিচ্ছেন, অচিরেই তোমরা বিপুল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মালিক হবে। খেয়াল করে দেখো, তিনি খুব সহজেই তোমাদেরকে এক বিজয় দান করলেন এবং শত্রুর হাত থেকে তোমাদেরকে পূর্ণ নিরাপদ রাখলেন, যা ঈমানদারদের দৃষ্টিতে আল্লাহর কুদরতের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে আছে। আসলে আল্লাহ সবসময়ই তোমাদেরকে সত্য-সঠিক পথে চালিত করেন।
وَّ اُخْرٰی لَمْ تَقْدِرُوْا عَلَیْهَا قَدْ اَحَاطَ اللّٰهُ بِهَا ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرًا 21
21. এছাড়া তোমাদের জন্য আরো অনেক যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অপেক্ষা করছে, যা আল্লাহ তা তোমাদের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছেন। নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর উপর সর্বময় ক্ষমতা রাখেন।
وَ لَوْ قٰتَلَكُمُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَوَلَّوُا الْاَدْبَارَ ثُمَّ لَا یَجِدُوْنَ وَلِیًّا وَّ لَا نَصِیْرًا 22
22. কাফেরেরা যদি এ যাত্রায় সত্যিই তোমাদের সাথে যুদ্ধ বাধিয়ে বসতো, তবে ওরা অবশ্যই পৃষ্ঠ প্রদর্শন করতো। ওরা তখন সাহায্যকারী কিংবা রক্ষাকারী হিসেবে কাউকেই খুঁজে পেতো না।
سُنَّةَ اللّٰهِ الَّتِیْ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلُ ۖۚ وَ لَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللّٰهِ تَبْدِیْلًا 23
23. এটাই আল্লাহর নিয়ম। অতীত থেকে এ নিয়মই চলে আসছে। তুমি আল্লাহর এ নিয়মে কখনো কোনো রদ-বদল দেখবে না।
وَ هُوَ الَّذِیْ كَفَّ اَیْدِیَهُمْ عَنْكُمْ وَ اَیْدِیَكُمْ عَنْهُمْ بِبَطْنِ مَكَّةَ مِنْۢ بَعْدِ اَنْ اَظْفَرَكُمْ عَلَیْهِمْ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرًا 24
24. হে ঈমানদারেরা, আমি মক্কার মাটিতে তোমাদের বিজয় দান করার পর ওদের হাতকে তোমাদের বিরুদ্ধে এবং তোমাদের হাতকে ওদের বিরুদ্ধে নিরস্ত্র করেছি। আসলে তোমরা যা কিছুই করো না কেন, আল্লাহ তা সবই দেখেন।
هُمُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ صَدُّوْكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَ الْهَدْیَ مَعْكُوْفًا اَنْ یَّبْلُغَ مَحِلَّهٗ ؕ وَ لَوْ لَا رِجَالٌ مُّؤْمِنُوْنَ وَ نِسَآءٌ مُّؤْمِنٰتٌ لَّمْ تَعْلَمُوْهُمْ اَنْ تَطَـُٔوْهُمْ فَتُصِیْبَكُمْ مِّنْهُمْ مَّعَرَّةٌۢ بِغَیْرِ عِلْمٍ ۚ لِیُدْخِلَ اللّٰهُ فِیْ رَحْمَتِهٖ مَنْ یَّشَآءُ ۚ لَوْ تَزَیَّلُوْا لَعَذَّبْنَا الَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْهُمْ عَذَابًا اَلِیْمًا 25
25. হ্যাঁ! একথা ঠিক যে, কাফেরেরা তোমাদেরকে কাবা ঘরে ঢুকতে দেয়নি, কোরবানির পশুগুলোকেও যথাস্থানে পৌঁছতে দেয়নি। কিন্তু ওদের মধ্যেও এমনকিছু ঈমানদার নারী ও পুরুষ রয়েছে, যাদেরকে তোমরা চেনো না। এ কারণে মক্কায় তোমাদের যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অন্যথায় মক্কায় প্রবেশকালে তোমাদের অজ্ঞাতসারেই ঐসব ঈমানদার নারী-পুরুষদের পিষ্ট করে ফেলতে, পরিণামে তোমরা নিজেরাই কলঙ্কিত হতে। যুদ্ধের অনুমতি না দিয়ে আল্লাহ এভাবেই তাঁর পছন্দনীয় বান্দাদের আপন রহমতের চাদরে আশ্রয় দিয়েছেন। ঐসব ঈমানদারেরা যদি আগে থেকেই পৃথক অবস্থায় থাকতো, তবে সেদিন সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের আমি কঠিন মর্মন্তুদ শাস্তি দিতাম।
اِذْ جَعَلَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا فِیْ قُلُوْبِهِمُ الْحَمِیَّةَ حَمِیَّةَ الْجَاهِلِیَّةِ فَاَنْزَلَ اللّٰهُ سَكِیْنَتَهٗ عَلٰی رَسُوْلِهٖ وَ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ وَ اَلْزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوٰی وَ كَانُوْۤا اَحَقَّ بِهَا وَ اَهْلَهَا ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمًا۠ 26
26. কাফেরেরা যখন ক্রমাগত নিজেদের অন্তরে জাহিলী অহমিকা ও সংকীর্ণতা পোষণ করছিলো, অপরদিকে তখন আল্লাহ তাঁর রসুল ও ঈমানদারদের অন্তরে অনাবিল প্রশান্তি ও দৃঢ়তা ঢেলে দিচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে আল্লাহ সচেতনতাকে আরো মজবুত করে দিচ্ছেলেন। আসলে তারাই এ অনুগ্রহ পাওয়ার যোগ্য ছিলো। বস্তুত আল্লাহ সব কিছু সম্পর্কে পরিজ্ঞাত।
لَقَدْ صَدَقَ اللّٰهُ رَسُوْلَهُ الرُّءْیَا بِالْحَقِّ ۚ لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ اِنْ شَآءَ اللّٰهُ اٰمِنِیْنَ ۙ مُحَلِّقِیْنَ رُءُوْسَكُمْ وَ مُقَصِّرِیْنَ ۙ لَا تَخَافُوْنَ ؕ فَعَلِمَ مَا لَمْ تَعْلَمُوْا فَجَعَلَ مِنْ دُوْنِ ذٰلِكَ فَتْحًا قَرِیْبًا 27
27. নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর রসুলকে সত্য স্বপ্নই দেখিয়েছিলেন। সন্দেহ নেই, আল্লাহর ইচ্ছায় তোমরা পূর্ণ নিরাপদে কাবাঘরে প্রবেশ করবে। সেদিন তোমরা নিজেদের মাথা মুন্ডন করাবে অথবা চুল ছোট করে কাটিয়ে নেবে। সেদিন তোমাদের কোনো ভয় থাকবে না। তোমরা যা জানতে না, তা আল্লাহ জানতেন। তাই এ স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ার আগে তোমাদেরকে এ আসন্ন বিজয় দান করেছেন।
هُوَ الَّذِیْۤ اَرْسَلَ رَسُوْلَهٗ بِالْهُدٰی وَ دِیْنِ الْحَقِّ لِیُظْهِرَهٗ عَلَی الدِّیْنِ كُلِّهٖ ؕ وَ كَفٰی بِاللّٰهِ شَهِیْدًاؕ 28
28. আল্লাহ তাঁর রসুলকে সত্যের পথনির্দেশ ও সঠিক জীবনব্যবস্থা দিয়ে মানুষের কাছে পাঠিয়েছেন, যাতে প্রচলিত সব মিথ্যা জীবনব্যবস্থার উপর এ সত্য জীবনব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। আর এ সত্যের স্বপক্ষে আল্লাহর সাক্ষ্যই যথেষ্ট।
مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللّٰهِ ؕ وَ الَّذِیْنَ مَعَهٗۤ اَشِدَّآءُ عَلَی الْكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَیْنَهُمْ تَرٰىهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا یَّبْتَغُوْنَ فَضْلًا مِّنَ اللّٰهِ وَ رِضْوَانًا ؗ سِیْمَاهُمْ فِیْ وُجُوْهِهِمْ مِّنْ اَثَرِ السُّجُوْدِ ؕ ذٰلِكَ مَثَلُهُمْ فِی التَّوْرٰىةِ ۛۖۚ وَ مَثَلُهُمْ فِی الْاِنْجِیْلِ ۛ۫ۚ كَزَرْعٍ اَخْرَجَ شَطْـَٔهٗ فَاٰزَرَهٗ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوٰی عَلٰی سُوْقِهٖ یُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِیَغِیْظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ ؕ وَعَدَ اللّٰهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ مِنْهُمْ مَّغْفِرَةً وَّ اَجْرًا عَظِیْمًا۠ 29
29. মুহাম্মদ আল্লাহর রসুল। তার সঙ্গী-সাথিরা কাফেরদের ব্যাপারে দৃঢ় ও আপোসহীন। আর নিজেরা পরস্পরের প্রতি বড়ই দয়াপরবশ। আল্লাহর দয়া ও সন্তুষ্টি লাভের আশায় তোমরা তাদেরকে রুকু ও সেজদায় লুটিয়ে থাকতে দেখবে। সেজদার প্রভাবে তাদের চেহারায় সমর্পিত জীবনের প্রতিফলন ঘটবে। আল্লাহ তাওরাতে তাদের পরিচয় এভাবেই দিয়েছেন। আর ইঞ্জিল কিতাবে তাদের উপমা দেওয়া হচ্ছে, তারা এমন বীজ, যা অঙ্কুরিত হয়ে আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে, একসময় কান্ডের উপর শক্ত হয়ে আকাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। ফলে চাষির মন আনন্দে ভরে যায়। আল্লাহ এভাবেই ঈমানদারদের সমৃদ্ধ করেন। আর তা দেখে সত্যের দুশমনদের অন্তর্জ্বালা আরো বাড়তে থাকে। আল্লাহ ওয়াদা করেছেন, যারা ঈমান আনবে এবং সৎকর্ম করবে, তিনি তাদের অপরাধগুলো ক্ষমা করবেন এবং তাদেরকে মহাপুরস্কারে ভূষিত করবেন।