68. আল কলম
نٓ وَ الْقَلَمِ وَ مَا یَسْطُرُوْنَۙ 1
1. নুন, কসম কলম ও কিতাবের।
مَاۤ اَنْتَ بِنِعْمَةِ رَبِّكَ بِمَجْنُوْنٍۚ 2
2. না! তোমার রবের অনুগ্রহে তুমি পাগল নও।
وَ اِنَّ لَكَ لَاَجْرًا غَیْرَ مَمْنُوْنٍۚ 3
3. নিঃসন্দেহে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে অফুরন্ত পুরস্কার।
وَ اِنَّكَ لَعَلٰی خُلُقٍ عَظِیْمٍ 4
4. সন্দেহ নেই, তুমি মহান চরিত্রের অধিকারী।
فَسَتُبْصِرُ وَ یُبْصِرُوْنَۙ 5
5. অচিরেই তুমি দেখতে পাবে এবং এসব মিথ্যাচারীরাও দেখতে পাবে,
بِاَىیِّكُمُ الْمَفْتُوْنُ 6
6. তোমাদের মধ্যে কে পাগলামিতে লিপ্ত।
اِنَّ رَبَّكَ هُوَ اَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِیْلِهٖ ۪ وَ هُوَ اَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِیْنَ 7
7. হে নবী, তোমার রব ভালো করেই জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত আর কে সৎপথ প্রাপ্ত।
فَلَا تُطِعِ الْمُكَذِّبِیْنَ 8
8. কাজেই হে নবী, এ মিথ্যাচারীদের চাপে তুমি নমনীয় হয়ো না।
وَدُّوْا لَوْ تُدْهِنُ فَیُدْهِنُوْنَ 9
9. ওরা তো চায়, তুমি ওদের কথা মতো কিছুটা আপোস করে নাও। তাহলে ওরাও তোমায় কিছুটা ছাড় দেবে।
وَ لَا تُطِعْ كُلَّ حَلَّافٍ مَّهِیْنٍۙ 10
10. হে নবী, তুমি এমন কারো কথায় অবদমিত হয়ো না, (এক) যে কথায় কথায় শপথ করে, (দুই) যে সম্মানহীন-নীচ।
هَمَّازٍ مَّشَّآءٍۭ بِنَمِیْمٍۙ 11
11. (তিন) যে পিছনে নিন্দা করে, (চার) যে একের কথা অন্যের কাছে লাগায়।
مَّنَّاعٍ لِّلْخَیْرِ مُعْتَدٍ اَثِیْمٍۙ 12
12. (পাঁচ) যে ভালো কাজে বাধা দেয় (ছয়) যে সীমালঙ্ঘনকারী, (সাত) যে চরম পাপিষ্ঠ।
عُتُلٍّۭ بَعْدَ ذٰلِكَ زَنِیْمٍۙ 13
13. (আট) যে ঝগড়াটে ও হিংসুটে এবং (নয়) সর্বোপরি যে বজ্জাত।
اَنْ كَانَ ذَا مَالٍ وَّ بَنِیْنَؕ 14
14. তার দাম্ভিকতার কারণ, সে সম্পদশালী এবং অনেক সন্তানের বাপ।
اِذَا تُتْلٰی عَلَیْهِ اٰیٰتُنَا قَالَ اَسَاطِیْرُ الْاَوَّلِیْنَ 15
15. এ কারণেই তাকে আমার কিতাব পড়ে শুনালে সে বলে, আরে! এসব তো সেকেলে কল্পকাহিনী।
سَنَسِمُهٗ عَلَی الْخُرْطُوْمِ 16
16. শীঘ্রই আমি ওর নাকে অপমানের খত দিয়ে দেবো।
اِنَّا بَلَوْنٰهُمْ كَمَا بَلَوْنَاۤ اَصْحٰبَ الْجَنَّةِ ۚ اِذْ اَقْسَمُوْا لَیَصْرِمُنَّهَا مُصْبِحِیْنَۙ 17
17. আমি এসব পাপীদের পরীক্ষা নিচ্ছি। যেভাবে আমি পরীক্ষা নিয়েছিলাম সে-ই বাগান মালিকদের, যারা শপথ করে বলেছিলো, ওরা খুব ভোরে অবশ্যই বাগানের ফল পেড়ে আনবে।
وَ لَا یَسْتَثْنُوْنَ 18
18. ওরা এ ব্যাপারে আল্লাহর উপর ভরসা রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি।
فَطَافَ عَلَیْهَا طَآىِٕفٌ مِّنْ رَّبِّكَ وَ هُمْ نَآىِٕمُوْنَ 19
19. রাতে ওরা যখন ঘুমিয়ে ছিলো, তখন তোমার রবের হুকুমে ওদের সে বাগানে নেমে এলো এক ভয়ানক বিপর্যয়।
فَاَصْبَحَتْ كَالصَّرِیْمِۙ 20
20. ফলে পুরো বাগান পুড়ে কালো হয়ে গেলো।
فَتَنَادَوْا مُصْبِحِیْنَۙ 21
21. তারপর খুব ভোরে ওরা একে অপরকে ডেকে বললো,
اَنِ اغْدُوْا عَلٰی حَرْثِكُمْ اِنْ كُنْتُمْ صٰرِمِیْنَ 22
22. যদি ফল সংগ্রহ করতে চাও, তবে সকাল সকাল বাগানে চলো।
فَانْطَلَقُوْا وَ هُمْ یَتَخَافَتُوْنَۙ 23
23. ওরা চলতে চলতে পরস্পরে ফিসফিস করে বলতে লাগলো,
اَنْ لَّا یَدْخُلَنَّهَا الْیَوْمَ عَلَیْكُمْ مِّسْكِیْنٌۙ 24
24. আজ যেন কোনো অভাবী বাগানে তোমাদের আশেপাশে ভিড়তে না পারে।
وَّ غَدَوْا عَلٰی حَرْدٍ قٰدِرِیْنَ 25
25. এ লক্ষ্যেই ওরা খুব জোর পায়ে বাগানের কাছে পৌঁছালো।
فَلَمَّا رَاَوْهَا قَالُوْۤا اِنَّا لَضَآلُّوْنَۙ 26
26. তারপর ওরা বাগানের অবস্থা দেখে চিৎকার দিয়ে উঠলো, আমরা হয়তো ভুল পথে এসেছি।
بَلْ نَحْنُ مَحْرُوْمُوْنَ 27
27. না, বরং আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে।
قَالَ اَوْسَطُهُمْ اَلَمْ اَقُلْ لَّكُمْ لَوْ لَا تُسَبِّحُوْنَ 28
28. ওদের মধ্যকার সবচেয়ে ভালো লোকটি তখন বললো, আমি কি তোমাদের বলিনি যে, তোমরা এসব নেয়ামত পেয়ে আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছো না কেন?
قَالُوْا سُبْحٰنَ رَبِّنَاۤ اِنَّا كُنَّا ظٰلِمِیْنَ 29
29. ওরা তখন বলতে লাগলো, সুবহানাল্লহ! আমাদের রব বড়ই পবিত্র। আসলেই আমরা গুনাহগার ছিলাম।
فَاَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلٰی بَعْضٍ یَّتَلَاوَمُوْنَ 30
30. এরপর ওরা সবাই একে অপরের উপর দোষ চাপাতে লাগলো।
قَالُوْا یٰوَیْلَنَاۤ اِنَّا كُنَّا طٰغِیْنَ 31
31. শেষ পর্যন্ত সবাই আফসোস করে বললো, হায়! আমাদের দুর্ভোগ! সত্যিই আমরা সীমালঙ্ঘন করেছিলাম।
عَسٰی رَبُّنَاۤ اَنْ یُّبْدِلَنَا خَیْرًا مِّنْهَاۤ اِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا رٰغِبُوْنَ 32
32. আমরা এখন আমাদের রবের দিকেই ফিরছি। আশা রাখছি, পরবর্তীতে তিনি আমাদেরকে এর চেয়েও ভালো বাগান দান করবেন।
كَذٰلِكَ الْعَذَابُ ؕ وَ لَعَذَابُ الْاٰخِرَةِ اَكْبَرُ ۘ لَوْ كَانُوْا یَعْلَمُوْنَ۠ 33
33. দুনিয়ায় আমার আযাব এভাবেই আসে। আর আখেরাতের আযাব তো আরো অনেক ভয়ানক। হায়! যদি ওরা তা জানতো।
اِنَّ لِلْمُتَّقِیْنَ عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ 34
34. আল্লাহভীরুদের জন্য অবশ্যই তাদের রবের কাছে নেয়ামত ভরা জান্নাত রয়েছে।
اَفَنَجْعَلُ الْمُسْلِمِیْنَ كَالْمُجْرِمِیْنَؕ 35
35. এটা কিভাবে সম্ভব যে, আমি আত্মসমর্পিত বান্দাদের সাথে অপরাধীদের মতো আচরণ করবো?
مَا لَكُمْ ۥ كَیْفَ تَحْكُمُوْنَۚ 36
36. তোমাদের কি হয়েছে? তোমরা কিভাবে এমনটা ভাবতে পারলে?
اَمْ لَكُمْ كِتٰبٌ فِیْهِ تَدْرُسُوْنَۙ 37
37. তোমাদের কাছে কি এমন কোনো কিতাব রয়েছে, যাতে লেখা আছে যে,
اِنَّ لَكُمْ فِیْهِ لَمَا تَخَیَّرُوْنَۚ 38
38. তোমরা আখেরাতে তাই পাবে, যা তোমরা পছন্দ করবে?
اَمْ لَكُمْ اَیْمَانٌ عَلَیْنَا بَالِغَةٌ اِلٰی یَوْمِ الْقِیٰمَةِ ۙ اِنَّ لَكُمْ لَمَا تَحْكُمُوْنَۚ 39
39. তোমাদের সাথে কি আমার কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ এমন কোনো অঙ্গীকার রয়েছে যে, তোমরা নিজেদের জন্য যা কিছু ফয়সালা করবে, তাই আমাকে দিতে হবে?
سَلْهُمْ اَیُّهُمْ بِذٰلِكَ زَعِیْمٌۚۛ 40
40. হে নবী, ওদের জিজ্ঞেস করো, ওদের মধ্যে এ দাবির জিম্মাদার কে?
اَمْ لَهُمْ شُرَكَآءُ ۛۚ فَلْیَاْتُوْا بِشُرَكَآىِٕهِمْ اِنْ كَانُوْا صٰدِقِیْنَ 41
41. নাকি ওদের কোনো শরিক উপাস্য এ অঙ্গীকারের দায়িত্ব নিয়েছে? যদি তাই হয়ে থাকে, তবে ওরা সে শরিক খোদাদেরকে আমার সামনে হাজির করুক। দেখা যাবে, ওরা কেমন সত্যবাদী!
یَوْمَ یُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَّیُدْعَوْنَ اِلَی السُّجُوْدِ فَلَا یَسْتَطِیْعُوْنَۙ 42
42. স্মরণ করো সেই সংকটময় দিনের কথা! যেদিন এসব সত্য অস্বীকারকারীদের সেজদা করার জন্য ডাকা হবে। কিন্তু ওরা সেদিন সেজদা করতে সক্ষম হবে না।
خَاشِعَةً اَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ ؕ وَ قَدْ كَانُوْا یُدْعَوْنَ اِلَی السُّجُوْدِ وَ هُمْ سٰلِمُوْنَ 43
43. অপমান-লজ্জায় ওদের মাথা নিচু হয়ে থাকবে। কারণ ওরা যখন সক্ষম ও নিরাপদ ছিলো, তখন ওদের ডাকা হলেও ওরা সেজদা করেনি।
فَذَرْنِیْ وَ مَنْ یُّكَذِّبُ بِهٰذَا الْحَدِیْثِ ؕ سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِّنْ حَیْثُ لَا یَعْلَمُوْنَۙ 44
44. হে নবী, যারা আমার সত্যবাণীকে প্রত্যাখ্যান করেছে, ওদের ব্যাপারটা আমার ওপর ছেড়ে দাও। আমি ওদেরকে ধীরে ধীরে এমনভাবে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবো যে, ওরা টেরই পাবে না।
وَ اُمْلِیْ لَهُمْ ؕ اِنَّ كَیْدِیْ مَتِیْنٌ 45
45. যদিও আমি ওদের সামান্য সময় ও সুযোগ দিয়ে থাকি। তবে আমার কৌশল খুবই কার্যকরী।
اَمْ تَسْـَٔلُهُمْ اَجْرًا فَهُمْ مِّنْ مَّغْرَمٍ مُّثْقَلُوْنَۚ 46
46. ওরা কেন সত্য মানতে চাইছে না? তুমি কি এর বিনিময়ে ওদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক দাবি করেছো, যা পরিশোধ করলে ওরা ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়বে?
اَمْ عِنْدَهُمُ الْغَیْبُ فَهُمْ یَكْتُبُوْنَ 47
47. নাকি ওরা অদৃশ্যের সব খবরাখবর জেনে গেছে, এখন চাইলেই ওরা তা গড়গড় করে লিখে দিতে পারে?
فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَ لَا تَكُنْ كَصَاحِبِ الْحُوْتِ ۘ اِذْ نَادٰی وَ هُوَ مَكْظُوْمٌؕ 48
48. অতএব হে নবী, ওদের ব্যাপারে তোমার রবের চূড়ান্ত ফয়সালা না আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করো। তুমি সে-ই মাছওয়ালা ইউনুসের মতো অধৈর্য হয়ো না, যে মাছের পেটে বিষণ্ন অবস্থায় আমায় ডেকেছিলো।
لَوْ لَاۤ اَنْ تَدٰرَكَهٗ نِعْمَةٌ مِّنْ رَّبِّهٖ لَنُبِذَ بِالْعَرَآءِ وَ هُوَ مَذْمُوْمٌ 49
49. তার রবের অনুগ্রহ যদি তার উপর না থাকতো, তবে সে লাঞ্ছিত হয়ে খোলা প্রান্তরে পড়ে থাকতো।
فَاجْتَبٰىهُ رَبُّهٗ فَجَعَلَهٗ مِنَ الصّٰلِحِیْنَ 50
50. কিন্তু তার রব তাকে পুনরায় রেসালাতের জন্য মনোনীত করলেন এবং তাকে নেক বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করলেন।
وَ اِنْ یَّكَادُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَیُزْلِقُوْنَكَ بِاَبْصَارِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا الذِّكْرَ وَ یَقُوْلُوْنَ اِنَّهٗ لَمَجْنُوْنٌۘ 51
51. কাফেরেরা যখন এ কুরআনের উপদেশবাণী শোনে, তখন ওরা তোমার দিকে এমন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায়, যেন তোমাকে এখনই খুন করে ফেলবে। আর বলে, এতো এক বদ্ধ উন্মাদ।
وَ مَا هُوَ اِلَّا ذِكْرٌ لِّلْعٰلَمِیْنَ۠ 52
52. হে নবী, ধৈর্য ধরো। এ কুরআন তো সমগ্র মানবজাতির জন্য এক উপদেশ।