72. আল-জ্বিন
قُلْ اُوْحِیَ اِلَیَّ اَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوْۤا اِنَّا سَمِعْنَا قُرْاٰنًا عَجَبًاۙ 1
1. হে নবী, বলো, আমার কাছে অহি এসেছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে তেলাওয়াত শুনেছে এবং নিজ লোকদের কাছে গিয়ে বলেছে, শোনো! আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনে এসেছি।
یَّهْدِیْۤ اِلَی الرُّشْدِ فَاٰمَنَّا بِهٖ ؕ وَ لَنْ نُّشْرِكَ بِرَبِّنَاۤ اَحَدًاۙ 2
2. সে কুরআন সত্য-সঠিক পথের নির্দেশনা দেয়। আমরা সে কিতাবের উপর ঈমান এনেছি। আজ থেকে আমরা আর আমাদের রবের সাথে কাউকে শরিক করব না।
وَّ اَنَّهٗ تَعٰلٰی جَدُّ رَبِّنَا مَا اتَّخَذَ صَاحِبَةً وَّ لَا وَلَدًاۙ 3
3. আর নিশ্চয়ই আমাদের রব সুমহান মর্যদার অধিকারী। তিনি কাউকে স্ত্রী বা সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেননি।
وَّ اَنَّهٗ كَانَ یَقُوْلُ سَفِیْهُنَا عَلَی اللّٰهِ شَطَطًاۙ 4
4. এখন আমরা বুঝতে পারছি, আমাদের মধ্যকার নির্বোধেরা এতকাল আল্লাহ সম্পর্কে অবাস্তব মিথ্যাচার করে আসছে।
وَّ اَنَّا ظَنَنَّاۤ اَنْ لَّنْ تَقُوْلَ الْاِنْسُ وَ الْجِنُّ عَلَی اللّٰهِ كَذِبًاۙ 5
5. অথচ আমাদের ধারণা ছিল, মানুষ ও জিন আর যাই করুক; অন্তত আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলবে না।
وَّ اَنَّهٗ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْاِنْسِ یَعُوْذُوْنَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوْهُمْ رَهَقًاۙ 6
6. আমরা সব সময় দেখেছি, কিছু কিছু মানুষ কিছু জিনের আশ্রয় প্রার্থনা করতো। এভাবে মানুষেরাই জিনদের আত্ম-অহংকার বাড়িয়ে দিয়েছিলো।
وَّ اَنَّهُمْ ظَنُّوْا كَمَا ظَنَنْتُمْ اَنْ لَّنْ یَّبْعَثَ اللّٰهُ اَحَدًاۙ 7
7. তোমাদের মত এসব মানুষেরাও মনে করতো যে, আল্লাহ ওদের জন্য কাউকে রসুল করে পাঠাবেন না।
وَّ اَنَّا لَمَسْنَا السَّمَآءَ فَوَجَدْنٰهَا مُلِئَتْ حَرَسًا شَدِیْدًا وَّ شُهُبًاۙ 8
8. আমরা তো গিয়েছিলাম ঊর্ধ্বজগতের গোপন তথ্য সংগ্রহ করতে; কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম, পুরো আকাশ জুড়েই কঠোর প্রহরী এবং উল্কাপিন্ড বসানো রয়েছে।
وَّ اَنَّا كُنَّا نَقْعُدُ مِنْهَا مَقَاعِدَ لِلسَّمْعِ ؕ فَمَنْ یَّسْتَمِعِ الْاٰنَ یَجِدْ لَهٗ شِهَابًا رَّصَدًاۙ 9
9. আগে তো আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাটিতে বসে আঁড়ি পেতে সংবাদ শোনার সুযোগ পেতাম। কিন্তু এখন! কেউ গোপনে কিছু শোনার চেষ্টা করলেই, তার দিকে এক জ্বলন্ত উল্কা ধেয়ে আসে।
وَّ اَنَّا لَا نَدْرِیْۤ اَشَرٌّ اُرِیْدَ بِمَنْ فِی الْاَرْضِ اَمْ اَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَدًاۙ 10
10. ফলে আমরা বুঝতে পারছিলাম না যে, আল্লাহ কি দুনিয়াবাসীকে শাস্তি দিতে চান, নাকি তাদের রব তাদেরকে সত্য-সঠিক পথ দেখাতে চান?
وَّ اَنَّا مِنَّا الصّٰلِحُوْنَ وَ مِنَّا دُوْنَ ذٰلِكَ ؕ كُنَّا طَرَآىِٕقَ قِدَدًاۙ 11
11. আসলে মানুষের মতো আমাদের মধ্যেও তো কিছু জিন সৎকর্মশীল আবার অনেকে এর বিপরীত। বস্তুত আমরাও নানা চিন্তা-বিশ্বাসে বিভক্ত হয়ে আছি।
وَّ اَنَّا ظَنَنَّاۤ اَنْ لَّنْ نُّعْجِزَ اللّٰهَ فِی الْاَرْضِ وَ لَنْ نُّعْجِزَهٗ هَرَبًاۙ 12
12. আমাদের সৎকর্মশীলেরা আগে থেকেই বিশ্বাস করতো, দুনিয়ায় আমরা যেমন আল্লাহকে ফাঁকি দিতে পারবো না, তেমনি তাঁর হাত থেকে পালিয়েও বাঁচতে পারবো না।
وَّ اَنَّا لَمَّا سَمِعْنَا الْهُدٰۤی اٰمَنَّا بِهٖ ؕ فَمَنْ یُّؤْمِنْۢ بِرَبِّهٖ فَلَا یَخَافُ بَخْسًا وَّ لَا رَهَقًاۙ 13
13. আর সে কারণেই পথনির্দেশক এ কুরআনের বাণী শোনা মাত্রই আমরা তা গ্রহণ করেছি। প্রকৃতার্থে যে তার রবের প্রতি ঈমান রাখে, সে কখনো অত্যাচার বা অবিচারের আশঙ্কা করে না।
وَّ اَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُوْنَ وَ مِنَّا الْقٰسِطُوْنَ ؕ فَمَنْ اَسْلَمَ فَاُولٰٓىِٕكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا 14
14. হ্যাঁ! এটাই সত্য যে, আমাদের অনেকে আল্লাহতে সমর্পিত হয়েছে। আবার অনেকে সত্য বিমুখতায় আকণ্ঠ ডুবে রয়েছে। তবে যারা আল্লাহতে সমর্পিত হয়েছে, তারাই সত্য-সঠিক পথ খুঁজে পেয়েছে।
وَ اَمَّا الْقٰسِطُوْنَ فَكَانُوْا لِجَهَنَّمَ حَطَبًاۙ 15
15. আর অন্যদিকে যারা সত্যবিমুখ হয়ে আছে, ওরা তো জাহান্নামের জ্বালানি হবে।
وَّ اَنْ لَّوِ اسْتَقَامُوْا عَلَی الطَّرِیْقَةِ لَاَسْقَیْنٰهُمْ مَّآءً غَدَقًاۙ 16
16. হে নবী, বলো, আরো অহি এসেছে যে, লোকেরা যদি সত্য-সঠিক পথ দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে চলতো, তবে আমি প্রচুর বৃষ্টি দিয়ে তাদের সমৃদ্ধ করতাম।
لِّنَفْتِنَهُمْ فِیْهِ ؕ وَ مَنْ یُّعْرِضْ عَنْ ذِكْرِ رَبِّهٖ یَسْلُكْهُ عَذَابًا صَعَدًاۙ 17
17. অবশ্য এটাও তাদের জন্য হতো এক পরীক্ষা। আসলে যে তার রবের স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকবে, তিনি তাকে জাহান্নামের দুঃসহ আযাবে নিক্ষেপ করবেনই।
وَّ اَنَّ الْمَسٰجِدَ لِلّٰهِ فَلَا تَدْعُوْا مَعَ اللّٰهِ اَحَدًاۙ 18
18. সমস্ত ইবাদত গৃহ তো একমাত্র আল্লাহর জন্যেই। কাজেই তোমরা সেখানে আল্লাহর সাথে আর কাউকে ডেকো না।
وَّ اَنَّهٗ لَمَّا قَامَ عَبْدُ اللّٰهِ یَدْعُوْهُ كَادُوْا یَكُوْنُوْنَ عَلَیْهِ لِبَدًا ؕ۠ 19
19. অথচ সেই ইবাদত গৃহে যখন আল্লাহর এক বান্দা লোকদের আল্লাহর পথে ডাকার জন্য দাঁড়ালো, তখন সত্যবিমুখেরা সেখানেই তার উপর হামলা করতে উদ্যত হলো।
قُلْ اِنَّمَاۤ اَدْعُوْا رَبِّیْ وَ لَاۤ اُشْرِكُ بِهٖۤ اَحَدًا 20
20. হে নবী, বলো, আমি শুধু আমার রবকেই ডাকি। তাঁর সাথে কাউকে শরিক করি না।
قُلْ اِنِّیْ لَاۤ اَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَّ لَا رَشَدًا 21
21. বলো, আমি তোমাদের কোনো কল্যাণ বা অকল্যাণ করার ক্ষমতা রাখি না।
قُلْ اِنِّیْ لَنْ یُّجِیْرَنِیْ مِنَ اللّٰهِ اَحَدٌ ۙ۬ وَّ لَنْ اَجِدَ مِنْ دُوْنِهٖ مُلْتَحَدًاۙ 22
22. হে নবী, বলো, আল্লাহ যদি আমায় পাকড়াও করেন, তবে কেউ আমাকে বাঁচাতে পারবে না। এমনকি তাঁর মোকাবেলায় কেউ আমায় সামান্য আশ্রয়ও দিতে পারবে না।
اِلَّا بَلٰغًا مِّنَ اللّٰهِ وَ رِسٰلٰتِهٖ ؕ وَ مَنْ یَّعْصِ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ فَاِنَّ لَهٗ نَارَ جَهَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًاؕ 23
23. কাজেই এখন আমার দায়িত্ব কেবল আল্লাহর পয়গাম পৌঁছে দেয়া। এরপর কেউ যদি আল্লাহ ও তাঁর রসুলের কথা অমান্য করে, তবে তার জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুন।
حَتّٰۤی اِذَا رَاَوْا مَا یُوْعَدُوْنَ فَسَیَعْلَمُوْنَ مَنْ اَضْعَفُ نَاصِرًا وَّ اَقَلُّ عَدَدًا 24
24. অতএব এসব সত্যবিমুখেরা সেই প্রতিশ্রুত আযাবের মুখোমুখি হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুক। সেদিন ওরা বুঝতে পারবে, কার সাহায্যকারী দুর্বল এবং কার দল সংখ্যায় নগণ্য।
قُلْ اِنْ اَدْرِیْۤ اَقَرِیْبٌ مَّا تُوْعَدُوْنَ اَمْ یَجْعَلُ لَهٗ رَبِّیْۤ اَمَدًا 25
25. হে নবী, তুমি ওদের বলো, আমি সত্যিই জানি না যে, তোমাদের দেয়া সে প্রতিশ্রুত দিনটি কি খুব কাছে এসে পড়েছে, নাকি আমার রব তার জন্য কোনো দীর্ঘ মেয়াদ স্থির করেছেন?
عٰلِمُ الْغَیْبِ فَلَا یُظْهِرُ عَلٰی غَیْبِهٖۤ اَحَدًاۙ 26
26. তিনিই একমাত্র অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা। তিনি সাধারণত অদৃশ্যের খবরাখবর কারো কাছে প্রকাশ করেন না।
اِلَّا مَنِ ارْتَضٰی مِنْ رَّسُوْلٍ فَاِنَّهٗ یَسْلُكُ مِنْۢ بَیْنِ یَدَیْهِ وَ مِنْ خَلْفِهٖ رَصَدًاۙ 27
27. তবে তাঁর কিছু কিছু প্রিয় রসুলকে তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানান। তবে সে রসুলের কাছে অহি পাঠানোর সময় সামনে ও পিছনে প্রহরী নিযুক্ত থাকে।
لِّیَعْلَمَ اَنْ قَدْ اَبْلَغُوْا رِسٰلٰتِ رَبِّهِمْ وَ اَحَاطَ بِمَا لَدَیْهِمْ وَ اَحْصٰی كُلَّ شَیْءٍ عَدَدًا۠ 28
28. এভাবেই আল্লাহ নিশ্চিত হন যে, রসুলগণ তাদের রবের বাণী যথাযথভাবে পৌঁছে দিত সক্ষম হচ্ছে। মূলত রসুলদের কাছে যা কিছু আছে, সবই তাঁর জ্ঞানের আওতায় রয়েছে এবং তিনি তাদের প্রতিটি জিনিসই গুণে গুণে হিসাব রাখেন।