15. আল হিজর

الٓرٰ ۫ تِلْكَ اٰیٰتُ الْكِتٰبِ وَقُرْاٰنٍ مُّبِیْنٍ 1
1. আলিফ-লাম-র। এসবই আল্লাহর কিতাবের আয়াত। এক সুস্পষ্ট কুরআনের বাণী।
رُبَمَا یَوَدُّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَوْ كَانُوْا مُسْلِمِیْنَ 2
2. অচিরেই এমনদিন আসবে যখন কাফেরেরা অনুশোচনা করে বলবে, হায়! আমরাও যদি মুসলমান হতাম।
ذَرْهُمْ یَاْكُلُوْا وَیَتَمَتَّعُوْا وَیُلْهِهِمُ الْاَمَلُ فَسَوْفَ یَعْلَمُوْنَ 3
3. ওদের কথা ছাড়ো। ওরা ইচ্ছামতো খেয়েদেয়ে নিক, আমোদ-ফুর্তি করে নিক, আশার মরীচিকায় মোহাচ্ছন্ন হউক। অচিরেই ওরা জানতে পারবে কার পরিণতি কী হয়।
وَ مَاۤ اَهْلَكْنَا مِنْ قَرْیَةٍ اِلَّا وَ لَهَا كِتَابٌ مَّعْلُوْمٌ 4
4. আমি ধ্বংস করার পূর্বে প্রত্যেক জনপদবাসীকে এক নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত অবকাশ দেই।
مَا تَسْبِقُ مِنْ اُمَّةٍ اَجَلَهَا وَ مَا یَسْتَاْخِرُوْنَ 5
5. মনে রেখো, সময় আসার আগে যেমন কোনো জাতি ধ্বংস হয় না, ঠিক সময় এসে গেলে কেউ তা পিছাতেও পারে না।
وَ قَالُوْا یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْ نُزِّلَ عَلَیْهِ الذِّكْرُ اِنَّكَ لَمَجْنُوْنٌؕ 6
6. হে নবী, ওরা তাচ্ছিল্যের সুরে তোমায় বলে, এই যে! তুমি নাকি বলো যে, তোমার উপর আল্লাহর বাণী নাযিল হয়। কিন্তু আমরা তো দেখছি তুমি এক বড্ড পাগল।
لَوْ مَا تَاْتِیْنَا بِالْمَلٰٓىِٕكَةِ اِنْ كُنْتَ مِنَ الصّٰدِقِیْنَ 7
7. তুমি যদি সত্যিই নবী হবে, তবে আমাদের সামনে ফেরেশতাদের হাজির করছো না কেন?
مَا نُنَزِّلُ الْمَلٰٓىِٕكَةَ اِلَّا بِالْحَقِّ وَ مَا كَانُوْۤا اِذًا مُّنْظَرِیْنَ 8
8. ওদের জানা উচিত, যথার্থ প্রয়োজন ছাড়া কখনো ফেরেশতাদের নাযিল করা হয় না। আর একবার তারা এসে গেলে, ওদের অবকাশ দেওয়া হয় না।
اِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَ اِنَّا لَهٗ لَحٰفِظُوْنَ 9
9. নিশ্চয়ই এ কুরআন আমি নিজেই নাযিল করেছি এবং এর সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও আমার।
وَ لَقَدْ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِیْ شِیَعِ الْاَوَّلِیْنَ 10
10. হে নবী, আমি তোমার পূর্বে অনেক সম্প্রদায়ের কাছে আমার রসুল পাঠিয়েছি।
وَ مَا یَاْتِیْهِمْ مِّنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا كَانُوْا بِهٖ یَسْتَهْزِءُوْنَ 11
11. কিন্তু হায়! এমন কোনো রসুল নেই, যাকে নিয়ে তার জাতির অবাধ্যরা হাসি-ঠাট্টা করেনি।
كَذٰلِكَ نَسْلُكُهٗ فِیْ قُلُوْبِ الْمُجْرِمِیْنَۙ 12
12. এভাবেই এ কুরআনের প্রতিটি বাণী পাপিষ্ঠদের অন্তরে কাঁটার মতো বিদ্ধ হয়।
لَا یُؤْمِنُوْنَ بِهٖ وَ قَدْ خَلَتْ سُنَّةُ الْاَوَّلِیْنَ 13
13. ফলে পূর্ববর্তী পাপীদের মতো ওরাও এ কিতাবের প্রতি ঈমান আনবে না।
وَ لَوْ فَتَحْنَا عَلَیْهِمْ بَابًا مِّنَ السَّمَآءِ فَظَلُّوْا فِیْهِ یَعْرُجُوْنَۙ 14
14. আমি যদি ওদের চোখের সামনে আকাশের দরজা খুলে দেই এবং ওরা যদি দিন-দুপুরে আকাশের দিকে উঠতে-উঠতে উঠতেই থাকতো।
لَقَالُوْۤا اِنَّمَا سُكِّرَتْ اَبْصَارُنَا بَلْ نَحْنُ قَوْمٌ مَّسْحُوْرُوْنَ۠ 15
15. তবুও বলবে, হয় আমাদের চোখ ধাঁধিয়ে গেছে; নয়তো আমাদের উপর যাদু করা হয়েছে।
وَلَقَدْ جَعَلْنَا فِی السَّمَآءِ بُرُوْجًا وَّزَیَّنّٰهَا لِلنّٰظِرِیْنَۙ 16
16. আমি আকাশে অসংখ্য সংরক্ষিত এলাকা বানিয়ে রেখেছি। আর তাকে দর্শকদের জন্য নক্ষত্র দিয়ে সাজিয়েও রেখেছি।
وَحَفِظْنٰهَا مِنْ كُلِّ شَیْطٰنٍ رَّجِیْمٍۙ 17
17. আকাশের এসব সংরক্ষিত এলাকায় অভিশপ্ত শয়তান কখনোই ঢুকতে পারে না।
اِلَّا مَنِ اسْتَرَقَ السَّمْعَ فَاَتْبَعَهٗ شِهَابٌ مُّبِیْنٌ 18
18. এরপরও যদি কোনো শয়তান চুরি করে আকাশের কোনো সংবাদ শুনতে চায়, সাথেসাথেই ওদেরকে জ্বলন্ত অগ্নিশিখা তাড়িয়ে দেয়।
وَ الْاَرْضَ مَدَدْنٰهَا وَ اَلْقَیْنَا فِیْهَا رَوَاسِیَ وَ اَنْۢبَتْنَا فِیْهَا مِنْ كُلِّ شَیْءٍ مَّوْزُوْنٍ 19
19. আমি জমিনকে সমতলভাবে বিস্তৃত করেছি। এতে পাহাড়-পর্বত স্থাপন করেছি এবং এতে উদগত সব কিছুতেই রেখেছি এক ভারসাম্য।
وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِیْهَا مَعَایِشَ وَمَنْ لَّسْتُمْ لَهٗ بِرٰزِقِیْنَ 20
20. এ জমিন থেকেই তোমাদের জীবনোপকরণের ব্যবস্থা করেছি এবং এমন অনেক সৃষ্টির, যাদের আহারদাতা তোমরা নও।
وَ اِنْ مِّنْ شَیْءٍ اِلَّا عِنْدَنَا خَزَآىِٕنُهٗ ؗ وَ مَا نُنَزِّلُهٗۤ اِلَّا بِقَدَرٍ مَّعْلُوْمٍ 21
21. সবকিছুর পর্যাপ্ত মজুদ আমার ভান্ডারে সংরক্ষিত রয়েছে এবং আমি তা থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সরবরাহ করে থাকি।
وَ اَرْسَلْنَا الرِّیٰحَ لَوَاقِحَ فَاَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَسْقَیْنٰكُمُوْهُ ۚ وَ مَاۤ اَنْتُمْ لَهٗ بِخٰزِنِیْنَ 22
22. দেখো, বৃষ্টি বহনকারী বাতাস আমিই পাঠাই। আবার আমিই আকাশ থেকে তোমাদের উপর বৃষ্টি দেই এবং তোমাদেরকে সে পানি পান করাই। অথচ তোমরা নিজেরা চাইলে এভাবে পানি নামানোর শক্তি রাখো না।
وَ اِنَّا لَنَحْنُ نُحْیٖ وَ نُمِیْتُ وَ نَحْنُ الْوٰرِثُوْنَ 23
23. সন্দেহ নেই, একমাত্র আমিই জীবন দান করি এবং মৃত্যু দেই। আর আমিই কেবল অক্ষয় ও সর্বময় ক্ষমতার মালিক।
وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِیْنَ مِنْكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَاْخِرِیْنَ 24
24. তোমাদের পূর্বে যারা এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে, আমি যেমন তাদের সবকিছু জানি, তেমনি তোমাদের পরে যারা আসবে তাদের সবকিছুও আমি জানি।
وَ اِنَّ رَبَّكَ هُوَ یَحْشُرُهُمْ ؕ اِنَّهٗ حَكِیْمٌ عَلِیْمٌ۠ 25
25. নিশ্চয় মহাবিচারের দিন তোমার রব তাদের সবাইকে এক জায়গায় সমবেত করবেন। তিনি বড়ই প্রজ্ঞাবান, বড়ই জ্ঞানবান।
وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْاِنْسَانَ مِنْ صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَاٍ مَّسْنُوْنٍۚ 26
26. আমি মানবজাতির সৃষ্টির সূচনা করেছি দুর্গন্ধযুক্ত পঁচা কাদামাটির শুকনো ঠনঠনে অংশ দিয়ে।
وَالْجَآنَّ خَلَقْنٰهُ مِنْ قَبْلُ مِنْ نَّارِ السَّمُوْمِ 27
27. আর এর আগে আমি জিনদের সৃষ্টি করেছিলাম প্রচন্ড উত্তপ্ত অগ্নিশিখা থেকে।
وَ اِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلٰٓىِٕكَةِ اِنِّیْ خَالِقٌۢ بَشَرًا مِّنْ صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَاٍ مَّسْنُوْنٍ 28
28. সে সময়ের কথা মনে করে দেখো, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বললেন, আমি শীঘ্রই পঁচা কাদার শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে মানুষ বানাতে যাচ্ছি।
فَاِذَا سَوَّیْتُهٗ وَ نَفَخْتُ فِیْهِ مِنْ رُّوْحِیْ فَقَعُوْا لَهٗ سٰجِدِیْنَ 29
29. যখন আমি তাকে পূর্ণ অবয়ব দান করবো এবং আমার পক্ষ থেকে তার মধ্যে রুহ ফুঁকে দিবো, তখন তোমরা তার সামনে সেজদাবনত হবে।
فَسَجَدَ الْمَلٰٓىِٕكَةُ كُلُّهُمْ اَجْمَعُوْنَۙ 30
30. সেদিন সকল ফেরেশতাই একসাথে সেজদাবনত হলো।
اِلَّاۤ اِبْلِیْسَ ؕ اَبٰۤی اَنْ یَّكُوْنَ مَعَ السّٰجِدِیْنَ 31
31. একমাত্র ইবলিস ছাড়া। সে সেজদা করতে অস্বীকার করলো।
قَالَ یٰۤاِبْلِیْسُ مَا لَكَ اَلَّا تَكُوْنَ مَعَ السّٰجِدِیْنَ 32
32. আল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন, হে ইবলিস, তোমার কী হলো! কেন তুমি সিজদাকারীদের সাথে অংশ নিলে না?
قَالَ لَمْ اَكُنْ لِّاَسْجُدَ لِبَشَرٍ خَلَقْتَهٗ مِنْ صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَاٍ مَّسْنُوْنٍ 33
33. ইবলিস জবাব দিলো, তুমি পঁচা কাদার শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে যে মানুষকে সৃষ্টি করেছো, আমি তাকে সেজদা করতে পারি না।
قَالَ فَاخْرُجْ مِنْهَا فَاِنَّكَ رَجِیْمٌۙ 34
34. আল্লাহ বললেন, অভিশপ্ত! এখনই এখান থেকে বেরিয়ে যাও!
وَّ اِنَّ عَلَیْكَ اللَّعْنَةَ اِلٰی یَوْمِ الدِّیْنِ 35
35. মহাবিচারের দিন পর্যন্ত তুমি অভিশপ্ত হয়ে থাকবে।
قَالَ رَبِّ فَاَنْظِرْنِیْۤ اِلٰی یَوْمِ یُبْعَثُوْنَ 36
36. ইবলিস আরজ করলো, হে আমার রব, তবে তুমি আমাকে সে পুনরুত্থান দিন পর্যন্ত অবকাশ দাও।
قَالَ فَاِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِیْنَۙ 37
37. আল্লাহ বললেন, ঠিক আছে! তোমাকে অবকাশ দিলাম,
اِلٰی یَوْمِ الْوَقْتِ الْمَعْلُوْمِ 38
38. তবে সে দিনের আগমনকাল অবধারিত।
قَالَ رَبِّ بِمَاۤ اَغْوَیْتَنِیْ لَاُزَیِّنَنَّ لَهُمْ فِی الْاَرْضِ وَ لَاُغْوِیَنَّهُمْ اَجْمَعِیْنَۙ 39
39. এরপর ইবলিস চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললো, হে আমার রব, তুমি যে মানুষের জন্য আমাকে বিপথগামী বানালে, আমিও পৃথিবীতে ওদের সামনে সকল পাপাচারকে আকর্ষণীয় করে তুলে, ওদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করে ছাড়বো।
اِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِیْنَ 40
40. হয়তো তোমার একান্ত নিষ্ঠাবান কিছু বান্দারা বাঁচতে পারে।
قَالَ هٰذَا صِرَاطٌ عَلَیَّ مُسْتَقِیْمٌ 41
41. আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ! নিষ্ঠাবানেরা এ সহজ-সঠিক পথ ধরেই আমার কাছে পৌঁছে যাবে।
اِنَّ عِبَادِیْ لَیْسَ لَكَ عَلَیْهِمْ سُلْطٰنٌ اِلَّا مَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغٰوِیْنَ 42
42. তবে, আমার বান্দাদের তুমি জোর করে নাফরমান বানানোর ক্ষমতা পাবে না। কেউ স্বেচ্ছায় বিভ্রান্ত হয়ে তোমার অনুসারী হলে ভিন্ন কথা।
وَ اِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ اَجْمَعِیْنَ۫ۙ 43
43. আর হ্যা! তোমার ও তোমার অনুসারীদের জন্য জাহান্নামের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
لَهَا سَبْعَةُ اَبْوَابٍ ؕ لِكُلِّ بَابٍ مِّنْهُمْ جُزْءٌ مَّقْسُوْمٌ۠ 44
44. সে জাহান্নামে থাকবে বড় বড় সাতটি প্রবেশদ্বার। প্রত্যেক প্রবেশদ্বারের জন্যই বরাদ্দ থাকবে নির্দিষ্ট সংখ্যক পাপীর নাম।
اِنَّ الْمُتَّقِیْنَ فِیْ جَنّٰتٍ وَّ عُیُوْنٍؕ 45
45. সন্দেহ নেই, আল্লাহভীরুরাই পরকালে জান্নাত লাভ করবে, যার পাদদেশে বয়ে যাবে ঝর্নাধারা।
اُدْخُلُوْهَا بِسَلٰمٍ اٰمِنِیْنَ 46
46. সেখানে স্বাগত জানিয়ে তাদের বলা হবে, শান্তি ও নিরাপদে থাকুন।
وَ نَزَعْنَا مَا فِیْ صُدُوْرِهِمْ مِّنْ غِلٍّ اِخْوَانًا عَلٰی سُرُرٍ مُّتَقٰبِلِیْنَ 47
47. সেদিন তাদের অন্তর থেকে মনমালিন্য দূর করে দিবো। ফলে তারা ভাই-ভাই হয়ে মুখোমুখি আসন গ্রহণ করে বসবে।
لَا یَمَسُّهُمْ فِیْهَا نَصَبٌ وَّ مَا هُمْ مِّنْهَا بِمُخْرَجِیْنَ 48
48. সেখানে না তাদেরকে ক্লান্তি-অবসাদ স্পর্শ করবে, আর না তাদেরকে কোনোদিন বের করে দেয়া হবে।
نَبِّئْ عِبَادِیْۤ اَنِّیْۤ اَنَا الْغَفُوْرُ الرَّحِیْمُۙ 49
49. হে নবী, আমার বান্দাদের জানিয়ে দাও, নিশ্চয়ই আমি তাদের প্রতি বড়ই ক্ষমাশীল ও অতীব মেহেরবান।
وَ اَنَّ عَذَابِیْ هُوَ الْعَذَابُ الْاَلِیْمُ 50
50. তবে আমার শাস্তিও মর্মান্তিক হয়ে থাকে।
وَ نَبِّئْهُمْ عَنْ ضَیْفِ اِبْرٰهِیْمَۘ 51
51. নবী হে, লোকদেরকে মেহমান রূপে ইবরাহিমের কাছে আসা সেই ফেরেশতাদের ঘটনাটা শোনাও।
اِذْ دَخَلُوْا عَلَیْهِ فَقَالُوْا سَلٰمًا ؕ قَالَ اِنَّا مِنْكُمْ وَ جِلُوْنَ 52
52. যখন ফেরেশতারা মানবরূপে এসে ইবরাহিমকে সালাম করলো, তখন সে বললো, আমরা তোমাদের আগমনে শঙ্কিত।
قَالُوْا لَا تَوْجَلْ اِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلٰمٍ عَلِیْمٍ 53
53. ফেরেশতারা বললো, আতঙ্কিত হবেন না। আমরা আপনার জন্য এক জ্ঞানবান নেক পুত্রের সুসংবাদ নিয়ে এসেছি।
قَالَ اَبَشَّرْتُمُوْنِیْ عَلٰۤی اَنْ مَّسَّنِیَ الْكِبَرُ فَبِمَ تُبَشِّرُوْنَ 54
54. ইবরাহিম বললো, তোমরা আমাকে এ বার্ধক্যাবস্থায় সন্তানের সুসংবাদ শুনাচ্ছো? হায়! এখন কি আর এ সুসংবাদ আমার কাজে আসবে?
قَالُوْا بَشَّرْنٰكَ بِالْحَقِّ فَلَا تَكُنْ مِّنَ الْقٰنِطِیْنَ 55
55. তারা বললো, আপনি হতাশ হবেন না। আমরা আপনাকে যে সুসংবাদ দিচ্ছি তা সত্য, অবশ্যই ঘটবে।
قَالَ وَ مَنْ یَّقْنَطُ مِنْ رَّحْمَةِ رَبِّهٖۤ اِلَّا الضَّآلُّوْنَ 56
56. ইবরাহিম বললো, হ্যাঁ, তা ঠিক। কেবল পথভ্রষ্টরাই তো তাদের রবের রহমত থেকে নিরাশ হয়।
قَالَ فَمَا خَطْبُكُمْ اَیُّهَا الْمُرْسَلُوْنَ 57
57. এরপর ইবরাহিম ফেরেশতদের জিজ্ঞেস করলো, তোমাদেরকে বিশেষ কী কাজে পাঠানো হয়েছে?
قَالُوْۤا اِنَّاۤ اُرْسِلْنَاۤ اِلٰی قَوْمٍ مُّجْرِمِیْنَۙ 58
58. তারা বললো, আমাদেরকে পাপে নিমজ্জিত এক সম্প্রদায়কে ধ্বংস করতে পাঠানো হয়েছে।
اِلَّاۤ اٰلَ لُوْطٍ ؕ اِنَّا لَمُنَجُّوْهُمْ اَجْمَعِیْنَۙ 59
59. তবে লুত ও তার পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করা হবে।
اِلَّا امْرَاَتَهٗ قَدَّرْنَاۤ ۙ اِنَّهَا لَمِنَ الْغٰبِرِیْنَ۠ 60
60. কিন্তু লুতের স্ত্রীর ব্যাপারে ফয়সালা হলো, সে ধ্বংসপ্রাপ্তদের কাতারে শামিল হবে।
فَلَمَّا جَآءَ اٰلَ لُوْطِ ِ۟الْمُرْسَلُوْنَۙ 61
61. এরপর ফেরেশতারা লুতের বাড়িতে এলো।
قَالَ اِنَّكُمْ قَوْمٌ مُّنْكَرُوْنَ 62
62. লুত বললো, তোমাদেরকে তো অপরিচিত মনে হচ্ছে।
قَالُوْا بَلْ جِئْنٰكَ بِمَا كَانُوْا فِیْهِ یَمْتَرُوْنَ 63
63. ফেরেশতারা বললো, না! বরং আমরা আপনার কাছে এসেছি সে আযাবের ফরমান নিয়ে, যার ব্যাপারে আপনার কওম সর্বদা সন্দেহ প্রকাশ করছে।
وَ اَتَیْنٰكَ بِالْحَقِّ وَ اِنَّا لَصٰدِقُوْنَ 64
64. আমরা যথার্থ সত্য সংবাদ নিয়ে এসেছি। আপনি আমাদের বিশ্বাস করুন।
فَاَسْرِ بِاَهْلِكَ بِقِطْعٍ مِّنَ الَّیْلِ وَ اتَّبِعْ اَدْبَارَهُمْ وَ لَا یَلْتَفِتْ مِنْكُمْ اَحَدٌ وَّ امْضُوْا حَیْثُ تُؤْمَرُوْنَ 65
65. কাজেই এ রাত থাকতে থাকতেই আপনি আপনার পরিবারকে নিয়ে বেরিয়ে যান। আপনি সবার পিছনে থাকবেন, যাতে একজনও পিছনে পড়ে থাকতে না পারে। আপনাকে যেখানে যেতে বলা হচ্ছে, সেখানেই চলে যাবেন।
وَ قَضَیْنَاۤ اِلَیْهِ ذٰلِكَ الْاَمْرَ اَنَّ دَابِرَ هٰۤؤُلَآءِ مَقْطُوْعٌ مُّصْبِحِیْنَ 66
66. আমি লুতকে জানিয়ে দিলাম, সকাল হতে হতেই অবশিষ্ট সব পাপীদের সমূলে ধ্বংস করে দেয়া হবে।
وَجَآءَ اَهْلُ الْمَدِیْنَةِ یَسْتَبْشِرُوْنَ 67
67. এদিকে সুদর্শন তরুনদের আগমন শুনে নগরের লোকেরা উল্লাস করতে করতে লুতের বাড়ি ঘেরাও করলো।
قَالَ اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ ضَیْفِیْ فَلَا تَفْضَحُوْنِۙ 68
68. লুত ওদের বললো, দেখো! তারা আমার মেহমান। মেহমানদের সাথে এসব করে আমাকে লজ্জায় ফেলো না।
وَ اتَّقُوا اللّٰهَ وَ لَا تُخْزُوْنِ 69
69. আল্লাহকে ভয় করো। দয়া করে আমাকে লাঞ্ছিত করো না।
قَالُوْۤا اَوَ لَمْ نَنْهَكَ عَنِ الْعٰلَمِیْنَ 70
70. দুর্বৃত্তরা বললো, আমরা কি তোমাকে দুনিয়ার সব লোকদের আশ্রয় দিতে নিষেধ করিনি?
قَالَ هٰۤؤُلَآءِ بَنٰتِیْۤ اِنْ كُنْتُمْ فٰعِلِیْنَؕ 71
71. লুত মিনতি করলো, তোমাদের যদি একান্ত কিছু করতেই হয়, তবে আমার মেয়েদের গ্রহণ করো।
لَعَمْرُكَ اِنَّهُمْ لَفِیْ سَكْرَتِهِمْ یَعْمَهُوْنَ 72
72. হে নবী! তোমার জীবনের কসম খেয়ে বলছি, ঐসব পাপিষ্ঠরা তখন বিকৃত কাম উন্মাদনায় মাতালের মত আচরণ করছিলো।
فَاَخَذَتْهُمُ الصَّیْحَةُ مُشْرِقِیْنَۙ 73
73. অবশেষে সকাল হতেই এক ভয়ানক আওয়াজ ওদের উপর আঘাত হানলো।
فَجَعَلْنَا عَالِیَهَا سَافِلَهَا وَ اَمْطَرْنَا عَلَیْهِمْ حِجَارَةً مِّنْ سِجِّیْلٍؕ 74
74. আর মুহূর্তের মধ্যেই সে জনপদকে উলট-পালট করে রেখে দিলাম। এমনকি তার উপরে বৃষ্টির মতো প্রস্তর কংকর বর্ষণ করলাম।
اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّلْمُتَوَسِّمِیْنَ 75
75. অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন লোকদের জন্য এসব ঘটনার মধ্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে।
وَ اِنَّهَا لَبِسَبِیْلٍ مُّقِیْمٍ 76
76. আজও লোকেরা চলাচলের রাস্তার পাশে সে জনপদের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পায়।
اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لِّلْمُؤْمِنِیْنَؕ 77
77. সন্দেহ নেই, ঈমানদারদের জন্য এতে শিক্ষণীয় অনেক নিদর্শন রয়েছে।
وَ اِنْ كَانَ اَصْحٰبُ الْاَیْكَةِ لَظٰلِمِیْنَۙ 78
78. আর হ্যাঁ, ওদের মতো আইকাবাসীরাও ছিল চরম জালেম।
فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ ۘ وَ اِنَّهُمَا لَبِاِمَامٍ مُّبِیْنٍؕ۠ 79
79. আমি ওদের থেকেও কঠিন প্রতিশোধ নিয়েছিলাম। ভালোকরে দেখো, এ উভয় পাপিষ্ঠ জাতির ধ্বংসাবশেষ আজও চলাচলের পথে দেখতে পাওয়া যায়।
وَلَقَدْ كَذَّبَ اَصْحٰبُ الْحِجْرِ الْمُرْسَلِیْنَۙ 80
80. হিজর এলাকার সামুদের জাতিরাও আমার রসুলদেরকে অমান্য করেছিলো।
وَ اٰتَیْنٰهُمْ اٰیٰتِنَا فَكَانُوْا عَنْهَا مُعْرِضِیْنَۙ 81
81. ওদেরকে আমি একটার পর একটা সুস্পষ্ট নিদর্শন দেখিয়েছি। কিন্তু না, ওরা সবকিছু উপেক্ষা করে গেছে।
وَكَانُوْا یَنْحِتُوْنَ مِنَ الْجِبَالِ بُیُوْتًا اٰمِنِیْنَ 82
82. অথচ ওরা নিরাপদ থাকার জন্য পাহাড় খোদাই করে বাড়ি ঘর নির্মাণ করেছিলো।
فَاَخَذَتْهُمُ الصَّیْحَةُ مُصْبِحِیْنَۙ 83
83. শেষ পর্যন্ত কোনো এক ভোরে ওদের উপর ভয়াবহ শব্দ আঘাত হানলো।
فَمَاۤ اَغْنٰی عَنْهُمْ مَّا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَؕ 84
84. সেদিন ওদের কোনো উপার্জনই কাজে আসেনি।
وَ مَا خَلَقْنَا السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ وَ مَا بَیْنَهُمَاۤ اِلَّا بِالْحَقِّ ؕ وَ اِنَّ السَّاعَةَ لَاٰتِیَةٌ فَاصْفَحِ الصَّفْحَ الْجَمِیْلَ 85
85. আমি মহাকাশ ও পৃথিবী এবং এর মধ্যবর্তী কোনো কিছুকেই উদ্দেশ্যহীন-খামোখা সৃষ্টি করিনি। আর কেয়ামত অবশ্যই আসবে। কাজেই হে নবী, এসব লোকদের আজেবাজে আচরণকে ভদ্রভাবে উপেক্ষা করে যাও।
اِنَّ رَبَّكَ هُوَ الْخَلّٰقُ الْعَلِیْمُ 86
86. নিশ্চয়ই তোমার রব মহান স্রষ্টা, মহাজ্ঞানী।
وَ لَقَدْ اٰتَیْنٰكَ سَبْعًا مِّنَ الْمَثَانِیْ وَ الْقُرْاٰنَ الْعَظِیْمَ 87
87. হে নবী, আমি তোমাকে এমন সাতটি আয়াত সম্বলিত সুরা আল ফাতেহা দিয়েছি, যা বারবার পড়ার মতো। সাথে দিয়েছি মর্যাদাপূর্ণ আল কুরআন।
لَا تَمُدَّنَّ عَیْنَیْكَ اِلٰی مَا مَتَّعْنَا بِهٖۤ اَزْوَاجًا مِّنْهُمْ وَ لَا تَحْزَنْ عَلَیْهِمْ وَ اخْفِضْ جَنَاحَكَ لِلْمُؤْمِنِیْنَ 88
88. আর আমি সত্য অস্বীকারকারীদের কতককে পার্থিব ভোগ বিলাসের যেসব উপকরণ দিয়েছি, তুমি কখনো সেদিকে তাকিও না। ওদের জন্য দুঃখ করো না; বরং সর্বদা ঈমানদারদেরকে ঘনিষ্ঠ সহচার্য দান করো।
وَ قُلْ اِنِّیْۤ اَنَا النَّذِیْرُ الْمُبِیْنُۚ 89
89. আর ওদেও জানিয়ে দাও, আমি তোমাদের জন্য এক প্রকাশ্য সতর্ককারী।
كَمَاۤ اَنْزَلْنَا عَلَی الْمُقْتَسِمِیْنَۙ 90
90. হে নবী, তুমি সেসব সতর্ককারীর মতোই একজন, যারা নিজ জাতির কাছে আমার কিতাব পেশ করেছিলো।
الَّذِیْنَ جَعَلُوا الْقُرْاٰنَ عِضِیْنَ 91
91. কিন্তু পরে তাদের অনুসারীরা সে কিতাবকে টুকরো টুকরো করে ফেলে রেখেছে।
فَوَرَبِّكَ لَنَسْـَٔلَنَّهُمْ اَجْمَعِیْنَۙ 92
92. তোমার রবের শপথ, মহাবিচারের দিন আমি ওদের সবাইকে কঠিনভাবে জিজ্ঞেস করবো যে,
عَمَّا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 93
93. তোমরা কেন এমন কুকর্ম করেছিলে?
فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَ اَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِیْنَ 94
94. অতএব হে নবী, তোমাকে যে বিষয়ে আদেশ দেয়া হয়েছে, তুমি তা জনসম্মুখে প্রচার করো। এ ব্যাপারে মুশরিকদের মোটেই পরোয়া করো না।
اِنَّا كَفَیْنٰكَ الْمُسْتَهْزِءِیْنَۙ 95
95. তোমার বিদ্রুপকারীদের ব্যাপারে আমিই যথেষ্ঠ।
الَّذِیْنَ یَجْعَلُوْنَ مَعَ اللّٰهِ اِلٰهًا اٰخَرَ ۚ فَسَوْفَ یَعْلَمُوْنَ 96
96. যারা আল্লাহর সাথে অন্যদেরকে ইলাহ হিসাবে গ্রহণ করছে, অচিরেই ওরা এর পরিণতি বুঝতে পারবে।
وَ لَقَدْ نَعْلَمُ اَنَّكَ یَضِیْقُ صَدْرُكَ بِمَا یَقُوْلُوْنَۙ 97
97. আর হ্যাঁ! হে নবী, আমি জানি, ওরা তোমার নামে যেসব আজেবাজে কথা বলে, তাতে তুমি মনে মনে ভীষণ কষ্ট পাও।
فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَ كُنْ مِّنَ السّٰجِدِیْنَۙ 98
98. বরং তুমি সর্বদা তোমার রবের প্রশংসার সাথে পবিত্রতার তাসবিহ জপো এবং সিজদাকারীদের কাতারে শামিল থাকো ।
وَ اعْبُدْ رَبَّكَ حَتّٰی یَاْتِیَكَ الْیَقِیْنُ۠ 99
99. আর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তোমার রবের ইবাদতে মশগুল থাকো।