16. আন নাহল

اَتٰۤی اَمْرُ اللّٰهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوْهُ ؕ سُبْحٰنَهٗ وَتَعٰلٰی عَمَّا یُشْرِكُوْنَ 1
1. আল্লাহর ফরমান আসবেই। তোমরা একে আর ত্বরান্বিত করতে বলো না। তিনি বড়ই পবিত্র সত্তা। অজ্ঞরা তার সাথে যা কিছুকে শরিক বানায়, তিনি তার থেকে অনেক উর্ধ্বে।
یُنَزِّلُ الْمَلٰٓىِٕكَةَ بِالرُّوْحِ مِنْ اَمْرِهٖ عَلٰی مَنْ یَّشَآءُ مِنْ عِبَادِهٖۤ اَنْ اَنْذِرُوْۤا اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَا فَاتَّقُوْنِ 2
2. আমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, কেবল আমাকেই ভয় করে চলো আল্লাহর এ সতর্কবাণী লোকদের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য তিনি তাঁর পছন্দনীয় বান্দার কাছে ফেরেশতাদের মাধ্যমে অহি নাযিল করেন।
خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ بِالْحَقِّ ؕ تَعٰلٰی عَمَّا یُشْرِكُوْنَ 3
3. তিনি এক মহাসত্যের উপর মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। লোকেরা তাঁর ক্ষমতায় যে ভাগাভাগি করে, তিনি তার অনেক উর্ধ্বে।
خَلَقَ الْاِنْسَانَ مِنْ نُّطْفَةٍ فَاِذَا هُوَ خَصِیْمٌ مُّبِیْنٌ 4
4. তিনি মানুষকে সৃষ্টি করলেন সামান্য এক ফোটা শুক্রবিন্দু থেকে। অথচ দেখো! সে মানুষই আজ তাঁর ব্যাপারে প্রকাশ্যে ঝগড়া করছে।
وَ الْاَنْعَامَ خَلَقَهَا ۚ لَكُمْ فِیْهَا دِفْءٌ وَّ مَنَافِعُ وَ مِنْهَا تَاْكُلُوْنَ۪ 5
5. আল্লাহই গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন। যার চামড়া দিয়ে তোমরা শীত নিবারণ করো এবং আরো বিভিন্ন উপকারিতা পেয়ে থাকো। এমনকি এর কতককে তোমরা খেয়েও থাকো।
وَ لَكُمْ فِیْهَا جَمَالٌ حِیْنَ تُرِیْحُوْنَ وَ حِیْنَ تَسْرَحُوْنَ۪ 6
6. সন্ধ্যায় যখন এসব পশুর পালকে খোঁয়াড়ে নিয়ে আসো, আবার সকালে যখন চারণভূমিতে এগুলোকে চরাতে নিয়ে যাও উভয় দৃশ্যই তোমাদের মন ভরিয়ে তোলে।
وَ تَحْمِلُ اَثْقَالَكُمْ اِلٰی بَلَدٍ لَّمْ تَكُوْنُوْا بٰلِغِیْهِ اِلَّا بِشِقِّ الْاَنْفُسِ ؕ اِنَّ رَبَّكُمْ لَرَءُوْفٌ رَّحِیْمٌۙ 7
7. আবার তোমাদের মালামালের বোঝাগুলো এসব প্রাণী বহন করে দূর-দূরান্তের শহর পর্যন্ত নিয়ে যায়। এগুলো না থাকলে তোমাদের এসব বোঝা বহনে বড়ই কষ্ট হতো। নিশ্চয়ই তোমাদের রব পরম স্নেহশীল, অতি দয়ালু।
وَّ الْخَیْلَ وَ الْبِغَالَ وَ الْحَمِیْرَ لِتَرْكُبُوْهَا وَ زِیْنَةً ؕ وَ یَخْلُقُ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ 8
8. আল্লাহ তোমাদের পথ চলার বাহন হিসাবে ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা সৃষ্টি করেছেন। এগুলো তোমাদের জীবনে আলাদা এক সৌন্দর্য এনে দিয়েছে। তিনি আরো এমন অনেক কিছুই সৃষ্টি করেছেন, যেগুলো তোমরা জানো না।
وَ عَلَی اللّٰهِ قَصْدُ السَّبِیْلِ وَ مِنْهَا جَآىِٕرٌ ؕ وَ لَوْ شَآءَ لَهَدٰىكُمْ اَجْمَعِیْنَ۠ 9
9. যখন জগতে অসংখ্য বাঁকা-ভ্রান্ত পথ রয়েছে, তখন সঠিক পথ দেখানো আল্লাহর দায়িত্ব। বস্তুত আল্লাহ চাইলে তোমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলতে বাধ্য করতে পারতেন।
هُوَ الَّذِیْۤ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً لَّكُمْ مِّنْهُ شَرَابٌ وَّمِنْهُ شَجَرٌ فِیْهِ تُسِیْمُوْنَ 10
10. আল্লাহই তোমাদের জন্য আকাশের মেঘ থেকে বৃষ্টি দেন। তোমরা সে পানি পান করো এবং সে পানি দ্বারা সবুজ-শ্যামল হয়ে ওঠে চারণভূমিগুলো, যেখানে তোমাদের পশুগুলোকে চরাও।
یُنْۢبِتُ لَكُمْ بِهِ الزَّرْعَ وَ الزَّیْتُوْنَ وَ النَّخِیْلَ وَ الْاَعْنَابَ وَ مِنْ كُلِّ الثَّمَرٰتِ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لِّقَوْمٍ یَّتَفَكَّرُوْنَ 11
11. এ পানির সাহায্যেই তিনি তোমাদের জন্য নানা ধরনের শস্য-ফসল উৎপন্ন করেন। জয়তুন, খেজুর, আঙ্গুর ও নানা ধরনের ফল-ফলাদি জন্মান। যারা চিন্তা-ভাবনা করে, তাদের জন্য এর মধ্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে।
وَسَخَّرَ لَكُمُ الَّیْلَ وَالنَّهَارَ ۙ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ؕ وَالنُّجُوْمُ مُسَخَّرٰتٌۢ بِاَمْرِهٖ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّعْقِلُوْنَۙ 12
12. আল্লাহই তোমাদের উপকারার্থে রাত ও দিন এবং চন্দ্র ও সূর্যকে একটি নির্দিষ্ট নিয়মের অধীন করেছেন। সমস্ত নক্ষত্ররাজিও তাঁর দেয়া নিয়মের ছকে চলছে। নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানদের জন্য এসবে অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে।
وَ مَا ذَرَاَ لَكُمْ فِی الْاَرْضِ مُخْتَلِفًا اَلْوَانُهٗ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لِّقَوْمٍ یَّذَّكَّرُوْنَ 13
13. দেখো, তিনি তোমাদের কল্যাণের জন্য পৃথিবীতে কত রঙ-বেরঙের জিনিস সৃষ্টি করে রেখেছেন। যারা উপদেশ গ্রহণে আগ্রহী, তাদের জন্য এসবে অনেক নিদর্শন রয়েছে।
وَ هُوَ الَّذِیْ سَخَّرَ الْبَحْرَ لِتَاْكُلُوْا مِنْهُ لَحْمًا طَرِیًّا وَّ تَسْتَخْرِجُوْا مِنْهُ حِلْیَةً تَلْبَسُوْنَهَا ۚ وَ تَرَی الْفُلْكَ مَوَاخِرَ فِیْهِ وَ لِتَبْتَغُوْا مِنْ فَضْلِهٖ وَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ 14
14. তিনি সমুদ্রকে তোমাদের জন্য এক নিয়মের অধীন করেছেন, যাতে তোমরা তাজা মাছ খেতে পারো এবং এর তলদেশ থেকে এমন সব সৌন্দর্যসামগ্রী আহরণ করতে পারো, যা তোমরা অলংকার হিসাবে গায়ে জড়াও। দেখো, সমুদ্রের বুক চিরে নৌযানগুলো চলাচল করে, যার মাধ্যমে তোমরা নিজেদের জীবিকা আদান-প্রদান করছো। আশা করা যায়, এসব পেয়ে তোমরা শোকরগুজার হবে।
وَ اَلْقٰی فِی الْاَرْضِ رَوَاسِیَ اَنْ تَمِیْدَ بِكُمْ وَ اَنْهٰرًا وَّ سُبُلًا لَّعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَۙ 15
15. তিনি জমিনের বুকে পাহাড়-পর্বতগুলো গেড়ে দিয়েছেন, যাতে জমিন তোমাদের নিয়ে হেলে না পড়ে। তিনি বহু নদ-নদী বহমান করেছেন এবং বহু পথ তৈরি করেছেন, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারো।
وَ عَلٰمٰتٍ ؕ وَ بِالنَّجْمِ هُمْ یَهْتَدُوْنَ 16
16. তিনি চলাচলের সুবিধার্থে অনেক পথনির্ণায়ক চিহ্ন স্থাপন করেছেন। আবার তারকার সাহায্যেও মানুষ তাদের পথনির্দেশ পায়।
اَفَمَنْ یَّخْلُقُ كَمَنْ لَّا یَخْلُقُ ؕ اَفَلَا تَذَكَّرُوْنَ 17
17. হে মানুষ, এখন তোমরাই বলো, যে আল্লাহ এতসব সৃষ্টি করলেন, তাঁর সাথে কি এমন কারো তুলনা হতে পারে, যে কিছুই সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়? হায়! এরপরেও কি তোমরা সত্যকে চিনবে না?
وَ اِنْ تَعُدُّوْا نِعْمَةَ اللّٰهِ لَا تُحْصُوْهَا ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 18
18. তোমরা যদি আল্লাহর অনুগ্রহরাজি গুণতে চাও, তবে কখনোই তা গুণে শেষ করতে পারবে না। বস্তুত আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল এবং মেহেরবান এক সত্তা।
وَ اللّٰهُ یَعْلَمُ مَا تُسِرُّوْنَ وَ مَا تُعْلِنُوْنَ 19
19. অথচ তোমরা যা কিছু গোপন রাখো, আর যা কিছু প্রকাশ করো সবই আল্লাহ জানেন।
وَ الَّذِیْنَ یَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ لَا یَخْلُقُوْنَ شَیْـًٔا وَّ هُمْ یُخْلَقُوْنَؕ 20
20. হায়! ওরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য যাদের ডাকে, তারা নিজেরা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না; বরং উল্টো তারাই সৃষ্টি হয়েছে।
اَمْوَاتٌ غَیْرُ اَحْیَآءٍ ۚ وَ مَا یَشْعُرُوْنَ ۙ اَیَّانَ یُبْعَثُوْنَ۠ 21
21. তারা নিষ্প্রাণ, নির্জীব। এমনকি কবে পুনরুত্থিত হবে তাও জানে না।
اِلٰهُكُمْ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ ۚ فَالَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ قُلُوْبُهُمْ مُّنْكِرَةٌ وَّ هُمْ مُّسْتَكْبِرُوْنَ 22
22. জেনে রেখো, আল্লাহই তোমাদের একমাত্র ইলাহ। বস্তুত যারা আখেরাতের অনুভুতি রাখে না, ওদের অন্তর সত্যবিমুখ এবং ওরাই আত্ম অহমিকায় ডুবে রয়েছে।
لَا جَرَمَ اَنَّ اللّٰهَ یَعْلَمُ مَا یُسِرُّوْنَ وَ مَا یُعْلِنُوْنَ ؕ اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الْمُسْتَكْبِرِیْنَ 23
23. সন্দেহ নেই, আল্লাহ ওদের প্রকাশ্য ও গোপন সব ধরনের কার্যকলাপ সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান রাখেন। আর মনে রেখো, তিনি কোনো দাম্ভিক-অহংকারীকে কখনো পছন্দ করেন না।
وَ اِذَا قِیْلَ لَهُمْ مَّا ذَاۤ اَنْزَلَ رَبُّكُمْ ۙ قَالُوْۤا اَسَاطِیْرُ الْاَوَّلِیْنَۙ 24
24. যখন ওদের কেউ জিজ্ঞেস করে, আচ্ছা! তোমাদের রব কী নাযিল করেছেন? ওরা বলে, আর বলো না! এসব তো আগের কালের যতসব কিচ্ছা কাহিনী।
لِیَحْمِلُوْۤا اَوْزَارَهُمْ كَامِلَةً یَّوْمَ الْقِیٰمَةِ ۙ وَ مِنْ اَوْزَارِ الَّذِیْنَ یُضِلُّوْنَهُمْ بِغَیْرِ عِلْمٍ ؕ اَلَا سَآءَ مَا یَزِرُوْنَ۠ 25
25. এর পরিণামে কিয়ামতের দিন ওরা নিজেদের পাপের বিরাট বোঝার সথে ঐসব পথভ্রষ্টদের বোঝাও বহন করবে, যাদেরকে ওরা মিথ্যা বলে সত্য বিমুখ করেছে। হায়! ওরা কি নিকৃষ্ট বোঝাটাই না বহন করবে!
قَدْ مَكَرَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَاَتَی اللّٰهُ بُنْیَانَهُمْ مِّنَ الْقَوَاعِدِ فَخَرَّ عَلَیْهِمُ السَّقْفُ مِنْ فَوْقِهِمْ وَ اَتٰىهُمُ الْعَذَابُ مِنْ حَیْثُ لَا یَشْعُرُوْنَ 26
26. পূর্বেও ওদের মতো বহুলোক সত্যের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছে। কিন্তু আল্লাহ ওদের চক্রান্তের ইমারতের ভিত্তিমূলে প্রচন্ড আঘাত হানলেন। ফলে সম্পূর্ণ ইমারতই ছাদসহ ওদের মাথার উপর ভেঙ্গে পড়লো। এমনকি ওদের উপর এমন সব দিক থেকে আযাব নেমে এলো, যা ওরা কল্পনাও করতে পারেনি।
ثُمَّ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ یُخْزِیْهِمْ وَ یَقُوْلُ اَیْنَ شُرَكَآءِیَ الَّذِیْنَ كُنْتُمْ تُشَآقُّوْنَ فِیْهِمْ ؕ قَالَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْعِلْمَ اِنَّ الْخِزْیَ الْیَوْمَ وَالسُّوْٓءَ عَلَی الْكٰفِرِیْنَۙ 27
27. কিয়ামতের দিন আল্লাহ ওদেরকে চূড়ান্তভাবে লাঞ্ছিত করবেন। বলবেন, কোথায় তোমাদের সেসব খোদারা, যাদেরকে আমার সাথে শরিক করতে? যাদের পক্ষ নিয়ে সত্যপন্থীদের সাথে বিতর্কে জড়াতে? যারা দুনিয়ায় সত্যজ্ঞান লাভ করেছিলো, তারা এ দৃশ্য দেখে বলবে, আজ কাফেরদের কপালে লাঞ্ছনা ও দুর্ভোগের শেষ নেই।
الَّذِیْنَ تَتَوَفّٰىهُمُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ ظَالِمِیْۤ اَنْفُسِهِمْ ۪ فَاَلْقَوُا السَّلَمَ مَا كُنَّا نَعْمَلُ مِنْ سُوْٓءٍ ؕ بَلٰۤی اِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌۢ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ 28
28. হ্যাঁ, এসব পাপীরা জালেম অবস্থায় মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে ফেরেশতাদের বলে, আমরা আত্মসমর্পিত বান্দা ছিলাম, আমরা দুনিয়ায় তেমন কোনো খারাপ কাজ করিনি। ফেরেশতারা বলে, না! তোমরা অবশ্যই পাপ করেছো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্মের ব্যাপারে সব জানেন।
فَادْخُلُوْۤا اَبْوَابَ جَهَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ فَلَبِئْسَ مَثْوَی الْمُتَكَبِّرِیْنَ 29
29. কাজেই এখন জাহান্নামের দরজা দিয়ে চিরদিনের জন্য প্রবেশ করো। হায়! অহংকারকারীদের আবাস কতইনা নিকৃষ্ট।
وَ قِیْلَ لِلَّذِیْنَ اتَّقَوْا مَا ذَاۤ اَنْزَلَ رَبُّكُمْ ؕ قَالُوْا خَیْرًا ؕ لِلَّذِیْنَ اَحْسَنُوْا فِیْ هٰذِهِ الدُّنْیَا حَسَنَةٌ ؕ وَ لَدَارُ الْاٰخِرَةِ خَیْرٌ ؕ وَ لَنِعْمَ دَارُ الْمُتَّقِیْنَۙ 30
30. অন্যদিকে যখন মুত্তাকী বান্দাদের জিজ্ঞেস করা হয়, তোমাদের রব তোমাদের জন্য কী নাযিল করেছেন? তারা বলে, বড়ই কল্যাণময় জিনিস। এ ধরনের সৎকর্মশীলদের জন্য দুনিয়ায় রয়েছে প্রভুত কল্যাণ, আর আখেরাতে রয়েছে তাদের জন্য আরো উত্তম আবাস। বাহ! মুত্তাকীদের সে আবাস কতই না চমৎকার।
جَنّٰتُ عَدْنٍ یَّدْخُلُوْنَهَا تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ لَهُمْ فِیْهَا مَا یَشَآءُوْنَ ؕ كَذٰلِكَ یَجْزِی اللّٰهُ الْمُتَّقِیْنَۙ 31
31. তারা সেদিন অনন্তকালের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে জান্নাতের পাশ ঘেষে বয়ে যাবে ঝর্নাধারা, সেখানে তারা যা চাবে তাই পাবে। আল্লাহ মুত্তাকী বান্দাদেরকে এভাবেই মহাপুরস্কারে ভূষিত করেন।
الَّذِیْنَ تَتَوَفّٰىهُمُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ طَیِّبِیْنَ ۙ یَقُوْلُوْنَ سَلٰمٌ عَلَیْكُمُ ۙ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ 32
32. পবিত্র থাকা অবস্থায়ই এসব মুত্তাকীদের কাছে মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে ফেরেশতারা হাজির হয়। তাদেরকে বলে, তোমাদের জন্য শান্তি ও নিরপত্তা হোক। তোমরা তোমাদের সৎকর্মের পুরস্কার হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করো।
هَلْ یَنْظُرُوْنَ اِلَّاۤ اَنْ تَاْتِیَهُمُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ اَوْ یَاْتِیَ اَمْرُ رَبِّكَ ؕ كَذٰلِكَ فَعَلَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ وَ مَا ظَلَمَهُمُ اللّٰهُ وَ لٰكِنْ كَانُوْۤا اَنْفُسَهُمْ یَظْلِمُوْنَ 33
33. হে নবী, এসব সত্য অস্বীকারকারীরা কি এখন তাহলে মৃত্যুর ফেরেশতার অপেক্ষা করছে, নাকি আল্লাহর পক্ষ থেকে অন্য কোনো শাস্তি আসার প্রহর গুণছে? এমন হঠকারিতায় ওদের পূর্ববর্তীরাও মজে ছিলো। কিন্তু তাদের সবাই কঠিন শাস্তির মুখোমুখী হয়েছিলো। আল্লাহ ওদেরকে শাস্তি দিয়ে মোটেই অবিচার করেননি; বরং তা ওদের উপযুক্ত প্রাপ্য ছিলো।
فَاَصَابَهُمْ سَیِّاٰتُ مَا عَمِلُوْا وَ حَاقَ بِهِمْ مَّا كَانُوْا بِهٖ یَسْتَهْزِءُوْنَ۠ 34
34. ওদের অপকর্মের অনিষ্টকারিতাই শেষ পর্যন্ত ওদের উপর আপতিত হয়েছিলো এবং ওরা যে আযাবের ব্যাপারে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতো, তাই ওদেরকে গ্রাস করে নিলো।
وَ قَالَ الَّذِیْنَ اَشْرَكُوْا لَوْ شَآءَ اللّٰهُ مَا عَبَدْنَا مِنْ دُوْنِهٖ مِنْ شَیْءٍ نَّحْنُ وَ لَاۤ اٰبَآؤُنَا وَ لَا حَرَّمْنَا مِنْ دُوْنِهٖ مِنْ شَیْءٍ ؕ كَذٰلِكَ فَعَلَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ۚ فَهَلْ عَلَی الرُّسُلِ اِلَّا الْبَلٰغُ الْمُبِیْنُ 35
35. মুশরিকেরা বলে, আল্লাহ না চাইলে, আমরা তাকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদত করতাম না। আমাদের বাপ-দাদারাও করতো না। আর তাঁর হুকুম না থাকলে, আমরা যেসব জিনিস হারাম বানিয়েছি, তার একটাও হারাম বানাতাম না। হায়! ওদেও বাপ-দাদারাও এমন মিথ্যাচার করেছে। ওদের কাছে সত্যবাণী পৌঁছে দেয়া ছাড়া রসুলদের আর কোনো দায়িত্ব কি থাকতে পারে?
وَ لَقَدْ بَعَثْنَا فِیْ كُلِّ اُمَّةٍ رَّسُوْلًا اَنِ اعْبُدُوا اللّٰهَ وَ اجْتَنِبُوا الطَّاغُوْتَ ۚ فَمِنْهُمْ مَّنْ هَدَی اللّٰهُ وَ مِنْهُمْ مَّنْ حَقَّتْ عَلَیْهِ الضَّلٰلَةُ ؕ فَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَانْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِیْنَ 36
36. আমি প্রত্যেক জাতির কাছে রসুল পাঠিয়ে সতর্ক করেছি। বলেছি, তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো। আল্লাহদ্রোহী শক্তির অনুগামী হয়ো না। এভাবে আল্লাহ বহু মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করেন। আবার বহু মানুষকে ভ্রান্ত পথের উপর ছেড়ে দেন। কাজেই হে লোকেরা, দুনিয়ায় একটু ঘুরে দেখো, যারা সত্যকে অস্বীকার করেছিলো, ওদের শেষ পরিণতি কতোই না ভয়ানক হয়েছিলো!
اِنْ تَحْرِصْ عَلٰی هُدٰىهُمْ فَاِنَّ اللّٰهَ لَا یَهْدِیْ مَنْ یُّضِلُّ وَ مَا لَهُمْ مِّنْ نّٰصِرِیْنَ 37
37. হে নবী, তুমি শত চাইলেও, যারা সত্য অস্বীকারের উপর জেদ ধরে আছে, আল্লাহ ওদেরকে সত্যপথ দেখান না। আর এ ধরনের পথভ্রষ্টদের কেউ সাহায্য করতে পারে না।
وَ اَقْسَمُوْا بِاللّٰهِ جَهْدَ اَیْمَانِهِمْ ۙ لَا یَبْعَثُ اللّٰهُ مَنْ یَّمُوْتُ ؕ بَلٰی وَعْدًا عَلَیْهِ حَقًّا وَّ لٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَۙ 38
38. ওরা দৃঢ়তার সাথে আল্লাহর নামে শপথ করে বলে, একবার মরে যাবার পর আল্লাহ কাউকেই জীবিত করবেন না। বলো, না! অবশ্যই তুলবেন। তাঁর ওয়াদা সত্য। যদিও অধিকাংশ মানুষ তা বুঝতে পারছে না।
لِیُبَیِّنَ لَهُمُ الَّذِیْ یَخْتَلِفُوْنَ فِیْهِ وَ لِیَعْلَمَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَنَّهُمْ كَانُوْا كٰذِبِیْنَ 39
39. তিনি অবশ্যই পুনরুত্থান ঘটাবেন, যাতে সত্য অস্বীকারকারীরা যে মহাসত্যের ব্যাপারে মতবিরোধ করেছিলো, তার চুড়ান্ত ফয়সালা দেখতে পায় এবং ভালো করে জানতে পারে যে, ওরা বাস্তবিকই মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে ছিলো।
اِنَّمَا قَوْلُنَا لِشَیْءٍ اِذَاۤ اَرَدْنٰهُ اَنْ نَّقُوْلَ لَهٗ كُنْ فَیَكُوْنُ۠ 40
40. ওদের জানা উচিত, আমি কোনো জিনিসের অস্তিত্ব দিতে চাইলে কেবল হুকুম করি ‘হও’। আর তা সাথেসাথেই হয়ে যায়।
وَ الَّذِیْنَ هَاجَرُوْا فِی اللّٰهِ مِنْۢ بَعْدِ مَا ظُلِمُوْا لَنُبَوِّئَنَّهُمْ فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً ؕ وَ لَاَجْرُ الْاٰخِرَةِ اَكْبَرُ ۘ لَوْ كَانُوْا یَعْلَمُوْنَۙ 41
41. যারা আল্লাহর পথে থাকায় নির্যাতনের শিকার হয়ে, নিজ বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্য কোথাও হিজরত করতে বাধ্য হয়েছে, আমি অবশ্যই তাদেরকে এ দুনিয়ায় আরো ভালোভাবে থাকার বন্দবস্ত করবো। আর পরকালেতো তাদের জন্য অনেক বড় পুরস্কার থাকছেই। হায়! জালেমেরা যদি এ কথা জানতো!
الَّذِیْنَ صَبَرُوْا وَ عَلٰی رَبِّهِمْ یَتَوَكَّلُوْنَ 42
42. এ পুরস্কার এ জন্যেই যে, তারা দৃঢ়তার সাথে নির্যাতন সহ্য করেছে এবং একমাত্র তাদের রবের উপর ভরসা রেখেছে।
وَ مَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ اِلَّا رِجَالًا نُّوْحِیْۤ اِلَیْهِمْ فَسْـَٔلُوْۤا اَهْلَ الذِّكْرِ اِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَۙ 43
43. হে নবী, তোমার পূর্বেও আমি যাদের কাছে আমার অহি পাঠিয়েছি, তারা প্রত্যেকেই ছিলো মানুষ। ওদেরকে বলো, এ বিষয়টি তোমাদের জানা না থাকলে পূর্ববর্তী কিতাবী আলেমদের জিজ্ঞেস করে দেখো।
بِالْبَیِّنٰتِ وَ الزُّبُرِ ؕ وَ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكَ الذِّكْرَ لِتُبَیِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ اِلَیْهِمْ وَ لَعَلَّهُمْ یَتَفَكَّرُوْنَ 44
44. সেসব রসুলদেরও সুস্পষ্ট নিদর্শন ও কিতাব দিয়েছিলাম। যেমন এখন তোমার কাছে কুরআন নাযিল করেছি, যাতে লোকদের জন্য দেয়া আমার বিধি-বিধানগুলো সুস্পষ্টভাবে তাদেরকে বুঝাতে পারো এবং তারাও যেনো মুক্তমনে চিন্তা-ভাবনা করতে পারে।
اَفَاَمِنَ الَّذِیْنَ مَكَرُوا السَّیِّاٰتِ اَنْ یَّخْسِفَ اللّٰهُ بِهِمُ الْاَرْضَ اَوْ یَاْتِیَهُمُ الْعَذَابُ مِنْ حَیْثُ لَا یَشْعُرُوْنَۙ 45
45. যারা সত্যের বিরুদ্ধে নিকৃষ্ট চক্রান্তে লিপ্ত, ওরা কিভাবে নিশ্চিন্ত হতে পারে যে, আল্লাহ ওদেরকে ভূ-গর্ভে বিলীন করবেন না? কিংবা ওদের উপর অকস্মাৎ ভয়ানক আযাব পাঠাবেন না?
اَوْ یَاْخُذَهُمْ فِیْ تَقَلُّبِهِمْ فَمَا هُمْ بِمُعْجِزِیْنَۙ 46
46. অথবা যাত্রাপথে আল্লাহর আযাব ওদেরকে গ্রাস করবে না? এমনটা হলে ওরা কখনো তা ঠেকাতে পারবে না।
اَوْ یَاْخُذَهُمْ عَلٰی تَخَوُّفٍ ؕ فَاِنَّ رَبَّكُمْ لَرَءُوْفٌ رَّحِیْمٌ 47
47. কিংবা এমন অবস্থায় বিনাশ করবেন না, যখন ওরা নিজেরাই আতঙ্কে থাকে? যদিও তোমাদের রব বড়ই স্নেহপরায়ণ, পরম দয়ালু।
اَوَ لَمْ یَرَوْا اِلٰی مَا خَلَقَ اللّٰهُ مِنْ شَیْءٍ یَّتَفَیَّؤُا ظِلٰلُهٗ عَنِ الْیَمِیْنِ وَ الشَّمَآىِٕلِ سُجَّدًا لِّلّٰهِ وَهُمْ دٰخِرُوْنَ 48
48. এসব সত্য অস্বীকারকারীরা কি লক্ষ্য করে না, কিভাবে আল্লাহর সৃষ্ট প্রতিটি জিনিসের ছায়া ডানে ও বামে ঢলে পড়ে আল্লাহর সামনে সিজদাবনত হচ্ছে?
وَ لِلّٰهِ یَسْجُدُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ مِنْ دَآبَّةٍ وَّ الْمَلٰٓىِٕكَةُ وَ هُمْ لَا یَسْتَكْبِرُوْنَ 49
49. মহাকাশের সবকিছু এবং জমিনের সকল প্রাণীরা, এমনকি ফেরেশতারাও প্রতিনিয়ত আল্লাহর সামনে সিজদাবনত হচ্ছে। তারা কখনোই দম্ভ দেখিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয় না।
یَخَافُوْنَ رَبَّهُمْ مِّنْ فَوْقِهِمْ وَ یَفْعَلُوْنَ مَا یُؤْمَرُوْنَ۠۩ 50
50. বস্তুত তারা সর্বদা আল্লাহকে ভয় করে। কেননা তারা জানে, তাদের রব তাদের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। তাই তারা রবের সকল নির্দেশই ঠিকঠাকভাবে পালন করে যায়। (সিজদা)
وَ قَالَ اللّٰهُ لَا تَتَّخِذُوْۤا اِلٰهَیْنِ اثْنَیْنِ ۚ اِنَّمَا هُوَ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ ۚ فَاِیَّایَ فَارْهَبُوْنِ 51
51. আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে, তোমরা একাধিক ইলাহ গ্রহণ থেকে বিরত হও। কেননা ইলাহ তো সত্যিকারে একজনই। কাজেই সেই ইলাহ হিসাবে আমাকেই ভয় করো।
وَ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ لَهُ الدِّیْنُ وَاصِبًا ؕ اَفَغَیْرَ اللّٰهِ تَتَّقُوْنَ 52
52. মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে সবকিছুই তাঁর। মহাবিশ্বের প্রতিটি জিনিসই তাঁর একচ্ছত্র অনুগত হয়ে চলছে। এরপরও কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে ভয় করবে?
وَ مَا بِكُمْ مِّنْ نِّعْمَةٍ فَمِنَ اللّٰهِ ثُمَّ اِذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فَاِلَیْهِ تَجْـَٔرُوْنَۚ 53
53. তোমরা যেসব নেয়ামত ভোগ করছো, তা আল্লাহই দিয়েছেন। আবার যখন দুঃখ-দুর্দশা ও বিপদাপদে পড়ো, তখনও তাঁর কাছেই ব্যাকুলচিত্তে ফরিয়াদ জানাও।
ثُمَّ اِذَا كَشَفَ الضُّرَّ عَنْكُمْ اِذَا فَرِیْقٌ مِّنْكُمْ بِرَبِّهِمْ یُشْرِكُوْنَۙ 54
54. এরপর আল্লাহ যখন সে দুঃখ-বিপদ দূর করে দেন, তখন তোমাদের অনেকেই তাদের রবের সাথে শরিক করে বসে।
لِیَكْفُرُوْا بِمَاۤ اٰتَیْنٰهُمْ ؕ فَتَمَتَّعُوْا ۫ فَسَوْفَ تَعْلَمُوْنَ 55
55. বস্তুত এভাবে তোমরা আমার নেয়ামতের প্রতি বড়ই অকৃতজ্ঞ হলে। হায়! দুনিয়াটা সামান্য উপভোগ করে নাও। অচিরেই জানতে পারবে।
وَ یَجْعَلُوْنَ لِمَا لَا یَعْلَمُوْنَ نَصِیْبًا مِّمَّا رَزَقْنٰهُمْ ؕ تَاللّٰهِ لَتُسْـَٔلُنَّ عَمَّا كُنْتُمْ تَفْتَرُوْنَ 56
56. দেখো! ওরা আমার দেয়া রিজিকের একটা অংশ ঐসব ভ্রান্ত খোদাদের নামে উৎসর্গ করে, যাদের সম্পর্কে ওদের কোনো জ্ঞান নেই। আল্লাহর কসম, এসব মিথ্যা অপবাদের জবাব তোমাদের থেকে একদিন অবশ্যই নেয়া হবে।
وَ یَجْعَلُوْنَ لِلّٰهِ الْبَنٰتِ سُبْحٰنَهٗ ۙ وَ لَهُمْ مَّا یَشْتَهُوْنَ 57
57. কী আশ্চর্য! ওরা আল্লাহর জন্য পছন্দ করে কন্যা সন্তান। সুবহানাল্লহ! আল্লাহ সন্তান নেয়া থেকে মহাপবিত্র ও মহিমান্বিত। অথচ নিজেদের বেলায় ওরা পছন্দ করে পুত্র সন্তান।
وَ اِذَا بُشِّرَ اَحَدُهُمْ بِالْاُنْثٰی ظَلَّ وَجْهُهٗ مُسْوَدًّا وَّ هُوَ كَظِیْمٌۚ 58
58. ৫৮. ওদের কাউকে যদি বলা হয়, তোমার একটা কন্যা সন্তান হয়েছে, তখন তার মুখ অমাবস্যার মতো কালো হয়ে যায় এবং রাগে ক্ষোভে তার অন্তর দুমড়ে-মোচড়ে যায়।
یَتَوَارٰی مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوْٓءِ مَا بُشِّرَ بِهٖ ؕ اَیُمْسِكُهٗ عَلٰی هُوْنٍ اَمْ یَدُسُّهٗ فِی التُّرَابِ ؕ اَلَا سَآءَ مَا یَحْكُمُوْنَ 59
59. কন্যা সন্তানের সুখবর ওদের কাছে অপমানজনক মনে হয়। ওরা সমাজে মুখ দেখানোর ভয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায়। ভাবতে থাকে, অপমান সহ্য করে মেয়েটাকে পালবে, নাকি এখনই মাটি চাঁপা দিয়ে মেরে ফেলবে। হায় আফসোস! ওদের চিন্তা চেতনা কতোটা জঘন্য।
لِلَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ مَثَلُ السَّوْءِ ۚ وَ لِلّٰهِ الْمَثَلُ الْاَعْلٰی ؕ وَ هُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ۠ 60
60. বাস্তব সত্য হচ্ছে, যারা আখেরাতের জীবনে বিশ্বাস রাখে না, তারাই খারাপ প্রকৃতির লোক। আর আল্লাহ তো মহত্তম গুণাবলীর আঁধার। তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
وَ لَوْ یُؤَاخِذُ اللّٰهُ النَّاسَ بِظُلْمِهِمْ مَّا تَرَكَ عَلَیْهَا مِنْ دَآبَّةٍ وَّ لٰكِنْ یُّؤَخِّرُهُمْ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ۚ فَاِذَا جَآءَ اَجَلُهُمْ لَا یَسْتَاْخِرُوْنَ سَاعَةً وَّ لَا یَسْتَقْدِمُوْنَ 61
61. আল্লাহ যদি মানুষকে তার জুলুমের অপরাধে সাথেসাথেই পাকড়াও করতেন, তবে জমিনে কোনো অপরাধী বেঁচে থাকতো না; কিন্তু আল্লাহ ওদেরকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত সময় দেন। তবে যখন সে নির্দিষ্ট মুহূর্তটি চলে আসে, তখন আর কেউই তাকে আগ-পিছ করার ক্ষমতা রাখে না।
وَ یَجْعَلُوْنَ لِلّٰهِ مَا یَكْرَهُوْنَ وَ تَصِفُ اَلْسِنَتُهُمُ الْكَذِبَ اَنَّ لَهُمُ الْحُسْنٰی ؕ لَا جَرَمَ اَنَّ لَهُمُ النَّارَ وَ اَنَّهُمْ مُّفْرَطُوْنَ 62
62. কী আশ্চর্য! ওরা নিজেদের জন্য যা কিছু অপছন্দ করে, তা আল্লাহর জন্য কিভাবে পছন্দ করতে পারে? ওরা আবার দাবি করে, ওদের জন্যেই নাকি ভবিষ্যতের সব কল্যাণ রয়েছে। মিথ্যা! বরং ওদের জন্য জাহান্নামের আগুন অপেক্ষা করছে। সবার আগে ওদেরকেই সেখানে নিক্ষেপ করা হবে।
تَاللّٰهِ لَقَدْ اَرْسَلْنَاۤ اِلٰۤی اُمَمٍ مِّنْ قَبْلِكَ فَزَیَّنَ لَهُمُ الشَّیْطٰنُ اَعْمَالَهُمْ فَهُوَ وَلِیُّهُمُ الْیَوْمَ وَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ 63
63. আল্লাহর কসম! হে নবী, আমি তোমার আগে বহু জাতির কাছে আমার রসুল পাঠিয়েছি। কিন্তু শয়তান সে জাতির অবাধ্যদের কাছে তাদের অপকর্মগুলোকে আকর্ষণীয় করে রাখতো। সেই শয়তানই আজকের সত্যত্যাগীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। ফলে ওদের জন্য মর্মান্তিক শাস্তি অপেক্ষা করছে।
وَ مَاۤ اَنْزَلْنَا عَلَیْكَ الْكِتٰبَ اِلَّا لِتُبَیِّنَ لَهُمُ الَّذِی اخْتَلَفُوْا فِیْهِ ۙ وَ هُدًی وَّ رَحْمَةً لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ 64
64. হে নবী, আমি তোমার কাছে এ কিতাব পাঠিয়েছি, যাতে লোকেরা যে বিষয়ে মতবিরোধ করছে, সে ব্যাপারে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারো। আর ঈমানদারদের জন্য এ কিতাব সুস্পষ্ট দিক নির্দেশক ও রহমতের বাহক।
وَ اللّٰهُ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَحْیَا بِهِ الْاَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لِّقَوْمٍ یَّسْمَعُوْنَ۠ 65
65. তোমরা দেখতে পাচ্ছো, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন। আর সে পানি দিয়েই মৃত জমিনকে জীবিত করে তোলেন। যারা সত্যকে শুনতে চায়, তাদের জন্য এর মধ্যে শেখার অনেক নিদর্শন রয়েছে।
وَ اِنَّ لَكُمْ فِی الْاَنْعَامِ لَعِبْرَةً ؕ نُسْقِیْكُمْ مِّمَّا فِیْ بُطُوْنِهٖ مِنْۢ بَیْنِ فَرْثٍ وَّ دَمٍ لَّبَنًا خَالِصًا سَآىِٕغًا لِّلشّٰرِبِیْنَ 66
66. গবাদি পশুর মধ্যেও তোমাদের জন্য অনেক শিক্ষা রয়েছে। খেয়াল করে দেখো, ওদের উদরস্থির গোবর ও রক্তের মাঝখান থেকে বের করে এনে তরল দুধ তোমাদের পান করাই। এ দুধ পানকারীদের জন্য বড়ই পুষ্টিকর ও সুস্বাদু।
وَ مِنْ ثَمَرٰتِ النَّخِیْلِ وَ الْاَعْنَابِ تَتَّخِذُوْنَ مِنْهُ سَكَرًا وَّ رِزْقًا حَسَنًا ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لِّقَوْمٍ یَّعْقِلُوْنَ 67
67. একইভাবে খেজুর ও আঙ্গুর ফল থেকে তোমরা একদিকে মাদক তৈরি করো, আবার অন্যদিকে উত্তম খাবার হিসাবে এগুলো ব্যবহার করে থাকো। এ সবকিছুর মধ্যে বিচারবুদ্ধি প্রয়োগকারীদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।
وَ اَوْحٰی رَبُّكَ اِلَی النَّحْلِ اَنِ اتَّخِذِیْ مِنَ الْجِبَالِ بُیُوْتًا وَّ مِنَ الشَّجَرِ وَ مِمَّا یَعْرِشُوْنَۙ 68
68. হে মানুষ, একবার তাকিয়ে দেখো, তোমার রব মৌমাছিকে সুক্ষ্ণভাবে শিখিয়ে নির্দেশনা দিলেন, মৌচাক তৈরি করো পাহাড়-পর্বতে, গাছ-পালায় এবং মানুষের বানানো ঘরবাড়ি ও মাচায়।
ثُمَّ كُلِیْ مِنْ كُلِّ الثَّمَرٰتِ فَاسْلُكِیْ سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا ؕ یَخْرُجُ مِنْۢ بُطُوْنِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ اَلْوَانُهٗ فِیْهِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لِّقَوْمٍ یَّتَفَكَّرُوْنَ 69
69. এরপর সব ধরনের ফল চুষে মধু সংগ্রহ করো এবং সর্বদা তোমাদের রবের দেওয়া নিখুঁত ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে চলো। হে মানুষ লক্ষ্য করো, এ মৌমাছিগুলোর স্ত্রী প্রজাতির পেট থেকে এক ধরনের বর্ণিল পানীয় বের হচ্ছে, যা মানুষের জন্য নানা রোগের নিরাময়। এসব দৃশ্যের মধ্যে চিন্তা ভাবনাশীল লোকদের জন্য অনেক শেখার রয়েছে।
وَ اللّٰهُ خَلَقَكُمْ ثُمَّ یَتَوَفّٰىكُمْ ۙ۫ وَ مِنْكُمْ مَّنْ یُّرَدُّ اِلٰۤی اَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَیْ لَا یَعْلَمَ بَعْدَ عِلْمٍ شَیْـًٔا ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌ قَدِیْرٌ۠ 70
70. দেখো! আল্লাহ তোমাদের সৃষ্টি করলেন। আবার যথাসময়ে তোমাদের মৃত্যু ঘটান। তোমাদের কাউকে এমন নিকৃষ্ট বার্ধক্যে উপনীত করেন, যখন সে কোনো কিছুই মনে করতে পারে না। অথচ সে একসময় এ সবকিছুই জানতো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব জানেন, সব করতে পারেন।
وَ اللّٰهُ فَضَّلَ بَعْضَكُمْ عَلٰی بَعْضٍ فِی الرِّزْقِ ۚ فَمَا الَّذِیْنَ فُضِّلُوْا بِرَآدِّیْ رِزْقِهِمْ عَلٰی مَا مَلَكَتْ اَیْمَانُهُمْ فَهُمْ فِیْهِ سَوَآءٌ ؕ اَفَبِنِعْمَةِ اللّٰهِ یَجْحَدُوْنَ 71
71. আল্লাহ তোমাদের কাউকে কাউকে অন্যের চেয়ে বেশি জীবনোপকরণ দান করেছেন। খেয়াল করে দেখো, যাদেরকে বেশি দেয়া হচ্ছে, তারা নিজেদের সম্পদ থেকে অধীনস্থ অসহায়-দরিদ্র লোকদের এমন পরিমাণ সম্পদ দিতে রাজি নয়, যাতে তারা ওদের সমান সম্পদশালী হয়ে যায়। হায়! এতসব নেয়ামত ভোগ করার পরেও কি ওরা আল্লাহকে অস্বীকার করে যাবে?
وَاللّٰهُ جَعَلَ لَكُمْ مِّنْ اَنْفُسِكُمْ اَزْوَاجًا وَّجَعَلَ لَكُمْ مِّنْ اَزْوَاجِكُمْ بَنِیْنَ وَحَفَدَةً وَّرَزَقَكُمْ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ ؕ اَفَبِالْبَاطِلِ یُؤْمِنُوْنَ وَبِنِعْمَتِ اللّٰهِ هُمْ یَكْفُرُوْنَۙ 72
72. আর আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই জোড়া তৈরি করেছেন এবং এ যুগল থেকে তোমাদের ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনি সৃষ্টি করেছেন। তোমাদের সবার জন্য উত্তম জীবনোপকরণের ব্যবস্থা করেছেন। এ সবকিছু দেখার পরেও কি তোমরা ভ্রান্ত পথ আঁকড়ে থাকবে? আল্লাহর দেয়া এসব নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ হবে না?
وَ یَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ مَا لَا یَمْلِكُ لَهُمْ رِزْقًا مِّنَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ شَیْـًٔا وَّ لَا یَسْتَطِیْعُوْنَۚ 73
73. তারপরও কি ওরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমনসব ভ্রান্ত খোদাদের পূজা চালিয়ে যাবে, যারা ওদের জন্য মহাকাশ কিংবা পৃথিবী কোনো জায়গা থেকে সামান্য একটু জীবিকাও দিতে পারে না? এমনকি যারা ওদের জন্য কিছুই করার ক্ষমতা রাখে না?
فَلَا تَضْرِبُوْا لِلّٰهِ الْاَمْثَالَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یَعْلَمُ وَ اَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ 74
74. সাবধান! আল্লাহর সাথে কোনো সাদৃশ্য সাব্যস্ত করো না। কেননা আল্লাহ সব জানেন; অথচ তোমরা অনেক কিছুই জানো না।
ضَرَبَ اللّٰهُ مَثَلًا عَبْدًا مَّمْلُوْكًا لَّا یَقْدِرُ عَلٰی شَیْءٍ وَّ مَنْ رَّزَقْنٰهُ مِنَّا رِزْقًا حَسَنًا فَهُوَ یُنْفِقُ مِنْهُ سِرًّا وَّ جَهْرًا ؕ هَلْ یَسْتَوٗنَ ؕ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ ؕ بَلْ اَكْثَرُهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ 75
75. আল্লাহ তোমাদের সামনে দু’জন লোকের দৃষ্টান্ত পেশ করছেন। একজন দাস, যে অন্যের অধীন, কোনো কিছুর উপরই তার নিজের ক্ষমতা নেই। আর অপরজন এমন ব্যক্তি, যাকে আমি উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছি এবং সে তা থেকে প্রকাশ্যে ও গোপনে মুক্ত হস্তে অন্যের জন্য ব্যয় করে। এখন তোমরাই বলো, এ দু’জন ব্যক্তির অবস্থা কি কখনও সমান হতে পারে? আলহামদুলিল্লাহ! সব প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহর জন্য। যদিও ওদের অনেকেই এ বিষয়টি বুঝতে পারে না।
وَ ضَرَبَ اللّٰهُ مَثَلًا رَّجُلَیْنِ اَحَدُهُمَاۤ اَبْكَمُ لَا یَقْدِرُ عَلٰی شَیْءٍ وَّ هُوَ كَلٌّ عَلٰی مَوْلٰىهُ ۙ اَیْنَمَا یُوَجِّهْهُّ لَا یَاْتِ بِخَیْرٍ ؕ هَلْ یَسْتَوِیْ هُوَ ۙ وَ مَنْ یَّاْمُرُ بِالْعَدْلِ ۙ وَ هُوَ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ۠ 76
76. আল্লাহ তোমাদেরকে আরো একটি উপমা শুনাচ্ছেন। দু’জন লোক, একজন বাকপ্রতিবন্ধী। নিজের থেকে কোনো কাজই করতে পারে না। যে কাজের জন্যেই তাকে পাঠানো হোক না কেন, ঠিকভাবে করে আসতে পারে না। মালিকের ঘাড়ে বোঝা হিসাব চেপে রয়েছে। আর অন্যজন, যে নিজে থেকেই লোকদের সত্য ন্যায়ের পথ দেখায় এবং নিজেও সত্য সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত থাকে। বলো, এ দু’জন কি কখনও সমান হতে পারে?
وَ لِلّٰهِ غَیْبُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ وَ مَاۤ اَمْرُ السَّاعَةِ اِلَّا كَلَمْحِ الْبَصَرِ اَوْ هُوَ اَقْرَبُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ 77
77. মহাকাশ ও পৃথিবীর সব সূক্ষ্ণাতিসূক্ষ্ণ গোপন রহস্যের জ্ঞান আল্লাহর রয়েছে। আর কেয়ামত! সেটা তো এক পলকের নিমিষেই ঘটে যাবে। এমনকি তার চেয়েও কম সময়ে। জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুই করতে পারেন।
وَ اللّٰهُ اَخْرَجَكُمْ مِّنْۢ بُطُوْنِ اُمَّهٰتِكُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ شَیْـًٔا ۙ وَّ جَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَ الْاَبْصَارَ وَ الْاَفْـِٕدَةَ ۙ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ 78
78. খেয়াল করে দেখো, আল্লাহ যখন তোমাদেরকে মাতৃগর্ভ থেকে ভুমিষ্ঠ করেন, তখন তোমরা এ জগতের কোনো কিছুই জানতে না। এরপর আল্লাহই তোমাদেরকে কান দিয়েছেন, চোখ দিয়েছেন, শক্তিশালী হৃদয় দিয়েছেন, যাতে তোমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে পারো।
اَلَمْ یَرَوْا اِلَی الطَّیْرِ مُسَخَّرٰتٍ فِیْ جَوِّ السَّمَآءِ ؕ مَا یُمْسِكُهُنَّ اِلَّا اللّٰهُ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ 79
79. আচ্ছা! ওরা কি উড়ন্ত পাখিগুলোর দিকে তাকায় না? এরা মহাশূন্যে ডানামেলে উড়ে বেড়ায়। আল্লাহ ছাড়া আর কে এদেরকে শূন্যাকাশে স্থীরভাবে ধরে রেখেছে? ঈমানদারদের জন্য এসব দৃশ্যে অনেক শিক্ষা রয়েছে।
وَ اللّٰهُ جَعَلَ لَكُمْ مِّنْۢ بُیُوْتِكُمْ سَكَنًا وَّ جَعَلَ لَكُمْ مِّنْ جُلُوْدِ الْاَنْعَامِ بُیُوْتًا تَسْتَخِفُّوْنَهَا یَوْمَ ظَعْنِكُمْ وَ یَوْمَ اِقَامَتِكُمْ ۙ وَ مِنْ اَصْوَافِهَا وَ اَوْبَارِهَا وَ اَشْعَارِهَاۤ اَثَاثًا وَّ مَتَاعًا اِلٰی حِیْنٍ 80
80. দেখো! আল্লাহ তোমাদের ঘরগুলোকে তোমাদের জন্য নিরাপদ শান্তিময় বসবাসের জন্য উপযুক্ত করে দিয়েছেন। দিয়েছন পশুর চামড়া দিয়ে তাবু তৈরির ব্যবস্থা, যা তোমরা সফরে ও আবাসে সহজেই ঘর হিসেবে ব্যবহার করতে পারো। পশুদের পশম, লোম ও চুল দ্বারাও তোমরা ব্যবহার সামগ্রী পেয়ে থাকো যা নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত তোমরা কাজে লাগাচ্ছো।
وَ اللّٰهُ جَعَلَ لَكُمْ مِّمَّا خَلَقَ ظِلٰلًا وَّ جَعَلَ لَكُمْ مِّنَ الْجِبَالِ اَكْنَانًا وَّ جَعَلَ لَكُمْ سَرَابِیْلَ تَقِیْكُمُ الْحَرَّ وَ سَرَابِیْلَ تَقِیْكُمْ بَاْسَكُمْ ؕ كَذٰلِكَ یُتِمُّ نِعْمَتَهٗ عَلَیْكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْلِمُوْنَ 81
81. আল্লাহ তোমাদেরকে সুরক্ষিত রাখার জন্য তাঁর সৃষ্টির অনেক কিছুকেই তোমাদের পিছনে ছায়ার মতো দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। পাহাড়ে তিনি তোমাদের জন্য আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন। গরম ও ঠান্ডা থেকে রক্ষার লক্ষ্যে তোমাদের জন্য পরিধেয় পোশাকের ব্যবস্থা করেছেন। তোমাদের জন্য বর্মের ব্যবস্থা করেছেন, যা যুদ্ধে পরস্পরকে রক্ষা করে। এভাবে তোমাদের উপর একটার পর একটা অসংখ্য নেয়ামত পূর্ণ করেছেন। হয়তো তোমরা পুরোপুরিভাবে আল্লাহতে সমর্পিত হবে।
فَاِنْ تَوَلَّوْا فَاِنَّمَا عَلَیْكَ الْبَلٰغُ الْمُبِیْنُ 82
82. এতসব কিছু বোঝার পরেও যদি ওরা সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়; তবে হে নবী, সুস্পষ্টভাবে সত্যবাণী তুলে ধরা ছাড়া তোমার উপর আর কোনো জবাবদিহি নেই।
یَعْرِفُوْنَ نِعْمَتَ اللّٰهِ ثُمَّ یُنْكِرُوْنَهَا وَاَكْثَرُهُمُ الْكٰفِرُوْنَ۠ 83
83. এসব সত্যবিমুখেরা আল্লাহর নেয়ামতের ব্যাপারে ভালোই জানে। কিন্তু এরপরেও স্বীকার করে না। আসলে ওদের অধিকাংশই সত্য অস্বীকারে জেদ ধরে আছে।
وَ یَوْمَ نَبْعَثُ مِنْ كُلِّ اُمَّةٍ شَهِیْدًا ثُمَّ لَا یُؤْذَنُ لِلَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ لَا هُمْ یُسْتَعْتَبُوْنَ 84
84. মহাবিচারের দিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে একজনকে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে দাঁড় করাবো। তার সাক্ষ্যের পর আর কাফেরদের পক্ষে নিজেদের জন্য কোনো অজুহাত পেশ করার অবকাশ থাকবে না। এমনকি ওদেরকে সেদিন ক্ষমা ভিক্ষা চাবার সুযোগটুকুও দেয়া হবে না।
وَ اِذَا رَاَ الَّذِیْنَ ظَلَمُوا الْعَذَابَ فَلَا یُخَفَّفُ عَنْهُمْ وَ لَا هُمْ یُنْظَرُوْنَ 85
85. এরপর যখন এসব অবাধ্য পাপীদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, তখন ওরা ক্রমাগত কঠিনতর আযাবের শিকার হবে। এক মুহূর্তের জন্যও ওদেরকে অবকাশ দেয়া হবে না।
وَ اِذَا رَاَ الَّذِیْنَ اَشْرَكُوْا شُرَكَآءَهُمْ قَالُوْا رَبَّنَا هٰۤؤُلَآءِ شُرَكَآؤُنَا الَّذِیْنَ كُنَّا نَدْعُوْا مِنْ دُوْنِكَ ۚ فَاَلْقَوْا اِلَیْهِمُ الْقَوْلَ اِنَّكُمْ لَكٰذِبُوْنَۚ 86
86. বিচারের দিন মুশরিকেরা ওদের ভ্রান্ত খোদাদেরকে সামনা-সামনি দেখে বলবে, হে আমাদের রব, এরাই আমাদের সেসব খোদা, যাদেরকে আমরা তোমার অংশীদার বানিয়েছিলাম। তোমার পরিবর্তে আমরা এদেরই পূজা-উপাসনা করেছি। কিন্তু সেদিন ঐসব খোদারা জবাব দিবে, না! বরং তোমরা মনগড়া মিথ্যাকেই তোমাদের খোদা বানিয়েছিলে।
وَ اَلْقَوْا اِلَی اللّٰهِ یَوْمَىِٕذِ ِ۟السَّلَمَ وَ ضَلَّ عَنْهُمْ مَّا كَانُوْا یَفْتَرُوْنَ 87
87. সেদিন ঐ খোদাদের জবাব শুনে মুশরিকেরা আল্লাহর সামনে নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। সেদিন ঐসব খোদারা ওদের থেকে উধাও হয়ে যাবে।
اَلَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ صَدُّوْا عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ زِدْنٰهُمْ عَذَابًا فَوْقَ الْعَذَابِ بِمَا كَانُوْا یُفْسِدُوْنَ 88
88. শুনে রেখো, যেসব লোক নিজেরা সত্যকে অস্বীকার করছে এবং সাধারণ মানুষদেরকে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, আমি ওদেরকে সেদিন আযাবের উপর আযাব ভোগ করাবো। কেননা ওরা দুনিয়ায় বড়ই ফাসাদ করে বেড়িয়েছে।
وَ یَوْمَ نَبْعَثُ فِیْ كُلِّ اُمَّةٍ شَهِیْدًا عَلَیْهِمْ مِّنْ اَنْفُسِهِمْ وَجِئْنَا بِكَ شَهِیْدًا عَلٰی هٰۤؤُلَآءِ ؕ وَنَزَّلْنَا عَلَیْكَ الْكِتٰبَ تِبْیَانًا لِّكُلِّ شَیْءٍ وَّهُدًی وَّرَحْمَةً وَّبُشْرٰی لِلْمُسْلِمِیْنَ۠ 89
89. হে নবী, বিচারের দিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে তাদের ব্যাপারে সাক্ষী দেবার জন্য একজন সাক্ষী, যে তাদের কাছে আমার রসুল ছিল দাঁড় করাবো। তাই তোমাকেও তোমার এ কওমের উপর সাক্ষী বানাবো। এ কারণেই আমি তোমার উপর ধাপে ধাপে দীর্ঘ সময়ে এ কুরআন নাযিল করেছি, যাতে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য পরিষ্কার হয়ে যায়। কাজেই যারা আল্লাহর প্রতি সমর্পিত হয়েছে, তাদের জন্য এ কিতাব পথনির্দেশ, রহমত ও সুসংবাদ বহন করে।
اِنَّ اللّٰهَ یَاْمُرُ بِالْعَدْلِ وَ الْاِحْسَانِ وَ اِیْتَآئِ ذِی الْقُرْبٰی وَ یَنْهٰی عَنِ الْفَحْشَآءِ وَ الْمُنْكَرِ وَ الْبَغْیِ ۚ یَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنَ 90
90. নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায় বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনদের দানের ব্যাপারে নির্দেশ দিচ্ছেন এবং অশ্লীলতা, অসদাচরণ ও অত্যাচার-বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করছেন। তিনি তোমাদের শিক্ষা লাভের জন্যেই এসব উপদেশ দিচ্ছেন।
وَ اَوْفُوْا بِعَهْدِ اللّٰهِ اِذَا عٰهَدْتُّمْ وَ لَا تَنْقُضُوا الْاَیْمَانَ بَعْدَ تَوْكِیْدِهَا وَ قَدْ جَعَلْتُمُ اللّٰهَ عَلَیْكُمْ كَفِیْلًا ؕ اِنَّ اللّٰهَ یَعْلَمُ مَا تَفْعَلُوْنَ 91
91. আর তোমরা যখন আল্লাহর সাথে কোনো অঙ্গীকার করবে, তখন তা অবশ্যই পূর্ণ করবে এবং আল্লাহকে সাক্ষী রেখে যদি দৃঢ়ভাবে কোনো শপথ করো, তবে সাবধান! কখনোই সে শপথ অন্যায়ভাবে ভেঙ্গে ফেলো না। মনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের সমস্ত কাজকর্ম সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।
وَ لَا تَكُوْنُوْا كَالَّتِیْ نَقَضَتْ غَزْلَهَا مِنْۢ بَعْدِ قُوَّةٍ اَنْكَاثًا ؕ تَتَّخِذُوْنَ اَیْمَانَكُمْ دَخَلًۢا بَیْنَكُمْ اَنْ تَكُوْنَ اُمَّةٌ هِیَ اَرْبٰی مِنْ اُمَّةٍ ؕ اِنَّمَا یَبْلُوْكُمُ اللّٰهُ بِهٖ ؕ وَ لَیُبَیِّنَنَّ لَكُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ مَا كُنْتُمْ فِیْهِ تَخْتَلِفُوْنَ 92
92. ঐ মহিলাকে দেখো, যে নিজ পরিশ্রমে মজবুত করে সুতো পাকানোর পর আবার নিজেই তা টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলে। তোমাদের অঙ্গীকারের ব্যাপারে ঐ মহিলার মতো আচরণ করো না। খবরদার! একদল আরেকদলের উপর বেশি লাভবান হওয়ার জন্য নিজেদের শপথ ও প্রতিশ্রুতিকে পরস্পরের মাঝে ধোঁকা ও প্রতারণার মাধ্যম বানিও না। মনে রেখো, আল্লাহ এ অঙ্গীকারের মাধ্যমে তোমাদরেকে পরীক্ষার মুখোমুখি করেন। মহাবিচারের দিন আল্লাহ নিজেই তোমাদের এ সব বিরোধের গোপন রহস্য প্রকাশ করবেন।
وَ لَوْ شَآءَ اللّٰهُ لَجَعَلَكُمْ اُمَّةً وَّاحِدَةً وَّ لٰكِنْ یُّضِلُّ مَنْ یَّشَآءُ وَ یَهْدِیْ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَلَتُسْـَٔلُنَّ عَمَّا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ 93
93. আসলে আল্লাহ যদি চাইতেন তোমাদের মধ্যে কোনো মতবিরোধ না হোক, তবে তোমাদের সবাইকে একই মতাদর্শে বিশ্বাসী বানাতেন। কিন্তু তিনি এমনটা চাননি। সুতরাং যারা ভ্রান্ত পথে হাঁটতে চায়, আল্লাহ ওদেরকে সে পথেই ছেড়ে দেন এবং যারা সত্যের পথে আসতে চায়, তাদেরকে সে পথে চালিত করেন। জেনে রেখো, বিচারের দিন তোমাদের সবাইকে জীবনকর্ম সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।
وَ لَا تَتَّخِذُوْۤا اَیْمَانَكُمْ دَخَلًۢا بَیْنَكُمْ فَتَزِلَّ قَدَمٌۢ بَعْدَ ثُبُوْتِهَا وَ تَذُوْقُوا السُّوْٓءَ بِمَا صَدَدْتُّمْ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ۚ وَ لَكُمْ عَذَابٌ عَظِیْمٌ 94
94. হে ঈমানদারেরা, অন্যকে ঠকানোর জন্য তোমাদের শপথকে ব্যবহার করো না। এমনটা করলে সত্যের পথে মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও তোমাদের পদস্খলন ঘটবে এবং তোমাদের এ ব্যবহার দেখে বহু লোক সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। ফলে তোমরা এর কঠিন স্বাদ ভোগ করবে। আর জাহান্নামের কঠিন আযাব তো অপেক্ষা করবেই।
وَ لَا تَشْتَرُوْا بِعَهْدِ اللّٰهِ ثَمَنًا قَلِیْلًا ؕ اِنَّمَا عِنْدَ اللّٰهِ هُوَ خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ 95
95. আর হ্যাঁ! তোমরা আল্লাহর সাথে যে অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়েছো, পার্থিব কোনো স্বার্থেই তা বিক্রি করো না। তোমাদের জ্ঞান থাকলে বুঝবে, আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা তোমাদের জন্য এর চেয়ে অনেক অনেক বেশি ভালো।
مَا عِنْدَكُمْ یَنْفَدُ وَمَا عِنْدَ اللّٰهِ بَاقٍ ؕ وَلَنَجْزِیَنَّ الَّذِیْنَ صَبَرُوْۤا اَجْرَهُمْ بِاَحْسَنِ مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 96
96. তোমাদের কাছে যা আছে তা একদিন ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহর কাছে যা আছে তা স্থায়ী, কোনোদিনই ফুরাবে না। অতএব যারা ধৈর্যের সাথে সত্যের উপর টিকে থাকবে, অবশ্যই আমি তাদের কাজের উত্তম পুরস্কার দান করবো।
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّنْ ذَكَرٍ اَوْ اُنْثٰی وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْیِیَنَّهٗ حَیٰوةً طَیِّبَةً ۚ وَلَنَجْزِیَنَّهُمْ اَجْرَهُمْ بِاَحْسَنِ مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 97
97. পুরুষ কিংবা নারী যে-ই সৎকাজ করবে, সে যদি ঈমানদার হয়, তবে অবশ্যই আমি তাকে দুনিয়ায় পবিত্র-পরিচ্ছন্ন এক স্বার্থক জীবন দান করবো এবং পরকালেও তার কাজের উত্তম প্রতিদান তাকে দেয়া হবে।
فَاِذَا قَرَاْتَ الْقُرْاٰنَ فَاسْتَعِذْ بِاللّٰهِ مِنَ الشَّیْطٰنِ الرَّجِیْمِ 98
98. হে ঈমানদারেরা, যখন তোমরা কুরআন পড়বে, তখন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়ে নেবে।
اِنَّهٗ لَیْسَ لَهٗ سُلْطٰنٌ عَلَی الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَلٰی رَبِّهِمْ یَتَوَكَّلُوْنَ 99
99. কেননা যারা সত্যিকারে ঈমান রাখে এবং তাদের রবের উপর আস্থা ও ভরসা রেখে চলে, তাদের উপর শয়তান কোনো আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না।
اِنَّمَا سُلْطٰنُهٗ عَلَی الَّذِیْنَ یَتَوَلَّوْنَهٗ وَالَّذِیْنَ هُمْ بِهٖ مُشْرِكُوْنَ۠ 100
100. শয়তানের প্রভাব ও প্রতিপত্তি কেবল তাদের উপরই চলে, যারা ওকে অভিভাবক হিসাবে মেনে নিয়েছে এবং ওর কথা মতো আল্লাহর সাথে শরিক করে চলছে।
وَ اِذَا بَدَّلْنَاۤ اٰیَةً مَّكَانَ اٰیَةٍ ۙ وَّ اللّٰهُ اَعْلَمُ بِمَا یُنَزِّلُ قَالُوْۤا اِنَّمَاۤ اَنْتَ مُفْتَرٍ ؕ بَلْ اَكْثَرُهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ 101
101. হে নবী, আমি যদি এ কুরআনের কোনো আয়াতকে পরিবর্তন করে নতুন আয়াত নাযিল করি, তাহলেই সত্য অস্বীকারকারীরা বলে ওঠে, হে মুহাম্মদ, এসবই তোমার মনগড়া উক্তি। আসলে আল্লাহ ধাপে-ধাপে কী ও কেন নাযিল করেন, তা তিনিই ভালো জানেন। কিন্তু ওদের অধিকাংশই এ কথা বুঝতে পারে না।
قُلْ نَزَّلَهٗ رُوْحُ الْقُدُسِ مِنْ رَّبِّكَ بِالْحَقِّ لِیُثَبِّتَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ هُدًی وَّ بُشْرٰی لِلْمُسْلِمِیْنَ 102
102. হে নবী, তুমি ওদের সাফ জানিয়ে দাও, এ কিতাব তো আমার রবের পক্ষ থেকে এক পবিত্রতম ফেরেশতা জিবরিল ঠিকঠাক ভাবে ধাপে ধাপে নিয়ে এসেছে, যাতে মুমিনদের অন্তরে দৃঢ়তা আসে এবং অনুগত মুসলিমদেরকে পথনির্দেশ ও সুখবর দেওয়া যায়।
وَ لَقَدْ نَعْلَمُ اَنَّهُمْ یَقُوْلُوْنَ اِنَّمَا یُعَلِّمُهٗ بَشَرٌ ؕ لِسَانُ الَّذِیْ یُلْحِدُوْنَ اِلَیْهِ اَعْجَمِیٌّ وَّ هٰذَا لِسَانٌ عَرَبِیٌّ مُّبِیْنٌ 103
103. হে নবী, আমি ভালোকরেই জানি, সত্য অস্বীকারকারীদের অনেকে তোমার ব্যাপারে বলে, অমুক ব্যক্তি মুহাম্মদকে এসব উদ্ভট কথাবার্তা শিখায়। ওরা যে ব্যক্তির দিকে ইঙ্গিত করে, তার মাতৃভাষা আরবি নয়; অথচ তোমার পেশ করা কুরআন তো বিশুদ্ধ আরবিতে নাযিলকৃত।
اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ ۙ لَا یَهْدِیْهِمُ اللّٰهُ وَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ 104
104. আসলে যারা আল্লাহর বাণীসমূহকে সত্য বলে স্বীকার করে না, ওরা কখনোই আল্লাহর দেখানো সঠিক পথ খুঁজে পায় না। পরিণামে ওদের কপালে মর্মান্তিক শাস্তি অপেক্ষা করছে।
اِنَّمَا یَفْتَرِی الْكَذِبَ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ ۚ وَ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْكٰذِبُوْنَ 105
105. বস্তুত মিথ্যা রচনা তারাই করছে, যারা আল্লাহর আয়াতগুলোকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। সন্দেহ নেই, ওরাই আসল মিথ্যাবাদী।
مَنْ كَفَرَ بِاللّٰهِ مِنْۢ بَعْدِ اِیْمَانِهٖۤ اِلَّا مَنْ اُكْرِهَ وَ قَلْبُهٗ مُطْمَىِٕنٌّۢ بِالْاِیْمَانِ وَ لٰكِنْ مَّنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَیْهِمْ غَضَبٌ مِّنَ اللّٰهِ ۚ وَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِیْمٌ 106
106. জেনে রেখো, অন্তরে দৃঢ় ঈমান থাকা সত্বেও কঠিন নির্যাতনের মুখে কাউকে যদি আল্লাহর সাথে কুফরি করতে বাধ্য করা হয়, তবে সে ক্ষমার যোগ্য। কিন্তু কেউ যদি ঈমান আনার পর স্বেচ্ছায় মনের খুশিতে সত্যকে অস্বীকার করে, তবে তার উপর আল্লাহর গজব পড়বে। পরকালে ওরা কঠিন আযাবের শিকার হবে।
ذٰلِكَ بِاَنَّهُمُ اسْتَحَبُّوا الْحَیٰوةَ الدُّنْیَا عَلَی الْاٰخِرَةِ ۙ وَ اَنَّ اللّٰهَ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الْكٰفِرِیْنَ 107
107. এ শাস্তি এ কারণেই যে, ওরা আখেরাতের উপর পার্থিব জীবনকে বেছে নিয়েছে। আর এ ধরনের সত্যত্যাগীদেরকে সঠিক পথ দেখানো আল্লাহর নীতি নয়।
اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ طَبَعَ اللّٰهُ عَلٰی قُلُوْبِهِمْ وَ سَمْعِهِمْ وَ اَبْصَارِهِمْ ۚ وَ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْغٰفِلُوْنَ 108
108. ওরা তো সেসব অজ্ঞ, মূর্খ, অবচেতন লোক যাদের অন্তরের উপর আল্লাহ মোহর এটে দিয়েছেন। শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তির উপর আবরণ ফেলে দিয়েছেন।
لَا جَرَمَ اَنَّهُمْ فِی الْاٰخِرَةِ هُمُ الْخٰسِرُوْنَ 109
109. সন্দেহ নেই, ওদের পরকাল পুরোই বরবাদ হয়ে গেছে। ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই নেই।
ثُمَّ اِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِیْنَ هَاجَرُوْا مِنْۢ بَعْدِ مَا فُتِنُوْا ثُمَّ جٰهَدُوْا وَ صَبَرُوْۤا ۙ اِنَّ رَبَّكَ مِنْۢ بَعْدِهَا لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ۠ 110
110. অন্যদিকে যারা সত্যকে মেনে নেবার অপরাধে নির্যাতনের শিকার হয়ে ঘর-বাড়ি ছেড়েছে, এরপরেও আল্লাহর পথে প্রাণন্তকর লড়াই চালিয়েছে এবং সমস্ত প্রতিক‚লতায় ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে, নিশ্চয়ই তোমার রব তাদেরকে ক্ষমা করবেন এবং নিজের দয়ার চাদরে তাদেরকে আশ্রয় দিবেন।
یَوْمَ تَاْتِیْ كُلُّ نَفْسٍ تُجَادِلُ عَنْ نَّفْسِهَا وَ تُوَفّٰی كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ وَ هُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ 111
111. মহাবিচারের দিনটি এতোই ভয়ানক হবে যে, প্রত্যেকেই কেবল নিজের আত্মরক্ষার চিন্তায় মগ্ন থাকবে। সেদিন প্রত্যেকেই তার কাজ অনুযায়ী প্রতিদান পাবে। কারো প্রতি সামান্য অবিচারও করা হবে না।
وَ ضَرَبَ اللّٰهُ مَثَلًا قَرْیَةً كَانَتْ اٰمِنَةً مُّطْمَىِٕنَّةً یَّاْتِیْهَا رِزْقُهَا رَغَدًا مِّنْ كُلِّ مَكَانٍ فَكَفَرَتْ بِاَنْعُمِ اللّٰهِ فَاَذَاقَهَا اللّٰهُ لِبَاسَ الْجُوْعِ وَ الْخَوْفِ بِمَا كَانُوْا یَصْنَعُوْنَ 112
112. আল্লাহ তোমাদেরকে একটি জনপদের দৃষ্টান্ত শুনাচ্ছেন, যার অধিবাসীরা বড়ই নিরাপদ ও নিশ্চিন্তে জীবন যাপন করছিলো। চারদিক থেকে তাদের কাছে প্রচুর জীবিকা সামগ্রী আসতো। কিন্তু এরপর এক সময় ওরা আল্লাহর এসব নেয়ামতের না-শোকর করলো। ফলে অকৃতজ্ঞ হওয়ার পরিণামে আল্লাহ ওদের উপর অভাব-অনটন ও ভয়-ভীতির সর্বগ্রাসী আযাব চাপিয়ে দিলেন।
وَ لَقَدْ جَآءَهُمْ رَسُوْلٌ مِّنْهُمْ فَكَذَّبُوْهُ فَاَخَذَهُمُ الْعَذَابُ وَ هُمْ ظٰلِمُوْنَ 113
113. ওদের কাছে ওদেরই একজন রসুল হিসাবে সত্যের দাওয়াত দিয়েছিলো। কিন্তু ওরা তাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করলো। শেষ পর্যন্ত ওরা যখন বাড়াবাড়ির চুড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেলো, তখন আযাব ওদেরকে পাকড়াও করলো।
فَكُلُوْا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللّٰهُ حَلٰلًا طَیِّبًا ۪ وَّ اشْكُرُوْا نِعْمَتَ اللّٰهِ اِنْ كُنْتُمْ اِیَّاهُ تَعْبُدُوْنَ 114
114. অতএব হে ঈমানদারেরা, আল্লাহ তোমাদেরকে যে হালাল ও ভালো-স্বাস্থ্যকর খাদ্যসামগ্রী দিয়েছেন, কেবল তা থেকেই খাও ও পান করো। আল্লাহর এসব নেয়ামতের জন্য তাঁর প্রতি সর্বদা কৃতজ্ঞ থাকো। তোমরা যদি সত্যিই তাঁর ইবাদত করে থাকো, তবে এটাই তার দাবি।
اِنَّمَا حَرَّمَ عَلَیْكُمُ الْمَیْتَةَ وَ الدَّمَ وَ لَحْمَ الْخِنْزِیْرِ وَ مَاۤ اُهِلَّ لِغَیْرِ اللّٰهِ بِهٖ ۚ فَمَنِ اضْطُرَّ غَیْرَ بَاغٍ وَّ لَا عَادٍ فَاِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 115
115. আর মনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের জন্য খাদ্য হিসাবে হারাম করেছেন মৃত পশুপাখি, রক্ত, শূকরের মাংস এবং সেসব প্রাণী যা আল্লাহ বাদে অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। তবে কেউ যদি নিরুপায় হয়ে অবাধ্যতার মানসিকতা না রেখে, কেবল বেঁচে থাকার জন্য ঐসব থেকে সমান্য পরিমাণ খায়, তবে তা ক্ষমার যোগ্য। নিশ্চয়ই আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই মেহেরবান।
وَ لَا تَقُوْلُوْا لِمَا تَصِفُ اَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هٰذَا حَلٰلٌ وَّ هٰذَا حَرَامٌ لِّتَفْتَرُوْا عَلَی اللّٰهِ الْكَذِبَ ؕ اِنَّ الَّذِیْنَ یَفْتَرُوْنَ عَلَی اللّٰهِ الْكَذِبَ لَا یُفْلِحُوْنَؕ 116
116. আর হ্যাঁ, তোমাদের মিথ্যা ধ্যান-ধারণাকে আল্লাহর নামে কখনো চালিয়ে দিয়ে বলো না যে, এটা হালাল-এটা হারাম। তাহলে এগুলো আল্লাহর নামে মিথ্যা অপবাদ দেয়া হবে। আর জেনে রেখো, যারা নিজেদের মিথ্যা কথা আল্লাহর নামে চালিয়ে দেয়, তারা কখনোই সফল হতে পারে না।
مَتَاعٌ قَلِیْلٌ ۪ وَّ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ 117
117. ওরা দুনিয়ায় সাময়িক সুযোগ সুবিধা পেতে পারে। কিন্তু পরিণামে কঠিন যন্ত্রণাময় আযাব ভোগ করতেই হবে।
وَعَلَی الَّذِیْنَ هَادُوْا حَرَّمْنَا مَا قَصَصْنَا عَلَیْكَ مِنْ قَبْلُ ۚ وَمَا ظَلَمْنٰهُمْ وَلٰكِنْ كَانُوْۤا اَنْفُسَهُمْ یَظْلِمُوْنَ 118
118. হে নবী, তোমাকে এতক্ষণ ধরে যে বস্তুগুলো হারাম হওয়ার কথা বললাম, সেগুলো ইহুদিদের জন্যেও হারাম করা হয়েছিলো। আমি কখনোই ইহুদিদের প্রতি অবিচার করিনি; বরং ওরাই ক্রমাগত নিজেদের উপর জুলুম চালিয়েছে।
ثُمَّ اِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِیْنَ عَمِلُوا السُّوْٓءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابُوْا مِنْۢ بَعْدِ ذٰلِكَ وَ اَصْلَحُوْۤا ۙ اِنَّ رَبَّكَ مِنْۢ بَعْدِهَا لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ۠ 119
119. তবে যারা অজ্ঞতার কারণে পাপ কাজ করে, অতঃপর নিষ্ঠার সাথে তওবা করে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয়, তারা তোমার রবকে বড়ই ক্ষমাশীল ও অতীব দয়ালু হিসেবে পাবে।
اِنَّ اِبْرٰهِیْمَ كَانَ اُمَّةً قَانِتًا لِّلّٰهِ حَنِیْفًا ؕ وَلَمْ یَكُ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَۙ 120
120. নিশ্চয়ই ইবরাহিম ছিলো এক সত্যনিষ্ঠ জাতির প্রতীক। ছিলো একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এক অনুগত বান্দা। আর না! সে কখনো মুশরিক ছিলো না।
شَاكِرًا لِّاَنْعُمِهٖ ؕ اِجْتَبٰىهُ وَهَدٰىهُ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ 121
121. সে আল্লাহর নেয়ামতের বড়ই শোকর আদায় করতো। আল্লাহ তাকে নিজ কাজের জন্য বাছাই করে নেন এবং সত্য-ন্যায় পথের উপর তাকে প্রতিষ্ঠিত রাখেন।
وَاٰتَیْنٰهُ فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً ؕ وَاِنَّهٗ فِی الْاٰخِرَةِ لَمِنَ الصّٰلِحِیْنَؕ 122
122. আর আমি তাকে দুনিয়ার জীবনে প্রভূত কল্যাণ দান করেছি এবং আখেরাতে সে সৎকর্মশীলদের সাথে অগ্রগণ্য হবে।
ثُمَّ اَوْحَیْنَاۤ اِلَیْكَ اَنِ اتَّبِعْ مِلَّةَ اِبْرٰهِیْمَ حَنِیْفًا ؕ وَ مَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ 123
123. হে নবী, এখন আমি তোমাকে অহির মাধ্যমে এ হুকুম দিচ্ছি যে, তুমি সেই সত্যনিষ্ঠ ইবরাহিমের জীবনাদর্শ অনুসরণ করে চলো। আর তুমি নিশ্চিত থাকো যে, ইবরাহিম কখনো মুশরিকদের দলভুক্ত ছিলো না।
اِنَّمَا جُعِلَ السَّبْتُ عَلَی الَّذِیْنَ اخْتَلَفُوْا فِیْهِ ؕ وَ اِنَّ رَبَّكَ لَیَحْكُمُ بَیْنَهُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ فِیْمَا كَانُوْا فِیْهِ یَخْتَلِفُوْنَ 124
124. এবার তাহলে শনিবারের ব্যাপারটা শোনো, পরবর্তীতে যারা ইবরাহিমের মতাদর্শ নিয়ে নানাদলে বিভক্ত হয়েছিলো, ওদের উপরেই চাপিয়ে দেয়া হয়েছিলো এ শনিবারের বিধান। আসলে এ নিয়ে ওদের মতবিরোধ করা উচিত হয়নি। এ ব্যাপারে মহাবিচারের দিন তোমার রব চুড়ান্ত ফয়সালা শুনাবেন।
اُدْعُ اِلٰی سَبِیْلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَ الْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَ جَادِلْهُمْ بِالَّتِیْ هِیَ اَحْسَنُ ؕ اِنَّ رَبَّكَ هُوَ اَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِیْلِهٖ وَ هُوَ اَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِیْنَ 125
125. হে নবী, তুমি প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তা এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে মানুষদেরকে তোমার রবের পথে আহবান করো। আর তাদের সাথে বিতর্ক করার সময় সর্বোত্তম পদ্ধতি অনুসরণ করো। তোমার রব ভালোকরেই জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিপথগামী হয়েছে এবং কে তাঁর সত্যপথের উপর দাঁড়িয়ে আছে।
وَ اِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوْا بِمِثْلِ مَا عُوْقِبْتُمْ بِهٖ ؕ وَ لَىِٕنْ صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَیْرٌ لِّلصّٰبِرِیْنَ 126
126. আর হ্যাঁ, তোমাদের বিরুদ্ধে কেউ যদি আক্রমণাত্মক আচরণ করে, তবে তোমরা তার সমুচিত জবাব দিবে। কিন্তু যদি তোমরা ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করো, তবে মনে রেখো, ধৈর্য্যশীলদের পরিণতিই শুভ হয়।
وَ اصْبِرْ وَ مَا صَبْرُكَ اِلَّا بِاللّٰهِ وَ لَا تَحْزَنْ عَلَیْهِمْ وَ لَا تَكُ فِیْ ضَیْقٍ مِّمَّا یَمْكُرُوْنَ 127
127. হে নবী, সত্য অস্বীকারকারীরা যা-ই করুক, তুমি ধৈর্যের সাথে সত্যের কাজ চালিয়ে যাও। মনে রেখো, ধৈর্র্য ধরতে পারা আল্লাহর বড় এক সাহায্য। আর ওদের আচার-ব্যবহারে দুঃখ পেয়ো না এবং ওদের ক্রমাগত চক্রান্ত ও আস্ফালন দেখে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ো না।
اِنَّ اللّٰهَ مَعَ الَّذِیْنَ اتَّقَوْا وَّ الَّذِیْنَ هُمْ مُّحْسِنُوْنَ۠ 128
128. সন্দেহ নেই, আল্লাহ্ কেবল তাদের সাথেই থাকেন, যারা তাকওয়াবান, যারা সৎকর্মপরায়ণ।