18. আল কাহফ
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْۤ اَنْزَلَ عَلٰی عَبْدِهِ الْكِتٰبَ وَ لَمْ یَجْعَلْ لَّهٗ عِوَجًاؕٚ 1
1. আলহামদু লিল্লাহ! আল্লাহর জন্যেই সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা। তিনিই তার বান্দা মুহাম্মাদের উপর এ কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, যার ভিতরে কোনো বক্রতা রাখেননি।
قَیِّمًا لِّیُنْذِرَ بَاْسًا شَدِیْدًا مِّنْ لَّدُنْهُ وَ یُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِیْنَ الَّذِیْنَ یَعْمَلُوْنَ الصّٰلِحٰتِ اَنَّ لَهُمْ اَجْرًا حَسَنًاۙ 2
2. তিনি দৃঢ়ভাবেই এ কিতাবের মধ্যে সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে কঠিন শাস্তির সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন এবং পাশাপাশি সেসব ঈমানদারদের জন্য উত্তম পুরস্কার হিসাবে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন, যারা এ দুনিয়ার জীবনে সৎকাজ করবে।
مَّاكِثِیْنَ فِیْهِ اَبَدًاۙ 3
3. আর তারা সে জান্নাতে চিরস্থায়ী সুখী জীবন লাভ করবে।
وَّ یُنْذِرَ الَّذِیْنَ قَالُوا اتَّخَذَ اللّٰهُ وَلَدًاۗ 4
4. এ কিতাব তাদেরকেও সুস্পষ্টভাবে সতর্ক করে দেয়, যারা বলে আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।
مَا لَهُمْ بِهٖ مِنْ عِلْمٍ وَّ لَا لِاٰبَآئِهِمْ ؕ كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ اَفْوَاهِهِمْ ؕ اِنْ یَّقُوْلُوْنَ اِلَّا كَذِبًا 5
5. কী জঘন্য কথা! ওদের মুখে যা আসে তাই ওরা বলে বেড়াচ্ছে। আসলে আল্লাহর ব্যাপারে ওদের ন্যূনতম জ্ঞানও নেই। এমনকি ওদের বাপ-দাদাদেরও ছিলো না। ওরা যা বলছে, তা স্ব্রেফ মিথ্যাচার।
فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ عَلٰۤی اٰثَارِهِمْ اِنْ لَّمْ یُؤْمِنُوْا بِهٰذَا الْحَدِیْثِ اَسَفًا 6
6. হে নবী, ওরা আল্লাহর বাণীকে সত্য বলে মানতে চাইছে না তাই বলে কি তুমি দুশ্চিন্তা করতে করতে ওদের পিছনে নিজেকে শেষ করে ফেলবে?
اِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَی الْاَرْضِ زِیْنَةً لَّهَا لِنَبْلُوَهُمْ اَیُّهُمْ اَحْسَنُ عَمَلًا 7
7. আসলে আমি পৃথিবীকে এতসব কিছু দিয়ে আকর্ষণীয় ও শোভনীয় করেছি শুধু এ কারণেই, যাতে লোকদের মধ্যে কারা ভালো কাজ করে, তা পরীক্ষা করে দেখতে পারি।
وَاِنَّا لَجٰعِلُوْنَ مَا عَلَیْهَا صَعِیْدًا جُرُزًاؕ 8
8. অচিরেই সেদিন আসবে, যখন আমি এ জমিনকে বৃক্ষ, লতা-পাতাহীন এক বিরান খোলা ময়দানে রূপান্তরিত করবো।
اَمْ حَسِبْتَ اَنَّ اَصْحٰبَ الْكَهْفِ وَ الرَّقِیْمِ ۙ كَانُوْا مِنْ اٰیٰتِنَا عَجَبًا 9
9. হে নবী, সেই গুহাবাসী ও সেই গুহার গায়ে লাগানো তাদের নামফলক সম্পর্কে তোমার ধারণা কী? ঐগুলো কি মানুষের জন্য আমার বড়ই আশ্চর্যজনক নিদর্শন নয়?
اِذْ اَوَی الْفِتْیَةُ اِلَی الْكَهْفِ فَقَالُوْا رَبَّنَاۤ اٰتِنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَةً وَّ هَیِّئْ لَنَا مِنْ اَمْرِنَا رَشَدًا 10
10. শোনো, কয়েকজন যুবক একটা বড় গুহায় আশ্রয় নিলো। অতঃপর বলতে লাগলো, হে আমাদের প্রভু, আমাদেরকে তোমার রহমতের ছায়ায় আশ্রয় দাও। আমাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ সঠিকভাবে নেয়ার তাওফিক দাও।
فَضَرَبْنَا عَلٰۤی اٰذَانِهِمْ فِی الْكَهْفِ سِنِیْنَ عَدَدًاۙ 11
11. এরপর আমি তাদের কানের উপর ঘুমের পর্দা লাগিয়ে দিলাম। ফলে তারা বছরের পর বছর সেখানে ঘুমিয়ে থাকলো।
ثُمَّ بَعَثْنٰهُمْ لِنَعْلَمَ اَیُّ الْحِزْبَیْنِ اَحْصٰی لِمَا لَبِثُوْۤا اَمَدًا۠ 12
12. এরপর এক সময় আমি তাদের ঘুম ভাঙালাম। আসলে আমি দেখতে চাইলাম, তারা কতদিন গুহায় ঘুমিয়েছিলো এটা কে বলতে পারে? ঘুমন্ত যুবকেরা, নাকি জগতের অন্যান্য লোকেরা?
نَحْنُ نَقُصُّ عَلَیْكَ نَبَاَهُمْ بِالْحَقِّ ؕ اِنَّهُمْ فِتْیَةٌ اٰمَنُوْا بِرَبِّهِمْ وَ زِدْنٰهُمْ هُدًیۗۖ 13
13. হে নবী, আমি এখন তোমাকে তাদের সত্য ঘটনা শুনাচ্ছি। তারা ছিলো কয়েকজন যুবক। তারা তাদের রব হিসাবে আমার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস এনেছিলো। ফলে সত্যপথে টিকে থাকার জন্য আমি তাদের শক্তি যোগালাম।
وَّ رَبَطْنَا عَلٰی قُلُوْبِهِمْ اِذْ قَامُوْا فَقَالُوْا رَبُّنَا رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ لَنْ نَّدْعُوَاۡ مِنْ دُوْنِهٖۤ اِلٰهًا لَّقَدْ قُلْنَاۤ اِذًا شَطَطًا 14
14. আমি তাদের মনোবল দৃঢ় করলাম। তারা উঠে দাঁড়ালো এবং জনতার সামনে উচ্চ আওয়াজে ঘোষণা করলো, আমাদের রব তো কেবল তিনিই, যিনি মহাকাশ ও পৃথিবীর রব। আমরা তাঁকে ছাড়া আর কাউকেই ইলাহ হিসাবে ডাকি না। কেননা এমনটা করা খুবই খারাপ ও অনর্থক কাজ।
هٰۤؤُلَآءِ قَوْمُنَا اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِهٖۤ اٰلِهَةً ؕ لَوْ لَا یَاْتُوْنَ عَلَیْهِمْ بِسُلْطٰنٍۭ بَیِّنٍ ؕ فَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ كَذِبًاؕ 15
15. যুবকেরা পরস্পরকে বললো, দেখো! আমাদের কওম এক আল্লাহকে বাদ দিয়ে অনেক ইলাহের উপাসনা করছে। অথচ এ ব্যাপারে ওরা সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারছে না। আসলে যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা অপবাদ দেয়, তারাই সবচেয়ে বড় জালেম।
وَ اِذِ اعْتَزَلْتُمُوْهُمْ وَ مَا یَعْبُدُوْنَ اِلَّا اللّٰهَ فَاْوٗۤا اِلَی الْكَهْفِ یَنْشُرْ لَكُمْ رَبُّكُمْ مِّنْ رَّحْمَتِهٖ وَ یُهَیِّئْ لَكُمْ مِّنْ اَمْرِكُمْ مِّرْفَقًا 16
16. তাদের একজন বললো, এখন যেহেতু তোমরা স্বজাতিকে ও তাদের উপাস্য খোদাদেরকে পরিত্যাগ করেছো, তাহলে এখন চলো, বিপদে পড়ার আগেই আমরা কোনো একটা গুহায় আশ্রয় নেই। ভয় পেয়ো না, তোমাদের রব তার রহমতের ছায়া তোমাদের উপর মেলে ধরবেন এবং তোমদের পরবর্তী পদক্ষেপসমূহ যথার্থ ও স্বার্থক করে তুলবেন।
وَ تَرَی الشَّمْسَ اِذَا طَلَعَتْ تَّزٰوَرُ عَنْ كَهْفِهِمْ ذَاتَ الْیَمِیْنِ وَ اِذَا غَرَبَتْ تَّقْرِضُهُمْ ذَاتَ الشِّمَالِ وَ هُمْ فِیْ فَجْوَةٍ مِّنْهُ ؕ ذٰلِكَ مِنْ اٰیٰتِ اللّٰهِ ؕ مَنْ یَّهْدِ اللّٰهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ ۚ وَ مَنْ یُّضْلِلْ فَلَنْ تَجِدَ لَهٗ وَلِیًّا مُّرْشِدًا۠ 17
17. হে নবী, তুমি যদি সে গুহার অবস্থা দেখতে, তবে বুঝতে, সূর্য ওঠার সময় গুহার ডান দিক থকে উঠতো। আবার যখন অস্ত যেতো, তখন গুহা থেকে সরে বাম পাশে অস্ত যেতো। আর গুহার ভিতরের প্রশস্ত খালি জায়গায় যুবকেরা ঘুমিয়ে ছিলো। এটা আল্লাহর বড়ই কুদরত ছিলো যে, তারা এক ধরনের শীতাতপ পরিবেশ পেয়েছিলো। জেনে রেখো, আল্লাহ যাকে সত্যপথে চালিত করেন সে-ই কেবল পথ খুঁজে পায়। আর যাকে পাপাচারের উপর ছেড়ে দেন, তুমি তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক-অভিভাবক খুঁজে পাবে না।
وَ تَحْسَبُهُمْ اَیْقَاظًا وَّ هُمْ رُقُوْدٌ ۖۗ وَّ نُقَلِّبُهُمْ ذَاتَ الْیَمِیْنِ وَ ذَاتَ الشِّمَالِ ۖۗ وَ كَلْبُهُمْ بَاسِطٌ ذِرَاعَیْهِ بِالْوَصِیْدِ ؕ لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَیْهِمْ لَوَلَّیْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا وَّ لَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا 18
18. তাদেরকে দেখলে তুমি মনে করতে তারা জেগে আছে; অথচ তারা গভীর ঘুমে মগ্ন ছিলো। আমি পালাক্রমে কখনো ডানকাত, আবার কখনো বামকাত করে তাদের পাশ বদলিয়ে দিচ্ছিলাম। আর তাদের গুহামুখে কুকুরটি সামনের দিকে দু’পা বিছিয়ে ঘুমিয়ে ছিলো। তুমি যদি উঁকি মেরে সে দৃশ্য দেখতে, তবে নিশ্চিত তুমি ভয়ে পালিয়ে আসতে। আসলে সে দৃশ্য ছিলো বড়ই ভীতিকর!
وَ كَذٰلِكَ بَعَثْنٰهُمْ لِیَتَسَآءَلُوْا بَیْنَهُمْ ؕ قَالَ قَآئِلٌ مِّنْهُمْ كَمْ لَبِثْتُمْ ؕ قَالُوْا لَبِثْنَا یَوْمًا اَوْ بَعْضَ یَوْمٍ ؕ قَالُوْا رَبُّكُمْ اَعْلَمُ بِمَا لَبِثْتُمْ ؕ فَابْعَثُوْۤا اَحَدَكُمْ بِوَرِقِكُمْ هٰذِهٖۤ اِلَی الْمَدِیْنَةِ فَلْیَنْظُرْ اَیُّهَاۤ اَزْكٰی طَعَامًا فَلْیَاْتِكُمْ بِرِزْقٍ مِّنْهُ وَ لْیَتَلَطَّفْ ؔ وَ لَا یُشْعِرَنَّ بِكُمْ اَحَدًا 19
19. এভাবেই একসময় আমি তাদের ঘুম ভাঙালাম। জেগে উঠে তারা পরস্পর চোখ চাওয়া-চাওই করলো। একজন জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা! তোমরা এভাবে কতদিন পড়েছিলে? অন্যরা বললো, এই তো একদিন বা তার চেয়েও কিছু কম সময়। শেষ পর্যন্ত তারা বললো, কতো দিন এভাবে পড়েছিলে তা একমাত্র তোমাদের রবই ভালো বলতে পারবেন। এখন তোমাদের কেউ একজন এ মূদ্রাগুলো নিয়ে শহরে যাও, দেখেশুনে আমাদের জন্য কিছু ভালো ও পাক-পবিত্র খাবার নিয়ে আসো। তবে যে যাবে সে যেনো সতর্কতার সাথে কাজ করে, যাতে আমাদের এখানে আত্মগোপনে থাকাটা ফাঁস হয়ে না যায়।
اِنَّهُمْ اِنْ یَّظْهَرُوْا عَلَیْكُمْ یَرْجُمُوْكُمْ اَوْ یُعِیْدُوْكُمْ فِیْ مِلَّتِهِمْ وَ لَنْ تُفْلِحُوْۤا اِذًا اَبَدًا 20
20. আল্লাহর দুশমনেরা যদি একবার তোমাদের নাগাল পায়, তবে হয় তোমাদেরকে পাথর মেরে হত্যা করবে, নয়তোবা জোর করে ওদের ধর্মে ধর্মান্তরিত করবে। আর এর কোনোটাই তোমাদের জন্য ভালো সংবাদ নয়।
وَ كَذٰلِكَ اَعْثَرْنَا عَلَیْهِمْ لِیَعْلَمُوْۤا اَنَّ وَعْدَ اللّٰهِ حَقٌّ وَّ اَنَّ السَّاعَةَ لَا رَیْبَ فِیْهَا ۗۚ اِذْ یَتَنَازَعُوْنَ بَیْنَهُمْ اَمْرَهُمْ فَقَالُوا ابْنُوْا عَلَیْهِمْ بُنْیَانًا ؕ رَبُّهُمْ اَعْلَمُ بِهِمْ ؕ قَالَ الَّذِیْنَ غَلَبُوْا عَلٰۤی اَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ عَلَیْهِمْ مَّسْجِدًا 21
21. এভাবেই আমি তাদের জীবন কাহিনী তৎকালীন মানুষের কাছে প্রকাশ করে দিলাম, যাতে তাদের দেখে লোকেরা বুঝতে পারে আল্লাহর প্রতিশ্রুত পুনরুত্থান সত্য এবং কিয়ামত অবশ্যই ঘটবে। স্মরণ করো, ঐ সময় লোকেরা পরকাল নিয়ে চিন্তা-ভাবনা না করে বরং ঐ গুহাবাসীদের ব্যাপারে কী করবে তাই নিয়ে বিতর্কে জড়ালো। একদল বললো, তাদের পবিত্রতা ও বুযুর্গি সম্পর্কে আল্লাহই সবার চেয়ে ভালো জানেন। কাজেই চলো, আমরা তাদের উপর একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করি। আরেকদল বললো, না! বরং তাদের মতো মহান সাধকদের জন্য আমাদের মসজিদ নির্মাণ করা উচিত। শেষমেশ এ মতটিই প্রাধান্য পেলো।
سَیَقُوْلُوْنَ ثَلٰثَةٌ رَّابِعُهُمْ كَلْبُهُمْ ۚ وَ یَقُوْلُوْنَ خَمْسَةٌ سَادِسُهُمْ كَلْبُهُمْ رَجْمًۢا بِالْغَیْبِ ۚ وَ یَقُوْلُوْنَ سَبْعَةٌ وَّ ثَامِنُهُمْ كَلْبُهُمْ ؕ قُلْ رَّبِّیْۤ اَعْلَمُ بِعِدَّتِهِمْ مَّا یَعْلَمُهُمْ اِلَّا قَلِیْلٌ ۫۬ فَلَا تُمَارِ فِیْهِمْ اِلَّا مِرَآءً ظَاهِرًا ۪ وَّ لَا تَسْتَفْتِ فِیْهِمْ مِّنْهُمْ اَحَدًا۠ 22
22. হে নবী, কিছু লোক এসে বলবে, গুহাবাসীর সংখ্যা ছিলো তিনজন আর তাদের কুকুরটি ছিলো চতুর্থ। আবার কেউ বলবে, না! তাদের সংখ্যা ছিলো পাঁচজন আর কুকুরটি ছিলো ষষ্ঠ। এসবই লোকেদের আন্দাজে ঢিল ছোড়া কথা। তবে আরেকদল বলবে, হ্যাঁ! তাদের আসল সংখ্যা ছিলো সাতজন এবং কুকুরটি ছিলো অষ্টম। যাইহোক হে নবী, তুমি বলো, তাদের আসল সংখ্যা একমাত্র আমার রবই ভালো জানেন। তাদের সম্পর্কে সত্যিকারের জ্ঞান খুব কম মানুষেরই রয়েছে। কাজেই হে নবী, তাদের জীবন কাহিনীর আসল শিক্ষা নিয়েই আলোচনা করো, সংখ্যা নিয়ে নয়। আর তাদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানার জন্য অন্য কাউকে জিজ্ঞেসও করো না।
وَ لَا تَقُوْلَنَّ لِشَایْءٍ اِنِّیْ فَاعِلٌ ذٰلِكَ غَدًاۙ 23
23. হে নবী, ইনশা আল্লাহ বা আল্লাহ যদি চান এ কথা না বলে কখনো কোনো বিষয়ে বলবে না যে, আমি আগামীকাল এ কাজটি করবো।
اِلَّاۤ اَنْ یَّشَآءَ اللّٰهُ ؗ وَ اذْكُرْ رَّبَّكَ اِذَا نَسِیْتَ وَ قُلْ عَسٰۤی اَنْ یَّهْدِیَنِ رَبِّیْ لِاَقْرَبَ مِنْ هٰذَا رَشَدًا 24
24. আর হ্যাঁ! যদি ইনশা আল্লাহ বলতে ভুলে যাও, তবে মনে পড়ার সাথেসাথেই তোমার রবকে স্মরণ করো এবং বলো, আমি প্রার্থনা করছি, আমি যা করতে চেয়েছিলাম, সে ব্যাপারে আমার রব আমাকে সঠিক পথ দেখাবেন।
وَ لَبِثُوْا فِیْ كَهْفِهِمْ ثَلٰثَ مِائَةٍ سِنِیْنَ وَ ازْدَادُوْا تِسْعًا 25
25. হে নবী, আবার কেউ কেউ দাবি করে, তারা ঐ গুহাতে ছিলো তিনশ বছর। আবার আরেক দল অতিরিক্ত আরো নয় বছর যোগ করে।
قُلِ اللّٰهُ اَعْلَمُ بِمَا لَبِثُوْا ۚ لَهٗ غَیْبُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ اَبْصِرْ بِهٖ وَ اَسْمِعْ ؕ مَا لَهُمْ مِّنْ دُوْنِهٖ مِنْ وَّلِیٍّ ؗ وَّ لَا یُشْرِكُ فِیْ حُكْمِهٖۤ اَحَدًا 26
26. বলো, তারা কতকাল ঐ গুহায় ঘুমিয়ে ছিলো, তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। মহাকাশ ও পৃথিবীর সব গায়েবের খবরাখবর একমাত্র তিনিই রাখেন। তিনি এ মহাবিশ্বের প্রতিটি জিনিস যথার্থভাবেই দেখেশুনে রাখছেন। কাজেই তিনি ছাড়া এ মহাবিশ্বে আর কোনো অভিভাবক নেই এবং তিনি কাউকেই তাঁর সার্বভৌম কর্তৃত্বে শরিক বানাননি।
وَ اتْلُ مَاۤ اُوْحِیَ اِلَیْكَ مِنْ كِتَابِ رَبِّكَ ؕۚ لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمٰتِهٖ ۫ۚ وَ لَنْ تَجِدَ مِنْ دُوْنِهٖ مُلْتَحَدًا 27
27. হে নবী, তোমার রব অহির মাধ্যমে তোমাকে যে কিতাব দিয়েছেন, তুমি তা লোকদের হুবহু পড়ে শোনাও। মনে রেখো, এর একটা অক্ষরও এদিক-সেদিক করার অধিকার কারো নেই। তুমি এমনটা করলে, আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচার জন্য কোনো আশ্রয় খুঁজে পাবে না।
وَ اصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِیْنَ یَدْعُوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَدٰوةِ وَ الْعَشِیِّ یُرِیْدُوْنَ وَجْهَهٗ وَ لَا تَعْدُ عَیْنٰكَ عَنْهُمْ ۚ تُرِیْدُ زِیْنَةَ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۚ وَ لَا تُطِعْ مَنْ اَغْفَلْنَا قَلْبَهٗ عَنْ ذِكْرِنَا وَ اتَّبَعَ هَوٰىهُ وَ كَانَ اَمْرُهٗ فُرُطًا 28
28. আর হ্যাঁ! হে নবী, যারা প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের আশায় সকাল-সন্ধ্যা তাঁকে ডাকে, তুমি কেবল সে লোকদের সাথেই আত্মিক সম্পর্ক রেখে চলো। পর্থিব জাঁকজমকওয়ালাদের কথা অনুযায়ী তাদেরকে পরিত্যাগ করো না। সাবধন! যাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছি, তুমি কখনোই তাদের অনুসরণ করো না। কেননা ওরা কেবল নিজেদের খেয়াল-খুশির গোলামী করে। এমনকি ওরা নৈতিক মানবিকতারও ধার ধারে না।
وَ قُلِ الْحَقُّ مِنْ رَّبِّكُمْ ۫ فَمَنْ شَآءَ فَلْیُؤْمِنْ وَّ مَنْ شَآءَ فَلْیَكْفُرْ ۙ اِنَّاۤ اَعْتَدْنَا لِلظّٰلِمِیْنَ نَارًا ۙ اَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا ؕ وَ اِنْ یَّسْتَغِیْثُوْا یُغَاثُوْا بِمَآءٍ كَالْمُهْلِ یَشْوِی الْوُجُوْهَ ؕ بِئْسَ الشَّرَابُ ؕ وَ سَآءَتْ مُرْتَفَقًا 29
29. হে নবী, ওদের স্পষ্ট ভাষায় বলো, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে মহাসত্য এসে গেছে। এখন তোমাদের যার ইচ্ছা এর প্রতি ঈমান আনো, আর যার ইচ্ছা কুফুরি করো। আর হ্যা, আমি জালেমদের জন্য অবশ্যই জাহান্নাম প্রস্তুত করে রেখেছি, যার লেলিহান শিখা চারদিক থেকে ওদেরকে গ্রাস করবে। পিপাসায় কাতর হয়ে পানি চাইলে দেওয়া হবে গলিত ধাতুর ন্যায় আঠালো গরম পানি, যা মুহূর্তের মধ্যে ওদের মুখ পুড়িয়ে দিবে। হায়! কী নিকৃষ্ট সে পানি। হায়! কী নিকৃষ্ট সে জাহান্নামের আবাস।
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ اِنَّا لَا نُضِیْعُ اَجْرَ مَنْ اَحْسَنَ عَمَلًاۚ 30
30. তবে যারা এ সত্যকে মেনে নেবে এবং সৎকাজ করে চলবে তারা অবশ্যই পুরস্কৃত হবে। বস্তুত আমি কখনোই সৎকর্মশীলদের কর্মফল নষ্ট করি না।
اُولٰٓئِكَ لَهُمْ جَنّٰتُ عَدْنٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ یُحَلَّوْنَ فِیْهَا مِنْ اَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَّ یَلْبَسُوْنَ ثِیَابًا خُضْرًا مِّنْ سُنْدُسٍ وَّاِسْتَبْرَقٍ مُّتَّكِئِیْنَ فِیْهَا عَلَی الْاَرَآئِكِ ؕ نِعْمَ الثَّوَابُ ؕ وَحَسُنَتْ مُرْتَفَقًا۠ 31
31. তারা সেদিন থাকবে চির বসন্তের জান্নাতে, যার পাদদেশ দিয়ে ¯্রােতস্বিনী ঝর্না প্রবাহিত হবে। সেখানে তাদেরকে স্বর্ণের রাজকীয় মুকুট পরানো হবে। কারুকাজ করা রেশম ও মখমলের বাহারি পোশাক পরিধান করবে। সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে আরাম করবে। আহ! বিশ্বাসীদের জন্য আরো কত শত চমৎকার পুরস্কার, কতো মনোহর আবাস।
وَ اضْرِبْ لَهُمْ مَّثَلًا رَّجُلَیْنِ جَعَلْنَا لِاَحَدِهِمَا جَنَّتَیْنِ مِنْ اَعْنَابٍ وَّ حَفَفْنٰهُمَا بِنَخْلٍ وَّ جَعَلْنَا بَیْنَهُمَا زَرْعًاؕ 32
32. হে নবী, তুমি ওদের সামনে সে-ই দুইব্যক্তির দৃষ্টান্ত পেশ করো, যাদের একজনকে আমি দিয়েছিলাম আঙুরের দুটি বাগান, যার চারদিকে ছিলো সারি সারি খেজুর গাছ এবং এ দুই বাগানের মাঝখানে ছিলো এক সুফলা শস্যক্ষেত।
كِلْتَا الْجَنَّتَیْنِ اٰتَتْ اُكُلَهَا وَ لَمْ تَظْلِمْ مِّنْهُ شَیْـًٔا ۙ وَّ فَجَّرْنَا خِلٰلَهُمَا نَهَرًاۙ 33
33. দুটি বাগানই ছিলো ফুলে-ফলে কানায় কানায় পূর্ণ। চারদিকে শুধু ফল আর ফল। বাগানের ভিতর দিয়েই বয়ে গেছে অসংখ্য পানির স্রোতস্বিনী ধারা।
وَّ كَانَ لَهٗ ثَمَرٌ ۚ فَقَالَ لِصَاحِبِهٖ وَ هُوَ یُحَاوِرُهٗۤ اَنَا اَكْثَرُ مِنْكَ مَالًا وَّ اَعَزُّ نَفَرًا 34
34. এককথায় সে তখন প্রচুর ধন-সম্পত্তি লাভ করলো। একদিন কথায় কথায় সে তার প্রতিবেশী বন্ধুকে বললো, দেখো! ধন-সম্পত্তিতে আমি তোমার চেয়ে অনেক উপরে। আর জনবলেও তোমার থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী।
وَ دَخَلَ جَنَّتَهٗ وَ هُوَ ظَالِمٌ لِّنَفْسِهٖ ۚ قَالَ مَاۤ اَظُنُّ اَنْ تَبِیْدَ هٰذِهٖۤ اَبَدًاۙ 35
35. এভাবে সে আত্মাহংকার করে নিজেই নিজের প্রতি জুলুম করলো। এরপর একদিন সে বাগানে ঢুকে তার সে বন্ধুকে বললো, আমি মনে করি না যে, আমার এ বাগান কোনোদিন ধ্বংস হবে।
وَّ مَاۤ اَظُنُّ السَّاعَةَ قَآئِمَةً ۙ وَّ لَئِنْ رُّدِدْتُّ اِلٰی رَبِّیْ لَاَجِدَنَّ خَیْرًا مِّنْهَا مُنْقَلَبًا 36
36. কিংবা কোনোদিন কিয়ামত আসবে তাও আমার মনে হয় না। তারপরেও যদি কখনো কিয়ামত হয়, তবে বিচার-ফায়সালায় আমি এর চেয়েও আরো ভালো জায়গা পাওয়ার অধিকার রাখি।
قَالَ لَهٗ صَاحِبُهٗ وَ هُوَ یُحَاوِرُهٗۤ اَكَفَرْتَ بِالَّذِیْ خَلَقَكَ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُّطْفَةٍ ثُمَّ سَوّٰىكَ رَجُلًاؕ 37
37. কথোপকথনের এ পর্যায়ে তার বন্ধু জিজ্ঞেস করলো, তবে কি তুমি আল্লাহকে অস্বীকার করছো, যিনি তোমার সৃষ্টির সূচনা করেছিলেন মাটি থেকে, তারপরে শুক্রবিন্দু থেকে এবং এভাবেই তোমাকে পূর্ণাবয়ব মানুষে পরিণত করেছেন?
لٰكِنَّاۡ هُوَ اللّٰهُ رَبِّیْ وَ لَاۤ اُشْرِكُ بِرَبِّیْۤ اَحَدًا 38
38. তবে আমি আমার কথা বলতে পারি, আল্লাহই আমার রব। আমি আমার রবের সাথে কাউকেই শরিক করি না।
وَ لَوْ لَاۤ اِذْ دَخَلْتَ جَنَّتَكَ قُلْتَ مَا شَآءَ اللّٰهُ ۙ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللّٰهِ ۚ اِنْ تَرَنِ اَنَا اَقَلَّ مِنْكَ مَالًا وَّ وَلَدًاۚ 39
39. বন্ধু আরো বলতে লাগলো, হায়! তুমি বাগানে ঢুকে কেন এ কথা বললে না যে, আল্লাহ যা চান তা-ই হয়ে থাকে। আল্লাহ ছাড়া আর কারো শক্তি কাজে আসে না। আর হ্যাঁ! এটা ঠিক যে, তুমি দেখছো তোমার চেয়ে আমার ধনবল ও জনবল দু’টোই কম।
فَعَسٰی رَبِّیْۤ اَنْ یُّؤْتِیَنِ خَیْرًا مِّنْ جَنَّتِكَ وَ یُرْسِلَ عَلَیْهَا حُسْبَانًا مِّنَ السَّمَآءِ فَتُصْبِحَ صَعِیْدًا زَلَقًاۙ 40
40. হতে পারে অচিরেই আমার রব আমাকে এমন কিছু দিবেন, যা তোমার এ দুই বাগানের চেয়ে অনেক ভালো। কিংবা আকাশ থেকে এমন বিপর্যয় নেমে আসবে, যা তোমার বাগানকে বৃক্ষলতাহীন এক বিরান ভূমিতে রূপান্তরিত করে ছাড়বে।
اَوْ یُصْبِحَ مَآؤُهَا غَوْرًا فَلَنْ تَسْتَطِیْعَ لَهٗ طَلَبًا 41
41. অথবা তিনি পানির স্তর ভূগর্ভের অনেক নিচে নামিয়ে দিবেন, ফলে তুমি কোনোক্রমেই সে পানি তুলতে পারবে না।
وَ اُحِیْطَ بِثَمَرِهٖ فَاَصْبَحَ یُقَلِّبُ كَفَّیْهِ عَلٰی مَاۤ اَنْفَقَ فِیْهَا وَ هِیَ خَاوِیَةٌ عَلٰی عُرُوْشِهَا وَ یَقُوْلُ یٰلَیْتَنِیْ لَمْ اُشْرِكْ بِرَبِّیْۤ اَحَدًا 42
42. শেষ পর্যন্ত আকস্মিক বিপর্যয়ে তার সেই ফল-ফলাদির বাগান একেবারেই ধ্বংস হয়ে গেলো। সে তখন বাগানের পিছনে তার বিনিয়োগকৃত সকল সহায়-সম্পদ মাটি হয়ে যেতে দেখে ভীষণভাবে আফসোস করতে লাগলো। আর বলতে লাগলো, হায়! আমি যদি কখনোই আমার রবের সাথে কাউকে শরিক না করতাম।
وَ لَمْ تَكُنْ لَّهٗ فِئَةٌ یَّنْصُرُوْنَهٗ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَ مَا كَانَ مُنْتَصِرًاؕ 43
43. এ সময় তার কোনো বাহিনীই আল্লাহর মোকাবেলায় তাকে সাহায্য করতে পারেনি। কিংবা সে নিজেও সে আযাব প্রতিরোধ করতে পারেনি।
هُنَالِكَ الْوَلَایَةُ لِلّٰهِ الْحَقِّ ؕ هُوَ خَیْرٌ ثَوَابًا وَّ خَیْرٌ عُقْبًا۠ 44
44. তখন সে বুঝতে পারলো, সমস্ত ক্ষমতা ও এখতিয়ার একমাত্র আল্লাহর। তিনিই একমাত্র সত্য। তাঁর হাতেই উত্তম পুরস্কার ও উত্তম পরিণামের চাবিকাঠি।
وَ اضْرِبْ لَهُمْ مَّثَلَ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا كَمَآءٍ اَنْزَلْنٰهُ مِنَ السَّمَآءِ فَاخْتَلَطَ بِهٖ نَبَاتُ الْاَرْضِ فَاَصْبَحَ هَشِیْمًا تَذْرُوْهُ الرِّیٰحُ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ مُّقْتَدِرًا 45
45. হে নবী, তুমি লোকদেরকে পার্থিব জীবনের আসল রূপ দেখানোর জন্য এ উপমা শুনাও। এটা হচ্ছে এমন যে, আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, অতঃপর সে পানি দ্বারা জমিনে লতা-পাতা, গাছপালা সবুজ শ্যামল হয়ে গজিয়ে ওঠে। কিন্তু কিছুদিন পরে এ সবকিছুই শুকিয়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। আসলেই আল্লাহ সব বিষয়ের উপর চুড়ান্ত ক্ষমতা রাখেন।
اَلْمَالُ وَ الْبَنُوْنَ زِیْنَةُ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۚ وَ الْبٰقِیٰتُ الصّٰلِحٰتُ خَیْرٌ عِنْدَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَّ خَیْرٌ اَمَلًا 46
46. জেনে রেখো, ধন-সম্পত্তি ও সন্তান-সন্তুতি পার্থিব জীবনের সাময়িক সৌন্দর্য মাত্র। মূলত সৎকর্মই সফলতা নিয়ে আসে। এ সৎকর্মের বিনিময়েই তুমি তোমার রবের কাছে উত্তম পুরস্কার পেতে পারো এবং মনবাসনা পূরণের এটাই ভালো মাধ্যম।
وَ یَوْمَ نُسَیِّرُ الْجِبَالَ وَ تَرَی الْاَرْضَ بَارِزَةً ۙ وَّ حَشَرْنٰهُمْ فَلَمْ نُغَادِرْ مِنْهُمْ اَحَدًاۚ 47
47. অতএব সেদিনের জন্য প্রস্তুত হও, যেদিন স্থির পাহাড়গুলোকে মেঘের মতো চলমান করা হবে। পৃথিবীকে এক খোলা ময়দানে রূপান্তরিত করা হবে এবং সেদিন সবাইকে পুনরুত্থিত করে হাজির করা হবে। একজনকেও ছাড় দেয়া হবে না।
وَ عُرِضُوْا عَلٰی رَبِّكَ صَفًّا ؕ لَقَدْ جِئْتُمُوْنَا كَمَا خَلَقْنٰكُمْ اَوَّلَ مَرَّةٍۭ ؗ بَلْ زَعَمْتُمْ اَلَّنْ نَّجْعَلَ لَكُمْ مَّوْعِدًا 48
48. ওদের সবাইকে সেদিন সারি সারি করে তোমার রবের সামনে পেশ করা হবে। তখন ওদের বলা হবে, দেখো! প্রথমবার তোমাদেরকে যেভাবে সৃষ্টি করেছিলাম, ঠিক সেভাবেই আজ তোমরা আমার সামনে হাজির। অথচ তোমরা ভাবতে, আমি তোমাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য কোনো দিনক্ষণই ঠিক করে রাখিনি।
وَ وُضِعَ الْكِتٰبُ فَتَرَی الْمُجْرِمِیْنَ مُشْفِقِیْنَ مِمَّا فِیْهِ وَ یَقُوْلُوْنَ یٰوَیْلَتَنَا مَالِ هٰذَا الْكِتٰبِ لَا یُغَادِرُ صَغِیْرَةً وَّ لَا كَبِیْرَةً اِلَّاۤ اَحْصٰىهَا ۚ وَ وَجَدُوْا مَا عَمِلُوْا حَاضِرًا ؕ وَلَا یَظْلِمُ رَبُّكَ اَحَدًا۠ 49
49. এরপর হাজির করা হবে আমলনামা। অবাধ্য পাপীরা ওদের অতীত পাপের বিবরণ দেখে ভীষণভাবে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে। বলবে, হায়! দুর্ভাগ্য আমাদের। এ কেমন কিতাব! এখানে তো ছোট-বড় কোনোকিছুই বাদ যায়নি। সবকিছুই গুণে গুণে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ওরা ওদের পাপের বিবরণ একটার পর একটা উল্টিয়ে-পাল্টিয়ে দেখতে থাকবে। সেদিন ওরা বুঝবে, তোমার রব কারো প্রতিই অন্যায় আচরণ করেন না।
وَ اِذْ قُلْنَا لِلْمَلٰٓئِكَةِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْۤا اِلَّاۤ اِبْلِیْسَ ؕ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ اَمْرِ رَبِّهٖ ؕ اَفَتَتَّخِذُوْنَهٗ وَ ذُرِّیَّتَهٗۤ اَوْلِیَآءَ مِنْ دُوْنِیْ وَ هُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ ؕ بِئْسَ لِلظّٰلِمِیْنَ بَدَلًا 50
50. স্মরণ করো, আমি যখন ফেরেশতাদের বললাম, আদমকে সেজদা করো, তখন ফেরেশতারা সেজদা করলো। কিন্তু ইবলিস সেজদা করেনি। সে তার রবের হুকুম অমান্য করলো। অবশ্য সে ছিলো জিনদের একজন। হে মানুষ, এখন কি তোমরা আমাকে বাদ দিয়ে ওকে আর ওর অনুচরদের নিজেদের অভিভাবক হিসাবে গ্রহণ করবে? অথচ তোমরা জানো যে, ওরা তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন। মনে রেখো, যারা ওদেরকে গ্রহণ করবে, তাদের পরিণতি হবে খুবই করুণ।
مَاۤ اَشْهَدْتُّهُمْ خَلْقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ لَا خَلْقَ اَنْفُسِهِمْ ۪ وَ مَا كُنْتُ مُتَّخِذَ الْمُضِلِّیْنَ عَضُدًا 51
51. আমি মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করার সময় ওদেরকে সাহায্যের জন্য ডাকিনি। এমনকি খোদ্ ওদেরকে সৃষ্টি করার সময়ও না। বস্তুত যারা অন্যকে পথভ্রষ্ট করে, তাদেরকে সাহায্যকারী হিসাবে গ্রহণ করা আমার নীতি নয়।
وَ یَوْمَ یَقُوْلُ نَادُوْا شُرَكَآءِیَ الَّذِیْنَ زَعَمْتُمْ فَدَعَوْهُمْ فَلَمْ یَسْتَجِیْبُوْا لَهُمْ وَ جَعَلْنَا بَیْنَهُمْ مَّوْبِقًا 52
52. আচ্ছা! ওরা কি ভেবে দেখেছে, বিচারের দিন আল্লাহ যখন ওদেরকে বলবেন, তোমরা যাদেরকে আমার সাথে শরিক করতে, আজ ঐ খোদাদের একটু ডাকো তো। ওরা চিৎকার করে ডাকবে, কিন্তু না! কোনো সাড়াই পাবে না। হায়! সেদিন ওদের ও ঐ খোদাদের মাঝে থাকবে ধ্বংসাত্মক গর্ত।
وَ رَاَ الْمُجْرِمُوْنَ النَّارَ فَظَنُّوْۤا اَنَّهُمْ مُّوَاقِعُوْهَا وَلَمْ یَجِدُوْا عَنْهَا مَصْرِفًا۠ 53
53. হে নবী, এসব পাপীরা সেদিন আগুন দেখেই বুঝে নেবে, ওদেরকে ওখানেই নিক্ষেপ করা হবে। হায়! সেদিন ওরা আগুন থেকে বাঁচার কোনো পথই খুঁজে পাবে না।
وَ لَقَدْ صَرَّفْنَا فِیْ هٰذَا الْقُرْاٰنِ لِلنَّاسِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ ؕ وَ كَانَ الْاِنْسَانُ اَكْثَرَ شَیْءٍ جَدَلًا 54
54. নিশ্চয়ই এ কুরআনে মানুষকে বোঝানোর জন্য আমার বক্তব্যকে বিভিন্ন উপমা-উদাহরণ দিয়ে বিশদভাবে বর্ণনা করেছি। কিন্তু মানুষ সাধারণভাবেই বিতর্কপ্রবণ।
وَ مَا مَنَعَ النَّاسَ اَنْ یُّؤْمِنُوْۤا اِذْ جَآءَهُمُ الْهُدٰی وَ یَسْتَغْفِرُوْا رَبَّهُمْ اِلَّاۤ اَنْ تَاْتِیَهُمْ سُنَّةُ الْاَوَّلِیْنَ اَوْ یَاْتِیَهُمُ الْعَذَابُ قُبُلًا 55
55. যখন ওদের কাছে ওদের রবের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট পথনির্দেশ আসে, তখন ওরা সাথেসাথেই তা মেনে নেয় না; বরং অপেক্ষা করে দেখে, পূর্ববর্তী অবাধ্য জাতির মতো কোনো পরিণতি আসে কিনা কিংবা সরাসরি কোনো আযাব ওদেরকে গ্রাস করে কিনা? এ অপেক্ষার কারণেই শেষ পর্যন্ত ওরা ওদের রবের কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগটুকুও পায় না।
وَ مَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِیْنَ اِلَّا مُبَشِّرِیْنَ وَ مُنْذِرِیْنَ ۚ وَ یُجَادِلُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِالْبَاطِلِ لِیُدْحِضُوْا بِهِ الْحَقَّ وَ اتَّخَذُوْۤا اٰیٰتِیْ وَ مَاۤ اُنْذِرُوْا هُزُوًا 56
56. আমি রসুলদেরকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসাবেই প্রেরণ করেছি। কিন্তু সত্য অস্বীকারকারীরা সত্যকে ঠেকানোর জন্য এবং আমার নিদর্শনাবলী ও সতর্কবাণীর সাথে ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপের মজা নেয়ার জন্য ওরা বারবারই তাদের সাথে কুতর্কে লিপ্ত হয়েছে।
وَ مَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِاٰیٰتِ رَبِّهٖ فَاَعْرَضَ عَنْهَا وَ نَسِیَ مَا قَدَّمَتْ یَدٰهُ ؕ اِنَّا جَعَلْنَا عَلٰی قُلُوْبِهِمْ اَكِنَّةً اَنْ یَّفْقَهُوْهُ وَ فِیْۤ اٰذَانِهِمْ وَقْرًا ؕ وَ اِنْ تَدْعُهُمْ اِلَی الْهُدٰی فَلَنْ یَّهْتَدُوْۤا اِذًا اَبَدًا 57
57. বাস্তবে সে ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যাকে তার রবের বাণী শুনিয়ে উপদেশ দেয়ার পরও, তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার পাপের ভয়ানক পরিণতির কথা বেমালুম ভুলে থাকে? অসত্যের উপর জেদ ধরে থাকায় আমি ওদের অন্তরের উপর আবরণ টেনে দিয়েছি। ফেলে ওরা সত্যকে বুঝতে পারছে না। ওরা এখন বধির হয়ে গেছে। কাজেই তুমি ওদেরকে যতোই সৎপথে ডাকো, ওরা কখনোই সৎপথে আসবে না।
وَ رَبُّكَ الْغَفُوْرُ ذُو الرَّحْمَةِ ؕ لَوْ یُؤَاخِذُهُمْ بِمَا كَسَبُوْا لَعَجَّلَ لَهُمُ الْعَذَابَ ؕ بَلْ لَّهُمْ مَّوْعِدٌ لَّنْ یَّجِدُوْا مِنْ دُوْنِهٖ مَوْئِلًا 58
58. আসলে তোমার রব বড়ই ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। অন্যথায় তিনি ওদের পাপের শাস্তি যদি সাথেসাথেই দিতে চাইতেন, তবে বহু পূর্বেই ওদের উপর আযাব পাঠিয়ে দিতেন। কিন্তু ওদের শাস্তির সময় ঠিক করে রাখা রয়েছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা! সে সময় ওরা পালাবার পথও খুঁজে পাবে না।
وَ تِلْكَ الْقُرٰۤی اَهْلَكْنٰهُمْ لَمَّا ظَلَمُوْا وَ جَعَلْنَا لِمَهْلِكِهِمْ مَّوْعِدًا۠ 59
59. সীমালঙ্ঘন করার অপরাধে ইতোপূর্বে আমি যেসব জাতিকে ধ্বংস করেছিলাম, তাদের ইতিহাস দেখো। আমি ওদের প্রত্যেকের ধ্বংসের জন্য একটি নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করে রেখেছিলাম।
وَ اِذْ قَالَ مُوْسٰی لِفَتٰىهُ لَاۤ اَبْرَحُ حَتّٰۤی اَبْلُغَ مَجْمَعَ الْبَحْرَیْنِ اَوْ اَمْضِیَ حُقُبًا 60
60. হে নবী, এবার লোকদেরকে মুসার সেই ঘটনাটি শুনাও, যখন দীর্ঘ সফরের এক পর্যায়ে মুসা তার সফরসঙ্গীকে বললো, দুই সমুদ্রের মিলনস্থলে না পৌঁছে আমি যাত্রা বিরতি করবো না। এর জন্য প্রয়োজনে আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকবো।
فَلَمَّا بَلَغَا مَجْمَعَ بَیْنِهِمَا نَسِیَا حُوْتَهُمَا فَاتَّخَذَ سَبِیْلَهٗ فِی الْبَحْرِ سَرَبًا 61
61. এরপর যখন তারা চলতে চলতে সেই মিলনস্থলে পৌঁছলো, তখন তারা নিজেদের খাবারের জন্য নিয়ে আসা মাছের ব্যাপারে খানিকটা উদাসীন হয়ে পড়লো এবং এ সুযোগে মাছটি নিজেই পথ তৈরী করে সমুদ্রে নেমে গেলো।
فَلَمَّا جَاوَزَا قَالَ لِفَتٰىهُ اٰتِنَا غَدَآءَنَا ؗ لَقَدْ لَقِیْنَا مِنْ سَفَرِنَا هٰذَا نَصَبًا 62
62. সেখান থেকে তারা আবার কিছু দূর পথ চললো। এরপর মুসা তার সফরসঙ্গীকে বললো, আমাদের খাবার নিয়ে আসো, আজকের সফরে যথেষ্ট ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।
قَالَ اَرَءَیْتَ اِذْ اَوَیْنَاۤ اِلَی الصَّخْرَةِ فَاِنِّیْ نَسِیْتُ الْحُوْتَ ؗ وَ مَاۤ اَنْسٰىنِیْهُ اِلَّا الشَّیْطٰنُ اَنْ اَذْكُرَهٗ ۚ وَ اتَّخَذَ سَبِیْلَهٗ فِی الْبَحْرِ ۖۗ عَجَبًا 63
63. তখন সফরসঙ্গী বললো, আপনি বিশ্বাস করবেন না, কী ঘটে গেছে! আমরা যখন সেই পাথরটার পাশে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, তখন আমার মাছের কথা মনে ছিলো না। আসলে শয়তানই আমায় মাছের কথা ভুলিয়ে দিয়েছিলো। যাইহোক, কী অবাক কান্ড! মাছটা নিজেই নিজের পথ তৈরি করে সমুদ্রে নেমে গেলো!
قَالَ ذٰلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ ۖۗ فَارْتَدَّا عَلٰۤی اٰثَارِهِمَا قَصَصًاۙ 64
64. মুসা আনন্দ বিস্ময়ে বলে উঠলো, আরে! আমরা তো সেই জায়গাটাই খুঁজছিলাম। এরপর তারা নিজেদের পদচিহ্ন ধরে আবার সে জায়গায় ফিরে এলো।
فَوَجَدَا عَبْدًا مِّنْ عِبَادِنَاۤ اٰتَیْنٰهُ رَحْمَةً مِّنْ عِنْدِنَا وَ عَلَّمْنٰهُ مِنْ لَّدُنَّا عِلْمًا 65
65. সেখানে এসে তারা আমার বান্দা খিজিরের সাক্ষাত পেলো। তাকে আমি আমার দয়ায় সিক্ত করেছিলাম এবং আমার পক্ষ থেকে তাকে একটি বিশেষ জ্ঞানও দান করেছিলাম।
قَالَ لَهٗ مُوْسٰی هَلْ اَتَّبِعُكَ عَلٰۤی اَنْ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا 66
66. মুসা তাকে বললো, আমি কি কিছুপথ আপনাকে অনুসরণ করতে পারি, যাতে আপনাকে যে সত্যের নিগূঢ় জ্ঞান দান করা হয়েছে, তা থেকে আমাকে কিছুটা শিক্ষা দিবেন?
قَالَ اِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِیْعَ مَعِیَ صَبْرًا 67
67. খিজির বললো, তুমি আমার সাথে ধৈর্য ধরে থাকতে পারবে না।
وَ كَیْفَ تَصْبِرُ عَلٰی مَا لَمْ تُحِطْ بِهٖ خُبْرًا 68
68. তাছাড়া যে বিষয়ে তোমার ধারণাই নেই, সে বিষয়ে কিভাবেইবা ধৈর্য ধারণ করবে?
قَالَ سَتَجِدُنِیْۤ اِنْ شَآءَ اللّٰهُ صَابِرًا وَّ لَاۤ اَعْصِیْ لَكَ اَمْرًا 69
69. মুসা বললো, ইনশাল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীল হিসাবে পাবেন। কথা দিচ্ছি, আমি আপনার কোনো আদেশই অমান্য করবো না।
قَالَ فَاِنِ اتَّبَعْتَنِیْ فَلَا تَسْـَٔلْنِیْ عَنْ شَیْءٍ حَتّٰۤی اُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا۠ 70
70. খিজির বললো, ঠিক আছে, চলো। তবে একটা শর্ত, আমি নিজে তোমাকে না বলা পর্যন্ত কোনো বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করতে পারবে না।
فَانْطَلَقَا ۥ حَتّٰۤی اِذَا رَكِبَا فِی السَّفِیْنَةِ خَرَقَهَا ؕ قَالَ اَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ اَهْلَهَا ۚ لَقَدْ جِئْتَ شَیْـًٔا اِمْرًا 71
71. এরপর তারা দু’জনে যাত্রা শুরু করলো। চলতে চলতে এক সময় তারা একটি নৌকায় উঠলো। উঠেই খিজির নতুন নৌকাটার তলায় একটা ছিদ্র করে দিলো। তখন মুসা বিস্ময়ে বললো, এ আপনি কী করলেন? আপনি কি আমাদের সবাইকেসহ এ নৌকাটা ডুবিয়ে দেয়ার জন্য এ কাজ করলেন? এটা তো মারাত্মক অন্যায়!
قَالَ اَلَمْ اَقُلْ اِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِیْعَ مَعِیَ صَبْرًا 72
72. খিজির বললো, আমি কি তোমাকে আগেই বলিনি যে, তুমি আমার সাথে ধৈর্য ধরে থাকতে পারবে না?
قَالَ لَا تُؤَاخِذْنِیْ بِمَا نَسِیْتُ وَ لَا تُرْهِقْنِیْ مِنْ اَمْرِیْ عُسْرًا 73
73. মুসা বললো, আমায় ভুল বুঝবেন না। আমি সে শর্তটা ভুলে গিয়েছিলাম। দয়া করে আমার প্রতি কঠোর হবেন না।
فَانْطَلَقَا ۥ حَتّٰۤی اِذَا لَقِیَا غُلٰمًا فَقَتَلَهٗ ۙ قَالَ اَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِیَّةًۢ بِغَیْرِ نَفْسٍ ؕ لَقَدْ جِئْتَ شَیْـًٔا نُّكْرًا 74
74. তারা আবার চলতে লাগলো। কিছুদূর যাওয়ার পর এক বালকের দেখা মিললো। খানিক বাদে খিজির তাকে হত্যা করে ফেললো। তখন মুসা ক্ষুব্ধ হয়ে বলে উঠলো, আপনি একটা নিরাপরাধ ছেলেকে খুন করে ফেললেন? সে তো কাউকেই খুন করেনি। আপনি এটা ভীষণ অন্যায় করেছেন।
قَالَ اَلَمْ اَقُلْ لَّكَ اِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِیْعَ مَعِیَ صَبْرًا 75
75. খিজির বললো, আমি তো তোমাকে আগেই বলেছিলাম যে, আমার সাথে ধৈর্য ধরে থাকতে পারবে না।
قَالَ اِنْ سَاَلْتُكَ عَنْ شَیْءٍۭ بَعْدَهَا فَلَا تُصٰحِبْنِیْ ۚ قَدْ بَلَغْتَ مِنْ لَّدُنِّیْ عُذْرًا 76
76. মুসা বললো, ক্ষমা চাচ্ছি। এরপর যদি আমি আপনার শর্ত ভঙ্গ করি, তবে আর আমাকে আপনার সাথে রাখবেন না। এটা আপনার জন্য আমার পক্ষ থেকে দায়মুক্তির অগ্রীম সনদ।
فَانْطَلَقَا وقفة حَتّٰۤی اِذَاۤ اَتَیَاۤ اَهْلَ قَرْیَةِنِاسْتَطْعَمَاۤ اَهْلَهَا فَاَبَوْا اَنْ یُّضَیِّفُوْهُمَا فَوَجَدَا فِیْهَا جِدَارًا یُّرِیْدُ اَنْ یَّنْقَضَّ فَاَقَامَهٗ ؕ قَالَ لَوْ شِئْتَ لَتَّخَذْتَ عَلَیْهِ اَجْرًا 77
77. অতঃপর তারা আবার চলতে শুরু করলো। এবার তারা একটি জনপদে এসে পৌঁছলো। সেখানকার লোকদের কাছে তারা কিছু খাবার চাইলো। কিন্তু লোকেরা তাদের মেহমানদারী করাতে রাজি হলো না। এরপর তারা সেখানে একটা হেলে পড়া প্রাচীর দেখতে পেলো। খিজির প্রাচীরটাকে শক্ত করে দাঁড় করিয়ে দিলো। মুসা তখন বলে ফেললো, আপনি তো ইচ্ছা করলে এ কাজের জন্য মজুরি চাইতে পারেন।
قَالَ هٰذَا فِرَاقُ بَیْنِیْ وَ بَیْنِكَ ۚ سَاُنَبِّئُكَ بِتَاْوِیْلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَّلَیْهِ صَبْرًا 78
78. তখন খিজির বললো, যথেষ্ট হয়েছে। এখানেই তোমার সাথে আমার যাত্রাপথ আলাদা হয়ে যাচ্ছে। তবে তার আগে তুমি যে বিষয়গুলোতে ধৈর্য রাখতে পারোনি, তার আসল তাৎপর্য আমি তোমাকে বলছি।
اَمَّا السَّفِیْنَةُ فَكَانَتْ لِمَسٰكِیْنَ یَعْمَلُوْنَ فِی الْبَحْرِ فَاَرَدْتُّ اَنْ اَعِیْبَهَا وَ كَانَ وَرَآءَهُمْ مَّلِكٌ یَّاْخُذُ كُلَّ سَفِیْنَةٍ غَصْبًا 79
79. প্রথমে নৌকাটির ব্যাপার শোনো। নৌকাটি ছিলো কয়েকজন অসহায় অভাবী লোকের। এ নৌকাই তাদের একমাত্র জীবিকা উপার্জনের মাধ্যম ছিলো। আমি ইচ্ছে করেই নৌকাটিকে ‘ত্রুটিযুক্ত’ করে দিলাম। কেননা আমি জানতাম, অত্যাচারী রাজার বাহিনী পিছনে পিছনে আসছে, যারা সমস্ত ‘ত্রুটিমুক্ত’ ভালো নৌকা জোর করে জব্দ করে নিয়ে যাচ্ছে।
وَ اَمَّا الْغُلٰمُ فَكَانَ اَبَوٰهُ مُؤْمِنَیْنِ فَخَشِیْنَاۤ اَنْ یُّرْهِقَهُمَا طُغْیَانًا وَّ كُفْرًاۚ 80
80. এবার আসো ঐ বালকটির কথায়, ওর বাবা-মা দু’জনেই ছিলো সত্যিকারের ঈমানদার। কিন্তু আমার আশঙ্কা হলো, এ বালকটির অবাধ্যতা, পাপাচার ও কুফরি আচরণ ওর বাবা-মাকে ভীষণভাবে বিব্রত করবে।
فَاَرَدْنَاۤ اَنْ یُّبْدِلَهُمَا رَبُّهُمَا خَیْرًا مِّنْهُ زَكٰوةً وَّ اَقْرَبَ رُحْمًا 81
81. তাই আমি চাইলাম যে, ওর পরিবর্তে তাদের রব তাদেরকে বাবা-মা’র প্রতি সদয় অনুরাগী এক চরিত্রবান সন্তান দান করবেন।
وَ اَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلٰمَیْنِ یَتِیْمَیْنِ فِی الْمَدِیْنَةِ وَ كَانَ تَحْتَهٗ كَنْزٌ لَّهُمَا وَ كَانَ اَبُوْهُمَا صَالِحًا ۚ فَاَرَادَ رَبُّكَ اَنْ یَّبْلُغَاۤ اَشُدَّهُمَا وَ یَسْتَخْرِجَا كَنْزَهُمَا ۖۗ رَحْمَةً مِّنْ رَّبِّكَ ۚ وَ مَا فَعَلْتُهٗ عَنْ اَمْرِیْ ؕ ذٰلِكَ تَاْوِیْلُ مَا لَمْ تَسْطِعْ عَّلَیْهِ صَبْرًا ؕ۠ 82
82. বাকী থাকছে সে প্রাচীরটির কথা। সেটি ছিলো ঐ জনপদেরই অসহায় দুই এতিম বালকের। প্রাচীরের নিচে ছিলো ওদের জন্য রাখা গুপ্তধন, যা ওদের নেককার পিতা রেখে মারা গেছেন। তাই তোমার রবের ইচ্ছে ছিলো, ওরা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর এ গুপ্তধন যেনো উদ্ধার করতে পারে। এটা ওদের প্রতি তোমার রবের বড়ই করুণা ছিলো। হে মুসা, তুমি যে বিষয়ে আমার সাথে ধৈর্য ধরে থাকতে পারোনি, এ হচ্ছে তার তাৎপর্য। আর হ্যাঁ, নিজ ক্ষমতা ও এখতিয়ারে আমি এর কিছুই করিনি। সবই রবের দয়া ও অনুগ্রহে করে থাকি।
وَ یَسْـَٔلُوْنَكَ عَنْ ذِی الْقَرْنَیْنِ ؕ قُلْ سَاَتْلُوْا عَلَیْكُمْ مِّنْهُ ذِكْرًاؕ 83
83. হে নবী, ওরা তোমাকে ‘জুলকারনাইন’ সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করছে। ওদের বলো, তার জীবন ইতিহাস আমি তোমাদের এখনই জানাচ্ছি।
اِنَّا مَكَّنَّا لَهٗ فِی الْاَرْضِ وَ اٰتَیْنٰهُ مِنْ كُلِّ شَیْءٍ سَبَبًاۙ 84
84. আমি জুলকারনাইনকে পৃথিবীতে বিশাল সাম্রাজ্যের মালিক বানিয়েছিলাম এবং সেইসাথে তাকে সব ধরনের সাজ-সরঞ্জাম ও উপায়-উপকরণও সরবরাহ করেছিলাম।
فَاَتْبَعَ سَبَبًا 85
85. সে প্রথমে পশ্চিম দিকে অভিযান পরিচালনা করলো।
حَتّٰۤی اِذَا بَلَغَ مَغْرِبَ الشَّمْسِ وَجَدَهَا تَغْرُبُ فِیْ عَیْنٍ حَمِئَةٍ وَّ وَجَدَ عِنْدَهَا قَوْمًا ؕ۬ قُلْنَا یٰذَا الْقَرْنَیْنِ اِمَّاۤ اَنْ تُعَذِّبَ وَ اِمَّاۤ اَنْ تَتَّخِذَ فِیْهِمْ حُسْنًا 86
86. এভাবে সে পশ্চিম দিকে জয় করতে করতে একসময় স্থল ভাগের শেষ প্রান্তে সমুদ্র তীরে এসে দাঁড়ালো এবং তখন সে সমুদ্রের ঘোলা পানিতে সূর্যকে ডুবতে দেখলো। সে সেখানে এমন একটি জাতিকে জয় করলো, যারা নানা পাপাচারে লিপ্ত ছিলো। আমি তখন জুলকারনাইনকে বললাম, তোমার এখতিয়ার আছে, চাইলে তুমি ওদেরকে শাস্তি দিতে পারো অথবা ওদের প্রতি সদয়ও হতে পারো।
قَالَ اَمَّا مَنْ ظَلَمَ فَسَوْفَ نُعَذِّبُهٗ ثُمَّ یُرَدُّ اِلٰی رَبِّهٖ فَیُعَذِّبُهٗ عَذَابًا نُّكْرًا 87
87. জুলকারনাইন ঘোষণা করলো, ওদের মধ্যে যারাই জুলুম চালাবে, আমি তাদেরকে অবশ্যই শাস্তি দেবো। এরপর ওরা যখন ওদের প্রতিপালকের কাছে ফিরবে, তখন তিনি ওদেরকে আরো কঠিন শাস্তি ভোগ করাবেন।
وَ اَمَّا مَنْ اٰمَنَ وَ عَمِلَ صَالِحًا فَلَهٗ جَزَآءَ ِ۟الْحُسْنٰی ۚ وَ سَنَقُوْلُ لَهٗ مِنْ اَمْرِنَا یُسْرًاؕ 88
88. তবে ওদের মধ্যে যারা ঈমান আনবে এবং সৎকাজ করবে, তারা অবশ্যই ভালো প্রতিদান পাবে। তাদেরকে আমরা অনেক সুযোগ-সুবিধা দেবো।
ثُمَّ اَتْبَعَ سَبَبًا 89
89. এরপর সে পূর্বাঞ্চলে নতুন অভিযানে বের হলো।
حَتّٰۤی اِذَا بَلَغَ مَطْلِعَ الشَّمْسِ وَجَدَهَا تَطْلُعُ عَلٰی قَوْمٍ لَّمْ نَجْعَلْ لَّهُمْ مِّنْ دُوْنِهَا سِتْرًاۙ 90
90. সে পূর্বাঞ্চলে সমস্ত স্থলভাগই জয় করে ফেললো। এমনকি সমুদ্র তীরে দাঁড়িয়ে সে সূর্যোদয় দেখতে পেলো। সেখানে এমন এক সম্প্রদায়কে পেলো, যারা সূর্যের তাপ থেকে বাঁচার কোনো ব্যবস্থাপনাই জানতো না।
كَذٰلِكَ ؕ وَ قَدْ اَحَطْنَا بِمَا لَدَیْهِ خُبْرًا 91
91. ওদেরকে ওভাবে ছেড়ে আসলো। জুলকারনাইনের মনের তখনকার অবস্থা আমি জানতাম।
ثُمَّ اَتْبَعَ سَبَبًا 92
92. জুলকারনাইন নতুন করে আরেক দিকে অভিযাত্রা করলো।
حَتّٰۤی اِذَا بَلَغَ بَیْنَ السَّدَّیْنِ وَجَدَ مِنْ دُوْنِهِمَا قَوْمًا ۙ لَّا یَكَادُوْنَ یَفْقَهُوْنَ قَوْلًا 93
93. যেতে যেতে সে উপনীত হলো দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায়। সেখনে সে এমন এক সম্প্রদায়ের সাক্ষাত পেলো, যারা তার ভাষা বুঝতে পারছিলো না।
قَالُوْا یٰذَا الْقَرْنَیْنِ اِنَّ یَاْجُوْجَ وَ مَاْجُوْجَ مُفْسِدُوْنَ فِی الْاَرْضِ فَهَلْ نَجْعَلُ لَكَ خَرْجًا عَلٰۤی اَنْ تَجْعَلَ بَیْنَنَا وَ بَیْنَهُمْ سَدًّا 94
94. সম্প্রদায়ের লোকেরা আরজ করলো, হে জুলকারনাইন, ইয়াজুজ ও মাজুজ সম্প্রদায় আমাদের এ এলাকায় প্রায়ই আক্রমণ চালিয়ে লুট-পাট করে নিয়ে যায়। আপনি কি ওদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আমাদেরকে একটি মজবুত প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন? প্রয়োজনে আপনাকে এর বিনিময়ে ‘কর’ পরিশোধ করবো।
قَالَ مَا مَكَّنِّیْ فِیْهِ رَبِّیْ خَیْرٌ فَاَعِیْنُوْنِیْ بِقُوَّةٍ اَجْعَلْ بَیْنَكُمْ وَ بَیْنَهُمْ رَدْمًاۙ 95
95. সে বললো, আমার রব আমাকে যা দিয়েছেন তাই আমার জন্য যথেষ্ট। অতএব তোমাদের ‘কর’ নেয়ার প্রয়োজন নেই; বরং আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য করো। আমি তোমাদের এবং ওদের মাঝখানে এক মজবুত প্রাচীর নির্মাণ করে দিচ্ছি।
اٰتُوْنِیْ زُبَرَ الْحَدِیْدِ ؕ حَتّٰۤی اِذَا سَاوٰی بَیْنَ الصَّدَفَیْنِ قَالَ انْفُخُوْا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَعَلَهٗ نَارًا ۙ قَالَ اٰتُوْنِیْۤ اُفْرِغْ عَلَیْهِ قِطْرًاؕ 96
96. তোমরা আমায় লোহার পাত এনে দাও। এভাবে পাতের উপর পাত রাখতে রাখতে যখন তা দুই পাহাড়ের মাঝখানে সুউচ্চ বাঁধের রূপ নিলো, তখন সে বললো, তোমরা আগুন জ্বালিয়ে লোহাকে গরম করো। যখন লোহা তাপে টকটকে লাল হয়ে উঠলো তখন সে বললো, এবার আমাকে গলিত তামা এনে দাও, আমি এ লোহার উপর তা ঢেলে দেবো।
فَمَا اسْطَاعُوْۤا اَنْ یَّظْهَرُوْهُ وَ مَا اسْتَطَاعُوْا لَهٗ نَقْبًا 97
97. এভাবেই প্রাচীর উঠলো। ইয়াজুজ-মাজুজ কখনো সে প্রাচীর ডিঙিয়ে আসতে পারেনি। এমনকি প্রাচীরের গায়ে ছিদ্রও করতে পারেনি।
قَالَ هٰذَا رَحْمَةٌ مِّنْ رَّبِّیْ ۚ فَاِذَا جَآءَ وَعْدُ رَبِّیْ جَعَلَهٗ دَكَّآءَ ۚ وَ كَانَ وَعْدُ رَبِّیْ حَقًّاؕ 98
98. এরপর জুলকারনাইন বললো, যা কিছু হয়েছে তা সবই আমার রবের অনুগ্রহ। তবে যখন আমার রবের প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি এসবই চূর্ণবিচূর্ণ করে দিবেন। আর আমার রবের প্রতিশ্রুতি অবশ্যই ঘটবে।
وَ تَرَكْنَا بَعْضَهُمْ یَوْمَىِٕذٍ یَّمُوْجُ فِیْ بَعْضٍ وَّ نُفِخَ فِی الصُّوْرِ فَجَمَعْنٰهُمْ جَمْعًاۙ 99
99. শুনে রেখো, সেদিন পৃথিবীর সব মানুষকে উত্থিত করা হবে। তারা সাগরের তরঙ্গের মতো একে অন্যের উপর আছড়ে পড়বে। শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে। সবাই বিচারের মাঠে কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে।
وَّ عَرَضْنَا جَهَنَّمَ یَوْمَىِٕذٍ لِّلْكٰفِرِیْنَ عَرْضَاۙ۱۰۰ ۟ 100
100. সেদিন সত্য অস্বীকারকারীদের চোখের সামনেই বিভৎস চেহারা নিয়ে জাহান্নামকে হাজির করানো হবে।
نِالَّذِیْنَ كَانَتْ اَعْیُنُهُمْ فِیْ غِطَآءٍ عَنْ ذِكْرِیْ وَ كَانُوْا لَا یَسْتَطِیْعُوْنَ سَمْعًا۠ 101
101. কেননা ওরা দুনিয়াতে আমার নিদর্শনের প্রতি অন্ধের মতো আচরণ করেছিলো। এমনকি আমার কোনো কথাই শুনতে প্রস্তুত হয়নি।
اَفَحَسِبَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَنْ یَّتَّخِذُوْا عِبَادِیْ مِنْ دُوْنِیْۤ اَوْلِیَآءَ ؕ اِنَّاۤ اَعْتَدْنَا جَهَنَّمَ لِلْكٰفِرِیْنَ نُزُلًا 102
102. আচ্ছা! তবে কি সত্য অস্বীকারকারীরা মনে করে, আমাকে বাদ দিয়ে আমার কোনো বান্দাকে নিজেদের অভিভাবক বানিয়ে পার পেয়ে যাবে? ওদের জানা উচিত, আমি ওদের মতো কাফেরদের আপ্যায়নের জন্য জাহান্নামকে সাজিয়ে রেখেছি।
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْاَخْسَرِیْنَ اَعْمَالًاؕ 103
103. ১০৩. হে নবী, তুমি ওদের জিজ্ঞেস করো, আমি কি বলবো, কাদের কাজের পরিণতি খুবই খারাপ ও ব্যর্থ হবে?
اَلَّذِیْنَ ضَلَّ سَعْیُهُمْ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ هُمْ یَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ یُحْسِنُوْنَ صُنْعًا 104
104. ১০৪. তারা তো ঐসব লোক, যারা শুধু পার্থিব সুখ-শান্তির জন্যই সকল শ্রম নিয়োগ করে। অথচ অজ্ঞতাবশত মনে করে যে, তারা বড়ই ভালোকাজ করে চলছে।
اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِاٰیٰتِ رَبِّهِمْ وَ لِقَآىِٕهٖ فَحَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِیْمُ لَهُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ وَزْنًا 105
105. ১০৫. এবং ঐসব লোকও, যারা তাদের রবের আয়াতগুলোকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেয় এবং তার সাথে সাক্ষাতের কথা বিশ্বাস করে না। হায়! বিচারের সময় ওদের সারা জীবনের কাজকর্ম একেবারেই ওজনহীন হয়ে যাবে।
ذٰلِكَ جَزَآؤُهُمْ جَهَنَّمُ بِمَا كَفَرُوْا وَ اتَّخَذُوْۤا اٰیٰتِیْ وَ رُسُلِیْ هُزُوًا 106
106. ১০৬. জাহান্নামই হবে ওদের যথার্থ প্রতিদান। কেননা ওরা সারা জীবনই সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে এবং আমার বাণী ও পয়গম্বরদের নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছে।
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنّٰتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًاۙ 107
107. ১০৭. অন্যদিকে যারা সত্যকে স্বীকার করে নিয়েছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদৌস।
خٰلِدِیْنَ فِیْهَا لَا یَبْغُوْنَ عَنْهَا حِوَلًا 108
108. ১০৮. চিরদিনের জন্য তারা সেখানে থাকবে। এক মুহূর্তের জন্যও সেখান থেকে অন্য কোথাও যেতে তাদের মন চাইবে না।
قُلْ لَّوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِّكَلِمٰتِ رَبِّیْ لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ اَنْ تَنْفَدَ كَلِمٰتُ رَبِّیْ وَ لَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهٖ مَدَدًا 109
109. ১০৯. হে নবী, লোকদের জানিয়ে দাও, যদি এক সমুদ্র পানি সব কালি হয়, তবুও আমার রবের মহিমা লেখা শেষ হবে না। এমনকি যদি আরো এক সমুদ্র পানিকে কালি বানানো হয় তাও নিঃশেষ হয়ে যাবে; তারপরও আমার রবের মহিমা লেখা শেষ হবে না।
قُلْ اِنَّمَاۤ اَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ یُوْحٰۤی اِلَیَّ اَنَّمَاۤ اِلٰهُكُمْ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ ۚ فَمَنْ كَانَ یَرْجُوْا لِقَآءَ رَبِّهٖ فَلْیَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَّ لَا یُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهٖۤ اَحَدًا۠ 110
110. ১১০. নবী হে, ঘোষণা দাও, আমি তোমাদের মতোই একজন রক্ত-মাংসের মানুষ। তবে আমার কাছে অহি পাঠানো হয়েছে। বলা হয়েছে, আল্লাহই তোমাদের একমাত্র ইলাহ। অতএব যে ব্যক্তি মহাবিচারের দিন তার রবের সাক্ষাতের প্রত্যাশী, সে যেনো দুনিয়ায় সৎকর্ম করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক না করে।