19. মারিয়াম
كٓهٰیٰعٓصٓ۫ۚ 1
1. ক্বাফ-হা-ইয়া-আইন-স্বদ।
ذِكْرُ رَحْمَتِ رَبِّكَ عَبْدَهٗ زَكَرِیَّاۖۚ 2
2. এবার তাহলে বান্দা যাকারিয়ার প্রতি তোমার রবের বিশেষ অনুগ্রহের বর্ণনা শোনো।
اِذْ نَادٰی رَبَّهٗ نِدَآءً خَفِیًّا 3
3. যাকারিয়া তখন একাকী নিভৃতে তার রবের কাছে মিনতি জানাচ্ছিলো,
قَالَ رَبِّ اِنِّیْ وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّیْ وَ اشْتَعَلَ الرَّاْسُ شَیْبًا وَّ لَمْ اَكُنْۢ بِدُعَآىِٕكَ رَبِّ شَقِیًّا 4
4. এই বলে যে, হে আমার রব, বয়সের ভারে আমার শরীরের হাড়গুলো পর্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে, মাথার চুলগুলো পেকে সাদা হয়ে গেছে। হে আমার প্রভু, আমি তো তোমার কাছে চেয়ে কখনো খালি হতে ফিরিনি।
وَ اِنِّیْ خِفْتُ الْمَوَالِیَ مِنْ وَّرَآءِیْ وَ كَانَتِ امْرَاَتِیْ عَاقِرًا فَهَبْ لِیْ مِنْ لَّدُنْكَ وَلِیًّاۙ 5
5. হে আমার রব, স্বগোত্রীয়দের ব্যাপারে আমার আশঙ্কা হচ্ছে, আমার মৃত্যুর পর তারা সত্যচ্যুত হয়ে পড়তে পারে। হে প্রভু, যদিও আমার স্ত্রী বন্ধ্যা, তবুও তোমার নিজ কুদরতে আমায় একজন উত্তরাধিকারী দান করো।
یَّرِثُنِیْ وَ یَرِثُ مِنْ اٰلِ یَعْقُوْبَ ۖۗ وَ اجْعَلْهُ رَبِّ رَضِیًّا 6
6. সে আমার ও ইয়াকুবের বংশের উত্তরসূরী হবে। হে প্রভু, সে যেনো সন্তোষভাজন বান্দা হয়।
یٰزَكَرِیَّاۤ اِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلٰمِ نِاسْمُهٗ یَحْیٰی ۙ لَمْ نَجْعَلْ لَّهٗ مِنْ قَبْلُ سَمِیًّا 7
7. আমি যাকারিয়ার দোয়া কবুল করলাম। বললাম, হে যাকারিয়া, সুসংবাদ গ্রহণ করো। তোমাকে একটি পুত্র সন্তান দিচ্ছি। তার নাম হবে ইয়াহিয়া। এর আগে আমি এ নামে আর কারো নামকরণ করিনি।
قَالَ رَبِّ اَنّٰی یَكُوْنُ لِیْ غُلٰمٌ وَّ كَانَتِ امْرَاَتِیْ عَاقِرًا وَّ قَدْ بَلَغْتُ مِنَ الْكِبَرِ عِتِیًّا 8
8. যাকারিয়া জানতে চাইলো, হে আমার রব, যখন আমার স্ত্রী বন্ধ্যা হয়ে আছে এবং আমি নিজেও বার্ধ্যক্যের শেষ প্রান্তে এসে পড়েছি, তখন আমার এ সন্তান হবে কী উপায়ে?
قَالَ كَذٰلِكَ ۚ قَالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَیَّ هَیِّنٌ وَّ قَدْ خَلَقْتُكَ مِنْ قَبْلُ وَ لَمْ تَكُ شَیْـًٔا 9
9. জবাব দেয়া হলো, হ্যাঁ হবে। স্বাভাবিকভাবেই হবে। তোমার রব বলেন, এ তো আমার জন্য অতি সামান্য ব্যাপার। ভেবে দেখো, তোমাকে সৃষ্টি করার পূর্বে তো তোমার কোনো অস্তিত্বও ছিলো না।
قَالَ رَبِّ اجْعَلْ لِّیْۤ اٰیَةً ؕ قَالَ اٰیَتُكَ اَلَّا تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلٰثَ لَیَالٍ سَوِیًّا 10
10. যাকারিয়া তখন আকুতি জানালো, হে আমার রব, তাহলে আমাকে এর একটা নিদর্শন দাও। আল্লাহ বললেন, ঠিক আছে। এর নিদর্শন হচ্ছে, একটানা তিনদিন তুমি লোকদের সাথে কথা বলতে সক্ষম হবে না।
فَخَرَجَ عَلٰی قَوْمِهٖ مِنَ الْمِحْرَابِ فَاَوْحٰۤی اِلَیْهِمْ اَنْ سَبِّحُوْا بُكْرَةً وَّ عَشِیًّا 11
11. এরপর যাকারিয়া প্রার্থনা কক্ষ থেকে বের হয়ে নিজ সম্প্রদায়ের সামনে এলেন। কিন্তু কথা বলতে পারলেন না। ফলে ইশারা ইঙ্গিতে তাদেরকে সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর তসবিহ পাঠ করতে বললেন।
یٰیَحْیٰی خُذِ الْكِتٰبَ بِقُوَّةٍ ؕ وَ اٰتَیْنٰهُ الْحُكْمَ صَبِیًّاۙ 12
12. একসময় ইয়াহিয়া বড় হলো। আমি হুকুম করলাম, হে ইয়াহিয়া, আল্লাহর কিতাবকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো। বস্তুত শৈশবেই আমি তাকে প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতায় পূর্ণ করেছিলাম।
وَّ حَنَانًا مِّنْ لَّدُنَّا وَ زَكٰوةً ؕ وَ كَانَ تَقِیًّاۙ 13
13. আমি তাকে কোমল স্বভাব ও পবিত্রতা দান করেছিলাম। সে সত্যিই ছিলো একজন আল্লাহ সচেতন ব্যক্তি।
وَّ بَرًّۢا بِوَالِدَیْهِ وَ لَمْ یَكُنْ جَبَّارًا عَصِیًّا 14
14. সে আপন পিতা-মাতার সেবায় ছিলো একনিষ্ঠ। এমনকি, সে কখনোই উদ্ধত ও অবাধ্য হয়নি।
وَ سَلٰمٌ عَلَیْهِ یَوْمَ وُلِدَ وَ یَوْمَ یَمُوْتُ وَ یَوْمَ یُبْعَثُ حَیًّا۠ 15
15. সালাম ইয়াহিয়ার প্রতি। সে তার জন্মদিনে, মৃত্যুদিনে এবং পুনরুত্থান দিনে শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করুক।
وَ اذْكُرْ فِی الْكِتٰبِ مَرْیَمَ ۘ اِذِ انْتَبَذَتْ مِنْ اَهْلِهَا مَكَانًا شَرْقِیًّاۙ 16
16. হে নবী, এ কিতাবে উল্লিখিত মারিয়ামের জীবন কাহিনী লোকদেরকে শুনাও। এক সময়ে মারিয়াম তার পরিবার-পরিজন থেকে আলাদা হয়ে পূর্বদিকের এক নির্জন ঘরে ইবাদতে মগ্ন হলো।
فَاتَّخَذَتْ مِنْ دُوْنِهِمْ حِجَابًا ۪۫ فَاَرْسَلْنَاۤ اِلَیْهَا رُوْحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِیًّا 17
17. সে তখন সম্পূর্ণভাবে নিজেকে আড়াল করে নিয়েছিলো। হঠাৎ আমার ফেরেশতা পুরুষ মানুষের সুরতে তার সামনে উপস্থিত হলো।
قَالَتْ اِنِّیْۤ اَعُوْذُ بِالرَّحْمٰنِ مِنْكَ اِنْ كُنْتَ تَقِیًّا 18
18. মারিয়াম কিছুটা ঘাবড়ে গেলো। এরপর বললো, দয়াময় আল্লাহকে ভয় করো। আমি তোমার অনিষ্ট থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।
قَالَ اِنَّمَاۤ اَنَا رَسُوْلُ رَبِّكِ ۖۗ لِاَهَبَ لَكِ غُلٰمًا زَكِیًّا 19
19. ফেরেশতা বললো, ভয় পেও না । আমি তোমার রবের পয়গাম নিয়ে এসেছি। তিনি বলেছেন, তিনি তোমাকে এক পূতঃপবিত্র পুত্র দান করবেন।
قَالَتْ اَنّٰی یَكُوْنُ لِیْ غُلٰمٌ وَّ لَمْ یَمْسَسْنِیْ بَشَرٌ وَّ لَمْ اَكُ بَغِیًّا 20
20. মারিয়াম বিস্ময়ে বললো, আমার ছেলে হবে কিভাবে? আমার তো কোনো স্বামী নেই; কিংবা আমি তো ব্যভিচারকারিনীও নই।
قَالَ كَذٰلِكِ ۚ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَیَّ هَیِّنٌ ۚ وَ لِنَجْعَلَهٗۤ اٰیَةً لِّلنَّاسِ وَ رَحْمَةً مِّنَّا ۚ وَ كَانَ اَمْرًا مَّقْضِیًّا 21
21. ফেরেশতা বললো, হ্যাঁ, হবে। স্বাভাবিকভাবেই হবে। তোমার রব বলেছেন, এটা আমার জন্য অতি সহজ কাজ। আর তাকে এ অলৌকিকভাবে সৃষ্টি করার আসল রহস্য হচ্ছে, সে জগতবাসীর কাছে আমার এক বড় নিদর্শন ও করুণাস্বরূপ হবে। এটা ঘটবেই, এ ব্যাপারে ফায়সালা হয়ে গেছে।
فَحَمَلَتْهُ فَانْتَبَذَتْ بِهٖ مَكَانًا قَصِیًّا 22
22. এভাবেই মারিয়াম অলৌকিকভাবে গর্ভে সন্তান ধারণ করলো এবং এক পর্যায়ে সে নগরী ছেড়ে দূরের এক নির্জন এলাকায় চলে গেলো।
فَاَجَآءَهَا الْمَخَاضُ اِلٰی جِذْعِ النَّخْلَةِ ۚ قَالَتْ یٰلَیْتَنِیْ مِتُّ قَبْلَ هٰذَا وَ كُنْتُ نَسْیًا مَّنْسِیًّا 23
23. এরপর এক সময় তার প্রসব বেদনা উঠলো। সে একটা খেজুর গাছের নিচে এসে বসে পড়লো। লোকলজ্জার ভয়ে সে বলতে লাগলো, হায়! যদি এ দিন দেখার আগেই মারা যেতাম। হায়! যদি লোকদের স্মৃতি থেকে আমার নাম-নিশানা মুছে যেতো।
فَنَادٰىهَا مِنْ تَحْتِهَاۤ اَلَّا تَحْزَنِیْ قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِیًّا 24
24. তখন ফেরেশতা নিচুভ‚মিতে দাঁড়িয়ে আওয়াজ দিয়ে বললো, হে মারিয়াম, তুমি দুঃখ করোনা। দেখো, তোমার রব তোমার পায়ের নিচে একটি পানির স্রোতস্বিনী বয়ে দিয়েছেন।
وَ هُزِّیْۤ اِلَیْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسٰقِطْ عَلَیْكِ رُطَبًا جَنِیًّاؗ 25
25. আর তোমার হাতের ঐ খেজুর গাছটিকে একটু নাড়া দাও, দেখবে তাজা পাকা খেজুর তোমার জন্য ঝরে পড়ছে।
فَكُلِیْ وَ اشْرَبِیْ وَ قَرِّیْ عَیْنًا ۚ فَاِمَّا تَرَیِنَّ مِنَ الْبَشَرِ اَحَدًا ۙ فَقُوْلِیْۤ اِنِّیْ نَذَرْتُ لِلرَّحْمٰنِ صَوْمًا فَلَنْ اُكَلِّمَ الْیَوْمَ اِنْسِیًّاۚ 26
26. অতএব এখন তুমি খেজুর খাও, পানি পান করো এবং নিজের সন্তান দেখে চোখ জুড়াও। এরপর কোনো মানুষকে দেখলে বলবে, আমি দয়াময়ের উদ্দেশ্যে মৌনতা মানত করেছি। তাই আমি কারো সাথে এ ব্যাপারে কোনো কথাই বলবো না।
فَاَتَتْ بِهٖ قَوْمَهَا تَحْمِلُهٗ ؕ قَالُوْا یٰمَرْیَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَیْـًٔا فَرِیًّا 27
27. এরপর মারিয়াম তার সন্তানটিকে কোলে নিয়ে নিজ সম্প্রদায়ের সামনে হাজির হলো। লোকেরা বললো, মারিয়াম! এ কী? তুমি তো জঘন্য পাপ করে এসেছো!
یٰۤاُخْتَ هٰرُوْنَ مَا كَانَ اَبُوْكِ امْرَاَ سَوْءٍ وَّ مَا كَانَتْ اُمُّكِ بَغِیًّاۖۚ 28
28. হে হারুন বংশের মেয়ে, এ কাজ তুমি কিভাবে করলে? তোমার পিতা তো অসৎ ছিলো না। তোমার মা-ও তো ব্যভিচারিনী ছিলো না।
فَاَشَارَتْ اِلَیْهِ ؕ قَالُوْا كَیْفَ نُكَلِّمُ مَنْ كَانَ فِی الْمَهْدِ صَبِیًّا 29
29. মারিয়াম কোনো কথা না বলে, কোলের শিশুর দিকে ইশারা করলো। লোকেরা বললো, তোমার কোলের এ বাচ্চা শিশুর সাথে আমরা কিভাবে কথা বলবো?
قَالَ اِنِّیْ عَبْدُ اللّٰهِ ؕ۫ اٰتٰىنِیَ الْكِتٰبَ وَ جَعَلَنِیْ نَبِیًّاۙ 30
30. হঠাৎ করে শিশুর জবান খুলে গেলো। সে সবার সামনেই বলে উঠলো, নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা। আমাকে কিতাব দেয়া হয়েছে এবং তোমাদের কাছে নবী করে পাঠানো হয়েছে।
َّ جَعَلَنِیْ مُبٰرَكًا اَیْنَ مَا كُنْتُ ۪ وَ اَوْصٰنِیْ بِالصَّلٰوةِ وَ الزَّكٰوةِ مَا دُمْتُ حَیًّا ۪ۖ 31
31. আর জেনে রেখো, আল্লাহ আমাকে বরকতময় করেছেন আমি যেখানে যে অবস্থায় থাকি না কেন। আমাকে আদেশ দিয়েছেন, জীবন থাকা পর্যন্ত সর্বদা নামাজ কায়েম করতে এবং যাকাত আদায় করতে।
وَّ بَرًّۢا بِوَالِدَتِیْ ؗ وَ لَمْ یَجْعَلْنِیْ جَبَّارًا شَقِیًّا 32
32. তিনি আমাকে আমার মায়ের সেবক বানিয়েছেন। আমাকে এ জগতে উদ্ধত-অহংকারী কিংবা হতভাগা করেননি।
وَ السَّلٰمُ عَلَیَّ یَوْمَ وُلِدْتُّ وَ یَوْمَ اَمُوْتُ وَ یَوْمَ اُبْعَثُ حَیًّا 33
33. আর আমার জন্মদিনে ও মৃত্যুদিনে এবং পুনরুত্থান দিনেও আমার প্রতি সালাম।
ذٰلِكَ عِیْسَی ابْنُ مَرْیَمَ ۚ قَوْلَ الْحَقِّ الَّذِیْ فِیْهِ یَمْتَرُوْنَ 34
34. হে নবী, এটাই হচ্ছে মারিয়ামপুত্র ঈসার আসল জন্মবৃত্তান্ত। অথচ এ ব্যাপারে মূর্খরা নানা কথা প্রচার করছে।
مَا كَانَ لِلّٰهِ اَنْ یَّتَّخِذَ مِنْ وَّلَدٍ ۙ سُبْحٰنَهٗ ؕ اِذَا قَضٰۤی اَمْرًا فَاِنَّمَا یَقُوْلُ لَهٗ كُنْ فَیَكُوْنُؕ 35
35. লোকেরা জেনে রাখুক, সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহর কাজ নয়। তিনি এসব থেকে পূতঃপবিত্র এবং মহামহিম। বরং তিনি যখন কোনো কিছু করতে চান, শুধু হুকুম করেন, ‘হও’, আর সাথেসাথেই তা হয়ে যায়।
وَ اِنَّ اللّٰهَ رَبِّیْ وَ رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوْهُ ؕ هٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِیْمٌ 36
36. আর ঈসার দাওয়াত তো এটাই ছিলো যে, হে লোকেরা, নিশ্চয়ই আল্লাহই হচ্ছেন আমার এবং তোমাদের রব। কাজেই একমাত্র তাঁরই ইবাদত করো। এটাই হচ্ছে সরল, সহজ ও সত্য পথ।
فَاخْتَلَفَ الْاَحْزَابُ مِنْۢ بَیْنِهِمْ ۚ فَوَیْلٌ لِّلَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْ مَّشْهَدِ یَوْمٍ عَظِیْمٍ 37
37. কিন্তু এরপরেও বিভিন্ন দল ঈসার ব্যাপারে নানা অসত্য কথা বলে বেড়াচ্ছে। আসলে যারা সত্যকে অস্বীকার করে চলে, ওরাই মহাবিচারের দিন কঠিন দুর্ভাগ্যের শিকার হবে।
اَسْمِعْ بِهِمْ وَ اَبْصِرْ ۙ یَوْمَ یَاْتُوْنَنَا لٰكِنِ الظّٰلِمُوْنَ الْیَوْمَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ 38
38. হায়! বিচারের দিন ওরা যখন আমার সামনে হাজির হবে, তখন ওরা কতো চমৎকার ভাবেইনা সত্যকে শুনতে ও দেখতে পাবে! অথচ আজ এ জালেমেরা সুস্পষ্ট গোমরাহিতে পড়ে থাকছে।
وَ اَنْذِرْهُمْ یَوْمَ الْحَسْرَةِ اِذْ قُضِیَ الْاَمْرُ ۘ وَ هُمْ فِیْ غَفْلَةٍ وَّ هُمْ لَا یُؤْمِنُوْنَ 39
39. হে নবী, ওরা উদাসীন মনে সত্য বিমুখ থাকছে। তুমি ওদেরকে সতর্ক করো। কেননা পরিতাপের দিন যখন সবকিছুর চূড়ান্ত ফয়সালা হবে, তখন ওদের আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না।
اِنَّا نَحْنُ نَرِثُ الْاَرْضَ وَ مَنْ عَلَیْهَا وَ اِلَیْنَا یُرْجَعُوْنَ۠ 40
40. শেষ পর্যন্ত আমিই হবো এ পৃথিবী ও তার সমস্ত কিছুর উত্তরাধিকারী। সবকিছুই আমার কাছে ফিরে আসবে।
وَ اذْكُرْ فِی الْكِتٰبِ اِبْرٰهِیْمَ ؕ۬ اِنَّهٗ كَانَ صِدِّیْقًا نَّبِیًّا 41
41. হে নবী, তুমি আমার সত্যনিষ্ঠ বান্দা ইবরাহিমের জীবন কাহিনী লোকদেরকে শুনাও। আমি তাকে আমার নবী বানিয়েছিলাম।
اِذْ قَالَ لِاَبِیْهِ یٰۤاَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لَا یَسْمَعُ وَ لَا یُبْصِرُ وَ لَا یُغْنِیْ عَنْكَ شَیْـًٔا 42
42. একসময় ইবরাহিম তার পিতাকে বললো, হে আমার পিতা, আপনি কেন এমনসব ভ্রান্ত খোদাদের ইবাদত করছেন, যারা কোনো কথা শুনতে পায় না, কোনো কিছু দেখতে পায় না, এমনকি আপনার সামান্য কাজেও আসে না?
یٰۤاَبَتِ اِنِّیْ قَدْ جَآءَنِیْ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَمْ یَاْتِكَ فَاتَّبِعْنِیْۤ اَهْدِكَ صِرَاطًا سَوِیًّا 43
43. হে আমার পিতা, বরং আপনি আমায় অনুসরণ করুন। আমি আপনাকে জীবনের সহজ-সঠিক পথ দেখাবো। কেননা আমার কাছে এমন সত্যজ্ঞান এসেছে, যা আপনি পাননি।
یٰۤاَبَتِ لَا تَعْبُدِ الشَّیْطٰنَ ؕ اِنَّ الشَّیْطٰنَ كَانَ لِلرَّحْمٰنِ عَصِیًّا 44
44. হে পিতা, দয়াকরে শয়তানের উপাসনা করবেন না। আপনি তো জানেন যে, শয়তান দয়াময় আল্লাহর অবাধ্য হয়েছে।
یٰۤاَبَتِ اِنِّیْۤ اَخَافُ اَنْ یَّمَسَّكَ عَذَابٌ مِّنَ الرَّحْمٰنِ فَتَكُوْنَ لِلشَّیْطٰنِ وَلِیًّا 45
45. হে আমার পিতা, আমার ভয় হচ্ছে, আপনি হয়ত শয়তানের অনুগামী হয়ে যাবেন। ফলে আপনার উপর দয়াময় আল্লাহর কঠিন আযাব এসে পড়বে।
قَالَ اَرَاغِبٌ اَنْتَ عَنْ اٰلِهَتِیْ یٰۤاِبْرٰهِیْمُ ۚ لَىِٕنْ لَّمْ تَنْتَهِ لَاَرْجُمَنَّكَ وَ اهْجُرْنِیْ مَلِیًّا 46
46. জবাবে পিতা বললো, হে ইবরাহিম, তবে কি তুমি আমার খোদাদের থেকে বিমুখ হয়েছো? যদি তুমি আমার খোদাদের বিরুদ্ধাচরণ বন্ধ না করো, তবে আমি তোমাকে জনতার সামনে পাথর মেরে হত্যা করবো। এখন তুমি আমার সামনে থেকে দূর হয়ে যাও।
قَالَ سَلٰمٌ عَلَیْكَ ۚ سَاَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّیْ ؕ اِنَّهٗ كَانَ بِیْ حَفِیًّا 47
47. ইবরাহিম বললো, হে আমার পিতা, আপনি শান্তিতে থাকুন। আমি চলে যাচ্ছি। তবে আমি আমার রবের কাছে আপনার ক্ষমার জন্য দোয়া করবো। আমার রব আমার প্রতি বড়ই দয়ালু।
وَ اَعْتَزِلُكُمْ وَ مَا تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَ اَدْعُوْا رَبِّیْ ۖؗ عَسٰۤی اَلَّاۤ اَكُوْنَ بِدُعَآءِ رَبِّیْ شَقِیًّا 48
48. আমি আপনাদেরকে এবং আল্লাহ ছাড়া আপনাদের অন্যান্য যেসব খোদা রয়েছে, তাদের সবাইকে ছেড়ে যাচ্ছি। আমি শুধু আমার রবকেই ডাকবো। আশা করি তাঁকে ডেকে আমি কখনোই খালি হাতে ফিরবো না।
فَلَمَّا اعْتَزَلَهُمْ وَ مَا یَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ۙ وَهَبْنَا لَهٗۤ اِسْحٰقَ وَ یَعْقُوْبَ ؕ وَ كُلًّا جَعَلْنَا نَبِیًّا 49
49. তারপর সে সত্যিই তাদের ও তাদের অন্যান্য ভ্রান্ত খোদাদের ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলো। এভাবেই এক সময় আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকুবকে দান করলাম। তাদেরকেও আমি নবুওয়াতের মর্যাদা দিলাম।
وَ وَهَبْنَا لَهُمْ مِّنْ رَّحْمَتِنَا وَ جَعَلْنَا لَهُمْ لِسَانَ صِدْقٍ عَلِیًّا۠ 50
50. আমি তাদের প্রত্যেককেই আপন অনুগ্রহে সিক্ত করলাম। তাদের সুনাম-সুখ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে দিলাম।
وَ اذْكُرْ فِی الْكِتٰبِ مُوْسٰۤی ؗ اِنَّهٗ كَانَ مُخْلَصًا وَّ كَانَ رَسُوْلًا نَّبِیًّا 51
51. হে নবী, এবার তাহলে মুসার কথা পড়ে শুনাও। তাকে আমি বিশেষভাবে বাছাই করে নিয়েছিলাম। আমি তাকে সংবাদ বহনকারী রসুল হিসাবে পাঠিয়েছিলাম।
وَ نَادَیْنٰهُ مِنْ جَانِبِ الطُّوْرِ الْاَیْمَنِ وَ قَرَّبْنٰهُ نَجِیًّا 52
52. আমি তাকে তুর পাহাড়ের ডানদিক থেকে ডাকলাম এবং একান্ত আলাপের মাধ্যমে তাকে আমার নৈকট্য লাভের মর্যাদা দিলাম।
وَ وَهَبْنَا لَهٗ مِنْ رَّحْمَتِنَاۤ اَخَاهُ هٰرُوْنَ نَبِیًّا 53
53. বিশেষ অনুগ্রহ হিসাবে তার ভাই হারুনকেও নবীরূপে তার সহযোগী বানালাম।
وَ اذْكُرْ فِی الْكِتٰبِ اِسْمٰعِیْلَ ؗ اِنَّهٗ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَ كَانَ رَسُوْلًا نَّبِیًّاۚ 54
54. হে নবী, এ কিতাবে বর্ণিত ইসমাঈলের আলাপও লোকদেরকে কিছুটা শুনাও। নিশ্চয়ই সে ছিলো যথার্থ ওয়াদা পালনকারী এবং আমার সত্যের বাণীবাহক এক রসুল।
وَ كَانَ یَاْمُرُ اَهْلَهٗ بِالصَّلٰوةِ وَ الزَّكٰوةِ ۪ وَ كَانَ عِنْدَ رَبِّهٖ مَرْضِیًّا 55
55. সে সর্বদাই নিজ লোকদেরকে নামাজ কায়েম ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতো। সে তার রবের বড়ই পছন্দনীয় ব্যক্তি ছিলো।
وَ اذْكُرْ فِی الْكِتٰبِ اِدْرِیْسَ ؗ اِنَّهٗ كَانَ صِدِّیْقًا نَّبِیًّاۗۙ 56
56. হে নবী, এ কিতাবে উল্লিখিত ইদরিসের কথাও একটু শুনাও। সে ছিলো আমার এক বড়ই সত্যনিষ্ঠ নবী।
وَّ رَفَعْنٰهُ مَكَانًا عَلِیًّا 57
57. আমি তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করেছিলাম।
اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ اَنْعَمَ اللّٰهُ عَلَیْهِمْ مِّنَ النَّبِیّٖنَ مِنْ ذُرِّیَّةِ اٰدَمَ ۗ وَ مِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوْحٍ ؗ وَّ مِنْ ذُرِّیَّةِ اِبْرٰهِیْمَ وَ اِسْرَآءِیْلَ ؗ وَ مِمَّنْ هَدَیْنَا وَ اجْتَبَیْنَا ؕ اِذَا تُتْلٰی عَلَیْهِمْ اٰیٰتُ الرَّحْمٰنِ خَرُّوْا سُجَّدًا وَّ بُكِیًّا۩ 58
58. যেসব নবীগণ আদমের বংশ, নুহের সাথে বেঁচে যাওয়া লোকদের বংশ, ইবরাহিম ও ইসরাইলের বংশ থেকে এসেছিলো, আল্লাহ তাদের মধ্যে এদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেছেন। তাদেরকে সত্য-সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং নিজ কাজের জন্য বাছাই করে নিয়েছেন। বাস্তবে তাদের সামনে দয়াময় আল্লাহর কোনো আয়াত পড়ে শোনানো হলে, তারা সথে সাথেই অশ্রুসিক্ত নয়নে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে। (সিজদা)
فَخَلَفَ مِنْۢ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ اَضَاعُوا الصَّلٰوةَ وَ اتَّبَعُوا الشَّهَوٰتِ فَسَوْفَ یَلْقَوْنَ غَیًّاۙ 59
59. কিন্তু তাদের পরবর্তী প্রজন্ম কালক্রমে বড়ই অসৎ হয়ে পড়লো। ওরা নানাভাবে নিজেদের নামাজ থেকে দূরে সরে গেলো এবং প্রবৃত্তির খেয়াল-খুশি অনুযায়ী চলতে লাগলো। হায়! শীঘ্রই সময় আসবে, যখন ওরা নিজেদের অপকর্মের শাস্তির মুখোমুখি হবে।
اِلَّا مَنْ تَابَ وَ اٰمَنَ وَ عَمِلَ صَالِحًا فَاُولٰٓىِٕكَ یَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ وَ لَا یُظْلَمُوْنَ شَیْـًٔاۙ 60
60. তবে যারা নিষ্ঠার সাথে তওবা করেছে, সত্যকে মেনে নিয়েছে এবং সৎকাজ করে চলেছে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের প্রতি বিন্দু পরিমাণও অবিচার করা হবে না।
جَنّٰتِ عَدْنِ ِ۟الَّتِیْ وَعَدَ الرَّحْمٰنُ عِبَادَهٗ بِالْغَیْبِ ؕ اِنَّهٗ كَانَ وَعْدُهٗ مَاْتِیًّا 61
61. লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা এ স্থায়ী জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দয়াময় আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে দিয়েছেন। মনে রেখো, দয়াময়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ হবেই।
لَا یَسْمَعُوْنَ فِیْهَا لَغْوًا اِلَّا سَلٰمًا ؕ وَلَهُمْ رِزْقُهُمْ فِیْهَا بُكْرَةً وَّعَشِیًّا 62
62. সেদিন জান্নাতে কেউ কাউকে কোনো আজেবাজে কথা বলবে না; বরং প্রত্যেকেই শান্তি ও নিরাপদ আচরণ পাবে। আর সেখানে তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উত্তম জীবিকা লাভ করবে।
تِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِیْ نُوْرِثُ مِنْ عِبَادِنَا مَنْ كَانَ تَقِیًّا 63
63. মনে রেখো, আমার মুত্তাকী বান্দারাই এসব জান্নাতের উত্তরাধিকার লাভ করবে।
وَ مَا نَتَنَزَّلُ اِلَّا بِاَمْرِ رَبِّكَ ۚ لَهٗ مَا بَیْنَ اَیْدِیْنَا وَ مَا خَلْفَنَا وَ مَا بَیْنَ ذٰلِكَ ۚ وَ مَا كَانَ رَبُّكَ نَسِیًّاۚ 64
64. জিবরাইল বললো, হে নবী, আপনার রবের নির্দেশ না পেলে আমি অহি নিয়ে আপনার কাছে হাজির হতে পারি না। আমাদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সবকিছুই তাঁর একক মালিকানায় রয়েছে। আর হ্যাঁ, আপনার রব কখনোই আপনাকে ভুলে যাননি।
رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ مَا بَیْنَهُمَا فَاعْبُدْهُ وَ اصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهٖ ؕ هَلْ تَعْلَمُ لَهٗ سَمِیًّا۠ 65
65. হে নবী, আল্লাহই এ মহাবিশ্বের একমাত্র রব। সুতরাং একমাত্র তাঁরই ইবাদত করো এবং সর্বশক্তি নিয়োগ করে এ কাজে লেগে থেকো। তুমি কী তাঁর সমতুল্য আর কাউকে জানো?
وَ یَقُوْلُ الْاِنْسَانُ ءَاِذَا مَا مِتُّ لَسَوْفَ اُخْرَجُ حَیًّا 66
66. অথচ মানুষ প্রায়শই বলে, আমরা মরে পঁচে-গলে যাবার পর আমাদেরকে আবার কিভাবে জীবিত করে উঠানো হবে?
اَوَ لَا یَذْكُرُ الْاِنْسَانُ اَنَّا خَلَقْنٰهُ مِنْ قَبْلُ وَ لَمْ یَكُ شَیْـًٔا 67
67. হায়! এসব তারা কি ভেবে দেখে না, ইতোপূর্বে যখন তার কোনো অস্তিত্বই ছিলো না, সেখান থেকে তাকে আমিই সৃষ্টি করেছি?
فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَ الشَّیٰطِیْنَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِیًّاۚ 68
68. সুতরাং তোমার রবের কসম খেয়ে বলছি, আমি অবশ্যই মহাবিচারের দিন ওদেরকে ও ওদের প্ররোচক শয়তানদের হাজির করবো। অতঃপর ওদের সবাইকে জাহান্নামের চারপাশে হাঁটুগেড়ে বসিয়ে রাখবো।
ثُمَّ لَنَنْزِعَنَّ مِنْ كُلِّ شِیْعَةٍ اَیُّهُمْ اَشَدُّ عَلَی الرَّحْمٰنِ عِتِیًّاۚ 69
69. এরপর প্রত্যেক দলের ভিতর থেকে বাছাই করে দয়াময়ের সবচেয়ে অবাধ্যদের আলাদা করবো।
ثُمَّ لَنَحْنُ اَعْلَمُ بِالَّذِیْنَ هُمْ اَوْلٰی بِهَا صِلِیًّا 70
70. আর আমি ভালো করেই জানি, ওদের মধ্যে কাদেরকে সবার আগে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে হবে।
وَ اِنْ مِّنْكُمْ اِلَّا وَارِدُهَا ۚ كَانَ عَلٰی رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِیًّاۚ 71
71. সেদিন তোমাদের প্রত্যেককেই জাহান্নামের উপরের পুলসিরাত পার হতে হবে। এটা তোমার রবের চুড়ান্ত ফায়সালা।
ثُمَّ نُنَجِّی الَّذِیْنَ اتَّقَوْا وَّ نَذَرُ الظّٰلِمِیْنَ فِیْهَا جِثِیًّا 72
72. সেদিন আমি কেবল মুত্তাকী বান্দাদেরকে রক্ষা করবো। আর অবাধ্য জালেমদেরকে নতজানু অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো।
وَ اِذَا تُتْلٰی عَلَیْهِمْ اٰیٰتُنَا بَیِّنٰتٍ قَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لِلَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا ۙ اَیُّ الْفَرِیْقَیْنِ خَیْرٌ مَّقَامًا وَّ اَحْسَنُ نَدِیًّا 73
73. হায়! এ কাফেরদের সামনে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াত পড়া হয়, তখন ওরা দাম্ভিক সুরে ঈমানদারদের বলে, দেখো! তোমাদের ও আমাদের মধ্যে কাদের জীবনমান অনেক উন্নত এবং কাদের সমাবেশগুলো অনেক বেশি জাঁকজমকপূর্ণ ও লোকে লোকারণ্য?
وَ كَمْ اَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِّنْ قَرْنٍ هُمْ اَحْسَنُ اَثَاثًا وَّ رِءْیًا 74
74. অথচ ওদের আগে আমি কতো সম্প্রদায়কেইনা ধ্বংস করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছি, যারা ওদের চেয়ে ধন-সম্পত্তিতে, সাজ-সরঞ্জামে ও জাঁকজমকে অনেক অগ্রসর ছিলো।
قُلْ مَنْ كَانَ فِی الضَّلٰلَةِ فَلْیَمْدُدْ لَهُ الرَّحْمٰنُ مَدًّا ۚ۬ حَتّٰۤی اِذَا رَاَوْا مَا یُوْعَدُوْنَ اِمَّا الْعَذَابَ وَ اِمَّا السَّاعَةَ ؕ فَسَیَعْلَمُوْنَ مَنْ هُوَ شَرٌّ مَّكَانًا وَّ اَضْعَفُ جُنْدًا 75
75. হে নবী, ওদেরকে বলো, যারা গোমরাহির মধ্যে ডুবে আছে, মূলত দয়াময় আল্লাহ ওদেরকে কিছুদিনের অবকাশ দিয়ে রেখেছেন। এ অবকাশ অব্যাহত থাকবে আল্লাহর ওয়াদা বাস্তবায়িত হওয়া পর্যন্ত তা আল্লাহর আযাব হোক কিংবা কিয়ামতের সময় হোক। সময় এসে পড়লে ওরা ভালোভাবেই জানতে পারবে, কারা নিকৃষ্ট লোক! কারা দুর্বল দল!
وَ یَزِیْدُ اللّٰهُ الَّذِیْنَ اهْتَدَوْا هُدًی ؕ وَ الْبٰقِیٰتُ الصّٰلِحٰتُ خَیْرٌ عِنْدَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَّ خَیْرٌ مَّرَدًّا 76
76. অপরদিকে যারা সত্য-সঠিক পথে চলতে থাকে, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সত্যপথে আরো দৃঢ়ভাবে চলার দেন । সন্দেহ নেই, চলমান এ সৎকর্ম তোমার রবের কাছে উত্তম পুরস্কার নিশ্চিত করবে এবং এর পরিণতিও হবে অতি চমৎকার।
اَفَرَءَیْتَ الَّذِیْ كَفَرَ بِاٰیٰتِنَا وَ قَالَ لَاُوْتَیَنَّ مَالًا وَّ وَلَدًاؕ 77
77. হে নবী, তুমি কি ভাবতে পারো, ওরা আমার আয়াতকে ক্রমাগত অস্বীকার করছে; অথচ বলে বেড়ায়, ওকে নাকি আগামীতে আরো বেশি ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি দেয়া হবে।
اَطَّلَعَ الْغَیْبَ اَمِ اتَّخَذَ عِنْدَ الرَّحْمٰنِ عَهْدًاۙ 78
78. আজব! সে কি ভবিষ্যতের খবর পেয়ে গেছে, নাকি দয়াময়ের কাছ থেকে ইতোমধ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে?
كَلَّا ؕ سَنَكْتُبُ مَا یَقُوْلُ وَ نَمُدُّ لَهٗ مِنَ الْعَذَابِ مَدًّاۙ 79
79. না, কখনো নয়। সে যে কথা বলে বেড়াচ্ছে, আমি তা লিখে রাখছি। এখন তার জন্য কেবল শাস্তির পরিমাণই বাড়াবো।
وَّ نَرِثُهٗ مَا یَقُوْلُ وَ یَاْتِیْنَا فَرْدًا 80
80. মৃত্যুর সাথেসাথেই তার সব অর্থবল ও জনবল আমার মালিকানায় পড়ে থাকবে। সে একাকী নিঃস্ব অবস্থায় আমার সামনে হাজির হবে।
وَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اٰلِهَةً لِّیَكُوْنُوْا لَهُمْ عِزًّاۙ 81
81. ওরা আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য ভ্রান্ত খোদার উপাসনা করছে এটা ভেবে যে, ঐ খোদারা ওদের সহায় হবে।
كَلَّا ؕ سَیَكْفُرُوْنَ بِعِبَادَتِهِمْ وَ یَكُوْنُوْنَ عَلَیْهِمْ ضِدًّا۠ 82
82. কিন্তু না, কেউ ওদের সহায় হবে না; বরং উল্টো মহাবিচারের দিন ওদের এ উপসনাকে অস্বীকার করবে এবং সরাসরি তারা ওদের বিপক্ষে অবস্থান নিবে।
اَلَمْ تَرَ اَنَّاۤ اَرْسَلْنَا الشَّیٰطِیْنَ عَلَی الْكٰفِرِیْنَ تَؤُزُّهُمْ اَزًّاۙ 83
83. হে নবী, তুমি কি লক্ষ্য করেছো, আমি কাফেরদের পিছনে সকল শয়তানি শক্তিকে লাগিয়ে দিয়েছি, যাতে ওরা আরো বেশি পাপাচারে ডুবে যায়?
فَلَا تَعْجَلْ عَلَیْهِمْ ؕ اِنَّمَا نَعُدُّ لَهُمْ عَدًّاۚ 84
84. অতএব তুমি ওদের উপর আমার আযাব দেখার জন্য বেশি অস্থির হয়ে পড়ো না। কেননা ইতোমধ্যেই আমি ওদের ব্যাপারে দিন গণনা শুরু করে দিয়েছি।
یَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِیْنَ اِلَی الرَّحْمٰنِ وَفْدًاۙ 85
85. সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন মুত্তাকী বান্দাদের দয়াময়ের দরবারে মেহমান হিসাবে অভ্যর্থনা জানানো হবে।
وَّ نَسُوْقُ الْمُجْرِمِیْنَ اِلٰی جَهَنَّمَ وِرْدًاۘ 86
86. আর অপরাধী-পাপীদেরকে তৃষ্ণার্ত পশু পালের মতো জাহান্নামের দিকে হাকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
لَا یَمْلِكُوْنَ الشَّفَاعَةَ اِلَّا مَنِ اتَّخَذَ عِنْدَ الرَّحْمٰنِ عَهْدًاۘ 87
87. সেদিন দয়াময়ের অনুমতিপ্রাপ্ত বান্দা ছাড়া আর কারোরই সুপারিশ করার ক্ষমতা থাকবে না।
وَ قَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمٰنُ وَلَدًاؕ 88
88. ঐসব পাপীরা বলে, দয়াময়েরও সন্তান রয়েছে।
لَقَدْ جِئْتُمْ شَیْـًٔا اِدًّاۙ 89
89. ছি! কী জঘন্য ও বীভৎস কথাইনা ওরা বলছে!
تَكَادُ السَّمٰوٰتُ یَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَ تَنْشَقُّ الْاَرْضُ وَ تَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّاۙ 90
90. এটা এমন অপবাদ, যাতে আকাশ ফেটে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। জমিন বিদীর্ণ হয়ে খান খান হয়ে যাবে। এমনকি পাহাড়গুলো পর্যন্ত চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়বে।
اَنْ دَعَوْا لِلرَّحْمٰنِ وَلَدًاۚ 91
91. ওরা কিভাবে দয়াময়ের জন্য সন্তান নেয়ার অপবাদ দিতে পারলো?
وَ مَا یَنْۢبَغِیْ لِلرَّحْمٰنِ اَنْ یَّتَّخِذَ وَلَدًاؕ 92
92. অথচ সত্য হচ্ছে, দয়াময়ের পক্ষে কোনো সন্তান গ্রহণ করা কোনোভাবেই শোভনীয় নয়।
اِنْ كُلُّ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ اِلَّاۤ اٰتِی الرَّحْمٰنِ عَبْدًاؕ 93
93. মহাকাশ ও পৃথিবীতে যারা রয়েছে, তাদের প্রত্যেকেই দয়াময়ের দাস এবং কিয়ামত পর্যন্ত দাসই থাকবে।
لَقَدْ اَحْصٰىهُمْ وَ عَدَّهُمْ عَدًّاؕ 94
94. দয়াময় সবার সবকিছু জানেন এবং তিনি সবাইকেই ঠিকঠাকভাবে গুণে রেখেছেন।
وَ كُلُّهُمْ اٰتِیْهِ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ فَرْدًا 95
95. মহবিচারের দিনে ওদের প্রত্যেকেই একাকী তাঁর সামনে হাজির হবে।
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ سَیَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمٰنُ وُدًّا 96
96. যারা সত্যের প্রতি ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করে চলেছে, অচিরেই দয়াময় তাদেরকে আপন ভালোবাসায় ধন্য করবেন।
فَاِنَّمَا یَسَّرْنٰهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ بِهِ الْمُتَّقِیْنَ وَ تُنْذِرَ بِهٖ قَوْمًا لُّدًّا 97
97. হে নবী, এ কুরআনকে আমি তোমার ভাষায় সহজবোধ্য করে নাযিল করেছি, যাতে মুত্তাকীদের সুসংবাদ দিতে পারো এবং কলহবাজ-ঝগড়াটে লোকদের সতর্ক করতে পারো।
وَ كَمْ اَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِّنْ قَرْنٍ ؕ هَلْ تُحِسُّ مِنْهُمْ مِّنْ اَحَدٍ اَوْ تَسْمَعُ لَهُمْ رِكْزًا۠ 98
98. এসব ঝগড়াটেদের শিক্ষা নেয়া উচিত, আমি ওদের মতো বহু অবাধ্য জাতিকে ইতোপূর্বে ধ্বংস করেছি। আজ কি কোথাও তাদের নাম-নিশানা দেখতে পাও? কোথাও শুনতে পাও তাদের সামান্য ক্ষীণতম আওয়াজও?