25. আল ফুরকান
تَبٰرَكَ الَّذِیْ نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلٰی عَبْدِهٖ لِیَكُوْنَ لِلْعٰلَمِیْنَ نَذِیْرَاۙ 1
1. আল্লাহ বড়ই বরকতময়। তিনিই তাঁর বান্দা মুহাম্মদের উপর এ ফুরকান সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী মানদন্ড নাযিল করেছেন, যাতে সে জগতবাসীকে সতর্ক করতে পারে।
ِ۟الَّذِیْ لَهٗ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ لَمْ یَتَّخِذْ وَلَدًا وَّ لَمْ یَكُنْ لَّهٗ شَرِیْكٌ فِی الْمُلْكِ وَخَلَقَ كُلَّ شَیْءٍ فَقَدَّرَهٗ تَقْدِیْرًا 2
2. তিনিই মহাকাশ ও পৃথিবীর সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। তিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি। সার্বভৌমত্বে তাঁর কোনো ভাগীদার নেই। তিনিই মহাবিশ্বের প্রতিটি জিনিস সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের নির্দিষ্ট তকদির নির্ধারণ করেছেন।
وَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِهٖۤ اٰلِهَةً لَّا یَخْلُقُوْنَ شَیْـًٔا وَّ هُمْ یُخْلَقُوْنَ وَ لَا یَمْلِكُوْنَ لِاَنْفُسِهِمْ ضَرًّا وَّ لَا نَفْعًا وَّ لَا یَمْلِكُوْنَ مَوْتًا وَّ لَا حَیٰوةً وَّ لَا نُشُوْرًا 3
3. তা সত্ত্বেও মুশরিকেরা তাঁকে ত্যাগ করে কল্পিত কিছু উপাস্য গ্রহণ করেছে, যারা মহবিশ্বের কোনো কিছুই সৃষ্টি করেনি; বরং উল্টো নিজেরাই অন্যের হাতে সৃষ্ট। কী আজব! এমনকি এসব উপাস্যরা নিজেদের জন্যেও কোনো উপকার বা অপকার করার সামর্থ রাখে না। এরা না কোনো জীবন সৃষ্টি করতে পারে, আর না কাউকে মারতে পারে। এমনকি, কাউকে পুনর্জীবন দেয়ার ক্ষমতাও তাদের নেই।
وَ قَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِنْ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اِفْكُ ِ۟افْتَرٰىهُ وَ اَعَانَهٗ عَلَیْهِ قَوْمٌ اٰخَرُوْنَ ۛۚ فَقَدْ جَآءُوْ ظُلْمًا وَّ زُوْرًاۚۛ 4
4. এসব কাফেরেরা বলে বেড়াচ্ছে, এ কুরআন তো আল্লাহর নয়; বরং মুহাম্মদের নিজের মনগড়া জিনিস। সে নিজেই এসব রচনা করে নিয়েছে এবং অন্য কিছু লোকও তাকে এ কাজে সাহায্য করছে। হায়! ওরা বড়ই জুলুম ও মিথ্যার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে।
وَ قَالُوْۤا اَسَاطِیْرُ الْاَوَّلِیْنَ اكْتَتَبَهَا فَهِیَ تُمْلٰی عَلَیْهِ بُكْرَةً وَّ اَصِیْلًا 5
5. ওরা বলে, এসব তো পুরোনো দিনের কেচ্ছা-কাহিনী, যা সে নিজেই লিখিয়ে নিয়েছে। আর অন্যরা সকাল-সন্ধ্যায় তাকে এসব পড়ে শোনায়।
قُلْ اَنْزَلَهُ الَّذِیْ یَعْلَمُ السِّرَّ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ اِنَّهٗ كَانَ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا 6
6. হে নবী, তুমি বলে দাও, না! বরং এ কিতাব তিনিই নাযিল করেছেন, যিনি মহাকাশ ও পৃথিবীর সুক্ষ্নাতিসুক্ষ্ণ প্রতিটি গোপন রহস্য জানেন। আর বাস্তবিকই তিনি অতীব ক্ষমাশীল, পরমদয়ালু।
وَ قَالُوْا مَالِ هٰذَا الرَّسُوْلِ یَاْكُلُ الطَّعَامَ وَ یَمْشِیْ فِی الْاَسْوَاقِ ؕ لَوْ لَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْهِ مَلَكٌ فَیَكُوْنَ مَعَهٗ نَذِیْرًاۙ 7
7. ওরা বলে, এ আবার কেমন রসুল, যে আমাদের মতোই খাওয়া-দাওয়া করে, হাট-বাজারে ঘুরে বেড়ায়? আচ্ছা! তার সাথে একজন দৃশ্যমান ফেরেশতা কেন পাঠানো হলো না, যে তার সাথে ঘুরে ঘুরে তার অমান্যকারীদের ভয় দেখাতো?
اَوْ یُلْقٰۤی اِلَیْهِ كَنْزٌ اَوْ تَكُوْنُ لَهٗ جَنَّةٌ یَّاْكُلُ مِنْهَا ؕ وَ قَالَ الظّٰلِمُوْنَ اِنْ تَتَّبِعُوْنَ اِلَّا رَجُلًا مَّسْحُوْرًا 8
8. অথবা অন্ততপক্ষে তার জন্য কোনো ধনভান্ডার নাযিল করা হতো, কিংবা একান্ত কিছু না দিলেও একটা বাগান দেয়া হতো, যা থেকে সে অনায়াসে খেতে পারতো! এ জালেমেরা পরস্পরকে বলে, তোমরা যদি তাকে অনুসরণ করো, তবে একজন যাদুগ্রস্ত লোককেই অনুসরণ করা হবে।
اُنْظُرْ كَیْفَ ضَرَبُوْا لَكَ الْاَمْثَالَ فَضَلُّوْا فَلَا یَسْتَطِیْعُوْنَ سَبِیْلًا۠ 9
9. হে নবী, ভেবে দেখো, কী সব উদ্ভট যুক্তি ওরা তোমার সামনে খাড়া করছে! আসলে ওরা ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে পড়েছে। ফলে সঠিক পথে আসার রাস্তাই খুঁজে পাচ্ছে না।
تَبٰرَكَ الَّذِیْۤ اِنْ شَآءَ جَعَلَ لَكَ خَیْرًا مِّنْ ذٰلِكَ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ ۙ وَ یَجْعَلْ لَّكَ قُصُوْرًا 10
10. আল্লাহ বড়ই বরকতময়। তিনি চাইলেই ওরা যা বলছে তার চেয়ে অনেক ভালো জিনিস তোমাকে দিতে পারেন। তিনি তোমাকে শত-শত বাগবাগিচা দিতে পারেন, যার পাদদেশে থাকবে প্রবহমান ঝর্নাধারা। চাইলে তিনি বিশাল বিশাল সুরম্য প্রাসাদও তোমাকে দিতে পারেন।
بَلْ كَذَّبُوْا بِالسَّاعَةِ ۫ وَ اَعْتَدْنَا لِمَنْ كَذَّبَ بِالسَّاعَةِ سَعِیْرًاۚ 11
11. আসলে ওরা কিয়ামতকে মিথ্যা মনে করছে। জেনে রাখুক, যারা কিয়ামতকে মিথ্যা বলে, আমি ওদের জন্য জাহান্নামকে প্রস্তুত করে রেখেছি।
اِذَا رَاَتْهُمْ مِّنْ مَّكَانٍۭ بَعِیْدٍ سَمِعُوْا لَهَا تَغَیُّظًا وَّ زَفِیْرًا 12
12. ওরা সেদিন দূর থেকে দেখা মাত্রই জাহান্নামের ক্রুদ্ধ গর্জন ও ভয়াল চিৎকার শুনতে পাবে।
وَ اِذَاۤ اُلْقُوْا مِنْهَا مَكَانًا ضَیِّقًا مُّقَرَّنِیْنَ دَعَوْا هُنَالِكَ ثُبُوْرًاؕ 13
13. এরপর যখন ওদের সবাইকে একসাথে শিকলে বেঁধে জাহান্নামের সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন ওরা শুধু নিজেদের মৃত্যু ও বিনাশ কামনা করবে।
لَا تَدْعُوا الْیَوْمَ ثُبُوْرًا وَّاحِدًا وَّ ادْعُوْا ثُبُوْرًا كَثِیْرًا 14
14. তখন ওদের বলা হবে, আজ তোমরা শুধু একবার নয়, হাজার বারের জন্য মৃত্যু ও বিনাশ চাইতে থাকো।
قُلْ اَذٰلِكَ خَیْرٌ اَمْ جَنَّةُ الْخُلْدِ الَّتِیْ وُعِدَ الْمُتَّقُوْنَ ؕ كَانَتْ لَهُمْ جَزَآءً وَّ مَصِیْرًا 15
15. হে নবী, ওদেরকে জিজ্ঞেস করো, পরিণতি হিসাবে কোনটা উত্তম? জাহান্নাম নাকি সেই চিরস্থায়ী জান্নাত যার ওয়াদা মুত্তাকীদের জন্য করা হয়েছে? হ্যাঁ! জান্নাতই হলো মুত্তাকীদের পুরস্কার এবং জীবন যাত্রার আসল গন্তব্যস্থল।
لَهُمْ فِیْهَا مَا یَشَآءُوْنَ خٰلِدِیْنَ ؕ كَانَ عَلٰی رَبِّكَ وَعْدًا مَّسْـُٔوْلًا 16
16. সেখানে তারা যা চাইবে, তা-ই পাবে। চিরদিনের জন্যেই তারা এ সুখ ভোগ করবে। এ ওয়াদা পূরণ তোমার রবের নিজ দায়িত্বে থাকছে।
وَ یَوْمَ یَحْشُرُهُمْ وَ مَا یَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ فَیَقُوْلُ ءَاَنْتُمْ اَضْلَلْتُمْ عِبَادِیْ هٰۤؤُلَآءِ اَمْ هُمْ ضَلُّوا السَّبِیْلَؕ 17
17. জেনে রেখো, মহাবিচারের দিন আল্লাহ এসব মুশরিক ও তাদের ভ্রান্ত উপাস্যদের জড়ো করবেন। এরপর তিনি সেসব ভ্রান্ত উপাস্যদের জিজ্ঞেস করবেন, আচ্ছা! তোমরাই কি আমার এসব বান্দাদের পথভ্রষ্ট করেছিলে, নাকি ওরা নিজেরাই পথহারা হয়েছিলো?
قَالُوْا سُبْحٰنَكَ مَا كَانَ یَنْۢبَغِیْ لَنَاۤ اَنْ نَّتَّخِذَ مِنْ دُوْنِكَ مِنْ اَوْلِیَآءَ وَ لٰكِنْ مَّتَّعْتَهُمْ وَ اٰبَآءَهُمْ حَتّٰی نَسُوا الذِّكْرَ ۚ وَ كَانُوْا قَوْمًۢا بُوْرًا 18
18. সেদিন উপাস্যরা একযোগে বলবে, সুবহানাল্লহ! তুমি পবিত্র ও মহামহিম সত্ত্বা। আমরা তোমাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নিজেদের প্রভু হিসাবে কল্পনাও করতে পারি না। বরং হে প্রভু, তুমি ওদেরকে ও ওদের বাপ-দাদাকে এতো বেশি ভোগসামগ্রী দিয়েছিল যে, শেষ পর্যন্ত ওরা তোমাকেই ভুলে গেছে। আসলে ওরা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের জন্য দায়ী।
فَقَدْ كَذَّبُوْكُمْ بِمَا تَقُوْلُوْنَ ۙ فَمَا تَسْتَطِیْعُوْنَ صَرْفًا وَّ لَا نَصْرًا ۚ وَ مَنْ یَّظْلِمْ مِّنْكُمْ نُذِقْهُ عَذَابًا كَبِیْرًا 19
19. এভাবেই সেদিন তোমাদের এসব পূজ্য উপাস্যরাই তোমাদের দাবি-দাওয়াকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। সেদিন না তোমরা আল্লাহর শাস্তিকে ঠেকাতে পারবে, আর না কারো থেকে সাহায্য পাবে। নিশ্চিত থাকো, তোমাদের সীমালঙ্ঘনকারীরা ভয়ানক শাস্তি ভোগ করবে।
وَ مَاۤ اَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنَ الْمُرْسَلِیْنَ اِلَّاۤ اِنَّهُمْ لَیَاْكُلُوْنَ الطَّعَامَ وَ یَمْشُوْنَ فِی الْاَسْوَاقِ ؕ وَ جَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةً ؕ اَتَصْبِرُوْنَ ۚ وَ كَانَ رَبُّكَ بَصِیْرًا۠ 20
20. হে নবী, আমি তোমার পূর্বে যতো রসুল পাঠিয়েছি তারা সবাই খাওয়া-দাওয়া করতো। হাট-বাজারে চলাফেরা করতো। হে মানুষ, আসলে আমি তোমাদের একজনকে অন্যের জন্য পরীক্ষার মাধ্যম বানিয়েছি। কাজেই ধৈর্যের মাধ্যমে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে প্রস্তুত আছো কি? মনে রেখো, তোমাদের রব সবকিছুই পর্যবেক্ষণ করেন।
وَقَالَ الَّذِیْنَ لَا یَرْجُوْنَ لِقَآءَنَا لَوْ لَاۤ اُنْزِلَ عَلَیْنَا الْمَلٰٓىِٕكَةُ اَوْ نَرٰی رَبَّنَا ؕ لَقَدِ اسْتَكْبَرُوْا فِیْۤ اَنْفُسِهِمْ وَ عَتَوْ عُتُوًّا كَبِیْرًا 21
21. যারা আখেরাতে আমার সামনে দাঁড়ানোর কথা অস্বীকার করছে, ওরা বলে, আমাদের কাছে রসুল হিসাবে ফেরেশতা পাঠানো হলো না কেন? অথবা কেন আমরা সরাসরি আমাদের রবকে দেখতে পাচ্ছি না? আসলে ওদের অন্তর অহংকারে ছেয়ে গেছে এবং ওরা মাত্রারিতিরিক্ত সীমালঙ্ঘন করে চলছে।
یَوْمَ یَرَوْنَ الْمَلٰٓىِٕكَةَ لَا بُشْرٰی یَوْمَىِٕذٍ لِّلْمُجْرِمِیْنَ وَیَقُوْلُوْنَ حِجْرًا مَّحْجُوْرًا 22
22. যেদিন ওরা সত্যিই ফেরেশতাদের দেখবে, সেদিনটি এ অপরাধীদের জন্য মোটেই সুখকর হবে না; বরং ওরা আর্তনাদ করে বলবে, হায়! আমাদের বাঁচাও, বাঁচাও।
وَ قَدِمْنَاۤ اِلٰی مَا عَمِلُوْا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنٰهُ هَبَآءً مَّنْثُوْرًا 23
23. এরপর যখন ওদের কৃতকর্ম আমার সামনে পেশ করা হবে, তখন আমি তা বিক্ষিপ্ত ধুলোর মতো উড়িয়ে দিবো।
اَصْحٰبُ الْجَنَّةِ یَوْمَىِٕذٍ خَیْرٌ مُّسْتَقَرًّا وَّ اَحْسَنُ مَقِیْلًا 24
24. অন্যদিকে সেদিন বিচারের ময়দানে জান্নাতীরা উৎকৃষ্ট অবস্থানাস্থল ও চমৎকার বিশ্রামাগার লাভ করবে।
وَ یَوْمَ تَشَقَّقُ السَّمَآءُ بِالْغَمَامِ وَ نُزِّلَ الْمَلٰٓىِٕكَةُ تَنْزِیْلًا 25
25. কিয়ামতের দিন আকাশ ফেটে সাদা জ্বলজ্বলে মেঘপুঞ্জ বেরিয়ে আসবে এবং তার ভিতরেই ফেরেশতারা একের পর এক নেমে আসবে।
اَلْمُلْكُ یَوْمَىِٕذِ ِ۟الْحَقُّ لِلرَّحْمٰنِ ؕ وَ كَانَ یَوْمًا عَلَی الْكٰفِرِیْنَ عَسِیْرًا 26
26. সেদিন দয়াময় আল্লাহই সার্বভৌম কর্তৃত্বের একক মালিক হবেন। আর কাফেরদের জন্য সেদিনটি হবে বড়ই কঠিন ও দুর্ভাগ্যের।
وَ یَوْمَ یَعَضُّ الظَّالِمُ عَلٰی یَدَیْهِ یَقُوْلُ یٰلَیْتَنِی اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُوْلِ سَبِیْلًا 27
27. সীমালঙ্ঘনকারী পাপিষ্ঠরা সেদিন মনের দুঃখ-কষ্টে দুহাত কামড়াতে কামড়াতে বলবে, হায় আফসোস! সেদিন যদি রসুলদের কথা মতো চলতাম।
یٰوَیْلَتٰی لَیْتَنِیْ لَمْ اَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِیْلًا 28
28. হায়! দুর্ভাগ্য আমার! যদি সেদিন অমুক অমুককে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করতাম।
لَقَدْ اَضَلَّنِیْ عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ اِذْ جَآءَنِیْ ؕ وَ كَانَ الشَّیْطٰنُ لِلْاِنْسَانِ خَذُوْلًا 29
29. হায়! এসব বন্ধুদের খপ্পরে পড়েই তো আমি সেদিন কুরআনের উপদেশ মানিনি। ওরাই আমাকে বিভ্রান্ত করেছিলো। আর বাস্তবতা হচ্ছে, শয়তান মানুষের সাথে সবসময়ই বিশ্বাসঘাতকতা করে।
وَ قَالَ الرَّسُوْلُ یٰرَبِّ اِنَّ قَوْمِی اتَّخَذُوْا هٰذَا الْقُرْاٰنَ مَهْجُوْرًا 30
30. বিচারের দিন রসুল অভিযোগ দায়ের করে বলবেন, হে আমার রব, আমার জাতির এসব অবাধ্য লোকেরা তোমার কুরআনকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতো, পরিত্যাগ করতো।
وَ كَذٰلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِیٍّ عَدُوًّا مِّنَ الْمُجْرِمِیْنَ ؕ وَكَفٰی بِرَبِّكَ هَادِیًا وَّنَصِیْرًا 31
31. হে নবী, পূর্ববর্তী সকল নবীর সাথেই অবাধ্য পাপীরা শত্রুতা করেছে। ভয় পেয়ো না, তোমাকে সঠিক পথ দেখানো এবং সার্বিক সাহায্যের জন্য তোমার রবই যথেষ্ট।
وَ قَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَوْ لَا نُزِّلَ عَلَیْهِ الْقُرْاٰنُ جُمْلَةً وَّاحِدَةً ۛۚ كَذٰلِكَ ۛۚ لِنُثَبِّتَ بِهٖ فُؤَادَكَ وَ رَتَّلْنٰهُ تَرْتِیْلًا 32
32. কাফেরেরা প্রশ্ন করে, যদি এটা আল্লাহর পক্ষ থেকেই হবে, তবে পুরো কুরআন একবারে নাযিল হলো না কেন? হে নবী, আমি এ কারণেই ধাপে ধাপে একে নাযিল করেছি, যাতে এর কথাগুলো তোমার অন্তরে ভালোভাবে গেঁথে যায়।
وَ لَا یَاْتُوْنَكَ بِمَثَلٍ اِلَّا جِئْنٰكَ بِالْحَقِّ وَ اَحْسَنَ تَفْسِیْرًاؕ 33
33. আর হ্যাঁ! এটাও একটা উদ্দেশ্য যে, ওরা তোমার সামনে যতো ধরনের উদ্ভট প্রশ্ন ও দাবি-দাওয়া পেশ করে না কেন, যথাসময়ে তার সঠিক জবাব ও সুন্দর ব্যাখ্যা জানিয়ে দিতে পারি।
اَلَّذِیْنَ یُحْشَرُوْنَ عَلٰی وُجُوْهِهِمْ اِلٰی جَهَنَّمَ ۙ اُولٰٓىِٕكَ شَرٌّ مَّكَانًا وَّ اَضَلُّ سَبِیْلًا۠ 34
34. অতএব ওদের বলো, সেদিন যাদেরকে উপুড় করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিয়ে ফেলা হবে, ওদের গন্তব্যস্থল হবে অতি নিকৃষ্ট। বাস্তবে ওদের চিন্তা-চেতনা ছিলো চুড়ান্তভাবে ভ্রষ্ট।
وَ لَقَدْ اٰتَیْنَا مُوْسَی الْكِتٰبَ وَ جَعَلْنَا مَعَهٗۤ اَخَاهُ هٰرُوْنَ وَزِیْرًاۚۖ 35
35. স্মরণ করো, আমি মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম এবং তার সহযোগী হিসাবে তার ভাই হারুনকেও মনোনীত করেছিলাম।
فَقُلْنَا اذْهَبَاۤ اِلَی الْقَوْمِ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا ؕ فَدَمَّرْنٰهُمْ تَدْمِیْرًاؕ 36
36. তাদের বলেছিলাম, যাও, তোমরা সে লোকদের সত্যের দাওয়াত দাও, যারা আমার বাণী মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু না! শেষ পর্যন্ত সেই লোকদের আমি নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিলাম।
وَ قَوْمَ نُوْحٍ لَّمَّا كَذَّبُوا الرُّسُلَ اَغْرَقْنٰهُمْ وَ جَعَلْنٰهُمْ لِلنَّاسِ اٰیَةً ؕ وَ اَعْتَدْنَا لِلظّٰلِمِیْنَ عَذَابًا اَلِیْمًاۚۖ 37
37. মনে করে দেখো, একই পরিণতি ঘটেছিলো নুহের সম্প্রদায়ের, যখন ওরা রসুলকে অস্বীকার করতে থাকলো, তখন এক পর্যায়ে আমি ওদেরকে মহাপ্লাবনে ডুবিয়ে মারলাম এবং মানবজাতির জন্য এক দৃষ্টান্ত বানিয়ে ছাড়লাম। অবাধ্য পাপীদের জন্য এভাবেই আমি যুগে যুগে মর্মান্তিক শাস্তি দিয়েছি।
وَّ عَادًا وَّ ثَمُوْدَاۡ وَ اَصْحٰبَ الرَّسِّ وَ قُرُوْنًۢا بَیْنَ ذٰلِكَ كَثِیْرًا 38
38. ইতিহাস সাক্ষী, আমি একইভাবে আদ, সামুদ, রাস্বাসী এবং ওদের মধ্যবর্তী বহু প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি।
وَ كُلًّا ضَرَبْنَا لَهُ الْاَمْثَالَ ؗ وَ كُلًّا تَبَّرْنَا تَتْبِیْرًا 39
39. আমি ওদের প্রত্যেককে পূর্বে ধ্বংসপ্রাপ্তদের দৃষ্টান্ত দিয়ে সতর্ক করেছিলাম। কিন্তু না! ওরা সতর্ক হয়নি। ফলে ওদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি।
وَ لَقَدْ اَتَوْا عَلَی الْقَرْیَةِ الَّتِیْۤ اُمْطِرَتْ مَطَرَ السَّوْءِ ؕ اَفَلَمْ یَكُوْنُوْا یَرَوْنَهَا ۚ بَلْ كَانُوْا لَا یَرْجُوْنَ نُشُوْرًا 40
40. হে নবী, এসব সত্য অস্বীকারকারীরা তো সেই জনপদের পাশ দিয়ে চলাচল করে, যাদেরকে আমি পাথর বৃষ্টি দিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিলাম। ওদের মর্মান্তিক পরিণতি কি এদের চোখে পড়ে না? আসলে ওরাও ধ্বংসপ্রাপ্তদের মতো পুনরুত্থানকে অসম্ভব বলে মনে করছে।
وَ اِذَا رَاَوْكَ اِنْ یَّتَّخِذُوْنَكَ اِلَّا هُزُوًا ؕ اَهٰذَا الَّذِیْ بَعَثَ اللّٰهُ رَسُوْلًا 41
41. হে নবী, আমি জানি, দেখামাত্রই ওরা তোমাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করে। বলে, এই কে সে, যাকে আল্লাহ রসুল বানিয়েছেন?
اِنْ كَادَ لَیُضِلُّنَا عَنْ اٰلِهَتِنَا لَوْ لَاۤ اَنْ صَبَرْنَا عَلَیْهَا ؕ وَ سَوْفَ یَعْلَمُوْنَ حِیْنَ یَرَوْنَ الْعَذَابَ مَنْ اَضَلُّ سَبِیْلًا 42
42. ওরা বলে, যদি আমরা সত্যিই আমাদের খোদাদের উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস না রাখতাম, তবে তো এ লোক আমাদেরকে খোদাদের ব্যাপারে বিভ্রান্ত করেই ছাড়তো। হায়! অচিরেই ওরা যখন কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে, তখন টের পাবে, সত্য থেকে কারা বিচ্যুত হয়েছিলো।
اَرَءَیْتَ مَنِ اتَّخَذَ اِلٰهَهٗ هَوٰىهُ ؕ اَفَاَنْتَ تَكُوْنُ عَلَیْهِ وَكِیْلًاۙ 43
43. হে নবী, তুমি কি কখনো ঐ ব্যক্তির বিষয়টা ভেবে দেখেছো, যে নিজের প্রবৃত্তির খেয়াল-খুশিকে নিজের খোদা বানিয়ে নিয়েছে? তুমি কি ভাবো যে, তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারবে?
اَمْ تَحْسَبُ اَنَّ اَكْثَرَهُمْ یَسْمَعُوْنَ اَوْ یَعْقِلُوْنَ ؕ اِنْ هُمْ اِلَّا كَالْاَنْعَامِ بَلْ هُمْ اَضَلُّ سَبِیْلًا۠ 44
44. তুমি কি মনে করো, ওরা তোমার কথা মনোযোগসহ শোনে এবং তা বোঝার চেষ্টা করে? না, ওরা মোটেও তা করে না। ওরা তো চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং বলা যায় এগুলোর চেয়েও বেশি পথহারা।
اَلَمْ تَرَ اِلٰی رَبِّكَ كَیْفَ مَدَّ الظِّلَّ ۚ وَ لَوْ شَآءَ لَجَعَلَهٗ سَاكِنًا ۚ ثُمَّ جَعَلْنَا الشَّمْسَ عَلَیْهِ دَلِیْلًاۙ 45
45. আচ্ছা! তুমি কি লক্ষ্য করো না যে, কিভাবে তোমার রব ছায়াকে সম্প্রসারিত করেন? তিনি ইচ্ছে করলে, এটাকে স্থির রাখতে পারতেন। কিন্তু না, তিনি ছায়ার পিছনে সূর্যকে পথ প্রদর্শক বানিয়ে দিয়েছেন।
ثُمَّ قَبَضْنٰهُ اِلَیْنَا قَبْضًا یَّسِیْرًا 46
46. এভাবেই সূর্য যখন ক্রমান্বয়ে উপরে উঠতে থাকে, তখন আমি ধীরে ধীরে ছায়াকে গুটিয়ে নিতে থাকি।
وَ هُوَ الَّذِیْ جَعَلَ لَكُمُ الَّیْلَ لِبَاسًا وَّ النَّوْمَ سُبَاتًا وَّ جَعَلَ النَّهَارَ نُشُوْرًا 47
47. তিনি রাতকে তোমাদের কল্যাণের জন্য আবরণ পরিয়ে দিয়েছেন। বিশ্রামের জন্য দিয়েছেন ঘুম। আর জীবিকার্জনের জন্য দিনকে করেছেন সমুজ্জ্বল।
وَ هُوَ الَّذِیْۤ اَرْسَلَ الرِّیٰحَ بُشْرًۢا بَیْنَ یَدَیْ رَحْمَتِهٖ ۚ وَ اَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءً طَهُوْرًاۙ 48
48. খেয়াল করে দেখো, তিনি স্বীয় করুণা বর্ষণের পূর্বে বাতাসকে সুসংবাদ দিয়ে পাঠান। এরপর আকাশ থেকে অঝোর ধারায় পরিশুদ্ধ পানি বর্ষণ করেন।
لِّنُحْیِ َۧ بِهٖ بَلْدَةً مَّیْتًا وَّ نُسْقِیَهٗ مِمَّا خَلَقْنَاۤ اَنْعَامًا وَّ اَنَاسِیَّ كَثِیْرًا 49
49. সে পানি দ্বারা তিনি মৃত জমিনকে সজীব করে তোলেন। আল্লাহর সৃষ্ট জীবজন্তু ও অনেক মানুষও সে পানি পান করে।
وَلَقَدْ صَرَّفْنٰهُ بَیْنَهُمْ لِیَذَّكَّرُوْا ۖؗ فَاَبٰۤی اَكْثَرُ النَّاسِ اِلَّا كُفُوْرًا 50
50. আমি বারবার সুনিয়ন্ত্রিতভাবে এ বৃষ্টি বর্ষণ করে যাচ্ছি, যাতে লোকেরা এ থেকে সত্যকে বুঝতে পারে। কিন্তু না, অধিকাংশ লোকই সত্যকে মেনে নেয় না, কৃতজ্ঞ হয় না।
وَ لَوْ شِئْنَا لَبَعَثْنَا فِیْ كُلِّ قَرْیَةٍ نَّذِیْرًاؗۖ 51
51. হে নবী, আমি চাইলে প্রত্যেক এলাকার জন্য আলাদা আলাদা সতর্ককারীও পাঠাতে পারতাম।
فَلَا تُطِعِ الْكٰفِرِیْنَ وَ جَاهِدْهُمْ بِهٖ جِهَادًا كَبِیْرًا 52
52. হে নবী, কাফেরদের চাওয়াকে পরোয়া করো না; বরং এ কুরআনের মাধ্যমে ওদের মোকাবেলায় সর্বাত্মক লড়াই চালিয়ে যাও।
وَ هُوَ الَّذِیْ مَرَجَ الْبَحْرَیْنِ هٰذَا عَذْبٌ فُرَاتٌ وَّ هٰذَا مِلْحٌ اُجَاجٌ ۚ وَ جَعَلَ بَیْنَهُمَا بَرْزَخًا وَّ حِجْرًا مَّحْجُوْرًا 53
53. ওরা কি দেখে না যে, আল্লাহ দুটি বিশাল সমুদ্রকে একসাথে প্রবাহিত করছেন, যার একটির পানি সুমিষ্ট ও সুপেয় এবং অপরটি লবনাক্ত ও বিস্বাদ? অথচ এ দুই স্রোতধারা পাশাপাশি বয়ে গেলেও একটা আরেকটার সাথে কখনো মিশে না। ওদের মাঝে রয়েছে এক অদৃশ্য অন্তরাল।
وَ هُوَ الَّذِیْ خَلَقَ مِنَ الْمَآءِ بَشَرًا فَجَعَلَهٗ نَسَبًا وَّ صِهْرًا ؕ وَ كَانَ رَبُّكَ قَدِیْرًا 54
54. তিনিই পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তার থেকে বংশগত ও বৈবাহিক সম্পর্কীয় দুটি ধারা তৈরি করেছেন। সব কিছুর উপর তোমার রবের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে।
وَ یَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ مَا لَا یَنْفَعُهُمْ وَ لَا یَضُرُّهُمْ ؕ وَ كَانَ الْكَافِرُ عَلٰی رَبِّهٖ ظَهِیْرًا 55
55. দেখো, এসব সত্ত্বেও ওরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমনসব ভ্রান্ত খোদাদের ইবাদত করছে, যারা ওদের না সামান্য উপকার করতে পারে, আর না ক্ষতি। আসলে এ কাফেরেরা যথারীতি তাদের রবের সাথে বিদ্রোহ করে চলছে।
وَ مَاۤ اَرْسَلْنٰكَ اِلَّا مُبَشِّرًا وَّ نَذِیْرًا 56
56. হে নবী, আমি তোমাকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী করে ওদের কাছে পাঠিয়েছি।
قُلْ مَاۤ اَسْـَٔلُكُمْ عَلَیْهِ مِنْ اَجْرٍ اِلَّا مَنْ شَآءَ اَنْ یَّتَّخِذَ اِلٰی رَبِّهٖ سَبِیْلًا 57
57. কাজেই ওদের বলো, আমি তো এ দাওয়াতের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো মজুরি চাইনি। আমি তো কেবল এটুকুই চেয়েছি যে, তোমাদের যে চায়, সে যেনো আপন রবের পথে চলার সুযোগ পায়।
وَ تَوَكَّلْ عَلَی الْحَیِّ الَّذِیْ لَا یَمُوْتُ وَ سَبِّحْ بِحَمْدِهٖ ؕ وَ كَفٰی بِهٖ بِذُنُوْبِ عِبَادِهٖ خَبِیْرَا ۚۛۙ 58
58. হে নবী, একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করো। তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর কোনো মৃত্যু নেই। সদা সর্বদা তাঁর সপ্রশংস মহিমা জপতে থাকো। আর তিনিই তার বান্দাদের পাপ সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন।
ِ۟الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ وَ مَا بَیْنَهُمَا فِیْ سِتَّةِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسْتَوٰی عَلَی الْعَرْشِ ۛۚ اَلرَّحْمٰنُ فَسْـَٔلْ بِهٖ خَبِیْرًا 59
59. তিনি মহাকাশ ও পৃথিবী এবং এর মধ্যবর্তী সবকিছুকে সময়ের ছয় পর্বে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর সমস্ত কর্তৃত্বের কেন্দ্র আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনিই দয়াময়। জ্ঞানীদের কাছ থেকে তাঁর মহিমা জেনে নাও।
وَ اِذَا قِیْلَ لَهُمُ اسْجُدُوْا لِلرَّحْمٰنِ قَالُوْا وَ مَا الرَّحْمٰنُ ۗ اَنَسْجُدُ لِمَا تَاْمُرُنَا وَ زَادَهُمْ نُفُوْرًا۠۩ 60
60. ওদের যখন বলা হয়, রহমানের সামনে সেজদাবনত হও, তখন ওরা বলে, রহমানটা আবার কে? তুমি যে কারো সামনে আমাদের সেজদা করতে বললেই কি আমরা সেজদা করে বসবো? হায়! সত্যের দিকের আহবান, উল্টো ওদের সত্য বিমুখতাই বাড়িয়ে দিচ্ছে। (সিজদা)
تَبٰرَكَ الَّذِیْ جَعَلَ فِی السَّمَآءِ بُرُوْجًا وَّ جَعَلَ فِیْهَا سِرٰجًا وَّ قَمَرًا مُّنِیْرًا 61
61. আল্লাহ বড়ই বরকতময় ও মহামহিম। তিনিই মহাকাশে অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্র বানিয়েছেন। এসবের মাঝে স্থাপন করেছেন প্রদীপ্ত সূর্য এবং আলোকময় চাঁদ।
وَ هُوَ الَّذِیْ جَعَلَ الَّیْلَ وَ النَّهَارَ خِلْفَةً لِّمَنْ اَرَادَ اَنْ یَّذَّكَّرَ اَوْ اَرَادَ شُكُوْرًا 62
62. চেয়ে দেখো, তিনি রাত ও দিনকে পরস্পরের অনুগামী বানিয়েছেন। এসবের মধ্যে তাদের জন্য বড়ই নিদর্শন রয়েছে, যারা উপদেশ নিতে চায় এবং কৃতজ্ঞ হতে চায়।
وَ عِبَادُ الرَّحْمٰنِ الَّذِیْنَ یَمْشُوْنَ عَلَی الْاَرْضِ هَوْنًا وَّ اِذَا خَاطَبَهُمُ الْجٰهِلُوْنَ قَالُوْا سَلٰمًا 63
63. জেনে রেখো, দয়াময়ের প্রকৃত বান্দারা সর্বদাই (এক) পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে। অজ্ঞ-মূর্খরা তাদের সাথে কোনো তর্ক-বিতর্ক করতে চাইলে তারা ভদ্রভাবে তা এড়িয়ে যায়।
وَ الَّذِیْنَ یَبِیْتُوْنَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَّ قِیَامًا 64
64. (দুই) তারা আপন রবের সান্নিধ্য লাভের আশায় রাতের এক অংশে দাঁড়িয়ে ও সেজদায় লুটিয়ে থাকে।
وَ الَّذِیْنَ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ ۖۗ اِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًاۗۖ 65
65. (তিন) তারা সব সময় বলতে থাকে, হে আমাদের রব, জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদেরকে দূরে সরিয়ে রাখো, নিশ্চয়ই জাহান্নামের আযাব এক ভয়ঙ্কর সর্বনাশা।
اِنَّهَا سَآءَتْ مُسْتَقَرًّا وَّ مُقَامًا 66
66. নিশ্চয়ই জাহান্নামে স্থায়ী অবস্থান তো নয়ই; রবং এক মুহূর্তের অবস্থানও ভয়ঙ্কর থেকে ভয়ঙ্কর নিকৃষ্ট।
وَ الَّذِیْنَ اِذَاۤ اَنْفَقُوْا لَمْ یُسْرِفُوْا وَ لَمْ یَقْتُرُوْا وَ كَانَ بَیْنَ ذٰلِكَ قَوَامًا 67
67. (চার) তারা নিজেদের অর্থ-সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয়ও করে না, কার্পণ্যও করে না; বরং সবসময় মধ্যপন্থা অবলম্বন করে।
وَ الَّذِیْنَ لَا یَدْعُوْنَ مَعَ اللّٰهِ اِلٰهًا اٰخَرَ وَ لَا یَقْتُلُوْنَ النَّفْسَ الَّتِیْ حَرَّمَ اللّٰهُ اِلَّا بِالْحَقِّ وَ لَا یَزْنُوْنَ ۚ وَ مَنْ یَّفْعَلْ ذٰلِكَ یَلْقَ اَثَامًاۙ 68
68. (পাঁচ) তারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ভ্রান্ত খোদাদের শরিক করে না। (ছয়) সঙ্গত কারণ ছাড়া আল্লাহ যার হত্যা হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করে না। এবং (সাত) কখনো ব্যভিচারে লিপ্ত হয় না। এসব অপরাধ যে-ই করবে, সে অবশ্যই কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে।
یُّضٰعَفْ لَهُ الْعَذَابُ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ وَ یَخْلُدْ فِیْهٖ مُهَانًاۗۖ 69
69. জেনে রেখো, এ ধরনের লোকদেরকে কিয়ামতের দিন একের পর এক কঠিন শাস্তি দেয়া হবে এবং চিরকালের জন্যই ওরা জাহান্নামে লাঞ্ছিত হবে।
اِلَّا مَنْ تَابَ وَ اٰمَنَ وَ عَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَاُولٰٓىِٕكَ یُبَدِّلُ اللّٰهُ سَیِّاٰتِهِمْ حَسَنٰتٍ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا 70
70. তবে হ্যাঁ! যারা তওবা করবে, পুনরায় ঈমান আনবে এবং তার প্রমাণ হিসাবে সৎকাজ করে চলবে, আল্লাহ তাদের অতীত পাপকে পূণ্যের দ্বারা বদলে দিবেন। বস্তুত আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
وَ مَنْ تَابَ وَ عَمِلَ صَالِحًا فَاِنَّهٗ یَتُوْبُ اِلَی اللّٰهِ مَتَابًا 71
71. আসলে যে খাঁটি মনে তওবা করে এবং তারপর নিজেকে সৎকাজে নিয়োজিত রাখে, সে যথার্থই আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।
وَ الَّذِیْنَ لَا یَشْهَدُوْنَ الزُّوْرَ ۙ وَ اِذَا مَرُّوْا بِاللَّغْوِ مَرُّوْا كِرَامًا 72
72. (আট) তারা কখনো মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না। (নয়) অসার কথাবার্তা ও বেহুদা কাজকে সচেতনভাবে এড়িয়ে চলে।
وَ الَّذِیْنَ اِذَا ذُكِّرُوْا بِاٰیٰتِ رَبِّهِمْ لَمْ یَخِرُّوْا عَلَیْهَا صُمًّا وَّ عُمْیَانًا 73
73. (দশ) তাদেরকে মহান রবের বিধান স্মরণ করিয়ে দিলে, তারা অন্ধ ও বধিরের মতো আচরণ করে না।
وَ الَّذِیْنَ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ اَزْوَاجِنَا وَ ذُرِّیّٰتِنَا قُرَّةَ اَعْیُنٍ وَّ اجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِیْنَ اِمَامًا 74
74. (এগারো) তারা দোয়া করে, হে আমাদের রব, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদেরকে আমাদের জন্য চোখ শীতলকারী বানাও। আমাদের সবাইকে আল্লাহভীরুদের মধ্যে অগ্রগামী করো!
اُولٰٓىِٕكَ یُجْزَوْنَ الْغُرْفَةَ بِمَا صَبَرُوْا وَ یُلَقَّوْنَ فِیْهَا تَحِیَّةً وَّ سَلٰمًاۙ 75
75. এসব নেককার লোকেরাই পার্থিব ধৈর্য ও প্রচেষ্টার ফল হিসাবে জান্নাতের সর্বোচ্চ অবস্থান লাভ করবে। সেখানে তাদেরকে সাদর সম্ভাষণ জানানো হবে ‘সালাম’।
خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ حَسُنَتْ مُسْتَقَرًّا وَّ مُقَامًا 76
76. অনন্ত জীবন তারা সেখানে উপভোগ করবে। আহ! আবাস স্থল হিসাবে এটা কতোই না চমৎকার!
قُلْ مَا یَعْبَؤُا بِكُمْ رَبِّیْ لَوْ لَا دُعَآؤُكُمْ ۚ فَقَدْ كَذَّبْتُمْ فَسَوْفَ یَكُوْنُ لِزَامًا۠ 77
77. হে নবী, সত্য অস্বীকারকারীদের সাফসাফ বলে দাও, শোনো! তোমরা যদি আমার রবের ইবাদত না করো, তাতে তাঁর কিছুই যায় আসে না। কিন্তু তোমরা যে সত্যকে ক্রমাগত অস্বীকার করে চলছো, তার শাস্তি অনিবার্য। অচিরেই তোমরা তা টের পাবে।