24. আন নূর

سُوْرَةٌ اَنْزَلْنٰهَا وَ فَرَضْنٰهَا وَ اَنْزَلْنَا فِیْهَاۤ اٰیٰتٍۭ بَیِّنٰتٍ لَّعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنَ 1
1. এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সূরা। আমিই এটি নাযিল করেছি। এর মধ্যে রয়েছে অবশ্য পালনীয় অনেক বিধান। রয়েছে আমার সুস্পষ্ট নির্দেশনা। আশা রাখছি, তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে।
اَلزَّانِیَةُ وَ الزَّانِیْ فَاجْلِدُوْا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ ۪ وَّ لَا تَاْخُذْكُمْ بِهِمَا رَاْفَةٌ فِیْ دِیْنِ اللّٰهِ اِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ ۚ وَ لْیَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَآىِٕفَةٌ مِّنَ الْمُؤْمِنِیْنَ 2
2. ব্যভিচারকারী মহিলা ও পুরুষ অবিবাহিত হলে উভয়ের প্রত্যেককেই শাস্তি হিসাবে আলাদা আলাদাভাবে একশ বেত্রাঘাত করো। আল্লাহ ও আখেরাতের উপর ঈমান রেখে থাকলে, আল্লাহর এ শরিয়ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো দয়া-মমতাবোধ যেনো তোমাদেরকে প্রভাবিত করতে না পারে। আর একদল ঈমানদারদেরকে এ শাস্তির ব্যাপারে সাক্ষী রাখবে।
اَلزَّانِیْ لَا یَنْكِحُ اِلَّا زَانِیَةً اَوْ مُشْرِكَةً ؗ وَّ الزَّانِیَةُ لَا یَنْكِحُهَاۤ اِلَّا زَانٍ اَوْ مُشْرِكٌ ۚ وَحُرِّمَ ذٰلِكَ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ 3
3. মনে রেখো, ঘোষিত ব্যভিচারকারী পুরুষ কেবল একজন ঘোষিত ব্যভিচারকারী মহিলা কিংবা একজন মুশরিক মহিলাকেই বিয়ে করতে পারে। অনুরূপ একজন ঘোষিত ব্যভিচারকারী মহিলাকে কেবল একজন ঘোষিত ব্যভিচারকারী পুরুষ কিংবা একজন মুশরিক পুরুষই বিয়ে করার যোগ্য। মুমিনদের জন্য এসব জঘন্য লোকদের বিয়ে করা হারাম।
وَ الَّذِیْنَ یَرْمُوْنَ الْمُحْصَنٰتِ ثُمَّ لَمْ یَاْتُوْا بِاَرْبَعَةِ شُهَدَآءَ فَاجْلِدُوْهُمْ ثَمٰنِیْنَ جَلْدَةً وَّ لَا تَقْبَلُوْا لَهُمْ شَهَادَةً اَبَدًا ۚ وَ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَۙ 4
4. কোনো সতীসাধ্বী পবিত্রা নারীর বিরুদ্ধে কেউ যদি ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করে, তবে তার স্বপক্ষে সে চারজন চাক্ষুষ প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী অবশ্যই হাজির করবে। অন্যথায় মিথ্যা অপবাদ রটনাকারী হিসেবে তাকে আশিটি বেত্রাঘাত করো এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মিথ্যুকদের সাক্ষ্য কখনোই কোনো বিচারিক কাজে গ্রহণ করো না। কেননা এরা স্পষ্টত সত্যত্যাগী।
اِلَّا الَّذِیْنَ تَابُوْا مِنْۢ بَعْدِ ذٰلِكَ وَ اَصْلَحُوْا ۚ فَاِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 5
5. তবে এরপর যদি এরা খালেসভাবে তওবা করে নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয়, তবে আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, অতীব দয়ালু।
وَ الَّذِیْنَ یَرْمُوْنَ اَزْوَاجَهُمْ وَ لَمْ یَكُنْ لَّهُمْ شُهَدَآءُ اِلَّاۤ اَنْفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ اَحَدِهِمْ اَرْبَعُ شَهٰدٰتٍۭ بِاللّٰهِ ۙ اِنَّهٗ لَمِنَ الصّٰدِقِیْنَ 6
6. তবে যদি কেউ নিজ স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অপবাদ আনে; কিন্তু এ অপবাদ প্রমাণের জন্য তার কাছে চারজন চাক্ষুষ সাক্ষী না থাকে, তবে সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই এ ব্যাপারে সত্যবাদী।
وَ الْخَامِسَةُ اَنَّ لَعْنَتَ اللّٰهِ عَلَیْهِ اِنْ كَانَ مِنَ الْكٰذِبِیْنَ 7
7. আর পঞ্চমবার শপথ করে বলবে, তার অভিযোগ মিথ্যা হলে, তার উপর আল্লাহর অভিশাপ নেমে আসুক।
وَ یَدْرَؤُا عَنْهَا الْعَذَابَ اَنْ تَشْهَدَ اَرْبَعَ شَهٰدٰتٍۭ بِاللّٰهِ ۙ اِنَّهٗ لَمِنَ الْكٰذِبِیْنَۙ 8
8. অতঃপর স্ত্রী তখনই কেবল শাস্তি থেকে বাঁচতে পারে, যখন এর প্রতিত্তোরে সে চারবার আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে যে, তার স্বামী এ ব্যাপরে মিথ্যা বলছে।
وَ الْخَامِسَةَ اَنَّ غَضَبَ اللّٰهِ عَلَیْهَاۤ اِنْ كَانَ مِنَ الصّٰدِقِیْنَ 9
9. এবং পঞ্চমবার সে শপথ করে বলবে যে, এ ব্যাপারে যদি তার স্বামী সত্যবাদী হয়, তবে তার নিজের উপর আল্লাহর অভিশাপ নেমে আসুক।
وَ لَوْ لَا فَضْلُ اللّٰهِ عَلَیْكُمْ وَ رَحْمَتُهٗ وَ اَنَّ اللّٰهَ تَوَّابٌ حَكِیْمٌ۠ 10
10. আসলে তোমাদের উপর আল্লাহর বড়ই অনুগ্রহ ও দয়া রয়েছে। অন্যথায় তোমরা বড় বিপদেই পড়তে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী, আল্লাহ প্রজ্ঞাময়।
اِنَّ الَّذِیْنَ جَآءُوْ بِالْاِفْكِ عُصْبَةٌ مِّنْكُمْ ؕ لَا تَحْسَبُوْهُ شَرًّا لَّكُمْ ؕ بَلْ هُوَ خَیْرٌ لَّكُمْ ؕ لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ مَّا اكْتَسَبَ مِنَ الْاِثْمِ ۚ وَ الَّذِیْ تَوَلّٰی كِبْرَهٗ مِنْهُمْ لَهٗ عَذَابٌ عَظِیْمٌ 11
11. হে ঈমানদারেরা, যারা আয়েশার নামে ব্যভিচারের মিথ্যা অপবাদ রটনা করেছে, তারা তো তোমাদেরই একটি দল। তবে ঈমানদার সমাজের জন্য এ ঘটনায় ক্ষতি হয়নি; বরং অনেক ক্ষেত্রে কল্যাণ বয়ে এনেছে। যারা এ জঘন্য অপবাদ রটনায় অংশ নিয়েছে, তাদের প্রত্যেককেই তার পাপের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। আর এদের মধ্যে যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে, তার জন্য কঠিন আযাব প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।
لَوْ لَاۤ اِذْ سَمِعْتُمُوْهُ ظَنَّ الْمُؤْمِنُوْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتُ بِاَنْفُسِهِمْ خَیْرًا ۙ وَّ قَالُوْا هٰذَاۤ اِفْكٌ مُّبِیْنٌ 12
12. আফসোস! এটা তাদের কী হলো? এ অপবাদ শোনার পর কেন ঈমানদার নর-নারীরা নিজেদের ব্যাপারে ভালো ধারণা পোষণ করলো না? কেন তারা বলতে পারলো না যে, এ তো এক জঘন্য মিথ্যাচার?
لَوْ لَا جَآءُوْ عَلَیْهِ بِاَرْبَعَةِ شُهَدَآءَ ۚ فَاِذْ لَمْ یَاْتُوْا بِالشُّهَدَآءِ فَاُولٰٓىِٕكَ عِنْدَ اللّٰهِ هُمُ الْكٰذِبُوْنَ 13
13. কেন অপবাদকারীরা নিজেদের স্বপক্ষে চারজন সাক্ষী আনেনি? সাক্ষী হাজির না করায় প্রমাণ হয়, ওরাই আল্লাহর নিয়মে মিথ্যাবাদী।
وَ لَوْ لَا فَضْلُ اللّٰهِ عَلَیْكُمْ وَ رَحْمَتُهٗ فِی الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَةِ لَمَسَّكُمْ فِیْ مَاۤ اَفَضْتُمْ فِیْهِ عَذَابٌ عَظِیْمٌۚۖ 14
14. দুনিয়া ও আখেরাতে তোমাদের প্রতি যদি আল্লাহর দয়া এবং অনুগ্রহ না থাকতো, তবে তোমরা যে অপবাদ রটিয়ে যাচ্ছিলে, তার জন্য সে সময়েই কঠিন আযাব নেমে আসতো।
اِذْ تَلَقَّوْنَهٗ بِاَلْسِنَتِكُمْ وَ تَقُوْلُوْنَ بِاَفْوَاهِكُمْ مَّا لَیْسَ لَكُمْ بِهٖ عِلْمٌ وَّ تَحْسَبُوْنَهٗ هَیِّنًا ۖۗ وَّ هُوَ عِنْدَ اللّٰهِ عَظِیْمٌ 15
15. একবার ভেবে দেখো তো, তখন তোমরা কী ভুলটাই না করছিলে, তোমরা এ জঘন্য মিথ্যাকে এক মুখ থেকে আরেক মুখে ছড়িয়ে বেড়াচ্ছিলে; অথচ তোমরা যা বলে যাচ্ছিলে, সে ব্যাপারে তোমাদের সঠিক কোনো জ্ঞানই ছিলো না। তোমরা এটাকে এক মামুলি ছেলেখেলা বিষয় মনে করছিলে; অথচ আল্লাহর কাছে এটা ছিলো এক মারাত্মক বিষয়।
وَ لَوْ لَاۤ اِذْ سَمِعْتُمُوْهُ قُلْتُمْ مَّا یَكُوْنُ لَنَاۤ اَنْ نَّتَكَلَّمَ بِهٰذَا ۖۗ سُبْحٰنَكَ هٰذَا بُهْتَانٌ عَظِیْمٌ 16
16. হায়! এ কথাগুলো শোনামাত্র তোমরা কেন বললে না যে, এমন কথা মুখে আনাও আামদের জন্য পাপ। সুবহানাল্লহ! এ তো এক জঘন্য অপবাদ!
یَعِظُكُمُ اللّٰهُ اَنْ تَعُوْدُوْا لِمِثْلِهٖۤ اَبَدًا اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَۚ 17
17. হে ঈমানদারেরা, আল্লাহ তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন, যদি তোমরা সত্যিই ঈমানদার হয়ে থাকো, তবে ভবিষ্যতে এমন ভুল আর দ্বিতীয়বার করবে না।
وَ یُبَیِّنُ اللّٰهُ لَكُمُ الْاٰیٰتِ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ 18
18. আল্লাহ তোমদের কাছে তার নির্দেশনা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন। বস্তুত তিনি সর্বজ্ঞ, তিনি প্রজ্ঞাময়।
اِنَّ الَّذِیْنَ یُحِبُّوْنَ اَنْ تَشِیْعَ الْفَاحِشَةُ فِی الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ ۙ فِی الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَةِ ؕ وَ اللّٰهُ یَعْلَمُ وَ اَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ 19
19. জেনে রেখো, যারা ঈমানদার সমাজে অশ্লীলতা ছড়াতে চায়, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে কঠিন শাস্তি রয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহই ভালো জানেন; তোমরা জানো না।
وَ لَوْ لَا فَضْلُ اللّٰهِ عَلَیْكُمْ وَ رَحْمَتُهٗ وَ اَنَّ اللّٰهَ رَءُوْفٌ رَّحِیْمٌ۠ 20
20. সত্যিই তোমাদের উপর আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ না থাকতো, তবে যে পাপ তোমরা করেছিলে, তার পরিণতি হতো খুবই ভয়াবহ। বস্তুত আল্লাহ বড় স্নেহশীল, বড়ই মেহেরবান।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّبِعُوْا خُطُوٰتِ الشَّیْطٰنِ ؕ وَ مَنْ یَّتَّبِعْ خُطُوٰتِ الشَّیْطٰنِ فَاِنَّهٗ یَاْمُرُ بِالْفَحْشَآءِ وَ الْمُنْكَرِ ؕ وَ لَوْ لَا فَضْلُ اللّٰهِ عَلَیْكُمْ وَ رَحْمَتُهٗ مَا زَكٰی مِنْكُمْ مِّنْ اَحَدٍ اَبَدًا ۙ وَّ لٰكِنَّ اللّٰهَ یُزَكِّیْ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَ اللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ 21
21. হে ঈমানদারেরা, খবরদার! শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। কেননা শয়তান সবসময়ই মানুষকে অশ্লীলতা, অনৈতিকতা ও পাপাচারের কাজে প্ররোচিত করে। মনে রেখো, আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ না পেলে তোমাদের কেউই কখনো পরিশুদ্ধ-পবিত্র হতে পারতে না। আল্লাহ যাকে চান, তাকে পরিশুদ্ধি দান করেন। বস্তুত তিনি সবার সবকিছুই শোনেন এবং জানেন।
وَ لَا یَاْتَلِ اُولُوا الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَ السَّعَةِ اَنْ یُّؤْتُوْۤا اُولِی الْقُرْبٰی وَ الْمَسٰكِیْنَ وَ الْمُهٰجِرِیْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ۪ۖ وَ لْیَعْفُوْا وَ لْیَصْفَحُوْا ؕ اَلَا تُحِبُّوْنَ اَنْ یَّغْفِرَ اللّٰهُ لَكُمْ ؕ وَ اللّٰهُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 22
22. তোমাদের মধ্যে যারা ধন-সম্পদ ও প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেনো কখনো নিজেদের আত্মীয়-স্বজন ও দরিদ্র-অভাবী এবং আল্লাহর পথে হিজরতকারীদের সাহায্য-সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়ার শপথ না করে; বরং তাদের অপরাধগুলো ক্ষমা করা এবং দোষত্রুটি উপেক্ষা করা উচিত। কারণ তোমরা কি এটা চাও না যে, এর বিনিময়ে আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন? নিশ্চয়ই আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
اِنَّ الَّذِیْنَ یَرْمُوْنَ الْمُحْصَنٰتِ الْغٰفِلٰتِ الْمُؤْمِنٰتِ لُعِنُوْا فِی الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَةِ ۪ وَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِیْمٌۙ 23
23. যারা সতী-সাধ্বী সরলমনা ঈমানদার নারীর প্রতি ব্যভিচারের মিথ্যা অপবাদ রটনা করে, তারা অবশ্যই দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত হবে। আর আখেরাতে তো ভয়ঙ্কর শাস্তি অপেক্ষা করছেই।
یَّوْمَ تَشْهَدُ عَلَیْهِمْ اَلْسِنَتُهُمْ وَ اَیْدِیْهِمْ وَ اَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 24
24. সন্দেহ নেই, মহাবিচারের দিন ওদের জিহ্বা, হাত ও পা ওদের এসব অপকর্মের ব্যাপারে আল্লাহর দরবারে সাক্ষ্য দেবে।
یَوْمَىِٕذٍ یُّوَفِّیْهِمُ اللّٰهُ دِیْنَهُمُ الْحَقَّ وَ یَعْلَمُوْنَ اَنَّ اللّٰهَ هُوَ الْحَقُّ الْمُبِیْنُ 25
25. সেদিন আল্লাহ ওদেরকে সমুচিত শাস্তি দেবেন। সেদিন ওরা জানবে, আল্লাহই চুড়ান্ত সত্য এবং সকল সত্যের সুস্পষ্ট প্রকাশক।
اَلْخَبِیْثٰتُ لِلْخَبِیْثِیْنَ وَ الْخَبِیْثُوْنَ لِلْخَبِیْثٰتِ ۚ وَ الطَّیِّبٰتُ لِلطَّیِّبِیْنَ وَ الطَّیِّبُوْنَ لِلطَّیِّبٰتِ ۚ اُولٰٓىِٕكَ مُبَرَّءُوْنَ مِمَّا یَقُوْلُوْنَ ؕ لَهُمْ مَّغْفِرَةٌ وَّ رِزْقٌ كَرِیْمٌ۠ 26
26. মনে রেখো, চরিত্রহীনা নারী চরিত্রহীন পুরুষের উপযুক্ত। আর চরিত্রহীন পুরুষ আরেক চরিত্রহীনা নারীর উপযুক্ত। একইভাবে চরিত্রবতী নারী চরিত্রবান পুরুষের উপযুক্ত এবং চরিত্রবান পুরুষও চরিত্রবতী নারীর উপযুক্ত। আর কোনো মিথ্যা অপবাদই চরিত্রবানদের কলঙ্কিত করতে পারে না। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবনোপকরণ।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَدْخُلُوْا بُیُوْتًا غَیْرَ بُیُوْتِكُمْ حَتّٰی تَسْتَاْنِسُوْا وَ تُسَلِّمُوْا عَلٰۤی اَهْلِهَا ؕ ذٰلِكُمْ خَیْرٌ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنَ 27
27. হে ঈমানদারেরা, তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্যের ঘরে প্রবেশের আগে অবশ্যই ঐ ঘরের লোকদের অনুমতি নেবে এবং প্রবেশের সময় তাদের সালাম দেবে। এ নিয়ম তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আশা রাখছি, এ ব্যাপারে তোমরা সচেতন থাকবে।
فَاِنْ لَّمْ تَجِدُوْا فِیْهَاۤ اَحَدًا فَلَا تَدْخُلُوْهَا حَتّٰی یُؤْذَنَ لَكُمْ ۚ وَ اِنْ قِیْلَ لَكُمُ ارْجِعُوْا فَارْجِعُوْا هُوَ اَزْكٰی لَكُمْ ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ عَلِیْمٌ 28
28. এরপর তোমরা যদি ঐ বাড়িতে কাউকে না পাও, তাহলে সে বাড়িতে প্রবেশ করো না। তবে পূর্বেই অনুমতি পেয়ে থাকলে ভিন্ন কথা। আর যদি তোমাদেরকে বলা হয়, ফিরে যাও, তবে ফিরে যাবে। এটা তোমাদের জন্য অধিকতর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পন্থা। তোমরা যা কিছুই করো না কেন, আল্লাহ সবকিছুই জানেন।
لَیْسَ عَلَیْكُمْ جُنَاحٌ اَنْ تَدْخُلُوْا بُیُوْتًا غَیْرَ مَسْكُوْنَةٍ فِیْهَا مَتَاعٌ لَّكُمْ ؕ وَ اللّٰهُ یَعْلَمُ مَا تُبْدُوْنَ وَ مَا تَكْتُمُوْنَ 29
29. তবে কারো ব্যক্তিগত বাসগৃহ ছাড়া অন্যান্য ঘরে যেখানে তোমাদের কোনো কাজ বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রয়েছে, সেখানে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করতে পারো, এতে দোষের কিছু নেই। তবে মনে রেখো, তোমাদের প্রকাশ্য ও গোপন কোনোটাই আল্লাহর অজানা নয়।
قُلْ لِّلْمُؤْمِنِیْنَ یَغُضُّوْا مِنْ اَبْصَارِهِمْ وَ یَحْفَظُوْا فُرُوْجَهُمْ ؕ ذٰلِكَ اَزْكٰی لَهُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ خَبِیْرٌۢ بِمَا یَصْنَعُوْنَ 30
30. হে নবী, ঈমানদার পুরুষদের বলো, তারা যেনো নিজেদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের পূর্ণ হেফাযত করে। এতে তারা পবিত্র ও পরিশুদ্ধ থাকতে পারবে। বস্তুত তারা যা কিছুই করে না কেন, আল্লাহ তা ভালোভাবেই জানেন।
وَ قُلْ لِّلْمُؤْمِنٰتِ یَغْضُضْنَ مِنْ اَبْصَارِهِنَّ وَ یَحْفَظْنَ فُرُوْجَهُنَّ وَ لَا یُبْدِیْنَ زِیْنَتَهُنَّ اِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَ لْیَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰی جُیُوْبِهِنَّ ۪ وَ لَا یُبْدِیْنَ زِیْنَتَهُنَّ اِلَّا لِبُعُوْلَتِهِنَّ اَوْ اٰبَآىِٕهِنَّ اَوْ اٰبَآءِ بُعُوْلَتِهِنَّ اَوْ اَبْنَآىِٕهِنَّ اَوْ اَبْنَآءِ بُعُوْلَتِهِنَّ اَوْ اِخْوَانِهِنَّ اَوْ بَنِیْۤ اِخْوَانِهِنَّ اَوْ بَنِیْۤ اَخَوٰتِهِنَّ اَوْ نِسَآىِٕهِنَّ اَوْ مَا مَلَكَتْ اَیْمَانُهُنَّ اَوِ التّٰبِعِیْنَ غَیْرِ اُولِی الْاِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ اَوِ الطِّفْلِ الَّذِیْنَ لَمْ یَظْهَرُوْا عَلٰی عَوْرٰتِ النِّسَآءِ ۪ وَ لَا یَضْرِبْنَ بِاَرْجُلِهِنَّ لِیُعْلَمَ مَا یُخْفِیْنَ مِنْ زِیْنَتِهِنَّ ؕ وَ تُوْبُوْۤا اِلَی اللّٰهِ جَمِیْعًا اَیُّهَ الْمُؤْمِنُوْنَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ 31
31. হে নবী, একইভাবে ঈমানদার নারীদেরকে বলো, তারাও যেনো নিজেদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের পূর্ণ হেফাযত করে। স্বাভাবিকভাবে যা প্রকাশ পায়, তা ছাড়া নিজেদের শারীরিক সৌন্দর্য ও সাজ-সজ্জা যেনো জনসম্মুখে প্রকাশ না করে; বরং এসব অবস্থায় তারা যেনো নিজেদের ঘাড় ও বুক, মাথার ওড়না দ্বারা ঢেকে রাখে। তাদেরকে আরো বলো, তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, আপন ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, পরিচিত নারী, তাদের মালিকানাধীন দাস-দাসী, যৌন কামনাহীন পুরুষ ও নারী অঙ্গ সম্পর্কে অবচেতন শিশু ছাড়া অন্য কারো সামনেই যেনো নিজেদের সৌন্দর্য ও সাজ-সজ্জা প্রকাশ না করে। আর হাঁটার সময় এমনভাবে যেনো না হাঁটে, যাতে তাদের গোপন সৌন্দর্য অন্যের মনোযোগ কাড়ে। হে ঈমানদারেরা! সবাই মিলে একসাথে তোমরা আল্লাহর দিকে ফিরে এসো। আশা করা যায়, তোমরা সফল হতে পারবে।
وَ اَنْكِحُوا الْاَیَامٰی مِنْكُمْ وَ الصّٰلِحِیْنَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَ اِمَآىِٕكُمْ ؕ اِنْ یَّكُوْنُوْا فُقَرَآءَ یُغْنِهِمُ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِهٖ ؕ وَ اللّٰهُ وَاسِعٌ عَلِیْمٌ 32
32. তোমাদের মধ্যে যারা একা ও সঙ্গীহীন, তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করো। তোমাদের দাস-দাসীর মধ্যেও সততা ও যোগ্যতা থাকলে বিয়ে দিয়ে দাও। তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করতে চাচ্ছে, আর্থিক দুরাবস্থা যেনো তাদেরকে পিছিয়ে না দেয়। আল্লাহ তাঁর নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করবেন। আল্লাহ বড়ই প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।
وَ لْیَسْتَعْفِفِ الَّذِیْنَ لَا یَجِدُوْنَ نِكَاحًا حَتّٰی یُغْنِیَهُمُ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِهٖ ؕ وَ الَّذِیْنَ یَبْتَغُوْنَ الْكِتٰبَ مِمَّا مَلَكَتْ اَیْمَانُكُمْ فَكَاتِبُوْهُمْ اِنْ عَلِمْتُمْ فِیْهِمْ خَیْرًا ۖۗ وَّ اٰتُوْهُمْ مِّنْ مَّالِ اللّٰهِ الَّذِیْۤ اٰتٰىكُمْ ؕ وَ لَا تُكْرِهُوْا فَتَیٰتِكُمْ عَلَی الْبِغَآءِ اِنْ اَرَدْنَ تَحَصُّنًا لِّتَبْتَغُوْا عَرَضَ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ؕ وَ مَنْ یُّكْرِهْهُّنَّ فَاِنَّ اللّٰهَ مِنْۢ بَعْدِ اِكْرَاهِهِنَّ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 33
33. তবে যাদের বিয়ের সক্ষমতা নেই, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সক্ষম না করা পর্যন্ত তারা যেনো সংযম অবলম্বন করে। আর তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের মধ্যে যারা নিজেদের মুক্তির জন্য চুক্তির আবেদন করে, তোমরা তাদের মধ্যে ভালো দেখতে পেলে, অবশ্যই তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হও। আল্লাহ তোমাদের যে ধন-সম্পদ দিয়েছেন, তা থেকে এ ধরনের গোলামদের মুক্তির জন্য খরচ করো। আর তোমাদের যেসব দাসীরা সতীসাধ্বী থাকতে চায়, পার্থিব সামান্য স্বার্থের লোভে তাদেরকে পতিতাবৃত্তি করতে বাধ্য করো না। আর হ্যাঁ! এদের কাউকে যদি বাধ্য করে এ কাজ করানো হয়, তবে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
وَ لَقَدْ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكُمْ اٰیٰتٍ مُّبَیِّنٰتٍ وَّ مَثَلًا مِّنَ الَّذِیْنَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ وَ مَوْعِظَةً لِّلْمُتَّقِیْنَ۠ 34
34. হে ঈমানদারেরা, আমি তোমাদেরকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দান করেছি। অতীত জাতিসমূহের ঘটনা বারবার তোমাদের শুনাচ্ছি। এভাবেই আল্লাহ সচেতন হওয়ার জন্য ক্রমাগত নসিহত করে যাচ্ছি।
اَللّٰهُ نُوْرُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ مَثَلُ نُوْرِهٖ كَمِشْكٰوةٍ فِیْهَا مِصْبَاحٌ ؕ اَلْمِصْبَاحُ فِیْ زُجَاجَةٍ ؕ اَلزُّجَاجَةُ كَاَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّیٌّ یُّوْقَدُ مِنْ شَجَرَةٍ مُّبٰرَكَةٍ زَیْتُوْنَةٍ لَّا شَرْقِیَّةٍ وَّ لَا غَرْبِیَّةٍ ۙ یَّكَادُ زَیْتُهَا یُضِیْٓءُ وَ لَوْ لَمْ تَمْسَسْهُ نَارٌ ؕ نُوْرٌ عَلٰی نُوْرٍ ؕ یَهْدِی اللّٰهُ لِنُوْرِهٖ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَ یَضْرِبُ اللّٰهُ الْاَمْثَالَ لِلنَّاسِ ؕ وَ اللّٰهُ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌۙ 35
35. আল্লাহই একমাত্র মহাকাশ ও পৃথিবীর জ্যোতি। মহাবিশ্বে তাঁর এ জ্যোতির উপমা হচ্ছে, কোনো তাঁকের উপর একটি প্রদীপ রাখা রয়েছে। প্রদীপটি স্বচ্ছ কাঁচের আবরণ দ্বারা পরিবেষ্টিত। কাঁচের সে আবরণটি নক্ষত্রের মতো জাজ্বল্যমান উজ্জ্বল। প্রদীপটি জ্বলে পবিত্র যয়তুন গাছের তেলে। এ যয়তুন গাছ প্রচ্যের নয়, পাশ্চাত্যেরও নয়। আগুনের স্পর্শ ছাড়াই সে তেল আপনা আপনি প্রজ্জ্বলিত হয়ে আলো বিকিরণ করে। এভাবেই জ্যোতির উপর জ্যোতি ছড়িয়ে পড়ে। আসলে যে সত্যপথ খোঁজে, আল্লাহ তাকেই তার এ জ্যোতির পথ দেখান। আল্লাহ এভাবেই উপমা দিয়ে মানুষকে বোঝান। বস্তুত আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের ব্যাপারেই পূর্ণ জ্ঞান রাখেন।
فِیْ بُیُوْتٍ اَذِنَ اللّٰهُ اَنْ تُرْفَعَ وَ یُذْكَرَ فِیْهَا اسْمُهٗ ۙ یُسَبِّحُ لَهٗ فِیْهَا بِالْغُدُوِّ وَ الْاٰصَالِۙ 36
36. আল্লাহ যে ঘরগুলোর মর্যাদা সমুন্নত রাখতে এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে আল্লাহর জ্যোতিতে আলোকিত লোকেরা সকাল-সন্ধ্যা তাঁরই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে।
رِجَالٌ ۙ لَّا تُلْهِیْهِمْ تِجَارَةٌ وَّ لَا بَیْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللّٰهِ وَ اِقَامِ الصَّلٰوةِ وَ اِیْتَآءِ الزَّكٰوةِ ۪ۙ یَخَافُوْنَ یَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِیْهِ الْقُلُوْبُ وَ الْاَبْصَارُۗۙ 37
37. ব্যাবসা-বানিজ্য ও বেচাকেনা এসব লোকদেরকে কখনোই আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামাজ কায়েম করা থেকে ও যাকাত আদায় করা থেকে উদাসীন করতে পারে না। তারা সবসময় সে মহাবিচারের দিনের ভয়ে শঙ্কিত থাকে, যেদিন অন্তরসমূহ বিধ্বস্ত ও চোখগুলো বিস্ফোরিত হয়ে যাবে।
لِیَجْزِیَهُمُ اللّٰهُ اَحْسَنَ مَا عَمِلُوْا وَ یَزِیْدَهُمْ مِّنْ فَضْلِهٖ ؕ وَ اللّٰهُ یَرْزُقُ مَنْ یَّشَآءُ بِغَیْرِ حِسَابٍ 38
38. তারা এ কারণেই এসব নেক কাজ করে, যাতে সেদিন আল্লাহ তাদের কাজের উত্তম প্রতিদান দেন এবং অতিরিক্ত আরো অনুগ্রহে সিক্ত করেন। আসলে আল্লাহ যাকে চান, বেহিসাব জীবিকা দান করেন।
وَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَعْمَالُهُمْ كَسَرَابٍۭ بِقِیْعَةٍ یَّحْسَبُهُ الظَّمْاٰنُ مَآءً ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءَهٗ لَمْ یَجِدْهُ شَیْـًٔا وَّ وَجَدَ اللّٰهَ عِنْدَهٗ فَوَفّٰىهُ حِسَابَهٗ ؕ وَاللّٰهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِۙ 39
39. কিন্তু যারা কুফরির পথে হাঁটে, তাদের কাজের উপমা হচ্ছে পানি শূন্য মরুপ্রান্তরের ধু ধু মরীচিকা। পিপাসার্ত পথিক পানি মনে করে এর দিকে ছুটে যায়; কিন্তু সেখানে যখন পৌঁছায়, তখন কোনো পানির অস্তিত্বই দেখে না। ঠিক একইভাবে ওরা যেদিন আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে, দেখবে কিছুই নেই, সবই শূন্য। বস্তুত হিসাব গ্রহণে আল্লাহর মোটেই দেরি হয় না।
اَوْ كَظُلُمٰتٍ فِیْ بَحْرٍ لُّجِّیٍّ یَّغْشٰىهُ مَوْجٌ مِّنْ فَوْقِهٖ مَوْجٌ مِّنْ فَوْقِهٖ سَحَابٌ ؕ ظُلُمٰتٌۢ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ ؕ اِذَاۤ اَخْرَجَ یَدَهٗ لَمْ یَكَدْ یَرٰىهَا ؕ وَ مَنْ لَّمْ یَجْعَلِ اللّٰهُ لَهٗ نُوْرًا فَمَا لَهٗ مِنْ نُّوْرٍ۠ 40
40. অথবা এভাবেও ওদের কাজের উপমা দেয়া যায় যে, সমুদ্রতলের গভীর কালো অন্ধকার, ঢেউয়ের পর ঢেউ সে অন্ধকারকে আরো গভীরতর করে তুলছে, তার উপরে কালো মেঘ চারদিক ছেয়ে আছে। একের পর এক শুধু জমাটবাঁধা অন্ধকারের আস্তর। মানুষ নিজের হাত বের করলেও, তা দেখতে পায়না। এ অবস্থায় যাকে আল্লাহ তাঁর আলো থেকে বঞ্চিত করেন, তার জন্য আর কোথাও কোনো আলো নেই।
اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللّٰهَ یُسَبِّحُ لَهٗ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ الطَّیْرُ صٰٓفّٰتٍ ؕ كُلٌّ قَدْ عَلِمَ صَلَاتَهٗ وَ تَسْبِیْحَهٗ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌۢ بِمَا یَفْعَلُوْنَ 41
41. তুমি কি দেখতে পাচ্ছো না যে, মহাকাশ ও পৃথিবীর প্রতিটি সৃষ্টি, এমনকি ডানা মেলে উড়ে যাওয়া পাখিরা পর্যন্ত আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে চলছে? এদের প্রত্যেকেই নিজেদের বন্দেগী ও মহিমা প্রকাশের নিয়ম জানে। আর আল্লাহ এদের সব কাজ সম্পর্কে সম্যক অবহিত রয়েছেন।
وَ لِلّٰهِ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ۚ وَ اِلَی اللّٰهِ الْمَصِیْرُ 42
42. আর এটাই সত্য যে, মহাকাশ ও পৃথিবীর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লহর হাতে এবং তাঁর কাছে সবাইকে ফিরতে হবে।
اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللّٰهَ یُزْجِیْ سَحَابًا ثُمَّ یُؤَلِّفُ بَیْنَهٗ ثُمَّ یَجْعَلُهٗ رُكَامًا فَتَرَی الْوَدْقَ یَخْرُجُ مِنْ خِلٰلِهٖ ۚ وَ یُنَزِّلُ مِنَ السَّمَآءِ مِنْ جِبَالٍ فِیْهَا مِنْۢ بَرَدٍ فَیُصِیْبُ بِهٖ مَنْ یَّشَآءُ وَ یَصْرِفُهٗ عَنْ مَّنْ یَّشَآءُ ؕ یَكَادُ سَنَا بَرْقِهٖ یَذْهَبُ بِالْاَبْصَارِؕ 43
43. আচ্ছা! তোমরা কি লক্ষ্য করো না যে, আল্লাহ মেঘকে ধীর গতিতে সঞ্চালন করেন। এরপর এর বিক্ষিপ্ত খন্ডগুলোকে পরস্পর সংযুক্ত করেন এবং ঘন মেঘমালয় পরিণত করেন। এরপর তোমাদের চোখের সামনেই সে পুঞ্জীভ‚ত মেঘ থেকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামে। খেয়াল করে দেখো, তিনি কখনো কখনো ঠান্ডায় জমে যাওয়া পুঞ্জীভূত মেঘ থেকে তোমাদের উপর শিলাবৃষ্টি বর্ষণ করেন। এরপর যাকে চান এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত করেন, আবার যাকে চান তাকে রক্ষা করেন। আবার কখনো মেঘের বিদ্যুৎ চমকানিও তোমাদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়।
یُقَلِّبُ اللّٰهُ الَّیْلَ وَ النَّهَارَ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَعِبْرَةً لِّاُولِی الْاَبْصَارِ 44
44. চেয়ে দেখো, আল্লাহই দিন ও রাতের আবর্তন ঘটান। অবশ্যই অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন লোকের জন্য এসবের মধ্যে অনেক শিক্ষা রয়েছে।
وَ اللّٰهُ خَلَقَ كُلَّ دَآبَّةٍ مِّنْ مَّآءٍ ۚ فَمِنْهُمْ مَّنْ یَّمْشِیْ عَلٰی بَطْنِهٖ ۚ وَ مِنْهُمْ مَّنْ یَّمْشِیْ عَلٰی رِجْلَیْنِ ۚ وَ مِنْهُمْ مَّنْ یَّمْشِیْ عَلٰۤی اَرْبَعٍ ؕ یَخْلُقُ اللّٰهُ مَا یَشَآءُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ 45
45. আল্লাহ জমিনে বিচরণশীল প্রত্যেক প্রাণীকে পানি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। দেখো! এদের কতেক বুকে ভর দিয়ে চলে, কতেক দুই পায়ে ও কতেক চার পায়ে হেঁটে চলে। তিনি যাকে যেভাবে চান, সৃষ্টি করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের উপর সর্বশক্তিমান।
لَقَدْ اَنْزَلْنَاۤ اٰیٰتٍ مُّبَیِّنٰتٍ ؕ وَ اللّٰهُ یَهْدِیْ مَنْ یَّشَآءُ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ 46
46. আমি আমার আয়াতের মাধ্যমে সত্যের বাণীকে সুস্পষ্টভাবে পেশ করেছি। অবশ্য আল্লাহ কেবল তাদেরকেই সত্য-সহজ পথ দেখান, যারা সে পথ খোঁজে।
وَ یَقُوْلُوْنَ اٰمَنَّا بِاللّٰهِ وَ بِالرَّسُوْلِ وَ اَطَعْنَا ثُمَّ یَتَوَلّٰی فَرِیْقٌ مِّنْهُمْ مِّنْۢ بَعْدِ ذٰلِكَ ؕ وَ مَاۤ اُولٰٓىِٕكَ بِالْمُؤْمِنِیْنَ 47
47. কিছু লোক বলে, আমরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের প্রতি পূর্ণ ঈমান রাখি এবং তাদের আনুগত্যও স্বীকার করি। কিন্তু না, পরক্ষণেই ওরা কার্যত আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আসলে ওরা ঈমানদার নয়।
وَ اِذَا دُعُوْۤا اِلَی اللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ لِیَحْكُمَ بَیْنَهُمْ اِذَا فَرِیْقٌ مِّنْهُمْ مُّعْرِضُوْنَ 48
48. খেয়াল করে দেখো, ওদের বিবাদমান বিষয়ে যখন বিচার-ফয়সালার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রসুলের দিকে ডাকা হয়, তখন ওদের অনেকেই পাশ কাটিয়ে চলে যায়।
وَ اِنْ یَّكُنْ لَّهُمُ الْحَقُّ یَاْتُوْۤا اِلَیْهِ مُذْعِنِیْنَؕ 49
49. কিন্তু বিচারের রায় ওদের পক্ষে যাবে বলে মনে করলে, খুব বিনয়-অবনত চেহারা নিয়েই রসুলের সামনে হাজির হয়।
اَفِیْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ اَمِ ارْتَابُوْۤا اَمْ یَخَافُوْنَ اَنْ یَّحِیْفَ اللّٰهُ عَلَیْهِمْ وَ رَسُوْلُهٗ ؕ بَلْ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الظّٰلِمُوْنَ۠ 50
50. আসলে ওদের সমস্যা কোথায়? ওদের অন্তরে কি মুনাফিকির রোগ ছেয়ে গেছে? নাকি ওরা সত্যের প্রতি এখনো সন্দিহান? নাকি ওরা ভয় করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পক্ষ থেকে ওদের উপর অবিচার করা হবে? আসল কথা হলো, ওরা সীমালঙ্ঘনকারী, অবাধ্য-পাপিষ্ঠ লোক।
اِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِیْنَ اِذَا دُعُوْۤا اِلَی اللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ لِیَحْكُمَ بَیْنَهُمْ اَنْ یَّقُوْلُوْا سَمِعْنَا وَاَطَعْنَا ؕ وَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ 51
51. অথচ ঈমানদারদেরকে যখন তাদের মধ্যকার বিবাদমান কোনো বিষয়ের ফয়সালা করে দেয়ার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রসুলের দিকে ডাকা হয়, তখন তারা সব সময় বলে, আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। সত্য হলো, এরাই সফলকাম।
وَ مَنْ یُّطِعِ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ وَ یَخْشَ اللّٰهَ وَیَتَّقْهِ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْفَآىِٕزُوْنَ 52
52. কেননা যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের আনুগত্য করে চলে, আল্লাহর ব্যাপারে সর্বদা ভয় করে এবং তাঁর নাফরমানী করা থেকে বিরত থাকে, কেবল তারাই সফল হতে পারে।
وَ اَقْسَمُوْا بِاللّٰهِ جَهْدَ اَیْمَانِهِمْ لَىِٕنْ اَمَرْتَهُمْ لَیَخْرُجُنَّ ؕ قُلْ لَّا تُقْسِمُوْا ۚ طَاعَةٌ مَّعْرُوْفَةٌ ؕ اِنَّ اللّٰهَ خَبِیْرٌۢ بِمَا تَعْمَلُوْنَ 53
53. হে নবী, মুনাফিকেরা আল্লাহর নামে শক্ত কসম খেয়ে বলে, আপনি শুধু একবার হুকুম করেন, সবকিছু ছেড়ে আমরা জিহাদের জন্য ঝাপিয়ে পড়বো। নবী হে, তুমি বলো, তোমাদের আর শপথ করার দরকার নেই, তোমদের আনুগত্যের আসল রূপ সবার জানা আছে। তোমরা যা কিছু করে বেড়াও, সে সম্পর্কে আল্লাহ মোটেই বেখবর নন।
قُلْ اَطِیْعُوا اللّٰهَ وَ اَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ ۚ فَاِنْ تَوَلَّوْا فَاِنَّمَا عَلَیْهِ مَا حُمِّلَ وَ عَلَیْكُمْ مَّا حُمِّلْتُمْ ؕ وَ اِنْ تُطِیْعُوْهُ تَهْتَدُوْا ؕ وَ مَا عَلَی الرَّسُوْلِ اِلَّا الْبَلٰغُ الْمُبِیْنُ 54
54. হে নবী, বলো, তোমরা আল্লাহর অনুগত হও এবং তাঁর রসুলের হুকুম মেনে চলো। কিন্তু যদি তোমরা এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রেখো, তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য সে দায়ী এবং তোমাদের দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী থাকবে। কাজেই তোমরা আনুগত থাকলে সত্য-সঠিক পথের দিশা পাবে। অন্যথায় আল্লাহর বিধান পৌঁছে দেয়া ছাড়া রসুলের আর কোনো অতিরিক্ত দায়িত্ব নেই।
وَعَدَ اللّٰهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مِنْكُمْ وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَیَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِی الْاَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ۪ وَ لَیُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِیْنَهُمُ الَّذِی ارْتَضٰی لَهُمْ وَ لَیُبَدِّلَنَّهُمْ مِّنْۢ بَعْدِ خَوْفِهِمْ اَمْنًا ؕ یَعْبُدُوْنَنِیْ لَا یُشْرِكُوْنَ بِیْ شَیْـًٔا ؕ وَ مَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذٰلِكَ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَ 55
55. তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান রাখে এবং সৎকাজ করে চলে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, পূর্ববর্তীদের ন্যায় তাদেরকেও জমিনে কর্তৃত্ব-ক্ষমতা দান করবেন। আল্লাহ তাদের জন্য যে জীবনব্যবস্থা পছন্দ করেছেন, তাকে সুদৃঢ় করবেন। আর তাদের বর্তমান ভয়-ভীতি ও অনিশ্চয়তা দূর করে নিরাপত্তা ও শান্তিময় পরিবেশ দান করবেন। কাজেই ঈমানদারদের উচিত, কেবল আমার বন্দেগী করা এবং আমার সাথে কাউকে শরিক না করা। অতএব এখন কেউ যদি ঈমানের পথ থেকে সরে যায়, তবে সে নিশ্চিত সত্যত্যাগী-পাপিষ্ঠ।
وَ اَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ وَ اَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ 56
56. সুতরাং হে ঈমানদারেরা, তোমরা নামাজ কায়েম করো, যাকাত আদায় করো এবং রসুলের প্রতি পূর্ণ অনুগত থাকো। আশা করা যায়, তোমরা এ পথে আল্লাহর দয়ায় ধন্য হবে।
لَا تَحْسَبَنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا مُعْجِزِیْنَ فِی الْاَرْضِ ۚ وَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ ؕ وَ لَبِئْسَ الْمَصِیْرُ۠ 57
57. কাফেরদের কখনো অপ্রতিরোধ্য ভেবো না। ওদের আবাস হবে জাহান্নামে। আফসোস! কতোই না খারাপ পরিণতি ওদের হবে!
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لِیَسْتَاْذِنْكُمُ الَّذِیْنَ مَلَكَتْ اَیْمَانُكُمْ وَ الَّذِیْنَ لَمْ یَبْلُغُوا الْحُلُمَ مِنْكُمْ ثَلٰثَ مَرّٰتٍ ؕ مِنْ قَبْلِ صَلٰوةِ الْفَجْرِ وَ حِیْنَ تَضَعُوْنَ ثِیَابَكُمْ مِّنَ الظَّهِیْرَةِ وَ مِنْۢ بَعْدِ صَلٰوةِ الْعِشَآءِ ؕ۫ ثَلٰثُ عَوْرٰتٍ لَّكُمْ ؕ لَیْسَ عَلَیْكُمْ وَ لَا عَلَیْهِمْ جُنَاحٌۢ بَعْدَهُنَّ ؕ طَوّٰفُوْنَ عَلَیْكُمْ بَعْضُكُمْ عَلٰی بَعْضٍ ؕ كَذٰلِكَ یُبَیِّنُ اللّٰهُ لَكُمُ الْاٰیٰتِ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ 58
58. হে ঈমানদারেরা, তোমাদের দাস-দাসী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানেরা যেন তিনটি সময়ে তোমাদের ব্যক্তিগত কক্ষে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করে। (এক) ফজরের নামাজের আগে, (দুই) দুপুরের বিশ্রামের সময়, যখন তোমরা নিজেদের পোশাক ঢিলা-ঢালা করে রাখো এবং (তিন) এশার নামাজের পর, যখন তোমরা ঘুমাও। এ তিনটি সময় তোমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মুহূর্ত। এ ছাড়া অন্যান্য সময়ে অনুমতি ছাড়া এলে, তাতে কারোরই দোষ নেই। আসলে তোমাদের পরস্পরের মধ্যে তো বারবার আসা-যাওয়া করতেই হয়। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর বিধি-বিধান পরিষ্কার ভাষায় বর্ণনা করছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব জানেন, সব বোঝেন।
وَ اِذَا بَلَغَ الْاَطْفَالُ مِنْكُمُ الْحُلُمَ فَلْیَسْتَاْذِنُوْا كَمَا اسْتَاْذَنَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ كَذٰلِكَ یُبَیِّنُ اللّٰهُ لَكُمْ اٰیٰتِهٖ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ 59
59. আর হ্যাঁ! তোমাদের এসব সন্তানেরা যখন প্রাপ্তবয়স্ক হবে, তখন তারাও যেনো বয়ষ্কদের মতো অনুমতি নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে। আল্লাহ তাঁর বিধানগুলো এভাবেই সুস্পষ্ট করে বয়ান করছেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ এবং প্রজ্ঞাবান।
وَ الْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَآءِ الّٰتِیْ لَا یَرْجُوْنَ نِكَاحًا فَلَیْسَ عَلَیْهِنَّ جُنَاحٌ اَنْ یَّضَعْنَ ثِیَابَهُنَّ غَیْرَ مُتَبَرِّجٰتٍۭ بِزِیْنَةٍ ؕ وَ اَنْ یَّسْتَعْفِفْنَ خَیْرٌ لَّهُنَّ ؕ وَ اللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ 60
60. অতিশয় বৃদ্ধা নারী যার মনে বিয়ের কোনো আকাক্সক্ষা জাগে না, তারা যদি সাজ-সজ্জা ও সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে গায়ের চাদর কিছুটা খুলে রাখে, তবে তাতে দোষ নেই। কিন্তু খুলে না রাখাটাই ভালো। আল্লাহ সব শোনেন, সব জানেন।
لَیْسَ عَلَی الْاَعْمٰی حَرَجٌ وَّ لَا عَلَی الْاَعْرَجِ حَرَجٌ وَّ لَا عَلَی الْمَرِیْضِ حَرَجٌ وَّ لَا عَلٰۤی اَنْفُسِكُمْ اَنْ تَاْكُلُوْا مِنْۢ بُیُوْتِكُمْ اَوْ بُیُوْتِ اٰبَآىِٕكُمْ اَوْ بُیُوْتِ اُمَّهٰتِكُمْ اَوْ بُیُوْتِ اِخْوَانِكُمْ اَوْ بُیُوْتِ اَخَوٰتِكُمْ اَوْ بُیُوْتِ اَعْمَامِكُمْ اَوْ بُیُوْتِ عَمّٰتِكُمْ اَوْ بُیُوْتِ اَخْوَالِكُمْ اَوْ بُیُوْتِ خٰلٰتِكُمْ اَوْ مَا مَلَكْتُمْ مَّفَاتِحَهٗۤ اَوْ صَدِیْقِكُمْ ؕ لَیْسَ عَلَیْكُمْ جُنَاحٌ اَنْ تَاْكُلُوْا جَمِیْعًا اَوْ اَشْتَاتًا ؕ فَاِذَا دَخَلْتُمْ بُیُوْتًا فَسَلِّمُوْا عَلٰۤی اَنْفُسِكُمْ تَحِیَّةً مِّنْ عِنْدِ اللّٰهِ مُبٰرَكَةً طَیِّبَةً ؕ كَذٰلِكَ یُبَیِّنُ اللّٰهُ لَكُمُ الْاٰیٰتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُوْنَ۠ 61
61. হে ঈমানদারেরা, শোনো! (এক) কোনো অন্ধ, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও রুগ্ন ব্যক্তি যদি তোমাদের ঘর থেকে কিছু খায়, তবে তাদের কোনো অপরাধ নেই। (দুই) তোমরা নিজেরা যদি সন্তান, পিতা-মাতা, ভাই-বোন, চাচা-ফুফু, মামা-খালা, বন্ধু-বান্ধব ও যেসব ঘরের চাবি তোমাদের কাছে রয়েছে, তাদের ঘর থেকে অনুমতি ছাড়াও কিছু খাও, তবে দোষ নেই। (তিন) তোমরা খাবারের বেলায় একসাথে বসে খাও কিংবা একা একা খাও, তাতেও কোনো দোষ নেই। (চার) আর ঘরে প্রবেশের সময় অবশ্যই নিজেদের লোকদের সালাম দেবে। এ কল্যাণময় পবিত্র অভিবাদন আল্লাহ তোমাদের শিখিয়েছেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতগুলো খুলে খুলে বর্ণনা করছেন, যাতে তোমরা বুঝে-শুনে চলতে পারো।
اِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِاللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ وَ اِذَا كَانُوْا مَعَهٗ عَلٰۤی اَمْرٍ جَامِعٍ لَّمْ یَذْهَبُوْا حَتّٰی یَسْتَاْذِنُوْهُ ؕ اِنَّ الَّذِیْنَ یَسْتَاْذِنُوْنَكَ اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ یُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ ۚ فَاِذَا اسْتَاْذَنُوْكَ لِبَعْضِ شَاْنِهِمْ فَاْذَنْ لِّمَنْ شِئْتَ مِنْهُمْ وَ اسْتَغْفِرْ لَهُمُ اللّٰهَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 62
62. খাঁটি ঈমানদার তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলকে অন্তর থেকে মেনে নিয়েছে। তারা কোনো সামষ্টিক কাজে রসুলের সাথে একত্র হলে, তার অনুমতি ছাড়া ময়দান ছেড়ে চলে যায় না। অতএব হে নবী, যারা জরুরতের কারণে তোমার অনুমতি পেয়ে ময়দান ত্যাগ করে, কেবল তারাই আল্লাহ ও তাঁর রসুলের প্রকৃত মান্যকারী। কাজেই তোমার কাছে কেউ যদি বাইরে যাবার অনুমতি চায়, তবে তুমি যাকে ইচ্ছে যাবার অনুমতি দিতে পারো। আর এদের জন্য আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই মেহেরবান।
لَا تَجْعَلُوْا دُعَآءَ الرَّسُوْلِ بَیْنَكُمْ كَدُعَآءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا ؕ قَدْ یَعْلَمُ اللّٰهُ الَّذِیْنَ یَتَسَلَّلُوْنَ مِنْكُمْ لِوَاذًا ۚ فَلْیَحْذَرِ الَّذِیْنَ یُخَالِفُوْنَ عَنْ اَمْرِهٖۤ اَنْ تُصِیْبَهُمْ فِتْنَةٌ اَوْ یُصِیْبَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ 63
63. হে ঈমানদারেরা, সাবধান! কোনো ব্যাপারে রসুলের আহ্বানকে নিজেদের পারস্পরিক আহ্বানের মতো সাধারণ মনে করো না। তোমাদের মধ্যে যারা চুপি চুপি কেটে পড়ে, আল্লাহ তাদেরকে ভালো করেই জানেন। কাজেই যারা রসুলের নির্দেশ অমান্য করে চলে, তাদের সতর্ক হওয়া উচিত। তা না হলে অচিরেই পার্থিব বিপদ এসে পড়বে কিংবা পরকালের কঠিন আযাবের মুখোমুখি হতে হবে।
اَلَاۤ اِنَّ لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ قَدْ یَعْلَمُ مَاۤ اَنْتُمْ عَلَیْهِ ؕ وَ یَوْمَ یُرْجَعُوْنَ اِلَیْهِ فَیُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُوْا ؕ وَ اللّٰهُ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ۠ 64
64. হে মানুষ, সাবধান হও। মহাকাশ ও পৃথিবীর সব কিছুই আল্লাহর। তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই আল্লাহর জ্ঞানের আওতায় রয়েছে। একদিন তোমরা তাঁর কাছেই ফিরবে। সেদিন তোমাদের জীবনের সব কাজই তিনি একটা একটা করে প্রকাশ করে দেবেন। নিশ্চয়ই সব কিছুই আল্লাহর জ্ঞানের অধীন।