33. আল আহযাব

یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ اتَّقِ اللّٰهَ وَ لَا تُطِعِ الْكٰفِرِیْنَ وَ الْمُنٰفِقِیْنَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلِیْمًا حَكِیْمًاۙ 1
1. হে নবী, একমাত্র আল্লাহকে ভয় করে চলো। কাফের ও মুনাফিকদের কথা মতো চলতে যেয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু জানেন, সবকিছু বোঝেন।
وَّ اتَّبِعْ مَا یُوْحٰۤی اِلَیْكَ مِنْ رَّبِّكَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرًاۙ 2
2. একমাত্র তোমার রবের দেয়া অহির অনুসরণ করো। তোমরা যা কিছুই করো, আল্লাহ সে ব্যাপারে পূর্ণ অবহিত।
وَّ تَوَكَّلْ عَلَی اللّٰهِ ؕ وَ كَفٰی بِاللّٰهِ وَكِیْلًا 3
3. কাজেই শুধুমাত্র আল্লাহর উপর আস্থা ও ভরসা করো । সন্দেহ নেই, কাজ সম্পাদনের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
مَا جَعَلَ اللّٰهُ لِرَجُلٍ مِّنْ قَلْبَیْنِ فِیْ جَوْفِهٖ ۚ وَ مَا جَعَلَ اَزْوَاجَكُمُ الّٰٓـِٔیْ تُظٰهِرُوْنَ مِنْهُنَّ اُمَّهٰتِكُمْ ۚ وَ مَا جَعَلَ اَدْعِیَآءَكُمْ اَبْنَآءَكُمْ ؕ ذٰلِكُمْ قَوْلُكُمْ بِاَفْوَاهِكُمْ ؕ وَ اللّٰهُ یَقُوْلُ الْحَقَّ وَ هُوَ یَهْدِی السَّبِیْلَ 4
4. শোনো! আল্লাহ কোনো মানুষকে দুটি হৃদয় দেননি, যাতে সে একটায় ঈমান ও অন্যটায় কুফরি বহন করে চলবে। আর তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের ব্যাপারে যতই বলো না কেন যে, তোমার শরীর আমার জন্য আমার মায়ের শরীরের মতো হারাম তাতে তোমাদের স্ত্রীরা কখনোই তোমাদের সত্যিকারের মা হবে না। একইভাবে তোমাদের দত্তক সন্তানেরাও কখনো রক্ত সম্পর্কের আপন সন্তানদের মতো হবে না। এসব তোমাদের মুখের কথা। আল্লাহই প্রকৃত সত্য বলেন। তিনিই সত্য-সঠিক পথ দেখান।
اُدْعُوْهُمْ لِاٰبَآىِٕهِمْ هُوَ اَقْسَطُ عِنْدَ اللّٰهِ ۚ فَاِنْ لَّمْ تَعْلَمُوْۤا اٰبَآءَهُمْ فَاِخْوَانُكُمْ فِی الدِّیْنِ وَ مَوَالِیْكُمْ ؕ وَ لَیْسَ عَلَیْكُمْ جُنَاحٌ فِیْمَاۤ اَخْطَاْتُمْ بِهٖ ۙ وَ لٰكِنْ مَّا تَعَمَّدَتْ قُلُوْبُكُمْ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا 5
5. বরং তোমরা এসব সন্তানদেরকে তাদের আসল পিতার পরিচয়ে ডাকো। আল্লাহর দৃষ্টিতে এটাই অধিকতর ন্যায়সঙ্গত। আর যদি তাদের পিতৃ পরিচয় জানা সম্ভব না হয়, তবে তাদেরকে দ্বীনিভাই ও বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো। না জেনে এ ব্যাপারে তোমরা যদি কোনো ভুল করে থাকো, তবে তা ক্ষমার যোগ্য। কিন্তু জেনে-বুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে এ অন্যায় করলে, তা অবশ্যই শাস্তিুর যোগ্য। বস্তুত আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
اَلنَّبِیُّ اَوْلٰی بِالْمُؤْمِنِیْنَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ وَ اَزْوَاجُهٗۤ اُمَّهٰتُهُمْ ؕ وَ اُولُوا الْاَرْحَامِ بَعْضُهُمْ اَوْلٰی بِبَعْضٍ فِیْ كِتٰبِ اللّٰهِ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُهٰجِرِیْنَ اِلَّاۤ اَنْ تَفْعَلُوْۤا اِلٰۤی اَوْلِیٰٓىِٕكُمْ مَّعْرُوْفًا ؕ كَانَ ذٰلِكَ فِی الْكِتٰبِ مَسْطُوْرًا 6
6. নিশ্চয়ই রসুল ঈমানদেরদের কাছে সবচেয়ে আপন; এমনকি তাদের নিজেদের জীবনের চেয়েও। আর রসুলের পবিত্র স্ত্রীগণ ঈমানদারদের মা। আল্লাহর বিধান অনুসারে মুমিন-মুহাজিরগন দ্বীনিভাই হিসাবে সম্পত্তির ওয়ারিশ বলে গণ্য হবে না বরং আত্মীয়রাই ওয়ারিশ হবে। তবে বন্ধু হিসাবে পরস্পরের প্রতি আনুকূল্য ও ভালো ব্যবহার করতে পারে, সেটা ভালো। মনে রেখো, এসব আল্লাহর লিখিত ফরমান।
وَ اِذْ اَخَذْنَا مِنَ النَّبِیّٖنَ مِیْثَاقَهُمْ وَ مِنْكَ وَ مِنْ نُّوْحٍ وَّ اِبْرٰهِیْمَ وَ مُوْسٰی وَ عِیْسَی ابْنِ مَرْیَمَ ۪ وَ اَخَذْنَا مِنْهُمْ مِّیْثَاقًا غَلِیْظًاۙ 7
7. হে নবী, ভুলে যেয়ো না, আমি প্রত্যেক নবীর কাছ থেকেই আমার পূর্ণ আনুগত্যের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছি। আমি তোমার কাছ থেকেও সে অঙ্গীকার নিয়েছি। একইভাবে নুহ, ইবরাহিম, মুসা এবং মারিয়াম পুত্র ঈসার কাছ থেকেও নিয়েছিলাম। সত্যিই আমি তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে এক অলঙ্ঘনীয় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম।
لِّیَسْـَٔلَ الصّٰدِقِیْنَ عَنْ صِدْقِهِمْ ۚ وَ اَعَدَّ لِلْكٰفِرِیْنَ عَذَابًا اَلِیْمًا۠ 8
8. যাতে সত্যবাদীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারেন যে, এসব নবীরা তাদের দায়িত্ব ঠিকঠাকভাবে পালন করেছিলেন কিনা। আর হ্যাঁ! কাফেরদের জন্য তিনি মর্মান্তিুক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اذْكُرُوْا نِعْمَةَ اللّٰهِ عَلَیْكُمْ اِذْ جَآءَتْكُمْ جُنُوْدٌ فَاَرْسَلْنَا عَلَیْهِمْ رِیْحًا وَّ جُنُوْدًا لَّمْ تَرَوْهَا ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرًاۚ 9
9. হে ঈমানদারেরা, খন্দকের যুদ্ধে আল্লাহ তোমাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেছিলেন, তা একবার স্মরণ করো। শত্রুবাহিনী যখন চারদিক দিয়ে তোমাদের উপর চড়াও হলো, তখন আমিই ওদের বিরুদ্ধে প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় ও অদৃশ্য বাহিনী পাঠিয়েছিলাম। আসলে আল্লাহ তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপেই চোখ রাখেন।
اِذْ جَآءُوْكُمْ مِّنْ فَوْقِكُمْ وَ مِنْ اَسْفَلَ مِنْكُمْ وَ اِذْ زَاغَتِ الْاَبْصَارُ وَ بَلَغَتِ الْقُلُوْبُ الْحَنَاجِرَ وَ تَظُنُّوْنَ بِاللّٰهِ الظُّنُوْنَا 10
10. স্মরণ করো, শত্রুবাহিনী যখন উপর ও নিচ চারদিক থেকে তোমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো, তখন ভয়ে তোমাদের চোখ হয়ে পড়েছিলো বিস্ফোরিত, প্রাণ হয়ে পড়েছিলো ওষ্ঠাগত। এমনকি তোমাদের কেউ কেউ আল্লাহ সম্পর্কে নানা অশোভন কল্পনায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছিলে।
هُنَالِكَ ابْتُلِیَ الْمُؤْمِنُوْنَ وَ زُلْزِلُوْا زِلْزَالًا شَدِیْدًا 11
11. সত্যিই সে সময় ঈমানদারেরা কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ছিলো। এ পরীক্ষা তাদের সমাজকে ভীষণভাবে কাঁপিয়ে দিয়েছিলো।
وَ اِذْ یَقُوْلُ الْمُنٰفِقُوْنَ وَ الَّذِیْنَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ مَّا وَعَدَنَا اللّٰهُ وَ رَسُوْلُهٗۤ اِلَّا غُرُوْرًا 12
12. সে সময় মুনাফিকেরা ও ব্যাধিগ্রস্ত অন্তরের লোকেরা পরস্পরকে বলছিলো, দেখো! আল্লাহ ও তাঁর রসুল আমাদেরকে যে বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, তা স্ব্রেফ ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই নয়।
وَ اِذْ قَالَتْ طَّآىِٕفَةٌ مِّنْهُمْ یٰۤاَهْلَ یَثْرِبَ لَا مُقَامَ لَكُمْ فَارْجِعُوْا ۚ وَ یَسْتَاْذِنُ فَرِیْقٌ مِّنْهُمُ النَّبِیَّ یَقُوْلُوْنَ اِنَّ بُیُوْتَنَا عَوْرَةٌ ۛؕ وَ مَا هِیَ بِعَوْرَةٍ ۛۚ اِنْ یُّرِیْدُوْنَ اِلَّا فِرَارًا 13
13. স্মরণ করো হে ঈমানদারেরা, এ সময় ওদের একদল তো প্রকাশ্যে বলে বেড়াতো, হে ইয়াছরিববাসী, তোমাদের জন্য আর এ নবীর সাথে থাকার সুযোগ নেই, ফিরে চলো। এরপর ওদের কিছু কিছু লোক নবীর কাছে এসে ফিরে যাবার জন্য অনুমতি চাইতে লাগলো। ওরা বাহানা দেখালো, আমাদের বাড়িঘর বিপদাপন্ন। অথচ না, ওদের বাড়িঘর বিপদাপন্ন ছিলো না। ওরা মূলত যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালাতে চাচ্ছিলো।
وَ لَوْ دُخِلَتْ عَلَیْهِمْ مِّنْ اَقْطَارِهَا ثُمَّ سُىِٕلُوا الْفِتْنَةَ لَاٰتَوْهَا وَ مَا تَلَبَّثُوْا بِهَاۤ اِلَّا یَسِیْرًا 14
14. ওদের মানসিক অবস্থা ছিলো এতোটাই নোংরা যে, যদি শত্রুরা চারদিক দিয়ে মদিনায় ঢুকে পড়তো এবং ওদেরকে ডেকে বলতো, মুসলমানদের নিধনে আমাদের সাথে যোগ দাও, তবে ওরা মুহূর্তের মধ্যেই বিদ্রোহে নেমে পড়তো। চক্ষুলজ্জাও ওদেরকে এক মুহূর্তের জন্য থামাতে পারতো না।
وَ لَقَدْ كَانُوْا عَاهَدُوا اللّٰهَ مِنْ قَبْلُ لَا یُوَلُّوْنَ الْاَدْبَارَ ؕ وَ كَانَ عَهْدُ اللّٰهِ مَسْـُٔوْلًا 15
15. অথচ ওরাই ইতঃপূর্বে আল্লাহর কাছে পাকাপোক্ত অঙ্গীকার দিয়েছিলো যে, ওরা কখনো কোনো যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছপা হবে না। জেনে রাখুক, আল্লাহর সাথে করা সে অঙ্গীকারের হিসাব ওদেরকে অবশ্যই দিতে হবে।
قُلْ لَّنْ یَّنْفَعَكُمُ الْفِرَارُ اِنْ فَرَرْتُمْ مِّنَ الْمَوْتِ اَوِ الْقَتْلِ وَ اِذًا لَّا تُمَتَّعُوْنَ اِلَّا قَلِیْلًا 16
16. হে নবী, এ মুনাফিকদের বলো, যুদ্ধ থেকে পালিয়ে লাভ নেই। হয়তো এ যাত্রায় মৃত্যু কিংবা নিহত হওয়া থেকে বাঁচতে পারবে। কিন্তু এরপর জীবনে ভোগ-মাস্তি করার জন্য খুব কম সময়ই পাবে।
قُلْ مَنْ ذَا الَّذِیْ یَعْصِمُكُمْ مِّنَ اللّٰهِ اِنْ اَرَادَ بِكُمْ سُوْٓءًا اَوْ اَرَادَ بِكُمْ رَحْمَةً ؕ وَ لَا یَجِدُوْنَ لَهُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَلِیًّا وَّ لَا نَصِیْرًا 17
17. ওদেরকে আরো বলো, আল্লাহ যদি তোমাদের ক্ষতি করতে চান, তাবে কে তোমাদের রক্ষা করবে? আর তিনি যদি তোমাদের উপর অনুগ্রহ করতে চান, তবে কে তোমাদের বঞ্চিত করবে? ওদের জেনে রাখা উচিত, আল্লাহর মোকাবেলায় ওরা কোনো পৃষ্ঠপোষক খুঁজে পাবে না। কোনো সাহায্যকারীও এগিয়ে আসবে না।
قَدْ یَعْلَمُ اللّٰهُ الْمُعَوِّقِیْنَ مِنْكُمْ وَ الْقَآىِٕلِیْنَ لِاِخْوَانِهِمْ هَلُمَّ اِلَیْنَا ۚ وَ لَا یَاْتُوْنَ الْبَاْسَ اِلَّا قَلِیْلًاۙ 18
18. ওদের বলে দাও, আল্লাহ ভালো করেই জানেন, তোমাদের মধ্যে কারা সাধারণ লোকদেরকে যুদ্ধে আসতে বাধা দিচ্ছিলে এবং নিজ স্বজনদেরকে বলছিলে, যুদ্ধ না করে বরং আমাদের সাথে ফিরে চলো। আসলে তোমরা তো লোক দেখানোর জন্য নামকাওয়াস্তে যুদ্ধে এসেছিলে।
اَشِحَّةً عَلَیْكُمْ ۖۚ فَاِذَا جَآءَ الْخَوْفُ رَاَیْتَهُمْ یَنْظُرُوْنَ اِلَیْكَ تَدُوْرُ اَعْیُنُهُمْ كَالَّذِیْ یُغْشٰی عَلَیْهِ مِنَ الْمَوْتِ ۚ فَاِذَا ذَهَبَ الْخَوْفُ سَلَقُوْكُمْ بِاَلْسِنَةٍ حِدَادٍ اَشِحَّةً عَلَی الْخَیْرِ ؕ اُولٰٓىِٕكَ لَمْ یُؤْمِنُوْا فَاَحْبَطَ اللّٰهُ اَعْمَالَهُمْ ؕ وَ كَانَ ذٰلِكَ عَلَی اللّٰهِ یَسِیْرًا 19
19. এসব মুনাফিকেরা মুমিনদের সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতার ব্যাপারে হাত গুটিয়ে রেখেছে। বিপদ দেখামাত্রই ওদের চোখে-মুখে মৃত্যুর ছাপ পড়ে যায় এবং তোমাদের দিকে চোখ উল্টিয়ে তাকাতে থাকে। আর যখন বিপদ কেটে যায় তখন আবার যুদ্ধলব্ধ মালামালের লোভে তোমাদেরকে ধারালো বাক্যবাণে জর্জরিত করে। ওরা আসলে ঈমানদার নয়; বরং পাক্কা কাফের। আল্লাহ ওদের সমস্ত কাজকর্ম নিষ্ফল করে দিয়েছেন। এমনটা করা আল্লাহর জন্য মোটেই কঠিন নয়।
یَحْسَبُوْنَ الْاَحْزَابَ لَمْ یَذْهَبُوْا ۚ وَ اِنْ یَّاْتِ الْاَحْزَابُ یَوَدُّوْا لَوْ اَنَّهُمْ بَادُوْنَ فِی الْاَعْرَابِ یَسْاَلُوْنَ عَنْ اَنْۢبَآىِٕكُمْ ؕ وَ لَوْ كَانُوْا فِیْكُمْ مَّا قٰتَلُوْۤا اِلَّا قَلِیْلًا۠ 20
20. এ মুনাফিকেরা ধারণা করে যে, অবরোধকারী সম্মিলিত বাহিনী ঈমানদেরদের নিশ্চিহ্ন না করে চলে যেতে পারে না। তাই যদি এ বাহিনী আবার ফিরে এসে আক্রমন চালায়, তবে এরা চাইবে যুদ্ধ না করে বরং মরুভূমির বেদুইনদের মাঝে আত্মগোপন করে থাকতে। নিরাপদ দূরত্বে থেকে ওরা তোমাদের খোঁজ-খবর নেবে। আর যদি একান্ত বাধ্য হয়ে তোমাদের মধ্যে থেকেই যায়, তবে ওরা খুব কমই যুদ্ধে অংশ নেবে।
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِیْ رَسُوْلِ اللّٰهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَنْ كَانَ یَرْجُوا اللّٰهَ وَ الْیَوْمَ الْاٰخِرَ وَ ذَكَرَ اللّٰهَ كَثِیْرًاؕ 21
21. যাদের অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা ও আখেরাতের মুক্তির আকাক্সক্ষা রয়েছে এবং কার্যত আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে চলে, নিশ্চয়ই তাদের জন্য আল্লাহর রসুলের মধ্যেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।
وَ لَمَّا رَاَ الْمُؤْمِنُوْنَ الْاَحْزَابَ ۙ قَالُوْا هٰذَا مَا وَعَدَنَا اللّٰهُ وَ رَسُوْلُهٗ وَ صَدَقَ اللّٰهُ وَ رَسُوْلُهٗ ؗ وَ مَا زَادَهُمْ اِلَّاۤ اِیْمَانًا وَّ تَسْلِیْمًاؕ 22
22. সেদিন প্রকৃত ঈমানদারেরা সম্মিলিত শত্রুবাহিনীকে দেখে বলেছিলো, এতো আমাদের সাথে করা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সেই মহাবিজয়ের প্রতিশ্রুতির বাস্তুব রূপ। আমরা পরিষ্কার দেখছি, আল্লাহ ও তাঁর রসুলের ওয়াদা সত্য হতে চলছে। বাস্তবে এ দৃশ্য তাদের ঈমান ও আনুগত্যের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছিলো।
مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ رِجَالٌ صَدَقُوْا مَا عَاهَدُوا اللّٰهَ عَلَیْهِ ۚ فَمِنْهُمْ مَّنْ قَضٰی نَحْبَهٗ وَ مِنْهُمْ مَّنْ یَّنْتَظِرُ ۖؗ وَ مَا بَدَّلُوْا تَبْدِیْلًاۙ 23
23. ঈমানদারদের মধ্যে অনেকেই আল্লাহর সাথে করা নিজেদের অঙ্গীকারকে পূরণ করেছে। তাদের কেউ কেউ শাহাদাতের নজরানা পেশ করেছে এবং অনেকেই শাহাদাতের তামান্না নিয়ে অপেক্ষা করছে। অঙ্গীকার দেয়ার পর থেকে তারা কখনোই একচুল এদিক-সেদিক করেনি।
لِّیَجْزِیَ اللّٰهُ الصّٰدِقِیْنَ بِصِدْقِهِمْ وَ یُعَذِّبَ الْمُنٰفِقِیْنَ اِنْ شَآءَ اَوْ یَتُوْبَ عَلَیْهِمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ غَفُوْرًا رَّحِیْمًاۚ 24
24. এ ঝড়ঝঞ্ঝাময় ঘটনার মাধ্যমে মূলত আল্লাহ সাচ্চা ঈমানদারদের সত্যবাদিতার পুরস্কার দিতে চেয়েছেন এবং একইসাথে কপোট মুনাফিকদের চেহারা উন্মোচন করে শাস্তিু অথবা ভুল স্বীকারের মাধ্যমে ওদেরকে ক্ষমা করতে চেয়েছেন। আসলে আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
وَ رَدَّ اللّٰهُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِغَیْظِهِمْ لَمْ یَنَالُوْا خَیْرًا ؕ وَ كَفَی اللّٰهُ الْمُؤْمِنِیْنَ الْقِتَالَ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ قَوِیًّا عَزِیْزًاۚ 25
25. এ যুদ্ধে আল্লাহ সত্য অস্বীকারকারীদের ব্যর্থ করে দিয়েছেন। ওরা এক বুক জ্বালা-যন্ত্রণা নিয়ে ফিরে গেছে। ওরা কোনো লাভই অর্জন করতে পারেনি। যুদ্ধে ঈমানদারদের রক্ষার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট প্রমাণিত হলেন। বস্তুত আল্লাহ মহাশক্তিশালী, মহাপরাক্রমশালী।
وَ اَنْزَلَ الَّذِیْنَ ظَاهَرُوْهُمْ مِّنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ مِنْ صَیَاصِیْهِمْ وَ قَذَفَ فِیْ قُلُوْبِهِمُ الرُّعْبَ فَرِیْقًا تَقْتُلُوْنَ وَ تَاْسِرُوْنَ فَرِیْقًاۚ 26
26. এদিকে ইহুদিগোত্র বনি কুরায়যা যারা যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করে শত্রুবাহিনীকে সাহায্য করেছিলো, আল্লাহ ওদের অন্তরে ভয়ের সঞ্চার করে দিলেন এবং শেষপর্যন্ত ওদেরকে দুর্গ থেকে নেমে আসতে বাধ্য করলেন। এভাবেই তোমরা ওদের একদলকে হত্যা করলে এবং অন্যদের বন্দী করার সুযোগ পেলে।
وَ اَوْرَثَكُمْ اَرْضَهُمْ وَ دِیَارَهُمْ وَ اَمْوَالَهُمْ وَ اَرْضًا لَّمْ تَطَـُٔوْهَا ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرًا۠ 27
27. আর এভাবেই আল্লাহ তোমাদেরকে ওদের সব জায়গা-জমি, ঘর-বাড়ি ও ধন-সম্পত্তির মালিক বানিয়ে দিলেন এবং তোমাদের এমন অনেক অঞ্চল দিলেন, যেখানে তোমরা আগে কখনো আসোনি। বস্তুত আল্লাহ সবকিছুর উপরই প্রচন্ড ক্ষমতার অধিকারী।
یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ قُلْ لِّاَزْوَاجِكَ اِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَیٰوةَ الدُّنْیَا وَ زِیْنَتَهَا فَتَعَالَیْنَ اُمَتِّعْكُنَّ وَ اُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِیْلًا 28
28. হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রীদের বলে দাও, তোমরা যদি পার্থিব ভোগ-বিলাস কামনা করো, তবে এসো আমি তোমাদের খানিকটা বিলাস সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদেরকে বিদায় করে দেই।
وَ اِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ وَ الدَّارَ الْاٰخِرَةَ فَاِنَّ اللّٰهَ اَعَدَّ لِلْمُحْسِنٰتِ مِنْكُنَّ اَجْرًا عَظِیْمًا 29
29. আর যদি তোমরা এসবের পরিবর্তে আল্লাহ, তাঁর রসুল এবং আখেরাতের প্রত্যাশী হও, তবে জেনে রেখো, তোমাদের মধ্যের সৎকর্মশীলদের জন্য আল্লাহ মহাপুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।
یٰنِسَآءَ النَّبِیِّ مَنْ یَّاْتِ مِنْكُنَّ بِفَاحِشَةٍ مُّبَیِّنَةٍ یُّضٰعَفْ لَهَا الْعَذَابُ ضِعْفَیْنِ ؕ وَكَانَ ذٰلِكَ عَلَی اللّٰهِ یَسِیْرًا 30
30. হে নবীর স্ত্রীগণ, মনে রেখো, তোমাদের কেউ প্রকাশ্য অশ্লীল কাজে জড়ালে তাকে দ্বিগুন শাস্তি দেয়া হবে। এটা করতে আল্লাহর মোটেই কষ্ট হবে না।
وَ مَنْ یَّقْنُتْ مِنْكُنَّ لِلّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ وَ تَعْمَلْ صَالِحًا نُّؤْتِهَاۤ اَجْرَهَا مَرَّتَیْنِ ۙ وَاَعْتَدْنَا لَهَا رِزْقًا كَرِیْمًا 31
31. হে নবী পত্নীগণ, তোমাদের যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পূর্ণ অনুগত থাকবে এবং সৎকর্ম করে চলবে, আমি তাকে অবশ্যই দ্বিগুণ পুরস্কার দেবো। তাছাড়া তার জন্য আমি সম্মানজনক রিযিকের ব্যবস্থাও করে রেখেছি।
یٰنِسَآءَ النَّبِیِّ لَسْتُنَّ كَاَحَدٍ مِّنَ النِّسَآءِ اِنِ اتَّقَیْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَیَطْمَعَ الَّذِیْ فِیْ قَلْبِهٖ مَرَضٌ وَّ قُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوْفًاۚ 32
32. হে নবীর স্ত্রীরা, মনে রেখো, তোমরা সাধারণ নারীদের মতো নও। কাজেই যদি তোমাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় থেকে থাকে তবে সাবধান! কখনোই পরপুরুষের সাথে কোমল কণ্ঠে আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, যাতে ব্যাধিগ্রস্থ অন্তরের লোকেরা তোমাদের প্রতি প্রলুব্ধ হয়ে পড়ে; বরং তাদের সাথে পরিষ্কার ভাষায় স্বাভাবিক কথা বলবে।
وَ قَرْنَ فِیْ بُیُوْتِكُنَّ وَ لَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِیَّةِ الْاُوْلٰی وَ اَقِمْنَ الصَّلٰوةَ وَ اٰتِیْنَ الزَّكٰوةَ وَ اَطِعْنَ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ ؕ اِنَّمَا یُرِیْدُ اللّٰهُ لِیُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَیْتِ وَ یُطَهِّرَكُمْ تَطْهِیْرًاۚ 33
33. আর তোমরা নিজ নিজ বাড়ি-ঘরে অবস্থান করো। তবে প্রয়োজনে বাহিরে বের হলে জাহেলি যুগের নারীদের মতো সাজসজ্জা করে নিজেদের প্রদর্শনী করে বেড়াবে না। নামাজ কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পূর্ণ অনুগত থাকবে। ওহে নবী পরিবার, শোনো! আল্লাহ সকল পাপ-পঙ্কিলতা দূর করে তোমাদেরকে সর্বদা পূত পবিত্র রাখতে চান।
وَ اذْكُرْنَ مَا یُتْلٰی فِیْ بُیُوْتِكُنَّ مِنْ اٰیٰتِ اللّٰهِ وَ الْحِكْمَةِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ لَطِیْفًا خَبِیْرًا۠ 34
34. আর আল্লাহর আয়াত ও বিভিন্ন প্রজ্ঞাপূর্ণ যে আলোচনা তোমাদের ঘরে শুনানো হয়, তা সবসময় মনে রাখবে। ভুলে যেয়ো না, আল্লাহ বড়ই সূক্ষ্ণদর্শী এবং সম্যক অবহিত।
اِنَّ الْمُسْلِمِیْنَ وَ الْمُسْلِمٰتِ وَ الْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ وَالْقٰنِتِیْنَ وَالْقٰنِتٰتِ وَالصّٰدِقِیْنَ وَالصّٰدِقٰتِ وَالصّٰبِرِیْنَ وَالصّٰبِرٰتِ وَالْخٰشِعِیْنَ وَالْخٰشِعٰتِ وَالْمُتَصَدِّقِیْنَ وَ الْمُتَصَدِّقٰتِ وَ الصَّآىِٕمِیْنَ وَالصّٰٓىِٕمٰتِ وَالْحٰفِظِیْنَ فُرُوْجَهُمْ وَالْحٰفِظٰتِ وَالذّٰكِرِیْنَ اللّٰهَ كَثِیْرًا وَّالذّٰكِرٰتِ ۙ اَعَدَّ اللّٰهُ لَهُمْ مَّغْفِرَةً وَّ اَجْرًا عَظِیْمًا 35
35. একথা সুনিশ্চিত যে, মুসলিম পুরুষ ও নারী, ঈমানদার পুরুষ ও নারী, অনুগত পুরুষ ও নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও নারী, আল্লাহর সামনে বিনীত পুরুষ ও নারী, দানশীল পুরুষ ও নারী, রোযাদার পুরুষ ও নারী, যৌনসংযমী পুরুষ ও নারী এবং অধিক পরিমাণে আল্লাহকে স্মরণকারী পুরুষ ও নারীদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ব্যবস্থা করে রেখেছেন।
وَ مَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَّ لَا مُؤْمِنَةٍ اِذَا قَضَی اللّٰهُ وَ رَسُوْلُهٗۤ اَمْرًا اَنْ یَّكُوْنَ لَهُمُ الْخِیَرَةُ مِنْ اَمْرِهِمْ ؕ وَ مَنْ یَّعْصِ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ فَقَدْ ضَلَّ ضَلٰلًا مُّبِیْنًاؕ 36
36. মনে রেখো, আল্লাহ ও তাঁর রসুল কোনো ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা শুনিয়ে দিলে, সে ব্যপারে কোনো ঈমানদার পুরুষ কিংবা নারীর ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার নেই। সুতরাং কেউ যদি আল্লাহ ও তাঁর রসুলের হুকুম অমান্য করে, তবে সে নিশ্চিত পথভ্রষ্ট।
وَ اِذْ تَقُوْلُ لِلَّذِیْۤ اَنْعَمَ اللّٰهُ عَلَیْهِ وَ اَنْعَمْتَ عَلَیْهِ اَمْسِكْ عَلَیْكَ زَوْجَكَ وَ اتَّقِ اللّٰهَ وَ تُخْفِیْ فِیْ نَفْسِكَ مَا اللّٰهُ مُبْدِیْهِ وَ تَخْشَی النَّاسَ ۚ وَ اللّٰهُ اَحَقُّ اَنْ تَخْشٰىهُ ؕ فَلَمَّا قَضٰی زَیْدٌ مِّنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنٰكَهَا لِكَیْ لَا یَكُوْنَ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ حَرَجٌ فِیْۤ اَزْوَاجِ اَدْعِیَآىِٕهِمْ اِذَا قَضَوْا مِنْهُنَّ وَطَرًا ؕ وَ كَانَ اَمْرُ اللّٰهِ مَفْعُوْلًا 37
37. স্মরণ করো, আল্লাহ যায়েদের প্রতি বড়ই অনুগ্রহ করেছিলেন এবং তুমিও তাকে মমতা-ভালোবাসায় সিক্ত করেছিলে। হ্যাঁ! তখন তুমি যায়েদকে বলেছিলে, তোমার স্ত্রী যয়নবকে ছেড়ে দিও না। আল্লাহকে ভয় করো। কিন্তু তখন তোমার অন্তরে এমন কিছু লুকিয়ে ছিলো, যা আল্লাহ প্রকাশ করতে চেয়েছেন। তুমি লোক নিন্দার ভয় করছিলে; অথচ মানুষের চেয়ে আল্লাহই বেশি ভয় পাওয়ার দাবিদার। শেষ পযর্ন্ত যায়েদ যখন যয়নবের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটালো, তখন আমি, হ্যাঁ আমিই তোমার সাথে যয়নবকে বিয়ে দিয়ে দিলাম। আমি এটা এজন্য করেছি, যাতে ভবিষ্যতে ঈমানদারেরা তাদের মুখবলা দত্তক ছেলেদের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীদেরকে বিয়ে করতে কোনো সংকোচ বোধ না করে। এটাই আল্লাহর নির্দেশ। অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।
مَا كَانَ عَلَی النَّبِیِّ مِنْ حَرَجٍ فِیْمَا فَرَضَ اللّٰهُ لَهٗ ؕ سُنَّةَ اللّٰهِ فِی الَّذِیْنَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ ؕ وَ كَانَ اَمْرُ اللّٰهِ قَدَرًا مَّقْدُوْرًاۙ 38
38. হে নবী, আল্লাহ নবী হিসাবে তোমার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তা পূরণ করতে তোমার কোনো বাধা নেই। পূর্ববতী নবীদের জন্যেও এটাই ছিলো আল্লাহর চিরায়ত নিয়ম। আর আল্লাহর প্রতিটি হুকুমই চূড়ান্ত স্থিরকৃত।
الَّذِیْنَ یُبَلِّغُوْنَ رِسٰلٰتِ اللّٰهِ وَ یَخْشَوْنَهٗ وَ لَا یَخْشَوْنَ اَحَدًا اِلَّا اللّٰهَ ؕ وَ كَفٰی بِاللّٰهِ حَسِیْبًا 39
39. মনে রেখো, সকল নবীই আল্লাহর পয়গাম পৌঁছিয়েছে। তারা একাজে কেবল আল্লাহকেই ভয় করেছে। আল্লাহ ছাড়া আর কারো ভয় তাদের অন্তরে ছিলো না। কেননা জবাবদিহি গ্রহণে একমাত্র আল্লাহই যর্থাথ-যথেষ্ট।
مَا كَانَ مُحَمَّدٌ اَبَاۤ اَحَدٍ مِّنْ رِّجَالِكُمْ وَ لٰكِنْ رَّسُوْلَ اللّٰهِ وَ خَاتَمَ النَّبِیّٖنَ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمًا۠ 40
40. হে লোকেরা, তোমরা তো জানো যে, মুহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রসুল এবং শেষ নবী। বস্তুত আল্লাহই সব জিনিসের সঠিক জ্ঞান রাখেন।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اذْكُرُوا اللّٰهَ ذِكْرًا كَثِیْرًاۙ 41
41. হে ঈমানদারেরা, আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো।
وَّ سَبِّحُوْهُ بُكْرَةً وَّ اَصِیْلًا 42
42. এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা জপতে থাকো।
هُوَ الَّذِیْ یُصَلِّیْ عَلَیْكُمْ وَ مَلٰٓىِٕكَتُهٗ لِیُخْرِجَكُمْ مِّنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوْرِ ؕ وَ كَانَ بِالْمُؤْمِنِیْنَ رَحِیْمًا 43
43. ঈমানদারেরা, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে এনেছেন। এমনকি ফেরেশতারাও তোমাদের হেদায়তের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছে। সত্যিই আল্লাহ ঈমানদারদের প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল।
تَحِیَّتُهُمْ یَوْمَ یَلْقَوْنَهٗ سَلٰمٌ ۚۖ وَ اَعَدَّ لَهُمْ اَجْرًا كَرِیْمًا 44
44. আর ঈমানদারেরা যেদিন আল্লাহর সাক্ষাতে ধন্য হবে, সেদিন তাদের অভ্যর্থনা জানানো হবে সালামের মাধ্যমে। বস্তুত আল্লাহ তাদের জন্য সম্মানজনক পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।
یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ اِنَّاۤ اَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا وَّ مُبَشِّرًا وَّ نَذِیْرًاۙ 45
45. হে নবী, আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সত্যের সাক্ষীরূপে, লোকদের জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসাবে।
وَّ دَاعِیًا اِلَی اللّٰهِ بِاِذْنِهٖ وَ سِرَاجًا مُّنِیْرًا 46
46. আল্লাহর অনুগ্রহে তাঁর দিকে লোকদেরকে আহ্বানকারী এবং এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা রূপে।
وَ بَشِّرِ الْمُؤْمِنِیْنَ بِاَنَّ لَهُمْ مِّنَ اللّٰهِ فَضْلًا كَبِیْرًا 47
47. আর হে নবী, ঈমানদারদের সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে অফুরন্ত অনুগ্রহ ও কল্যাণ।
وَ لَا تُطِعِ الْكٰفِرِیْنَ وَ الْمُنٰفِقِیْنَ وَ دَعْ اَذٰىهُمْ وَ تَوَكَّلْ عَلَی اللّٰهِ ؕ وَكَفٰی بِاللّٰهِ وَكِیْلًا 48
48. কাজেই কাফের ও মুনাফিকদের কথায় দমে যেয়ো না। ওদের নিপীড়নমূলক কার্যক্রমকে পরোয়া করো না। বরং আল্লাহর উপর আস্থা ও ভরসা রাখো। আল্লাহ ভরসাকারীর কাজের জন্য যথেষ্ট।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِذَا نَكَحْتُمُ الْمُؤْمِنٰتِ ثُمَّ طَلَّقْتُمُوْهُنَّ مِنْ قَبْلِ اَنْ تَمَسُّوْهُنَّ فَمَا لَكُمْ عَلَیْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍ تَعْتَدُّوْنَهَا ۚ فَمَتِّعُوْهُنَّ وَسَرِّحُوْهُنَّ سَرَاحًا جَمِیْلًا 49
49. হে ঈমানদারেরা, তোমরা কোনো ঈমানদার নারীকে বিয়ে করার পর তাদের সাথে মিলিত হওয়ার পূর্বেই যদি তালাক দিয়ে দাও, তবে তাদের নতুন বিয়ে করতে কোনো ইদ্দত পালন করতে হবে না। আর তাদের বিদায়ের সময় কিছু উপহার সামগ্রী দিবে এবং সম্মানের সাথে বিদায় দিবে।
یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ اِنَّاۤ اَحْلَلْنَا لَكَ اَزْوَاجَكَ الّٰتِیْۤ اٰتَیْتَ اُجُوْرَهُنَّ وَ مَا مَلَكَتْ یَمِیْنُكَ مِمَّاۤ اَفَآءَ اللّٰهُ عَلَیْكَ وَ بَنٰتِ عَمِّكَ وَ بَنٰتِ عَمّٰتِكَ وَ بَنٰتِ خَالِكَ وَ بَنٰتِ خٰلٰتِكَ الّٰتِیْ هَاجَرْنَ مَعَكَ ؗ وَ امْرَاَةً مُّؤْمِنَةً اِنْ وَّهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِیِّ اِنْ اَرَادَ النَّبِیُّ اَنْ یَّسْتَنْكِحَهَا ۗ خَالِصَةً لَّكَ مِنْ دُوْنِ الْمُؤْمِنِیْنَ ؕ قَدْ عَلِمْنَا مَا فَرَضْنَا عَلَیْهِمْ فِیْۤ اَزْوَاجِهِمْ وَ مَا مَلَكَتْ اَیْمَانُهُمْ لِكَیْلَا یَكُوْنَ عَلَیْكَ حَرَجٌ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا 50
50. হে নবী, তোমার জন্য হালাল করেছি তোমার স্ত্রীদেরকে যাদের মোহরানা তুমি আদায় করেছো এবং দাসীদেরকেও হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ তোমার মালিকানাভুক্ত করে দিয়েছেন। আর হে নবী, তোমার সাথে হিজরত করে আসা তোমার চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো, খালাতো বোনদেরকেও তুমি চাইলে বিয়ে করতে পারো। এছাড়াও কোনো ঈমানদার নারী যদি নিজেকে নবীর জন্য নিবেদন করতে চায়, তবে তুমি চাইলে তাকেও বিয়ে করতে পারো। এ নিয়ম কেবল তোমার জন্য। অন্যান্য ঈমানদারদের জন্য এ নিয়ম প্রযোজ্য নয়। এ নিয়মের মাধ্যমে মূলত তোমার অসুবিধা দূর করাই ছিল উদ্দেশ্য। অন্যান্য ঈমানদারদের স্ত্রী ও তাদের মালিকানাধীন দাসীদের ব্যাপারে আমি যা নির্ধারণ করেছি, তা তো পূর্বেই জানিয়ে দিয়েছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল এবং অতীর মেহেরবান।
تُرْجِیْ مَنْ تَشَآءُ مِنْهُنَّ وَ تُـْٔوِیْۤ اِلَیْكَ مَنْ تَشَآءُ ؕ وَ مَنِ ابْتَغَیْتَ مِمَّنْ عَزَلْتَ فَلَا جُنَاحَ عَلَیْكَ ؕ ذٰلِكَ اَدْنٰۤی اَنْ تَقَرَّ اَعْیُنُهُنَّ وَ لَا یَحْزَنَّ وَ یَرْضَیْنَ بِمَاۤ اٰتَیْتَهُنَّ كُلُّهُنَّ ؕ وَ اللّٰهُ یَعْلَمُ مَا فِیْ قُلُوْبِكُمْ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَلِیْمًا حَلِیْمًا 51
51. হে নবী, তোমাকে এখতিয়ার দেয়া হচ্ছে, তোমার স্ত্রীদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা তোমার থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারো, আবার যাকে ইচ্ছা তাকে কাছে আনতে পারো। যাকে দূরে রেখেছিলে, চাইলে তাকেও কাছে আনতে পারো। এসব করায় তোমার কোনো দোষ নেই। এ নীতির মাধ্যমে তোমার জন্য স্ত্রীদের খুশি করা সহজ হবে। তারা খুবই কম দুঃখিত হবে। তখন তুমি তাদেরকে যা কিছু দেবে, তারা তাতেই পরিতৃপ্ত হবে। আল্লাহই ভালো জানেন, তোমাদের অন্তরে কী রয়েছে। আল্লাহ মহাজ্ঞানী এবং পরম সহনশীল।
لَا یَحِلُّ لَكَ النِّسَآءُ مِنْۢ بَعْدُ وَ لَاۤ اَنْ تَبَدَّلَ بِهِنَّ مِنْ اَزْوَاجٍ وَّ لَوْ اَعْجَبَكَ حُسْنُهُنَّ اِلَّا مَا مَلَكَتْ یَمِیْنُكَ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ رَّقِیْبًا۠ 52
52. তবে হে নবী, এরপর আর অন্য কোনো নারীকে বিয়ে করা তোমার জন্য হালাল থাকছে না। তোমার বর্তমান এসব স্ত্রীদের পরিবর্তে অন্য কাউকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করতে পারবে না তাদের সৌন্দর্য তোমায় যতোই মুগ্ধ করুক না কেনো। তবে অধিকারভুক্ত দাসীদের ব্যাপারে এ নিয়ম প্রযোজ্য নয়। বস্তুত আল্লাহ সব কিছুর উপরই তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَدْخُلُوْا بُیُوْتَ النَّبِیِّ اِلَّاۤ اَنْ یُّؤْذَنَ لَكُمْ اِلٰی طَعَامٍ غَیْرَ نٰظِرِیْنَ اِنٰىهُ ۙ وَ لٰكِنْ اِذَا دُعِیْتُمْ فَادْخُلُوْا فَاِذَا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوْا وَ لَا مُسْتَاْنِسِیْنَ لِحَدِیْثٍ ؕ اِنَّ ذٰلِكُمْ كَانَ یُؤْذِی النَّبِیَّ فَیَسْتَحْیٖ مِنْكُمْ ؗ وَ اللّٰهُ لَا یَسْتَحْیٖ مِنَ الْحَقِّ ؕ وَ اِذَا سَاَلْتُمُوْهُنَّ مَتَاعًا فَسْـَٔلُوْهُنَّ مِنْ وَّرَآءِ حِجَابٍ ؕ ذٰلِكُمْ اَطْهَرُ لِقُلُوْبِكُمْ وَ قُلُوْبِهِنَّ ؕ وَ مَا كَانَ لَكُمْ اَنْ تُؤْذُوْا رَسُوْلَ اللّٰهِ وَ لَاۤ اَنْ تَنْكِحُوْۤا اَزْوَاجَهٗ مِنْۢ بَعْدِهٖۤ اَبَدًا ؕ اِنَّ ذٰلِكُمْ كَانَ عِنْدَ اللّٰهِ عَظِیْمًا 53
53. হে ঈমানদারেরা, তোমরা অনুমতি ছাড়া নবীর ঘরে প্রবেশ করবে না। হঠাৎ করে খাবারের সময় নবীর ঘরে এসে বসে থাকবে না। তবে হ্যাঁ, দাওয়াত দিলে আসবে। কিন্তু খাওয়া শেষ হওয়া মাত্রই চলে যাবে। সেখানে বসে খোশ-গল্পে মশগুল হয়ে পড়বে না। কেননা এতে নবীর অনেক কষ্ট হয়; কিন্তু সে চক্ষুলজ্জায় তোমাদেরকে চলে যেতেও বলতে পারে না। তবে আল্লাহ সত্য প্রকাশ করতে সংকোচবোধ করেন না। ঈমানদারেরা, তোমরা নবীর স্ত্রীদের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের ও তাদের অন্তরের পবিত্রতার জন্য অধিক উপযোগী। আল্লাহর রসুলকে কষ্ট দেয়া তোমাদের জন্য মোটেও উচিত নয়। আর নবীর মৃত্যুর পর তার স্ত্রীদের কাউকে বিয়ে করাও তোমাদের জন্য হালাল নয়। মনে রাখবে, আল্লাহর কাছে এসব গুরুতর অপরাধ।
اِنْ تُبْدُوْا شَیْـًٔا اَوْ تُخْفُوْهُ فَاِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمًا 54
54. ভুলে যেয়ো না, তোমরা কোনো কথা প্রকাশ করো কিংবা গোপন রাখো, আল্লাহ সবকিছুই জানেন।
لَا جُنَاحَ عَلَیْهِنَّ فِیْۤ اٰبَآىِٕهِنَّ وَ لَاۤ اَبْنَآىِٕهِنَّ وَ لَاۤ اِخْوَانِهِنَّ وَ لَاۤ اَبْنَآءِ اِخْوَانِهِنَّ وَ لَاۤ اَبْنَآءِ اَخَوٰتِهِنَّ وَ لَا نِسَآىِٕهِنَّ وَ لَا مَا مَلَكَتْ اَیْمَانُهُنَّ ۚ وَ اتَّقِیْنَ اللّٰهَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ شَهِیْدًا 55
55. জেনে রেখো, নবীর স্ত্রীদের ঘরে তাদের পিতা, ছেলে, ভাই, ভাতিজা, ভাগ্নে, প্রতিবেশী মহিলারা এবং তাদের দাস-দাসীরা এলে তাতে কোনো দোষ নেই। তবে হে নবীর স্ত্রীরা, তোমরা সব সময় আল্লাহ সচেতন থেকো। মনে রেখো, আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের উপর সতর্ক নজর রাখেন।
اِنَّ اللّٰهَ وَ مَلٰٓىِٕكَتَهٗ یُصَلُّوْنَ عَلَی النَّبِیِّ ؕ یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا صَلُّوْا عَلَیْهِ وَ سَلِّمُوْا تَسْلِیْمًا 56
56. আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠান। অতএর হে ঈমানদারেরা, তোমরাও তার প্রতি সুন্দরভাবে দরুদ ও সালাম পাঠাও।
اِنَّ الَّذِیْنَ یُؤْذُوْنَ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ لَعَنَهُمُ اللّٰهُ فِی الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَةِ وَ اَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُّهِیْنًا 57
57. মনে রেখো, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলকে কষ্ট দেয়, তাদের উপর দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহর অভিশাপ। আল্লাহ ওদের জন্য কঠিন অপমানজনক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।
وَ الَّذِیْنَ یُؤْذُوْنَ الْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ بِغَیْرِ مَا اكْتَسَبُوْا فَقَدِ احْتَمَلُوْا بُهْتَانًا وَّ اِثْمًا مُّبِیْنًا۠ 58
58. আর যারা ঈমানদার পুরুষ কিংবা নারীকে বিনা অপরাধে কষ্ট দেয়, তারা মূলত একটি মারাত্মক অপবাদ এবং ভয়ানক পাপের বোঝা নিজেদের কাঁধে তুলে নেয়।
یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ قُلْ لِّاَزْوَاجِكَ وَ بَنٰتِكَ وَ نِسَآءِ الْمُؤْمِنِیْنَ یُدْنِیْنَ عَلَیْهِنَّ مِنْ جَلَابِیْبِهِنَّ ؕ ذٰلِكَ اَدْنٰۤی اَنْ یُّعْرَفْنَ فَلَا یُؤْذَیْنَ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا 59
59. হে নবী, তুমি তোমার স্ত্রী, কন্যা ও ঈমানদার নারীদের বলো, জনসম্মুখে চলার সময় তারা যেনো চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে পূতঃপবিত্র ও শালীন নারী হিসাবে চিনতে সুবিধা হবে, ফলে কেউ তাদের উত্ত্যক্ত করবে না। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল এবং মেহেরবান।
لَىِٕنْ لَّمْ یَنْتَهِ الْمُنٰفِقُوْنَ وَ الَّذِیْنَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ وَّ الْمُرْجِفُوْنَ فِی الْمَدِیْنَةِ لَنُغْرِیَنَّكَ بِهِمْ ثُمَّ لَا یُجَاوِرُوْنَكَ فِیْهَاۤ اِلَّا قَلِیْلًا ۖۛۚ 60
60. হে নবী, মুনাফিকেরা, ব্যাধিগ্রস্থ অন্তরের লোকেরা এবং মিথ্যা গুজব রটনাকারীরা যদি মদিনায় নিজেদের অপতৎপরতা থেকে বিরত না হয়, তবে অচিরেই আমি তোমার হাতে ওদের কঠিনভারে শায়েস্তা করবো। তখন ওরা খুব কম সময়ই তোমার সাথে এ শহরে থাকার সুযোগ পাবে।
مَّلْعُوْنِیْنَ ۛۚ اَیْنَمَا ثُقِفُوْۤا اُخِذُوْا وَ قُتِّلُوْا تَقْتِیْلًا 61
61. চারদিক দিয়ে ওদের প্রতি অভিশাপ বর্ষিত হবে। ওদেরকে যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই পাকড়াও করা হবে এবং একের পর এক ওদের হত্যা করা হবে।
سُنَّةَ اللّٰهِ فِی الَّذِیْنَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ ۚ وَ لَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللّٰهِ تَبْدِیْلًا 62
62. পূর্ববর্তী প্রজন্মে যারা এ ধরনের পাপাচারে লিপ্ত হয়েছিলো, তাদের ব্যাপারেও এ ছিলো আল্লাহর নীতি। আল্লাহর এ নীতিতে তুমি কোনো ব্যতিক্রম পাবে না।
یَسْـَٔلُكَ النَّاسُ عَنِ السَّاعَةِ ؕ قُلْ اِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللّٰهِ ؕ وَ مَا یُدْرِیْكَ لَعَلَّ السَّاعَةَ تَكُوْنُ قَرِیْبًا 63
63. হে নবী, লোকেরা তোমার কাছে কিয়ামতের দিন-তারিখ জানতে চাচ্ছে। তুমি বলো, কিয়ামত কবে হবে তা তো কেবল আল্লাহই জানেন। তুমি এটা কী করেই বা বলবে? হয়তো কিয়ামত খুব কাছেই এসে গেছে।
اِنَّ اللّٰهَ لَعَنَ الْكٰفِرِیْنَ وَ اَعَدَّ لَهُمْ سَعِیْرًاۙ 64
64. একথা নিশ্চিত যে, আল্লাহ কাফেরদের অভিশপ্ত করেছেন এবং ওদের জন্য জ্বলন্ত আগুনের ব্যবস্থা করে রেখেছেন।
خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًا ۚ لَا یَجِدُوْنَ وَلِیًّا وَّ لَا نَصِیْرًاۚ 65
65. সেখানে ওরা চিরকালের জন্য পড়ে থাকবে। কোনো বন্ধু বা কোনো সাহায্যকারী খুঁজে পাবে না।
یَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوْهُهُمْ فِی النَّارِ یَقُوْلُوْنَ یٰلَیْتَنَاۤ اَطَعْنَا اللّٰهَ وَ اَطَعْنَا الرَّسُوْلَا 66
66. আহ! যেদিন এসব সত্যের দুশমনদের চেহারা আগুনের মধ্যে উল্টিয়ে-পাল্টিয়ে ঝলসানো হবে, সেদিন ওরা আর্তনাদ করে বলতে থাকবে, হায়! যদি আল্লাহর কথা শুনতাম! হায়! যদি রসুলের পথে চলতাম!
وَ قَالُوْا رَبَّنَاۤ اِنَّاۤ اَطَعْنَا سَادَتَنَا وَ كُبَرَآءَنَا فَاَضَلُّوْنَا السَّبِیْلَا 67
67. ওরা তখন অভিযোগ দায়ের করবে, হে আমাদের রব, আমরা আমাদের নেতা ও প্রভাবশালীদের কথামতো চলেছিলাম, তারাই আমাদের বিপথগামী করেছে।
رَبَّنَاۤ اٰتِهِمْ ضِعْفَیْنِ مِنَ الْعَذَابِ وَ الْعَنْهُمْ لَعْنًا كَبِیْرًا۠ 68
68. অতএব হে প্রভু, তাদেরকে দ্বিগুন শাস্তি দাও। তাদের উপর তোমার ভয়ানক অভিশাপ বর্ষণ করো।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِیْنَ اٰذَوْا مُوْسٰی فَبَرَّاَهُ اللّٰهُ مِمَّا قَالُوْا ؕ وَ كَانَ عِنْدَ اللّٰهِ وَجِیْهًاؕ 69
69. হে ঈমানদারেরা, খবরদার! বনি ইসরাইলের সেই লোকদের মতো হয়ো না, যারা তাদের নবী মুসাকে নানাভাবে কষ্ট দিয়েছিলো। ওদের মিথ্যা-বানোয়াট রটনা থেকে আল্লাহ তাকে নির্দোষ প্রমাণ করেছেন। আল্লাহর কাছে সে ছিলো বড়ই মর্যাদাবান এক বান্দা।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ وَ قُوْلُوْا قَوْلًا سَدِیْدًاۙ 70
70. ঈমানদারেরা, সর্বদা আল্লাহকে ভয় করে চলো এবং সত্য-সঠিক ও সোজা-সাপ্টা কথা বলো।
یُّصْلِحْ لَكُمْ اَعْمَالَكُمْ وَ یَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ ؕ وَ مَنْ یُّطِعِ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِیْمًا 71
71. তবেই আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম ঠিকঠাক করে দিবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করবেন। যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের অনুগত হয়ে চলে, তারা অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।
اِنَّا عَرَضْنَا الْاَمَانَةَ عَلَی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ الْجِبَالِ فَاَبَیْنَ اَنْ یَّحْمِلْنَهَا وَ اَشْفَقْنَ مِنْهَا وَ حَمَلَهَا الْاِنْسَانُ ؕ اِنَّهٗ كَانَ ظَلُوْمًا جَهُوْلًاۙ 72
72. নিশ্চয়ই আমি মহাকাশ, পৃথিবী ও পাহাড়গুলোর উপর ‘ইচ্ছের স্বাধীনতা প্রয়োগের ক্ষমতা’ আমানত হিসাবে অর্পণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু না, এরা শঙ্কিত হয়ে তা গ্রহণ করতে সম্মত হয়নি। অবশেষে মানুষ তা গ্রহণ করলো। কিন্তু তাদের অনেকেই অজ্ঞতার কারণে নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে। আসলে তারা জালেম এবং জাহেল।
لِّیُعَذِّبَ اللّٰهُ الْمُنٰفِقِیْنَ وَ الْمُنٰفِقٰتِ وَ الْمُشْرِكِیْنَ وَ الْمُشْرِكٰتِ وَ یَتُوْبَ اللّٰهُ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ وَالْمُؤْمِنٰتِ ؕ وَكَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا۠ 73
73. এ জুলুম ও অজ্ঞতার কারণে আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ ও নারী এবং মুশরিক পুরুষ ও নারীদের কঠিন শাস্তি দিবেন। অন্যদিকে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদের আপন ক্ষমায় ধন্য করবেন। আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, আল্লাহ বড়ই দয়ালু।