34. সাবা

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ وَ لَهُ الْحَمْدُ فِی الْاٰخِرَةِ ؕ وَ هُوَ الْحَكِیْمُ الْخَبِیْرُ 1
1. আলহামদুলিল্লাহ! দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা একমাত্র মহাকাশ ও পৃথিবীর মহান মালিকের জন্য। তিনি বড়ই প্রজ্ঞাময় এবং সব বিষয়ে জ্ঞাত।
یَعْلَمُ مَا یَلِجُ فِی الْاَرْضِ وَ مَا یَخْرُجُ مِنْهَا وَ مَا یَنْزِلُ مِنَ السَّمَآءِ وَ مَا یَعْرُجُ فِیْهَا ؕ وَ هُوَ الرَّحِیْمُ الْغَفُوْرُ 2
2. তিনি ভালোকরেই জানেন, কী জমিনের মধ্যে প্রবেশ করে এবং কী জমিন থেকে বেরিয়ে যায়। এমনকি আকাশ থেকে কী নেমে আসে এবং কী আকাশের দিকে উঠে যায়। বস্তুত তিনি পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল।
وَ قَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَا تَاْتِیْنَا السَّاعَةُ ؕ قُلْ بَلٰی وَ رَبِّیْ لَتَاْتِیَنَّكُمْ ۙ عٰلِمِ الْغَیْبِ ۚ لَا یَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِی السَّمٰوٰتِ وَ لَا فِی الْاَرْضِ وَ لَاۤ اَصْغَرُ مِنْ ذٰلِكَ وَ لَاۤ اَكْبَرُ اِلَّا فِیْ كِتٰبٍ مُّبِیْنٍۗۙ 3
3. কাফেরেরা বলে বেড়ায়, কখনোই আমাদেরকে মহাবিচারের সম্মুখীন হতে হবে না। হে নবী, বলো, কেনো নয়? অবশ্যই। আমার রবের শপথ! তোমাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে। তিনিই একমাত্র অদৃশ্যের জ্ঞান রাখেন। এ মহাবিশ্বের অণু পরিমাণ বা তার চেয়ে ছোট-বড় কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে নয়। সব কিছুই এক সুস্পষ্ট কিতাবে লেখা রয়েছে।
لِّیَجْزِیَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ؕ اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ مَّغْفِرَةٌ وَّ رِزْقٌ كَرِیْمٌ 4
4. জেনে রেখো, মহাবিচারের দিন আল্লাহ ঈমানের সাথে যারা সৎকর্ম করেছে, তাদেরকে মহাপুরস্কার দিবেন। তাদের ক্ষমা করবেন এবং চমৎকার সব জীবনোপকরণ উপহার দিবেন।
وَ الَّذِیْنَ سَعَوْ فِیْۤ اٰیٰتِنَا مُعٰجِزِیْنَ اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ عَذَابٌ مِّنْ رِّجْزٍ اَلِیْمٌ 5
5. পক্ষান্তরে যারা দুনিয়ায় আল্লাহর বাণীর বিরুদ্ধাচরণ করেছে, তাদেরকে কঠিন মর্মান্তিক শাস্তি দিবেন।
وَ یَرَی الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْعِلْمَ الَّذِیْۤ اُنْزِلَ اِلَیْكَ مِنْ رَّبِّكَ هُوَ الْحَقَّ ۙ وَ یَهْدِیْۤ اِلٰی صِرَاطِ الْعَزِیْزِ الْحَمِیْدِ 6
6. হে নবী, জ্ঞানীরা স্পষ্টত দেখতে পাচ্ছে, তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার উপর যা কিছু নাযিল হচ্ছে, তা পুরোপুরিই সত্য। আর তা মানুষকে মহাপরাক্রমশালী ও সদাপ্রশংসিত আল্লাহর পথ প্রদর্শন করে।
وَ قَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا هَلْ نَدُلُّكُمْ عَلٰی رَجُلٍ یُّنَبِّئُكُمْ اِذَا مُزِّقْتُمْ كُلَّ مُمَزَّقٍ ۙ اِنَّكُمْ لَفِیْ خَلْقٍ جَدِیْدٍۚ 7
7. কাফেরেরা তামাশাচ্ছলে বলে, আসো, তোমাদেরকে এমন এক লোকের সন্ধান দেই, যে বলে মৃত্যুর পর তোমাদের দেহ সম্পূর্ণ ছিন্নভিন্ন ধূলিকণা হয়ে গেলেও তোমাদেরকে নাকি নতুন সৃষ্টিরূপে পুনারুত্থিত করা হবে।
اَفْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا اَمْ بِهٖ جِنَّةٌ ؕ بَلِ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ فِی الْعَذَابِ وَ الضَّلٰلِ الْبَعِیْدِ 8
8. আমাদের তো মনে হচ্ছে, এ লোক নিজের মিথ্যা কল্পনাকে আল্লাহর নামে চালিয়ে দিচ্ছে অথবা নির্ঘাত তাকে পাগলামিতে পেয়ে বসেছে। না! কখনো নয়, হে নবী, বরং এসব আখেরাত অস্বীকারকারীরাই মূলত ঘোরতর বিভ্রান্তিতে ডুবে আছে। ফলে কঠিন শাস্তির উপযুক্ত হয়ে পড়েছে।
اَفَلَمْ یَرَوْا اِلٰی مَا بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَ مَا خَلْفَهُمْ مِّنَ السَّمَآءِ وَ الْاَرْضِ ؕ اِنْ نَّشَاْ نَخْسِفْ بِهِمُ الْاَرْضَ اَوْ نُسْقِطْ عَلَیْهِمْ كِسَفًا مِّنَ السَّمَآءِ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لِّكُلِّ عَبْدٍ مُّنِیْبٍ۠ 9
9. আচ্ছা! ওরা কি আকাশ ও পৃথিবীতে বিরাজমান ওদের সামনে ও পিছনের শতো শতো নিদর্শন লক্ষ্য করে না? আমি চাইলে ওদেরকে এ জমিনের নিচে দাবিয়ে দিতে পারতাম কিংবা আকাশের এক টুকরো ভেঙ্গে ওদের মাথার উপর ফেলতে পারতাম। আল্লাহ অভিমুখী প্রত্যেক বান্দার জন্য এসবের মধ্যে শেখার মতো অনেক নিদর্শন রয়েছে।
وَ لَقَدْ اٰتَیْنَا دَاوٗدَ مِنَّا فَضْلًا ؕ یٰجِبَالُ اَوِّبِیْ مَعَهٗ وَ الطَّیْرَ ۚ وَ اَلَنَّا لَهُ الْحَدِیْدَۙ 10
10. আমি দাউদকে আমার পক্ষ থেকে বিপুল অনুগ্রহে ধন্য করেছিলাম। আমি সে সময় পর্বতমালা ও পাখিদেরকে হুকুম দিয়েছিলাম, তোমরাও দাউদের সাথে মিলে আমার পবিত্রতা ও মহিমা গাইতে থাকো। আর হ্যাঁ, আমি দাউদকে লোহা গলাবার কৌশল শিক্ষা দিয়েছিলাম।
اَنِ اعْمَلْ سٰبِغٰتٍ وَّ قَدِّرْ فِی السَّرْدِ وَ اعْمَلُوْا صَالِحًا ؕ اِنِّیْ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ 11
11. তাকে বলেছিলাম, এ লোহা দিয়ে যথাযথ মাপানুযায়ী যুদ্ধের বর্ম তৈরি করো এবং এর কড়াগুলো ঠিকঠাকভাবে সংযুক্ত করা। আরো সদা সর্বদা নেকের পথে চলো। মনে রেখো, তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই আমার দৃষ্টির মধ্যে রয়েছে।
وَ لِسُلَیْمٰنَ الرِّیْحَ غُدُوُّهَا شَهْرٌ وَّ رَوَاحُهَا شَهْرٌ ۚ وَ اَسَلْنَا لَهٗ عَیْنَ الْقِطْرِ ؕ وَ مِنَ الْجِنِّ مَنْ یَّعْمَلُ بَیْنَ یَدَیْهِ بِاِذْنِ رَبِّهٖ ؕ وَ مَنْ یَّزِغْ مِنْهُمْ عَنْ اَمْرِنَا نُذِقْهُ مِنْ عَذَابِ السَّعِیْرِ 12
12. আর দাউদপুত্র সুলাইমানের কথা! আমি বাতাসকে তার অধীন করে দিয়েছিলাম। এ বাতাসে ভর করে তার নৌবহর এক মাসের পথ এক সকাল বা এক বিকালে অতিক্রম করতো। আমি তার জন্য গলিত তামার প্রস্ব্রবণ প্রবাহিত করে দিয়েছিলাম। আমার হুকুমে তার জন্য অনেক জিনও কাজ করতো। ঐসব জিনদের মধ্যে কেউ আমার নির্দেশনা অমান্য করলে, তাদেরকে আমি জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি দিতাম।
یَعْمَلُوْنَ لَهٗ مَا یَشَآءُ مِنْ مَّحَارِیْبَ وَ تَمَاثِیْلَ وَ جِفَانٍ كَالْجَوَابِ وَ قُدُوْرٍ رّٰسِیٰتٍ ؕ اِعْمَلُوْۤا اٰلَ دَاوٗدَ شُكْرًا ؕ وَ قَلِیْلٌ مِّنْ عِبَادِیَ الشَّكُوْرُ 13
13. ঐসব জিনেরা সুলাইমানের ইচ্ছানুযায়ী বিশাল বিশাল প্রাসাদ, কারুকার্য খচিত বিভিন্ন স্থাপত্য শিল্প, পানির চৌবাচ্চা সদৃশ বড় বড় পাত্র এবং সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত ডেগ নির্মাণ করতো। আমি তখন বলেছিলাম, হে দাউদের পরিবার, তোমরা আমার শোকর আদায়ের নিমিত্তে সৎকর্ম করে চলো। যদিও আমার বান্দাদের মধ্যে সত্যিকারের শোকরগুজারের সংখ্যা বেশ কম।
فَلَمَّا قَضَیْنَا عَلَیْهِ الْمَوْتَ مَا دَلَّهُمْ عَلٰی مَوْتِهٖۤ اِلَّا دَآبَّةُ الْاَرْضِ تَاْكُلُ مِنْسَاَتَهٗ ۚ فَلَمَّا خَرَّ تَبَیَّنَتِ الْجِنُّ اَنْ لَّوْ كَانُوْا یَعْلَمُوْنَ الْغَیْبَ مَا لَبِثُوْا فِی الْعَذَابِ الْمُهِیْنِؕ 14
14. এক সময় সুলাইমান মারা গেলো। কিন্তু তার মৃত্যুর খবর একমাত্র ঘুণপোকা ছাড়া আর কেউ প্রকাশ করতে পারেনি। যে লাঠিতে ভর দিয়ে সে দাঁড়িয়েছিলো, ঘুণপোকা সে লাঠিটি খেয়ে ফেলায় সে মাটিতে পড়ে গেলো। তখন জিনেরা বুঝতে পারলো, সুলাইমান বহু আগেই মারা গেছে। হে মানুষ, জিনেরা যদি সত্যিই গায়েবের খবর জানতো, তবে এতো দীর্ঘসময় তারা এ অপমানজনক কষ্টকর কাজে আটকে থাকতো না।
لَقَدْ كَانَ لِسَبَاٍ فِیْ مَسْكَنِهِمْ اٰیَةٌ ۚ جَنَّتٰنِ عَنْ یَّمِیْنٍ وَّ شِمَالٍ ؕ۬ كُلُوْا مِنْ رِّزْقِ رَبِّكُمْ وَ اشْكُرُوْا لَهٗ ؕ بَلْدَةٌ طَیِّبَةٌ وَّ رَبٌّ غَفُوْرٌ 15
15. সাবাবাসীর জন্য ওদের জনপদই ছিলো আল্লাহর মহিমার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। ওদের জনপদের ডনে-বামে সবদিকেই ছিলো সবুজ শ্যামল ফল-ফসলের উদ্যান। ওদের বলা হয়েছিলো, তোমাদের প্রতিপালকের দেয়া রিযিক ভোগ করো এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকো। সত্যিই এটি চমৎকার এক দেশ! বস্তুত তোমাদের প্রতিপালক বড়ই ক্ষমাশীল।
فَاَعْرَضُوْا فَاَرْسَلْنَا عَلَیْهِمْ سَیْلَ الْعَرِمِ وَ بَدَّلْنٰهُمْ بِجَنَّتَیْهِمْ جَنَّتَیْنِ ذَوَاتَیْ اُكُلٍ خَمْطٍ وَّ اَثْلٍ وَّ شَیْءٍ مِّنْ سِدْرٍ قَلِیْلٍ 16
16. কিন্তু না! সাবাবাসী সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। ফলে আমি ওদের উপর বাঁধভাঙ্গা বন্যা দ্বারা আঘাত হানলাম। ওদের সেই চিত্তহারী রসালো ফল-ফসলের বাগানগুলো ধ্বংস হয়ে গেলো। এরপর সেই পরিত্যক্ত জমিতে উৎপন্ন হতে লাগলো কেবল তেতো বিস্বাদের ফলমূল, ঝাউগাছ ও সামান্য কিছু বুনো কুল।
ذٰلِكَ جَزَیْنٰهُمْ بِمَا كَفَرُوْا ؕ وَ هَلْ نُجٰزِیْۤ اِلَّا الْكَفُوْرَ 17
17. এ ছিলো ওদের নাফরমানীর পরিণাম। অকৃতজ্ঞ ছাড়া কাউকেই আমি এমন শস্তি দেই না।
وَ جَعَلْنَا بَیْنَهُمْ وَ بَیْنَ الْقُرَی الَّتِیْ بٰرَكْنَا فِیْهَا قُرًی ظَاهِرَةً وَّ قَدَّرْنَا فِیْهَا السَّیْرَ ؕ سِیْرُوْا فِیْهَا لَیَالِیَ وَ اَیَّامًا اٰمِنِیْنَ 18
18. অথচ এ আযাবের আগে বরকতময় সমৃদ্ধ সিরিয়ার সাথে সাবার অধিবাসীদের এক চমৎকার ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিলো। সিরিয়া যাওয়ার পুরো পথ জুড়েই ছিলো একের পর এক ফল-ফসলে ভরা জনপদ। যাত্রাপথে এসব জনপদের বিভিন্ন স্থানে ওরা আপ্যায়িত হতো। ওদেরকে বলেছিলাম রাতে কিংবা দিনে তোমরা এ পথে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারো।
فَقَالُوْا رَبَّنَا بٰعِدْ بَیْنَ اَسْفَارِنَا وَ ظَلَمُوْۤا اَنْفُسَهُمْ فَجَعَلْنٰهُمْ اَحَادِیْثَ وَ مَزَّقْنٰهُمْ كُلَّ مُمَزَّقٍ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُوْرٍ 19
19. কিন্তু সাবার লোকেরা এসব নেয়ামতের না শোকর করে বললো, হে প্রভু, আমাদের ভ্রমণের বিশ্রামাস্থলগুলো আরো দূরে দূরে সরিয়ে দাও। এভাবেই ওরা নিজেদের উপর জুলুম করলো। ফলে আমি ওদেরকে গল্পের পাঠ বানিয়ে দিলাম। ওদেরকে ছিন্নভিন্ন করে দিলাম। নিশ্চয়ই ওদের ইতিহাসে ধৈর্যশীল ও শোকরগুজার মানুষের অনেক শেখার রয়েছে।
وَ لَقَدْ صَدَّقَ عَلَیْهِمْ اِبْلِیْسُ ظَنَّهٗ فَاتَّبَعُوْهُ اِلَّا فَرِیْقًا مِّنَ الْمُؤْمِنِیْنَ 20
20. ওদের সম্পর্কে ইবলিস শয়তানের ধারণাই সত্য হলো। ঈমানদারদের একটি ছোট দল ছাড়া বাকি সবাই ঐ শয়তানের পথই অনুসরণ করেছিলো।
وَ مَا كَانَ لَهٗ عَلَیْهِمْ مِّنْ سُلْطٰنٍ اِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ یُّؤْمِنُ بِالْاٰخِرَةِ مِمَّنْ هُوَ مِنْهَا فِیْ شَكٍّ ؕ وَ رَبُّكَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ حَفِیْظٌ۠ 21
21. আসলে শয়তান ওদেরকে জোর করে বিপথগামী করেনি; বরং ওরা নিজেরাই শয়তানের পথে হেঁটেছে। মূলত এর মাধ্যমে আমি যাচাই করতে চেয়েছিলাম, কারা আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে আর কারা এ ব্যাপারে সন্দিহান। যদিও তোমার রব সবকিছুই সংরক্ষণ করে চলেন।
قُلِ ادْعُوا الَّذِیْنَ زَعَمْتُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ ۚ لَا یَمْلِكُوْنَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِی السَّمٰوٰتِ وَ لَا فِی الْاَرْضِ وَ مَا لَهُمْ فِیْهِمَا مِنْ شِرْكٍ وَّ مَا لَهٗ مِنْهُمْ مِّنْ ظَهِیْرٍ 22
22. হে নবী, এসব শরিককারীদের বলো, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য যাদের উপাসনা করছো, তাদেরকে ডেকে দেখো, তারা কিছু করতে পারে কিনা? না! পারবে না। কেননা এ মহাকাশ ও পৃথিবীর কোনো কিছুর উপর যেমন তাদের একচুল ক্ষমতা নেই, তেমনি এর কোথাও কোনো মালিকানাও নেই। এমনকি এ মহাবিশ্বের কোনো কাজে আল্লাহ তাদের সামান্য সাহায্যও নেননি।
وَ لَا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ عِنْدَهٗۤ اِلَّا لِمَنْ اَذِنَ لَهٗ ؕ حَتّٰۤی اِذَا فُزِّعَ عَنْ قُلُوْبِهِمْ قَالُوْا مَا ذَا ۙ قَالَ رَبُّكُمْ ؕ قَالُوا الْحَقَّ ۚ وَ هُوَ الْعَلِیُّ الْكَبِیْرُ 23
23. ওদের বলো, বিচারের দিন কেউই আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারো জন্য সুপারিশ করতে পারবে না। সেদিন প্রত্যেকেই প্রথমে ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকবে। এরপর কিছুটা ভয়মুক্ত হলে পাশের লোকদের জিজ্ঞেস করবে, তোমাদের রব কী ফয়সালা দিয়েছেন? জবাব আসবে, তিনি সত্য ও যথার্থ ফয়সালা দিয়েছেন। তিনি সমুন্নত, সুমহান।
قُلْ مَنْ یَّرْزُقُكُمْ مِّنَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ قُلِ اللّٰهُ ۙ وَ اِنَّاۤ اَوْ اِیَّاكُمْ لَعَلٰی هُدًی اَوْ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ 24
24. হে নবী, ওদের আরো জিজ্ঞেস করো, কে তোমাদেরকে মহাকাশ ও পৃথিবী থেকে রিযিক সরবরাহ করেন? তুমিই বলে দাও, আল্লাহই দিয়ে থাকেন। এখন নিশ্চিত যে, আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একপক্ষ সত্য-সঠিক পথে এবং অন্য পক্ষ সুস্পষ্ট গোমরাহিতে নিমজ্জিত।
قُلْ لَّا تُسْـَٔلُوْنَ عَمَّاۤ اَجْرَمْنَا وَ لَا نُسْـَٔلُ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ 25
25. হে নবী, ওদের বলো, ঠিক আছে! সত্যের পথে চলে আমরা যদি অপরাধ করে থাকি; তবে তার জন্য তোমাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে না। আর তোমরা যা করে চলছো, সে ব্যাপারে আমরাও জিজ্ঞাসিত হবো না।
قُلْ یَجْمَعُ بَیْنَنَا رَبُّنَا ثُمَّ یَفْتَحُ بَیْنَنَا بِالْحَقِّ ؕ وَهُوَ الْفَتَّاحُ الْعَلِیْمُ 26
26. বলো, আমাদের রব মহাবিচারের দিন আমাদের সবাইকে সমবেত করবেন এবং তিনি আমাদের বিষয়ে সঠিক ফয়সালা করে দিবেন। নিঃসন্দেহে তিনি শ্রেষ্ঠ বিচারক, শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী।
قُلْ اَرُوْنِیَ الَّذِیْنَ اَلْحَقْتُمْ بِهٖ شُرَكَآءَ كَلَّا ؕ بَلْ هُوَ اللّٰهُ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ 27
27. হে নবী, ওদের বলো, তোমরা আল্লাহর সাথে যাদেরকে শরিক বানাচ্ছো, তাদেরকে একটু দেখাও দেখি। দেখি তারা কেমন ক্ষমতাধর! না, কখনো নয়, একমাত্র আল্লাহই মহাপরাক্রমশালী এবং প্রজ্ঞাময়।
وَ مَاۤ اَرْسَلْنٰكَ اِلَّا كَآفَّةً لِّلنَّاسِ بَشِیْرًا وَّ نَذِیْرًا وَّلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَ 28
28. হে নবী, আমি তো তোমাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসাবে পাঠিয়েছি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই এ সত্যকে বোঝে না।
وَ یَقُوْلُوْنَ مَتٰی هٰذَا الْوَعْدُ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ 29
29. হে নবী, ওরা তোমায় বলছে, কবে আসবে সেই ফয়সালার দিন? আমাদেরকে জানাও, দেখি তুমি কেমন সত্যবাদী?
قُلْ لَّكُمْ مِّیْعَادُ یَوْمٍ لَّا تَسْتَاْخِرُوْنَ عَنْهُ سَاعَةً وَّ لَا تَسْتَقْدِمُوْنَ۠ 30
30. ওদের সাফ বলে দাও, তোমাদের জন্য সেদিনটি নির্ধারিত হয়ে আছে। অপেক্ষা করো, সেদিনটি যখন আসবে, তখন তোমরা এক মুহূর্তের জন্যেও আগ-পিছ করার সুযোগ পাবে না।
وَ قَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَنْ نُّؤْمِنَ بِهٰذَا الْقُرْاٰنِ وَ لَا بِالَّذِیْ بَیْنَ یَدَیْهِ ؕ وَ لَوْ تَرٰۤی اِذِ الظّٰلِمُوْنَ مَوْقُوْفُوْنَ عِنْدَ رَبِّهِمْ ۖۚ یَرْجِعُ بَعْضُهُمْ اِلٰی بَعْضِ ِ۟الْقَوْلَ ۚ یَقُوْلُ الَّذِیْنَ اسْتُضْعِفُوْا لِلَّذِیْنَ اسْتَكْبَرُوْا لَوْ لَاۤ اَنْتُمْ لَكُنَّا مُؤْمِنِیْنَ 31
31. কাফেরেরা বলে, আমরা কখনোই এ কুরআনকে মানবো না। এমনকি পূর্ববর্তী কোনো আসমানী কিতাবকেও অনুসরণ করবো না। হায়! হে নবী, মহাবিচারের দিন তুমি যদি এসব জালেমদের অবস্থা একটু দেখতে! ওদের সবাইকে যখন ওদের রবের সামনে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে, তখন ওরা পরস্পরকে দোষারোপ করতে থাকবে। দুনিয়ায় দুর্বল অনুসারীরা সে সময় ক্ষমতাদর্পী নেতাদের বলবে, তোমরা বাধা না দিলে আমরা অবশ্যই ঈমানদার থাকতাম।
قَالَ الَّذِیْنَ اسْتَكْبَرُوْا لِلَّذِیْنَ اسْتُضْعِفُوْۤا اَنَحْنُ صَدَدْنٰكُمْ عَنِ الْهُدٰی بَعْدَ اِذْ جَآءَكُمْ بَلْ كُنْتُمْ مُّجْرِمِیْنَ 32
32. তখন ক্ষমতাদর্পী নেতারা দুর্বল অনুসারীদের জবাব দেবে, আমরা কি তোমাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোর করে সত্যপথ থেকে তোমাদেরকে বিরত রেখেছিলাম? না, বরং তোমরা নিজেরাই ছিলে অপরাধী।
وَ قَالَ الَّذِیْنَ اسْتُضْعِفُوْا لِلَّذِیْنَ اسْتَكْبَرُوْا بَلْ مَكْرُ الَّیْلِ وَ النَّهَارِ اِذْ تَاْمُرُوْنَنَاۤ اَنْ نَّكْفُرَ بِاللّٰهِ وَ نَجْعَلَ لَهٗۤ اَنْدَادًا ؕ وَ اَسَرُّوا النَّدَامَةَ لَمَّا رَاَوُا الْعَذَابَ ؕ وَ جَعَلْنَا الْاَغْلٰلَ فِیْۤ اَعْنَاقِ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا ؕ هَلْ یُجْزَوْنَ اِلَّا مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 33
33. দুর্বল অনুসারীরা তখন ক্ষমতাদর্পীদের বলবে, হয়তো জোর করোনি। কিন্তু তোমরা কি দিন-রাত সত্যের বিরুদ্ধে একটার পর একটা চক্রান্ত করে আমাদের বিভ্রান্ত করোনি? তোমরা কি আমাদেরকে বলোনি যে, এক আল্লাহর ইবাদত করো না বরং শরিক খোদাদের উপাসনা করো? হায়! সেদিন যখন এসব পাপিষ্ঠরা শাস্তির মুখোমুখি হবে, তখন মনে মনে পস্তাতে থাকবে। আমি ওদের গলায় বেড়ি পরিয়ে জাহান্নামে টেনে-হেঁচড়ে নিয়ে যাবো। হায়! সত্য অস্বীকারকারীরা সেদিন পূর্ণ কর্মফল ভোগ করবে।
وَ مَاۤ اَرْسَلْنَا فِیْ قَرْیَةٍ مِّنْ نَّذِیْرٍ اِلَّا قَالَ مُتْرَفُوْهَاۤ ۙ اِنَّا بِمَاۤ اُرْسِلْتُمْ بِهٖ كٰفِرُوْنَ 34
34. আমি যখনই কোনো জনপদে আমার সতর্ককারী রসুল পাঠিয়েছি, তখনই সে জনপদের বিত্তশালী-প্রভাবশালীরা বলেছে, আমরা তোমাকে তোমার নিয়ে আসা বাণীসহ প্রত্যাখান করছি।
وَ قَالُوْا نَحْنُ اَكْثَرُ اَمْوَالًا وَّ اَوْلَادًا ۙ وَّ مَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِیْنَ 35
35. বলতো, আমরা ধনবলে ও জনবলে তোমার চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। সুতরাং আমাদেরকে কিছুতেই শাস্তি দেয়া হবে না।
قُلْ اِنَّ رَبِّیْ یَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ یَّشَآءُ وَ یَقْدِرُ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَ۠ 36
36. হে নবী, ওদের বলো, নিশ্চয়ই আমার রব যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দেন আবার যাকে ইচ্ছা পরিমিত করে দেন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই আল্লাহর এ নিয়মের রহস্য বোঝে না।
وَ مَاۤ اَمْوَالُكُمْ وَ لَاۤ اَوْلَادُكُمْ بِالَّتِیْ تُقَرِّبُكُمْ عِنْدَنَا زُلْفٰۤی اِلَّا مَنْ اٰمَنَ وَ عَمِلَ صَالِحًا ؗ فَاُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ جَزَآءُ الضِّعْفِ بِمَا عَمِلُوْا وَ هُمْ فِی الْغُرُفٰتِ اٰمِنُوْنَ 37
37. জেনে রেখো হে মানুষ, তোমাদের অর্থবিত্ত ও সন্তান-সন্তুতির সংখ্যাধিক্য তোমাদেরকে আমার প্রিয়পাত্র বানাতে পারবে না; বরং যারা ঈমান আনবে ও সৎকর্ম করে চলবে কেবল তারাই বহুগুণে পুরস্কৃত হবে। সেদিন জান্নাতের বিশাল বিশাল প্রাসাদগুলো হবে তাদের নিরাপদ আবাস।
وَ الَّذِیْنَ یَسْعَوْنَ فِیْۤ اٰیٰتِنَا مُعٰجِزِیْنَ اُولٰٓىِٕكَ فِی الْعَذَابِ مُحْضَرُوْنَ 38
38. অন্যদিকে যারা আমার বাণীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, বিরুদ্ধাচরণ করবে, তারাই জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ভোগ করবে।
قُلْ اِنَّ رَبِّیْ یَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ یَّشَآءُ مِنْ عِبَادِهٖ وَ یَقْدِرُ لَهٗ ؕ وَ مَاۤ اَنْفَقْتُمْ مِّنْ شَیْءٍ فَهُوَ یُخْلِفُهٗ ۚ وَ هُوَ خَیْرُ الرّٰزِقِیْنَ 39
39. হে নবী, লোকদের বলো, নিশ্চয়ই আমার রব আপন ইচ্ছানুযায়ী যাকে খুশি প্রচুর রিযিক দেন, আবার যাকে ইচ্ছা পরিমিত করে দেন। এটা তাঁর ইচ্ছা, তোমাদের যোগ্যতায় নয়। আর হ্যাঁ, তোমরা অন্যের জন্য যা কিছু ব্যয় করবে, আল্লাহ তার প্রতিদান অবশ্যই দিবেন। নিশ্চয়ই তিনি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।
وَ یَوْمَ یَحْشُرُهُمْ جَمِیْعًا ثُمَّ یَقُوْلُ لِلْمَلٰٓىِٕكَةِ اَهٰۤؤُلَآءِ اِیَّاكُمْ كَانُوْا یَعْبُدُوْنَ 40
40. মহাবিচারের দিন এসব অপরাধীদের প্রত্যেককে জড়ো করা হবে। এরপর আল্লাহ ফেরেশতাদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করবেন, তাহলে এরা কি সত্যিই তোমাদের ইবাদত করতো?
قَالُوْا سُبْحٰنَكَ اَنْتَ وَلِیُّنَا مِنْ دُوْنِهِمْ ۚ بَلْ كَانُوْا یَعْبُدُوْنَ الْجِنَّ ۚ اَكْثَرُهُمْ بِهِمْ مُّؤْمِنُوْنَ 41
41. ফেরেশতারা জবাব দিবে, সুবহানাল্লহ! আপনি মহান, পূতঃপবিত্র। আমাদের সম্পর্ক তো আপনার সাথে; ওদের সাথে নয়। ওরা আসলে জিন শয়তানের উপাসনা করেছে। অধিকাংশই অন্ধভাবে তাদের কথা মেনে চলতো।
فَالْیَوْمَ لَا یَمْلِكُ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ نَّفْعًا وَّ لَا ضَرًّا ؕ وَ نَقُوْلُ لِلَّذِیْنَ ظَلَمُوْا ذُوْقُوْا عَذَابَ النَّارِ الَّتِیْ كُنْتُمْ بِهَا تُكَذِّبُوْنَ 42
42. তখন আমি আল্লাহ বলবো, আজ তোমাদের কারোরই একে অন্যের উপকার কিংবা অপকার করার সামান্য ক্ষমতাও নেই। অতএব হে জালেমেরা, তোমরা যে জাহান্নামের আযাবকে মিথ্যা মনে করতে, আজ তার স্বাদ গ্রহণ করো।
وَ اِذَا تُتْلٰی عَلَیْهِمْ اٰیٰتُنَا بَیِّنٰتٍ قَالُوْا مَا هٰذَاۤ اِلَّا رَجُلٌ یُّرِیْدُ اَنْ یَّصُدَّكُمْ عَمَّا كَانَ یَعْبُدُ اٰبَآؤُكُمْ ۚ وَ قَالُوْا مَا هٰذَاۤ اِلَّاۤ اِفْكٌ مُّفْتَرًی ؕ وَ قَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لِلْحَقِّ لَمَّا جَآءَهُمْ ۙ اِنْ هٰذَاۤ اِلَّا سِحْرٌ مُّبِیْنٌ 43
43. হায়! ওদের কাছে যখনই আমার সুস্পষ্ট বাণী পেশ করা হয়, তখনই ওদের ভ্রান্ত নেতারা ওদের বলে, দেখো! সে তো আমাদের মতোই একজন মানুষ, সে নবী হয় কীভাবে? তার আসল মতলব হচ্ছে, তোমাদের বাপ-দাদার পূজনীয় খোদাদের থেকে সরিয়ে বিভ্রান্ত করা। সে যে কুরআনের কথা বলে, তা তো তার নিজের বানানো মনগড়া অলিক কল্পকথা। হায়! যুগে যুগে এসব সত্য অস্বীকারকারীদের সামনে সত্য উদ্ভাসিত হওয়ার পরেও একে স্ব্রেফ যাদু বলে প্রত্যাখান করেছে।
وَ مَاۤ اٰتَیْنٰهُمْ مِّنْ كُتُبٍ یَّدْرُسُوْنَهَا وَ مَاۤ اَرْسَلْنَاۤ اِلَیْهِمْ قَبْلَكَ مِنْ نَّذِیْرٍؕ 44
44. অথচ আমি ওদের কাছে ইতোপূর্বে কোনো কিতাব নাযিল করিনি, যা পড়ে এমন কথা বলতে পারে। আর না কোনো সতর্ককারী রসুল পাঠিয়েছি, যে ওদেরকে এসব করতে বলেছে।
وَ كَذَّبَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ۙ وَ مَا بَلَغُوْا مِعْشَارَ مَاۤ اٰتَیْنٰهُمْ فَكَذَّبُوْا رُسُلِیْ ۫ فَكَیْفَ كَانَ نَكِیْرِ۠ 45
45. ওদের পূর্ববর্তীরাও সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিলো। আমি সেসব লোকদের যে বৈষয়িক সম্পদ-সমৃদ্ধি দিয়েছিলাম, হে নবী তোমার এসব লোকেরা তার এক দশমাংশও অর্জন করতে পারেনি। অথচ নবীদের প্রত্যাখ্যান করায় সে লোকদের কী ভয়ানক শাস্তিই না হয়েছিলো!
قُلْ اِنَّمَاۤ اَعِظُكُمْ بِوَاحِدَةٍ ۚ اَنْ تَقُوْمُوْا لِلّٰهِ مَثْنٰی وَ فُرَادٰی ثُمَّ تَتَفَكَّرُوْا ۫ مَا بِصَاحِبِكُمْ مِّنْ جِنَّةٍ ؕ اِنْ هُوَ اِلَّا نَذِیْرٌ لَّكُمْ بَیْنَ یَدَیْ عَذَابٍ شَدِیْدٍ 46
46. হে নবী, ওদের বলো, আমি তোমাদেরকে একটা কথা বলি, তোমরা নিষ্ঠার সাথে আল্লাহকে ভয় করে একাকী কিংবা যৌথভাবে একটু চিন্তা করে বলোতো, তোমরা কি কখনও আমার মধ্যে পাগলামির কোনো চিহ্ন দেখেছো? আসলে আমি তো তোমাদেরকে আসন্ন কঠিন আযাব থেকে বাঁচাতে চাইছি মাত্র।
قُلْ مَا سَاَلْتُكُمْ مِّنْ اَجْرٍ فَهُوَ لَكُمْ ؕ اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلَی اللّٰهِ ۚ وَ هُوَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ شَهِیْدٌ 47
47. হে নবী, তুমি আরো বলো, আমি প্রতিদান হিসাবে তোমাদের কাছে কোনো কিছুই চাইনি। যদি কিছু চেয়ে থাকি তবে তা কেবল তোমাদের নাজাত। আমার প্রতিদান আল্লাহ দিবেন। তিনি সব কিছুর উপর সাক্ষী রয়েছেন।
قُلْ اِنَّ رَبِّیْ یَقْذِفُ بِالْحَقِّ ۚ عَلَّامُ الْغُیُوْبِ 48
48. ওদের আরো বলো, আমার রব মিথ্যার বিনাশ করতেই সত্যকে পাঠিয়েছেন। আর তিনি সব গোপন জানেন।
قُلْ جَآءَ الْحَقُّ وَ مَا یُبْدِئُ الْبَاطِلُ وَ مَا یُعِیْدُ 49
49. হে নবী, বলো, সত্য এসে গেছে। এখন মিথ্যার বিনাশ ঘটবেই। কেননা টিকে থাকার জন্য মিথ্যার কিছুই নেই।
قُلْ اِنْ ضَلَلْتُ فَاِنَّمَاۤ اَضِلُّ عَلٰی نَفْسِیْ ۚ وَ اِنِ اهْتَدَیْتُ فَبِمَا یُوْحِیْۤ اِلَیَّ رَبِّیْ ؕ اِنَّهٗ سَمِیْعٌ قَرِیْبٌ 50
50. নবী হে, বলো, যদি আমি পথভ্রষ্ট হয়ে থাকি, তবে তার শাস্তি আমিই ভোগ করবো। কিন্তুযদি সত্য-সঠিক পথে থাকি, তবে তোমাদের কী হবে? আমাকে আমার রব অহির মাধ্যমে সত্য-সঠিক পথে রেখেছেন। নিশ্চয়ই তিনি সব শোনেন এবং খুব কাছেই আছেন।
وَ لَوْ تَرٰۤی اِذْ فَزِعُوْا فَلَا فَوْتَ وَ اُخِذُوْا مِنْ مَّكَانٍ قَرِیْبٍۙ 51
51. আহ! হে নবী যদি তুমি দেখতে! মহাবিচারের দিন ওরা ভয়ে কাঁপতে থাকবে। এদিক-সেদিক একটু নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে থাকবে। কিন্তু না, মুহূর্তের মধ্যেই ওরা পাকড়াও হয়ে যাবে।
وَّ قَالُوْۤا اٰمَنَّا بِهٖ ۚ وَ اَنّٰی لَهُمُ التَّنَاوُشُ مِنْ مَّكَانٍۭ بَعِیْدٍۚۖ 52
52. চিৎকার করে বলতে থাকবে, আমরা ঈমান আনছি, আমরা ঈমান আনছি। কিন্তু বড্ড দেরি হয়ে গেছে। ওরা কিভাবে মুক্তির নাগাল পাবে?
وَّ قَدْ كَفَرُوْا بِهٖ مِنْ قَبْلُ ۚ وَ یَقْذِفُوْنَ بِالْغَیْبِ مِنْ مَّكَانٍۭ بَعِیْدٍ 53
53. কারণ সময় থাকতে ওরা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছিলো। এমনকি আখেরাত সম্পর্কে আন্দাজ-অনুমানের ভিত্তিতে বুলি আওড়াতো, উপহাস করতো।
وَ حِیْلَ بَیْنَهُمْ وَ بَیْنَ مَا یَشْتَهُوْنَ كَمَا فُعِلَ بِاَشْیَاعِهِمْ مِّنْ قَبْلُ ؕ اِنَّهُمْ كَانُوْا فِیْ شَكٍّ مُّرِیْبٍ۠ 54
54. সেদিন ওদের আশা পূরণ হবে না। ওদের নাজাতের পথে দেয়াল তুলে দেওয়া হবে। যেমনি ওদের পূর্ববর্তী সমমনাদের তা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বস্তুত ওরা সারাজীবন বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যেই ডুবে ছিলো।