37. আস্ সাফ্ফাত
وَ الصّٰٓفّٰتِ صَفًّاۙ 1
1. শপথ সেসব ফেরেশতাদের, যারা কাতার বন্দি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
فَالزّٰجِرٰتِ زَجْرًاۙ 2
2. শপথ সেসব ফেরেশতাদের, যারা কঠোরভাবে শয়তানকে তাঁড়িয়ে দেয়।
فَالتّٰلِیٰتِ ذِكْرًاۙ 3
3. শপথ সেসব ফেরেশতাদের, যারা আমার উপদেশবাণী পড়ে শুনায়।
اِنَّ اِلٰهَكُمْ لَوَاحِدٌؕ 4
4. জেনে রেখো, প্রকৃতপক্ষে তোমাদের ইলাহ একক এবং অদ্বিতীয়।
رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ مَا بَیْنَهُمَا وَ رَبُّ الْمَشَارِقِؕ 5
5. তিনি মহাকাশ ও পৃথিবীর সব কিছুর রব এবং তিনি সব উদয়াচলেরও রব।
اِنَّا زَیَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنْیَا بِزِیْنَةِ ِ۟الْكَوَاكِبِۙ 6
6. দেখো, আমি পৃথিবীর নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজি দ্বারা সুশোভিত করেছি।
وَ حِفْظًا مِّنْ كُلِّ شَیْطٰنٍ مَّارِدٍۚ 7
7. এবং প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে একে সুরক্ষিত করেছি।
لَا یَسَّمَّعُوْنَ اِلَی الْمَلَاِ الْاَعْلٰی وَ یُقْذَفُوْنَ مِنْ كُلِّ جَانِبٍۗۖ 8
8. ফলে শয়তানেরা ঊর্ধ্ব-জগতের কোনো খবরই শুনতে পায় না। শোনার চেষ্টা করা মাত্রই চারদিক দিয়ে ওদের উপর উল্কা নিক্ষেপ হয়।
دُحُوْرًا وَّ لَهُمْ عَذَابٌ وَّاصِبٌۙ 9
9. ওদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। আর আখেরাতে ওদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি।
اِلَّا مَنْ خَطِفَ الْخَطْفَةَ فَاَتْبَعَهٗ شِهَابٌ ثَاقِبٌ 10
10. তবে হ্যাঁ, ওদের কেউ গোপনে কিছু শুনে ফেললে, মুহূর্তের মধ্যে জলন্ত অগ্নিশিখা ওকে ধাওয়া করে।
فَاسْتَفْتِهِمْ اَهُمْ اَشَدُّ خَلْقًا اَمْ مَّنْ خَلَقْنَا ؕ اِنَّا خَلَقْنٰهُمْ مِّنْ طِیْنٍ لَّازِبٍ 11
11. এসব সত্য অস্বীকারকারীদের জিজ্ঞেস করো, ওদের মতে মানুষ সৃষ্টি করা বেশি কঠিন কাজ, নাকি এ মহাবিশ্বের অন্যান্য আমার যেসব সৃষ্টি রয়েছে তা? ওদেরকে তো আমি সামান্য আঠালো কাদামাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।
بَلْ عَجِبْتَ وَ یَسْخَرُوْنَ۪ 12
12. হে নবী, তুমি ওদের সত্য প্রত্যাখ্যান দেখে অবাক হচ্ছো? অথচ ওরা রীতিমতো এ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে চলছে।
وَ اِذَا ذُكِّرُوْا لَا یَذْكُرُوْنَ۪ 13
13. ওদেরকে বুঝালেও ওরা বোঝে না।
وَاِذَا رَاَوْا اٰیَةً یَّسْتَسْخِرُوْنَ۪ 14
14. সুস্পষ্ট নিদর্শন দেখালে, তা নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করে।
وَ قَالُوْۤا اِنْ هٰذَاۤ اِلَّا سِحْرٌ مُّبِیْنٌۚۖ 15
15. বলে, এতো স্রেফ যাদু।
ءَاِذَا مِتْنَا وَ كُنَّا تُرَابًا وَّ عِظَامًا ءَاِنَّا لَمَبْعُوْثُوْنَۙ 16
16. এটা কিভাবে সম্ভব, আমরা মরে পঁচে-গলে মাটিতে মিশে যাবার পরও আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে?
اَوَ اٰبَآؤُنَا الْاَوَّلُوْنَؕ 17
17. এমনকি আমাদের সকল পূর্ব পুরুষদেরও?
قُلْ نَعَمْ وَ اَنْتُمْ دَاخِرُوْنَۚ 18
18. হে নবী, বলো, হ্যাঁ, অবশ্যই। তোমাদের হবে লাঞ্ছনাময় পুনরুত্থান।
فَاِنَّمَا هِیَ زَجْرَةٌ وَّاحِدَةٌ فَاِذَا هُمْ یَنْظُرُوْنَ 19
19. একটা মাত্র শব্দ! ভয়ানক বিকট আওয়াজ! তারপরই ওরা আসল অবস্থা দেখতে পাবে।
وَ قَالُوْا یٰوَیْلَنَا هٰذَا یَوْمُ الدِّیْنِ 20
20. ওরা তখন আর্তনাদ করে বলতে থাকবে, হায়! আমাদের পোড়া কপাল! এতো দেখছি সে-ই মহাবিচারের দিন।
هٰذَا یَوْمُ الْفَصْلِ الَّذِیْ كُنْتُمْ بِهٖ تُكَذِّبُوْنَ۠ 21
21. ওদের বলা হবে, হ্যাঁ! এটা সেই ফয়সালার দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলে।
اُحْشُرُوا الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا وَ اَزْوَاجَهُمْ وَ مَا كَانُوْا یَعْبُدُوْنَۙ 22
22. সেদিন ফেরেশতাদের প্রতি হুকুম জারি হবে, সমস্ত অবাধ্য জালেমদেরকে ওদের সকল সাঙ্গ-পাঙ্গসহ আমার সামনে হাজির করো।
مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ فَاهْدُوْهُمْ اِلٰی صِرَاطِ الْجَحِیْمِ 23
23. এমনকি আল্লাহর পরিবর্তে ওরা যাদের উপাসনা করতো, সেসব উপাস্যদেরও হাজির করো। তারপর ওদের সবাইকে একত্র করে জাহান্নামের দিকে হাকিয়ে নিয়ে যাও।
وَ قِفُوْهُمْ اِنَّهُمْ مَّسْـُٔوْلُوْنَۙ 24
24. বলা হবে, ওহে! ওদেরকে নিয়ে একটু থামো! ওদের কাছে কয়েকটা প্রশ্ন করার আছে।
مَا لَكُمْ لَا تَنَاصَرُوْنَ 25
25. কি ব্যাপার ওহে সত্যের দুশমনেরা, আজ তোমরা একে অপরকে সাহায্য করছো না যে?
بَلْ هُمُ الْیَوْمَ مُسْتَسْلِمُوْنَ 26
26. তখন ওদের সবার মাথা নত হয়ে থাকবে।
وَ اَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلٰی بَعْضٍ یَّتَسَآءَلُوْنَ 27
27. এরপর ওরা নিজেদের দিকে তাকিয়ে বিতর্ক শুরু করবে।
قَالُوْۤا اِنَّكُمْ كُنْتُمْ تَاْتُوْنَنَا عَنِ الْیَمِیْنِ 28
28. দুর্বল অনুসারীরা ক্ষমতাদর্পী নেতাদের বলবে, তোমরাই তো জোর করে আমাদেরকে অন্যায় করিয়েছো।
قَالُوْا بَلْ لَّمْ تَكُوْنُوْا مُؤْمِنِیْنَۚ 29
29. নেতারা বলবে, না; বরং তোমরা নিজেরাই ঈমান আনতে চাওনি।
وَ مَا كَانَ لَنَا عَلَیْكُمْ مِّنْ سُلْطٰنٍ ۚ بَلْ كُنْتُمْ قَوْمًا طٰغِیْنَ 30
30. তাছাড়া তোমাদের উপর তো আমাদের কোনো কর্তৃত্ব ছিলো না। আসলে তোমরা নিজেরাই ছিলে অবাধ্য।
فَحَقَّ عَلَیْنَا قَوْلُ رَبِّنَاۤ ۖۗ اِنَّا لَذَآىِٕقُوْنَ 31
31. শেষ পর্যন্ত আমাদের রবের কথাই সত্য হলো। আজ শাস্তি ভোগ করা ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।
فَاَغْوَیْنٰكُمْ اِنَّا كُنَّا غٰوِیْنَ 32
32. নেতারা আরো বলবে, হ্যাঁ, আমরা তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছিলাম সত্য; কিন্তু আমরা নিজেরাই তো ছিলাম বিভ্রান্ত।
فَاِنَّهُمْ یَوْمَىِٕذٍ فِی الْعَذَابِ مُشْتَرِكُوْنَ 33
33. এভাবেই সেদিন নেতা ও অনুসারী সবাই শাস্তির ভাগীদার হবে।
اِنَّا كَذٰلِكَ نَفْعَلُ بِالْمُجْرِمِیْنَ 34
34. বস্তুত আমি অপরাধীদের সাথে এমন আচরণই করে থাকি।
اِنَّهُمْ كَانُوْۤا اِذَا قِیْلَ لَهُمْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ ۙ یَسْتَكْبِرُوْنَۙ 35
35. কেননা যখনই ওদের বলা হতো, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই একথা মেনে নাও, তখনই ওরা দম্ভভরে তা অগ্রাহ্য করতো।
وَ یَقُوْلُوْنَ اَىِٕنَّا لَتَارِكُوْۤا اٰلِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجْنُوْنٍؕ 36
36. এবং বলতো, আমরা কি এক উন্মাদ কবির কথায় আমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করবো?
بَلْ جَآءَ بِالْحَقِّ وَ صَدَّقَ الْمُرْسَلِیْنَ 37
37. অথচ এ রসুল ওদের কাছে সত্য উপস্থাপন করেছে, যা পূর্ববর্তী রসুলদের শিক্ষাকে সত্য বলে স্বীকার করে।
اِنَّكُمْ لَذَآىِٕقُوا الْعَذَابِ الْاَلِیْمِۚ 38
38. ওদের বলা হবে, কাজেই আজ তোমরা কঠিন মর্মান্তিক আযাব ভোগ করো।
وَ مَا تُجْزَوْنَ اِلَّا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَۙ 39
39. তোমরা যে অপকর্ম করে এসেছো, এটা তারই যথার্থ পরিণতি।
اِلَّا عِبَادَ اللّٰهِ الْمُخْلَصِیْنَ 40
40. তবে আল্লাহর বিশুদ্ধচিত্ত বান্দারা এ বিপদ থেকে নিরাপদ থাকবে।
اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ رِزْقٌ مَّعْلُوْمٌۙ 41
41. তাদের জন্য সেখানে থাকবে পর্যাপ্ত জীবনোপকরনের ব্যবস্থা।
فَوَاكِهُ ۚ وَ هُمْ مُّكْرَمُوْنَۙ 42
42. তারা সেদিন সম্মানের সাথে নানা ধরনের সুস্বাদু ফলমূলের দ্বারা আপ্যায়িত হবে।
فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِۙ 43
43. নেয়ামতে ভরা এক চমৎকার জান্নাতে তারা থাকবে।
عَلٰی سُرُرٍ مُّتَقٰبِلِیْنَ 44
44. তারা সুসজ্জিত আসনে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে হেলান দিয়ে বসে আরাম করবে।
یُطَافُ عَلَیْهِمْ بِكَاْسٍ مِّنْ مَّعِیْنٍۭۙ 45
45. সুস্বাদু শরাবের প্রবহমান ঝর্না থেকে পানপাত্র ভরে ভরে তাদেরকে ঘুরেঘুরে পরিবেশন করা হবে।
بَیْضَآءَ لَذَّةٍ لِّلشّٰرِبِیْنَۚۖ 46
46. সে শরাব হবে শুভ্র উজ্জ্বল। পানকারীদের জন্য বড়ই সুস্বাদু।
لَا فِیْهَا غَوْلٌ وَّ لَا هُمْ عَنْهَا یُنْزَفُوْنَ 47
47. তাতে কোনো ধরনের খারাপি থাকবে না। কোনো মাতলামি হবে না।
وَ عِنْدَهُمْ قٰصِرٰتُ الطَّرْفِ عِیْنٌۙ 48
48. আর তাদের সেবার জন্য থাকবে ডাগর চোখের পবিত্র নারীরা।
كَاَنَّهُنَّ بَیْضٌ مَّكْنُوْنٌ 49
49. দেখে মনে হবে, তারা যেনো পালকের নিচে লুকানো অতুলনীয় ডিম।
فَاَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلٰی بَعْضٍ یَّتَسَآءَلُوْنَ 50
50. জান্নাতিরা সেখানে বসে অতীত স্মৃতি নিয়ে পরস্পর খোশগল্প করতে থাকবে।
قَالَ قَآىِٕلٌ مِّنْهُمْ اِنِّیْ كَانَ لِیْ قَرِیْنٌۙ 51
51. তাদের একজন বলবে, শোনো! দুনিয়ায় আমার এক বন্ধু ছিলো।
یَّقُوْلُ اَىِٕنَّكَ لَمِنَ الْمُصَدِّقِیْنَ 52
52. সে বন্ধুটি আমায় বলতো, তুমি কি একথা বিশ্বাস করো যে,
ءَاِذَا مِتْنَا وَ كُنَّا تُرَابًا وَّ عِظَامًا ءَاِنَّا لَمَدِیْنُوْنَ 53
53. আমরা মরে যাবার পর যখন মাটি ও হাড্ডিতে পরিণত হবো, তখন আমাদের পুনরুত্থিত করে প্রতিফল দেয়া হবে?
قَالَ هَلْ اَنْتُمْ مُّطَّلِعُوْنَ 54
54. তখন আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি তাকে দেখতে চাও, সে এখন কোথায় আছে?
فَاطَّلَعَ فَرَاٰهُ فِیْ سَوَآءِ الْجَحِیْمِ 55
55. এরপর তারা উঁকি দিয়ে দেখতে পাবে, সে-ই বন্ধুটি জাহান্নামের মাঝখানে পড়ে রয়েছে।
قَالَ تَاللّٰهِ اِنْ كِدْتَّ لَتُرْدِیْنِۙ 56
56. তখন সে বলে উঠবে, আল্লাহর শপথ! হায় আমার বন্ধু! তুমি তো আমায় প্রায় ধ্বংসই করে ফেলেছিলে।
وَ لَوْ لَا نِعْمَةُ رَبِّیْ لَكُنْتُ مِنَ الْمُحْضَرِیْنَ 57
57. আমার রব অনুগ্রহ করে আমায় না বাঁচালে, আজ আমিও জাহান্নামীদের একজন হয়ে যেতাম।
اَفَمَا نَحْنُ بِمَیِّتِیْنَۙ 58
58. এরপর সে নিজে নিজে বলতে থাকবে, আচ্ছা! তবে কি আমাদের আর কোনো মৃত্যু নেই?
اِلَّا مَوْتَتَنَا الْاُوْلٰی وَ مَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِیْنَ 59
59. প্রথমবার যে মৃত্যু হয়েছে, তাহলে সেটাই শেষ মৃত্যু! যাক তাহলে! আমরা শাস্তি থেকে বেঁচে গেছি।
اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ 60
60. সন্দেহ নেই, এটাই মহাসাফল্য।
لِمِثْلِ هٰذَا فَلْیَعْمَلِ الْعٰمِلُوْنَ 61
61. হ্যাঁ, এ ধরনের সাফল্য লাভের জন্যেই সৎকর্মশীলদের প্রাণান্তকর চেষ্টা সাধনা চালানো উচিত।
اَذٰلِكَ خَیْرٌ نُّزُلًا اَمْ شَجَرَةُ الزَّقُّوْمِ 62
62. হে মানুষ, এখন তোমরাই ভেবে দেখো, জান্নাতের আপ্যায়ন উত্তম, নাকি জাহান্নামের সে-ই যাক্কুম গাছের?
اِنَّا جَعَلْنٰهَا فِتْنَةً لِّلظّٰلِمِیْنَ 63
63. আমি দুরাচারী পাপিষ্ঠদের জন্য এ গাছটিকে ভয়ঙ্কর বিপদ বানিয়ে রেখেছি।
اِنَّهَا شَجَرَةٌ تَخْرُجُ فِیْۤ اَصْلِ الْجَحِیْمِۙ 64
64. এটা এমন গাছ, যা জাহান্নামের তলদেশ থেকে উদগত হবে
طَلْعُهَا كَاَنَّهٗ رُءُوْسُ الشَّیٰطِیْنِ 65
65. এবং যার ফল বা ছড়াগুলো শয়তানের মাথার মতো কুৎসিত হবে।
فَاِنَّهُمْ لَاٰكِلُوْنَ مِنْهَا فَمَالِـُٔوْنَ مِنْهَا الْبُطُوْنَؕ 66
66. জাহান্নামীরা যখন ক্ষুধায় কাতরাতে থাকবে, তখন নিয়ে গিয়ে ওদেরকে এ ফল খেতে বাধ্য করা হবে। ওরা তা খেয়ে নিজেদের পেট ভরে ফেলবে।
ثُمَّ اِنَّ لَهُمْ عَلَیْهَا لَشَوْبًا مِّنْ حَمِیْمٍۚ 67
67. এরপর দেয়া হবে পুঁজ মিশ্রিত ফুটন্ত পানি। ওদেরকে তা পান করতেই হবে।
ثُمَّ اِنَّ مَرْجِعَهُمْ لَاۡاِلَی الْجَحِیْمِ 68
68. এরপর এসব পাপাচারীদের আবার জাহান্নামের শাস্তিতে নিক্ষেপ করা হবে।
اِنَّهُمْ اَلْفَوْا اٰبَآءَهُمْ ضَآلِّیْنَۙ 69
69. আসলে ওরা ওদের বাপ-দাদাদের পেয়েছিলো বিপথগামী হিসাবে।
فَهُمْ عَلٰۤی اٰثٰرِهِمْ یُهْرَعُوْنَ 70
70. তাই ওরা সত্য গ্রহণ করেনি বরং তাদের পথই অনুসরণ করেছে।
وَ لَقَدْ ضَلَّ قَبْلَهُمْ اَكْثَرُ الْاَوَّلِیْنَۙ 71
71. অবশ্য এসব পাপীদের আগেও বহু লোক বিপথগামী হয়েছে।
وَ لَقَدْ اَرْسَلْنَا فِیْهِمْ مُّنْذِرِیْنَ 72
72. যদিও আমি ওদের মাঝে আমার সতর্ককারী পাঠিয়েছিলাম।
فَانْظُرْ كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُنْذَرِیْنَۙ 73
73. চেয়ে দেখো, সতর্কবাণী প্রত্যাখ্যান করায় ওদের কী করুণ পরিণতিই না ঘটেছিলো!
اِلَّا عِبَادَ اللّٰهِ الْمُخْلَصِیْنَ۠ 74
74. একমাত্র একনিষ্ঠ আল্লাহর বান্দারাই শেষ পর্যন্ত সে ধ্বংস থেকে রক্ষা পেয়েছিলো।
وَ لَقَدْ نَادٰىنَا نُوْحٌ فَلَنِعْمَ الْمُجِیْبُوْنَ ؗۖ 75
75. একসময় নুহ সাহায্যের জন্য আমায় ডাকলো। দেখো, আমি কতো সুন্দরভারে তার ডাকে সাড়া দিলাম।
وَ نَجَّیْنٰهُ وَ اَهْلَهٗ مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِیْمِؗۖ 76
76. আমি সেদিন তাকে সপরিবারে ভয়াবহ বিপদ থেকে রক্ষা করেছিলাম।
وَ جَعَلْنَا ذُرِّیَّتَهٗ هُمُ الْبٰقِیْنَؗۖ 77
77. এরপর তার বংশধারাকেই পৃথিবীতে টিকিয়ে রেখেছি।
وَ تَرَكْنَا عَلَیْهِ فِی الْاٰخِرِیْنَؗۖ 78
78. এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তার স্মরণ ও প্রশংসা জারি রেখেছি।
سَلٰمٌ عَلٰی نُوْحٍ فِی الْعٰلَمِیْنَ 79
79. সালাম হে নুহ। সমস্ত বিশ্বই আজ নুহের প্রতি সালাম জানাচ্ছে।
اِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِی الْمُحْسِنِیْنَ 80
80. আর এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।
اِنَّهٗ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِیْنَ 81
81. সন্দেহ নেই, নুহ আমার এক সত্যিকারের ঈমানদার বান্দা ছিলো।
ثُمَّ اَغْرَقْنَا الْاٰخَرِیْنَ 82
82. আর তার সময়ের বিপথগামী অন্যদের সবাইকে আমি পানিতে ডুবিয়ে মারলাম।
وَ اِنَّ مِنْ شِیْعَتِهٖ لَاِبْرٰهِیْمَۘ 83
83. এরপর নুহের পেছনে পেছনে এক সময় ইবরাহিম এলো।
اِذْ جَآءَ رَبَّهٗ بِقَلْبٍ سَلِیْمٍ 84
84. শুনে রেখো, ইবরাহিম পরিশুদ্ধ অন্তর নিয়েই আপন রবের সামনে নিজেকে সপে দিয়েছিলো।
اِذْ قَالَ لِاَبِیْهِ وَ قَوْمِهٖ مَا ذَا تَعْبُدُوْنَۚ 85
85. স্মরণ করো, এক সময় ইবরাহিম তার পিতা ও স্বজাতিকে জিজ্ঞেস করলো, তোমরা এসব কার উপাসনা করছো?
اَىِٕفْكًا اٰلِهَةً دُوْنَ اللّٰهِ تُرِیْدُوْنَؕ 86
86. তোমরা কি এক আল্লাহকে বাদ দিয়ে মিথ্যা-কাল্পনিক খোদাদের ইবাদত করতে চাইছো?
فَمَا ظَنُّكُمْ بِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَ 87
87. হায়! তাহলে মহাবিশ্বের রবের ব্যাপারে তোমাদের ধ্যান-ধারণা কী?
فَنَظَرَ نَظْرَةً فِی النُّجُوْمِۙ 88
88. একদিন ইবরাহিম আকাশের দিকে তাকিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে বললো,
فَقَالَ اِنِّیْ سَقِیْمٌ 89
89. দেখো, আমি অসুস্থ।
فَتَوَلَّوْا عَنْهُ مُدْبِرِیْنَ 90
90. ফলে জাতির লোকেরা তাকে রেখেই চলে গেলো।
فَرَاغَ اِلٰۤی اٰلِهَتِهِمْ فَقَالَ اَلَا تَاْكُلُوْنَۚ 91
91. এ সুযোগে ইবরাহিম চুপিচুপি ওদের দেবতাদের মন্দিরে ঢুকলো এবং দেবতাদের ডেকে ডেকে জিজ্ঞেস করতে লাগলো, কী ব্যাপার! তোমাদের সামনের এ খাবার খাচ্ছো না কেন?
مَا لَكُمْ لَا تَنْطِقُوْنَ 92
92. তোমাদের কী হলো, কথা বলছো না কেন?
فَرَاغَ عَلَیْهِمْ ضَرْبًۢا بِالْیَمِیْنِ 93
93. এরপর ইবরাহিম এসব মূর্তিগুলোর উপরে সজোরে আঘাত হানলো।
فَاَقْبَلُوْۤا اِلَیْهِ یَزِفُّوْنَ 94
94. এ সংবাদ শুনে জাতির লোকেরা তার কাছে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো।
قَالَ اَتَعْبُدُوْنَ مَا تَنْحِتُوْنَۙ 95
95. ইবরাহিম ওদের জিজ্ঞেস করলো, তোমরা নিজ হাতে পাথর খোদাই করে যেগুলোকে বানাচ্ছো, কেন তাদের উপাসনা করছো?
وَ اللّٰهُ خَلَقَكُمْ وَ مَا تَعْمَلُوْنَ 96
96. অথচ আল্লাহই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। এমনকি তোমরা যাদের ইবাদত করো তাদেরকেও।
قَالُوا ابْنُوْا لَهٗ بُنْیَانًا فَاَلْقُوْهُ فِی الْجَحِیْمِ 97
97. জাতির নেতারা চিৎকার করে বলে উঠলো, অগ্নিকুন্ড তৈরি করো। ওকে ধরে সে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করো।
فَاَرَادُوْا بِهٖ كَیْدًا فَجَعَلْنٰهُمُ الْاَسْفَلِیْنَ 98
98. ওরা ইবরাহিমের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলো। কিন্তু না, আমি উল্টো ওদেরকেই হেয় প্রতিপন্ন করে ছাড়লাম।
وَقَالَ اِنِّیْ ذَاهِبٌ اِلٰی رَبِّیْ سَیَهْدِیْنِ 99
99. অগ্নিকুন্ড থেকে বেরিয়ে এসে ইবরাহিম বললো, আমি আমার রবের জন্যই তোমাদের এলাকা ছেড়ে যাচ্ছি। নিশ্চয়ই তিনি আমায় সঠিক স্থানে নিয়ে যাবেন।
رَبِّ هَبْ لِیْ مِنَ الصّٰلِحِیْنَ 100
100. এরপর ইবরাহিম ফরিয়াদ করলো, হে আমার প্রভু, আমাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করো।
فَبَشَّرْنٰهُ بِغُلٰمٍ حَلِیْمٍ 101
101. ফলে আমি এক দৃঢ়চেতা সুস্থীর পুত্র ইসমাঈলকে দিয়ে তাকে আনন্দিত করলাম।
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْیَ قَالَ یٰبُنَیَّ اِنِّیْۤ اَرٰی فِی الْمَنَامِ اَنِّیْۤ اَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَا ذَا تَرٰی ؕ قَالَ یٰۤاَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ ؗ سَتَجِدُنِیْۤ اِنْ شَآءَ اللّٰهُ مِنَ الصّٰبِرِیْنَ 102
102. এভাবে এক সময় ছেলে যখন পিতার সাথে কাজকর্মে অংশ নেবার বয়সে উপনীত হলো, তখন একদিন ইবরাহিম ছেলে ইসমাঈলকে বললো, হে আমার প্রিয় পুত্র, আমি স্বপ্নে আদিষ্ট হয়েছি তোমায় কুরবানি করতে। এখন বলো এ ব্যাপারে তোমার মতামত কি? ইসমাঈল বললো, হে আমার পিতা, আপনাকে যে আদেশ দেয়া হয়েছে, আপনি তাই করুন। ইনশাআল্লাহ! আমাকে ধৈর্যশীল হিসাবেই পাবেন।
فَلَمَّاۤ اَسْلَمَا وَ تَلَّهٗ لِلْجَبِیْنِۚ 103
103. এভাবেই পিতা-পুত্র নিজেদেরকে আল্লাহর সামনে সপে দিলো। ইবরাহিম যখন ইসমাঈলকে জবেহ করার জন্য কাত করে শুইয়ে দিলো।
وَ نَادَیْنٰهُ اَنْ یّٰۤاِبْرٰهِیْمُۙ 104
104. তখন আমি তাকে ডাক দিলাম, হে ইবরাহিম,
قَدْ صَدَّقْتَ الرُّءْیَا ۚ اِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِی الْمُحْسِنِیْنَ 105
105. থামো! তুমি তোমার স্বপ্নকে পূরণ করে দেখিয়ে দিয়েছো। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।
اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الْبَلٰٓؤُا الْمُبِیْنُ 106
106. সন্দেহ নেই, এটা তাদের জন্য ছিলো এক ভয়াবহ পরীক্ষা।
وَ فَدَیْنٰهُ بِذِبْحٍ عَظِیْمٍ 107
107. আমি এক মহান কুরবানির বিনিময়ে বালক ইসমাঈলকে বাঁচিয়ে দিলাম।
وَ تَرَكْنَا عَلَیْهِ فِی الْاٰخِرِیْنَۖ 108
108. এবং এ কুরবানির নজরানা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আমি স্মরণীয় আদর্শ বানালাম।
سَلٰمٌ عَلٰۤی اِبْرٰهِیْمَ 109
109. সালাম হে ইবরাহিম।
كَذٰلِكَ نَجْزِی الْمُحْسِنِیْنَ 110
110. সৎকর্মশীলদের আমি এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।
اِنَّهٗ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِیْنَ 111
111. সন্দেহ নেই, ইবরাহিম ছিলো আমার এক অন্যতম ঈমানদার গোলাম।
وَبَشَّرْنٰهُ بِاِسْحٰقَ نَبِیًّا مِّنَ الصّٰلِحِیْنَ 112
112. পরে আমি তাকে আরেক পুত্র ইসহাকের সুসংবাদ দিলাম। সেও ছিলো একজন নবী এবং সৎকর্মশীলদের মধ্যে অন্যতম।
وَبٰرَكْنَا عَلَیْهِ وَعَلٰۤی اِسْحٰقَ ؕ وَمِنْ ذُرِّیَّتِهِمَا مُحْسِنٌ وَّظَالِمٌ لِّنَفْسِهٖ مُبِیْنٌ۠ 113
113. আমি ইবরাহিম ও ইসহাক উভয়ের উপরই বরকত নাযিল করেছিলাম। তবে তাদের বংশধরদের মধ্যে যেমন সৎকর্মশীল লোক ছিলো, তেমনি সীমালঙ্ঘনকারী পাপীও ছিলো।
وَ لَقَدْ مَنَنَّا عَلٰی مُوْسٰی وَ هٰرُوْنَۚ 114
114. আমি মুসা ও হারুনের প্রতিও অনুগ্রহ করেছি।
وَ نَجَّیْنٰهُمَا وَقَوْمَهُمَا مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِیْمِۚ 115
115. তাদের ও তাদের সম্প্রদায়কে আমি ফেরাউনের ভয়ানক নির্যাতন থেকে উদ্ধার করেছিলাম।
وَنَصَرْنٰهُمْ فَكَانُوْا هُمُ الْغٰلِبِیْنَۚ 116
116. আমি তাদেরকে সাহায্য করেছিলাম। ফলে শেষ পর্যন্ত তারাই বিজয়ী হয়েছিলো।
وَاٰتَیْنٰهُمَا الْكِتٰبَ الْمُسْتَبِیْنَۚ 117
117. আমি তাদেরকে এক সুস্পষ্ট কিতাব দিয়েছিলাম।
وَهَدَیْنٰهُمَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِیْمَۚ 118
118. তাদের উভয়কেই আমি সত্য-সঠিক পথ দেখিয়েছিলাম।
وَتَرَكْنَا عَلَیْهِمَا فِی الْاٰخِرِیْنَۙ 119
119. প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আমি তাদের উভয়ের সুনাম-সুখ্যাতি জারি রেখেছি।
سَلٰمٌ عَلٰی مُوْسٰی وَ هٰرُوْنَ 120
120. সালাম, মুসা ও হারুনের প্রতি।
اِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِی الْمُحْسِنِیْنَ 121
121. সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দেয়ার এটাই আমার পন্থা।
اِنَّهُمَا مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِیْنَ 122
122. নিঃসন্দেহে তাঁরা উভয়েই আমার পূর্ণ ঈমানদার বান্দা ছিলো।
وَ اِنَّ اِلْیَاسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِیْنَؕ 123
123. আর ইলিয়াস! সে-ও ছিলো আমার রসুল।
اِذْ قَالَ لِقَوْمِهٖۤ اَلَا تَتَّقُوْنَ 124
124. স্মরণ করো, সে তার সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বললো, তোমরা কি নাফরমানী করা থেকে বিরত হবে না?
اَتَدْعُوْنَ بَعْلًا وَّ تَذَرُوْنَ اَحْسَنَ الْخَالِقِیْنَۙ 125
125. তোমরা কি মহান স্রষ্টা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমাদের বানানো এ ‘বায়াল’ দেবতার উপাসনা করেই চলবে?
اللّٰهَ رَبَّكُمْ وَ رَبَّ اٰبَآىِٕكُمُ الْاَوَّلِیْنَ 126
126. অথচ আল্লাহই তোমাদের ও তোমাদের পরলোকগত বাপ-দাদাদের আসল প্রতিপালক।
فَكَذَّبُوْهُ فَاِنَّهُمْ لَمُحْضَرُوْنَۙ 127
127. কিন্তু সম্প্রদায়ের লোকেরা শেষ পর্যন্ত তাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করলো। পরিণামে ওরা আমার কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হলো।
اِلَّا عِبَادَ اللّٰهِ الْمُخْلَصِیْنَ 128
128. তবে আমার একনিষ্ঠ বান্দাদের কথা আলাদা।
وَ تَرَكْنَا عَلَیْهِ فِی الْاٰخِرِیْنَۙ 129
129. আর আমি ইলিয়াসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় করে রেখেছি।
سَلٰمٌ عَلٰۤی اِلْ یَاسِیْنَ 130
130. সালাম, ইলিয়াসের প্রতি।
اِنَّا كَذٰلِكَ نَجْزِی الْمُحْسِنِیْنَ 131
131. সৎকর্মশীলদের আমি এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।
اِنَّهٗ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِیْنَ 132
132. সন্দেহ নেই, সে আমার পূর্ণ ঈমানদার বান্দা ছিলো
وَ اِنَّ لُوْطًا لَّمِنَ الْمُرْسَلِیْنَؕ 133
133. আর লুত! সে-ও ছিলো আমার রসুলদের একজন।
اِذْ نَجَّیْنٰهُ وَ اَهْلَهٗۤ اَجْمَعِیْنَۙ 134
134. স্মরণ করো, আমি লুতকে সপরিবারে ধ্বংসের হাত থেকে উদ্ধার করেছিলাম।
اِلَّا عَجُوْزًا فِی الْغٰبِرِیْنَ 135
135. তবে তার বৃদ্ধা স্ত্রীকে নয়। কেননা সে পিছনে থাকাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলো।
ثُمَّ دَمَّرْنَا الْاٰخَرِیْنَ 136
136. অতঃপর আমি অবশিষ্ট পাপীদের সমূলে বিনাশ করে দিয়েছিলাম।
وَ اِنَّكُمْ لَتَمُرُّوْنَ عَلَیْهِمْ مُّصْبِحِیْنَ 137
137. তোমরা তো এখন দিন-রাত সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকার উপর দিয়ে চলাচল করছো।
وَ بِالَّیْلِ ؕ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ۠ 138
138. তবে কেন নিজেদের বিচারবুদ্ধি খাটিয়ে সত্যকে মেনে নিচ্ছো না?
وَ اِنَّ یُوْنُسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِیْنَؕ 139
139. সন্দেহ নেই, ইউনুসও ছিলো আমার রসুলদের একজন।
اِذْ اَبَقَ اِلَی الْفُلْكِ الْمَشْحُوْنِۙ 140
140. স্মরণ করো, এক সময় আল্লাহর হুকুম ছাড়াই রেসালাতের দায়িত্ব ছেড়ে জনপদ থেকে সে চলে গেলো এবং এক যাত্রীবোঝাই নৌযানে উঠলো।
فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ الْمُدْحَضِیْنَۚ 141
141. পথে নৌযান অচল হলে ‘কে পলাতক’ তা নির্ণয়ের জন্য লটারি করা হলো এবং তাতে ইউনুসের নাম উঠলো। ফলে লোকেরা তাকে নদীতে ফেলে দিলো।
فَالْتَقَمَهُ الْحُوْتُ وَ هُوَ مُلِیْمٌ 142
142. মুহূর্তের মধ্যে এক বিশাল মাছ তাকে গিলে ফেললো। তখন সে অনুশোচনায় নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলো।
فَلَوْ لَاۤ اَنَّهٗ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِیْنَۙ 143
143. সে মাছের পেটে বসে আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা জপতে লাগলো।
لَلَبِثَ فِیْ بَطْنِهٖۤ اِلٰی یَوْمِ یُبْعَثُوْنَۚ 144
144. এমনটা না করলে কিয়ামত পর্যন্ত সে মাছের পেটেই পড়ে থাকতো।
فَنَبَذْنٰهُ بِالْعَرَآءِ وَ هُوَ سَقِیْمٌۚ 145
145. শেষ পর্যন্ত আমি ইউনুসকে অসুস্থ অবস্থায় এক তৃণলতাহীন বিরান বালুচরে নিক্ষেপ করলাম।
وَ اَنْۢبَتْنَا عَلَیْهِ شَجَرَةً مِّنْ یَّقْطِیْنٍۚ 146
146. ১৪৬. পরে সেখানে আমি তার জন্য বড় পাতাযুক্ত লতানো গাছ উৎপন্ন করলাম।
وَ اَرْسَلْنٰهُ اِلٰی مِائَةِ اَلْفٍ اَوْ یَزِیْدُوْنَۚ 147
147. অতঃপর আমি তাকে এক লক্ষ বা তার চেয়েও বেশি লোকদের কাছে আবার রসুল করে পাঠালাম।
فَاٰمَنُوْا فَمَتَّعْنٰهُمْ اِلٰی حِیْنٍؕ 148
148. লোকেরা তার প্রতি ঈমান আনলো। ফলে এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আমি তাদেরকে পার্থিব ভোগের সুযোগ দিলাম।
فَاسْتَفْتِهِمْ اَلِرَبِّكَ الْبَنَاتُ وَ لَهُمُ الْبَنُوْنَۙ 149
149. হে নবী, ওদের জিজ্ঞেস করো, ওরা কিভাবে এটা মনে করে যে, আল্লাহর জন্য কেবল কন্যা আর ওদের জন্য সব পুত্র?
اَمْ خَلَقْنَا الْمَلٰٓىِٕكَةَ اِنَاثًا وَّ هُمْ شٰهِدُوْنَ 150
150. আচ্ছা! ওরা কি নিজ চোখে দেখেছে যে, আমি ফেরেশতাদেরকে মহিলাদের আকৃতিতে বানিয়েছি?
اَلَاۤ اِنَّهُمْ مِّنْ اِفْكِهِمْ لَیَقُوْلُوْنَۙ 151
151. না, কখনো নয়। শুনো, এসবই ওদের মনগড়া মিথ্যাচার।
وَلَدَ اللّٰهُ ۙ وَ اِنَّهُمْ لَكٰذِبُوْنَ 152
152. ওরা বলে, আল্লাহ সন্তান জন্ম দিয়েছেন। মিথ্যা! সন্দেহ নেই, ওরা মিথ্যাচারী।
اَصْطَفَی الْبَنَاتِ عَلَی الْبَنِیْنَؕ 153
153. আচ্ছা! আল্লাহ কেন পুত্রের উপর কন্যাকে অধিক পছন্দ করে নিবেন।
مَا لَكُمْ ۫ كَیْفَ تَحْكُمُوْنَ 154
154. নিজেদের জন্য তো এমনটা চাও না। তাহলে আল্লাহর ক্ষেত্রে কেন চাইছো? এ তোমাদের কেমন বিচার?
اَفَلَا تَذَكَّرُوْنَۚ 155
155. এরপরেও তোমরা কেন সত্যের উপদেশ গ্রহণ করছো না?
اَمْ لَكُمْ سُلْطٰنٌ مُّبِیْنٌۙ 156
156. নাকি তোমাদের কাছে তোমাদের ধ্যান-ধারণার পক্ষে কোনো শক্তিশালী প্রমাণপত্র রয়েছে?
فَاْتُوْا بِكِتٰبِكُمْ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ 157
157. তাহলে সে প্রমাণপত্র আমাকে দেখাও। দেখি, তোমরা কেমন সত্যবাদী।
وَ جَعَلُوْا بَیْنَهٗ وَ بَیْنَ الْجِنَّةِ نَسَبًا ؕ وَ لَقَدْ عَلِمَتِ الْجِنَّةُ اِنَّهُمْ لَمُحْضَرُوْنَۙ 158
158. ওদের কেউ কেউ আবার আল্লাহ ও জিনদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক কল্পনা করে। অথচ জিনেরাও জানে যে, বিচারের দিন তাদেরকেও কঠিন জবাবদিহির করতে হবে।
سُبْحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا یَصِفُوْنَۙ 159
159. সুবহানাল্লহ! ওদের এসব মিথ্যাচার থেকে আল্লাহ মহা পবিত্র, মহামহিম।
اِلَّا عِبَادَ اللّٰهِ الْمُخْلَصِیْنَ 160
160. একমাত্র আল্লাহর নিষ্ঠাবান বান্দারাই এ ধরনের মিথ্যাচার করা থেকে মুক্ত।
فَاِنَّكُمْ وَ مَا تَعْبُدُوْنَۙ 161
161. জেনে রেখো, তোমরা ও তোমাদের পূজনীয় খোদারা একত্রে চেষ্টা করেও,
مَاۤ اَنْتُمْ عَلَیْهِ بِفٰتِنِیْنَۙ 162
162. আল্লাহ সম্পর্কে কোনো নিষ্ঠাবান বান্দাকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
اِلَّا مَنْ هُوَ صَالِ الْجَحِیْمِ 163
163. কেননা তোমাদের কথায় কেবল জাহান্নামীরাই গোমরাহ হতে পারে।
وَ مَا مِنَّاۤ اِلَّا لَهٗ مَقَامٌ مَّعْلُوْمٌۙ 164
164. আর ফেরেশতারা বলবে, আমাদের প্রত্যেকেই তার নিজ অবস্থান সম্পর্কে ভালো করেই অবগত।
وَّ اِنَّا لَنَحْنُ الصَّآفُّوْنَۚ 165
165. আমরা সারিবদ্ধভাবে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে থাকি।
وَ اِنَّا لَنَحْنُ الْمُسَبِّحُوْنَ 166
166. এবং সদা-সর্বদা তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা জপতে থাকি।
وَ اِنْ كَانُوْا لَیَقُوْلُوْنَۙ 167
167. এসব সত্য অস্বীকারকারীরা আগে বলে বেড়াতো যে,
لَوْ اَنَّ عِنْدَنَا ذِكْرًا مِّنَ الْاَوَّلِیْنَۙ 168
168. পুর্ববর্তীদের মতো যদি আমাদেরকেও একটা কিতার দেয়া হতো,
لَكُنَّا عِبَادَ اللّٰهِ الْمُخْلَصِیْنَ 169
169. তবে আমরাও আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা হয়ে যেতাম।
فَكَفَرُوْا بِهٖ فَسَوْفَ یَعْلَمُوْنَ 170
170. কিন্তু দেখো, যখন ওদের কাছে সত্যিই সে কিতাব এলো, তখন ওরা তা অস্বীকার করলো। ওরা অচিরেই এর পরিণাম জানবে।
وَ لَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِیْنَۚۖ 171
171. আমার প্রেরিত একনিষ্ঠ বান্দাদের নিকট আমার ওয়াদা পূর্ব থেকেই নির্ধারিত।
اِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنْصُوْرُوْنَ۪ 172
172. অবশ্যই আমার রসুলেরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।
وَ اِنَّ جُنْدَنَا لَهُمُ الْغٰلِبُوْنَ 173
173. অবশ্যই আমার সত্যপন্থী বাহিনী বিজয়ী হবে।
فَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتّٰی حِیْنٍۙ 174
174. অতএব হে নবী, কিছু সময়ের জন্য তুমি ওদেরকে ওদের মতো থাকতে দাও।
وَّ اَبْصِرْهُمْ فَسَوْفَ یُبْصِرُوْنَ 175
175. আর দেখতে থাকো, অচিরেই ওরা এর পরিণতি দেখতে পাবে।
اَفَبِعَذَابِنَا یَسْتَعْجِلُوْنَ 176
176. তবে কি ওরা খুব দ্রুতই আমার আযাবের শিকার হতে চায়?
فَاِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمْ فَسَآءَ صَبَاحُ الْمُنْذَرِیْنَ 177
177. আহ! এসব সতর্ককৃতদের আঙ্গিনায় যখন আমার আযাব নেমে আসবে, সেই সকালটা হবে ওদের জন্য কতই না দুর্ভোগের!
وَ تَوَلَّ عَنْهُمْ حَتّٰی حِیْنٍۙ 178
178. উপেক্ষা করে যাও। ওদের কিছুটা সময় দাও।
وَّ اَبْصِرْ فَسَوْفَ یُبْصِرُوْنَ 179
179. আর দেখতে থাকো, শীঘ্রই ওরা ওদের পরিণাম টের পাবে।
سُبْحٰنَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا یَصِفُوْنَۚ 180
180. সুবহানাল্লহ! সত্য অস্বীকারকারীরা যে মনগড়া ধ্যান-ধারণা পোষণ করছে, তোমার রব তা থেকে বড়ই পবিত্র এবং মহামহিম। তিনি বড়ই ইজ্জত-সম্মানের মালিক।
وَ سَلٰمٌ عَلَی الْمُرْسَلِیْنَۚ 181
181. রসুলদের প্রতি আমার সালাম।
وَ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ۠ 182
182. আলহামদুলিল্লাহ! বিশ্ব জাহানের রবের জন্যেই সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা।