4. আন নিসা
یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّكُمُ الَّذِیْ خَلَقَكُمْ مِّنْ نَّفْسٍ وَّاحِدَةٍ وَّخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَ بَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِیْرًا وَّنِسَآءً ۚ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ الَّذِیْ تَسَآءَلُوْنَ بِهٖ وَ الْاَرْحَامَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلَیْكُمْ رَقِیْبًا
1
1. হে মানবজাতি, তোমাদের রবের ব্যাপারে সতর্ক হও। জেনে রেখো, তিনি তোমাদের সৃষ্টির সূচনা করেছেন এক পুরুষ থেকে। অতঃপর তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে। এরপর এ দু’জনের মাধ্যমে দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। হে লোকেরা, সে আল্লাহর বিধি-বিধান পালনে সতর্ক হও, যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অন্যের থেকে অধিকার আদায় করে থাকো। আর আত্মীয়-স্বজনের পূর্ণ হক আদায় করো। মনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখেন।
وَ اٰتُوا الْیَتٰمٰۤی اَمْوَالَهُمْ وَ لَا تَتَبَدَّلُوا الْخَبِیْثَ بِالطَّیِّبِ ۪ وَ لَا تَاْكُلُوْۤا اَمْوَالَهُمْ اِلٰۤی اَمْوَالِكُمْ ؕ اِنَّهٗ كَانَ حُوْبًا كَبِیْرًا 2
2. হে লোকেরা, এতিমদেরকে তাদের ধন-সম্পদ ঠিকঠাক ফিরিয়ে দাও। ফিরিয়ে দেবার সময় তাদের ভালো মালামাল রেখে তার জায়গায় তোমাদের খারাপ মাল ঢুকিয়ে দিও না। এমনকি, তোমাদের সম্পদের সাথে মিশিয়ে তাদের সম্পদ খেয়েও ফেলো না। জেনে রেখো, এসব ভয়ঙ্কর শাস্তিযোগ্য পাপ।
وَ اِنْ خِفْتُمْ اَلَّا تُقْسِطُوْا فِی الْیَتٰمٰی فَانْكِحُوْا مَا طَابَ لَكُمْ مِّنَ النِّسَآءِ مَثْنٰی وَ ثُلٰثَ وَ رُبٰعَ ۚ فَاِنْ خِفْتُمْ اَلَّا تَعْدِلُوْا فَوَاحِدَةً اَوْ مَا مَلَكَتْ اَیْمَانُكُمْ ؕ ذٰلِكَ اَدْنٰۤی اَلَّا تَعُوْلُوْاؕ 3
3. আর যদি তোমরা এতিম মেয়েদের বিয়ে করলে বে-ইনসাফি করার আশঙ্কা করো, তবে তাদের বাদ দিয়ে অন্য পছন্দনীয় নারীদের বিয়ে করো। তোমরা চাইলে দুইজন, তিনজন, এমনকি চারজনকেও বিয়ে করতে পারো। তবে সাবধান! যদি একাধিক স্ত্রীর মধ্যে বে-ইনসাফির আশঙ্কা করো, তবে একজনকে নিয়েই সন্তুষ্ট হও কিংবা অধিকারভুক্ত দাসী নিয়েই সন্তুষ্ট থাকো। বে-ইনসাফি থেকে বাঁচার এটাই সহজ পথ।
وَ اٰتُوا النِّسَآءَ صَدُقٰتِهِنَّ نِحْلَةً ؕ فَاِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَیْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوْهُ هَنِیْٓـًٔا مَّرِیْٓـًٔا 4
4. হে ঈমানদার পুরুষেরা, বিয়ের পর স্ত্রীদের মোহরানা নিজ উদ্যোগে আনন্দচিত্তে আদায় করো। তবে হ্যাঁ, তারা যদি কোনো ধরনের চাপ ছাড়া সম্পূর্ণ নিজ আগ্রহে তোমাদের কোনো ছাড় দেয়, তবে সে সম্পদ তোমরা দ্বিধাহীনভাবে খেতে পারো।
وَلَا تُؤْتُوا السُّفَهَآءَ اَمْوَالَكُمُ الَّتِیْ جَعَلَ اللّٰهُ لَكُمْ قِیٰمًا وَّارْزُقُوْهُمْ فِیْهَا وَاكْسُوْهُمْ وَقُوْلُوْا لَهُمْ قَوْلًا مَّعْرُوْفًا 5
5. আর তোমাদের জীবিকা হিসেবে আল্লাহ যে সহায়-সম্পত্তি দিয়েছেন, তা কখনো নির্বোধ লোকদের মালিকানায় দিয়ে দিও না। তবে এসব থেকে তাদের যথাযথ খাওয়া-পরার ব্যবস্থা করো। তাদের সাথে ন্যায়সঙ্গত উত্তম আচরণ করো।
وَ ابْتَلُوا الْیَتٰمٰی حَتّٰۤی اِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ ۚ فَاِنْ اٰنَسْتُمْ مِّنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوْۤا اِلَیْهِمْ اَمْوَالَهُمْ ۚ وَ لَا تَاْكُلُوْهَاۤ اِسْرَافًا وَّبِدَارًا اَنْ یَّكْبَرُوْا ؕ وَ مَنْ كَانَ غَنِیًّا فَلْیَسْتَعْفِفْ ۚ وَ مَنْ كَانَ فَقِیْرًا فَلْیَاْكُلْ بِالْمَعْرُوْفِ ؕ فَاِذَا دَفَعْتُمْ اِلَیْهِمْ اَمْوَالَهُمْ فَاَشْهِدُوْا عَلَیْهِمْ ؕ وَ كَفٰی بِاللّٰهِ حَسِیْبًا 6
6. হে অভিভাবকেরা, তোমরা এতিমদের কাছে তাদের সম্পত্তি হস্তান্তর করার আগে অবশ্যই যাচাই করে নাও যে, তারা প্রাপ্তবয়স্ক বিয়ে করার উপযুক্ত হয়েছে কিনা এবং এ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার যোগ্যতা অর্জন করেছে কিনা। যদি এ অবস্থা তাদের মধ্যে পাও তবে অবশ্যই সম্পত্তি হস্তান্তর করবে। আর এতিমরা বড় হয়ে উঠছে নিজেদের সম্পত্তি নিজেরা বুঝে নেবে, এ আশঙ্কায় অন্যায়ভাবে তাড়াহুড়ো করে তাদের সম্পত্তি খেয়ে ফেলো না। মনে রেখো, অভিভাবক হিসেবে তুমি স্বচ্ছল হলে, এতিমের সম্পত্তি থেকে কিছুই খাবে না। তবে যদি দরিদ্র হও, তবে প্রচলিত ন্যায়পন্থায় খাও। এরপর তাদের সম্পত্তি হস্তান্তর করার সময় অবশ্যই লোকদেরকে সাক্ষী রাখবে। ভুলে যেয়ো না, হিসেব নেয়ার জন্যে আল্লাহ নিজেই যথেষ্ট।
لِلرِّجَالِ نَصِیْبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدٰنِ وَ الْاَقْرَبُوْنَ ۪ وَ لِلنِّسَآءِ نَصِیْبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدٰنِ وَ الْاَقْرَبُوْنَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ اَوْ كَثُرَ ؕ نَصِیْبًا مَّفْرُوْضًا 7
7. জেনে রেখো, পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে পুরুষের যেমন অংশ রয়েছে, ঠিক অনুরূপ তাদের সম্পত্তিতে নারীরও অংশ রয়েছে। তাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির পরিমাণ কম-বেশি যাইহোক, আল্লাহর নির্ধারিত অংশের ভিত্তিতে তা বণ্টন করতে হবে।
وَ اِذَا حَضَرَ الْقِسْمَةَ اُولُوا الْقُرْبٰی وَ الْیَتٰمٰی وَ الْمَسٰكِیْنُ فَارْزُقُوْهُمْ مِّنْهُ وَ قُوْلُوْا لَهُمْ قَوْلًا مَّعْرُوْفًا 8
8. এসব রেখে যাওয়া সম্পত্তি বণ্টনের সময় যদি একটু দূরের আত্মীয় কিংবা এতিম বা অসহায়-দরিদ্র কোনো লোক আসে, তবে ঐ সম্পত্তি থেকে তাদেরকেও সামান্য কিছু দেয়ার চেষ্টা করো। অন্তত তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করো।
وَ لْیَخْشَ الَّذِیْنَ لَوْ تَرَكُوْا مِنْ خَلْفِهِمْ ذُرِّیَّةً ضِعٰفًا خَافُوْا عَلَیْهِمْ ۪ فَلْیَتَّقُوا اللّٰهَ وَلْیَقُوْلُوْا قَوْلًا سَدِیْدًا 9
9. বণ্টনকারীরা সম্পত্তি বণ্টনকালে সে ব্যক্তির ভয়কে অনুভব করুক, যে মৃত্যুর সময় ছোট্ট ছোট্ট অসহায় সন্তান-সন্তুতি রেখে যাচ্ছে, যাদের ভবিষ্যৎ খুবই শঙ্কাময়। সুতরাং এসব ব্যাপারে তাদের আল্লাহকে ভয় করে কাজ করা এবং ন্যায্য পন্থায় কথা বলা উচিত।
اِنَّ الَّذِیْنَ یَاْكُلُوْنَ اَمْوَالَ الْیَتٰمٰی ظُلْمًا اِنَّمَا یَاْكُلُوْنَ فِیْ بُطُوْنِهِمْ نَارًا ؕ وَ سَیَصْلَوْنَ سَعِیْرًا۠ 10
10. সন্দেহ নেই, যারা এতিমদের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে ভোগ-দখল করে খায়; ওরা মূলত নিজেদের পেটে আগুন ঢুকায়। ওদেরকে অচিরেই জাহান্নামের আগুনে পোড়ানো হবে।
یُوْصِیْكُمُ اللّٰهُ فِیْۤ اَوْلَادِكُمْ ۗ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْاُنْثَیَیْنِ ۚ فَاِنْ كُنَّ نِسَآءً فَوْقَ اثْنَتَیْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ ۚ وَ اِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ ؕ وَ لِاَبَوَیْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ اِنْ كَانَ لَهٗ وَلَدٌ ۚ فَاِنْ لَّمْ یَكُنْ لَّهٗ وَلَدٌ وَّوَرِثَهٗۤ اَبَوٰهُ فَلِاُمِّهِ الثُّلُثُ ۚ فَاِنْ كَانَ لَهٗۤ اِخْوَةٌ فَلِاُمِّهِ السُّدُسُ مِنْۢ بَعْدِ وَصِیَّةٍ یُّوْصِیْ بِهَاۤ اَوْ دَیْنٍ ؕ اٰبَآؤُكُمْ وَ اَبْنَآؤُكُمْ لَا تَدْرُوْنَ اَیُّهُمْ اَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعًا ؕ فَرِیْضَةً مِّنَ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلِیْمًا حَكِیْمًا
11
11. হে ঈমানদারেরা, উত্তরাধিকার বণ্টনের ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়েদের প্রাপ্য সম্পর্কে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন সাধারণ মূলনীতি হলো, এক ছেলে দুই মেয়ের সমান অংশ পাবে। মৃতের যদি কোনো ছেলে না থাকে, তখন মেয়ে একজন থাকলে, সে রেখে যাওয়া সম্পত্তির অর্ধেক পাবে। আর মেয়ে একাধিক হলে, মোট সম্পত্তির তিনের দুই ভাগ তারা পাবে। মৃতের ছেলে-মেয়ে বেঁচে থাকলে, তার বাপ-মা রেখে যাওয়া সম্পত্তির ছয়ের একভাগ প্রত্যেকে আলাদাভাবে পাবে। তবে মৃতের ছেলে-মেয়ে না থাকলে তার বাপ-মা উত্তরাধিকারী হবে। এক্ষেত্রে মৃতের ভাই-বোন বেঁচে থাকলে মৃতের মা ছয়ের একভাগ পাবে, অন্যথায় তিনের একভাগ পাবে। মনে রেখো, এসব ভাগ-বাটোয়ারা করার পূর্বে অবশ্যই মৃতের করে যাওয়া অসিয়ত পূরণ করবে এবং তার রেখে যাওয়া ঋণ শোধ করে নেবে। আর খবরদার! এসব ব্যাপারে জুলুমের আশ্রয় নিও না। কেননা তোমরা আসলে জানো না যে, তোমাদের জন্যে তোমাদের বাপ-মা বেশি উপকারী হবে, নাকি তোমাদের ছেলে-মেয়েরা। জেনে রেখো, কারা, কখন এবং কতো অংশ পাবে তা আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সব জানেন, সব বোঝেন।
وَ لَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ اَزْوَاجُكُمْ اِنْ لَّمْ یَكُنْ لَّهُنَّ وَلَدٌ ۚ فَاِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِنْۢ بَعْدِ وَصِیَّةٍ یُّوْصِیْنَ بِهَاۤ اَوْ دَیْنٍ ؕ وَ لَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ اِنْ لَّمْ یَكُنْ لَّكُمْ وَلَدٌ ۚ فَاِنْ كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُمْ مِّنْۢ بَعْدِ وَصِیَّةٍ تُوْصُوْنَ بِهَاۤ اَوْ دَیْنٍ ؕ وَ اِنْ كَانَ رَجُلٌ یُّوْرَثُ كَلٰلَةً اَوِ امْرَاَةٌ وَّلَهٗۤ اَخٌ اَوْ اُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ ۚ فَاِنْ كَانُوْۤا اَكْثَرَ مِنْ ذٰلِكَ فَهُمْ شُرَكَآءُ فِی الثُّلُثِ مِنْۢ بَعْدِ وَصِیَّةٍ یُّوْصٰی بِهَاۤ اَوْ دَیْنٍ ۙ غَیْرَ مُضَآرٍّ ۚ وَصِیَّةً مِّنَ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَلِیْمٌؕ
12
12. এবার তোমাদের স্বামী-স্ত্রীর প্রাপ্য অংশ সম্পর্কে বিধান দেয়া হচ্ছে। স্ত্রী যদি ছেলে-মেয়ে রেখে মারা যায়, তবে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে স্বামী পাবে চারের এক ভাগ, অন্যথায় অর্ধেক অংশ পাবে। ঠিক অনুরূপ স্বামী যদি ছেলে-মেয়ে রেখে মারা যায়, তবে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে স্ত্রী পাবে আটের এক ভাগ, অন্যথায় পাবে চারের এক ভাগ। মনে রেখো, এসব ভাগ-বাটোয়ারা করার আগে অবশ্যই তাদের অসিয়ত পূর্ণ করবে এবং রেখে যাওয়া ঋণ আদায় করবে। এবার তোমাদের বলে দেয়া হচ্ছে এমন পুরুষ বা নারীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি বণ্টনের বিধান, যার ছেলে-মেয়েও নেই এবং বাপ-মাও নেই। এ ক্ষেত্রে তার যদি এক ভাই অথবা এক বোন থাকে, তবে তাদের প্রত্যেকে আলাদাভাবে রেখে যাওয়া সম্পত্তির ছয়ের এক ভাগ পাবে। আর একাধিক ভাই-বোন হলে তিনের একাংশ ভাগ করে নেবে। সাবধান! ভাগ-বাটোয়ারার আগে অসিয়ত পূর্ণ করা এবং ঋণ আদায়ের কথা ভুলে যেয়ো না। আর মনে রেখো, অসিয়তের মাধ্যমে অন্য কারো ক্ষতি করো না। আল্লাহই তোমাদেরকে এসব বিধি-বিধান দিচ্ছেন। জেনে রেখো, তিনি তোমাদের সব বিষয়ে জ্ঞান রাখেন এবং যথারীতি তিনি বড়ই সহনশীল।
تِلْكَ حُدُوْدُ اللّٰهِ ؕ وَ مَنْ یُّطِعِ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ یُدْخِلْهُ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ وَ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ 13
13. এতক্ষণ যা শুনলে এসব হচ্ছে আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। ভালো করে জেনে রেখো, তোমাদের যে লোক আল্লাহ ও তাঁর রসুলের অনুগত হয়ে চলবে, তাকে পুরস্কার হিসেবে জান্নাত দেয়া হবে, যার পাদদেশে থাকবে প্রবহমান ঝর্নাধারা এবং সে স্থায়ীভাবে তা উপভোগ করবে। প্রকৃতপক্ষে এটাই আসল সাফল্য।
وَ مَنْ یَّعْصِ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ وَ یَتَعَدَّ حُدُوْدَهٗ یُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِیْهَا ۪ وَ لَهٗ عَذَابٌ مُّهِیْنٌ۠ 14
14. অন্যদিকে যে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের অবাধ্য হবে, এমনকি আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা তোয়াক্কা না করে চলবে, তাকে নির্ঘাত জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। সেখান থেকে সে কোনোদিনই মুক্তি পাবে না। ফলে অপমানজনক শাস্তিই হবে তার প্রাপ্য।
وَ الّٰتِیْ یَاْتِیْنَ الْفَاحِشَةَ مِنْ نِّسَآئِكُمْ فَاسْتَشْهِدُوْا عَلَیْهِنَّ اَرْبَعَةً مِّنْكُمْ ۚ فَاِنْ شَهِدُوْا فَاَمْسِكُوْهُنَّ فِی الْبُیُوْتِ حَتّٰی یَتَوَفّٰهُنَّ الْمَوْتُ اَوْ یَجْعَلَ اللّٰهُ لَهُنَّ سَبِیْلًا 15
15. হে ঈমানদার পুরুষেরা, তোমাদের কোনো নারী যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে চারজন পুরুষ প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হাজির করো। সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আপরাধ প্রমাণিত হলে, এসব নারীদের আজীবন গৃহবন্দী রাখো। হয় তাদের এ অবস্থায় মৃত্যু হবে, নয়তো আল্লাহ তাদের জন্যে অন্য কোনো পথ বের করবেন।
وَ الَّذٰنِ یَاْتِیٰنِهَا مِنْكُمْ فَاٰذُوْهُمَا ۚ فَاِنْ تَابَا وَ اَصْلَحَا فَاَعْرِضُوْا عَنْهُمَا ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ تَوَّابًا رَّحِیْمًا 16
16. জেনে রেখো, যে দুজন এমন নোংরা পাপে লিপ্ত হবে, তাদেরকে কঠিন শাস্তি দেবে। এরপর তারা যদি সত্যি সত্যি তওবা করে এবং পবিত্র জীবনে ফিরে আসে, তবে তাদের ছেড়ে দাও। কেননা আল্লাহ বড়ই তওবাকবুলকারী, বড়ই মেহেরবান।
اِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَی اللّٰهِ لِلَّذِیْنَ یَعْمَلُوْنَ السُّوْٓءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ یَتُوْبُوْنَ مِنْ قَرِیْبٍ فَاُولٰٓئِكَ یَتُوْبُ اللّٰهُ عَلَیْهِمْ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَلِیْمًا حَكِیْمًا 17
17. তবে মনে রেখো, আল্লাহ কেবল ঐ লোকের তওবা কবুল করেন, যে প্রবৃত্তির তাড়নায় কোনো পাপ করে বসে এবং পরক্ষণেই আল্লাহর কাছে মাফ চায়। এ ধরনের লোকদের তওবা আল্লাহ কবুল করেন। বস্তুত তিনি মহাজ্ঞানী, মহাপ্রজ্ঞাময়।
وَ لَیْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِیْنَ یَعْمَلُوْنَ السَّیِّاٰتِ ۚ حَتّٰۤی اِذَا حَضَرَ اَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ اِنِّیْ تُبْتُ الْـٰٔنَ وَ لَا الَّذِیْنَ یَمُوْتُوْنَ وَ هُمْ كُفَّارٌ ؕ اُولٰٓئِكَ اَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا اَلِیْمًا 18
18. সারাজীবন পাপ কাজ করে মৃত্যু শয্যায় এসে যারা বলে আমি এখন আল্লাহর কাছে তওবা করছি, ওরা জেনে রাখুক, ওদের জন্যে তওবার কোনো দরজাই খোলা নেই। আর যারা কুফরি নীতিতে চলতে চলতে মরে, ওদেরকেও কখনো ক্ষমা করা হবে না। এসব লোকদের জন্যেতো ভয়ানক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তৈরি করে রেখেছি।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا یَحِلُّ لَكُمْ اَنْ تَرِثُوا النِّسَآءَ كَرْهًا ؕ وَ لَا تَعْضُلُوْهُنَّ لِتَذْهَبُوْا بِبَعْضِ مَاۤ اٰتَیْتُمُوْهُنَّ اِلَّاۤ اَنْ یَّاْتِیْنَ بِفَاحِشَةٍ مُّبَیِّنَةٍ ۚ وَ عَاشِرُوْهُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ ۚ فَاِنْ كَرِهْتُمُوْهُنَّ فَعَسٰۤی اَنْ تَكْرَهُوْا شَیْـًٔا وَّیَجْعَلَ اللّٰهُ فِیْهِ خَیْرًا كَثِیْرًا 19
19. হে ঈমানদারেরা, ভালো করে শোনো, তোমাদের জন্যে বিধবা নারীদের উপর জোর-জবরদস্তি করে উত্তরাধিকারী হওয়ার প্রথা হারাম করা হলো। স্বাধীনভাবে নতুন বিয়ে করতে তাদেরকে বাধা দিও না। এমনকি, তোমাদের লোকেরা তাদেরকে যে মোহরানা দিয়েছিলো তা আত্মসাৎ করার ফন্দি-ফিকির এটো না। তবে তারা যদি প্রকাশ্যে ব্যভিচারে জড়ায়, তবে ভিন্ন কথা। আর তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সৎভাবে জীবনযাপন করো। তোমার স্ত্রীকে যদি তোমার কাছে ভালো না লাগে, তবে এভাবে ভেবে দেখো হয়ত আল্লাহ তোমার জন্যে তার মধ্যে অনেক কল্যাণ রেখেছেন; যদিও তুমি আপাতত তাকে অপছন্দই করছো।
وَ اِنْ اَرَدْتُّمُ اسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَّكَانَ زَوْجٍ ۙ وَّ اٰتَیْتُمْ اِحْدٰىهُنَّ قِنْطَارًا فَلَا تَاْخُذُوْا مِنْهُ شَیْـًٔا ؕ اَتَاْخُذُوْنَهٗ بُهْتَانًا وَّاِثْمًا مُّبِیْنًا 20
20. তবে হ্যাঁ, তোমরা যদি বর্তমান স্ত্রীর জায়গায় নতুন স্ত্রী আনতে চাও, তবে তার অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু সাবধান! বর্তমান স্ত্রীকে যদি পাহাড় পরিমাণ সম্পত্তির মালিকানাও দিয়ে থাকো, তবে বিদায়ের সময় তা থেকে সামান্য কানাকড়িও রেখে দিতে পারবে না। তোমরা তার প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কিংবা নিজেরাই সুস্পষ্ট জুলুম করে এ সম্পত্তি ফিরিয়ে নিতে চাও?
وَ كَیْفَ تَاْخُذُوْنَهٗ وَ قَدْ اَفْضٰی بَعْضُكُمْ اِلٰی بَعْضٍ وَّاَخَذْنَ مِنْكُمْ مِّیْثَاقًا غَلِیْظًا 21
21. আচ্ছা! তোমরাই বলো, কী করে তা ফেরত নিতে পারো, যখন একজন আরেকজনের স্বাদ গ্রহণ করেছো? তার উপর স্ত্রীরা তোমাদের থেকে পাকাপোক্ত অঙ্গীকারও নিয়েছে।
وَ لَا تَنْكِحُوْا مَا نَكَحَ اٰبَآؤُكُمْ مِّنَ النِّسَآءِ اِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ؕ اِنَّهٗ كَانَ فَاحِشَةً وَّمَقْتًا ؕ وَ سَآءَ سَبِیْلًا۠ 22
22. সাবধান হও! তোমাদের বাপ-দাদা যেসব নারীদের বিয়ে করেছে, তোমরা তাদেরকে কোনোক্রমেই বিয়ে করতে পারো না। আগে যা হওয়ার তা হয়েছে। এ একটা নির্লজ্জ কাজ, মারাত্মক অপছন্দনীয় এবং নিকৃষ্ট পদ্ধতি।
حُرِّمَتْ عَلَیْكُمْ اُمَّهٰتُكُمْ وَبَنٰتُكُمْ وَاَخَوٰتُكُمْ وَعَمّٰتُكُمْ وَخٰلٰتُكُمْ وَبَنٰتُ الْاَخِ وَبَنٰتُ الْاُخْتِ وَاُمَّهٰتُكُمُ الّٰتِیْۤ اَرْضَعْنَكُمْ وَاَخَوٰتُكُمْ مِّنَ الرَّضَاعَةِ وَ اُمَّهٰتُ نِسَآئِكُمْ وَرَبَآئِبُكُمُ الّٰتِیْ فِیْ حُجُوْرِكُمْ مِّنْ نِّسَآئِكُمُ الّٰتِیْ دَخَلْتُمْ بِهِنَّ ؗ فَاِنْ لَّمْ تَكُوْنُوْا دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَیْكُمْ ؗ وَحَلَآئِلُ اَبْنَآئِكُمُ الَّذِیْنَ مِنْ اَصْلَابِكُمْ ۙ وَاَنْ تَجْمَعُوْا بَیْنَ الْاُخْتَیْنِ اِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ غَفُوْرًا رَّحِیْمًاۙ 23
23. মনে রেখো, নিম্নে বর্ণিত নারীদের কখনোই বিয়ে করতে পারবে না, তারা তোমাদের জন্যে মাহরিম- তোমাদের মা, তোমাদের মেয়ে, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, খালা, ভাতিজি, ভাগিনী, দুধ মা, দুধ বোন, শাশুড়ি, তোমাদের স্ত্রীর আগের ঘরের মেয়ে যারা তোমার কাছে লালিত-পালিত হয়েছে। তবে যদি তাদের মাকে শারীরিক সম্পর্ক করার আগেই তালাক দিয়ে দাও, তবে তাদের বিয়ে করতে পারো। তোমাদের আপন ছেলে বউদের এবং একসাথে দুই বোনকে বিয়ে করাও হারাম। অতীতের কথা বাদ, যা হওয়ার তা হয়েছে। জেনে রেখো, আল্লাহ বান্দার প্রতি বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই রহমদিল।
وَّ الْمُحْصَنٰتُ مِنَ النِّسَآءِ اِلَّا مَا مَلَكَتْ اَیْمَانُكُمْ ۚ كِتٰبَ اللّٰهِ عَلَیْكُمْ ۚ وَاُحِلَّ لَكُمْ مَّا وَرَآءَ ذٰلِكُمْ اَنْ تَبْتَغُوْا بِاَمْوَالِكُمْ مُّحْصِنِیْنَ غَیْرَ مُسٰفِحِیْنَ ؕ فَمَا اسْتَمْتَعْتُمْ بِهٖ مِنْهُنَّ فَاٰتُوْهُنَّ اُجُوْرَهُنَّ فَرِیْضَةً ؕ وَلَا جُنَاحَ عَلَیْكُمْ فِیْمَا تَرٰضَیْتُمْ بِهٖ مِنْۢ بَعْدِ الْفَرِیْضَةِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلِیْمًا حَكِیْمًا 24
24. মনে রেখো, অন্যের স্ত্রী হিসেবে রয়েছে এমন কোনো নারীকে তোমরা বিয়ে করতে পারবে না। তবে যুদ্ধবন্দী হিসেবে কোনো লোকের স্ত্রী দাসী হয়ে এলে ভিন্ন কথা। এসব তোমাদের জন্যে আল্লাহর দেয়া আইন। উপরে বর্ণিত এসব নারীরা ছাড়া অন্য যাকে চাও, মোহরানা দিয়ে বিয়ে করতে পারো। তবে সাবধান! বিয়ে ছাড়া কোনো ধরনের গোপন সম্পর্কে জড়াবে না। আর দাম্পত্য জীবনের স্বাদ তাদের মাধ্যমে গ্রহণ করার বিনিময়ে তাদের নির্ধারিত মোহরানা ফরজ হিসেবে আদায় করে দাও। তবে মোহরানা আদায়ের সময় পরস্পরের সম্মতিতে যদি কোনো কম-বেশি করা হয়; তবে তাতে দোষ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
وَمَنْ لَّمْ یَسْتَطِعْ مِنْكُمْ طَوْلًا اَنْ یَّنْكِحَ الْمُحْصَنٰتِ الْمُؤْمِنٰتِ فَمِنْ مَّا مَلَكَتْ اَیْمَانُكُمْ مِّنْ فَتَیٰتِكُمُ الْمُؤْمِنٰتِ ؕ وَاللّٰهُ اَعْلَمُ بِاِیْمَانِكُمْ ؕ بَعْضُكُمْ مِّنْۢ بَعْضٍ ۚ فَانْكِحُوْهُنَّ بِاِذْنِ اَهْلِهِنَّ وَاٰتُوْهُنَّ اُجُوْرَهُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ مُحْصَنٰتٍ غَیْرَ مُسٰفِحٰتٍ وَّلَا مُتَّخِذٰتِ اَخْدَانٍ ۚ فَاِذَاۤ اُحْصِنَّ فَاِنْ اَتَیْنَ بِفَاحِشَةٍ فَعَلَیْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَی الْمُحْصَنٰتِ مِنَ الْعَذَابِ ؕ ذٰلِكَ لِمَنْ خَشِیَ الْعَنَتَ مِنْكُمْ ؕ وَاَنْ تَصْبِرُوْا خَیْرٌ لَّكُمْ ؕ وَ اللّٰهُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ۠ 25
25. তবে হ্যাঁ, যদি কোনো ঈমানদার স্বাধীন নারীকে তোমাদের বিয়ে করার সামর্থ্য না থাকে, তবে কারো মালিকানাধীন ঈমানদার দাসীকে বিয়ে করে নাও। কেননা আল্লাহ তোমাদের ঈমানের হাল-চাল সম্পর্কে ভালোই জানেন। আসলে তোমরা সবাই তো এক জাতির অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এসব দাসীদেরকে তাদের মালিকের অনুমতি নিয়ে বিয়ে করো এবং প্রচলিত ন্যায়পন্থায় তাদের মোহরানা আদায় করো। এভাবে তারা তোমাদের সাথে সচ্চরিত্রা হয়ে থাকার সুযোগ পাবে। ফলে না তারা ব্যভিচারিণী হবে, আর না পরকিয়ায় জড়াবে। কিন্তু এসব কিছুর পরেও যদি তারা স্পষ্ট ব্যভিচার করে বসে, তবে তাদের স্বাধীন নারীর অর্ধেক শাস্তি দাও। দাসীদের বিয়ে করার এ সুযোগ কেবল তাদের জন্যে রাখা হয়েছে, যারা ব্যভিচারে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করে। তবে এ সময় ধৈর্য ধরতে পারলে, তোমাদের জন্যে বেশি লাভজনক। আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
یُرِیْدُ اللّٰهُ لِیُبَیِّنَ لَكُمْ وَیَهْدِیَكُمْ سُنَنَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَیَتُوْبَ عَلَیْكُمْ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ 26
26. আসলে আল্লাহ চাচ্ছেন তাঁর বিধি-বিধানগুলো তোমাদের কাছে খোলামেলাভাবে পেশ করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ববর্তী সৎলোকদের নীতি ও আদর্শের পথে পরিচালিত করতে। পাশাপাশি তিনি তোমাদের তওবা-অনুশোচনাও কবুল করতে চান। আর একমাত্র তিনিই সব জানেন, সব বোঝেন।
وَ اللّٰهُ یُرِیْدُ اَنْ یَّتُوْبَ عَلَیْكُمْ ۫ وَیُرِیْدُ الَّذِیْنَ یَتَّبِعُوْنَ الشَّهَوٰتِ اَنْ تَمِیْلُوْا مَیْلًا عَظِیْمًا 27
27. আল্লাহ বারবার তোমাদের ক্ষমা করতে চাচ্ছেন। অথচ দেখো, প্রবৃত্তির পূজারীরা নানাভাবে তোমাদেরকে সত্য-ন্যায় থেকে দূরে সরাতে চাচ্ছে।
یُرِیْدُ اللّٰهُ اَنْ یُّخَفِّفَ عَنْكُمْ ۚ وَخُلِقَ الْاِنْسَانُ ضَعِیْفًا 28
28. আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর বিধি-বিধান সহজ করছেন। কেননা তিনি জানেন, মানুষ সৃষ্টিগতভাবেই দুর্বল প্রকৃতির।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَاْكُلُوْۤا اَمْوَالَكُمْ بَیْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ اِلَّاۤ اَنْ تَكُوْنَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِّنْكُمْ ۫ وَلَا تَقْتُلُوْۤا اَنْفُسَكُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِكُمْ رَحِیْمًا 29
29. হে ঈমানদারেরা, তোমরা নিজেদের মধ্যে পরস্পরের সম্মতিতে ব্যবসা বাণিজ্য করো। তবে সাবধান! কখনোই অন্যের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে খেয়ো না। আর নিজেদের কখনোই হত্যা করো না। মনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের প্রতি খুবই দয়ালু।
وَمَنْ یَّفْعَلْ ذٰلِكَ عُدْوَانًا وَّظُلْمًا فَسَوْفَ نُصْلِیْهِ نَارًا ؕ وَكَانَ ذٰلِكَ عَلَی اللّٰهِ یَسِیْرًا 30
30. কিন্তু কেউ যদি জুলুম ও বাড়াবাড়ির মধ্য দিয়ে এসব অপরাধে জড়ায়, তবে ওকে অচিরেই আমি জাহান্নামের আগুনে ঝলসাবো। এমন শাস্তি দেয়া আল্লাহর জন্যে কোনো ব্যাপারই না।
اِنْ تَجْتَنِبُوْا كَبَآىِٕرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَیِّاٰتِكُمْ وَ نُدْخِلْكُمْ مُّدْخَلًا كَرِیْمًا 31
31. শোনো, আমার নিষেধ করা বড় বড় গুনাহগুলো থেকে যদি বেঁচে থাকতে পারো, তবে আমি ছোট ছোট পাপগুলো তোমাদের আমলনামা থেকে মুছে দেব। আর তার চেয়েও বড় কথা, তোমাদেরকে সম্মান ও মর্যাদার আসনে সমাসীন করবো।
وَ لَا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللّٰهُ بِهٖ بَعْضَكُمْ عَلٰی بَعْضٍ ؕ لِلرِّجَالِ نَصِیْبٌ مِّمَّا اكْتَسَبُوْا ؕ وَلِلنِّسَآءِ نَصِیْبٌ مِّمَّا اكْتَسَبْنَ ؕ وَ سْـَٔلُوا اللّٰهَ مِنْ فَضْلِهٖ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمًا 32
32. হে ঈমানদারেরা, প্রাকৃতিকভাবে আল্লাহ অন্যকে তোমাদের থেকে যা কিছু বেশি দিয়েছেন, তা না পাওয়ার জন্যে আক্ষেপ করো না। কেননা তোমাদের পুরুষ কিংবা নারী প্রত্যেকেই নিজ নিজ উপার্জন অনুযায়ী পুরস্কার পাবে। তবে হ্যাঁ, অনুগ্রহ পাওয়ার জন্যে তোমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করো। জেনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের সব ব্যাপারেই ঠিকঠাক জ্ঞান রাখেন।
وَ لِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِیَ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدٰنِ وَالْاَقْرَبُوْنَ ؕ وَالَّذِیْنَ عَقَدَتْ اَیْمَانُكُمْ فَاٰتُوْهُمْ نَصِیْبَهُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ شَهِیْدًا۠ 33
33. আমি প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী বানিয়েছি। আর তোমরা যাদেরকে কথা দিয়েছো, তাদেরকে তাদের প্রাপ্য ঠিকঠাক আদায় করো। সন্দেহ নেই, আল্লাহ তোমাদের কাজকর্মের সাক্ষী।
اَلرِّجَالُ قَوّٰمُوْنَ عَلَی النِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ اللّٰهُ بَعْضَهُمْ عَلٰی بَعْضٍ وَّبِمَاۤ اَنْفَقُوْا مِنْ اَمْوَالِهِمْ ؕ فَالصّٰلِحٰتُ قٰنِتٰتٌ حٰفِظٰتٌ لِّلْغَیْبِ بِمَا حَفِظَ اللّٰهُ ؕ وَالّٰتِیْ تَخَافُوْنَ نُشُوْزَهُنَّ فَعِظُوْهُنَّ وَ اهْجُرُوْهُنَّ فِی الْمَضَاجِعِ وَ اضْرِبُوْهُنَّ ۚ فَاِنْ اَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوْا عَلَیْهِنَّ سَبِیْلًا ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلِیًّا كَبِیْرًا 34
34. জেনে রেখো, আল্লাহ পুরুষকে নারীর অভিভাবক ও ব্যবস্থাপক বানিয়েছেন। আর তিনি পুরুষকে নারীর উপর এবং নারীকে পুরুষের উপর ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও অনুগ্রহ দান করেছেন। এ কারণেই পুরুষেরা নারীদের জন্যে নিজেদের ধন-সম্পত্তি খরচ করে। মনে রেখো, সৎকর্মশীল নারীরা অনুগতা হয় এবং আল্লাহ যা হেফাজতযোগ্য করেছেন লোকচক্ষুর অন্তরালেও তারা তার হেফাজত করে। হে পুরুষেরা, তোমাদের স্ত্রীরা যদি তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে চলতে চায়, তবে তাদেরকে উত্তমভাবে বুঝাও, প্রয়োজনে বিছানায় তাদেরকে এড়িয়ে থাকো এবং আরো প্রয়োজন হলে, তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করো। পরিস্থিতির যে পর্যায়ে তারা তোমাদের কথা মেনে নেবে, তখন তাদেরকে কষ্ট দেয়ার জন্যে আর কোনো বাহানা খুঁজো না। মনে রাখো, আল্লাহ সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে বড়।
وَاِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَیْنِهِمَا فَابْعَثُوْا حَكَمًا مِّنْ اَهْلِهٖ وَحَكَمًا مِّنْ اَهْلِهَا ۚ اِنْ یُّرِیْدَاۤ اِصْلَاحًا یُّوَفِّقِ اللّٰهُ بَیْنَهُمَا ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلِیْمًا خَبِیْرًا 35
35. এরপরেও যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের আশঙ্কা করো, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজনকে সালিশ নিযুক্ত করো। অতঃপর তারা ভুল শুধরে এক হতে চাইলে আল্লাহ তাদের উভয়কে সে তাওফিক দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সব জানেন, সব খবর রাখেন।
وَاعْبُدُوا اللّٰهَ وَ لَا تُشْرِكُوْا بِهٖ شَیْـًٔا وَّبِالْوَالِدَیْنِ اِحْسَانًا وَّبِذِی الْقُرْبٰی وَالْیَتٰمٰی وَالْمَسٰكِیْنِ وَالْجَارِ ذِی الْقُرْبٰی وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْۢبِ وَابْنِ السَّبِیْلِ ۙ وَ مَا مَلَكَتْ اَیْمَانُكُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُوْرَاۙ۳۶ِ 36
36. তোমরা আল্লাহর বন্দেগি করো। খবরদার! তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না। বাবা-মায়ের সাথে সদাচরণ করো। নিজের আত্মীয়-স্বজন, এতিম ও অসহায় দরিদ্রদের সাথেও সদ্ব্যবহার করো। এছাড়াও তোমাদের কাছের ও দূরের প্রতিবেশী, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধব, আগন্তুক মেহমান, এমনকি তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের সাথেও ভালো ব্যবহার করো। আর জেনে রেখো, আল্লাহ এমন লোককে অপছন্দ করেন, যে আত্ম অহংকারে মেতে ওঠে এবং নিজের বড়াই করে বেড়ায়।
نِالَّذِیْنَ یَبْخَلُوْنَ وَیَاْمُرُوْنَ النَّاسَ بِالْبُخْلِ وَ یَكْتُمُوْنَ مَاۤ اٰتٰىهُمُ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِهٖ ؕ وَاَعْتَدْنَا لِلْكٰفِرِیْنَ عَذَابًا مُّهِیْنًاۚ 37
37. আল্লাহ সেসব লোকদেরও অপছন্দ করেন, যারা নিজেরা কৃপণতা করে এবং অন্যদেরও কৃপণ হবার বুদ্ধি-পরামর্শ দেয়। এমনকি ওদেরকে আল্লাহ যেসব নেয়ামত দিয়েছেন, তা গোপন করে রাখে। জেনে রেখো, এসব অস্বীকারকারীদের জন্য আমি অপমানকর শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছি।
وَ الَّذِیْنَ یُنْفِقُوْنَ اَمْوَالَهُمْ رِئَآءَ النَّاسِ وَلَا یُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَلَا بِالْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ وَمَنْ یَّكُنِ الشَّیْطٰنُ لَهٗ قَرِیْنًا فَسَآءَ قَرِیْنًا 38
38. পাশাপাশি ঐসব লোকদেরও আল্লাহ প্রচন্ড অপছন্দ করেন, যারা কেবল লোক দেখানোর জন্য অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে। ওরা সত্যিকারার্থে আল্লাহকে মানে না এবং পরকালেও বিশ্বাস রাখে না। ওদের সঙ্গী-সাথি হলো শয়তান। আর সত্য বলতে কি, দুর্ভাগাদের কপালেই শয়তানের সঙ্গ জোটে।
وَمَا ذَا عَلَیْهِمْ لَوْ اٰمَنُوْا بِاللّٰهِ وَالْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَاَنْفَقُوْا مِمَّا رَزَقَهُمُ اللّٰهُ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ بِهِمْ عَلِیْمًا 39
39. আচ্ছা! তোমরাই বলো, ওরা যদি আল্লাহ ও আখেরাতের উপর সত্যি সত্যি ঈমান রাখতো এবং আল্লাহর দেয়া জীবিকা থেকে ন্যয়পন্থায় খরচ করতো, তবে ওদের এমন কী ক্ষতি হতো? অথচ ওরা বেমালুম ভুলে গেছে যে, আল্লাহ ওদের সবকিছুই জানেন।
اِنَّ اللّٰهَ لَا یَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ ۚ وَ اِنْ تَكُ حَسَنَةً یُّضٰعِفْهَا وَ یُؤْتِ مِنْ لَّدُنْهُ اَجْرًا عَظِیْمًا 40
40. সন্দেহ নেই, আল্লাহ কারো উপর সামান্য সরিষার দানা পরিমাণ জুলুমও করেন না; বরং উল্টো কেউ যদি একটা ভালো কাজ করে, তবে আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ সওয়াব দেন। এমনকি নিজের পক্ষ থেকে তাকে বিরাট পুরস্কারও দিয়ে থাকেন।
فَكَیْفَ اِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ اُمَّةٍۭ بِشَهِیْدٍ وَّجِئْنَا بِكَ عَلٰی هٰۤؤُلَآءِ شَهِیْدًا ؕؔ 41
41. একটু ভেবে দেখো তো! সেদিন ওদের অবস্থা কী হবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজনকে সাক্ষী বানাবো এবং হে নবী, তোমাকেও এসব লোকদের উপর সাক্ষী হিসেবে পেশ করবো?
یَوْمَىِٕذٍ یَّوَدُّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَعَصَوُا الرَّسُوْلَ لَوْ تُسَوّٰی بِهِمُ الْاَرْضُ ؕ وَلَا یَكْتُمُوْنَ اللّٰهَ حَدِیْثًا۠ 42
42. আজ যারা সত্যকে অস্বীকার করছে এবং আমার এই রসুলের কথা মানছে না ওরা সেদিন আফসোস করে বলবে, হায়! যদি আমরা মাটির সাথে মিশে যেতে পারতাম। হায়! ওরা সেদিন কোনো কথাই আল্লাহর কাছ থেকে লুকাতে পারবে না।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَقْرَبُوا الصَّلٰوةَ وَاَنْتُمْ سُكٰرٰی حَتّٰی تَعْلَمُوْا مَا تَقُوْلُوْنَ وَ لَا جُنُبًا اِلَّا عَابِرِیْ سَبِیْلٍ حَتّٰی تَغْتَسِلُوْا ؕ وَ اِنْ كُنْتُمْ مَّرْضٰۤی اَوْ عَلٰی سَفَرٍ اَوْ جَآءَ اَحَدٌ مِّنْكُمْ مِّنَ الْغَآىِٕطِ اَوْ لٰمَسْتُمُ النِّسَآءَ فَلَمْ تَجِدُوْا مَآءً فَتَیَمَّمُوْا صَعِیْدًا طَیِّبًا فَامْسَحُوْا بِوُجُوْهِكُمْ وَ اَیْدِیْكُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُوْرًا 43
43. হে ঈমানদারেরা, এখন থেকে তোমরা নেশাগ্রস্থ অবস্থায় নামাজে দাঁড়াবে না। তোমরা কী বলছো তা যখন বুঝতে পারবে তখন নামাজ পড়বে। আর মনে রেখো, একইভাবে অপবিত্র অবস্থায় গোসল না করে নামাজ পড়বে না। তবে মুসাফির অবস্থায় থাকলে ভিন্ন কথা। এবার শোনো! তোমাদের কেউ যদি অসুস্থ থাকে বা সফরে থাকে অথবা মলমূত্র ত্যাগ করে আসে কিংবা স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়ে থাকে অতঃপর এসব অবস্থায় পবিত্র হওয়ার জন্যে যদি পানি না পায়, তবে পাক-পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নেবে। আর তার নিয়ম হচ্ছে, তোমাদের চেহারা ও হাতের উপর এ মাটি বুলিয়ে নেবে। জেনে রেখো, নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাপমোচনকারী এবং অতীব ক্ষমাশীল।
اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْنَ اُوْتُوْا نَصِیْبًا مِّنَ الْكِتٰبِ یَشْتَرُوْنَ الضَّلٰلَةَ وَ یُرِیْدُوْنَ اَنْ تَضِلُّوا السَّبِیْلَؕ 44
44. আচ্ছা! তোমরা কি ওদের কথা একটু ভেবে দেখেছো, যাদেরকে কিতাবের অংশবিশেষ দেয়া হয়েছিল? ওরা নিজেরাই তো গোমরাহী কিনে নিয়েছে। উপরন্তু ওরা চাচ্ছে যে, তোমরাও গোমরাহ হয়ে যাও।
وَاللّٰهُ اَعْلَمُ بِاَعْدَآىِٕكُمْ ؕ وَكَفٰی بِاللّٰهِ وَلِیًّا ؗۗ وَّ كَفٰی بِاللّٰهِ نَصِیْرًا 45
45. নিশ্চিত থাকো, আল্লাহ তোমাদের এসব দুশমনদের কাজকর্ম সম্পর্কে সবই জানেন। কাজেই তিনি তোমাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী হিসেবে একাই যথেষ্ট।
مِنَ الَّذِیْنَ هَادُوْا یُحَرِّفُوْنَ الْكَلِمَ عَنْ مَّوَاضِعِهٖ وَیَقُوْلُوْنَ سَمِعْنَا وَعَصَیْنَا وَ اسْمَعْ غَیْرَ مُسْمَعٍ وَّرَاعِنَا لَیًّۢا بِاَلْسِنَتِهِمْ وَ طَعْنًا فِی الدِّیْنِ ؕ وَ لَوْ اَنَّهُمْ قَالُوْا سَمِعْنَا وَ اَطَعْنَا وَ اسْمَعْ وَانْظُرْنَا لَكَانَ خَیْرًا لَّهُمْ وَ اَقْوَمَ ۙ وَلٰكِنْ لَّعَنَهُمُ اللّٰهُ بِكُفْرِهِمْ فَلَا یُؤْمِنُوْنَ اِلَّا قَلِیْلًا 46
46. সাবধান! ইহুদিদের কেউ কেউ কথা বলার সময় বিকৃত উচ্চারণের মাধ্যমে শব্দের অর্থ বদলে দেয়। ওরা তোমাদের সামনে বলে, আমরা শুনলাম কিন্তু এরপরে উচ্চারণ বিকৃত করে বলে আমরা অমান্য করলাম। ওরা নিজেদের লোকদের বলে, তোমরাও আমাদের মতো কেবল শোনার ভান করো। সত্যদ্বীনের প্রতি প্রচন্ড বিদ্বেষ প্রকাশের জন্য ওরা নিজেদের জিহ্বাকে কুঞ্চিত করে রসুলকে ‘রাইনা’ বলে ডাকে যার আসল অর্থ করে ‘হে আমাদের রাখাল’। আফসোস! ওরা যদি সত্যি সত্যি বলতো, হে রসুল, আমরা আপনার কথা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। হে রসুল, আপনি আমাদের কথা শুনুন এবং আমাদের দিকে খেয়াল রাখুন, তবে সেটা ওদের জন্যে কতোইনা ভালো ও ন্যায়সঙ্গত হতো। কিন্তু সত্যকে ছুড়ে ফেলার অপরাধে ওদেরকে আল্লাহর লানত ঘিরে ধরেছে। ফলে ওদের খুব কম লোকই ঈমান আনবে।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ اٰمِنُوْا بِمَا نَزَّلْنَا مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَكُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ نَّطْمِسَ وُجُوْهًا فَنَرُدَّهَا عَلٰۤی اَدْبَارِهَاۤ اَوْ نَلْعَنَهُمْ كَمَا لَعَنَّاۤ اَصْحٰبَ السَّبْتِ ؕ وَكَانَ اَمْرُ اللّٰهِ مَفْعُوْلًا 47
47. ওহে কিতাবওয়ালারা, তোমরা কি চাও যে, আমি তোমাদের চেহারাগুলো বিকৃত করে পিছনের দিকে ফিরিয়ে দেই বা তোমাদেরকে শনিবারওয়ালাদের মতো অভিশপ্ত বানিয়ে দেই? যদি এমন হতে না চাও, তবে বাহানা না করে আমার নাযিল করা এ কুরআনকে মেনে নাও। তোমরাতো জানোই যে, এ কিতাব তোমাদের কিতাবগুলোর সত্যতা স্বীকার করে। মনে রেখো, আল্লাহ যে সিদ্ধান্ত নেন, তা বাস্তবায়ন করেই ছাড়েন।
اِنَّ اللّٰهَ لَا یَغْفِرُ اَنْ یُّشْرَكَ بِهٖ وَ یَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذٰلِكَ لِمَنْ یَّشَآءُ ۚ وَ مَنْ یُّشْرِكْ بِاللّٰهِ فَقَدِ افْتَرٰۤی اِثْمًا عَظِیْمًا 48
48. নিশ্চিতভাবে জেনে রেখো, যে আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করবে, আল্লাহ তাকে কখনোই ক্ষমা করবেন না। এছাড়া আর যাকে খুশি তিনি তার যে কোনো অপরাধই ক্ষমা করে দেবেন। মনে রেখো, যে শরিক করে, সে সাংঘাতিক পাপ রচনা করে।
اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْنَ یُزَكُّوْنَ اَنْفُسَهُمْ ؕ بَلِ اللّٰهُ یُزَكِّیْ مَنْ یَّشَآءُ وَ لَا یُظْلَمُوْنَ فَتِیْلًا 49
49. হে মুসলমানেরা, তোমরা কি ওদের দেখেছো, যারা নিজেরাই নিজেদের পাক-পবিত্র দাবি করে বেড়াচ্ছে? অথচ ওরা ভুলে গেছে, আল্লাহ যাদের পাক-পবিত্র করেন, কেবল তারাই পাক-পবিত্র হতে পারে। না! ওদের উপর কখনো জুলুম করা হবে না।
اُنْظُرْ كَیْفَ یَفْتَرُوْنَ عَلَی اللّٰهِ الْكَذِبَ ؕ وَ كَفٰی بِهٖۤ اِثْمًا مُّبِیْنًا۠ 50
50. খেয়াল করে দেখো, ওরা নিজেদের মিথ্যা কথাগুলো কিভাবে আল্লাহর নামে চালিয়ে দিচ্ছে? মনে রেখো, ওদের এ পাপই ওদেরকে ভয়ঙ্কর পাপী প্রমাণে যথেষ্ট।
اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْنَ اُوْتُوْا نَصِیْبًا مِّنَ الْكِتٰبِ یُؤْمِنُوْنَ بِالْجِبْتِ وَ الطَّاغُوْتِ وَیَقُوْلُوْنَ لِلَّذِیْنَ كَفَرُوْا هٰۤؤُلَآءِ اَهْدٰی مِنَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا سَبِیْلًا 51
51. তোমরা কি কিতাবওয়ালাদের মধ্যকার সেসব লোকদের দেখেছো, যারা কিতাবের কিছু জ্ঞান পাওয়ার পরেও ভিত্তিহীন তন্ত্রমন্ত্র ও নানা কুসংস্কারে জড়িয়েছে এবং তাগুতকে মেনে নিয়েছে? ওরাই আবার কাফেরদের বলে আসলে মুসলমানদের চাইতে তোমরাই অধিক সত্যপথে রয়েছো।
اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ لَعَنَهُمُ اللّٰهُ ؕ وَمَنْ یَّلْعَنِ اللّٰهُ فَلَنْ تَجِدَ لَهٗ نَصِیْرًاؕ 52
52. ওদের উপর আল্লাহর লানত। আর জেনে রেখো, আল্লাহ যাকে লানত দেন, তাকে উদ্ধার করার জন্য কোনো সাহায্যকারী খুঁজে পাবে না।
اَمْ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّنَ الْمُلْكِ فَاِذًا لَّا یُؤْتُوْنَ النَّاسَ نَقِیْرًاۙ 53
53. নাকি ওরা মহাবিশ্ব পরিচালনায় নিজেদের জন্য কোনো অংশ আছে বলে মনে করে? যদি ওরা এ ক্ষমতা পায়, তবে সাধারণ জনগনকে এক কানাকড়িও দিতে চাইবে না।
اَمْ یَحْسُدُوْنَ النَّاسَ عَلٰی مَاۤ اٰتٰىهُمُ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِهٖ ۚ فَقَدْ اٰتَیْنَاۤ اٰلَ اِبْرٰهِیْمَ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَاٰتَیْنٰهُمْ مُّلْكًا عَظِیْمًا 54
54. ওরা কি এখন এ কারণেই হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরছে যে, আল্লাহ ওদেরকে বাদ দিয়ে অন্যদেরকে তাঁর অনুগ্রহ দান করেছেন? অথচ এর আগেতো আমি ইবরাহিমের সন্তানদের কিতাব ও হেকমত দান করেছিলাম। এমনকি, তাদেরকে বিরাট বিরাট রাজত্বও দিয়েছিলাম।
فَمِنْهُمْ مَّنْ اٰمَنَ بِهٖ وَ مِنْهُمْ مَّنْ صَدَّ عَنْهُ ؕ وَ كَفٰی بِجَهَنَّمَ سَعِیْرًا 55
55. অতঃপর তাদের কিছুলোক এসব বিষয়ে ঈমান আনলো এবং কিছুলোক তা অমান্য করে চললো। শুনে রেখো, অপরাধীদের পোড়ানোর জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট।
اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِاٰیٰتِنَا سَوْفَ نُصْلِیْهِمْ نَارًا ؕ كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُوْدُهُمْ بَدَّلْنٰهُمْ جُلُوْدًا غَیْرَهَا لِیَذُوْقُوا الْعَذَابَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَزِیْزًا حَكِیْمًا 56
56. ওরা জেনে রাখুক, যারা আমার আয়াতগুলো অস্বীকার করে চলছে, অতিশীঘ্রই আমি ওদের জাহান্নামের আগুনে পুড়িয়ে ছাড়বো। আগুনে ওদের গায়ের চামড়া একবার পুড়ে ছারখার হওয়ার সাথেসাথেই নতুন চামড়া লাগিয়ে দেবো। এভাবে চলতেই থাকবে, যাতে ওরা ভালোভাবে আযাব টের পায়। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, মহান কৌশলী।
وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًا ؕ لَهُمْ فِیْهَاۤ اَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ ؗ وَّنُدْخِلُهُمْ ظِلًّا ظَلِیْلًا 57
57. অপরদিকে যারা আমার আয়াতগুলোকে মেনে নেবে এবং এর আলোকে সৎকাজ করে যাবে, অচিরেই তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। সেখানে তারা চিরস্নিগ্ধ ছায়ায় পবিত্র সঙ্গী-সঙ্গিনী নিয়ে চিরস্থায়ী হবে। আর তাদের পাশ দিয়েই প্রবাহিত হবে বহমান ঝর্নাধারা।
اِنَّ اللّٰهَ یَاْمُرُكُمْ اَنْ تُؤَدُّوا الْاَمٰنٰتِ اِلٰۤی اَهْلِهَا ۙ وَاِذَا حَكَمْتُمْ بَیْنَ النَّاسِ اَنْ تَحْكُمُوْا بِالْعَدْلِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ نِعِمَّا یَعِظُكُمْ بِهٖ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ سَمِیْعًۢا بَصِیْرًا 58
58. মুসলমানেরা, আল্লাহ তোমাদেরকে কঠোরভাবে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, সকল আমানত তার যথাযথ পাওনাদারের কাছে পৌঁছে দেবে। আর যখন লোকদের মধ্যে বিচার ফয়সালা করবে, তখন অবশ্যই ন্যায় বিচার করবে। আল্লাহ সবসময় তোমাদেরকে উত্তম উপদেশ দেন। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَطِیْعُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ وَاُولِی الْاَمْرِ مِنْكُمْ ۚ فَاِنْ تَنَازَعْتُمْ فِیْ شَیْءٍ فَرُدُّوْهُ اِلَی اللّٰهِ وَالرَّسُوْلِ اِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَالْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ ذٰلِكَ خَیْرٌ وَّاَحْسَنُ تَاْوِیْلًا۠ 59
59. হে ঈমানদারেরা, সর্বদা আল্লাহ এবং তাঁর রসুলের পূর্ণ অনুগত থাকো। আর ন্যায়পন্থায় অনুগত থাকো তোমাদের অভিভাবক-দায়িত্বশীল লোকদের। এরপর তোমাদের মধ্যে যদি কোনো ব্যাপারে বিরোধ দেখা দেয়; তবে সে ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের ফয়সালা মেনে নাও। যদি তোমরা সত্যিকারার্থেই আল্লাহ ও পরকালের উপর ঈমান রাখো, তবে জেনে রেখো, এটাই একমাত্র সঠিক কর্মপদ্ধতি এবং এর ফলাফলও সবচেয়ে ভালো।
اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْنَ یَزْعُمُوْنَ اَنَّهُمْ اٰمَنُوْا بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْكَ وَ مَاۤ اُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ یُرِیْدُوْنَ اَنْ یَّتَحَاكَمُوْۤا اِلَی الطَّاغُوْتِ وَقَدْ اُمِرُوْۤا اَنْ یَّكْفُرُوْا بِهٖ ؕ وَیُرِیْدُ الشَّیْطٰنُ اَنْ یُّضِلَّهُمْ ضَلٰلًۢا بَعِیْدًا 60
60. হে মুসলমানেরা, তোমরা কি ঐসব লোকদের দেখতে পাচ্ছো না, যারা মুখে মুখে দাবি করে, আমরা তোমাদের কিতাবকে মানি এবং তোমাদের আগের কিতাবগুলোও মানি; কিন্তু নিজেদের মধ্যকার বিরোধ ফয়সালার জন্যে ওরা তাগুতের স্মরণাপন্ন হয়? অথচ এসব তাগুতকে অস্বীকার করার জন্য ওদেরকে বারবার হুকুম দেয়া হয়েছে। শোনো, আসল সত্য হলো শয়তান ওদেরকে পথভ্রষ্ট করে বহুদূর নিয়ে যেতে চাচ্ছে।
وَاِذَا قِیْلَ لَهُمْ تَعَالَوْا اِلٰی مَاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ وَاِلَی الرَّسُوْلِ رَاَیْتَ الْمُنٰفِقِیْنَ یَصُدُّوْنَ عَنْكَ صُدُوْدًاۚ 61
61. হে নবী, মুনাফিকদের আচরণ দেখো, যখন ওদের বলা হয় বিচার-ফয়সালার জন্য আল্লাহর নাযিল করা বিধি-বিধান ও রসুলের কাছে আসো, তখন ওরা তোমাকে চুপিচুপি পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চায়।
فَكَیْفَ اِذَاۤ اَصَابَتْهُمْ مُّصِیْبَةٌۢ بِمَا قَدَّمَتْ اَیْدِیْهِمْ ثُمَّ جَآءُوْكَ یَحْلِفُوْنَ ۖۗ بِاللّٰهِ اِنْ اَرَدْنَاۤ اِلَّاۤ اِحْسَانًا وَّتَوْفِیْقًا 62
62. দেখো! যখন ওরা নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে বিপদে পড়ে, তখন সাহায্যের জন্যে তোমাদের কাছেই ছুটে আসে। এরপর আল্লাহর নামে বারবার শপথ করে বলতে থাকে, আমরাতো কেবল তাদের ভালো চেয়েছিলাম। লোকেরা মিলেমিশে থাকুক সামান্য এটুকুই করতে গিয়েছিলাম।
اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ یَعْلَمُ اللّٰهُ مَا فِیْ قُلُوْبِهِمْ ۗ فَاَعْرِضْ عَنْهُمْ وَ عِظْهُمْ وَقُلْ لَّهُمْ فِیْۤ اَنْفُسِهِمْ قَوْلًۢا بَلِیْغًا 63
63. আল্লাহ এ মুনাফিকদের মনের গোপন কথা ভালোভাবেই জানেন। সুতরাং তুমি ওদের ব্যাপারে এড়িয়ে যাবার নীতি অবলম্বন করো। ওদেরকে উপদেশ দাও এবং এমনভাবে বুঝাও, যেনো ওদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
وَمَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا لِیُطَاعَ بِاِذْنِ اللّٰهِ ؕ وَلَوْ اَنَّهُمْ اِذْ ظَّلَمُوْۤا اَنْفُسَهُمْ جَآءُوْكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللّٰهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُوْلُ لَوَجَدُوا اللّٰهَ تَوَّابًا رَّحِیْمًا 64
64. বস্তুত আল্লাহ এ জন্যই রসুল পাঠান, যাতে লোকেরা তাঁর হুকুমে এ রসুলের অনুগত হয়ে চলে। কাজেই হে নবী, যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছে, ওরা যদি তোমার কাছে আসতো এবং নিজেদের পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতো, আর তুমিও যদি ওদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে, তবে ওরা আল্লাহকে বড়ই ক্ষমাশীল এবং মেহেরবান হিসেবে পেতো।
فَلَا وَ رَبِّكَ لَا یُؤْمِنُوْنَ حَتّٰی یُحَكِّمُوْكَ فِیْمَا شَجَرَ بَیْنَهُمْ ثُمَّ لَا یَجِدُوْا فِیْۤ اَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَیْتَ وَ یُسَلِّمُوْا تَسْلِیْمًا 65
65. কিন্তু কখনো নয় হে নবী, তোমার প্রভুর নামে শপথ করে বলি, ওরা যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের বিরোধ ফয়সালাকারী হিসেবে তোমাকে মেনে না নেবে এবং তোমার সিদ্ধান্ত দ্বিধাহীনচিত্তে মন থেকে না মানবে, ততক্ষণ ওরা কোনোভাবেই সত্যিকার ঈমানদার হতে পারবে না।
وَلَوْ اَنَّا كَتَبْنَا عَلَیْهِمْ اَنِ اقْتُلُوْۤا اَنْفُسَكُمْ اَوِ اخْرُجُوْا مِنْ دِیَارِكُمْ مَّا فَعَلُوْهُ اِلَّا قَلِیْلٌ مِّنْهُمْ ؕ وَلَوْ اَنَّهُمْ فَعَلُوْا مَا یُوْعَظُوْنَ بِهٖ لَكَانَ خَیْرًا لَّهُمْ وَاَشَدَّ تَثْبِیْتًاۙ 66
66. ওদের প্রতি যদি এ হুকুম জারি করতাম যে, তোমরা নিজেরা নিজেদেরকে হত্যা করো, অথবা বলতাম নিজেদের ঘর বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাও; তবে নিশ্চিত ওদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া কেউ তা মানতো না। হায় আফসোস! ওদের যে উপদেশ দেয়া হয়, তা যদি ওরা মানতো, তবে তা ওদের জন্যে লাভজনকই হতো এবং ওদের দৃঢ়তা ও স্থিরচিত্তের প্রমাণও মিলতো।
وَّ اِذًا لَّاٰتَیْنٰهُمْ مِّنْ لَّدُنَّاۤ اَجْرًا عَظِیْمًاۙ 67
67. ওরা এমনটি করলে আমার নিজের থেকে ওদের বিরাট পুরস্কারও দিতাম।
وَّ لَهَدَیْنٰهُمْ صِرَاطًا مُّسْتَقِیْمًا 68
68. এমনকি, ওদেরকে সত্য-সরল পথেও চালাতাম।
وَمَنْ یُّطِعِ اللّٰهَ وَالرَّسُوْلَ فَاُولٰٓىِٕكَ مَعَ الَّذِیْنَ اَنْعَمَ اللّٰهُ عَلَیْهِمْ مِّنَ النَّبِیّٖنَ وَالصِّدِّیْقِیْنَ وَالشُّهَدَآءِ وَالصّٰلِحِیْنَ ۚ وَحَسُنَ اُولٰٓىِٕكَ رَفِیْقًاؕ 69
69. জেনে রেখো, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের নির্দেশ মেনে জীবন চালাবে, তারা নবী, সিদ্দিক, শহীদ এবং সৎকর্মশীল বান্দাদের মতো আল্লাহর অনুগ্রহভাজনদের সাথি হিসাবে গণ্য হবে। আহ! অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে তারা কতইনা উত্তম!
ذٰلِكَ الْفَضْلُ مِنَ اللّٰهِ ؕ وَكَفٰی بِاللّٰهِ عَلِیْمًا۠ 70
70. এমন সৌভাগ্য পাওয়া আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ ছাড়া আর কিছুই নয়। আর যথাযথ সত্য জানার জন্যে আল্লাহর জ্ঞানই যথেষ্ট।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا خُذُوْا حِذْرَكُمْ فَانْفِرُوْا ثُبَاتٍ اَوِ انْفِرُوْا جَمِیْعًا 71
71. হে ঈমানদারেরা, শত্রুর মোকাবেলায় তোমরা সবসময় প্রস্তুত থাকবে। এরপর ডাক এলেই হয় তোমরা ছোট-ছোট সেনাদলে ভাগ হয়ে বেরিয়ে পড়বে অথবা একসাথে বড় বাহিনী নিয়ে এগিয়ে যাবে।
وَ اِنَّ مِنْكُمْ لَمَنْ لَّیُبَطِّئَنَّ ۚ فَاِنْ اَصَابَتْكُمْ مُّصِیْبَةٌ قَالَ قَدْ اَنْعَمَ اللّٰهُ عَلَیَّ اِذْ لَمْ اَكُنْ مَّعَهُمْ شَهِیْدًا 72
72. আর হ্যাঁ, সাবধান থেকো, তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোকও রয়েছে, যারা অভিযানে নামতে গড়িমসি করবে। এসব অভিযানে যদি তোমাদের উপর কোনো বিপদ হয়, তখন ওরা মুখে হাসি টেনে বলে যাক! আল্লাহ দয়া করে আমাদের বাঁচিয়েছেন, আমরা তাদের সাথে যাইনি।
وَلَىِٕنْ اَصَابَكُمْ فَضْلٌ مِّنَ اللّٰهِ لَیَقُوْلَنَّ كَاَنْ لَّمْ تَكُنْۢ بَیْنَكُمْ وَبَیْنَهٗ مَوَدَّةٌ یّٰلَیْتَنِیْ كُنْتُ مَعَهُمْ فَاَفُوْزَ فَوْزًا عَظِیْمًا 73
73. আর যদি এসব অভিযানে তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করো, তবে ওরা এমনভাবে কথা বলবে, মনে হবে তোমাদের সাথে ওদের কোনো বন্ধুত্বই ছিলো না। ওরা তখন দীর্ঘশ্বাস টেনে বলবে, হায় আফসোস! যদি তাদের সাথে অভিযানে যেতাম, তবে আজ আমরাও বিরাট সাফল্য পেতাম।
فَلْیُقَاتِلْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ الَّذِیْنَ یَشْرُوْنَ الْحَیٰوةَ الدُّنْیَا بِالْاٰخِرَةِ ؕ وَمَنْ یُّقَاتِلْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ فَیُقْتَلْ اَوْ یَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِیْهِ اَجْرًا عَظِیْمًا 74
74. ওদের জানা উচিত, আল্লাহর পথে যুদ্ধে নামা মানেই আখেরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে বিক্রি করে দেয়া। সুতরাং এভাবে যারা আল্লাহর পথে লড়বে এবং নিজেরা শহীদ হয়ে যাক কিংবা বিজয়ী হয়ে ফিরে আসুক এর কোনো পরোয়া করবে না, তাদেরকে অবশ্যই আমি মহাপুরস্কার দান করবো।
وَ مَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ الْمُسْتَضْعَفِیْنَ مِنَ الرِّجَالِ وَ النِّسَآءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِیْنَ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اَخْرِجْنَا مِنْ هٰذِهِ الْقَرْیَةِ الظَّالِمِ اَهْلُهَا ۚ وَ اجْعَلْ لَّنَا مِنْ لَّدُنْكَ وَلِیًّا ۙۚ وَّ اجْعَلْ لَّنَا مِنْ لَّدُنْكَ نَصِیْرًاؕ 75
75. হে মুসলমানেরা, তোমাদের কি হলো, তোমরা কি আল্লাহর পথে এসব অসহায় মজলুম নারী-পুরুষ ও শিশুদের মুক্তির জন্যে লড়বে না? অথচ তারা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে বলছে, হে আমাদের রব, এসব জালেমদের জুলুমের এলাকা থেকে আমাদের উদ্ধার করো। তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে অভিভাবক পাঠাও, আমাদের জন্যে সাহায্যকারী পাঠাও।
اَلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ۚ وَالَّذِیْنَ كَفَرُوْا یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ الطَّاغُوْتِ فَقَاتِلُوْۤا اَوْلِیَآءَ الشَّیْطٰنِ ۚ اِنَّ كَیْدَ الشَّیْطٰنِ كَانَ ضَعِیْفًا۠ 76
76. সুতরাং তোমরা যারা ঈমান এনেছো, তোমাদের লড়াই আল্লাহর পথে। আর তোমাদের দুশমন কাফেরেরা লড়ছে তাগুতের পথে। কাজেই এসব শয়তানের সহযোগীদের বিরুদ্ধে তীব্রভাবে লড়াই চালিয়ে যাও। জেনে রেখো, শয়তানের কর্মকৌশল আসলেই দুর্বল।
اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْنَ قِیْلَ لَهُمْ كُفُّوْۤا اَیْدِیَكُمْ وَاَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتُوا الزَّكٰوةَ ۚ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَیْهِمُ الْقِتَالُ اِذَا فَرِیْقٌ مِّنْهُمْ یَخْشَوْنَ النَّاسَ كَخَشْیَةِ اللّٰهِ اَوْ اَشَدَّ خَشْیَةً ۚ وَقَالُوْا رَبَّنَا لِمَ كَتَبْتَ عَلَیْنَا الْقِتَالَ ۚ لَوْ لَاۤ اَخَّرْتَنَاۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیْبٍ ؕ قُلْ مَتَاعُ الدُّنْیَا قَلِیْلٌ ۚ وَالْاٰخِرَةُ خَیْرٌ لِّمَنِ اتَّقٰی ۫ وَلَا تُظْلَمُوْنَ فَتِیْلًا 77
77. তোমরা কি সেসব লোকের অবস্থা খেয়াল করেছো, যাদেরকে প্রথমে বলা হয়েছিল, তোমরা এখনই লড়াই করতে যেয়ো না; বরং এখন নামাজ কয়েম করে চলো এবং যাকাত আদায় করতে থাকো? কিন্তু এখন যুদ্ধের বিধান দেয়ায় ওদের একদল লোক তাদের দুশমনকে আল্লাহকে ভয় করার মতো ভয় করছে। ক্ষেত্রবিশেষ তার চেয়েও বেশি ভয় করছে। এখন ওরা আক্ষেপের সুরে বলছে, হে আমাদের রব, তুমি এখনই কেন আমাদেরকে যুদ্ধের জন্যে হুকুম করলে? আমাদেরকে আরো কয়েকটা দিন সময় দিলে না কেন? ওদের স্মরণ করিয়ে দাও, দুনিয়ার জীবন ও সম্পদ খুবই সামান্য বিষয়। আর একজন খোদাভীরু বান্দার জন্যে দুনিয়ার চেয়ে আখেরাতের জীবনই উত্তম। কেননা সেখানে তোমাদের উপর সামান্য জুলুমও করা হবে না।
اَیْنَ مَا تَكُوْنُوْا یُدْرِكْكُّمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِیْ بُرُوْجٍ مُّشَیَّدَةٍ ؕ وَاِنْ تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ یَّقُوْلُوْا هٰذِهٖ مِنْ عِنْدِ اللّٰهِ ۚ وَ اِنْ تُصِبْهُمْ سَیِّئَةٌ یَّقُوْلُوْا هٰذِهٖ مِنْ عِنْدِكَ ؕ قُلْ كُلٌّ مِّنْ عِنْدِ اللّٰهِ ؕ فَمَالِ هٰۤؤُلَآءِ الْقَوْمِ لَا یَكَادُوْنَ یَفْقَهُوْنَ حَدِیْثًا 78
78. জেনে রেখো, তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই। এমনকি, সুউচ্চ মজবুত দূর্গে লুকালেও তার হাত থেকে বাঁচতে পারবে না। হে নবী, অবস্থা এমন হয়েছে যে, ওরা কোনো কল্যাণ পেলে বলে, এসব আল্লাহ দিয়েছেন। অন্যদিকে কোনো বিপদে পড়লে সাথেসাথেই তোমাকে অভিযুক্ত করে বলে তোমার কারণেই বিপদে পড়েছি। ওদের সাফসাফ বলে দাও, ভালো ও খারাপ সবই আল্লাহ দিয়ে থাকেন। হায়! এ কওমের লোকদের কি হলো, কোনো কথাইতো ওরা বোঝার চেষ্টা করছে না?
مَاۤ اَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللّٰهِ ؗ وَمَاۤ اَصَابَكَ مِنْ سَیِّئَةٍ فَمِنْ نَّفْسِكَ ؕ وَاَرْسَلْنٰكَ لِلنَّاسِ رَسُوْلًا ؕ وَكَفٰی بِاللّٰهِ شَهِیْدًا 79
79. হে লোকেরা, আসল সত্য হচ্ছে, তোমরা যে কল্যাণই লাভ করো না কেন, তা আল্লাহর দান। কিন্তু তোমাদের যে অকল্যাণ হয়, তার জন্য তোমাদের কর্মই দায়ী। হে নবী, তোমাকে দুনিয়ার সব মানুষের কাছে আমার রসুল হিসেবে পাঠিয়েছি। আর এ ব্যাপারে আমি আল্লাহর সাক্ষ্যই তোমার জন্য যথেষ্ট।
مَنْ یُّطِعِ الرَّسُوْلَ فَقَدْ اَطَاعَ اللّٰهَ ۚ وَمَنْ تَوَلّٰی فَمَاۤ اَرْسَلْنٰكَ عَلَیْهِمْ حَفِیْظًاؕ 80
80. লোকেরা জেনে রাখুক, যারা এ রসুলের অনুগত হচ্ছে, তারা প্রকারান্তে আল্লাহরই অনুগত হচ্ছে। হে নবী, এরপরেও যারা তোমার থেক মুখ ফিরিয়ে নেবে, তবে ফিরিয়ে নিক; ওদের উপর তোমাকে পাহারাদার বানাইনি।
وَیَقُوْلُوْنَ طَاعَةٌ ؗ فَاِذَا بَرَزُوْا مِنْ عِنْدِكَ بَیَّتَ طَآىِٕفَةٌ مِّنْهُمْ غَیْرَ الَّذِیْ تَقُوْلُ ؕ وَاللّٰهُ یَكْتُبُ مَا یُبَیِّتُوْنَ ۚ فَاَعْرِضْ عَنْهُمْ وَتَوَكَّلْ عَلَی اللّٰهِ ؕ وَكَفٰی بِاللّٰهِ وَكِیْلًا 81
81. নবী হে, ওরা মুখেমুখে বলে, আমরা তোমার সব কথাই মেনে নিয়েছি। কিন্তু ওদের অনেকেই তোমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রাতের নির্জনে সলা-পরামর্শে বসে এবং তোমার নির্দেশনার বিরুদ্ধে নানা কুট কৌশল করে। নিশ্চিত থাকো, আল্লাহ ওদের সব কলাকৌশল লিখে রাখছেন। সুতরাং ওদের নিয়ে দুশ্চিন্তা করো না; বরং আল্লাহর উপর ভরসা করে কাজ করে যাও। ভরসা করার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
اَفَلَا یَتَدَبَّرُوْنَ الْقُرْاٰنَ ؕ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَیْرِ اللّٰهِ لَوَجَدُوْا فِیْهِ اخْتِلَافًا كَثِیْرًا 82
82. ওরা কি আসলেই কুরআনের ব্যাপারটি নিয়ে ভালোভাবে চিন্তুাভাবনা করে দেখেনি? এটা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে আসতো, তবে এর মধ্যে ওরা নানা ধরনের অসঙ্গতি খুঁজে পেতো।
وَاِذَا جَآءَهُمْ اَمْرٌ مِّنَ الْاَمْنِ اَوِ الْخَوْفِ اَذَاعُوْا بِهٖ ؕ وَ لَوْ رَدُّوْهُ اِلَی الرَّسُوْلِ وَ اِلٰۤی اُولِی الْاَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِیْنَ یَسْتَنْۢبِطُوْنَهٗ مِنْهُمْ ؕ وَ لَوْ لَا فَضْلُ اللّٰهِ عَلَیْكُمْ وَ رَحْمَتُهٗ لَاتَّبَعْتُمُ الشَّیْطٰنَ اِلَّا قَلِیْلًا 83
83. ওদের কেউ কেউ কোনো খুশির খবর বা বিপদের খবর শুনতে পেলে, যাচাই-বাছাই ছাড়াই সাধারণ লোকদের মধ্যে গুজবের আকারে ছড়িয়ে দেয়। অথচ এ খবরটা জনসাধারণের কাছে বলার আগে রসুল বা দায়িত্বশীল পর্যায়ের কাউকে বলা উচিত ছিল। ফলে জ্ঞানীরা এ খবরের সত্য-মিথ্যা যাচাই করে নিতে পারতো। আসলে তোমাদের উপর আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ না থাকলে, হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া তোমাদের সবাই শয়তানের পথেই হাঁটতে।
فَقَاتِلْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ۚ لَا تُكَلَّفُ اِلَّا نَفْسَكَ وَحَرِّضِ الْمُؤْمِنِیْنَ ۚ عَسَی اللّٰهُ اَنْ یَّكُفَّ بَاْسَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا ؕ وَاللّٰهُ اَشَدُّ بَاْسًا وَّاَشَدُّ تَنْكِیْلًا 84
84. কাজেই হে নবী, আল্লাহর পথে যুদ্ধে নামো। তুমি শুধু তোমার নিজের জন্যই দায়ী থাকবে। তবে অবশ্যই ঈমানদারদেরকে যুদ্ধে লড়তে উদ্বুদ্ধ করবে। হয়ত আল্লাহ শীঘ্রই কাফেরদের শক্তি খর্ব করে দেবেন। আসলে আল্লাহ প্রবল শক্তির অধিকারী এবং শাস্তিদানে ভয়ানক কঠোর।
مَنْ یَّشْفَعْ شَفَاعَةً حَسَنَةً یَّكُنْ لَّهٗ نَصِیْبٌ مِّنْهَا ۚ وَمَنْ یَّشْفَعْ شَفَاعَةً سَیِّئَةً یَّكُنْ لَّهٗ كِفْلٌ مِّنْهَا ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ مُّقِیْتًا 85
85. যে ব্যক্তি কাউকে ভালোকাজে উদ্বুদ্ধ করে, সে অবশ্যই তার কল্যাণের ভাগীদার হবে। আর যে খারাপ কাজে কাউকে প্ররোচিত করে, সেও সে পাপের ভাগী হবে। কেননা আল্লাহ সবার সবকিছুর উপর পূর্ণ নজর রাখেন।
وَاِذَا حُیِّیْتُمْ بِتَحِیَّةٍ فَحَیُّوْا بِاَحْسَنَ مِنْهَاۤ اَوْ رُدُّوْهَا ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ حَسِیْبًا 86
86. হে ঈমানদারেরা, যখন কেউ মর্যাদার সাথে তোমাদের অভিবাদন জানায়, তখন তাকে তার চেয়ে ভালো পদ্ধতিতে জবাব দাও। অন্তত তার মতো করে হলেও জবাব ফিরিয়ে দাও। মনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের সব বিষয়ে হিসাব গ্রহণ করবেন।
اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؕ لَیَجْمَعَنَّكُمْ اِلٰی یَوْمِ الْقِیٰمَةِ لَا رَیْبَ فِیْهِ ؕ وَمَنْ اَصْدَقُ مِنَ اللّٰهِ حَدِیْثًا۠ 87
87. আল্লাহ ছাড়া ভিন্ন কোনো ইলাহ নেই। তিনি তোমাদের সবাইকে কেয়ামাতের দিন হাজির করবেন। আর হ্যাঁ, কেয়ামত অবশ্যই ঘটবে। আচ্ছা! তোমরাই বলো, আল্লাহর চেয়ে আর কে বেশি সত্য বলতে পারে?
فَمَا لَكُمْ فِی الْمُنٰفِقِیْنَ فِئَتَیْنِ وَاللّٰهُ اَرْكَسَهُمْ بِمَا كَسَبُوْا ؕ اَتُرِیْدُوْنَ اَنْ تَهْدُوْا مَنْ اَضَلَّ اللّٰهُ ؕ وَمَنْ یُّضْلِلِ اللّٰهُ فَلَنْ تَجِدَ لَهٗ سَبِیْلًا 88
88. হে মুসলমানেরা, তোমাদের কী হলো! মুনাফিকদের ব্যাপারে তোমরা দুই দলে বিভক্ত হচ্ছো কেন? অথচ ওদের অপকর্মের কারণেই আল্লাহ ওদেরকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন, তোমরা কি তাকে জোর করে হেদায়েত দিতে চাও? তবে জেনে রেখো, যাকে আল্লাহ গোমরাহ করেন, তার জন্য কোনো রাস্তাই খোলা পাবে না।
وَدُّوْا لَوْ تَكْفُرُوْنَ كَمَا كَفَرُوْا فَتَكُوْنُوْنَ سَوَآءً فَلَا تَتَّخِذُوْا مِنْهُمْ اَوْلِیَآءَ حَتّٰی یُهَاجِرُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ؕ فَاِنْ تَوَلَّوْا فَخُذُوْهُمْ وَاقْتُلُوْهُمْ حَیْثُ وَجَدْتُّمُوْهُمْ ۪ وَلَا تَتَّخِذُوْا مِنْهُمْ وَلِیًّا وَّلَا نَصِیْرًاۙ 89
89. দেখো, ওরাতো মনে-প্রাণে এটাই চাচ্ছে যে, তোমরাও ওদের মতো সত্যের পথ ছেড়ে দাও, যাতে তোমরা ওদের সমান হয়ে যাও। কাজেই সাবধান থেকো, ওরা আল্লাহর পথে হিজরত করে তোমাদের কাছে না আসলে, ওদের কাউকেই আপন বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে না। আর হ্যাঁ, ওরা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে ওদেরকে পাকড়াও করো এবং লড়াইয়ের ময়দানে যেখানে পাও হত্যা করো। আবারও সতর্ক করছি, ওদের কাউকে কখনো নিজের বন্ধু বা সাহায্যকারী বানাবে না।
اِلَّا الَّذِیْنَ یَصِلُوْنَ اِلٰی قَوْمٍۭ بَیْنَكُمْ وَبَیْنَهُمْ مِّیْثَاقٌ اَوْ جَآءُوْكُمْ حَصِرَتْ صُدُوْرُهُمْ اَنْ یُّقَاتِلُوْكُمْ اَوْ یُقَاتِلُوْا قَوْمَهُمْ ؕ وَلَوْ شَآءَ اللّٰهُ لَسَلَّطَهُمْ عَلَیْكُمْ فَلَقٰتَلُوْكُمْ ۚ فَاِنِ اعْتَزَلُوْكُمْ فَلَمْ یُقَاتِلُوْكُمْ وَاَلْقَوْا اِلَیْكُمُ السَّلَمَ ۙ فَمَا جَعَلَ اللّٰهُ لَكُمْ عَلَیْهِمْ سَبِیْلًا 90
90. তবে সেসব লোকেরা এ নির্দেশের আওতামুক্ত, যারা তোমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ কোনো গোত্রের সাথে মিলিত হয়েছে কিংবা তোমাদের কাছে এমনভাবে এসেছে, যখন ওরা না তোমাদের বিরুদ্ধে আর না তাদের গোত্রের বিরুদ্ধে লড়তে চায়। মনে রেখো, আল্লাহ চাইলে তোমাদের উপর ওদেরকে শক্তিশালী করতে পারতেন। ফলে ওরা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়তেও আসতো। কাজেই এখন ওরা যদি তোমাদের পথে বাধা না হয়, নিজেরা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকে এবং তোমাদের কাছে শান্তি প্রস্তাব দেয়, তবে আল্লাহ ওদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে আর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি দেবেন না।
سَتَجِدُوْنَ اٰخَرِیْنَ یُرِیْدُوْنَ اَنْ یَّاْمَنُوْكُمْ وَ یَاْمَنُوْا قَوْمَهُمْ ؕ كُلَّمَا رُدُّوْۤا اِلَی الْفِتْنَةِ اُرْكِسُوْا فِیْهَا ۚ فَاِنْ لَّمْ یَعْتَزِلُوْكُمْ وَیُلْقُوْۤا اِلَیْكُمُ السَّلَمَ وَیَكُفُّوْۤا اَیْدِیَهُمْ فَخُذُوْهُمْ وَاقْتُلُوْهُمْ حَیْثُ ثَقِفْتُمُوْهُمْ ؕ وَاُولٰٓىِٕكُمْ جَعَلْنَا لَكُمْ عَلَیْهِمْ سُلْطٰنًا مُّبِیْنًا۠ 91
91. তবে অচিরেই তোমরা এমন কিছু মুনাফিকের সাক্ষাত পাবে, যারা তোমাদের কাছে এবং আপন গোত্রের কাছে নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে নেবে। কিন্তু যখনই তোমাদের বিরুদ্ধে সামান্য ফিতনা ছড়ানোর সুযোগ পাবে, ওরা সাথেসাথেই তাতে ঝাঁপিয়ে পড়বে। অতএব যদি এসব মুনাফিকেরা তোমাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং তোমাদের সাথে শান্তি চুক্তি না করে; বরং তোমাদের বিরুদ্ধে লড়তে চায়, তবে ওদেরকে কঠিনভাবে পাকড়াও করো এবং লড়াইয়ের ময়দানে যেখানেই পাও হত্যা করো। ওদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে তোমাদের সুস্পষ্ট অধিকার দেয়া হলো।
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ اَنْ یَّقْتُلَ مُؤْمِنًا اِلَّا خَطَـًٔا ۚ وَمَنْ قَتَلَ مُؤْمِنًا خَطَـًٔا فَتَحْرِیْرُ رَقَبَةٍ مُّؤْمِنَةٍ وَّدِیَةٌ مُّسَلَّمَةٌ اِلٰۤی اَهْلِهٖۤ اِلَّاۤ اَنْ یَّصَّدَّقُوْا ؕ فَاِنْ كَانَ مِنْ قَوْمٍ عَدُوٍّ لَّكُمْ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَتَحْرِیْرُ رَقَبَةٍ مُّؤْمِنَةٍ ؕ وَاِنْ كَانَ مِنْ قَوْمٍۭ بَیْنَكُمْ وَ بَیْنَهُمْ مِّیْثَاقٌ فَدِیَةٌ مُّسَلَّمَةٌ اِلٰۤی اَهْلِهٖ وَتَحْرِیْرُ رَقَبَةٍ مُّؤْمِنَةٍ ۚ فَمَنْ لَّمْ یَجِدْ فَصِیَامُ شَهْرَیْنِ مُتَتَابِعَیْنِ ؗ تَوْبَةً مِّنَ اللّٰهِ ؕ وَكَانَ اللّٰهُ عَلِیْمًا حَكِیْمًا 92
92. কিন্তু মনে রেখো, একজন মুমিনের কাজ নয় আরেকজন মুমিনকে হত্যা করা। তবে ভুলবশত হলে ভিন্ন কথা। কিন্তু এভাবে ভুলবশত হত্যা করে বসলে, অবশ্যই হত্যাকারী কাফ্ফারা হিসেবে একজন মুমিন কৃতদাসকে মুক্ত করবে এবং নিহতের পরিবারকে রক্তপণ আদায় করবে। তবে পরিবারের লোকেরা রক্তপণ মাফ করলে ভিন্ন কথা। আর এ নিহত মুমিন লোকটি যদি তোমাদের কোনো দুশমন কাফের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে সেক্ষেত্রে কেবল একজন মুমিন কৃতদাস মুক্ত করলেই চলবে। কিন্তু সে যদি তোমাদের চুক্তিবদ্ধ কোনো সম্প্রদায়ের হয়, তবে একজন মুমিন কৃতদাস মুক্ত করার পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে মুক্তিপণও দিতে হবে। আর যে ব্যক্তি মুক্ত করার জন্যে কোনো গোলাম পাবে না, সে একটানা দু’মাস রোজা রাখবে। এটিই হলো এসব গোনাহের ব্যাপারে তওবা করার আল্লাহর দেয়া পদ্ধতি। আসলে আল্লাহ মহাজ্ঞানী, মহাপ্রজ্ঞাময়।
وَمَنْ یَّقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهٗ جَهَنَّمُ خٰلِدًا فِیْهَا وَ غَضِبَ اللّٰهُ عَلَیْهِ وَ لَعَنَهٗ وَ اَعَدَّ لَهٗ عَذَابًا عَظِیْمًا 93
93. তবে তোমাদের কেউ যদি জেনে বুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তবে তার পরিণাম অবশ্যই জাহান্নাম। সেখানে সে চিরদিন থাকবে। ওদের উপর আল্লাহর ক্রোধ পড়–ক। আল্লাহর অভিশাপ নামুক। জেনে রেখো, এসব পাপীদের জন্য আল্লাহ কঠিন শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِذَا ضَرَبْتُمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ فَتَبَیَّنُوْا وَلَا تَقُوْلُوْا لِمَنْ اَلْقٰۤی اِلَیْكُمُ السَّلٰمَ لَسْتَ مُؤْمِنًا ۚ تَبْتَغُوْنَ عَرَضَ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ؗ فَعِنْدَ اللّٰهِ مَغَانِمُ كَثِیْرَةٌ ؕ كَذٰلِكَ كُنْتُمْ مِّنْ قَبْلُ فَمَنَّ اللّٰهُ عَلَیْكُمْ فَتَبَیَّنُوْا ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرًا 94
94. হে ঈমানদারেরা, তোমরা আল্লাহর পথে অভিযান পরিচালনার সময় শত্রু-মিত্র যাচাই করে নেবে। এ সময় যদি কোনো ব্যক্তি সালামের মাধ্যমে তোমাদের দিকে এগিয়ে আসে, তবে সাথেসাথেই তাকে বলে দিও না তুমি তো মুমিন নও। যদি তোমরা পার্থিব ধন-সম্পত্তি পেতে চাও, তবে জেনে রাখো, আল্লাহর কাছে প্রচুর গনিমতের মাল রয়েছে। এর আগে তোমরা নিজেরাও তো ওদের মতো ছিলে। ভুলে যেয়ো না, আল্লাহ দয়া করে তোমাদেরকে আজকের এ অবস্থানে এনেছেন। সুতরাং লোকদেরকে যাচাই-বাচাই করে পদক্ষেপ গ্রহণ করো। আর মনে রেখো, তোমরা যা কিছু করছো, আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণ খবর রাখেন।
لَا یَسْتَوِی الْقٰعِدُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ غَیْرُ اُولِی الضَّرَرِ وَالْمُجٰهِدُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ بِاَمْوَالِهِمْ وَاَنْفُسِهِمْ ؕ فَضَّلَ اللّٰهُ الْمُجٰهِدِیْنَ بِاَمْوَالِهِمْ وَ َنْفُسِهِمْ عَلَی الْقٰعِدِیْنَ دَرَجَةً ؕ وَ كُلًّا وَّعَدَ اللّٰهُ الْحُسْنٰی ؕ وَفَضَّلَ اللّٰهُ الْمُجٰهِدِیْنَ عَلَی الْقٰعِدِیْنَ اَجْرًا عَظِیْمًاۙ 95
95. তোমরা ভালোভাবে জেনে রেখো, যারা সামর্থ থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর পথে বের হয় না, আর যারা আল্লাহর পথে জান-মাল দিয়ে লড়াই করে এ উভয়দল কখনোই সমান হতে পারে না। যারা ঘরে বসে থাকে, তাদের তুলনায় জান-মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের মর্যাদা ও সম্মান আল্লাহ বাড়িয়ে দিয়েছেন। যদিও এদের প্রত্যেককেই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা দিয়েছেন। তবুও এটা নিশ্চিত যে, আল্লাহর কাছে এসব মুজাহিদের কাজের প্রতিদান, ঘরে বসে থাকা মুমিনদের চেয়ে অনেক অনেক বেশি।
دَرَجٰتٍ مِّنْهُ وَمَغْفِرَةً وَّرَحْمَةً ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا۠ 96
96. এসব লড়াকু মুমিনের জন্যে রয়েছে আল্লাহর নিকট বিরাট মর্যাদা, ক্ষমা এবং অফুরন্ত দয়া। তাছাড়া আল্লাহতো বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই মেহেরবান।
اِنَّ الَّذِیْنَ تَوَفّٰىهُمُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ ظَالِمِیْۤ اَنْفُسِهِمْ قَالُوْا فِیْمَ كُنْتُمْ ؕ قَالُوْا كُنَّا مُسْتَضْعَفِیْنَ فِی الْاَرْضِ ؕ قَالُوْۤا اَلَمْ تَكُنْ اَرْضُ اللّٰهِ وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُوْا فِیْهَا ؕ فَاُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمْ جَهَنَّمُ ؕ وَسَآءَتْ مَصِیْرًاۙ 97
97. জেনে রেখো, যারা সামর্থ থাকার পরেও আল্লাহর দুশমনদের সাথে অবস্থান করে নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে, ফেরেশতারা ওদের জান কবজ করার সময় জিজ্ঞেস করে, তোমরা সেখানে কেমন অবস্থায় ছিলে? ওরা জবাব দেয়, আসলে আমরা আমাদের জনপদে খুবই দুর্বল ও অসহায় ছিলাম। ফেরেশতারা বলে, কেন! আল্লাহর জমিন কি প্রশস্ত ছিল না? তুমি হিজরত করে অন্য জায়গায় চলে গেলে না কেন? বস্তুত এসব জালেমের জন্য জাহান্নাম প্রস্তুত রয়েছে। আহ! সেটা কতই না খারাপ বাসস্থান!
اِلَّا الْمُسْتَضْعَفِیْنَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَآءِ وَالْوِلْدَانِ لَا یَسْتَطِیْعُوْنَ حِیْلَةً وَّلَا یَهْتَدُوْنَ سَبِیْلًاۙ 98
98. তবে যেসব নর-নারী ও শিশুরা আসলেই দুর্বল ছিলো যারা এভাবে থাকতে বাধ্য হয়েছে এবং চেষ্টা করেও কোনো পথ খুঁজে পায়নি, তাদের কথা আলাদা।
فَاُولٰٓىِٕكَ عَسَی اللّٰهُ اَنْ یَّعْفُوَ عَنْهُمْ ؕ وَكَانَ اللّٰهُ عَفُوًّا غَفُوْرًا 99
99. আশা করা যায়, আল্লাহ এসব অসহায় লোকদের মাফ করবেন। আল্লাহ বড়ই পাপমোচনকারী এবং ক্ষমাশীল।
وَمَنْ یُّهَاجِرْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ یَجِدْ فِی الْاَرْضِ مُرٰغَمًا كَثِیْرًا وَّسَعَةً ؕ وَمَنْ یَّخْرُجْ مِنْۢ بَیْتِهٖ مُهَاجِرًا اِلَی اللّٰهِ وَرَسُوْلِهٖ ثُمَّ یُدْرِكْهُ الْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ اَجْرُهٗ عَلَی اللّٰهِ ؕ وَكَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا۠ 100
100. আসলে যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে হিজরত করে বেরিয়ে পড়বে, সে পৃথিবীতে থাকার জন্যে বহু আশ্রয়স্থল খুঁজে পাবে। এমনকি, জীবনযাপনের প্রচুর উপকরণও পেয়ে যাবে। বস্তুত যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পথে ঘর থেকে মুহাজির হিসাবে বেরিয়ে আসে এবং এ পথে ঘুরতে ঘুরতেই এক সময় মারা যায়, তাদের পুরস্কার দেয়া আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যায়। আর আল্লাহতো অতি ক্ষমাশীল, অতি মেহেরবান।
وَاِذَا ضَرَبْتُمْ فِی الْاَرْضِ فَلَیْسَ عَلَیْكُمْ جُنَاحٌ اَنْ تَقْصُرُوْا مِنَ الصَّلٰوةِ ۖۗ اِنْ خِفْتُمْ اَنْ یَّفْتِنَكُمُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا ؕ اِنَّ الْكٰفِرِیْنَ كَانُوْا لَكُمْ عَدُوًّا مُّبِیْنًا 101
101. হে ঈমানদারেরা, যখন তোমরা দেশে-বিদেশে সফরে বের হও, তখন নামাজ কসর বা সংক্ষিপ্ত করে আদায় করলে কোনো ক্ষতি নেই। বিশেষ করে যখন তোমরা কাফেরদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করো, তখন এভাবে পড়বে। নিশ্চয়ই কাফেরেরা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
وَاِذَا كُنْتَ فِیْهِمْ فَاَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلٰوةَ فَلْتَقُمْ طَآىِٕفَةٌ مِّنْهُمْ مَّعَكَ وَلْیَاْخُذُوْۤا اَسْلِحَتَهُمْ ۫ فَاِذَا سَجَدُوْا فَلْیَكُوْنُوْا مِنْ وَّرَآىِٕكُمْ ۪ وَلْتَاْتِ طَآىِٕفَةٌ اُخْرٰی لَمْ یُصَلُّوْا فَلْیُصَلُّوْا مَعَكَ وَلْیَاْخُذُوْا حِذْرَهُمْ وَاَسْلِحَتَهُمْ ۚ وَدَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَوْ تَغْفُلُوْنَ عَنْ اَسْلِحَتِكُمْ وَ اَمْتِعَتِكُمْ فَیَمِیْلُوْنَ عَلَیْكُمْ مَّیْلَةً وَّاحِدَةً ؕ وَلَا جُنَاحَ عَلَیْكُمْ اِنْ كَانَ بِكُمْ اَذًی مِّنْ مَّطَرٍ اَوْ كُنْتُمْ مَّرْضٰۤی اَنْ تَضَعُوْۤا اَسْلِحَتَكُمْ ۚ وَخُذُوْا حِذْرَكُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ اَعَدَّ لِلْكٰفِرِیْنَ عَذَابًا مُّهِیْنًا 102
102. হে নবী, যখন তুমি যুদ্ধাভিযানকালে মুসলমানদেরকে সাথে নিয়ে নামাজে ইমামতি করবে, তখন তাদের একদল তোমার পিছনে নামাজে দাঁড়াবে। তারা এ সময় নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র সাথেই রাখবে এবং প্রথম রাকাতের সিজদা শেষ করে পিছনে চলে যাবে। অতঃপর অপর দলটি তোমার পিছনে এসে নামাজে দাঁড়াবে। আর তারাও আগের দলের মতো সতর্কতা অবলম্বন করবে এবং নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র নিজেদের সাথেই রাখবে। কারণ কাফেরেরা তো সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় আছে। তোমরা নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র ও রসদপত্র থেকে একটু বেখেয়াল হলেই, ওরা তোমাদের উপর অকস্মাৎ হামলা চালাবে। তবে যদি বৃষ্টির কারণে কষ্ট অনুভব করো কিংবা অসুস্থ থাকো, তবে অস্ত্র রেখে নামাজ পড়লে কোনো গুনাহ নেই। কিন্তু শত্রুর ব্যাপারে সবসময় সতর্ক থাকবে। আর মনে রাখবে, আল্লাহ কাফেরদের জন্যে বড় অপমানজনক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।
فَاِذَا قَضَیْتُمُ الصَّلٰوةَ فَاذْكُرُوا اللّٰهَ قِیٰمًا وَّقُعُوْدًا وَّعَلٰی جُنُوْبِكُمْ ۚ فَاِذَا اطْمَاْنَنْتُمْ فَاَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ ۚ اِنَّ الصَّلٰوةَ كَانَتْ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ كِتٰبًا مَّوْقُوْتًا 103
103. এভাবে নামাজ আদায় করার পরে আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া এককথায় র্সবাবস্থায়। এরপর যখন পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশ লাভ করবে, তখন তোমরা যথানিয়মে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করবে। কেননা নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করার বিধান মুমিনদের জন্যে লিখে দেয়া হয়েছে।
وَلَا تَهِنُوْا فِی ابْتِغَآءِ الْقَوْمِ ؕ اِنْ تَكُوْنُوْا تَاْلَمُوْنَ فَاِنَّهُمْ یَاْلَمُوْنَ كَمَا تَاْلَمُوْنَ ۚ وَتَرْجُوْنَ مِنَ اللّٰهِ مَا لَا یَرْجُوْنَ ؕ وَكَانَ اللّٰهُ عَلِیْمًا حَكِیْمًا۠ 104
104. আর তোমরা তোমাদের শত্রু বাহিনীর পিছনে ধাওয়া করার ব্যাপারে সামান্য শিথিলতাও দেখাইয়ো না। মনে রেখো, এ পথ তোমাদের জন্যে কষ্টকর হলেও, ওরাও কিন্তু তোমাদের মতো একই উদ্দেশ্যে কষ্ট করে যাচ্ছে। অথচ এ কষ্টের বিনিময়ে তোমরা আল্লাহর কাছে যা কিছু প্রত্যাশা করতে পারছো; ওরা কিন্তু তা পারছে না। আর আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং তিনি বড়ই কৌশলী।
اِنَّاۤ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَیْنَ النَّاسِ بِمَاۤ اَرٰىكَ اللّٰهُ ؕ وَلَا تَكُنْ لِّلْخَآىِٕنِیْنَ خَصِیْمًاۙ 105
105. হে নবী, আমি সত্যসহ এ কিতাব তোমার উপর নাযিল করেছি। এ কিতাবের মাধ্যমে তোমাকে যে পথ দেখানো হয়েছে, তার আলোকে লোকদের মধ্যকার ঝগড়া-বিবাদের ফয়সালা করে দাও। সাবধান থেকো, কখনোই খেয়ানতকারীদের পক্ষে সাফাই গেয়ো না।
وَّ اسْتَغْفِرِ اللّٰهَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ غَفُوْرًا رَّحِیْمًاۚ 106
106. এসব ব্যাপারে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল, বড় দয়াবান।
وَلَا تُجَادِلْ عَنِ الَّذِیْنَ یَخْتَانُوْنَ اَنْفُسَهُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یُحِبُّ مَنْ كَانَ خَوَّانًا اَثِیْمًاۚۙ 107
107. যারা নিজেদের সাথে খেয়ানত করে, ওদের পক্ষে কখনো ওকালতি করো না। ভুলে যেয়ো না, আল্লাহ এসব খেয়ানতকারী পাপীকে কখনোই পছন্দ করেন না।
یَّسْتَخْفُوْنَ مِنَ النَّاسِ وَلَا یَسْتَخْفُوْنَ مِنَ اللّٰهِ وَ هُوَ مَعَهُمْ اِذْ یُبَیِّتُوْنَ مَا لَا یَرْضٰی مِنَ الْقَوْلِ ؕ وَكَانَ اللّٰهُ بِمَا یَعْمَلُوْنَ مُحِیْطًا 108
108. ওরা হয়তো মানুষের কাছে নিজেদের কুকর্ম গোপন করে রাখতে পারে; কিন্তু আল্লাহর কাছে তা গোপন করা সম্ভব নয়। ওরা যখন রাতের অন্ধকারে আল্লাহর অপছন্দনীয় বিষয়ে লুকিয়ে সলা-পরামর্শ করে, তখনও আল্লাহ ওদের সাথে থাকেন। বস্তুত ওদের সব কাজকর্মই আল্লাহ চারদিক দিয়ে ঘিরে রেখেছেন।
هٰۤاَنْتُمْ هٰۤؤُلَآءِ جٰدَلْتُمْ عَنْهُمْ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۫ فَمَنْ یُّجَادِلُ اللّٰهَ عَنْهُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ اَمْ مَّنْ یَّكُوْنُ عَلَیْهِمْ وَكِیْلًا 109
109. আচ্ছা মানলাম, তোমরা দুনিয়ার জীবনে এসব খেয়ানতকারীদের পক্ষে সাফাই গাইতে পারলে; কিন্তু কিয়ামতের দিন কার সাহস হবে, ওদের পক্ষে আল্লাহর সামনে ওকালতি করতে? বলো, সেদিন তোমাদের কে কে ওদের পক্ষে উকিল হবে?
وَمَنْ یَّعْمَلْ سُوْٓءًا اَوْ یَظْلِمْ نَفْسَهٗ ثُمَّ یَسْتَغْفِرِ اللّٰهَ یَجِدِ اللّٰهَ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا 110
110. তবে জেনে রেখো, তোমাদের কেউ পাপ কাজ করলে কিংবা নিজের প্রতি জুলুম করে বসলে এবং এর পরপরই যদি আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, তবে সে অবশ্যই আল্লাহকে বড় ক্ষমাশীল এবং দয়াবান হিসেবে পাবে।
وَ مَنْ یَّكْسِبْ اِثْمًا فَاِنَّمَا یَكْسِبُهٗ عَلٰی نَفْسِهٖ ؕ وَكَانَ اللّٰهُ عَلِیْمًا حَكِیْمًا 111
111. আসলে যে পাপ কাজ করে, সে নিজেই নিজের ক্ষতি ডেকে আনে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবার উপর মহাজ্ঞানী এবং প্রজ্ঞাময়।
وَمَنْ یَّكْسِبْ خَطِیْٓئَةً اَوْ اِثْمًا ثُمَّ یَرْمِ بِهٖ بَرِیْٓـًٔا فَقَدِ احْتَمَلَ بُهْتَانًا وَّاِثْمًا مُّبِیْنًا۠ 112
112. ভালো করে শুনে রেখো, কেউ অন্যায় বা পাপ করে, তা যদি নির্দোষ কোনো ব্যক্তির উপর চাপিয়ে দেয়, তবে প্রকারান্তে সে মারাত্মক মিথ্যা অপবাদ ও ভয়ঙ্কর পাপের শাস্তি নিজ ঘাড়ে টেনে নেয়।
وَلَوْ لَا فَضْلُ اللّٰهِ عَلَیْكَ وَرَحْمَتُهٗ لَهَمَّتْ طَّآىِٕفَةٌ مِّنْهُمْ اَنْ یُّضِلُّوْكَ ؕ وَمَا یُضِلُّوْنَ اِلَّاۤ اَنْفُسَهُمْ وَمَا یَضُرُّوْنَكَ مِنْ شَیْءٍ ؕ وَاَنْزَلَ اللّٰهُ عَلَیْكَ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ ؕ وَكَانَ فَضْلُ اللّٰهِ عَلَیْكَ عَظِیْمًا 113
113. হে নবী, ওদের একদল তো তোমাকে বিচার ফয়সালার ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল। আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ ও দয়ায় তুমি বেঁচে গেছো। অবশ্য এ কাজের মাধ্যমে ওরা তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারতো না; বরং নিজেদেরকেই পথভ্রষ্ট হিসেবে প্রমাণ করতো। আসলে আল্লাহ তোমাকে কিতাব ও হিকমাত দান করেছেন এবং তোমার না জানা অনেক কিছুই তোমায় শিখিয়েছেন। বস্তুত তোমার উপর আল্লাহর অনুগ্রহ অপরিসীম।
لَا خَیْرَ فِیْ كَثِیْرٍ مِّنْ نَّجْوٰىهُمْ اِلَّا مَنْ اَمَرَ بِصَدَقَةٍ اَوْ مَعْرُوْفٍ اَوْ اِصْلَاحٍۭ بَیْنَ النَّاسِ ؕ وَمَنْ یَّفْعَلْ ذٰلِكَ ابْتِغَآءَ مَرْضَاتِ اللّٰهِ فَسَوْفَ نُؤْتِیْهِ اَجْرًا عَظِیْمًا 114
114. আর ওদের অধিকাংশ গোপন সলা-পরামর্শ কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। কেননা কল্যাণ তো কেবল তারা পেতে পারে, যারা গোপনে লোকদের দান খয়রাত করতে বলে। সৎকর্মের উপদেশ দেয়। এমনকি লোকদের ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসা করে দেয়। শুনে রেখো, যারা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে এসব ভালোকাজ করবে, আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে মহাপুরস্কার দান করবেন।
وَمَنْ یُّشَاقِقِ الرَّسُوْلَ مِنْۢ بَعْدِ مَا تَبَیَّنَ لَهُ الْهُدٰی وَیَتَّبِعْ غَیْرَ سَبِیْلِ الْمُؤْمِنِیْنَ نُوَلِّهٖ مَا تَوَلّٰی وَنُصْلِهٖ جَهَنَّمَ ؕ وَسَآءَتْ مَصِیْرًا۠ 115
115. সত্য-মিথ্যা পরিষ্কার হওয়ার পরেও কেউ যদি আমার রসুলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ছেড়ে ভিন্নপথ ধরে, তবে আমি কিছু দিনের জন্য ওর পছন্দের উপর ওকে ছেড়ে দেব। এরপর খুব শীঘ্রই ওকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। হায় আফসোস! যদি জানতো, সেটা কতোইনা ভয়ানক খারাপ আবাস।
اِنَّ اللّٰهَ لَا یَغْفِرُ اَنْ یُّشْرَكَ بِهٖ وَیَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذٰلِكَ لِمَنْ یَّشَآءُ ؕ وَ مَنْ یُّشْرِكْ بِاللّٰهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلٰلًۢا بَعِیْدًا 116
116. কেউ আল্লাহর সাথে শরিক করলে, আল্লাহ তাকে কখনোই ক্ষমা করবেন না। তবে এ ছাড়া সে আর যে পাপই করুক না কেন, তিনি চাইলে তাকে মাফ করবেন। আসলে যে আল্লাহর সাথে শরিক করে, সেতো ভ্রান্ত পথে হাঁটতে হাঁটতে বহুদূর চলে গেছে।
اِنْ یَّدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِهٖۤ اِلَّاۤ اِنٰثًا ۚ وَاِنْ یَّدْعُوْنَ اِلَّا شَیْطٰنًا مَّرِیْدًاۙ 117
117. ওদের চরিত্র দেখো, ওরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে দেব-দেবীকে ডাকছে। এমনকি বিদ্রোহী শয়তানেরও পূজা করছে।
لَّعَنَهُ اللّٰهُ ۘ وَقَالَ لَاَتَّخِذَنَّ مِنْ عِبَادِكَ نَصِیْبًا مَّفْرُوْضًاۙ 118
118. ওরা সেই শয়তানের অনুগত হয়েছে, যাকে স্বয়ং আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন। সেদিন সে আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিল, আমি অবশ্যই তোমার বান্দাদের একটি বড় অংশকে তোমার পথ থেকে ছিনিয়ে নেবো।
وَّلَاُضِلَّنَّهُمْ وَلَاُمَنِّیَنَّهُمْ وَلَاٰمُرَنَّهُمْ فَلَیُبَتِّكُنَّ اٰذَانَ الْاَنْعَامِ وَلَاٰمُرَنَّهُمْ فَلَیُغَیِّرُنَّ خَلْقَ اللّٰهِ ؕ وَمَنْ یَّتَّخِذِ الشَّیْطٰنَ وَلِیًّا مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُّبِیْنًاؕ 119
119. সে আরো বলল, আমি তোমার এসব বান্দাদেরকে অবশ্যই পথভ্রষ্ট করবো। তাদেরকে আশা-আকাক্সক্ষার মোহে বিভ্রান্ত করবো। আমার হুকুমেই তারা দেব-দেবীর জন্যে পশুর কান কেটে উৎসর্গ করবে। এমনকি তারা আমার হুকুমানুযায়ী সৃষ্টির আকৃতি-প্রকৃতির মধ্যে রদবদল আনবে। অতএব শোনো, তোমাদের যারাই আল্লাহকে বাদ দিয়ে এ শয়তানকে বন্ধু ও অভিভাবক বানাবে, তারা তো ইতোমধ্যেই সুস্পষ্ট ক্ষতির মধ্যে পড়ে গেছে।
یَعِدُهُمْ وَیُمَنِّیْهِمْ ؕ وَمَا یَعِدُهُمُ الشَّیْطٰنُ اِلَّا غُرُوْرًا 120
120. মূলত শয়তান লোকদের ভুরিভুরি ওয়াদা দেয়। তাদেরকে আশা-আকাক্সক্ষার প্রলোভনে আটকায়। অথচ বাস্তবতায় শয়তানের এসব ওয়াদা কেবল ধোঁকা।
اُولٰٓىِٕكَ مَاْوٰىهُمْ جَهَنَّمُ ؗ وَلَا یَجِدُوْنَ عَنْهَا مَحِیْصًا 121
121. সবশেষে শয়তান ও তার অনুসারীদের পরিণতি হবে জাহান্নাম। সেখান থেকে পালাবার কোনো পথই ওরা খোলা পাবে না।
وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًا ؕ وَعْدَ اللّٰهِ حَقًّا ؕ وَمَنْ اَصْدَقُ مِنَ اللّٰهِ قِیْلًا 122
122. অপরদিকে যারা ঈমান রাখে এবং এর আলোকে সৎকাজ করে চলে, তারা অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদেরকে সেখান থেকে কোনোদিনই বের করে দেয়া হবে না। এটি এতোই চমৎকার যে, তার পাদদেশে ঝর্নাধারা প্রবাহিত থাকবে। মনে রেখো, আল্লাহর এসব ওয়াদা সত্য। আল্লাহর চেয়ে বেশি সত্যবাদী আর কে হতে পারে?
لَیْسَ بِاَمَانِیِّكُمْ وَ لَاۤ اَمَانِیِّ اَهْلِ الْكِتٰبِ ؕ مَنْ یَّعْمَلْ سُوْٓءًا یُّجْزَ بِهٖ ۙ وَ لَا یَجِدْ لَهٗ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَلِیًّا وَّلَا نَصِیْرًا 123
123. তোমাদের কিংবা কিতাবওয়ালাদের খেয়ালখুশির উপর লোকদের পরিণতি নির্ভর করে না। যে পাপ করবে, সে তার ফল ভোগ করবে। সে আল্লাহর মোকাবেলায় কাউকে তার বন্ধু ও সাহায্যকারী হিসেবে পাশে পাবে না।
وَ مَنْ یَّعْمَلْ مِنَ الصّٰلِحٰتِ مِنْ ذَكَرٍ اَوْ اُنْثٰی وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَاُولٰٓىِٕكَ یَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ وَلَا یُظْلَمُوْنَ نَقِیْرًا 124
124. অন্যদিকে পুরুষ বা নারী যেই হোক, সে যদি ঈমানদার হয় এবং সৎকাজ করে, তবে অবশ্যই সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ ব্যপারে সে একচুল জুলুমের শিকারও হবে না।
وَمَنْ اَحْسَنُ دِیْنًا مِّمَّنْ اَسْلَمَ وَجْهَهٗ لِلّٰهِ وَ هُوَ مُحْسِنٌ وَّاتَّبَعَ مِلَّةَ اِبْرٰهِیْمَ حَنِیْفًا ؕ وَاتَّخَذَ اللّٰهُ اِبْرٰهِیْمَ خَلِیْلًا 125
125. দেখো! তার জীবনধারা কতোইনা চমৎকার, যে পুরোপুরি আল্লাহর প্রতি সমর্পিত হয়েছে, সৎনীতি অবলম্বন করেছে এবং একনিষ্ঠভাবে ইবরাহিমের জীবনাদর্শের অনুসারী হয়েছে। আর ইবরাহিমকে তো আল্লাহ নিজেই তাঁর বন্ধু বানিয়েছিলেন।
وَلِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ وَ َانَ اللّٰهُ بِكُلِّ شَیْءٍ مُّحِیْطًا۠ 126
126. মহাকাশ ও পৃথিবীর সবকিছুই আল্লাহর একক মালিকানাধীন। ভুলে যেয়ো না, এর প্রতিটি জিনিসই আল্লাহর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
وَیَسْتَفْتُوْنَكَ فِی النِّسَآءِ ؕ قُلِ اللّٰهُ یُفْتِیْكُمْ فِیْهِنَّ ۙ وَمَا یُتْلٰی عَلَیْكُمْ فِی الْكِتٰبِ فِیْ یَتٰمَی النِّسَآءِ الّٰتِیْ لَا تُؤْتُوْنَهُنَّ مَا كُتِبَ لَهُنَّ وَتَرْغَبُوْنَ اَنْ تَنْكِحُوْهُنَّ وَالْمُسْتَضْعَفِیْنَ مِنَ الْوِلْدَانِ ۙ وَاَنْ تَقُوْمُوْا لِلْیَتٰمٰی بِالْقِسْطِ ؕ وَمَا تَفْعَلُوْا مِنْ خَیْرٍ فَاِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِهٖ عَلِیْمًا 127
127. হে নবী, লোকেরা নারীদের ব্যাপারে তোমাকে জিজ্ঞেস করছে। ওদের বলো, আল্লাহ নিজেই এ ব্যাপারে তোমাদের সামাধান বলে দিচ্ছেন। তিনি ইতোমধ্যেই তার কিতাবে তোমাদের অভিভাবকত্বে থাকা এতিম মেয়ে যাদেরকে তোমরা বিয়ে করতে আগ্রহী; কিন্তু ন্যায্য পাওনা দিতে রাজি নও, তাদের সম্পর্কে স্পষ্ট বিধান দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি অসহায় এতিম শিশুদের ব্যাপারেও পরিষ্কার বলে দিয়েছেন যে, তাদের সাথে ইনসাফের নীতিতে আচরণ করবে। বস্তুত মনে রেখো, তোমাদের প্রতিটি ভালো কাজের প্রতিদানই আল্লাহর জ্ঞানে রয়েছে।
وَاِنِ امْرَاَةٌ خَافَتْ مِنْۢ بَعْلِهَا نُشُوْزًا اَوْ اِعْرَاضًا فَلَا جُنَاحَ عَلَیْهِمَاۤ اَنْ یُّصْلِحَا بَیْنَهُمَا صُلْحًا ؕ وَالصُّلْحُ خَیْرٌ ؕ وَاُحْضِرَتِ الْاَنْفُسُ الشُّحَّ ؕ وَاِنْ تُحْسِنُوْا وَتَتَّقُوْا فَاِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرًا 128
128. আর হ্যাঁ, কোনো স্ত্রী যদি তার স্বামীর কাছ থেকে দুর্ব্যবহারের আশঙ্কা করে কিংবা উপেক্ষা অনুভব করে, তবে এ ব্যাপারে তারা নিজেরা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে আপোস-মীমাংসা করে নেবে। এভাবেই তাদের সমাধান করে নেয়া উচিত। আসলে আপোস মীমাংসাই সবসময়ে ভালো সমাধান। কেননা মানুষের অন্তরে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার রোগ রয়েছে। সুতরাং এসব ব্যাপারে তোমাদের উচিত অন্যের প্রতি সহানুভ‚তিশীল আচরণ করা এবং আল্লাহকে ভয় করে চলা। মনে রেখো, তোমরা যেসব কাজকর্মই করো না কেন, আল্লাহ তার পুঙ্খানুপুঙ্খ খবর রাখেন।
وَلَنْ تَسْتَطِیْعُوْۤا اَنْ تَعْدِلُوْا بَیْنَ النِّسَآءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلَا تَمِیْلُوْا كُلَّ الْمَیْلِ فَتَذَرُوْهَا كَالْمُعَلَّقَةِ ؕ وَاِنْ تُصْلِحُوْا وَتَتَّقُوْا فَاِنَّ اللّٰهَ كَانَ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا 129
129. একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা বিধান করে চলা তোমাদের সামর্থের বাইরে। তোমরা তা করতে সক্ষম হবে না। কিন্তু সাবধান থেকো, কখনো একজনকে উপেক্ষা করে আরেকজনের প্রতি পুরোপুরি ঝুঁকে পড়ো না। সুতরাং এ ব্যাপারে তোমরা সংশোধিত পন্থা অবলম্বন করো এবং আল্লাহকে ভয় করো। মনে রেখো, এপথে তোমরা আল্লাহকে বড় ক্ষমাশীল ও করুণাময় হিসেবে পাবে।
وَاِنْ یَّتَفَرَّقَا یُغْنِ اللّٰهُ كُلًّا مِّنْ سَعَتِهٖ ؕ وَكَانَ اللّٰهُ وَاسِعًا حَكِیْمًا 130
130. কিন্তু স্বামী-স্ত্রী যদি ন্যায়পন্থায় পরস্পর আলাদা হয়ে যায়; তবে আল্লাহ তাঁর প্রাচুর্য দ্বারা প্রত্যেককেই অন্যের মুখাপেক্ষিতা থেকে বাঁচিয়ে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিপুল প্রাচুর্যময়, মহাপ্রজ্ঞাবান।
وَلِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ وَلَقَدْ وَصَّیْنَا الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَاِیَّاكُمْ اَنِ اتَّقُوا اللّٰهَ ؕ وَ اِنْ تَكْفُرُوْا فَاِنَّ لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ غَنِیًّا حَمِیْدًا 131
131. মহাকাশ এবং পৃথিবীর সবকিছুই আল্লাহর একক মালিকানাধীন। তোমাদের আগের কিতাবওয়ালাদের নির্দেশ দিয়েছিলাম এবং একই নির্দেশ তোমাদেরকেও দিচ্ছি আল্লাহকে সর্বাবস্থায় ভয় করে চলো। এখন যদি তোমরা এ নির্দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, তাতে আল্লাহর কোনো ক্ষতি হবে না। কেননা মহাকাশ ও পৃথিবীর সবকিছু তাঁর জন্যে সদাপ্রস্তুত রয়েছে। তাছাড়া আল্লাহ কারো উপর নির্ভরশীল নন; বরং তিনি সপ্রশংসিত।
وَلِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ وَكَفٰی بِاللّٰهِ وَكِیْلًا 132
132. হ্যাঁ! মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। আর আল্লাহ নিজেই তাঁর কাজ সম্পাদনের জন্যে যথেষ্ট।
اِنْ یَّشَاْ یُذْهِبْكُمْ اَیُّهَا النَّاسُ وَیَاْتِ بِاٰخَرِیْنَ ؕ وَكَانَ اللّٰهُ عَلٰی ذٰلِكَ قَدِیْرًا 133
133. হে লোকেরা, ভেবে দেখো, আল্লাহ চাইলে তোমাদেরকে সরিয়ে তোমাদের জায়গায় অন্য কাউকে নিয়ে আসতে পারেন। এ কাজ করা আল্লাহর কাছে কোনো ব্যাপারই না।
مَنْ كَانَ یُرِیْدُ ثَوَابَ الدُّنْیَا فَعِنْدَ اللّٰهِ ثَوَابُ الدُّنْیَا وَالْاٰخِرَةِ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ سَمِیْعًۢا بَصِیْرًا۠ 134
134. অতএব তোমাদের কেউ যদি কেবল দুনিয়ায় তার কাজের পুরস্কার পেতে আগ্রহী হয়, তবে তার জানা উচিত, আল্লাহ অনেককে দুনিয়ার পাশাপাশি আখেরাতেও উত্তম পুরস্কার দেবেন। কাজেই তোমরা যা কিছুই করো না কেন, আল্লাহ তার সব শোনেন, সব দেখেন।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا كُوْنُوْا قَوّٰمِیْنَ بِالْقِسْطِ شُهَدَآءَ لِلّٰهِ وَلَوْ عَلٰۤی اَنْفُسِكُمْ اَوِ الْوَالِدَیْنِ وَالْاَقْرَبِیْنَ ۚ اِنْ یَّكُنْ غَنِیًّا اَوْ فَقِیْرًا فَاللّٰهُ اَوْلٰی بِهِمَا ۫ فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوٰۤی اَنْ تَعْدِلُوْا ۚ وَاِنْ تَلْوٗۤا اَوْ تُعْرِضُوْا فَاِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرًا 135
135. হে ঈমানদারেরা, বিচার ফয়সালায় ন্যায়ের উপর অটল থাকো এবং আল্লাহর জন্যে সত্য সাক্ষ্য দাও। মনে রেখো, তোমাদের এ সাক্ষ্য যদি তোমাদের কোনো আপনজন কিংবা বাপ-মা, এমনকি তোমাদের নিজেদের বিপক্ষেও যায়; তবুও সত্য থেকে বিচ্যুত হবে না। কেননা এ মামলার বাদী-বিবাদী ধনী হউক কিংবা গরিব হোক আল্লাহ উভয়ের প্রতি তোমাদের থেকে বেশি কল্যাণকামী। কাজেই সাবধান! নিজেদের প্রবৃত্তির ধোঁকায় পড়ে ন্যায় বিচার থেকে সরে যেয়ো না। মনে রেখো, তোমাদের কেউ যদি পক্ষপাতিত্বের জন্যে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলে কিংবা সত্যকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়, তবে তার জেনে রাখা উচিত, তার সব কাজই আল্লাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اٰمِنُوْا بِاللّٰهِ وَرَسُوْلِهٖ وَالْكِتٰبِ الَّذِیْ نَزَّلَ عَلٰی رَسُوْلِهٖ وَالْكِتٰبِ الَّذِیْۤ اَنْزَلَ مِنْ قَبْلُ ؕ وَمَنْ یَّكْفُرْ بِاللّٰهِ وَمَلٰٓىِٕكَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ وَالْیَوْمِ الْاٰخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلٰلًۢا بَعِیْدًا 136
136. হে ঈমানদারেরা, তোমরা খাঁটি মনে আল্লাহ ও তাঁর রসুলকে মেনে নাও। এ রসুলের কাছে পাঠানো এবং তার আগের অন্যান্য সব রসুলের কাছে পাঠানো কিতাবগুলোকে সত্য বলে স্বীকার করো। মনে রেখো, যারা আল্লাহকে অমান্য করে এবং তাঁর ফেরেশতা, তাঁর পাঠানো কিতাবগুলো, তাঁর রসুলগণ এবং পরকালের দিনগুলোকে অবিশ্বাস করে, তারা ভয়ানক গোমরাহির শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে।
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا ثُمَّ كَفَرُوْا ثُمَّ اٰمَنُوْا ثُمَّ كَفَرُوْا ثُمَّ ازْدَادُوْا كُفْرًا لَّمْ یَكُنِ اللّٰهُ لِیَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِیَهْدِیَهُمْ سَبِیْلًاؕ 137
137. শোনো, যেসব লোক ঈমান আনার পরে কুফরি করেছে, পুনরায় ঈমান আনার পর আবারো কুফরির পথে ফিরে গেছে এবং এভাবেই নিজেদের কুফরির মাত্রা দিনদিন বাড়িয়ে নিয়েছে আল্লাহ এ ধরনের পাপিষ্ঠদের কখনোই ক্ষমা করবেন না। এমনকি, ওদেরকে কোনোদিন সত্য-সঠিক পথেও ফিরিয়ে নেবেন না।
بَشِّرِ الْمُنٰفِقِیْنَ بِاَنَّ لَهُمْ عَذَابًا اَلِیْمَاۙ 138
138. এসব মুনাফিকদের মর্মান্তিক-বেদনাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও।
ِ۟الَّذِیْنَ یَتَّخِذُوْنَ الْكٰفِرِیْنَ اَوْلِیَآءَ مِنْ دُوْنِ الْمُؤْمِنِیْنَ ؕ اَیَبْتَغُوْنَ عِنْدَهُمُ الْعِزَّةَ فَاِنَّ الْعِزَّةَ لِلّٰهِ جَمِیْعًاؕ 139
139. ওরা আসলে মুমিন-মুসলমানদেরকে বাদ দিয়ে কাফেরদেরকেই নিজেদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে। আচ্ছা! ওরা কি তাদের কাছে নিজেদের সম্মান মর্যাদা খুঁজে ফেরে? হায়! সকল সম্মান-মর্যাদা কেবল আল্লাহর মুষ্ঠিবদ্ধ।
وَقَدْ نَزَّلَ عَلَیْكُمْ فِی الْكِتٰبِ اَنْ اِذَا سَمِعْتُمْ اٰیٰتِ اللّٰهِ یُكْفَرُ بِهَا وَیُسْتَهْزَاُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوْا مَعَهُمْ حَتّٰی یَخُوْضُوْا فِیْ حَدِیْثٍ غَیْرِهٖۤ ۖؗ اِنَّكُمْ اِذًا مِّثْلُهُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ جَامِعُ الْمُنٰفِقِیْنَ وَالْكٰفِرِیْنَ فِیْ جَهَنَّمَ جَمِیْعَاۙ 140
140. হে ঈমানদারেরা, এ কিতাবের মাধ্যমে আল্লাহ ইতোমধ্যেই তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, সেসব বৈঠকে তোমরা কখনোই বসবে না, যেখানে আল্লাহর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করা হয় কিংবা হাসি তামাশার পাত্র বানানো হয়। তারা এসব বিষয় বাদে অন্যান্য বিষয়ে আলাপ করতে চাইলে, তখন তাদের সাথে বসবে। মনে রেখো, যদি তোমরা ঐসব বিষয়ে ওদের সাথে বসে যাও, তবে তোমরাও ওদের মতো সমান পাপী হবে। সন্দেহ নেই, আল্লাহ এসব মুনাফিক ও কাফেরদেরকে জাহান্নামে একত্র করেই ছাড়বেন।
ِ۟الَّذِیْنَ یَتَرَبَّصُوْنَ بِكُمْ ۚ فَاِنْ كَانَ لَكُمْ فَتْحٌ مِّنَ اللّٰهِ قَالُوْۤا اَلَمْ نَكُنْ مَّعَكُمْ ۖؗ وَاِنْ كَانَ لِلْكٰفِرِیْنَ نَصِیْبٌ ۙ قَالُوْۤا اَلَمْ نَسْتَحْوِذْ عَلَیْكُمْ وَ نَمْنَعْكُمْ مِّنَ الْمُؤْمِنِیْنَ ؕ فَاللّٰهُ یَحْكُمُ بَیْنَكُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ وَلَنْ یَّجْعَلَ اللّٰهُ لِلْكٰفِرِیْنَ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ سَبِیْلًا۠ 141
141. এসব মুনাফিকদের কাণ্ড-কারখানা দেখো, ওরা সবসময় তোমাদের ব্যাপারে অপেক্ষায় থাকে। যদি দেখে কাফেরদের মোকাবেলায় আল্লাহ তোমাদের বিজয় দিয়েছেন, তখন ওরা তোমাদের কাছে এসে বারবার বলতে থাকে আমরা কি তোমাদের দলে ছিলাম না? আর যদি এ মোকাবেলায় কাফেরদের পাল্লা ভারি হয়, তবে তাদের কাছে গিয়ে বলতে থাকে, আমরা কি তোমাদের বিরুদ্ধে লড়তে পারতাম না? দেখো, আমরা তা করিনি; বরং উল্টা তোমাদেরকে মুমিনদের হাত থেকে বাঁচিয়েছি। নিশ্চিত থাকো, কেয়ামতের দিন আল্লাহ নিজেই তোমাদের সাথে ওদের এ আচরণের চূড়ান্ত ফয়সালা শুনিয়ে দেবেন। সেদিন মুমিনদের উপর কাফেরদের কোনো বিজয় লাভের সামান্য সুযোগও আল্লাহ রাখবেন না।
اِنَّ الْمُنٰفِقِیْنَ یُخٰدِعُوْنَ اللّٰهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ ۚ وَ اِذَا قَامُوْۤا اِلَی الصَّلٰوةِ قَامُوْا كُسَالٰی ۙ یُرَآءُوْنَ النَّاسَ وَلَا یَذْكُرُوْنَ اللّٰهَ اِلَّا قَلِیْلًاؗۙ 142
142. এসব মুনাফিকেরা ভাবে, ওরা আল্লাহকে ধোঁকা দিয়ে চলছে। অথচ সত্য হলো, স্বয়ং আল্লাহই ওদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছেন। ওদের নামাজের অবস্থা দেখো, আন্তরিকতার ছিটেফোঁটাও নেই। কেবল লোক দেখানো দায়সারা নামাজে দাঁড়ায়। আসলে ওরা আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে।
مُّذَبْذَبِیْنَ بَیْنَ ذٰلِكَ ۖۗ لَاۤ اِلٰی هٰۤؤُلَآءِ وَلَاۤ اِلٰی هٰۤؤُلَآءِ ؕ وَمَنْ یُّضْلِلِ اللّٰهُ فَلَنْ تَجِدَ لَهٗ سَبِیْلًا 143
143. বেচারারা! ওরা ঈমান ও কুফরির মধ্যে দোটানায় পড়ে আছে। একবার এদিকে যেতে চায় তো, আরেকবার অন্য দিকে দৌঁড়ায়। আসলে আল্লাহ যাকে পথহারা করে দেন, তুমি তার জন্যে কোনো পথই খুঁজে বের করতে পারবে না।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوا الْكٰفِرِیْنَ اَوْلِیَآءَ مِنْ دُوْنِ الْمُؤْمِنِیْنَ ؕ اَتُرِیْدُوْنَ اَنْ تَجْعَلُوْا لِلّٰهِ عَلَیْكُمْ سُلْطٰنًا مُّبِیْنًا 144
144. হে ঈমানদারেরা, সাবধান হও। কখনোই মুমিনদের বাদ দিয়ে কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলো না। এমনটা করে তোমরা কি নিজেদের বিরুদ্ধে আল্লাহর হাতে স্পষ্ট প্রমাণ তুলে দিতে চাও?
اِنَّ الْمُنٰفِقِیْنَ فِی الدَّرْكِ الْاَسْفَلِ مِنَ النَّارِ ۚ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِیْرًاۙ 145
145. জেনে রেখো, নিশ্চিতভাবে মুনাফিকেরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন তলানিতে শাস্তিভোগ করবে। সেদিন ওদের সাহায্য করার জন্যে কাউকে খুঁজে পাবে না।
اِلَّا الَّذِیْنَ تَابُوْا وَ اَصْلَحُوْا وَاعْتَصَمُوْا بِاللّٰهِ وَاَخْلَصُوْا دِیْنَهُمْ لِلّٰهِ فَاُولٰٓىِٕكَ مَعَ الْمُؤْمِنِیْنَ ؕ وَسَوْفَ یُؤْتِ اللّٰهُ الْمُؤْمِنِیْنَ اَجْرًا عَظِیْمًا 146
146. তবে ওদের মধ্য থেকে যারা সত্যিকার তওবা করবে, নিজেদের কাজ-কর্ম শুধরে নেবে, মজবুতভাবে আল্লাহকে ধারণ করবে এবং খালেসভাবে আল্লাহর জন্যে নিজেদের জীবনধারা চালাবে, তারা মুনাফিক নয়; বরং মুমিনদের সাথে গণ্য হবে। আর আল্লাহ অচিরেই মুমিনদের মহাপুরস্কার দান করবেন।
مَا یَفْعَلُ اللّٰهُ بِعَذَابِكُمْ اِنْ شَكَرْتُمْ وَاٰمَنْتُمْ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ شَاكِرًا عَلِیْمًا 147
147. দেখো, যদি তোমরা আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হও এবং আন্তরিকভাবে তাকে মেনে নাও, তবে অযথা তোমাদেরকে শাস্তি দিয়ে আল্লাহর কি লাভ? তোমরা তো জানোই যে, আল্লাহ মহা পুরস্কারদাতা এবং মহাজ্ঞানী।
لَا یُحِبُّ اللّٰهُ الْجَهْرَ بِالسُّوْٓءِ مِنَ الْقَوْلِ اِلَّا مَنْ ظُلِمَ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ سَمِیْعًا عَلِیْمًا 148
148. লোকেরা প্রকাশ্যে খারাপ কথা বলে বেড়াক, এটা আল্লাহ মোটেই পছন্দ করেন না। হ্যাঁ, যদি কারো প্রতি জুলুম করা হয়, তবে সে তা বলতে পারে। জেনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের সব শোনেন, সব জানেন।
اِنْ تُبْدُوْا خَیْرًا اَوْ تُخْفُوْهُ اَوْ تَعْفُوْا عَنْ سُوْٓءٍ فَاِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَفُوًّا قَدِیْرًا 149
149. তোমরা প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে যে ভালো কাজই করো অথবা মানুষের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে থাকো, তার বিনিময় অবশ্যই পাবে। আর আল্লাহ যেমন বড়ই ক্ষমাশীল, তেমনি সবকিছুতেই সক্ষম।
اِنَّ الَّذِیْنَ یَكْفُرُوْنَ بِاللّٰهِ وَ رُسُلِهٖ وَ یُرِیْدُوْنَ اَنْ یُّفَرِّقُوْا بَیْنَ اللّٰهِ وَ رُسُلِهٖ وَ یَقُوْلُوْنَ نُؤْمِنُ بِبَعْضٍ وَّنَكْفُرُ بِبَعْضٍ ۙ وَّ یُرِیْدُوْنَ اَنْ یَّتَّخِذُوْا بَیْنَ ذٰلِكَ سَبِیْلًۙا 150
150. দেখো, কিছু লোক আল্লাহ ও তাঁর রসুলদের অমান্য করে যাচ্ছে। ওরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলদের ক্ষেত্রে বিশ্বাসের পার্থক্য করতে চায়। ওরা বলে, আমরা তাদের কাউকে মানি আর কাউকে মানি না। ওরা মূলত ঈমান ও কুফরির মাঝখানে আরেকটি নতুন পথ তৈরি করতে চাচ্ছে।
اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْكٰفِرُوْنَ حَقًّا ۚ وَاَعْتَدْنَا لِلْكٰفِرِیْنَ عَذَابًا مُّهِیْنًا 151
151. ওরা আসলে পাক্কা কাফের। এ ধরনের কাফেরদের জন্যে কেবল অপমানজনক শাস্তিই অপেক্ষা করছে।
وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِاللّٰهِ وَرُسُلِهٖ وَلَمْ یُفَرِّقُوْا بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْهُمْ اُولٰٓىِٕكَ سَوْفَ یُؤْتِیْهِمْ اُجُوْرَهُمْ ؕ وَكَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا۠ 152
152. অপরদিকে যারা সত্যিকারেই আল্লাহ ও তাঁর রসুলদের মেনে নিয়েছে এবং তাদের কাউকে মানে আর কাউকে মানে না এমনটি করেনি, অচিরেই আল্লাহ এসব লোকদেরকে তাদের কাজের প্রতিদান দিবেন। বস্তুত আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই মেহেরবান।
یَسْـَٔلُكَ اَهْلُ الْكِتٰبِ اَنْ تُنَزِّلَ عَلَیْهِمْ كِتٰبًا مِّنَ السَّمَآءِ فَقَدْ سَاَلُوْا مُوْسٰۤی اَكْبَرَ مِنْ ذٰلِكَ فَقَالُوْۤا اَرِنَا اللّٰهَ جَهْرَةً فَاَخَذَتْهُمُ الصّٰعِقَةُ بِظُلْمِهِمْ ۚ ثُمَّ اتَّخَذُوا الْعِجْلَ مِنْۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْهُمُ الْبَیِّنٰتُ فَعَفَوْنَا عَنْ ذٰلِكَ ۚ وَ اٰتَیْنَا مُوْسٰی سُلْطٰنًا مُّبِیْنًا 153
153. হে নবী, কিতাবওয়ালারা তোমাকে আকাশ থেকে সরাসরি লিখিত কিতাব এনে তাদের সামনে পেশ করতে বলছে। এ ধৃষ্টতা নতুন নয়। ওরা এর চেয়েও বড় ধৃষ্টতাপূর্ণ দাবি পেশ করেছিল মুসার কাছে। ওরা সেদিন মুসাকে বলেছিল, আমাদেরকে প্রকাশ্যে আল্লাহকে দেখাও। এ সীমালঙ্ঘনের কারণে সেদিন ওদের উপর অকস্মাৎ বজ্রপাত হয়েছিল। এরপর ওরা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি দেখার পরেও একটা গো বাছুরকে উপাস্য হিসাবে পূজা করেছিলো। আমি ওদের সে পাপও মাফ করেছিলাম। বস্তুত আমি মুসার মাধ্যমে ওদেরকে বহু স্পষ্ট প্রমাণ দেখিয়েছি।
وَرَفَعْنَا فَوْقَهُمُ الطُّوْرَ بِمِیْثَاقِهِمْ وَ قُلْنَا لَهُمُ ادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَّقُلْنَا لَهُمْ لَا تَعْدُوْا فِی السَّبْتِ وَ اَخَذْنَا مِنْهُمْ مِّیْثَاقًا غَلِیْظًا 154
154. মাথার উপর তুর পাহাড়কে তুলে ওদের থেকে আমার নির্দেশ মেনে চলার পাকাপোক্ত অঙ্গীকার নিয়েছিলাম। একসময় ওদের হুকুম দিয়েছিলাম যে, এ নগরীর প্রধান দরজা দিয়ে সিজদাবনত হয়ে প্রবেশ করো। ওদেরকে আরো সতর্ক করেছিলাম, তোমরা শনিবারের বিধান লঙ্ঘন করো না। ওদের থেকে এমন অনেক ব্যাপারে মজবুত অঙ্গীকার নিয়েছিলাম।
فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِّیْثَاقَهُمْ وَ كُفْرِهِمْ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ وَ قَتْلِهِمُ الْاَنْۢبِیَآءَ بِغَیْرِ حَقٍّ وَّقَوْلِهِمْ قُلُوْبُنَا غُلْفٌ ؕ بَلْ طَبَعَ اللّٰهُ عَلَیْهَا بِكُفْرِهِمْ فَلَا یُؤْمِنُوْنَ اِلَّا قَلِیْلًا۪ 155
155. এতোকিছুর পরেও ওরা বারবার নিজেদের অঙ্গীকার ভেঙ্গেছে, আল্লাহর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করেছে, আল্লাহর অসংখ্য নবীকে নির্দয়ভাবে সম্পূর্ণ অন্যায় পন্থায় হত্যা করেছে, এমনকি সত্য গ্রহণ না করে নিজেদের অন্তর সত্যদ্বারা পূর্ণ বলে দম্ভ করেছে। পরিণামে আল্লাহ ওদের অন্তরগুলোকে কুফরি দ্বারা মোহর মেরে দিয়েছেন। সুতরাং ওদের খুব কম লোকই ঈমান আনবে।
وَّبِكُفْرِهِمْ وَ قَوْلِهِمْ عَلٰی مَرْیَمَ بُهْتَانًا عَظِیْمًاۙ 156
156. ওরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম কুফরির পথে হেঁটেছে। ওরা এক সময় ঈসার জন্ম নিয়ে মারিয়ামের উপর মারাত্মক মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিলো।
وَّقَوْلِهِمْ اِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِیْحَ عِیْسَی ابْنَ مَرْیَمَ رَسُوْلَ اللّٰهِ ۚ وَ مَا قَتَلُوْهُ وَ مَا صَلَبُوْهُ وَ لٰكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ ؕ وَ اِنَّ الَّذِیْنَ اخْتَلَفُوْا فِیْهِ لَفِیْ شَكٍّ مِّنْهُ ؕ مَا لَهُمْ بِهٖ مِنْ عِلْمٍ اِلَّا اتِّبَاعَ الظَّنِّ ۚ وَ مَا قَتَلُوْهُ یَقِیْنًۢاۙ 157
157. তারপর আবার দম্ভভরে বলে বেড়াচ্ছিলো, আমরা আল্লাহর আরেক রসুল মারিয়াম পুত্র ঈসা মসীহকেও হত্যা করতে ছাড়িনি। যদিও আসল সত্য হলো, ওরা ঈসাকে হত্যা করতে পারেনি। এমনকি ক্রুশবিদ্ধও করেনি; বরং এ ব্যাপারে ওরা এক বড় ধাঁধায় পড়ে গিয়েছিল। অবশ্য এটাও জেনে রেখো, অন্যান্য যারা এ ব্যাপারে মতভেদ করছে, তারাও ঘোরতর সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। এ সম্পর্কে তারা আন্দাজ-অনুমান ছাড়া আর কোনো জ্ঞানই রাখে না। বস্তুত এটাই সত্য যে, ঈসাকে কখনোই হত্যা করা হয়নি।
بَلْ رَّفَعَهُ اللّٰهُ اِلَیْهِ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَزِیْزًا حَكِیْمًا 158
158. বরং আল্লাহ ঈসাকে তাঁর দিকে উঠিয়ে নিয়েছেন। মনে রেখো, আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম এবং তিনি জানেন কিভাবে তা করতে হয়।
وَ اِنْ مِّنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ اِلَّا لَیُؤْمِنَنَّ بِهٖ قَبْلَ مَوْتِهٖ ۚ وَ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ یَكُوْنُ عَلَیْهِمْ شَهِیْدًاۚ 159
159. তোমরা আরো জেনে রেখো, ঈসার প্রকৃত মৃত্যুর পূর্বে কিতাবওয়ালাদের প্রত্যেকেই তাকে আল্লাহর একজন নবী বলে স্বীকার করে নেবে। আর খোদ্ ঈসা নিজেই কেয়ামতের দিন ওদের বিরুদ্ধে আল্লাহর দরবারে সাক্ষ্য দিবেন।
فَبِظُلْمٍ مِّنَ الَّذِیْنَ هَادُوْا حَرَّمْنَا عَلَیْهِمْ طَیِّبٰتٍ اُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ كَثِیْرًاۙ 160
160. এসব ইহুদিরা নিজেদের উপর সীমাহীন জুলুম করার পরিণামে একসময় অনেক হালাল জিনিসও ওদের জন্যে হারাম করেছিলাম। ওরা তো সেইসব লোক, যারা সাধারণ লোকদেরকে আল্লাহর পথে আসতে নানাভাবে বাধা দেয়।
وَّاَخْذِهِمُ الرِّبٰوا وَقَدْ نُهُوْا عَنْهُ وَ اَكْلِهِمْ اَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ ؕ وَاَعْتَدْنَا لِلْكٰفِرِیْنَ مِنْهُمْ عَذَابًا اَلِیْمًا 161
161. ওদেরকে বারবার নিষেধ করার পরেও ওরা সুদের কারবারে লিপ্ত হয়েছে। অন্যায়ভাবে অপরের ধন-সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছে। জেনে রেখো, এসব কাফেরদের জন্য এখন কেবল কঠিন যন্ত্রণাদায়ক আযাবই অপেক্ষা করছে।
لٰكِنِ الرّٰسِخُوْنَ فِی الْعِلْمِ مِنْهُمْ وَ الْمُؤْمِنُوْنَ یُؤْمِنُوْنَ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْكَ وَ مَاۤ اُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَ الْمُقِیْمِیْنَ الصَّلٰوةَ وَ الْمُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَ الْمُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ اُولٰٓىِٕكَ سَنُؤْتِیْهِمْ اَجْرًا عَظِیْمًا۠ 162
162. অবশ্য কিতাবওয়লাদের মধ্যকার জ্ঞানীরা ও ঈমানদারেরা তোমার কাছে নাযিল হওয়া কিতাব এবং তোমার পূর্বের কিতাবগুলোকে সত্য বলে মানে। তারা নিয়মিত নামাজ কায়েম করে। যথানিয়মে যাকাত আদায় করে। তারা সত্যিই আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং পরকালের জীবনকেও স্বীকার করেছে। এসব লোকদের অচিরেই আমি বিরাট পুরস্কার দিবো।
اِنَّاۤ اَوْحَیْنَاۤ اِلَیْكَ كَمَاۤ اَوْحَیْنَاۤ اِلٰی نُوْحٍ وَّالنَّبِیّٖنَ مِنْۢ بَعْدِهٖ ۚ وَ اَوْحَیْنَاۤ اِلٰۤی اِبْرٰهِیْمَ وَ اِسْمٰعِیْلَ وَ اِسْحٰقَ وَ یَعْقُوْبَ وَ الْاَسْبَاطِ وَ عِیْسٰی وَ اَیُّوْبَ وَ یُوْنُسَ وَ هٰرُوْنَ وَ سُلَیْمٰنَ ۚ وَ اٰتَیْنَا دَاوٗدَ زَبُوْرًاۚ 163
163. হে নবী, ওরা জেনে রাখুক, আমি তোমার কাছে ঠিক সেভাবেই অহি পাঠিয়েছি, যেভাবে অহি পাঠিয়েছিলাম নুহ ও তাঁর পরবর্তী অন্যান্য নবীদের কাছে। আমি তো একইভাবে অহি করেছিলাম ইবরাহিম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তার বংশধরের অনেকের কাছে। আর ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারুন এবং সুলাইমানও আমার এ অহি পেয়েছিল। তাছাড়া আমি দাউদকে যাবুর কিতাবও দিয়েছিলাম।
وَ رُسُلًا قَدْ قَصَصْنٰهُمْ عَلَیْكَ مِنْ قَبْلُ وَرُسُلًا لَّمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَیْكَ ؕ وَكَلَّمَ اللّٰهُ مُوْسٰی تَكْلِیْمًاۚ 164
164. হে নবী, এ ধরনের অনেক নবীর কথা তোমার মাধ্যমে ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছি। তবে আরো এমন বহু নবী রয়েছে, যাদের ঘটনা তোমাকে বলিনি। ও আর হ্যাঁ! আমি তো মুসার সাথে সরাসরি কথাই বলেছিলাম।
رُسُلًا مُّبَشِّرِیْنَ وَ مُنْذِرِیْنَ لِئَلَّا یَكُوْنَ لِلنَّاسِ عَلَی اللّٰهِ حُجَّةٌۢ بَعْدَ الرُّسُلِ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَزِیْزًا حَكِیْمًا 165
165. এ নবীদেরকে লোকদের নিকট একজন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছিলাম, যাতে নবী পাওয়ার পর লোকেরা আল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ বা অভিযোগ পেশ করতে না পারে। যদিও আল্লাহ প্রবল ক্ষমতার অধিকারী এবং বড়ই প্রজ্ঞাবান।
لٰكِنِ اللّٰهُ یَشْهَدُ بِمَاۤ اَنْزَلَ اِلَیْكَ اَنْزَلَهٗ بِعِلْمِهٖ ۚ وَالْمَلٰٓىِٕكَةُ یَشْهَدُوْنَ ؕ وَ كَفٰی بِاللّٰهِ شَهِیْدًاؕ 166
166. হে নবী, তোমার কাছে আল্লাহ যা কিছু নাযিল করেছেন, তা সবই তাঁর নিজের জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা থেকেই নাযিল করেছেন। এ কথার উপর আল্লাহ নিজেই সাক্ষ্য দিচ্ছেন এবং ফেরেশতারাও সাক্ষী রয়েছে। যদিও সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ একাই যথেষ্ট।
اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ صَدُّوْا عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ قَدْ ضَلُّوْا ضَلٰلًۢا بَعِیْدًا 167
167. সুতরাং এসব জানার পরেও যারা সত্যকে অস্বীকার করে চলছে এবং সাধারণ লোকদেরকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, ওরা আসলেই ভুলের সাগরে ডুবে আছে।
اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ ظَلَمُوْا لَمْ یَكُنِ اللّٰهُ لِیَغْفِرَ لَهُمْ وَ لَا لِیَهْدِیَهُمْ طَرِیْقًاۙ 168
168. নিশ্চিতভাবে জেনে রেখো, যারাই সত্যকে অস্বীকার করার নীতি অনুসরণ করবে এবং নিজেদের ও অন্যদের উপর জুলুম চালাবে, ওদেরকে আল্লাহ কখনোই ক্ষমা করবেন না। এমনকি জাহান্নামের রাস্তা ছাড়া ওদেরকে আর কোনো রাস্তাও দেখাবেন না।
اِلَّا طَرِیْقَ جَهَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًا ؕ وَ كَانَ ذٰلِكَ عَلَی اللّٰهِ یَسِیْرًا 169
169. ওরা জাহান্নাম থেকে কোনোদিনই মুক্তি পাবে না। আর ওদেরকে জাহান্নামে পোড়ানো আল্লাহর জন্যে এক মামুলি ব্যাপার।
یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ قَدْ جَآءَكُمُ الرَّسُوْلُ بِالْحَقِّ مِنْ رَّبِّكُمْ فَاٰمِنُوْا خَیْرًا لَّكُمْ ؕ وَ اِنْ تَكْفُرُوْا فَاِنَّ لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَلِیْمًا حَكِیْمًا 170
170. হে লোকেরা, তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট সত্যদ্বীন সহকারে এ রসুল তোমাদের কাছে হাজির হয়েছে। সুতরাং তোমরা তাকে মেনে নাও। এটা তোমাদের জন্যেই ভালো। আর যদি তোমরা মেনে নিতে অস্বীকার করো, তবে জেনে রেখো, মহাকাশ ও পৃথিবীর যা কিছু আছে, তারা সবই আল্লাহকে মানে। বস্তুত আল্লাহ সব কিছু জানেন, সব কিছু বোঝেন।
یٰۤاَهْلَ الْكِتٰبِ لَا تَغْلُوْا فِیْ دِیْنِكُمْ وَ لَا تَقُوْلُوْا عَلَی اللّٰهِ اِلَّا الْحَقَّ ؕ اِنَّمَا الْمَسِیْحُ عِیْسَی ابْنُ مَرْیَمَ رَسُوْلُ اللّٰهِ وَ كَلِمَتُهٗ ۚ اَلْقٰىهَاۤ اِلٰی مَرْیَمَ وَ رُوْحٌ مِّنْهُ ؗ فَاٰمِنُوْا بِاللّٰهِ وَ رُسُلِهٖ ۫ۚ وَ لَا تَقُوْلُوْا ثَلٰثَةٌ ؕ اِنْتَهُوْا خَیْرًا لَّكُمْ ؕ اِنَّمَا اللّٰهُ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ ؕ سُبْحٰنَهٗۤ اَنْ یَّكُوْنَ لَهٗ وَلَدٌ ۘ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ ؕ وَ كَفٰی بِاللّٰهِ وَكِیْلًا۠ 171
171. . হে কিতাবওয়ালারা, নিজেদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর উপর কখনো মিথ্যা আরোপ করো না। ভালো করে জেনে রেখো, মারিয়াম পুত্র ঈসা মসিহ আল্লাহর একজন রসুল ও এক স্পষ্ট নিদর্শন ছাড়া আর কিছুই ছিলো না। আর তার জন্মতো এভাবেই হয়েছিল যে, আল্লাহ মারিয়ামের কাছে একটি নির্দেশ পাঠালেন এবং তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দিলেন। কাজেই হে কিতাবওয়ালারা, সাচ্চাভাবে ঈমান আনো আল্লাহ এবং তার রসুলের উপর। আর সাবধান! কখনোই ত্রিত্ববাদের কথা মুখেও এনো না। এ ধরনের আকিদা-বিশ্বাস না রাখাটাই তোমাদের জন্যে কল্যাণকর। কেননা এ কথা পরিষ্কার যে, আল্লাহই একমাত্র ইলাহ। কোনো সন্তান জন্ম দেওয়া থেকে তিনি অনেক পবিত্র। মহাকাশ ও পৃথিবীর সবকিছুই তাঁর। আর কোনো কাজ সম্পন্ন করার জন্যে আল্লাহ নিজেই যথেষ্ট।
لَنْ یَّسْتَنْكِفَ الْمَسِیْحُ اَنْ یَّكُوْنَ عَبْدًا لِّلّٰهِ وَ لَا الْمَلٰٓىِٕكَةُ الْمُقَرَّبُوْنَ ؕ وَ مَنْ یَّسْتَنْكِفْ عَنْ عِبَادَتِهٖ وَ یَسْتَكْبِرْ فَسَیَحْشُرُهُمْ اِلَیْهِ جَمِیْعًا 172
172. দেখো, ঈসা মসিহ কখনো আল্লাহর বান্দা হয়ে নিজে লজ্জাবোধ করেনি। এমনকি কাছের বড়বড় ফেরেশতারাও আল্লাহর গোলামি করাতে সংকোচ বোধ করে না। যারা আল্লাহর ইবাদত করাকে নিজেদের জন্যে লজ্জাজনক মনে করে এবং এ ব্যাপারে নিজেরা আত্মঅহংকারে মেতে থাকে, ওরা জেনে রাখুক, বিচারের দিন আল্লাহ ওদের সবাইকে তাঁর সামনে হাজির করেই ছাড়বেন।
فَاَمَّا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَیُوَفِّیْهِمْ اُجُوْرَهُمْ وَیَزِیْدُهُمْ مِّنْ فَضْلِهٖ ۚ وَاَمَّا الَّذِیْنَ اسْتَنْكَفُوْا وَاسْتَكْبَرُوْا فَیُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا اَلِیْمًا ۙ۬ وَّ لَا یَجِدُوْنَ لَهُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَلِیًّا وَّلَا نَصِیْرًا 173
173. অতএব যারা ঈমান আনবে এবং নেকির কাজ করে যাবে, সেদিন আল্লাহ তাদেরকে পূর্ণ বিনিময় দিবেন। আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের প্রতিদান আরো বাড়িয়ে দিবেন। পক্ষান্তরে যারা আল্লাহর ইবাদত করাকে লজ্জাজনক মনে করে এবং এ ব্যাপারে আত্মঅহংকারে লিপ্ত হয়, সেদিন ওদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি দিবেন। সেদিন ওরা আল্লাহর পরিবর্তে কোনো পৃষ্ঠপোষক ও সাহায্যকারী পাবে না।
یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ قَدْ جَآءَكُمْ بُرْهَانٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكُمْ نُوْرًا مُّبِیْنًا 174
174. হে মানুষেরা, তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ স্বরূপ রসুল এসে গেছে। আর তোমাদের জন্যে পথনির্দেশনা হিসেবে নাযিল হয়েছে এক সুস্পষ্ট আলোকবর্তিকা।
فَاَمَّا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِاللّٰهِ وَ اعْتَصَمُوْا بِهٖ فَسَیُدْخِلُهُمْ فِیْ رَحْمَةٍ مِّنْهُ وَفَضْلٍ ۙ وَّیَهْدِیْهِمْ اِلَیْهِ صِرَاطًا مُّسْتَقِیْمًاؕ 175
175. সুতরাং তোমাদের যারা আল্লাহকে রব হিসাবে সত্যিকারে মেনে নেবে এবং আল্লাহর নির্দেশাবলী মজবুতভাবে ধারণ করবে, আল্লাহ এমন নেক লোকদেরকে আপন দয়া ও অনুগ্রহের মধ্যে প্রবেশ করাবেন এবং তাঁর দিকে আসার সরল-সঠিক পথ দেখিয়ে দিবেন।
یَسْتَفْتُوْنَكَ ؕ قُلِ اللّٰهُ یُفْتِیْكُمْ فِی الْكَلٰلَةِ ؕ اِنِ امْرُؤٌا هَلَكَ لَیْسَ لَهٗ وَلَدٌ وَّلَهٗۤ اُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ ۚ وَ هُوَ یَرِثُهَاۤ اِنْ لَّمْ یَكُنْ لَّهَا وَلَدٌ ؕ فَاِنْ كَانَتَا اثْنَتَیْنِ فَلَهُمَا الثُّلُثٰنِ مِمَّا تَرَكَ ؕ وَ اِنْ كَانُوْۤا اِخْوَةً رِّجَالًا وَّنِسَآءً فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْاُنْثَیَیْنِ ؕ یُبَیِّنُ اللّٰهُ لَكُمْ اَنْ تَضِلُّوْا ؕ وَ اللّٰهُ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ۠ 176
176. হে নবী, লোকেরা তোমার কাছে বাপ-মা’হীন নিঃসন্তান ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাচ্ছে। তাদেরকে বলো, স্বয়ং আল্লাহই এ ব্যাপারে ফতোয়া দিচ্ছেন। শোনো, যদি কোনো নিঃসন্তান লোক মারা যায়, যার একজন বোন রয়েছে, তবে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক সে বোন পাবে। ঠিক উল্টোভাবে, ঐ বোন যদি নিঃসন্তান হিসাবে মারা যায়, তবে সে ভাই ঐ বোনের সম্পত্তির পূর্ণ ওয়ারিশ হবে। আর যদি বোনের সংখ্যা একাধিক হয়, তবে ভাইয়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ তারা পাবে। আর যদি মৃত ব্যক্তি একাধিক ভাই বোন রেখে যায়, তবে দুই নারীর সমান এক পুরুষ এ নীতিতে বণ্টিত হবে। আল্লাহ তোমাদেরকে এসব বিধান খুলে খুলে বর্ণনা করেছেন, যাতে তোমরা বিভ্রান্ত না হও। বস্তুত আল্লাহ তোমাদের সব কিছু সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন।