3. আল ইমরান

الٓمَّٓۙ 1
1. আলিফ- লাম- মিম।
اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۙ الْحَیُّ الْقَیُّوْمُؕ 2
2. আল্লাহ এমন এক মহান সত্তা, যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। যিনি চিরঞ্জীব এবং বিশ্বজাহানের একমাত্র ধারক।
نَزَّلَ عَلَیْكَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَیْنَ یَدَیْهِ وَاَنْزَلَ التَّوْرٰىةَ وَالْاِنْجِیْلَۙ 3
3. তিনি ধাপে ধাপে তোমার উপর এ কিতাব নাযিল করেছেন, যা সত্যের বাণী বহন করে এবং এর আগের আসমানি কিতাবগুলোকে সত্য বলে স্বীকার করে।
مِنْ قَبْلُ هُدًی لِّلنَّاسِ وَاَنْزَلَ الْفُرْقَانَ ؕ۬ اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِاٰیٰتِ اللّٰهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِیْدٌ ؕ وَ اللّٰهُ عَزِیْزٌ ذُو انْتِقَامٍ 4
4. আর এ কিতাবের আগে মানুষকে সঠিক পথ দেখানোর জন্যে আল্লাহ তাওরাত ও ইনজিল নাযিল করেছিলেন। এমনকি সত্য-মিথ্যার মানদন্ডও দিয়েছিলেন। এসব কিছু পাওয়ার পরেও যারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করেছে, ওরা অবশ্যই কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে। জেনে রেখো, আল্লাহ সীমাহীন ক্ষমতার মালিক এবং শাস্তিদানে খুবই কঠোর।
اِنَّ اللّٰهَ لَا یَخْفٰی عَلَیْهِ شَیْءٌ فِی الْاَرْضِ وَلَا فِی السَّمَآءِؕ 5
5. বস্তুত পৃথিবী ও মহাকাশের কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন নয়।
هُوَ الَّذِیْ یُصَوِّرُكُمْ فِی الْاَرْحَامِ كَیْفَ یَشَآءُ ؕ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ 6
6. বরং তিনিতো সেই সত্তা, যিনি মায়ের গর্ভে নিজের ইচ্ছানুযায়ী তোমাদের আকৃতি বানিয়েছেন। সুতরাং এ প্রবল পরাক্রান্ত মহাজ্ঞানী সত্তা ছাড়া তোমাদের ভিন্ন কোনো ইলাহ থাকতে পারে না।
هُوَ الَّذِیْۤ اَنْزَلَ عَلَیْكَ الْكِتٰبَ مِنْهُ اٰیٰتٌ مُّحْكَمٰتٌ هُنَّ اُمُّ الْكِتٰبِ وَاُخَرُ مُتَشٰبِهٰتٌ ؕ فَاَمَّا الَّذِیْنَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ زَیْغٌ فَیَتَّبِعُوْنَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَآءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَآءَ تَاْوِیْلِهٖ ؔۚ وَمَا یَعْلَمُ تَاْوِیْلَهٗۤ اِلَّا اللّٰهُ ؔۘ وَ الرّٰسِخُوْنَ فِی الْعِلْمِ یَقُوْلُوْنَ اٰمَنَّا بِهٖ ۙ كُلٌّ مِّنْ عِنْدِ رَبِّنَا ۚ وَمَا یَذَّكَّرُ اِلَّاۤ اُولُوا الْاَلْبَابِ 7
7. হে নবী, আমি তোমায় যে কিতাব দিয়েছি, তাতে দুই ধরনের আয়াত রয়েছে। এক হচ্ছে, মুহকাম বা সুস্পষ্ট আয়াত যা এ কিতাবের মূল ভিত্তি। আর দ্বিতীয় হচ্ছে মুতাশাবিহাত বা অস্পষ্ট ও রূপক আয়াত যার অর্থ আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। অথচ যাদের মনে কুটিল ও খারাপি রয়েছে, ওরা ফেতনা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এসব মুতাশাবিহাত আয়াতের পিছনে পরে আছে এবং নিজেদের মতো করে এর মনগড়া ব্যাখ্যা বানিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে সত্যিকারের জ্ঞানীরা এসব আয়াতের ব্যাপারে বলে, আমরা এর উপর যথার্থ ঈমান রাখি। কেননা এসব আমাদের প্রভুর পক্ষ থেকেই এসেছে। প্রকৃতার্থে কেবল সত্যিকারের বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেরাই উপদেশ মেনে থাকে।
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوْبَنَا بَعْدَ اِذْ هَدَیْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَةً ۚ اِنَّكَ اَنْتَ الْوَهَّابُ 8
8. এরা আল্লাহর কাছে দোয়া করে, হে আমাদের রব, একবার সত্য-সঠিক পথে চালানোর পর, আমাদের মনকে আবার বাঁকা পথে ঘুরিয়ে দিও না। আমাদের প্রতি দয়া করো। কেননা একমাত্র তুমিই আসল দাতা।
رَبَّنَاۤ اِنَّكَ جَامِعُ النَّاسِ لِیَوْمٍ لَّا رَیْبَ فِیْهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یُخْلِفُ الْمِیْعَادَ۠ 9
9. হে আমাদের মালিক, নিশ্চয়ই তুমি সকল মানুষকে একদিন তোমার কাছে জড়ো করবে। কোনো সন্দেহ নেই, সেদিনটি অবশ্যই ঘটবে। কেননা তোমার ওয়াদার হেরফের হয় না।
اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَنْ تُغْنِیَ عَنْهُمْ اَمْوَالُهُمْ وَ لَاۤ اَوْلَادُهُمْ مِّنَ اللّٰهِ شَیْـًٔا ؕ وَاُولٰٓىِٕكَ هُمْ وَقُوْدُ النَّارِۙ 10
10. জেনে রেখো, যারা কুফরির পথে হেঁটেছে, ওদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি আল্লাহর পাকড়াও থেকে ওদেরকে কোনোভাবেই বাঁচাতে পারবে না। ওরা জাহান্নামের জ্বালানীতে পরিণত হবেই।
كَدَاْبِ اٰلِ فِرْعَوْنَ ۙ وَالَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا ۚ فَاَخَذَهُمُ اللّٰهُ بِذُنُوْبِهِمْ ؕ وَاللّٰهُ شَدِیْدُ الْعِقَابِ 11
11. এসব কাফেরদের পরিণতি হবে তাই, যা ফেরাউনের দলবল ও অতীতের অন্যান্য কাফেরদের কপালে জুটেছিলো। ওরা সবাই আমার আয়াতগুলোকে মিথ্যাবলে উড়িয়ে দিয়েছিলো। ফলে আল্লাহ ওদের অপরাধের জন্যে কঠিন পাকড়াও করলেন। মনে রেখো, আল্লাহ শাস্তিদানে খুবই কঠোর হয়ে থাকেন।
قُلْ لِّلَّذِیْنَ كَفَرُوْا سَتُغْلَبُوْنَ وَتُحْشَرُوْنَ اِلٰی جَهَنَّمَ ؕ وَبِئْسَ الْمِهَادُ 12
12. হে নবী, তুমি এসব কাফেরদের বলো, অচিরেই আমরা তোমাদের পরাজিত করবো। আর তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে হাকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। আহ! জাহান্নাম খুবই মন্দ আবাস।
قَدْ كَانَ لَكُمْ اٰیَةٌ فِیْ فِئَتَیْنِ الْتَقَتَا ؕ فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَاُخْرٰی كَافِرَةٌ یَّرَوْنَهُمْ مِّثْلَیْهِمْ رَاْیَ الْعَیْنِ ؕ وَاللّٰهُ یُؤَیِّدُ بِنَصْرِهٖ مَنْ یَّشَآءُ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَعِبْرَةً لِّاُولِی الْاَبْصَارِ 13
13. আর তোমাদের জন্যে সে দুই দলের যুদ্ধের মধ্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে। তাদের একদল যুদ্ধে নেমেছিলো আল্লাহর পথে, অপর দলটি কুফরির পথে। সাধারণ চোখে লোকেরা দেখছিল, কাফেরেরা মুসলমানদের তুলনায় দ্বিগুণ সৈন্য নিয়ে এসেছে। কিন্তু ফলাফল প্রমাণ করলো, আল্লাহ নিজ ইচ্ছায় যাদের সাহায্য করেন, তারাই বিজয় লাভ করে। এ ঘটনায় অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন লোকদের জন্যে অনেক শেখার রয়েছে।
زُیِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوٰتِ مِنَ النِّسَآءِ وَالْبَنِیْنَ وَالْقَنَاطِیْرِ الْمُقَنْطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَیْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْاَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ؕ ذٰلِكَ مَتَاعُ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۚ وَاللّٰهُ عِنْدَهٗ حُسْنُ الْمَاٰبِ 14
14. সাধারণত কিছু জিনিস লোকদের আকর্ষণ- কামনার বস্তু হয়ে আছে, যেমন নারী, সন্তান-সন্তুতি, প্রচুর পরিমাণে সোনা-রূপা, বাছাই করা ঘোড়া, গবাদি পশু এবং সবুজ শ্যামল কৃষিক্ষেত। অথচ এসব দুনিয়ার কয়েকদিনের ভোগ-সামগ্রী মাত্র। বস্তুত মানুষের উত্তম আবাসতো আল্লাহর কাছে।
قُلْ اَؤُنَبِّئُكُمْ بِخَیْرٍ مِّنْ ذٰلِكُمْ ؕ لِلَّذِیْنَ اتَّقَوْا عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنّٰتٌ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا وَاَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ وَّرِضْوَانٌ مِّنَ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ بَصِیْرٌۢ بِالْعِبَادِۚ 15
15. হে নবী, তুমি লোকদের বলো, আমি কি তোমাদের এসব দুনিয়াবী ভোগ-সামগ্রী থেকে অনেক ভালো কিছুর সংবাদ দেবো? তবে শোনো, তোমাদের যারা এ দুনিয়ায় তাকওয়ার পথে চলবে, তাদের প্রভু প্রতিদান হিসেবে তাদেরকে জান্নাত দান করবেন। সে জান্নাতের পাদদেশে ঝর্না বয়ে যাবে। তারা সেখানে চিরজীবন লাভ করবে। পবিত্র সঙ্গী-সঙ্গিনীও পাবে। এককথায় আল্লাহর সন্তুষ্টি পাবে। বস্তুত বান্দার সকল কাজই আল্লাহ পর্যবেক্ষণ করেন।
اَلَّذِیْنَ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اِنَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِۚ 16
16. এসব লোকেরা দোয়া করে, হে আমাদের রব, আমরা সত্যিকারেই তোমাকে মেনে নিয়েছি। তাই আমাদের অতীত গুনাহগুলো ক্ষমা করো এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাও।
اَلصّٰبِرِیْنَ وَالصّٰدِقِیْنَ وَالْقٰنِتِیْنَ وَ الْمُنْفِقِیْنَ وَالْمُسْتَغْفِرِیْنَ بِالْاَسْحَارِ 17
17. তারা হয়ে থাকে প্রচন্ড ধৈর্যশীল, সত্যপন্থী, আল্লাহর নির্দেশের অনুগত, আল্লাহর পথে দানশীল এবং রাতের শেষভাগে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।
شَهِدَ اللّٰهُ اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۙ وَ الْمَلٰٓىِٕكَةُ وَ اُولُوا الْعِلْمِ قَآىِٕمًۢا بِالْقِسْطِ ؕ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُؕ 18
18. স্বয়ং আল্লাহ এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি ছাড়া বিশ্বজাহানে আর কোনো ইলাহ নেই। ফেরেশতা এবং সকল জ্ঞানবান লোকই সততা ও ইনসাফের সাথে এ কথার সাক্ষ্য দেয় যে, প্রবল পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময় সত্তা মহান আল্লাহ ছাড়া ভিন্ন কোনো ইলাহ নেই।
اِنَّ الدِّیْنَ عِنْدَ اللّٰهِ الْاِسْلَامُ ۫ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ اِلَّا مِنْۢ بَعْدِ مَا جَآءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْیًۢا بَیْنَهُمْ ؕ وَمَنْ یَّكْفُرْ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ فَاِنَّ اللّٰهَ سَرِیْعُ الْحِسَابِ 19
19. নিশ্চিতভাবে ইসলামই আল্লাহর দৃষ্টিতে একমাত্র জীবনব্যবস্থা। তোমাদের পূর্ববর্তী কিতাবওয়ালারা পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষের কারণে নানা মতে বিভক্ত হয়েছিলো; অথচ তাদেরকে সত্যজ্ঞান দেয়া হয়েছিলো। বস্তুত যারা আল্লাহর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করে, আল্লাহর খুব দ্রুতই ওদের হিসেব নিয়ে থাকেন।
فَاِنْ حَآجُّوْكَ فَقُلْ اَسْلَمْتُ وَجْهِیَ لِلّٰهِ وَمَنِ اتَّبَعَنِ ؕ وَقُلْ لِّلَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ وَالْاُمِّیّٖنَ ءَاَسْلَمْتُمْ ؕ فَاِنْ اَسْلَمُوْا فَقَدِ اهْتَدَوْا ۚ وَ اِنْ تَوَلَّوْا فَاِنَّمَا عَلَیْكَ الْبَلٰغُ ؕ وَ اللّٰهُ بَصِیْرٌۢ بِالْعِبَادِ۠ 20
20. হে নবী, এখন ওরা যদি তোমার সাথে এ ব্যাপারে বিতর্কে জড়াতে চায়, তবে তুমি বলো, আমি এবং আমার অনুসারীরা এক আল্লাহ্য় সমর্পিত হয়েছি। আচ্ছা! তোমরা যারা আমাদের আগেই কিতাব পেয়েছিলে এবং যারা পাওনি তোমরা কি এক আল্লাহয় পূর্ণ সমর্পিত হয়েছো? হে নবী, ওরা যদি সত্যিই আল্লাহর অনুগত হয়ে থাকে, তবেতো ওরা সঠিক পথেই রয়েছে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে থাকে, তবে ওদের কাছে সত্যের দাওয়াত পৌঁছানো ছাড়া তোমার কোনো জবাবদিহি নেই। আল্লাহ স্বয়ং এসব বান্দাদের কাজকর্ম দেখছেন।
اِنَّ الَّذِیْنَ یَكْفُرُوْنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ وَیَقْتُلُوْنَ النَّبِیّٖنَ بِغَیْرِ حَقٍّ ۙ وَّیَقْتُلُوْنَ الَّذِیْنَ یَاْمُرُوْنَ بِالْقِسْطِ مِنَ النَّاسِ ۙ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ اَلِیْمٍ 21
21. হে নবী, ঐসব কাফেরদেরকে কঠিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ শুনাও, যারা আল্লাহর আয়াতগুলোকে একের পর এক অস্বীকার করেছে। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আল্লাহর নবীদের হত্যা করেছে। এমনকি, সেসব নেক লোকদেরও হত্যা করেছে, যারা ওদেরকে সততা ও ইনসাফের উপদেশ দিতো।
اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ حَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ فِی الدُّنْیَا وَالْاٰخِرَةِ ؗ وَمَا لَهُمْ مِّنْ نّٰصِرِیْنَ 22
22. ওদের সমস্ত আমল দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানেই বরবাদ হয়ে গেছে। হায়! সেদিন ওদের কোনো উদ্ধারকারী থাকবে না।
اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْنَ اُوْتُوْا نَصِیْبًا مِّنَ الْكِتٰبِ یُدْعَوْنَ اِلٰی كِتٰبِ اللّٰهِ لِیَحْكُمَ بَیْنَهُمْ ثُمَّ یَتَوَلّٰی فَرِیْقٌ مِّنْهُمْ وَ هُمْ مُّعْرِضُوْنَ 23
23. হে নবী, তুমি কি দেখো নাই কিতাবের কিছু জ্ঞান পাওয়া লোকগুলো কেমন আচরণ করেছিলো? যখন ওদের বলা হলো, এসো তোমাদের কিতাবের বিধানানুসারে তোমাদের মধ্যে বিচার-ফয়সালা হয়ে যাক, তখন ওদের বড় অংশই পিছুটান দেয়। এমনকি, ওরা এ থেকে পূর্ণভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ قَالُوْا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ اِلَّاۤ اَیَّامًا مَّعْدُوْدٰتٍ ۪ وَّغَرَّهُمْ فِیْ دِیْنِهِمْ مَّا كَانُوْا یَفْتَرُوْنَ 24
24. তদুপরি ওরা ধারণা করে বসে আছে যে, জাহান্নামের আগুন ওদের কখনোই স্পর্শ করবে না। আর যদি কখনো করেও, তবে তা কয়েক মুহূর্তের বেশি সময়ের জন্যে নয়। আসলে ওরা ধোঁকায় পড়ে রয়েছে। কেননা ওরা নিজেরাই নিজেদের দ্বীনের মধ্যে মনগড়া আকিদা-বিশ্বাস ঢুকিয়ে নিয়েছে।
فَكَیْفَ اِذَا جَمَعْنٰهُمْ لِیَوْمٍ لَّا رَیْبَ فِیْهِ ۫ وَوُفِّیَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ 25
25. কখনো ভেবে দেখেছো, বিচারের দিন ওদের পরিণতি কী হতে যাচ্ছে? সন্দেহ নেই, সেদিন অবশ্যই আসবে। ওদের প্রত্যেককে সেদিন জমায়েত করে কাজের বিনিময় দেয়া হবে। করো উপর সামান্য জুলুমও করা হবে না।
قُلِ اللّٰهُمَّ مٰلِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِی الْمُلْكَ مَنْ تَشَآءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَآءُ ؗ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَآءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَآءُ ؕ بِیَدِكَ الْخَیْرُ ؕ اِنَّكَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ 26
26. বলো, হে আল্লাহ, তুমিই এ বিশ্ব রাজ্যের একক মালিক। তুমি যাকে চাও ক্ষমতা দান করো, আর যাকে চাও তাকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দাও। তোমার ইচ্ছায় কেউ মর্যাদা-সম্মান পায়, আবার তোমার ইচ্ছাতেই কেউ লাঞ্ছিত-অপমানিত হয়। কার্যত তোমার হাতেই সব কল্যাণের চাবিকাঠি। সন্দেহ নেই, তুমি সবার উপর প্রচন্ড ক্ষমতার অধিকারী।
تُوْلِجُ الَّیْلَ فِی النَّهَارِ وَتُوْلِجُ النَّهَارَ فِی الَّیْلِ ؗ وَتُخْرِجُ الْحَیَّ مِنَ الْمَیِّتِ وَتُخْرِجُ الْمَیِّتَ مِنَ الْحَیِّ ؗ وَتَرْزُقُ مَنْ تَشَآءُ بِغَیْرِ حِسَابٍ 27
27. হে আল্লাহ, তুমিই রাতকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাতের মধ্যে আবর্তন করাও। আবার তুমিই মৃত থেকে জীবিতকে বের করে আনো, অনুরূপ জীবিত থেকে মৃতকেও বের করো। আর তুমি তোমার ইচ্ছানুযায়ী যাকে খুশি বেহিসাব জীবিকা দিয়ে থাকো।
لَا یَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُوْنَ الْكٰفِرِیْنَ اَوْلِیَآءَ مِنْ دُوْنِ الْمُؤْمِنِیْنَ ۚ وَمَنْ یَّفْعَلْ ذٰلِكَ فَلَیْسَ مِنَ اللّٰهِ فِیْ شَیْءٍ اِلَّاۤ اَنْ تَتَّقُوْا مِنْهُمْ تُقٰىةً ؕ وَیُحَذِّرُكُمُ اللّٰهُ نَفْسَهٗ ؕ وَاِلَی اللّٰهِ الْمَصِیْرُ 28
28. হে ঈমানদারেরা, খবরদার! পাক্কা ঈমানদার ছাড়া কোনো কাফেরকে অন্তরঙ্গ বন্ধু বানাবে না। এমনটা করলে, তার সাথে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তবে হ্যাঁ, ওদের জুলুম থেকে বাঁচার জন্যে উপরে উপরে সম্পর্ক রাখলে, তাকে ক্ষমা করা হবে। মনে রেখো, আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের শাস্তির ব্যাপারে বারবার সতর্ক করছেন। আর তোমাদেরকে তাঁর কাছেই ফিরতে হবে।
قُلْ اِنْ تُخْفُوْا مَا فِیْ صُدُوْرِكُمْ اَوْ تُبْدُوْهُ یَعْلَمْهُ اللّٰهُ ؕ وَیَعْلَمُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ ؕ وَاللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ 29
29. হে নবী, তুমি ঈমানদারদের জানিয়ে দাও, তোমাদের মনের কথা গোপন করো কিংবা প্রকাশ করো- উভয় অবস্থায়ই আল্লাহ সব জানেন। কেননা মহাকাশ ও পৃথিবীর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সকল বিষয়ের জ্ঞানও আল্লাহর রয়েছে। বস্তুত আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
یَوْمَ تَجِدُ كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ مِنْ خَیْرٍ مُّحْضَرًا ۛۖۚ وَّ مَا عَمِلَتْ مِنْ سُوْٓءٍ ۛۚ تَوَدُّ لَوْ اَنَّ بَیْنَهَا وَ بَیْنَهٗۤ اَمَدًۢا بَعِیْدًا ؕ وَ یُحَذِّرُكُمُ اللّٰهُ نَفْسَهٗ ؕ وَاللّٰهُ رَءُوْفٌۢ بِالْعِبَادِ۠ 30
30. যেদিন প্রত্যেকেই তার ভালো ও মন্দ উভয় কাজের মুখোমুখি হবে, সেদিন ওরা আফসোস করে বলবে, হায়! যদি এ দিনটি কোনোদিন না আসতো! কিন্তু না, সেদিনটি অবশ্যই আসবে। আল্লাহ তোমাদেরকে আগেভাগেই তাঁর ব্যাপারে সতর্ক করে যাচ্ছেন। বস্তুত আল্লাহ বান্দাদের প্রতি খুবই দয়ালু।
قُلْ اِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللّٰهَ فَاتَّبِعُوْنِیْ یُحْبِبْكُمُ اللّٰهُ وَیَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ ؕ وَاللّٰهُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 31
31. হে নবী, লোকদের বলো, তোমরা যদি সত্যি সত্যি আল্লাহকে ভালোবেসে থাকো, তবে খাঁটিভাবে আমাকে অনুসরণ করো। কেননা এ পথে এলেই কেবল আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন। এমনকি, তোমাদের অতীত গুণাহগুলোও মাফ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল, বড় মেহেরবান।
قُلْ اَطِیْعُوا اللّٰهَ وَالرَّسُوْلَ ۚ فَاِنْ تَوَلَّوْا فَاِنَّ اللّٰهَ لَا یُحِبُّ الْكٰفِرِیْنَ 32
32. তাদেরকে আরো বলো, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের অনুগত হয়ে চলো। নবী হে, এরপরেও যদি ওরা তোমার ডাকে সাড়া না দেয়, তবে জানিয়ে দাও, আল্লাহ কখনোই এ ধরনের কাফেরদের ভালোবাসেন না।
اِنَّ اللّٰهَ اصْطَفٰۤی اٰدَمَ وَ نُوْحًا وَّاٰلَ اِبْرٰهِیْمَ وَ اٰلَ عِمْرٰنَ عَلَی الْعٰلَمِیْنَۙ 33
33. নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম ও নুহ এবং ইবরাহিম ও ইমরানের বংশধরদের মানবজাতির মধ্যে নেতৃত্বের জন্যে বাছাই করেছিলেন।
ذُرِّیَّةًۢ بَعْضُهَا مِنْۢ بَعْضٍ ؕ وَ اللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌۚ 34
34. এসব লোকেরা একই বংশ থেকে কালক্রমে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। বস্তুত আল্লাহ সব শোনেন, সব জানেন।
اِذْ قَالَتِ امْرَاَتُ عِمْرٰنَ رَبِّ اِنِّیْ نَذَرْتُ لَكَ مَا فِیْ بَطْنِیْ مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّیْ ۚ اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ 35
35. ঘটনা শোনো, আল্লাহ এভাবে ইমরানের বংশের ঐ মহিলার দোয়া শুনেছিলেন, যে ফরিয়াদ করে বলেছিলো, হে আমার রব, আমি আমার গর্ভের এ সন্তানকে একমাত্র তোমার জন্যে উৎসর্গ করছি। সুতরাং আমার এ ইচ্ছে তুমি কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি আমায় শুনছো এবং আমার সবকিছু জানো।
فَلَمَّا وَضَعَتْهَا قَالَتْ رَبِّ اِنِّیْ وَضَعْتُهَاۤ اُنْثٰی ؕ وَاللّٰهُ اَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ ؕ وَلَیْسَ الذَّكَرُ كَالْاُنْثٰی ۚ وَ اِنِّیْ سَمَّیْتُهَا مَرْیَمَ وَ اِنِّیْۤ اُعِیْذُهَا بِكَ وَذُرِّیَّتَهَا مِنَ الشَّیْطٰنِ الرَّجِیْمِ 36
36. এরপর সে সন্তান প্রসব করে বলে উঠলো, হে আমার রব, আমার তো একটা মেয়ে হয়েছে। যদিও আল্লাহ আগে থেকেই জানতেন, সে কী জন্ম দিতে যাচ্ছে। সে তখন আরো বলতে লাগলো, আসলে মেয়েরা ছেলেদের মতো কাজে আসে না। যাইহোক আমি এ মেয়েকে মারিয়াম নাম দিচ্ছি। হে রব, সবকিছুর পরেও আমি এ মেয়ে ও তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অভিশপ্ত শয়তানের হাত থেকে তোমার জিম্মায় তুলে দিচ্ছি।
فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بِقَبُوْلٍ حَسَنٍ وَّاَنْۢبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا ۙ وَّكَفَّلَهَا زَكَرِیَّا ؕۚ كُلَّمَا دَخَلَ عَلَیْهَا زَكَرِیَّا الْمِحْرَابَ ۙ وَجَدَ عِنْدَهَا رِزْقًا ۚ قَالَ یٰمَرْیَمُ اَنّٰی لَكِ هٰذَا ؕ قَالَتْ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یَرْزُقُ مَنْ یَّشَآءُ بِغَیْرِ حِسَابٍ 37
37. অতঃপর তার রব মারিয়ামকে খুশিমনে কবুল করে নিলেন। পরে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে খুবই ভালো মেয়ে হিসেবে তাকে গড়ে তুললেন। এরপর একটা সময় যাকারিয়া যখনই মারিয়ামের কক্ষে আসতো, তখনই সেখানে নানা ধরনের খাবার দেখতে পেতো। একদিন সে তাকে জিজ্ঞেস করলো, মারিয়াম, তোমার কাছে এসব খাবাব কোত্থেকে আসে? মারিয়াম উত্তর দিলো, আল্লাহর কাছ থেকে। আসলে আল্লাহ এভাবে যাকে চান, কল্পনার বাইরে রিযিক দিয়ে থাকেন।
هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِیَّا رَبَّهٗ ۚ قَالَ رَبِّ هَبْ لِیْ مِنْ لَّدُنْكَ ذُرِّیَّةً طَیِّبَةً ۚ اِنَّكَ سَمِیْعُ الدُّعَآءِ 38
38. উত্তর শুনে যাকারিয়া সেখানেই দাঁড়িয়ে আপন রবের কাছে ফরিয়াদ জানালো, হে আমার রব, তোমার বিশেষ ক্ষমতাবলে আমায় একটা নেক সন্তান দান করো। নিশ্চয়ই তুমি আমার দোয়া শুনছো।
فَنَادَتْهُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ وَ هُوَ قَآىِٕمٌ یُّصَلِّیْ فِی الْمِحْرَابِ ۙ اَنَّ اللّٰهَ یُبَشِّرُكَ بِیَحْیٰی مُصَدِّقًۢا بِكَلِمَةٍ مِّنَ اللّٰهِ وَ سَیِّدًا وَّحَصُوْرًا وَّنَبِیًّا مِّنَ الصّٰلِحِیْنَ 39
39. এরপর যাকারিয়া সে কক্ষেই নামাজে দাঁড়ালো। এমন সময় তার কাছে ফেরেশতা এসে বললো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে ইয়াহইয়া নামের এক সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছেন। সে আল্লাহর একটি বিশেষ নিদর্শনকে সত্যায়ন করবে, সমাজে নেতৃত্ব দেবে, পরিপূর্ণ সংযমী হবে এবং একজন পূণ্যবান নবীও হবে।
قَالَ رَبِّ اَنّٰی یَكُوْنُ لِیْ غُلٰمٌ وَّقَدْ بَلَغَنِیَ الْكِبَرُ وَ امْرَاَتِیْ عَاقِرٌ ؕ قَالَ كَذٰلِكَ اللّٰهُ یَفْعَلُ مَا یَشَآءُ 40
40. যাকারিয়া বিনয়ের সাথে জানতে চাইলো, হে আমার রব, আমিতো একেবারে বুড়ো হয়ে গেছি। তার উপরে আমার স্ত্রীও বন্ধ্যা। এ অবস্থায় আমাদের সন্তান পাওয়ার জন্যে কী করতে হবে? তাকে বলা হলো, হ্যাঁ, তুমি স্বাভাবিক পন্থাই অবলম্বন করো। মনে রেখো, আল্লাহ চাইলে সবই করতে পারেন।
قَالَ رَبِّ اجْعَلْ لِّیْۤ اٰیَةً ؕ قَالَ اٰیَتُكَ اَلَّا تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلٰثَةَ اَیَّامٍ اِلَّا رَمْزًا ؕ وَاذْكُرْ رَّبَّكَ كَثِیْرًا وَّسَبِّحْ بِالْعَشِیِّ وَ الْاِبْكَارِ۠ 41
41. এরপর যাকারিয়া তার আত্মপ্রশান্তির জন্যে বললো, হে আমার প্রভু, এ ব্যাপারে আমাকে একটি আলামত দাও। আল্লাহ বললেন, এসময় তিনদিন পর্যন্ত তুমি লোকদের সাথে ইশারা-ইংগিত ছাড়া কথা বলতে সক্ষম হবে না। মনে রেখো, এ সময় তোমার কাজই হবে বেশি বেশি তোমার প্রভুকে ডাকা এবং সকাল-সন্ধ্যা তাঁর তসবিহ পাঠ করা।
وَاِذْ قَالَتِ الْمَلٰٓىِٕكَةُ یٰمَرْیَمُ اِنَّ اللّٰهَ اصْطَفٰىكِ وَطَهَّرَكِ وَاصْطَفٰىكِ عَلٰی نِسَآءِ الْعٰلَمِیْنَ 42
42. হে নবী, তুমি লোকদের শুনাও, এরপর একদিন ফেরেশতা মারিয়ামের কাছে এসে বললো, হে মারিয়াম, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর কাজের জন্যে মনোনীত করেছেন। তোমাকে পবিত্রতা দান করেছেন এবং পৃথিবীর সব নারীদের উপর তোমাকে বিশেষ মর্যাদার জন্যে বাছাই করেছেন।
یٰمَرْیَمُ اقْنُتِیْ لِرَبِّكِ وَاسْجُدِیْ وَارْكَعِیْ مَعَ الرّٰكِعِیْنَ 43
43. হে মারিয়াম, সুতরাং তোমার প্রভুর অনুগত হয়ে থাকো। কেবল তাকেই সিজদা করে চলো এবং বিনয়-অবনতদের সাথে তুমিও তাঁর প্রতি বিনয়-অবনত থাকো।
ذٰلِكَ مِنْ اَنْۢبَآءِ الْغَیْبِ نُوْحِیْهِ اِلَیْكَ ؕ وَمَا كُنْتَ لَدَیْهِمْ اِذْ یُلْقُوْنَ اَقْلَامَهُمْ اَیُّهُمْ یَكْفُلُ مَرْیَمَ ۪ وَمَا كُنْتَ لَدَیْهِمْ اِذْ یَخْتَصِمُوْنَ 44
44. হে নবী, এসব অদৃশ্যের খবরাখবর আমি তোমাকে অহির মাধ্যমে না জানালে, তুমি জানতে পারতে না। তুমি সেখানে উপস্থিত ছিলে না, যখন সেখানকার খাদেমরা মারিয়ামের অভিভাবক হওয়ার জন্যে কলম নিক্ষেপ করে লটারি করছিলো। এমনকি, তুমি সে দৃশ্যও দেখোনি, যখন ওরা নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে ঝগড়া করছিলো।
اِذْ قَالَتِ الْمَلٰٓىِٕكَةُ یٰمَرْیَمُ اِنَّ اللّٰهَ یُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِّنْهُ ۖۗ اسْمُهُ الْمَسِیْحُ عِیْسَی ابْنُ مَرْیَمَ وَجِیْهًا فِی الدُّنْیَا وَالْاٰخِرَةِ وَمِنَ الْمُقَرَّبِیْنَۙ 45
45. এরপর ফেরেশতা মারিয়ামকে আরো বললো, হে মারিয়াম, আল্লাহ তোমাকে তাঁর একটি নিদর্শনের সুসংবাদ দিচ্ছেন। তার পরিচয় হবে মারিয়ামের পুত্র ঈসা আল মসিহ। সে দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মানিত হবে এবং আল্লাহর খুব কাছের একজন বান্দা হবে।
وَیُكَلِّمُ النَّاسَ فِی الْمَهْدِ وَ كَهْلًا وَّمِنَ الصّٰلِحِیْنَ 46
46. সে দোলনায় থাকতেই লোকদের সাথে কথা বলবে। আর পরিণত বয়সে তো কথা বলবেই। সে সত্যিই আল্লাহর এক বড় নেক বান্দা হবে।
قَالَتْ رَبِّ اَنّٰی یَكُوْنُ لِیْ وَلَدٌ وَّلَمْ یَمْسَسْنِیْ بَشَرٌ ؕ قَالَ كَذٰلِكِ اللّٰهُ یَخْلُقُ مَا یَشَآءُ ؕ اِذَا قَضٰۤی اَمْرًا فَاِنَّمَا یَقُوْلُ لَهٗ كُنْ فَیَكُوْنُ 47
47. একথা শুনে মারিয়াম বললো, হে আমার রব, আমার সন্তান কিভাবে হবে? আমাকেতো কোনো পুরুষ স্পর্শও করেনি। আল্লাহ তাকে বললেন, স্বাভাবিক ভাবেই হবে। আল্লাহ যা চান তা সৃষ্টি করেন। তিনি যখন কোনো কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন শুধু বলেন ‘হও’ এবং তা সাথেসাথে হয়ে যায়।
وَیُعَلِّمُهُ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْرٰىةَ وَالْاِنْجِیْلَۚ 48
48. ফেরেশতা তাকে আরো বলতে লাগলো, আল্লাহ তোমার সন্তানকে কিতাব ও হিকমাত শিখাবেন এবং তাওরাত ও ইনজিল কিতাবের পূর্ণ জ্ঞান তাকে দিবেন।
وَرَسُوْلًا اِلٰی بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۙ۬ اَنِّیْ قَدْ جِئْتُكُمْ بِاٰیَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ ۙ اَنِّیْۤ اَخْلُقُ لَكُمْ مِّنَ الطِّیْنِ كَهَیْـَٔةِ الطَّیْرِ فَاَنْفُخُ فِیْهِ فَیَكُوْنُ طَیْرًۢا بِاِذْنِ اللّٰهِ ۚ وَاُبْرِئُ الْاَكْمَهَ وَ الْاَبْرَصَ وَاُحْیِ الْمَوْتٰی بِاِذْنِ اللّٰهِ ۚ وَاُنَبِّئُكُمْ بِمَا تَاْكُلُوْنَ وَمَا تَدَّخِرُوْنَ ۙ فِیْ بُیُوْتِكُمْ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَۚ 49
49. এভাবেই একসময় ঈসা বনি ইসরাইলের কাছে রসুল হয়ে এলো। সে তাদেরকে বললো, আমি তোমাদের প্রভুর নিদর্শন নিয়ে প্রেরিত হয়েছি। আর আমার নবুওয়াতের প্রমাণ দেখো, আমি তোমাদের চোখের সামনে কাদামাটি দিয়ে একটি পাখির আকৃতি বানাচ্ছি, এরপর তাতে ফুঁ দিচ্ছি, তোমরা দেখতে পাচ্ছো সেটি আল্লাহর হুকুমে সত্যি সত্যি পাখি হয়ে উড়ে যাচ্ছে। আমি জন্মান্ধকে দৃষ্টিশক্তি দিচ্ছি। কুষ্ঠরোগীকে মুহূর্তের মধ্যে সারিয়ে তুলছি। এমনকি, তোমাদের মৃতদেরকেও চাইলে আল্লাহর হুকুমে জীবিত করে তুলছি। আমি তোমাদের এটাও জানিয়ে দিচ্ছি, তোমরা নিজেদের ঘরে কী খাও এবং কী পরবর্তী দিনের জন্যে জমিয়ে রাখো। ওহে ইসরাইলিরা, তোমরা যদি সত্যিই মুমিন হয়ে থাকো, তবে এসব নিদর্শনের মধ্যে তোমাদের শেখার অনেক কিছু রয়েছে।
وَمُصَدِّقًا لِّمَا بَیْنَ یَدَیَّ مِنَ التَّوْرٰىةِ وَ لِاُحِلَّ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِیْ حُرِّمَ عَلَیْكُمْ وَجِئْتُكُمْ بِاٰیَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ ۫ فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاَطِیْعُوْنِ 50
50. ঈসা ওদেরকে আরো বললো, শোনো! আমি তোমাদের কাছে থাকা তাওরাতের বিধি-বিধানের সত্যতা স্বীকার করি। তবে আগে থেকে হারাম হয়ে থাকা কিছু কিছু জিনিসকে তোমাদের জন্যে হালাল করে দিচ্ছি। জেনে রেখো, আমি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছি। অতএব আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার অনুগত হয়ে চলো।
اِنَّ اللّٰهَ رَبِّیْ وَ رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوْهُ ؕ هٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِیْمٌ 51
51. মনে রেখো, যে আল্লাহ আমার রব, সে আল্লাহ তোমাদেরও রব। কাজেই কেবল তাঁরই ইবাদত করো। এটাই তোমাদের মুক্তির সহজ পথ।
فَلَمَّاۤ اَحَسَّ عِیْسٰی مِنْهُمُ الْكُفْرَ قَالَ مَنْ اَنْصَارِیْۤ اِلَی اللّٰهِ ؕ قَالَ الْحَوَارِیُّوْنَ نَحْنُ اَنْصَارُ اللّٰهِ ۚ اٰمَنَّا بِاللّٰهِ ۚ وَاشْهَدْ بِاَنَّا مُسْلِمُوْنَ 52
52. এরপর একটা সময় ঈসা বুঝতে পারলো, ইসরাইলিরা তার দাওয়াতের বিরুদ্ধাচরণ করতে যাচ্ছে। তখন সে ঘোষণা করলো কারা আছো আমাকে আল্লাহর পথে সাহায্য করবে? এ সময় তার একনিষ্ঠ সাথি হাওয়ারিরা সাড়া দিয়ে বললো, আমরা আল্লাহর পথে আপনার সাহায্যকারী রয়েছি। আমরা আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ঈমান রাখি। আর আপনি সাক্ষী থাকুন, আমরা আল্লাহয় পূর্ণ সমর্পিত রয়েছি।
رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا بِمَاۤ اَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُوْلَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشّٰهِدِیْنَ 53
53. এরপর হাওয়ারিরা দোয়া করলো, হে আমাদের রব, তুমি আমাদের যেসব বিধি-বিধান দিয়েছো আমরা তার সবই মেনে নিয়েছি এবং আমরা তোমার রসুলের একান্ত অনুসারী হয়েছি। সুতরাং আমাদেরকেও এ পথের সাক্ষীদের দলে জায়গা দাও।
وَمَكَرُوْا وَ مَكَرَ اللّٰهُ ؕ وَاللّٰهُ خَیْرُ الْمٰكِرِیْنَ۠ 54
54. একসময় কাফেরেরা গভীর ষড়যন্ত্র করতে লাগলো। আল্লাহও ওদের জবাবে মজবুত কৌশল খাটালেন। আর আল্লাহর কৌশলের মোকাবেলায় কে টিকে থাকে?
اِذْ قَالَ اللّٰهُ یٰعِیْسٰۤی اِنِّیْ مُتَوَفِّیْكَ وَ رَافِعُكَ اِلَیَّ وَمُطَهِّرُكَ مِنَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَجَاعِلُ الَّذِیْنَ اتَّبَعُوْكَ فَوْقَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِلٰی یَوْمِ الْقِیٰمَةِ ۚ ثُمَّ اِلَیَّ مَرْجِعُكُمْ فَاَحْكُمُ بَیْنَكُمْ فِیْمَا كُنْتُمْ فِیْهِ تَخْتَلِفُوْنَ 55
55. হে নবী, এবার শোনো, এসব ষড়যন্ত্রের পর আল্লাহ ঈসাকে বললেন, আমি তোমার দুনিয়ায় অবস্থানের সময়কাল পূর্ণ করে দিচ্ছি এবং তোমাকে আমার কাছে তুলে নিচ্ছি। এভাবেই কাফেরদের হাত থেকে তোমাকে পবিত্র রাখছি। আর তোমাকে ওয়াদা দিচ্ছি, এসব কাফেরদের উপর তোমার অনুসারীদের কেয়ামত পর্যন্ত বিজয়ী রাখবো। এরপরতো একদিন তোমাদের সবাইকে আমার কাছে ফিরতে হবে। সেদিন তোমাদের ভিন্ন ভিন্ন মতের ব্যাপারে আমার চূড়ান্ত রায় শুনাবো।
فَاَمَّا الَّذِیْنَ كَفَرُوْا فَاُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِیْدًا فِی الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَةِؗ وَمَا لَهُمْ مِّنْ نّٰصِرِیْنَ 56
56. জেনে রেখো, যারা কুফরির পথে হেঁটেছে আমি ওদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি দেবো। ওদের সামান্য সাহায্য করারও কেউ থাকবে না।
وَاَمَّا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَیُوَفِّیْهِمْ اُجُوْرَهُمْ ؕ وَاللّٰهُ لَا یُحِبُّ الظّٰلِمِیْنَ 57
57. পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করে চলেছে তাদেরকে অবশ্যই এসবের পূর্ণ বিনিময় দেয়া হবে। বস্তুত আল্লাহ কখনোই জালেমদের পছন্দ করেন না।
ذٰلِكَ نَتْلُوْهُ عَلَیْكَ مِنَ الْاٰیٰتِ وَ الذِّكْرِ الْحَكِیْمِ 58
58. হে নবী, এতক্ষণ আমি তোমাকে যা কিছু শুনালাম, এগুলো সবই সুস্পষ্ট আয়াত ও হিকমতপূর্ণ উপদেশবাণী।
اِنَّ مَثَلَ عِیْسٰی عِنْدَ اللّٰهِ كَمَثَلِ اٰدَمَ ؕ خَلَقَهٗ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهٗ كُنْ فَیَكُوْنُ 59
59. আসলে আল্লাহর দৃষ্টিতে ঈসার উপমা অনেকটা আদমের মতো। আল্লাহ প্রথমে মাটি দিয়ে আদমের আকৃতি বানালেন। এরপর হুকুম করলেন ‘হও’, আর তখনই সে হয়ে গেলো।
اَلْحَقُّ مِنْ رَّبِّكَ فَلَا تَكُنْ مِّنَ الْمُمْتَرِیْنَ 60
60. হে নবী, এসব প্রকৃত সত্য তোমার রবের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। কাজেই এ ব্যাপারে তুমি কোনোভাবেই সন্দেহ-সংশয়বাদীদের দলে নাম লিখিয়ো না।
فَمَنْ حَآجَّكَ فِیْهِ مِنْۢ بَعْدِ مَا جَآءَكَ مِنَ الْعِلْمِ فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ اَبْنَآءَنَا وَاَبْنَآءَكُمْ وَ نِسَآءَنَا وَنِسَآءَكُمْ وَاَنْفُسَنَا وَاَنْفُسَكُمْ ۫ ثُمَّ نَبْتَهِلْ فَنَجْعَلْ لَّعْنَتَ اللّٰهِ عَلَی الْكٰذِبِیْنَ 61
61. হে নবী, তোমার মাধ্যমে এসব ব্যাপারের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান লোকদের দেয়া হলো। এরপরও যদি কেউ তোমার সাথে এ বিষয়ে খামখা তর্ক করতে চায়, তবে তাকে সরাসরি বলো, ঠিক আছে! চলো, আমরা আমাদের সকল সন্তান, স্ত্রী ও স্বয়ং নিজেরা এক স্থানে জমায়েত হই। এরপর আমরা সবাই মিলে আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে আবেদন করে বলি আমাদের মধ্যে যারা এসব ব্যাপারে মিথ্যা বলছে, তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ নামুক।
اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الْقَصَصُ الْحَقُّ ۚ وَ مَا مِنْ اِلٰهٍ اِلَّا اللّٰهُ ؕ وَاِنَّ اللّٰهَ لَهُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ 62
62. সন্দেহ নেই, এটাই সত্য বর্ণনা। জেনে রেখো, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আর আল্লাহ প্রচন্ড ক্ষমতাশালী এবং প্রজ্ঞাময়।
فَاِنْ تَوَلَّوْا فَاِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌۢ بِالْمُفْسِدِیْنَ۠ 63
63. অতএব এরপরেও ওরা যদি সত্যবিমুখ হয়, তবে এসব ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে আল্লাহ ভালোই জ্ঞান রাখেন।
قُلْ یٰۤاَهْلَ الْكِتٰبِ تَعَالَوْا اِلٰی كَلِمَةٍ سَوَآءٍۭ بَیْنَنَا وَبَیْنَكُمْ اَلَّا نَعْبُدَ اِلَّا اللّٰهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهٖ شَیْـًٔا وَّلَا یَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا اَرْبَابًا مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ ؕ فَاِنْ تَوَلَّوْا فَقُوْلُوا اشْهَدُوْا بِاَنَّا مُسْلِمُوْنَ 64
64. হে মুসলমানেরা, তোমরা ইহুদি-খ্রিস্টানদের ডেকে বলো, এসো, সেসব কথায় আমরা একমত হই, যা আমাদের ও তোমাদের কিতাবে একইভাবে এসেছে। আর তা হচ্ছে, আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত-বন্দেগি করবো না। আমরা কখনোই তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরিক করবো না এবং আল্লাহ ছাড়া ভিন্ন কাউকে আমরা রব হিসেবে মানবো না। হে মুসলমানেরা, তোমাদের এ দাওয়াতের পরেও যদি ওরা মুখ ফিরিয়ে থাকে, তবে সাফসাফ বলে দাও, তোমরা সাক্ষী থাকো আমরা এসব মেনে মুসলিম হয়েছি।
یٰۤاَهْلَ الْكِتٰبِ لِمَ تُحَآجُّوْنَ فِیْۤ اِبْرٰهِیْمَ وَمَاۤ اُنْزِلَتِ التَّوْرٰىةُ وَالْاِنْجِیْلُ اِلَّا مِنْۢ بَعْدِهٖ ؕ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ 65
65. হে কিতাবওয়ালারা, ইবরাহিম তোমাদের কাদের দলের লোক ছিলো- তা নিয়ে তোমরা কেন বিতর্ক করছো? অথচ তাওরাত ও ইনজিল নাযিলের বহু আগে সে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। তোমাদের কি সাধারণ কান্ড জ্ঞানও নেই?
هٰۤاَنْتُمْ هٰۤؤُلَآءِ حَاجَجْتُمْ فِیْمَا لَكُمْ بِهٖ عِلْمٌ فَلِمَ تُحَآجُّوْنَ فِیْمَا لَیْسَ لَكُمْ بِهٖ عِلْمٌ ؕ وَاللّٰهُ یَعْلَمُ وَاَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ 66
66. তোমরাতো এর আগে জানা-শোনা বিষয়ে বিতর্ক করতে। কিন্তু কি আজব ব্যাপার! এখন দেখি তোমরা যে বিষয়ে কোনো জ্ঞানই রাখো না, সে বিষয়েও বিতর্কে জড়াচ্ছো। প্রকৃতার্থে এ ব্যাপারে তোমরা সত্যটা জানো না; বরং আল্লাহই জানেন।
مَا كَانَ اِبْرٰهِیْمُ یَهُوْدِیًّا وَّلَا نَصْرَانِیًّا وَّلٰكِنْ كَانَ حَنِیْفًا مُّسْلِمًا ؕ وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ 67
67. কাজেই জেনে রেখো, ইবরাহিম ইহুদিও ছিলো না, খ্রিস্টানও ছিলো না; বরং সে ছিলো একজন একনিষ্ঠ মুসলিম। আর সে কখনোই আমার সাথে কাউকে শরিক করেনি।
اِنَّ اَوْلَی النَّاسِ بِاِبْرٰهِیْمَ لَلَّذِیْنَ اتَّبَعُوْهُ وَهٰذَا النَّبِیُّ وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا ؕ وَاللّٰهُ وَلِیُّ الْمُؤْمِنِیْنَ 68
68. এর আগে যারা ইবরাহিমের দ্বীন মেনে চলতো, লোকদের মধ্যে কেবল তারাই ইবরাহিমের আপনজন ছিলো। আর এখন তার আপনজন হলো এই শেষ নবী ও তার অনুসারী ঈমানদার মুসলমানেরা। বস্তুত আল্লাহ কেবল মুমিনদেরই অভিভাবক হয়ে থাকেন।
وَدَّتْ طَّآىِٕفَةٌ مِّنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ لَوْ یُضِلُّوْنَكُمْ ؕ وَمَا یُضِلُّوْنَ اِلَّاۤ اَنْفُسَهُمْ وَ مَا یَشْعُرُوْنَ 69
69. হে মুসলমানেরা, সতর্ক থেকো! কিতাবওয়ালাদের একটা দল যে কোনো মূল্যে তোমাদেরকে সত্য-সঠিক পথে থেকে বিভ্রন্ত করতে চায়। আসলে এ পথে ওরা কেবল নিজেদেরকেই বিপথগামী করছে; যদিও তা বুঝে উঠতে পারছে না।
یٰۤاَهْلَ الْكِتٰبِ لِمَ تَكْفُرُوْنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ وَاَنْتُمْ تَشْهَدُوْنَ 70
70. ওহে কিতাবীরা, তোমরা কেন আল্লাহর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করে চলছো? অথচ তোমরাই এসবের সত্যতার সাক্ষী হয়ে আছো।
یٰۤاَهْلَ الْكِتٰبِ لِمَ تَلْبِسُوْنَ الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوْنَ الْحَقَّ وَ اَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ۠ 71
71. হে কিতাবীরা, এ তোমাদের কেমন আচরণ, তোমরা সত্যের সাথে মিথ্যাকে মিশিয়ে সত্যকে সন্দেহযুক্ত করে তুলছো? এমনকি, কখনো কখনো সবকিছু জেনে-বুঝেও সত্যকে লুকিয়ে যাচ্ছো।
وَقَالَتْ طَّآىِٕفَةٌ مِّنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ اٰمِنُوْا بِالَّذِیْۤ اُنْزِلَ عَلَی الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوْۤا اٰخِرَهٗ لَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَۚۖ 72
72. এসব কিতাবওয়ালাদের একটি দল নিজেদের লোকদের কৌশল শিখিয়ে বলে, তোমরা দিনের প্রথমভাগে ঈমানদারদের জন্যে যা কিছু নাযিল হয়েছে, তার উপর ঈমান আনবে, আর ঠিক দিনের শেষভাগে লোকদের সামনে এসে ঈমান ত্যাগের ঘোষণা দেবে। এভাবে একটা সময় তোমাদের দেখাদেখি সাধারণ লোকেরাও ঈমান থেকে সরে আসবে।
وَلَا تُؤْمِنُوْۤا اِلَّا لِمَنْ تَبِعَ دِیْنَكُمْ ؕ قُلْ اِنَّ الْهُدٰی هُدَی اللّٰهِ ۙ اَنْ یُّؤْتٰۤی اَحَدٌ مِّثْلَ مَاۤ اُوْتِیْتُمْ اَوْ یُحَآجُّوْكُمْ عِنْدَ رَبِّكُمْ ؕ قُلْ اِنَّ الْفَضْلَ بِیَدِ اللّٰهِ ۚ یُؤْتِیْهِ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰهُ وَاسِعٌ عَلِیْمٌۚۙ 73
73. ওরা নিজেদের লোকদের বলে, তোমরা নিজেদের দ্বীনি লোকজন ছাড়া অন্য কারো কথা মানবে না। হে নবী, তুমি ওদের বলো, সঠিক পথতো কেবল আল্লাহই দেখান। হে নবী, তুমি ওদের জিজ্ঞেস করো, তাহলে তোমরা কি এ ভয়ে আছো যে, ইতোপূর্বে তোমাদেরকে যা দেয়া হয়েছিলো, এখন তা অন্য কাউকে দেয়া হচ্ছে এবং তারা এর ভিত্তিতে তোমাদের বিরুদ্ধে তোমাদের প্রভুর কাছে শক্তিশালী প্রমাণ পেশ করবে? তবে শুনে রেখো, আল্লাহর অনুগ্রহ কেবল তাঁরই ইচ্ছাধীন। তিনি যাকে তা দিতে চান কেবল সেই তা পায়। বস্তুত আল্লাহ কখনো সংকীর্ণমনা নন। আর কোনোকিছুই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়।
یَّخْتَصُّ بِرَحْمَتِهٖ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِیْمِ 74
74. নিজের দয়া ও অনুগ্রহের জন্যে আল্লাহ তাঁর ইচ্ছানুযায়ী লোক বাছাই করে নেন। আসলেই আল্লাহ মহান অনুগ্রহকারী।
وَمِنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ مَنْ اِنْ تَاْمَنْهُ بِقِنْطَارٍ یُّؤَدِّهٖۤ اِلَیْكَ ۚ وَمِنْهُمْ مَّنْ اِنْ تَاْمَنْهُ بِدِیْنَارٍ لَّا یُؤَدِّهٖۤ اِلَیْكَ اِلَّا مَا دُمْتَ عَلَیْهِ قَآىِٕمًا ؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ قَالُوْا لَیْسَ عَلَیْنَا فِی الْاُمِّیّٖنَ سَبِیْلٌ ۚ وَیَقُوْلُوْنَ عَلَی اللّٰهِ الْكَذِبَ وَهُمْ یَعْلَمُوْنَ 75
75. কিতাবওয়ালাদের মধ্যে কিছু লোক রয়েছে যথেষ্ট আমানতদার। তাদের কাছে পাহাড় সমান সম্পদ আমানত রাখলেও তারা তা ঠিকঠাকমতো ফিরিয়ে দেবে। আবার কিছু লোক রয়েছে চরম খেয়ানতকারী। ওদের কাছে যদি সামান্য এক পয়সাও আমানত রাখো, তবে ওদের উপর চড়াও না হয়ে তা আদায় করতে পারবে না। ওরা নিজেদের এ খেয়ানতের ভিত্তি হিসেবে এ দলিল পেশ করে যে, যারা আমাদের দ্বীনের বাইরে সেসব মূর্খদের প্রতি আমাদের কোনো আইন-কানুনের বাধ্য-বাধকতা নেই। ওরা এ ব্যাপারে জেনে বুঝে আল্লাহর উপর সম্পূর্ণ মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।
بَلٰی مَنْ اَوْفٰی بِعَهْدِهٖ وَاتَّقٰی فَاِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الْمُتَّقِیْنَ 76
76. তবে হ্যাঁ, যারা আমানতের দায়ভার সঠিকভাবে আদায় করবে এবং এ ব্যাপারে তাকওয়ার নীতিতে চলবে, তারা অবশ্যই আল্লাহর ভালোবাসা পাবে। বস্তুত আল্লাহ এমন মুত্তাকীদের বড়ই ভালোবাসেন।
اِنَّ الَّذِیْنَ یَشْتَرُوْنَ بِعَهْدِ اللّٰهِ َ اَیْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِیْلًا اُولٰٓىِٕكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِی الْاٰخِرَةِ وَ لَا یُكَلِّمُهُمُ اللّٰهُ وَلَا یَنْظُرُ اِلَیْهِمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ وَلَا یُزَكِّیْهِمْ ۪ وَلَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ 77
77. ভালো করে শুনে রেখো, যারা দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে আল্লাহকে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ভুলে যায়, এমনকি আল্লাহর নামে করা শপথগুলো পর্যন্ত ভেঙ্গে ফেলে, ওদের জন্য আখেরাতে সামান্য অংশও নেই। বিচারের দিন আল্লাহ ওদের সাথে কোনো কথা বলবেন না, ওদের দিকে তাকাবেনও না, আর ওদের পাক-পবিত্র করাতো বহুদূরের কথা। ওদের জন্যে ভয়ঙ্কর কঠিন শাস্তির ফয়সালা হয়ে আছে।
وَاِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِیْقًا یَّلْوٗنَ اَلْسِنَتَهُمْ بِالْكِتٰبِ لِتَحْسَبُوْهُ مِنَ الْكِتٰبِ وَمَا هُوَ مِنَ الْكِتٰبِ ۚ وَیَقُوْلُوْنَ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللّٰهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِنْدِ اللّٰهِ ۚ وَیَقُوْلُوْنَ عَلَی اللّٰهِ الْكَذِبَ وَهُمْ یَعْلَمُوْنَ 78
78. ওদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেরাই আল্লাহর নামে কিতাব বানায়। এরপর পড়ার সময় এমনভাবে জিহ্বাকে ওলট-পালট করে, যা দেখে তোমাদের মনে হবে সত্যিই বুঝি ওরা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করছে। অথচ ওরা যা কিছু পাঠ করছে, তা মোটেই আল্লাহর কিতাব নয়। ওরা আবার সুন্দর করে তোমাদের বলে, আমরা আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া কিতাব থেকেই তোমাদের পড়ে শুনালাম। অথচ ওরা এসব কথা মোটেই আল্লাহর কাছ পায়নি। হায়! সবকিছু জেনে বুঝেও ওরা আল্লাহর নামে একটার পর একটা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে যাচ্ছে।
مَا كَانَ لِبَشَرٍ اَنْ یُّؤْتِیَهُ اللّٰهُ الْكِتٰبَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ یَقُوْلَ لِلنَّاسِ كُوْنُوْا عِبَادًا لِّیْ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَلٰكِنْ كُوْنُوْا رَبّٰنِیّٖنَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُوْنَ الْكِتٰبَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُوْنَۙ 79
79. এটা কী করে সম্ভব, আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে কিতাব, হিকমত ও নবুওয়াত দান করবেন, আর সে এগুলো পাওয়ার পর লোকদের বলে বেড়াবে, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে কেবল আমারই দাসত্ব করো? বরং সে তো উল্টো লোকদের এ উপদেশ দেবে যে, তোমরা সত্যিকারের আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও। এটাই তো সে কিতাবের দাবি, যা তোমরা নিজেরা পড়ো এবং অন্যদের পড়াও।
وَلَا یَاْمُرَكُمْ اَنْ تَتَّخِذُوا الْمَلٰٓىِٕكَةَ وَالنَّبِیّٖنَ اَرْبَابًا ؕ اَیَاْمُرُكُمْ بِالْكُفْرِ بَعْدَ اِذْ اَنْتُمْ مُّسْلِمُوْنَ۠ 80
80. সে কখনোই তোমাদেরকে বলতে পারে না যে, তোমরা ফেরেশতা ও নবীদেরকে তোমাদের প্রভু হিসেবে গ্রহণ করো। তোমাদের মুসলিম হওয়ার পর একজন নবী কিভাবে তোমাদের কাফের হতে বলে?
وَاِذْ اَخَذَ اللّٰهُ مِیْثَاقَ النَّبِیّٖنَ لَمَاۤ اٰتَیْتُكُمْ مِّنْ كِتٰبٍ وَّحِكْمَةٍ ثُمَّ جَآءَكُمْ رَسُوْلٌ مُّصَدِّقٌ لِّمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهٖ وَلَتَنْصُرُنَّهٗ ؕ قَالَ ءَاَقْرَرْتُمْ وَاَخَذْتُمْ عَلٰی ذٰلِكُمْ اِصْرِیْ ؕ قَالُوْۤا اَقْرَرْنَا ؕ قَالَ فَاشْهَدُوْا وَاَنَا مَعَكُمْ مِّنَ الشّٰهِدِیْنَ 81
81.
فَمَنْ تَوَلّٰی بَعْدَ ذٰلِكَ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَ 82
82. এসব কিছুর পর যারা নবীদের এ ওয়াদা থেকে সরে আসবে, তারা নির্ঘাত ফাসেক ছাড়া আর কিছুই নয়।
اَفَغَیْرَ دِیْنِ اللّٰهِ یَبْغُوْنَ وَلَهٗۤ اَسْلَمَ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ طَوْعًا وَّكَرْهًا وَّاِلَیْهِ یُرْجَعُوْنَ 83
83. হে নবী, এসব লোকেরা কি এখন আল্লাহর দেয়া জীবনব্যবস্থা ছেড়ে ভিন্ন কোনো রাস্তা খোঁজার চেষ্টা করছে? না! ওদের জানিয়ে দাও, মহাকাশ ও পৃথিবীর সবকিছুই স্বেচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় আল্লাহর অনুগত হয়ে চলছে। আর একদিন না একদিন সবাইকে তাঁর কাছে ফিরতেই হবে।
قُلْ اٰمَنَّا بِاللّٰهِ وَمَاۤ اُنْزِلَ عَلَیْنَا وَمَاۤ اُنْزِلَ عَلٰۤی اِبْرٰهِیْمَ وَاِسْمٰعِیْلَ وَاِسْحٰقَ وَ یَعْقُوْبَ وَالْاَسْبَاطِ وَمَاۤ اُوْتِیَ مُوْسٰی وَ عِیْسٰی وَ النَّبِیُّوْنَ مِنْ رَّبِّهِمْ ۪ لَا نُفَرِّقُ بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْهُمْ ؗ وَنَحْنُ لَهٗ مُسْلِمُوْنَ 84
84. হে মুসলমানেরা, তোমরা বলো, আমরা নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি। আর আমরা যেভাবে আমাদের নবীর কাছে আসা কিতাবকে সত্য বলে মানি, ঠিক সেভাবে মানি ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তার সন্তানদের কাছে আসা আল্লাহর বাণীকে। আমরা আরো সত্য বলে মানি মুসা, ঈসা ও অন্যান্য সব নবীদের কাছে আসা আল্লাহর বাণীসমূহকে। আমরা এসব নবীকে ভিন্ন ভিন্ন চোখে দেখি না। কেননা যিনি এসব নবীদের পার্ঠিয়েছেন, আমরা তাঁর নির্দেশের পূর্ণ অনুগত রয়েছি।
وَ مَنْ یَّبْتَغِ غَیْرَ الْاِسْلَامِ دِیْنًا فَلَنْ یُّقْبَلَ مِنْهُ ۚ وَهُوَ فِی الْاٰخِرَةِ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ 85
85. শোনো! ওদের কেউ যদি ইসলাম ছাড়া ভিন্ন কোনো জীবনব্যবস্থা নিয়ে আসে, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে কখনোই গ্রহণ করা হবে না। পরিণামে এসব লোকেরা পরকাল হারাবে।
كَیْفَ یَهْدِی اللّٰهُ قَوْمًا كَفَرُوْا بَعْدَ اِیْمَانِهِمْ وَ شَهِدُوْۤا اَنَّ الرَّسُوْلَ حَقٌّ وَّجَآءَهُمُ الْبَیِّنٰتُ ؕ وَاللّٰهُ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الظّٰلِمِیْنَ 86
86. আল্লাহ সে জনগোষ্ঠীকে কিভাবে হেদায়াত দেবেন, যারা একবার ঈমানের পথে থাকার পরে আবার কুফরির পথে চলে গেলো? ওরা নিজেরাই সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, এ রসুল সত্য; কিন্তু নিজেরাই আবার তাকে মানছে না। অথচ ওদের কাছে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণ বর্তমান রয়েছে। আসলে এ ধরনের জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়াত দেয়া আল্লাহর নীতি নয়।
اُولٰٓىِٕكَ جَزَآؤُهُمْ اَنَّ عَلَیْهِمْ لَعْنَةَ اللّٰهِ وَالْمَلٰٓىِٕكَةِ وَ النَّاسِ اَجْمَعِیْنَۙ 87
87. ওদের উপর আল্লাহর অভিশাপ নামুক। ফেরেশতা ও সব মানুষের অভিশাপও ওদের গায়ে পড়ুক। এটাই হবে এ সব জালেমের জন্যে সঠিক প্রতিদান।
خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ۚ لَا یُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلَا هُمْ یُنْظَرُوْنَۙ 88
88. ওরা সে কঠিন দুরাবস্থা থেকে কোনোদিনই মুক্তি পাবে না। এমনকি, ওদের শাস্তিও কমানো হবে না। কিংবা সামান্য অবকাশও দেয়া হবে না।
اِلَّا الَّذِیْنَ تَابُوْا مِنْۢ بَعْدِ ذٰلِكَ وَاَصْلَحُوْا ۫ فَاِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 89
89. তবে হ্যাঁ, যারা এসব জুলুমের পথ ছেড়ে নিজেদের জীবন ও কর্মকে শুধরে নিবে, তারা এ শাস্তি থেকে রেহাই পাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল, বড় দয়ালু।
اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بَعْدَ اِیْمَانِهِمْ ثُمَّ ازْدَادُوْا كُفْرًا لَّنْ تُقْبَلَ تَوْبَتُهُمْ ۚ وَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الضَّآلُّوْنَ 90
90. যারা একবার ঈমান আনার পর কুফরির পথে হাঁটে এবং হাঁটতে হাঁটতে কুফরির শেষ সীমায় পৌঁছে যায়, এ ধরনের লোকদের তওবা আল্লাহ কবুল করেন না। ওরাতো চরম পথভ্রষ্ট।
اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَمَاتُوْا وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَنْ یُّقْبَلَ مِنْ اَحَدِهِمْ مِّلْءُ الْاَرْضِ ذَهَبًا وَّلَوِ افْتَدٰی بِهٖ ؕ اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ وَّمَا لَهُمْ مِّنْ نّٰصِرِیْنَ۠ 91
91. ভালোভাবে জেনে রেখো, যারা কুফরির পথে হাঁটতে হাঁটতে নিজেদের জীবন শেষ করে ফেলেছে, ওরা যদি আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচার জন্যে মুক্তিপণ হিসেবে সোনা দিয়ে এক দুনিয়া ভরেও দিতে চায়, তবুও তা গ্রহণ করা হবে না। ওদের জন্যে জাহান্নামের ভয়ঙ্কর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি অপেক্ষা করছে। সেদিন ওদের বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসবে না।
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّٰی تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ ؕ۬ وَ مَا تُنْفِقُوْا مِنْ شَیْءٍ فَاِنَّ اللّٰهَ بِهٖ عَلِیْمٌ 92
92. তোমরা কোনো সওয়াবই পাবে না, যদি না নিজেদের পছন্দনীয় জিনিস থেকে আল্লাহর পথে ব্যয় করো। আর এ পথে তোমরা যা কিছু ব্যয় করো না কেন, আল্লাহ সে সম্পর্কে ভালোই জ্ঞান রাখেন।
كُلُّ الطَّعَامِ كَانَ حِلًّا لِّبَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ اِلَّا مَا حَرَّمَ اِسْرَآءِیْلُ عَلٰی نَفْسِهٖ مِنْ قَبْلِ اَنْ تُنَزَّلَ التَّوْرٰىةُ ؕ قُلْ فَاْتُوْا بِالتَّوْرٰىةِ فَاتْلُوْهَاۤ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ 93
93. এক সময় বনি ইসরাইলের জন্যে সব ধরনের খাবার হালাল ছিলো। পরে ইসরাইল অর্থাৎ ইয়াকুব নিজেই নিজের জন্য হাতে গোনা কয়েকটা খাবার হারাম করে নেয়। তাছাড়া এ হারাম হওয়ার বিষয়টিও তাওরাতের বহু পূর্বের। হে নবী, ওদের বলো, এখন তোমরা তাওরাতের ভিত্তিতে খাবারের ব্যাপারে যে আপত্তি তুলছো, তা যদি সত্য হয়, তবে তাওরাত নিয়ে আসো এবং আমাদের সে অংশ পড়ে শুনাও।
فَمَنِ افْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ الْكَذِبَ مِنْۢ بَعْدِ ذٰلِكَ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الظّٰلِمُوْنَؔ 94
94. এসব কিছুর পরেও যারা নিজেদের মিথ্যা মনগড়া কথা আল্লাহর নামে চালিয়ে দেয়, ওরা ভয়ঙ্কর জালেম ছাড়া আর কী হতে পারে?
قُلْ صَدَقَ اللّٰهُ ۫ فَاتَّبِعُوْا مِلَّةَ اِبْرٰهِیْمَ حَنِیْفًا ؕ وَ مَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ 95
95. ওদের বলো, এ ব্যাপারে আল্লাহর কথাই সত্য। অতএব নিষ্ঠার সাথে ইবরাহিমের মতাদর্শের অনুসরণ করো। আর ইবরাহিম কোনোদিনই মুশরিক ছিলো না।
اِنَّ اَوَّلَ بَیْتٍ وُّضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِیْ بِبَكَّةَ مُبٰرَكًا وَّهُدًی لِّلْعٰلَمِیْنَۚ 96
96. নিঃসন্দেহে মানবজাতির ইতিহাসে সর্বপ্রথম ইবাদত গৃহ নির্মিত হয় মক্কায়। একে প্রচুর কল্যাণ ও বরকত দান করা হয়েছে এবং জগতবাসীর হেদায়তের কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।
فِیْهِ اٰیٰتٌۢ بَیِّنٰتٌ مَّقَامُ اِبْرٰهِیْمَ ۚ۬ وَ مَنْ دَخَلَهٗ كَانَ اٰمِنًا ؕ وَ لِلّٰهِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الْبَیْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ اِلَیْهِ سَبِیْلًا ؕ وَ مَنْ كَفَرَ فَاِنَّ اللّٰهَ غَنِیٌّ عَنِ الْعٰلَمِیْنَ 97
97. এখানে আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে। এমনকি স্বয়ং ইবরাহিমের ইবাদতের স্থানও এখানে রয়েছে। এখানে যে আসে, সে নিরাপত্তা লাভ করে। ফলে সামর্থবান ব্যক্তিদের জন্য এখানে হজ পালন করা ফরজ যা তাদের উপর আল্লাহর একান্ত অধিকার। অতএব যারা এসব নির্দেশনা অমান্য করবে, ওরা জেনে রাখুক, আল্লাহ জগৎবাসীর উপর নির্ভরশীল নন।
قُلْ یٰۤاَهْلَ الْكِتٰبِ لِمَ تَكْفُرُوْنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ ۖۗ وَ اللّٰهُ شَهِیْدٌ عَلٰی مَا تَعْمَلُوْنَ 98
98. বলো, হে কিতাবওয়ালারা, তোমরা এখনো কেন আল্লাহর বিধি-বিধান মানছো না? মনে রেখো, তোমরা যা কিছু করছো, আল্লাহ তার উপর সাক্ষী রয়েছেন।
قُلْ یٰۤاَهْلَ الْكِتٰبِ لِمَ تَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ مَنْ اٰمَنَ تَبْغُوْنَهَا عِوَجًا وَّاَنْتُمْ شُهَدَآءُ ؕ وَ مَا اللّٰهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ 99
99. এসব কিতাবওয়ালাদের আরো বলো, তোমরা কেন ঈমানদারদের আল্লাহর পথে চলতে নানাভাবে বাধা দিচ্ছো? এমনকি তাদেরকে বাঁকা পথে আনার জন্যে বহু ফন্দি-ফিকির চালাচ্ছো? অথচ তাদের সত্য-সঠিক পথে থাকার ব্যাপারে তোমরা নিজেরাই সাক্ষী। সতর্ক হও, তোমাদের এসব কাজকর্মের ব্যাপারে আল্লাহ মোটেই বেখবর নন।
يٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِنْ تُطِیْعُوْا فَرِیْقًا مِّنَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ یَرُدُّوْكُمْ بَعْدَ اِیْمَانِكُمْ كٰفِرِیْنَ 100
100. হে ঈমানদারেরা, তোমরা যদি এ কিতাবওয়ালাদের কোনো একটি দলের কথাও মেনে নাও, তবে ওরা তোমাদেরকে নতুন করে আবার কাফের বানিয়ে ছাড়বে।
وَكَیْفَ تَكْفُرُوْنَ وَاَنْتُمْ تُتْلٰی عَلَیْكُمْ اٰیٰتُ اللّٰهِ وَفِیْكُمْ رَسُوْلُهٗ ؕ وَمَنْ یَّعْتَصِمْ بِاللّٰهِ فَقَدْ هُدِیَ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ۠ 101
101. অথচ তোমাদের পক্ষে কিভাবে আবার কুফরিতে ফিরে যাওয়া সম্ভব হতে পারে, যখন তোমাদেরকে আল্লাহর আয়াতসমূহ পড়ে শুনানো হয় এবং তোমাদের মাঝে স্বয়ং আল্লাহর রসুল বর্তমান রয়েছে? কাজেই জেনে রেখো, যে আল্লাহকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে, সে অবশ্যই সত্য-সঠিক পথ পেয়ে যাবে।
يٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ حَقَّ تُقٰتِهٖ وَلَا تَمُوْتُنَّ اِلَّا وَاَنْتُمْ مُّسْلِمُوْنَ 102
102. হে ঈমানদারেরা, তোমরা যথাযথভাবে আল্লাহকে ভয় করে চলো এবং আল্লাহয় পূর্ণ সমর্পিত না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।
وَ اعْتَصِمُوْا بِحَبْلِ اللّٰهِ جَمِیْعًا وَّلَا تَفَرَّقُوْا ۪ وَ اذْكُرُوْا نِعْمَتَ اللّٰهِ عَلَیْكُمْ اِذْ كُنْتُمْ اَعْدَآءً فَاَلَّفَ بَیْنَ قُلُوْبِكُمْ فَاَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهٖۤ اِخْوَانًا ۚ وَ كُنْتُمْ عَلٰی شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَاَنْقَذَكُمْ مِّنْهَا ؕ كَذٰلِكَ یُبَیِّنُ اللّٰهُ لَكُمْ اٰیٰتِهٖ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ 103
103. আর তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর দ্বীনকে আঁকড়ে ধরো। দ্বীনের ব্যাপারে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ো না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ করে দেখো, তোমরা ছিলে একে অপরের চরম শত্রু। এরপর তিনিই তোমাদের মধ্যে আন্তরিক মিল-মহব্বত তৈরি করে দিলেন, ফলে তোমরা আল্লাহর মেহেরবানিতে ভাই-ভাই হয়ে গেলে। অথচ তোমরা এর আগে ভয়ানক অগ্নিকুন্ডের কিনারে দাঁড়িয়েছিলে। আল্লাহই তোমাদের বাঁচালেন। এভাবেই আল্লাহ তাঁর নিদর্শনাবলী খুলে খুলে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা সত্য-সঠিক পথে চলতে পারো।
وَ لْتَكُنْ مِّنْكُمْ اُمَّةٌ یَّدْعُوْنَ اِلَی الْخَیْرِ وَ یَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَ یَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ ؕ وَ اُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ 104
104. অতএব এখন তোমাদের মধ্যে এমন একদল লোক থাকা চাই, যারা সাধারণ মানুষদের কল্যাণের দিকে ডাকবে, ভালো কাজের নির্দেশ দেবে এবং খারাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখবে। যারা এসব কাজ করবে নিশ্চিতভাবে তারা সফল হবে।
وَ لَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِیْنَ تَفَرَّقُوْا وَ اخْتَلَفُوْا مِنْۢ بَعْدِ مَا جَآءَهُمُ الْبَیِّنٰتُ ؕ وَ اُولٰٓئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِیْمٌۙ 105
105. হে ঈমানদারেরা, তোমরা আবার ওদের মতো হয়ে যেয়ো না, যারা নিজেদের দ্বীনের ব্যাপারে দলাদলি করে বিভক্ত হয়ে গেছে। ওরা সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়ার পরেও প্রত্যেকে নিজস্ব মতবাদ তৈরি করে নিয়েছে। জেনে রেখো, ওদের জন্যে আখেরাতে ভয়ঙ্কর শাস্তি প্রস্তুত রয়েছে।
یَّوْمَ تَبْیَضُّ وُجُوْهٌ وَّتَسْوَدُّ وُجُوْهٌ ۚ فَاَمَّا الَّذِیْنَ اسْوَدَّتْ وُجُوْهُهُمْ ۫ اَكَفَرْتُمْ بَعْدَ اِیْمَانِكُمْ فَذُوْقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُوْنَ 106
106. সেদিন কিছু লোকের মুখ আনন্দে উল্লসিত হবে। আর কিছু লোকের মুখ কালো-মলিন হয়ে যাবে। সেদিন কালো-মলিন চেহারার ঐ লোকগুলোকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমরা কি ঈমানদার হওয়ার পর পুনরায় কাফের হয়ে গিয়েছিলে? ওদের বলা হবে, আফসোস! তোমরা এখন কুফরির ফল হিসেবে কঠিন আযাব ভোগ করো।
وَ اَمَّا الَّذِیْنَ ابْیَضَّتْ وُجُوْهُهُمْ فَفِیْ رَحْمَةِ اللّٰهِ ؕ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ 107
107. অন্যদিকে যাদের মুখ আনন্দে উল্লসিত হবে, তারা অনন্তকালের জন্যে আল্লাহর রহমতের আশ্রয় লাভ করবে।
تِلْكَ اٰیٰتُ اللّٰهِ نَتْلُوْهَا عَلَیْكَ بِالْحَقِّ ؕ وَ مَا اللّٰهُ یُرِیْدُ ظُلْمًا لِّلْعٰلَمِیْنَ 108
108. হে নবী, এ সবই আল্লাহর আয়াত। আমি তোমাকে এসব যথাযথভাবে শুনিয়ে যাচ্ছি। আসলে আল্লাহ জগতবাসীর উপর সামান্য জুলুম করারও পক্ষে নন।
وَ لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ ؕ وَاِلَی اللّٰهِ تُرْجَعُ الْاُمُوْرُ۠ 109
109. আল্লাহ এককভাবে মহাকাশ ও পৃথিবীর সব জিনিসের মালিক। আর শেষ পর্যন্ত সবকিছু আল্লাহর দরবারেই পেশ করা হবে।
كُنْتُمْ خَیْرَ اُمَّةٍ اُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَ تَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَ تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ ؕ وَ لَوْ اٰمَنَ اَهْلُ الْكِتٰبِ لَكَانَ خَیْرًا لَّهُمْ ؕ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُوْنَ وَ اَكْثَرُهُمُ الْفٰسِقُوْنَ 110
110. হে মুসলমানেরা, বর্তমানে তোমরাই দুনিয়ায় সর্বোত্তম জাতি। মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্যই তোমাদের বাছাই করা হয়েছে। সুতরাং লোকদেরকে সৎকাজের আদেশ দাও, অন্যায় থেকে ফিরিয়ে রাখো এবং নিজেরা সর্বাবস্থায় এক আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখো। আসলে এ কিতাবওয়ালারা যদি সত্যি ঈমান আনতো, তবে সেটা ওদের জন্যেই ভালো হতো। অবশ্য ওদের থেকে সামান্য কয়েকজন ঈমান এনেছে, তবে অধিকাংশই নাফরমান রয়ে গেছে।
لَنْ یَّضُرُّوْكُمْ اِلَّاۤ اَذًی ؕ وَ اِنْ یُّقَاتِلُوْكُمْ یُوَلُّوْكُمُ الْاَدْبَارَ ۫ ثُمَّ لَا یُنْصَرُوْنَ 111
111. হে ঈমানদারেরা, এসব নাফরমানেরা তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। বড়জোর সামান্য কষ্ট দিতে পারে। ওরা যদি তোমাদের মোকাবেলায় কখনো যুদ্ধে নামে, তবে নির্ঘাত ময়দান থেকে পিছুটান দেবে। এরপর ওদের অবস্থা এতটাই করুণ হবে যে, কোনো জায়গা থেকেই ওরা সাহায্য পাবে না।
ضُرِبَتْ عَلَیْهِمُ الذِّلَّةُ اَیْنَ مَا ثُقِفُوْۤا اِلَّا بِحَبْلٍ مِّنَ اللّٰهِ وَ حَبْلٍ مِّنَ النَّاسِ وَ بَآءُوْ بِغَضَبٍ مِّنَ اللّٰهِ وَ ضُرِبَتْ عَلَیْهِمُ الْمَسْكَنَةُ ؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ كَانُوْا یَكْفُرُوْنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ وَ یَقْتُلُوْنَ الْاَنْۢبِیَآءَ بِغَیْرِ حَقٍّ ؕ ذٰلِكَ بِمَا عَصَوْا وَّكَانُوْا یَعْتَدُوْنَۗ 112
112. এসব নাফরমানদের ইতিহাস দেখো, ওরা বারবার আল্লাহর আয়াতগুলো অস্বীকার করেছে। অন্যায়ভাবে আল্লাহর অসংখ্য নবীকে হত্যা করেছে। এমনকি নাফরমানী ও বাড়াবাড়ির চূড়ান্ত পর্যায় ছাড়িয়েছে। ফলে আল্লাহর গযব ওদেরকে চারদিক দিয়ে ঘিরে নিলো, ওদের উপর ক্ষুধা-দারিদ্র ও মুখাপেক্ষিতা ছেয়ে গেলো। এমনকি, ওরা যেখানেই আশ্রয় নিয়েছে, সেখানেই লাঞ্ছিত হয়েছে। অবশ্য কখনো কখনো আল্লাহ দয়া করে ওদেরকে লাঞ্ছনা থেকে বাঁচিয়েছেন। আবার কখনো লোকেরা ওদের দয়া দেখিয়েছে।
لَیْسُوْا سَوَآءً ؕ مِنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ اُمَّةٌ قَآئِمَةٌ یَّتْلُوْنَ اٰیٰتِ اللّٰهِ اٰنَآءَ الَّیْلِ وَهُمْ یَسْجُدُوْنَ 113
113. তবে কিতাবওয়ালাদের সবাই এক রকম নয়। ওদের কিছুলোক সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এসব লোকেরা গভীর রাতে আল্লাহর কিতাবের আয়াত পাঠ করে এবং তাঁর সামনে সিজদায় নত হয়।
یُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَیَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَیَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَیُسَارِعُوْنَ فِی الْخَیْرٰتِ ؕ وَاُولٰٓئِكَ مِنَ الصّٰلِحِیْنَ 114
114. তারা আল্লাহ ও আখেরাতের উপর পূর্ণ ঈমান রাখে। লোকদের সৎকাজের নির্দেশ দেয়, অসৎ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখে এবং নিজেরা নেকি ও কল্যাণের কাজে সদা তৎপর থাকে। সঃন্দেহ নেই, এরা সৎকর্মশীলদের দলভুক্ত।
وَ مَا یَفْعَلُوْا مِنْ خَیْرٍ فَلَنْ یُّكْفَرُوْهُ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌۢ بِالْمُتَّقِیْنَ 115
115. এরা যে সৎকাজই করবে তার পূর্ণ বিনিময় থেকে তাদের কখনো বঞ্চিত করা হবে না। আল্লাহ এ মুত্তাকি বান্দাদের ব্যাপারে পূর্ণজ্ঞান রাখেন।
اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَنْ تُغْنِیَ عَنْهُمْ اَمْوَالُهُمْ وَ لَاۤ اَوْلَادُهُمْ مِّنَ اللّٰهِ شَیْـًٔا ؕ وَ اُولٰٓئِكَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ 116
116. তবে এখনো যারা কুফরির পথে চলছে, ওরা জেনে রাখুক, আল্লাহর মোকাবেলায় ওদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি কোনো কাজে আসবে না। ওদের পরিণতি হবে জাহান্নাম। সেখান থেকে ওরা কোনোদিনই মুক্তি পাবে না।
مَثَلُ مَا یُنْفِقُوْنَ فِیْ هٰذِهِ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا كَمَثَلِ رِیْحٍ فِیْهَا صِرٌّ اَصَابَتْ حَرْثَ قَوْمٍ ظَلَمُوْۤا اَنْفُسَهُمْ فَاَهْلَكَتْهُ ؕ وَمَا ظَلَمَهُمُ اللّٰهُ وَلٰكِنْ اَنْفُسَهُمْ یَظْلِمُوْنَ 117
117. বস্তুত যারা জুুলুমের পথে হাঁটে, ওরা দুনিয়ায় যেসব দান-খয়রাত করে, তার উপমা হলো এমন বাতাসের মতো, যার মধ্যে প্রচুর বরফের শীলা রয়েছে। ফলে তা যখন কারো বাগানের উপরে পড়ে, তখন বাগানটি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। আসলে ওদের উপর আল্লাহ জুলুম করেননি; বরং ওরা নিজেরাই নিজেদের জন্যে জুলুমের পরিণতি ডেকে এনেছে।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوْا بِطَانَةً مِّنْ دُوْنِكُمْ لَا یَاْلُوْنَكُمْ خَبَالًا ؕ وَدُّوْا مَا عَنِتُّمْ ۚ قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَآءُ مِنْ اَفْوَاهِهِمْ ۖۚ وَ مَا تُخْفِیْ صُدُوْرُهُمْ اَكْبَرُ ؕ قَدْ بَیَّنَّا لَكُمُ الْاٰیٰتِ اِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُوْنَ 118
118. হে ঈমানদারেরা, খবরদার! তোমাদের দলভুক্ত লোক ছাড়া অন্য কারো সাথে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব করবে না। কেননা ওরা সুযোগ পেলেই তোমাদের ক্ষতি করে ছাড়বে। ওরা সব সময় চায় তোমরা বিপদে পড়ো। ওদের মনের হিংসা-বিদ্বেষ ওদের আচার-আচারণ ও কথাবার্তায় বরাবরই প্রকাশ পাচ্ছে। আর যা মনের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে, তাতো আরো মারাত্মক। আমি তোমাদেরকে এসব ব্যাপারে একটার পর একটা নিদর্শন দেখিয়ে যাচ্ছি। তোমরা বুদ্ধিমান হলে সতর্ক থাকবে।
هٰۤاَنْتُمْ اُولَآءِ تُحِبُّوْنَهُمْ وَلَا یُحِبُّوْنَكُمْ وَ تُؤْمِنُوْنَ بِالْكِتٰبِ كُلِّهٖ ۚ وَ اِذَا لَقُوْكُمْ قَالُوْۤا اٰمَنَّا ۖۗۚ وَ اِذَا خَلَوْا عَضُّوْا عَلَیْكُمُ الْاَنَامِلَ مِنَ الْغَیْظِ ؕ قُلْ مُوْتُوْا بِغَیْظِكُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ 119
119. দেখো! তোমরা বন্ধুর মতো ওদেরকে ভালোবাসো। অথচ ওদের অন্তরে তোমাদের জন্যে কোনো ভালোবাসা নেই। তোমরা মনে-প্রাণে সব কিতাবের প্রতি বিশ্বাস রাখো; অথচ ওদের সে বিশ্বাস নেই। যখন তোমাদের সাথে মিলিত হয়, তখন ওরা নিজেদের ঈমানদার বলে ভান করে। আর যখনই ওরা নিজেদের আড্ডায় একত্র হয়, তখন তোমাদের বিরুদ্ধে রাগে-ক্ষোভে নিজেদের আঙুল কামড়ায়। হে ঈমানদারেরা, তোমরা ওদের বলে দাও, নিজেদের রাগে-ক্ষোভে নিজেরাই জ্বলেপুড়ে মরো। জেনে রেখো, নিঃসন্দেহে আল্লাহ মানুষের অন্তরের লুকানো কথাও জানেন।
اِنْ تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ ؗ وَ اِنْ تُصِبْكُمْ سَیِّئَةٌ یَّفْرَحُوْا بِهَا ؕ وَ اِنْ تَصْبِرُوْا وَ تَتَّقُوْا لَا یَضُرُّكُمْ كَیْدُهُمْ شَیْـًٔا ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِمَا یَعْمَلُوْنَ مُحِیْطٌ۠ 120
120. ওদের আচরণ দেখো! তোমাদের ভালো কিছু হলে ওরা খুব কষ্ট পায়। পক্ষান্তরে তোমাদের কোনো বিপদাপদ হলে, ওরা খুশিতে ফেটে পরে। তোমরা ওদের মোকাবেলায় ধৈর্যের নীতি অবলম্বন করো এবং আল্লাহকে ভয় করে কাজ করতে থাকো। তাহলে তোমাদের বিরুদ্ধে ওদের কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না। নিশ্চিতভাবে ওদের চারদিকের তৎপরতা আল্লাহর নজরে রয়েছে।
وَ اِذْ غَدَوْتَ مِنْ اَهْلِكَ تُبَوِّئُ الْمُؤْمِنِیْنَ مَقَاعِدَ لِلْقِتَالِ ؕ وَ اللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌۙ 121
121. হে নবী, এবার লোকদের ওহুদ যুদ্ধের পর্যালোচনা শুনাও। সেদিন খুব সকালেই তুমি ঘর থেকে বের হয়েছিলে। এরপর মুমিন সৈন্যদের যুদ্ধের জন্যে বিভিন্ন জায়গায় দাঁড় করাচ্ছিলে। বস্তুত আল্লাহ তোমাদের সব শোনেন, সব জানেন।
اِذْ هَمَّتْ طَّآئِفَتٰنِ مِنْكُمْ اَنْ تَفْشَلَا ۙ وَ اللّٰهُ وَلِیُّهُمَا ؕ وَ عَلَی اللّٰهِ فَلْیَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُوْنَ 122
122. মনে করে দেখো, এ সময় তোমাদের মধ্যকার দুটি দল নিজেদের সাহস প্রায় হারিয়ে ফেলেছিলো; অথচ আল্লাহ নিজেই তাদের সাহায্যের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। আসলে আল্লাহর উপর ভরসা করাই মুমিনদের কাজ।
وَ لَقَدْ نَصَرَكُمُ اللّٰهُ بِبَدْرٍ وَّاَنْتُمْ اَذِلَّةٌ ۚ فَاتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ 123
123. এর আগে বদরের যুদ্ধে আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেছিলেন; অথচ তখন তোমরা ছিলে অনেক দুর্বল। সুতরাং তোমরা আল্লাহর নাফরমানী থেকে বেঁচে থাকো। আশা করি, তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।
اِذْ تَقُوْلُ لِلْمُؤْمِنِیْنَ اَلَنْ یَّكْفِیَكُمْ اَنْ یُّمِدَّكُمْ رَبُّكُمْ بِثَلٰثَةِ اٰلٰفٍ مِّنَ الْمَلٰٓئِكَةِ مُنْزَلِیْنَؕ 124
124. স্মরণ করো, যখন তুমি মুমিনদের বলছিলে, তোমাদের রব তাঁর তিন হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করবেন এটা কি তোমাদের জন্যে যথেষ্ট নয়?
بَلٰۤی ۙ اِنْ تَصْبِرُوْا وَ تَتَّقُوْا وَ یَاْتُوْكُمْ مِّنْ فَوْرِهِمْ هٰذَا یُمْدِدْكُمْ رَبُّكُمْ بِخَمْسَةِ اٰلٰفٍ مِّنَ الْمَلٰٓئِكَةِ مُسَوِّمِیْنَ 125
125. তবে হ্যাঁ, তোমরা যদি ময়দানে দৃঢ় থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করে লড়ে যাও, তবে শত্রুবাহিনী যে মুহূর্তে তোমাদের উপর চড়াও হবে, ঠিক তখনই তোমাদের রব পাঁচ হাজার চিহ্নযুক্ত ফেরেশতা পাঠিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন।
وَ مَا جَعَلَهُ اللّٰهُ اِلَّا بُشْرٰی لَكُمْ وَ لِتَطْمَئِنَّ قُلُوْبُكُمْ بِهٖ ؕ وَمَا النَّصْرُ اِلَّا مِنْ عِنْدِ اللّٰهِ الْعَزِیْزِ الْحَكِیْمِۙ 126
126. তোমাদের আশস্ত করার জন্যেই আল্লাহ আগেভাগে এ সুসংবাদ দিলেন। এতে তোমাদের মনে প্রশান্তি আসবে। প্রকৃতার্থে বিজয়-সাহায্য প্রবল পরাক্রান্ত মহাজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।
لِیَقْطَعَ طَرَفًا مِّنَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَوْ یَكْبِتَهُمْ فَیَنْقَلِبُوْا خَآئِبِیْنَ 127
127. আসলে আল্লাহ তোমাদের মাধ্যমে কাফেরদের এক অংশকে নিশ্চিহ্ন করতে চান। অথবা এমনভাবে লাঞ্ছিত করতে চান, যাতে ওরা নিরাশ হয়ে ফিরে যায়।
لَیْسَ لَكَ مِنَ الْاَمْرِ شَیْءٌ اَوْ یَتُوْبَ عَلَیْهِمْ اَوْ یُعَذِّبَهُمْ فَاِنَّهُمْ ظٰلِمُوْنَ 128
128. হে নবী, ওদের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা করার ক্ষমতা তোমাকে দেয়া হয়নি। আল্লাহ চাইলে ওদের ক্ষমা করবেন কিংবা কঠিন শাস্তি দেবেন। কারণ এসব লোকেরা নির্ঘাত জালেম।
وَ لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ ؕ یَغْفِرُ لِمَنْ یَّشَآءُ وَ یُعَذِّبُ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَ اللّٰهُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ۠ 129
129. জেনে রেখো, মহাকাশ ও পৃথিবীর সবকিছুই এককভাবে আল্লাহর মালিকানায়। সুতরাং তিনি যাকে চান মাফ করবেন, আবার যাকে চান কঠিন শাস্তি দিবেন। তবে আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই মেহেরবান।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَاْكُلُوا الرِّبٰۤوا اَضْعَافًا مُّضٰعَفَةً ۪ وَّ اتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَۚ 130
130. হে ঈমানদারেরা, খবরদার! চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খাওয়া ছেড়ে দাও। এ ব্যাপারে আল্লাহর বিধি লঙ্ঘন করা থেকে বেঁচে থাকো। তবেই আশা রাখতে পারো সফল হওয়ার।
وَ اتَّقُوا النَّارَ الَّتِیْۤ اُعِدَّتْ لِلْكٰفِرِیْنَۚ 131
131. এ পথে জাহান্নামের সেই আগুন থেকে নিজেদের বাঁচাও, যা কেবল কাফেরদের জন্যে প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।
وَ اَطِیْعُوا اللّٰهَ وَ الرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَۚ 132
132. তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের নির্দেশ মেনে চলো। এ পথেই তোমরা তাঁর অনুগ্রহ লাভ করবে।
وَ سَارِعُوْۤا اِلٰی مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَ جَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمٰوٰتُ وَ الْاَرْضُ ۙ اُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِیْنَۙ 133
133. আর প্রতিযোগিতা করে দৌঁড়ে চলো সে পথে, যা তোমাদের রবের ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। জেনে রেখো, সে জান্নাতের বিশালতা মহাকাশ ও পৃথিবীর সমান। আর তা কেবল মুত্তাকি বান্দারাই পাবে।
الَّذِیْنَ یُنْفِقُوْنَ فِی السَّرَّآءِ وَ الضَّرَّآءِ وَ الْكٰظِمِیْنَ الْغَیْظَ وَ الْعَافِیْنَ عَنِ النَّاسِ ؕ وَ اللّٰهُ یُحِبُّ الْمُحْسِنِیْنَۚ 134
134. আর হ্যাঁ, এসব মুত্তাকি বান্দারা সচ্ছল ও অসচ্ছল- উভয় অবস্থায় নিজেদের অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে, নিজেদের রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মানুষের ছোট-খাটো ভুলত্রুটি মাফ করে দেয়। এরাই আল্লাহর নেককার বান্দা। আল্লাহ এমন সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।
وَ الَّذِیْنَ اِذَا فَعَلُوْا فَاحِشَةً اَوْ ظَلَمُوْۤا اَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللّٰهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوْبِهِمْ ۪ وَ مَنْ یَّغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّا اللّٰهُ ۪۫ وَ لَمْ یُصِرُّوْا عَلٰی مَا فَعَلُوْا وَ هُمْ یَعْلَمُوْنَ 135
135. তারা যদি কখনো অশ্লীল কাজ করে বসে কিংবা অন্য কোনোভাবে নিজেদের উপর জুলুম করে ফেলে, তবে সাথেসাথেই তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাঁর কাছে নিজেদের গুনাহের জন্যে ক্ষমা চায়। আসলে আল্লাহ ছাড়া আর কে আছে, যে বান্দাকে ক্ষমা করতে পারে? এরপর তারা জেনেশুনে আর কখনোই সে পাপের পুনরাবৃত্তি করে না।
اُولٰٓئِكَ جَزَآؤُهُمْ مَّغْفِرَةٌ مِّنْ رَّبِّهِمْ وَ جَنّٰتٌ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ وَ نِعْمَ اَجْرُ الْعٰمِلِیْنَؕ 136
136. বিনিময় হিসেবে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন এবং এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার পাদদেশে ঝর্না বয়ে গেছে। সে জান্নাতে তারা চিরকাল থাকবে। সত্যি! সৎকর্মশীল বান্দাদের জন্যে এসব কতোই না চমৎকার পুরস্কার!
قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِكُمْ سُنَنٌ ۙ فَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَانْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِیْنَ 137
137. হে ঈমানদারেরা, তোমাদের আগে বহু জীবনধারা অতীত হয়ে গেছে। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ঘুরে ঘুরে দেখে নাও, যারা আল্লাহর বিধি-বিধানকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছিলো, ওদের পরিণতি কতোটা মর্মান্তিক হয়েছিলো।
هٰذَا بَیَانٌ لِّلنَّاسِ وَ هُدًی وَّمَوْعِظَةٌ لِّلْمُتَّقِیْنَ 138
138. কাজেই এটি মানবজাতির জন্যে সুস্পষ্ট সতর্কবাণী এবং একইসাথে মুত্তাকি বান্দাদের জন্যে হেদায়াত ও উপদেশের বাহক।
وَ لَا تَهِنُوْا وَ لَا تَحْزَنُوْا وَ اَنْتُمُ الْاَعْلَوْنَ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ 139
139. আর হ্যাঁ, তোমরা মনমরা বা হতাশ হয়ো না এবং দুশ্চিন্তাও করো না। যদি তোমরা ঈমানের পথে সত্যিকারে টিকে থাকতে পারো, তবে বিজয় তোমাদের আসবেই।
اِنْ یَّمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِّثْلُهٗ ؕ وَ تِلْكَ الْاَیَّامُ نُدَاوِلُهَا بَیْنَ النَّاسِ ۚ وَ لِیَعْلَمَ اللّٰهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ یَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَآءَ ؕ وَاللّٰهُ لَا یُحِبُّ الظّٰلِمِیْنَۙ 140
140. আজ যদি তোমাদের গায়ে কোনো আঘাত লেগে থাকে, তবে এর আগে ঠিক একই ধরনের আঘাততো তোমাদের বিরোধী পক্ষের গায়েও লেগেছিলো। আসলে আমিই মানুষের মধ্যে জয়-পরাজয়ের দিনগুলোর পালাবদল করাই। এভাবে আমি বাছাই করে নেই, কারা খাঁটিভাবে ঈমান এনেছে এবং এর জন্যে জীবন দিয়েও সাক্ষী হতে প্রস্তুত রয়েছে। জেনে রেখো, জালেম শ্রেণি কখনোই আল্লাহর ভালোবাসা পাবে না।
وَ لِیُمَحِّصَ اللّٰهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَیَمْحَقَ الْكٰفِرِیْنَ 141
141. এ পরীক্ষার মাধ্যমে আল্লাহ ঈমানদারদের আরো পরিশুদ্ধ করে গড়তে চান এবং একইসাথে কাফেরদের নিশ্চিহ্ন করতে চান।
اَمْ حَسِبْتُمْ اَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَ لَمَّا یَعْلَمِ اللّٰهُ الَّذِیْنَ جٰهَدُوْا مِنْكُمْ وَ یَعْلَمَ الصّٰبِرِیْنَ 142
142. তোমরা কি এমনটা ভেবেছিলে যে, পরীক্ষা না দিয়েই জান্নাতে চলে যাবে? না, বরং আল্লাহ অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে দেখবেন, তোমাদের মধ্যে কারা তাঁর পথে প্রাণপণ লড়েছে এবং এ লড়াইয়ের ময়দানে ধৈর্যের প্রমাণ রেখেছে।
وَ لَقَدْ كُنْتُمْ تَمَنَّوْنَ الْمَوْتَ مِنْ قَبْلِ اَنْ تَلْقَوْهُ ۪ فَقَدْ رَاَیْتُمُوْهُ وَ اَنْتُمْ تَنْظُرُوْنَ۠ 143
143. তোমরা তো মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার আগে আল্লাহর জন্যে শহীদ হতে চাইতে। আর যখন সে মুহূর্ত তোমাদের সামনে এলো, তখনতো নিজেরাই দেখলে তোমরা কী আচরণ করে বসলে।
وَ مَا مُحَمَّدٌ اِلَّا رَسُوْلٌ ۚ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ ؕ اَفَاۡئِنْ مَّاتَ اَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلٰۤی اَعْقَابِكُمْ ؕ وَ مَنْ یَّنْقَلِبْ عَلٰی عَقِبَیْهِ فَلَنْ یَّضُرَّ اللّٰهَ شَیْـًٔا ؕ وَ سَیَجْزِی اللّٰهُ الشّٰكِرِیْنَ 144
144. ভালো করে জেনে রেখো, মুহাম্মদ তোমাদের কাছে একজন রসুল ছাড়া আর কিছুই নন। এরকম বহু রসুল তার আগে পৃথিবীতে এসেছে এবং গত হয়ে গেছে। কাজেই এখন যদি মুহাম্মদ মারা যায় কিংবা নিহত হয়, তবে কি তোমরা আমার দ্বীন থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে? মনে রেখো, কেউ এমনটা করলে, তাতে আল্লাহর কোনো ক্ষতি নেই। তবে যারা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে, তাদেরকে তিনি অচিরেই পুরস্কৃত করবেন।
وَ مَا كَانَ لِنَفْسٍ اَنْ تَمُوْتَ اِلَّا بِاِذْنِ اللّٰهِ كِتٰبًا مُّؤَجَّلًا ؕ وَ مَنْ یُّرِدْ ثَوَابَ الدُّنْیَا نُؤْتِهٖ مِنْهَا ۚ وَ مَنْ یُّرِدْ ثَوَابَ الْاٰخِرَةِ نُؤْتِهٖ مِنْهَا ؕ وَسَنَجْزِی الشّٰكِرِیْنَ 145
145. মৃত্যু পরোয়ানায় প্রত্যেক প্রাণীর মৃত্যুর দিনক্ষণ লিখে রাখা হয়েছে। সুতরাং আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারোই মৃত্যু হয় না। আরো জেনে রেখো, কেউ দুনিয়াবী পুরস্কারের আশায় কাজ করলে আল্লাহ তাকে দুনিয়ায় তা মিটিয়ে দেন। পক্ষান্তরে কেউ আখেরাতের পুরস্কারের আশায় কাজ করলে, তার পুরস্কার আখেরাতেই দেবেন। বস্তুত কৃতজ্ঞ বান্দাদের অচিরেই আমি প্রতিদান দেবো।
وَ كَاَیِّنْ مِّنْ نَّبِیٍّ قٰتَلَ ۙ مَعَهٗ رِبِّیُّوْنَ كَثِیْرٌ ۚ فَمَا وَ هَنُوْا لِمَاۤ اَصَابَهُمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ مَا ضَعُفُوْا وَ مَا اسْتَكَانُوْا ؕ وَ اللّٰهُ یُحِبُّ الصّٰبِرِیْنَ 146
146. এর আগে বহু নবী আল্লাহর পথে লড়াই করেছে। তাদের সাথে বহু আল্লাহওয়ালা বান্দারাও লড়েছে। এসব লোকেরা আল্লাহর পথে কোনো বিপর্যয়েই হতাশ হয়ে পড়েনি, দুর্বলতা দেখায়নি। এমনকি, বাতিলের সামনে মাথা নত করেনি। আল্লাহ এ ধরনের ধৈর্যশীল লড়াকুদের খুবই ভালোবাসেন।
وَمَا كَانَ قَوْلَهُمْ اِلَّاۤ اَنْ قَالُوْا رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَ اِسْرَافَنَا فِیْۤ اَمْرِنَا وَ ثَبِّتْ اَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَی الْقَوْمِ الْكٰفِرِیْنَ 147
147. তারা শুধু এ কথাই বলতো, হে আমাদের রব, আমাদের অপরাধগুলো ক্ষমা করো। এ কাজে আমাদের যে বাড়াবাড়ি হয়েছে তুমি তা মাফ করো। ময়দানে আমাদের পা দৃঢ় রাখো এবং কাফেরদের মোকাবেলায় আমাদের সাহায্য করো।
فَاٰتٰىهُمُ اللّٰهُ ثَوَابَ الدُّنْیَا وَ حُسْنَ ثَوَابِ الْاٰخِرَةِ ؕ وَاللّٰهُ یُحِبُّ الْمُحْسِنِیْنَ۠ 148
148. অবশেষে আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়াতেই পুরস্কার দিলেন। আর আখেরাতেতো তাদের জন্যে আরো ভালো পুরস্কার অপেক্ষা করছেই। এভাবেই সৎকর্মশীল বান্দারা আল্লাহর ভালোবাসা পেয়ে থাকে।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِنْ تُطِیْعُوا الَّذِیْنَ كَفَرُوْا یَرُدُّوْكُمْ عَلٰۤی اَعْقَابِكُمْ فَتَنْقَلِبُوْا خٰسِرِیْنَ 149
149. হে ঈমানদারেরা, তোমরা যদি কখনো কাফেরদের কথা অনুযায়ী চলো, তবে ওরা তোমাদেরকে আবার জাহেলি জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। পরিণামে তোমরা চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
بَلِ اللّٰهُ مَوْلٰىكُمْ ۚ وَ هُوَ خَیْرُ النّٰصِرِیْنَ 150
150. অথচ সত্য এই যে, আল্লাহই তোমাদের একমাত্র অভিভাবক এবং সবচেয়ে ভালো সাহায্যকারী।
سَنُلْقِیْ فِیْ قُلُوْبِ الَّذِیْنَ كَفَرُوا الرُّعْبَ بِمَاۤ اَشْرَكُوْا بِاللّٰهِ مَا لَمْ یُنَزِّلْ بِهٖ سُلْطٰنًا ۚ وَ مَاْوٰىهُمُ النَّارُ ؕ وَ بِئْسَ مَثْوَی الظّٰلِمِیْنَ 151
151. আমি অচিরেই এসব কাফেরদের অন্তরে ভয় ঢুকিয়ে দেবো। কেননা ওরা আল্লাহর সাথে অন্যদের শরিক করে চলছে। অথচ এ কাজের স্বপক্ষে ওদের কোনো দলিল নেই। ওদের দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করবো। নিঃসন্দেহে জালেমদের কপালে খুব খারাপ আবাস জুটবে।
وَ لَقَدْ صَدَقَكُمُ اللّٰهُ وَعْدَهٗۤ اِذْ تَحُسُّوْنَهُمْ بِاِذْنِهٖ ۚ حَتّٰۤی اِذَا فَشِلْتُمْ وَ تَنَازَعْتُمْ فِی الْاَمْرِ وَ عَصَیْتُمْ مِّنْۢ بَعْدِ مَاۤ اَرٰىكُمْ مَّا تُحِبُّوْنَ ؕ مِنْكُمْ مَّنْ یُّرِیْدُ الدُّنْیَا وَ مِنْكُمْ مَّنْ یُّرِیْدُ الْاٰخِرَةَ ۚ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِیَبْتَلِیَكُمْ ۚ وَ لَقَدْ عَفَا عَنْكُمْ ؕ وَ اللّٰهُ ذُوْ فَضْلٍ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ 152
152. আর এ যুদ্ধে আল্লাহ তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন। শুরুর দিকে তোমরা তাঁর হুকুমেই ওদেরকে প্রায় শেষ করে দিয়েছিলে। কিন্তু এরপরই তোমরা দুর্বলতা দেখালে। তোমাদের চোখ পড়লো তোমাদের কাঙ্খিত বস্তু গনিমতের মালের উপর। ফলে তোমরা নেতার আদেশ লঙ্ঘন করলে এবং কাজের ব্যাপারে নিজেরাই মতভেদে জড়ালে। আসলে তোমাদের কিছু লোক দুনিয়াবী লোভে পড়ে গিয়েছিলো। অবশ্য কিছু লোক তখনো আখেরাতকেই চাচ্ছিলে। তখনই আল্লাহ কাফেরদের মোকাবেলায় তোমাদের পিছিয়ে দিলেন, যাতে তোমাদের থেকে এক কঠিন পরীক্ষা নেয়া যায়। এসব কিছুর পরেও আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেছেন। আসলে আল্লাহ মুমিনদের বড়ই করুণার নজরে দেখেন।
اِذْ تُصْعِدُوْنَ وَ لَا تَلْوٗنَ عَلٰۤی اَحَدٍ وَّالرَّسُوْلُ یَدْعُوْكُمْ فِیْۤ اُخْرٰىكُمْ فَاَثَابَكُمْ غَمًّۢا بِغَمٍّ لِّكَیْلَا تَحْزَنُوْا عَلٰی مَا فَاتَكُمْ وَ لَا مَاۤ اَصَابَكُمْ ؕ وَ اللّٰهُ خَبِیْرٌۢ بِمَا تَعْمَلُوْنَ 153
153. তোমাদের সে দৃশ্য মনে করে দেখো, তখন তোমরা পালাবার জন্যে পাহাড়ের দিকে এমনভাবে ছুটছিলে যে, কারো দিকে ফিরে তাকানোর হুঁশও ছিলো না। অথচ স্বয়ং রসুল পিছন দিক থেকে তোমাদের ডাকছিলেন। এ আচরণের কারণে আল্লাহ তোমাদেরকে দুঃখের পর দুঃখ দিলেন। এ পথে তোমরা ভবিষ্যতের শিক্ষা পাবে যে, কোনো কিছু হাতছাড়া হয়ে গেলে কিংবা যে কোনো বিপদই আসুক না কেন, তাতে ভেঙ্গে পড়তে নেই। বস্তত আল্লাহ তোমাদের সব কাজকর্মের খবর রাখেন।
ثُمَّ اَنْزَلَ عَلَیْكُمْ مِّنْۢ بَعْدِ الْغَمِّ اَمَنَةً نُّعَاسًا یَّغْشٰی طَآئِفَةً مِّنْكُمْ ۙ وَ طَآئِفَةٌ قَدْ اَهَمَّتْهُمْ اَنْفُسُهُمْ یَظُنُّوْنَ بِاللّٰهِ غَیْرَ الْحَقِّ ظَنَّ الْجَاهِلِیَّةِ ؕ یَقُوْلُوْنَ هَلْ لَّنَا مِنَ الْاَمْرِ مِنْ شَیْءٍ ؕ قُلْ اِنَّ الْاَمْرَ كُلَّهٗ لِلّٰهِ ؕ یُخْفُوْنَ فِیْۤ اَنْفُسِهِمْ مَّا لَا یُبْدُوْنَ لَكَ ؕ یَقُوْلُوْنَ لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ الْاَمْرِ شَیْءٌ مَّا قُتِلْنَا هٰهُنَا ؕ قُلْ لَّوْ كُنْتُمْ فِیْ بُیُوْتِكُمْ لَبَرَزَ الَّذِیْنَ كُتِبَ عَلَیْهِمُ الْقَتْلُ اِلٰی مَضَاجِعِهِمْ ۚ وَ لِیَبْتَلِیَ اللّٰهُ مَا فِیْ صُدُوْرِكُمْ وَ لِیُمَحِّصَ مَا فِیْ قُلُوْبِكُمْ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ 154
154. এ দুঃখ-বিপর্যয়ের পর আল্লাহ প্রশান্তি নাযিল করলেন। ফলে তোমাদের একদল তাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে গেলো। কিন্তু তখনও কিছুলোক নিজেদের ব্যাপারে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় বিচলিত ছিলো। ওরা তখন আল্লাহ সম্পর্কে নানা জাহিলি কথাবার্তা বলছিলো, যা মোটেই সত্য নয়। ওরা বলছিলো, এ যুদ্ধে নেতৃত্বের জন্যে কি আমাদের কোনো সুযোগ দেয়া হয়েছিলো? হে নবী, তুমি ওদের বলো, নেতৃত্ব কেবল আল্লাহর হাতে। আসলে ওরা মনের কথা তোমাদের সরাসরি বলার সাহস পাচ্ছে না। ওরা মূলত বলতে চায়, এ যুদ্ধে আমরা নেতৃত্ব দিলে এখানে আজ মারা পড়তাম না। তুমি ওদের শক্তভাষায় বলে দাও, তোমরা যদি নিজেদের ঘরেও বসে থাকতে, তবুও যাদের নামে মৃত্যু লেখা হয়ে গেছে তারা নিজেরাই মৃত্যুস্থানে এসে হাজির হয়ে যেতে। আসলে এ দুঃখ-বিপর্যয় এ জন্যেই যে, আল্লাহ তোমাদের অন্তুরকে ভালোভাবে পরীক্ষা করে পরিশুদ্ধ করে নিতে চান। কেননা আল্লাহ বান্দার অন্তরের অবস্থা খুব ভালো করেই জানেন।
اِنَّ الَّذِیْنَ تَوَلَّوْا مِنْكُمْ یَوْمَ الْتَقَی الْجَمْعٰنِ ۙ اِنَّمَا اسْتَزَلَّهُمُ الشَّیْطٰنُ بِبَعْضِ مَا كَسَبُوْا ۚ وَ لَقَدْ عَفَا اللّٰهُ عَنْهُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ حَلِیْمٌ۠ 155
155. সেদিন তোমাদের যারা মোকাবেলা না করে পালিয়ে গিয়েছিলো; মূলত শয়তান ওদের কিছু দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ওদের পদস্খলন ঘটায়। অবশ্য এরপর আল্লাহ তাদের ক্ষমা করেছেন। আসলে আল্লাহ বান্দার প্রতি বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই সহনশীল।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ قَالُوْا لِاِخْوَانِهِمْ اِذَا ضَرَبُوْا فِی الْاَرْضِ اَوْ كَانُوْا غُزًّی لَّوْ كَانُوْا عِنْدَنَا مَا مَاتُوْا وَ مَا قُتِلُوْا ۚ لِیَجْعَلَ اللّٰهُ ذٰلِكَ حَسْرَةً فِیْ قُلُوْبِهِمْ ؕ وَ اللّٰهُ یُحْیٖ وَ یُمِیْتُ ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ 156
156. হে ঈমানদারেরা, তোমরা কাফেরদের মতো কথা বলো না। ওদের আত্মীয়-স্বজনের কেউ যখন কোনো সফরে মারা যায় কিংবা যুদ্ধে নিহত হয়, তখন ওরা বলে, হায়! ওরা যদি আমাদের সাথে বাড়িতে অবস্থান করতো, তবে এ পরিণতি হতো না। এসব ভ্রান্ত কথাবার্তা দ্বারা আল্লাহ ওদের অন্তরে দুঃখ ও আক্ষেপের জন্ম দেন। আসল কথা হচ্ছে, জীবন-মৃত্যু কেবল আল্লাহর হাতে। জেনে রেখো, তোমাদের সব কাজকর্মের উপর আল্লাহ সজাগ দৃষ্টি রাখেন।
وَ لَئِنْ قُتِلْتُمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ اَوْ مُتُّمْ لَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللّٰهِ وَ رَحْمَةٌ خَیْرٌ مِّمَّا یَجْمَعُوْنَ 157
157. আসলে তোমরা যদি আল্লাহর পথে শহীদ হয়ে যাও কিংবা মারা যাও, তবে বিনিময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমরা ক্ষমা ও রহমত লাভ করবে, যা ওদের দুনিয়ায় জমানো সম্পদ থেকে অনেক অনেক উত্তম।
وَ لَئِنْ مُّتُّمْ اَوْ قُتِلْتُمْ لَاۡاِلَی اللّٰهِ تُحْشَرُوْنَ 158
158. তাছাড়া তোমরা স্বাভাবিকভাবে মারা যাও কিংবা কোনো কারণে নিহত হও উভয় অবস্থায়ই তোমাদের অবশ্যই আল্লাহর কাছে সমবেত হতে হবে।
فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللّٰهِ لِنْتَ لَهُمْ ۚ وَ لَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِیْظَ الْقَلْبِ لَا نْفَضُّوْا مِنْ حَوْلِكَ ۪ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَ اسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَ شَاوِرْهُمْ فِی الْاَمْرِ ۚ فَاِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَی اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِیْنَ 159
159. হে নবী, এটা তোমার উপর আল্লাহর রহমত যে, তুমি তোমার অনুসারীদের প্রতি বড়ই কোমল হৃদয়ের। পক্ষান্তরে যদি উগ্র মেজাজ ও পাষাণ হৃদয়ের হতে, তবে এসব অনুসারীরা তোমার চারপাশ থেকে কেটে পড়তো। অতএব তাদের সাধারণ ভুল-ত্রুটি গুলো মাফ করে দাও, আল্লাহর কাছে তাদের জন্যে ক্ষমা চাও এবং সামষ্টিক কাজকর্মে তাদের সাথে নানা বিষয়ে পরামর্শ করে নাও। এভাবে কোনো ব্যাপারে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিলে, আল্লাহর উপর ভরসা করো। মনে রেখো, আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন, যারা তাঁর উপর ভরসা করে কাজ করে।
اِنْ یَّنْصُرْكُمُ اللّٰهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ ۚ وَ اِنْ یَّخْذُلْكُمْ فَمَنْ ذَا الَّذِیْ یَنْصُرُكُمْ مِّنْۢ بَعْدِهٖ ؕ وَ عَلَی اللّٰهِ فَلْیَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُوْنَ 160
160. ভেবে দেখো, যদি আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেন, তবে কোনো শক্তিই তোমাদের হারাতে পারবে না। কিন্তু যদি তিনি তোমাদের পরিত্যাগ করেন, তবে এমন কে আছে, যে তোমাদের সাহায্য করতে পারবে? কাজেই একমাত্র আল্লাহর উপরেই মুমিনদের পূর্ণ ভরসা রাখা উচিত।
وَ مَا كَانَ لِنَبِیٍّ اَنْ یَّغُلَّ ؕ وَ مَنْ یَّغْلُلْ یَاْتِ بِمَا غَلَّ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ۚ ثُمَّ تُوَفّٰی كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَ هُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ 161
161. শোনো, নবী খেয়ানত করেছেন এমনটা হতেই পারে না। আর অন্যদের কেউ যদি সামান্য খেয়ানতও করে, তবে কেয়ামতের দিন সে নিজেই খেয়ানতের বস্তু বহন করে নিয়ে আসবে। সেদিন প্রত্যেকে তার উপার্জনের পূর্ণ বিনিময় পাবে। কারো উপর সামান্য জুলুমও করা হবে না।
اَفَمَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَ اللّٰهِ كَمَنْۢ بَآءَ بِسَخَطٍ مِّنَ اللّٰهِ وَ مَاْوٰىهُ جَهَنَّمُ ؕ وَ بِئْسَ الْمَصِیْرُ 162
162. ১৬২. যে ব্যক্তি সর্বদা আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী চলে, সে কিভাবে ঐ লোকের মতো হতে পারে, যাকে আল্লাহর গযব চারদিক দিয়ে ঘিরে ফেলেছে এবং তার গন্তব্য এখন জাহান্নাম? আফসোস! ওদের গন্তব্য কতোই না খারাপ আবাসে।
هُمْ دَرَجٰتٌ عِنْدَ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ بَصِیْرٌۢ بِمَا یَعْمَلُوْنَ 163
163. ১৬৩. আসলে আল্লাহর দৃষ্টিতে এদের উভয় দল একই শ্রেণিভুক্ত নয়। এদের প্রত্যেকের কাজের উপর আল্লাহ সজাগ দৃষ্টি রাখেন।
لَقَدْ مَنَّ اللّٰهُ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ اِذْ بَعَثَ فِیْهِمْ رَسُوْلًا مِّنْ اَنْفُسِهِمْ یَتْلُوْا عَلَیْهِمْ اٰیٰتِهٖ وَ یُزَكِّیْهِمْ وَ یُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَ الْحِكْمَةَ ۚ وَ اِنْ كَانُوْا مِنْ قَبْلُ لَفِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ 164
164. ১৬৪. আল্লাহ মুমিনদের প্রতি বড়ই অনুগ্রহ করেছেন, তাদেরই একজনকে রসুল হিসেবে তাদের কাছে পাঠিয়ে। সে রসুল তাদেরকে আল্লাহর আয়াতসমূহ পড়ে শুনায়, তাদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে, তাদেরকে আল্লাহর কিতাব ও হেকমত শিখায়। অথচ এর আগে তারা সুস্পষ্ট ভুল পথে ছিলো।
اَوَ لَمَّاۤ اَصَابَتْكُمْ مُّصِیْبَةٌ قَدْ اَصَبْتُمْ مِّثْلَیْهَا ۙ قُلْتُمْ اَنّٰی هٰذَا ؕ قُلْ هُوَ مِنْ عِنْدِ اَنْفُسِكُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ 165
165. ১৬৫. তোমাদের এ কেমন ব্যবহার, ওহুদে তোমরা যখন বিপদে পড়লে, তখন বলতে লাগলে, আমাদের উপর এভাবে কেন বিপদ এলো? অথচ বদরে তোমাদের প্রতিপক্ষ এর দ্বিগুণ বিপদে পড়েছিলো। হে নবী, তুমি তাদের বলো, তোমাদের নিজেদের কারণেই এ বিপদ এসেছে। যদিও আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের উপর পূর্ণ শক্তি রাখেন।
وَ مَاۤ اَصَابَكُمْ یَوْمَ الْتَقَی الْجَمْعٰنِ فَبِاِذْنِ اللّٰهِ وَ لِیَعْلَمَ الْمُؤْمِنِیْنَۙ 166
166. ১৬৬. আসলে এ যুদ্ধে তোমাদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা সবই আল্লাহর অনুমতিতে হয়েছে। বস্তুত এভাবে তিনি সাচ্চা মুমিনদের চিনে নিতে চেয়েছেন।
وَ لِیَعْلَمَ الَّذِیْنَ نَافَقُوْا ۖۚ وَ قِیْلَ لَهُمْ تَعَالَوْا قَاتِلُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ اَوِ ادْفَعُوْا ؕ قَالُوْا لَوْ نَعْلَمُ قِتَالًا لَّا تَّبَعْنٰكُمْ ؕ هُمْ لِلْكُفْرِ یَوْمَئِذٍ اَقْرَبُ مِنْهُمْ لِلْاِیْمَانِ ۚ یَقُوْلُوْنَ بِاَفْوَاهِهِمْ مَّا لَیْسَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ ؕ وَاللّٰهُ اَعْلَمُ بِمَا یَكْتُمُوْنَۚ 167
167. ১৬৭. আর তিনি মুনাফিকদের মুখোশ খুলে দিয়েছেন। সেদিন ওদের বলা হয়েছিলো, এসো, তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো। অন্তত নিজেদের শহর প্রতিরক্ষার জন্যে হলেও লড়ো। এসব মুনাফিকেরা তখন ভণিতা করে জবাব দিয়েছিলো, আসলে আজ কোনো যুদ্ধই হবে না। যদি যুদ্ধের সম্ভাবনা থাকতো; তবে তোমাদের সাথে চলতাম। বস্তুত ওরা সে সময় ঈমানের চেয়ে কুফরির দিকেই বেশি ঝুঁকেছিলো। ওদের অন্তরের কথার সাথে মুখের কথার কোনো মিল ছিলো না। আর আল্লাহ খুব ভালো করেই ওদের মনের লুকানো কথা জানেন।
اَلَّذِیْنَ قَالُوْا لِاِخْوَانِهِمْ وَ قَعَدُوْا لَوْ اَطَاعُوْنَا مَا قُتِلُوْا ؕ قُلْ فَادْرَءُوْا عَنْ اَنْفُسِكُمُ الْمَوْتَ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ 168
168. ১৬৮. এরপর এসব মুনাফিকেরা নিজেরা বাড়িতে বসে থাকলো। আরো উল্টো ওদের যেসব ভাই-বন্ধু যুদ্ধ করে শহীদ হলো, তাদের সম্পর্কে বলতে লাগলো ইশ! ওরা যদি আমাদের কথা মানতো, তবে আজ মরতো না। হে নবী, ওদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলো, যদি তোমাদের এ বিশ্বাস সত্য হয়, তবে পারলে নিজেদের মরণ ঠেকাও।
وَ لَا تَحْسَبَنَّ الَّذِیْنَ قُتِلُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ اَمْوَاتًا ؕ بَلْ اَحْیَآءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ یُرْزَقُوْنَۙ 169
169. ১৬৯. খবরদার! যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছে তাদেরকে কখনো সাধারণের মতো মৃত ভেবো না। তারা প্রকৃতার্থে জীবিত এবং আপন রবের পক্ষ থেকে জীবিকাপ্রাপ্ত।
فَرِحِیْنَ بِمَاۤ اٰتٰىهُمُ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِهٖ ۙ وَ یَسْتَبْشِرُوْنَ بِالَّذِیْنَ لَمْ یَلْحَقُوْا بِهِمْ مِّنْ خَلْفِهِمْ ۙ اَلَّا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَ لَا هُمْ یَحْزَنُوْنَۘ 170
170. ১৭০. জেনে রেখো, এসব শহীদেরা আল্লাহর অনুগ্রহ পেয়ে মহা আনন্দিত ও পরিতৃপ্ত রয়েছে। আর যেসব ঈমানদারেরা দুনিয়ায় রয়ে গেছে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি, তাদেরকে সুসংবাদ শুনিয়ে বলে, তাদের কোনো ভয় নেই, এমনকি দুশ্চিন্তাও নেই।
یَسْتَبْشِرُوْنَ بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللّٰهِ وَ فَضْلٍ ۙ وَّ اَنَّ اللّٰهَ لَا یُضِیْعُ اَجْرَ الْمُؤْمِنِیْنَ ۚۛ۠ 171
171. সত্যিই এসব শহীদেরা আল্লাহর নেয়ামত ও দয়া পেয়ে মহা আনন্দিত হয়েছে। আর হ্যা, আল্লাহ কখনোই মুমিনদের প্রতিদান নষ্ট করবেন না।
اَلَّذِیْنَ اسْتَجَابُوْا لِلّٰهِ وَ الرَّسُوْلِ مِنْۢ بَعْدِ مَاۤ اَصَابَهُمُ الْقَرْحُ ۛؕ لِلَّذِیْنَ اَحْسَنُوْا مِنْهُمْ وَ اتَّقَوْا اَجْرٌ عَظِیْمٌۚ 172
172. শোনো, আহত হওয়ার পরেও যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের ডাকে পুনরায় সাড়া দিয়েছে, তারা সৎকাজ করলে এবং তাকওয়ার নীতিতে চললে, তাদের জন্যে বিরাট পুরস্কার অপেক্ষা করছে।
اَلَّذِیْنَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ اِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوْا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ اِیْمَانًا ۖۗ وَّ قَالُوْا حَسْبُنَا اللّٰهُ وَ نِعْمَ الْوَكِیْلُ 173
173. তাদেরকে লোকেরা ভয় দেখিয়ে বলেছিলো, তোমাদের বিরুদ্ধে শত্রুরা বিরাট সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে। সুতরাং এবার তোমাদের বিপদ আছে, সতর্ক থেকো। একথা শুনে তাদের ঈমান আরো বেড়ে গেলো এবং তারা দৃঢ়কণ্ঠে জবাব দিলো, আমাদের জন্যে আল্লাহই যথেষ্ট। আর কিভাবে কাজ সমাধা করতে হয়, তিনি তা ভালো করেই জানেন।
فَانْقَلَبُوْا بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللّٰهِ وَ فَضْلٍ لَّمْ یَمْسَسْهُمْ سُوْٓءٌ ۙ وَّ اتَّبَعُوْا رِضْوَانَ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ ذُوْ فَضْلٍ عَظِیْمٍ 174
174. অবশেষে তারা আল্লাহর নিয়ামত ও অনুগ্রহ নিয়ে ফিরে এলো। এ অভিযানে তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতিই হলো না; বরং তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলার সৌভাগ্য লাভ করলো। আসলে আল্লাহ বান্দার প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল।
اِنَّمَا ذٰلِكُمُ الشَّیْطٰنُ یُخَوِّفُ اَوْلِیَآءَهٗ ۪ فَلَا تَخَافُوْهُمْ وَ خَافُوْنِ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ 175
175. এখনতো তোমরা বুঝতে পারলে যে, সে আসলে একটা শয়তান ছিলো, যে তোমাদেরকে তার বন্ধু কাফেরদের ব্যাপারে ভয় দেখাচ্ছিলো। কাজেই আগামীতে তোমরা এদের ভয় করো না; বরং কেবল আমাকেই ভয় করো। সাচ্চা মুমিন হলে একথা মেনে নাও।
وَ لَا یَحْزُنْكَ الَّذِیْنَ یُسَارِعُوْنَ فِی الْكُفْرِ ۚ اِنَّهُمْ لَنْ یَّضُرُّوا اللّٰهَ شَیْـًٔا ؕ یُرِیْدُ اللّٰهُ اَلَّا یَجْعَلَ لَهُمْ حَظًّا فِی الْاٰخِرَةِ ۚ وَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِیْمٌ 176
176. হে নবী, এসব কাফেরদের তৎপরতা দেখে দুশ্চিন্তায় পড়ো না। ওরা আল্লাহর সামান্য ক্ষতিও করতে পারবে না। আসলে আল্লাহ ওদের জন্য আখেরাতে কোনো অংশই রাখতে চান না। ফলে ওরা সেখানে কেবল ভয়ানক আযাবই পাবে।
اِنَّ الَّذِیْنَ اشْتَرَوُا الْكُفْرَ بِالْاِیْمَانِ لَنْ یَّضُرُّوا اللّٰهَ شَیْـًٔا ۚ وَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ 177
177. সন্দেহ নেই, যারা ঈমান বেঁচে কুফরি কিনেছে, ওদের এ সিদ্ধান্ত আল্লাহর সামান্য ক্ষতিও করতে পারবে না; বরং উল্টো ওদের জন্যেই ভয়ানক কষ্টকর শাস্তি ডেকে আনবে।
وَ لَا یَحْسَبَنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَنَّمَا نُمْلِیْ لَهُمْ خَیْرٌ لِّاَنْفُسِهِمْ ؕ اِنَّمَا نُمْلِیْ لَهُمْ لِیَزْدَادُوْۤا اِثْمًا ۚ وَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِیْنٌ 178
178. আর আমি যে কাফেরদের রশি ঢিল দিয়ে চলছি, এটাকে ওরা যেন নিজেদের জন্য লাভজনক মনে না করে। বরং আমি ঢিল দিয়ে রেখেছি ওদের পাপের বোঝা পূর্ণ করে নেয়ার জন্য, যাতে ওদেরকে আমি কঠিন অপমানজনক শাস্তি দিতে পারি।
مَا كَانَ اللّٰهُ لِیَذَرَ الْمُؤْمِنِیْنَ عَلٰی مَاۤ اَنْتُمْ عَلَیْهِ حَتّٰی یَمِیْزَ الْخَبِیْثَ مِنَ الطَّیِّبِ ؕ وَ مَا كَانَ اللّٰهُ لِیُطْلِعَكُمْ عَلَی الْغَیْبِ وَ لٰكِنَّ اللّٰهَ یَجْتَبِیْ مِنْ رُّسُلِهٖ مَنْ یَّشَآءُ ۪ فَاٰمِنُوْا بِاللّٰهِ وَ رُسُلِهٖ ۚ وَ اِنْ تُؤْمِنُوْا وَ تَتَّقُوْا فَلَكُمْ اَجْرٌ عَظِیْمٌ 179
179. হে ঈমানদারেরা, জেনে রেখো, আল্লাহ কখনোই তোমাদেরকে বর্তমান এ অবস্থায় থাকতে দেবেন না। তিনি অবশ্যই তোমাদের মধ্য থেকে করা সাচ্চা মুমিন আর কারা মুনাফিক- তা আলাদা করেই ছাড়বেন। যদিও তোমাদের কাছে গায়েবের খবর প্রকাশ করা আল্লাহর নীতি নয়, তবুও তিনি তাঁর পছন্দনীয় নবীদের এ ব্যাপারে মাঝে-মধ্যে জানিয়ে থাকেন। অতএব তোমরা সাচ্চা মনে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের কথা মেনে নাও। হ্যাঁ! যদি তোমরা সত্যিকারেই ঈমান আনো এবং আল্লাহকে ভয় করে চলো, তবে তোমাদেরকে অনেক বিরাট প্রতিদান দেয়া হবে।
وَ لَا یَحْسَبَنَّ الَّذِیْنَ یَبْخَلُوْنَ بِمَاۤ اٰتٰىهُمُ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِهٖ هُوَ خَیْرًا لَّهُمْ ؕ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ ؕ سَیُطَوَّقُوْنَ مَا بَخِلُوْا بِهٖ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ وَ لِلّٰهِ مِیْرَاثُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرٌ۠ 180
180. আর আল্লাহ যাদেরকে ধন-সম্পদ দিয়ে অনুগ্রহ করেছেন, তারা যেনো কৃপণতাকে অধিকতর লাভজনক না ভাবে। এটা ওদের জন্যে অত্যন্ত ক্ষতিকর। কৃপণতা করে ওরা যা কিছু জমাবে, কেয়ামতের দিন তা ওদের গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হবে। অথচ ওরা ভুলে গেছে, মহাকাশ ও পৃথিবীর সব সম্পদের স্বত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহর। আহ! তোমাদের সব কাজকর্মের খবর আল্লাহ রাখেন।
لَقَدْ سَمِعَ اللّٰهُ قَوْلَ الَّذِیْنَ قَالُوْۤا اِنَّ اللّٰهَ فَقِیْرٌ وَّنَحْنُ اَغْنِیَآءُ ۘ سَنَكْتُبُ مَا قَالُوْا وَ قَتْلَهُمُ الْاَنْۢبِیَآءَ بِغَیْرِ حَقٍّ ۙ وَّ نَقُوْلُ ذُوْقُوْا عَذَابَ الْحَرِیْقِ 181
181. আল্লাহ সেসব ইহুদির কথা ভালো করেই শুনেছেন, যারা বলে বেড়াচ্ছে, তোমাদের আল্লাহতো তাহলে গরিব হয়ে গেছে; আর আমরাই তাঁর থেকে ধনী। শুনে রেখো, আমি ওদের এসব কটুক্তি লিখে রাখছি এবং ওরা যে আল্লাহর নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে, সে কথাও লিখে রাখছি। এরপর পরকালে ওদের ডেকে বলবো, এসো! আমার জাহান্নামের আগুনে একটু পুড়ে দেখো এর স্বাদটা কেমন।
ذٰلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ اَیْدِیْكُمْ وَ اَنَّ اللّٰهَ لَیْسَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِیْدِۚ 182
182. ওদেরকে বলবো, তোমরা নিজেরাই তোমাদের এ পরিণতি ডেকে এনেছো। কেননা বান্দার প্রতি সামান্য জুলুম করাও আল্লাহর নীতি নয়।
اَلَّذِیْنَ قَالُوْۤا اِنَّ اللّٰهَ عَهِدَ اِلَیْنَاۤ اَلَّا نُؤْمِنَ لِرَسُوْلٍ حَتّٰی یَاْتِیَنَا بِقُرْبَانٍ تَاْكُلُهُ النَّارُ ؕ قُلْ قَدْ جَآءَكُمْ رُسُلٌ مِّنْ قَبْلِیْ بِالْبَیِّنٰتِ وَ بِالَّذِیْ قُلْتُمْ فَلِمَ قَتَلْتُمُوْهُمْ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ 183
183. এসব ইহুদিরা আবার দাবি করে, আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেনো এমন কোনো রসুলকে সত্য বলে মেনে না নেই, যে আমাদের সামনে এমন কুরবানি পেশ করে, যা অদৃশ্য আগুন এসে খেয়ে ফেলে। হে নবী, ওদের বলো, আচ্ছা! এর আগে তোমাদের কাছে বহু নবী সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে হাজির হয়েছিলো। এমনকি, তোমরা এখন যে প্রমাণ চাইছো তাও দেখিয়েছিলো। তাহলে বলো, তোমাদের দাবি সত্য হলে, ঐসব নবীদের হত্যা করেছিলে কেন?
فَاِنْ كَذَّبُوْكَ فَقَدْ كُذِّبَ رُسُلٌ مِّنْ قَبْلِكَ جَآءُوْ بِالْبَیِّنٰتِ وَ الزُّبُرِ وَ الْكِتٰبِ الْمُنِیْرِ 184
184. হে নবী, ওরা যদি তোমাকে সত্যবলে না মানে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ এর আগেও ওরা বহু রসুলকে মানেনি। অথচ সে রসুলেরা ওদেরকে সুস্পষ্ট নিদর্শন দেখিয়েছে, আসমানি সহিফা দিয়েছে, এমনকি আলোর বাহক কিতাব নিয়েও হাজির হয়েছিলো।
كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ ؕ وَ اِنَّمَا تُوَفَّوْنَ اُجُوْرَكُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَ اُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ ؕ وَ مَا الْحَیٰوةُ الدُّنْیَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الْغُرُوْرِ 185
185. আসলে প্রত্যেককেই একদিন না একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে। আর কেয়ামতের দিন তোমাদের প্রত্যেকেই পূর্ণ প্রতিদান লাভ করবে। সেদিন একমাত্র সে সফল হবে, যাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে জান্নাতে নেয়া হবে। সতর্ক থেকো, দুনিয়ায় অধিকাংশ জীবনই ধোঁকায় পড়ে যায়।
لَتُبْلَوُنَّ فِیْۤ اَمْوَالِكُمْ وَ اَنْفُسِكُمْ ۫ وَ لَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَ مِنَ الَّذِیْنَ اَشْرَكُوْۤا اَذًی كَثِیْرًا ؕ وَ اِنْ تَصْبِرُوْا وَ تَتَّقُوْا فَاِنَّ ذٰلِكَ مِنْ عَزْمِ الْاُمُوْرِ 186
186. হে মুসলমানেরা, নিশ্চয়ই তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও জীবনের ব্যাপারে পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। আর সে কারণেই তোমরা কিতাবওয়ালা ও মুশরিকদের কাছ থেকে এমন আজেবাজে কথা শুনবে, যা তোমাদের অনেক কষ্ট দেবে। এসব পরিস্থিতিতে তোমরা যদি ধৈর্য ধরো এবং তাকওয়ার নীতিতে চলো, তবে সেটাই হবে অতি দৃঢ় পদক্ষেপ।
وَ اِذْ اَخَذَ اللّٰهُ مِیْثَاقَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ لَتُبَیِّنُنَّهٗ لِلنَّاسِ وَ لَا تَكْتُمُوْنَهٗ ؗ فَنَبَذُوْهُ وَرَآءَ ظُهُوْرِهِمْ وَ اشْتَرَوْا بِهٖ ثَمَنًا قَلِیْلًا ؕ فَبِئْسَ مَا یَشْتَرُوْنَ 187
187. স্মরণ করাও হে নবী, আল্লাহ কিতাবওয়ালাদের থেকে অঙ্গীকারের নিলেন যে, তোমরা এ কিতাবের কথাগুলো মানুষের মধ্যে প্রচার করবে, তা কখনো গোপন করবে না। অথচ ওরা সে অঙ্গীকারকে অগ্রাহ্য করলো। এমনকি, দুনিয়ার সামান্য মূল্যে সে কথাগুলো বিক্রি করে দিলো। আফসোস! কতোইনা নিকৃষ্ট বেচা-কেনা ওরা করলো।
لَا تَحْسَبَنَّ الَّذِیْنَ یَفْرَحُوْنَ بِمَاۤ اَتَوْا وَّیُحِبُّوْنَ اَنْ یُّحْمَدُوْا بِمَا لَمْ یَفْعَلُوْا فَلَا تَحْسَبَنَّهُمْ بِمَفَازَةٍ مِّنَ الْعَذَابِ ۚ وَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ 188
188. তোমরা এটা ভেবো না যে, যারা এ বেচা-কেনায় সামান্য বিনিময় নিয়ে আনন্দিত হয় এবং এ কিতাবের হক আদায় না করেও প্রশংসা বাক্য শুনতে ভালোবাসে, ওরা আমার শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে যাবে। না, নিশ্চিতভাবে ওদের জন্যে কঠিন যন্ত্রণাদায়ক আযাব অপেক্ষা করছে।
وَ لِلّٰهِ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ وَ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ۠ 189
189. জেনে রেখো, মহাকাশ ও পৃথিবীর রাজত্ব একমাত্র আল্লাহর। তিনি এর প্রতিটি জিনিসের উপর সর্বশক্তিমান।
اِنَّ فِیْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ اخْتِلَافِ الَّیْلِ وَ النَّهَارِ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی الْاَلْبَابِۚۙ 190
190. নিশ্চয়ই মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি রহস্যে এবং রাত ও দিনের নির্দিষ্ট পালাবদলের মধ্যে বুদ্ধিজ্ঞান সম্পন্ন লোকদের শেখার অনেক কিছু রয়েছে।
الَّذِیْنَ یَذْكُرُوْنَ اللّٰهَ قِیٰمًا وَّقُعُوْدًا وَّعَلٰی جُنُوْبِهِمْ وَ یَتَفَكَّرُوْنَ فِیْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ۚ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هٰذَا بَاطِلًا ۚ سُبْحٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ 191
191. এসব লোকেরা একদিকে সর্বাবস্থায় দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকে। অন্যদিকে মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি রহস্য নিয়ে চিন্তা-গবেষণায় মগ্ন হয়। এ সময় তারা আপনা আপনি বলে ওঠে, হে আমাদের রব, এসব তুমি বেহুদা ও অপ্রয়োজনে সৃষ্টি করোনি। কেননা তুমি তো বেহুদা-বাজে কাজ করা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র। সুতরাং হে আমাদের রব, জাহান্নামের আগুন থেকে আমাদেরকে রক্ষা করো।
رَبَّنَاۤ اِنَّكَ مَنْ تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ اَخْزَیْتَهٗ ؕ وَ مَا لِلظّٰلِمِیْنَ مِنْ اَنْصَارٍ 192
192. হে আমাদের প্রভু, যাকে তুমি জাহান্নামে ঠেলে দিলে তাকেতো বড়ই লাঞ্ছিত-অপমানিত করে ছাড়লে। সেদিন এসব জালেমদের কোনো রক্ষাকারীই থাকবে না।
رَبَّنَاۤ اِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِیًا یُّنَادِیْ لِلْاِیْمَانِ اَنْ اٰمِنُوْا بِرَبِّكُمْ فَاٰمَنَّا ۖۗ رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَ كَفِّرْ عَنَّا سَیِّاٰتِنَا وَ تَوَفَّنَا مَعَ الْاَبْرَارِۚ 193
193. হে আমাদের মালিক, আমরা একজনকে ঈমানের দিকে দাওয়াত দিতে শুনেছি। সে বলছিলো, তোমরা তোমাদের প্রভুকে মেনে নাও। আমরা তার কথানুযায়ী তোমায় মেনে নিয়েছি। হে প্রভু, সুতরাং আমাদের পাপগুলো ক্ষমা করো, আমাদের দোষত্রুটি দূর করো এবং নেক লোকদের সাথে আমাদের শেষ পরিণতি দান করো।
رَبَّنَا وَ اٰتِنَا مَا وَعَدْتَّنَا عَلٰی رُسُلِكَ وَ لَا تُخْزِنَا یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ اِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِیْعَادَ 194
194. হে মালিক, তোমার রসুলদের মাধ্যমে আমাদের সাথে যেসব ওয়াদা করেছো, তা পূর্ণ করো। আর কেয়ামতের দিন আমাদেরকে লাঞ্ছিত-অপমানিত করো না। নিশ্চয়ই তুমি ওয়াদার খেলাফ করো না।
فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ اَنِّیْ لَاۤ اُضِیْعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِّنْكُمْ مِّنْ ذَكَرٍ اَوْ اُنْثٰی ۚ بَعْضُكُمْ مِّنْۢ بَعْضٍ ۚ فَالَّذِیْنَ هَاجَرُوْا وَ اُخْرِجُوْا مِنْ دِیَارِهِمْ وَ اُوْذُوْا فِیْ سَبِیْلِیْ وَ قٰتَلُوْا وَ قُتِلُوْا لَاُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَیِّاٰتِهِمْ وَ لَاُدْخِلَنَّهُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ ۚ ثَوَابًا مِّنْ عِنْدِ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ عِنْدَهٗ حُسْنُ الثَّوَابِ 195
195. তাদের প্রভু তাদের দোয়া শুনেন। তিনি বলেন, আমি তোমাদের কারো কর্মফলই বিনষ্ট করবো না। পুরুষ হও বা নারী, তোমরা সবাই একই জাতিভুক্ত আমার কাছে। সুতরাং যারা আমার জন্যে হিজরত করেছে, আপন ঘর-বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়েছে, আমার পথে নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং আমার জন্যে লড়েছে, এমনকি জীবন পর্যন্ত দিয়েছে- এসব পূণ্যবান বান্দাদের সমস্ত গুনাহ আমি অবশ্যই মিটিয়ে দেবো এবং তাদেরকে এমন জান্নাত দান করবো, যার পাদদেশে ঝর্না বয়ে যাবে। এসবই হচ্ছে আল্লাহর কাছে তাদের প্রাপ্য প্রতিদান। বস্তুত আল্লাহই সবচেয়ে ভালো পুরস্কার দিতে পারেন।
لَا یَغُرَّنَّكَ تَقَلُّبُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا فِی الْبِلَادِؕ 196
196. হে আমার প্রিয় বান্দারা, দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের কাফেরদের উন্নত জীবনমান যেনো তোমাদের ধোঁকায় না ফেলে।
مَتَاعٌ قَلِیْلٌ ۫ ثُمَّ مَاْوٰىهُمْ جَهَنَّمُ ؕ وَ بِئْسَ الْمِهَادُ 197
197. এগুলো নিছক কয়েক দিনের সামান্য ভোগ বিলাস মাত্র। এরপর ওরা সবাই জাহান্নামে এসে পড়বে। আর সেটা অকল্পনীয় ভয়ঙ্কর এক আবাস।
لٰكِنِ الَّذِیْنَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ جَنّٰتٌ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا نُزُلًا مِّنْ عِنْدِ اللّٰهِ ؕ وَ مَا عِنْدَ اللّٰهِ خَیْرٌ لِّلْاَبْرَارِ 198
198. অন্যদিকে যারা নিজেদের প্রতিপালকের নির্দেশনা অনুযায়ী সচেতন জীবন যাপন করে, তাদের পুরস্কার হবে জান্নাত। সে জান্নাতের পাদদেশ দিয়ে ঝর্নাধারা বয়ে গেছে। এটা তাদের স্থায়ী ঠিকানা হবে। এসবই আল্লাহর পক্ষ থেকে মেহমানদারী। আহ! নেক লোকদের জন্যে আল্লাহর কাছে আরো কতোই না উত্তম পুরস্কার রয়েছে!
وَ اِنَّ مِنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ لَمَنْ یُّؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَ مَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْكُمْ وَ مَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْهِمْ خٰشِعِیْنَ لِلّٰهِ ۙ لَا یَشْتَرُوْنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ ثَمَنًا قَلِیْلًا ؕ اُولٰٓئِكَ لَهُمْ اَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ سَرِیْعُ الْحِسَابِ 199
199. কিতাবওয়ালাদের মধ্যেও বেশ কিছু লোক খালেসভাবে আল্লাহকে মেনে নিয়েছে। তারা নিজেদের কিতাবের মতো তোমাদের কিতাবকেও সত্যবলে স্বীকার করে। আর তারা আল্লাহর সামনে বিনয়-অবনত হয় এবং জগতের সামান্য স্বার্থে আল্লাহর বিধি-বিধানকে বেঁচে দেয় না। এসব লোকের জন্য তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে উত্তম পুরস্কার। মনে রেখো, হিসাব মিটিয়ে দেয়ার ব্যাপারে আল্লাহ মোটেই দেরি করেন না।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اصْبِرُوْا وَ صَابِرُوْا وَ رَابِطُوْا ۫ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ۠ 200
200. হে ঈমানদারেরা, ধৈর্যের পথ অবলম্বন করো, বাতিলের মোকাবেলায় দৃঢ়তা দেখাও, দ্বীনের জন্যে লড়তে সর্বদা প্রস্তুত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করে কাজ করে চলো। তবেই তোমরা সফল হবে।