41. হা-মীম আস-সাজদা (ফুসসিলাত)

كِتٰبٌ فُصِّلَتْ اٰیٰتُهٗ قُرْاٰنًا عَرَبِیًّا لِّقَوْمٍ یَّعْلَمُوْنَۙ 1
3. এর প্রতিটি আয়াতই সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত। এ কুরআন পরিষ্কার আরবি ভাষায় নাযিল হয়েছে, যাতে জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন লোকদের জন্য এ কিতাব সুসংবাদবাহী এবং সতর্ককারী হতে পারে।
بَشِیْرًا وَّ نَذِیْرًا ۚ فَاَعْرَضَ اَكْثَرُهُمْ فَهُمْ لَا یَسْمَعُوْنَ 2
4. কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এ থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকছে। ফলে ওরা সত্য শুনতে পায় না
وَ قَالُوْا قُلُوْبُنَا فِیْۤ اَكِنَّةٍ مِّمَّا تَدْعُوْنَاۤ اِلَیْهِ وَ فِیْۤ اٰذَانِنَا وَقْرٌ وَّ مِنْۢ بَیْنِنَا وَ بَیْنِكَ حِجَابٌ فَاعْمَلْ اِنَّنَا عٰمِلُوْنَ 3
5. হে নবী, ওরা বলে, তুমি আমাদেরকে যার দিকে ডাকছো, সে ব্যাপারে আমাদের মনের উপর পর্দা পড়ে আছে। আমাদের কান বন্ধ । তদুপরি তোমার ও আমাদের মধ্যে এক শক্ত প্রতিবন্ধকতা দাঁড়িয়ে আছে। কাজেই তুমি তোমার কাজ করো, আর আমরা আমাদের কাজ করি।
قُلْ اِنَّمَاۤ اَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ یُوْحٰۤی اِلَیَّ اَنَّمَاۤ اِلٰهُكُمْ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ فَاسْتَقِیْمُوْۤا اِلَیْهِ وَ اسْتَغْفِرُوْهُ ؕ وَ وَیْلٌ لِّلْمُشْرِكِیْنَۙ 4
6. হে নবী! ওদের বলো, আমি তো তোমাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ। আমাকে অহি দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, তোমাদের ইলাহ কেবল একজনই। অতএব দৃঢ়ভাবে তাঁর পথ আঁকড়ে ধরো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাও। কাজেই শরিককারীদের জন্য দুর্ভোগ রয়েছে।
الَّذِیْنَ لَا یُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَ هُمْ بِالْاٰخِرَةِ هُمْ كٰفِرُوْنَ 5
7. কেননা ওরা না যাকাত আদায় করে, আর না আখেরাতের জবাবদিহিতায় বিশ্বাস রাখে।
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَهُمْ اَجْرٌ غَیْرُ مَمْنُوْنٍ۠ 6
8. তবে যারা ঈমানের সাথে সৎকর্ম করে চলে, তাদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।
قُلْ اَىِٕنَّكُمْ لَتَكْفُرُوْنَ بِالَّذِیْ خَلَقَ الْاَرْضَ فِیْ یَوْمَیْنِ وَ تَجْعَلُوْنَ لَهٗۤ اَنْدَادًا ؕ ذٰلِكَ رَبُّ الْعٰلَمِیْنَۚ 7
9. হে নবী, ওদের জিজ্ঞেস করো, তোমরা কি সে-ই আল্লাহকে অস্বীকার করতে চাও, যিনি সময়ের দুই পর্বে এ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন? তোমরা কি বলতে চাও যে, তাঁর সাথে অন্যদের শরিকানা রয়েছে? না, কখনো নয়। একমাত্র তিনিই এ মহাবিশ্বের রব।
وَ جَعَلَ فِیْهَا رَوَاسِیَ مِنْ فَوْقِهَا وَ بٰرَكَ فِیْهَا وَ قَدَّرَ فِیْهَاۤ اَقْوَاتَهَا فِیْۤ اَرْبَعَةِ اَیَّامٍ ؕ سَوَآءً لِّلسَّآىِٕلِیْنَ 8
10. তিনিই এ জমিনের বুকে পাহাড়গুলো গেড়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে অনেক কল্যাণ ও বরকত লুকিয়ে রেখেছেন। আর এ থেকেই তিনি প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য তার চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ করছেন। এ পুরো কাজ তিনি শেষ করেছেন সময়ের চার পর্বে।
ثُمَّ اسْتَوٰۤی اِلَی السَّمَآءِ وَ هِیَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَ لِلْاَرْضِ ائْتِیَا طَوْعًا اَوْ كَرْهًا ؕ قَالَتَاۤ اَتَیْنَا طَآىِٕعِیْنَ 9
11. এরপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন। তা তখনো ছিলো ধোঁয়ার কুন্ডলী। পরে তিনি আকাশ ও পৃথিবী উভয়কে বললেন, চাই ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় আমার হুকুমে তোমাদের অস্তিত্ব ধারণ করো। উভয় নিবেদন করলো, আমরা স্বেচ্ছায় আপনার হুকুম মানছি।
فَقَضٰىهُنَّ سَبْعَ سَمٰوَاتٍ فِیْ یَوْمَیْنِ وَ اَوْحٰی فِیْ كُلِّ سَمَآءٍ اَمْرَهَا ؕ وَ زَیَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنْیَا بِمَصَابِیْحَ ۖۗ وَ حِفْظًا ؕ ذٰلِكَ تَقْدِیْرُ الْعَزِیْزِ الْعَلِیْمِ 10
12. পরে আল্লাহ সময়ের দুই পর্বে মহাকাশকে সাত স্তরে বিন্যস্ত করলেন এবং প্রত্যেক স্তরের জন্য তাঁর নির্দেশনা প্রদান করলেন। আর পৃথিবীর নিকটবর্তী আকাশকে উজ্জ্বল প্রদীপমালা দিয়ে সুসজ্জিত করলেন এবং মজবুতভাবে একে সংরক্ষিত করলেন। এভাবেই মহাপরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহ সব কিছুর ব্যবস্থাপনা করে চলছেন।
فَاِنْ اَعْرَضُوْا فَقُلْ اَنْذَرْتُكُمْ صٰعِقَةً مِّثْلَ صٰعِقَةِ عَادٍ وَّ ثَمُوْدَؕ 11
13. এরপরও যদি ওরা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে স্পষ্টভাবে বলে দাও, আমি তোমাদের সর্তক করছি, যাতে আদ ও সামুদ জাতির উপর আপতিত ভয়ঙ্কর আযাবের মতো কোনো আযাবে তোমরা ধরাশায়ী না হও।
اِذْ جَآءَتْهُمُ الرُّسُلُ مِنْۢ بَیْنِ اَیْدِیْهِمْ وَ مِنْ خَلْفِهِمْ اَلَّا تَعْبُدُوْۤا اِلَّا اللّٰهَ ؕ قَالُوْا لَوْ شَآءَ رَبُّنَا لَاَنْزَلَ مَلٰٓىِٕكَةً فَاِنَّا بِمَاۤ اُرْسِلْتُمْ بِهٖ كٰفِرُوْنَ 12
14. অথচ এসব পাপাচারীদের কাছে যুগের পর যুগ রসুলেরা এসে দাওয়াত দিয়ে বলেছে, তোমরা এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করো না। তখন ওরা জবাব দিতো, আমাদের রব যদি সত্যিই রসুল পাঠাতে চাইতেন, তবে মানুষকে নয়; বরং ফেরেশতাদের পাঠাতেন। সুতরাং তোমরা এখন যে বাণীর দাওয়াত দিচ্ছো, আমরা তা কখনোই মানবো না।
فَاَمَّا عَادٌ فَاسْتَكْبَرُوْا فِی الْاَرْضِ بِغَیْرِ الْحَقِّ وَ قَالُوْا مَنْ اَشَدُّ مِنَّا قُوَّةً ؕ اَوَ لَمْ یَرَوْا اَنَّ اللّٰهَ الَّذِیْ خَلَقَهُمْ هُوَ اَشَدُّ مِنْهُمْ قُوَّةً ؕ وَ كَانُوْا بِاٰیٰتِنَا یَجْحَدُوْنَ 13
15. এ রকমই একটা জাতি ছিলো আদ! ওরা পৃথিবীতে খুব দম্ভ করে বেড়াতো। বলতো, আমাদের চেয়ে শক্তিশালী আর কে আছে? হায়! ওরা একবারও ভেবে দেখেনি, যে আল্লাহ ওদের সৃষ্টি করেছেন, তিনি ওদের চেয়ে অনেক অনেক শক্তিশালী। এ কারণেই ওরা আমার আয়াতকে ক্রমাগত প্রত্যাখ্যান করছিলো।
فَاَرْسَلْنَا عَلَیْهِمْ رِیْحًا صَرْصَرًا فِیْۤ اَیَّامٍ نَّحِسَاتٍ لِّنُذِیْقَهُمْ عَذَابَ الْخِزْیِ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ؕ وَ لَعَذَابُ الْاٰخِرَةِ اَخْزٰی وَ هُمْ لَا یُنْصَرُوْنَ 14
16. পার্থিব জীবনে ভয়ানক লাঞ্ছনাকর শাস্তি ভোগ করানোর জন্য ওদের উপর আমি টানা কয়েকদিন কঠিন বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় প্রেরণ করলাম। আর আখেরাতে ওদের শাস্তি তো হবে অনেক ভয়ানক। সেদিন বাঁচার জন্য ওরা কোনো সাহায্যই পাবে না।
وَ اَمَّا ثَمُوْدُ فَهَدَیْنٰهُمْ فَاسْتَحَبُّوا الْعَمٰی عَلَی الْهُدٰی فَاَخَذَتْهُمْ صٰعِقَةُ الْعَذَابِ الْهُوْنِ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَۚ 15
17. আর সামুদের কথা! সে জাতির কাছেও আমি সত্যের পথনির্দেশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু না, ওরা সত্যকে দেখার চেয়ে অন্ধ হয়ে থাকাকে বেশি পছন্দ করলো। কাজেই ওদের অপকর্মের কারণে ওদের উপর অপমানজনক আযাবের বজ্রাঘাত হলো।
وَ نَجَّیْنَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ كَانُوْا یَتَّقُوْنَ۠ 16
18. একমাত্র ঈমানদারদের সেদিন ধ্বংসের হাত থেকে উদ্ধার করেছিলাম। কেননা প্রকৃতার্থে তারাই নিজেদের বাঁচানোর প্রয়াসী ছিলো।
وَ یَوْمَ یُحْشَرُ اَعْدَآءُ اللّٰهِ اِلَی النَّارِ فَهُمْ یُوْزَعُوْنَ 17
19. আল্লাহর দুশমনেরা জেনে রাখুক, মহাবিচারের দিন ওদের প্রত্যেককে জাহান্নামে নিয়ে যাবার জন্য দলে দলে জমায়েত করা হবে।
حَتّٰۤی اِذَا مَا جَآءُوْهَا شَهِدَ عَلَیْهِمْ سَمْعُهُمْ وَ اَبْصَارُهُمْ وَ جُلُوْدُهُمْ بِمَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 18
20. পরে যখন ওরা সবাই জাহান্নামের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে, তখন ওদের কান, চোখ, এমনকি গায়ের চামড়া পর্যন্ত ওদের পার্থিব অপকর্মের ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করবে।
وَ قَالُوْا لِجُلُوْدِهِمْ لِمَ شَهِدْتُّمْ عَلَیْنَا ؕ قَالُوْۤا اَنْطَقَنَا اللّٰهُ الَّذِیْۤ اَنْطَقَ كُلَّ شَیْءٍ وَّ هُوَ خَلَقَكُمْ اَوَّلَ مَرَّةٍ وَّ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ 19
21. জাহান্নামীরা নিজেদের দেহের চামড়াকে জিজ্ঞেস করবে, কি ব্যাপার! তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছো কেন? জবাবে দেহের চামড়া বলবে, যে আল্লাহ সবাইকে কথা বলার শক্তি দিয়েছেন, তিনিই আজ আমাদের বাকশক্তি দিয়েছেন। তোমাদের প্রথম বারের সৃষ্টি তিনিই করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তোমরা তাঁর কাছেই ফিরে এসেছো।
وَ مَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُوْنَ اَنْ یَّشْهَدَ عَلَیْكُمْ سَمْعُكُمْ وَ لَاۤ اَبْصَارُكُمْ وَ لَا جُلُوْدُكُمْ وَ لٰكِنْ ظَنَنْتُمْ اَنَّ اللّٰهَ لَا یَعْلَمُ كَثِیْرًا مِّمَّا تَعْمَلُوْنَ 20
22. দুনিয়ায় অপরাধ করার সময় লোকদের চোখ থেকে গোপন করলেও কখনো ভাবোনি যে, তোমাদের কান, তোমাদের চোখ, তোমাদের চামড়াই একদিন খোদ্ তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। ফলে ওদের থেকে কিছুই লুকাওনি; বরং উল্টো তোমরা মনে করতে, তোমাদের অনেক কাজকর্মের খবর স্বয়ং আল্লাহও জানেন না।
وَ ذٰلِكُمْ ظَنُّكُمُ الَّذِیْ ظَنَنْتُمْ بِرَبِّكُمْ اَرْدٰىكُمْ فَاَصْبَحْتُمْ مِّنَ الْخٰسِرِیْنَ 21
23. তোমাদের রবের ব্যাপারে এ ভ্রান্ত ধারণাই তোমাদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। আর এ কারণেই তোমরা আজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছো।
فَاِنْ یَّصْبِرُوْا فَالنَّارُ مَثْوًی لَّهُمْ ۚ وَ اِنْ یَّسْتَعْتِبُوْا فَمَا هُمْ مِّنَ الْمُعْتَبِیْنَ 22
24. অতএব ওরা এখন অপেক্ষা করুক, কেননা জাহান্নামই হবে ওদের আবাস। ওরা সেখানে ক্ষণিকের জন্য একটু নিষ্কৃতি চাইলেও কোনো প্রশান্তি পাবে না।
وَ قَیَّضْنَا لَهُمْ قُرَنَآءَ فَزَیَّنُوْا لَهُمْ مَّا بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَ مَا خَلْفَهُمْ وَ حَقَّ عَلَیْهِمُ الْقَوْلُ فِیْۤ اُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِمْ مِّنَ الْجِنِّ وَ الْاِنْسِ ۚ اِنَّهُمْ كَانُوْا خٰسِرِیْنَ۠ 23
25. আসলে ওরা যখন আমায় ভুলে থাকলো, তখন শয়তানকেই আমি ওদের সঙ্গী বানিয়ে দিলাম। শয়তান ওদের অতীত ও ভবিষ্যৎ কর্মকান্ডকে ওদের চোখে সুন্দর চাকচিক্যময় করে দেখালো। এভাবেই ওদের উপর পূর্ববর্তী অবাধ্য জিন ও মানুষদের মতো অবশ্যম্ভাবী শাস্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছিলো। নিশ্চয়ই ওরা ক্ষতিগ্রস্ত।
وَ قَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَا تَسْمَعُوْا لِهٰذَا الْقُرْاٰنِ وَ الْغَوْا فِیْهِ لَعَلَّكُمْ تَغْلِبُوْنَ 24
26. কাফেরেরা পরস্পরকে বলে, সাবধান! সফল হতে চাইলে তোমরা কখনোই এ কুরআনের পাঠ শুনবে না; বরং এ কুরআন পড়ে শুনানোর সময় তোমরা হট্টগোল বাঁধিয়ে দাও।
فَلَنُذِیْقَنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا عَذَابًا شَدِیْدًا ۙ وَّ لَنَجْزِیَنَّهُمْ اَسْوَاَ الَّذِیْ كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 25
27. আমি অবশ্যই এ কাফেরদের কঠিন শাস্তি ভোগ করাবো। ওরা যে নিকৃষ্ট অপকর্ম করে চলছে, আমি তার পূর্র্ণ বিনিময় দেবো।
ذٰلِكَ جَزَآءُ اَعْدَآءِ اللّٰهِ النَّارُ ۚ لَهُمْ فِیْهَا دَارُ الْخُلْدِ ؕ جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوْا بِاٰیٰتِنَا یَجْحَدُوْنَ 26
28. জাহান্নাম! এটাই আল্লাহর দুশমনদের উপযুক্ত বিনিময়। চিরকালের জন্যেই ওরা সে শাস্তি ভোগ করবে। ওরা আমার বাণী ও বিধানকে প্রত্যাখ্যান করে এ কঠিন শাস্তির উপযুক্ত হয়ে পড়েছে।
وَ قَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا رَبَّنَاۤ اَرِنَا الَّذَیْنِ اَضَلّٰنَا مِنَ الْجِنِّ وَ الْاِنْسِ نَجْعَلْهُمَا تَحْتَ اَقْدَامِنَا لِیَكُوْنَا مِنَ الْاَسْفَلِیْنَ 27
29. জাহান্নামীরা সেদিন চিৎকার করে বলবে, হে আমাদের রব, যেসব জিন ও মানুষ আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলো, ওদেরকে একবার দেখিয়ে দাও। আমরা পায়ের নিচে ওদের পিষে ফেলব, যাতে ওরা চূড়ান্তভাবে লাঞ্ছিত হয়।
اِنَّ الَّذِیْنَ قَالُوْا رَبُّنَا اللّٰهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوْا تَتَنَزَّلُ عَلَیْهِمُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ اَلَّا تَخَافُوْا وَ لَا تَحْزَنُوْا وَ اَبْشِرُوْا بِالْجَنَّةِ الَّتِیْ كُنْتُمْ تُوْعَدُوْنَ 28
30. যারা ঘোষণা দেয়, আমাদের রব একমাত্র আল্লাহ এবং এ ঘোষণার উপর দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতারা এসে বলে, তোমরা ভয় পেয়ো না, দুশ্চিন্তা করো না; বরং তোমাদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তার সুসংবাদ গ্রহণ করো।
نَحْنُ اَوْلِیٰٓؤُكُمْ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ فِی الْاٰخِرَةِ ۚ وَ لَكُمْ فِیْهَا مَا تَشْتَهِیْۤ اَنْفُسُكُمْ وَ لَكُمْ فِیْهَا مَا تَدَّعُوْنَؕ 29
31. ভয় নেই, দুনিয়া ও আখেরাতে আমরা তোমাদের বন্ধু ও সহযোগী হয়ে আছি। আর জান্নাতে তোমাদের পছন্দনীয় সব কিছুই রয়েছে। ফলে তোমাদের কোনো চাহিদাই সেখানে অপূর্ণ থাকবে না।
نُزُلًا مِّنْ غَفُوْرٍ رَّحِیْمٍ۠ 30
32. সে মেহমানদারী হবে অতীব ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে।
وَ مَنْ اَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّنْ دَعَاۤ اِلَی اللّٰهِ وَ عَمِلَ صَالِحًا وَّ قَالَ اِنَّنِیْ مِنَ الْمُسْلِمِیْنَ 31
33. ভেবে দেখো! যে ব্যক্তি মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকে ও নিজে সৎকর্ম করে চলে এবং বলে, আমি নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পিত করেছি তার চেয়ে উত্তম আর কে হতে পারে?
وَ لَا تَسْتَوِی الْحَسَنَةُ وَ لَا السَّیِّئَةُ ؕ اِدْفَعْ بِالَّتِیْ هِیَ اَحْسَنُ فَاِذَا الَّذِیْ بَیْنَكَ وَ بَیْنَهٗ عَدَاوَةٌ كَاَنَّهٗ وَلِیٌّ حَمِیْمٌ 32
34. হে নবী, ভালো ও খারাপ কখনো সমান হতে পারে না। কাজেই খারাপের জবাব ভালো দিয়ে দাও। তাহলে দেখবে, তোমার জাত দুশমনও একসময় অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে গেছে।
وَ مَا یُلَقّٰىهَاۤ اِلَّا الَّذِیْنَ صَبَرُوْا ۚ وَ مَا یُلَقّٰىهَاۤ اِلَّا ذُوْ حَظٍّ عَظِیْمٍ 33
35. মনে রেখো, একমাত্র প্রচন্ড ধৈর্যশীল ও মহাভাগ্যবান ব্যক্তিরাই এ গুণ অর্জন করতে পারে।
وَ اِمَّا یَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّیْطٰنِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللّٰهِ ؕ اِنَّهٗ هُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ 34
36. আর এসব ব্যাপারে যদি শয়তানের কোনো কুমন্ত্রণা অনুভব করো, তবে তুমি সাথেসাথেই আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব শোনেন, সব জানেন।
وَ مِنْ اٰیٰتِهِ الَّیْلُ وَ النَّهَارُ وَ الشَّمْسُ وَ الْقَمَرُ ؕ لَا تَسْجُدُوْا لِلشَّمْسِ وَ لَا لِلْقَمَرِ وَ اسْجُدُوْا لِلّٰهِ الَّذِیْ خَلَقَهُنَّ اِنْ كُنْتُمْ اِیَّاهُ تَعْبُدُوْنَ 35
37. জেনে রেখো, এ রাত ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র সবই আল্লাহর মহিমার নিদর্শন। কাজেই তোমরা যদি সত্যিই আল্লাহর ইবাদত করে থাকো, তবে এ সূর্য ও চন্দ্রকে সেজদা করো না; বরং যে আল্লাহ এগুলো সৃষ্টি করেছেন, সে আল্লাহকে সেজদা করো।
فَاِنِ اسْتَكْبَرُوْا فَالَّذِیْنَ عِنْدَ رَبِّكَ یُسَبِّحُوْنَ لَهٗ بِالَّیْلِ وَ النَّهَارِ وَ هُمْ لَا یَسْـَٔمُوْنَ۩ 36
38. যারা আত্ম অহংকারে মত্ত হয়ে এ সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকছে, ওদের জেনে রাখা উচিত, আল্লাহর সান্নিধ্য লাভকারী ফেরেশতারা রাত-দিন সদা সর্বদা তোমার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা জপছে এবং এতে তারা কখনোই ক্লান্ত হয় না। (সিজদা)
وَ مِنْ اٰیٰتِهٖۤ اَنَّكَ تَرَی الْاَرْضَ خَاشِعَةً فَاِذَاۤ اَنْزَلْنَا عَلَیْهَا الْمَآءَ اهْتَزَّتْ وَ رَبَتْ ؕ اِنَّ الَّذِیْۤ اَحْیَاهَا لَمُحْیِ الْمَوْتٰی ؕ اِنَّهٗ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ 37
39. আল্লাহর মহিমার এক উজ্জ্বল নিদর্শন দেখো! তোমাদের চোখের সামনেই তৃণলতাহীন ধূসর জমিন পড়ে থাকে। অতঃপর আল্লাহ উপর থেকে পানি বর্ষণ করেন, ফলে সে জমিন উর্বর হয়ে উঠে এবং শস্য-শ্যামলে ভরে যায়। শুনে রেখো, যে আল্লাহ এ মৃত জমিনকে জীবিত করেন, তিনি তোমাদের মতো মৃতদেরকেও জীবিত করতে সক্ষম। সন্দেহ নেই, তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
اِنَّ الَّذِیْنَ یُلْحِدُوْنَ فِیْۤ اٰیٰتِنَا لَا یَخْفَوْنَ عَلَیْنَا ؕ اَفَمَنْ یُّلْقٰی فِی النَّارِ خَیْرٌ اَمْ مَّنْ یَّاْتِیْۤ اٰمِنًا یَّوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ اِعْمَلُوْا مَا شِئْتُمْ ۙ اِنَّهٗ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ 38
40. যারা আমার আয়াতের অর্থ বিকৃত করে, ওদের কেউ আমার অগোচরে নয়। তোমরাই ভেবে দেখো, যাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে সে ভালো, নাকি যে কিয়ামতের দিন নিরাপদ আশ্রয় লাভ করবে সে ভালো? এখন তোমাদের ইচ্ছা, যে পথে চলতে চাও চলতে পারো। তবে মনে রেখো, তোমাদের প্রতিটি কাজকর্মই আল্লাহ পর্যবেক্ষণ করেন।
اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِالذِّكْرِ لَمَّا جَآءَهُمْ ۚ وَ اِنَّهٗ لَكِتٰبٌ عَزِیْزٌۙ 39
41. এ কুরআনের বাণী শোনার পর যারা একে অস্বীকার করবে, ওরা অবশ্যই কঠিন শাস্তির শিকার হবে। আর ওরা জেনে রাখুক, নিশ্চয়ই এটি এক শক্তিশালী মহিমান্বিত কিতাব।
لَّا یَاْتِیْهِ الْبَاطِلُ مِنْۢ بَیْنِ یَدَیْهِ وَ لَا مِنْ خَلْفِهٖ ؕ تَنْزِیْلٌ مِّنْ حَكِیْمٍ حَمِیْدٍ 40
42. কোনো বাতিলই এ কুরআনকে সামনে-পিছনে কোনো দিক দিয়েই প্রতিহত করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে এটি মহাপ্রাজ্ঞ, সপ্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে।
مَا یُقَالُ لَكَ اِلَّا مَا قَدْ قِیْلَ لِلرُّسُلِ مِنْ قَبْلِكَ ؕ اِنَّ رَبَّكَ لَذُوْ مَغْفِرَةٍ وَّ ذُوْ عِقَابٍ اَلِیْمٍ 41
43. হে নবী, আজ সত্য অস্বীকারকারীরা তোমার সম্পর্কে যা সব বলছে, ঠিক একই কথা তোমার পূর্ববর্তী রসুলদের সম্পর্কেও বলা হতো। জেনে রেখো, তোমার রব একদিকে যেমন অতীব ক্ষমাশীল, ঠিক অন্যদিকে কঠিন শাস্তি দানকারীও বটে।
وَ لَوْ جَعَلْنٰهُ قُرْاٰنًا اَعْجَمِیًّا لَّقَالُوْا لَوْ لَا فُصِّلَتْ اٰیٰتُهٗ ؕ ءَؔاَعْجَمِیٌّ وَّ عَرَبِیٌّ ؕ قُلْ هُوَ لِلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا هُدًی وَّ شِفَآءٌ ؕ وَ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ فِیْۤ اٰذَانِهِمْ وَقْرٌ وَّ هُوَ عَلَیْهِمْ عَمًی ؕ اُولٰٓىِٕكَ یُنَادَوْنَ مِنْ مَّكَانٍۭ بَعِیْدٍ۠ 42
44. আমি যদি এ কুরআনকে অনারব কোনো ভাষায় নাযিল করতাম, তবে এ প্রত্যাখ্যানকারীরা বলতো, কেন এ কিতাবের কথাগুলো আমাদের ভাষায় পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করা হলো না? এটা কেমন কথা! কিতাব পাঠানো হয়েছে অনারব ভাষায়; অথচ যাদের কাছে এসেছে, তারা সবাই আরবি ভাষী! হে নবী, ওদের বলো, আসলে এ কুরআন কেবল ঈমানদারদেরই সঠিক পথ দেখায় এবং আত্মার নিরাময় এনে দেয়। আর যারা ঈমানহীন, কেবল ওরাই এ কিতাবের ব্যাপারে অন্ধ ও বধিরের মতো আচরণ করে। ওদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, যেন বহুদূর থেকে ওদের কেউ ডাকছে।
وَ لَقَدْ اٰتَیْنَا مُوْسَی الْكِتٰبَ فَاخْتُلِفَ فِیْهِ ؕ وَ لَوْ لَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَّبِّكَ لَقُضِیَ بَیْنَهُمْ ؕ وَ اِنَّهُمْ لَفِیْ شَكٍّ مِّنْهُ مُرِیْبٍ 43
45. সন্দেহ নেই, ইতঃপূর্বে আমি মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম। সে সময়ও ঐ কিতাব নিয়ে মতভেদ হয়েছিলো। ঐসব মতবিরোধকারীদের কিছু সময়ের অবকাশ দেয়ার সিদ্ধান্ত যদি তোমার রব আগে থেকেই না নিতেন, তবে বহু পূর্বেই ওদেরকে আযাব দিয়ে ধ্বংস করে দিতেন। একইভাবে এরাও এ কুরআনের ব্যাপারে এক গভীর বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে।
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهٖ وَ مَنْ اَسَآءَ فَعَلَیْهَا ؕ وَ مَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِیْدِ 44
46. আসলে যে সৎকর্ম করে সে মূলত নিজের ভালোর জন্যেই তা করে। আর যে পাপের কাজ করে, সে পাপের ফল তাকেই ভোগ করতে হবে। আর হ্যাঁ, তোমার রব আপন বান্দাদের উপর কখনো জুলুম করেন না।
اِلَیْهِ یُرَدُّ عِلْمُ السَّاعَةِ ؕ وَ مَا تَخْرُجُ مِنْ ثَمَرٰتٍ مِّنْ اَكْمَامِهَا وَ مَا تَحْمِلُ مِنْ اُنْثٰی وَ لَا تَضَعُ اِلَّا بِعِلْمِهٖ ؕ وَ یَوْمَ یُنَادِیْهِمْ اَیْنَ شُرَكَآءِیْ ۙ قَالُوْۤا اٰذَنّٰكَ ۙ مَا مِنَّا مِنْ شَهِیْدٍۚ 45
47. কিয়ামত কখন হবে, তা কেবল আল্লাহই বলতে পারেন। কোনো মুকুল থেকে যে ফলই বের হয়, কোনো নারী যা-ই গর্ভে ধারণ করে কিংবা যে সন্তানই প্রসব করে সব কিছুই আল্লাহর জ্ঞানের অধীন। সেদিনের কথা একটু ভাবো, যেদিন আল্লাহ শরিককারীদের ডেকে জিজ্ঞেস করবেন, আমার কথিত সেসব শরিকেরা আজ কোথায়? জবাবে ওরা বলবে, আমরা তোমায় নিবেদন করছি, আজ আমরা আমাদের ভুল স্বীকার করছি।
وَ ضَلَّ عَنْهُمْ مَّا كَانُوْا یَدْعُوْنَ مِنْ قَبْلُ وَ ظَنُّوْا مَا لَهُمْ مِّنْ مَّحِیْصٍ 46
48. ৪৮. দুনিয়ার জীবনে ওরা যাদের ডাকতো, সেদিন তাদের সবাই ওদের থেকে উধাও হয়ে যাবে। তখন এসব শরিককারীরা বুঝতে পারবে, বাঁচার আর কোনো পথই খোলা নেই।
لَا یَسْـَٔمُ الْاِنْسَانُ مِنْ دُعَآءِ الْخَیْرِ ؗ وَ اِنْ مَّسَّهُ الشَّرُّ فَیَـُٔوْسٌ قَنُوْطٌ 47
49. আসলে মানুষ পার্থিব ভোগাকাক্সক্ষায় ছুটতে কখনো ক্লান্তবোধ করে না। কিন্তু যখনই কোনো দুঃখ-কষ্ট তাকে পেয়ে বসে, তখনই সে হতাশ হয়, মনোবল হারিয়ে ফেলে।
وَ لَىِٕنْ اَذَقْنٰهُ رَحْمَةً مِّنَّا مِنْۢ بَعْدِ ضَرَّآءَ مَسَّتْهُ لَیَقُوْلَنَّ هٰذَا لِیْ ۙ وَ مَاۤ اَظُنُّ السَّاعَةَ قَآىِٕمَةً ۙ وَّ لَىِٕنْ رُّجِعْتُ اِلٰی رَبِّیْۤ اِنَّ لِیْ عِنْدَهٗ لَلْحُسْنٰی ۚ فَلَنُنَبِّئَنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِمَا عَمِلُوْا ؗ وَ لَنُذِیْقَنَّهُمْ مِّنْ عَذَابٍ غَلِیْظٍ 48
50. কিন্তু পরে যখন আমি নিজ অনুগ্রহে তাকে সে দুঃখ-কষ্ট থেকে উদ্ধার করি, তখন সে বলে, এটা আমার যোগ্যতার ফলেই হয়েছে। আর আমার মনে হয় না যে, কখনো কিয়ামত হবে। আর যদি আমাকে প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতেও হয়, তবে আমি নিশ্চিত যে, সেখানেও আমি ভালো থাকবো। কিন্তু না! আসল সত্য হচ্ছে, সেদিন আমি এসব কাফেরদের ভালো করে জানিয়ে দেবো, ওরা দুনিয়ায় কী কী করে এসেছে। সন্দেহ নেই, ওদেরকে আমি কঠিন শাস্তি ভোগ করাবো।
وَ اِذَاۤ اَنْعَمْنَا عَلَی الْاِنْسَانِ اَعْرَضَ وَ نَاٰ بِجَانِبِهٖ ۚ وَ اِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ فَذُوْ دُعَآءٍ عَرِیْضٍ 49
51. এসব লোকদের যখন আমি অনুগৃহীত করি, তখন ওরা আমার থেকে গাফেল হয়ে পড়ে এবং অহংকারের বশবর্তী হয়ে আমার থেকে দূরে সরে যায়। কিন্তু আবার ওরাই দুঃখ-কষ্টে আপতিত হলে, আমার কাছে লম্বা-চওড়া দোয়ায় রত হয়।
قُلْ اَرَءَیْتُمْ اِنْ كَانَ مِنْ عِنْدِ اللّٰهِ ثُمَّ كَفَرْتُمْ بِهٖ مَنْ اَضَلُّ مِمَّنْ هُوَ فِیْ شِقَاقٍۭ بَعِیْدٍ 50
52. হে নবী, ওদের বলো, তোমরা কি কখনো ভেবে দেখেছো, তোমরা যে কুরআনকে অস্বীকার করে চলছো, সে কুরআন যদি সত্যিই আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে থাকে, তবে এর বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত ব্যক্তির চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট, অধিক ক্ষতিগ্রস্ত আর কে হতে পারে?
سَنُرِیْهِمْ اٰیٰتِنَا فِی الْاٰفَاقِ وَ فِیْۤ اَنْفُسِهِمْ حَتّٰی یَتَبَیَّنَ لَهُمْ اَنَّهُ الْحَقُّ ؕ اَوَ لَمْ یَكْفِ بِرَبِّكَ اَنَّهٗ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ شَهِیْدٌ 51
53. খুব শীঘ্রই আমি ওদের আশেপাশের এলাকায়, এমনকি ওদের নিজেদের এলাকায়ও আমার বাণী ও নিদর্শনের বিজয় ও পূর্ণতা দেখিয়ে দেবো। ফলে ওদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, এ কুরআনই একমাত্র সত্য। আল্লাহ প্রত্যেকের কর্মকান্ডের উপর পূর্ণ নজর রাখছেন এ বোধ কি তোমার রবের ব্যাপারে সর্তক-সচেতন হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়?
اَلَاۤ اِنَّهُمْ فِیْ مِرْیَةٍ مِّنْ لِّقَآءِ رَبِّهِمْ ؕ اَلَاۤ اِنَّهٗ بِكُلِّ شَیْءٍ مُّحِیْطٌ۠ 52
54. প্রকৃত সত্য হচ্ছে, ওরা মহাবিচারের দিন আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করার ব্যাপারে সন্দিহান। সাবধান! বিশ্বজগতের সব কিছুই তাঁর আওতাধীন।
حٰمٓۚ 53
1. হা-মিম।
تَنْزِیْلٌ مِّنَ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِۚ 54
2. দয়াময় মেহেরবান আল্লাহর পক্ষ থেকে এ কিতাব নাযিল হয়েছে।