42. আশ-শূরা

حٰمٓۚ 1
1. হা-মিম।
عٓسٓقٓ 2
2. আইন-সিন-কফ
كَذٰلِكَ یُوْحِیْۤ اِلَیْكَ وَ اِلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكَ ۙ اللّٰهُ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ 3
3. হে নবী, পূর্ববর্তী রসুলদের মতোই তোমার কাছে অহি প্রেরণ করা হচ্ছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, মহা প্রজ্ঞাময়।
لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ ؕ وَ هُوَ الْعَلِیُّ الْعَظِیْمُ 4
4. মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে সবই তাঁর। তিনি সমুন্নত, সুমহান।
تَكَادُ السَّمٰوٰتُ یَتَفَطَّرْنَ مِنْ فَوْقِهِنَّ وَ الْمَلٰٓىِٕكَةُ یُسَبِّحُوْنَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَ یَسْتَغْفِرُوْنَ لِمَنْ فِی الْاَرْضِ ؕ اَلَاۤ اِنَّ اللّٰهَ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِیْمُ 5
5. সত্য অস্বীকারকারীরা আল্লাহর ব্যাপারে যেসব বাজে কথা বলছে, তাতে ওদের উপর আকাশের একটা অংশ ভেঙ্গে পড়া অস্বাভাবিক নয়। আর এ আশঙ্কায় ফেরেশতারা সব সময় তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা জপছে এবং পৃথিবীবাসীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছে। বস্তুত আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
وَ الَّذِیْنَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِهٖۤ اَوْلِیَآءَ اللّٰهُ حَفِیْظٌ عَلَیْهِمْ ۖؗ وَ مَاۤ اَنْتَ عَلَیْهِمْ بِوَكِیْلٍ 6
6. যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যান্য কাল্পনিক খোদাদেরকে নিজেদের অভিভাবক হিসাবে গ্রহণ করে, ওদের প্রতিটি পদক্ষেপই আল্লাহর পূর্ণ নজরদারিতে রয়েছে। আর হে নবী, এসব পাপাচারীদের কাজের দায় তোমার নয়।
وَ كَذٰلِكَ اَوْحَیْنَاۤ اِلَیْكَ قُرْاٰنًا عَرَبِیًّا لِّتُنْذِرَ اُمَّ الْقُرٰی وَ مَنْ حَوْلَهَا وَ تُنْذِرَ یَوْمَ الْجَمْعِ لَا رَیْبَ فِیْهِ ؕ فَرِیْقٌ فِی الْجَنَّةِ وَ فَرِیْقٌ فِی السَّعِیْرِ 7
7. আর হ্যাঁ, আমি এ কুরআনকে তোমার কাছে এ কারণেই আরবি ভাষায় নাযিল করেছি, যাতে তুমি মক্কা ও এর চারপাশের লোকদেরকে সর্তক করতে পারো। সতর্ক করতে পারো এমন এক বিচার দিনের, যার ব্যাপারে সামান্য সন্দেহও নেই। সেদিন একদল যেভাবে জান্নাতী হবে, সেভাবে আরেকদল হবে জাহান্নামী।
وَ لَوْ شَآءَ اللّٰهُ لَجَعَلَهُمْ اُمَّةً وَّاحِدَةً وَّ لٰكِنْ یُّدْخِلُ مَنْ یَّشَآءُ فِیْ رَحْمَتِهٖ ؕ وَ الظّٰلِمُوْنَ مَا لَهُمْ مِّنْ وَّلِیٍّ وَّ لَا نَصِیْرٍ 8
8. আসলে আল্লাহ ইচ্ছে করলে পৃথিবীর সব মানুষকেই এক ও অভিন্ন সত্যধর্মের অনুসারী বানাতে পারতেন। কিন্তু না, যারা সত্য পথ খুঁজেছে, কেবল তাদেরকেই তিনি আপন অনুগ্রহে সত্যের দিশা দেখিয়েছেন। কাজেই অবাধ্য জালেমদের জন্য না আছে কোনো অভিভাবক, আর না আছে কোনো সাহায্যকারী।
اَمِ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِهٖۤ اَوْلِیَآءَ ۚ فَاللّٰهُ هُوَ الْوَلِیُّ وَ هُوَ یُحْیِ الْمَوْتٰی ؗ وَ هُوَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ۠ 9
9. ওরা কি সত্যিই আল্লাহকে বাদ দিয়ে কল্পিত মিথ্যে খোদাদেরকে আপন অভিভাবক বানিয়ে বসে আছে? হায়! কি আশ্চর্য! অভিভাবক তো কেবল আল্লাহই হতে পারেন। কেননা তিনিই একমাত্র মৃতকে জীবিত করেন। বাস্তবে আল্লাহই সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
وَ مَا اخْتَلَفْتُمْ فِیْهِ مِنْ شَیْءٍ فَحُكْمُهٗۤ اِلَی اللّٰهِ ؕ ذٰلِكُمُ اللّٰهُ رَبِّیْ عَلَیْهِ تَوَكَّلْتُ ۖۗ وَ اِلَیْهِ اُنِیْبُ 10
10. হে নবী, ওদের বলো, আজ তোমরা যে মতবিরোধ করছো, সে ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা আল্লাহই করবেন। আর শুনে রেখো, সে আল্লাহই আমার রব। তাঁর উপরই আমি ভরসা করছি এবং তাঁরই অভিমুখী রয়েছি।
فَاطِرُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ جَعَلَ لَكُمْ مِّنْ اَنْفُسِكُمْ اَزْوَاجًا وَّ مِنَ الْاَنْعَامِ اَزْوَاجًا ۚ یَذْرَؤُكُمْ فِیْهِ ؕ لَیْسَ كَمِثْلِهٖ شَیْءٌ ۚ وَ هُوَ السَّمِیْعُ الْبَصِیْرُ 11
11. তিনিই এ মহাকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা। তিনি তোমাদের জন্য একই প্রজাতির সঙ্গী বানিয়েছেন। আবার দেখো, গবাদি পশুর মধ্যেও একই প্রজাতি থেকে জোড়া তৈরি করেছেন। আর এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার ঘটাচ্ছেন। কিন্তু মনে রেখো, মহাবিশ্বের কোনো সৃষ্টিই তাঁর মতো নয়। তিনি সব শোনেন, সব দেখেন।
لَهٗ مَقَالِیْدُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ۚ یَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ یَّشَآءُ وَ یَقْدِرُ ؕ اِنَّهٗ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ 12
12. মহাকাশ ও পৃথিবীর সব ধনভান্ডারের চাবি একমাত্র তাঁর হাতে। তিনি তাঁর ইচ্ছানুযায়ী যাকে খুশি অঢেল রিযিক দান করেন, আবার যাকে ইচ্ছা পরিমিত রিযিক দেন। বস্তুত আল্লাহ সব ব্যাপারেই পূর্ণ জ্ঞান রাখেন।
شَرَعَ لَكُمْ مِّنَ الدِّیْنِ مَا وَصّٰی بِهٖ نُوْحًا وَّ الَّذِیْۤ اَوْحَیْنَاۤ اِلَیْكَ وَ مَا وَصَّیْنَا بِهٖۤ اِبْرٰهِیْمَ وَ مُوْسٰی وَ عِیْسٰۤی اَنْ اَقِیْمُوا الدِّیْنَ وَ لَا تَتَفَرَّقُوْا فِیْهِ ؕ كَبُرَ عَلَی الْمُشْرِكِیْنَ مَا تَدْعُوْهُمْ اِلَیْهِ ؕ اَللّٰهُ یَجْتَبِیْۤ اِلَیْهِ مَنْ یَّشَآءُ وَ یَهْدِیْۤ اِلَیْهِ مَنْ یُّنِیْبُ 13
13. হে নবী, আমি তোমার কাছে অহি করার মাধ্যমে তোমাদের জীবনব্যবস্থার মধ্যে যেসব বিধি-বিধান আরোপ করেছি, ঠিক একই জিনিস আমি নুহকেও দিয়েছিলাম। এ একই নির্দেশনা আমি ইবরাহিম, মুসা ও ঈসাকেও দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, তোমরা আমার দেয়া এ জীবনাদর্শকে প্রতিষ্ঠা করো। খবরদার! নিজেরাই এ জীবনাদর্শের মধ্যে নানা পথ ও মতের সৃষ্টি করে নিও না। তবে হ্যাঁ, হে নবী, তুমি যে পথের দিকে ডাকছো, তা শরিককারীদের জন্য বড়ই দুঃসহ-কষ্টের। আসলে যে চায়, আল্লাহ কেবল তাকেই নিজের কাছে টেনে নেন। যে তাঁর দিকে এগিয়ে আসে, কেবল তাকেই তিনি সত্য পথ দেখান।
وَ مَا تَفَرَّقُوْۤا اِلَّا مِنْۢ بَعْدِ مَا جَآءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْیًۢا بَیْنَهُمْ ؕ وَ لَوْ لَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَّبِّكَ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی لَّقُضِیَ بَیْنَهُمْ ؕ وَ اِنَّ الَّذِیْنَ اُوْرِثُوا الْكِتٰبَ مِنْۢ بَعْدِهِمْ لَفِیْ شَكٍّ مِّنْهُ مُرِیْبٍ 14
14. যারা আজ সত্যের বিষয়ে মতবিরোধ করছে, ওরাও এক সময় সত্যজ্ঞান পেয়েছিলো। কিন্তু পরে ওরা নিজেদের মধ্যে অহংকার-বিদ্বেষের কারণে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ তৈরি করেছে। তোমার রব যদি নির্দিষ্ট মেয়াদের অবকাশ দেবার পূর্ব সিদ্ধান্ত না নিয়ে থাকতেন, তবে বহু আগেই ওদের ব্যাপারে চূড়ান্ত রফাদফা করে ফেলতেন। এভাবেই হে নবী, তোমার নিকট অতীতের কিতাব প্রাপ্তরা বিভ্রান্তিকর সন্দেহে পড়ে রয়েছে।
فَلِذٰلِكَ فَادْعُ ۚ وَ اسْتَقِمْ كَمَاۤ اُمِرْتَ ۚ وَ لَا تَتَّبِعْ اَهْوَآءَهُمْ ۚ وَ قُلْ اٰمَنْتُ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ مِنْ كِتٰبٍ ۚ وَ اُمِرْتُ لِاَعْدِلَ بَیْنَكُمْ ؕ اَللّٰهُ رَبُّنَا وَ رَبُّكُمْ ؕ لَنَاۤ اَعْمَالُنَا وَ لَكُمْ اَعْمَالُكُمْ ؕ لَا حُجَّةَ بَیْنَنَا وَ بَیْنَكُمْ ؕ اَللّٰهُ یَجْمَعُ بَیْنَنَا ۚ وَ اِلَیْهِ الْمَصِیْرُؕ 15
15. অতএব হে নবী, ওদেরকে আমার পথে ডাকতে থাকো। তোমাকে যেভাবে আদেশ দেয়া হয়েছে, সেভাবে এ পথে দৃঢ় থাকো। খবরদার! ওদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না। ওদের বলে দাও, আল্লাহর নাযিল কৃত কিতাবে আমি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখি। আমায় আদেশ দেয়া হয়েছে, তোমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতে। আল্লাহ যেমন আমাদের রব, তেমনি তোমাদেরও রব। আর আমাদের কাজের দায়ভার আমাদের এবং তোমাদের কাজের দায়ভার তোমাদের। অতএব তোমদের সাথে আমাদের কোনো ঝগড়া-বিবাদ করার ইচ্ছা নাই। আল্লাহ একদিন আমাদের সবাইকে তাঁর সামনে হাজির করবেন। তাঁর কাছেই আমাদের ফিরতে হবে।
وَ الَّذِیْنَ یُحَآجُّوْنَ فِی اللّٰهِ مِنْۢ بَعْدِ مَا اسْتُجِیْبَ لَهٗ حُجَّتُهُمْ دَاحِضَةٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَ عَلَیْهِمْ غَضَبٌ وَّ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِیْدٌ 16
16. আল্লাহর ডাকে সাড়া দেবার পর আবার যারা সত্যদ্বীন ত্যাগ করে খোদ্ আল্লাহর ব্যাপারে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে, ওদের কোনো ওজর-আপত্তি আল্লাহর কাছে গ্রহণীয় নয়। ওদের উপর আল্লাহর গযব পড়বে। ওদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
اَللّٰهُ الَّذِیْۤ اَنْزَلَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ وَ الْمِیْزَانَ ؕ وَ مَا یُدْرِیْكَ لَعَلَّ السَّاعَةَ قَرِیْبٌ 17
17. কেননা আল্লাহ নিজেই সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছেন এবং এ কিতাবের মাধ্যমে ভালো-মন্দের বিচার করার ন্যায়দন্ডও দিয়েছেন। আর তোমরা কিভাবে নিশ্চিত হতে পারলে যে, কিয়ামত খুব কাছে নয়?
یَسْتَعْجِلُ بِهَا الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِهَا ۚ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مُشْفِقُوْنَ مِنْهَا ۙ وَ یَعْلَمُوْنَ اَنَّهَا الْحَقُّ ؕ اَلَاۤ اِنَّ الَّذِیْنَ یُمَارُوْنَ فِی السَّاعَةِ لَفِیْ ضَلٰلٍۭ بَعِیْدٍ 18
18. আসলে যারা আখেরাতের জবাবদিহিতায় বিশ্বাস রাখে না, কেবল ওরাই ঠাট্টাচ্ছলে কিয়ামতকে ত্বরান্বিত করতে বলে। আর যারা বিশ্বাস রাখে, তারা এ দিনের ব্যাপারে সব সময়ই ভয়ে থাকে। কেননা তারা ভালোকরেই জানে, অবশ্যই এ দিনটি আসবে। জেনে রেখো, যারা মহাবিচারের দিন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করে, ওরা ঘোরতর পথভ্রষ্ট।
اَللّٰهُ لَطِیْفٌۢ بِعِبَادِهٖ یَرْزُقُ مَنْ یَّشَآءُ ۚ وَ هُوَ الْقَوِیُّ الْعَزِیْزُ۠ 19
19. আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি খুবই দয়ালু। তিনি যাকে ইচ্ছা পর্যাপ্ত রিযিক দিয়ে থাকেন। তিনি সর্বশক্তিমান, মহা পরাক্রমশালী।
مَنْ كَانَ یُرِیْدُ حَرْثَ الْاٰخِرَةِ نَزِدْ لَهٗ فِیْ حَرْثِهٖ ۚ وَ مَنْ كَانَ یُرِیْدُ حَرْثَ الدُّنْیَا نُؤْتِهٖ مِنْهَا وَ مَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ نَّصِیْبٍ 20
20. যে ব্যক্তি তার কর্মফল আখেরাতে পেতে চায়, আমি তার কর্মফল আরো বাড়িয়ে দেবো। আর কেউ দুনিয়ায় তার পূর্ণ কর্মফল পেতে চাইলে, তাকে আমি দুনিয়ায়ই সব দিয়ে দেবো। আখেরাতে তার পাওয়ার কিছুই থাকবে না।
اَمْ لَهُمْ شُرَكٰٓؤُا شَرَعُوْا لَهُمْ مِّنَ الدِّیْنِ مَا لَمْ یَاْذَنْۢ بِهِ اللّٰهُ ؕ وَ لَوْ لَا كَلِمَةُ الْفَصْلِ لَقُضِیَ بَیْنَهُمْ ؕ وَ اِنَّ الظّٰلِمِیْنَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ 21
21. আচ্ছা! ওরা কি আল্লাহর পরিবর্তে এমন কাউকে নিজেদের আইন প্রণেতা বানিয়ে নিচ্ছে, যাদের প্রণীত আইনের স্বপক্ষে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো অনুমোদন নেই? হায়! ওদের ব্যাপারে কিছু দিনের অবকাশের পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকলে, বহু আগেই ওদের উপর আযাব এসে যেতো। সন্দেহ নেই, এসব জালেমদের জন্য কঠিন মর্মান্তিক শাস্তি প্রস্তুত রয়েছে।
تَرَی الظّٰلِمِیْنَ مُشْفِقِیْنَ مِمَّا كَسَبُوْا وَ هُوَ وَاقِعٌۢ بِهِمْ ؕ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فِیْ رَوْضٰتِ الْجَنّٰتِ ۚ لَهُمْ مَّا یَشَآءُوْنَ عِنْدَ رَبِّهِمْ ؕ ذٰلِكَ هُوَ الْفَضْلُ الْكَبِیْرُ 22
22. মহাবিচারের দিন তুমি এসব জালেমদের দেখবে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য প্রচন্ড ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আছে। পাপের শাস্তি ওদেরকে অবশ্যই ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে দেখবে যারা সত্যকে মেনে নিয়েছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা জান্নাতের মনোরম বাগ-বাগিচায় আনন্দ করছে। এসব নেক লোকেরা সেখানে যা-ই চাবে, আপন রবের কাছে তা-ই পাবে। আর এটাই মহা অনুগ্রহ।
ذٰلِكَ الَّذِیْ یُبَشِّرُ اللّٰهُ عِبَادَهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ؕ قُلْ لَّاۤ اَسْـَٔلُكُمْ عَلَیْهِ اَجْرًا اِلَّا الْمَوَدَّةَ فِی الْقُرْبٰی ؕ وَ مَنْ یَّقْتَرِفْ حَسَنَةً نَّزِدْ لَهٗ فِیْهَا حُسْنًا ؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ شَكُوْرٌ 23
23. প্রকৃতার্থে আল্লাহ কেবল তাঁর ঈমানদার সৎকর্মশীল বান্দাদেরকেই এ মহানুগ্রহের সুসংবাদ দিচ্ছেন। অতএব হে নবী, তুমি ওদের বলো, আমি এ কাজের জন্য তোমাদের কাছে কোনো পার্থিব বিনিময় চাইছি না। তবে আত্মীয়তার ভালোবাসাটুকু চাই মাত্র। ওদের জানিয়ে দাও, যে ভালো কাজ করে, আমি তার সৌন্দর্য অনেক অনেক বাড়িয়ে দেই। আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল ও নেক কাজের মূল্যায়ণকারী।
اَمْ یَقُوْلُوْنَ افْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا ۚ فَاِنْ یَّشَاِ اللّٰهُ یَخْتِمْ عَلٰی قَلْبِكَ ؕ وَ یَمْحُ اللّٰهُ الْبَاطِلَ وَ یُحِقُّ الْحَقَّ بِكَلِمٰتِهٖ ؕ اِنَّهٗ عَلِیْمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ 24
24. তাহলে ওরা কি এ কথা বলতে চায় যে, তুমি নিজেই আল্লাহর নামে মিথ্যে রচনা করে নিয়েছো? যদি তাই হতো, তবে আল্লাহ ইচ্ছে করলে তোমার অন্তরেও মহর এটে দিতেন। আসলে আল্লাহ তাঁর এ বাণীর মাধ্যমে চান মিথ্যাকে বিলুপ্ত করতে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে। আর তিনি তো অন্তর্যামী।
وَ هُوَ الَّذِیْ یَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهٖ وَ یَعْفُوْا عَنِ السَّیِّاٰتِ وَ یَعْلَمُ مَا تَفْعَلُوْنَۙ 25
25. নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং তাদের পাপ ক্ষমা করেন। বস্তুত তোমরা যা করো, তিনি তা সবই জানেন।
وَ یَسْتَجِیْبُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَ یَزِیْدُهُمْ مِّنْ فَضْلِهٖ ؕ وَ الْكٰفِرُوْنَ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِیْدٌ 26
26. তিনি সব সময় ঈমানদার সৎকর্মশীল বান্দাদের ডাকে সাড়া দেন। তাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ বর্ষণ করেন। কিন্তু অন্যদিকে কাফেরদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন আযাব।
وَ لَوْ بَسَطَ اللّٰهُ الرِّزْقَ لِعِبَادِهٖ لَبَغَوْا فِی الْاَرْضِ وَ لٰكِنْ یُّنَزِّلُ بِقَدَرٍ مَّا یَشَآءُ ؕ اِنَّهٗ بِعِبَادِهٖ خَبِیْرٌۢ بَصِیْرٌ 27
27. শোনো, আল্লাহ যদি তাঁর সব বান্দাদেরকে অঢেল রিযিক দান করতেন, তবে তারা এ পৃথিবীতে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় সৃষ্টি করতো। তাই তিনি আপন বিবেচনা অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য রিযিক বরাদ্দ করে থাকেন। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সব খবর রাখেন, সব কিছু দেখেন।
وَ هُوَ الَّذِیْ یُنَزِّلُ الْغَیْثَ مِنْۢ بَعْدِ مَا قَنَطُوْا وَ یَنْشُرُ رَحْمَتَهٗ ؕ وَ هُوَ الْوَلِیُّ الْحَمِیْدُ 28
28. মানুষ যখন সব আশা হারিয়ে হতাশায় ভেঙ্গে পড়ে, তখন একমাত্র আল্লাহই বৃষ্টি পাঠান এবং আপন করুণায় তাদের সিক্ত করেন। আসলে তিনিই তাদের অভিভাবক। সকল প্রশংসার একক হকদার।
وَ مِنْ اٰیٰتِهٖ خَلْقُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ مَا بَثَّ فِیْهِمَا مِنْ دَآبَّةٍ ؕ وَ هُوَ عَلٰی جَمْعِهِمْ اِذَا یَشَآءُ قَدِیْرٌ۠ 29
29. আল্লাহর মহিমার এক উজ্জ্বল নিদর্শন হচ্ছে, মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং এ দু’য়ের মাঝে বিচরণশীল প্রাণিজগত। এ সবকিছুই তাঁর। তিনি যখনই চাইবেন, এদের সবাইকে এক স্থানে জমায়েত করার ক্ষমতা রাখেন।
وَ مَاۤ اَصَابَكُمْ مِّنْ مُّصِیْبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ اَیْدِیْكُمْ وَ یَعْفُوْا عَنْ كَثِیْرٍؕ 30
30. হে নবী, ওদের বলো, আজ তোমাদের উপর যে বিপদাপদ দেখছো, তা সবই তোমাদের কাজের ফল। যদিও আল্লাহ তোমাদের অনেক কিছুই ক্ষমা করেন।
وَ مَاۤ اَنْتُمْ بِمُعْجِزِیْنَ فِی الْاَرْضِ ۖۚ وَ مَا لَكُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ مِنْ وَّلِیٍّ وَّ لَا نَصِیْرٍ 31
31. মনে রেখে, তোমরা পৃথিবীতে কখনোই আল্লাহকে অচল-অক্ষম করতে পারবে না। মহাবিশ্বে আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই, কোনো সাহায্যকারী নেই।
وَ مِنْ اٰیٰتِهِ الْجَوَارِ فِی الْبَحْرِ كَالْاَعْلَامِؕ 32
32. আল্লাহর মহিমার আরেক উজ্জ্বল নিদর্শন হচ্ছে সমুদ্রের বুকে ভাসমান পাহাড়সম জাহাজগুলো।
اِنْ یَّشَاْ یُسْكِنِ الرِّیْحَ فَیَظْلَلْنَ رَوَاكِدَ عَلٰی ظَهْرِهٖ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُوْرٍۙ 33
33. আল্লাহ ইচ্ছে করলে বায়ুপ্রবাহ বন্ধ করে দিতে পারেন। তখন এসব জাহাজগুলো সমুদ্রের বুকে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকবে। নিশ্চয়ই এ দৃশ্য দেখে প্রত্যেক ধৈর্যশীল ও শোকরগুজার ব্যক্তি অনেক কিছু শিখতে পারে।
اَوْ یُوْبِقْهُنَّ بِمَا كَسَبُوْا وَ یَعْفُ عَنْ كَثِیْرٍؗ 34
34. অথবা তিনি চাইলে আরোহীদের অপকর্মের শাস্তি হিসাবে পুরো জাহাজকে ডুবিয়ে দিতে পারেন। অথচ তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করেন।
وَّ یَعْلَمَ الَّذِیْنَ یُجَادِلُوْنَ فِیْۤ اٰیٰتِنَا ؕ مَا لَهُمْ مِّنْ مَّحِیْصٍ 35
35. অতএব যারা আমার বাণী নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, বিতর্ক করে বেড়াচ্ছে, ওরা জেনে রাখুক, আমার হাত থেকে পালানোর কোনো পথ নেই।
فَمَاۤ اُوْتِیْتُمْ مِّنْ شَیْءٍ فَمَتَاعُ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۚ وَ مَا عِنْدَ اللّٰهِ خَیْرٌ وَّ اَبْقٰی لِلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَلٰی رَبِّهِمْ یَتَوَكَّلُوْنَۚ 36
36. ভুলে যেয়ো না, বর্তমানে তোমরা যা কিছু পেয়েছো, তা সবই হচ্ছে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের সামান্য ভোগ মাত্র। এর চেয়ে অনেক অনেক ভালো ও স্থায়ী জিনিস আল্লাহর কাছে রয়েছে। তবে ঐসব কিছু কেবল তারাই পাবে, যারা ঈমান এনেছে এবং আপন রবের উপর ভরসা করে চলেছে।
وَ الَّذِیْنَ یَجْتَنِبُوْنَ كَبٰٓىِٕرَ الْاِثْمِ وَ الْفَوَاحِشَ وَ اِذَا مَا غَضِبُوْا هُمْ یَغْفِرُوْنَۚ 37
37. আর হ্যাঁ! জেনে রেখো, ঐসব ঈমানদার ভরসাকারীরা (এক) সদা-সর্বদা নিজেদেরকে গুরুতর পাপ ও অশ্লীলতা থেকে বাঁচিয়ে চলে এবং (দুই) কারো প্রতি ক্রোধান্বিত হলেও, শেষ পর্যন্ত ক্ষমা করে দেয়।
وَ الَّذِیْنَ اسْتَجَابُوْا لِرَبِّهِمْ وَ اَقَامُوا الصَّلٰوةَ ۪ وَ اَمْرُهُمْ شُوْرٰی بَیْنَهُمْ ۪ وَ مِمَّا رَزَقْنٰهُمْ یُنْفِقُوْنَۚ 38
38. (তিন) তারা সর্বদা আপন রবের নির্দেশ মেনে চলে। (চার) নামাজ কায়েম করে, (পাঁচ) পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করে এবং (ছয়) প্রাপ্ত জীবনোপকরণ থেকে ন্যায়পন্থায় খরচ করে।
وَ الَّذِیْنَ اِذَاۤ اَصَابَهُمُ الْبَغْیُ هُمْ یَنْتَصِرُوْنَ 39
39. আর (সাত) নির্যাতনের শিকার হলে তারা তার দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়।
وَ جَزٰٓؤُا سَیِّئَةٍ سَیِّئَةٌ مِّثْلُهَا ۚ فَمَنْ عَفَا وَ اَصْلَحَ فَاَجْرُهٗ عَلَی اللّٰهِ ؕ اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الظّٰلِمِیْنَ 40
40. কিন্তু মনে রেখো, নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে গিয়ে তোমরা নিজেরাই আবার নির্যাতন না করে বসো। কাজেই যে তার প্রতিপক্ষকে ক্ষমা করে এবং আপোস-রফা করে শান্তিস্থাপন করে নেয়, তার জন্য আল্লাহর কাছে মহাপুরস্কার রয়েছে। বস্তুত আল্লাহ কখনো জালেমদের পছন্দ করেন না।
وَ لَمَنِ انْتَصَرَ بَعْدَ ظُلْمِهٖ فَاُولٰٓىِٕكَ مَا عَلَیْهِمْ مِّنْ سَبِیْلٍؕ 41
41. তবে নির্যাতিত হওয়ার পর যারা সমান-সমান প্রতিশোধ গ্রহণ করে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই।
اِنَّمَا السَّبِیْلُ عَلَی الَّذِیْنَ یَظْلِمُوْنَ النَّاسَ وَ یَبْغُوْنَ فِی الْاَرْضِ بِغَیْرِ الْحَقِّ ؕ اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ 42
42. বস্তুত কেবল তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া যাবে, যারা মানুষের উপর জুলুম চালায় এবং সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে বিদ্রোহ করে চলে। এসব দুরাচারীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক মর্মন্তুদ শাস্তি।
وَ لَمَنْ صَبَرَ وَ غَفَرَ اِنَّ ذٰلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْاُمُوْرِ۠ 43
43. কিন্তু কেউ যদি নির্যানের পরেও ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে দেয়, তবে তা হবে মহত্তম দৃঢ় সংকল্পের পরিচয়।
وَ مَنْ یُّضْلِلِ اللّٰهُ فَمَا لَهٗ مِنْ وَّلِیٍّ مِّنْۢ بَعْدِهٖ ؕ وَ تَرَی الظّٰلِمِیْنَ لَمَّا رَاَوُا الْعَذَابَ یَقُوْلُوْنَ هَلْ اِلٰی مَرَدٍّ مِّنْ سَبِیْلٍۚ 44
44. আল্লাহ নিজেই যাকে ভ্রান্ত পথে ছেড়ে দেন, তাকে বাঁচানোর জন্য কোনো অভিভাবক পাবে না। হায়! বিচারের দিন এসব জালেমেরা যখন নিজ চোখে আযাব দেখবে, তখন তুমি দেখবে, ওরা আর্তনাদ করে বলবে, আমাদেরকে কি একটা বারের জন্য দুনিয়ায় ফিরে যাবার সুযোগ দেয়া হবে?
وَ تَرٰىهُمْ یُعْرَضُوْنَ عَلَیْهَا خٰشِعِیْنَ مِنَ الذُّلِّ یَنْظُرُوْنَ مِنْ طَرْفٍ خَفِّیٍ ؕ وَ قَالَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِنَّ الْخٰسِرِیْنَ الَّذِیْنَ خَسِرُوْۤا اَنْفُسَهُمْ وَ اَهْلِیْهِمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ اَلَاۤ اِنَّ الظّٰلِمِیْنَ فِیْ عَذَابٍ مُّقِیْمٍ 45
45. ওদেরকে যখন জাহান্নামের সামনে উপস্থিত করা হবে, তখন তুমি দেখবে, অপমান-লাঞ্ছনায় ওদের মাথা নিচু হয়ে আছে এবং ওরা চোরের মতো আড়চোখে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। অন্যদিকে দেখবে, ঈমানদারেরা বলাবলি করছে, আসলে যারা দুনিয়ায় নিজেদের ও আপন লোকদের বিনষ্ট করেছিলো, আজ ওরাই ক্ষতিগ্রস্ত হলো। জেনে রাখে, সেদিন জালেমেরা অনন্তকালের জন্য কঠিন আযাবে প্রবেশ করবে।
وَ مَا كَانَ لَهُمْ مِّنْ اَوْلِیَآءَ یَنْصُرُوْنَهُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ ؕ وَ مَنْ یُّضْلِلِ اللّٰهُ فَمَا لَهٗ مِنْ سَبِیْلٍؕ 46
46. সেদিন আল্লাহর মোকাবেলায় ওদের সাহায্য করার জন্য কোনো অভিভাবক থাকবে না। আসলে পাপাচারের কারণে আল্লাহ যাকে ভ্রান্তপথে ছেড়ে দেন, তার জন্য বাঁচার আর কোনো পথই খোলা থাকে না।
اِسْتَجِیْبُوْا لِرَبِّكُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ یَّاْتِیَ یَوْمٌ لَّا مَرَدَّ لَهٗ مِنَ اللّٰهِ ؕ مَا لَكُمْ مِّنْ مَّلْجَاٍ یَّوْمَىِٕذٍ وَّ مَا لَكُمْ مِّنْ نَّكِیْرٍ 47
47. অতএব হে মানুষ, অপ্রতিরোধ্য ও অবশ্যম্ভাবী মহাবিচারের দিন আসার আগেই তোমরা আপন রবের কথা মেনে নাও। কেননা সেদিন না তোমরা আত্মরক্ষার জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় পাবে, আর না নিজেদের অপরাধ অস্বীকার করার সুযোগ পাবে।
فَاِنْ اَعْرَضُوْا فَمَاۤ اَرْسَلْنٰكَ عَلَیْهِمْ حَفِیْظًا ؕ اِنْ عَلَیْكَ اِلَّا الْبَلٰغُ ؕ وَ اِنَّاۤ اِذَاۤ اَذَقْنَا الْاِنْسَانَ مِنَّا رَحْمَةً فَرِحَ بِهَا ۚ وَ اِنْ تُصِبْهُمْ سَیِّئَةٌۢ بِمَا قَدَّمَتْ اَیْدِیْهِمْ فَاِنَّ الْاِنْسَانَ كَفُوْرٌ 48
48. ৪৮. কাজেই হে নবী, এখন ওরা যদি তোমার দাওয়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকে, তবে তাতে তোমার কোনো দায় নেই। কেননা তোমাকে ওদের উপর রক্ষক করে পাঠাইনি। তোমার দায়িত্ব তো শুধু পৌঁছিয়ে দেয়া। আসলে মানুষ এমনই, যখন আমি তাদেরকে অনুগ্রহ দান করি, তখন আনন্দে ফেটে পড়ে। আবার যখন ওদের পাপের শাস্তি হিসাবে কোনো বিপদে ফেলাই, তখন সে বড়ই অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে।
لِلّٰهِ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ یَخْلُقُ مَا یَشَآءُ ؕ یَهَبُ لِمَنْ یَّشَآءُ اِنَاثًا وَّ یَهَبُ لِمَنْ یَّشَآءُ الذُّكُوْرَۙ 49
49. ওদের জেনে রাখা উচিত, মহাকাশ ও পৃথিবীর সার্বভৌম মালিকানা একমাত্র আল্লাহর। তিনি আপন ইচ্ছানুযায়ী সব কিছু সৃষ্টি করে চলেন। যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দেন, আবার যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দেন।
اَوْ یُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَّ اِنَاثًا ۚ وَ یَجْعَلُ مَنْ یَّشَآءُ عَقِیْمًا ؕ اِنَّهٗ عَلِیْمٌ قَدِیْرٌ 50
50. আর যাকে ইচ্ছা পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন। আবার যাকে ইচ্ছা সন্তানহীন করে রাখেন। বস্তুত তিনি সব কিছু জানেন, সব কিছু পারেন।
وَ مَا كَانَ لِبَشَرٍ اَنْ یُّكَلِّمَهُ اللّٰهُ اِلَّا وَحْیًا اَوْ مِنْ وَّرَآئِ حِجَابٍ اَوْ یُرْسِلَ رَسُوْلًا فَیُوْحِیَ بِاِذْنِهٖ مَا یَشَآءُ ؕ اِنَّهٗ عَلِیٌّ حَكِیْمٌ 51
51. কোনো মানুষই এতটা মর্যাদার অধিকারী নয় যে, আল্লাহ নিজে তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন। তিনি মানুষের সাথে কথা বলেন, হয় মানুষের অন্তরে কোনো কথা ফুঁকে দেবার মাধ্যমে, কিংবা পর্দার আড়াল থেকে আওয়াজ দিয়ে, অথবা কোনো ফেরেশতা পাঠিয়ে, যে আল্লাহর কথাগুলো তার অনুমতিতে হুবহু পেশ করে থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুন্নত, প্রজ্ঞাময়।
وَ كَذٰلِكَ اَوْحَیْنَاۤ اِلَیْكَ رُوْحًا مِّنْ اَمْرِنَا ؕ مَا كُنْتَ تَدْرِیْ مَا الْكِتٰبُ وَ لَا الْاِیْمَانُ وَ لٰكِنْ جَعَلْنٰهُ نُوْرًا نَّهْدِیْ بِهٖ مَنْ نَّشَآءُ مِنْ عِبَادِنَا ؕ وَ اِنَّكَ لَتَهْدِیْۤ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍۙ 52
52. হে নবী, এসব পদ্ধতিতেই আমার নির্দেশে তোমার কাছে এ কুরআনকে অহি করা হয়েছে। আসলে এ কিতার পাওয়ার আগে তো তুমি জানতেও না যে, কিতাব কী? ঈমান কী? কিন্তু আমিই এ কিতাবকে সত্যের এক আলোকবর্তিকা বানিয়ে দিলাম, যাতে এর মাধ্যমে আমি আমার প্রিয় বান্দাদের সঠিক পথ দেখাতে পারি। আর তুমি! লোকদেরকে সেই সত্য-সরল পথের দিকেই ডেকে চলছো।
صِرَاطِ اللّٰهِ الَّذِیْ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ ؕ اَلَاۤ اِلَی اللّٰهِ تَصِیْرُ الْاُمُوْرُ۠ 53
53. হ্যাঁ! সে আল্লাহর পথের দিকে, যার হাতেই মহাকাশ ও পৃথিবীর সব কিছুর মালিকানা ও কর্তৃত্ব। অতএব হে মানুষ, সাবধান হও! শেষ পর্যন্ত সব কিছু আল্লাহর কাছেই ফিরে যাবে।