59. আল হাশর

سَبَّحَ لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ ۚ وَ هُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ 1
1. মহাকাশ ও পৃথিবীর সবকিছুই আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। নিশ্চয়ই তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়।
هُوَ الَّذِیْۤ اَخْرَجَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ مِنْ دِیَارِهِمْ لِاَوَّلِ الْحَشْرِ ؔؕ مَا ظَنَنْتُمْ اَنْ یَّخْرُجُوْا وَ ظَنُّوْۤا اَنَّهُمْ مَّانِعَتُهُمْ حُصُوْنُهُمْ مِّنَ اللّٰهِ فَاَتٰىهُمُ اللّٰهُ مِنْ حَیْثُ لَمْ یَحْتَسِبُوْا ۗ وَ قَذَفَ فِیْ قُلُوْبِهِمُ الرُّعْبَ یُخْرِبُوْنَ بُیُوْتَهُمْ بِاَیْدِیْهِمْ وَ اَیْدِی الْمُؤْمِنِیْنَ ۗ فَاعْتَبِرُوْا یٰۤاُولِی الْاَبْصَارِ 2
2. তিনি আহলে কিতাবের অবাধ্য দুরাচারী বনি নযির গোত্রকে প্রথম আক্রমণেই ওদের ঘরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। ওহে ঈমানদারেরা, তোমরা কল্পনাও করতে পারোনি যে, ওরা এতো সহজেই বেরিয়ে যাবে। আর ওরাও ধরে নিয়েছিলো যে, ওদের দুর্গগুলো ওদেরকে আল্লাহর হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে। কিন্তু না, আল্লাহ ওদের এমন দিক দিয়ে আঘাত হানলেন, যা ওরা কল্পনাও করতে পারেনি। আসলে তখন আল্লাহ ওদের মনোবল ভেঙ্গে দিয়েছিলেন। ফলে ওরা শেষ পর্যন্ত নিজ হাতেই নিজেদের বাড়িঘর ভেঙ্গে চুরমার করে ফেললো। আর চূড়ান্তভাবে ঈমানদারেরা ওদের আস্তানাই শেষ করে দিল। অতএব হে চাক্ষুষ্মানেরা, এ দৃশ্য দেখে নিজেদের জীবনে শিক্ষা গ্রহণ করো।
وَ لَوْ لَاۤ اَنْ كَتَبَ اللّٰهُ عَلَیْهِمُ الْجَلَآءَ لَعَذَّبَهُمْ فِی الدُّنْیَا ؕ وَ لَهُمْ فِی الْاٰخِرَةِ عَذَابُ النَّارِ 3
3. ওরা যদি নিজে থেকে নির্বাসিত হওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে না নিতো, তবে আল্লাহ দুনিয়া থেকে ওদের নাম নিশানা পর্যন্ত মিটিয়ে দিতেন। আর আখেরাতে তো ওদের জন্য জাহান্নামের লেলিহান শিখা প্রস্তুত থাকছেই।
ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ شَآقُّوا اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ ۚ وَ مَنْ یُّشَآقِّ اللّٰهَ فَاِنَّ اللّٰهَ شَدِیْدُ الْعِقَابِ 4
4. কারণ, ওরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সাথে বিদ্রোহ করেছে। আর কেউ আল্লাহর সাথে বিদ্রোহ করলে, আল্লাহ ওদেরকে কঠিন শাস্তি দেন।
مَا قَطَعْتُمْ مِّنْ لِّیْنَةٍ اَوْ تَرَكْتُمُوْهَا قَآئِمَةً عَلٰۤی اُصُوْلِهَا فَبِاِذْنِ اللّٰهِ وَ لِیُخْزِیَ الْفٰسِقِیْنَ 5
5. আর হ্যাঁ, অবরোধকালে তোমরা সেখানের যেসব খেজুর গাছ কেটেছিলে, আর যেগুলো না কেটে অক্ষত রেখে দিয়েছিলে তার সবটাই ছিলো আল্লাহর অনুমতিক্রমে। আল্লাহ এ অনুমতি দিয়েছিলেন, যাতে পাপিষ্ঠ দুরাচারীরা চরমভাবে লাঞ্ছিত হয়।
وَ مَاۤ اَفَآءَ اللّٰهُ عَلٰی رَسُوْلِهٖ مِنْهُمْ فَمَاۤ اَوْجَفْتُمْ عَلَیْهِ مِنْ خَیْلٍ وَّ لَا رِكَابٍ وَّ لٰكِنَّ اللّٰهَ یُسَلِّطُ رُسُلَهٗ عَلٰی مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ 6
6. তবে মনে রেখ, এ অভিযানে আল্লাহ তাঁর রসুলকে যে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ দিয়েছেন, তার জন্য তোমরা কেউ ঘোড়া বা উটে চড়ে যুদ্ধ করোনি। কখনো কখনো আল্লাহ এভাবেই তাঁর রসুলদের কারো উপর বিজয় দান করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম।
مَاۤ اَفَآءَ اللّٰهُ عَلٰی رَسُوْلِهٖ مِنْ اَهْلِ الْقُرٰی فَلِلّٰهِ وَ لِلرَّسُوْلِ وَ لِذِی الْقُرْبٰی وَ الْیَتٰمٰی وَ الْمَسٰكِیْنِ وَ ابْنِ السَّبِیْلِ ۙ كَیْ لَا یَكُوْنَ دُوْلَةًۢ بَیْنَ الْاَغْنِیَآءِ مِنْكُمْ ؕ وَ مَاۤ اٰتٰىكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ ۗ وَ مَا نَهٰىكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوْا ۚ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ شَدِیْدُ الْعِقَابِۘ 7
7. অতএব আল্লাহ এ জনপদ থেকে তাঁর রসুলকে যে ধন-সম্পদ দিয়েছেন, তা আল্লাহর, তাঁর রসুলের, রসুলের আত্মীয় স্বজনের, অসহায়-দরিদ্রদের এবং মুসাফিরদের মধ্যে বণ্টিত হবে। এ বণ্টন এ জন্যেই, যাতে সব ধন-সম্পদ কেবল ধনীদের মধ্যে আবর্তিত না হয়। কাজেই এ সম্পদ থেকে রসুল তোমাদের যাকে যা দেন, তাই গ্রহণ করো এবং যাকে যা নিতে নিষেধ করেন, সে তা নেয়া থেকে বিরত থাকো। আল্লাহকে ভয় করো। মনে রেখো, শাস্তি দানে আল্লাহ খুবই কঠোর হয়ে থাকেন।
لِلْفُقَرَآءِ الْمُهٰجِرِیْنَ الَّذِیْنَ اُخْرِجُوْا مِنْ دِیَارِهِمْ وَ اَمْوَالِهِمْ یَبْتَغُوْنَ فَضْلًا مِّنَ اللّٰهِ وَ رِضْوَانًا وَّ یَنْصُرُوْنَ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ ؕ اُولٰٓئِكَ هُمُ الصّٰدِقُوْنَۚ 8
8. একইভাবে এ সম্পদে অভাবী মুহাজিরদের হিস্যা রয়েছে, যাদেরকে নিজ বাড়িঘর ও সহায়-সম্পত্তি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ এরপরেও তারা অনবরত আল্লাহর দয়া ও সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং সদা সর্বদা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের কাজে সাহায্য করছে। এরা আসলেই সত্যাশ্রয়ী।
وَ الَّذِیْنَ تَبَوَّؤُ الدَّارَ وَ الْاِیْمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ یُحِبُّوْنَ مَنْ هَاجَرَ اِلَیْهِمْ وَ لَا یَجِدُوْنَ فِیْ صُدُوْرِهِمْ حَاجَةً مِّمَّاۤ اُوْتُوْا وَ یُؤْثِرُوْنَ عَلٰۤی اَنْفُسِهِمْ وَ لَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ ۫ؕ وَ مَنْ یُّوْقَ شُحَّ نَفْسِهٖ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَۚ 9
9. একইভাবে এ সম্পদে মদিনার আনসারদেরও অংশ রয়েছে, যারা মুহাজিরদের মন দিয়ে ভালোবাসে এবং তাদেরকে যা কিছু দেয়া হয়েছে, তার জন্য ঈর্ষান্বিত হয় না। এমনকি, নিজেদের অভাব অনটন থাকা সত্ত্বেও তারা মুহাজিরদেরকে নিজেদের উপর অগ্রাধিকার দিয়েছে। আসলে যাদের অন্তর সংকীর্ণতামুক্ত, কেবল তারাই সফলতা লাভ করে।
وَ الَّذِیْنَ جَآءُوْ مِنْۢ بَعْدِهِمْ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَ لِاِخْوَانِنَا الَّذِیْنَ سَبَقُوْنَا بِالْاِیْمَانِ وَ لَا تَجْعَلْ فِیْ قُلُوْبِنَا غِلًّا لِّلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا رَبَّنَاۤ اِنَّكَ رَءُوْفٌ رَّحِیْمٌ۠ 10
10. আর এ সম্পদের মধ্যে অনাগত ঈমানদারদের জন্যেও অধিকার রয়েছে। যারা দোয়া করবে, হে আমাদের রব, তুমি আমাদের এবং পূর্ববর্তী সকল ঈমানদার ভাইদের ক্ষমা করো এবং সব ঈমানদারদের ব্যাপারে আমাদের অন্তরকে সকল হিংসা-বিদ্বেষ থেকে মুক্ত রাখো। নিশ্চয় তুমি অতি স্নেহশীল, পরম দয়ালু।
اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْنَ نَافَقُوْا یَقُوْلُوْنَ لِاِخْوَانِهِمُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ لَئِنْ اُخْرِجْتُمْ لَنَخْرُجَنَّ مَعَكُمْ وَ لَا نُطِیْعُ فِیْكُمْ اَحَدًا اَبَدًا ۙ وَّ اِنْ قُوْتِلْتُمْ لَنَنْصُرَنَّكُمْ ؕ وَ اللّٰهُ یَشْهَدُ اِنَّهُمْ لَكٰذِبُوْنَ 11
11. হে নবী, তুমি কি মুনাফিকদের অবস্থা লক্ষ্য করোনি? ওরা ওদের কাফের আহলে কিতাব ভাইদের বলছে, তোমরা নিশ্চিন্ত থাকো, তোমাদরকে এ শহর থেকে তাড়াতে পারবে না। যদি পারে, তবে সেদিন আমরাও তোমাদের সাথে এ শহর ছেড়ে বেরিয়ে যাবো। তোমাদের ব্যাপারে আমরা কাউকেই ছাড় দেবো না। ভয় পেয়ো না, তোমরা যদি আক্রান্ত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করবো। কিন্তু না! আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন, ওরা ডাহা মিথ্যাবাদী।
لَئِنْ اُخْرِجُوْا لَا یَخْرُجُوْنَ مَعَهُمْ ۚ وَ لَئِنْ قُوْتِلُوْا لَا یَنْصُرُوْنَهُمْ ۚ وَ لَئِنْ نَّصَرُوْهُمْ لَیُوَلُّنَّ الْاَدْبَارَ ۫ ثُمَّ لَا یُنْصَرُوْنَ 12
12. শুনে রেখো, ঐসব ইহুদিদের তাড়িয়ে দিলে মুনাফিকদের কেউই ওদের সাথে দেশত্যাগ করবে না। ওদেরকে মেরে সাফ করে দিলেও সাহায্যের জন্য এদের কেউ এগিয়ে আসবে না। আর যদি সাহায্য করতে দু-একজন আসেও, তারাও পালিয়ে যাবে। দুরাচারী পাপীরা কোনো জায়গা থেকেই সাহায্য পাবে না।
لَاَنْتُمْ اَشَدُّ رَهْبَةً فِیْ صُدُوْرِهِمْ مِّنَ اللّٰهِ ؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا یَفْقَهُوْنَ 13
13. হে ঈমানদারেরা, এসব মুনাফিকেরা আল্লাহর চাইতে এখন তোমাদেরকেই বেশি ভয় করে। কেননা ওরা সত্যকে উপলব্ধি করতে পারেনি।
لَا یُقَاتِلُوْنَكُمْ جَمِیْعًا اِلَّا فِیْ قُرًی مُّحَصَّنَةٍ اَوْ مِنْ وَّرَآءِ جُدُرٍ ؕ بَاْسُهُمْ بَیْنَهُمْ شَدِیْدٌ ؕ تَحْسَبُهُمْ جَمِیْعًا وَّ قُلُوْبُهُمْ شَتّٰی ؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا یَعْقِلُوْنَۚ 14
14. ঐসব ইহুদিরা একজোট হয়ে কখনোই খোলা ময়দানে তোমাদের মোকাবেলায় যুদ্ধে নামবে না। লড়াই করলেও তা করবে দুর্গের ভিতর থেকে বা কোনো প্রাচীরের আড়াল থেকে। আসলে ওদের নিজেদের মধ্যে ভয়ানক পারস্পরিক কোন্দল রয়েছে। দূর থেকে মনে হবে, ওরা সবাই একজোট; কিন্তু না, ওদের মধ্যে কোনো আন্তরিক মিল নেই। আর এর অন্যতম কারণ হলো, ওরা বিবেক-বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করে না।
كَمَثَلِ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ قَرِیْبًا ذَاقُوْا وَبَالَ اَمْرِهِمْ ۚ وَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌۚ 15
15. ওদের পরিণতি ঠিক বনু কাইনুকার মত হবে, যারা কিছুদিন আগে নিজেদের অপকর্মের শাস্তি ভোগ করেছে। বস্তুত ওদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এক মর্মান্তিক আযাব।
كَمَثَلِ الشَّیْطٰنِ اِذْ قَالَ لِلْاِنْسَانِ اكْفُرْ ۚ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ اِنِّیْ بَرِیْٓءٌ مِّنْكَ اِنِّیْۤ اَخَافُ اللّٰهَ رَبَّ الْعٰلَمِیْنَ 16
16. আর এসব মুনাফিকের উপমা হচ্ছে শয়তানের মতো। শয়তান প্রথমে মানুষকে বলে, কুফরি করো। কিন্তু যখন সে সত্যিই কুফরি করে বসে, তখন শয়তান আবার বলে, আমি তোমার এ পাপের দায়ভার নিচ্ছি না। আমি মহাবিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।
فَكَانَ عَاقِبَتَهُمَاۤ اَنَّهُمَا فِی النَّارِ خَالِدَیْنِ فِیْهَا ؕ وَ ذٰلِكَ جَزٰٓؤُا الظّٰلِمِیْنَ۠ 17
17. কাজেই দুরাচারী ইহুদি ও মুনাফিকদের শেষ পরিণতি অবশ্যই জাহান্নাম। সেখানেই ওরা চিরকাল পড়ে থাকবে। আর এটাই জালেমদের উপযুক্ত কর্মফল।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ وَ لْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍ ۚ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ خَبِیْرٌۢ بِمَا تَعْمَلُوْنَ 18
18. হে ঈমানদারেরা, আল্লাহকে ভয় করো। তোমাদের প্রত্যেকেরই চিন্তা করা উচিত যে, পরকালীন জীবনের জন্য সে আগাম কী পাঠাচ্ছে। কাজেই আল্লাহর আযাব থেকে নিজেদেরকে বাঁচাও। কেননা তোমাদের প্রত্যেকটা কাজকর্ম সম্পর্কে আল্লাহ পূর্ণ খবর রাখেন।
وَ لَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِیْنَ نَسُوا اللّٰهَ فَاَنْسٰىهُمْ اَنْفُسَهُمْ ؕ اُولٰٓئِكَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَ 19
19. আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে। ফলে আল্লাহও ওদেরকে মুক্তির পথ ভুলিয়ে দিয়েছেন। বাস্তবে ওরাই সত্যত্যাগী।
لَا یَسْتَوِیْۤ اَصْحٰبُ النَّارِ وَ اَصْحٰبُ الْجَنَّةِ ؕ اَصْحٰبُ الْجَنَّةِ هُمُ الْفَآئِزُوْنَ 20
20. জাহান্নামের অধিবাসী আর জান্নাতের অধিবাসী কখনো সমান হতে পারে না। সন্দেহ নেই, জান্নাতের অধিবাসীরাই সফলকাম।
لَوْ اَنْزَلْنَا هٰذَا الْقُرْاٰنَ عَلٰی جَبَلٍ لَّرَاَیْتَهٗ خَاشِعًا مُّتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْیَةِ اللّٰهِ ؕ وَ تِلْكَ الْاَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ یَتَفَكَّرُوْنَ 21
21. আমি যদি এ কুরআনকে কোনো পাহাড়ের উপরও নাযিল করতাম, তবে তোমরা দেখতে, আল্লাহর ভয়ে সে পাহাড় ধ্বসে পড়েছে। ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। আমি মানুষের সামনে এসব দৃষ্টান্ত এজন্য পেশ করছি, যাতে তারা নিজেদের করণীয় সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে।
هُوَ اللّٰهُ الَّذِیْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ عٰلِمُ الْغَیْبِ وَ الشَّهَادَةِ ۚ هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِیْمُ 22
22. তিনিই আল্লাহ। তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাই নেই। তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা। তিনি দয়াময়, তিনি মেহেরবান।
هُوَ اللّٰهُ الَّذِیْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ اَلْمَلِكُ الْقُدُّوْسُ السَّلٰمُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَیْمِنُ الْعَزِیْزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ ؕ سُبْحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا یُشْرِكُوْنَ 23
23. হ্যাঁ! তিনিই আল্লাহ। তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তিনিই অধিপতি, তিনিই পবিত্র, তিনিই শান্তিদাতা, তিনিই নিরাপত্তাদাতা, তিনিই হিফাযতকারী, তিনিই মহাপরাক্রমশালী, তিনিই প্রবল-পরাক্রান্ত, তিনিই মহামহিম। সুবহানাল্লহ! শরিককারীরা যা কিছু বলে বেড়াচ্ছে, আল্লাহ তা থেকে বড়ই পবিত্র।
هُوَ اللّٰهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْاَسْمَآءُ الْحُسْنٰی ؕ یُسَبِّحُ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ۚ وَ هُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ۠ 24
24. হ্যাঁ! তিনিই আল্লাহ, তিনিই সৃষ্টিকর্তা, তিনিই উদ্ভাবনকারী, তিনিই আকৃতি-প্রকৃতি দানকারী। তাঁর রয়েছে অসংখ্য সুন্দর সুন্দর নাম। মহাকাশ ও পৃথিবীর সবকিছুই তাঁর সপ্রশংস তস্বিহ পাঠ করছে। তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়।