60. আল মুমতাহানা

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوْا عَدُوِّیْ وَ عَدُوَّكُمْ اَوْلِیَآءَ تُلْقُوْنَ اِلَیْهِمْ بِالْمَوَدَّةِ وَ قَدْ كَفَرُوْا بِمَا جَآءَكُمْ مِّنَ الْحَقِّ ۚ یُخْرِجُوْنَ الرَّسُوْلَ وَ اِیَّاكُمْ اَنْ تُؤْمِنُوْا بِاللّٰهِ رَبِّكُمْ ؕ اِنْ كُنْتُمْ خَرَجْتُمْ جِهَادًا فِیْ سَبِیْلِیْ وَ ابْتِغَآءَ مَرْضَاتِیْ ۖۗ تُسِرُّوْنَ اِلَیْهِمْ بِالْمَوَدَّةِ ۖۗ وَ اَنَا اَعْلَمُ بِمَاۤ اَخْفَیْتُمْ وَ مَاۤ اَعْلَنْتُمْ ؕ وَ مَنْ یَّفْعَلْهُ مِنْكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَآءَ السَّبِیْلِ 1
1. হে ঈমানদারেরা, খবরদার! আমার ও তোমাদের যারা দুশমন, ওদেরকে কখনো বন্ধু বানাইও না। ওরা তোমাদের কাছে আসা সত্যবাণীকে প্রত্যাখ্যান করেছে এটা জেনেও কি তোমরা ওদের সাথে বন্ধুত্ব করবে? তোমরা কি ভুলে গেছো যে, একমাত্র আল্লাহর উপর ঈমান আনার অপরাধে ওরা তোমাদেরকে এবং খোদ্ রসুলকে পর্যন্ত দেশ ছাড়া করেছিলো? এখন তোমরা যদি সত্যিই আমার সন্তুষ্টি লাভের আশায় জিহাদে বের হয়ে থাকো, তবে কেন গোপনে ঐসব দুশমনের কাছে বন্ধুত্বমূলক পত্র পাঠাও? অথচ তোমরা যা গোপনে করো এবং যা প্রকাশ্যে করো আমি তা সবই জানি। মনে রেখো, তোমাদের মধ্যে কেউ ওদের সাথে বন্ধুত্ব রাখলে, সে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হয়ে পড়বে।
اِنْ یَّثْقَفُوْكُمْ یَكُوْنُوْا لَكُمْ اَعْدَآءً وَّ یَبْسُطُوْۤا اِلَیْكُمْ اَیْدِیَهُمْ وَ اَلْسِنَتَهُمْ بِالسُّوْٓءِ وَ وَدُّوْا لَوْ تَكْفُرُوْنَؕ 2
2. এসব দুশমনদের চরিত্র হলো, ওরা যদি একবার তোমাদের কাবু করতে পারে, তবে তোমাদের সাথে বন্ধুত্বের পরিবর্তে ভয়ানক শত্রুর মতো আচরণ করবে। তোমাদেরকে হাত ও মুখের দ্বারা জর্জরিত করে তুলবে। কারণ ওদের চাওয়া শুধু একটাই সত্যকে অস্বীকার করে তোমরা জাহিলিয়াতে ফিরে এসো।
لَنْ تَنْفَعَكُمْ اَرْحَامُكُمْ وَ لَاۤ اَوْلَادُكُمْ ۛۚ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ۛۚ یَفْصِلُ بَیْنَكُمْ ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ 3
3. মনে রেখো, কিয়ামতের দিন তোমাদের কোনো আত্মীয়-স্বজন, এমনকি সন্তান-সন্তুতি পর্যন্ত তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না। সেদিন আল্লাহ তোমাদের সকল সম্পর্কের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিবেন। বস্তুত তোমাদের সকল কাজকর্মই আল্লাহর পূর্ণ নজরদারিতে রয়েছে।
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِیْۤ اِبْرٰهِیْمَ وَ الَّذِیْنَ مَعَهٗ ۚ اِذْ قَالُوْا لِقَوْمِهِمْ اِنَّا بُرَءٰٓؤُا مِنْكُمْ وَ مِمَّا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ؗ كَفَرْنَا بِكُمْ وَ بَدَا بَیْنَنَا وَ بَیْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَ الْبَغْضَآءُ اَبَدًا حَتّٰی تُؤْمِنُوْا بِاللّٰهِ وَحْدَهٗۤ اِلَّا قَوْلَ اِبْرٰهِیْمَ لِاَبِیْهِ لَاَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ وَ مَاۤ اَمْلِكُ لَكَ مِنَ اللّٰهِ مِنْ شَیْءٍ ؕ رَبَّنَا عَلَیْكَ تَوَكَّلْنَا وَ اِلَیْكَ اَنَبْنَا وَ اِلَیْكَ الْمَصِیْرُ 4
4. হে ঈমানদারেরা, তোমাদের জন্য ইবরাহিম ও তাঁর সংঙ্গীদের জীবন ইতিহাসে রয়েছে উত্তম আদর্শ। এক সময় তারা তাদের মুশরিক কওমকে পরিষ্কার বলে দিলো, তোমাদের সাথে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যেসব ভ্রান্ত খোদার ইবাদত করো তাদের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের এসব শিরকি চিন্তা-বিশ্বাসকে সত্য বলে মানি না। ভালো করে শুনে রেখো, তোমরা যতক্ষণ না এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহকে সত্য বলে মেনে নেবে, ততক্ষণ তোমাদের সাথে আমাদের চরম বিদ্বেষ ও শত্রুতা চলতে থাকবে। শুধু এতটুকুই ব্যতিক্রম ছিলো যে, ইবরাহিম তার পিতাকে বলেছিলো, নিশ্চয়ই আমি তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবো। যদিও আমি জানি যে, তোমার জন্য আল্লাহর কাছ থেকে জোর করে কোনো কিছু আনার সাধ্য আমার নেই। ইবরাহিম সে সময় তার অনুসারীদের নিয়ে এভাবেই দোয়া করেছিলো, হে আমাদের রব, আমরা ওদের মোকাবেলায় তোমার উপর ভরসা করছি, তোমার কাছে নিজেদরকে সঁপে দিয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত তোমার কাছেই ফিরবো।
رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ اغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا ۚ اِنَّكَ اَنْتَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ 5
5. হে আমাদের রব, কাজেই তুমি আমাদেরকে সত্যের দুশমনদের নিপীড়নের শিকার করো না। আমাদের ক্ষমা করো। হে রব, নিশ্চয়ই তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِیْهِمْ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَنْ كَانَ یَرْجُوا اللّٰهَ وَ الْیَوْمَ الْاٰخِرَ ؕ وَ مَنْ یَّتَوَلَّ فَاِنَّ اللّٰهَ هُوَ الْغَنِیُّ الْحَمِیْدُ۠ 6
6. তোমরা যারা আল্লাহ ও আখেরাতের প্রত্যাশী তাদের জন্য ইবরাহিম ও তার সঙ্গী-সাথিদের মধ্যে অবশ্যই উত্তম অনুকরণীয় আদর্শ রয়েছে। তবে কেউ যদি এ সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে, তার জেনে রাখা উচিত, আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন; বরং তিনি সদা সপ্রশংসিত।
عَسَی اللّٰهُ اَنْ یَّجْعَلَ بَیْنَكُمْ وَ بَیْنَ الَّذِیْنَ عَادَیْتُمْ مِّنْهُمْ مَّوَدَّةً ؕ وَ اللّٰهُ قَدِیْرٌ ؕ وَ اللّٰهُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 7
7. হে ঈমানদারেরা, এটা মোটেই অসম্ভব নয় যে, আজ যাদের সাথে তোমরা শত্রুতার কারণে সম্পর্ক ছিন্ন করছো, কাল তাদের সাথে আল্লাহ পুনরায় বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দিবেন। আল্লাহ তো সবই করতে পারেন। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, অতীব মেহেরবান।
لَا یَنْهٰىكُمُ اللّٰهُ عَنِ الَّذِیْنَ لَمْ یُقَاتِلُوْكُمْ فِی الدِّیْنِ وَ لَمْ یُخْرِجُوْكُمْ مِّنْ دِیَارِكُمْ اَنْ تَبَرُّوْهُمْ وَ تُقْسِطُوْۤا اِلَیْهِمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الْمُقْسِطِیْنَ 8
8. হে ঈমানদারেরা, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয়নি এবং তোমাদেরকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদেও কোনো ভ‚মিকা রাখেনি, সেসব অবিশ্বাসীদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন এবং ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেননি। বস্তুত আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।
اِنَّمَا یَنْهٰىكُمُ اللّٰهُ عَنِ الَّذِیْنَ قٰتَلُوْكُمْ فِی الدِّیْنِ وَ اَخْرَجُوْكُمْ مِّنْ دِیَارِكُمْ وَ ظٰهَرُوْا عَلٰۤی اِخْرَاجِكُمْ اَنْ تَوَلَّوْهُمْ ۚ وَ مَنْ یَّتَوَلَّهُمْ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الظّٰلِمُوْنَ 9
9. আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে, তোমাদেরকে বসতভিটা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে বা তাড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছে। কাজেই তোমাদের মধ্যে কেউ ওদের সাথে বন্ধুত্ব করলে, সে অবশ্যই জালেম বলে গণ্য হবে।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِذَا جَآءَكُمُ الْمُؤْمِنٰتُ مُهٰجِرٰتٍ فَامْتَحِنُوْهُنَّ ؕ اَللّٰهُ اَعْلَمُ بِاِیْمَانِهِنَّ ۚ فَاِنْ عَلِمْتُمُوْهُنَّ مُؤْمِنٰتٍ فَلَا تَرْجِعُوْهُنَّ اِلَی الْكُفَّارِ ؕ لَا هُنَّ حِلٌّ لَّهُمْ وَ لَا هُمْ یَحِلُّوْنَ لَهُنَّ ؕ وَ اٰتُوْهُمْ مَّاۤ اَنْفَقُوْا ؕ وَ لَا جُنَاحَ عَلَیْكُمْ اَنْ تَنْكِحُوْهُنَّ اِذَاۤ اٰتَیْتُمُوْهُنَّ اُجُوْرَهُنَّ ؕ وَ لَا تُمْسِكُوْا بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ وَ سْـَٔلُوْا مَاۤ اَنْفَقْتُمْ وَ لْیَسْـَٔلُوْا مَاۤ اَنْفَقُوْا ؕ ذٰلِكُمْ حُكْمُ اللّٰهِ ؕ یَحْكُمُ بَیْنَكُمْ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ 10
10. হে ঈমানদারেরা, তোমাদের কাছে যদি ঈমানদার নারীরা হিজরত করে আসে, তবে প্রথমে তাদের ঈমানের সত্য-মিথ্যা যাচাই করে নেবে। যদিও তাদের ঈমানের প্রকৃত অবস্থা আল্লাহ ভালোই জানেন। পরে যদি তোমরা নিশ্চিত হও যে, তারা সত্যিই ঈমানের কারণেই হিজরত করে এসেছে, তবে আর কাফেরদের কাছে তাদের ফিরিয়ে দিও না। কেননা এখন থেকে তারা এবং তাদের কাফের স্বামীরা কেউ কারো জন্য হালাল নয়। তবে কাফের স্বামীরা তাদেরকে যে দেনমোহর দিয়েছিলো, তা তাদের ফেরত দিয়ে দাও। অতঃপর তোমাদের মধ্যকার কোনো ঈমানদার যদি দেনমোহর দিয়ে এসব নারীদের বিয়ে করে, তবে তাতে কোনো দোষ নেই। আর এখন থেকে ঈমানদার পুরুষেরাও কোনো কাফের স্ত্রীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক রাখবে না। তোমরা এসব কাফের স্ত্রীদের যে দেনমোহর দিয়েছিলে, তা ফেরত চেয়ে নাও। একইভাবে কাফেরেরাও তাদের ঈমানদার স্ত্রীদের যে দেনমোহর দিয়েছিলো, তাও যেন তারা ফেরত নিয়ে নেয়। তোমাদের জন্য আল্লাহর এটাই চূড়ান্ত ফয়সালা। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, মহাপ্রজ্ঞাময়।
وَ اِنْ فَاتَكُمْ شَیْءٌ مِّنْ اَزْوَاجِكُمْ اِلَی الْكُفَّارِ فَعَاقَبْتُمْ فَاٰتُوا الَّذِیْنَ ذَهَبَتْ اَزْوَاجُهُمْ مِّثْلَ مَاۤ اَنْفَقُوْا ؕ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ الَّذِیْۤ اَنْتُمْ بِهٖ مُؤْمِنُوْنَ 11
11. আর হ্যাঁ, তোমাদের কাফের স্ত্রীদের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ করার সময় যদি তাদেরকে দেয়া দেনমোহর ফেরত না পাও, তবে কাফেরদের থেকে প্রাপ্ত যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে ঐসব স্বামীদেরকে ঐ দেনমোহরের সমপরিমাণ সম্পদ প্রদান করবে। সুতরাং যে আল্লাহর উপর তোমরা ঈমান এনেছো, তাকে সর্বদা ভয় করে চলো।
یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ اِذَا جَآءَكَ الْمُؤْمِنٰتُ یُبَایِعْنَكَ عَلٰۤی اَنْ لَّا یُشْرِكْنَ بِاللّٰهِ شَیْـًٔا وَّ لَا یَسْرِقْنَ وَ لَا یَزْنِیْنَ وَ لَا یَقْتُلْنَ اَوْلَادَهُنَّ وَ لَا یَاْتِیْنَ بِبُهْتَانٍ یَّفْتَرِیْنَهٗ بَیْنَ اَیْدِیْهِنَّ وَ اَرْجُلِهِنَّ وَ لَا یَعْصِیْنَكَ فِیْ مَعْرُوْفٍ فَبَایِعْهُنَّ وَ اسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللّٰهَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 12
12. হে নবী, ঈমানদার নারীরা তোমার কাছে বায়াত নিতে এলে, এ শর্তের উপর বায়াত গ্রহণ করো যে, তারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচারে জড়াবে না, নিজেদের সন্তানদের কোনোভাবেই হত্যা করবে না, জেনে শুনে অন্যের নামে কোনো মিথ্যা অপবাদ রটাবে না এবং কোনো ভালো কাজে তোমার অবাধ্য হবে না। তারা এসব শর্ত মেনে বায়াতবদ্ধ হলে, তাদের ক্ষমা লাভের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করো। নিঃসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল, মেহেরবান।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَوَلَّوْا قَوْمًا غَضِبَ اللّٰهُ عَلَیْهِمْ قَدْ یَئِسُوْا مِنَ الْاٰخِرَةِ كَمَا یَئِسَ الْكُفَّارُ مِنْ اَصْحٰبِ الْقُبُوْرِ۠ 13
13. হে ঈমানদারেরা, খবরদার! আল্লাহর গযবে নিপতিত সম্প্রদায়ের সাথে তোমরা কোনো বন্ধুত্ব করো না। কেননা ওদের আখেরাতের জীবন বরবাদ হয়ে গেছে। যেমনটা হয়েছে কবরস্থ সত্য অস্বীকারকারীদের।