6. আল আনয়াম

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ وَ جَعَلَ الظُّلُمٰتِ وَ النُّوْرَ ؕ۬ ثُمَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِرَبِّهِمْ یَعْدِلُوْنَ 1
1. সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা কেবল আল্লাহর জন্যে। তিনিই মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। আলো ও অন্ধকার তৈরি করেছেন। তবুও কাফেরেরা অন্যদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করাচ্ছে।
هُوَ الَّذِیْ خَلَقَكُمْ مِّنْ طِیْنٍ ثُمَّ قَضٰۤی اَجَلًا ؕ وَ اَجَلٌ مُّسَمًّی عِنْدَهٗ ثُمَّ اَنْتُمْ تَمْتَرُوْنَ 2
2. মনে রেখো! তিনিই আল্লাহ, যিনি মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টির সূচনা করেছেন। এরপর তোমাদের দুনিয়ার জীবনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং আরেকটি সময়সীমা নির্ধারণ করে নিজের জ্ঞানে সীমাবদ্ধ করে রেখেছেন। আফসোস! তোমরা এরপরেও বেহুদা সন্দেহে পড়ে রয়েছো।
وَ هُوَ اللّٰهُ فِی السَّمٰوٰتِ وَ فِی الْاَرْضِ ؕ یَعْلَمُ سِرَّكُمْ وَ جَهْرَكُمْ وَ یَعْلَمُ مَا تَكْسِبُوْنَ 3
3. মহাকাশ ও পৃথিবীতে তিনিই আল্লাহ। তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য- সবকিছুই তিনি জানেন। এমনকি, তোমাদের ভাল-মন্দ উপার্জন সম্পর্কেও অবগত রয়েছেন।
وَ مَا تَاْتِیْهِمْ مِّنْ اٰیَةٍ مِّنْ اٰیٰتِ رَبِّهِمْ اِلَّا كَانُوْا عَنْهَا مُعْرِضِیْنَ 4
4. এসব কাফেরদের আচরণ দেখো! ওদের কাছে আমার যতগুলো নিদর্শন এসেছে, ওরা সবগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
فَقَدْ كَذَّبُوْا بِالْحَقِّ لَمَّا جَآءَهُمْ ؕ فَسَوْفَ یَاْتِیْهِمْ اَنْۢبٰٓؤُا مَا كَانُوْا بِهٖ یَسْتَهْزِءُوْنَ 5
5. হে নবী, এসব লোকেরা ওদের কাছে আসা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে চলছে। এ সত্যের প্রতি ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে যাচ্ছে। মনে রেখো, অচিরেই ওরা এসবের পরিণতি টের পাবে।
اَلَمْ یَرَوْا كَمْ اَهْلَكْنَا مِنْ قَبْلِهِمْ مِّنْ قَرْنٍ مَّكَّنّٰهُمْ فِی الْاَرْضِ مَا لَمْ نُمَكِّنْ لَّكُمْ وَ اَرْسَلْنَا السَّمَآءَ عَلَیْهِمْ مِّدْرَارًا ۪ وَّ جَعَلْنَا الْاَنْهٰرَ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمْ فَاَهْلَكْنٰهُمْ بِذُنُوْبِهِمْ وَ اَنْشَاْنَا مِنْۢ بَعْدِهِمْ قَرْنًا اٰخَرِیْنَ 6
6. আফসোস! ওরা কি দেখেনি যে, আমি ওদের আগে পৃথিবীর কতো দোর্দ প্রতাপশালী জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছি? পৃথিবীতে ওদেরকে এতো বেশি ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দিয়েছিলাম, যার তুলনায় তোমরা কিছুই না। ওদের জীবিকা উৎপাদনের জন্যে আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি দিয়েছিলাম এবং জমিনের উপরেও পর্যাপ্ত পানির স্রোতস্বিনী বইয়ে দিয়েছিলাম। এসব নেয়ামতের পরেও ওরা যখন পাপাচারে ডুবে গেলো, তখন ওদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছি। এরপর ওদের জায়গায় আবার নতুন জনগোষ্ঠী সৃষ্টি করেছি।
وَ لَوْ نَزَّلْنَا عَلَیْكَ كِتٰبًا فِیْ قِرْطَاسٍ فَلَمَسُوْهُ بِاَیْدِیْهِمْ لَقَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِنْ هٰذَاۤ اِلَّا سِحْرٌ مُّبِیْنٌ 7
7. হে নবী, আমি যদি তোমার কাছে কাগজে মুদ্রিত আকারেও এ কিতাব নাযিল করতাম এবং এসব কাফেরেরা তা হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখতো; তবুও বলতো, এসব আসলে যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়।
وَ قَالُوْا لَوْ لَاۤ اُنْزِلَ عَلَیْهِ مَلَكٌ ؕ وَ لَوْ اَنْزَلْنَا مَلَكًا لَّقُضِیَ الْاَمْرُ ثُمَّ لَا یُنْظَرُوْنَ 8
8. ওরা আবার যুক্তি দেখায়, তাহলে এ রসুলের সাথে একজন ফেরেশতা এলো না কেন? ওরা কি এটুকুও বুঝে না যে, ফেরেশতা এলে তো সব বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালাই হয়ে যেত। ফলে ওরা আর সামান্য অবকাশও পেতো না।
وَ لَوْ جَعَلْنٰهُ مَلَكًا لَّجَعَلْنٰهُ رَجُلًا وَّ لَلَبَسْنَا عَلَیْهِمْ مَّا یَلْبِسُوْنَ 9
9. আচ্ছা! ভেবে দেখো, ওদের কাছে যদি ফেরেশতা পাঠাতামও, সেও তো ওদের কাছে একজন মানুষের রূপ ধরেই আসতো। ফলে ওরা আজ যে সংশয়ে পড়ে আছে, তা থেকে তখনও কিন্তু মুক্তি পেতো না।
وَ لَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّنْ قَبْلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِیْنَ سَخِرُوْا مِنْهُمْ مَّا كَانُوْا بِهٖ یَسْتَهْزِءُوْنَ۠ 10
10. হে নবী, দুঃখ নিও না, তোমার আগেও বহু নবীর সাথে এভাবে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওরা যে বিষয়ে উপহাস করত, তাই ওদেরকে ঘিরে নিয়েছিল।
قُلْ سِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ ثُمَّ اَنْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِیْنَ 11
11. ওদের বলো, তোমরা দেশ-বিদেশে একটু ঘুরে দেখো, সত্য অস্বীকারকারীদের কী ভয়ানক পরিণতিই না ঘটেছিলো!
قُلْ لِّمَنْ مَّا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ قُلْ لِّلّٰهِ ؕ كَتَبَ عَلٰی نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ ؕ لَیَجْمَعَنَّكُمْ اِلٰی یَوْمِ الْقِیٰمَةِ لَا رَیْبَ فِیْهِ ؕ اَلَّذِیْنَ خَسِرُوْۤا اَنْفُسَهُمْ فَهُمْ لَا یُؤْمِنُوْنَ 12
12. ওদেরকে জিজ্ঞেস করো, মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, সেগুলো কার? তুমিই বলে দাও, সবই একমাত্র আল্লাহর। আর তিনি তাঁর এ সৃষ্টির প্রতি দয়া-অনুগ্রহ করার নীতি নিজের জন্য লিখে নিয়েছেন। সন্দেহ নেই, কেয়ামতের দিন তিনি তোমাদের সবাইকে একত্র করবেন। একমাত্র অবিশ্বাসীরাই এ ব্যাপারে নিজেদেরকে ক্ষতির মধ্যে ফেলে রেখেছে।
وَ لَهٗ مَا سَكَنَ فِی الَّیْلِ وَ النَّهَارِ ؕ وَ هُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ 13
13. জেনে রেখো, রাতের আঁধারে কিংবা দিনের আলোয় যা কিছু বিরাজ করে, তা সবই আল্লাহর। বস্তুত তিনি সব শোনেন, সব জানেন।
قُلْ اَغَیْرَ اللّٰهِ اَتَّخِذُ وَلِیًّا فَاطِرِ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ هُوَ یُطْعِمُ وَ لَا یُطْعَمُ ؕ قُلْ اِنِّیْۤ اُمِرْتُ اَنْ اَكُوْنَ اَوَّلَ مَنْ اَسْلَمَ وَ لَا تَكُوْنَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ 14
14. তুমি ঘোষণা করো, আমি আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে কিভাবে আমার অভিভাবক বানাই, যখন তিনিই এ মহাকাশ ও পৃথিবীর একমাত্র স্রষ্টা এবং তিনিই আমাদেরকে খাওয়ান; অথচ তাঁকে খাওয়ানোরা সাধ্য কারো নেই? হে নবী, লোকদের বলে দাও, আমাকে আল্লাহ হুকুম দিয়েছেন, আমি যেনো সবার আগে তাঁর প্রতি অনুগত হই। আরো বলেছেন, তুমি কখনোই মুশরিকদের দলে থেকো না।
قُلْ اِنِّیْۤ اَخَافُ اِنْ عَصَیْتُ رَبِّیْ عَذَابَ یَوْمٍ عَظِیْمٍ 15
15. নবী হে, বলো, আমি সেই ভয়ানক দিনের শাস্তিকে ভয় করি। যদি আমি আল্লাহর অবাধ্য হই; তবে আমাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
مَنْ یُّصْرَفْ عَنْهُ یَوْمَىِٕذٍ فَقَدْ رَحِمَهٗ ؕ وَ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْمُبِیْنُ 16
16. আসলে সেদিন যাকে শাস্তি থেকে রেহাই দেওয়া হবে, বুঝতে হবে, তার প্রতি আল্লাহ বড়ই রহম করলেন। এটি তার জীবনের সুস্পষ্ট সাফল্য।
وَ اِنْ یَّمْسَسْكَ اللّٰهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهٗۤ اِلَّا هُوَ ؕ وَ اِنْ یَّمْسَسْكَ بِخَیْرٍ فَهُوَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ 17
17. জেনে রেখো, আল্লাহ তোমায় কোনো ধরনের দুঃখ-কষ্টে ফেলে রাখলে, কেউ তোমায় উদ্ধার করতে পারবে না। শুধু তিনিই তোমাকে বাঁচাতে পারেন। আর তিনি তোমাকে কল্যাণ দিতে চাইলে, তাও কেউ ঠেকাতে পারবে না। কেননা সব কিছুর উপর সর্বময় ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই।
وَ هُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهٖ ؕ وَهُوَ الْحَكِیْمُ الْخَبِیْرُ 18
18. আর তিনি তাঁর বান্দাদের উপর পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন। বস্তুত তিনি সবকিছু বোঝেন, সব খবর রাখেন।
قُلْ اَیُّ شَیْءٍ اَكْبَرُ شَهَادَةً ؕ قُلِ اللّٰهُ ۙ۫ شَهِیْدٌۢ بَیْنِیْ وَ بَیْنَكُمْ ۫ وَ اُوْحِیَ اِلَیَّ هٰذَا الْقُرْاٰنُ لِاُنْذِرَكُمْ بِهٖ وَ مَنْۢ بَلَغَ ؕ اَىِٕنَّكُمْ لَتَشْهَدُوْنَ اَنَّ مَعَ اللّٰهِ اٰلِهَةً اُخْرٰی ؕ قُلْ لَّاۤ اَشْهَدُ ۚ قُلْ اِنَّمَا هُوَ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ وَّ اِنَّنِیْ بَرِیْٓءٌ مِّمَّا تُشْرِكُوْنَۘ 19
19. তুমি ওদের বলো, কার সাক্ষ্য সবচেয়ে বড়? তুমিই বলে দাও, আল্লাহর। কাজেই আমার ও তোমাদের মধ্যে আল্লাহই সাক্ষ্য দিবেন। ওদেরকে আরো বলো, তোমাদেরকে এবং তোমাদের অনাগত প্রজন্মকে সত্য সম্পর্কে সতর্ক করতেই আল্লাহ এ কুরআনকে আমায় অহির মাধ্যমে দিয়েছেন। আচ্ছা! তোমরা কি এখনও এ সাক্ষ্য দিচ্ছো যে, আল্লাহর সাথে অন্য আরো ইলাহ রয়েছে? তবে শুনে রেখো, আমি কখনোই এমন সাক্ষ্য দেই না; বরং আমি স্পষ্ট ভাষায় বলি, কেবল আল্লাহই একমাত্র ইলাহ এবং এ ব্যাপারে আমি তোমাদের মতো শিরক করি না।
اَلَّذِیْنَ اٰتَیْنٰهُمُ الْكِتٰبَ یَعْرِفُوْنَهٗ كَمَا یَعْرِفُوْنَ اَبْنَآءَهُمْ ۘ اَلَّذِیْنَ خَسِرُوْۤا اَنْفُسَهُمْ فَهُمْ لَا یُؤْمِنُوْنَ۠ 20
20. আসলে এসব কিতাবওয়ালারা আমার এ রসুলকে ঠিক সেভাবে সত্যবলে চিনে, যেভাবে আপন সন্তানদেরকে চিনে। কাজেই যারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনে, কেবল তারাই এ সত্যকে স্বীকার করে না।
وَ مَنْ اَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا اَوْ كَذَّبَ بِاٰیٰتِهٖ ؕ اِنَّهٗ لَا یُفْلِحُ الظّٰلِمُوْنَ 21
21. তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর নামে মিথ্যা রচনা করে কিংবা তাঁর আয়াতগুলোকে বারবার মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে? ওরা জেনে রাখুক, জালেমেরা কোনোদিনই সফল হবে না।
وَ یَوْمَ نَحْشُرُهُمْ جَمِیْعًا ثُمَّ نَقُوْلُ لِلَّذِیْنَ اَشْرَكُوْۤا اَیْنَ شُرَكَآؤُكُمُ الَّذِیْنَ كُنْتُمْ تَزْعُمُوْنَ 22
22. আর কেয়ামতের দিন অবশ্যই আমি ওদের সবাইকে জমায়েত করবো। এরপর মুশরিকদের ডেকে ডেকে জিজ্ঞেস করবো, আজ কোথায় তোমাদের সেই সব খোদারা, যাদেরকে আমার অংশীদার মনে করতে?
ثُمَّ لَمْ تَكُنْ فِتْنَتُهُمْ اِلَّاۤ اَنْ قَالُوْا وَ اللّٰهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِیْنَ 23
23. সেদিন ওরা কোনো অজুহাতই পেশ করতে পারবে না। শুধু মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বলবে, আল্লাহর শপথ! হে আমাদের রব, আমরা তো মুশরিক ছিলাম না।
اُنْظُرْ كَیْفَ كَذَبُوْا عَلٰۤی اَنْفُسِهِمْ وَ ضَلَّ عَنْهُمْ مَّا كَانُوْا یَفْتَرُوْنَ 24
24. দেখো! ওরা সেদিনও কিভাবে অবলীলায় নিজেদের সম্পর্কে মিথ্যা বলে যাচ্ছে। আরও দেখো, ওদের সব মিথ্যা-বানোয়াট খোদারা কিভাবে ওদের থেকে হারিয়ে গেলো।
وَ مِنْهُمْ مَّنْ یَّسْتَمِعُ اِلَیْكَ ۚ وَ جَعَلْنَا عَلٰی قُلُوْبِهِمْ اَكِنَّةً اَنْ یَّفْقَهُوْهُ وَ فِیْۤ اٰذَانِهِمْ وَقْرًا ؕ وَ اِنْ یَّرَوْا كُلَّ اٰیَةٍ لَّا یُؤْمِنُوْا بِهَا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوْكَ یُجَادِلُوْنَكَ یَقُوْلُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِنْ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیْرُ الْاَوَّلِیْنَ 25
25. হে নবী, এসব কাফেরদের মধ্যে এমন অনেক লোক রয়েছে, যারা তোমার কথা কান পেতে শোনে; অথচ আমি ওদের অন্তরের উপর আবরণ ফেলে রেখেছি এবং ওদের কানের উপর পর্দা লাগিয়ে দিয়েছি। ফলে ওরা তোমার কথার কিছুই বুঝতে পারছে না। ওদের অবস্থা এতদূর গড়িয়েছে যে, ওরা নিজ চোখে যতোই নিদর্শন-প্রমাণ দেখুক না কেন, কখনই ঈমান আনবে না। এমনকি ওরা এসব নিয়ে তোমার সাথে বিতর্কে জড়াচ্ছে। বিতর্কে শেষপর্যন্ত কাফেরেরা এ কথা বলে যে, এসব পুরনো দিনের কিচ্ছা-কাহিনী।
وَهُمْ یَنْهَوْنَ عَنْهُ وَیَنْـَٔوْنَ عَنْهُ ۚ وَاِنْ یُّهْلِكُوْنَ اِلَّاۤ اَنْفُسَهُمْ وَمَا یَشْعُرُوْنَ 26
26. ওরা যেমন নিজেরা এ সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকছে, তেমনি অন্যান্য লোকদেরকেও এ সত্য গ্রহণে বাধা দিচ্ছে। পরিণামে ওরা নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনছে; যদিও তা টের পাচ্ছে না।
وَ لَوْ تَرٰۤی اِذْ وُقِفُوْا عَلَی النَّارِ فَقَالُوْا یٰلَیْتَنَا نُرَدُّ وَ لَا نُكَذِّبَ بِاٰیٰتِ رَبِّنَا وَ نَكُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ 27
27. হে নবী, যদি তুমি সেই দৃশ্য দেখতে, যখন এ কাফেরদের জাহান্নামের কিনারায় দাঁড় করানো হবে, তখন ওরা আফসোস করে বলবে, হায়! যদি আমাদেরকে আরেকবার দুনিয়ায় ফেরত পাঠানো হতো, তবে আমরা কখনোই আমাদের রবের আয়াতগুলোকে মিথ্যারোপ করতাম না; বরং আমরা নিশ্চিতভাবে মুমিনদের দলে শামিল হয়ে যেতাম।
بَلْ بَدَا لَهُمْ مَّا كَانُوْا یُخْفُوْنَ مِنْ قَبْلُ ؕ وَ لَوْ رُدُّوْا لَعَادُوْا لِمَا نُهُوْا عَنْهُ وَ اِنَّهُمْ لَكٰذِبُوْنَ 28
28. এতকাল ওরা যা গোপন রেখেছিলো, আজ তা প্রকাশ পেয়ে গেছে তাই এখন এসব ভালো-ভালো কথা বলছে। বাস্তবে ওরা মিথ্যাবাদী। ওদেরকে দুনিয়ায় আরেকবার পাঠালে সেই একই অন্যায় করে আসবে, যা করতে নিষেধ করা হয়েছিল।
وَ قَالُوْۤا اِنْ هِیَ اِلَّا حَیَاتُنَا الدُّنْیَا وَ مَا نَحْنُ بِمَبْعُوْثِیْنَ 29
29. ওরাতো এখন বলে বেড়াচ্ছে, দুনিয়ার জীবনই আমাদের একমাত্র জীবন। একবার মরে গেলে আমরা আর জীবিত হবো না।
وَ لَوْ تَرٰۤی اِذْ وُقِفُوْا عَلٰی رَبِّهِمْ ؕ قَالَ اَلَیْسَ هٰذَا بِالْحَقِّ ؕ قَالُوْا بَلٰی وَ رَبِّنَا ؕ قَالَ فَذُوْقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُوْنَ۠ 30
30. হায় আফসোস! তুমি যদি সে কঠিন দৃশ্য দেখতে পেতে, যখন ওদের সবাইকে ওদের রবের সামনে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে, আজকের এ পুনরুত্থান জীবন কি সত্য নয়? ওরা সেদিন বলতে বাধ্য হবে, হ্যাঁ, আমাদের রবের শপথ, আজকের এ সবকিছুই সত্য। এরপর আল্লাহ বলবেন, আচ্ছা! যদি সত্যই হয়, তবে তোমরা যে দুনিয়ায় যে কুফুরি করেছো, তার শাস্তি ভোগ করো।
قَدْ خَسِرَ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِلِقَآءِ اللّٰهِ ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءَتْهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً قَالُوْا یٰحَسْرَتَنَا عَلٰی مَا فَرَّطْنَا فِیْهَا ۙ وَ هُمْ یَحْمِلُوْنَ اَوْزَارَهُمْ عَلٰی ظُهُوْرِهِمْ ؕ اَلَا سَآءَ مَا یَزِرُوْنَ 31
31. আল্লাহর সামনে একদিন দাঁড়াতে হবেÑ যারা এ কথাকে মিথ্যা বলছে, ওরা ভয়ানক ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। কেননা হঠাৎ যখন সেই মুহূর্তটি ওদের সামনে এসে যাবে, তখন আফসোস করে বলবে, হায়! আমরাতো সত্যিই এ সম্পর্কে উদাসীন ছিলাম। হায়! সেদিন ওরা নিজেরাই নিজেদের পাপের বোঝা পিঠে বয়ে হাজির হবে। আফসোস! ওরা কতোই না খারাপ বোঝা বহন করছে!
وَ مَا الْحَیٰوةُ الدُّنْیَاۤ اِلَّا لَعِبٌ وَّ لَهْوٌ ؕ وَ لَلدَّارُ الْاٰخِرَةُ خَیْرٌ لِّلَّذِیْنَ یَتَّقُوْنَ ؕ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ 32
32. আসলে দুনিয়ার জীবন এক খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। বস্তুত যারা আসল ক্ষতি থেকে বাঁচতে চায়, তাদের জন্যে পরকালের আবাসই সর্বোত্তম। এরপরেও কি তোমরা বিবেক-বুদ্ধি খাটিয়ে চলবে না?
قَدْ نَعْلَمُ اِنَّهٗ لَیَحْزُنُكَ الَّذِیْ یَقُوْلُوْنَ فَاِنَّهُمْ لَا یُكَذِّبُوْنَكَ وَ لٰكِنَّ الظّٰلِمِیْنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ یَجْحَدُوْنَ 33
33. হে নবী, আমি ভালো করেই জানি, ওদের এসব কথাবার্তায় তুমি মারাত্মকভাবে কষ্ট পাও। শোনো, এ জালেমেরা তোমাকে ব্যক্তিগত কারণে মিথ্যারোপ করছে না; বরং তোমার কাছে আসা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মানতে চাইছে না বলেই এমনটা করছে।
وَ لَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِّنْ قَبْلِكَ فَصَبَرُوْا عَلٰی مَا كُذِّبُوْا وَ اُوْذُوْا حَتّٰۤی اَتٰىهُمْ نَصْرُنَا ۚ وَ لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمٰتِ اللّٰهِ ۚ وَ لَقَدْ جَآءَكَ مِنْ نَّبَاِی الْمُرْسَلِیْنَ 34
34. বাস্তবে, তোমার পূর্বের বহু রসুলের প্রতিও তাদের লোকেরা মিথ্যারোপ করেছে। তারা প্রচণ্ড ধৈর্যের সাথে ওদের মিথ্যাচারকে মোকাবেলা করেছে। এমনকি ওদের দেওয়া নানা দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেছে। অবশেষে তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছেছে। মনে রেখো, তুমি আল্লাহর এ নীতির পরিবর্তন দেখবে না। হে নবী, ইতোমধ্যে তোমাকে এ ব্যাপারে বহু রসুলের জীবন-সংগ্রামের কাহিনী শুনিয়েছি।
وَ اِنْ كَانَ كَبُرَ عَلَیْكَ اِعْرَاضُهُمْ فَاِنِ اسْتَطَعْتَ اَنْ تَبْتَغِیَ نَفَقًا فِی الْاَرْضِ اَوْ سُلَّمًا فِی السَّمَآءِ فَتَاْتِیَهُمْ بِاٰیَةٍ ؕ وَ لَوْ شَآءَ اللّٰهُ لَجَمَعَهُمْ عَلَی الْهُدٰی فَلَا تَكُوْنَنَّ مِنَ الْجٰهِلِیْنَ 35
35. হে নবী, এসব কিছু জানার পরেও যদি সত্যের দাওয়াতের প্রতি ওদের উপেক্ষা ও অনাগ্রহ তোমার কাছে অসহনীয় হয়ে উঠে, তবে পারলে নিজেই ওদের সামনে বিরাট নিদর্শন হাজির করে দেখাও। তোমার শক্তি থাকলে এ কাজে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে মাটির নিচে চলে যাও কিংবা সিঁড়ি লাগিয়ে আকাশে উঠে যাও। আসলে তোমার এ কথা মনে রাখা উচিত, আল্লাহ চাইলে ওদের সবাইকে সত্যের পথে একসাথে চালাতে পারতেন। কাজেই নিজেকে মূর্খ প্রমাণ করো না।
اِنَّمَا یَسْتَجِیْبُ الَّذِیْنَ یَسْمَعُوْنَ ؔؕ وَ الْمَوْتٰی یَبْعَثُهُمُ اللّٰهُ ثُمَّ اِلَیْهِ یُرْجَعُوْنَؔ 36
36. মূলত কেবল সেসব লোক তোমার দাওয়াতে সাড়া দেবে, যারা সত্যিকারার্থে শুনতে পায়। যারা মরে আছে ওদের তুমি কিভাবে শুনাবে? বরং আল্লাহ ওদেরকে পুনর্জীবিত করে হিসাব নিকাশের জন্যে তাঁর কাছে ফিরিয়ে নিবেন।
وَ قَالُوْا لَوْ لَا نُزِّلَ عَلَیْهِ اٰیَةٌ مِّنْ رَّبِّهٖ ؕ قُلْ اِنَّ اللّٰهَ قَادِرٌ عَلٰۤی اَنْ یُّنَزِّلَ اٰیَةً وَّ لٰكِنَّ اَكْثَرَهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ 37
37. ওরা বলে, ইনি যদি সত্যিই নবী হবেন, তবে তার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান নিদর্শন এলো না কেন? হে নবী, ওদের বলে দাও, আল্লাহ চাইলে সেসব নিদর্শন নাযিল করতে পারেন। আফসোস! ওদের অধিকাংশই এ বিষয়টা জানে না।
وَ مَا مِنْ دَآبَّةٍ فِی الْاَرْضِ وَ لَا طٰٓىِٕرٍ یَّطِیْرُ بِجَنَاحَیْهِ اِلَّاۤ اُمَمٌ اَمْثَالُكُمْ ؕ مَا فَرَّطْنَا فِی الْكِتٰبِ مِنْ شَیْءٍ ثُمَّ اِلٰی رَبِّهِمْ یُحْشَرُوْنَ 38
38. তোমাদের জেনে রাখা উচিত, জমিনে বিচারণশীল প্রতিটি প্রাণী এবং আকাশে ডানা মেলে উড়ে চলা প্রতিটি পাখি, তোমাদের মতো একেকটি প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। এসব সৃষ্টির ভাগ্যলিপি ঠিকঠাকভাবে লিখে রাখতে আমি কোনো ত্রæটি করিনি। শেষ পর্যন্ত এদের সবাইকে তাদের রবের কাছে জমায়েত হতে হবে।
وَ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا صُمٌّ وَّ بُكْمٌ فِی الظُّلُمٰتِ ؕ مَنْ یَّشَاِ اللّٰهُ یُضْلِلْهُ ؕ وَ مَنْ یَّشَاْ یَجْعَلْهُ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ 39
39. যারা আমার আয়াতগুলোকে মিথ্যা বলে যাচ্ছে, ওরা বধির ও বোবা ছাড়া আর কিছুই নয়। ওরা অন্ধকারেই পড়ে আছে। বস্তুত আল্লাহ যাকে চান গোমরাহ করে দেন, আবার যাকে চান সত্য-সরল পথে পরিচালিত করেন।
قُلْ اَرَءَیْتَكُمْ اِنْ اَتٰىكُمْ عَذَابُ اللّٰهِ اَوْ اَتَتْكُمُ السَّاعَةُ اَغَیْرَ اللّٰهِ تَدْعُوْنَ ۚ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ 40
40. হে নবী, ওদের জিজ্ঞেস করো, আচ্ছা! যদি তোমাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে ভয়ঙ্কর কোনো আযাব আপোতিত হয় কিংবা হঠাৎ কেয়ামত শুরু হয়ে যায়, তবে তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তখন অন্য আর কাকে ডাকবে? সত্যবাদী হয়ে থাকলে, এ কথার সত্যি সত্যি জবাব দাও।
بَلْ اِیَّاهُ تَدْعُوْنَ فَیَكْشِفُ مَا تَدْعُوْنَ اِلَیْهِ اِنْ شَآءَ وَتَنْسَوْنَ مَا تُشْرِكُوْنَ۠ 41
41. কিন্তু না, আসলে তখন তোমরা কেবল আল্লাহকেই ডাকবে। তখন তিনি চাইলে তোমাদেরকে সে বিপদ থেকে বাঁচাবেন। আর তোমরা সে সময় আল্লাহর সাথে শরিক করা কল্পিত খোদাদের কথা বেমালুম ভুলে যাবে।
وَ لَقَدْ اَرْسَلْنَاۤ اِلٰۤی اُمَمٍ مِّنْ قَبْلِكَ فَاَخَذْنٰهُمْ بِالْبَاْسَآءِ وَ الضَّرَّآءِ لَعَلَّهُمْ یَتَضَرَّعُوْنَ 42
42. হে নবী, তোমার পূর্বের অনেক জাতির ইতিহাস শোনো। ওদের কাছে আমি রসুল পাঠিয়েছি। ওদের উপর নানাভাবে অভাব-অনটন ও দুঃখ-কষ্ট দিয়েছি। আশা ছিলো, এভাবে ওরা আমার প্রতি বিনীত-অবনত থাকবে।
فَلَوْ لَاۤ اِذْ جَآءَهُمْ بَاْسُنَا تَضَرَّعُوْا وَ لٰكِنْ قَسَتْ قُلُوْبُهُمْ وَ زَیَّنَ لَهُمُ الشَّیْطٰنُ مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 43
43. কিন্তু না, ওদের প্রতি আমার এতসব কঠোরতার পরেও ওরা বিনীত-অবনত হলো না। তুমি কি জানো, কেন হয়নি? আসলে ওদের অন্তর খুব শক্ত হয়ে গিয়েছিলো। পাশাপাশি শয়তান ওদেরকে বলতো, তোমরা যা কিছু করছো, তা খুবই চমৎকার ও যথার্থ।
فَلَمَّا نَسُوْا مَا ذُكِّرُوْا بِهٖ فَتَحْنَا عَلَیْهِمْ اَبْوَابَ كُلِّ شَیْءٍ ؕ حَتّٰۤی اِذَا فَرِحُوْا بِمَاۤ اُوْتُوْۤا اَخَذْنٰهُمْ بَغْتَةً فَاِذَا هُمْ مُّبْلِسُوْنَ 44
44. এভাবে একসময় ওরা আমার সব আদেশ-উপদেশ বেমালুম ভুলে গেলো। এরপরই আমি ওদের জন্য দুনিয়ায় সমৃদ্ধি ও বিলাসিতার সব দরজা খুলে দিলাম। শেষ পর্যন্ত ওরা যখন এসব ভোগ বিলাসে মত্ত হয়ে পড়লো, তখন হঠাৎ ওদেরকে পাকড়াও করলাম। হায়! ওরা তখন প্রচণ্ডভাবে হতাশ হয়ে গেলো।
فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا ؕ وَ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ 45
45. এভাবেই আমি জালেমদেরকে শিকড়সহ উপড়ে ফেলি। কাজেই এ মহাবিশ্বের রব মহান আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা।
قُلْ اَرَءَیْتُمْ اِنْ اَخَذَ اللّٰهُ سَمْعَكُمْ وَ اَبْصَارَكُمْ وَ خَتَمَ عَلٰی قُلُوْبِكُمْ مَّنْ اِلٰهٌ غَیْرُ اللّٰهِ یَاْتِیْكُمْ بِهٖ ؕ اُنْظُرْ كَیْفَ نُصَرِّفُ الْاٰیٰتِ ثُمَّ هُمْ یَصْدِفُوْنَ 46
46. হে নবী, তুমি এসব নাফরমানদের জিজ্ঞেস করো, তোমরা কি কখনো ভেবে দেখেছো, যদি আল্লাহ তোমাদের শোনার ও দেখার সক্ষমতা কেড়ে নেন এবং তোমাদের অন্তরে সীলমোহর এটে দেন, তবে তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন্ ইলাহ রয়েছে, যে এগুলো তোমাদের ফিরিয়ে দিতে পারে? দেখো, আমি ওদেরকে বুঝানোর জন্যে আমার আয়াতগুলোকে কতো সহজ ও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করছি। আফসোস! এরপরেও ওরা মুখ ফিরিয়ে আছে।
قُلْ اَرَءَیْتَكُمْ اِنْ اَتٰىكُمْ عَذَابُ اللّٰهِ بَغْتَةً اَوْ جَهْرَةً هَلْ یُهْلَكُ اِلَّا الْقَوْمُ الظّٰلِمُوْنَ 47
47. ওদের আরো জিজ্ঞেস করো, আচ্ছা! তোমরা একটু ভেবে-চিন্তে বলোতো, যদি তোমাদের উপর আল্লাহর আযাব হঠাৎ এসে পড়ে কিংবা দিন-দুপুরে তা এসে হাজির হয়, তবে জালেম লোক ছাড়া আর কেউ কি সে আযাবে ধ্বংস হবে?
وَ مَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِیْنَ اِلَّا مُبَشِّرِیْنَ وَ مُنْذِرِیْنَ ۚ فَمَنْ اٰمَنَ وَ اَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَ لَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ 48
48. কজেই লোকদের জেনে রাখা উচিত, আমার পাঠানো রসুলদের দায়িত্ব কেবল লোকদের ভালো কাজে সুসংবাদ দেওয়া এবং মন্দ কাজে সতর্ক করা। অতএব যারা তাদের কথায় ঈমান আনবে এবং আপন কাজকর্ম সংশোধন করে নেবে, ভবিষ্যতের ব্যাপারে তাদের কোনো ভয় নেই এবং দুঃখ-দুর্দশারও কোনো শঙ্কা নেই।
وَ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا یَمَسُّهُمُ الْعَذَابُ بِمَا كَانُوْا یَفْسُقُوْنَ 49
49. তবে সাবধান! যারা আমার বিধি-বিধান অমান্য করে চলবে, নাফরমানীর বিনিময় হিসেবে আমার ভয়ানক শাস্তি ওদেরকে পাকড়াও করবেই।
قُلْ لَّاۤ اَقُوْلُ لَكُمْ عِنْدِیْ خَزَآىِٕنُ اللّٰهِ وَ لَاۤ اَعْلَمُ الْغَیْبَ وَ لَاۤ اَقُوْلُ لَكُمْ اِنِّیْ مَلَكٌ ۚ اِنْ اَتَّبِعُ اِلَّا مَا یُوْحٰۤی اِلَیَّ ؕ قُلْ هَلْ یَسْتَوِی الْاَعْمٰی وَ الْبَصِیْرُ ؕ اَفَلَا تَتَفَكَّرُوْنَ۠ 50
50. হে নবী, তুমি ওদের বলো, আমি তোমাদের কখনোই একথা বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধনভান্ডার রয়েছে কিংবা আমি অদৃশ্যের সব খবরাখবর জানি। অথবা আমি তোমাদের একথাও বলি না যে, আমি ফেরেশতা; বরং আমিতো কেবল আমার প্রতি নাযিল হওয়া অহির অনুসরণ করে চলছি মাত্র। হে নবী, ওদের জিজ্ঞেস করো, যে দেখতে পায় আর যে পায় না তারা উভয় কি কখনও সমান হতে পারে? হায়! তোমরা কি সত্যের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করবে না?
وَ اَنْذِرْ بِهِ الَّذِیْنَ یَخَافُوْنَ اَنْ یُّحْشَرُوْۤا اِلٰی رَبِّهِمْ لَیْسَ لَهُمْ مِّنْ دُوْنِهٖ وَلِیٌّ وَّ لَا شَفِیْعٌ لَّعَلَّهُمْ یَتَّقُوْنَ 51
51. হে নবী, এ অহি দ্বারা সেসব লোকদের সতর্ক করো, যারা নিজেদের রবের কাছে একদিন হাজির হতে হবে- এ ভয়ে শঙ্কিত থাকে। তারা ভালোকরেই জানে যে, সেদিন আল্লাহ ছাড়া কোনো অভিভাবক কিংবা সুপারিশকারী থাকবে না। আশা করা যায়, সেদিনের বিপদ থেকে বাঁচার জন্যে তারা সতর্ক হবে।
وَ لَا تَطْرُدِ الَّذِیْنَ یَدْعُوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَدٰوةِ وَ الْعَشِیِّ یُرِیْدُوْنَ وَجْهَهٗ ؕ مَا عَلَیْكَ مِنْ حِسَابِهِمْ مِّنْ شَیْءٍ وَّ مَا مِنْ حِسَابِكَ عَلَیْهِمْ مِّنْ شَیْءٍ فَتَطْرُدَهُمْ فَتَكُوْنَ مِنَ الظّٰلِمِیْنَ 52
52. হে নবী, খবরদার! যারা আপন রবের সন্তুষ্টি লাভের জন্যে সকাল-সন্ধ্যা তাঁকে ডেকে চলছে, তাদেরকে তোমার কাছ থেকে সামান্য দূরে সরিয়ে দেওয়ার চিন্তাও করো না। মনে রেখো, তাদের কাজকর্মের জন্যে তোমাকে জবাবদিহি করতে হবে না। একইভাবে তারাও তোমার কাজকর্মের দায় নেবে না। সুতরাং কখনোই তাদেরকে তাড়িয়ে দিও না। অন্যথায় তুমি জালেমদের দলে গণ্য হবে।
وَ كَذٰلِكَ فَتَنَّا بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لِّیَقُوْلُوْۤا اَهٰۤؤُلَآءِ مَنَّ اللّٰهُ عَلَیْهِمْ مِّنْۢ بَیْنِنَا ؕ اَلَیْسَ اللّٰهُ بِاَعْلَمَ بِالشّٰكِرِیْنَ 53
53. আসলে এভাবে আমি তাদের এক দলকে আরেক দলের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করছিলাম। এসব নাফরমানেরা তাচ্ছিল্যের সুরে বলে, আল্লাহ কি তাঁর অনুগ্রহ দেওয়ার জন্যে আমাদের মধ্যে কেবল ওদের মতো লোকদেরকেই খুঁজে পেলেন? ওদেরকে জিজ্ঞেস করো, কারা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয়েছে আর কারা হয়নি তা কি আল্লাহ অধিক জানেন না?
وَ اِذَا جَآءَكَ الَّذِیْنَ یُؤْمِنُوْنَ بِاٰیٰتِنَا فَقُلْ سَلٰمٌ عَلَیْكُمْ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلٰی نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ ۙ اَنَّهٗ مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ سُوْٓءًۢا بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابَ مِنْۢ بَعْدِهٖ وَ اَصْلَحَ فَاَنَّهٗ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 54
54. অতএব হে নবী, তোমার কাছে যদি আমার আয়াতের প্রতি বিশ্বাসী ঈমানদারেরা আসে, তবে তাদের অভিবাদন জানাতে বলো, সালামুন আলাইকুম তোমাদের প্রতি শান্তি ও নিরাপত্তা হোক। তাদেরকে আরো জানিয়ে দাও, তোমাদের রব নিজের জন্য দয়ার নীতি ঠিক করে নিয়েছেন। অতএব তোমাদের কেউ অজ্ঞতাবশত কোনো খারাপ কাজে জড়ালে, তবে তওবা করে সত্য-সঠিক পথে ফিরে আসলে, সে অবশ্যই ক্ষমা লাভ করবে। তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই মেহেরবান।
وَ كَذٰلِكَ نُفَصِّلُ الْاٰیٰتِ وَ لِتَسْتَبِیْنَ سَبِیْلُ الْمُجْرِمِیْنَ۠ 55
55. আর এভাবেই আমি আমার আয়াতগুলোকে খুলে খুলে বর্ণনা করছি এবং এর মাধ্যমে তোমাদের সামনে পাপিষ্ঠ-অপরাধীদের পথঘাট স্পষ্ট করে দিচ্ছি।
قُلْ اِنِّیْ نُهِیْتُ اَنْ اَعْبُدَ الَّذِیْنَ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ؕ قُلْ لَّاۤ اَتَّبِعُ اَهْوَآءَكُمْ ۙ قَدْ ضَلَلْتُ اِذًا وَّ مَاۤ اَنَا مِنَ الْمُهْتَدِیْنَ 56
56. হে নবী, তুমি এসব শরিককারীদের বলো, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য যেসব ইলাহকে ডেকে যাচ্ছো, তাদের ইবাদত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। তুমি আরো বলো, আমি তোমাদের খেয়াল-খুশিরও অনুসরণ করি না। এমনটা করলে আমি স্পষ্টত বিপথগামী হবো। ফলে সত্যপন্থীদের দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে পড়বো।
قُلْ اِنِّیْ عَلٰی بَیِّنَةٍ مِّنْ رَّبِّیْ وَ كَذَّبْتُمْ بِهٖ ؕ مَا عِنْدِیْ مَا تَسْتَعْجِلُوْنَ بِهٖ ؕ اِنِ الْحُكْمُ اِلَّا لِلّٰهِ ؕ یَقُصُّ الْحَقَّ وَ هُوَ خَیْرُ الْفٰصِلِیْنَ 57
57. হে নবী, তুমি দৃঢ়ভাবে বলো, আমি আমার রবের সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর দাঁড়িয়ে আছি; অথচ তোমরা এগুলোকে অস্বীকার করে যাচ্ছো। আর তোমরা যে আযাব দেখার বিষয়ে তাড়াহুড়ো করছো, তা আমার ক্ষমতার মধ্যে নেই। বস্তুত সমস্ত কর্তৃত্ব-ক্ষমতা কেবল আল্লাহর হাতে। তিনি এ সত্যকে স্পষ্ট করে বর্ণনা করেছেন। আর মনে রেখো, তিনিই সবচেয়ে উত্তম ফয়সালাকারী।
قُلْ لَّوْ اَنَّ عِنْدِیْ مَا تَسْتَعْجِلُوْنَ بِهٖ لَقُضِیَ الْاَمْرُ بَیْنِیْ وَ بَیْنَكُمْ ؕ وَ اللّٰهُ اَعْلَمُ بِالظّٰلِمِیْنَ 58
58. বলো, তোমরা যে আযাবের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করছো, তা দেখানোর ক্ষমতা যদি আমার থাকতো, তবে বহু আগেই তোমাদের সাথে আমার একটা ফায়সালা হয়ে যেতো। নবী হে, তুমি নিশ্চিত থাকো, এসব জালেমের ব্যাপারে আল্লাহ ভালোই জানেন।
وَ عِنْدَهٗ مَفَاتِحُ الْغَیْبِ لَا یَعْلَمُهَاۤ اِلَّا هُوَ ؕ وَ یَعْلَمُ مَا فِی الْبَرِّ وَ الْبَحْرِ ؕ وَ مَا تَسْقُطُ مِنْ وَّرَقَةٍ اِلَّا یَعْلَمُهَا وَ لَا حَبَّةٍ فِیْ ظُلُمٰتِ الْاَرْضِ وَ لَا رَطْبٍ وَّ لَا یَابِسٍ اِلَّا فِیْ كِتٰبٍ مُّبِیْنٍ 59
59. শুনে রেখো, অদৃশ্যের সব চাবিকাঠি কেবল আল্লাহর মুঠোর মধ্যে রয়েছে। তিনি ছাড়া আর কেউ এসবের সন্ধান জানে না। জলে কিংবা স্থলের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়েও তিনি জ্ঞান রাখেন। আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে গাছের সামান্য একটা পাতাও ঝরে পড়ে না। জমিনের অন্ধকার স্তরে লুকিয়ে থাকা একটা শস্যবীজ সম্পর্কেও তিনি খবর রাখেন। এমনকি, সে শস্যদানার কোনটা ভিজা আর কোনটা শুকনা তাও তিনি জানেন। এসবই এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিখে রেখেছেন।
وَ هُوَ الَّذِیْ یَتَوَفّٰىكُمْ بِالَّیْلِ وَ یَعْلَمُ مَا جَرَحْتُمْ بِالنَّهَارِ ثُمَّ یَبْعَثُكُمْ فِیْهِ لِیُقْضٰۤی اَجَلٌ مُّسَمًّی ۚ ثُمَّ اِلَیْهِ مَرْجِعُكُمْ ثُمَّ یُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ۠ 60
60. তিনি তো সেই সত্তা, যিনি রাতের বেলায় তোমাদেরকে ঘুমের মাধ্যমে মৃত্যু দেন। আবার দিনের আলোয় তোমরা যা কিছু করো, তাও তিনি জানেন। মূলত তিনি তোমাদেরকে প্রতিদিন নতুনভাবে জীবন দেন, যাতে তোমরা দুনিয়ার হায়াত পূর্ণ করতে পারো। আর শেষ পর্যন্ত তোমাদেরকে আল্লাহর কাছে ফিরতেই হবে। তখন তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন, দুনিয়ায় তোমরা কখন কী করেছিলে।
وَ هُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهٖ وَ یُرْسِلُ عَلَیْكُمْ حَفَظَةً ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءَ اَحَدَكُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَ هُمْ لَا یُفَرِّطُوْنَ 61
61. আল্লাহ নিজ বান্দাদের উপর পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন। তোমাদের কাজকর্ম সংরক্ষণ করার জন্যে কিছু ফেরেশতাকে তিনি দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। আবার কিছু ফেরেশতা তোমাদের দুনিয়ার হায়াত শেষ হয়ে এলে, জান কবজ করে নেয়। মনে রেখো, এসব ফেরেশতাদের কেউ নিজ দায়িত্ব পালনে সামান্য অবহেলাও করে না।
ثُمَّ رُدُّوْۤا اِلَی اللّٰهِ مَوْلٰىهُمُ الْحَقِّ ؕ اَلَا لَهُ الْحُكْمُ ۫ وَهُوَ اَسْرَعُ الْحٰسِبِیْنَ 62
62. এরপর এসব মৃতদেরকে তাদের সত্যিকারের মাওলা- মহান আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হয়। খবরদার! ভুলে যেয়ো না, সমস্ত ফয়সালার একক কর্তৃত্ব কেবল তাঁরই হাতে। আর হিসেব নিতে তাঁর মোটেই সময়ও লাগে না।
قُلْ مَنْ یُّنَجِّیْكُمْ مِّنْ ظُلُمٰتِ الْبَرِّ وَ الْبَحْرِ تَدْعُوْنَهٗ تَضَرُّعًا وَّ خُفْیَةً ۚ لَىِٕنْ اَنْجٰىنَا مِنْ هٰذِهٖ لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الشّٰكِرِیْنَ 63
63. হে নবী, ওদেরকে জিজ্ঞেস করো, জলে ও স্থলে অন্ধকার বিপদ এলে, কে তোমাদেরকে উদ্ধার করেন? বলো, এসব কঠিন মুহূর্তে তোমরা কাতর কণ্ঠে কাকে ডাকো? উত্তর দাও, কার কাছে তোমরা মিনতি করে বলো, আমাদেরকে এ বিপদ থেকে বাঁচালে অবশ্যই তোমার কৃতজ্ঞ বান্দা হবো?
قُلِ اللّٰهُ یُنَجِّیْكُمْ مِّنْهَا وَ مِنْ كُلِّ كَرْبٍ ثُمَّ اَنْتُمْ تُشْرِكُوْنَ 64
64. হে নবী, তুমিই ওদের জবাব শুনিয়ে দাও, হ্যাঁ! তিনি আল্লাহ। তোমাদেরকে সব বিপদাপদ থেকে তিনিই উদ্ধার করেন এবং দুঃখ-বেদনা মুছে দেন। আফসোস! এরপরেও তোমরা জেনে বুঝে তার সাথে অন্যদের শরিক করে চলছো।
قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلٰۤی اَنْ یَّبْعَثَ عَلَیْكُمْ عَذَابًا مِّنْ فَوْقِكُمْ اَوْ مِنْ تَحْتِ اَرْجُلِكُمْ اَوْ یَلْبِسَكُمْ شِیَعًا وَّ یُذِیْقَ بَعْضَكُمْ بَاْسَ بَعْضٍ ؕ اُنْظُرْ كَیْفَ نُصَرِّفُ الْاٰیٰتِ لَعَلَّهُمْ یَفْقَهُوْنَ 65
65. হে নবী, ওদের শুনাও, আল্লাহ চাইলে মুহূর্তের মধ্যে তোমাদের উপর আকাশ থেকে আযাব পাঠাতে পারেন, অথবা জমিনের নিচ থেকে আযাব উত্থিত করে তোমাদের পাকড়াও করতে পারেন, কিংবা তোমাদেরকে দুনিয়ায় নানা দলে বিভক্ত করে একদলকে আরেকদলের হাতে কঠিনভাবে শায়েস্তা করাতে পারেন। হে লোকেরা ভেবে দেখো, তোমাদের বোধদয়ের জন্যে আল্লাহ তাঁর আয়াতগুলোকে একটার পর একটা খুলে খুলে বর্ণনা করে যাচ্ছেন।
وَ كَذَّبَ بِهٖ قَوْمُكَ وَ هُوَ الْحَقُّ ؕ قُلْ لَّسْتُ عَلَیْكُمْ بِوَكِیْلٍؕ 66
66. হে নবী, এসবই সত্য; অথচ তোমার জাতির লোকেরা এগুলোকে অস্বীকার করছে। ওদের পরিষ্কার বলে দাও, আমি তোমাদের কাজের দায়-দায়িত্ব নিতে আসেনি।
لِكُلِّ نَبَاٍ مُّسْتَقَرٌّ ؗ وَّ سَوْفَ تَعْلَمُوْنَ 67
67. ওদের জানা উচিত, আল্লাহর দেওয়া প্রতিটি সতর্কবাণী বাস্তবায়নের একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। অচিরেই তোমরা সে মুহূর্তের মুখোমুখি হবে।
وَ اِذَا رَاَیْتَ الَّذِیْنَ یَخُوْضُوْنَ فِیْۤ اٰیٰتِنَا فَاَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتّٰی یَخُوْضُوْا فِیْ حَدِیْثٍ غَیْرِهٖ ؕ وَ اِمَّا یُنْسِیَنَّكَ الشَّیْطٰنُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرٰی مَعَ الْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ 68
68. হে নবী, যখন তুমি লোকদেরকে আমার আয়াত নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ ও আজে-বাজে আলোচনায় রত দেখবে, তখন ওদের থেকে সরে যাবে। খবরদার! আলোচনার প্রসঙ্গ না পাল্টানো পর্যন্ত ওদের সাথে বসবে না। আর শয়তান যদি কখনো তোমাকে বিষয়টি ভুলিয়ে দেয়, তবে মনে পড়ার সাথেসাথেই এ জালেমদের সঙ্গ ত্যাগ করে চলে আসবে।
وَ مَا عَلَی الَّذِیْنَ یَتَّقُوْنَ مِنْ حِسَابِهِمْ مِّنْ شَیْءٍ وَّ لٰكِنْ ذِكْرٰی لَعَلَّهُمْ یَتَّقُوْنَ 69
69. বস্তুত জালেমদের কাজের দায়ভার কখনোই বিশ্বাসী খোদাভীরু লোকেরা বহন করবে না। তবে এসব লোকদের ন্যায়পথে চলার জন্যে নসিহত করা তাদের দায়িত্ব। হয়তো ওরা ভুল পথ থেকে রক্ষা পাবে।
وَ ذَرِ الَّذِیْنَ اتَّخَذُوْا دِیْنَهُمْ لَعِبًا وَّ لَهْوًا وَّ غَرَّتْهُمُ الْحَیٰوةُ الدُّنْیَا وَ ذَكِّرْ بِهٖۤ اَنْ تُبْسَلَ نَفْسٌۢ بِمَا كَسَبَتْ ۖۗ لَیْسَ لَهَا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَلِیٌّ وَّ لَا شَفِیْعٌ ۚ وَ اِنْ تَعْدِلْ كُلَّ عَدْلٍ لَّا یُؤْخَذْ مِنْهَا ؕ اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ اُبْسِلُوْا بِمَا كَسَبُوْا ۚ لَهُمْ شَرَابٌ مِّنْ حَمِیْمٍ وَّ عَذَابٌ اَلِیْمٌۢ بِمَا كَانُوْا یَكْفُرُوْنَ۠ 70
70. হে নবী, যারা নিজেদের জীবন দর্শনকে খেল-তামাশা ও হাসি-ঠাট্টায় পূর্ণ করে নিয়েছে এবং দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মত্ত হয়ে নিজেদের প্রতারিত করে চলছে, তুমি কখনোই ওদের সঙ্গ দিও না। বরং ওদেরকে আমার আয়াত দ্বারা বারবার উপদেশ দিতে থাকো। আর সেই দিনের ব্যাপারে সতর্ক করো, যেদিন প্রত্যেক অপরাধী নিজ অপকর্মের কারণে ধ্বংসের মুখোমুখি হবে। সেদিন পরিস্থিতি এতোই ভয়ানক হবে যে, ওদের বাঁচানোর জন্যে আল্লাহ ছাড়া কোনো অভিভাবক থাকবে না। কোনো সুপারিশকারীকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমনকি মুক্তিপণ হিসাবে সবকিছু দিতে চাইলেও, কিছুই গ্রহণ করা হবে না। ওরা অবশ্যই নিজেদের অপকর্মের জন্যে সেদিন পাকড়াও হবে। সত্য অস্বীকারের বিনিময়ে ওদের সেদিন ফুটন্ত গরম পানি পান করানো হবে এবং আরো ভয়ঙ্কর শাস্তির মুখোমুখি করানো হবে।
قُلْ اَنَدْعُوْا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ مَا لَا یَنْفَعُنَا وَ لَا یَضُرُّنَا وَ نُرَدُّ عَلٰۤی اَعْقَابِنَا بَعْدَ اِذْ هَدٰىنَا اللّٰهُ كَالَّذِی اسْتَهْوَتْهُ الشَّیٰطِیْنُ فِی الْاَرْضِ حَیْرَانَ ۪ لَهٗۤ اَصْحٰبٌ یَّدْعُوْنَهٗۤ اِلَی الْهُدَی ائْتِنَا ؕ قُلْ اِنَّ هُدَی اللّٰهِ هُوَ الْهُدٰی ؕ وَ اُمِرْنَا لِنُسْلِمَ لِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَۙ 71
71. ওদেরকে বলো, আমরা কিভাবে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমনসব কাল্পনিক ইলাহকে ডাকতে পারি, যারা আমাদের সামান্য উপকার কিংবা অপকারের ক্ষমতাও রাখে না? তোমরাই বলো, যখন আল্লাহ নিজে আমাদের সত্য-সঠিক পথ দেখিয়েছেন, তখন আবার কিভাবে বিপথে হাঁটতে পারি? আমরা কি নিজেদেরকে সেই ব্যক্তির মতো বানাবো, যে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মরুভ‚মির বুকে পথ হারিয়েছে এবং হয়রান-পেরেশান হয়ে পথ খুঁজে বেড়াচ্ছে; অথচ তার সঙ্গী-সাথিরা চিৎকার করে ডেকে বলছে, এদিকে এসো, এখানে রয়েছে সোজা সঠিক পথ? অতএব তোমরা বলো, আল্লাহর দেখানো পথই একমাত্র সঠিক পথ। আর তিনি আমাদেরকে এ নির্দেশই দিয়েছেন যে, আমরা যেন মহাবিশ্বের রবের নিকট আত্মসমর্পিত হই।
وَ اَنْ اَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اتَّقُوْهُ ؕ وَهُوَ الَّذِیْۤ اِلَیْهِ تُحْشَرُوْنَ 72
72. আমরা যেনো নামাজ কায়েম করে চলি এবং আল্লাহর নাফরমানী করা থেকে বেঁচে থাকি। কেননা একদিন সবাইকে তাঁর কাছে সমবেত করা হবে।
وَ هُوَ الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ بِالْحَقِّ ؕ وَ یَوْمَ یَقُوْلُ كُنْ فَیَكُوْنُ ؕ۬ قَوْلُهُ الْحَقُّ ؕ وَ لَهُ الْمُلْكُ یَوْمَ یُنْفَخُ فِی الصُّوْرِ ؕ عٰلِمُ الْغَیْبِ وَ الشَّهَادَةِ ؕ وَ هُوَ الْحَكِیْمُ الْخَبِیْرُ 73
73. এসব নির্দেশ তিনিই দিয়েছেন, যিনি যথাযথভাবে মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। সেদিন যখন তিনি বলবেন, কেয়ামত হয়ে যাও, সাথেসাথেই কেয়ামত হয়ে যাবে। তাঁর কথা অবধারিত। যেদিন কেয়ামতের জন্যে শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, সেদিন পূর্ণ কর্তৃত্ব কেবল তাঁর হাতেই থাকবে। সমস্ত অদৃশ্য ও দৃশ্য জিনিসের জ্ঞান তাঁর কাছেই রয়েছে। নিশ্চয়ই তিনি যথেষ্ট প্রজ্ঞাবান এবং সব বিষয়ে ওয়াকিবহাল।
وَ اِذْ قَالَ اِبْرٰهِیْمُ لِاَبِیْهِ اٰزَرَ اَتَتَّخِذُ اَصْنَامًا اٰلِهَةً ۚ اِنِّیْۤ اَرٰىكَ وَ قَوْمَكَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ 74
74. একসময় ইবরাহিম তার পিতা আযরকে বললো, তুমি কি সত্যিই এসব মূর্তিগুলোকে নিজের ইলাহ মানছো? আমিতো দেখছি, তুমি ও তোমার জাতির লোকেরা সুস্পষ্ট গোমরাহিতে পড়ে রয়েছো।
وَكَذٰلِكَ نُرِیْۤ اِبْرٰهِیْمَ مَلَكُوْتَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ لِیَكُوْنَ مِنَ الْمُوْقِنِیْنَ 75
75. এ সময় আমি ইবরাহিমকে মহাকাশ ও পৃথিবীর পরিচালনা-ব্যবস্থাপনা দেখালাম, যাতে সে দৃঢ় বিশ্বাসী হতে পারে।
فَلَمَّا جَنَّ عَلَیْهِ الَّیْلُ رَاٰ كَوْكَبًا ۚ قَالَ هٰذَا رَبِّیْ ۚ فَلَمَّاۤ اَفَلَ قَالَ لَاۤ اُحِبُّ الْاٰفِلِیْنَ 76
76. এরপর কোনো এক রাতে ইবরাহিম লোকদেরকে বোঝানোর জন্যে বললো, দোখো! ঐ উজ্জ্বল নক্ষত্রটি আমার রব। কিন্তু যখন সে নক্ষত্রটি ডুবে গেলো, তখন ইবরাহিম বললো, আমি এ ধরনের ডুবে যাওয়া জিনিসকে রব হিসাবে পছন্দ করি না।
فَلَمَّا رَاَ الْقَمَرَ بَازِغًا قَالَ هٰذَا رَبِّیْ ۚ فَلَمَّاۤ اَفَلَ قَالَ لَىِٕنْ لَّمْ یَهْدِنِیْ رَبِّیْ لَاَكُوْنَنَّ مِنَ الْقَوْمِ الضَّآلِّیْنَ 77
77. এরপর আরেক রাতে সে আকাশে চাঁদকে দেখলো আলো বিকিরণ করতে। তখন লোকদের বলল, হ্যাঁ, এই হবে আমার রব। কিন্তু যখন সে চাঁদটাও ডুবে গেলো তখন সে বললো, আমার আসল রব আমায় সঠিক পথ না দেখালে, নিশ্চিতভাবে আমি পথহারাদের দলভুক্ত হয়ে পড়বো।
فَلَمَّا رَاَ الشَّمْسَ بَازِغَةً قَالَ هٰذَا رَبِّیْ هٰذَاۤ اَكْبَرُ ۚ فَلَمَّاۤ اَفَلَتْ قَالَ یٰقَوْمِ اِنِّیْ بَرِیْٓءٌ مِّمَّا تُشْرِكُوْنَ 78
78. এরপর একদিন সে সূর্যকে দেখলো, প্রকাণ্ড আলো ছড়াচ্ছে। সে বললো, হ্যাঁ! এটাই আমার রব হবে। এটাতো আগের গুলোর চেয়ে অনেক বড়। কিন্তু যখন এ সূর্যটাও ডুবে গেলো, তখন সে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলো, ওহে জাতির লোকেরা, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক করে চলছো, তাদের সাথে আমার ন্যূনতম সম্পর্কও নেই।
اِنِّیْ وَجَّهْتُ وَجْهِیَ لِلَّذِیْ فَطَرَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ حَنِیْفًا وَّ مَاۤ اَنَا مِنَ الْمُشْرِكِیْنَۚ 79
79. ইবরাহিম ঘোষণা দিলো, আমি একনিষ্ঠভাবে আমার মুখ ফিরাচ্ছি মহাকাশ ও পৃথিবীর মহান স্রষ্টা এক আল্লাহর দিকে। আর আমি কখনোই তোমাদের মতো মুশরিক নই।
وَ حَآجَّهٗ قَوْمُهٗ ؕ قَالَ اَتُحَآجُّوْٓنِّیْ فِی اللّٰهِ وَ قَدْ هَدٰىنِ ؕ وَ لَاۤ اَخَافُ مَا تُشْرِكُوْنَ بِهٖۤ اِلَّاۤ اَنْ یَّشَآءَ رَبِّیْ شَیْـًٔا ؕ وَسِعَ رَبِّیْ كُلَّ شَیْءٍ عِلْمًا ؕ اَفَلَا تَتَذَكَّرُوْنَ 80
80. এসব শুনে জাতির লোকেরা তার সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়লো। তখন ইবরাহিম বললো, তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে আমার সাথে বিতর্কে জড়াতে চাইছো? অথচ তিনি আমাকে সরল-সঠিক পথ দেখিয়েছেন। জেনে রেখো, আমি তোমাদের এসব কাল্পনিক খোদাদের মোটেই ভয় পাই না। কেননা আমার রব না চাইলে ওরা আমার সামান্য ক্ষতিও করতে পারবে না। সবকিছুই আমার রবের জ্ঞানের আওতায় রয়েছে। এসব শোনার পরেও কি তোমরা চিন্তা-ভাবনা করবে না?
وَ كَیْفَ اَخَافُ مَاۤ اَشْرَكْتُمْ وَ لَا تَخَافُوْنَ اَنَّكُمْ اَشْرَكْتُمْ بِاللّٰهِ مَا لَمْ یُنَزِّلْ بِهٖ عَلَیْكُمْ سُلْطٰنًا ؕ فَاَیُّ الْفَرِیْقَیْنِ اَحَقُّ بِالْاَمْنِ ۚ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَۘ 81
81. তোমরা যেখানে আল্লাহর দেওয়া দলিল-প্রমাণ ছাড়াই তাঁর সাথে অন্যদের শরিক করতে ভয় করছো না, সেখানে আল্লাহর সাথে তোমরা যাদেরকে শরিক বানাচ্ছো, তাদেরকে আমি ভয় করবো কেন? যদি তোমাদের সামান্য বুদ্ধি-জ্ঞানও থেকে থাকে, তবে তোমরাই বলো, আমাদের দুই দলের মধ্যে কে শক্তিশালী নিরাপত্তার আশ্রয় নিয়েছে?
اَلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ لَمْ یَلْبِسُوْۤا اِیْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ اُولٰٓىِٕكَ لَهُمُ الْاَمْنُ وَ هُمْ مُّهْتَدُوْنَ۠ 82
82. আসলে নিরাপত্তা কেবল তারাই লাভ করে, যারা ঈমান আনার পর নিজেদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশিয়ে কলুষিত করেনি। নিশ্চয়ই তারাই সরল-সঠিক পথে টিকে রয়েছে।
وَ تِلْكَ حُجَّتُنَاۤ اٰتَیْنٰهَاۤ اِبْرٰهِیْمَ عَلٰی قَوْمِهٖ ؕ نَرْفَعُ دَرَجٰتٍ مَّنْ نَّشَآءُ ؕ اِنَّ رَبَّكَ حَكِیْمٌ عَلِیْمٌ 83
83. আর এভাবেই আমি ইবরাহিমকে তার জাতির লোকদের মোকাবেলায় যুক্তি-প্রমাণ দিয়ে সাহায্য করলাম। এভাবেই আমি যাকে চাই উচ্চ মর্যাদায় আসীন করি। জেনে রেখো হে নবী, তোমার রব যথার্থই প্রজ্ঞাবান ও মহাজ্ঞানী।
وَ وَهَبْنَا لَهٗۤ اِسْحٰقَ وَ یَعْقُوْبَ ؕ كُلًّا هَدَیْنَا ۚ وَ نُوْحًا هَدَیْنَا مِنْ قَبْلُ وَ مِنْ ذُرِّیَّتِهٖ دَاوٗدَ وَسُلَیْمٰنَ وَ اَیُّوْبَ وَ یُوْسُفَ وَمُوْسٰی وَهٰرُوْنَ ؕ وَكَذٰلِكَ نَجْزِی الْمُحْسِنِیْنَۙ 84
84. তারপর আমি ইবরাহিমকে ইসহাক ও ইয়াকুবের মতো সন্তান দান করলাম। তারা উভয়ে ছিলো সত্যপন্থী, যেভাবে তাদের আগে সত্যপন্থী ছিলো নুহ। আমি ইবরাহিমের বংশে একে একে পাঠালাম দাউদ, সুলাইমান, আইয়ুব, ইউসুফ, মুসা ও হারুনের মতো নেক সন্তানদের। বস্তুত এভাবেই আমি নেক লোকদের পুরস্কৃত করে থাকি।
وَ زَكَرِیَّا وَ یَحْیٰی وَ عِیْسٰی وَ اِلْیَاسَ ؕ كُلٌّ مِّنَ الصّٰلِحِیْنَۙ 85
85. একইভাবে ইবরাহিমের বংশে যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা ও ইলিয়াসের মতো নেক সন্তানও দিয়েছিলাম। তারা প্রত্যেকেই ছিলো সৎকর্মশীল।
وَ اِسْمٰعِیْلَ وَ الْیَسَعَ وَ یُوْنُسَ وَ لُوْطًا ؕ وَ كُلًّا فَضَّلْنَا عَلَی الْعٰلَمِیْنَۙ 86
86. তার বংশ থেকে ইসমাইল, আল ইয়াসা, ইউনুস এবং লুতকেও সঠিক পথ দেখিয়েছি। আমি তাদের প্রত্যেককে জগতবাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম।
وَ مِنْ اٰبَآىِٕهِمْ وَ ذُرِّیّٰتِهِمْ وَ اِخْوَانِهِمْ ۚ وَ اجْتَبَیْنٰهُمْ وَ هَدَیْنٰهُمْ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ 87
87. এছাড়াও তাদের বাপ-দাদা, সন্তান-সন্তুতি ও ভাই-বোনদের মধ্য থেকে অনেককে আমি সম্মানিত করেছি। তাদেরকে আমার কাজের জন্য বাছাই করেছি এবং সহজ-সঠিক পথে তাদের পরিচালিত করেছি।
ذٰلِكَ هُدَی اللّٰهِ یَهْدِیْ بِهٖ مَنْ یَّشَآءُ مِنْ عِبَادِهٖ ؕ وَ لَوْ اَشْرَكُوْا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَّا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 88
88. সুতরাং এটিই আল্লাহর দেওয়া হেদায়তের রাজপথ। তিনি নিজ বান্দাদের মধ্যে যাকে চান, তাকে এ পথে পরিচালিত করেন। তবে হ্যাঁ, তারা যদি আমার সাথে অন্যদের সামান্য শরিকও করতো, তবে তাদের সমস্ত উপার্জন বরবাদ হয়ে যতো।
اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ اٰتَیْنٰهُمُ الْكِتٰبَ وَ الْحُكْمَ وَ النُّبُوَّةَ ۚ فَاِنْ یَّكْفُرْ بِهَا هٰۤؤُلَآءِ فَقَدْ وَ كَّلْنَا بِهَا قَوْمًا لَّیْسُوْا بِهَا بِكٰفِرِیْنَ 89
89. আমি বনি ইসরাইলকে বহুবার কিতাব, ক্ষমতা-কর্তৃত্ব ও নবুওয়াত দান করেছি। এখন যদি ওরা এ সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করে, তবে তাতে কিছুই যায় আসে না। এখনতো আমি ওদের বাদ দিয়ে অন্য জাতির উপর নবুওয়তের এ নেয়ামত অর্পণ করেছি, যারা এর প্রতি কুফরি করে না।
اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ هَدَی اللّٰهُ فَبِهُدٰىهُمُ اقْتَدِهْ ؕ قُلْ لَّاۤ اَسْـَٔلُكُمْ عَلَیْهِ اَجْرًا ؕ اِنْ هُوَ اِلَّا ذِكْرٰی لِلْعٰلَمِیْنَ۠ 90
90. অতএব হে নবী, তুমি ঐসব নবীদের দেখানো সহজ-সঠিক পথ ধরে চলো। কেননা আমিই তাদেরকে এ পথ দেখিয়েছিলাম। আর লোকদের বলো, আমি এ হেদায়তের পথে ডাকার জন্য তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না; বরং এ তো পুরো দুনিয়াবাসীর জন্য এক উপদেশনামা।
وَ مَا قَدَرُوا اللّٰهَ حَقَّ قَدْرِهٖۤ اِذْ قَالُوْا مَاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ عَلٰی بَشَرٍ مِّنْ شَیْءٍ ؕ قُلْ مَنْ اَنْزَلَ الْكِتٰبَ الَّذِیْ جَآءَ بِهٖ مُوْسٰی نُوْرًا وَّ هُدًی لِّلنَّاسِ تَجْعَلُوْنَهٗ قَرَاطِیْسَ تُبْدُوْنَهَا وَ تُخْفُوْنَ كَثِیْرًا ۚ وَ عُلِّمْتُمْ مَّا لَمْ تَعْلَمُوْۤا اَنْتُمْ وَ لَاۤ اٰبَآؤُكُمْ ؕ قُلِ اللّٰهُ ۙ ثُمَّ ذَرْهُمْ فِیْ خَوْضِهِمْ یَلْعَبُوْنَ 91
91. ওরা আল্লাহ সম্পর্কে বড়ই অবমাননাকর চিন্তা করলো। ওরা কিভাবে বলতে পারলো যে, আল্লাহ কোনো মানুষের উপর কোনো কিছুই নাযিল করেননি? ওদের জিজ্ঞেস করো, তাহলে মুসা যে কিতাব নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছিলে, তা কে নাযিল করেছিলো? সে কিতাব তো ছিলো সমস্ত মানুষের জন্যে আলো ও পথনির্দেশ, যাকে তোমরা এখন বহু খন্ডে বিভক্ত করে রেখেছো। যার কিছু অংশ তোমরা লোকদের জন্য প্রকাশ করো, আর বড় অংশই লুকিয়ে রাখো। অথচ ঐ কিতাবের মাধ্যমে তোমরা এমন জ্ঞান লাভ করেছো, যা এর আগে তোমরা কিংবা তোমাদের বাপ-দাদার কেউ জানতে না। অতএব হে নবী, এসব মিথ্যাচারীদের জানিয়ে দাও, হ্যাঁ, আল্লাহই এসব নাযিল করেন। কাজেই এখন ওদেরকে অর্থহীন যুক্তিতর্কের খেলায় পড়ে থাকতে দাও।
وَ هٰذَا كِتٰبٌ اَنْزَلْنٰهُ مُبٰرَكٌ مُّصَدِّقُ الَّذِیْ بَیْنَ یَدَیْهِ وَ لِتُنْذِرَ اُمَّ الْقُرٰی وَ مَنْ حَوْلَهَا ؕ وَ الَّذِیْنَ یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ یُؤْمِنُوْنَ بِهٖ وَ هُمْ عَلٰی صَلَاتِهِمْ یُحَافِظُوْنَ 92
92. হে নবী, আমি এ কুরআনকে তোমার কাছে নাযিল করেছি। এটি বড়ই বরকতপূর্ণ এবং আগের সব কিতাবের সত্যতা স্বীকারকারী। অতএব এ কিতাবের মাধ্যমে তুমি মক্কা ও তার আশে-পাশের লোকদেরকে সতর্ক করো। মনে রেখো, যারা পরকালের জীবনকে স্বীকার করে, তারা অবশ্যই এ কিতাবের প্রতি ঈমান রাখে এবং নিজেদের নামাজগুলোকে নিয়মিত ও যথাযথ আদায় করে।
وَ مَنْ اَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا اَوْ قَالَ اُوْحِیَ اِلَیَّ وَ لَمْ یُوْحَ اِلَیْهِ شَیْءٌ وَّمَنْ قَالَ سَاُنْزِلُ مِثْلَ مَاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ ؕ وَلَوْ تَرٰۤی اِذِ الظّٰلِمُوْنَ فِیْ غَمَرٰتِ الْمَوْتِ وَالْمَلٰٓىِٕكَةُ بَاسِطُوْۤا اَیْدِیْهِمْ ۚ اَخْرِجُوْۤا اَنْفُسَكُمْ ؕ اَلْیَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُوْنِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُوْلُوْنَ عَلَی اللّٰهِ غَیْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ اٰیٰتِهٖ تَسْتَكْبِرُوْنَ 93
93. আর সে লোকের চেয়ে ভয়ঙ্কর জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা রটনা করে। অথবা বলে, আমার কাছে অহি এসেছে; অথচ তার কাছে কোনো অহিই আসেনি? কিংবা যে দাবি করে বলে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, আমি চাইলে নিজেই এমন জিনিস নাযিল করে দেখিয়ে দিতে পারি? হায়! যদি তুমি দেখতে পেতে, যখন এসব জালেমেরা মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকবে এবং ফেরেশতেরা হাত বাড়িয়ে বলবে, নাও! এবার নিজেই নিজের প্রাণ বের করে দাও। আজ তোমাদেরকে অপমানজনক শাস্তি ভোগ করতেই হবে। কারণ তোমরা আল্লাহর উপর মিথ্যা অপবাদ দিতে ও তাঁর আয়াতসমূহের বিরুদ্ধে উদ্ধত-অহংকারী আচরণ করতে।
وَ لَقَدْ جِئْتُمُوْنَا فُرَادٰی كَمَا خَلَقْنٰكُمْ اَوَّلَ مَرَّةٍ وَّ تَرَكْتُمْ مَّا خَوَّلْنٰكُمْ وَرَآءَ ظُهُوْرِكُمْ ۚ وَ مَا نَرٰی مَعَكُمْ شُفَعَآءَكُمُ الَّذِیْنَ زَعَمْتُمْ اَنَّهُمْ فِیْكُمْ شُرَكٰٓؤُا ؕ لَقَدْ تَّقَطَّعَ بَیْنَكُمْ وَ ضَلَّ عَنْكُمْ مَّا كُنْتُمْ تَزْعُمُوْنَ۠ 94
94. বিচারের দিন আল্লাহ ওদের ডেকে বলবেন, দেখো! তোমরা আজ আমার সামনে ঠিক সেই নিঃস্ব-একাকী অবস্থায় হাজির হয়েছো, যেভাবে দুনিয়ায় তোমাদের প্রথমবার আমি পয়দা করেছিলাম। দুনিয়ায় আমি তোমাদের যা কিছু দিয়েছিলাম, তার সবই রেখে এসেছো। এমনকি তোমাদের সাথে সেসব সুপারিশকারীদেরকেও দেখছি না, যাদেরকে তোমরা তোমাদের কার্য সম্পাদনে সাহায্যকারী ভাবতে। আসলে আজকে তোমাদের মধ্যকার সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে। তোমাদের সকল ভ্রান্ত ধ্যান-ধারণা তোমাদের ছেড়ে উধাও হয়ে গেছে।
اِنَّ اللّٰهَ فَالِقُ الْحَبِّ وَ النَّوٰی ؕ یُخْرِجُ الْحَیَّ مِنَ الْمَیِّتِ وَ مُخْرِجُ الْمَیِّتِ مِنَ الْحَیِّ ؕ ذٰلِكُمُ اللّٰهُ فَاَنّٰی تُؤْفَكُوْنَ 95
95. জেনে রেখো, নিশ্চয় শস্যবীজ ও ফলের আঁটি আল্লাহই অঙ্কুরিত করেন। তিনিই নিষ্প্রাণ থেকে প্রাণের উন্মেষ ঘটান, আবার প্রাণকে মুহূর্তের মধ্যে প্রাণহীন বানিয়ে দেন। এসব আল্লাহই করেন। কাজেই এতসব জানার পরেও তোমরা কোন্ দিকে বিভ্রান্ত হচ্ছো?
فَالِقُ الْاِصْبَاحِ ۚ وَ جَعَلَ الَّیْلَ سَكَنًا وَّ الشَّمْسَ وَ الْقَمَرَ حُسْبَانًا ؕ ذٰلِكَ تَقْدِیْرُ الْعَزِیْزِ الْعَلِیْمِ 96
96. দেখো, তিনিই রাতের আঁধার সরিয়ে সকালের আলো ফোটান। বিশ্রামের জন্যে রাতকে ঢেকে দেন আঁধারে। চাঁদ ও সূর্যকে সময় গণনার পরিমাপক বানিয়েছেন। হ্যা! এসবের প্রতিটি জিনিসই মহাপরাক্রমশালী ও মহাজ্ঞানী আল্লাহ কর্তৃক সুবিন্যস্ত।
وَ هُوَ الَّذِیْ جَعَلَ لَكُمُ النُّجُوْمَ لِتَهْتَدُوْا بِهَا فِیْ ظُلُمٰتِ الْبَرِّ وَ الْبَحْرِ ؕ قَدْ فَصَّلْنَا الْاٰیٰتِ لِقَوْمٍ یَّعْلَمُوْنَ 97
97. তিনিই তোমাদের জন্যে তারকারাজি তৈরি করেছেন, যাতে তোমরা রাতের আঁধারে জলে ও স্থলে পথ খুঁজে পাও। জ্ঞানীদের জন্য আল্লাহ এভাবেই তার নিদর্শনগুলো স্পষ্ট করে তুলে ধরেন।
وَ هُوَ الَّذِیْۤ اَنْشَاَكُمْ مِّنْ نَّفْسٍ وَّاحِدَةٍ فَمُسْتَقَرٌّ وَّ مُسْتَوْدَعٌ ؕ قَدْ فَصَّلْنَا الْاٰیٰتِ لِقَوْمٍ یَّفْقَهُوْنَ 98
98. ভুলে যেয়ো না, তিনি তোমাদের সৃষ্টির সূচনা করেছিলেন এক ব্যক্তি থেকে। এরপর তোমাদের প্রত্যেকের জন্যে একটি সাময়িক ও একটি স্থায়ী আবাস তৈরি করে রেখেছেন। আমি এসব নিশানী খোলামেলাভাবে বলছি, যাতে বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন লোকেরা এ থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
وَ هُوَ الَّذِیْۤ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً ۚ فَاَخْرَجْنَا بِهٖ نَبَاتَ كُلِّ شَیْءٍ فَاَخْرَجْنَا مِنْهُ خَضِرًا نُّخْرِجُ مِنْهُ حَبًّا مُّتَرَاكِبًا ۚ وَ مِنَ النَّخْلِ مِنْ طَلْعِهَا قِنْوَانٌ دَانِیَةٌ وَّ جَنّٰتٍ مِّنْ اَعْنَابٍ وَّ الزَّیْتُوْنَ وَ الرُّمَّانَ مُشْتَبِهًا وَّ غَیْرَ مُتَشَابِهٍ ؕ اُنْظُرُوْۤا اِلٰی ثَمَرِهٖۤ اِذَاۤ اَثْمَرَ وَ یَنْعِهٖ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكُمْ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ 99
99. খেয়াল করে দেখো, আমিই সেই সত্তা, যিনি আকাশ থেকে পানি দেই। এরপর সে পানির সাহায্যে জমিনে সব ধরনের বীজ ও শস্যদানার অঙ্কুরোদগম ঘটাই। অতঃপর তা থেকে একসময় সবুজ ক্ষেত ও বৃক্ষসমাহার করি। অবশেষে তা থেকেই আবার বের করে আনি নিবিড় শস্যদানা। তোমরা খেজুর গাছের দিকে লক্ষ্য করো, আমি এর মাথি থেকে কাঁদির পর কাঁদি খেজুর বের করে আনি, যা একসময় খেজুরের ভারে নুয়ে পড়ে। আঙুর, জলপাই ও ডালিমের বাগান আমিই তৈরি করি। ফলগুলোর দিকে তাকাও, কোনোটা একে অপরের মতো, আবার কোনোটা একেবারেই ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের। ওহে বিশ^াসীরা, এসব গাছের ফল ধরা ও ফল পাকার অবস্থাটি একটু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করো। এসবের মধ্যে তোমাদের মতো ঈমানদারের জন্য শেখার অনেক নিদর্শন রয়েছে।
وَ جَعَلُوْا لِلّٰهِ شُرَكَآءَ الْجِنَّ وَ خَلَقَهُمْ وَ خَرَقُوْا لَهٗ بَنِیْنَ وَ بَنٰتٍۭ بِغَیْرِ عِلْمٍ ؕ سُبْحٰنَهٗ وَ تَعٰلٰی عَمَّا یَصِفُوْنَ۠ 100
100. এতকিছু সত্ত্বেও কিছু লোক আল্লাহর সাথে জিনদেরকে শরিক বানায়; অথচ তিনিই এসব জিনদের সৃষ্টি করেছেন। ওদের অনেকে আবার আল্লাহর পুত্র আছে, কন্যা আছে এমনটা ভাবে। সবই ওদের অজ্ঞতা। সুবহানাল্লহ! আল্লাহ ওদের এসব কথা ও ধ্যান-ধারণা থেকে বড়ই পবিত্র ও সুউচ্চ-সুমহান।
بَدِیْعُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ اَنّٰی یَكُوْنُ لَهٗ وَلَدٌ وَّ لَمْ تَكُنْ لَّهٗ صَاحِبَةٌ ؕ وَخَلَقَ كُلَّ شَیْءٍ ۚ وَهُوَ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ 101
101. অথচ আল্লাহই এ মহাকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা। আচ্ছা! যখন তাঁর কোনো স্ত্রীই নেই, তখন তাঁর ছেলে-মেয়ে থাকে কিভাবে? বরং সত্য তো এই যে, তিনি সবকিছুর স্রষ্টা এবং সবকিছুর জ্ঞান তাঁর কাছেই রয়েছে।
ذٰلِكُمُ اللّٰهُ رَبُّكُمْ ۚ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ خَالِقُ كُلِّ شَیْءٍ فَاعْبُدُوْهُ ۚ وَ هُوَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ وَّكِیْلٌ 102
102. শোনো! তিনিই আল্লাহ। তিনিই তোমাদের রব। তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তিনি সবকিছুর- স্রষ্টা। কাজেই তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করো। আর হ্যাঁ, তিনিই সকল কাজের কর্মবিধায়ক।
لَا تُدْرِكُهُ الْاَبْصَارُ ؗ وَهُوَ یُدْرِكُ الْاَبْصَارَ ۚ وَهُوَ اللَّطِیْفُ الْخَبِیْرُ 103
103. মনে রেখো, কোনো দৃষ্টিই আল্লাহর নাগাল পায় না; বরং সব দৃষ্টি তাঁর নাগালের মধ্যে। তিনি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়েও দেখেন এবং যথার্থ খবর রাখেন।
قَدْ جَآءَكُمْ بَصَآىِٕرُ مِنْ رَّبِّكُمْ ۚ فَمَنْ اَبْصَرَ فَلِنَفْسِهٖ ۚ وَ مَنْ عَمِیَ فَعَلَیْهَا ؕ وَ مَاۤ اَنَا عَلَیْكُمْ بِحَفِیْظٍ 104
104. হে নবী, তুমি বলে দাও, তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে চোখ খুলে দেওয়ার মতো আলো এসেছে। অতএব এখন যে চোখ খুলে এ আলো দেখবে, সে নিজের কল্যাণ বয়ে আনবে। আর যে অন্ধের মত আচরণ করবে, সে নিজের ক্ষতি ডেকে আনবে। মনে রেখো, আমার দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া; তোমাদের বাধ্য করা নয়।
وَ كَذٰلِكَ نُصَرِّفُ الْاٰیٰتِ وَ لِیَقُوْلُوْا دَرَسْتَ وَ لِنُبَیِّنَهٗ لِقَوْمٍ یَّعْلَمُوْنَ 105
105. হে নবী, অবিশ^াসীরা বিদ্বেষবশত বলছে, এসব কথা তুমি কারো কাছ থেকে পড়ে এসে ওদেরকে শুনাচ্ছো। অথচ সত্য এটাই যে, আমিই আমার এসব আয়াতগুলোকে বারবার ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে বর্ণনা করছি, যাতে জ্ঞানীরা এ থেকে লাভবান হতে পারে।
اِتَّبِعْ مَاۤ اُوْحِیَ اِلَیْكَ مِنْ رَّبِّكَ ۚ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ وَ اَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِیْنَ 106
106. অতএব তুমি কেবল তোমার রবের কাছ থেকে পাওয়া অহির অনুসরণ করে চলো। কেননা তিনি ছাড়া সত্যিকারে আর কোনো ইলাহ নেই। কাজেই এখন এসব শরিককারীদের পিছনে অযথা সময় নষ্ট করো না।
وَ لَوْ شَآءَ اللّٰهُ مَاۤ اَشْرَكُوْا ؕ وَ مَا جَعَلْنٰكَ عَلَیْهِمْ حَفِیْظًا ۚ وَمَاۤ اَنْتَ عَلَیْهِمْ بِوَكِیْلٍ 107
107. শোনো! আল্লাহ চাইলে ওদের কেউই শিরকে জড়াতো না। তাছাড়া তোমাকে ওদের উপর পাহাড়াদারও নিযুক্ত করি নাই। এমনকি ওদের কাজকর্মের দায়-দায়িত্বও তোমার নয়।
وَ لَا تَسُبُّوا الَّذِیْنَ یَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ فَیَسُبُّوا اللّٰهَ عَدْوًۢا بِغَیْرِ عِلْمٍ ؕ كَذٰلِكَ زَیَّنَّا لِكُلِّ اُمَّةٍ عَمَلَهُمْ ۪ ثُمَّ اِلٰی رَبِّهِمْ مَّرْجِعُهُمْ فَیُنَبِّئُهُمْ بِمَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 108
108. হে ঈমানদারেরা, সাবধান থেকো, শরিককারীরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য যেসব খোদাদের ডাকে, তোমরা কখনোই তাদের গালি দিও না। অন্যথায় ওরাও অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দিয়ে বসবে। কেননা আমি প্রত্যেক জাতির চোখে তাদের কাজকর্মকে যৌক্তিক ও সুশোভন করে রেখেছি। শেষ পর্যন্ত ওদেরকে ওদের আসল রবের কাছে ফিরতে দাও, তখন আমি নিজেই ওদের সব কৃতকর্মের বয়ান শুনিয়ে দিব।
وَ اَقْسَمُوْا بِاللّٰهِ جَهْدَ اَیْمَانِهِمْ لَىِٕنْ جَآءَتْهُمْ اٰیَةٌ لَّیُؤْمِنُنَّ بِهَا ؕ قُلْ اِنَّمَا الْاٰیٰتُ عِنْدَ اللّٰهِ وَ مَا یُشْعِرُكُمْ ۙ اَنَّهَاۤ اِذَا جَآءَتْ لَا یُؤْمِنُوْنَ 109
109. এসব কাফেরেরা আল্লাহর নামে কঠিনভাবে শপথ করে বলে, যদি আমাদের কাছে কোনো অলৌকিক নিদর্শন উপস্থিত হয়, তবে অবশ্যই আমরা ঈমানদার হয়ে যাবো। হে নবী, ওদের বলো, নিদর্শন দেখানোর এখতিয়ার কেবল আল্লাহর। ওদেরকে যতোই নিদর্শন দেখানো হোক না কেন, ওরা কখনো ঈমান আনবে নাÑ তোমরা কি এ কথা এখনও বুঝতে পারছো না?
وَ نُقَلِّبُ اَفْـِٕدَتَهُمْ وَ اَبْصَارَهُمْ كَمَا لَمْ یُؤْمِنُوْا بِهٖۤ اَوَّلَ مَرَّةٍ وَّ نَذَرُهُمْ فِیْ طُغْیَانِهِمْ یَعْمَهُوْنَ۠ 110
110. ১১০. ওদেরকে প্রথম যখন দাওয়াত দেওয়া হয়েছিলো, তখন ওরা ঈমান আনেনি। আর এখন যখন ওদের অন্তর ও দৃষ্টিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়েছি, তখন বিদ্রোহ ও অবাধ্যতার মধ্যে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ানো ছাড়া ওদের আর কোনো পথ নেই।
وَ لَوْ اَنَّنَا نَزَّلْنَاۤ اِلَیْهِمُ الْمَلٰٓىِٕكَةَ وَ كَلَّمَهُمُ الْمَوْتٰی وَ حَشَرْنَا عَلَیْهِمْ كُلَّ شَیْءٍ قُبُلًا مَّا كَانُوْا لِیُؤْمِنُوْۤا اِلَّاۤ اَنْ یَّشَآءَ اللّٰهُ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَهُمْ یَجْهَلُوْنَ 111
111. জেনে রেখো, ওরা কোনোদিনই ঈমান আনবে না। যদি আমি ওদের চোখের সামনে আকাশ থেকে ফেরেশতা নামিয়ে দেখাই, অথবা মৃতদেরকে ওদের সাথে কথা বলাই, কিংবা সারা দুনিয়ার সব জিনিস ওদের চোখের সামনে একসাথে তুলে ধরি, তবুও না। তবে আল্লাহর ইচ্ছা হলে ভিন্ন কথা। আসলে ওদের অধিকাংশই অজ্ঞতায় ডুবে আছে।
وَ كَذٰلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِیٍّ عَدُوًّا شَیٰطِیْنَ الْاِنْسِ وَ الْجِنِّ یُوْحِیْ بَعْضُهُمْ اِلٰی بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُوْرًا ؕ وَ لَوْ شَآءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوْهُ فَذَرْهُمْ وَ مَا یَفْتَرُوْنَ 112
112. হে নবী, আমি প্রত্যেক নবীর জন্য কিছু না কিছু শত্রু বানিয়ে রেখেছি, যাদের সবাই শয়তানের অনুসারী মানুষ কিংবা জিন। ওরা চমকপ্রদ চাতুর্যপূর্ণ কথা দ্বারা একে অপরকে বিভ্রান্ত করে। অবশ্য তোমার রব চাইলে ওরা এ কাজ করতে পারতো না। কাজেই ওদের উপেক্ষা করো। ওরা নিজেদের মিথ্যা রচনায় ডুবে থাকুক।
وَلِتَصْغٰۤی اِلَیْهِ اَفْـِٕدَةُ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ وَلِیَرْضَوْهُ وَلِیَقْتَرِفُوْا مَا هُمْ مُّقْتَرِفُوْنَ 113
113. এসব শয়তানি শক্তির বিভ্রান্তিকর প্ররোচনার উদ্দেশ্য হচ্ছে, যারা আখেরাতের জীবনে বিশ্বাস করে না এমন লোকেরা যেনো ওদের মিথ্যায় আসক্ত হয়, ওদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে এবং ওরা যে অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে, তারাও যেনো ঠিক সে অপকর্মই করতে থাকে।
اَفَغَیْرَ اللّٰهِ اَبْتَغِیْ حَكَمًا وَّ هُوَ الَّذِیْۤ اَنْزَلَ اِلَیْكُمُ الْكِتٰبَ مُفَصَّلًا ؕ وَالَّذِیْنَ اٰتَیْنٰهُمُ الْكِتٰبَ یَعْلَمُوْنَ اَنَّهٗ مُنَزَّلٌ مِّنْ رَّبِّكَ بِالْحَقِّ فَلَا تَكُوْنَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِیْنَ 114
114. হে নবী, তুমি ওদের জিজ্ঞেস করো, যখন আল্লাহ বিস্তারিত বিবরণসহ এ কিতাব তোমাদের কাছে নাযিল করেছেন, তখন আমি কি তাকে ছাড়া অন্য কাউকে সালিশ মানতে পারি? হে নবী, বস্তুত তোমার আগে যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তারা একথা ভালোকরে জানে যে, এ কুরআন তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্যসহ নাযিল হয়েছে। অতএব তুমি সন্দেহ পোষণকারীদের দলভুক্ত হয়ো না।
وَ تَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ صِدْقًا وَّ عَدْلًا ؕ لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمٰتِهٖ ۚ وَهُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ 115
115. জেনে রেখো, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার দিক দিয়ে তোমার রবের কথাগুলো পূর্ণাঙ্গ। তাঁর ফরমান পরিবর্তন করার কেউ নেই। নিশ্চয়ই তিনি সব শোনেন, সব জানেন।
وَ اِنْ تُطِعْ اَكْثَرَ مَنْ فِی الْاَرْضِ یُضِلُّوْكَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ؕ اِنْ یَّتَّبِعُوْنَ اِلَّا الظَّنَّ وَ اِنْ هُمْ اِلَّا یَخْرُصُوْنَ 116
116. হে নবী, তুমি যদি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথা মতো চলো, তবে ওরা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। এসব লোকেরাতো শুধু আন্দাজ-অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলে এবং খেয়াল-খুশির গোলামী করে চলে।
اِنَّ رَبَّكَ هُوَ اَعْلَمُ مَنْ یَّضِلُّ عَنْ سَبِیْلِهٖ ۚ وَ هُوَ اَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِیْنَ 117
117. নিশ্চয়ই তোমার রব ভালোকরেই জানেন যে, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, আর কে তাঁর দেয়া সহজ-সঠিক পথে অবিচল টিকে আছে।
فَكُلُوْا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللّٰهِ عَلَیْهِ اِنْ كُنْتُمْ بِاٰیٰتِهٖ مُؤْمِنِیْنَ 118
118. হে ঈমানদারেরা, তোমরা যদি আমার নির্দেশের প্রতি সত্যিই অনুগত থাকো, তবে যে প্রাণীকে আল্লাহর নামে জবেহ করা হয়েছে, তার গোশত খাও।
وَ مَا لَكُمْ اَلَّا تَاْكُلُوْا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللّٰهِ عَلَیْهِ وَ قَدْ فَصَّلَ لَكُمْ مَّا حَرَّمَ عَلَیْكُمْ اِلَّا مَا اضْطُرِرْتُمْ اِلَیْهِ ؕ وَ اِنَّ كَثِیْرًا لَّیُضِلُّوْنَ بِاَهْوَآىِٕهِمْ بِغَیْرِ عِلْمٍ ؕ اِنَّ رَبَّكَ هُوَ اَعْلَمُ بِالْمُعْتَدِیْنَ 119
119. যে প্রাণী জবেহ করার সময় তার উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে, সেটি না খাওয়ায় তোমাদের কাছে কী যুক্তি থাকতে পারে? তোমরা কোন্ কোন্ জিনিস খাবে না, তিনি তো তা আগেই তোমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। তবে নিরুপায় হয়ে সে হারাম জিনিস খেলে তা ভিন্ন কথা। আসলে অধিকাংশের অবস্থা এমন যে, জ্ঞান-বুদ্ধি ছাড়াই নিজেদের খেয়াল-খুশির আলোকে চলতে গিয়ে বিপথগামী হচ্ছে। বস্তুত তোমার রব এসব সীমালঙ্ঘনকারী অবাধ্যদের ভালোকরেই জানেন।
وَ ذَرُوْا ظَاهِرَ الْاِثْمِ وَ بَاطِنَهٗ ؕ اِنَّ الَّذِیْنَ یَكْسِبُوْنَ الْاِثْمَ سَیُجْزَوْنَ بِمَا كَانُوْا یَقْتَرِفُوْنَ 120
120. তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন সব ধরনের পাপ থেকে দূরে থাকো। কেননা যারা একের পর এক পাপ করে চলছে, ওরা অচিরেই ওদের কৃতকর্মের ভয়ানক প্রতিদান পাবে।
وَ لَا تَاْكُلُوْا مِمَّا لَمْ یُذْكَرِ اسْمُ اللّٰهِ عَلَیْهِ وَ اِنَّهٗ لَفِسْقٌ ؕ وَ اِنَّ الشَّیٰطِیْنَ لَیُوْحُوْنَ اِلٰۤی اَوْلِیٰٓـئِهِمْ لِیُجَادِلُوْكُمْ ۚ وَاِنْ اَطَعْتُمُوْهُمْ اِنَّكُمْ لَمُشْرِكُوْنَ۠ 121
121. যে প্রাণী জবেহ করার সময় আল্লাহর নাম ইচ্ছে করে পরিহার করা হয়েছে, তোমরা তা খেও না। এটা অবশ্যই বড় ধরনের পাপ। আর শয়তান সবসময় তার সঙ্গী-সাথিদের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয় তোমাদের সাথে বেহুদা বিতর্কে জড়াতে। অতএব সাবধান থেকো, কখনো যদি তোমরা ওদের ফাঁদে পা দাও, তবে ওরা তোমাদেরকে শেষমেশ মুশরিক বানিয়ে ছাড়বে।
اَوَ مَنْ كَانَ مَیْتًا فَاَحْیَیْنٰهُ وَ جَعَلْنَا لَهٗ نُوْرًا یَّمْشِیْ بِهٖ فِی النَّاسِ كَمَنْ مَّثَلُهٗ فِی الظُّلُمٰتِ لَیْسَ بِخَارِجٍ مِّنْهَا ؕ كَذٰلِكَ زُیِّنَ لِلْكٰفِرِیْنَ مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 122
122. একটু চিন্তা করে দেখো, এ দুই ব্যক্তির অবস্থা কি সমান হতে পারে, যার একজনকে মৃত থেকে জীবিত করে মানুষের মধ্যে চলার জন্যে উজ্জ্বল আলো দেয়া হয়েছে, আর আপরজন সম্পূর্ণ অন্ধকারে পড়ে রয়েছে এবং সেখান থেকে কোনোক্রমেই সে বের হতে চাইছে না? আসলে কাফেরদের জন্য এভাবেই তাদের কাজকর্মকে মনোমুগ্ধকর বানিয়ে রাখা হয়েছে।
وَ كَذٰلِكَ جَعَلْنَا فِیْ كُلِّ قَرْیَةٍ اَكٰبِرَ مُجْرِمِیْهَا لِیَمْكُرُوْا فِیْهَا ؕ وَمَا یَمْكُرُوْنَ اِلَّا بِاَنْفُسِهِمْ وَمَا یَشْعُرُوْنَ 123
123. আর এভাবেই আমি প্রত্যেক জনপদে বড়বড় অপরাধীদেরকে প্রতারণা ও চক্রান্তের জাল বোনার জন্যে সামান্য অবকাশ দিয়ে রাখি। তবে শেষ পর্যন্ত ওরা নিজেরাই সে জালে আটকা পড়ে। কিন্তু হায়! জাল বোনার সময় যদি এর পরিণাম টের পেতো!
وَ اِذَا جَآءَتْهُمْ اٰیَةٌ قَالُوْا لَنْ نُّؤْمِنَ حَتّٰی نُؤْتٰی مِثْلَ مَاۤ اُوْتِیَ رُسُلُ اللّٰهِ ؔۘؕ اَللّٰهُ اَعْلَمُ حَیْثُ یَجْعَلُ رِسَالَتَهٗ ؕ سَیُصِیْبُ الَّذِیْنَ اَجْرَمُوْا صَغَارٌ عِنْدَ اللّٰهِ وَعَذَابٌ شَدِیْدٌۢ بِمَا كَانُوْا یَمْكُرُوْنَ 124
124. এসব অপরাধীদের কাছে যখনই আল্লাহর কোনো আয়াত আসে, ওরা সাথেসাথেই বলে দেয়, আমরা এসব আয়াত মানবো না যদি না আমাদেরকে তাই দেয়া হয়, যা আল্লাহ তাঁর রসুলদের দিয়েছেন। ওদের সাফ জানিয়ে দাও, আল্লাহ কাকে রসুল বানাবেন, সেটা তিনি ভালোই জানেন। তোমরা নিশ্চিত থাকো, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের কারণে ওরা অচিরেই আল্লাহর কাছে লাঞ্ছনা ও কঠিন আযাবের মুখোমুখি হবে।
فَمَنْ یُّرِدِ اللّٰهُ اَنْ یَّهْدِیَهٗ یَشْرَحْ صَدْرَهٗ لِلْاِسْلَامِ ۚ وَ مَنْ یُّرِدْ اَنْ یُّضِلَّهٗ یَجْعَلْ صَدْرَهٗ ضَیِّقًا حَرَجًا كَاَنَّمَا یَصَّعَّدُ فِی السَّمَآءِ ؕ كَذٰلِكَ یَجْعَلُ اللّٰهُ الرِّجْسَ عَلَی الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ 125
125. প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ যাকে সত্যপথ দেখাতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্যে উন্মুক্ত করে দেন। পক্ষান্তরে যাকে গোমরাহির মধ্যে ফেলে রাখতে চান, তার বক্ষকে অতি সংকীর্ণ করে দেন। তার বক্ষ এতোই সংকীর্ণ হয়ে পড়ে যে, ইসলাম মানার কথা শুনলেই সিড়ি বেয়ে আকাশে ওঠার মতো কষ্ট অনুভব করে। আসলে আল্লাহ এভাবেই বেঈমানদারকে অপবিত্রতার মধ্যে ফেলে রাখেন।
وَ هٰذَا صِرَاطُ رَبِّكَ مُسْتَقِیْمًا ؕ قَدْ فَصَّلْنَا الْاٰیٰتِ لِقَوْمٍ یَّذَّكَّرُوْنَ 126
126. অথচ এ ইসলামই একমাত্র তোমার রবের দেখানো সহজ-সঠিক পথ। বস্তুত যারা উপদেশ গ্রহণে ইচ্ছুক, তাদের জন্যে আমার আয়াতগুলো স্পষ্টকরে বর্ণনা করছি।
لَهُمْ دَارُ السَّلٰمِ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَ هُوَ وَلِیُّهُمْ بِمَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 127
127. এসব নেক লোকেরা একদিন আপন রবের কাছে এমন আবাস পাবে, যা শান্তি ও নিরাপত্তায় ভরপুর থাকবে । বস্তুত সত্য-সঠিক কাজ করায় আল্লাহই তাদের অভিভাবক হয়েছেন।
وَ یَوْمَ یَحْشُرُهُمْ جَمِیْعًا ۚ یٰمَعْشَرَ الْجِنِّ قَدِ اسْتَكْثَرْتُمْ مِّنَ الْاِنْسِ ۚ وَقَالَ اَوْلِیٰٓؤُهُمْ مِّنَ الْاِنْسِ رَبَنَا اسْتَمْتَعَ بَعْضُنَا بِبَعْضٍ وَّ بَلَغْنَاۤ اَجَلَنَا الَّذِیْۤ اَجَّلْتَ لَنَا ؕ قَالَ النَّارُ مَثْوٰىكُمْ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اِلَّا مَا شَآءَ اللّٰهُ ؕ اِنَّ رَبَّكَ حَكِیْمٌ عَلِیْمٌ 128
128. বিচারের দিনে আল্লাহ জিন ও মানুষদের একত্রে জড়ো করবেন। এরপর জিনদের জিজ্ঞেস করবেন, বলো, তোমরা কি মানুষের অনেককে তোমাদের অনুগামী বানাওনি? তখন এদের অনুগামী মানুষেরা জবানবন্দি দেবে, হে আমাদের রব, হ্যাঁ, আমরা একে অন্যের মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছি। আর ঐ অবস্থায় দুনিয়ার হায়াত শেষ করে এখন তোমার সামনে হাজির হয়েছি। তখন আল্লাহ বলবেন, বেশ! তাহলে এবার তোমরা সবাই জাহান্নামের আগুনে আবাস গড়ো। কোনোদিনই সেখান থেকে মুক্তি পাবে না। অবশ্য আল্লাহ ভিন্ন কিছু চাইলে তা আলাদা কথা। আসলে তোমার রব বড়ই প্রজ্ঞাময় ও মহাজ্ঞানী।
وَكَذٰلِكَ نُوَلِّیْ بَعْضَ الظّٰلِمِیْنَ بَعْضًۢا بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ۠ 129
129. আর ওরা দুনিয়ায় যে অপকর্ম করেছে তার বিনিময়ে জাহান্নামে ওদেরকে পরস্পরের সাথি বানিয়ে দিবো।
یٰمَعْشَرَ الْجِنِّ وَ الْاِنْسِ اَلَمْ یَاْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنْكُمْ یَقُصُّوْنَ عَلَیْكُمْ اٰیٰتِیْ وَیُنْذِرُوْنَكُمْ لِقَآءَ یَوْمِكُمْ هٰذَا ؕ قَالُوْا شَهِدْنَا عَلٰۤی اَنْفُسِنَا وَ غَرَّتْهُمُ الْحَیٰوةُ الدُّنْیَا وَ شَهِدُوْا عَلٰۤی اَنْفُسِهِمْ اَنَّهُمْ كَانُوْا كٰفِرِیْنَ 130
130. সেদিন আল্লাহ আরো জিজ্ঞেস করবেন, হে মানুষ ও জিন, বলো, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্যে থেকে রসুলগণ আসেনি? তারা কি তোমাদেরকে আমার আয়াতসমূহ পড়ে শোনায়নি? তারা কি তোমাদেরকে আজকের এ দিনের ব্যাপারে সতর্ক করেনি? চুপ থেকো না, জবাব দাও। সেদিন ওরা উত্তর দেবে, হ্যাঁ, আজ আমরা নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছি। আসলে দুনিয়ার জীবন ওদেরকে মারাত্মকভাবে প্রতারিত করেছে। ফলে ওরা যে কাফের ছিলো, আজ নিজেরাই সে কথা সাক্ষ্য দিচ্ছে।
ذٰلِكَ اَنْ لَّمْ یَكُنْ رَّبُّكَ مُهْلِكَ الْقُرٰی بِظُلْمٍ وَّ اَهْلُهَا غٰفِلُوْنَ 131
131. আসলে এটা তোমার রবের নীতি নয় যে, কোনো জনপদের লোকদেরকে তাদের অন্যায় কৃতকর্মের কারণে ধ্বংস করে দেবেন; অথচ তাদেরকে সতর্ক করার জন্যে কোনো পয়গাম পাঠাবেন না।
وَ لِكُلٍّ دَرَجٰتٌ مِّمَّا عَمِلُوْا ؕ وَ مَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا یَعْمَلُوْنَ 132
132. মনে রেখো, প্রত্যেক ব্যক্তির মর্যাদা নির্ধারিত হয় তার কাজ অনুযায়ী। আর তোমার রব লোকদের কাজকর্ম সম্পর্কে গাফেল নন।
وَ رَبُّكَ الْغَنِیُّ ذُو الرَّحْمَةِ ؕ اِنْ یَّشَاْ یُذْهِبْكُمْ وَ یَسْتَخْلِفْ مِنْۢ بَعْدِكُمْ مَّا یَشَآءُ كَمَاۤ اَنْشَاَكُمْ مِّنْ ذُرِّیَّةِ قَوْمٍ اٰخَرِیْنَؕ 133
133. জেনে রেখো, তোমার রব জগতের কারো মুখাপেক্ষী নন; বরং তিনিই সবার প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করে যাচ্ছেন। কাজেই তিনি চাইলে তোমাদেরকে সরিয়ে তাঁর পছন্দনীয় অন্য কোনো জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করতে পারেন। যেমন ইতোপূর্বে তোমাদেরকে তিনি অন্য জাতি থেকে বের করে এনেছেন।
اِنَّ مَا تُوْعَدُوْنَ لَاٰتٍ ۙ وَّ مَاۤ اَنْتُمْ بِمُعْجِزِیْنَ 134
134. মনে রেখো, তোমাদেরকে যে কেয়ামতের ওয়াদা দেয়া হচ্ছে, তা অবশ্যই সংঘটিত হবে। তোমরা কোনোভাবেই তা ঠেকাতে পারবে না।
قُلْ یٰقَوْمِ اعْمَلُوْا عَلٰی مَكَانَتِكُمْ اِنِّیْ عَامِلٌ ۚ فَسَوْفَ تَعْلَمُوْنَ ۙ مَنْ تَكُوْنُ لَهٗ عَاقِبَةُ الدَّارِ ؕ اِنَّهٗ لَا یُفْلِحُ الظّٰلِمُوْنَ 135
135. হে নবী, তুমি এসব জালেমদের ডেকে বলে দাও, ঠিক আছে, তোমরা তোমাদের মতো কাজ চালিয়ে যাও। আর আমিও আমার মতো কাজ চালিয়ে যাই। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কার পরিণাম কল্যাণময় হয়েছে। তবে এটা ভুলে যেয়ো না যে, অত্যাচারী পাপাচারীরা কখনোই সফলতার নাগাল পায় না।
وَ جَعَلُوْا لِلّٰهِ مِمَّا ذَرَاَ مِنَ الْحَرْثِ وَالْاَنْعَامِ نَصِیْبًا فَقَالُوْا هٰذَا لِلّٰهِ بِزَعْمِهِمْ وَ هٰذَا لِشُرَكَآىِٕنَا ۚ فَمَا كَانَ لِشُرَكَآىِٕهِمْ فَلَا یَصِلُ اِلَی اللّٰهِ ۚ وَ مَا كَانَ لِلّٰهِ فَهُوَ یَصِلُ اِلٰی شُرَكَآىِٕهِمْ ؕ سَآءَ مَا یَحْكُمُوْنَ 136
136. এসব জালেমদের আচরণ দেখো, ওরা নিজেদের খেয়াল-খুশি অনুযায়ী ক্ষেত-খামার ও গবাদি পশুর একটা অংশকে আল্লাহর জন্যে নির্দিষ্ট করছে এবং আরেকটা অংশ ওদের বানানো খোদাদের নামে উৎসর্গ করছে। অথচ এসব ক্ষেত-খামার ও পশুপাখির সবটাই কেবল আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন। ওদের আরো নোংরা মানসিকতা দেখো, ওরা কখনোই ওদের বানানো খোদাদের প্রাপ্য অংশ থেকে সামান্য কমিয়ে আল্লাহর অংশ বাড়ায় না। অথচ হরদম আল্লাহর অংশ কেটে ঐসব খোদাদের অংশ বাড়িয়ে যাচ্ছে। হায় আফসোস! ওদের বিচার-বিবেচনা কতোই না নিকৃষ্ট।
وَ كَذٰلِكَ زَیَّنَ لِكَثِیْرٍ مِّنَ الْمُشْرِكِیْنَ قَتْلَ اَوْلَادِهِمْ شُرَكَآؤُهُمْ لِیُرْدُوْهُمْ وَلِیَلْبِسُوْا عَلَیْهِمْ دِیْنَهُمْ ؕ وَ لَوْ شَآءَ اللّٰهُ مَا فَعَلُوْهُ فَذَرْهُمْ وَ مَا یَفْتَرُوْنَ 137
137. এভাবেই এসব ভ্রান্ত খোদারা ওদের বহু মুশরিক অনুসারীকে আপন সন্তানকে হত্যা করাকেও শোভন করে। আসলে ঐসব খোদারা এটাই চায় যে, এসব লোকেরা ধ্বংস হোক এবং সত্যদ্বীন থেকে বিভ্রান্ত থাকুক। অবশ্য আল্লাহ চাইলে ওরা এসব করতো না। কাজেই হে নবী, ওদেরকে উপেক্ষা করো, ওরা নিজেদের মিথ্যায় ডুবে থাকুক।
وَ قَالُوْا هٰذِهٖۤ اَنْعَامٌ وَّ حَرْثٌ حِجْرٌ ۖۗ لَّا یَطْعَمُهَاۤ اِلَّا مَنْ نَّشَآءُ بِزَعْمِهِمْ وَاَنْعَامٌ حُرِّمَتْ ظُهُوْرُهَا وَ اَنْعَامٌ لَّا یَذْكُرُوْنَ اسْمَ اللّٰهِ عَلَیْهَا افْتِرَآءً عَلَیْهِ ؕ سَیَجْزِیْهِمْ بِمَا كَانُوْا یَفْتَرُوْنَ 138
138. ওরা আবার বলে, এসব গবাদি পশু ও ক্ষেত-খামার সুরক্ষিত। আমাদের ইচ্ছা ছাড়া অন্য কেউ এসব খেতে পারবে না। আবার ওরা কিছু পশুর পিঠে চড়া ও মালামাল বহন করাকে হারাম মনে করে। আর কিছু গবাদি পশু যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা থেকে বিরত থাকে। এ সব বিধি-বিধান আল্লাহর দেয়া বলে লোকদের কাছে আল্লাহর নামে মিথ্যা বলে। আফসোস! ওরা অচিরেই ওদের এ মিথ্যা রটনার পূর্ণ বিনিময় পেয়ে যাবে।
وَ قَالُوْا مَا فِیْ بُطُوْنِ هٰذِهِ الْاَنْعَامِ خَالِصَةٌ لِّذُكُوْرِنَا وَ مُحَرَّمٌ عَلٰۤی اَزْوَاجِنَا ۚ وَ اِنْ یَّكُنْ مَّیْتَةً فَهُمْ فِیْهِ شُرَكَآءُ ؕ سَیَجْزِیْهِمْ وَصْفَهُمْ ؕ اِنَّهٗ حَكِیْمٌ عَلِیْمٌ 139
139. ওদের আজব কথা শোনো, ওরা বলে, এসব গবাদি পশুর পেটে যে বাচ্চা রয়েছে তা কেবল আমাদের পুরুষেরা খেতে পারবে; নারীরা খেতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, যদি এসব বাচ্চা মৃত অবস্থায় বের হয়, তবে নারীরা আমাদের সাথে তা খেতে পারবে। ওদের এসব মনগড়া কথা-বার্তার পূর্ণ প্রতিফল অচিরেই ওরা পেয়ে যাবে। ওদের মনে রাখা উচিত, আল্লাহ প্রজ্ঞাময়, আল্লাহ মহাজ্ঞানী।
قَدْ خَسِرَ الَّذِیْنَ قَتَلُوْۤا اَوْلَادَهُمْ سَفَهًۢا بِغَیْرِ عِلْمٍ وَّ حَرَّمُوْا مَا رَزَقَهُمُ اللّٰهُ افْتِرَآءً عَلَی اللّٰهِ ؕ قَدْ ضَلُّوْا وَ مَا كَانُوْا مُهْتَدِیْنَ۠ 140
140. জেনে রেখো, সে লোকেরা পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা সম্পূর্ণ অজ্ঞতাবশত বোকামি করে আপন সন্তানদের হত্যা করেছে এবং আল্লাহর হালাল করা রিজিককে তাঁর নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হারাম করে নিয়েছে। নিশ্চিতভাবে ওরা পথ হারিয়েছে। কাজেই ওরা আর সত্যপন্থীদের দলভুক্ত নয়।
وَ هُوَ الَّذِیْۤ اَنْشَاَ جَنّٰتٍ مَّعْرُوْشٰتٍ وَّغَیْرَ مَعْرُوْشٰتٍ وَّ النَّخْلَ وَ الزَّرْعَ مُخْتَلِفًا اُكُلُهٗ وَ الزَّیْتُوْنَ وَ الرُّمَّانَ مُتَشَابِهًا وَّ غَیْرَ مُتَشَابِهٍ ؕ كُلُوْا مِنْ ثَمَرِهٖۤ اِذَاۤ اَثْمَرَ وَ اٰتُوْا حَقَّهٗ یَوْمَ حَصَادِهٖ ۖؗ وَ لَا تُسْرِفُوْا ؕ اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الْمُسْرِفِیْنَۙ 141
141. আল্লাহই তোমাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের লতাপাতার ক্ষেত-খামার ও মজবুত কাÐের গাছ-গাছালির বাগান বানিয়েছেন। তোমরা খেজুরের বাগান দেখে তার প্রমাণ পেতে পারো। তিনি তোমাদের জন্য নানা ধরনের শস্য-ফসল উৎপন্ন করেছেন। তোমরা তা থেকে প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করে থাকো। তিনি জলপাই ও ডালিমের মতো ফলও সৃষ্টি করেছেন। এসব ফল কখনো একই রকম হয়, আবার কখনো ভিন্ন বৈশিষ্ট্যেরও হয়। অতএব এসব ফল যখন খাওয়ার উপযুক্ত হয়, তখন তোমরা তা খাও। তবে এ তা কাটার দিন আল্লাহর সঠিক হিস্যা আদায় করো। আর সাবধান! কখনো অপচয় করো না। কেননা আপচয়কারীরা কখনো আল্লাহর ভালোবাসা পায় না।
وَ مِنَ الْاَنْعَامِ حَمُوْلَةً وَّ فَرْشًا ؕ كُلُوْا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللّٰهُ وَ لَا تَتَّبِعُوْا خُطُوٰتِ الشَّیْطٰنِ ؕ اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِیْنٌۙ 142
142. তিনি এসব গবাদি পশুর কিছুকে মালবাহী, আবার কিছুকে খাদ্য ও পোশাক সরবরাহকারী করেছেন। কাজেই আল্লাহর দেয়া হালাল রিজিক থেকে তোমরা নির্দ্বিধায় খাও। এ ব্যাপারে কখনো শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। কারণ শয়তানতো তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।
ثَمٰنِیَةَ اَزْوَاجٍ ۚ مِنَ الضَّاْنِ اثْنَیْنِ وَمِنَ الْمَعْزِ اثْنَیْنِ ؕ قُلْ ءٰٓالذَّكَرَیْنِ حَرَّمَ اَمِ الْاُنْثَیَیْنِ اَمَّا اشْتَمَلَتْ عَلَیْهِ اَرْحَامُ الْاُنْثَیَیْنِ ؕ نَبِّـُٔوْنِیْ بِعِلْمٍ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَۙ 143
143. আল্লাহ তোমাদের জন্যে আট ধরনের গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে একটি পুরুষ ভেড়া ও একটি স্ত্রী ভেড়া এবং একটি পুরুষ ছাগল ও একটি স্ত্রী ছাগল রয়েছে। হে নবী, তুমি মুশরিকদের জিজ্ঞেস করো, আল্লাহ এসবের কোন্গুলোকে হারাম করেছেনÑ পুরুষগুলোকে নাকি স্ত্রীগুলোকে, নাকি স্ত্রীগুলোর পেটে যা আছে সেগুলোকে? তোমাদের বলে বেড়ানো কথাগুলো যদি সত্যিই আল্লাহর হয়ে থকে, তবে যথার্থ প্রমাণ হাজির করো।
وَ مِنَ الْاِبِلِ اثْنَیْنِ وَ مِنَ الْبَقَرِ اثْنَیْنِ ؕ قُلْ ءٰٓالذَّكَرَیْنِ حَرَّمَ اَمِ الْاُنْثَیَیْنِ اَمَّا اشْتَمَلَتْ عَلَیْهِ اَرْحَامُ الْاُنْثَیَیْنِ ؕ اَمْ كُنْتُمْ شُهَدَآءَ اِذْ وَصّٰىكُمُ اللّٰهُ بِهٰذَا ۚ فَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا لِّیُضِلَّ النَّاسَ بِغَیْرِ عِلْمٍ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الظّٰلِمِیْنَ۠ 144
144. একইভাবে পুরুষ ও স্ত্রী উট এবং পুরুষ ও স্ত্রী গরু রয়েছে। এখন ওরা নিজেরাই বলুক, আল্লাহ এসবের পুরুষগুলোকে হারাম করেছেন নাকি স্ত্রীগুলোকে, নাকি স্ত্রীগুলো পেটে যা বহন করছে সেগুলোকে? হে নবী, ওদের জিজ্ঞেস করো, আচ্ছা! আল্লাহ যখন এ হুকুম নাযিল করছিলেন, তখন কি তোমরা নিজ চোখে তা দেখছিলে, নাকি এসব বাপ-দাদার কাছ থেকে পেয়েছো? কাজেই যারা নিজেদের মনগড়া কথাকে আল্লাহর নামে চালিয়ে দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, ওদের চেয়ে ভয়ঙ্কর জালেম আর কে হতে পারে? জেনে রেখো, এ ধরনের জালেমদের সহজ-সঠিক পথ দেখানো আল্লাহর নীতি নয়।
قُلْ لَّاۤ اَجِدُ فِیْ مَاۤ اُوْحِیَ اِلَیَّ مُحَرَّمًا عَلٰی طَاعِمٍ یَّطْعَمُهٗۤ اِلَّاۤ اَنْ یَّكُوْنَ مَیْتَةً اَوْ دَمًا مَّسْفُوْحًا اَوْ لَحْمَ خِنْزِیْرٍ فَاِنَّهٗ رِجْسٌ اَوْ فِسْقًا اُهِلَّ لِغَیْرِ اللّٰهِ بِهٖ ۚ فَمَنِ اضْطُرَّ غَیْرَ بَاغٍ وَّ لَا عَادٍ فَاِنَّ رَبَّكَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 145
145. হে নবী, লোকদের বলো, আমার কাছে অহির মাধ্যমে যে বিধি-বিধান দেয়া হয়েছে, তাতে মানুষের খাবার হিসাবে কেবল মৃত প্রাণী, বহমান রক্ত ও শূকরের মাংসকেই হারাম করা হয়েছে। কেননা এগুলো স্পষ্টত নাপাক জিনিস। অবশ্য সেসব হালাল প্রাণীও নাপাকে পরিণত হবে, যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। তবে কেউ যদি বাড়াবাড়ির মানসিকতা না রেখে নিছক নিরুপায় হয়ে এসবের কিছু থেকে খায়, তবে সেক্ষেত্রে তাকে অবকাশ দেয়া হচ্ছে। কেননা তোমার রব বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই অনুগ্রহকারী।
وَ عَلَی الَّذِیْنَ هَادُوْا حَرَّمْنَا كُلَّ ذِیْ ظُفُرٍ ۚ وَ مِنَ الْبَقَرِ وَ الْغَنَمِ حَرَّمْنَا عَلَیْهِمْ شُحُوْمَهُمَاۤ اِلَّا مَا حَمَلَتْ ظُهُوْرُهُمَاۤ اَوِ الْحَوَایَاۤ اَوْ مَا اخْتَلَطَ بِعَظْمٍ ؕ ذٰلِكَ جَزَیْنٰهُمْ بِبَغْیِهِمْ ۖؗ وَ اِنَّا لَصٰدِقُوْنَ 146
146. তবে আমি তোমাদের পূর্বে ইহুদিদের জন্য নখওয়ালা প্রাণী খাওয়া হারাম করেছিলাম। ওদের জন্য গরু ও ছাগলের চর্বিও হারাম করেছিলাম। তবে যে চর্বিগুলো এগুলোর পিঠে, পেটে ও হাড়ের সাথে মিশে থাকতোÑ তা খেতে পারতো। এই কড়াকড়ি ছিলো কেবল ওদের মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ির শাস্তি স্বরূপ। হে নবী, আমি তোমাকে যা কিছু বলছি, তার প্রতিটি কথাই শতভাগ নির্ভুল।
فَاِنْ كَذَّبُوْكَ فَقُلْ رَّبُّكُمْ ذُوْ رَحْمَةٍ وَّاسِعَةٍ ۚ وَ لَا یُرَدُّ بَاْسُهٗ عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِیْنَ 147
147. হে নবী, এরপরও যদি ওরা তোমায় মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে, তবে তার পরোয়া করো না; বরং ওদের জানাও, তোমরা যদি মেনে নাও তবে অবশ্যই তোমাদের রবের দয়া সর্বব্যাপী। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নাও তবে মনে রেখো, অপরাধীদেরকে তাঁর শাস্তি থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।
سَیَقُوْلُ الَّذِیْنَ اَشْرَكُوْا لَوْ شَآءَ اللّٰهُ مَاۤ اَشْرَكْنَا وَ لَاۤ اٰبَآؤُنَا وَ لَا حَرَّمْنَا مِنْ شَیْءٍ ؕ كَذٰلِكَ كَذَّبَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ حَتّٰی ذَاقُوْا بَاْسَنَا ؕ قُلْ هَلْ عِنْدَكُمْ مِّنْ عِلْمٍ فَتُخْرِجُوْهُ لَنَا ؕ اِنْ تَتَّبِعُوْنَ اِلَّا الظَّنَّ وَ اِنْ اَنْتُمْ اِلَّا تَخْرُصُوْنَ 148
148. ১৪৮. হে নবী, এসব মুশরিকেরা তোমায় বলবে, দেখো! আল্লাহ যদি চাইতেন তবে আমরা এবং আমাদের বাপ-দাদারা কেউই শিরক করতাম না। এমনকি আমরা এসব জিনিসকে কখনো হারাম করেও নিতাম না। হে নবী, ওদের পূর্ববর্তীরাও একই সুরে সত্যকে অস্বীকার করেছিলো। কিন্তু না! আমার কঠিন শাস্তি থেকে ওদের কেউই রেহায় পায়নি। ওদেরকে চ্যালেঞ্জ করে বলো, এ ব্যাপারে তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো জ্ঞান থাকলে তা আমাদের সামনে পেশ করো। আসলে তোমরা কেবল নিজেদের আন্দাজ-অনুমানের উপর ভর করে চলছো এবং নিজেদের মনগড়া কথা বলে বেড়াচ্ছো।
قُلْ فَلِلّٰهِ الْحُجَّةُ الْبَالِغَةُ ۚ فَلَوْ شَآءَ لَهَدٰىكُمْ اَجْمَعِیْنَ 149
149. হে নবী, ওদের বলো, তোমাদের নয়; বরং আল্লাহর দেওয়া যুক্তিই অকাট্য। আর হ্যাঁ, আল্লাহ চাইলে তোমাদের সবাইকে সহজ-সঠিক পথে চালাতেন।
قُلْ هَلُمَّ شُهَدَآءَكُمُ الَّذِیْنَ یَشْهَدُوْنَ اَنَّ اللّٰهَ حَرَّمَ هٰذَا ۚ فَاِنْ شَهِدُوْا فَلَا تَشْهَدْ مَعَهُمْ ۚ وَ لَا تَتَّبِعْ اَهْوَآءَ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ وَ هُمْ بِرَبِّهِمْ یَعْدِلُوْنَ۠ 150
150. হে নবী, ওদের আরো বলো, তোমাদের সেসব সাক্ষী হাজির করো, যারা এ সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ এসব জিনিস হারাম করেছেন। এরপর ওরা যদি সত্যিই মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়, তবে তুমি ওদের সাক্ষ্য কখনোই গ্রহণ করো না। হে নবী, খবরদার! কখনোই ওদের মনগড়া পথে হেঁটো না। কেননা ওরা আমার আয়াতগুলোকে বারবার অস্বীকার করেছে, আখেরাতকে অবিশ্বাস করেছে। ওরা ওদের আসল রবের সাথে অন্যদের সমকক্ষ বানাচ্ছে।
قُلْ تَعَالَوْا اَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَیْكُمْ اَلَّا تُشْرِكُوْا بِهٖ شَیْـًٔا وَّبِالْوَالِدَیْنِ اِحْسَانًا ۚ وَ لَا تَقْتُلُوْۤا اَوْلَادَكُمْ مِّنْ اِمْلَاقٍ ؕ نَحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَاِیَّاهُمْ ۚ وَ لَا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَ مَا بَطَنَ ۚ وَ لَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِیْ حَرَّمَ اللّٰهُ اِلَّا بِالْحَقِّ ؕ ذٰلِكُمْ وَصّٰىكُمْ بِهٖ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُوْنَ 151
151. হে নবী, ওদের ডেকে বলো, এসো আমি তোমাদের পড়ে শুনাই, তোমাদের রব কী কী বিধি-নিষেধ দিয়েছেন। তিনি হুকুম দিয়েছেন- (এক) তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না। (দুই) বাপ-মা’র সাথে সবসময় সদাচরণ করো। (তিন) খাওয়াতে খাওয়াতে দরিদ্র হয়ে যাবেÑ এ ভয়ে সন্তান হত্যা করো না। কেননা আমি যেভাবে তোমাদেরকে রিযিক দিচ্ছি, ঠিক সেভাবে তাদেরকেও দেবো। (চার) প্রকাশ্যে ও গোপনে কখনোই অশালীন কাজের ধারেকাছেও যেয়ো না। (পাঁচ) আল্লাহ যাকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন, তাকে ন্যায়পন্থা ছাড়া কখনো হত্যা করো না। শোনো! তিনি তোমাদেরকে এসব নির্দেশ দিচ্ছেন, যাতে তোমরা ভেবে চিন্তে কাজ করবে।
وَ لَا تَقْرَبُوْا مَالَ الْیَتِیْمِ اِلَّا بِالَّتِیْ هِیَ اَحْسَنُ حَتّٰی یَبْلُغَ اَشُدَّهٗ ۚ وَ اَوْفُوا الْكَیْلَ وَ الْمِیْزَانَ بِالْقِسْطِ ۚ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا ۚ وَ اِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوْا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبٰی ۚ وَ بِعَهْدِ اللّٰهِ اَوْفُوْا ؕ ذٰلِكُمْ وَصّٰىكُمْ بِهٖ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنَۙ 152
152. ১৫২. তিনি তোমাদের প্রতি আরো হুকুম জারি করছেনÑ (ছয়) প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত এতিমের সম্পদের ধারেকাছেও তোমরা উত্তম পন্থা ছাড়া যাবে না। (সাত) ন্যায়পন্থায় ওজন ও পরিমাপকে পূর্ণ করবে। জেনে রেখো, আমি কারো উপরেই তার সাধ্যের বাইরে অতিরিক্ত দায়িত্বের বোঝা চাপাই না। (আট) সব সময় ন্যায্য কথা বলবে, এমনকি তা নিকট আত্মীয়দের বিপক্ষে গেলেও। (নয়) আল্লাহর সাথে দেয়া ওয়াদাগুলো ঠিকঠাকভাবে পূর্ণ করবে। এভাবেই আল্লাহ তোমাদেরকে নিদের্শনা দিচ্ছেন, যাতে তোমরা নসিহত মেনে চলো।
وَ اَنَّ هٰذَا صِرَاطِیْ مُسْتَقِیْمًا فَاتَّبِعُوْهُ ۚ وَ لَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِیْلِهٖ ؕ ذٰلِكُمْ وَصّٰىكُمْ بِهٖ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ 153
153. মনে রেখো, এটাই হলো আমার দেখানো সহজ-সঠিক পথ। কাজেই তোমরা কেবল এ পথ ধরেই চলো। খবরদার! শয়তানের দেখানো অন্যান্য কোনো পথেই হেঁটো না। তাহলে শয়তান তোমাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বহুদূরে নিয়ে ফেলবে। এভাবেই আল্লাহ তোমাদেরকে নসিহত করছেন, যাতে তোমরা সতর্ক হতে পারো।
ثُمَّ اٰتَیْنَا مُوْسَی الْكِتٰبَ تَمَامًا عَلَی الَّذِیْۤ اَحْسَنَ وَ تَفْصِیْلًا لِّكُلِّ شَیْءٍ وَّهُدًی وَّ رَحْمَةً لَّعَلَّهُمْ بِلِقَآءِ رَبِّهِمْ یُؤْمِنُوْنَ۠ 154
154. একসময় আমি মুসাকেও কিতাব দিয়েছিলাম, যা ছিলো সৎকর্মশীলদের জন্যে পরিপূর্ণ। সেখানে প্রয়োজনীয় সব বিষয়েই বর্ণনা ছিলো, যা তাদেরকে সহজ-সঠিক পথ দেখাতো। এ কিতাবটি ছিলো তাদের জন্যে বড়ই করুণাস্বরূপ। আর এ কিতাব এ জন্যেই দিয়েছিলাম, যাতে তারা আমার সাথে সাক্ষাতের দিনটিতে বিশ্বাসী হয়ে উঠে।
وَ هٰذَا كِتٰبٌ اَنْزَلْنٰهُ مُبٰرَكٌ فَاتَّبِعُوْهُ وَاتَّقُوْا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَۙ 155
155. ঠিক একইভাবে আমি তোমাদের কাছে এ কিতাব নাযিল করেছি, যা বড়ই বরকতময়। সুতরাং তোমরা এর দেখানো পথে চলো এবং সবর্দা আল্লাহকে ভয় করার নীতি অবলম্বন করো। তবেই তোমরা রহম পাবে।
اَنْ تَقُوْلُوْۤا اِنَّمَاۤ اُنْزِلَ الْكِتٰبُ عَلٰی طَآىِٕفَتَیْنِ مِنْ قَبْلِنَا ۪ وَ اِنْ كُنَّا عَنْ دِرَاسَتِهِمْ لَغٰفِلِیْنَۙ 156
156. এ কিতাব এজন্যেও, যাতে তোমরা বিচারের দিন এ আপত্তি তোলার সুযোগ না পাও যে, কিতাবতো শুধু আমাদের আগের দুই জাতির উপর নাযিল হয়েছিলো। আর তারা কী পড়তো ও পড়াতো, তাতো আমাদের জানা ছিল না।
اَوْ تَقُوْلُوْا لَوْ اَنَّاۤ اُنْزِلَ عَلَیْنَا الْكِتٰبُ لَكُنَّاۤ اَهْدٰی مِنْهُمْ ۚ فَقَدْ جَآءَكُمْ بَیِّنَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَ هُدًی وَّ رَحْمَةٌ ۚ فَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ كَذَّبَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ وَصَدَفَ عَنْهَا ؕ سَنَجْزِی الَّذِیْنَ یَصْدِفُوْنَ عَنْ اٰیٰتِنَا سُوْٓءَ الْعَذَابِ بِمَا كَانُوْا یَصْدِفُوْنَ 157
157. অথবা তোমরা এ অজুহাত পেশ করতে না পারো যে, যদি আমাদেরকেও কিতাব দেয়া হতো, তবে আমরা তাদের চেয়েও বেশি পরহেযগার-মুত্তাকী হয়ে যেতাম। এখন তো তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ হাজির হয়েছে। এ কিতাব তোমাদের জন্য সঠিক পথনির্দেশক ও দয়ার কারণ। এখন তোমরাই বলো, তার চেয়ে বড় জালেম আর কে, যে আমার আয়াতগুলোকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিচ্ছে এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে? জেনে রেখো, তোমাদের যারাই আমার আয়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, এ সত্য বিমুখতার কারণে তাদেরকে অবশ্যই নিকৃষ্টতম শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করাবো।
هَلْ یَنْظُرُوْنَ اِلَّاۤ اَنْ تَاْتِیَهُمُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ اَوْ یَاْتِیَ رَبُّكَ اَوْ یَاْتِیَ بَعْضُ اٰیٰتِ رَبِّكَ ؕ یَوْمَ یَاْتِیْ بَعْضُ اٰیٰتِ رَبِّكَ لَا یَنْفَعُ نَفْسًا اِیْمَانُهَا لَمْ تَكُنْ اٰمَنَتْ مِنْ قَبْلُ اَوْ كَسَبَتْ فِیْۤ اِیْمَانِهَا خَیْرًا ؕ قُلِ انْتَظِرُوْۤا اِنَّا مُنْتَظِرُوْنَ 158
158. হে নবী, তোমার জাতির লোকেরা এখন কি এ অপেক্ষায় আছে যে, তাদের কাছে আকাশ থেকে ফেরেশতা নেমে আসবে অথবা আল্লাহ নিজেই ওদের সামনে এসে দাঁড়াবেন কিংবা তোমার রবের কোনো বিশেষ নিদর্শন প্রকাশ পেয়ে যাবে? ওদের জানা উচিত, যেদিন তোমার রবের বিশেষ নিদর্শন প্রকাশ পাবে, সেদিন নতুন করে ঈমান আনার কোনো সুযোগ থাকবে না। যেহেতু ওরা এর আগে ঈমান আনেনি, এমনকি ঈমানের মাধ্যমে সামান্য কল্যাণও লাভ করেনি। হে নবী, তুমি এসব বেঈমানদের বলো, ঠিক আছে! তোমরা অপেক্ষা করো; আমরাও অপেক্ষা করছি। দেখি কাদের পরিণতি কী হয়!
اِنَّ الَّذِیْنَ فَرَّقُوْا دِیْنَهُمْ وَ كَانُوْا شِیَعًا لَّسْتَ مِنْهُمْ فِیْ شَیْءٍ ؕ اِنَّمَاۤ اَمْرُهُمْ اِلَی اللّٰهِ ثُمَّ یُنَبِّئُهُمْ بِمَا كَانُوْا یَفْعَلُوْنَ 159
159. হে নবী, যারা নিজেদের দ্বীনকে ছিন্নভিন্ন করে নানা মতের জন্ম দিয়েছে এবং নিজেরা তা নিয়ে দলাদলিতে মেতে রয়েছে, ওদের সাথে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই। ওদের ব্যাপারটি আল্লাহর হাতে ছেড়ে দাও। একদিন আসবে, যখন আল্লাহ নিজেই ওদেরকে জানিয়ে দেবেন, ওরা কতোই না মন্দ কাজ করেছিলো।
مَنْ جَآءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهٗ عَشْرُ اَمْثَالِهَا ۚ وَ مَنْ جَآءَ بِالسَّیِّئَةِ فَلَا یُجْزٰۤی اِلَّا مِثْلَهَا وَهُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ 160
160. সেদিন কেউ সামান্য একটি নেকী নিয়ে হাজির হলে, তাকে তার দশগুণ বাড়িয়ে দেয়া হবে। পক্ষান্তরে কেউ একটি পাপ নিয়ে উপস্থিত হলে, তাকে কেবল সে পাপের সমপরিমাণ শাস্তিই দেয়া হবে। সেদিন কারো উপর সামান্য জুলুমও করা হবে না।
قُلْ اِنَّنِیْ هَدٰىنِیْ رَبِّیْۤ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ ۚ۬ دِیْنًا قِیَمًا مِّلَّةَ اِبْرٰهِیْمَ حَنِیْفًا ۚ وَ مَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ 161
161. হে নবী, তুমি জানিয়ে দাও, নিশ্চয়ই আমার রব আমাকে সহজ-সঠিক পথ দেখিয়েছেন। এটাই চিরস্থায়ী সত্য-সঠিক জীবনব্যবস্থা। এটাই হলো ইবরাহিমের অনুসৃত জীবনাদর্শ। জেনো রেখো, ইবরাহিম সারা জীবনই এ পথে টিকে ছিল। সে কখনো মুশরিক ছিল না।
قُلْ اِنَّ صَلَاتِیْ وَنُسُكِیْ وَمَحْیَایَ وَمَمَاتِیْ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَۙ 162
162. হে নবী, দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দাও, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার সমস্ত ত্যাগ-কুরবানি, আমার জীবন ও মরণ সবকিছুই মহাবিশ্বের রব মহান আল্লাহর জন্য উৎসর্গিত।
لَا شَرِیْكَ لَهٗ ۚ وَبِذٰلِكَ اُمِرْتُ وَاَنَا اَوَّلُ الْمُسْلِمِیْنَ 163
163. যাঁর কোনো শরীক নেই। আর আমাকে এমন নির্দেশই দেয়া হয়েছে, যাতে আমি সবার আগেই তাঁর সামনে নতশীর হই।
قُلْ اَغَیْرَ اللّٰهِ اَبْغِیْ رَبًّا وَّ هُوَ رَبُّ كُلِّ شَیْءٍ ؕ وَ لَا تَكْسِبُ كُلُّ نَفْسٍ اِلَّا عَلَیْهَا ۚ وَ لَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِّزْرَ اُخْرٰی ۚ ثُمَّ اِلٰی رَبِّكُمْ مَّرْجِعُكُمْ فَیُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ فِیْهِ تَخْتَلِفُوْنَ 164
164. হে নবী, ওদের জিজ্ঞেস করো, যখন আল্লাহই সবকিছুর রব, তখন আমি তাকে ত্যাগ করে অন্য কোনো রবের সন্ধানে কেন নামবো? মনে রেখো, প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের কাজের জন্যে দায়ী। কেউ কারো পাপের দায় বহন করবে না। এরপর একদিন তো তোমাদের সবাইকে তোমাদের রবের সামনে হাজির হতেই হবে। সেদিন তিনি নিজেই তোমাদের সব মতবিরোধের জট খুলে দেবেন।
وَ هُوَ الَّذِیْ جَعَلَكُمْ خَلٰٓىِٕفَ الْاَرْضِ وَرَفَعَ بَعْضَكُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجٰتٍ لِّیَبْلُوَكُمْ فِیْ مَاۤ اٰتٰىكُمْ ؕ اِنَّ رَبَّكَ سَرِیْعُ الْعِقَابِ ۖؗ وَ اِنَّهٗ لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ۠ 165
165. তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীর খলিফা করেছেন। তোমাদের একদলকে আরেক দলের উপর ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা দিয়েছেন। এসব দিয়ে মূলত তিনি তোমাদের পরীক্ষা নিতে চান। ভুলে যেয়ো না, কাউকে শাস্তি দিতে তোমার রবের একটুও বিলম্ব হয় না। তবে তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই মেহেরবান।