7. আল আ’রাফ
الٓمّٓصٓۚ 1
1. আলিফ-লাম-মিম-স্বদ
كِتٰبٌ اُنْزِلَ اِلَیْكَ فَلَا یَكُنْ فِیْ صَدْرِكَ حَرَجٌ مِّنْهُ لِتُنْذِرَ بِهٖ وَذِكْرٰی لِلْمُؤْمِنِیْنَ 2
2. হে নবী, তোমায় এ কিতাব দিয়েছি, যাতে তোমার মনে কোনো সংকোচ না থাকে এবং এ কিতাব দিয়ে নাফরমানদের সতর্ক করতে পারো। মনে রেখো, এটি মুমিন বান্দাদের জন্যে উপদেশপূর্ণ একটি স্মারক।
اِتَّبِعُوْا مَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَ لَا تَتَّبِعُوْا مِنْ دُوْنِهٖۤ اَوْلِیَآءَ ؕ قَلِیْلًا مَّا تَذَكَّرُوْنَ 3
3. কাজেই হে মানুষ, তোমাদের রবের কাছ থেকে পাওয়া এ কিতাবের আলোকে জীবন চালাও। খবরদার! কখনো তাঁকে ত্যাগ করে অন্যান্য ভ্রান্ত অভিভাবকদের দেখানো পথের অনুসারী হয়ো না। হায়! তোমরা খুব কমই কথা শুনে থাকো।
وَكَمْ مِّنْ قَرْیَةٍ اَهْلَكْنٰهَا فَجَآءَهَا بَاْسُنَا بَیَاتًا اَوْ هُمْ قَآىِٕلُوْنَ 4
4. চেয়ে দেখো! কতশত জনপদ আমি ধ্বংস করেছি। ওদের কারো উপর হঠাৎ রাতের গভীরে ভয়ঙ্কর শাস্তি এসেছিলো। আবার কারো উপরে ঠিক দুপুরে হানা দিয়েছিলো, যখন ওরা ছিলো সুখ বিশ্রামে বিভোর।
فَمَا كَانَ دَعْوٰىهُمْ اِذْ جَآءَهُمْ بَاْسُنَاۤ اِلَّاۤ اَنْ قَالُوْۤا اِنَّا كُنَّا ظٰلِمِیْنَ 5
5. ওদেরকে যখন আমার কঠিন শাস্তি পাকড়াও করলো, তখন ওরা নিজেরাই এ স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হলো যে, আমরা আসলেই জালেম ছিলাম।
فَلَنَسْـَٔلَنَّ الَّذِیْنَ اُرْسِلَ اِلَیْهِمْ وَلَنَسْـَٔلَنَّ الْمُرْسَلِیْنَۙ 6
6. কাজেই যাদের কাছে আমি রসুল পাঠিয়েছি, বিচারের দিন তাদের থেকে অবশ্যই এ ব্যাপারে জবাবদিহি নেবো। এমনকি সে সব রসুলকেও ওদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করবো।
فَلَنَقُصَّنَّ عَلَیْهِمْ بِعِلْمٍ وَّ مَا كُنَّا غَآىِٕبِیْنَ 7
7. এরপর আমি তাদের সব কাজকর্মের পূর্ণ বিবরণ বর্ণনা করবো কেননা এর সবই আমার জ্ঞানে রয়েছে। তাছাড়া আমি তো কখনো ওদের থেকে অনুপস্থিত থাকিনি।
وَ الْوَزْنُ یَوْمَىِٕذِ ِ۟الْحَقُّ ۚ فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِیْنُهٗ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ 8
8. সেদিন সবকিছুর যথার্থ ওজন করা হবে। সে ওযনে যাদের নেকির পাল্লা ভারি হবে, মূলত তারাই সফল হবে।
وَ مَنْ خَفَّتْ مَوَازِیْنُهٗ فَاُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ خَسِرُوْۤا اَنْفُسَهُمْ بِمَا كَانُوْا بِاٰیٰتِنَا یَظْلِمُوْنَ 9
9. আর যাদের নেকির পাল্লা হালকা হবে, তারা ভয়ানক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। কেননা আমার আয়াতগুলোকে অমান্য করে ওরা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস ডেকে এনেছে।
وَ لَقَدْ مَكَّنّٰكُمْ فِی الْاَرْضِ وَ جَعَلْنَا لَكُمْ فِیْهَا مَعَایِشَ ؕ قَلِیْلًا مَّا تَشْكُرُوْنَ۠ 10
10. হে মানুষ, ভুলে যেয়ো না, আমিই তোমাদেরকে নানাভাবে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছি। তোমাদের জীবন ধারণের সকল উপায়-উপকরণ দিয়েছি। হায়! এসব নেয়ামতের বিনিময়ে তোমরা খুব কমই কৃতজ্ঞ হচ্ছো।
وَ لَقَدْ خَلَقْنٰكُمْ ثُمَّ صَوَّرْنٰكُمْ ثُمَّ قُلْنَا لِلْمَلٰٓىِٕكَةِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ ۖۗ فَسَجَدُوْۤا اِلَّاۤ اِبْلِیْسَ ؕ لَمْ یَكُنْ مِّنَ السّٰجِدِیْنَ 11
11. হে মানুষ, আমি শুরুতে আদমকে সৃষ্টি করলাম। তাকে সুন্দর আকৃতি-প্রকৃতি দিলাম। অতঃপর ফেরেশতাদের হুকুম করলাম, হে ফেরেশতারা, তোমরা আদমের সামনে সেজদাবনত হও। সব ফেরেশতারাই আদমকে সেজদা করলো। ইবলিস পিছিয়ে গেলো। সে এসব সেজদাকারীদের সাথে অংশ নিলো না।
قَالَ مَا مَنَعَكَ اَلَّا تَسْجُدَ اِذْ اَمَرْتُكَ ؕ قَالَ اَنَا خَیْرٌ مِّنْهُ ۚ خَلَقْتَنِیْ مِنْ نَّارٍ وَّخَلَقْتَهٗ مِنْ طِیْنٍ 12
12. তখন আল্লাহ ইবলিসকে জিজ্ঞেস করলেন, যখন আমি নিজেই তোমাকে সেজদা করার হুকুম দিলাম, তখন কে তোমাকে সেজদা করতে বাধা দিলো? ইবলিস বললো, এ কারণেই করিনি যে, সে আমার চেয়ে নিচু জাতের। কেননা তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো আগুন থেকে, আর ওকে বানিয়েছো পঁচা কাদা থেকে।
قَالَ فَاهْبِطْ مِنْهَا فَمَا یَكُوْنُ لَكَ اَنْ تَتَكَبَّرَ فِیْهَا فَاخْرُجْ اِنَّكَ مِنَ الصّٰغِرِیْنَ 13
13. আল্লাহ উত্তর শুনে বললেন, তুমি এখান থেকে নেমে যাও। আমার এখানে থেকে অহংকার করবা তা হতে পারে না। কাজেই বের হয়ে যাও। তুমি সবচেয়ে নিচ, অধমেরও অধম।
قَالَ اَنْظِرْنِیْۤ اِلٰی یَوْمِ یُبْعَثُوْنَ 14
14. তখন ইবলিস আরজ করলো, তাহলে আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দাও।
قَالَ اِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِیْنَ 15
15. আল্লাহ মঞ্জুর করলেন, বললেন, ঠিক আছে; কেয়ামতের আগে তোমাকে পাকড়াও করবো না।
قَالَ فَبِمَاۤ اَغْوَیْتَنِیْ لَاَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِیْمَۙ 16
16. এরপর ইবলিস আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ দিলো। সে বললো, আজ তুমি যে মানুষের জন্য আমাকে গোমারাহ করে দিলে, আমিও এখন থেকে তাদের জন্যে তোমার সহজ-সঠিক পথের মধ্যে ওঁৎ পেতে বসে থাকবো।
ثُمَّ لَاٰتِیَنَّهُمْ مِّنْۢ بَیْنِ اَیْدِیْهِمْ وَ مِنْ خَلْفِهِمْ وَ عَنْ اَیْمَانِهِمْ وَ عَنْ شَمَآىِٕلِهِمْ ؕ وَ لَا تَجِدُ اَكْثَرَهُمْ شٰكِرِیْنَ 17
17. সামনে-পিছনে, ডানে-বামে সবদিক থেকে আমি তাদের উপর চড়াও হবো। ফলে তাদের অধিকাংশকেই আমি তোমার অকৃতজ্ঞ-নাফরমান বান্দা বানিয়ে ছাড়বো।
قَالَ اخْرُجْ مِنْهَا مَذْءُوْمًا مَّدْحُوْرًا ؕ لَمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ لَاَمْلَـَٔنَّ جَهَنَّمَ مِنْكُمْ اَجْمَعِیْنَ 18
18. আল্লাহ আবারো বললেন, বের হয়ে যাও এখান থেকে। তুমি লাঞ্ছনা ও ধিক্কার ছাড়া আর কিছুই পাবে না। আর মনে রেখো, যদি মানুষের মধ্যে কেউ তোমার অনুসারী হয়, তবে তোমাকে ও তোমার অনুসারীদের দিয়েই আমি জাহান্নাম ভরবো।
وَ یٰۤاٰدَمُ اسْكُنْ اَنْتَ وَ زَوْجُكَ الْجَنَّةَ فَكُلَا مِنْ حَیْثُ شِئْتُمَا وَ لَا تَقْرَبَا هٰذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُوْنَا مِنَ الظّٰلِمِیْنَ 19
19. শোনো! আমি আদমকে বললাম, হে আদম, তুমি তোমার স্ত্রীকে নিয়ে এ জান্নাতে বসবাস করো। সেখানে যা তোমাদের ইচ্ছে হয়, তা খাও। তবে সাবধান, শুধু ঐ গাছটির ধারেকাছেও যেয়ো না। অন্যথায় তোমরা উভয়ে জালেমদের মধ্যে শামিল হয়ে যাবে।
فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّیْطٰنُ لِیُبْدِیَ لَهُمَا مَاوٗرِیَ عَنْهُمَا مِنْ سَوْاٰتِهِمَا وَ قَالَ مَا نَهٰىكُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هٰذِهِ الشَّجَرَةِ اِلَّاۤ اَنْ تَكُوْنَا مَلَكَیْنِ اَوْ تَكُوْنَا مِنَ الْخٰلِدِیْنَ 20
20. এরপর শয়তান তাদের উভয়কে কুমন্ত্রণা দিলো, যাতে তারা উভয়ে উলঙ্গ হয়ে পড়ে। সে উভয়কে ফুসলিয়ে-ফাসলিয়ে বলতে লাগলো, আসলে তোমাদের রব শুধু এ কারণেই তোমাদেরকে ঐ গাছের কাছে যেতে নিষেধ করেছেন, যাতে তোমরা আবার ফেরেশতা হয়ে না যাও, কিংবা এ জান্নাতেই চিরস্থায়ী বসত গড়ে না বসো।
وَ قَاسَمَهُمَاۤ اِنِّیْ لَكُمَا لَمِنَ النّٰصِحِیْنَۙ 21
21. সে একথা বলার সময়ে বারবার কসম খেয়ে বলছিলো, বিশ্বাস করো! আমি তোমাদের উভয়ের কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই চাই না।
فَدَلّٰىهُمَا بِغُرُوْرٍ ۚ فَلَمَّا ذَاقَا الشَّجَرَةَ بَدَتْ لَهُمَا سَوْاٰتُهُمَا وَ طَفِقَا یَخْصِفٰنِ عَلَیْهِمَا مِنْ وَّرَقِ الْجَنَّةِ ؕ وَ نَادٰىهُمَا رَبُّهُمَاۤ اَلَمْ اَنْهَكُمَا عَنْ تِلْكُمَا الشَّجَرَةِ وَ اَقُلْ لَّكُمَاۤ اِنَّ الشَّیْطٰنَ لَكُمَا عَدُوٌّ مُّبِیْنٌ 22
22. এভাবে এক পর্যায় সে তাদের উভয়কে প্রতারণার জালে আটকে ফেললো। এরপর যখন সত্যি সত্যি তারা উভয়ে ঐ নিষিদ্ধ গাছটির ফল খেলো, তখন সাথেসাথেই তাদের উভয়ের পোশাক খুলে গেলো। লজ্জায় তারা তখন বাগানের পাতা দিয়ে নিজেদেরকে আড়াল করতে লাগলো। এমন সময় তাদের রবের ডাক এলো, আমি কি তোমাদের উভয়কে এ গাছের ধারে-কাছে ঘেষতে নিষেধ করিনি? আমি কি তোমাদেরকে সতর্ক করিনি যে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন?
قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَاۤ اَنْفُسَنَا ٚ وَ اِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَ تَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ 23
23. তখন তারা উভয়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করলো, হে আমাদের রব, নিশ্চয়ই আমরা নিজেদের উপর জুলুম করে ফেলেছি। তুমি আমাদের ক্ষমা করো। আমাদের দয়া করো। অন্যথায় আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হবো।
قَالَ اهْبِطُوْا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۚ وَلَكُمْ فِی الْاَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَّ مَتَاعٌ اِلٰی حِیْنٍ 24
24. আল্লাহ তখন বললেন, ঠিক আছে। তবে এখন তোমরা দুনিয়ায় চলে যাও। মনে রেখো, সেখানেও শয়তানের সাথে তোমাদের চরম শত্রুতা বজায় থাকবে। দুনিয়ায় তোমাদের সবাইকে নির্দিষ্ট এক সময় পর্যন্ত বসবাস করতে হবে এবং সেখানে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সব জীবন উপকরণও পাবে।
قَالَ فِیْهَا تَحْیَوْنَ وَ فِیْهَا تَمُوْتُوْنَ وَ مِنْهَا تُخْرَجُوْنَ۠ 25
25. সে দুনিয়াতেই তোমরা জীবনযাপন করবে, সেখানেই তোমাদের মরণ হবে এবং সেখান থেকেই তোমাদের পুনরুত্থিত করা হবে।
یٰبَنِیْۤ اٰدَمَ قَدْ اَنْزَلْنَا عَلَیْكُمْ لِبَاسًا یُّوَارِیْ سَوْاٰتِكُمْ وَ رِیْشًا ؕ وَ لِبَاسُ التَّقْوٰی ۙ ذٰلِكَ خَیْرٌ ؕ ذٰلِكَ مِنْ اٰیٰتِ اللّٰهِ لَعَلَّهُمْ یَذَّكَّرُوْنَ 26
26. হে আদম সন্তানেরা, শোনো! আমি তোমাদের লজ্জা নিবারণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য পোশাক-পরিচ্ছদ নাযিল করেছি। তবে মনে রেখো, তাকওয়াই হচ্ছে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম পোশাক। এটি আল্লাহর অন্যতম এক নিদর্শন। আশা করা যায়, তোমরা এ থেকে উপদেশ গ্রহণ করবে।
یٰبَنِیْۤ اٰدَمَ لَا یَفْتِنَنَّكُمُ الشَّیْطٰنُ كَمَاۤ اَخْرَجَ اَبَوَیْكُمْ مِّنَ الْجَنَّةِ یَنْزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِیُرِیَهُمَا سَوْاٰتِهِمَا ؕ اِنَّهٗ یَرٰىكُمْ هُوَ وَ قَبِیْلُهٗ مِنْ حَیْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ ؕ اِنَّا جَعَلْنَا الشَّیٰطِیْنَ اَوْلِیَآءَ لِلَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ 27
27. হে আদম সন্তানেরা, সতর্ক থেকো, শয়তান যেনো কখনোই তোমাদের ধোঁকায় ফেলতে না পারে। ভুলে যেয়ো না, সে এর আগে তোমাদের বাপ-মা’কে ধোঁকায় ফেলে জান্নাত থেকে বের করেছে। তাদেরকে লজ্জায় ফেলানোর জন্য তাদের পোশাক খুলিয়েছিলো। আসলে শয়তান ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা তোমাদের জন্য বহু জায়গায় ওঁৎ পেতে থাকে। তোমরা ওদেরকে দেখতে পাও না। তবে আমি শয়তানকে কেবল বেঈমানদের বন্ধুত্ব ও অভিভাবকত্ব দান করি।
وَ اِذَا فَعَلُوْا فَاحِشَةً قَالُوْا وَجَدْنَا عَلَیْهَاۤ اٰبَآءَنَا وَ اللّٰهُ اَمَرَنَا بِهَا ؕ قُلْ اِنَّ اللّٰهَ لَا یَاْمُرُ بِالْفَحْشَآءِ ؕ اَتَقُوْلُوْنَ عَلَی اللّٰهِ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ 28
28. হে নবী, এসব বেঈমানেরা বহুদিন ধরে অশালীন-ফাহেশা কাজ করে বেড়াচ্ছে। ওরা যুক্তি দেখাচ্ছে যে, আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে এ কাজ করে আসছি এবং স্বয়ং আল্লাহই আমাদেরকে এমন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তুমি ওদেরকে স্পষ্ট বলে দাও, না! আল্লাহ কখনোই অশালীন কাজের আদেশ দেন না। তোমরা না জেনে আল্লাহর নামে কেন এসব বাজে কথা বলছো?
قُلْ اَمَرَ رَبِّیْ بِالْقِسْطِ ۫ وَاَقِیْمُوْا وُجُوْهَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَّادْعُوْهُ مُخْلِصِیْنَ لَهُ الدِّیْنَ ؕ۬ كَمَا بَدَاَكُمْ تَعُوْدُوْنَؕ 29
29. তুমি বলো, আমার রব সর্বদাই সততা ও ইনসাফের হুকুম দেন। তিনি আরো হুকুম করেন, প্রত্যেক ইবাদাতে নিজেদের লক্ষ্য বিশুদ্ধভাবে ঠিক করে নাও এবং তাঁর একান্ত অনুগত থেকে একনিষ্ঠভাবে কেবল তাঁকেই ডাকো। মনে রেখো, প্রথমবার যেভাবে তোমাদের সৃষ্টি করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই তোমরা আবার ফিরবে।
فَرِیْقًا هَدٰی وَ فَرِیْقًا حَقَّ عَلَیْهِمُ الضَّلٰلَةُ ؕ اِنَّهُمُ اتَّخَذُوا الشَّیٰطِیْنَ اَوْلِیَآءَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَ یَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ مُّهْتَدُوْنَ 30
30. আসলে তোমাদের একটি দল সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। আর অপর দলটির উপর গোমরাহি চেপে বসেছে। কেননা ওরা আল্লাহকে ত্যাগ করে শয়তানকেই নিজেদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারপরেও ওদের ধারণা, ওরা নাকি সত্য-সঠিক পথেই রয়েছে।
یٰبَنِیْۤ اٰدَمَ خُذُوْا زِیْنَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَّ كُلُوْا وَ اشْرَبُوْا وَ لَا تُسْرِفُوْا ۚ اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الْمُسْرِفِیْنَ۠ 31
31. হে আদম সন্তানেরা, কাজেই প্রত্যেক ইবাদাতের সময় তোমরা নিজেদেরকে শালীনভাবে সুসজ্জিত করো। তোমরা খাও এবং পান করো, তবে খবরদার! কখনো এসব ব্যাপারে সীমা ছাড়িয়ে যেয়ো না। কেননা আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।
قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِیْنَةَ اللّٰهِ الَّتِیْۤ اَخْرَجَ لِعِبَادِهٖ وَ الطَّیِّبٰتِ مِنَ الرِّزْقِ ؕ قُلْ هِیَ لِلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا خَالِصَةً یَّوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ كَذٰلِكَ نُفَصِّلُ الْاٰیٰتِ لِقَوْمٍ یَّعْلَمُوْنَ 32
32. হে নবী, ওদের জিজ্ঞেস করো, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যেসব সাজসজ্জা ও পবিত্র খাদ্যদ্রব্য বানিয়েছেন, তা হারাম করার শক্তি কার আছে? তুমি শুনিয়ে দাও, ঈমানদারেরা এসব নেয়ামত দুনিয়ার জীবনে উপভোগ করবে এবং কেয়ামতের দিন এ নেয়ামত একান্তভাবে কেবল তারাই লাভ করবে। এভাবেই আমি আমার নিদর্শনগুলো স্পষ্ট করে প্রকাশ করছি, যাতে জ্ঞানীরা কিছু শিখতে পারে।
قُلْ اِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّیَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَ مَا بَطَنَ وَ الْاِثْمَ وَ الْبَغْیَ بِغَیْرِ الْحَقِّ وَ اَنْ تُشْرِكُوْا بِاللّٰهِ مَا لَمْ یُنَزِّلْ بِهٖ سُلْطٰنًا وَّ اَنْ تَقُوْلُوْا عَلَی اللّٰهِ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ 33
33. হে নবী, ওদের বলো, আমার রব প্রকাশ্য ও গোপন সব ধরনের অশ্লীলতা, সব ধরনের গুনাহের কাজ এবং অন্যায়ভাবে সব ধরনের বাড়াবাড়ি করাকে হারাম করেছেন। তিনি আরো হারাম করেছেন তাঁর সাথে অন্য যে কোনো কিছুকে শরিক করাকে, যার বৈধতার ব্যাপারে কোনো দলিলই তিনি রাখেননি এবং না জেনে আল্লাহর নামে কোনো কথা চালিয়ে দেয়াকেও তিনি হারাম করেছেন।
وَ لِكُلِّ اُمَّةٍ اَجَلٌ ۚ فَاِذَا جَآءَ اَجَلُهُمْ لَا یَسْتَاْخِرُوْنَ سَاعَةً وَّلَا یَسْتَقْدِمُوْنَ 34
34. প্রত্যেক জাতিকেই আল্লাহ একটি নির্দিষ্ট সময় অবকাশ দিয়ে থাকেন। যখন সময় শেষ হয়ে যায়, তখন ওদেরকে পাকড়াও করা হয়। ওরা সে পাকড়াওকে সামান্য এক মুহূর্ত আগ-পিছও করতে পারে না।
یٰبَنِیْۤ اٰدَمَ اِمَّا یَاْتِیَنَّكُمْ رُسُلٌ مِّنْكُمْ یَقُصُّوْنَ عَلَیْكُمْ اٰیٰتِیْ ۙ فَمَنِ اتَّقٰی وَاَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَ لَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ 35
35. হে আদম সন্তানেরা, তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের জন্য আল্লাহর কোনো রসুল এসে যদি আমার আয়াতগুলো পড়ে শুনায়, তবে যারা আমার নাফরমানী করা থেকে বেঁচে থাকবে এবং ন্যায়-কল্যাণকর কাজ করবে, তাদের পরিণতি নিয়ে কোনো ভয় ও দুঃখের কারণ থাকবে না।
وَ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَاسْتَكْبَرُوْا عَنْهَاۤ اُولٰٓىِٕكَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ 36
36. কিন্তু মনে রেখো, যারা আমার আয়াতগুলোকে অস্বীকার করবে এবং দম্ভভরে মুখ ফিরিয়ে নেবে, ওদেরকে অবশ্যই আমি জাহান্নামের সাথে বেধে দেবো। ওরা কোনোদিনই সেখান থেকে মুক্তি পাবে না।
فَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا اَوْ كَذَّبَ بِاٰیٰتِهٖ ؕ اُولٰٓىِٕكَ یَنَالُهُمْ نَصِیْبُهُمْ مِّنَ الْكِتٰبِ ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءَتْهُمْ رُسُلُنَا یَتَوَفَّوْنَهُمْ ۙ قَالُوْۤا اَیْنَ مَا كُنْتُمْ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ؕ قَالُوْا ضَلُّوْا عَنَّا وَ شَهِدُوْا عَلٰۤی اَنْفُسِهِمْ اَنَّهُمْ كَانُوْا كٰفِرِیْنَ 37
37. জেনে রেখো, সে-ই সবচেয়ে বড় জালেম, যে নিজের মনগড়া কথা আল্লাহর নামে চালিয়ে দেয় অথবা তাঁর সত্য আয়াতগুলোকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেয়। এসব জালেমেরা দুনিয়ার জীবনে তকদিরের লিখন অনুযায়ী সামান্য অবকাশ পাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওদের কাছে আমার মৃত্যুর ফেরেশতা পৌঁছবেই। ওদের জান কবজ করতে করতে তারা জিজ্ঞেস করবে, তোমরা আল্লাহকে ত্যাগ করে যেসব ভ্রান্ত খোদাদের ডাকতে, তারা আজ কোথায়? তখন এরা আফসোস করে বলবে, ওরা আমাদের থেকে উধাও হয়ে গেছে। সেদিন এসব জালেমেরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে নেবে। সাক্ষ্য দেবে, আমরা সত্যিই কাফের ছিলাম।
قَالَ ادْخُلُوْا فِیْۤ اُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِكُمْ مِّنَ الْجِنِّ وَ الْاِنْسِ فِی النَّارِ ؕ كُلَّمَا دَخَلَتْ اُمَّةٌ لَّعَنَتْ اُخْتَهَا ؕ حَتّٰۤی اِذَا ادَّارَكُوْا فِیْهَا جَمِیْعًا ۙ قَالَتْ اُخْرٰىهُمْ لِاُوْلٰىهُمْ رَبَّنَا هٰۤؤُلَآءِ اَضَلُّوْنَا فَاٰتِهِمْ عَذَابًا ضِعْفًا مِّنَ النَّارِ ؕ۬ قَالَ لِكُلٍّ ضِعْفٌ وَّ لٰكِنْ لَّا تَعْلَمُوْنَ 38
38. সেদিন আল্লাহ হুকুম জারি করবেন, যাও, এখন তোমরাও সে জাহান্নামের বাসিন্দা হও, যেখানে তোমাদের মতো জিন ও মানুষের বহুদল ইতোমধ্যে প্রবেশ করেছে। সেদিন প্রত্যেক দলই তাদের পূর্ববর্তী দলের প্রতি অভিশাপ দিতে দিতে জাহান্নামে ঢুকবে। অবশেষে ওরা সবাই যখন জাহান্নামে একত্রিত হবে, তখন ওদের প্রত্যেক দলই রাগে-ক্ষোভে চিৎকার করে বলতে থাকবে, হে আমাদের রব, আমাদের পূর্ববর্তীরাই আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিলো। অতএব তুমি ওদেরকে আমাদের চেয়ে দ্বিগুণ আগুনের শাস্তি দাও। আল্লাহ জবাব দেবেন, তোমাদের প্রাত্যেকের জন্যেই দ্বিগুণ শাস্তি রয়েছে; কিন্তু তোমরা তা জানো না।
وَ قَالَتْ اُوْلٰىهُمْ لِاُخْرٰىهُمْ فَمَا كَانَ لَكُمْ عَلَیْنَا مِنْ فَضْلٍ فَذُوْقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْسِبُوْنَ۠ 39
39. এ সময় পূর্ববর্তী দল পরবর্তী দলের লোকদের ডেকে বলবে, যদি আমরা অপরাধী হয়ে থাকি, তবে তোমরা আমাদের চেয়ে কোনো অংশেই ভালো ছিলে না। কাজেই তোমরা যে পাপ করে এসেছো, তার শাস্তি আমরা নয়; বরং তোমরাই ভোগ করবে।
اِنَّ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَ اسْتَكْبَرُوْا عَنْهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ اَبْوَابُ السَّمَآءِ وَ لَا یَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ حَتّٰی یَلِجَ الْجَمَلُ فِیْ سَمِّ الْخِیَاطِ ؕ وَ كَذٰلِكَ نَجْزِی الْمُجْرِمِیْنَ 40
40. ভালোকরে জেনে রেখো, যারা আমার আয়াতগুলোকে মিথ্যা বলে যাচ্ছে এবং এর বিরুদ্ধে যথারীতি বিদ্রোহ করছে, ওরা কখনোই নিজেদের জন্য আমার আকাশের দরজা খোলা পাবে না। ওদের জন্য জান্নাতে প্রবেশ তেমনি অসম্ভব, যেমনি একটি সামান্য সুঁইয়ের ছিদ্র দিয়ে মোটাতাজা উটের প্রবেশ অসম্ভব। অপরাধীদের জন্যে এটাই যথার্থ পরিণতি।
لَهُمْ مِّنْ جَهَنَّمَ مِهَادٌ وَّ مِنْ فَوْقِهِمْ غَوَاشٍ ؕ وَ كَذٰلِكَ نَجْزِی الظّٰلِمِیْنَ 41
41. জাহান্নামে ওদের বিছানা ও গায়ে জড়ানো চাদর সবটাই আগুন দিয়ে বানিয়ে দেয়া হবে। জালেমদের এটাই উপযুক্ত শাস্তি।
وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَاۤ ؗ اُولٰٓىِٕكَ اَصْحٰبُ الْجَنَّةِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ 42
42. অন্যদিকে আরেক দল লোক চিরকালের জন্যে জান্নাতের হাজারো সুখ উপভোগ করবে। কারণ তারা সত্যকে মেনে নিয়েছিলো এবং সে আলোকে নেকির কাজ করেছিল। আর এটা সত্য যে, আমি কারো সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা দেই না।
وَ نَزَعْنَا مَا فِیْ صُدُوْرِهِمْ مِّنْ غِلٍّ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمُ الْاَنْهٰرُ ۚ وَ قَالُوا الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْ هَدٰىنَا لِهٰذَا ۫ وَ مَا كُنَّا لِنَهْتَدِیَ لَوْ لَاۤ اَنْ هَدٰىنَا اللّٰهُ ۚ لَقَدْ جَآءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ ؕ وَ نُوْدُوْۤا اَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ اُوْرِثْتُمُوْهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ 43
43. সেদিন জান্নাতীদের অন্তর থেকে সকল ঈর্ষা-অপবিত্রতাকে ধুয়ে মুছে দূর করা হবে। তারা জান্নাতের পাদদেশে বহু প্রবাহিত ঝর্নাধারা উপভোগ করবে। সেদিন তারা সবাই কৃতজ্ঞচিত্তে বলবে, আলহামদুলিল্লাহ! সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা কেবল আল্লাহর। তিনি মেহেরবানি করে আমাদের এ পথ দেখিয়েছেন। অন্যথায় আমরা কোনোদিনই সত্যপথ খুঁজে পেতাম না। আর আমাদের কাছে তাঁর রসুলেরা সর্বদা সত্য নিয়েই এসেছিলেন। তখন তাদের ডেকে বলা হবে, তোমাদের দুনিয়ার জীবনের পূণ্য কাজের বিনিময় হিসেবেই তোমরা এ জান্নাতের উত্তারাধিকার হয়েছো।
وَ نَادٰۤی اَصْحٰبُ الْجَنَّةِ اَصْحٰبَ النَّارِ اَنْ قَدْ وَجَدْنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّا فَهَلْ وَجَدْتُّمْ مَّا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّا ؕ قَالُوْا نَعَمْ ۚ فَاَذَّنَ مُؤَذِّنٌۢ بَیْنَهُمْ اَنْ لَّعْنَةُ اللّٰهِ عَلَی الظّٰلِمِیْنَۙ 44
44. এরপর জান্নাতীরা জাহান্নামীদের ডেকে বলবে, শোনো! আমাদের রব আমাদের যেসব কিছু দেবেন বলে ওয়াদা করেছিলেন, আমরা তার সবকিছুই ঠিকঠাক মতো বুঝে পেয়েছি। আচ্ছা! তোমাদের কী অবস্থা? তিনি তোমাদেরকে যা কিছু দেয়ার কথা বলেছিলেন, তা ঠিকমতো পেয়েছো তো? ওরা বলবে হ্যাঁ, আমরাও পেয়েছি। এরপর সেখানে একজন ঘোষণাকারী দাঁড়িয়ে ঘোষণা করবে, জালেমদের উপর আল্লাহর লানত।
الَّذِیْنَ یَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ یَبْغُوْنَهَا عِوَجًا ۚ وَ هُمْ بِالْاٰخِرَةِ كٰفِرُوْنَۘ 45
45. আসলে ওরা লোকদেরকে আল্লাহর পথে চলতে বাধা দিতো। এ সহজ-সঠিক পথটিকে জটিল ও বাঁকাপথ হিসেবে প্রচার চালাতো এবং আখেরাতের জীবনকে অস্বীকার করে বেড়াতো।
وَ بَیْنَهُمَا حِجَابٌ ۚ وَ عَلَی الْاَعْرَافِ رِجَالٌ یَّعْرِفُوْنَ كُلًّۢا بِسِیْمٰىهُمْ ۚ وَ نَادَوْا اَصْحٰبَ الْجَنَّةِ اَنْ سَلٰمٌ عَلَیْكُمْ ۫ لَمْ یَدْخُلُوْهَا وَهُمْ یَطْمَعُوْنَ 46
46. সেদিন জান্নাতী ও জাহান্নামীদের মাঝে একটি সীমান্ত এলাকা থাকবে। সেখানে আরাফবাসীরা অবস্থান করবে। তারা জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে থেকে জান্নাতের প্রত্যাশী হবে। তারা প্রত্যেককে তাদের চেহারা দেখে চিনতে পারবে। তারা জান্নাতীদেরকে ডেকে ডেকে বলবে সালামুন আলাইকুম তোমরা শান্তিতে থাকো।
وَ اِذَا صُرِفَتْ اَبْصَارُهُمْ تِلْقَآءَ اَصْحٰبِ النَّارِ ۙ قَالُوْا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ۠ 47
47. আর যখনই তাদের দৃষ্টি জাহান্নামীদের উপর পড়বে, তখন সাথেসাথেই বলবে, হে আমাদের রব, আমাদেরকে এসব জালেমদের কাতারে শামিল করো না।
وَ نَادٰۤی اَصْحٰبُ الْاَعْرَافِ رِجَالًا یَّعْرِفُوْنَهُمْ بِسِیْمٰىهُمْ قَالُوْا مَاۤ اَغْنٰی عَنْكُمْ جَمْعُكُمْ وَ مَا كُنْتُمْ تَسْتَكْبِرُوْنَ 48
48. এসময় আরাফবাসীরা কিছু বড় বড় জাহান্নামীদেরকে চেহারা দেখে চিনে ফেলবে। ওদেরকে ডেকে বলবে, কী খবর! তোমাদের ধন-সম্পদ ও লোকবল কি আজকে তোমাদের কোনো কাজে এসেছে? তোমাদের আত্মঅহংকার তোমাদের বাঁচাতে পারলো না?
اَهٰۤؤُلَآءِ الَّذِیْنَ اَقْسَمْتُمْ لَا یَنَالُهُمُ اللّٰهُ بِرَحْمَةٍ ؕ اُدْخُلُوا الْجَنَّةَ لَا خَوْفٌ عَلَیْكُمْ وَ لَاۤ اَنْتُمْ تَحْزَنُوْنَ 49
49. ঐসব জান্নাতী লোকদের দিকে চেয়ে দেখো, তাদের চিনতে পাও? ওরা কি সেসব লোক নয়, যাদের ব্যাপারে তোমরা কসমের পর কসম খেয়ে বলতে, আল্লাহর রহম কোনোদিনই তারা পাবে না? আজকে দেখো তাদেরকেই বলা হলো, তোমাদেরকে জান্নাতে স্বাগতম। এখানে তোমাদের কোনো ভয় নেই, দুঃখও নেই।
وَ نَادٰۤی اَصْحٰبُ النَّارِ اَصْحٰبَ الْجَنَّةِ اَنْ اَفِیْضُوْا عَلَیْنَا مِنَ الْمَآءِ اَوْ مِمَّا رَزَقَكُمُ اللّٰهُ ؕ قَالُوْۤا اِنَّ اللّٰهَ حَرَّمَهُمَا عَلَی الْكٰفِرِیْنَۙ 50
50. সেদিন এসব জাহান্নামীরা জান্নাতীদের ডেকে অনুরোধ করবে, দয়া করে সামান্য একটু পানি আমাদের উপর ঢেলে দাও অথবা আল্লাহ তোমাদেরকে যে খাবার দিয়েছেন তা থেকে সামান্য কিছু হলেও আমাদের জন্য নিচে ফেলাও। জান্নাতীরা সেদিন আপন মুখ ঘুরিয়ে বলে দেবে, এর কোনোটাই আল্লাহ কাফেরদের জন্যে হালাল করেননি।
الَّذِیْنَ اتَّخَذُوْا دِیْنَهُمْ لَهْوًا وَّ لَعِبًا وَّغَرَّتْهُمُ الْحَیٰوةُ الدُّنْیَا ۚ فَالْیَوْمَ نَنْسٰىهُمْ كَمَا نَسُوْا لِقَآءَ یَوْمِهِمْ هٰذَا ۙ وَ مَا كَانُوْا بِاٰیٰتِنَا یَجْحَدُوْنَ 51
51. যারা নিজেদের জীবনাদর্শ হিসেবে খেল-তামাশা ও আনন্দ-ফুর্তি করাকেই বুঝেছে এবং দুনিয়ার জীবনে মত্ত হয়ে প্রতারিত হয়েছে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, আজ আমি তোমাদেরকে ঠিক সেভাবে ভুলে গেলাম, যেভাবে তোমরা আজকের এদিনে আমার সাথে সাক্ষাতের কথা ভুলে গিয়েছিলে। আর আমার আয়াতগুলো যেভাবে অস্বীকার করেছিলে, আমিও তেমনি করলাম।
وَ لَقَدْ جِئْنٰهُمْ بِكِتٰبٍ فَصَّلْنٰهُ عَلٰی عِلْمٍ هُدًی وَّ رَحْمَةً لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ 52
52. আমি এসব লোকদের কাছে আমার কিতাব পাঠিয়েছিলাম। সে কিতাবে পূর্ণ জ্ঞানের আলোকে বিস্তারিত পথনির্দেশ দিয়েছিলাম, যা সত্যিকারের ঈমানদারদের জন্য ছিলো হেদায়াত ও রহমত স্বরূপ।
هَلْ یَنْظُرُوْنَ اِلَّا تَاْوِیْلَهٗ ؕ یَوْمَ یَاْتِیْ تَاْوِیْلُهٗ یَقُوْلُ الَّذِیْنَ نَسُوْهُ مِنْ قَبْلُ قَدْ جَآءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ ۚ فَهَلْ لَّنَا مِنْ شُفَعَآءَ فَیَشْفَعُوْا لَنَاۤ اَوْ نُرَدُّ فَنَعْمَلَ غَیْرَ الَّذِیْ كُنَّا نَعْمَلُ ؕ قَدْ خَسِرُوْۤا اَنْفُسَهُمْ وَ ضَلَّ عَنْهُمْ مَّا كَانُوْا یَفْتَرُوْنَ۠ 53
53. হে নবী, এখন এসব কফেরেরা কি সেই পরিণতি দেখার অপেক্ষা করছে, যা এ কিতাবে বর্ণনা করেছি? ওদের জানা উচিত, সেই পরিণতির দিন প্রকাশ হলে যারা এতদিন অপেক্ষায় ছিলো, ওরা বলতে বাধ্য হবে, আমাদের কাছে আল্লাহর রসুলেরা সত্য নিয়েই এসেছিলেন। আজ আমাদের জন্য এখানে কেউ সুপারিশ করার মতো আছে কি? নাকি আমাদেরকে আবার দুনিয়ায় আরেকবার যাওয়ার সুযোগ দেয়া হবে, যাতে আমরা আগের থেকে ভিন্ন আমল নিয়ে আসতে পারি? আসলে ওরা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস ডেকে এনেছে এবং ওরা যে মিথ্যা রচনা করে নিয়েছে, সেদিন তার সবকিছুই হারিয়ে যাবে।
اِنَّ رَبَّكُمُ اللّٰهُ الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ فِیْ سِتَّةِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسْتَوٰی عَلَی الْعَرْشِ ۫ یُغْشِی الَّیْلَ النَّهَارَ یَطْلُبُهٗ حَثِیْثًا ۙ وَّ الشَّمْسَ وَ الْقَمَرَ وَ النُّجُوْمَ مُسَخَّرٰتٍۭ بِاَمْرِهٖ ؕ اَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَ الْاَمْرُ ؕ تَبٰرَكَ اللّٰهُ رَبُّ الْعٰلَمِیْنَ 54
54. প্রকৃতপক্ষে আল্লাহই তোমাদের রব। জেনে রেখো, তিনি মহাকাশ ও পৃথিবীকে সময়ের মাত্র ছয় পর্বে সৃষ্টি করেছেন। এরপর তিনি তাঁর মহান আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনি খুব দ্রুতই রাত ও দিনের আবর্তন ঘটান। সূর্য, চন্দ্র ও তারকারাজি সবই তাঁর নির্দেশের অধীন। মনে রেখো, সৃষ্টি তাঁরই এবং আদেশও চলছে তাঁর। আসলে আল্লাহ বড়ই বরকতময়। তিনিই এ মহাবিশ্বের একমাত্র রব।
اُدْعُوْا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَّ خُفْیَةً ؕ اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الْمُعْتَدِیْنَۚ 55
55. কাজেই তোমরা তোমাদের রবকে ডাকো একান্ত বিনীতভাবে এবং সঙ্গোপনে। আর ভুলে যেয়ো না যে, আল্লাহ কখনোই কোনো সীমালঙ্ঘনকারীকে ভালোবাসেন না।
وَ لَا تُفْسِدُوْا فِی الْاَرْضِ بَعْدَ اِصْلَاحِهَا وَ ادْعُوْهُ خَوْفًا وَّ طَمَعًا ؕ اِنَّ رَحْمَتَ اللّٰهِ قَرِیْبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِیْنَ 56
56. সাবধান! জমিনে শান্তিময় পরিবেশ তৈরি হওয়ার পর সেখানে কোনো ধরনের বিপর্যয়-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না। বরং আল্লাহকে সর্বদা ভয় ও আশার মাধ্যমে ডাকতে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের খুবই কাছে অবস্থান করে।
وَ هُوَ الَّذِیْ یُرْسِلُ الرِّیٰحَ بُشْرًۢا بَیْنَ یَدَیْ رَحْمَتِهٖ ؕ حَتّٰۤی اِذَاۤ اَقَلَّتْ سَحَابًا ثِقَالًا سُقْنٰهُ لِبَلَدٍ مَّیِّتٍ فَاَنْزَلْنَا بِهِ الْمَآءَ فَاَخْرَجْنَا بِهٖ مِنْ كُلِّ الثَّمَرٰتِ ؕ كَذٰلِكَ نُخْرِجُ الْمَوْتٰی لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنَ 57
57. দেখো, আল্লাহ তাঁর রহমতের বৃষ্টি দেবার আগে এর সুসংবাদ বহনকারী বাতাসকে পাঠান। এরপর যখন সে বাতাস ভারি ভারি মেঘকে নিঃষ্প্রাণ জমির উপর টেনে নিয়ে যায়, তখন সে মেঘমালা থেকে আমি অঝোরে বৃষ্টি বর্ষণ করি। এভাবেই নিঃষ্প্রাণ জমিতে ফল-ফসল ভরিয়ে তুলি। এভাবেই আমি মৃতদের জীবনে ফিরিয়ে আনবো। আশা করা যায়, তোমরা এ উপদেশ নিবে।
وَ الْبَلَدُ الطَّیِّبُ یَخْرُجُ نَبَاتُهٗ بِاِذْنِ رَبِّهٖ ۚ وَ الَّذِیْ خَبُثَ لَا یَخْرُجُ اِلَّا نَكِدًا ؕ كَذٰلِكَ نُصَرِّفُ الْاٰیٰتِ لِقَوْمٍ یَّشْكُرُوْنَ۠ 58
58. তোমার রবের নীতি এমনই যে, কেবল উর্বর ও উৎকৃষ্ট জমিতেই প্রচুর ফল-ফসল ফলে। পক্ষান্তরে অনুর্বর ও নিকৃষ্ট জমিতে শত চেষ্টার পরে সামান্য কিছু ফসল জন্মায়। আল্লাহ এভাবেই শোকরগুজার বান্দাদের জন্য নিজের আয়াতগুলোকে খুলেখুলে বর্ণনা করছেন।
لَقَدْ اَرْسَلْنَا نُوْحًا اِلٰی قَوْمِهٖ فَقَالَ یٰقَوْمِ اعْبُدُوا اللّٰهَ مَا لَكُمْ مِّنْ اِلٰهٍ غَیْرُهٗ ؕ اِنِّیْۤ اَخَافُ عَلَیْكُمْ عَذَابَ یَوْمٍ عَظِیْمٍ 59
59. নুহ এর ঘটনা শোনো। আমি তার জাতির কাছে তাকে আমার নবী করে পাঠালাম। সে জাতির লোকদের ডেকে বললো, হে আমার ভাই-বোনেরা, তোমরা কেবল আল্লাহরই ইবাদত করো। কেননা তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই। আর আমার আশঙ্কা হচ্ছে, তাঁকে মেনে না নিলে, তোমাদের উপর ভয়ঙ্কর শাস্তির দিন নেমে আসবে।
قَالَ الْمَلَاُ مِنْ قَوْمِهٖۤ اِنَّا لَنَرٰىكَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ 60
60. তার দাওয়াতের জবাবে জাতির নেতারা বললো, হে নুহ, আমরা তো দেখছি, তুমি বিরাট গোমরাহির মধ্যে পড়ে রয়েছো।
قَالَ یٰقَوْمِ لَیْسَ بِیْ ضَلٰلَةٌ وَّلٰكِنِّیْ رَسُوْلٌ مِّنْ رَّبِّ الْعٰلَمِیْنَ 61
61. নুহ দৃঢ়ভাবে জবাব দিলো, না! আমি কখনোই গোমরাহ নই; বরং আমি মহাবিশ্বের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট রসুল হয়ে এসেছি।
اُبَلِّغُكُمْ رِسٰلٰتِ رَبِّیْ وَ اَنْصَحُ لَكُمْ وَاَعْلَمُ مِنَ اللّٰهِ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ 62
62. আমি তোমাদের কাছে কেবল আমার রবের পয়গাম পৌঁছে দিচ্ছি। তোমাদেরকে কল্যাণের নসিহত করছি। কেননা আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন অনেক কিছু জানি, যা তোমরা জানো না।
اَوَ عَجِبْتُمْ اَنْ جَآءَكُمْ ذِكْرٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ عَلٰی رَجُلٍ مِّنْكُمْ لِیُنْذِرَكُمْ وَلِتَتَّقُوْا وَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ 63
63. কী আশ্চর্য! তোমরা কি এটা দেখে অবাক হচ্ছো যে, তোমাদের মতো একজন মানুষের কাছে তোমাদের জন্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশবাণী এসেছে? আসলে এর মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের সতর্ক করতে চান, যাতে তোমরা ভুল পথ থেকে বাঁচতে পারো। আশা রাখা যায়, এ পথেই তোমরা রহম লাভ করবে।
فَكَذَّبُوْهُ فَاَنْجَیْنٰهُ وَ الَّذِیْنَ مَعَهٗ فِی الْفُلْكِ وَ اَغْرَقْنَا الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا ؕ اِنَّهُمْ كَانُوْا قَوْمًا عَمِیْنَ۠ 64
64. শেষ পর্যন্ত নুহের জাতি দাওয়াতকে অস্বীকার করলো। আমি সেদিন কেবল নুহ ও তার নৌকায় আরোহীদের ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচালাম। আর আমার আয়াত অস্বীকারকারীদের বন্যার পানিতে ডুবিয়ে মারলাম। আসলে ঐ জাতির লোকেরা সত্যকে দেখতে পায়নি।
وَ اِلٰی عَادٍ اَخَاهُمْ هُوْدًا ؕ قَالَ یٰقَوْمِ اعْبُدُوا اللّٰهَ مَا لَكُمْ مِّنْ اِلٰهٍ غَیْرُهٗ ؕ اَفَلَا تَتَّقُوْنَ 65
65. এরপর আমি আদ জাতির কাছে তাদের ভাই হুদকে নবী করে পাঠালাম। সে তাদের ডেকে বললো, হে আমার জাতি, তোমরা কেবল আল্লাহর ইবাদত করো। কেননা তিনি ছাড়া তোমাদের ভিন্ন কোনো ইলাহ নেই। এরপরেও কি তোমরা সতর্ক হবে না?
قَالَ الْمَلَاُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْ قَوْمِهٖۤ اِنَّا لَنَرٰىكَ فِیْ سَفَاهَةٍ وَّ اِنَّا لَنَظُنُّكَ مِنَ الْكٰذِبِیْنَ 66
66. তার জাতির বড় বড় কাফের নেতারা বলতে লাগলো, হে হুদ, আমরা তো দেখছি, তুমি নির্বোধের মতো কথা বলছো। আর তুমি যে মিথ্যাবাদী, তাতে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই।
قَالَ یٰقَوْمِ لَیْسَ بِیْ سَفَاهَةٌ وَّ لٰكِنِّیْ رَسُوْلٌ مِّنْ رَّبِّ الْعٰلَمِیْنَ 67
67. হুদ বললো, হে আমার লোকেরা, শোনো! আমি মোটেই নির্বোধ নই; বরং মহাবিশ্বের রবের পক্ষ থেকে আমি রসুল হয়ে এসেছি।
اُبَلِّغُكُمْ رِسٰلٰتِ رَبِّیْ وَ اَنَا لَكُمْ نَاصِحٌ اَمِیْنٌ 68
68. আমি কেবল তোমাদের কাছে আমার রবের পয়গাম পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বে রয়েছি। আমি তোমাদের বড়ই কল্যাণকামী। তোমরা আমার কথা বিশ্বাস করো।
اَوَ عَجِبْتُمْ اَنْ جَآءَكُمْ ذِكْرٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ عَلٰی رَجُلٍ مِّنْكُمْ لِیُنْذِرَكُمْ ؕ وَاذْكُرُوْۤا اِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَآءَ مِنْۢ بَعْدِ قَوْمِ نُوْحٍ وَّ زَادَكُمْ فِی الْخَلْقِ بَصْۜطَةً ۚ فَاذْكُرُوْۤا اٰلَآءَ اللّٰهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ 69
69. তোমরা কি এ কারণেই অবাক হচ্ছো যে, তোমাদের রব তোমাদেরকে সতর্ক করার জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে একজনের কাছে তাঁর উপদেশবাণী পাঠিয়েছেন? মনে করে দেখো, নুহের জাতিকে ধ্বংস করে দেয়ার পর তিনি তোমাদেরকেই তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং তোমাদেরকে প্রচন্ড শক্তিমান ও ক্ষমতাবান বানিয়েছেন। কাজেই তোমরা আল্লাহর দেয়া এসব নেয়ামত স্মরণ রেখে চলো। আশা করা যায়, তোমরা সফল হবে।
قَالُوْۤا اَجِئْتَنَا لِنَعْبُدَ اللّٰهَ وَحْدَهٗ وَ نَذَرَ مَا كَانَ یَعْبُدُ اٰبَآؤُنَا ۚ فَاْتِنَا بِمَا تَعِدُنَاۤ اِنْ كُنْتَ مِنَ الصّٰدِقِیْنَ 70
70. জাতির লোকেরা জবাব দিলো, আসলে তোমার মতলব কী? তুমি কি এটাই চাও যে, আমরা আমাদের বাপ-দাদার রেখে যাওয়া খোদাদের ত্যাগ করে কেবল তোমার এক আল্লাহর ইবাদত করি? না! বরং তুমি আমাদেরকে যে আযাবের ভয় দেখাচ্ছো, সত্যি যদি পারো তবে তা নিয়ে আসো।
قَالَ قَدْ وَقَعَ عَلَیْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ رِجْسٌ وَّغَضَبٌ ؕ اَتُجَادِلُوْنَنِیْ فِیْۤ اَسْمَآءٍ سَمَّیْتُمُوْهَاۤ اَنْتُمْ وَ اٰبَآؤُكُمْ مَّا نَزَّلَ اللّٰهُ بِهَا مِنْ سُلْطٰنٍ ؕ فَانْتَظِرُوْۤا اِنِّیْ مَعَكُمْ مِّنَ الْمُنْتَظِرِیْنَ 71
71. হুদ বললো, তোমরা তো ইতোমধ্যেই তোমাদের রবের শাস্তি ও ক্রোধের উপযুক্ত হয়ে বসে আছো। তোমরা তো কিছু নাম সর্বস্ব খোদাদের নিয়ে আমার সাথে বিতর্ক করছো, যাদেরকে তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদারা মিলে নিজেরাই বানিয়েছো; অথচ এর বৈধতার জন্য আল্লাহ কখনোই কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি। অতএব এখন তোমরা এর পরিণতি দেখার জন্যে অপেক্ষা করো, আমিও অপেক্ষা করছি।
فَاَنْجَیْنٰهُ وَ الَّذِیْنَ مَعَهٗ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَقَطَعْنَا دَابِرَ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَ مَا كَانُوْا مُؤْمِنِیْنَ۠ 72
72. শেষ পর্যন্ত আমার আযাব এসে গেলো। আমি হুদ ও তার ঈমানদার সাথিদের উদ্ধার করলাম। আর যারা আমার আয়াতগুলোকে মিথ্যা বলে মেনে নিতে অস্বীকার করেছিলো, আমি ওদের নাম নিশানা পর্যন্ত মিটিয়ে দিলাম।
وَ اِلٰی ثَمُوْدَ اَخَاهُمْ صٰلِحًا ۘ قَالَ یٰقَوْمِ اعْبُدُوا اللّٰهَ مَا لَكُمْ مِّنْ اِلٰهٍ غَیْرُهٗ ؕ قَدْ جَآءَتْكُمْ بَیِّنَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ ؕ هٰذِهٖ نَاقَةُ اللّٰهِ لَكُمْ اٰیَةً فَذَرُوْهَا تَاْكُلْ فِیْۤ اَرْضِ اللّٰهِ وَ لَا تَمَسُّوْهَا بِسُوْٓءٍ فَیَاْخُذَكُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ 73
73. এরপর সামুদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালেহকে আমার রেসালতের দায়িত্ব দিয়ে পাঠালাম। সে তাদের বললো, তোমরা কেবল আল্লাহরই ইবাদত করো। তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই। শোনো, তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ এসে গেছে। আল্লাহ এই উটনীকে তোমাদের কাছে তাঁর স্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে পাঠিয়েছেন। সাবধান! একে আল্লাহর জমিনে খাবারের জন্য চরে বেড়াতে দাও। কখনোই একে সামান্য কষ্টও দিও না। অন্যথায় তোমাদের উপর ভয়ানক আযাব নেমে আসবে।
وَ اذْكُرُوْۤا اِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَآءَ مِنْۢ بَعْدِ عَادٍ وَّ بَوَّاَكُمْ فِی الْاَرْضِ تَتَّخِذُوْنَ مِنْ سُهُوْلِهَا قُصُوْرًا وَّ تَنْحِتُوْنَ الْجِبَالَ بُیُوْتًا ۚ فَاذْكُرُوْۤا اٰلَآءَ اللّٰهِ وَ لَا تَعْثَوْا فِی الْاَرْضِ مُفْسِدِیْنَ 74
74. সালেহ আরো বললো, ভুলে যেয়ো না, আদ জাতির ধ্বংসের পর আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। দেখো! তিনি তোমাদেরকে পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যাতে আজ তোমরা সমতল ভূমিতে বিশাল বিশাল প্রাসাদ বানাচ্ছো, এমনকি পাহাড় কেটেও বসতবাড়ি গড়ছো। কাজেই আল্লাহর এসব নেয়ামত স্মরণ করে চলো। খবরদার! দুনিয়ায় অশান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টি করে চলো না।
قَالَ الْمَلَاُ الَّذِیْنَ اسْتَكْبَرُوْا مِنْ قَوْمِهٖ لِلَّذِیْنَ اسْتُضْعِفُوْا لِمَنْ اٰمَنَ مِنْهُمْ اَتَعْلَمُوْنَ اَنَّ صٰلِحًا مُّرْسَلٌ مِّنْ رَّبِّهٖ ؕ قَالُوْۤا اِنَّا بِمَاۤ اُرْسِلَ بِهٖ مُؤْمِنُوْنَ 75
75. এরপর সালেহের প্রতি ঈমান আনার অপরাধে সমাজে যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিলো সেসব লোকদের ডেকে ডেকে তাদের দাম্ভিক-স্বেচ্ছাচারী নেতারা বলতে লাগলো, সালেহ যে তার রবের পক্ষ থেকে রসুল হয়ে এসেছে, এ ব্যাপারে তোমরা কি নিশ্চিত? ঈমানদারেরা দৃঢ়কণ্ঠে বললো, হ্যাঁ! সালেহ আমাদের যা বলেন, আমরা তা সত্য বলে মেনে নিয়েছি।
قَالَ الَّذِیْنَ اسْتَكْبَرُوْۤا اِنَّا بِالَّذِیْۤ اٰمَنْتُمْ بِهٖ كٰفِرُوْنَ 76
76. একথা শুনে দাম্ভিক-স্বেচ্ছাচারী নেতারা বললো, তোমরা যা কিছু মেনে নিয়েছো, আমরা তা কখনোই মেনে নেবো না।
فَعَقَرُوا النَّاقَةَ وَ عَتَوْا عَنْ اَمْرِ رَبِّهِمْ وَقَالُوْا یٰصٰلِحُ ائْتِنَا بِمَا تَعِدُنَاۤ اِنْ كُنْتَ مِنَ الْمُرْسَلِیْنَ 77
77. শেষ পর্যন্ত ওরা উটনীকে হত্যা করে ফেললো। দম্ভভরে আল্লাহর হুকুম একটার পর একটা অমান্য করলো। এমনকি সালেহকে ডেকে বলতে লাগলো, নিয়ে আসো তোমার সে আযাব, যার ভয় আমাদেরকে দেখাতে! দেখা যাবে তুমি কেমন সত্য নবী হয়েছো?
فَاَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَاَصْبَحُوْا فِیْ دَارِهِمْ جٰثِمِیْنَ 78
78. এরপরই প্রলয়ংকারী ভ‚মিকম্প ওদের উপর আঘাত হানলো। ফলে ঐসব জালেমেরা নিজেদের ঘরের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়ে রইলো।
فَتَوَلّٰی عَنْهُمْ وَ قَالَ یٰقَوْمِ لَقَدْ اَبْلَغْتُكُمْ رِسَالَةَ رَبِّیْ وَنَصَحْتُ لَكُمْ وَ لٰكِنْ لَّا تُحِبُّوْنَ النّٰصِحِیْنَ 79
79. অতঃপর সালেহ সে ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে আফসোস করে বলতে লাগলো, হায়! আমার জাতি! আমি তোমাদের কাছে আমার রবের সতর্কবাণী পৌঁছে দিয়েছিলাম। তোমাদেরকে কতোইনা উত্তম নসিহত করেছিলাম। অথচ তোমরা নসিহতকারীকে পছন্দ করলে না। অবশেষে সালেহ ঐ জনপদ ছেড়ে অন্য কোথাও চলে গেলো।
وَلُوْطًا اِذْ قَالَ لِقَوْمِهٖۤ اَتَاْتُوْنَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ اَحَدٍ مِّنَ الْعٰلَمِیْنَ 80
80. আমি লুতকে তার জাতির কাছে আমার রসুল করে পাঠালাম। সে তার লোকদেরকে বললো, তোমরা কিভাবে সেসব নির্লজ্জ কাজ করে যাচ্ছো, যা দুনিয়ার ইতিহাসে কেউ কোনোদিনও করেনি?
اِنَّكُمْ لَتَاْتُوْنَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّنْ دُوْنِ النِّسَآءِ ؕ بَلْ اَنْتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُوْنَ 81
81. তোমরা কামপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করার জন্য নরীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের ব্যবহার করছো। তোমরা তো খোলাখুলি সীমাতিক্রমকারী জাতি হয়ে আছো।
وَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهٖۤ اِلَّاۤ اَنْ قَالُوْۤا اَخْرِجُوْهُمْ مِّنْ قَرْیَتِكُمْ ۚ اِنَّهُمْ اُنَاسٌ یَّتَطَهَّرُوْنَ 82
82. জাতির ভ্রান্ত নেতারা লুতের কোনো কথার জবাব দিতে পারলো না। ওরা জনগনকে বললো, লুত ও তার পরিবারের লোকেরা নিজেদেরকে তোমাদের তুলনায় বড়ই পাক-পবিত্র হিসাবে জাহির করতে চায়। অতএব তোমরা ওদেরকে তোমাদের এলাকা থেকে বহিষ্কার করে দাও।
فَاَنْجَیْنٰهُ وَ اَهْلَهٗۤ اِلَّا امْرَاَتَهٗ ۖؗ كَانَتْ مِنَ الْغٰبِرِیْنَ 83
83. অবশেষে আমি লুত ও তার পরিবারকে সেই আযাব থেকে বাঁচিয়ে নিলাম। তবে তার স্ত্রীকে নয়, সে জাতির লোকদের সাথে পিছনেই পড়ে রইলো।
وَاَمْطَرْنَا عَلَیْهِمْ مَّطَرًا ؕ فَانْظُرْ كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِیْنَ۠ 84
84. আমি সে সময় ঐসব জালেমের উপর মুষলধারে পাথর বর্ষণ করলাম। চেয়ে দেখো, ঐসব অপরাধীদের শেষ পরিণতি কতোই না ভয়ানক হয়েছিলো?
وَ اِلٰی مَدْیَنَ اَخَاهُمْ شُعَیْبًا ؕ قَالَ یٰقَوْمِ اعْبُدُوا اللّٰهَ مَا لَكُمْ مِّنْ اِلٰهٍ غَیْرُهٗ ؕ قَدْ جَآءَتْكُمْ بَیِّنَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ فَاَوْفُوا الْكَیْلَ وَ الْمِیْزَانَ وَ لَا تَبْخَسُوا النَّاسَ اَشْیَآءَهُمْ وَلَا تُفْسِدُوْا فِی الْاَرْضِ بَعْدَ اِصْلَاحِهَا ؕ ذٰلِكُمْ خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَۚ 85
85. এভাবেই আমি এক সময় মাদিয়ানবাসীর কাছে তাদেরই ভাই শোয়াইবকে রেসালাতের দায়িত্ব দিয়ে পাঠালাম। সে তার জাতির লোকদের বললো, তোমরা কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করো। তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই। জেনে রেখো, তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বিধি-বিধান এসে গেছে। কাজেই সাবধান হও, বেচা-কেনায় তেমাদের ওজন ও পরিমাপকে ঠিকঠাকভাবে পূর্ণ করো। লোকদেরকে তাদের পাওনা জিনিসে কম দিও না এবং কখনো শান্ত ও নিরাপদ পৃথিবীকে অশান্তি ও বিপর্যয়ে ভরিয়ে তুলো না। তোমরা সত্যিই মুমিন হলে, এ বিধানে তোমাদের জন্যই কল্যাণ।
وَ لَا تَقْعُدُوْا بِكُلِّ صِرَاطٍ تُوْعِدُوْنَ وَتَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ مَنْ اٰمَنَ بِهٖ وَتَبْغُوْنَهَا عِوَجًا ۚ وَاذْكُرُوْۤا اِذْ كُنْتُمْ قَلِیْلًا فَكَثَّرَكُمْ ۪ وَانْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِیْنَ 86
86. খবরদার! লোকদেরকে হুমকি-ধামকি দিয়ে সত্য থেকে ফিরিয়ে রাখার জন্য রাস্তা-ঘাটে ওঁৎ পেতে বসে থেকো না। ঈমানদারদের কাজকর্মে বাধার সৃষ্টি করো না এবং লোকদেরকে গোমরাহ করার জন্য সত্যকে বিকৃতরূপে উপস্থাপন করো না। ভুলে যেয়ো না, তোমরা এক সময় সংখ্যায় খুবই নগণ্য ছিলে। অতঃপর আল্লাহ দয়াকরে তোমাদের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছেন। ইতিহাসের দিকে চেয়ে দেখো, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের কপালে কী পরিণতি না জুটেছিলো!
وَاِنْ كَانَ طَآىِٕفَةٌ مِّنْكُمْ اٰمَنُوْا بِالَّذِیْۤ اُرْسِلْتُ بِهٖ وَطَآىِٕفَةٌ لَّمْ یُؤْمِنُوْا فَاصْبِرُوْا حَتّٰی یَحْكُمَ اللّٰهُ بَیْنَنَا ۚ وَهُوَ خَیْرُ الْحٰكِمِیْنَ 87
87. একপর্যায়ে শোয়াইব তাদের বললো, তোমাদের একদল লোক আমার দাওয়াত কবুল করে নিয়েছো এবং আরেকদল সরাসরি অস্বীকার করে চলছো। কাজেই এখন তোমরা অপেক্ষায় থাকো। অচিরেই আল্লাহ আমাদের মধ্যে এ ব্যাপারে ফয়সালা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি সবচেয়ে বিজ্ঞ বিচারক।
قَالَ الْمَلَاُ الَّذِیْنَ اسْتَكْبَرُوْا مِنْ قَوْمِهٖ لَنُخْرِجَنَّكَ یٰشُعَیْبُ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مَعَكَ مِنْ قَرْیَتِنَاۤ اَوْ لَتَعُوْدُنَّ فِیْ مِلَّتِنَا ؕ قَالَ اَوَ لَوْ كُنَّا كٰرِهِیْنَ۫ 88
88. জাতির দাম্ভিক-স্বেচ্ছাচারী নেতারা হুমকি দিয়ে বললো, হে শোয়াইব, শোনো! হয় তুমি ও তোমার ঈমানদার সঙ্গী-সাথিরা আমাদের বাপ-দাদার ধর্মে ফিরে আসবে, আর না হয় আমরা তোমাদেরকে আমাদের জনপদ থেকে বহিষ্কার করে ছাড়বো। শোয়াইব দৃঢ় জবাব দিলো, কখনো নয়! আমরা তোমাদের ধর্মে ফিরে যাওয়াকে ঘৃণা করি।
قَدِ افْتَرَیْنَا عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا اِنْ عُدْنَا فِیْ مِلَّتِكُمْ بَعْدَ اِذْ نَجّٰىنَا اللّٰهُ مِنْهَا ؕ وَ مَا یَكُوْنُ لَنَاۤ اَنْ نَّعُوْدَ فِیْهَاۤ اِلَّاۤ اَنْ یَّشَآءَ اللّٰهُ رَبُّنَا ؕ وَسِعَ رَبُّنَا كُلَّ شَیْءٍ عِلْمًا ؕ عَلَی اللّٰهِ تَوَكَّلْنَا ؕ رَبَّنَا افْتَحْ بَیْنَنَا وَ بَیْنَ قَوْمِنَا بِالْحَقِّ وَ اَنْتَ خَیْرُ الْفٰتِحِیْنَ 89
89. শোনো! আল্লাহ আমাদেরকে তোমাদের ভ্রান্ত ধর্ম থেকে উদ্ধার করেছেন। এখন যদি আবার তোমাদের ধর্মে ফিরে আসি, তবে তা হবে আল্লাহর সাথে সরাসরি গাদ্দারি করা। আমাদের রব মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদের পক্ষে তোমাদের এ ভ্রান্ত ধর্মে ফিরে যাওয়া কখনোই সম্ভব নয়। সব জিনিসের জ্ঞান আমাদের রবের কাছে নির্দিষ্ট রয়েছে। কাজেই আমরা কেবল তাঁর উপরেই ভরসা করছি। এরপর শোয়াইব দোয়া করলো, হে আমাদের রব, আমাদের ও আমাদের এ জালেম জাতির মধ্যে যথাযথ ফয়সালা করে দাও। নিশ্চয়ই তুমি সবচেয়ে ভালো ফয়সালাকারী।
وَ قَالَ الْمَلَاُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْ قَوْمِهٖ لَئِنِ اتَّبَعْتُمْ شُعَیْبًا اِنَّكُمْ اِذًا لَّخٰسِرُوْنَ 90
90. জাতির দাম্ভিক নেতারা কুফরির উপর অনড় হয়ে রইলো। তদুপরি সাধারণ লোকদের ডেকে ডেকে বলতে লাগলো, খবরদার! তোমরা কখনোই শোয়াইবের অনুসরণ করো না। অন্যথায় তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে।
فَاَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَاَصْبَحُوْا فِیْ دَارِهِمْ جٰثِمِیْنَۚۖۛ 91
91. অবশেষে এ জাতির উপর ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প আঘাত হানলো। ফলে ওরা সবাই নিজেদের ঘর-বাড়িতে মরে উপুড় হয়ে পড়ে রইলো।
الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا شُعَیْبًا كَاَنْ لَّمْ یَغْنَوْا فِیْهَا ۛۚ اَلَّذِیْنَ كَذَّبُوْا شُعَیْبًا كَانُوْا هُمُ الْخٰسِرِیْنَ 92
92. সেদিন যারা শোয়াইবকে অস্বীকার করেছিলো, ওরা এমনভাবে নিশ্চিহ্ন হলো, দেখে মনে হবে সেখানে ওরা কোনোদিনই বসবাস করেনি। বস্তুত শোয়াইবের অস্বীকারকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
فَتَوَلّٰی عَنْهُمْ وَ قَالَ یٰقَوْمِ لَقَدْ اَبْلَغْتُكُمْ رِسٰلٰتِ رَبِّیْ وَ نَصَحْتُ لَكُمْ ۚ فَكَیْفَ اٰسٰی عَلٰی قَوْمٍ كٰفِرِیْنَ۠ 93
93. সেদিন শোয়াইব এ ধ্বংসস্তুপ থেকে বিদায় নিয়ে অন্য কোথাও চলে গেলো। যাবার সময় সে আফসোস করে বলতে লাগলো, হায়! আমার জাতি! আমি তোমাদের কাছে আমার রবের বাণী ঠিকই পৌঁছিয়েছিলাম। তোমাদের সত্যের নসিহত করেছিলাম। এখন তোমাদের এ পরিণতির জন্য কিভাবে দুঃখ করতে পারি, যখন তোমরা নিজেরাই কুফরির পথে ছুটলে!
وَ مَاۤ اَرْسَلْنَا فِیْ قَرْیَةٍ مِّنْ نَّبِیٍّ اِلَّاۤ اَخَذْنَاۤ اَهْلَهَا بِالْبَاْسَآءِ وَ الضَّرَّآءِ لَعَلَّهُمْ یَضَّرَّعُوْنَ 94
94. আসলে আমি কোনো জনপদে আমার নবী পাঠালে প্রথমে সে জনপদবাসীর উপর অভাব-অনটন ও দুঃখ-দুর্দশা চাপিয়ে দেই। দেখি ওরা আমার প্রতি বিন্ম্র হয়ে দাওয়াত মেনে নেয় কি না?
ثُمَّ بَدَّلْنَا مَكَانَ السَّیِّئَةِ الْحَسَنَةَ حَتّٰی عَفَوْا وَّ قَالُوْا قَدْ مَسَّ اٰبَآءَنَا الضَّرَّآءُ وَ السَّرَّآءُ فَاَخَذْنٰهُمْ بَغْتَةً وَّ هُمْ لَا یَشْعُرُوْنَ 95
95. কিন্তু যদি ওরা বিনীত-অবনত না হয়, তবে ওদের দুরাবস্থা বদলিয়ে সমৃদ্ধি এনে দেই। তখন আরাম-আয়েশে মত্ত হয়ে আমার পরীক্ষাকে অস্বীকার করে বলে, আমাদের বাপ-দাদাদের জীবনেও এমন সুদিন-দুর্দিন আসতো। ফলে ওদেরকে অকস্মাৎ এমনভাবে পাকড়াও করি, যা ওরা পূর্বে আন্দাজও করেনি।
وَ لَوْ اَنَّ اَهْلَ الْقُرٰۤی اٰمَنُوْا وَ اتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَیْهِمْ بَرَكٰتٍ مِّنَ السَّمَآءِ وَ الْاَرْضِ وَ لٰكِنْ كَذَّبُوْا فَاَخَذْنٰهُمْ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ 96
96. আফসোস! যদি এসব জনপদের লোকেরা সত্যিকারে ঈমান আনতো এবং তাকওয়ার পথ অবলম্বন করতো, তবে আমি ওদের জন্য আসমান ও জমিনের সব কল্যাণের দরজা খুলে দিতাম। কিন্তু না! ওরা বরং কুফরির পথে হাঁটলো। তাই ওদের পাপের উপযুক্ত শাস্তিই আমি ওদেরকে দিয়েছি।
اَفَاَمِنَ اَهْلُ الْقُرٰۤی اَنْ یَّاْتِیَهُمْ بَاْسُنَا بَیَاتًا وَّ هُمْ نَآئِمُوْنَؕ 97
97. হে নবী, জিজ্ঞেস করে দেখো, এসব জনপদের লোকেরা কি নিশ্চিত যে, রাতের আঁধারে ওদের ঘুমন্ত অবস্থায় আমার কঠিন আযাব ওদেরকে পাকড়াও করবে না?
اَوَ اَمِنَ اَهْلُ الْقُرٰۤی اَنْ یَّاْتِیَهُمْ بَاْسُنَا ضُحًی وَّ هُمْ یَلْعَبُوْنَ 98
98. নাকি ওরা এটা নিশ্চিত হতে পেরেছে যে, দিনের বেলায় যখন ওরা খেল-তামাশায় মজে থাকে, তখন ওদেরকে আমার আযাব ঘিরে ধরবে না?
اَفَاَمِنُوْا مَكْرَ اللّٰهِ ۚ فَلَا یَاْمَنُ مَكْرَ اللّٰهِ اِلَّا الْقَوْمُ الْخٰسِرُوْنَ۠ 99
99. ওরা কি আসলেই নিজেদেরকে আল্লাহর কর্মকৌশল থেকে সম্পূর্ণ নির্ভয় মনে করে? ওরা জেনে রাখুক, যাদের জন্য ধ্বংস অবধারিত, কেবল তারাই আল্লাহর কৌশলের ব্যাপারে নির্ভীক হতে পারে।
اَوَ لَمْ یَهْدِ لِلَّذِیْنَ یَرِثُوْنَ الْاَرْضَ مِنْۢ بَعْدِ اَهْلِهَاۤ اَنْ لَّوْ نَشَآءُ اَصَبْنٰهُمْ بِذُنُوْبِهِمْ ۚ وَنَطْبَعُ عَلٰی قُلُوْبِهِمْ فَهُمْ لَا یَسْمَعُوْنَ 100
100. এভাবে কোনো জনপদবাসীকে ধ্বংস করার পর নতুন যাদের উত্তারাধিকার বানাই, একটা সময় পর তারাও ভুলে যায় যে, আমি চাইলে তাদের পাপের জন্য মুহূর্তের মধ্যে পাকড়াও করতে পারি। বড় আফসোস! যখন ওদের অন্তর সত্য বিমুখতায় অটল থাকে, তখন কোনো ডাকই ওরা শুনতে পায় না।
تِلْكَ الْقُرٰی نَقُصُّ عَلَیْكَ مِنْ اَنْۢبَآئِهَا ۚ وَ لَقَدْ جَآءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَیِّنٰتِ ۚ فَمَا كَانُوْا لِیُؤْمِنُوْا بِمَا كَذَّبُوْا مِنْ قَبْلُ ؕ كَذٰلِكَ یَطْبَعُ اللّٰهُ عَلٰی قُلُوْبِ الْكٰفِرِیْنَ 101
101. হে নবী, ধ্বংসপ্রাপ্ত অনেকগুলো জাতির ঘটনা তোমাকে শুনালাম। এসব জাতির কাছে রসুলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে হাজির হয়েছিল। কিন্তু ওরা আগে থেকেই সত্য অস্বীকারের জেদ ধরে ছিলো। ফলে ঈমানের জন্য কোনো কথাই ওদের মন গলাতে পারলো না। বস্তুত এভাবেই আল্লাহ কাফেরদের অন্তরকে সত্যবিমুখ করে রাখেন।
وَ مَا وَجَدْنَا لِاَكْثَرِهِمْ مِّنْ عَهْدٍ ۚ وَ اِنْ وَّجَدْنَاۤ اَكْثَرَهُمْ لَفٰسِقِیْنَ 102
102. আসলে আমি ওদের অধিকাংশের মধ্যে সত্য গ্রহণের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা খুঁজে পাইনি; বরং প্রায় সবাইকে পেয়েছিলাম অবাধ্য-পাপাচারী হিসেবে।
ثُمَّ بَعَثْنَا مِنْۢ بَعْدِهِمْ مُّوْسٰی بِاٰیٰتِنَاۤ اِلٰی فِرْعَوْنَ وَ مَلَاۡئِهٖ فَظَلَمُوْا بِهَا ۚ فَانْظُرْ كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِیْنَ 103
103. এবার শোনো! এসব জাতিকে ধ্বংস করার পর, একসময় আমি মুসাকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদী দিয়ে ফেরাউন ও তার সভাসদের কাছে পাঠালাম। কিন্তু ওরাও এসব প্রমাণাদীকে মিথ্যা বলে মেনে নিতে অস্বীকার করলো। ইতিহাস খুঁজে দেখো! ঐসব ফাসাদকারীদের কী করুণ পরিণতিই না হয়েছিলো।
وَ قَالَ مُوْسٰی یٰفِرْعَوْنُ اِنِّیْ رَسُوْلٌ مِّنْ رَّبِّ الْعٰلَمِیْنَۙ 104
104. ঘটনা শোনো, মুসা রাজ দরবারে গিয়ে ফেরাউনকে বললো, আমি বিশ্বজাহানের রবের পক্ষ থেকে রসুল হয়ে এসেছি।
حَقِیْقٌ عَلٰۤی اَنْ لَّاۤ اَقُوْلَ عَلَی اللّٰهِ اِلَّا الْحَقَّ ؕ قَدْ جِئْتُكُمْ بِبَیِّنَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ فَاَرْسِلْ مَعِیَ بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَؕ 105
105. আমি তোমাদের মহান রবের পক্ষ থেকে রেসালাতের সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে তোমাদের সামনে হাজির হয়েছি। একজন রসুল হয়ে আমি আল্লাহর নামে সত্য ছাড়া আর কিছুই বলি না। কাজেই এখন বনি ইসরাইলকে আমার নেতৃত্বে ছেড়ে দাও।
قَالَ اِنْ كُنْتَ جِئْتَ بِاٰیَةٍ فَاْتِ بِهَاۤ اِنْ كُنْتَ مِنَ الصّٰدِقِیْنَ 106
106. ফেরাউন বললো, হে মুসা, তুমি যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো, তবে আমাদের সামনে তোমার রেসালাতের সপক্ষের প্রমাণ পেশ করো।
فَاَلْقٰی عَصَاهُ فَاِذَا هِیَ ثُعْبَانٌ مُّبِیْنٌۚۖ 107
107. একথা শুনে মুসা তার হাতের লাঠি ছুড়ে মারলো। মুহূর্তের মধ্যে সেটি এক মস্তবড়ো জলজ্যান্ত অজগর সাপের রূপ নিলো।
وَّ نَزَعَ یَدَهٗ فَاِذَا هِیَ بَیْضَآءُ لِلنّٰظِرِیْنَ۠ 108
108. এরপর সে তার নিজের হাত বগলের ভিতর থেকে টেনে বের করলো। দর্শকেরা এটিকে উজ্জল ধবধবে সাদা দেখতে পলো।
قَالَ الْمَلَاُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ اِنَّ هٰذَا لَسٰحِرٌ عَلِیْمٌۙ 109
109. এ দৃশ্য দেখে ফেরাউনের জাতির নেতারা পরস্পরকে বললো, শোনো! এ লোক একজন অত্যন্ত সুদক্ষ যাদুকর।
یُّرِیْدُ اَنْ یُّخْرِجَكُمْ مِّنْ اَرْضِكُمْ ۚ فَمَا ذَا تَاْمُرُوْنَ 110
110. তার আসল মতলব হচ্ছে, সে তোমাদেরকে রাজ্য ছাড়া করতে চায়। একথা শুনে ফেরাউন জিজ্ঞেস করলো, তাহলে এখন তোমরা আমায় কী করতে বলো?
قَالُوْۤا اَرْجِهْ وَ اَخَاهُ وَ اَرْسِلْ فِی الْمَدَآئِنِ حٰشِرِیْنَۙ 111
111. তখন এসব নেতারা একমত হয়ে ফেরাউনকে পরামর্শ দিলো, মুসা ও তার ভাইকে কিছু দিন চুপচাপ এভাবে থাকতে দেন। আর ওদের মোকাবেলার জন্য নগরে নগরে যাদুকর সংগ্রাহক পাঠান।
یَاْتُوْكَ بِكُلِّ سٰحِرٍ عَلِیْمٍ 112
112. তারা আপনার সামনে দেশের সবচেয়ে সুদক্ষ ওস্তাদ যাদুকরদের হাজির করবে।
وَ جَآءَ السَّحَرَةُ فِرْعَوْنَ قَالُوْۤا اِنَّ لَنَا لَاَجْرًا اِنْ كُنَّا نَحْنُ الْغٰلِبِیْنَ 113
113. অতঃপর এভাবে যাদুকরের একটি দল ফেরাউনের সামনে হাজির হলো। এ সময় যাদুকরেরা তাকে জিজ্ঞেস করলো, মুসাকে হারিয়ে দেয়ার পর আমাদের জন্য বড় ধরনের পুরস্কার প্রস্তুত রয়েছে তো?
قَالَ نَعَمْ وَ اِنَّكُمْ لَمِنَ الْمُقَرَّبِیْنَ 114
114. ফেরাউন বললো, হ্যাঁ! পুরস্কার তো পাবেই; উপরন্তু তোমাদেরকে দরবারের বিশিষ্ট ব্যক্তির আসনে সমাসীন করা হবে।
قَالُوْا یٰمُوْسٰۤی اِمَّاۤ اَنْ تُلْقِیَ وَ اِمَّاۤ اَنْ نَّكُوْنَ نَحْنُ الْمُلْقِیْنَ 115
115. এরপর তারা ময়দানে নামলো। মুসাকে ডেকে বলতে লাগলো, হে মুসা, তুমি কি আগে যাদু নিক্ষেপ করবে, নাকি আমরা আগে নিক্ষেপ করবো?
قَالَ اَلْقُوْا ۚ فَلَمَّاۤ اَلْقَوْا سَحَرُوْۤا اَعْیُنَ النَّاسِ وَ اسْتَرْهَبُوْهُمْ وَ جَآءُوْ بِسِحْرٍ عَظِیْمٍ 116
116. মুসা বললো, ঠিক আছে! তোমরাই আগে শুরু করো। এরপর এসব যাদুকরেরা যখন তাদের যাদু ছুঁড়লো, তখন তা লোকদের চোখ ধাঁধিয়ে দিলো এবং তাদের ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুললো। আসলেই ওরা এক বিরাট যাদু প্রদর্শন করেছিলো।
وَ اَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰۤی اَنْ اَلْقِ عَصَاكَ ۚ فَاِذَا هِیَ تَلْقَفُ مَا یَاْفِكُوْنَۚ 117
117. এ সময় আমি মুসার প্রতি অহি পাঠিয়ে বললাম, তোমার হাতের লাঠি ছুঁড়ে মারো। সাথেসাথেই এ লাঠি ওদের যাদুর সব ভেল্কিবাজি গ্রাস করে নিলো।
فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَۚ 118
118. এভাবেই লোকদের সামনে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলো এবং বাতিলপন্থীদের সব চেষ্টাই মিথ্যা প্রমাণিত হলো।
فَغُلِبُوْا هُنَالِكَ وَانْقَلَبُوْا صٰغِرِیْنَۚ 119
119. সেদিন ফেরাউন ও তার সঙ্গী-সাথিরা শোচনীয় পরাজয় বরণ করলো। লাঞ্ছিত অপমানিত নিচু মুখ নিয়ে ফিরে গেলো।
وَ اُلْقِیَ السَّحَرَةُ سٰجِدِیْنَۚۖ 120
120. অন্যদিকে যাদুকরেরা সত্য মেনে নিয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়লো।
قَالُوْۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَۙ 121
121. তারা জনগনের সামনেই ঘোষণা করলো, আমরা এ মহাবিশ্বের রবের প্রতি ঈমান আনছি।
رَبِّ مُوْسٰی وَ هٰرُوْنَ 122
122. যে রবের প্রতি মুসা ও হারুন ঈমানের দাওয়াত দিচ্ছে।
قَالَ فِرْعَوْنُ اٰمَنْتُمْ بِهٖ قَبْلَ اَنْ اٰذَنَ لَكُمْ ۚ اِنَّ هٰذَا لَمَكْرٌ مَّكَرْتُمُوْهُ فِی الْمَدِیْنَةِ لِتُخْرِجُوْا مِنْهَاۤ اَهْلَهَا ۚ فَسَوْفَ تَعْلَمُوْنَ 123
123. এ ঘটনায় ফেরাউন রাগে-ক্ষোভে অগ্নিশর্মা হয়ে বললো, কী! এত বড় দুঃসাহস। তোমরা আমার সামনেই মুসার খোদাকে মেনে নেয়ার ঘোষণা দিচ্ছো; অথচ আমার অনুমতি নেয়ার জরুরতও বোধ করলে না? আমি নিশ্চিত যে, তোমরা এ নগরে এসে মুসার সাথে বসে আগেই আমাদের বিরুদ্ধে যৌথ ষড়যন্ত্রের কৌশল করেছো। আসলে তোমরা আমাদের ক্ষমতাচ্যুত করে এ নগরী থেকে বের করে দিতে চাইছো। বেশ! এবার তোমাদের কাজের পরিণতি টের পাবে।
لَاُقَطِّعَنَّ اَیْدِیَكُمْ وَ اَرْجُلَكُمْ مِّنْ خِلَافٍ ثُمَّ لَاُصَلِّبَنَّكُمْ اَجْمَعِیْنَ 124
124. আমি তোমাদের হাত-পা উল্টো দিক দিয়ে কেটে ফেলবো। এমনকি তোমাদের সবাইকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করবো।
قَالُوْۤا اِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا مُنْقَلِبُوْنَۚ 125
125. তারা বললো, সমস্যা নেই, আমরাতো একদিন না একদিন আমাদেরকে আসল রবের দরবারে ফিরবোই।
وَ مَا تَنْقِمُ مِنَّاۤ اِلَّاۤ اَنْ اٰمَنَّا بِاٰیٰتِ رَبِّنَا لَمَّا جَآءَتْنَا ؕ رَبَّنَاۤ اَفْرِغْ عَلَیْنَا صَبْرًا وَّ تَوَفَّنَا مُسْلِمِیْنَ۠ 126
126. তুমিতো কেবল এ কারণেই প্রতিশোধ নিতে চাইছো যে, আমরা আমাদের আসল রবের আয়াতগুলো মেনে নিয়েছি। এরপর তারা ফরিয়াদ করলো, হে আমাদের রব, আমাদেরকে অটুট মনবল দাও এবং আমৃত্যু তোমার পূর্ণ অনুগত রাখো।
وَ قَالَ الْمَلَاُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ اَتَذَرُ مُوْسٰی وَ قَوْمَهٗ لِیُفْسِدُوْا فِی الْاَرْضِ وَ یَذَرَكَ وَ اٰلِهَتَكَ ؕ قَالَ سَنُقَتِّلُ اَبْنَآءَهُمْ وَ نَسْتَحْیٖ نِسَآءَهُمْ ۚ وَ اِنَّا فَوْقَهُمْ قٰهِرُوْنَ 127
127. এরপর জাতির নেতারা ফুসলিয়ে বলতে লাগলো, হে ফেরাউন, এখন তো মুসা ও তার লোকেরা দেশের মধ্যে বড় ধরনের গোলযোগ সৃষ্টির সুযোগ পেয়ে যাবে। তারা ইতোমধ্যে তোমাকে ও তোমার খোদাদেরকে অমান্য করছে। এখনও কি তাদের ব্যাপারে চুপ থাকবে? ফেরাউন বললো, কখ্খনো নয়। আমরা ওদের ছেলেদের জন্মের সাথেসাথেই মেরে ফেলবো। কেবল মেয়েগুলোকে বাঁচিয়ে রাখবো। এবার বুঝবে, আমরা ওদের উপর কতোটা ক্ষমতা রাখি।
قَالَ مُوْسٰی لِقَوْمِهِ اسْتَعِیْنُوْا بِاللّٰهِ وَ اصْبِرُوْا ۚ اِنَّ الْاَرْضَ لِلّٰهِ ۙ۫ یُوْرِثُهَا مَنْ یَّشَآءُ مِنْ عِبَادِهٖ ؕ وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِیْنَ 128
128. মুসা তার লোকদের বললো, এখন আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং জালেমদের মোকাবেলায় ধৈর্যের নীতি অবলম্বন করো। হিম্মত রাখো, এ জমিনের মালিক আল্লাহ। তিনি নিজ বান্দাদের মধ্যে যাকে চান, তাকেই এর উত্তারাধিকারী বানান। আর এটাই সত্য যে, আল্লাহভীরুদের জন্যই চুড়ান্ত বিজয়।
قَالُوْۤا اُوْذِیْنَا مِنْ قَبْلِ اَنْ تَاْتِیَنَا وَمِنْۢ بَعْدِ مَا جِئْتَنَا ؕ قَالَ عَسٰی رَبُّكُمْ اَنْ یُّهْلِكَ عَدُوَّكُمْ وَیَسْتَخْلِفَكُمْ فِی الْاَرْضِ فَیَنْظُرَ كَیْفَ تَعْمَلُوْنَ۠ 129
129. জাতির লোকেরা মুসাকে বললো, তুমি আসার আগেও আমরা নির্যাতিত হয়েছি। এখন তুমি আসার পরেও হচ্ছি। আমাদের কী মুক্তি মিলবে না? মুসা অভয় দিলো, অবশ্যই। শীঘ্রই তোমাদের রব তোমাদের এসব শত্রুদের ধ্বংস করবেন এবং তোমাদেরকেই এ জমিনে ওদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তারপর দেখবেন, তোমরা কেমন কাজ করো।
وَ لَقَدْ اَخَذْنَاۤ اٰلَ فِرْعَوْنَ بِالسِّنِیْنَ وَ نَقْصٍ مِّنَ الثَّمَرٰتِ لَعَلَّهُمْ یَذَّكَّرُوْنَ 130
130. এরপর আমি ফেরাউনের লোকদেরকে টানা কয়েক বছর দুর্ভিক্ষ ও ব্যাপক ফসলহানিতে ফেলে রাখলাম, যাতে ওদের মধ্যে সত্যের উপলব্ধি ফিরে আসে।
فَاِذَا جَآءَتْهُمُ الْحَسَنَةُ قَالُوْا لَنَا هٰذِهٖ ۚ وَ اِنْ تُصِبْهُمْ سَیِّئَةٌ یَّطَّیَّرُوْا بِمُوْسٰی وَ مَنْ مَّعَهٗ ؕ اَلَاۤ اِنَّمَا طٰٓئِرُهُمْ عِنْدَ اللّٰهِ وَ لٰكِنَّ اَكْثَرَهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ 131
131. এরপর ওদের অবস্থা এমন হলো যে, ওদের উপর সুসময় আসলে বলতো, আমাদের নিজেদের চেষ্টা সাধনার প্রাপ্য এটা। কিন্তু যখন আবার দুর্দিনের শিকার হতো, তখন মুসা ও তার সঙ্গী-সাথিদেরকে এ দুর্ভাগ্যের জন্য দায়ী করত। অথচ প্রকৃতপক্ষে ওদের দুর্ভাগ্য যে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসতো, তা ওদের অধিকাংশ লোকই জানতো না।
وَقَالُوْا مَهْمَا تَاْتِنَا بِهٖ مِنْ اٰیَةٍ لِّتَسْحَرَنَا بِهَا ۙ فَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِیْنَ 132
132. এসব নাফরমানেরা মুসাকে বলতো, তুমি আমাদেরকে যাদু করে বশ করার জন্য যত নিদর্শনই আনো না কেন, আমরা কখনোই তোমার দাওয়াতে ঈমান আনবো না।
فَاَرْسَلْنَا عَلَیْهِمُ الطُّوْفَانَ وَ الْجَرَادَ وَالْقُمَّلَ وَالضَّفَادِعَ وَالدَّمَ اٰیٰتٍ مُّفَصَّلٰتٍ ۫ فَاسْتَكْبَرُوْا وَكَانُوْا قَوْمًا مُّجْرِمِیْنَ 133
133. অবশেষে আমার নিদর্শন দেখানোর উদ্দেশ্যে ওদের উপর বন্যার দুর্যোগ দিলাম। ওদের মধ্যে পোকা-মাকড় ছড়িয়ে দিলাম। উকুন ছেড়ে দিলাম। ব্যাঙের উৎপাত সৃষ্টি করলাম। এমনকি রক্ত বর্ষণ করলাম। কিন্তু না! এসব দেখেও ওরা অহংকারে ডুবে রইলো। আসলে ওরা ছিলো এক অপরাধপ্রবণ জাতি।
وَ لَمَّا وَقَعَ عَلَیْهِمُ الرِّجْزُ قَالُوْا یٰمُوْسَی ادْعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِنْدَكَ ۚ لَئِنْ كَشَفْتَ عَنَّا الرِّجْزَ لَنُؤْمِنَنَّ لَكَ وَ لَنُرْسِلَنَّ مَعَكَ بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَۚ 134
134. যখনই ওদের উপর কোনো দুর্যোগ এসে পড়তো, তখন মুসার কাছে এসে মিনতি করে বলতো, হে মুসা, তোমার সাথে তোমার রবের যে অঙ্গীকার রয়েছে, তার ভিত্তিতে আমাদের জন্য দোয়া করো। তুমি যদি এবারের শাস্তিটা আমাদের থেকে সরাতে পারো, তবে আমরা অবশ্যই তোমার প্রতি ঈমান আনবো এবং তোমার হাতে বনি ইসরাইলকে ছেড়ে দেবো।
فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ الرِّجْزَ اِلٰۤی اَجَلٍ هُمْ بٰلِغُوْهُ اِذَا هُمْ یَنْكُثُوْنَ 135
135. এরপর আমি আযাব সরিয়ে নিতাম এবং ওয়াদা পূরণের জন্য ওদেরকে প্রয়োজনীয় সময়ও দিতাম। কিন্তু না! ওরা নিজেদের ওয়াদা রক্ষা করতো না।
فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَاَغْرَقْنٰهُمْ فِی الْیَمِّ بِاَنَّهُمْ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَكَانُوْا عَنْهَا غٰفِلِیْنَ 136
136. শেষ পর্যন্ত আমি ওদের উপর প্রতিশোধ নিতে বাধ্য হলাম। সেদিন ওদের সবাইকে সমুদ্রে ডুবিয়ে মারলাম। কেননা ওরা বারবার আমার নিদর্শনগুলোকে মিথ্যা বলেছে। এসব থেকে উদাসীন থেকেছে।
وَاَوْرَثْنَا الْقَوْمَ الَّذِیْنَ كَانُوْا یُسْتَضْعَفُوْنَ مَشَارِقَ الْاَرْضِ وَمَغَارِبَهَا الَّتِیْ بٰرَكْنَا فِیْهَا ؕ وَ تَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ الْحُسْنٰی عَلٰی بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۙ۬ بِمَا صَبَرُوْا ؕ وَ دَمَّرْنَا مَا كَانَ یَصْنَعُ فِرْعَوْنُ وَ قَوْمُهٗ وَ مَا كَانُوْا یَعْرِشُوْنَ 137
137. এভাবেই ওদের পরে জমিনে কর্তৃত্বের উত্তারিধকার দান করলাম সেসব লোকদেরকে, যাদেরকে এতকাল দুর্বল ও অসহায় করে রাখা হয়েছিলো। আমি তাদেরকে রাজ্যের পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত একক ক্ষমতা দিলাম। রাজ্যের মধ্যে আমার পূর্ণ বরকত ঢেলে দিলাম। হে নবী, শোনো! এভাবেই বনি ইসরাইলের জন্য তোমার রবের দেয়া কল্যাণের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হয়েছিল। কারণ তারা দীর্ঘদিন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে হায়! সেদিন আমি ফেরাউন ও তার জাতির গড়া প্রতিটি শিল্প ও প্রাসাদ ধ্বংস করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছিলাম।
وَ جٰوَزْنَا بِبَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ الْبَحْرَ فَاَتَوْا عَلٰی قَوْمٍ یَّعْكُفُوْنَ عَلٰۤی اَصْنَامٍ لَّهُمْ ۚ قَالُوْا یٰمُوْسَی اجْعَلْ لَّنَاۤ اِلٰهًا كَمَا لَهُمْ اٰلِهَةٌ ؕ قَالَ اِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُوْنَ 138
138. সে সময় আমি বনি ইসরাইলকে সমুদ্র পার করে বাঁচিয়ে দেই। কিন্তু কিছুদিন পরে তারা এমন একটি জাতির সংস্পর্শে এলো, যারা নিজেরাই বড় বড় মূর্তি বানিয়ে পূজা করতো। তাদেরকে দেখে ওরা মুসার কাছে এসে আবদার জানালো, হে মুসা, ওদের খোদাদের মতো আমাদের জন্যও একটি খোদার মূর্তি বানিয়ে দাও। তখন মুসা বললো, হায়! এখনও তোমরা মূর্খতার মধ্যে ডুবে রইলে।
اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ مُتَبَّرٌ مَّا هُمْ فِیْهِ وَ بٰطِلٌ مَّا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 139
139. ওরা যেসব ভ্রান্ত খোদার অনুসরণ করছে, তারাই ওদের ধ্বংসের কারণ হবে। তাছাড়া ওদের এসব কাজের কোনো গ্রহণযোগ্য ভিত্তি নেই।
قَالَ اَغَیْرَ اللّٰهِ اَبْغِیْكُمْ اِلٰهًا وَّ هُوَ فَضَّلَكُمْ عَلَی الْعٰلَمِیْنَ 140
140. মুসা আরো বললো, আমি কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমাদের জন্য অন্য কোনো ইলাহ খুঁজবো? অথচ তিনি অন্যান্য জাতির তুলনায় তোমাদেরকে অনেক শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।
وَ اِذْ اَنْجَیْنٰكُمْ مِّنْ اٰلِ فِرْعَوْنَ یَسُوْمُوْنَكُمْ سُوْٓءَ الْعَذَابِ ۚ یُقَتِّلُوْنَ اَبْنَآءَكُمْ وَ یَسْتَحْیُوْنَ نِسَآءَكُمْ ؕ وَ فِیْ ذٰلِكُمْ بَلَآءٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ عَظِیْمٌ۠ 141
141. এ সময় আল্লাহ ওদেরকে বললেন, ভুলে যেয়ো না, আমিই তোমাদেরকে ফেরাউনের লোকদের হাত থেকে বাঁচিয়ে এনেছি। ওরা তোমাদেরকে জঘন্য শাস্তির মধ্যে রেখেছিলো। ওরা তোমাদের ছেলেদের হত্যা করতো; অথচ মেয়েদের বাঁচিয়ে রাখতো। বস্তুত তা ছিলো তোমাদের মহান রবের পক্ষ থেকে এক ভয়ানক পরীক্ষা।
وَ وٰعَدْنَا مُوْسٰی ثَلٰثِیْنَ لَیْلَةً وَّ اَتْمَمْنٰهَا بِعَشْرٍ فَتَمَّ مِیْقَاتُ رَبِّهٖۤ اَرْبَعِیْنَ لَیْلَةً ۚ وَ قَالَ مُوْسٰی لِاَخِیْهِ هٰرُوْنَ اخْلُفْنِیْ فِیْ قَوْمِیْ وَ اَصْلِحْ وَ لَا تَتَّبِعْ سَبِیْلَ الْمُفْسِدِیْنَ 142
142. এরপর আমি মুসাকে ত্রিশ দিন-রাতের জন্য সিনাই পাহাড়ে ডেকে নিলাম। পরে আরো দশ দিন-রাত বাড়িয়ে দিলাম। এভাবেই তার রব অবস্থানের জন্য নির্ধারিত সময় পূর্ণ চল্লিশ দিন-রাত করে দিলেন। আসার আগে মুসা তার ভাই হারুনকে নিজ স্থলাভিষিক্ত হিসাবে দায়িত্ব দিয়ে বললো, লোকদের সৎপথে চালাবে। খবরদার! কখনো বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পথে চলবে না।
وَ لَمَّا جَآءَ مُوْسٰی لِمِیْقَاتِنَا وَ كَلَّمَهٗ رَبُّهٗ ۙ قَالَ رَبِّ اَرِنِیْۤ اَنْظُرْ اِلَیْكَ ؕ قَالَ لَنْ تَرٰىنِیْ وَ لٰكِنِ انْظُرْ اِلَی الْجَبَلِ فَاِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهٗ فَسَوْفَ تَرٰىنِیْ ۚ فَلَمَّا تَجَلّٰی رَبُّهٗ لِلْجَبَلِ جَعَلَهٗ دَكًّا وَّ خَرَّ مُوْسٰی صَعِقًا ۚ فَلَمَّاۤ اَفَاقَ قَالَ سُبْحٰنَكَ تُبْتُ اِلَیْكَ وَ اَنَا اَوَّلُ الْمُؤْمِنِیْنَ 143
143. অতঃপর মুসা যখন আমার নির্ধারিত স্থানে এলো এবং তার রব তার সাথে কথা বললেন, তখন মুসা আবেদন জানালো, হে আমার রব, আমায় দেখা দাও, আমি তোমাকে নিজ চোখে দেখতে চাই। তিনি বললেন, তুমি আমায় দেখার সক্ষমতা রাখো না। প্রমাণ হিসেবে ঐ পাহাড়টির দিকে তাকাও। ঐ পাহাড় যদি স্বস্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, তবেই তুমি আমায় দেখতে পারবে। এরপর তার রব ঐ পাহাড়ের উপর যখন নূর ফেললেন, মুহূর্তের মধ্যে পাহাড় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ভস্ম হয়ে গেলো। এমনকি মুসা নিজেও অজ্ঞান হয়ে পড়ে রইলো। অতঃপর মুসা জ্ঞান ফিরে পেয়ে বলে উঠলো, সুবহানাল্লহ! পাক পবিত্র মহান সত্তা তুমি। আমি তোমার কাছে তাওবা করছি এবং আমি ঘোষণা করছি, মুমিনদের মধ্যে আমি এগিয়ে থাকবো।
قَالَ یٰمُوْسٰۤی اِنِّی اصْطَفَیْتُكَ عَلَی النَّاسِ بِرِسٰلٰتِیْ وَ بِكَلَامِیْ ۖؗ فَخُذْ مَاۤ اٰتَیْتُكَ وَ كُنْ مِّنَ الشّٰكِرِیْنَ 144
144. এরপর আল্লাহ বললেন, হে মুসা, আমি সকল মানুষের উপর অগ্রাধিকার দিয়ে তোমাকে আমার রেসালাতের জন্য বাছাই করেছি এবং তোমার সাথে সরাসরি কথাও বলেছি। কাজেই আমি তোমাকে যা কিছু দিলাম, তা গ্রহণ করো এবং এর দাবি পূরণ করে চলো।
وَ كَتَبْنَا لَهٗ فِی الْاَلْوَاحِ مِنْ كُلِّ شَیْءٍ مَّوْعِظَةً وَّ تَفْصِیْلًا لِّكُلِّ شَیْءٍ ۚ فَخُذْهَا بِقُوَّةٍ وَّ اْمُرْ قَوْمَكَ یَاْخُذُوْا بِاَحْسَنِهَا ؕ سَاُورِیْكُمْ دَارَ الْفٰسِقِیْنَ 145
145. এরপর আমি মুসাকে কতগুলো লিখিত ফলক দিলাম। এতে লোকদের জন্য সব বিষয়ে উপদেশ এবং বিধি-নিষেধের বিবরণ ছিলো। আমি আদেশ করলাম, হে মুসা, তুমি নিজে এগুলো দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করো এবং তোমার জাতির লোকদেরকে সুন্দরভাবে মেনে চলতে বলো। আমি অচিরেই তোমাদেরকে ঐসব জনপদ দেখাবো, যারা সত্যত্যাগ করায় মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হয়েছিলো।
سَاَصْرِفُ عَنْ اٰیٰتِیَ الَّذِیْنَ یَتَكَبَّرُوْنَ فِی الْاَرْضِ بِغَیْرِ الْحَقِّ ؕ وَ اِنْ یَّرَوْا كُلَّ اٰیَةٍ لَّا یُؤْمِنُوْا بِهَا ۚ وَ اِنْ یَّرَوْا سَبِیْلَ الرُّشْدِ لَا یَتَّخِذُوْهُ سَبِیْلًا ۚ وَ اِنْ یَّرَوْا سَبِیْلَ الْغَیِّ یَتَّخِذُوْهُ سَبِیْلًا ؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَكَانُوْا عَنْهَا غٰفِلِیْنَ 146
146. আমার নীতি হলো, যারা অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে দম্ভ করে বেড়ায়, ওদেরকে আমার নিদর্শন থেকে বিমুখ রাখি। ওরা আমার সুস্পষ্ট নিদর্শন দেখলেও, সত্য বলে মানবে না। ওদের স্বভাব বৈশিষ্ট্য এমন যে, ওদের সামনে সঠিক পথ এসে পড়লে, ওরা তা এড়িয়ে যায়। অন্যদিকে বাঁকা পথ দেখা মাত্রই, সে পথে হাঁটতে শুরু করে। আসলে ওরা শুরু থেকেই আমার আয়াতগুলোকে মিথ্যা বলার জন্য জেদ ধরে আছে এবং এ ব্যাপারে ওরা বড়ই বেপরোয়া থেকেছে।
وَ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَ لِقَآءِ الْاٰخِرَةِ حَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ ؕ هَلْ یُجْزَوْنَ اِلَّا مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ۠ 147
147. কাজেই যারা আমার আয়াতগুলোকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিচ্ছে এবং আখেরাতে আমার সাথে সাক্ষাতের কথা বেমালুম ভুলে রয়েছে, ওদের সমস্ত কর্মকান্ড ব্যর্থ হয়ে গেছে। এখন তোমরাই বলো, ওদের এমন কী কাজ অবশিষ্ট রয়েছে, যার প্রতিদান ওরা পেতে পারে?
وَ اتَّخَذَ قَوْمُ مُوْسٰی مِنْۢ بَعْدِهٖ مِنْ حُلِیِّهِمْ عِجْلًا جَسَدًا لَّهٗ خُوَارٌ ؕ اَلَمْ یَرَوْا اَنَّهٗ لَا یُكَلِّمُهُمْ وَ لَا یَهْدِیْهِمْ سَبِیْلًا ۘ اِتَّخَذُوْهُ وَ كَانُوْا ظٰلِمِیْنَ 148
148. এদিকে মুসার অনুপস্থিতিতে তার জাতির লোকেরা নিজেদের স্বর্ণালংকার দিয়ে একটি গো বাছুরের মূর্তি বানালো। এ বাছুরটির মুখ থেকে কেবল হাম্বা-হাম্বা আওয়াজ বের হতো। এটুকু দেখেই বাছুরকে নিজেদের উপাস্য হিসাবে পূজা করতে লাগলো। অথচ ওরা একবারও ভেবে দেখলো না যে, ঐ বাছুরটি ওদের সাথে কোনো কথা বলেনি কিংবা ওদেরকে কোনো পথনির্দেশও দেয়নি। আসলে ওরা ছিলো বড়ই জালেম প্রকৃতির।
وَ لَمَّا سُقِطَ فِیْۤ اَیْدِیْهِمْ وَ رَاَوْا اَنَّهُمْ قَدْ ضَلُّوْا ۙ قَالُوْا لَئِنْ لَّمْ یَرْحَمْنَا رَبُّنَا وَ یَغْفِرْ لَنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ 149
149. পরে যখন ওদের ঘোর কাটলো, তখন বুঝতে পারলো যে, আসলে ওরা পথভ্রষ্ট হয়েছে। এ সময় ওরা অনুতপ্ত হয়ে বলতে লাগলো, যদি আমাদের রব আমাদের প্রতি দয়া না করেন, ক্ষমা না করেন, তবে আমরা ধ্বংস হয়ে যাবো।
وَ لَمَّا رَجَعَ مُوْسٰۤی اِلٰی قَوْمِهٖ غَضْبَانَ اَسِفًا ۙ قَالَ بِئْسَمَا خَلَفْتُمُوْنِیْ مِنْۢ بَعْدِیْ ۚ اَعَجِلْتُمْ اَمْرَ رَبِّكُمْ ۚ وَ اَلْقَی الْاَلْوَاحَ وَ اَخَذَ بِرَاْسِ اَخِیْهِ یَجُرُّهٗۤ اِلَیْهِ ؕ قَالَ ابْنَ اُمَّ اِنَّ الْقَوْمَ اسْتَضْعَفُوْنِیْ وَ كَادُوْا یَقْتُلُوْنَنِیْ ۖؗ فَلَا تُشْمِتْ بِیَ الْاَعْدَآءَ وَ لَا تَجْعَلْنِیْ مَعَ الْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ 150
150. এরপর মুসা ফিরে এসে জাতির এসব কর্মকান্ড দেখে রাগে-ক্ষোভে ফেটে পড়লো এবং দারুণভাবে মর্মাহত হলো। সে জাতির লোকদের বললো, আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা খুবই নিকৃষ্ট কাজ করে বসেছো। আফসোস! তোমাদের কাছে আল্লাহর বিধি-বিধানগুলো নিয়ে আসার সময়টুকুও অপেক্ষা করতে পারলে না? এ সময় মুসা এতোটাই ক্ষুব্ধ ছিলো যে, নিজের হাতে থাকা আসমানী ফলকগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিলো এবং আপন ভাই হারুন এর মাথার চুল ধরে টানতে শুরু করলো। হারুন বললো, হে আমার ভাই, লোকেরা আমাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে রেখেছিলো। এমনকি ওরা আমায় হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিলো। কাজেই এখন তুমি আমাকে শত্রুদের সামনে হাসি-তামাশার খোরাক বানাইও না। আমাকে এ জালেমদের দলভুক্ত ভেবো না।
قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِیْ وَ لِاَخِیْ وَ اَدْخِلْنَا فِیْ رَحْمَتِكَ ۖؗ وَ اَنْتَ اَرْحَمُ الرّٰحِمِیْنَ۠ 151
151. তখন মুসা ফরিয়াদ করলো, হে আমার রব, আমাকে ও আমার ভাই হারুনকে মাফ করে দাও। তোমার রহমতের ছায়ায় আমাদের আশ্রয় দাও। তুমি সবচেয়ে বড় দয়াবান।
اِنَّ الَّذِیْنَ اتَّخَذُوا الْعِجْلَ سَیَنَالُهُمْ غَضَبٌ مِّنْ رَّبِّهِمْ وَ ذِلَّةٌ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ؕ وَ كَذٰلِكَ نَجْزِی الْمُفْتَرِیْنَ 152
152. এ সময় তাদের বলা হলো, যারা গো বাছুরকে উপাস্যরূপে পূজা করেছে, ওরা অবশ্যই ওদের আসল রবের ক্রোধের শিকার হবে। ওরা দুনিয়ার জীবনেই লাঞ্ছিত-ঘৃণিত হবে। এ ধরনের মিথ্যা রটনাকারীদের কপালে এমন শাস্তিই আমি নির্ধারণ করে রেখেছি।
وَ الَّذِیْنَ عَمِلُوا السَّیِّاٰتِ ثُمَّ تَابُوْا مِنْۢ بَعْدِهَا وَ اٰمَنُوْۤا ؗ اِنَّ رَبَّكَ مِنْۢ بَعْدِهَا لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 153
153. তবে যারা খারাপ কাজ করার পর সত্যিকারের তাওবা করে এবং ঠিকঠাকভাবে সত্যকে মেনে চলে, তারা যথার্থ ক্ষমা পাবে। কেননা এ অবস্থায় তোমার রব বড়ই ক্ষমাশীল ও মেহেরবান।
وَ لَمَّا سَكَتَ عَنْ مُّوْسَی الْغَضَبُ اَخَذَ الْاَلْوَاحَ ۖۚ وَ فِیْ نُسْخَتِهَا هُدًی وَّ رَحْمَةٌ لِّلَّذِیْنَ هُمْ لِرَبِّهِمْ یَرْهَبُوْنَ 154
154. অতঃপর মুসার রাগ প্রশমিত হলে সে আসমানী ফলকগুলো তুলে নিলো। বস্তুত যারা নিজেদের রবকে ভয় করে চলে, তাদের জন্যে ঐসব ফলকে ছিলো পথনির্দেশ ও রহমত।
وَ اخْتَارَ مُوْسٰی قَوْمَهٗ سَبْعِیْنَ رَجُلًا لِّمِیْقَاتِنَا ۚ فَلَمَّاۤ اَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ قَالَ رَبِّ لَوْ شِئْتَ اَهْلَكْتَهُمْ مِّنْ قَبْلُ وَ اِیَّایَ ؕ اَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ السُّفَهَآءُ مِنَّا ۚ اِنْ هِیَ اِلَّا فِتْنَتُكَ ؕ تُضِلُّ بِهَا مَنْ تَشَآءُ وَ تَهْدِیْ مَنْ تَشَآءُ ؕ اَنْتَ وَلِیُّنَا فَاغْفِرْ لَنَا وَ ارْحَمْنَا وَ اَنْتَ خَیْرُ الْغٰفِرِیْنَ 155
155. এরপর মুসা তার জাতির বাছাইকৃত সত্তরজন নেতৃস্থানীয় লোকদের নিয়ে ক্ষমা চাওয়ার জন্য আমার নির্ধারিত স্থানÑ তুর পাহাড়ে সমবেত হলো। এ সময় তারা অকস্মাৎ এক ভূমিকম্পে আক্রান্ত হলো। তখন মুসা ফরিয়াদ করলো, হে আমার রব, তুমি চাইলে আগেই এদের ধ্বংস করে দিতে পারতে। আমাদের কিছু নির্বোধ লোক যে অপরাধ করেছে, তার জন্য কি তুমি আমাদের সবাইকে ধ্বংস করে দেবে? প্রকৃতপক্ষে এটাতো ছিলো তোমার দেয়া এক বড় পরীক্ষা। এর মাধ্যমে তুমি যাকে চাও গোমরাহ বানাও, আবার যাকে চাও সহজ-সঠিক পথ দেখাও। হে আমাদের রব, তুমিই আমাদের একমাত্র অভিভাবক। কাজেই আমাদের কৃত অপরাধ ক্ষমা করো এবং আমাদের প্রতি দয়া করো। নিশ্চয়ই তুমি সবচেয়ে বড় ক্ষমাশীল।
وَ اكْتُبْ لَنَا فِیْ هٰذِهِ الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّ فِی الْاٰخِرَةِ اِنَّا هُدْنَاۤ اِلَیْكَ ؕ قَالَ عَذَابِیْۤ اُصِیْبُ بِهٖ مَنْ اَشَآءُ ۚ وَ رَحْمَتِیْ وَ سِعَتْ كُلَّ شَیْءٍ ؕ فَسَاَكْتُبُهَا لِلَّذِیْنَ یَتَّقُوْنَ وَ یُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَ الَّذِیْنَ هُمْ بِاٰیٰتِنَا یُؤْمِنُوْنَۚ 156
156. হে আমাদের রব, দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনে আমাদের কল্যাণ দাও। নিশ্চয়ই আমরা তোমার দিকেই ফিরছি। আল্লাহ মুসার দোয়ার জবাবে বললেন, নিশ্চয়ই আমার নীতি অনুযায়ী যাকে ইচ্ছা আমি শাস্তি দিয়ে থাকি। তবে জেনে রেখো, আমার অনুগ্রহ সব জিনিসের উপর পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে। কাজেই আমার অনুগ্রহ কেবল তারাই পাবে, যারা আমার নাফরমানী করা থেকে বেঁচে থাকবে। ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করবে এবং আমার প্রত্যেকটি নিদর্শনের উপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখবে।
اَلَّذِیْنَ یَتَّبِعُوْنَ الرَّسُوْلَ النَّبِیَّ الْاُمِّیَّ الَّذِیْ یَجِدُوْنَهٗ مَكْتُوْبًا عِنْدَهُمْ فِی التَّوْرٰىةِ وَ الْاِنْجِیْلِ ؗ یَاْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوْفِ وَ یَنْهٰىهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَیُحِلُّ لَهُمُ الطَّیِّبٰتِ وَیُحَرِّمُ عَلَیْهِمُ الْخَبٰٓئِثَ وَ یَضَعُ عَنْهُمْ اِصْرَهُمْ وَالْاَغْلٰلَ الَّتِیْ كَانَتْ عَلَیْهِمْ ؕ فَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِهٖ وَ عَزَّرُوْهُ وَ نَصَرُوْهُ وَاتَّبَعُوا النُّوْرَ الَّذِیْۤ اُنْزِلَ مَعَهٗۤ ۙ اُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ۠ 157
157. অতএব হে নবী, বর্তমানে বনি ইসরাইলের কেবল তারাই আমার অনুগ্রহ পাবে, যারা আমার পাঠানো সর্বশেষ বার্তাবাহক এই অ-ইসরাঈলী নবীর অনুসরণ করবে যার পূর্ণ বিবরণ তাদের তাওরাত ও ইনজিলে তারা লিখিত অবস্থায় দেখতে পাচ্ছে। এ রসুল তাদেরকে সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখে। তাদের জন্য সব ধরনের পাক-পবিত্র জিনিসকে হালাল ও নাপাক জিনিসকে হারাম বলে ঘোষণা দেয়। তাদের উপর এতকাল যে বোঝার ভার ও বাঁধন ছিলো, তা থেকে মুক্তি এনে দেয়। সুতরাং এখন যারাই তার উপর ঈমান এনেছে, তাকে যথার্থ মর্যাদা দান করেছে, তাকে সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা করেছে এবং তার প্রতি আমার নাযিল করা নূর এ অহির অনুসরণ করেছে, কেবল এমন লোকেরাই সফল হয়েছে।
قُلْ یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اِنِّیْ رَسُوْلُ اللّٰهِ اِلَیْكُمْ جَمِیْعَا ِ۟الَّذِیْ لَهٗ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ۚ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ یُحْیٖ وَ یُمِیْتُ ۪ فَاٰمِنُوْا بِاللّٰهِ وَ رَسُوْلِهِ النَّبِیِّ الْاُمِّیِّ الَّذِیْ یُؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَ كَلِمٰتِهٖ وَ اتَّبِعُوْهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ 158
158. নবী হে, ঘোষণা করো, ওহে দুনিয়ার মানুষেরা শোনো, আমি তোমাদের সবার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে রসুল হয়ে এসেছি। মনে রেখো, এ মহাকাশ ও পৃথিবীর একক সার্বভৌম কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর হাতে। তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তিনিই সবার জীবন দান করেন আবার মৃত্যু ঘটান। কাজেই এখন তোমরা পূর্ণ ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি ও তাঁর সে বার্তাবাহক এ উম্মি নবীর প্রতি, যে নিজেই আল্লাহ ও তাঁর বাণীর প্রতি ঈমান রাখে। আর তোমরা সে রসুলকে একনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করে চলো। আশা করা যায়, এ ভাবেই তোমরা সহজ-সঠিক পথের সন্ধান পাবে।
وَ مِنْ قَوْمِ مُوْسٰۤی اُمَّةٌ یَّهْدُوْنَ بِالْحَقِّ وَ بِهٖ یَعْدِلُوْنَ 159
159. শোনো! সে সময়েও মুসার জাতির মধ্যে এমন কিছু লোক ছিলো, যারা অন্যদেরকে সত্য-সঠিক পথ দেখাতো এবং ন্যায়পন্থায় লোকদের বিচার-ফয়সালা করতো।
وَ قَطَّعْنٰهُمُ اثْنَتَیْ عَشْرَةَ اَسْبَاطًا اُمَمًا ؕ وَ اَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰۤی اِذِ اسْتَسْقٰىهُ قَوْمُهٗۤ اَنِ اضْرِبْ بِّعَصَاكَ الْحَجَرَ ۚ فَانْۢبَجَسَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَیْنًا ؕ قَدْ عَلِمَ كُلُّ اُنَاسٍ مَّشْرَبَهُمْ ؕ وَ ظَلَّلْنَا عَلَیْهِمُ الْغَمَامَ وَ اَنْزَلْنَا عَلَیْهِمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوٰی ؕ كُلُوْا مِنْ طَیِّبٰتِ مَا رَزَقْنٰكُمْ ؕ وَ مَا ظَلَمُوْنَا وَ لٰكِنْ كَانُوْۤا اَنْفُسَهُمْ یَظْلِمُوْنَ 160
160. সে সময়ে আমি বনি ইসরাইলকে বারোটি গোত্রে বিন্যাস করেছিলাম। মনে করে দেখো, গোত্রের লোকেরা এক পর্যায়ে যখন মুসার কাছে পানির জন্য আবেদন করলো, তখন আমি মুসাকে অহি করে বললাম, তোমার হাতের লাঠি দিয়ে ঐ পাথরের গায়ে আঘাত করো। ফলে সে পাথর থেকে একসাথে বারোটি ঝর্না প্রবাহিত হলো এবং প্রত্যেক গোত্র তাদের পানি গ্রহণের জায়গা ঠিকঠাকভাবে জেনে নিলো। ভুলে যেয়ো না, আমি এ সময় মরুভূমিতে ওদের উপর মেঘমালা দিয়ে ছায়া দিয়েছিলাম। ওদের জন্য আকাশ থেকে মান্না ও সালওয়া পাঠিয়ে আহার যুগিয়েছিলাম। ওদেরকে বলেছিলাম, আমার দেয়া এসব পাক-পবিত্র রিযিক থেকে মনভরে খাও। হায় আফসোস! এতসব কিছুর পরেও ওরা বারবার আমর নাফরমানী করেছে। আসলে ওদের নাফরমানীতে আমার কোনো ক্ষতি হয়নি; বরং ওরা নিজেরাই নিজেদের করেছে।
وَ اِذْ قِیْلَ لَهُمُ اسْكُنُوْا هٰذِهِ الْقَرْیَةَ وَ كُلُوْا مِنْهَا حَیْثُ شِئْتُمْ وَ قُوْلُوْا حِطَّةٌ وَّ ادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا نَّغْفِرْ لَكُمْ خَطِیْٓـٰٔتِكُمْ ؕ سَنَزِیْدُ الْمُحْسِنِیْنَ 161
161. স্মরণ করে দেখো, মরুজীবন থেকে মুক্তি দিয়ে ওদেরকে বলা হলো, সামনের ঐ নগরীতে তোমরা এখন থেকে বসবাস করো এবং সেখানে যা পাও তা থেকে যতো ইচ্ছে খাও। আর বারবার বলতে থাকো, আমরা ক্ষমা চাই-আমরা ক্ষমা চাই। মনে রেখো, নগরীর প্রধান গেট দিয়ে প্রবেশের সময় আমার প্রতি অবশ্যই সিজদাবনত হবে। বিনিময়ে আমি তোমাদের অতীত অপরাধগুলো ক্ষমা করবো। এমনকি এ ধরনের সৎকর্মশীলদের নেয়ামত আরো বাড়িয়ে দেবো।
فَبَدَّلَ الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا مِنْهُمْ قَوْلًا غَیْرَ الَّذِیْ قِیْلَ لَهُمْ فَاَرْسَلْنَا عَلَیْهِمْ رِجْزًا مِّنَ السَّمَآءِ بِمَا كَانُوْا یَظْلِمُوْنَ۠ 162
162. কিন্তু আফসোস! সেদিন ওদের মধ্যকার সীমালঙ্ঘনকারী অবাধ্য লোকেরা আমার নির্দেশিত কথা পরিবর্তন করে অন্যসব কথা আওড়ালো। ফলে ওদের নাফরমানীর প্রতিশোধে আমি আকাশ থেকে ওদের উপর আযাব পাঠালাম।
وَ سْـَٔلْهُمْ عَنِ الْقَرْیَةِ الَّتِیْ كَانَتْ حَاضِرَةَ الْبَحْرِ ۘ اِذْ یَعْدُوْنَ فِی السَّبْتِ اِذْ تَاْتِیْهِمْ حِیْتَانُهُمْ یَوْمَ سَبْتِهِمْ شُرَّعًا وَّ یَوْمَ لَا یَسْبِتُوْنَ ۙ لَا تَاْتِیْهِمْ ۛۚ كَذٰلِكَ ۛۚ نَبْلُوْهُمْ بِمَا كَانُوْا یَفْسُقُوْنَ 163
163. হে নবী, তুমি এসব ইসরাইলের সন্তানদের জিজ্ঞেস করো, তারা আমার দেয়া শনিবারের বিধান লঙ্ঘনকারী সমুদ্র তীরবর্তী সেই জনপদবাসীর পরিণতির ঘটনা জানে কি? ঐ লোকেরা অনবরত শনিবারের বিধান অমান্য করে চলতো। আর কেবল সে শনিবারেই সমুদ্রের মাছেরা পানিতে ভেসে ভেসে ওদের কাছে আসতো; অথচ অন্যান্য দিনে এভাবে আসতো না। আসলে ওদের নাফরমানীর কারণে এভাবেই ক্রমাগত ওদেরকে পরীক্ষার মুখোমুখি করছিলাম।
وَ اِذْ قَالَتْ اُمَّةٌ مِّنْهُمْ لِمَ تَعِظُوْنَ قَوْمَا ۙ ِ۟اللّٰهُ مُهْلِكُهُمْ اَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِیْدًا ؕ قَالُوْا مَعْذِرَةً اِلٰی رَبِّكُمْ وَ لَعَلَّهُمْ یَتَّقُوْنَ 164
164. সেখানকার সৎ উপদেশদানকারীদের কিছু লোক বলেছিলো, তোমরা খামখা এসব নাফরমানদের কেন নসিহত করছো, যারা নিজ কারণে অচিরেই আল্লাহর ধ্বংস বা শাস্তির শিকার হবে? তারা বলেছিলো, আমরা এ জন্য করছি, যাতে তোমাদের রবের সামনে নিজেদের দায়মুক্তির ওযর পেশ করতে পারি এবং হয়ত ওরা আল্লাহর নাফরমানী থেকে ফিরে আসবে।
فَلَمَّا نَسُوْا مَا ذُكِّرُوْا بِهٖۤ اَنْجَیْنَا الَّذِیْنَ یَنْهَوْنَ عَنِ السُّوْٓءِ وَ اَخَذْنَا الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا بِعَذَابٍۭ بَئِیْسٍۭ بِمَا كَانُوْا یَفْسُقُوْنَ 165
165. শেষপর্যন্ত ঐসব জালেমেরা সৎপথের কোনো আহ্বানেই কর্ণপাত করেনি। ফলে সীমাহীন নাফরমানীর কারণে ওদেরকে ভয়ঙ্কর শাস্তি দিয়ে পাকড়াও করলাম। সেদিন কেবল সেসব লোকদের বাঁচিয়ে দিলাম, যারা ওদেরকে খারাপ পথ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলো।
فَلَمَّا عَتَوْا عَنْ مَّا نُهُوْا عَنْهُ قُلْنَا لَهُمْ كُوْنُوْا قِرَدَةً خٰسِئِیْنَ 166
166. এসব আযাব দেখার পরেও যখন ওরা চরম ধৃষ্টতার সাথে নিষিদ্ধ কাজগুলো অনবরত করে যাচ্ছিলো, তখন আমি ওদের বললাম, তোমরা লাঞ্ছিত-ঘৃণিত বানরে পরিণত হয়ে যাও।
وَ اِذْ تَاَذَّنَ رَبُّكَ لَیَبْعَثَنَّ عَلَیْهِمْ اِلٰی یَوْمِ الْقِیٰمَةِ مَنْ یَّسُوْمُهُمْ سُوْٓءَ الْعَذَابِ ؕ اِنَّ رَبَّكَ لَسَرِیْعُ الْعِقَابِ ۖۚ وَ اِنَّهٗ لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 167
167. হে নবী, এসব বনি ইসরাইলকে তোমার রবের সে ঘোষণা স্মরণ করিয়ে দাও, যখন তিনি বলেছিলেন, কেয়ামত পর্যন্ত তিনি সবসময় তোমাদের উপর এমনসব লোকদের ক্ষমতাবান করে রাখবেন, যারা তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি দিবে। বস্তুত কাউকে শাস্তি দিতে তোমার রবের মোটেই সময় লাগে না। অবশ্য তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই মেহেরবান।
وَ قَطَّعْنٰهُمْ فِی الْاَرْضِ اُمَمًا ۚ مِنْهُمُ الصّٰلِحُوْنَ وَ مِنْهُمْ دُوْنَ ذٰلِكَ ؗ وَ بَلَوْنٰهُمْ بِالْحَسَنٰتِ وَ السَّیِّاٰتِ لَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَ 168
168. আমি বনি ইসরাইলকে পৃথিবীর নানা প্রান্তে খন্ড-বিখন্ড করে বহু ভাগে বিভক্ত করে রেখেছি। ওদের মধ্যে কিছু লোক সৎ প্রকৃতির থাকলেও বেশিরভাগই ভিন্ন। আমি ওদেরকে বারবার ভালো ও খারাপ অবস্থার মধ্যে ফেলে পরীক্ষা করেছি, যাতে ওরা সত্যপথে ফিরে আসে।
فَخَلَفَ مِنْۢ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ وَّرِثُوا الْكِتٰبَ یَاْخُذُوْنَ عَرَضَ هٰذَا الْاَدْنٰی وَ یَقُوْلُوْنَ سَیُغْفَرُ لَنَا ۚ وَ اِنْ یَّاْتِهِمْ عَرَضٌ مِّثْلُهٗ یَاْخُذُوْهُ ؕ اَلَمْ یُؤْخَذْ عَلَیْهِمْ مِّیْثَاقُ الْكِتٰبِ اَنْ لَّا یَقُوْلُوْا عَلَی اللّٰهِ اِلَّا الْحَقَّ وَ دَرَسُوْا مَا فِیْهِ ؕ وَ الدَّارُ الْاٰخِرَةُ خَیْرٌ لِّلَّذِیْنَ یَتَّقُوْنَ ؕ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ 169
169. এরপর এমন সব প্রজন্ম ওদের স্থলাভিষিক্ত হলো, যারা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কিতাবকে দুনিয়ার সামান্য স্বার্থে বিকিয়ে দিতে লাগলো। এমনকি দুনিয়ার তুচ্ছ থেকে তুচ্ছতর সামান্য একটা সুযোগও হাতছাড়া করতো না। অথচ এরপরেও ওরা বলে বেড়াতো, ওদের জন্য আল্লাহর ক্ষমার আগাম ঘোষণা রয়েছে। নবী হে, ওদের জিজ্ঞেস করো, ওরা যে কিতাব নিজেরা পড়ছে ও পড়াচ্ছে, তার মধ্যে কি ওদের থেকে এ কথার উপর শক্তিশালী প্রতিশ্রুতি নেয়া হয়নি যে, তোমরা আল্লাহর নামে সত্য ছাড়া আর কিছুই বলবে না? ওদের জানা উচিত, যারা তাকওয়ার পথে চলে, কেবল তারাই আখেরাতে সুন্দর আবাস পাবে। তবে কি তোমাদের মাথায় এ সহজ নীতিটাও ধরে না?
وَالَّذِیْنَ یُمَسِّكُوْنَ بِالْكِتٰبِ وَاَقَامُوا الصَّلٰوةَ ؕ اِنَّا لَا نُضِیْعُ اَجْرَ الْمُصْلِحِیْنَ 170
170. মনে রেখো, যারা কিতাবকে শক্ত করে আঁকড়ে চলবে এবং নামাজ কায়েম করে, নিশ্চয়ই এমন সৎকর্মশীলদের প্রতিদান আমি কখনোই নষ্ট করবো না।
وَ اِذْ نَتَقْنَا الْجَبَلَ فَوْقَهُمْ كَاَنَّهٗ ظُلَّةٌ وَّ ظَنُّوْۤا اَنَّهٗ وَاقِعٌۢ بِهِمْ ۚ خُذُوْا مَاۤ اٰتَیْنٰكُمْ بِقُوَّةٍ وَّ اذْكُرُوْا مَا فِیْهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ۠ 171
171. সেই অঙ্গীকারের কথা কি ওদের মনে পড়ে, যা আমি গ্রহণ করেছিলাম ওদের মাথার উপর আস্ত পাহাড়টাকে সামিয়ানার মতো তুলে ধরে? তখন ওদের মনে হচ্ছিলো, এখনই বুঝি পাহাড়টা মাথার উপর ভেঙ্গে পড়বে। আমি বলেছিলাম, তোমাদেরকে আমি যে কিতাব দিচ্ছি তা আঁকড়ে চরো এবং এর বিধি-বিধান সর্বদা চর্চা করো। আশা করা যায়, তোমরা এভাবে ভুল পথ থেকে বেঁচে থাকতে পারবে।
وَ اِذْ اَخَذَ رَبُّكَ مِنْۢ بَنِیْۤ اٰدَمَ مِنْ ظُهُوْرِهِمْ ذُرِّیَّتَهُمْ وَ اَشْهَدَهُمْ عَلٰۤی اَنْفُسِهِمْ اَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ ؕ قَالُوْا بَلٰی ۛۚ شَهِدْنَا ۛۚ اَنْ تَقُوْلُوْا یَوْمَ الْقِیٰمَةِ اِنَّا كُنَّا عَنْ هٰذَا غٰفِلِیْنَۙ 172
172. স্মরণ করো, যখন তোমর রব প্রত্যেক আদম সন্তানের পিঠ থেকে তার বংশধরদের বের করে এনেছিলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের উপর সাক্ষী বানিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, বলো! আমি কি তোমাদের রব নই? তারা সাক্ষ্য দিয়েছিলো, হ্যাঁ, অবশ্যই। আসলে আমি এ সাক্ষ্য এজন্যই নিয়ে রেখেছি, যাতে কিয়ামতের দিন তোমরা বলতে না পারো যে, আমরাতো এ ব্যাপারে কিছুই জানতাম না।
اَوْ تَقُوْلُوْۤا اِنَّمَاۤ اَشْرَكَ اٰبَآؤُنَا مِنْ قَبْلُ وَ كُنَّا ذُرِّیَّةً مِّنْۢ بَعْدِهِمْ ۚ اَفَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ الْمُبْطِلُوْنَ 173
173. কিংবা যেনো একথা বলতে না পারো যে, শিরকের সূচনাতো আমাদের বাপ-দাদারা আমাদের বহু পূর্বে শুরু করেছিলো। আর আমরা পরবর্তীতে তাদের ঘরে জন্ম নেয়ায় সে পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছি। তবে কি ভ্রষ্টচারীদের পাপের কারণে আমাদেরকে শাস্তি দিবে?
وَ كَذٰلِكَ نُفَصِّلُ الْاٰیٰتِ وَ لَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَ 174
174. এভাবেই আমি লোকদের জন্য আমার আয়াতগুলো খুলেখুলে বর্ণনা করছি, যাতে তারা ভুলপথ থেকে ফিরে আসে।
وَ اتْلُ عَلَیْهِمْ نَبَاَ الَّذِیْۤ اٰتَیْنٰهُ اٰیٰتِنَا فَانْسَلَخَ مِنْهَا فَاَتْبَعَهُ الشَّیْطٰنُ فَكَانَ مِنَ الْغٰوِیْنَ 175
175. হে নবী, তুমি লোকদের সামনে সে ব্যক্তির অবস্থা তুলে ধরো, যাকে আমি আমার আয়াতের জ্ঞান দান করেছিলাম। কিন্তু সে তার অনুসরণ না করে অন্য পথে হাঁটলো। ফলে শয়তান তার পিছে লাগে। পরিণতিতে সে পথহারাদের দলে শামিল হয়ে যায়।
وَ لَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنٰهُ بِهَا وَ لٰكِنَّهٗۤ اَخْلَدَ اِلَی الْاَرْضِ وَ اتَّبَعَ هَوٰىهُ ۚ فَمَثَلُهٗ كَمَثَلِ الْكَلْبِ ۚ اِنْ تَحْمِلْ عَلَیْهِ یَلْهَثْ اَوْ تَتْرُكْهُ یَلْهَثْ ؕ ذٰلِكَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا ۚ فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ یَتَفَكَّرُوْنَ 176
176. আমি চাইলে ঐ আয়াতগুলোর সাহায্যে তাকে উচ্চ মর্যাদাশীল করতে পারতাম। কিন্তু সে পার্থিব স্বার্থে আসক্ত হলো এবং নিজের কামনা-বাসনার অনুসরণ করলো। আসলে তার অবস্থা হয়েছিলো ঐ কুকুরের মতো, যাকে তুমি তাড়া করলেও জিহ্বা বের করে হাঁপাতে থাকে, আর তাড়া না করলেও জিহ্বা বের কের হাঁপাতে থাকে। মনে রেখো, যারা আমার নিদর্শন দেখার পরেও তাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে, এ উপমা ওদের বাস্তব নমুনা। হে নবী, তুমি লোকদের কাছে এসব ঘটনা বর্ণনা করে শোনাও, হয়তো তারা কিছুটা চিন্তা ভাবনা করবে।
سَآءَ مَثَلَا ِ۟الْقَوْمُ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَ اَنْفُسَهُمْ كَانُوْا یَظْلِمُوْنَ 177
177. শুনে রেখো, যেসব লোক আমার আয়াতকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলো, ইতিহাসে ওদের দৃষ্টান্ত খুবই খারাপ হয়েছে। কেননা ওরা নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করেছিলো।
مَنْ یَّهْدِ اللّٰهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِیْ ۚ وَ مَنْ یُّضْلِلْ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْخٰسِرُوْنَ 178
178. আসলে আল্লাহ যাকে সহজ-সঠিক পথ দেখান, কেবল সেই তা পেতে পারে। পক্ষান্তরে তিনি যাকে ভ্রান্তপথে ছেড়ে দেন, সে ভয়ানক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
وَ لَقَدْ ذَرَاْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِیْرًا مِّنَ الْجِنِّ وَ الْاِنْسِ ۖؗ لَهُمْ قُلُوْبٌ لَّا یَفْقَهُوْنَ بِهَا ؗ وَ لَهُمْ اَعْیُنٌ لَّا یُبْصِرُوْنَ بِهَا ؗ وَ لَهُمْ اٰذَانٌ لَّا یَسْمَعُوْنَ بِهَا ؕ اُولٰٓئِكَ كَالْاَنْعَامِ بَلْ هُمْ اَضَلُّ ؕ اُولٰٓئِكَ هُمُ الْغٰفِلُوْنَ 179
179. জেনে রেখো, এমন বহু জিন ও মানুষ রয়েছে, যাদের ব্যাপারে আমি জাহান্নামের ফয়সালা করে রেখেছি। কারণ ওদের অন্তর থাকলেও তা দিয়ে ওরা কখনো চিন্তা-ভাবনা করে না। ওদের চোখ আছে; অথচ তা দিয়ে কখনো সত্যকে দেখে না। কান আছে; কিন্তু তা দিয়ে ওরা সত্যকে শুনতে চায় না। আসলে ওদের অবস্থা জন্তু-জানোয়ারের মতো; বরং এসবের চেয়েও অনেক নিচে। ওরা চরম গাফলতির মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে।
وَ لِلّٰهِ الْاَسْمَآءُ الْحُسْنٰی فَادْعُوْهُ بِهَا ۪ وَ ذَرُوا الَّذِیْنَ یُلْحِدُوْنَ فِیْۤ اَسْمَآئِهٖ ؕ سَیُجْزَوْنَ مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 180
180. আর হ্যাঁ, সবচেয়ে সুন্দরতম নামগুলো আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। কাজেই তোমরা তাঁকে এসব সুন্দর নামে ডাকো। খবরদার! যারা আল্লাহর এসব সুন্দর নামে বিকৃতি ঘটায়, ওদের থেকে দূরে থাকো। কেননা অচিরেই ওরা নিজেদের অপকর্মের ফল ভোগ করবে।
وَ مِمَّنْ خَلَقْنَاۤ اُمَّةٌ یَّهْدُوْنَ بِالْحَقِّ وَ بِهٖ یَعْدِلُوْنَ۠ 181
181. অবশ্য আমার সৃষ্টির মধ্যে এমন একদল লোক রয়েছে, যারা মানুষদেরকে যথার্থভাবে সত্য-সঠিক পথ দেখায় এবং তাদের মধ্যে ন্যায়পন্থায় বিচার-ফয়সালা করে।
وَالَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِّنْ حَیْثُ لَا یَعْلَمُوْنَۚۖ 182
182. আর যারা আমার আয়াতসমূহ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে, ওদেরকে আমি এমন আস্তে আস্তে ধ্বংসের শেষ মাথায় নিয়ে যাবো যে, ওরা টেরও পাবে না।
وَ اُمْلِیْ لَهُمْ ۫ؕ اِنَّ كَیْدِیْ مَتِیْنٌ 183
183. আসলে আমি ওদের রশিকে একটু ঢিল দিয়ে রাখি। বাস্তবে আমার কৌশল কখনো ব্যর্থ হয় না।
اَوَ لَمْ یَتَفَكَّرُوْا ٚ مَا بِصَاحِبِهِمْ مِّنْ جِنَّةٍ ؕ اِنْ هُوَ اِلَّا نَذِیْرٌ مُّبِیْنٌ 184
184. ওরা কি চিন্তা ভাবনা করে দেখে না যে, ওদের এই সাথির মধ্যে পাগলামীর লেশমাত্রও নেই। বরং সে তো ওদের কাছে আমার পক্ষ থেকে একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।
اَوَ لَمْ یَنْظُرُوْا فِیْ مَلَكُوْتِ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ مَا خَلَقَ اللّٰهُ مِنْ شَیْءٍ ۙ وَّ اَنْ عَسٰۤی اَنْ یَّكُوْنَ قَدِ اقْتَرَبَ اَجَلُهُمْ ۚ فَبِاَیِّ حَدِیْثٍۭ بَعْدَهٗ یُؤْمِنُوْنَ 185
185. ওরা কি কখনো মহাকাশ ও পৃথিবীর সার্বভৌম ব্যবস্থাপনা ও আল্লাহর সৃষ্টির দিকে তাকায় নাই? ওদের দুনিয়ার জীবন যে কোনো মুহূর্তেই শেষ হয়ে যেতে পারে এ কথাও কি ওরা ভুলে গেছে? হায়! এতসব সতর্কবাণীর পর আর কী এমন কথা থাকতে পারে, যা শুনালে ওরা ঈমান আনবে?
مَنْ یُّضْلِلِ اللّٰهُ فَلَا هَادِیَ لَهٗ ؕ وَ یَذَرُهُمْ فِیْ طُغْیَانِهِمْ یَعْمَهُوْنَ 186
186. আসলে আল্লহ যাকে ভুল পথে হাঁটার জন্য ছেড়ে দেন, তাকে সহজ-সঠিক পথে আনার মতো কেউ থাকে না। এভাবেই আল্লাহ ওদেরকে অবাধ্যতার মধ্যে উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ানোর জন্য ছেড়ে দেন।
یَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ السَّاعَةِ اَیَّانَ مُرْسٰىهَا ؕ قُلْ اِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّیْ ۚ لَا یُجَلِّیْهَا لِوَقْتِهَاۤ اِلَّا هُوَ ؔۘؕ ثَقُلَتْ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ لَا تَاْتِیْكُمْ اِلَّا بَغْتَةً ؕ یَسْـَٔلُوْنَكَ كَاَنَّكَ حَفِیٌّ عَنْهَا ؕ قُلْ اِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللّٰهِ وَ لٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَ 187
187. হে নবী, এ লোকেরা আবার তোমাকে জিজ্ঞেস করছে, কেয়ামত কবে-কখন হবে? তুমি বলে দাও, এ ব্যাপারটি একমাত্র আমার রবই জানেন। তিনি যথাসময়ে তা তোমাদের সামনে প্রকাশ করবেন। তবে মনে রেখো, সে সময়টি মহাকাশ ও পৃথিবীর জন্য খুবই ভয়ানক ব্যাপার হবে এবং হঠাৎ করেই তোমাদের উপর তা সংঘটিত হয়ে যাবে। আসলে ওরা তোমার কাছে এমনভাবে প্রশ্ন করছে, যেনো তুমি এসব ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে বসে আছো। তুমি স্পষ্ট জানিয়ে দাও, আল্লাহ ছাড়া এ ব্যাপারে আর কেউ কিছ্ইু জানে না। তবে অধিকাংশ মানুষই এ সত্যটি জানে না।
قُلْ لَّاۤ اَمْلِكُ لِنَفْسِیْ نَفْعًا وَّ لَا ضَرًّا اِلَّا مَا شَآءَ اللّٰهُ ؕ وَ لَوْ كُنْتُ اَعْلَمُ الْغَیْبَ لَا سْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَیْرِ ۛۖۚ وَ مَا مَسَّنِیَ السُّوْٓءُ ۛۚ اِنْ اَنَا اِلَّا نَذِیْرٌ وَّ بَشِیْرٌ لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ۠ 188
188. হে নবী, ওদের আরো বলো, আমি আমার নিজের জন্য ভালো কিংবা মন্দÑ কিছুই করার ক্ষমতা রাখি না। কেবল আল্লাহ যা চান তাই হয়। আর গায়েবেরও কোনো জ্ঞান আমার নাই। যদি থাকতো তবে তা দিয়ে নিজের জন্য বহু কল্যাণ অর্জন করে নিতাম এবং কোনো অকল্যাণই আমাকে ছুঁতে পারতো না। আসলে আমি বিশ্বাসী লোকদের জন্য একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদ বহনকারী ছাড়া আর কিছুই নই।
هُوَ الَّذِیْ خَلَقَكُمْ مِّنْ نَّفْسٍ وَّاحِدَةٍ وَّ جَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِیَسْكُنَ اِلَیْهَا ۚ فَلَمَّا تَغَشّٰىهَا حَمَلَتْ حَمْلًا خَفِیْفًا فَمَرَّتْ بِهٖ ۚ فَلَمَّاۤ اَثْقَلَتْ دَّعَوَا اللّٰهَ رَبَّهُمَا لَئِنْ اٰتَیْتَنَا صَالِحًا لَّنَكُوْنَنَّ مِنَ الشّٰكِرِیْنَ 189
189. আল্লাহ তোমাদের সৃষ্টির সূচনা করেছেন এক প্রাণ থেকে এবং তার প্রজাতি থেকে তার জুড়ি বানিয়েছেন, যাতে সে অপরের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করতে পারে। এভাবে যখন কোনো পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়, তখন তার স্ত্রীর মধ্যে হালকা গর্ভধারণের ভাব ফুটে উঠে। এভাবে সে কিছু দিন পার করে। অতঃপর যখন গর্ভের সন্তান ভারি হয়ে ওঠে, তখন স্বামী-স্ত্রী উভয়ে তাদের রব আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানায়, হে আমাদের রব, তুমি আমাদেরকে একটি সুস্থ-সবল ও নেক সন্তান দান করো। নিশ্চয়ই আমরা তোমার কৃতজ্ঞ থাকবো।
فَلَمَّاۤ اٰتٰىهُمَا صَالِحًا جَعَلَا لَهٗ شُرَكَآءَ فِیْمَاۤ اٰتٰىهُمَا ۚ فَتَعٰلَی اللّٰهُ عَمَّا یُشْرِكُوْنَ 190
190. কিন্তু যখন আল্লাহ তাদেরকে একটি সুস্থ-সবল সন্তান দান করেন, তখন এরা আল্লাহর এ দানে অন্যদেরকে শরিক করে বসে। না! আল্লাহ ওদের শিরকি কথাবার্তা ও ধ্যান-ধারণা থেকে অনেক অনেক উর্ধ্বে।
اَیُشْرِكُوْنَ مَا لَا یَخْلُقُ شَیْـًٔا وَّ هُمْ یُخْلَقُوْنَؗۖ 191
191. হায়! ওরা আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে অংশীদার বানাচ্ছে, যারা কখনো কোনো জিনিস সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে না; বরং উল্টো নিজেরাই অন্যের দ্বারা সৃষ্ট।
وَ لَا یَسْتَطِیْعُوْنَ لَهُمْ نَصْرًا وَّ لَاۤ اَنْفُسَهُمْ یَنْصُرُوْنَ 192
192. এসব ভ্রান্ত খোদারা কখনো ওদের সামান্য সাহায্য-সহযোগিতা করার সামর্থও রাখে না। এমনকি খোদ নিজেদেরকেও বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে পারে না।
وَ اِنْ تَدْعُوْهُمْ اِلَی الْهُدٰی لَا یَتَّبِعُوْكُمْ ؕ سَوَآءٌ عَلَیْكُمْ اَدَعَوْتُمُوْهُمْ اَمْ اَنْتُمْ صَامِتُوْنَ 193
193. এখন যদি তোমরা ওদেরকে সহজ-সঠিক পথে চলার জন্য আহবান করো, তবে ওরা কখনো তোমাদের অনুসরণ করবে না। আসলে ওদের অবস্থা এতদূর গড়িয়েছে যে, তোমরা ওদেরকে ডাকো কিংবা চুপ থাকো উভয় অবস্থায় ফল তোমাদের জন্য একই হবে।
اِنَّ الَّذِیْنَ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ عِبَادٌ اَمْثَالُكُمْ فَادْعُوْهُمْ فَلْیَسْتَجِیْبَوْا لَكُمْ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ 194
194. এদের বলো, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য যাদেরকে খোদা হিসাবে উপাসনা করছো, তারা সবাই আল্লাহর দাস। একথা জানার পরেও যদি ওদের ব্যাপারে তোমাদের ধারণাকে সত্য বলে মনে হয়, তবে তোমরা ঐসব খোদাদের ডাকো এবং পরখ করে দেখো, ওরা তোমাদের ডাকে সাড়া দিতে সক্ষম হয় কিনা?
اَلَهُمْ اَرْجُلٌ یَّمْشُوْنَ بِهَاۤ ؗ اَمْ لَهُمْ اَیْدٍ یَّبْطِشُوْنَ بِهَاۤ ؗ اَمْ لَهُمْ اَعْیُنٌ یُّبْصِرُوْنَ بِهَاۤ ؗ اَمْ لَهُمْ اٰذَانٌ یَّسْمَعُوْنَ بِهَا ؕ قُلِ ادْعُوْا شُرَكَآءَكُمْ ثُمَّ كِیْدُوْنِ فَلَا تُنْظِرُوْنِ 195
195. আচ্ছা! এসব খোদাদের কি এমন কোনো পা রয়েছে, যা দিয়ে ওরা চলাফেরা করতে পারে? এমন কোনো হাত রয়েছে, যা দ্বারা কোনো কিছু ধরতে পারে? নাকি ওদের কাছে দেখার মতো কোনো চোখ রয়েছে? নাকি শোনার মতো ওদের কোনো কান রয়েছে? হে নবী, তুমি ওদের বলো, ঠিক আছে! তোমাদের এসব খোদাদের ডেকে নাও এবং তারপর সবাই মিলে আমার বিরুদ্ধে সাধ্যমতো চক্রান্ত করো। এমনকি পারলে আমাকে সামান্যতম অবকাশও দিও না।
اِنَّ وَلِیِّ َۧ اللّٰهُ الَّذِیْ نَزَّلَ الْكِتٰبَ ۖؗ وَ هُوَ یَتَوَلَّی الصّٰلِحِیْنَ 196
196. তবে আমার অভিভাবক হলেন আল্লাহ। তিনিই এই কিতাব দিয়েছেন। আর হ্যাঁ, তিনি শুধু সৎকর্মশীলদের অভিভাবক হয়ে থাকেন।
وَ الَّذِیْنَ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِهٖ لَا یَسْتَطِیْعَوْنَ نَصْرَكُمْ وَ لَاۤ اَنْفُسَهُمْ یَنْصُرُوْنَ 197
197. আসলে আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা সাহায্যের জন্য অন্য যাদেরকে ডাকো, তারা তোমাদের কোনো সাহায্যই করতে পারে না। এমনকি নিজেদের সামান্য বিপদও তাড়াতে পারে না।
وَ اِنْ تَدْعُوْهُمْ اِلَی الْهُدٰی لَا یَسْمَعُوْا ؕ وَ تَرٰىهُمْ یَنْظُرُوْنَ اِلَیْكَ وَ هُمْ لَا یُبْصِرُوْنَ 198
198. এসব ভ্রান্ত খোদাদের কাছে সহজ-সঠিক পথের যে প্রার্থনাই করো না কেন, ওরা তা শুনতে পায় না। বাহ্যত দেখে তোমাদের মনে হচ্ছে, ওরা তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে; কিন্তু আসলে ওরা কিছুই দেখতে পায় না।
خُذِ الْعَفْوَ وَ اْمُرْ بِالْعُرْفِ وَ اَعْرِضْ عَنِ الْجٰهِلِیْنَ 199
199. হে নবী, এদের ব্যাপারে ক্ষমার নীতি অবলম্বন করো। ওদেরকে সৎকাজের আদেশ দিতে থাকো। তবে মূর্খদের সাথে কখনো তর্কে জড়িও না।
وَ اِمَّا یَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّیْطٰنِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللّٰهِ ؕ اِنَّهٗ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ 200
200. আর যদি শয়তানের প্ররোচনায় কখনো তুমি উত্তেজিত হয়ে পড়ো, তবে সাথেসাথেই আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। নিশ্চিয়ই তিনি সব শোনেন, সব জানেন।
اِنَّ الَّذِیْنَ اتَّقَوْا اِذَا مَسَّهُمْ طٰٓئِفٌ مِّنَ الشَّیْطٰنِ تَذَكَّرُوْا فَاِذَاهُمْ مُّبْصِرُوْنَۚ 201
201. আসলে শয়তানের কুমন্ত্রণা অনুভব করার সাথেসাথেই মুত্তাকীরা আল্লাহকে স্মরণ করে। ফলে তারা নিজেদের সঠিক কর্মপদ্ধতি পরিষ্কার দেখতে পায়।
وَ اِخْوَانُهُمْ یَمُدُّوْنَهُمْ فِی الْغَیِّ ثُمَّ لَا یُقْصِرُوْنَ 202
202. অথচ শয়তানের ভাই-বন্ধুরা সব সময় এসব মুত্তাকীদেরকে বাঁকা পথে টেনে নিতে সচেষ্ট থাকে। ওরা এ চেষ্টায় কোনো ধরনের কমতি রাখে না।
وَ اِذَا لَمْ تَاْتِهِمْ بِاٰیَةٍ قَالُوْا لَوْ لَا اجْتَبَیْتَهَا ؕ قُلْ اِنَّمَاۤ اَتَّبِعُ مَا یُوْحٰۤی اِلَیَّ مِنْ رَّبِّیْ ۚ هٰذَا بَصَآئِرُ مِنْ رَّبِّكُمْ وَ هُدًی وَّ رَحْمَةٌ لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ 203
203. আর ওদের আচরণ দেখো! ওদের কাছে তুমি কোনো অলৌকিক নিদর্শন উপস্থাপন না করলে ওরা বলে, তুমি নিজের জন্য আল্লাহর কাছ থেকে কোনো নিদর্শন বেছে নাওনি কেন? ওদের বলো, আমি কেবল সে অহির অনুসরণ করি, যা আমার রব আমার কাছে পাঠান। এ অহি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে আসা সুস্পষ্ট অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন আলো এবং বিশ্বাসীদের জন্য পথনির্দেশ ও দয়ার উৎস।
وَ اِذَا قُرِئَ الْقُرْاٰنُ فَاسْتَمِعُوْا لَهٗ وَ اَنْصِتُوْا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ 204
204. কাজেই হে লোকেরা, যখন তোমাদের সামনে এ কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তা মনোযোগ সহকারে শোনো। কখনো হট্টোগোল বাধিয়ো না। আশা করা যায়, তোমরা অনুগ্রহ লাভ করবে।
وَ اذْكُرْ رَّبَّكَ فِیْ نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَّ خِیْفَةً وَّ دُوْنَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَ الْاٰصَالِ وَ لَا تَكُنْ مِّنَ الْغٰفِلِیْنَ 205
205. আর তোমার রবকে সকাল-সন্ধ্যা স্মরণে রাখো। তাঁকে ডাকতে থাকো বিনয়াবনত চিত্তে এবং ভীত-বিহŸল নয়নে। তাঁকে ডাকো অনুচ্চ কণ্ঠেও। সাবধান! কখনোই তাঁর স্মরণ থেকে গাফেল হয়ো না।
اِنَّ الَّذِیْنَ عِنْدَ رَبِّكَ لَا یَسْتَكْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِهٖ وَ یُسَبِّحُوْنَهٗ وَ لَهٗ یَسْجُدُوْنَ۠۩ 206
206. জেনে রেখো তোমার রবের সান্নিধ্যে অবস্থানকারী ফেরেশতাগণ কখনো নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারে তাঁর ইবাদত থেকে বিমুখ হয় না। বরং যথারীতি তাঁর মহিমা জপতে থাকে এবং তাঁর সামনে সেজদাবনত হয়। (সিজদা)