64. আত-তাগাবুন

یُسَبِّحُ لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ ۚ لَهُ الْمُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ ؗ وَ هُوَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ 1
1. মহাকাশ ও পৃথিবীর সবকিছুই সদা সর্বদা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে। তিনিই সমস্ত কর্তৃত্বের অধিকারী। সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা একমাত্র তাঁরই। তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
هُوَ الَّذِیْ خَلَقَكُمْ فَمِنْكُمْ كَافِرٌ وَّ مِنْكُمْ مُّؤْمِنٌ ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ 2
2. তিনি আল্লাহ, তোমাদের সকলকে তিনিই সৃষ্টি করেছেন। তবুও তোমাদের অনেকে তাঁকে অস্বীকার করছো। অবশ্য অনেকে ঈমানও এনেছো। মনে রেখো, তোমাদের প্রতিটি কাজকর্মই আল্লাহর পূর্ণ নজরদারিতে রয়েছে।
خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ بِالْحَقِّ وَ صَوَّرَكُمْ فَاَحْسَنَ صُوَرَكُمْ ۚ وَ اِلَیْهِ الْمَصِیْرُ 3
3. তিনি মহাকাশ ও পৃথিবীকে এক যথার্থ সত্যের উপর সৃষ্টি করেছেন এবং খোদ্ তোমাদেরকে এক চমৎকার ভারসাম্যপূর্ণ আকৃতি দিয়ে তৈরি করেছেন। আর শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছেই তোমাদের সবাইকে ফিরতে হবে।
یَعْلَمُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ یَعْلَمُ مَا تُسِرُّوْنَ وَ مَا تُعْلِنُوْنَ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ 4
4. মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, সবই তিনি জানেন। তোমরা যা গোপন করো আর যা প্রকাশ করো তাও তিনি জানেন। এমনকি, অন্তরের গোপন অনুভূতিও তিনি জানেন।
اَلَمْ یَاْتِكُمْ نَبَؤُا الَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْ قَبْلُ ؗ فَذَاقُوْا وَبَالَ اَمْرِهِمْ وَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ 5
5. তোমাদের কাছে কি পূর্ববর্তী কাফেরদের করুণ পরিণতির খবর পৌঁছেনি? ওরা দুনিয়াতেই ওদের অপকর্মের ফল ভোগ করেছিলো। আর আখেরাতে তো ওদের জন্য রয়েছে আরো ভয়ানক মর্মান্তিক আযাব।
ذٰلِكَ بِاَنَّهٗ كَانَتْ تَّاْتِیْهِمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَیِّنٰتِ فَقَالُوْۤا اَبَشَرٌ یَّهْدُوْنَنَا ؗ فَكَفَرُوْا وَ تَوَلَّوْا وَّ اسْتَغْنَی اللّٰهُ ؕ وَ اللّٰهُ غَنِیٌّ حَمِیْدٌ 6
6. আর এটা এ কারণেই যে, ওদের কাছে যখনই কোনো রসুল সত্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে হাজির হতো, তখনই ওরা বলতো, আরে! সেতো আমাদের মতোই একজন মানুষ। সে আমাদের কিভাবে সৎপথ দেখাবে? এভাবেই ওরা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করতো। সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকতো। অবশ্য ওদের সত্য বিমুখতায় আল্লাহর কিছুই যায়-আসেনি। কেননা তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন; বরং নিজে নিজে প্রশংসিত।
زَعَمَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَنْ لَّنْ یُّبْعَثُوْا ؕ قُلْ بَلٰی وَ رَبِّیْ لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ ؕ وَ ذٰلِكَ عَلَی اللّٰهِ یَسِیْرٌ 7
7. এ কাফেরেরা জোর দিয়ে বলে, না! না! একবার মরে যাবার পর আমাদেরকে আর কখনো পুনরুত্থিত করা হবে না। হে নবী, তুমি বলো, অবশ্যই হবে। আমার রবের শপথ! অবশ্যই তোমরা পুনরুত্থিত হবে। আজ তোমরা দুনিয়ায় যা কিছু করে বেড়াচ্ছো, সেদিন তা তোমাদেরকে পরিষ্কারভাবে অবহিত করা হবে। আর এ কাজ আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।
فَاٰمِنُوْا بِاللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ وَ النُّوْرِ الَّذِیْۤ اَنْزَلْنَا ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرٌ 8
8. ৮. অতএব হে অবিশ্বাসীরা, তোমরা আল্লাহ, তাঁর রসুল এবং আলোকবর্তিকা হিসেবে যে কুরআন আমি নাযিল করেছি, তার উপর পূর্ণভাবে ঈমান আনো। মনে রেখো, তোমাদের প্রতিটি কাজকর্ম সম্পর্কেই আল্লাহ পূর্ণ খবর রাখেন।
یَوْمَ یَجْمَعُكُمْ لِیَوْمِ الْجَمْعِ ذٰلِكَ یَوْمُ التَّغَابُنِ ؕ وَ مَنْ یُّؤْمِنْۢ بِاللّٰهِ وَ یَعْمَلْ صَالِحًا یُّكَفِّرْ عَنْهُ سَیِّاٰتِهٖ وَ یُدْخِلْهُ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًا ؕ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ 9
9. আর সেদিনের ব্যাপারে প্রস্তুত হও, যেদিন আল্লাহ তোমাদের সবাইকে সমবেত করবেন। সেদিনটিই হবে তোমাদের পরস্পরের চূড়ান্ত হার-জিতের দিন। সেদিন তিনি সৎকর্মশীল ঈমানদার লোকদের পাপমোচন করবেন এবং এমন এক জান্নাতের মেহমান বানাবেন, যার পাদদেশে থাকবে বহমান ঝর্নাধারা। তারা চিরদিনের জন্য সেখানের সুখ ভোগ করবে। হ্যাঁ! এটাই চূড়ান্ত সাফল্য।
وَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَاۤ اُولٰٓئِكَ اَصْحٰبُ النَّارِ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ وَ بِئْسَ الْمَصِیْرُ۠ 10
10. অন্যদিকে যারা সত্যকে অস্বীকার করেছে এবং আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে, সেদিন ওদেরকে আগুনের সঙ্গী বানিয়ে দেয়া হবে। কোনোদিনও ওরা সেখান থেকে মুক্তি পাবে না। হায়! কতই না নিকৃষ্ট পরিণতি এটা!
مَاۤ اَصَابَ مِنْ مُّصِیْبَةٍ اِلَّا بِاِذْنِ اللّٰهِ ؕ وَ مَنْ یُّؤْمِنْۢ بِاللّٰهِ یَهْدِ قَلْبَهٗ ؕ وَ اللّٰهُ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ 11
11. জেনে রেখো, আল্লাহর অনুমোদন ছাড়া মানুষের উপর কোনো বিপদ আসে না। আর যে আল্লাহর উপর ঈমান রাখে, কেবল তার অন্তরই সত্য খুঁজে পায়। মূলত আল্লাহ সবকিছুই জানেন।
وَ اَطِیْعُوا اللّٰهَ وَ اَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ ۚ فَاِنْ تَوَلَّیْتُمْ فَاِنَّمَا عَلٰی رَسُوْلِنَا الْبَلٰغُ الْمُبِیْنُ 12
12. অতএব হে লোকেরা, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পূর্ণ অনুগত হয়ে চলো; কিন্তু যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে মনে রেখো, আমার রসুলের দায়িত্ব শুধু তোমাদের কাছে সত্যকে পৌঁছে দেয়া।
اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؕ وَ عَلَی اللّٰهِ فَلْیَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُوْنَ 13
13. মনে রেখো, আল্লাহই একমাত্র ইলাহ। তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। সুতরাং হে ঈমানদারেরা, তোমরা শুধু এক আল্লাহর উপরই ভরসা রাখো।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِنَّ مِنْ اَزْوَاجِكُمْ وَ اَوْلَادِكُمْ عَدُوًّا لَّكُمْ فَاحْذَرُوْهُمْ ۚ وَ اِنْ تَعْفُوْا وَ تَصْفَحُوْا وَ تَغْفِرُوْا فَاِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 14
14. হে ঈমানদারেরা, কখনো কখনো তোমাদের জীবনসাথি এবং সন্তান-সন্তুতির কেউ কেউ দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের শত্রু হয়ে দাঁড়াতে পারে। কাজেই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকো। তবে তাদের সাথে সহনশীল থেকো, নসিহতের মাধ্যমে তাদের এসব আচরণ এড়িয়ে যাও এবং তাদের ক্ষমা করো। জেনো রেখো, আল্লাহ ক্ষমাশীল, মেহেরবান।
اِنَّمَاۤ اَمْوَالُكُمْ وَ اَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ ؕ وَ اللّٰهُ عِنْدَهٗۤ اَجْرٌ عَظِیْمٌ 15
15. আসলে তোমাদের ধন-সম্পত্তি ও সন্তান-সন্তুতি তোমাদের জন্য পরীক্ষার মাধ্যম। যারা এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে, তাদের জন্যেই আল্লাহর কাছে রয়েছে মহাপুরস্কার।
فَاتَّقُوا اللّٰهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُوْا وَاَطِیْعُوْا وَ اَنْفِقُوْا خَیْرًا لِّاَنْفُسِكُمْ ؕ وَ مَنْ یُّوْقَ شُحَّ نَفْسِهٖ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ 16
16. কাজেই হে ঈমানদারেরা, নিজেদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আল্লাহকে ভয় করে চলো। তাঁর কথা শোনো ও মেনে চলো এবং নিজেদের কল্যাণার্থে অর্থ-সম্পদ দান করো। মনে রেখো, যে সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে মুক্ত, সফলতা কেবল তার ভাগ্যেই জোটে।
اِنْ تُقْرِضُوا اللّٰهَ قَرْضًا حَسَنًا یُّضٰعِفْهُ لَكُمْ وَ یَغْفِرْ لَكُمْ ؕ وَ اللّٰهُ شَكُوْرٌ حَلِیْمٌۙ 17
17. ঈমানদারেরা, যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও, তবে বহুগুণ বাড়িয়ে তিনি তা তোমাদের ফেরত দিবেন। তোমাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করবেন। আল্লাহ তো গুণের কদরকারী এবং অতীব সহনশীল।
عٰلِمُ الْغَیْبِ وَالشَّهَادَةِ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ۠ 18
18. সন্দেহ নেই, তিনি দৃশ্য-অদৃশ্যের সবকিছুই জানেন, তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়।