76. আল-ইনসান (আদ-দাহর)
هَلْ اَتٰی عَلَی الْاِنْسَانِ حِیْنٌ مِّنَ الدَّهْرِ لَمْ یَكُنْ شَیْـًٔا مَّذْكُوْرًا 1
1. ভেবে দেখো, কালের অবর্তনে মানুষের উপর এমন এক লম্বা সময় অতিবাহিত হয়েছে, যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিলো না।
اِنَّا خَلَقْنَا الْاِنْسَانَ مِنْ نُّطْفَةٍ اَمْشَاجٍ ۖۗ نَّبْتَلِیْهِ فَجَعَلْنٰهُ سَمِیْعًۢا بَصِیْرًا 2
2. আমিই তাকে সৃষ্টি করেছি, পুরুষ ও নারীর মিলিত শুক্রবিন্দু থেকে। আমি তাকে শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি দিয়েছি, যাতে তার আচরণ পরীক্ষা করে দেখতে পারি।
اِنَّا هَدَیْنٰهُ السَّبِیْلَ اِمَّا شَاكِرًا وَّ اِمَّا كَفُوْرًا 3
3. আমি তাকে সঠিক পথ দেখিয়েছি। এখন তার ইচ্ছা! সে চাইলে আমার কৃতজ্ঞতার পথে হাঁটবে অথবা কুফরির পথে চলবে।
اِنَّاۤ اَعْتَدْنَا لِلْكٰفِرِیْنَ سَلٰسِلَاۡ وَ اَغْلٰلًا وَّ سَعِیْرًا 4
4. তবে আমি এ কাফেরদের জন্য শিকল, বেড়ি এবং লেলিহান আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি।
اِنَّ الْاَبْرَارَ یَشْرَبُوْنَ مِنْ كَاْسٍ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُوْرًاۚ 5
5. অন্যদিকে সেদিন সৎকর্মশীলেরা জান্নাতে কাফুরের সুগন্ধ মিশ্রিত পানপাত্রে শরাব পান করবে।
عَیْنًا یَّشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللّٰهِ یُفَجِّرُوْنَهَا تَفْجِیْرًا 6
6. আল্লাহর এসব প্রিয় বান্দারা সেদিন শরাবের ঝর্না থেকে ইচ্ছা মতো পান করতে থাকবে। যখন, যেখানে ইচ্ছে, এ শরাব তাদের সামনে হাজির হয়ে যাবে।
یُوْفُوْنَ بِالنَّذْرِ وَ یَخَافُوْنَ یَوْمًا كَانَ شَرُّهٗ مُسْتَطِیْرًا 7
7. এ সৎকর্মশীলেরা পার্থিব জীবনে নিজেদের মানত পূরণ করে এবং সে দিনকে ভয় করেছে, যার বিপদ হবে সর্বগ্রাসী।
وَ یُطْعِمُوْنَ الطَّعَامَ عَلٰی حُبِّهٖ مِسْكِیْنًا وَّ یَتِیْمًا وَّ اَسِیْرًا 8
8. তারা আল্লাহর ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অভাবী, এতিম ও বন্দিদেরকে খাবার দান করে।
اِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللّٰهِ لَا نُرِیْدُ مِنْكُمْ جَزَآءً وَّ لَا شُكُوْرًا 9
9. এবং তারা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে, আমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তোমাদের খাবার দিচ্ছি। আমরা এর বিনিময়ে তোমাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিদান চাই না। এমনকি সামান্য কৃতজ্ঞতাও নয়।
اِنَّا نَخَافُ مِنْ رَّبِّنَا یَوْمًا عَبُوْسًا قَمْطَرِیْرًا 10
10. শুধু এক দীর্ঘ ভীতিপ্রদ ভয়ঙ্কর দিনে আমাদের রবের বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ব্যাপারেই আমরা শঙ্কিত।
فَوَقٰىهُمُ اللّٰهُ شَرَّ ذٰلِكَ الْیَوْمِ وَ لَقّٰىهُمْ نَضْرَةً وَّ سُرُوْرًاۚ 11
11. তাদের এ আল্লাহ-প্রেমের জন্য সেদিনের অনিষ্ট থেকে আল্লাহ তাদেরকে রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে প্রফুল্লতা ও পরমানন্দ দান করবেন।
وَ جَزٰىهُمْ بِمَا صَبَرُوْا جَنَّةً وَّ حَرِیْرًاۙ 12
12. আর আল্লাহর পথে ধৈর্যশীলতার পুরস্কার হিসাবে দিবেন চির সুখের জান্নাত ও রেশমি পোশাক।
مُّتَّكِـِٕیْنَ فِیْهَا عَلَی الْاَرَآىِٕكِ ۚ لَا یَرَوْنَ فِیْهَا شَمْسًا وَّ لَا زَمْهَرِیْرًاۚ 13
13. সেখানে তারা সুসজ্জিত উচ্চ আসনে হেলান দিয়ে আরাম করবে। সেখানের পরিবেশ হবে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।
وَ دَانِیَةً عَلَیْهِمْ ظِلٰلُهَا وَ ذُلِّلَتْ قُطُوْفُهَا تَذْلِیْلًا 14
14. তাদের মাথার উপরে থাকবে যেমন গাছের ছায়া, তেমনি গাছের সুস্বাদু ফলগুলো থাকবে তাদের হাতের নাগালেই।
وَ یُطَافُ عَلَیْهِمْ بِاٰنِیَةٍ مِّنْ فِضَّةٍ وَّ اَكْوَابٍ كَانَتْ قَؔوَارِیْرَاۡۙ 15
15. জান্নাতে তাদের আপ্যায়িত করা হবে রূপার পাত্রে। আর তাদের পানপাত্রও হবে স্বচ্ছ কাঁচের মতো।
قَؔوَارِیْرَاۡ مِنْ فِضَّةٍ قَدَّرُوْهَا تَقْدِیْرًا 16
16. এমনকি এসব পানপাত্রও হবে রূপার তৈরি। আর পরিবেশনকারীরা সব সময় তা পূর্ণভাবে ভরে রাখবে।
وَ یُسْقَوْنَ فِیْهَا كَاْسًا كَانَ مِزَاجُهَا زَنْجَبِیْلًاۚ 17
17. সেখানে তারা আদা মিশ্রিত সুস্বাদু পানীয় পান করবে।
عَیْنًا فِیْهَا تُسَمّٰی سَلْسَبِیْلًا 18
18. যা সালসাবিল নামক একটি ঝর্না থেকে তাদের জন্য পরিবেশিত হবে।
وَ یَطُوْفُ عَلَیْهِمْ وِلْدَانٌ مُّخَلَّدُوْنَ ۚ اِذَا رَاَیْتَهُمْ حَسِبْتَهُمْ لُؤْلُؤًا مَّنْثُوْرًا 19
19. আর তাদের সেবায় সেখানে সদা তৎপর থাকবে একদল চিরকিশোর, যাদের দেখে তোমার মনে হবে, এরা তো সব লুকানো মুক্তার দানা।
وَ اِذَا رَاَیْتَ ثَمَّ رَاَیْتَ نَعِیْمًا وَّ مُلْكًا كَبِیْرًا 20
20. তুমি যখন-যেদিকে তাকাবে, শুধু উপচে পড়া নেয়ামত দেখতে পাবে। দেখতে পাবে, এ এক বিরাট সুখ সাম্রাজ্য।
عٰلِیَهُمْ ثِیَابُ سُنْدُسٍ خُضْرٌ وَّ اِسْتَبْرَقٌ ؗ وَّ حُلُّوْۤا اَسَاوِرَ مِنْ فِضَّةٍ ۚ وَ سَقٰىهُمْ رَبُّهُمْ شَرَابًا طَهُوْرًا 21
21. সেখানে জান্নাতিরা সবুজ, মিহি রেশম ও মখমলের দারুণসব পোশাক পরিধান করবে। তাদের মাথায় থাকবে রূপার কঙ্কণ। আর তাদের রব তাদের পান করাবেন অতি পবিত্র পানীয়।
اِنَّ هٰذَا كَانَ لَكُمْ جَزَآءً وَّ كَانَ سَعْیُكُمْ مَّشْكُوْرًا۠ 22
22. তাদের সংবর্ধিত করে বলা হবে, এ সবই তোমাদের কাজের পুরস্কার। আল্লাহ তোমাদের কর্ম প্রচেষ্টাকে কবুল করেছেন।
اِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا عَلَیْكَ الْقُرْاٰنَ تَنْزِیْلًاۚ 23
23. হে নবী, আমি তোমার উপর এ কুরআনকে ধাপে-ধাপে, অল্প-অল্প করে নাযিল করেছি।
فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَ لَا تُطِعْ مِنْهُمْ اٰثِمًا اَوْ كَفُوْرًاۚ 24
24. অতএব তুমি ধৈর্যের সাথে তোমার রবের হুকুম পালন করতে থাকো। এ ব্যাপারে তুমি কোনো দুরাচারী বা সত্য অস্বীকারকারীর কথায় কান দিও না;
وَ اذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ بُكْرَةً وَّ اَصِیْلًاۖۚ 25
25. বরং সকাল-সন্ধ্যায় তোমার রবের নাম জপতে থাকো।
وَ مِنَ الَّیْلِ فَاسْجُدْ لَهٗ وَ سَبِّحْهُ لَیْلًا طَوِیْلًا 26
26. এবং রাতে তার সামনে সেজদায় অবনত হও। আর রাতের দীর্ঘ সময় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা জপতে থাকো।
اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ یُحِبُّوْنَ الْعَاجِلَةَ وَ یَذَرُوْنَ وَرَآءَهُمْ یَوْمًا ثَقِیْلًا 27
27. আসলে এসব সত্য অস্বীকারকারীরা পার্থিব স্বার্থের প্রেমে মজে আছে। ভবিষ্যতের কঠিন দিনের ব্যাপারে ওরা বেপরোয়া হয়ে রয়েছে।
َحْنُ خَلَقْنٰهُمْ وَ شَدَدْنَاۤ اَسْرَهُمْ ۚ وَ اِذَا شِئْنَا بَدَّلْنَاۤ اَمْثَالَهُمْ تَبْدِیْلًا 28
28. অথচ আমিই ওদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং এক মজবুত শারীরিক গঠন দিয়েছি। এখন যদি আমি চাই, তবে মুহূর্তের মধ্যে ওদের আকার-আকৃতি বদলে দিতে পারি।
اِنَّ هٰذِهٖ تَذْكِرَةٌ ۚ فَمَنْ شَآءَ اتَّخَذَ اِلٰی رَبِّهٖ سَبِیْلًا 29
29. সন্দেহ নেই, এ এক উপদেশবাণী। অতএব যার ইচ্ছা, সে তার রবের পথ অনুসরণ করতে পারে।
وَ مَا تَشَآءُوْنَ اِلَّاۤ اَنْ یَّشَآءَ اللّٰهُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلِیْمًا حَكِیْمًاۗۖ 30
30. প্রকৃতার্থে, আল্লাহ নিজের পক্ষ থেকে তোমাদেরকে সত্যপথ না দেখালে তোমরা কখনোই তা খুঁজে পেতে না। বস্তুত আল্লাহ তোমাদের সব জানেন, সব বোঝেন।
یُّدْخِلُ مَنْ یَّشَآءُ فِیْ رَحْمَتِهٖ ؕ وَ الظّٰلِمِیْنَ اَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا اَلِیْمًا۠ 31
31. মূলত আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর রহমতের মধ্যে শামিল করে নেন। কিন্তু না! জালেমদের জন্য তিনি প্রস্তুত করে রেখেছেন কঠিন মর্মান্তিক আযাব।