9. আত্ তাওবা
بَرَآءَةٌ مِّنَ اللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖۤ اِلَی الَّذِیْنَ عٰهَدْتُّمْ مِّنَ الْمُشْرِكِیْنَؕ 1
1. হে ঈমানদারেরা, তোমরা মুশরিকদের সাথে যেসব চুক্তিতে আবদ্ধ ছিলে, তা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পক্ষ থেকে বাতিল বলে ঘোষণা করা হলো।
فَسِیْحُوْا فِی الْاَرْضِ اَرْبَعَةَ اَشْهُرٍ وَّاعْلَمُوْۤا اَنَّكُمْ غَیْرُ مُعْجِزِی اللّٰهِ ۙ وَاَنَّ اللّٰهَ مُخْزِی الْكٰفِرِیْنَ 2
2. কাজেই এখন ওদের বলো, দুনিয়ায় তোমরা আর চার মাস সময় পাবে। এরপর যদি সত্যকে মেনে না নাও, তবে আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারবে না। বস্তুত আল্লাহ কাফেরদের লাঞ্ছিত করেই ছাড়বেন।
وَ اَذَانٌ مِّنَ اللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖۤ اِلَی النَّاسِ یَوْمَ الْحَجِّ الْاَكْبَرِ اَنَّ اللّٰهَ بَرِیْٓءٌ مِّنَ الْمُشْرِكِیْنَ ۙ۬ وَ رَسُوْلُهٗ ؕ فَاِنْ تُبْتُمْ فَهُوَ خَیْرٌ لَّكُمْ ۚ وَ اِنْ تَوَلَّیْتُمْ فَاعْلَمُوْۤا اَنَّكُمْ غَیْرُ مُعْجِزِی اللّٰهِ ؕ وَ بَشِّرِ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِعَذَابٍ اَلِیْمٍۙ 3
3. শোনো! এ মহান হজের মৌসুমে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পক্ষ থেকে সমগ্র মানবজাতির জন্য স্পষ্ট ঘোষণা হচ্ছে, যারা এখনও আল্লাহর সাথে শরিক করে চলছে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের কোনো দায়ভার নেই। অতএব ওদের বলে দাও, এখন তোমরা যদি সত্যের পথে ফিরে আসো, তবে তা তোমাদের জন্য ভালো। আর যদি আগের মতো শিরকের পথে হাঁটতে থাকো, তবে মনে রেখো, আল্লাহর হাত থেকে নিজেদেরকে কোনোভাবেই বাঁচাতে পারবে না। কাজেই এসব কাফেরদের জাহান্নামের মর্মন্তুদ শাস্তির খবরটা আগাম জানিয়ে দাও।
اِلَّا الَّذِیْنَ عٰهَدْتُّمْ مِّنَ الْمُشْرِكِیْنَ ثُمَّ لَمْ یَنْقُصُوْكُمْ شَیْـًٔا وَّ لَمْ یُظَاهِرُوْا عَلَیْكُمْ اَحَدًا فَاَتِمُّوْۤا اِلَیْهِمْ عَهْدَهُمْ اِلٰی مُدَّتِهِمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الْمُتَّقِیْنَ 4
4. তবে হ্যাঁ! যেসব মুশরিকেরা তোমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর ঠিকঠাকভাবে তা রক্ষা করে চলেছে এবং তোমাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো দুশমনকে সাহায্য-সহযোগিতা করেনি, তাদের সাথে তোমাদের চুক্তির মেয়াদকাল পূর্ণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকী বান্দাদের বড়ই ভালোবাসেন।
فَاِذَا انْسَلَخَ الْاَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِیْنَ حَیْثُ وَجَدْتُّمُوْهُمْ وَخُذُوْهُمْ وَ احْصُرُوْهُمْ وَ اقْعُدُوْا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ ۚ فَاِنْ تَابُوْا وَ اَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتَوُا الزَّكٰوةَ فَخَلُّوْا سَبِیْلَهُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 5
5. হে ঈমানদারেরা, নিষিদ্ধ মাসগুলো শেষ হওয়ার পর, মুশরিকদের যেখানে পাও সেখানে পাকড়াও করো। ওদের ধরে ধরে আটক করো। চারদিক দিয়ে ওদের অবরোধ করে ফেলো। ওদের ধরার জন্য প্রত্যেক ঘাটিতে সতর্ক পাহাড়া বসাও। এমনকি যেখানেই সুযোগ পাও ওদেরকে হত্যা করে ফেলো। তবে হ্যাঁ, ওরা যদি তওবা করে এবং যথার্থভাবে নামাজ কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। কেননা আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়াশীল।
وَ اِنْ اَحَدٌ مِّنَ الْمُشْرِكِیْنَ اسْتَجَارَكَ فَاَجِرْهُ حَتّٰی یَسْمَعَ كَلٰمَ اللّٰهِ ثُمَّ اَبْلِغْهُ مَاْمَنَهٗ ؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا یَعْلَمُوْنَ۠ 6
6. তবে কোনো মুশরিক যদি সত্যকে জানার নিয়তে তোমাদের কারো কাছে আশ্রয় চায়; তবে তাকে আশ্রয় দাও এবং তার জন্য আল্লাহর বাণী শোনার ব্যবস্থা করো। এরপর সে চাইলে তাকে কোনো নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। হতে পারে, জানতে না পারার কারণে সে এখনো সত্যের পথ খুঁজে পায়নি।
كَیْفَ یَكُوْنُ لِلْمُشْرِكِیْنَ عَهْدٌ عِنْدَ اللّٰهِ وَ عِنْدَ رَسُوْلِهٖۤ اِلَّا الَّذِیْنَ عٰهَدْتُّمْ عِنْدَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ فَمَا اسْتَقَامُوْا لَكُمْ فَاسْتَقِیْمُوْا لَهُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الْمُتَّقِیْنَ 7
7. অবস্থা এতদূর গড়িয়েছে যে, এখন আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পক্ষে এ মুশরিকদের সাথে কোনো ধরনের চুক্তি বহাল রাখা সম্ভব নয়। তবে যেসব মুশরিক গোত্র কাবার চত্বরে বসে তোমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে এবং এরপর ন্যায়নিষ্ঠভাবে সে চুক্তি মেনে চলছে, তোমরাও তাদের ব্যাপারে চুক্তির শর্তাবলি মেনে চলো। বস্তুত আল্লাহর মুত্তাকীদেরই ভালোবাসেন।
كَیْفَ وَ اِنْ یَّظْهَرُوْا عَلَیْكُمْ لَا یَرْقُبُوْا فِیْكُمْ اِلًّا وَّ لَا ذِمَّةً ؕ یُرْضُوْنَكُمْ بِاَفْوَاهِهِمْ وَ تَاْبٰی قُلُوْبُهُمْ ۚ وَاَكْثَرُهُمْ فٰسِقُوْنَۚ 8
8. হায়! এখনও ওদের সাথে কিভাবে চুক্তি বহাল রাখা যায়, যখন ওরা সুযোগ পেলেই তোমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার মানসিকতা রাখে? এ কাজে ওরা আত্মীয়তার সম্পর্ক বা চুক্তির কথাও বিবেচনায় নিবে না। আসলে ওরা কেবল মুখের কথা দিয়ে তোমাদেরকে খুশি রাখতে চায়; কিন্তু ওদের মনে রয়েছে বিদ্বেষ। বাস্তবে ওদের অধিকাংশই পাপিষ্ঠ অপরাধী।
اِشْتَرَوْا بِاٰیٰتِ اللّٰهِ ثَمَنًا قَلِیْلًا فَصَدُّوْا عَنْ سَبِیْلِهٖ ؕ اِنَّهُمْ سَآءَ مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 9
9. ওরা দুনিয়ার সামান্য কিছু সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার জন্যেই আল্লাহর বাণীকে পরিত্যাগ করেছে। এ কারণে সাধারণ লোকদেরকেও আল্লাহর পথে আসতে বাধা দিচ্ছে। নিঃসন্দেহে ওদের কাজের পরিণাম খুবই খারাপ হবে।
لَا یَرْقُبُوْنَ فِیْ مُؤْمِنٍ اِلًّا وَّ لَا ذِمَّةً ؕ وَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُعْتَدُوْنَ 10
10. বাস্তবে ওরা মুমিনদের ব্যাপারে আত্মীয়তার সম্পর্কের ন্যূনতম দাবিটুকুও পূরণ করে না; কিংবা সম্পাদিত চুক্তিরও বাধ্যবাধকতা মানে না। ওরা সবসময় বাড়াবাড়ির পথ ধরে হাঁটে।
فَاِنْ تَابُوْا وَ اَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتَوُا الزَّكٰوةَ فَاِخْوَانُكُمْ فِی الدِّیْنِ ؕ وَنُفَصِّلُ الْاٰیٰتِ لِقَوْمٍ یَّعْلَمُوْنَ 11
11. এতসব কিছুর পরেও ওরা যদি তওবা করে সত্যের পথে ফিরে আসে, এরপর নামাজ কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই বলে গণ্য হবে। আসলে আমি এভাবে জ্ঞানী লোকদের জন্য আমার আয়াতগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে থাকি।
وَ اِنْ نَّكَثُوْۤا اَیْمَانَهُمْ مِّنْۢ بَعْدِ عَهْدِهِمْ وَ طَعَنُوْا فِیْ دِیْنِكُمْ فَقَاتِلُوْۤا اَىِٕمَّةَ الْكُفْرِ ۙ اِنَّهُمْ لَاۤ اَیْمَانَ لَهُمْ لَعَلَّهُمْ یَنْتَهُوْنَ 12
12. তোমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরেও ওরা যদি চুক্তি ভাঙ্গে এবং তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে কটুক্তি ও বিদ্রুপ করে, তবে এসব বড় বড় কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামো। যুদ্ধে ওদেরকে ধরে ধরে হত্যা করো। কেননা এখন আর ওদের সাথে তোমাদের চুক্তির দায়ভার নেই। সম্ভবত এ পথেই ওরা উচিত শিক্ষা লাভ করবে।
اَلَا تُقَاتِلُوْنَ قَوْمًا نَّكَثُوْۤا اَیْمَانَهُمْ وَهَمُّوْا بِاِخْرَاجِ الرَّسُوْلِ وَ هُمْ بَدَءُوْكُمْ اَوَّلَ مَرَّةٍ ؕ اَتَخْشَوْنَهُمْ ۚ فَاللّٰهُ اَحَقُّ اَنْ تَخْشَوْهُ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ 13
13. হে ঈমানদারেরা, তোমরা কি ভুলে গেছো যে, এ কাফেরেরা বারবার তোমাদের সাথে নিজেদের অঙ্গীকার লঙ্ঘন করেছে, তোমাদের রসুলকে দেশ ছাড়া করার জন্য নানা ফন্দি-ফিকির এটেছে। এমনকি ওরাই সবার আগে তোমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে। এরপরও কেন ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছো না? নাকি তোমরা ওদের সাথে লড়তে ভয় পাচ্ছো? এমনটা হলে জেনে রেখো, একজন মুমিনের জন্য আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করা বৈধ হতে পারে না।
قَاتِلُوْهُمْ یُعَذِّبْهُمُ اللّٰهُ بِاَیْدِیْكُمْ وَیُخْزِهِمْ وَ یَنْصُرْكُمْ عَلَیْهِمْ وَیَشْفِ صُدُوْرَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِیْنَۙ 14
14. কাজেই তোমরা ওদের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে যুদ্ধ করো। আল্লাহ তোমাদের হাতেই ওদেরকে শায়েস্তা করবেন, লাঞ্ছিত-অপমানিত করে ছাড়বেন। ভয় পেয়ো না, আল্লাহ ওদের উপর তোমাদেরকে জয়ী করবেন। আর মুমিনদের অন্তরে ওরা যে ক্ষত সৃষ্টি করেছে, তা প্রশমিত হবে।
وَ یُذْهِبْ غَیْظَ قُلُوْبِهِمْ ؕ وَ یَتُوْبُ اللّٰهُ عَلٰی مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ 15
15. এভাবেই নির্যাতিত মুমিনদের অন্তরের ক্ষোভ মিটবে। এরপর আল্লাহ ওদের যার মধ্যে কল্যাণাকাঙ্খা দেখবেন, তাকে তওবা করার সুযোগ দেবেন। বস্তুত আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং বোঝেন।
اَمْ حَسِبْتُمْ اَنْ تُتْرَكُوْا وَ لَمَّا یَعْلَمِ اللّٰهُ الَّذِیْنَ جٰهَدُوْا مِنْكُمْ وَلَمْ یَتَّخِذُوْا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَ لَا رَسُوْلِهٖ وَ لَا الْمُؤْمِنِیْنَ وَلِیْجَةً ؕ وَ اللّٰهُ خَبِیْرٌۢ بِمَا تَعْمَلُوْنَ۠ 16
16. হে ঈমানদারেরা, তোমরা কি মনে করেছো যে, কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া তোমাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে? না! বরং আল্লাহ যাচাই-বাছাই করে দেখবেন, তোমাদের মধ্যে কারা একদিকে আল্লাহর পথে প্রাণান্তকর লড়াই করেছো আর অন্যদিকে আল্লাহ ও তাঁর রসুল এবং মুমিনদের ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করোনি। মনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের সব ধরনের কাজকর্মের খবরাখবর রাখেন।
مَا كَانَ لِلْمُشْرِكِیْنَ اَنْ یَّعْمُرُوْا مَسٰجِدَ اللّٰهِ شٰهِدِیْنَ عَلٰۤی اَنْفُسِهِمْ بِالْكُفْرِ ؕ اُولٰٓىِٕكَ حَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ ۖۚ وَفِی النَّارِ هُمْ خٰلِدُوْنَ 17
17. মুশরিকেরা যখন নিজেদের কুফরির উপর নিজেরাই সাক্ষী হয়ে আছে, তখন ওরা আর কোনোভাবেই আল্লাহর ঘরসমূহের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকার অধিকার রাখে না। শিরক ওদের সমস্ত ভালোকাজকে বরবাদ করে দিয়েছে। পরিণামে ওদের ভবিষ্যত স্থায়ী জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই নয়।
اِنَّمَا یَعْمُرُ مَسٰجِدَ اللّٰهِ مَنْ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَ اَقَامَ الصَّلٰوةَ وَ اٰتَی الزَّكٰوةَ وَلَمْ یَخْشَ اِلَّا اللّٰهَ قف فَعَسٰۤی اُولٰٓىِٕكَ اَنْ یَّكُوْنُوْا مِنَ الْمُهْتَدِیْنَ 18
18. অতএব জেনে রেখো, যারা আল্লাহ ও আখেরাতের জীবনে ঈমান রাখে, নামাজ কায়েম করে, যাকাত আদায় করে এবং আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করে না কেবল তারাই হবে আল্লাহর মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাদের ব্যাপারে আশা করা যায় যে, তারা সঠিকভাবে চলবে ও চালাবে।
اَجَعَلْتُمْ سِقَایَةَ الْحَآجِّ وَ عِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَالْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَ جٰهَدَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ؕ لَا یَسْتَوٗنَ عِنْدَ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الظّٰلِمِیْنَۘ 19
19. এসব মুশরিকদের জিজ্ঞেস করো, তোমরা কি হাজীদের পানি পান করিয়ে ও কাবাঘরের রক্ষণাবেক্ষণ করে সেসব লোকের সমান মর্যাদা পেতে চাও, যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে, পরকালের অনুভূতি ধারণ করেছে এবং আল্লাহর পথে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়েছে? কখনো নয়। আল্লাহর দৃষ্টিতে ওরা তাদের সমান হবে না। আসলে জালেমদের আল্লাহ কখনোই জোর করে সত্যপথে আনেন না।
اَلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ هَاجَرُوْا وَ جٰهَدُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ بِاَمْوَالِهِمْ وَ اَنْفُسِهِمْ ۙ اَعْظَمُ دَرَجَةً عِنْدَ اللّٰهِ ؕ وَ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْفَآىِٕزُوْنَ 20
20. তোমাদের জেনে রাখা উচিত, আল্লাহর দৃষ্টিতে কেবল তারাই উচ্চ মর্যাদার অধিকারী, যারা সত্যকে মেনে নিয়েছে, সত্যের জন্য ঘর-বাড়ি ছেড়েছে এবং সহায়-সম্পদ ও জীবনের বিনিময়ে আল্লাহর পথে প্রাণান্ত লড়াই-সংগ্রাম চালিয়েছে। বাস্তবে তারাই প্রকৃত সফলকাম।
یُبَشِّرُهُمْ رَبُّهُمْ بِرَحْمَةٍ مِّنْهُ وَرِضْوَانٍ وَّ جَنّٰتٍ لَّهُمْ فِیْهَا نَعِیْمٌ مُّقِیْمٌۙ 21
21. তাদের রব তাদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন, নিজের নেয়ামতরাজি ঢেলে দিয়েছেন এবং সেই জান্নাতের অগ্রীম সুসংবাদ দিচ্ছেন যার আরাম-আয়েশের সামগ্রী কোনোদিন শেষ হওয়ার নয়।
خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًا ؕ اِنَّ اللّٰهَ عِنْدَهٗۤ اَجْرٌ عَظِیْمٌ 22
22. সেখানে তারা চিরদিনের জন্য মেহমান হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তাদের জন্য আরো অনেক বড় বড় পুরস্কার রয়েছে।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوْۤا اٰبَآءَكُمْ وَ اِخْوَانَكُمْ اَوْلِیَآءَ اِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ عَلَی الْاِیْمَانِ ؕ وَ مَنْ یَّتَوَلَّهُمْ مِّنْكُمْ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الظّٰلِمُوْنَ 23
23. হে ঈমানদারেরা, সতর্ক হও। তোমাদের বাপ ও ভাইয়েরা যদি ঈমানের উপর কুফরিকে প্রাধান্য দেয়; তবে ওদেরকে কখনোই অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। মনে রেখো, তোমাদের কেউ যদি এমন অবস্থায় ওদের সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক রাখে, তবে সে নিজেও ওদের মতো জালেম বলে গণ্য হবে।
قُلْ اِنْ كَانَ اٰبَآؤُكُمْ وَ اَبْنَآؤُكُمْ وَاِخْوَانُكُمْ وَ اَزْوَاجُكُمْ وَ عَشِیْرَتُكُمْ وَاَمْوَالُ ِ۟اقْتَرَفْتُمُوْهَا وَ تِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَ مَسٰكِنُ تَرْضَوْنَهَاۤ اَحَبَّ اِلَیْكُمْ مِّنَ اللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ وَ جِهَادٍ فِیْ سَبِیْلِهٖ فَتَرَبَّصُوْا حَتّٰی یَاْتِیَ اللّٰهُ بِاَمْرِهٖ ؕ وَاللّٰهُ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الْفٰسِقِیْنَ۠ 24
24. কাজেই হে নবী, তুমি লোকদের সাফসাফ বলে দাও, যদি তোমাদের বাপ-দাদা, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন, জীবনসঙ্গী, আত্মীয়-স্বজন, তোমাদের উপার্জিত ধন-সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি যেগুলোর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করো এবং তোমাদের পছন্দের বাড়ি-ঘর, এসব যদি আল্লাহ ও তাঁর রসুল এবং তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে তোমাদের কাছে বেশি পছন্দের হয়, তবে অপেক্ষা করো, অচিরেই তোমাদের কাছে আল্লাহর ফয়সালা এসে পৌঁছবে। আল্লাহ এ ধরনের ফাসেকদের কখনো সত্যের উপর টিকিয়ে রাখেন না।
لَقَدْ نَصَرَكُمُ اللّٰهُ فِیْ مَوَاطِنَ كَثِیْرَةٍ ۙ وَّیَوْمَ حُنَیْنٍ ۙ اِذْ اَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنْكُمْ شَیْـًٔا وَّضَاقَتْ عَلَیْكُمُ الْاَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّیْتُمْ مُّدْبِرِیْنَۚ 25
25. হে মুসলমানেরা, আল্লাহ তোমাদের বহু যুদ্ধে সাহায্য করেছেন। এই তো সেদিনও হুনায়নের যুদ্ধে তোমরা তাঁর সাহায্যে বিজয় লাভ করলে। ভেবে দেখো! সেদিন তোমাদের মনে সংখ্যাধিক্যের অহমিকা ছিলো; কিন্তু এ বিশাল সৈন্যবাহিনী তোমাদের কোনো উপকারে আসেনি। বিরাট পৃথিবীও সে সময় তোমাদের কাছে সংকুচিত হয়ে এসেছিলো। এমনকি তোমরা যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে পালাতে শুরু করেছিলে।
ثُمَّ اَنْزَلَ اللّٰهُ سَكِیْنَتَهٗ عَلٰی رَسُوْلِهٖ وَعَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ وَ اَنْزَلَ جُنُوْدًا لَّمْ تَرَوْهَا وَ عَذَّبَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا ؕ وَ ذٰلِكَ جَزَآءُ الْكٰفِرِیْنَ 26
26. এরপর আল্লাহ নিজেই তাঁর রসুল ও ঈমানদারদের মধ্যে মানসিক দৃঢ়তা তৈরি করলেন এবং এমন সেনাদল পাঠিয়ে তোমাদের সাহায্য করলেন, যাদেরকে তোমরা দেখতে পাওনি। এভাবেই সেদিন তিনি কাফের বাহিনীকে বড় ধরনের শাস্তি দিলেন। বস্তুত ঐসব কাফেরেরা এ ধরনের পরিণামের যথার্থ উপযুক্ত ছিলো।
ثُمَّ یَتُوْبُ اللّٰهُ مِنْۢ بَعْدِ ذٰلِكَ عَلٰی مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰهُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 27
27. তবে এরপরও আল্লাহ ওদের অনেককে সত্যের পথে ফিরার সুযোগ দিয়েছেন। বস্তুত আল্লাহ সবচেয়ে বড় ক্ষমাশীল, বড় মেহেরবান।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِنَّمَا الْمُشْرِكُوْنَ نَجَسٌ فَلَا یَقْرَبُوا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هٰذَا ۚ وَ اِنْ خِفْتُمْ عَیْلَةً فَسَوْفَ یُغْنِیْكُمُ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِهٖۤ اِنْ شَآءَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ 28
28. হে ঈমানদারেরা, নিশ্চয়ই এ মুশরিকেরা নাপাক ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। সুতরাং এ বছরের পর ওদের কাউকে আর কাবাঘরের আশেপাশেও ঘেষতে দেবে না। এর ফলে তোমরা যদি অভাব-অনটনের আশঙ্কা করো, তবে নির্ভয় থাকো। আল্লাহ নিজ ইচ্ছানুযায়ী অচিরেই তাঁর নেয়ামতের মাধ্যমে তোমাদেরকে অভাবমুক্ত করবেন। বস্তুত আল্লাহ সব জানেন, সব বোঝেন।
قَاتِلُوا الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ لَا بِالْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَ لَا یُحَرِّمُوْنَ مَا حَرَّمَ اللّٰهُ وَ رَسُوْلُهٗ وَ لَا یَدِیْنُوْنَ دِیْنَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ حَتّٰی یُعْطُوا الْجِزْیَةَ عَنْ یَّدٍ وَّ هُمْ صٰغِرُوْنَ۠ 29
29. হে মুসলমানেরা, ইহুদি-খ্রিস্টানদের মধ্য থেকে এখনো যারা সত্যিকারার্থে আল্লাহ ও আখেরাতকে মেনে নেয়নি, আল্লাহ ও তাঁর রসুলের দেয়া হালাল-হারামের সীমা মেনে চলে না এবং আল্লাহর দেয়া সত্যদ্বীনকে নিজেদের দ্বীন হিসাবে কবুল করেনি ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামো। ওদেরকে এমনভাবে পাকড়াও করো, যেনো ওরা তোমাদের পদানত হয়ে নিরাপত্তা কর হিসেবে তোমাদের হাতে ‘জিজিয়া’ তুলে দিতে বাধ্য হয়।
وَ قَالَتِ الْیَهُوْدُ عُزَیْرُ ِ۟ابْنُ اللّٰهِ وَ قَالَتِ النَّصٰرَی الْمَسِیْحُ ابْنُ اللّٰهِ ؕ ذٰلِكَ قَوْلُهُمْ بِاَفْوَاهِهِمْ ۚ یُضَاهِـُٔوْنَ قَوْلَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْ قَبْلُ ؕ قٰتَلَهُمُ اللّٰهُ ؗۚ اَنّٰی یُؤْفَكُوْنَ 30
30. ইহুদিরা বলে, ওযাইর আল্লাহর পুত্র ছিলো। অপরদিকে খ্রিস্টানেরাও দাবি করছে, ঈসা মসীহ আল্লাহর পুত্র। শোনো! এসব ওদের বানানো ভিত্তিহীন কথাবার্তা। ওদের পূর্ববর্তী কাফেরদের দেখাদেখি ওরাও এ ধরনের উদ্ভট কথা চালিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহর গজব পড়ুক ওদের উপর। আফসোস! ওরা কোন্ দিকে হাঁটছে?
اِتَّخَذُوْۤا اَحْبَارَهُمْ وَ رُهْبَانَهُمْ اَرْبَابًا مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ وَ الْمَسِیْحَ ابْنَ مَرْیَمَ ۚ وَ مَاۤ اُمِرُوْۤا اِلَّا لِیَعْبُدُوْۤا اِلٰهًا وَّاحِدًا ۚ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؕ سُبْحٰنَهٗ عَمَّا یُشْرِكُوْنَ 31
31. ওরা আল্লাহকে ত্যাগ করে নিজেদের আলেম-ওলামা ও দরবেশ লোকদেরকে খোদার আসনে বসিয়েছে। খ্রিস্টানেরা আবার মারিয়াম পুত্র ঈসা মসীহকে খোদা হিসাবে ডাকছে। অথচ ওদের কাউকেই এক ইলাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করার হুকুম দেয়া হয়নি। বস্তুত আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। সুবহানাল্লহ! ওরা আজ যেসব শিরকি কথাবার্তা বলছে, আল্লাহ তা থেকে মহা পবিত্র।
یُرِیْدُوْنَ اَنْ یُّطْفِـُٔوْا نُوْرَ اللّٰهِ بِاَفْوَاهِهِمْ وَ یَاْبَی اللّٰهُ اِلَّاۤ اَنْ یُّتِمَّ نُوْرَهٗ وَ لَوْ كَرِهَ الْكٰفِرُوْنَ 32
32. ওরা মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর দেয়া সত্যের আলোকে নিভিয়ে দিতে চায়। কিন্তু আল্লাহ তা কখনোই হতে দেবেন না। এ কাফেরেরা যতোই অপচেষ্টা চালাক না কেন, আল্লাহ তাঁর এ আলোকে পুরোপুরি উদ্ভাসিত করেই ছাড়বেন।
هُوَ الَّذِیْۤ اَرْسَلَ رَسُوْلَهٗ بِالْهُدٰی وَ دِیْنِ الْحَقِّ لِیُظْهِرَهٗ عَلَی الدِّیْنِ كُلِّهٖ ۙ وَ لَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُوْنَ 33
33. এ কারণেই আল্লাহ তাঁর রসুলকে পথনির্দেশ ও সঠিক জীবনব্যবস্থা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। এ মুশরিকদের কাছে এটা যতোই অসহনীয় হোক না কেন, তিনি এ সত্য জীবনব্যবস্থাকে অন্যান্য সব বাতিল জীবনব্যবস্থার উপর প্রতিষ্ঠা করেই ছাড়বেন।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِنَّ كَثِیْرًا مِّنَ الْاَحْبَارِ وَ الرُّهْبَانِ لَیَاْكُلُوْنَ اَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَ یَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ؕ وَ الَّذِیْنَ یَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَ الْفِضَّةَ وَ لَا یُنْفِقُوْنَهَا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ۙ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ اَلِیْمٍۙ 34
34. হে ঈমানদারেরা, আহলে কিতাবের অধিকাংশ আলেম ও দরবেশ লোকদের অবস্থা দেখো, ওরা নানা ছলেবলে ও কৌশলে মানুষদের ধন-সম্পদ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং তাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে নানাভাবে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এভাবে ওরা সোনা রুপার পাহাড় জমাচ্ছে। অথচ তা থেকে আল্লাহর পথে এক কানাকড়িও খরচ করে না। কাজেই এসব নাফরমানদের যন্ত্রনাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও।
یَّوْمَ یُحْمٰی عَلَیْهَا فِیْ نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوٰی بِهَا جِبَاهُهُمْ وَ جُنُوْبُهُمْ وَ ظُهُوْرُهُمْ ؕ هٰذَا مَا كَنَزْتُمْ لِاَنْفُسِكُمْ فَذُوْقُوْا مَا كُنْتُمْ تَكْنِزُوْنَ 35
35. সেদিন জাহান্নামের আগুনে এসব পুঞ্জিভূত সোনা-রুপা গরম করা হবে এবং তা দিয়ে ওদের কপালে, পাজরে এবং পিঠে আচ্ছামতো ছ্যাঁকা দেয়া হবে। আর এসব নাফরমানগুলোকে বলা হবে এই নাও, তোমাদের জমানো সোনা-রুপা। চেখে দেখো, তোমাদের জমানো এসব জিনিসের স্বাদ কেমন।
اِنَّ عِدَّةَ الشُّهُوْرِ عِنْدَ اللّٰهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِیْ كِتٰبِ اللّٰهِ یَوْمَ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ مِنْهَاۤ اَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ؕ ذٰلِكَ الدِّیْنُ الْقَیِّمُ ۙ۬ فَلَا تَظْلِمُوْا فِیْهِنَّ اَنْفُسَكُمْ وَ قَاتِلُوا الْمُشْرِكِیْنَ كَآفَّةً كَمَا یُقَاتِلُوْنَكُمْ كَآفَّةً ؕ وَ اعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ مَعَ الْمُتَّقِیْنَ 36
36. জেনে রেখো, মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির সূচনা থেকে আল্লাহর দৃষ্টিতে বারো মাসে বছর হিসাব করা হয়। এর মধ্যে চারটি মাসকে হারাম মাসের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এটা আল্লাহর চুড়ান্ত ফয়সালা। কাজেই এসব হারাম মাসে নিজেদের উপর কোনো বাড়াবাড়ি করো না। কিন্তু মুশরিকেরা যদি এ সময় দল বেধে তোমাদের বিরুদ্ধে লড়তে আসে; তবে তোমরাও বিরাট বাহিনী নিয়ে ওদের বিরুদ্ধে লড়ো। তবে ভুলে যেয়ো না যে, আল্লাহ কেবল সতর্ক-সংযমী বান্দাদের সাথেই থাকেন।
اِنَّمَا النَّسِیْٓءُ زِیَادَةٌ فِی الْكُفْرِ یُضَلُّ بِهِ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا یُحِلُّوْنَهٗ عَامًا وَّیُحَرِّمُوْنَهٗ عَامًا لِّیُوَاطِـُٔوْا عِدَّةَ مَا حَرَّمَ اللّٰهُ فَیُحِلُّوْا مَا حَرَّمَ اللّٰهُ ؕ زُیِّنَ لَهُمْ سُوْٓءُ اَعْمَالِهِمْ ؕ وَ اللّٰهُ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الْكٰفِرِیْنَ۠ 37
37. হারাম মাসকে আগ-পিছ করে দেয়া ওদের কুফরি নীতির আরেকটি উদাহরণ। এভাবেই কাফেরেরা ভ্রান্তপথে হাঁটছে। ওরা আল্লাহর নির্ধারণ করা বছরের একটি হারাম মাসকে হালাল করে নেয়, আবার অপর একটি হালাল মাসকে হারাম করে নেয়। এভাবে ওরা বছরের বারো মাসের হারাম চার মাসের গণনা পূর্ণ করে। অথচ খেয়াল করো, ওরা নিজেদের সিদ্ধান্তে আল্লাহর নির্ধারিত হারাম মাসকে হালাল বানিয়ে নিয়েছে। আফসোস! এসব নিকৃষ্ট কাজগুলোই ওদের কাছে মনোমুগ্ধকর ও আকর্ষণীয় হয়ে পড়ছে। আসলে কাফেরেরা আল্লাহর দেখানো পথ খুঁজে পায় না।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مَا لَكُمْ اِذَا قِیْلَ لَكُمُ انْفِرُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ اثَّاقَلْتُمْ اِلَی الْاَرْضِ ؕ اَرَضِیْتُمْ بِالْحَیٰوةِ الدُّنْیَا مِنَ الْاٰخِرَةِ ۚ فَمَا مَتَاعُ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا فِی الْاٰخِرَةِ اِلَّا قَلِیْلٌ 38
38. হে ঈমানদারেরা, তোমাদের এ কেমন আচরণ? যখন আল্লাহর পথে এক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে বের হওয়ার জন্য ডাকা হচ্ছে ,তখন তোমরা অনেকেই প্রস্তুতি না নিয়ে উল্টো মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছো? তবে কি তোমরা আখেরাতের উপর দুনিয়ার সামান্য আরাম-আয়েশকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছো? যদি তাই হয় তবে শুনে রেখো, দুনিয়ার এ সামান্য চাওয়া-পাওয়া আখেরাতের তুলনায় কিছুই না।
اِلَّا تَنْفِرُوْا یُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا اَلِیْمًا ۙ۬ وَّ یَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَیْرَكُمْ وَ لَا تَضُرُّوْهُ شَیْـًٔا ؕ وَ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ 39
39. কাজেই এখনও যদি অভিযানে বের না হও, তবে অচিরেই আল্লাহ তোমাদেরকে লাঞ্ছনাকর শাস্তির মুখোমুখি করবেন এবং তোমাদের জায়গায় অন্য কোনো জনগোষ্ঠীকে স্থলাভিষিক্ত বানিয়ে দেবেন। এতে তোমরা আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কেননা আল্লাহ সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
اِلَّا تَنْصُرُوْهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللّٰهُ اِذْ اَخْرَجَهُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا ثَانِیَ اثْنَیْنِ اِذْ هُمَا فِی الْغَارِ اِذْ یَقُوْلُ لِصَاحِبِهٖ لَا تَحْزَنْ اِنَّ اللّٰهَ مَعَنَا ۚ فَاَنْزَلَ اللّٰهُ سَكِیْنَتَهٗ عَلَیْهِ وَ اَیَّدَهٗ بِجُنُوْدٍ لَّمْ تَرَوْهَا وَ جَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِیْنَ كَفَرُوا السُّفْلٰی ؕ وَ كَلِمَةُ اللّٰهِ هِیَ الْعُلْیَا ؕ وَ اللّٰهُ عَزِیْزٌ حَكِیْمٌ 40
40. শোনো! তোমরা যদি নবীর সাহায্যে এগিয়ে না আসো তবে পরোয়া নেই। আল্লাহ এর আগেও তাঁর নবীকে সাহায্য করেছেন। মনে করে দেখো, যখন মক্কার কাফেরেরা তাকে বাড়ি-ঘর ছাড়া করে হত্যার জন্য খুঁজে বেড়াচ্ছিলো, তখন সে তার এক বন্ধুকে নিয়ে একটি গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলো। এক পর্যায়ে তার বন্ধু শত্রুদের দেখে ভয় পেয়ে গেলো। তখন নবী তাকে বললো, দুশ্চিন্তা করো না। আমাদের সাথে আল্লাহ রয়েছেন। এরপর আল্লাহ তাদেরকে মানসিক প্রশান্তি দিলেন এবং এমন সেনাদল পাঠিয়ে সাহায্য করলেন, যাদেরকে তোমরা দেখতে পাওনি। এভাবেই আল্লাহ কাফেরদের সব হুমকি-ধামকি মাটির সাথে মিশিয়ে দেন এবং নিজের বাণীকে সুউচ্চ করেন। বস্তুত আল্লাহ যথার্থ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
اِنْفِرُوْا خِفَافًا وَّ ثِقَالًا وَّ جَاهِدُوْا بِاَمْوَالِكُمْ وَ اَنْفُسِكُمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ؕ ذٰلِكُمْ خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ 41
41. অতএব হে ঈমানদারেরা, তোমরা হালকা কিংবা ভারি যার যা আছে সেই সাজ-সরঞ্জাম নিয়েই অভিযানে বেরিয়ে পড়ো। নিজেদের সহায়-সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে লড়াই করো। তোমাদের জ্ঞান থাকলে বুঝতে, এর মধ্যে তোমাদের জন্য বহু কল্যাণ রয়েছে।
لَوْ كَانَ عَرَضًا قَرِیْبًا وَّ سَفَرًا قَاصِدًا لَّاتَّبَعُوْكَ وَ لٰكِنْۢ بَعُدَتْ عَلَیْهِمُ الشُّقَّةُ ؕ وَ سَیَحْلِفُوْنَ بِاللّٰهِ لَوِ اسْتَطَعْنَا لَخَرَجْنَا مَعَكُمْ ۚ یُهْلِكُوْنَ اَنْفُسَهُمْ ۚ وَ اللّٰهُ یَعْلَمُ اِنَّهُمْ لَكٰذِبُوْنَ۠ 42
42. হে নবী, ওরা যদি এ অভিযানে সহজেই গনিমতের মাল লাভের সম্ভাবনা দেখতো এবং যাত্রাপথ সহজতর হতো; তবে ওদের অনেকেই তোমার পিছে পিছে যাত্রা করতো। কিন্তু ওদের জন্য তো এ পথ বড়ই কঠিন হয়ে পড়েছে। হে নবী, এখন দেখবে ওরা তোমার কাছে এসে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলবে, যদি আমরা যেতে পারতাম, তবে তোমাদের সাথে অবশ্যই অভিযানে বের হতাম। আল্লাহ ভালোকরেই জানেন, ওরা যা বলছে তা শতভাগ মিথ্যা। হায় আফসোস! ওরা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনছে।
عَفَا اللّٰهُ عَنْكَ ۚ لِمَ اَذِنْتَ لَهُمْ حَتّٰی یَتَبَیَّنَ لَكَ الَّذِیْنَ صَدَقُوْا وَ تَعْلَمَ الْكٰذِبِیْنَ 43
43. হে নবী, আল্লাহ তোমায় ক্ষমা করুন। তুমি কেন যুদ্ধে না যাওয়ার জন্য ওদের আবেদন এতো সহজে মঞ্জুর করলে? একটু যাচাই-বাছাই করলেই বুঝতে পারতে, ওদের মধ্যে কার কার সত্যিই যাবার সক্ষমতা নেই, আর কারা মিথ্যা বলছে।
لَا یَسْتَاْذِنُكَ الَّذِیْنَ یُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ اَنْ یُّجَاهِدُوْا بِاَمْوَالِهِمْ وَ اَنْفُسِهِمْ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌۢ بِالْمُتَّقِیْنَ 44
44. যারা সত্যিকারেই আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, তারা কখনোই নিজেদের সহায়-সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে লড়াই করা থেকে তোমার কাছে অব্যাহতি চাইতে পারে না। কেননা আল্লাহ এ ধরনের পরহেযগার লোকদের বিষয়ে খুব ভালোকরেই জানেন।
اِنَّمَا یَسْتَاْذِنُكَ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَارْتَابَتْ قُلُوْبُهُمْ فَهُمْ فِیْ رَیْبِهِمْ یَتَرَدَّدُوْنَ 45
45. নবী হে, যারা তোমার কাছে যুদ্ধে না যাওয়ার জন্য আবেদন করেছে, ওরা সত্যিকারার্থে আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে না। মূলত ওদের মনের মধ্যে সন্দেহ-সংশয় ঢুকে আছে। ফলে ওরা একবার আগায় তো আরেকবার পিছায়।
وَ لَوْ اَرَادُوا الْخُرُوْجَ لَاَعَدُّوْا لَهٗ عُدَّةً وَّلٰكِنْ كَرِهَ اللّٰهُ انْۢبِعَاثَهُمْ فَثَبَّطَهُمْ وَقِیْلَ اقْعُدُوْا مَعَ الْقٰعِدِیْنَ 46
46. দেখো! ওরা যদি সত্যিই এ অভিযানে যেতে আন্তরিক হতো, তবে তার জন্য কিছু না কিছু প্রস্তুতি তো গ্রহণ করতো। কিন্তু না, ওরা তার জন্য কোনো প্রস্তুতিই নেয়নি। ফলে আল্লাহ ওদেরকে অভিযানে বের হওয়ার তাওফিক দিলেন না; বরং উল্টো ওদেরকে বললেন, তোমরা ঘরের লোকদের সাথেই বসে থাকো।
لَوْ خَرَجُوْا فِیْكُمْ مَّا زَادُوْكُمْ اِلَّا خَبَالًا وَّلَاۡاَوْضَعُوْا خِلٰلَكُمْ یَبْغُوْنَكُمُ الْفِتْنَةَ ۚ وَ فِیْكُمْ سَمّٰعُوْنَ لَهُمْ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌۢ بِالظّٰلِمِیْنَ 47
47. আর যদি এ মুনাফিকেরা তোমাদের সাথে এ অভিযানে শামিল হতো, তবে ওরা তোমাদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়িয়ে তুলতো এবং তোমাদের মধ্যে বিভেদ-বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য উঠে পড়ে লাগতো। আর ওদের কথায় কান দেবার মতো দুর্বলচিত্তের লোক এখনো তোমাদের মধ্যে কিছু রয়েছে। বস্তুত আল্লাহ জালেমদের সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।
لَقَدِ ابْتَغَوُا الْفِتْنَةَ مِنْ قَبْلُ وَ قَلَّبُوْا لَكَ الْاُمُوْرَ حَتّٰی جَآءَ الْحَقُّ وَ ظَهَرَ اَمْرُ اللّٰهِ وَ هُمْ كٰرِهُوْنَ 48
48. হে নবী, ওরা এর আগেও বহুবার বিভেদ-বিশৃঙ্খলা তৈরির পায়তারা চালিয়েছে। তোমাকে ব্যর্থ করার জন্য ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বারবার নানা অপকৌশল এটেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্য প্রকাশিত হয়েছে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। ওরা তা কোনোভাবেই ঠেকাতে পারেনি।
وَ مِنْهُمْ مَّنْ یَّقُوْلُ ائْذَنْ لِّیْ وَ لَا تَفْتِنِّیْ ؕ اَلَا فِی الْفِتْنَةِ سَقَطُوْا ؕ وَ اِنَّ جَهَنَّمَ لَمُحِیْطَةٌۢ بِالْكٰفِرِیْنَ 49
49. হে নবী, ওদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যে বলে আমাকে যুদ্ধে যাওয়া থেকে অব্যাহতি দিন। কেননা সেখানে আমি ফেতনায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছি। হায় আফসোস! ওরাতো আগেই ফেতনায় ডুবে রয়েছে। অপেক্ষা করো, জাহান্নামের আগুন এসব অবিশ্বাসীদেরকে চারদিক দিয়ে গ্রাস করে নেবে।
اِنْ تُصِبْكَ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ ۚ وَ اِنْ تُصِبْكَ مُصِیْبَةٌ یَّقُوْلُوْا قَدْ اَخَذْنَاۤ اَمْرَنَا مِنْ قَبْلُ وَ یَتَوَلَّوْا وَّ هُمْ فَرِحُوْنَ 50
50. হে নবী, তোমার ভালো কিছু হলে ওরা মনে মনে প্রচন্ড কষ্ট পায়। অথচ তোমার উপর কোনো বিপদ এলে ওরা যারপরনাই খুশি হয় এবং নিজেদেরকে তোমার থেকে আলাদা করে নেয়। আর মনে মনে বলে, যাক! আগে থেকেই সতর্ক হওয়ায় আমরা এ বিপদ থেকে বেঁচে গেলাম।
قُلْ لَّنْ یُّصِیْبَنَاۤ اِلَّا مَا كَتَبَ اللّٰهُ لَنَا ۚ هُوَ مَوْلٰىنَا ۚ وَ عَلَی اللّٰهِ فَلْیَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُوْنَ 51
51. ওদের বলো, শোনো! আল্লাহ আমাদের তকদিরে যা লিখে রেখেছেন, তার বাইরে আমাদের জীবনে আর কিছুই ঘটে না। তিনিই আমাদের অভিভাবক। আর এ কথাই সত্য যে, ঈমানদারেরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো উপর ভরসা করতে পারে না।
قُلْ هَلْ تَرَبَّصُوْنَ بِنَاۤ اِلَّاۤ اِحْدَی الْحُسْنَیَیْنِ ؕ وَ نَحْنُ نَتَرَبَّصُ بِكُمْ اَنْ یُّصِیْبَكُمُ اللّٰهُ بِعَذَابٍ مِّنْ عِنْدِهٖۤ اَوْ بِاَیْدِیْنَا ۖؗ فَتَرَبَّصُوْۤا اِنَّا مَعَكُمْ مُّتَرَبِّصُوْنَ 52
52. ওদেরকে বলো, তোমরা হয়তো অপেক্ষা করছো যে, এ যুদ্ধে আমাদের খারাপ কিছু ঘটবে; অথচ যুদ্ধে আমরা গাযী হই কিংবা শহীদ হই উভয় অবস্থায়ই আমাদের জন্য কল্যাণকর। অন্যদিকে আমরা অপেক্ষা করছি, আল্লাহ তোমাদেরকে নিজেই শাস্তি দেবেন, নাকি আমাদের হাতে শাস্তি দেয়াবেন, তা দেখার জন্যে। কাজেই এখন তোমরা অপেক্ষা করো, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি।
قُلْ اَنْفِقُوْا طَوْعًا اَوْ كَرْهًا لَّنْ یُّتَقَبَّلَ مِنْكُمْ ؕ اِنَّكُمْ كُنْتُمْ قَوْمًا فٰسِقِیْنَ 53
53. ওদের সাফ জানিয়ে দাও, এখন তোমরা স্বেচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় যেভাবেই অর্থ-সম্পদ ব্যয় করো না কেন, তোমাদের থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। কেননা এটা পরিষ্কার হয়েছে যে, তোমরা অবাধ্য গোষ্ঠী।
وَ مَا مَنَعَهُمْ اَنْ تُقْبَلَ مِنْهُمْ نَفَقٰتُهُمْ اِلَّاۤ اَنَّهُمْ كَفَرُوْا بِاللّٰهِ وَ بِرَسُوْلِهٖ وَ لَا یَاْتُوْنَ الصَّلٰوةَ اِلَّا وَ هُمْ كُسَالٰی وَ لَا یُنْفِقُوْنَ اِلَّا وَ هُمْ كٰرِهُوْنَ 54
54. যেহেতু ওরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং দায়সারা ভাব নিয়ে নামাজে হাজির হয় ও বিরক্তি সহকারে পরিবেশের চাপে পড়ে কিছু দান-খয়রাত করে, তাই ওদের কোনো অনুদানই তোমরা গ্রহণ করবে না।
فَلَا تُعْجِبْكَ اَمْوَالُهُمْ وَ لَاۤ اَوْلَادُهُمْ ؕ اِنَّمَا یُرِیْدُ اللّٰهُ لِیُعَذِّبَهُمْ بِهَا فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ تَزْهَقَ اَنْفُسُهُمْ وَهُمْ كٰفِرُوْنَ 55
55. অতএব হে মুসলমানেরা, তোমরা ওদের পার্থিব সহায় সম্পদের প্রাচুর্য ও সন্তান-সন্তুতির আধিক্য দেখে প্রতারিত হয়ো না। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ দুনিয়ার জীবনে এসব দিয়েই ওদেরকে কঠিন মর্মজ্বালায় ফেলে রাখতে চান এবং এতো বেশি কুফরির মধ্যে ডুবিয়ে দিতে চান, যাতে মরণের আগেও ওদের কপালে ঈমান না জোটে।
وَ یَحْلِفُوْنَ بِاللّٰهِ اِنَّهُمْ لَمِنْكُمْ ؕ وَ مَا هُمْ مِّنْكُمْ وَ لٰكِنَّهُمْ قَوْمٌ یَّفْرَقُوْنَ 56
56. ওরা সবসময় তোমাদের কাছে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলে, আমরা তোমাদের দলেই আছি। কিন্তু না, ওরা মোটেই তোমাদের মতো নয়; বরং ওরা সব সময় ভয়ে-আতঙ্কে সময় কাটায়।
لَوْ یَجِدُوْنَ مَلْجَاً اَوْ مَغٰرٰتٍ اَوْ مُدَّخَلًا لَّوَلَّوْا اِلَیْهِ وَ هُمْ یَجْمَحُوْنَ 57
57. ওরা এতোটাই ভীতু যে, ওরা যদি কোথাও একটু নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান পায় কিংবা কোনো একটি গুহা দেখতে পায় অথবা কোথাও মাথা গোজার সামান্য একটু ঠাঁই পায়, তবে পালিয়ে সেখানেই ওরা আত্মগোপন করবে।
وَ مِنْهُمْ مَّنْ یَّلْمِزُكَ فِی الصَّدَقٰتِ ۚ فَاِنْ اُعْطُوْا مِنْهَا رَضُوْا وَ اِنْ لَّمْ یُعْطَوْا مِنْهَاۤ اِذَا هُمْ یَسْخَطُوْنَ 58
58. হে নবী, এমন কিছু মুনাফিকও রয়েছে, যারা সম্পদ বণ্টনের ব্যাপারে তোমার প্রতি বে-ইনসাফির আপত্তি উঠাচ্ছে। আসলে, ওরা নিজেরা কিছু পেলে খুশি হয়; আর না পেলেই বেজার হয়।
وَ لَوْ اَنَّهُمْ رَضُوْا مَاۤ اٰتٰىهُمُ اللّٰهُ وَ رَسُوْلُهٗ ۙ وَ قَالُوْا حَسْبُنَا اللّٰهُ سَیُؤْتِیْنَا اللّٰهُ مِنْ فَضْلِهٖ وَرَسُوْلُهٗۤ ۙ اِنَّاۤ اِلَی اللّٰهِ رٰغِبُوْنَ۠ 59
59. আহ! কতোইনা ভালো হতো, আল্লাহ ও তাঁর রসুল ওদেরকে যা কিছু দিয়েছেন, তা পেয়েই যদি সন্তোষ প্রকাশ করতো এবং বলতো, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমরা আশা রাখি আল্লাহ ভবিষ্যতে নিজ অনুগ্রহ থেকে আমাদেরকে আরো দেবেন এবং তাঁর রসুলও আমাদের প্রতি খেয়াল রাখবেন। আর আমরা তো কেবল আল্লাহর দিকেই তাকিয়ে থাকি।
اِنَّمَا الصَّدَقٰتُ لِلْفُقَرَآءِ وَالْمَسٰكِیْنِ وَ الْعٰمِلِیْنَ عَلَیْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوْبُهُمْ وَ فِی الرِّقَابِ وَالْغٰرِمِیْنَ وَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ ابْنِ السَّبِیْلِ ؕ فَرِیْضَةً مِّنَ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ 60
60. জেনে রেখো, সদাকার সম্পদ পাবে কেবল সেসব লোকেরা, যারা একেবারেই নিঃস্ব-অসহায়, দরিদ্র-অভাবী, যাকাত ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ব্যক্তি এবং দ্বীনের জন্য যার অন্তরকে জয় করা দরকার এমন ব্যক্তি। আর সেসব কাজেও যাকাতের অর্থ খরচ করো, যাতে লোকদের বন্দীদশা থেকে মুক্তি মেলে, ঋণগ্রস্তদের সহায়তায় ও আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার লড়াই-সংগ্রামে এবং পথবাসী-মুসাফিরদের কল্যাণে। এ খাতগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। মনে রেখো, তিনি সবচেয়ে ভালো জানেন, ভালো বোঝেন।
وَ مِنْهُمُ الَّذِیْنَ یُؤْذُوْنَ النَّبِیَّ وَیَقُوْلُوْنَ هُوَ اُذُنٌ ؕ قُلْ اُذُنُ خَیْرٍ لَّكُمْ یُؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَ یُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِیْنَ وَرَحْمَةٌ لِّلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مِنْكُمْ ؕ وَالَّذِیْنَ یُؤْذُوْنَ رَسُوْلَ اللّٰهِ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ 61
61. কিছু কিছু মুনাফিক কথা দ্বারা নবীকে প্রচন্ড আঘাত করছে। ওরা বলে, এ লোকের কান পাতলা। সে যে কারো কথা শোনে। তোমরা ওদেরকে বলো, হ্যাঁ! তিনি কেবল তোমাদের ভালোর জন্যেই তোমাদের সবার কথা শুনেন। কারণ তিনি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখেন এবং মুমিনদের উপরেও তার আস্থা রয়েছে। আসলে রসুল তোমাদের মধ্যে ঈমানদারদের জন্য বড়ই করুণার আঁধার। কাজেই শুনে রেখো, যারা আল্লাহর রসুলকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্য মর্মন্তুদ আযাব অপেক্ষা করছে।
یَحْلِفُوْنَ بِاللّٰهِ لَكُمْ لِیُرْضُوْكُمْ ۚ وَ اللّٰهُ وَرَسُوْلُهٗۤ اَحَقُّ اَنْ یُّرْضُوْهُ اِنْ كَانُوْا مُؤْمِنِیْنَ 62
62. এসব মুনাফিকেরা কেবল তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য বারবার কসম খায়। অথচ ওরা যদি সত্যিকারের ঈমানদার হয়ে থাকতো, তবে তোমাদেরকে নয়; বরং আল্লাহ ও তাঁর রসুলকে সন্তুষ্ট করতে চাইতো। কেননা তাঁরাই এর বেশি হকদার।
اَلَمْ یَعْلَمُوْۤا اَنَّهٗ مَنْ یُّحَادِدِ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ فَاَنَّ لَهٗ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدًا فِیْهَا ؕ ذٰلِكَ الْخِزْیُ الْعَظِیْمُ 63
63. আসলে ওরা কি জানে না যে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে, ওদের জন্য জাহান্নামের আগুন অপেক্ষা করছে? হায়! সে জাহান্নামে ওরা চিরকাল পড়ে থাকবে। আসলেই এটা খুব লাঞ্ছনাকর একটা ব্যাপার।
یَحْذَرُ الْمُنٰفِقُوْنَ اَنْ تُنَزَّلَ عَلَیْهِمْ سُوْرَةٌ تُنَبِّئُهُمْ بِمَا فِیْ قُلُوْبِهِمْ ؕ قُلِ اسْتَهْزِءُوْا ۚ اِنَّ اللّٰهَ مُخْرِجٌ مَّا تَحْذَرُوْنَ 64
64. এ মুনাফিকেরা সবসময় আতঙ্কে থাকে, এই বুঝি কোনো একটি সূরা নাযিল করে আল্লাহ ওদের মনের গোপন কথা প্রকাশ করে দিলেন। ওদের বলো, বেশ! কিছু সময়ের জন্য হাসি-ঠাট্টা করে নাও। কেননা এরপরেই আল্লাহ তোমাদের লুকানো চেহারা প্রকাশ করবেন।
وَلَىِٕنْ سَاَلْتَهُمْ لَیَقُوْلُنَّ اِنَّمَا كُنَّا نَخُوْضُ وَ نَلْعَبُ ؕ قُلْ اَبِاللّٰهِ وَ اٰیٰتِهٖ وَ رَسُوْلِهٖ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِءُوْنَ 65
65. যদি ওদের জিজ্ঞেস করো, তোমরা একসাথে বসে এখানে কী করছিলে? ওরা ঝটপট উত্তর দেবে, আমরা তো কেবল গল্প-গুজব ও খেল-তামাশা করছিলাম। ওদের কঠোর ভাষায় বলো, তোমাদের এ কেমন হাসি-তামাশা, যা আল্লাহ ও তাঁর আয়াসমূহ এবং তাঁর রসুলকে নিয়ে করছো?
لَا تَعْتَذِرُوْا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ اِیْمَانِكُمْ ؕ اِنْ نَّعْفُ عَنْ طَآىِٕفَةٍ مِّنْكُمْ نُعَذِّبْ طَآىِٕفَةًۢ بِاَنَّهُمْ كَانُوْا مُجْرِمِیْنَ۠ 66
66. অতএব ওদের বলো, তোমরা এখন আর ওযর পেশ করো না। তোমরা উপরে-উপরে ঈমান আনার কথা বললেও ভিতরে-ভিতরে সবসময় কুফরি করে গেছো। কাজেই তোমাদের কিছু কিছু লোককে মাফ করা হলেও, পাপিষ্ঠ-অপরাধীদের অবশ্যই কঠিন শাস্তি দেয়া হবে।
اَلْمُنٰفِقُوْنَ وَ الْمُنٰفِقٰتُ بَعْضُهُمْ مِّنْۢ بَعْضٍ ۘ یَاْمُرُوْنَ بِالْمُنْكَرِ وَ یَنْهَوْنَ عَنِ الْمَعْرُوْفِ وَ یَقْبِضُوْنَ اَیْدِیَهُمْ ؕ نَسُوا اللّٰهَ فَنَسِیَهُمْ ؕ اِنَّ الْمُنٰفِقِیْنَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَ 67
67. মুনাফিক পুরুষ ও নারী সবার স্বভাব বৈশিষ্ট্য একই ধরনের। ওরা লোকদেরকে খারাপ কাজে প্ররোচিত করে এবং ভালো কাজে বাধা দেয়। তাছাড়া ওরা কল্যাণের পথে নিজেদের অর্থ-সম্পদের হাত বাড়ায় না। ওরা আসলে আল্লাহকে ভুলে গেছে। ফলে আল্লাহও ওদের থেকে নিজের সুদৃষ্টি তুলে নিয়েছেন। নিশ্চয়ই মুনাফিকেরা অবাধ্য-পাপাচারী।
وَعَدَ اللّٰهُ الْمُنٰفِقِیْنَ وَ الْمُنٰفِقٰتِ وَالْكُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ هِیَ حَسْبُهُمْ ۚ وَ لَعَنَهُمُ اللّٰهُ ۚ وَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّقِیْمٌۙ 68
68. আল্লাহ বিশ্বাসঘাতক মুনাফিক ও সত্য প্রত্যাখ্যানকারী কাফের পুরুষ এবং নারীকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপের ওয়াদা দিচ্ছেন। চিরদিনের জন্য ওরা এ শাস্তি ভোগ করবে। এ শাস্তি ওদের যথার্থ প্রাপ্য। ওদের উপর আল্লাহর লানত। ফলে এখন ওরা স্থায়ী আযাবের জন্য অপেক্ষা করুক।
كَالَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ كَانُوْۤا اَشَدَّ مِنْكُمْ قُوَّةً وَّ اَكْثَرَ اَمْوَالًا وَّ اَوْلَادًا ؕ فَاسْتَمْتَعُوْا بِخَلَاقِهِمْ فَاسْتَمْتَعْتُمْ بِخَلَاقِكُمْ كَمَا اسْتَمْتَعَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ بِخَلَاقِهِمْ وَ خُضْتُمْ كَالَّذِیْ خَاضُوْا ؕ اُولٰٓىِٕكَ حَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ فِی الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَةِ ۚ وَ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْخٰسِرُوْنَ 69
69. ওদের বলো, তোমরা তো তোমাদের পূর্ববর্তী দুরাচারী পাপিষ্ঠদের মতোই আচরণ করছো। অবশ্য ওরা তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি দুনিয়ায় ক্ষমতার দাপট দেখাতো এবং তোমাদের চেয়ে সহায়-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতিতেও ছিলো বেশি। ওরা ওদের এসব ভোগ-সামগ্রী উপভোগ করে বিদায় হয়ে গেছে। এখন তোমরাও ওদের মতো নিজেদের জৌলুস উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছো। কী আজব! তোমরাও ওদের মতো সত্যের ব্যাপারে অনর্থক বাজে তর্কে লিপ্ত হচ্ছো। অথচ তোমরা ভুলে গেছো যে, ওদের সমস্ত কাজকর্মই দুনিয়ায় নিষ্ফল হয়েছে এবং ওদের আখেরাত পুরাই বরবাদ হয়ে গেছে। এককথায় ওরা সবদিক থেকে চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
اَلَمْ یَاْتِهِمْ نَبَاُ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ قَوْمِ نُوْحٍ وَّ عَادٍ وَّ ثَمُوْدَ ۙ۬ وَ قَوْمِ اِبْرٰهِیْمَ وَ اَصْحٰبِ مَدْیَنَ وَالْمُؤْتَفِكٰتِ ؕ اَتَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَیِّنٰتِ ۚ فَمَا كَانَ اللّٰهُ لِیَظْلِمَهُمْ وَلٰكِنْ كَانُوْۤا اَنْفُسَهُمْ یَظْلِمُوْنَ 70
70. হায় আফসোস! ওদের আগে আল্লাহ নুহ, আদ, সামুদ ও ইবরাহিমের অবাধ্য জাতি এবং মাদিয়ান ও ওলট-পালট করে দেয়া বিধ্বস্ত নগরীর কওমে লুতের সাথে যে ভয়ানক আচরণ করেছিলেন, সে সংবাদ কি এসব নাফরমানেরা পায়নি? তাদের প্রত্যেকের কাছে তাদের রসুলেরা সুস্পষ্ট সত্যের নিদর্শন হাজির করেছিলো। কিন্তু সে সত্য প্রত্যাখ্যান করায় আল্লাহ ওদের যে শাস্তি দিয়েছিলেন, তাতে আল্লাহ অবিচার করেননি; বরং ওরা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের জন্য দায়ী।
وَ الْمُؤْمِنُوْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتُ بَعْضُهُمْ اَوْلِیَآءُ بَعْضٍ ۘ یَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَیَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَ یُقِیْمُوْنَ الصَّلٰوةَ وَ یُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَ یُطِیْعُوْنَ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ ؕ اُولٰٓىِٕكَ سَیَرْحَمُهُمُ اللّٰهُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَزِیْزٌ حَكِیْمٌ 71
71. অপরদিকে ঈমানদার পুরুষ ও নারী তারা সবাই সবার বন্ধু ও সহযোগী। তারা লোকদেরকে ভালো কাজের আদেশ দেয় ও খারাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখে। তারা নামাজ কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পূর্ণ অনুগত হয়ে চলে। সন্দেহ নেই, ভবিষ্যতেও তারা আল্লাহর রহমতের ছায়ায় থাকবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, মহা প্রজ্ঞাবান।
وَعَدَ اللّٰهُ الْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا وَ مَسٰكِنَ طَیِّبَةً فِیْ جَنّٰتِ عَدْنٍ ؕ وَ رِضْوَانٌ مِّنَ اللّٰهِ اَكْبَرُ ؕ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ۠ 72
72. আল্লাহর পক্ষ থেকে ঈমানদার পুরুষ ও নারীর জন্য জান্নাতের ওয়াদা রয়েছে। সে জান্নাতের পাশ দিয়ে বয়ে যাবে ঝর্নাধারা। তাদের জন্য সেখানে স্থায়ী প্রাসাদ বানিয়ে দেয়া হবে। চিরদিনের জন্য তারা এ নিয়ামত ভোগ করবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, তারা সেদিন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করবে। এটাই মহা সাফল্য।
یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنٰفِقِیْنَ وَاغْلُظْ عَلَیْهِمْ ؕ وَمَاْوٰىهُمْ جَهَنَّمُ ؕ وَبِئْسَ الْمَصِیْرُ 73
73. হে নবী, এখন থেকে কাফের ও মুনাফিক উভয়ের মোকাবেলায় পূর্ণ শক্তি নিয়োগ করো। ওদেরকে আর একচুল ছাড়ও দিও না। শেষ পর্যন্ত ওদের আবাস হবে জাহান্নাম। হায়! সেটা কতই না নিকৃষ্ট আবাস।
یَحْلِفُوْنَ بِاللّٰهِ مَا قَالُوْا ؕ وَ لَقَدْ قَالُوْا كَلِمَةَ الْكُفْرِ وَ كَفَرُوْا بَعْدَ اِسْلَامِهِمْ وَهَمُّوْا بِمَا لَمْ یَنَالُوْا ۚ وَ مَا نَقَمُوْۤا اِلَّاۤ اَنْ اَغْنٰىهُمُ اللّٰهُ وَ رَسُوْلُهٗ مِنْ فَضْلِهٖ ۚ فَاِنْ یَّتُوْبُوْا یَكُ خَیْرًا لَّهُمْ ۚ وَ اِنْ یَّتَوَلَّوْا یُعَذِّبْهُمُ اللّٰهُ عَذَابًا اَلِیْمًا ۙ فِی الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَةِ ۚ وَ مَا لَهُمْ فِی الْاَرْضِ مِنْ وَّلِیٍّ وَّ لَا نَصِیْرٍ 74
74. মুনাফিকেরা আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলে, না! আমরা এ ধরনের কথা কখনও বলিনি। অথচ সত্য হচ্ছে, ওরা এসব কুফরি কথাবার্তা বলেছে। ওরা আল্লাহর কাছে নিজেদেরকে সঁপে দেয়ার পরেও কুফরি করেছে। ওরা তো এমন এক ভয়ানক কাজ করার পরিকল্পনা করেছিলো, যা করতে ওরা সক্ষম হয়নি। ওদের এতো ক্ষোভ-বিরোধিতা কি শুধু এ কারণে যে, আল্লাহ ও তাঁর রসুল দয়া করে ওদেরকে অভাবমুক্ত করে তুলেছেন? হায়! তবে এখনও যদি ওরা তওবা করে সত্যের পথে ফিরে আসে, তাবে ওদের জন্য ভালো। অন্যথায় আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে ওদের মর্মন্তুদ শাস্তি দেবেন। সেদিন দুনিয়ার কোনো বন্ধু বা সাহায্যকারী ওরা খুঁজে পাবে না।
وَ مِنْهُمْ مَّنْ عٰهَدَ اللّٰهَ لَىِٕنْ اٰتٰىنَا مِنْ فَضْلِهٖ لَنَصَّدَّقَنَّ وَ لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الصّٰلِحِیْنَ 75
75. ওদের অনেকেই আল্লাহর সাথে এ অঙ্গীকার করেছিলো যে, আল্লাহ যদি নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে সম্পদশালী বানান, তবে আমরা অবশ্যই পর্যাপ্ত দান-খয়রাত করবো এবং নিশ্চিতভাবে পূর্ণ সততার সাথে জীবন যাপন করবো।
فَلَمَّاۤ اٰتٰىهُمْ مِّنْ فَضْلِهٖ بَخِلُوْا بِهٖ وَ تَوَلَّوْا وَّ هُمْ مُّعْرِضُوْنَ 76
76. কিন্তু যখন আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে ওদের প্রচুর সহায়-সম্পত্তি দিলেন, তখন ওরা সাংঘাতিক কৃপণতা করলো। ওরা এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নিলো, যেনো ওদের কেউ কিছুই করতে পারবে না।
فَاَعْقَبَهُمْ نِفَاقًا فِیْ قُلُوْبِهِمْ اِلٰی یَوْمِ یَلْقَوْنَهٗ بِمَاۤ اَخْلَفُوا اللّٰهَ مَا وَعَدُوْهُ وَبِمَا كَانُوْا یَكْذِبُوْنَ 77
77. আল্লাহর সাথে করা অঙ্গীকার ভেঙ্গে ফেলা এবং উপর্যুপরি মিথ্যাচারের পরিণামে আল্লাহ ওদের অন্তরে মুনাফিকি রোগকে স্থায়ী করে দিয়েছেন। আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার দিন পর্যন্ত এ রোগ ওদের পিছু ছাড়বে না।
اَلَمْ یَعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ یَعْلَمُ سِرَّهُمْ وَنَجْوٰىهُمْ وَ اَنَّ اللّٰهَ عَلَّامُ الْغُیُوْبِۚ 78
78. ওরা কি জানে না যে, আল্লাহ ওদের মনের গোপন কথা ও গোপন সলা-পরামর্শ সম্পর্কে সবকিছুই জানেন? নাকি ভুলে গেছে যে, অদৃশ্যের সকল জ্ঞান আল্লাহর রয়েছে?
اَلَّذِیْنَ یَلْمِزُوْنَ الْمُطَّوِّعِیْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ فِی الصَّدَقٰتِ وَ الَّذِیْنَ لَا یَجِدُوْنَ اِلَّا جُهْدَهُمْ فَیَسْخَرُوْنَ مِنْهُمْ ؕ سَخِرَ اللّٰهُ مِنْهُمْ ؗ وَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ 79
79. যেসব ঈমানদারেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের সাধ্যানুযায়ী দান করে এবং যারা সামর্থ না থাকায় আল্লাহর পথে কেবল নিজেদের শারীরিক শ্রম দান করে তাদেরকে নিয়ে সম্পদশালী এসব কৃপণ মুনাফিকেরা হাসি-ঠাট্টা করছে। আল্লাহ এসব বিদ্রুপকারীদের উচিত শিক্ষা দেবেন। বাস্তবে ওদের জন্য কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে।
اِسْتَغْفِرْ لَهُمْ اَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ ؕ اِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِیْنَ مَرَّةً فَلَنْ یَّغْفِرَ اللّٰهُ لَهُمْ ؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ كَفَرُوْا بِاللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ ؕ وَاللّٰهُ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الْفٰسِقِیْنَ۠ 80
80. অতএব হে নবী, তুমি এসব মুনাফিকদের জন্য আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো কিংবা না করো কোনো লাভ হবে না। তুমি ওদের জন্য সত্তরবার ক্ষমা চাইলেও আল্লাহ ওদেরকে ক্ষমা করবেন না। কেননা ওরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। মনে রেখো, এ ধরনের পাপিষ্ঠরা কখনোই আল্লাহর দেখানো সত্যপথ খুঁজে পায় না।
فَرِحَ الْمُخَلَّفُوْنَ بِمَقْعَدِهِمْ خِلٰفَ رَسُوْلِ اللّٰهِ وَ كَرِهُوْۤا اَنْ یُّجَاهِدُوْا بِاَمْوَالِهِمْ وَ اَنْفُسِهِمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَقَالُوْا لَا تَنْفِرُوْا فِی الْحَرِّ ؕ قُلْ نَارُ جَهَنَّمَ اَشَدُّ حَرًّا ؕ لَوْ كَانُوْا یَفْقَهُوْنَ 81
81. এ অভিযানে ওদের যারা না যাবার জন্য অব্যাহতি পেয়েছিলো, তারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সাথে যুদ্ধে শরিক না হয়ে নিজেদের ঘরে-বাড়িতে থাকতে পারায় বেশ আনন্দিত হয়েছিলো। ওরা নিজেরা তো আল্লাহর পথে জান-মাল দিয়ে জিহাদ করাকে অপছন্দ করেছেই, তদুপরি অন্যদেরকেও জিহাদ থেকে ফেরানোর জন্য বলেছে এ প্রচন্ড গরমে তোমরা অভিযানে যেয়ো না। ওদেরকে বলো, জাহান্নামের আগুন তো এর চেয়ে অনেক অনেক বেশি গরম। আফসোস! ওদের যদি সে চেতনা বোধ বেঁচে থাকতো।
فَلْیَضْحَكُوْا قَلِیْلًا وَّ لْیَبْكُوْا كَثِیْرًا ۚ جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ 82
82. অতএব ওরা এখন একটু হেসে নিক। কেননা ওরা যে গুনাহ কামিয়েছে, তার জন্য অচিরেই প্রচুর কাঁদবে।
فَاِنْ رَّجَعَكَ اللّٰهُ اِلٰی طَآىِٕفَةٍ مِّنْهُمْ فَاسْتَاْذَنُوْكَ لِلْخُرُوْجِ فَقُلْ لَّنْ تَخْرُجُوْا مَعِیَ اَبَدًا وَّ لَنْ تُقَاتِلُوْا مَعِیَ عَدُوًّا ؕ اِنَّكُمْ رَضِیْتُمْ بِالْقُعُوْدِ اَوَّلَ مَرَّةٍ فَاقْعُدُوْا مَعَ الْخٰلِفِیْنَ 83
83. হে নবী, এ অভিযান থেকে ফেরার পর অন্য কোনো অভিযানে যদি ওদের কেউ তোমার সাথে যুদ্ধে শরিক হওয়ার জন্য অনুমতি চায়, তবে কখনো অনুমতি দেবে না। স্পষ্ট ভাষায় বলে দেবে, তোমরা আর কোনোদিন আমার সাথে না কোনো অভিযানে অংশ নিতে পারবে, আর না কোনো যুদ্ধে শত্রুর মোকাবেলা করতে পারবে। তোমরা তো প্রথমবার ঘরে বসে থাকাকেই পছন্দ করেছিলে। এখন কেন আসছো; বরং তাদের সাথে গিয়ে বসে থাকো, যারা এখনো বসে আছে।
وَ لَا تُصَلِّ عَلٰۤی اَحَدٍ مِّنْهُمْ مَّاتَ اَبَدًا وَّلَا تَقُمْ عَلٰی قَبْرِهٖ ؕ اِنَّهُمْ كَفَرُوْا بِاللّٰهِ وَرَسُوْلِهٖ وَمَاتُوْا وَهُمْ فٰسِقُوْنَ 84
84. এসব মুনাফিকের কারো মৃত্যু হলে, হে নবী খবরদার! তুমি কারো জানাযা পড়াবে না। এমনকি ওর কবরের পাশেও দাঁড়াবে না। কারণ ওরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সাথে বিদ্রোহ করেছে এবং সত্যত্যাগী পাপিষ্ঠ হয়ে মরেছে।
وَ لَا تُعْجِبْكَ اَمْوَالُهُمْ وَ اَوْلَادُهُمْ ؕ اِنَّمَا یُرِیْدُ اللّٰهُ اَنْ یُّعَذِّبَهُمْ بِهَا فِی الدُّنْیَا وَتَزْهَقَ اَنْفُسُهُمْ وَ هُمْ كٰفِرُوْنَ 85
85. হে নবী, ওদের প্রচুর পরিমাণে ধন-সম্পদ এবং অনেকগুলো সন্তান-সন্তুতি দেখে তুমি অবাক হয়ো না। আল্লাহ এসব দিয়ে ওদেরকে দুনিয়ার জীবনেই অশান্তি ও জ্বালা-যন্ত্রনায় জর্জরিত করতে চান। তাছাড়া এগুলোর কারণেই ওরা কাফের অবস্থায় মরতে বাধ্য হবে।
وَ اِذَاۤ اُنْزِلَتْ سُوْرَةٌ اَنْ اٰمِنُوْا بِاللّٰهِ وَجَاهِدُوْا مَعَ رَسُوْلِهِ اسْتَاْذَنَكَ اُولُوا الطَّوْلِ مِنْهُمْ وَ قَالُوْا ذَرْنَا نَكُنْ مَّعَ الْقٰعِدِیْنَ 86
86. তোমরা একনিষ্ঠ হয়ে আল্লাহকে মেনে নাও এবং নিজেদের সবকিছু দিয়ে তাঁর রসুলের নেতৃত্বে যুদ্ধে শরিক হও এ মর্মে যখনই কোনো সূরা নাযিল হয়, তখন মুনাফিকদের মধ্যকার সম্পূর্ণ সুস্থ ও সামর্থবান লোকেরাও তোমার কাছে এসে অব্যাহতি চায়। এসে বলে, আমাদেরকে বাহিনীর তালিকা থেকে বাদ দিন। আমরা বাড়ি-ঘরে থাকতে চাই।
رَضُوْا بِاَنْ یَّكُوْنُوْا مَعَ الْخَوَالِفِ وَطُبِعَ عَلٰی قُلُوْبِهِمْ فَهُمْ لَا یَفْقَهُوْنَ 87
87. ওরা গৃহীনিদের মতো ঘরে থাকতেই বেশি পছন্দ করলো। আসলে ওদের অন্তরের উপর মুনাফিকির কালিমা জমে গেছে। ফলে এখন আর ওদের মাথায় সহজ জিনিসটাও ধরছে না।
لٰكِنِ الرَّسُوْلُ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مَعَهٗ جٰهَدُوْا بِاَمْوَالِهِمْ وَ اَنْفُسِهِمْ ؕ وَاُولٰٓىِٕكَ لَهُمُ الْخَیْرٰتُ ؗ وَ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ 88
88. অপরদিকে রসুল ও তাঁর ঈমানদার সাথিরা নিজেদের সহায়-সম্পদ ও জীবনের সবটুকু বিলিয়ে আল্লাহর পথে লড়াই করেছে। এখন তারাই সব কল্যাণের অধিকারী হবে। সন্দেহ নেই, তারাই সফলকাম।
اَعَدَّ اللّٰهُ لَهُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ۠ 89
89. আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাত সাজিয়ে রেখেছেন, যার নিচ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হচ্ছে। চিরদিনের জন্য তারা এ সুখ উপভোগ করবে। আর এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
وَجَآءَ الْمُعَذِّرُوْنَ مِنَ الْاَعْرَابِ لِیُؤْذَنَ لَهُمْ وَ قَعَدَ الَّذِیْنَ كَذَبُوا اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ ؕ سَیُصِیْبُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ 90
90. মরুচারী বেদুঈনদের অনেকে তোমার কাছে এসেছে, যাতে তারাও এ অভিযানে যাওয়া থেকে অব্যাহতি পায়। অন্যদিকে যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সাথে ঈমানের মিথ্যা অঙ্গীকার করেছিলো, তারাও ঘরে বসে রইলো। এসব কাফেরদের জানিয়ে দাও, অচিরেই মর্মান্তিক শাস্তি ওদেরকে পাকড়াও করবে।
لَیْسَ عَلَی الضُّعَفَآءِ وَ لَا عَلَی الْمَرْضٰی وَ لَا عَلَی الَّذِیْنَ لَا یَجِدُوْنَ مَا یُنْفِقُوْنَ حَرَجٌ اِذَا نَصَحُوْا لِلّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ ؕ مَا عَلَی الْمُحْسِنِیْنَ مِنْ سَبِیْلٍ ؕ وَ اللّٰهُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌۙ 91
91. তবে যারা দুর্বল, অসুস্থ ও জিহাদের পাথেয় সংগ্রহে অক্ষম তারা জিহাদে অংশ না নিলে কোনো দোষ নেই। যখন এ ধরনের সৎকর্মশীল লোকেরা আন্তরিকতার সাথে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের প্রতি বিশ্বস্ত-কল্যাণকামী হয়, তখন তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলার সুযোগ থাকে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল, বড় মেহেরবান।
وَّ لَا عَلَی الَّذِیْنَ اِذَا مَاۤ اَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَاۤ اَجِدُ مَاۤ اَحْمِلُكُمْ عَلَیْهِ ۪ تَوَلَّوْا وَّ اَعْیُنُهُمْ تَفِیْضُ مِنَ الدَّمْعِ حَزَنًا اَلَّا یَجِدُوْا مَا یُنْفِقُوْنَؕ 92
92. অনুরূপভাবে তাদের প্রতিও কোনো অভিযোগ নেই, যারা জিহাদে যাবার জন্য তোমার কাছে এসে একটা বাহনের আবেদন করেছিলো; কিন্তু তুমি তাদের জন্য একটা বাহনও জোগাড় করে দিতে পারোনি। তারা সেদিন চোখের পানি মুছতে মুছতে তোমার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিলো। নিজেদের অর্থে একটা বাহন জোগাড় করতে না পারার দুঃখ তাদের অন্তরকে ভেঙ্গে দিয়েছিলো।
اِنَّمَا السَّبِیْلُ عَلَی الَّذِیْنَ یَسْتَاْذِنُوْنَكَ وَ هُمْ اَغْنِیَآءُ ۚ رَضُوْا بِاَنْ یَّكُوْنُوْا مَعَ الْخَوَالِفِ ۙ وَ طَبَعَ اللّٰهُ عَلٰی قُلُوْبِهِمْ فَهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ 93
93. সমস্ত অভিযোগ ও আপত্তি শুধু সেসব সম্পদশালী লোকদের প্রতি, যারা পূর্ণ সক্ষম হওয়ার পরেও তোমার কাছে অব্যাহতি চেয়েছে। ওরা ঘরের মহিলাদের সাথে সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করেছে। পরিণামে আল্লাহ ওদের অন্তরের উপর মহর মেরে দিয়েছেন। ওরা আর কখনোই সত্য উপলব্ধি করতে পারবে না।
یَعْتَذِرُوْنَ اِلَیْكُمْ اِذَا رَجَعْتُمْ اِلَیْهِمْ ؕ قُلْ لَّا تَعْتَذِرُوْا لَنْ نُّؤْمِنَ لَكُمْ قَدْ نَبَّاَنَا اللّٰهُ مِنْ اَخْبَارِكُمْ ؕ وَسَیَرَی اللّٰهُ عَمَلَكُمْ وَ رَسُوْلُهٗ ثُمَّ تُرَدُّوْنَ اِلٰی عٰلِمِ الْغَیْبِ وَالشَّهَادَةِ فَیُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ 94
94. হে নবী, এ অভিযান থেকে ফেরার পর ওরা তোমার কাছে এসে নানা মিথ্যা অজুহাত পেশ করবে। ওদের বলে দেবে, থামো! অজুহাত দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা তোমাদের কোনো কথাই বিশ্বাস করবো না। তোমাদের ব্যাপারে আসল সত্য আল্লাহ আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। এখন থেকে আল্লাহ ও তাঁর রসুল তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর কড়া নজর রাখবেন। এরপর একদিন তোমাদেরকে সে আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে, যিনি গোপন ও প্রকাশ্য সব বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। তোমরা এখন যে অপকর্ম করে বেড়াচ্ছো, সেদিন তা তিনি একে একে তোমাদের সব জানিয়ে দেবেন।
سَیَحْلِفُوْنَ بِاللّٰهِ لَكُمْ اِذَا انْقَلَبْتُمْ اِلَیْهِمْ لِتُعْرِضُوْا عَنْهُمْ ؕ فَاَعْرِضُوْا عَنْهُمْ ؕ اِنَّهُمْ رِجْسٌؗ وَّمَاْوٰىهُمْ جَهَنَّمُ ۚ جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ 95
95. হে ঈমানদারেরা, তোমরা ফিরে যাওয়ার পর মুনাফিকেরা তোমাদের কাছে আল্লাহর নামে কসম কেটে ওদের অজুহাতের যথার্থতা বুঝাতে চাইবে, যাতে ওদের বিষয়টাকে তোমরা মামুলি ব্যাপার হিসাবে এড়িয়ে যাও। ঠিক আছে! তোমরাও ওদেরকে পরিত্যাগ করো। ওরা আসলেই পঁচে গেছে, অপবিত্র হয়ে গেছে। ওরা যে পাপ কামিয়েছে, তার জন্য জাহান্নামেই ওদের আবাস তৈরি হয়ে আছে।
یَحْلِفُوْنَ لَكُمْ لِتَرْضَوْا عَنْهُمْ ۚ فَاِنْ تَرْضَوْا عَنْهُمْ فَاِنَّ اللّٰهَ لَا یَرْضٰی عَنِ الْقَوْمِ الْفٰسِقِیْنَ 96
96. ওরা তোমাদের সামনে বারবার কসম কাটবে, যাতে তোমাদের মন গলাতে পারে। জেনে রেখো, তোমরা ওদের কথায় সন্তুষ্ট হলেও, আল্লাহ কখনোই এ ধরনের অবাধ্য পাপিষ্ঠদের উপর সন্তুষ্ট হবেন না।
اَلْاَعْرَابُ اَشَدُّ كُفْرًا وَّنِفَاقًا وَّاَجْدَرُ اَلَّا یَعْلَمُوْا حُدُوْدَ مَاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ عَلٰی رَسُوْلِهٖ ؕ وَاللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ 97
97. মরুচারী বেদুঈনেরা অন্যদের তুলনায় বিদ্রোহ ও কপোট আচরণে অনেক বেশি একগুয়ে হয়ে থাকে। অবশ্য আল্লাহ তাঁর রসুলের নিকট যে বিধি-বিধান নাযিল করেছেন, সে সম্পর্কে ওদের অজ্ঞ থাকার সম্ভাবনাও তুলনামূলক বেশি। বাস্তবে আল্লাহই ভালো জানেন, ভালো বোঝেন।
وَ مِنَ الْاَعْرَابِ مَنْ یَّتَّخِذُ مَا یُنْفِقُ مَغْرَمًا وَّ یَتَرَبَّصُ بِكُمُ الدَّوَآىِٕرَ ؕ عَلَیْهِمْ دَآىِٕرَةُ السَّوْءِ ؕ وَ اللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ 98
98. এসব বেদুঈনদের অনেকে আল্লাহর পথে ব্যয়কে নিজেদের জন্য জোরপূর্বক জরিমানা মনে করে। ওরা তোমাদের ভাগ্য বিপর্যয়ের অপেক্ষা করছে; অথচ ওদের উপরেই ভাগ্য বিপর্যয় ঘটবে। আল্লাহ ওদের সব শোনেন, সব জানেন।
وَ مِنَ الْاَعْرَابِ مَنْ یُّؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَالْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَ یَتَّخِذُ مَا یُنْفِقُ قُرُبٰتٍ عِنْدَ اللّٰهِ وَ صَلَوٰتِ الرَّسُوْلِ ؕ اَلَاۤ اِنَّهَا قُرْبَةٌ لَّهُمْ ؕ سَیُدْخِلُهُمُ اللّٰهُ فِیْ رَحْمَتِهٖ ؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ۠ 99
99. তবে বেদুঈনদের মধ্যে কিছু লোক রয়েছে, যারা খাঁটি মনে আল্লাহ ও আখেরাতের উপর বিশ্বাস রাখে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ও রসুলের দোয়া লাভের প্রত্যাশায় আল্লাহর পথে নিজেদের সহায়-সম্পদ ব্যয় করে। হ্যাঁ! জেনে রেখো, নিশ্চয়ই এ দান তাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য এনে দেবে। অচিরেই আল্লাহ তাদেরকে আপন রহমতের চাদরে ঢেকে নেবেন। নিশ্চয়ই তিনি বড় ক্ষমাশীল, বড় মেহেরবান।
وَالسّٰبِقُوْنَ الْاَوَّلُوْنَ مِنَ الْمُهٰجِرِیْنَ وَالْاَنْصَارِ وَالَّذِیْنَ اتَّبَعُوْهُمْ بِاِحْسَانٍ ۙ رَّضِیَ اللّٰهُ عَنْهُمْ وَرَضُوْا عَنْهُ وَاَعَدَّ لَهُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ تَحْتَهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًا ؕ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ 100
100. শোনো! যেসব মুহাজির এবং আনসারেরা প্রথমদিকের দুর্দিনে ঈমানের পথে দাঁড়িয়েছিলো এবং পরবর্তী সুদিনগুলোতেও যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের সবার উপরেই সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহকে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছে। আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাত সাজিয়ে রেখেছেন, যার পাদদেশে রয়েছে প্রবহমান জলধারা। তারা চিরকাল সে সুখ উপভোগ করবে। আর এটাকেই বলে মহাসাফল্য।
وَمِمَّنْ حَوْلَكُمْ مِّنَ الْاَعْرَابِ مُنٰفِقُوْنَ ۛؕ وَمِنْ اَهْلِ الْمَدِیْنَةِ ؔۛ۫ مَرَدُوْا عَلَی النِّفَاقِ ۫ لَا تَعْلَمُهُمْ ؕ نَحْنُ نَعْلَمُهُمْ ؕ سَنُعَذِّبُهُمْ مَّرَّتَیْنِ ثُمَّ یُرَدُّوْنَ اِلٰی عَذَابٍ عَظِیْمٍۚ 101
101. হে মুসলমানেরা, সতর্ক থেকো, তোমাদের আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা বেদুঈন ও খোদ্ মদিনাবাসীদের মধ্যে কেউ কেউ কৌশলে চরম মুনাফিকি করছে। তোমরা ওদেরকে সহজে ধরতে পারবে না; কিন্তু আমি ওদের প্রতিটি কূটচাল সম্পর্কে জ্ঞাত রয়েছি। আমি অচিরেই ওদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দেবো। তারপর জাহান্নামের কঠিন শাস্তির দিকে ওদেরকে হাকিয়ে নিয়ে যাবো।
وَ اٰخَرُوْنَ اعْتَرَفُوْا بِذُنُوْبِهِمْ خَلَطُوْا عَمَلًا صَالِحًا وَّ اٰخَرَ سَیِّئًا ؕ عَسَی اللّٰهُ اَنْ یَّتُوْبَ عَلَیْهِمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 102
102. এদিকে কিছু লোক অভিযানে না গিয়ে নিজেদের পাপ স্বীকার করেছে। তারা নিজেদের ভালো কাজের সাথে মন্দ কাজকে মিশিয়ে ফেলেছে। এখন তারা যখন খাঁটি মনে তওবা করছে, আশা করা যায় আল্লাহ তাদেরকে মাফ করবেন। কারণ আল্লাহ তো বড়ই ক্ষমাশীল ও করুণাময়।
خُذْ مِنْ اَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَ تُزَكِّیْهِمْ بِهَا وَصَلِّ عَلَیْهِمْ ؕ اِنَّ صَلٰوتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ ؕ وَاللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ 103
103. কাজেই হে নবী, তারা যেসব ধন-সম্পদ সদাকা করতে চায়, তুমি তা গ্রহণ করো। এভাবে তুমি তাদেরকে পবিত্র করো ও পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ করে দাও এবং তাদের ক্ষমার জন্য আমার কাছে দোয়া করো। নিশ্চয়ই তোমার দোয়ায় তাদের মানসিক প্রশান্তি মিলবে। আর আল্লাহ তো সব শোনেন, জানেন।
اَلَمْ یَعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ هُوَ یَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهٖ وَیَاْخُذُ الصَّدَقٰتِ وَاَنَّ اللّٰهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِیْمُ 104
104. লোকেরা কি জানে না যে, কোনো বান্দা আন্তুরিকভাবে তওবা করলে এবং দান-সদাকা করতে চাইলে, আল্লাহ কখনোই তা ফিরিয়ে দেন না? বস্তুত আল্লাহ বড়ই তাওবা কবুলকারী ও দয়াবান।
وَقُلِ اعْمَلُوْا فَسَیَرَی اللّٰهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُوْلُهٗ وَالْمُؤْمِنُوْنَ ؕ وَسَتُرَدُّوْنَ اِلٰی عٰلِمِ الْغَیْبِ وَالشَّهَادَةِ فَیُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَۚ 105
105. হে নবী, এখন তুমি এসব তওবাকারীকে বলো, ঠিক আছে! যাও, তোমরা স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে থাকো। তবে ভবিষ্যতে তোমরা কী কাজ করো তা আল্লাহ ও তাঁর রসুল এবং মুমিনেরা পর্যবেক্ষণ করবেন। আর একসময় তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে তাঁর কাছে, যিনি প্রকাশ্য ও গোপন সব জানেন। সেদিন তিনি তোমাদের সব আমল জানিয়ে দেবেন।
وَ اٰخَرُوْنَ مُرْجَوْنَ لِاَمْرِ اللّٰهِ اِمَّا یُعَذِّبُهُمْ وَ اِمَّا یَتُوْبُ عَلَیْهِمْ ؕ وَاللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ 106
106. অবশ্য এখনো কিছু লোকের ব্যাপারে আল্লাহর সিদ্ধান্ত মুলতবি রয়েছে। আল্লাহ চাইলে তাদেরকে শাস্তিও দিতে পারেন, আবার ক্ষমাও করতে পারেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ যথেষ্ট জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান।
وَ الَّذِیْنَ اتَّخَذُوْا مَسْجِدًا ضِرَارًا وَّكُفْرًا وَّ تَفْرِیْقًۢا بَیْنَ الْمُؤْمِنِیْنَ وَاِرْصَادًا لِّمَنْ حَارَبَ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ مِنْ قَبْلُ ؕ وَ لَیَحْلِفُنَّ اِنْ اَرَدْنَاۤ اِلَّا الْحُسْنٰی ؕ وَ اللّٰهُ یَشْهَدُ اِنَّهُمْ لَكٰذِبُوْنَ 107
107. এদিকে মুনাফিকদের একটি দল সত্যকে অস্বীকার, ঈমানদারদের ক্ষতি সাধন ও তাদের মধ্যে বিভেদ-বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে একটি নতুন মসজিদ নির্মাণ করেছে। ইতঃপূর্বে যে নাফরমানেরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তাদের গোপন ঘাঁটি হিসাবে ওরা ঐ মসজিদটিকে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। ওদের জিজ্ঞেস করলে বলবে, আল্লাহর কসম! আমরা কেবল নেক নিয়তেই এ মসজিদ নির্মাণ করেছি; অথচ স্বয়ং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন, ওরা মিথ্যাবাদী।
لَا تَقُمْ فِیْهِ اَبَدًا ؕ لَمَسْجِدٌ اُسِّسَ عَلَی التَّقْوٰی مِنْ اَوَّلِ یَوْمٍ اَحَقُّ اَنْ تَقُوْمَ فِیْهِ ؕ فِیْهِ رِجَالٌ یُّحِبُّوْنَ اَنْ یَّتَطَهَّرُوْا ؕ وَ اللّٰهُ یُحِبُّ الْمُطَّهِّرِیْنَ 108
108. অতএব হে নবী, তুমি কখনোই এ মসজিদে নামাজে দাঁড়াবে না। প্রথম থেকেই যে মসজিদ তাকওয়ার ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেটাই তোমার দাঁড়ানোর উপযুক্ত জায়গা। কেননা সেখানেই কেবল পবিত্র চিত্তের মানুষের সাক্ষাত পাবে। আর আল্লাহ কেবল পবিত্র-পরিশুদ্ধ লোকদেরই ভালোবাসেন।
اَفَمَنْ اَسَّسَ بُنْیَانَهٗ عَلٰی تَقْوٰی مِنَ اللّٰهِ وَ رِضْوَانٍ خَیْرٌ اَمْ مَّنْ اَسَّسَ بُنْیَانَهٗ عَلٰی شَفَا جُرُفٍ هَارٍ فَانْهَارَ بِهٖ فِیْ نَارِ جَهَنَّمَ ؕ وَ اللّٰهُ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الظّٰلِمِیْنَ 109
109. আচ্ছা! তোমরাই বলো, ওদের মধ্যে কে উত্তম? যে আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিজের ইমারতের ভিত গাড়লো সে, নাকি যে ধসে পড়া কোনো খাদের কিনারে নিজের ইমারত বানালো, যা তাকেসহ মুহূর্তের মধ্যে জাহান্নামের আগুনে গিয়ে পড়বে সে? কে উত্তম? আসলে সীমালঙ্ঘনকারীরা কখনোই আল্লাহর দেখানো সত্যের পথ খুঁজে পায় না।
لَا یَزَالُ بُنْیَانُهُمُ الَّذِیْ بَنَوْا رِیْبَةً فِیْ قُلُوْبِهِمْ اِلَّاۤ اَنْ تَقَطَّعَ قُلُوْبُهُمْ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ۠ 110
110. যে ঘর ওরা বানিয়েছে, তা মৃত্যু পর্যন্ত অন্তরজ্বালা হিসাবে ওদেরকে পোড়াতে থাকবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, আল্লাহ প্রজ্ঞাময়।
اِنَّ اللّٰهَ اشْتَرٰی مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ اَنْفُسَهُمْ وَاَمْوَالَهُمْ بِاَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ؕ یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ فَیَقْتُلُوْنَ وَیُقْتَلُوْنَ ۫ وَعْدًا عَلَیْهِ حَقًّا فِی التَّوْرٰىةِ وَالْاِنْجِیْلِ وَالْقُرْاٰنِ ؕ وَمَنْ اَوْفٰی بِعَهْدِهٖ مِنَ اللّٰهِ فَاسْتَبْشِرُوْا بِبَیْعِكُمُ الَّذِیْ بَایَعْتُمْ بِهٖ ؕ وَذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ 111
111. নিশ্চয়ই আল্লাহ ঈমানদারদের জান ও মাল জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন। কাজেই এখন তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে দুশমনদের বিনাশ করে এবং প্রয়োজনে নিজেরাও শহীদ হয়। আল্লাহ তাওরাত, ইনজিল ও কুরআনে তাদের জন্য স্পষ্ট ভাষায় জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন। আর এমন কে আছে, যে আল্লাহর চেয়েও বেশি ওয়াদা রক্ষা করে? কাজেই হে ঈমানদারেরা, তোমরা আল্লাহর সাথে যে বেচা-কেনা পূর্ণ করতে যাচ্ছো, তার জন্য আনন্দিত হও। অবশ্যই এটা হবে সবচেয়ে বড় সফলতা।
اَلتَّآىِٕبُوْنَ الْعٰبِدُوْنَ الْحٰمِدُوْنَ السَّآىِٕحُوْنَ الرّٰكِعُوْنَ السّٰجِدُوْنَ الْاٰمِرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَالنَّاهُوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَالْحٰفِظُوْنَ لِحُدُوْدِ اللّٰهِ ؕ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِیْنَ 112
112. জেনে রেখো, ঈমানদারেরা যখনই কোনো পাপ করে, মুহূর্তের মধ্যেই তওবা করে। তারা কেবল আল্লাহরই ইবাদত করে এবং তাঁর প্রতিই সব প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জানায়। তারা আল্লাহর জন্য দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটে বেড়ায় এবং কেবল তাঁর সামনেই রুকু ও সিজদায় নত হয়। তারা ভালো কাজে আদেশ দেয় ও খারাপ কাজে বারণ করে এবং সবসময় আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা মেনে চলে। হে নবী! এদেরকে সুখবর শুনাও
مَا كَانَ لِلنَّبِیِّ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَنْ یَّسْتَغْفِرُوْا لِلْمُشْرِكِیْنَ وَ لَوْ كَانُوْۤا اُولِیْ قُرْبٰی مِنْۢ بَعْدِ مَا تَبَیَّنَ لَهُمْ اَنَّهُمْ اَصْحٰبُ الْجَحِیْمِ 113
113. জেনে রেখো, নবী বা কোনো মুমিনের পক্ষে মৃত মুশরিকের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা জায়েয হতে পারে না। এমনকি ওরা আপন আত্মীয়-স্বজন হলেও না। যখন এটা পরিষ্কার যে, ওরা জাহান্নামে চলে গেছে, তখন ক্ষমা চাওয়ার আর কী অর্থ থাকতে পারে?
وَ مَا كَانَ اسْتِغْفَارُ اِبْرٰهِیْمَ لِاَبِیْهِ اِلَّا عَنْ مَّوْعِدَةٍ وَّعَدَهَاۤ اِیَّاهُ ۚ فَلَمَّا تَبَیَّنَ لَهٗۤ اَنَّهٗ عَدُوٌّ لِّلّٰهِ تَبَرَّاَ مِنْهُ ؕ اِنَّ اِبْرٰهِیْمَ لَاَوَّاهٌ حَلِیْمٌ 114
114. তোমরা পিতার জন্য ইবরাহিমের ক্ষমা প্রার্থনার কথা বলছো! তা তো ছিলো কেবল পিতাকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার ব্যাপার। কিন্তু যখন সে বুঝতে পারলো যে, তার পিতা আল্লাহর দুশমন, তখন সে এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো। আসলে ইবরাহিম ছিলো কোমল ও সহনশীল হৃদয়ের লোক।
وَمَا كَانَ اللّٰهُ لِیُضِلَّ قَوْمًۢا بَعْدَ اِذْ هَدٰىهُمْ حَتّٰی یُبَیِّنَ لَهُمْ مَّا یَتَّقُوْنَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ 115
115. শুনে রেখো, আল্লাহ কোনো জনগোষ্ঠীকে সঠিক পথ দেখানোর পর করণীয়-বর্জণীয় বিষয়ে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা না দিয়ে, তাদের পথহারা করেন না। বস্তুত আল্লাহ প্রতিটি বিষয়েই সু-জ্ঞান রাখেন।
اِنَّ اللّٰهَ لَهٗ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ یُحْیٖ وَ یُمِیْتُ ؕ وَ مَا لَكُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ مِنْ وَّلِیٍّ وَّ لَا نَصِیْرٍ 116
116. আর এটাই সত্য যে, মহাকাশ ও পৃথিবীর একক রাজত্ব কেবল আল্লাহরই। তিনিই বাঁচান আবার তিনিই মারেন। কাজেই তোমরা তাকে বাদ দিয়ে কোনো অভিভাবক পাবে না, কোনো সাহায্যকারী পাবে না।
لَقَدْ تَّابَ اللّٰهُ عَلَی النَّبِیِّ وَالْمُهٰجِرِیْنَ وَالْاَنْصَارِ الَّذِیْنَ اتَّبَعُوْهُ فِیْ سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِنْۢ بَعْدِ مَا كَادَ یَزِیْغُ قُلُوْبُ فَرِیْقٍ مِّنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَیْهِمْ ؕ اِنَّهٗ بِهِمْ رَءُوْفٌ رَّحِیْمٌۙ 117
117. শোনো! এ অভিযানের তীব্র সংকটকালে নবী ও তার অনুগামী মুহাজির ও আনসারদের যেসব ভুলত্রæটি হয়েছিলো, আল্লাহ তা নিজ গুণে ক্ষমা করেছেন। যদিও তাদের এক অংশ পথ হারানোর উপক্রম হয়েছিলো, তবুও শেষ পর্যন্ত নবীর সাথে থাকায় আল্লাহ তাদের সবাইকে ক্ষমা করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ এসব লোকদের প্রতি খুবই স্নেহশীল এবং অপার করুণাময়।
وَّعَلَی الثَّلٰثَةِ الَّذِیْنَ خُلِّفُوْا ؕ حَتّٰۤی اِذَا ضَاقَتْ عَلَیْهِمُ الْاَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَیْهِمْ اَنْفُسُهُمْ وَظَنُّوْۤا اَنْ لَّا مَلْجَاَ مِنَ اللّٰهِ اِلَّاۤ اِلَیْهِ ؕ ثُمَّ تَابَ عَلَیْهِمْ لِیَتُوْبُوْا ؕ اِنَّ اللّٰهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِیْمُ۠ 118
118. এমনকি সেই তিনজনকেও ক্ষমা করেছেন, যারা অভিযানে পিছনে থাকার অপরাধ স্বীকার করেছিলো। তাদের তওবা বেশ কিছুদিন ঝুলে ছিলো। তাদের অবস্থা এতোটাই করুণ হয়েছিলো যে, বিশাল পৃথিবীও নিজেদের জন্য ছোট মনে হতে লাগলো, জীবন হয়ে গিয়েছিলো দুর্বিষহ। তারা ভালো করেই টের পেয়েছিলো যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ তাদের আশ্রয় দিতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করলেন। ফলে তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পেরেছে। আসলেই বান্দার প্রতি ক্ষমা ও দয়া করার ক্ষেত্রে আল্লাহর কোনো তুলনা নেই।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ وَ كُوْنُوْا مَعَ الصّٰدِقِیْنَ 119
119. হে ঈমানদারেরা, সব সময় আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যাশ্রয়ীদের সহযোগী হও।
مَا كَانَ لِاَهْلِ الْمَدِیْنَةِ وَ مَنْ حَوْلَهُمْ مِّنَ الْاَعْرَابِ اَنْ یَّتَخَلَّفُوْا عَنْ رَّسُوْلِ اللّٰهِ وَلَا یَرْغَبُوْا بِاَنْفُسِهِمْ عَنْ نَّفْسِهٖ ؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ لَا یُصِیْبُهُمْ ظَمَاٌ وَّ لَا نَصَبٌ وَّ لَا مَخْمَصَةٌ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ لَا یَطَـُٔوْنَ مَوْطِئًا یَّغِیْظُ الْكُفَّارَ وَ لَا یَنَالُوْنَ مِنْ عَدُوٍّ نَّیْلًا اِلَّا كُتِبَ لَهُمْ بِهٖ عَمَلٌ صَالِحٌ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یُضِیْعُ اَجْرَ الْمُحْسِنِیْنَۙ 120
120. মদিনাবাসী ও আশেপাশের বেদুঈনদের জন্য আল্লাহর রসুলকে ছেড়ে দিয়ে নিজ বাড়ি-ঘরে পড়ে থাকা এবং রসুলের জীবনের চেয়ে নিজেদের জীবনকে বেশি প্রিয় মনে করা মোটেই উচিত হয়নি। কেননা আল্লাহর পথে নেমে তারা যে ক্ষুধা, পিপাসা ও কষ্ট ক্লেশ অনুভব করতো, কাফেরদের বিরুদ্ধে অসহনীয় যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করতো এবং লড়াইয়ের ময়দানে শত্রুর উপর যে আঘাতই হানতো, তার প্রতিটি কাজের জন্যই তাদের আমলনামায় নেকি লেখা হতো। আর আল্লাহর দরবারে কখনোই সৎকর্মশীলদের পরিশ্রম বিফলে যায় না।
وَ لَا یُنْفِقُوْنَ نَفَقَةً صَغِیْرَةً وَّ لَا كَبِیْرَةً وَّ لَا یَقْطَعُوْنَ وَادِیًا اِلَّا كُتِبَ لَهُمْ لِیَجْزِیَهُمُ اللّٰهُ اَحْسَنَ مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 121
121. একইভাবে তারা আল্লাহর পথে কম-বেশি যে সম্পদই দান করে এবং দ্বীনের জন্য যে দুর্গম পথ অতিক্রম করে, তা সবই নেক কাজ হিসাবে লিখে রাখা হয়। আল্লাহ তাদের এসব কাজের উত্তম বিনিময় অবশ্যই দেবেন।
وَ مَا كَانَ الْمُؤْمِنُوْنَ لِیَنْفِرُوْا كَآفَّةً ؕ فَلَوْ لَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَآىِٕفَةٌ لِّیَتَفَقَّهُوْا فِی الدِّیْنِ وَلِیُنْذِرُوْا قَوْمَهُمْ اِذَا رَجَعُوْۤا اِلَیْهِمْ لَعَلَّهُمْ یَحْذَرُوْنَ۠ 122
122. সকল ঈমানদার লোকদের কেবল যুদ্ধ-বিগ্রহ নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। অবশ্যই দ্বীনের গভীর ও যথার্থ জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রত্যেক জনবসতি থেকে কিছু ঈমানদারদের বেরিয়ে আসতে হবে। এরপর জনবসতিতে ফিরে গিয়ে নিজ লোকদেরকে দ্বীনের ব্যাপারে সচেতন করে তুলবে। আশা করা যায়, এ পথেই তারা সবাই নিজেদেরকে অন্ধকার থেকে বাঁচাতে পারবে।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا قَاتِلُوا الَّذِیْنَ یَلُوْنَكُمْ مِّنَ الْكُفَّارِ وَ لْیَجِدُوْا فِیْكُمْ غِلْظَةً ؕ وَ اعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ مَعَ الْمُتَّقِیْنَ 123
123. হে ঈমানদারেরা, তোমাদের আশেপাশে যেসব সত্য অস্বীকারকারীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, ওদের বিরুদ্ধে তোমরা কঠিন যুদ্ধে অবতীর্ণ হও। ওরা যেনো তোমাদের অগ্নি চেহারা দেখে বুঝতে পারে, একচুলও ছাড় দেয়া হবে না। আর জেনে রেখো, আল্লাহ কেবল মুত্তাকীদেরই সাথে থাকবেন।
وَ اِذَا مَاۤ اُنْزِلَتْ سُوْرَةٌ فَمِنْهُمْ مَّنْ یَّقُوْلُ اَیُّكُمْ زَادَتْهُ هٰذِهٖۤ اِیْمَانًا ۚ فَاَمَّا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا فَزَادَتْهُمْ اِیْمَانًا وَّ هُمْ یَسْتَبْشِرُوْنَ 124
124. ওদের আচরণ দেখো, যখন কোনো একটি নতুন সূরা নাযিল হয়, তখন ওরা ঠাট্টা করে মুমিনদের জিজ্ঞেস করে, বলো! এ নতুন সূরা তোমাদের কার কার ঈমান বৃদ্ধি করেছে? আফসোস! ওরা জানে না যে, প্রতিটি নতুন সূরাই ঈমানদারদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করে এবং তারা তা পেয়ে অনেক বেশি আনন্দিত হয়।
وَ اَمَّا الَّذِیْنَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ فَزَادَتْهُمْ رِجْسًا اِلٰی رِجْسِهِمْ وَ مَاتُوْا وَ هُمْ كٰفِرُوْنَ 125
125. তবে একথা ঠিক যে, এ প্রতিটি নতুন সূরাই এসব মুনাফিকদের অন্তরের রোগকে জটিল থেকে জটিলতর করে তোলে। এমনকি শেষ পর্যন্ত ওরা সত্য অস্বীকারকারী হিসাবেই মারা যায়।
اَوَ لَا یَرَوْنَ اَنَّهُمْ یُفْتَنُوْنَ فِیْ كُلِّ عَامٍ مَّرَّةً اَوْ مَرَّتَیْنِ ثُمَّ لَا یَتُوْبُوْنَ وَ لَا هُمْ یَذَّكَّرُوْنَ 126
126. ওরা কি খেয়াল করে না যে, বছরে এক-দু’বার ওদেরকে পরীক্ষার মুখোমুখি করা হচ্ছে? অথচ এরপরেও সত্যের পথে ফিরে আসে না। এমনকি সামান্য শিক্ষাও গ্রহণ করে না।
وَ اِذَا مَاۤ اُنْزِلَتْ سُوْرَةٌ نَّظَرَ بَعْضُهُمْ اِلٰی بَعْضٍ ؕ هَلْ یَرٰىكُمْ مِّنْ اَحَدٍ ثُمَّ انْصَرَفُوْا ؕ صَرَفَ اللّٰهُ قُلُوْبَهُمْ بِاَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا یَفْقَهُوْنَ 127
127. কোনো সূরা নাযিল হওয়ার পর যখন তা শুনানোর জন্য সমাবেশ ডাকা হয়, তখন এসব মুনাফিকেরা নিজেদের মধ্যে চোখ টিপাটিপি করে চারপাশে তাকিয়ে দেখে কেউ তাদেরকে লক্ষ্য করছে কি না? এরপর সুযোগ পেলে সেখান থেকে সরে পড়ে। বস্তুত ক্রমাগত মূর্খতার কারণে আল্লাহ ওদের অন্তরকে সত্যবিমুখ বানিয়ে দিয়েছেন।
لَقَدْ جَآءَكُمْ رَسُوْلٌ مِّنْ اَنْفُسِكُمْ عَزِیْزٌ عَلَیْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِیْصٌ عَلَیْكُمْ بِالْمُؤْمِنِیْنَ رَءُوْفٌ رَّحِیْمٌ 128
128. দেখো! তোমাদের ভিতর থেকেই তোমাদের কাছে একজন রসুল এসেছে। তোমরা কোনো ধরনের দুর্ভোগের শিকার হও এটা তার জন্য খুবই কষ্টদায়ক। সে তোমাদের কল্যাণকামী। ঈমানদারদের প্রতি তার হৃদয় বড়ই কোমল ও দয়াশীল।
فَاِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِیَ اللّٰهُ ۖۗؗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؕ عَلَیْهِ تَوَكَّلْتُ وَ هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِیْمِ۠ 129
129. হে নবী, এরপরেও লোকেরা তোমার থেকে বিমুখ হলে, তুমি বলো, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আমি কেবল তাঁর উপরেই ভরসা করছি। আর তিনিই মহান আরশের অধিপতি।