8. আল আনফাল

یَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ الْاَنْفَالِ ؕ قُلِ الْاَنْفَالُ لِلّٰهِ وَ الرَّسُوْلِ ۚ فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَ اَصْلِحُوْا ذَاتَ بَیْنِكُمْ ۪ وَ اَطِیْعُوا اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗۤ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ 1
1. হে নবী, লোকেরা তোমায় গনিমতের মাল বণ্টনের বিষয়ে জিজ্ঞেস করছে। বলো, যুদ্ধে পাওয়া এসব মালামাল আল্লাহ ও তাঁর রসুলের কর্তৃত্বাধীন। কাজেই এ ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো এবং এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদে জড়িও না। খবরদার! সত্যিকারের ঈমানদার হয়ে থাকলে সর্বদাই আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পূর্ণ অনুগত হয়ে চলো।
اِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ الَّذِیْنَ اِذَا ذُكِرَ اللّٰهُ وَ جِلَتْ قُلُوْبُهُمْ وَ اِذَا تُلِیَتْ عَلَیْهِمْ اٰیٰتُهٗ زَادَتْهُمْ اِیْمَانًا وَّ عَلٰی رَبِّهِمْ یَتَوَكَّلُوْنَۚۖ 2
2. মনে রেখো, সত্যিকারের ঈমানদার তো তারাই, আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর কেঁপে উঠে। যখন তাদের সামনে আল্লাহর আয়াত পড়ে শুনানো হয়, তখন তাদের ঈমানের দৃঢ়তা আরো বেড়ে যায় এবং নিজেদের রবের উপর পূর্ণ আস্থা ও ভরসা রাখে।
الَّذِیْنَ یُقِیْمُوْنَ الصَّلٰوةَ وَ مِمَّا رَزَقْنٰهُمْ یُنْفِقُوْنَؕ 3
3. তারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে এবং আমার দেয়া রিযিক থেকে ন্যায়পন্থায় খরচ করে।
اُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُوْنَ حَقًّا ؕ لَهُمْ دَرَجٰتٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَ مَغْفِرَةٌ وَّ رِزْقٌ كَرِیْمٌۚ 4
4. এমন লোকেরাই ঈমানের দাবিতে সাচ্চা-সত্যবাদী। নিশ্চয়ই তাদের রবের কাছে তাদের জন্য রয়েছে উচ্চ মর্যাদা। রয়েছে ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমার ঘোষণা এবং সম্মানজনক রিযিকের ব্যবস্থা।
كَمَاۤ اَخْرَجَكَ رَبُّكَ مِنْۢ بَیْتِكَ بِالْحَقِّ ۪ وَ اِنَّ فَرِیْقًا مِّنَ الْمُؤْمِنِیْنَ لَكٰرِهُوْنَۙ 5
5. হায়! যখন তোমার রব সত্য সহকারে তোমাকে যুদ্ধের জন্য ঘর থেকে বের করে এনেছিলেন, তখন মুমিনদের কেউ কেউ এ অভিযানে আসাকে ভালো চোখে দেখেনি।
یُجَادِلُوْنَكَ فِی الْحَقِّ بَعْدَ مَا تَبَیَّنَ كَاَنَّمَا یُسَاقُوْنَ اِلَی الْمَوْتِ وَ هُمْ یَنْظُرُوْنَؕ 6
6. অথচ সত্য স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ার পরেও তাদের একদল এ ব্যাপারে তোমার সাথে বিতর্কে জড়াচ্ছে। আসলে তাদের অবস্থা এমন হয়েছিলো, যেন তারা দেখছিলো তাদের মৃত্যুর দিকে হাঁকিয়ে নেয়া হচ্ছে।
وَ اِذْ یَعِدُكُمُ اللّٰهُ اِحْدَی الطَّآئِفَتَیْنِ اَنَّهَا لَكُمْ وَ تَوَدُّوْنَ اَنَّ غَیْرَ ذَاتِ الشَّوْكَةِ تَكُوْنُ لَكُمْ وَ یُرِیْدُ اللّٰهُ اَنْ یُّحِقَّ الْحَقَّ بِكَلِمٰتِهٖ وَ یَقْطَعَ دَابِرَ الْكٰفِرِیْنَۙ 7
7. স্মরণ করো, তখন আল্লাহ তোমাদেরকে আশস্ত করলেন যে, শত্রুপক্ষের দুটি দলের একটি তোমাদের হাতে ধরাশায়ী হবে। তখন তোমরা চাচ্ছিলে নিরস্ত্র ব্যবসায়ী দলটিকে করায়ত্ব করতে। অথচ আল্লাহ চাচ্ছিলেন নিজের বাণীসমূহের সাহায্যে সত্যকে সবকিছুর উপর প্রতিষ্ঠিত করতে এবং কাফেরদের বড় বড় শিকড়গুলোকে উপড়ে ফেলতে।
لِیُحِقَّ الْحَقَّ وَ یُبْطِلَ الْبَاطِلَ وَ لَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُوْنَۚ 8
8. তিনি এটা চেয়েছিলেন যাতে, সত্য সত্য হিসাবে আর বাতিল বাতিল হিসাবে স্পষ্টভাবে সবার সামনে প্রকাশ পেয়ে যায়। এটা অপরাধীরা যতোই অপছন্দ করুক না কেন!
اِذْ تَسْتَغِیْثُوْنَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ اَنِّیْ مُمِدُّكُمْ بِاَلْفٍ مِّنَ الْمَلٰٓئِكَةِ مُرْدِفِیْنَ 9
9. স্মরণ করো, তখন তোমরা তোমাদের রবের কাছে যুদ্ধের জন্য সাহায্য চাইলে। তিনি তা কবুল করে বললেন, তোমাদেরকে এক হাজার ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করবো, যারা একের পর এক তোমাদের কাছে হাজির হবে।
وَ مَا جَعَلَهُ اللّٰهُ اِلَّا بُشْرٰی وَ لِتَطْمَئِنَّ بِهٖ قُلُوْبُكُمْ ۚ وَ مَا النَّصْرُ اِلَّا مِنْ عِنْدِ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَزِیْزٌ حَكِیْمٌ۠ 10
10. আল্লাহ এ ঘোষণা কেবল এ কারণেই তোমাদেরকে জানিয়ে দিলেন, যাতে তোমরা সুসংবাদ পাও এবং তোমাদের মনে নিশ্চিন্ততা আসে। বস্তুত আল্লাহ ছাড়া আর কেউই সাহয্য করার সামর্থ্য রাখে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়।
اِذْ یُغَشِّیْكُمُ النُّعَاسَ اَمَنَةً مِّنْهُ وَ یُنَزِّلُ عَلَیْكُمْ مِّنَ السَّمَآءِ مَآءً لِّیُطَهِّرَكُمْ بِهٖ وَ یُذْهِبَ عَنْكُمْ رِجْزَ الشَّیْطٰنِ وَ لِیَرْبِطَ عَلٰی قُلُوْبِكُمْ وَ یُثَبِّتَ بِهِ الْاَقْدَامَؕ 11
11. যুদ্ধের আগ মুহূর্তের কথাগুলো মনে করে দেখো, তিনি তোমাদের মনের ভিতরে প্রশান্তি ও নির্ভীকতা সৃষ্টি করলেন, ফলে তোমরা নিশ্চিন্তে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের জন্য বৃষ্টি দিলেন, ফলে তোমরা পবিত্রতা অর্জন করতে পারলে, শয়তানের সব ধরনের সৃষ্ট নাপাকী থেকে নিজেদেরকে মুক্ত করতে পারলে। আর এভাবেই তোমাদের মনোবল শক্ত হলো এবং তোমাদের পদক্ষেপগুলো যথার্থ দৃঢ় হলো।
اِذْ یُوْحِیْ رَبُّكَ اِلَی الْمَلٰٓئِكَةِ اَنِّیْ مَعَكُمْ فَثَبِّتُوا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا ؕ سَاُلْقِیْ فِیْ قُلُوْبِ الَّذِیْنَ كَفَرُوا الرُّعْبَ فَاضْرِبُوْا فَوْقَ الْاَعْنَاقِ وَ اضْرِبُوْا مِنْهُمْ كُلَّ بَنَانٍؕ 12
12. সে সময় আল্লাহ নিজে ফেরেশতাদের হুকুম করলেন, যাও, তোমরা ঈমানদারদের মনোবলকে দৃঢ় ও অবিচল করে রাখো। আমি তোমাদের সাথে আছি। আর শোনো! অচিরেই আমি কাফেরদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দিচ্ছি। কাজেই যুদ্ধের ময়দানে এসব কাফেরদের গর্দান উড়িয়ে দাও এবং ওদের দেহের জোড়ায় জোড়ায় আঘাত হানো।
ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ شَآقُّوا اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ ۚ وَ مَنْ یُّشَاقِقِ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ فَاِنَّ اللّٰهَ شَدِیْدُ الْعِقَابِ 13
13. কেননা ওরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। জেনে রাখা উচিত, কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসুলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে, আল্লাহ তাকে ভয়ানক শাস্তি দিয়ে থাকেন।
ذٰلِكُمْ فَذُوْقُوْهُ وَ اَنَّ لِلْكٰفِرِیْنَ عَذَابَ النَّارِ 14
14. অতএব হে কাফেরেরা, এখন এ বিপর্যয়ের ফল ভোগ করো। আর মনে রেখো, তোমাদের মতো সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য জাহান্নাম অপেক্ষা করছে।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِذَا لَقِیْتُمُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوْهُمُ الْاَدْبَارَۚ 15
15. হে ঈমানদারেরা, যখন তোমরা দলগতভাবে কাফেরদের মোকাবেলা করো, তখন খবরদার! কখনো যুদ্ধের ময়দান থেকে পিছু হটবে না।
وَ مَنْ یُّوَلِّهِمْ یَوْمَئِذٍ دُبُرَهٗۤ اِلَّا مُتَحَرِّفًا لِّقِتَالٍ اَوْ مُتَحَیِّزًا اِلٰی فِئَةٍ فَقَدْ بَآءَ بِغَضَبٍ مِّنَ اللّٰهِ وَ مَاْوٰىهُ جَهَنَّمُ ؕ وَ بِئْسَ الْمَصِیْرُ 16
16. জেনে রেখো, তোমাদের কেউ যদি যুদ্ধের ময়দান থেকে পালায়, তবে তার উপর আল্লাহর গযব পড়বে এবং জাহান্নামই হবে তার শেষ আবাস। আহ! কতই না নিকৃষ্ট জায়গায় সে পড়বে। তবে হ্যাঁ, কেউ যুদ্ধের কৌশলগত কারণে অথবা অন্য কোনো সেনাদলের সাথে যোগ দেয়ার জন্য সাময়িক পিছু হটলে, তাতে দোষের কিছু নেই।
فَلَمْ تَقْتُلُوْهُمْ وَ لٰكِنَّ اللّٰهَ قَتَلَهُمْ ۪ وَ مَا رَمَیْتَ اِذْ رَمَیْتَ وَ لٰكِنَّ اللّٰهَ رَمٰی ۚ وَ لِیُبْلِیَ الْمُؤْمِنِیْنَ مِنْهُ بَلَآءً حَسَنًا ؕ اِنَّ اللّٰهَ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ 17
17. হে ঈমানদারেরা, আসলে যুদ্ধে তোমরা নও; বরং আল্লাহই ঐসব কাফেরদের হত্যা করেছেন। এমনকি হে নবী, তুমি যেসব ধুলিকণা নিক্ষেপ করেছিলে, তা তুমি নও; বরং স্বয়ং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছেন। বস্তুত এ যুদ্ধে আল্লাহ মুমিনদের থেকে একটি চমৎকার পরীক্ষা নিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব শোনেন, সব জানেন।
ذٰلِكُمْ وَ اَنَّ اللّٰهَ مُوْهِنُ كَیْدِ الْكٰفِرِیْنَ 18
18. এ তো গেলো তোমাদের সাথে আল্লাহর আচরণ। অপর দিকে কাফেরদের সকল অপকৌশল ব্যর্থ করে দিয়েছেন।
اِنْ تَسْتَفْتِحُوْا فَقَدْ جَآءَكُمُ الْفَتْحُ ۚ وَ اِنْ تَنْتَهُوْا فَهُوَ خَیْرٌ لَّكُمْ ۚ وَ اِنْ تَعُوْدُوْا نَعُدْ ۚ وَ لَنْ تُغْنِیَ عَنْكُمْ فِئَتُكُمْ شَیْـًٔا وَّ لَوْ كَثُرَتْ ۙ وَ اَنَّ اللّٰهَ مَعَ الْمُؤْمِنِیْنَ۠ 19
19. হে ঈমানদারেরা, এখন কাফেরদের বলে দাও, তোমরা তো এতদিন চাচ্ছিলে আমাদের সাথে একটা চূড়ান্ত ফয়সালা করে নিতে। এখন তো সে ফয়সালার ফল দেখলে। অতএব এখন তোমরা ক্ষান্ত হও, সেটাই তোমাদের জন্য ভালো। কিন্তু এরপরেও যদি তোমরা আবার যুদ্ধ করতে আসো, তবে আমরা আরো কঠিন জবাব দেবো। তোমাদের বাহিনী যত বড়ই হোক, তা তোমাদের কোনো কাজে আসবে না। আল্লাহ কেবল মুমিনদেরই পক্ষে থাকেন।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَطِیْعُوا اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ وَ لَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَ اَنْتُمْ تَسْمَعُوْنَۚۖ 20
20. হে ঈমানদারেরা, আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পূর্ণ আনুগত্য করো। খবরদার! নির্দেশ শোনার পর তা অমান্য করার দুঃসাহস করো না।
وَلَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِیْنَ قَالُوْا سَمِعْنَا وَ هُمْ لَا یَسْمَعُوْنَ 21
21. তোমরা কখনো ওদের মতো হয়ে না, যারা নির্দেশ শোনার পর বলে, আমরা শুনলাম। কিন্তু না! ওরা আসলে কেবল শোনার ভান করেছে।
اِنَّ شَرَّ الدَّوَآبِّ عِنْدَ اللّٰهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِیْنَ لَا یَعْقِلُوْنَ 22
22. জেনে রেখো, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জানোয়ার হচ্ছে সেই সব বোবা-বধির মানুষ, যারা সত্য গ্রহণের জন্য বিবেক বুদ্ধি কাজে লাগায় না।
وَ لَوْ عَلِمَ اللّٰهُ فِیْهِمْ خَیْرًا لَّاَسْمَعَهُمْ ؕ وَ لَوْ اَسْمَعَهُمْ لَتَوَلَّوْا وَّ هُمْ مُّعْرِضُوْنَ 23
23. আসলে আল্লাহ যদি ওদের মধ্যে সত্য গ্রহণের সামান্য আগ্রহও দেখতেন, তবে ওদের শোনার ব্যবস্থা করতেন। এমনকি জোর করে যদি শুনানোও হতো, তবুও ওরা উপেক্ষাভরে নিজেদের মুখ ফিরিয়ে নিতো।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اسْتَجِیْبُوْا لِلّٰهِ وَ لِلرَّسُوْلِ اِذَا دَعَاكُمْ لِمَا یُحْیِیْكُمْ ۚ وَ اعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ یَحُوْلُ بَیْنَ الْمَرْءِ وَ قَلْبِهٖ وَ اَنَّهٗۤ اِلَیْهِ تُحْشَرُوْنَ 24
24. হে ঈমানদারেরা, তোমরা সর্বদা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের ডাকে সাড়া দাও। কেননা এর মধ্যে তোমরা জীবনের আসল স্বাদ খুঁজে পাবে। জেনে রেখো, আল্লাহ মানুষ ও তার মনের মাঝখানে ছায়ার মতো আড়াল হয়ে আছেন। ভুলে যেয়ো না, একদিন তোমাদের সবাইকে তাঁর সামনে হাজির হতেই হবে।
وَ اتَّقُوْا فِتْنَةً لَّا تُصِیْبَنَّ الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا مِنْكُمْ خَآصَّةً ۚ وَ اعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ شَدِیْدُ الْعِقَابِ 25
25. তোমরা এমন সব ফেতনা-ফাসাদ থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করো, যার খারাপ পরিণতি কেবল তোমাদের জালেম লোকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। জেনে রেখো, আল্লাহ শাস্তি দানে খুবই ভয়ানক হয়ে থাকেন।
وَ اذْكُرُوْۤا اِذْ اَنْتُمْ قَلِیْلٌ مُّسْتَضْعَفُوْنَ فِی الْاَرْضِ تَخَافُوْنَ اَنْ یَّتَخَطَّفَكُمُ النَّاسُ فَاٰوٰىكُمْ وَ اَیَّدَكُمْ بِنَصْرِهٖ وَ رَزَقَكُمْ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ 26
26. হে ঈমানদারেরা, সেই দিনগুলো স্মরণ করে দেখো, যখন তোমরা সংখ্যায় ছিলে খুবই নগণ্য। ছিলে খুবই দুর্বল ও শক্তিহীন। এমনকি সব সময় আতঙ্কে থাকতে, এইবুঝি প্রতিপক্ষরা তোমাদের নিশ্চিহ্ন করে দিলো। ভুলে যেয়ো না, এরপর আল্লাহই তোমাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন। নিজ সাহায্য দ্বারা তোমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তোমাদেরকে ভালো ও পবিত্র জীবিকা দিয়েছেন। কাজেই তোমাদের উচিত, তাঁর শোকরগুজার হওয়া।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَخُوْنُوا اللّٰهَ وَ الرَّسُوْلَ وَ تَخُوْنُوْۤا اَمٰنٰتِكُمْ وَ اَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ 27
27. অতএব হে ঈমানদারেরা, জেনে বুঝে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না এবং নিজেদের মধ্যকার আমানতসমূহেরও খেয়ানত করো না।
وَ اعْلَمُوْۤا اَنَّمَاۤ اَمْوَالُكُمْ وَ اَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ ۙ وَّ اَنَّ اللّٰهَ عِنْدَهٗۤ اَجْرٌ عَظِیْمٌ۠ 28
28. আর ভালোকরে জেনে রেখো, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি আসলে তোমাদের জন্য বড় ধরনের পরীক্ষার উপকরণ। মনে রেখো, সত্যিকারের মহাপুরস্কার কেবল আল্লাহর কাছেই প্রস্তুত রয়েছে।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِنْ تَتَّقُوا اللّٰهَ یَجْعَلْ لَّكُمْ فُرْقَانًا وَّ یُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَیِّاٰتِكُمْ وَ یَغْفِرْ لَكُمْ ؕ وَ اللّٰهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِیْمِ 29
29. হে ঈমানদারেরা, তোমরা যদি সত্যিকারেই আল্লাহকে ভয় করার নীতি মেনে চলতে পারো, তবে অবশ্যই তিনি তোমাদেরকে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করার শক্তি দেবেন, তোমাদের কৃত পাপগুলো আমলনামা থেকে মুছে দেবেন এবং তোমাদের ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করবেন। বস্তুত আল্লাহ বড়ই অনুগ্রহশীল।
وَ اِذْ یَمْكُرُ بِكَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لِیُثْبِتُوْكَ اَوْ یَقْتُلُوْكَ اَوْ یُخْرِجُوْكَ ؕ وَ یَمْكُرُوْنَ وَ یَمْكُرُ اللّٰهُ ؕ وَ اللّٰهُ خَیْرُ الْمٰكِرِیْنَ 30
30. হে নবী, সেই মুহূর্তগুলো স্মরণ করে দেখো, যখন কাফেরেরা খোদ্ তোমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র আঁটছিলো। ওরা একবার বলে তোমাকে কারাবন্দী করবে, আবার বলে হত্যা করবে, আরেকবার বলে তোমাকে দেশছাড়া করবে। ওরা যেমন কূট-কৌশল চালাচ্ছিলো; তেমনি আল্লাহও কৌশল প্রয়োগ করছিলেন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো কৌশল অবলম্বনকারী।
وَ اِذَا تُتْلٰی عَلَیْهِمْ اٰیٰتُنَا قَالُوْا قَدْ سَمِعْنَا لَوْ نَشَآءُ لَقُلْنَا مِثْلَ هٰذَاۤ ۙ اِنْ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیْرُ الْاَوَّلِیْنَ 31
31. এদেরকে আমার কিতাবের কোনো আয়াত পড়ে শুনানো হলে বলে ওঠে, আমরা আগেও এমন কথা বহু শুনেছি। চাইলে আমরা নিজেরাও এ রকম কথা শুনাতে পারি। আসলে এসব পুরোনো কাহিনী, যা এর আগেও বহু লোক বলেছে।
وَ اِذْ قَالُوا اللّٰهُمَّ اِنْ كَانَ هٰذَا هُوَ الْحَقَّ مِنْ عِنْدِكَ فَاَمْطِرْ عَلَیْنَا حِجَارَةً مِّنَ السَّمَآءِ اَوِ ائْتِنَا بِعَذَابٍ اَلِیْمٍ 32
32. কী সাহস! তখন ওরা তাচ্ছিল্যের স্বরে এ কথাও বলছিলো যে, হে আল্লাহ, যদি এসব যথার্থ তোমার পক্ষ থেকে সত্য হয়ে থাকে, তবে আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো পাথর নিক্ষেপ করে আমাদেরকে ধ্বংস করে দাও কিংবা অন্য কোনো ধরনের মর্মন্তুদ শাস্তি দাও।
وَ مَا كَانَ اللّٰهُ لِیُعَذِّبَهُمْ وَ اَنْتَ فِیْهِمْ ؕ وَمَا كَانَ اللّٰهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ یَسْتَغْفِرُوْنَ 33
33. হে নবী, তোমার উপস্থিতিতে আল্লাহ ওদেরকে আযাবে পাকড়াও করতে চান না। তাছাড়া এটা আল্লাহর নীতি নয় যে, লোকেরা তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকবে; অথচ এ অবস্থায় তিনি তাদেরকে ধ্বংস করে দেবেন।
وَ مَا لَهُمْ اَلَّا یُعَذِّبَهُمُ اللّٰهُ وَ هُمْ یَصُدُّوْنَ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَ مَا كَانُوْۤا اَوْلِیَآءَهٗ ؕ اِنْ اَوْلِیَآؤُهٗۤ اِلَّا الْمُتَّقُوْنَ وَ لٰكِنَّ اَكْثَرَهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ 34
34. এখন ওরা নিজেরাই বলুক কেন ওদেরকে আল্লাহ শাস্তি দেবেন না, যখন ওরা সাধারণ লোকদের জন্য মসজিদুল হারাম বা কাবা ঘরের দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে? অথচ ওরা এ মসজিদের বৈধ তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। ওদের অধিকাংশই জানে না যে, আল্লাহর ঘরের বৈধ তত্ত্বাবধায়ক কেবল আল্লাহভীরু মুমিনেরাই হতে পারে।
وَ مَا كَانَ صَلَاتُهُمْ عِنْدَ الْبَیْتِ اِلَّا مُكَآءً وَّ تَصْدِیَةً ؕ فَذُوْقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُوْنَ 35
35. দেখো! ওরা কাবা ঘরের কাছে কী ধরনের নামাজ পড়ে! ওরাতো কেবল মুখে শিস দেয় এবং হাতে তালি বাজায়। কাজেই ওদের বলো, তোমরা এতদিন যে নাফরমানী করে এসেছো, এখন তার কঠিন শাস্তি ভোগ করো।
اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا یُنْفِقُوْنَ اَمْوَالَهُمْ لِیَصُدُّوْا عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ؕ فَسَیُنْفِقُوْنَهَا ثُمَّ تَكُوْنُ عَلَیْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ یُغْلَبُوْنَ ؕ۬ وَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِلٰی جَهَنَّمَ یُحْشَرُوْنَۙ 36
36. দেখো! সত্যের দুশমনেরা সাধারণ লোকদেরকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য নিজেদের ধন-সম্পদ নানাভাবে খরচ করছে। ভবিষ্যতে ওরা আরো খরচ করবে। কিন্তু এসব খরচ ও প্রচেষ্টার জন্যই ওদেরকে এক সময় দারুণ আফসোস করতে হবে। কেননা ওদের সামনে পরাজয় ছাড়া আর কিছুই নেই। আর শেষ পর্যন্ত তো এসব কাফেরদের সবাইকে জাহান্নামে সমবেত করা হবেই।
لِیَمِیْزَ اللّٰهُ الْخَبِیْثَ مِنَ الطَّیِّبِ وَ یَجْعَلَ الْخَبِیْثَ بَعْضَهٗ عَلٰی بَعْضٍ فَیَرْكُمَهٗ جَمِیْعًا فَیَجْعَلَهٗ فِیْ جَهَنَّمَ ؕ اُولٰٓئِكَ هُمُ الْخٰسِرُوْنَ۠ 37
37. মূলত আল্লাহ ভালো লোকদের থেকে ছাটাই করে খারাপ লোকদের আলাদা করতে চান, যাতে খারাপ লোকদেরকে একসাথ করে জাহান্নামের মধ্যে নিক্ষেপ করতে পারেন। জেনে রেখো, সত্য অস্বীকারকারীরা শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত ক্ষতির সম্মুখীন হবেই।
قُلْ لِّلَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِنْ یَّنْتَهُوْا یُغْفَرْ لَهُمْ مَّا قَدْ سَلَفَ ۚ وَ اِنْ یَّعُوْدُوْا فَقَدْ مَضَتْ سُنَّتُ الْاَوَّلِیْنَ 38
38. হে নবী, এসব কাফেরদের বলো, তোমরা এখনও যদি সত্যের পথে ফিরে আসো, তবে তোমাদের অতীত ক্ষমা করা হবে। এরপরেও যদি বিদ্রোহের পথে হাঁটতে থাকো, তবে ইতিহাসে এ ধরনের লোকদের যে পরিণতি হয়েছে, তা একবার দেখে নাও।
وَ قَاتِلُوْهُمْ حَتّٰی لَا تَكُوْنَ فِتْنَةٌ وَّ یَكُوْنَ الدِّیْنُ كُلُّهٗ لِلّٰهِ ۚ فَاِنِ انْتَهَوْا فَاِنَّ اللّٰهَ بِمَا یَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ 39
39. অতএব হে ঈমানদারেরা, তোমরা এসব কাফেরদের সাথে লড়াই চালিয়ে যাও, যে পর্যন্ত না ওদের সমস্ত ফেতনা-ফাসাদ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয় এবং মানুষের জন্য দেয়া আল্লাহর দ্বীন পূর্ণভাবে কায়েম হয়। এরপর যদি ওরা সত্যের পথে ফিরে আসে, তবে আল্লাহ ওদের কাজের প্রতিদানের ব্যাপারটা বিবেচনা করবেন।
وَ اِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ مَوْلٰىكُمْ ؕ نِعْمَ الْمَوْلٰی وَ نِعْمَ النَّصِیْرُ 40
40. আর যদি ওরা ফিরে না আসে, তবে পরোয়া করো না। আল্লাহ তোমাদের অভিভাবক হিসাবে রয়েছেন। আর তিনি কতোই না উত্তম অভিভাবক, কতোই না উত্তম সাহায্যকারী।
وَ اعْلَمُوْۤا اَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِّنْ شَیْءٍ فَاَنَّ لِلّٰهِ خُمُسَهٗ وَ لِلرَّسُوْلِ وَ لِذِی الْقُرْبٰی وَ الْیَتٰمٰی وَ الْمَسٰكِیْنِ وَ ابْنِ السَّبِیْلِ ۙ اِنْ كُنْتُمْ اٰمَنْتُمْ بِاللّٰهِ وَ مَاۤ اَنْزَلْنَا عَلٰی عَبْدِنَا یَوْمَ الْفُرْقَانِ یَوْمَ الْتَقَی الْجَمْعٰنِ ؕ وَ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ 41
41. তোমরা জেনে রেখো, যুদ্ধে তোমরা যেসব গনিমতের মাল লাভ করবে, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ আল্লাহ, তাঁর রসুল, রসুলের আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অসহায়-দরিদ্র এবং পথবাসী-মুসাফিরদের জন্য নির্দিষ্ট রাখবে। তোমরা যদি সত্যিই আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো এবং সত্য-মিথ্যার ফয়সালা হয়ে যাওয়া বদরের মোকাবেলার দিনে আমার রসুলের প্রতি নাযিল করা জিনিসের প্রতি ঈমান রেখে থাকো তবে এ নিয়ম যথাযথভাবে মেনে নাও। মনে রেখো, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বময় ক্ষমতার মালিক।
اِذْ اَنْتُمْ بِالْعُدْوَةِ الدُّنْیَا وَ هُمْ بِالْعُدْوَةِ الْقُصْوٰی وَ الرَّكْبُ اَسْفَلَ مِنْكُمْ ؕ وَ لَوْ تَوَاعَدْتُّمْ لَاخْتَلَفْتُمْ فِی الْمِیْعٰدِ ۙ وَ لٰكِنْ لِّیَقْضِیَ اللّٰهُ اَمْرًا كَانَ مَفْعُوْلًا ۙ۬ لِّیَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْۢ بَیِّنَةٍ وَّ یَحْیٰی مَنْ حَیَّ عَنْۢ بَیِّنَةٍ ؕ وَ اِنَّ اللّٰهَ لَسَمِیْعٌ عَلِیْمٌۙ 42
42. সে দৃশ্যপট স্মরণ করো, তখন তোমরা উপত্যাকার কাছাকাছি এক জায়গায় ছিলে, অপরদিকে প্রতিপক্ষরা ছিলো অনেক দূরে। অন্যদিকে ওদের বাণিজ্য কাফেলা তোমাদের পাশ ঘেষে উপকূল দিয়ে যাচ্ছিলো। এ সময় তোমাদের মনের অবস্থা এমন ছিলো যে, আগে থেকেও যদি ওদের সাথে যুদ্ধের দিনক্ষণ ঠিক করে রাখতে, তবুও তোমরা চাইতে যুদ্ধ না করে পাশ কাটিয়ে যেতে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে যুদ্ধের ফয়সালা লিখে দিলেন। আর আল্লাহ যা সিদ্ধান্ত নেন, তা অবশ্যই ঘটান। আসলে আল্লাহ এটাই চেয়েছিলেন যে, এ লড়াইয়ের মাধ্যমে নিহত লোকেরা এবং দুনিয়ায় টিকে থাকা জীবিতরা নিজ চোখে মিথ্যার উপর সত্যের সুস্পষ্ট বিজয় দেখতে পায়। অবশ্যই আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সববিষয়ে জানেন।
اِذْ یُرِیْكَهُمُ اللّٰهُ فِیْ مَنَامِكَ قَلِیْلًا ؕ وَلَوْ اَرٰىكَهُمْ كَثِیْرًا لَّفَشِلْتُمْ وَلَتَنَازَعْتُمْ فِی الْاَمْرِ وَ لٰكِنَّ اللّٰهَ سَلَّمَ ؕ اِنَّهٗ عَلِیْمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ 43
43. হে নবী, মনে করে দেখো, আল্লাহ স্বপ্নে তোমাকে কাফেরদের সৈন্য সংখ্যা বেশ অল্প দেখিয়েছেন। যদি স্বপ্নে ওদের সংখ্যা বেশি দেখতে, তবে তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলতে এবং যুদ্ধ করা - না করা নিয়ে দলাদলিতে লিপ্ত হতে। কেবল আল্লাহই তোমদেরকে এ থেকে বাঁচিয়েছেন। আসলে তিনি বান্দার মনের খবরও রাখেন।
وَ اِذْ یُرِیْكُمُوْهُمْ اِذِ الْتَقَیْتُمْ فِیْۤ اَعْیُنِكُمْ قَلِیْلًا وَّیُقَلِّلُكُمْ فِیْۤ اَعْیُنِهِمْ لِیَقْضِیَ اللّٰهُ اَمْرًا كَانَ مَفْعُوْلًا ؕ وَاِلَی اللّٰهِ تُرْجَعُ الْاُمُوْرُ۠ 44
44. একটু চিন্তা করে দেখো, যুদ্ধের দিনে তোমরা দেখছিলে, ওরা সংখ্যায় খুব বেশি নয়। আবার ওরাও তোমদেরকে দেখছিলো অল্প সংখ্যক। আসলে তোমাদের উভয়কে আল্লাহ এভাবে দেখালেন, যাতে আল্লাহ যা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন তা ঘটতে পারে। বস্তুত সব বিষয়ে আল্লাহর সিদ্ধান্তই শেষ কথা হয়ে থাকে।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِذَا لَقِیْتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوْا وَ اذْكُرُوا اللّٰهَ كَثِیْرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَۚ 45
45. হে ঈমানদারেরা, যখন তোমরা কোনো বাহিনীর সম্মুখীন হও, তখন দৃঢ়ভাবে তাদের মোকাবেলা করো এবং বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো। আশা করা যায় এভাবে তোমরা বিজয় লাভ করবে।
وَ اَطِیْعُوا اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ وَلَا تَنَازَعُوْا فَتَفْشَلُوْا وَ تَذْهَبَ رِیْحُكُمْ وَ اصْبِرُوْا ؕ اِنَّ اللّٰهَ مَعَ الصّٰبِرِیْنَۚ 46
46. আল্লাহ ও তাঁর রসুল তোমাদের যা করার হুকুম দেন তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলো। খবরদার! কখনো নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদে জড়াবে না। অন্যথায় তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা দেখা দেবে এবং তোমাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি হারিয়ে যাবে। কাজেই সকল প্রতিকূলতায় ধৈর্যের পরিচয় দাও। জেনে রাখো, ধৈর্যশীলদের কাজকর্মে স্বয়ং আল্লাহই সঙ্গ দিয়ে থাকেন।
وَ لَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِیْنَ خَرَجُوْا مِنْ دِیَارِهِمْ بَطَرًا وَّ رِئَآءَ النَّاسِ وَیَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا یَعْمَلُوْنَ مُحِیْطٌ 47
47. সাবধান! তোমরা কখনোই ঐসব সত্য অস্বীকারকারীদের চালচলন অনুসরণ করো না, যারা অহংকার করতে করতে এবং লোকদেরকে নিজেদের শান শওকত দেখাতে দেখাতে যুদ্ধের জন্য ঘর থেকে বাহির হয়েছিলো। অথচ ওদের সকল চেষ্টা ছিলো কেবল সাধারণ লোকদেরকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে। আফসোস! ওদের প্রত্যেকটি কাজই আল্লাহর হাতের মুঠোয় রয়েছে।
وَ اِذْ زَیَّنَ لَهُمُ الشَّیْطٰنُ اَعْمَالَهُمْ وَقَالَ لَا غَالِبَ لَكُمُ الْیَوْمَ مِنَ النَّاسِ وَ اِنِّیْ جَارٌ لَّكُمْ ۚ فَلَمَّا تَرَآءَتِ الْفِئَتٰنِ نَكَصَ عَلٰی عَقِبَیْهِ وَ قَالَ اِنِّیْ بَرِیْٓءٌ مِّنْكُمْ اِنِّیْۤ اَرٰی مَا لَا تَرَوْنَ اِنِّیْۤ اَخَافُ اللّٰهَ ؕ وَ اللّٰهُ شَدِیْدُ الْعِقَابِ۠ 48
48. সে সময়ের আরেকটা ঘটনা শোনো, শয়তান ঐসব কাফেরদের কাছে ওদের কাজকর্মকে বড়ই চিত্তাকর্ষক ও চাকচিক্যময় করে তুলছিলো। আর ওদেরকে বলছিলো, আজ তোমাদের বিজয় হবেই; কেউ ঠেকাতে পারবে না। আমি তোমাদের সাথেই থাকবো। কিন্তু যখন দুই বাহিনীর পরস্পর মোকাবেলা শুরু হলো, তখন সে ওদেরকে রেখে পিছন দিক দিয়ে সরে পড়লো। যাবার সময় সে বলতে লাগলো, তোমাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। কেননা এখন আমি এমন কিছু দেখছি, যা তোমরা দেখছো না। আমি আল্লাহকে ভয় করি। তিনি খুবই ভয়ানকভাবে শাস্তি দিয়ে থাকেন।
اِذْ یَقُوْلُ الْمُنٰفِقُوْنَ وَ الَّذِیْنَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ غَرَّ هٰۤؤُلَآءِ دِیْنُهُمْ ؕ وَ مَنْ یَّتَوَكَّلْ عَلَی اللّٰهِ فَاِنَّ اللّٰهَ عَزِیْزٌ حَكِیْمٌ 49
49. এদিকে মুনাফিক ও মানসিক বিকারগ্রস্থরা মুমিনদের ব্যাপারে বলাবলি করছিলো, আহ! ওদের এ দ্বীনই ওদের মাথা নষ্ট করে দিয়েছে। অথচ যারা আল্লাহর উপর ভরসা রেখে চলে তারা ভালোকরেই জানে যে, আল্লাহ বড়ই পরাক্রমশালী এবং প্রজ্ঞাময়।
وَلَوْ تَرٰۤی اِذْ یَتَوَفَّی الَّذِیْنَ كَفَرُوا ۙ الْمَلٰٓىِٕكَةُ یَضْرِبُوْنَ وُجُوْهَهُمْ وَاَدْبَارَهُمْ ۚ وَذُوْقُوْا عَذَابَ الْحَرِیْقِ 50
50. হায়! যদি তোমরা সে দৃশ্যগুলো দেখতে পেতে, যখন ফেরেশতারা ঐসব কাফেরদের প্রাণ হরণ করছিলো, তখন তারা ওদের চেহারা ও পিঠে প্রচন্ড আঘাত করে বলছিলো, এবার স্বাদ নিয়ে দেখো! জাহান্নামের দহন যন্ত্রনা কতোটা মজার।
ذٰلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ اَیْدِیْكُمْ وَ اَنَّ اللّٰهَ لَیْسَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِیْدِۙ 51
51. তোমাদের এ পরিণতির জন্য কেবল তোমাদের কৃতকর্মই দায়ী। নয়তো আল্লাহ এমন নন যে, তাঁর কোনো বান্দাকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেবন।
كَدَاْبِ اٰلِ فِرْعَوْنَ ۙ وَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ كَفَرُوْا بِاٰیٰتِ اللّٰهِ فَاَخَذَهُمُ اللّٰهُ بِذُنُوْبِهِمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ قَوِیٌّ شَدِیْدُ الْعِقَابِ 52
52. আসলে ফেরাউনের লোকজন এবং তার আগের অন্যান্য সত্য অস্বীকারকারীদের মতো ওরাও আল্লাহর বাণীকে খোলামেলাভাবে অস্বীকার করেছে। ফলে আল্লাহ ওদের এসব অপকর্মের জন্য কঠিনভাবে পাকড়াও করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব জিনিসের উপর প্রবল ক্ষমতাবান এবং কঠিন শাস্তিদানকারী।
ذٰلِكَ بِاَنَّ اللّٰهَ لَمْ یَكُ مُغَیِّرًا نِّعْمَةً اَنْعَمَهَا عَلٰی قَوْمٍ حَتّٰی یُغَیِّرُوْا مَا بِاَنْفُسِهِمْ ۙ وَ اَنَّ اللّٰهَ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌۙ 53
53. জেনে রেখো, আল্লাহর নীতি এমন যে, কোনো জনগোষ্ঠী নিজেদেরকে আল্লাহর নেয়ামত থেকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে না নিলে, আল্লাহ আগ বাড়িয়ে তাদের থেকে নিজের নেয়ামত তুলে নেন না। নিশ্চিয়ই আল্লাহ ওদের সব শোনেন, সব জানেন।
كَدَاْبِ اٰلِ فِرْعَوْنَ ۙ وَالَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِ رَبِّهِمْ فَاَهْلَكْنٰهُمْ بِذُنُوْبِهِمْ وَ اَغْرَقْنَاۤ اٰلَ فِرْعَوْنَ ۚ وَ كُلٌّ كَانُوْا ظٰلِمِیْنَ 54
54. এসব কাফেরেরা ফেরাউনের দলবল এবং তার পূর্ববর্তী অন্যান্য অবাধ্যদের পথে হেঁটেছে। ওরা সবাই ওদের রবের নিদর্শনগুলোকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। শেষ পর্যন্ত ওদের পাপের কারণে আমি ওদের প্রত্যেককেই ধ্বংস করেছি। ইতিহাস সাক্ষী! সেদিন ফেরাউন ও তার দলবলকে পানিতে ডুবিয়ে মেরেছিলাম। আসলে ওরা ছিলো জালেম প্রকৃতির।
اِنَّ شَرَّ الدَّوَآبِّ عِنْدَ اللّٰهِ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا فَهُمْ لَا یُؤْمِنُوْنَۖۚ 55
55. শুনে রেখো, আল্লাহর দৃষ্টিতে পৃথিবীতে সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণী হচ্ছে সেসব কাফেরেরা, যারা সত্যের প্রতি ঈমান আনে না।
اَلَّذِیْنَ عٰهَدْتَّ مِنْهُمْ ثُمَّ یَنْقُضُوْنَ عَهْدَهُمْ فِیْ كُلِّ مَرَّةٍ وَّهُمْ لَا یَتَّقُوْنَ 56
56. ওদের মধ্যে এমন কিছু নিকৃষ্ট লোকও রয়েছে, যারা তোমার সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও, সুযোগ পেলে চুক্তি বিরোধী কাজ করে। আসলে ওদের মধ্যে আল্লাহর ব্যাপারে সামান্য ভয়ও নেই।
فَاِمَّا تَثْقَفَنَّهُمْ فِی الْحَرْبِ فَشَرِّدْ بِهِمْ مَّنْ خَلْفَهُمْ لَعَلَّهُمْ یَذَّكَّرُوْنَ 57
57. কাজেই হে ঈমানদারেরা, তোমরা যুদ্ধের ময়দানে এসব চুক্তি ভঙ্গকারীদেরকে হাতের নাগালে পেলে এমন ভয়ানকভাবে বিনাশ করো, যাতে ওদের পরিণতি দেখে পরবর্তীতে আর কেউ এমনটা করার দুঃসাহস না দেখায়।
وَ اِمَّا تَخَافَنَّ مِنْ قَوْمٍ خِیَانَةً فَانْۢبِذْ اِلَیْهِمْ عَلٰی سَوَآءٍ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یُحِبُّ الْخَآىِٕنِیْنَ۠ 58
58. আর যদি কোনো জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে চুক্তি ভঙ্গের অগ্রিম আশঙ্কা করো, তবে তোমরাও খোলাখুলিভাবে ঐ চুক্তি ওদের মুখের উপর ছুড়ে মারো। কেননা আল্লাহ কখনোই এসব বিশ্বাসঘাতকদের ভালোবাসেন না।
وَ لَا یَحْسَبَنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا سَبَقُوْا ؕ اِنَّهُمْ لَا یُعْجِزُوْنَ 59
59. আর সত্য অস্বীকারকারীরা যেন কখনো এ ভুল ধারণায় পড়ে না থাকে যে, ওরা আমার পাকড়াও থেকে বেঁচে গেছে। না! ওরা আমার পাকড়াও ঠোকাতে পারবে না।
وَ اَعِدُّوْا لَهُمْ مَّا اسْتَطَعْتُمْ مِّنْ قُوَّةٍ وَّمِنْ رِّبَاطِ الْخَیْلِ تُرْهِبُوْنَ بِهٖ عَدُوَّ اللّٰهِ وَ عَدُوَّكُمْ وَ اٰخَرِیْنَ مِنْ دُوْنِهِمْ ۚ لَا تَعْلَمُوْنَهُمْ ۚ اَللّٰهُ یَعْلَمُهُمْ ؕ وَمَا تُنْفِقُوْا مِنْ شَیْءٍ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ یُوَفَّ اِلَیْكُمْ وَ اَنْتُمْ لَا تُظْلَمُوْنَ 60
60. কাজেই হে ঈমানদারেরা, তোমরা এ কাফেরদের মোকাবেলায় যুদ্ধের সব ধরনের অস্ত্রপাতি ও শক্তিশালী ঘোড়ার পাল প্রস্তুত রাখো। এ কাজে তোমাদের সর্বশক্তি খাটাও। এমনভাবে প্রস্তুতি নাও, যা দেখে আল্লাহর দুশমন এবং তোমাদের প্রকাশ্য দুশমনেরা ও গোপন দুশমনেরা যাদের খবর তোমার না জানলেও আল্লাহ জানেন, ভয়ে কম্পিত হয়। এসব কাজে তোমরা আল্লাহর পথে যা কিছুই খরচ করবে, আল্লাহ তার পূর্ণ বিনিময় দেবেন। এ ব্যাপারে তোমদের কোনো কমতি রাখা হবে না।
وَ اِنْ جَنَحُوْا لِلسَّلْمِ فَاجْنَحْ لَهَا وَتَوَكَّلْ عَلَی اللّٰهِ ؕ اِنَّهٗ هُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ 61
61. তবে হে নবী! প্রতিপক্ষ যদি শান্তির লক্ষ্যে সন্ধি করতে আগ্রহী হয়, তবে তুমি আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রেখে সন্ধির দিকে এগিয়ে যাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব শোনেন, সব জানেন।
وَ اِنْ یُّرِیْدُوْۤا اَنْ یَّخْدَعُوْكَ فَاِنَّ حَسْبَكَ اللّٰهُ ؕ هُوَ الَّذِیْۤ اَیَّدَكَ بِنَصْرِهٖ وَ بِالْمُؤْمِنِیْنَۙ 62
62. তবে ওরা যদি সন্ধির নামে তোমাকে ধোঁকা দিতে চায়, তবে এ ব্যাপারে আল্লাহই তোমার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তো এর আগে বহুবার তোমাকে নিজ সাহায্যে বাঁচিয়ে নিয়েছেন এবং তার একদল মুমিন বান্দা দ্বারা তোমায় শক্তিও জুগিয়েছেন।
وَ اَلَّفَ بَیْنَ قُلُوْبِهِمْ ؕ لَوْ اَنْفَقْتَ مَا فِی الْاَرْضِ جَمِیْعًا مَّاۤ اَلَّفْتَ بَیْنَ قُلُوْبِهِمْ وَ لٰكِنَّ اللّٰهَ اَلَّفَ بَیْنَهُمْ ؕ اِنَّهٗ عَزِیْزٌ حَكِیْمٌ 63
63. খেয়াল করে দেখো, তোমার এসব মুমিন সাহাবীদের অন্তরে আল্লাহই মিল মহব্বত তৈরি করেছেন। তুমি এক দুনিয়াপূর্ণ সম্পদ ব্যয় করেও তাদের অন্তরকে এক করতে পারতে না। কেবল আল্লাহই তাদের অন্তরগুলোকে জুড়ে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু করতে পারেন এবং করার যথার্থ কৌশলও জানেন।
یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ حَسْبُكَ اللّٰهُ وَمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ۠ 64
64. কাজেই হে নবী, তোমার জন্য এবং তোমার অনুসারী সত্যে বিশ্বাসী লোকদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِیْنَ عَلَی الْقِتَالِ ؕ اِنْ یَّكُنْ مِّنْكُمْ عِشْرُوْنَ صٰبِرُوْنَ یَغْلِبُوْا مِائَتَیْنِ ۚ وَ اِنْ یَّكُنْ مِّنْكُمْ مِّائَةٌ یَّغْلِبُوْۤا اَلْفًا مِّنَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا بِاَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا یَفْقَهُوْنَ 65
65. হে নবী, মুমিন-মুসলমানদেরকে সর্বদা যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করো। তাদেরকে বলো, তোমাদের মাত্র বিশজনও সাহসিকতার সাথে দৃঢ়ভাবে শত্রæর মোকাবেলা করলে, যুদ্ধে দুই’শ শত্রুর উপর বিজয়ী হবে। আর যদি এ রকম দৃঢ় সাহসী একশ সৈন্যের দল হয়, তবে তারা সত্য অস্বীকারকারীদের এক হাজার সৈন্যদলের উপর জয়ী হবে। কেননা এ কাফেরদের যুদ্ধে লড়ার যথার্থ চেতনাবোধ নেই।
اَلْـٰٔنَ خَفَّفَ اللّٰهُ عَنْكُمْ وَ عَلِمَ اَنَّ فِیْكُمْ ضَعْفًا ؕ فَاِنْ یَّكُنْ مِّنْكُمْ مِّائَةٌ صَابِرَةٌ یَّغْلِبُوْا مِائَتَیْنِ ۚ وَ اِنْ یَّكُنْ مِّنْكُمْ اَلْفٌ یَّغْلِبُوْۤا اَلْفَیْنِ بِاِذْنِ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ مَعَ الصّٰبِرِیْنَ 66
66. যাইহোক, আপাতত আল্লাহ তোমাদের বোঝা কিছুটা হালকা করে দিচ্ছেন। তিনি জানেন, তোমাদের মধ্যে বেশ কিছু মানবিক দুর্বলতা থাকবে। অতএব এখন তোমাদের একশত দৃঢ় প্রত্যয়ী সাহসী সৈন্য যুদ্ধে দুইশত কাফের সৈন্যের উপর জয়লাভ করবে। একইভাবে আল্লাহর ইচ্ছায় এক হাজার সৈন্যের বাহিনী দুই হাজার সৈন্যের কাফের বাহিনীর উপর জয় লাভ করবে। আর দৃঢ় সাহসীরাই আল্লাহর সঙ্গ পেয়ে থাকে।
مَا كَانَ لِنَبِیٍّ اَنْ یَّكُوْنَ لَهٗۤ اَسْرٰی حَتّٰی یُثْخِنَ فِی الْاَرْضِ ؕ تُرِیْدُوْنَ عَرَضَ الدُّنْیَا ۖۗ وَ اللّٰهُ یُرِیْدُ الْاٰخِرَةَ ؕ وَ اللّٰهُ عَزِیْزٌ حَكِیْمٌ 67
67. হে নবী, সারা দেশে শত্রুদের সম্পূর্ণভাবে পর্যদুস্ত না করেই, ওদের বন্দিদেরকে মুক্তিপণের বিনিময়ে বাঁচিয়ে রাখা একজন নবী হিসাবে তোমার ঠিক হয়নি। তোমাদের চোখ পড়েছিলো দুনিয়াবী সম্পদের উপর; অথচ আল্লাহ চাচ্ছিলেন পরকালীন কল্যাণ। ভুলে যেয়ো না, আল্লাহ বড়ই পরাক্রমশালী, বড়ই প্রজ্ঞাময়।
لَوْ لَا كِتٰبٌ مِّنَ اللّٰهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِیْمَاۤ اَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِیْمٌ 68
68. তোমাদের ব্যাপারে আল্লাহর পূর্ব ঘোষিত এক বিশেষ নীতি না থাকলে, তোমরা যে মুক্তিপণের বিনিময়ে ওদেরকে ছেড়ে দিলে, তার জন্য তোমাদেরকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হতো।
فَكُلُوْا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلٰلًا طَیِّبًا ۖؗ وَّ اتَّقُوا اللّٰهَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ۠ 69
69. তবে এ যুদ্ধে তোমরা যে গনিমত পেয়েছো, তা ভোগ করো। এগুলো তোমাদের জন্য হালাল ও উত্তম হিসাবে গণ্য। সর্বদা আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ قُلْ لِّمَنْ فِیْۤ اَیْدِیْكُمْ مِّنَ الْاَسْرٰۤی ۙ اِنْ یَّعْلَمِ اللّٰهُ فِیْ قُلُوْبِكُمْ خَیْرًا یُّؤْتِكُمْ خَیْرًا مِّمَّاۤ اُخِذَ مِنْكُمْ وَیَغْفِرْ لَكُمْ ؕ وَ اللّٰهُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 70
70. হে নবী, তোমার হেফাজতে থাকা এসব যুদ্ধবন্দিদের বলো, যদি আল্লাহ তোমাদের মনের মধ্যে সত্য গ্রহণের ব্যাপারে সামান্য ভালো চিন্তা দেখেন, তবে তোমাদের থেকে যা কিছু নেয়া হয়েছে, তার চেয়ে শতগুণ কল্যাণময় জিনিস তোমাদের দান করবেন। এমনকি তোমাদের অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করবেন। আসলেই তিনি বান্দার প্রতি বড় ক্ষমাশীল, বড় মেহেরবান।
وَ اِنْ یُّرِیْدُوْا خِیَانَتَكَ فَقَدْ خَانُوا اللّٰهَ مِنْ قَبْلُ فَاَمْكَنَ مِنْهُمْ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ 71
71. কিন্তু এরপরেও যদি ওরা তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তবে ওদের জানা উচিত, এতদিন পর্যন্ত ওরা আল্লাহর সাথে যে খেয়ানত করেছে, তার শাস্তি হিসাবেই ওরা তোমাদের হাতে ইতোমধ্যে নাস্তানাবুদ হয়েছে। বস্তুত আল্লাহ সব জানেন, সব বোঝেন।
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ هَاجَرُوْا وَ جٰهَدُوْا بِاَمْوَالِهِمْ وَ اَنْفُسِهِمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَالَّذِیْنَ اٰوَوْا وَّ نَصَرُوْۤا اُولٰٓىِٕكَ بَعْضُهُمْ اَوْلِیَآءُ بَعْضٍ ؕ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ لَمْ یُهَاجِرُوْا مَا لَكُمْ مِّنْ وَّلَایَتِهِمْ مِّنْ شَیْءٍ حَتّٰی یُهَاجِرُوْا ۚ وَاِنِ اسْتَنْصَرُوْكُمْ فِی الدِّیْنِ فَعَلَیْكُمُ النَّصْرُ اِلَّا عَلٰی قَوْمٍۭ بَیْنَكُمْ وَ بَیْنَهُمْ مِّیْثَاقٌ ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ 72
72. ভালোকরে জেনে রেখো, যে মুহাজিরেরা সত্যের প্রতি ঈমান এনে ঘর-বাড়ি ছেড়ে হিজরত করেছে এবং নিজেদের সহায়-সম্পদ ও জীবন বিলিয়ে আল্লাহর পথে লড়াই করেছে, আর যে আনসারেরা এ মুহাজিরদের আশ্রয় দিয়েছে এবং সাহায্য-সহযোগিতা করেছে তারাই পরস্পরের বন্ধু ও পৃষ্ঠপোষক। আর যারা ঈমান আনার পরেও হিজরত করে তোমাদের সাথে মিলিত হয়নি হিজরত করে না আসা পর্যন্ত তাদের ব্যাপারে তোমাদের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই। তবে তারা যদি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের কাছে সাহায্য চায়, তবে অবশ্যই সাহায্য করবে। কিন্তু এমন কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, যাদের সাথে তোমাদের এ ব্যাপারে চুক্তি বর্তমান রয়েছে। মনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের সব ধরনের কাজকর্মই পর্যবেক্ষণ করেন।
وَالَّذِیْنَ كَفَرُوْا بَعْضُهُمْ اَوْلِیَآءُ بَعْضٍ ؕ اِلَّا تَفْعَلُوْهُ تَكُنْ فِتْنَةٌ فِی الْاَرْضِ وَ فَسَادٌ كَبِیْرٌؕ 73
73. দেখো! কাফেরেরা নিজেদের কাজে একজন আরেকজনকে সাহায্য-সহযোগিতা করছে। হে ঈমানদারেরা, তোমরাও যদি এভাবে দ্বীনের ব্যাপারে পরস্পরের সাহায্যে এগিয়ে না আসো, তবে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ফেতনা ও ফাসাদকে তোমরা রুখতে পারবে না।
وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ هَاجَرُوْا وَ جٰهَدُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ الَّذِیْنَ اٰوَوْا وَّ نَصَرُوْۤا اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُؤْمِنُوْنَ حَقًّا ؕ لَهُمْ مَّغْفِرَةٌ وَّ رِزْقٌ كَرِیْمٌ 74
74. শুনে রেখো, যারা ঈমান এনেছে, এর জন্য নিজেদের ঘর-বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে; তবুও আল্লাহর পথে লড়াই-সংগ্রাম করেছে, আর যারা এসব লোকদেরকে আশ্রয় দিয়েছে এবং তাদেরকে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে তারা উভয়েই নিজেদের ঈমানের ব্যাপারে শতভাগ খাঁটি বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে ক্ষমার ঘোষণা এবং সম্মানজন জীবিকার ব্যবস্থা।
وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مِنْۢ بَعْدُ وَ هَاجَرُوْا وَجٰهَدُوْا مَعَكُمْ فَاُولٰٓىِٕكَ مِنْكُمْ ؕ وَ اُولُوا الْاَرْحَامِ بَعْضُهُمْ اَوْلٰی بِبَعْضٍ فِیْ كِتٰبِ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ۠ 75
75. আর যারা যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ঈমান এনেছে ও হিজরত করে তোমাদের কাছে এসেছে এবং তোমাদের সাথে মিলে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে তারাও তোমাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে। তবে আল্লাহর বিধান অনুসারে অধিকারের ব্যাপারে রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়রা তাদের চেয়ে এগিয়ে। সন্দেহ নেই, আল্লাহ তোমাদের সব বিষয়ে অধিক জ্ঞান রাখেন।