20. ত্বহা
مَاۤ اَنْزَلْنَا عَلَیْكَ الْقُرْاٰنَ لِتَشْقٰۤیۙ 2
2. হে নবী, তোমাকে বিপদে ফেলার জন্য আমি তোমার উপর এ কুরআন নাযিল করিনি।
اِلَّا تَذْكِرَةً لِّمَنْ یَّخْشٰیۙ 3
3. এ কুরআন তো নাযিল করেছি, আল্লাহভীরু লোকদেরকে উপদেশ দেবার জন্যে।
تَنْزِیْلًا مِّمَّنْ خَلَقَ الْاَرْضَ وَ السَّمٰوٰتِ الْعُلٰیؕ 4
4. সন্দেহ নেই, এ কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে সুউচ্চ মহাকাশ ও পৃথিবীর মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে।
اَلرَّحْمٰنُ عَلَی الْعَرْشِ اسْتَوٰی 5
5. তিনিই দয়াময়। মহান আরশে তিনিই সমাসীন।
لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ وَ مَا بَیْنَهُمَا وَ مَا تَحْتَ الثَّرٰی 6
6. মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, যা রয়েছে এ দু’য়ের মাঝে এবং যা রয়েছে ভূগর্ভে সবকিছুর মালিকই একমাত্র তিনি।
وَ اِنْ تَجْهَرْ بِالْقَوْلِ فَاِنَّهٗ یَعْلَمُ السِّرَّ وَ اَخْفٰی 7
7. তিনি তোমার উচ্চকণ্ঠে বলা কথাগুলো যেমন শোনেন, তেমনি চুপিসারে বলা কথাগুলোও তিনি জানেন। এমনকি তোমার মনের গহীনে থাকা অব্যক্ত কথাগুলোও জানেন।
اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؕ لَهُ الْاَسْمَآءُ الْحُسْنٰی 8
8. তিনিই আল্লাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই। আর সকল সুন্দর নামের তিনিই অধিকারী।
وَ هَلْ اَتٰىكَ حَدِیْثُ مُوْسٰیۘ 9
9. আচ্ছা! তোমার কি মুসার জীবন কাহিনী জানা আছে?
اِذْ رَاٰ نَارًا فَقَالَ لِاَهْلِهِ امْكُثُوْۤا اِنِّیْۤ اٰنَسْتُ نَارًا لَّعَلِّیْۤ اٰتِیْكُمْ مِّنْهَا بِقَبَسٍ اَوْ اَجِدُ عَلَی النَّارِ هُدًی 10
10. শোনো, যাত্রাপথে মুসা অদূরে আগুন দেখতে পেয়ে তার পরিবারকে বললো, তোমরা এখানে অপেক্ষা করো, আমি অদূরেই আগুন দেখেছি। সম্ভবত আমরা সেখান থেকে কিছু শীত নিবারণের জন্য জ্বলন্ত অঙ্গার সংগ্রহ করতে পারবো অথবা অন্য কোনো ভালো পথের সন্ধান পেয়ে যাবো।
فَلَمَّاۤ اَتٰىهَا نُوْدِیَ یٰمُوْسٰیؕ 11
11. অতঃপর মুসা যখন আগুনের কাছে এলো, তখন আওয়াজ আসলো, হে মুসা,
اِنِّیْۤ اَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَیْكَ ۚ اِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًیؕ 12
12. আমি তোমার প্রতিপালক বলছি। তোমার জুতো খুলে ফেলো। কেননা তুমি এখন পবিত্র তুয়া উপত্যকায় রয়েছো।
وَ اَنَا اخْتَرْتُكَ فَاسْتَمِعْ لِمَا یُوْحٰی 13
13. আমি তোমাকে আমার কাজের জন্য বাছাই করেছি। অতএব তোমাকে এখন যে প্রত্যাদেশ দিচ্ছি, তা মনযোগ দিয়ে শোনো।
اِنَّنِیْۤ اَنَا اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعْبُدْنِیْ ۙ وَ اَقِمِ الصَّلٰوةَ لِذِكْرِیْ 14
14. আমিই আল্লাহ। আমি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নাই। অতএব একমাত্র আমারই ইবাদত করো এবং আমার স্মরণে নামাজ কায়েম করো।
اِنَّ السَّاعَةَ اٰتِیَةٌ اَكَادُ اُخْفِیْهَا لِتُجْزٰی كُلُّ نَفْسٍۭ بِمَا تَسْعٰی 15
15. জেনে রেখো, কিয়ামত অবশ্যই আসবে। তবে আমি তার নির্ধারিত সময়টি গোপন রাখছি, যাতে প্রত্যেককেই তার কাজের যথার্থ কর্মফল পূর্ণমাত্রায় দিতে পারি।
فَلَا یَصُدَّنَّكَ عَنْهَا مَنْ لَّا یُؤْمِنُ بِهَا وَ اتَّبَعَ هَوٰىهُ فَتَرْدٰی 16
16. কাজেই যারা পরকালের জবাবদিহিতার কথা অস্বীকার করে এবং নিজেদের প্রবৃত্তির দাসত্ব করে চলে, ওরা যেনো তোমাকে কোনোভাবেই পরকালের প্রস্তুতি থেকে ফিরিয়ে রাখতে না পারে। অন্যথায় তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।
وَ مَا تِلْكَ بِیَمِیْنِكَ یٰمُوْسٰی 17
17. আর হে মুসা, তোমার হাতে ঐটা কী?
قَالَ هِیَ عَصَایَ ۚ اَتَوَكَّؤُا عَلَیْهَا وَ اَهُشُّ بِهَا عَلٰی غَنَمِیْ وَ لِیَ فِیْهَا مَاٰرِبُ اُخْرٰی 18
18. মুসা বললো, এটা আমার লাঠি। আমি এর উপর ভর দিয়ে চলি। এ দিয়ে ছাগল পালের জন্য গাছের পাতা পাড়ি এবং আরো অনেক কাজে এটা ব্যবহার করি।
قَالَ اَلْقِهَا یٰمُوْسٰی 19
19. আল্লাহ বললেন, ও আচ্ছা! এবার তাহলে এটাকে সামনে ছুড়ে মারো।
فَاَلْقٰىهَا فَاِذَا هِیَ حَیَّةٌ تَسْعٰی 20
20. মুসা লাঠিটি ছুড়ে মারলো এবং সাথেসাথেই তা সাপের আকৃতি ধারণ করে ছোটাছুটি করতে লাগলো।
قَالَ خُذْهَا وَ لَا تَخَفْ ۥ سَنُعِیْدُهَا سِیْرَتَهَا الْاُوْلٰی 21
21. আল্লাহ বললেন, ভয় পেয়ো না, এটাকে ধরো। আমি এটাকে আবার আগের মতো লাঠিই বানিয়ে দেবো।
وَ اضْمُمْ یَدَكَ اِلٰی جَنَاحِكَ تَخْرُجْ بَیْضَآءَ مِنْ غَیْرِ سُوْٓءٍ اٰیَةً اُخْرٰیۙ 22
22. আর তোমার হাত নিজের বগলের মধ্যে রাখো এবং তারপর বের করো। দেখবে, কোনো কষ্ট ছাড়াই তা ধবধবে আলোকোজ্জ্বল হয়েছে। এটা তোমার জন্য আরেকটি নিদর্শন।
لِنُرِیَكَ مِنْ اٰیٰتِنَا الْكُبْرٰیۚ 23
23. এগুলো তোমাকে এজন্য দেখাচ্ছি, যাতে তুমি ভবিষ্যতে আমার আরো বড় বড় নিদর্শন দেখে চিনতে পারো।
اِذْهَبْ اِلٰی فِرْعَوْنَ اِنَّهٗ طَغٰی۠ 24
24. হে মুসা, এবার তাহলে ফেরাউনের দরবারে যাও। কেননা সে বিদ্রোহ করেছে।
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِیْ صَدْرِیْۙ 25
25. মুসা দোয়া করলো, হে আমার রব, আমার বুককে প্রশস্ত করে দাও।
وَ یَسِّرْ لِیْۤ اَمْرِیْۙ 26
26. আমার কাজকে সহজ করে দাও।
وَ احْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِّسَانِیْۙ 27
27. আমার কথার জড়তা দূর করে দাও,
یَفْقَهُوْا قَوْلِیْ۪ 28
28. যাতে লোকেরা আমার কথা সহজে বুঝতে পারে।
وَ اجْعَلْ لِّیْ وَزِیْرًا مِّنْ اَهْلِیْۙ 29
29. মুসা আরো চাইলো, আমার সাহায্যার্থে আমার পরিবারের মধ্য থেকে একজনকে সহকর্মী হিসাবে দান করো।
هٰرُوْنَ اَخِیۙ 30
30. আমার ভাই হারুন এ কাজের উপযুক্ত হবে।
اشْدُدْ بِهٖۤ اَزْرِیْۙ 31
31. তার মাধ্যমে আমার হাতকে মজবুত করো।
وَ اَشْرِكْهُ فِیْۤ اَمْرِیْۙ 32
32. এবং তাকেও আমার নবুওয়াতি দায়িত্বে শরিক করো,
كَیْ نُسَبِّحَكَ كَثِیْرًاۙ 33
33. যাতে আমরা বেশি বেশি তোমার মহিমা জপতে পারি।
وَّ نَذْكُرَكَ كَثِیْرًاؕ 34
34. এবং বেশি বেশি তোমার চর্চা করতে পারি।
اِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِیْرًا 35
35. আর তুমি তো আমাদের সবই দেখছো।
قَالَ قَدْ اُوْتِیْتَ سُؤْلَكَ یٰمُوْسٰی 36
36. আল্লাহ বললেন, ঠিক আছে হে মুসা, তুমি যা চাইলে তা তোমাকে দেয়া হলো।
وَ لَقَدْ مَنَنَّا عَلَیْكَ مَرَّةً اُخْرٰۤیۙ 37
37. হে মুসা, আমি তো এর আগেও তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম।
اِذْ اَوْحَیْنَاۤ اِلٰۤی اُمِّكَ مَا یُوْحٰۤیۙ 38
38. তখন আমি তোমার মা’কে নির্দেশনার মাধ্যমে একটি বিশেষ ব্যাপারে জানিয়েছিলাম।
اَنِ اقْذِفِیْهِ فِی التَّابُوْتِ فَاقْذِفِیْهِ فِی الْیَمِّ فَلْیُلْقِهِ الْیَمُّ بِالسَّاحِلِ یَاْخُذْهُ عَدُوٌّ لِّیْ وَ عَدُوٌّ لَّهٗ ؕ وَ اَلْقَیْتُ عَلَیْكَ مَحَبَّةً مِّنِّیْ ۚ۬ وَ لِتُصْنَعَ عَلٰی عَیْنِیْۘ 39
39. তাকে বলেছিলাম, তোমার এ শিশুটিকে একটি সিন্দুকে ভরে নদীতে ভাসিয়ে দাও। নদীর স্রোতে ভাসিয়ে ভাসিয়ে একসময় তাকে তীরে পৌঁছে দেবে। যেখান থেকে তাকে এমন একজন পালনের জন্য তুলে নিবে, যে আমারও শত্রু এবং তারও শত্রু । হে মুসা, এভাবেই আমি তোমাকে আমার ভালোবাসায় সিক্ত করেছিলাম। ফলে তোমার প্রতিপালন আমার তত্ত্বাবধানেই হয়েছিলো।
اِذْ تَمْشِیْۤ اُخْتُكَ فَتَقُوْلُ هَلْ اَدُلُّكُمْ عَلٰی مَنْ یَّكْفُلُهٗ ؕ فَرَجَعْنٰكَ اِلٰۤی اُمِّكَ كَیْ تَقَرَّ عَیْنُهَا وَ لَا تَحْزَنَ ؕ۬ وَ قَتَلْتَ نَفْسًا فَنَجَّیْنٰكَ مِنَ الْغَمِّ وَ فَتَنّٰكَ فُتُوْنًا ۫۬ فَلَبِثْتَ سِنِیْنَ فِیْۤ اَهْلِ مَدْیَنَ ۙ۬ ثُمَّ جِئْتَ عَلٰی قَدَرٍ یّٰمُوْسٰی 40
40. এরপর তোমার বোন ফেরাউনের বাড়ি এসে উপস্থিত হলো এবং তাদের বললো, আমি কি তোমাদের এমন ধাত্রীর খোঁজ দেবো, যে এ শিশুটিকে ভালোভাবে লালন-পালন করবে? এভাবেই আমি তোমাকে আবার তোমার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তোমাকে দেখে তার নয়ন জুড়ায় এবং দুঃখের অবসান হয়। হে মুসা, মনে করে দেখো, এরপর এক সময় তুমি এক লোককে হত্যা করে বসলে। তখন আমিই তোমাকে সকল ঝামেলা থেকে বাঁচালাম। অবশ্য আমি তোমাকে নানাভাবেই পরীক্ষার করেছি। যাইহোক, এরপর তুমি বেশ কয়েক বছর মাদিয়ানবাসীর সাথে ছিলে। আর এখন হে মুসা, তুমি আমার নির্ধারিত বয়সে উপনীত হয়েছো।
وَ اصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِیْۚ 41
41. এতদিন ধরে আমি তোমাকে আমার কাজের জন্য প্রস্তুত করেছি।
اِذْهَبْ اَنْتَ وَ اَخُوْكَ بِاٰیٰتِیْ وَ لَا تَنِیَا فِیْ ذِكْرِیْۚ 42
42. অতএব হে মুসা, তুমি ও তোমার ভাই হারুন আমার নিদর্শনসহ রেসালাতের দায়িত্ব পালন শুরু করো। আর এক মুহূর্তের জন্যও আমার স্মরণ থেকে গাফেল থেকো না।
اِذْهَبَاۤ اِلٰی فِرْعَوْنَ اِنَّهٗ طَغٰیۚۖ 43
43. এবার তোমরা দু’জনে একসাথে ফিরাউনের দরবারে যাও। সে বহু আগেই সীমালঙ্ঘন করেছে।
فَقُوْلَا لَهٗ قَوْلًا لَّیِّنًا لَّعَلَّهٗ یَتَذَكَّرُ اَوْ یَخْشٰی 44
44. প্রথমে তাকে দরদমাখা কণ্ঠে বুঝাও। হয়তো সে সত্যের উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। অথবা ভয়েও মেনে নিতে পারে।
قَالَا رَبَّنَاۤ اِنَّنَا نَخَافُ اَنْ یَّفْرُطَ عَلَیْنَاۤ اَوْ اَنْ یَّطْغٰی 45
45. উভয়ে মিনতি করলো, হে আমাদের রব, আমরা আশঙ্কা করছি যে, ফেরাউন আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করবে। এমনকি আমাদের উপর অসহনীয় জুলুমও করে বসতে পারে।
قَالَ لَا تَخَافَاۤ اِنَّنِیْ مَعَكُمَاۤ اَسْمَعُ وَ اَرٰی 46
46. আল্লাহ বললেন, ভয় পেয়ো না। তোমাদের দু’জনের সাথে আমি আছি। আমি সবকিছু শুনবো ও দেখবো।
فَاْتِیٰهُ فَقُوْلَاۤ اِنَّا رَسُوْلَا رَبِّكَ فَاَرْسِلْ مَعَنَا بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ۙ۬ وَ لَا تُعَذِّبْهُمْ ؕ قَدْ جِئْنٰكَ بِاٰیَةٍ مِّنْ رَّبِّكَ ؕ وَ السَّلٰمُ عَلٰی مَنِ اتَّبَعَ الْهُدٰی 47
47. সুতরাং এখন তোমরা ওর কাছে যাও এবং বলো, আমরা তোমার প্রভুর প্রেরিত রসুল। বনি ইসরাইলকে আমাদের নেতৃত্বে ছেড়ে দাও। এদের উপর আর অত্যাচার চালাইয়ো না। আমরা তোমার রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ এসেছি। জেনে রেখো, যারা সত্য-সঠিক পথ অনুসরণ করবে, শান্তি ও নিরাপত্তা কেবল তারাই লাভ করবে।
اِنَّا قَدْ اُوْحِیَ اِلَیْنَاۤ اَنَّ الْعَذَابَ عَلٰی مَنْ كَذَّبَ وَ تَوَلّٰی 48
48. আর আমাদেরকে অহির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, কেউ যদি সত্যকে অস্বীকার করে কিংবা সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তার কপালে কঠিন শাস্তি লেখা রয়েছে।
قَالَ فَمَنْ رَّبُّكُمَا یٰمُوْسٰی 49
49. এসব শুনে ফেরাউন বললো, হে মুসা, তোমাদের এ নতুন রবটা আবার কে?
قَالَ رَبُّنَا الَّذِیْۤ اَعْطٰی كُلَّ شَیْءٍ خَلْقَهٗ ثُمَّ هَدٰی 50
50. মুসা বললো, হ্যাঁ! আমাদের রব একমাত্র তিনিই, যিনি প্রতিটি জিনিসকে যথার্থ আকৃতি-প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাকে জীবনযাত্রায় সঠিক পথনির্দেশ করেছেন।
قَالَ فَمَا بَالُ الْقُرُوْنِ الْاُوْلٰی 51
51. ফেরাউন বললো, ও আচ্ছা! তাহলে আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম যারা তোমার রবের ইবাদত করেনি, তাদের কী পরিণতি হয়েছে বলে মনে করো?
قَالَ عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّیْ فِیْ كِتٰبٍ ۚ لَا یَضِلُّ رَبِّیْ وَ لَا یَنْسَیؗ 52
52. মুসা বললো, তাদের সবকিছুই আমার রবের কাছে সংরক্ষিত কিতাবে লেখা রয়েছে। আর আমার রব কখনো ভুল করেন না এবং কখনো ভুলেও যান না।
الَّذِیْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَرْضَ مَهْدًا وَّ سَلَكَ لَكُمْ فِیْهَا سُبُلًا وَّ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً ؕ فَاَخْرَجْنَا بِهٖۤ اَزْوَاجًا مِّنْ نَّبَاتٍ شَتّٰی 53
53. খেয়াল করো, তিনিই তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানার মতো প্রসারিত করে রেখেছেন এবং তার মধ্যে চলাচলের বহু পথ তৈরি করে দিয়েছেন। লক্ষ্য করো, তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন এবং তা দিয়ে উৎপাদিত হয় জোড়ায় জোড়ায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও তৃণলতা।
كُلُوْا وَ ارْعَوْا اَنْعَامَكُمْ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی النُّهٰی۠ 54
54. যা থেকে তোমরা আহার করো এবং গবাদি পশু সেখানে চরাও। অবশ্যই এসব নিদর্শনের মধ্যে বুদ্ধি-বিবেক সম্পন্নদের জন্য অনেক শেখার রয়েছে।
مِنْهَا خَلَقْنٰكُمْ وَ فِیْهَا نُعِیْدُكُمْ وَ مِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً اُخْرٰی 55
55. আল্লাহ আরো বলেন, আমি এ মাটি থেকেই তোমাদের সৃষ্টির সূচনা করেছি, আবার এ মাটিতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নিবো এবং এ মাটি থেকেই আবার তোমাদের পুনর্জীবিত করে ছাড়বো।
وَ لَقَدْ اَرَیْنٰهُ اٰیٰتِنَا كُلَّهَا فَكَذَّبَ وَ اَبٰی 56
56. হায়! ফেরাউনকে আমি অসংখ্য নিদর্শন দেখালাম। কিন্তু না, সে এ সবকিছুকেই মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিলো। সে সত্যকে মেনে নিলো না।
قَالَ اَجِئْتَنَا لِتُخْرِجَنَا مِنْ اَرْضِنَا بِسِحْرِكَ یٰمُوْسٰی 57
57. ফেরাউন তখন বললো, হে মুসা, তুমি আসলে কী চাও? তুমি কি তোমার যাদুর শক্তিতে ক্ষমতা দখল করে আমাদেরকে দেশছাড়া করতে চাও?
فَلَنَاْتِیَنَّكَ بِسِحْرٍ مِّثْلِهٖ فَاجْعَلْ بَیْنَنَا وَ بَیْنَكَ مَوْعِدًا لَّا نُخْلِفُهٗ نَحْنُ وَ لَاۤ اَنْتَ مَكَانًا سُوًی 58
58. বেশ! তাহলে তোমার যাদুর মতো আমরাও যাদু দেখাবো। অতএব কোথায় ও কবে মোকাবেলায় নামবে তাই বলো। আমরা ঠিকঠাক সময় চলে আসবো, তুমিও এসো। তোমার সাথে খোলা ময়দানে সামনা সামনি মোকাবেলা হবে।
قَالَ مَوْعِدُكُمْ یَوْمُ الزِّیْنَةِ وَ اَنْ یُّحْشَرَ النَّاسُ ضُحًی 59
59. মুসা বললো, ঠিক আছে। তাহলে মোকাবেলা হবে উৎসবের দিন সকাল বেলা। প্রকাশ্য দিবালোকে সমবেত জনতার সামনে।
فَتَوَلّٰی فِرْعَوْنُ فَجَمَعَ كَیْدَهٗ ثُمَّ اَتٰی 60
60. ফেরাউন সেদিনের মতো দরবার শেষ করলো। মোকাবেলার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করলো এবং নির্ধারিত দিনে রাজ্যসেরা যাদুকরদেরসহ সবাইকে নিয়ে হাজির হলো।
قَالَ لَهُمْ مُّوْسٰی وَیْلَكُمْ لَا تَفْتَرُوْا عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا فَیُسْحِتَكُمْ بِعَذَابٍ ۚ وَ قَدْ خَابَ مَنِ افْتَرٰی 61
61. মোকাবেলার দিন মুসা তার প্রতিপক্ষ যাদুকরদের উচ্চ আওয়াজে বললো, হে হতভাগার দল, আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করো না। এমনটা করলে আল্লাহর কঠিন আযাবে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে। যারা মিথ্যার ফেরি করে বেড়ায়, তারা কখনোই সফল হতে পারে না।
فَتَنَازَعُوْۤا اَمْرَهُمْ بَیْنَهُمْ وَ اَسَرُّوا النَّجْوٰی 62
62. এ কথা শুনে যাদুকরেরা নিজেদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেলো। পরবর্তী করণীয় নিয়ে শলা-পরামর্শে বসলো।
قَالُوْۤا اِنْ هٰذٰىنِ لَسٰحِرٰنِ یُرِیْدٰنِ اَنْ یُّخْرِجٰكُمْ مِّنْ اَرْضِكُمْ بِسِحْرِهِمَا وَ یَذْهَبَا بِطَرِیْقَتِكُمُ الْمُثْلٰی 63
63. তখন ফেরাউনের পক্ষ থেকে বলা হলো, মুসা ও তার ভাই সুস্পষ্ট যদুকর। তারা যাদু শক্তি খাটিয়ে তোমাদেরকে তোমাদেরই দেশ থেকে বিতাড়িত করতে চায়। এমনকি তোমাদের ধর্ম-কর্ম ও আদর্শ-বিশ্বাসকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়।
فَاَجْمِعُوْا كَیْدَكُمْ ثُمَّ ائْتُوْا صَفًّا ۚ وَ قَدْ اَفْلَحَ الْیَوْمَ مَنِ اسْتَعْلٰی 64
64. অতএব তোমরা আজ যাদুর সমস্ত কলা-কৌশল একত্র করে মোকাবেলায় নামো। দলে দলে সারিবদ্ধভাবে ময়দানে দাঁড়াও। মনে রেখো, আজ যারা জয়ী হবে তারাই জনতার উপর প্রাধান্য বিস্তার করবে।
قَالُوْا یٰمُوْسٰۤی اِمَّاۤ اَنْ تُلْقِیَ وَ اِمَّاۤ اَنْ نَّكُوْنَ اَوَّلَ مَنْ اَلْقٰی 65
65. এরপর যাদুকরেরা নামলো। তারা মুসাকে বললো, হে মুসা, তুমি কি আগে যাদুর লাঠি নিক্ষেপ করবে, নাকি আমরা আমাদের লাঠি, দড়ি নিক্ষেপ করবো?
قَالَ بَلْ اَلْقُوْا ۚ فَاِذَا حِبَالُهُمْ وَ عِصِیُّهُمْ یُخَیَّلُ اِلَیْهِ مِنْ سِحْرِهِمْ اَنَّهَا تَسْعٰی 66
66. মুসা বললো, না, ঠিক আছে, তোমরাই আগে শুরু করো। তখন ওরা যাদু নিক্ষেপ করলো। যাদুর প্রভাবে মুসার মনে হলো, ওদের দড়ি ও লাঠিগুলো সাপের মতো এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছে।
فَاَوْجَسَ فِیْ نَفْسِهٖ خِیْفَةً مُّوْسٰی 67
67. এটা দেখে মুসার মনে কিছুটা বিচলতা তৈরি হলো।
قُلْنَا لَا تَخَفْ اِنَّكَ اَنْتَ الْاَعْلٰی 68
68. আমি মুসাকে বললাম, ভয় পেয়ো না হে মুসা, তুমিই আজ বিজয়ী হবে।
وَ اَلْقِ مَا فِیْ یَمِیْنِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوْا ؕ اِنَّمَا صَنَعُوْا كَیْدُ سٰحِرٍ ؕ وَ لَا یُفْلِحُ السَّاحِرُ حَیْثُ اَتٰی 69
69. তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো। দেখবে, এটা ওদের ছোঁড়া সবকিছুকে মুহূর্তের মধ্যে গ্রাস করে নেবে। কারণ ওরা যা কিছু দেখাচ্ছে তা তো যাদুর ভেল্কিবাজী। আর যাদুকরেরা যতোই প্রস্ততি নিয়ে আসুক না কেন, আমার মোকাবেলায় ওরা সফল হতে পারবে না।
فَاُلْقِیَ السَّحَرَةُ سُجَّدًا قَالُوْۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ هٰرُوْنَ وَ مُوْسٰی 70
70. অতঃপর যাদুকরেরা হেরে সেজদায় লুটিয়ে পড়লো এবং জনসম্মুখে ঘোষণা করলো, আমরা ঈমান আনছি সেই রবের উপর যার দাওয়াত মুসা ও হারুন দিচ্ছে।
قَالَ اٰمَنْتُمْ لَهٗ قَبْلَ اَنْ اٰذَنَ لَكُمْ ؕ اِنَّهٗ لَكَبِیْرُكُمُ الَّذِیْ عَلَّمَكُمُ السِّحْرَ ۚ فَلَاُقَطِّعَنَّ اَیْدِیَكُمْ وَ اَرْجُلَكُمْ مِّنْ خِلَافٍ وَّ لَاُصَلِّبَنَّكُمْ فِیْ جُذُوْعِ النَّخْلِ ؗ وَ لَتَعْلَمُنَّ اَیُّنَاۤ اَشَدُّ عَذَابًا وَّ اَبْقٰی 71
71. ফেরাউন বললো, কী! এতো বড় সাহস! আমাকে না জিজ্ঞেস করেই ঈমানের ঘোষণা দিচ্ছো? বুঝেছি, মুসাই তোমাদের আসল গুরু। সেই তোমাদেরকে এরকম যাদু দেখানোর প্রশিক্ষণ দিয়েছিলো! দাঁড়াও! অচিরেই আমি তোমাদের বিপরীতভাবে হাত ও পা কেটে খেজুর গাছের কান্ডে শুলবিদ্ধ করে দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রাখবো। তখন টের পাবে, কার শাস্তি অনেক বেশি ভয়ানক ও দীর্ঘস্থায়ী।
قَالُوْا لَنْ نُّؤْثِرَكَ عَلٰی مَا جَآءَنَا مِنَ الْبَیِّنٰتِ وَ الَّذِیْ فَطَرَنَا فَاقْضِ مَاۤ اَنْتَ قَاضٍ ؕ اِنَّمَا تَقْضِیْ هٰذِهِ الْحَیٰوةَ الدُّنْیَاؕ 72
72. যাদুকরেরা জবাব দিলো, আমাদের কাছে আসা সুস্পষ্ট নিদর্শন ও আমাদের স্রষ্টার উপর কোনোভাবেই তোমাকে প্রাধান্য দিতে পারি না। এখন তুমি আমাদের সাথে যা খুশি করতে পারো। আর হ্যাঁ, তুমি আর কী-বা করতে পারবে! বড়জোর আমাদের এ জীবনটা শেষ করতে পারবে!
اِنَّاۤ اٰمَنَّا بِرَبِّنَا لِیَغْفِرَ لَنَا خَطٰیٰنَا وَ مَاۤ اَكْرَهْتَنَا عَلَیْهِ مِنَ السِّحْرِ ؕ وَ اللّٰهُ خَیْرٌ وَّ اَبْقٰی 73
73. তবে শুনো, আমরা আমাদের রবের উপর দৃঢ়ভাবে ঈমান এনেছি, যাতে তিনি আমাদের গুনাহ ক্ষমা করেন। আর বিশেষভাবে তুমি জোরজবরদস্তি যাদু করিয়ে যে পাপ করিয়েছো, তা ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহই শ্রেষ্ঠ, আল্লাহই চিরস্থায়ী।
اِنَّهٗ مَنْ یَّاْتِ رَبَّهٗ مُجْرِمًا فَاِنَّ لَهٗ جَهَنَّمَ ؕ لَا یَمُوْتُ فِیْهَا وَ لَا یَحْیٰی 74
74. বস্তুত লোকদের জানা উচিত, যারা অপরাধী চেহারা নিয়ে নিজ রবের সামনে হাজির হবে, তাদের পরিণতি হবে জাহান্নাম। সেখানে না ওরা মরবে আর না বাঁচবে; বরং শুধুই আযাব ভোগ করবে।
وَ مَنْ یَّاْتِهٖ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصّٰلِحٰتِ فَاُولٰٓىِٕكَ لَهُمُ الدَّرَجٰتُ الْعُلٰیۙ 75
75. অন্যদিকে যারা খাঁটি ঈমান ও সৎকর্ম নিয়ে হাজির হবে, সন্দেহ নেই, তারা সেদিন উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে।
جَنّٰتُ عَدْنٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ وَ ذٰلِكَ جَزٰٓؤُا مَنْ تَزَكّٰی۠ 76
76. তাদের আবাস হবে চিরসুখের জান্নাতে, যার পাদদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত। জান্নাতিরা চিরকালের জন্যই এ সুখ ভোগ করবে। পরিশুদ্ধ আত্মার জন্য এটাই যথার্থ পুরস্কার।
وَ لَقَدْ اَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰۤی ۙ۬ اَنْ اَسْرِ بِعِبَادِیْ فَاضْرِبْ لَهُمْ طَرِیْقًا فِی الْبَحْرِ یَبَسًا ۙ لَّا تَخٰفُ دَرَكًا وَّ لَا تَخْشٰی 77
77. এভাবে একদিন মুসাকে অহি করলাম, আমার বান্দাদের নিয়ে রাতের আঁধারে মিশর ত্যাগ করো। চলার পথে আমি তাদের জন্য তোমার লাঠির আঘাতে সাগরের বুকে শুকনো সড়ক বানিয়ে দেবো। কোনো ভয় নেই। না ওরা তোমাদেরকে পাকড়াও করতে পারবে, আর না তোমরা পানিতে ডুবে মরবে।
فَاَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ بِجُنُوْدِهٖ فَغَشِیَهُمْ مِّنَ الْیَمِّ مَا غَشِیَهُمْؕ 78
78. মুসা যাত্রা শুরু করলে খোদ্ ফেরাউন তার বিশাল বাহিনী নিয়ে মুসার পিছনে ছুটলো। কিন্তু না, ধরতে পারলো না; বরং সমুদ্রই ওদেরকে গ্রাস করে নিলো।
وَ اَضَلَّ فِرْعَوْنُ قَوْمَهٗ وَ مَا هَدٰی 79
79. আসলে ফেরাউন তার জাতিকে সত্য-সঠিক পথ দেখানোর পরিবর্তে ভ্রান্ত পথে চালিত করেছিলো।
یٰبَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ قَدْ اَنْجَیْنٰكُمْ مِّنْ عَدُوِّكُمْ وَوٰعَدْنٰكُمْ جَانِبَ الطُّوْرِ الْاَیْمَنَ وَنَزَّلْنَا عَلَیْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوٰی 80
80. হে বনি ইসরাইল, এভাবেই আমি তোমাদেরকে শত্রু হাত থেকে উদ্ধার করেছিলাম। এরপর তুর পাহাড়ের ডান পাশে থাকা অবস্থায় তোমাদেরকে কিতাব দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং তোমাদেরকে মান্না ও সালওয়া সরবরাহ করেছিলাম।
كُلُوْا مِنْ طَیِّبٰتِ مَا رَزَقْنٰكُمْ وَ لَا تَطْغَوْا فِیْهِ فَیَحِلَّ عَلَیْكُمْ غَضَبِیْ ۚ وَ مَنْ یَّحْلِلْ عَلَیْهِ غَضَبِیْ فَقَدْ هَوٰی 81
81. বলেছিলাম, তোমাদেরকে যেসব উত্তম ও পবিত্র জীবিকা দিয়েছি, তা থেকে খাও এবং পান করো। তবে সাবধান! এ ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করো না। অন্যথায় তোমরা আমার গজবে পড়বে। আর আমার গজবে পড়লে, ধ্বংস অনিবার্য।
وَ اِنِّیْ لَغَفَّارٌ لِّمَنْ تَابَ وَ اٰمَنَ وَ عَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدٰی 82
82. তবে পাপের পর যে তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং সত্যের পথে অবিচল থাকে, তার প্রতি আমি সবসময়ই ক্ষমাশীল।
وَ مَاۤ اَعْجَلَكَ عَنْ قَوْمِكَ یٰمُوْسٰی 83
83. এরপর মুসা তুর পাহাড়ে এলে আল্লাহ বললেন, হে মুসা, নিজ সম্প্রদায়কে পাহাড়ের পাশে না আনতেই কেন তাড়াহুড়ো করে এলে?
قَالَ هُمْ اُولَآءِ عَلٰۤی اَثَرِیْ وَ عَجِلْتُ اِلَیْكَ رَبِّ لِتَرْضٰی 84
84. মুসা বললো, হে আমার রব, তারা তো আমার পিছনেই আসছে। আসলে তোমার দিদার লাভের আশায় আমি তাড়াহুড়ো করেছি।
قَالَ فَاِنَّا قَدْ فَتَنَّا قَوْمَكَ مِنْۢ بَعْدِكَ وَ اَضَلَّهُمُ السَّامِرِیُّ 85
85. আল্লাহ বললেন, তা ঠিক আছে। কিন্তু তুমি চলে আসার পর তোমার সম্প্রদায় কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। এক সামেরিই তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে ফেলেছে।
فَرَجَعَ مُوْسٰۤی اِلٰی قَوْمِهٖ غَضْبَانَ اَسِفًا ۚ۬ قَالَ یٰقَوْمِ اَلَمْ یَعِدْكُمْ رَبُّكُمْ وَعْدًا حَسَنًا ؕ۬ اَفَطَالَ عَلَیْكُمُ الْعَهْدُ اَمْ اَرَدْتُّمْ اَنْ یَّحِلَّ عَلَیْكُمْ غَضَبٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ فَاَخْلَفْتُمْ مَّوْعِدِیْ 86
86. নির্দিষ্ট সময় পর মুসা ফিরে এলো। সে তখন জাতির এ আচরণে প্রচন্ড ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত ছিলো। সে তাদের বললো, তোমাদের রব কি তোমাদের সাথে এক অতি উত্তম প্রতিশ্রুতি দেননি? সে-ই প্রতিশ্রুতি পূরণের এ সময়টুকু কি তোমাদের কাছে অনেক লম্বা মনে হয়েছে? নাকি তোমরা নিজেদেরকে আল্লাহর গজবের পাত্র বানাতে চাও? তাহলে কেন তোমরা আমায় দেয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে?
قَالُوْا مَاۤ اَخْلَفْنَا مَوْعِدَكَ بِمَلْكِنَا وَ لٰكِنَّا حُمِّلْنَاۤ اَوْزَارًا مِّنْ زِیْنَةِ الْقَوْمِ فَقَذَفْنٰهَا فَكَذٰلِكَ اَلْقَی السَّامِرِیُّۙ 87
87. লোকেরা জবাব দিলো, আসলে আমরা ইচ্ছা করে এ অঙ্গীকার ভঙ্গ করিনি। ঘটনা হলো, যাত্রাপথে লোকদের অলংকারের বোঝায় আমরা ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ছিলাম। তাই আমরা ঐ অলংকারগুলো আগুনে পুড়িয়ে একসাথ করে নিতে চাইছিলাম। আর আমাদের অলংকারের সাথে ঐ সামেরিও তার অলংকার আগুনে নিক্ষেপ করেছিলো।
فَاَخْرَجَ لَهُمْ عِجْلًا جَسَدًا لَّهٗ خُوَارٌ فَقَالُوْا هٰذَاۤ اِلٰهُكُمْ وَ اِلٰهُ مُوْسٰی ۬ فَنَسِیَؕ 88
88. কিন্তু এরপর সামেরি ঐ গলানো স্বর্ণ থেকে একটি গো-বাছুরের মূর্তি তৈরি করে আনলো, যেটি আমাদের সামনে গরুর মতো হাম্বা-হাম্বা করতে লাগলো। এ দৃশ্য দেখে কিছু লোক বললো, এই তো তোমাদের আসল খোদা। আর হ্যাঁ, এ তো মুসারও খোদা, যদিও মুসা এখন এ খোদাকে ভুলে গেছে।
اَفَلَا یَرَوْنَ اَلَّا یَرْجِعُ اِلَیْهِمْ قَوْلًا ۙ۬ وَّ لَا یَمْلِكُ لَهُمْ ضَرًّا وَّ لَا نَفْعًا۠ 89
89. হায়! এরা একটুও ভেবে দেখলো না যে, এ মূর্তিটা এদের কোনো কথারই জবাব দিতে পারছে না এবং এদের সামান্য ক্ষতি কিংবা উপকার করার ক্ষমতাও রাখছে না।
وَ لَقَدْ قَالَ لَهُمْ هٰرُوْنُ مِنْ قَبْلُ یٰقَوْمِ اِنَّمَا فُتِنْتُمْ بِهٖ ۚ وَ اِنَّ رَبَّكُمُ الرَّحْمٰنُ فَاتَّبِعُوْنِیْ وَ اَطِیْعُوْۤا اَمْرِیْ 90
90. মুসা ফিরে আসার আগেই হারুন অবশ্য জাতির লোকদের বলেছিলো, হে আমার লোকেরা, এ স্বর্ণের বাছুরের দ্বারা তোমরা মারাত্মক পরীক্ষার মধ্যে পড়েছো। অবশ্য তোমাদের রব বড়ই দয়াময়। কাজেই এখন তোমরা আমাকে অনুসরণ করো এবং আমার নির্দেশ মেনে নাও।
قَالُوْا لَنْ نَّبْرَحَ عَلَیْهِ عٰكِفِیْنَ حَتّٰی یَرْجِعَ اِلَیْنَا مُوْسٰی 91
91. কিন্তু ওরা তাকে বলে দিলো, না, বরং মুসা ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা এ বাছুরের উপাসনা করেই যাবো।
قَالَ یٰهٰرُوْنُ مَا مَنَعَكَ اِذْ رَاَیْتَهُمْ ضَلُّوْۤاۙ 92
92. এরপর মুসা তার ভাইকে বললো, হে হারুন, তুমি যখন দেখলে ওরা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে, তখন ওদের সঙ্গ ছাড়লে না কেন?
اَلَّا تَتَّبِعَنِ ؕ اَفَعَصَیْتَ اَمْرِیْ 93
93. কেন আমায় অনুসরণ করলে না? নাকি তুমিও ওদের মতো আমার নির্দেশ অমান্য করেছো?
قَالَ یَبْنَؤُمَّ لَا تَاْخُذْ بِلِحْیَتِیْ وَ لَا بِرَاْسِیْ ۚ اِنِّیْ خَشِیْتُ اَنْ تَقُوْلَ فَرَّقْتَ بَیْنَ بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ وَ لَمْ تَرْقُبْ قَوْلِیْ 94
94. হারুন বললো, হে আমার ভাই, সবার সামনে দাড়ি-চুল ধরে টেনে আমায় অপমানিত করো না। আসলে আমার আশঙ্কা হয়েছিলো, আমি যদি কোনো শক্ত পদক্ষেপ নিতাম, তবে তুমি এসে অবস্থা দেখে বলতে, তুমি বনি ইসরাইলের মধ্যেও তো দেখছি গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে দিয়েছো! তখন তুমি ভাবতে, আমি তোমার নির্দেশনা মেনে চলিনি।
قَالَ فَمَا خَطْبُكَ یٰسَامِرِیُّ 95
95. এরপর মুসা মুখ ফিরিয়ে সামেরিকে জিজ্ঞেস করলো, বলো, এ ব্যাপারে তোমার ভ‚মিকা কী ছিলো?
قَالَ بَصُرْتُ بِمَا لَمْ یَبْصُرُوْا بِهٖ فَقَبَضْتُ قَبْضَةً مِّنْ اَثَرِ الرَّسُوْلِ فَنَبَذْتُهَا وَ كَذٰلِكَ سَوَّلَتْ لِیْ نَفْسِیْ 96
96. সামেরি বললো, আসলে আমি যা দেখেছি তা জাতির অন্যরা দেখেনি। আমি রসুলের পদচিহ্ন থেকে একমুষ্ঠি আগুনে নিক্ষেপ করেছিলাম। আমার মনে এ কাজ করার ঝোঁক তৈরি হয়েছিলো, তাই করেছি।
قَالَ فَاذْهَبْ فَاِنَّ لَكَ فِی الْحَیٰوةِ اَنْ تَقُوْلَ لَا مِسَاسَ ۪ وَ اِنَّ لَكَ مَوْعِدًا لَّنْ تُخْلَفَهٗ ۚ وَ انْظُرْ اِلٰۤی اِلٰهِكَ الَّذِیْ ظَلْتَ عَلَیْهِ عَاكِفًا ؕ لَنُحَرِّقَنَّهٗ ثُمَّ لَنَنْسِفَنَّهٗ فِی الْیَمِّ نَسْفًا 97
97. মুসা জবাব শুনে বললো, দূর হ এখান থেকে! এখন থেকে আমৃত্যু তুই শুধু একথাই বলবি যে, আমাকে ছুঁয়ো না, আমি অস্পৃশ্য। আর পরকালে তো তোর জন্য কঠিন আযাবের ওয়াদা রয়েছে, যা রদ হবে না। আর দেখ, আমি এখন তোর পূজনীয় খোদার কী হাল করি। আমি তোর চোখের সামনেই এটাকে পুড়িয়ে ছাই বানিয়ে ফেলবো। অতঃপর সে ছাই সাগরে বিক্ষিপ্তভাবে ডুবিয়ে দেবো।
اِنَّمَاۤ اِلٰهُكُمُ اللّٰهُ الَّذِیْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؕ وَسِعَ كُلَّ شَیْءٍ عِلْمًا 98
98. হে মানুষ, আল্লাহই একমাত্র তোমাদের ইলাহ। তিনি ছাড়া তোমাদের ভিন্ন কোনো ইলাহ নেই। সবকিছুই তাঁর জ্ঞানের আওতধীন।
كَذٰلِكَ نَقُصُّ عَلَیْكَ مِنْ اَنْۢبَآءِ مَا قَدْ سَبَقَ ۚ وَ قَدْ اٰتَیْنٰكَ مِنْ لَّدُنَّا ذِكْرًاۖۚ 99
99. হে নবী, এভাবেই আমি তোমাকে অতীতের অনেক ঘটনা শুনাচ্ছি। তাছাড়া তোমাকে আমার নিজের পক্ষ থেকে অনেক উপদেশও দিচ্ছি।
مَنْ اَعْرَضَ عَنْهُ فَاِنَّهٗ یَحْمِلُ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ وِزْرًاۙ 100
100. জেনে রেখো, যারা এ উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, বিচারের দিন তারা পাপের দুর্বিষহ এক ভারি বোঝা বহন করবে।
خٰلِدِیْنَ فِیْهِ ؕ وَ سَآءَ لَهُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ حِمْلًاۙ 101
101. আসলে ওরা অনন্তকালের জন্য দুর্ভোগ পোহাবে। হায়! কিয়ামতের দিন ওদের পাপের বোঝাটা কতোইনা কষ্টদায়ক হবে!
یَّوْمَ یُنْفَخُ فِی الصُّوْرِ وَ نَحْشُرُ الْمُجْرِمِیْنَ یَوْمَىِٕذٍ زُرْقًاۚۖ 102
102. যেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে, সেদিন বিচারের ময়দানে সমবেত অপরাধীদের দুচোখ ভয়-আতঙ্কে সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন হয়ে পড়বে।
یَّتَخَافَتُوْنَ بَیْنَهُمْ اِنْ لَّبِثْتُمْ اِلَّا عَشْرًا 103
103. ওরা পরস্পর কানাঘুষা করে বলবে, হায়! দুনিয়ায় তোমরা বড়জোর দশটা দিন কাটিয়ে এসেছো।
نَحْنُ اَعْلَمُ بِمَا یَقُوْلُوْنَ اِذْ یَقُوْلُ اَمْثَلُهُمْ طَرِیْقَةً اِنْ لَّبِثْتُمْ اِلَّا یَوْمًا۠ 104
104. হে নবী, আমি ভালো করেই জানি, ওরা তখন কী সব কথাবার্তা বলে চলবে। ওদের মধ্যে যে অধিকতর বুদ্ধিমান অনুমানকারী, সে বলবে, না; বরং তোমরা সেখানে বড়জোর একদিন অবস্থান করেছিলে।
وَ یَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ الْجِبَالِ فَقُلْ یَنْسِفُهَا رَبِّیْ نَسْفًاۙ 105
105. হে নবী, ওরা তোমায় জিজ্ঞেস করছে, মহাপ্রলয়ের দিনে পাহাড়গুলোর অবস্থা কী হবে? বলে দাও, আমার রব এগুলোকে বালুকণায় পরিণত করে বাতাসে উড়িয়ে দেবেন।
فَیَذَرُهَا قَاعًا صَفْصَفًاۙ 106
106. সেদিন জমিনকে মসৃণ সমতল ময়দানে রূপান্তরিত করবেন।
لَّا تَرٰی فِیْهَا عِوَجًا وَّ لَاۤ اَمْتًاؕ 107
107. তুমি সেখানে কোনো উঁচু-নিচু বা আঁকাবাঁকা খুঁজে পাবে না।
یَوْمَىِٕذٍ یَّتَّبِعُوْنَ الدَّاعِیَ لَا عِوَجَ لَهٗ ۚ وَ خَشَعَتِ الْاَصْوَاتُ لِلرَّحْمٰنِ فَلَا تَسْمَعُ اِلَّا هَمْسًا 108
108. বিচারের দিন প্রত্যেকেই ঠিকঠাকভাবে ঘোষকের নির্দেশনা অনুসরণ করে চলবে। কোনো ধরনের এদিক-সেদিক করার সুযোগ থাকবে না। দয়াময়ের সামনে প্রতিটি কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে যাবে। অস্পষ্ট পদধ্বনি ছাড়া আর কোনো কিছুই শুনতে পাবে না।
یَوْمَىِٕذٍ لَّا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ اِلَّا مَنْ اَذِنَ لَهُ الرَّحْمٰنُ وَ رَضِیَ لَهٗ قَوْلًا 109
109. সেদিন দয়াময় যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথা তাঁর মনঃপুত হবে, কেবল সে ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো সুপারিশ করার ক্ষমতা থাকবে না।
یَعْلَمُ مَا بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَ مَا خَلْفَهُمْ وَ لَا یُحِیْطُوْنَ بِهٖ عِلْمًا 110
110. মানুষের সামনে বা পিছনে যা কিছুই রয়েছে আল্লাহ তার সবই জানেন। অথচ মানুষ! কখনোই আল্লাহকে তাদের জ্ঞানের আয়ত্তে আনতে পারে না।
وَ عَنَتِ الْوُجُوْهُ لِلْحَیِّ الْقَیُّوْمِ ؕ وَ قَدْ خَابَ مَنْ حَمَلَ ظُلْمًا 111
111. সেদিন চিরঞ্জীব ও সর্বসত্তার ধারক মহান আল্লাহর সামনে প্রত্যেকেই মাথা নত করে থাকবে। কাজেই সেদিন যে পাপের ভার বহন করে উঠবে, সে সত্যিই ব্যর্থ হবে।
وَ مَنْ یَّعْمَلْ مِنَ الصّٰلِحٰتِ وَ هُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا یَخٰفُ ظُلْمًا وَّ لَا هَضْمًا 112
112. তবে যারা ঈমান ও সৎকর্ম নিয়ে হাজির হবে, তাদের জন্য কোনো অবিচার বা অধিকার হরণের আশঙ্কা নেই।
وَ كَذٰلِكَ اَنْزَلْنٰهُ قُرْاٰنًا عَرَبِیًّا وَّ صَرَّفْنَا فِیْهِ مِنَ الْوَعِیْدِ لَعَلَّهُمْ یَتَّقُوْنَ اَوْ یُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْرًا 113
113. হে নবী, আমি এভাবেই এ কুরআনকে আরবি ভায়ায় নাযিল করেছি এবং এর মধ্যে বিশদভাবে আমার সতর্কবাণীসমূহ বর্ণনা করেছি, যাতে মানুষ আল্লহভীরু হতে পারে কিংবা এটা থেকে জীবনের জন্য উপদেশ নিতে পারে।
فَتَعٰلَی اللّٰهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ ۚ وَ لَا تَعْجَلْ بِالْقُرْاٰنِ مِنْ قَبْلِ اَنْ یُّقْضٰۤی اِلَیْكَ وَحْیُهٗ ؗ وَ قُلْ رَّبِّ زِدْنِیْ عِلْمًا 114
114. আল্লাহ মহা মহীয়ান। সব কিছুর প্রকৃত মালিক তিনিই। হে নবী, তোমার উপর এ কুরআনের কোনো বাণী সম্পূর্ণভাবে নাযিল সম্পন্ন হওয়ার আগেই তা শুনানোর জন্য তাড়াহুড়ো করো না। আর দোয়া করো, হে আমার রব, আমাকে আরো জ্ঞান দান করো।
وَ لَقَدْ عَهِدْنَاۤ اِلٰۤی اٰدَمَ مِنْ قَبْلُ فَنَسِیَ وَ لَمْ نَجِدْ لَهٗ عَزْمًا۠ 115
115. আমি অবশ্য আদমের প্রতিও একটি নির্দেশ জারি করেছিলাম। কিন্তু সে আমার নির্দেশের কথা ভুলে গিয়েছিলো। আমি সে সময় তার মধ্যে দৃঢ়-সংকল্প দেখতে পাাইনি।
وَ اِذْ قُلْنَا لِلْمَلٰٓىِٕكَةِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْۤا اِلَّاۤ اِبْلِیْسَ ؕ اَبٰی 116
116. স্মরণ করো, আমি যখন ফেরেশতাদের হুকুম করলাম, আদমের সামনে সেজদাবনত হও, তখন সব ফেরেশতাই সেজদা করলো; কিন্তু ইবলিস অমান্য করলো।
فَقُلْنَا یٰۤاٰدَمُ اِنَّ هٰذَا عَدُوٌّ لَّكَ وَ لِزَوْجِكَ فَلَا یُخْرِجَنَّكُمَا مِنَ الْجَنَّةِ فَتَشْقٰی 117
117. এরপর আমি আদমকে বললাম, হে আদম, দেখলে তো ইবলিস তোমার ও তোমার স্ত্রীর কতোবড় দুশমন! কাজেই ওর ব্যাপারে সতর্ক থেকো। কোনোভাবেই যেন সে তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে নিতে না পারে। কেননা বের হয়ে গেলে তোমরা দারুণ দুঃখ-কষ্টে পতিত হবে।
اِنَّ لَكَ اَلَّا تَجُوْعَ فِیْهَا وَ لَا تَعْرٰیۙ 118
118. আর হ্যাঁ, এ জান্নাতে তোমরা কখনো খাবারের অভাবে ক্ষুধার্ত থাকবে না কিংবা পোশাকের অভাবে উলঙ্গও হবে না।
وَ اَنَّكَ لَا تَظْمَؤُا فِیْهَا وَ لَا تَضْحٰی 119
119. এমনকি পিপাসা কিংবা গরম কোনোটাই তোমাদের স্পর্শ করবে না।
فَوَسْوَسَ اِلَیْهِ الشَّیْطٰنُ قَالَ یٰۤاٰدَمُ هَلْ اَدُلُّكَ عَلٰی شَجَرَةِ الْخُلْدِ وَ مُلْكٍ لَّا یَبْلٰی 120
120. অতঃপর শয়তান কৌশলে আদমকে কুমন্ত্রণা দিলো। সে আদমকে প্রলুব্ধ করে বললো, হে আদম, আমি কি তোমাকে অমর জীবন ও অক্ষয় রাজত্ব দানকারী গাছের কথা জানাবো?
فَاَكَلَا مِنْهَا فَبَدَتْ لَهُمَا سَوْاٰتُهُمَا وَ طَفِقَا یَخْصِفٰنِ عَلَیْهِمَا مِنْ وَّرَقِ الْجَنَّةِ ؗ وَ عَصٰۤی اٰدَمُ رَبَّهٗ فَغَوٰی۪ۖ 121
121. এভাবেই শয়তানের ধোঁকায় আদম ও তার স্ত্রী ঐ নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়ে বসলো। মুহূর্তের মধ্যেই তারা পোশাকহীন হয়ে পড়লো এবং দু’জনেই তখন বাগানের গাছের পাতা দিয়ে নিজেদেরকে আড়াল করতে লাগলো। আসলে আদম তার রবের হুকুম লঙ্ঘন করলো। ফলে সে সঠিক পথ হারিয়ে বসলো।
ثُمَّ اجْتَبٰهُ رَبُّهٗ فَتَابَ عَلَیْهِ وَ هَدٰی 122
122. যাইহোক এরপর তার রব তাকে আবারো প্রিয় হিসেবে বাছাই করে নিলেন। তার অনুশোচনা কবুল করে ক্ষমাপরায়ন হলেন এবং তাকে সত্য-সঠিক পথ দেখালেন।
قَالَ اهْبِطَا مِنْهَا جَمِیْعًۢا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۚ فَاِمَّا یَاْتِیَنَّكُمْ مِّنِّیْ هُدًی ۙ۬ فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَایَ فَلَا یَضِلُّ وَ لَا یَشْقٰی 123
123. আল্লাহ বললেন, এখন তোমরা সবাই একসাথে জান্নাত থেকে দুনিয়ায় চলে যাও। সেখানেও শয়তান ও তোমরা পরস্পরের শত্রু থাকবে। পরে তোমাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে সঠিক পথনির্দেশ যাবে। তোমাদের যারা তা অনুসরণ করে চলবে, তারা বিভ্রান্তি ও দুর্যোগ থেকে বেঁচে যাবে।
وَ مَنْ اَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِیْ فَاِنَّ لَهٗ مَعِیْشَةً ضَنْكًا وَّ نَحْشُرُهٗ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ اَعْمٰی 124
124. আর যারা আমার সে পথনির্দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, তাদের পার্থিব জীবন হবে সুখহীন-সংকীর্ণ এবং মহাবিচারের দিন তাদেরকে অন্ধ করে তোলা হবে ।
قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِیْۤ اَعْمٰی وَ قَدْ كُنْتُ بَصِیْرًا 125
125. সেদিন সে বলবে, হে আমার রব, আমাকে আজ অন্ধ করে উঠালে কেন? অথচ আমি তো দুনিয়ায় চক্ষুষ্মান ছিলাম।
قَالَ كَذٰلِكَ اَتَتْكَ اٰیٰتُنَا فَنَسِیْتَهَا ۚ وَ كَذٰلِكَ الْیَوْمَ تُنْسٰی 126
126. আল্লাহ বলবেন, হ্যাঁ, তুমি তো দুনিয়ায় এমন অন্ধই ছিলে। ভেবে দেখো, তোমার কাছে আমার আয়াত এসেছিলা; অথচ তুমি তার প্রতি দৃষ্টি দাওনি। তাই আজ আমিও তোমাকে ভুলে গেলাম।
وَ كَذٰلِكَ نَجْزِیْ مَنْ اَسْرَفَ وَ لَمْ یُؤْمِنْۢ بِاٰیٰتِ رَبِّهٖ ؕ وَ لَعَذَابُ الْاٰخِرَةِ اَشَدُّ وَ اَبْقٰی 127
127. কাজেই ভালোকরে জেনে রেখো, যারা দুনিয়ায় তাদের রবের আয়াতকে অস্বীকার করবে এবং সীমালঙ্ঘন করে চলবে তাদেরকে আমি এভাবেই কঠিন শাস্তি দেবো। বস্তুত পরকালের শাস্তি হবে বড়ই কঠিন ও দীর্ঘস্থায়ী।
اَفَلَمْ یَهْدِ لَهُمْ كَمْ اَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِّنَ الْقُرُوْنِ یَمْشُوْنَ فِیْ مَسٰكِنِهِمْ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی النُّهٰی۠ 128
128. আমি তো ওদের পূর্ববর্তী বহু মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছি। সেসব ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদের আশপাশ দিয়েই আজ ওরা চলাচল করছে। অথচ কী দুর্ভাগ্য! এসব বিপর্যয়ের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ওরা সৎপথে আসে না। আসলে যাদের বুদ্ধি-বিবেক ধ্বংস হয়ে গেছে, তারা এ থেকে শিক্ষা নিতে পারে না।
وَ لَوْ لَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَّبِّكَ لَكَانَ لِزَامًا وَّ اَجَلٌ مُّسَمًّیؕ 129
129. হে নবী, এসব সত্য অস্বীকারকারীদের ব্যাপারে যদি তোমার রবের পক্ষ থেকে একটি পূর্বঘোষণা ও নির্ধারিত সময় ঠিক করা না থাকতো, তবে বহু আগেই ওদের উপর কঠিন শাস্তি এসে যেতো।
فَاصْبِرْ عَلٰی مَا یَقُوْلُوْنَ وَ سَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوْعِ الشَّمْسِ وَ قَبْلَ غُرُوْبِهَا ۚ وَ مِنْ اٰنَآئِ الَّیْلِ فَسَبِّحْ وَ اَطْرَافَ النَّهَارِ لَعَلَّكَ تَرْضٰی 130
130. কাজেই সত্যের এসব দুশমনেরা যা-ই বলুক না কেন, হে নবী, তুমি ধৈর্যের সাথে কাজ চালিয়ে যাও। আর তোমার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে, রাতের কিছু অংশে এবং দিনের দুই প্রান্তে। হয়তো এতে তুমি পরিতৃপ্ত ও সন্তুষ্ট হতে পারবে।
وَ لَا تَمُدَّنَّ عَیْنَیْكَ اِلٰی مَا مَتَّعْنَا بِهٖۤ اَزْوَاجًا مِّنْهُمْ زَهْرَةَ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۙ۬ لِنَفْتِنَهُمْ فِیْهِ ؕ وَ رِزْقُ رَبِّكَ خَیْرٌ وَّ اَبْقٰی 131
131. আর হে নবী, কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি করার জন্য আমি ওদের কাউকে কাউকে দুনিয়ার জীবনে জাঁকজমক ও বিলাসিতার উপকরণ দিয়েছি। সুতরাং তার দিকে কখনো আকাঙ্খিত হয়ো না; বরং তোমার রবের দেয়া হালাল জীবনোপকরণই বরকতময় এবং অধিক স্থায়ী।
وَ اْمُرْ اَهْلَكَ بِالصَّلٰوةِ وَ اصْطَبِرْ عَلَیْهَا ؕ لَا نَسْـَٔلُكَ رِزْقًا ؕ نَحْنُ نَرْزُقُكَ ؕ وَ الْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوٰی 132
132. অতএব তুমি তোমার পরিবার-পরিজনকে নামাজের আদেশ দাও এবং নিজে নামাজের উপর কায়েম থাকো। মনে রেখো, আমি কখনোই তোমার কাছে রিযিক চাইনি; বরং আমিই তোমার রিযিক সরবরাহ করে থাকি। আর সবশেষে মুত্তাকীরাই শুভ পরিণতি লাভ করবে।
وَ قَالُوْا لَوْ لَا یَاْتِیْنَا بِاٰیَةٍ مِّنْ رَّبِّهٖ ؕ اَوَ لَمْ تَاْتِهِمْ بَیِّنَةُ مَا فِی الصُّحُفِ الْاُوْلٰی 133
133. এরপরেও সত্য অস্বীকারকারীরা বলে, সে যদি সত্যিই নবী হবে, তবে তার রবের পক্ষ থেকে কোনো অলৌকিক নিদর্শন এনে আমাদেরকে দেখায় কেন না? আচ্ছা! ওরা কি ভেবে দেখে না যে, পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবগুলোর শিক্ষা ও বর্ণনা আমার এ কিতাবে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, এটা কি এক নিদর্শন নয়?
وَ لَوْ اَنَّاۤ اَهْلَكْنٰهُمْ بِعَذَابٍ مِّنْ قَبْلِهٖ لَقَالُوْا رَبَّنَا لَوْ لَاۤ اَرْسَلْتَ اِلَیْنَا رَسُوْلًا فَنَتَّبِعَ اٰیٰتِكَ مِنْ قَبْلِ اَنْ نَّذِلَّ وَ نَخْزٰی 134
134. আমি যদি ওদের কাছে রসুল পাঠানোর পূর্বেই শাস্তি দিয়ে ওদেরকে ধ্বংস করে দিতাম, তবে ওরাই আবার মহাবিচারের দিন অভিযোগ করে বলতো, হে আমাদের রব, তুমি আমাদের কাছে একজন রসুল পাঠালে না কেন? পাঠালে তো লাঞ্ছিত-অপমানিত হওয়ার আগেই আমরা তোমার বিধি-বিধান মেনে চলতাম।
قُلْ كُلٌّ مُّتَرَبِّصٌ فَتَرَبَّصُوْا ۚ فَسَتَعْلَمُوْنَ مَنْ اَصْحٰبُ الصِّرَاطِ السَّوِیِّ وَ مَنِ اهْتَدٰی۠ 135
135. হে নবী, ওদেরকে বলে দাও, আমরা প্রত্যেকেই কাজের পরিণতি দেখার অপেক্ষায় আছি। অতএব তোমরাও অপেক্ষা করো। শীঘ্রই জানতে পারবে কারা সরল পথে রয়েছে এবং হেদায়াত প্রাপ্ত হয়েছে।