21. আল আম্বিয়া

اِقْتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُهُمْ وَ هُمْ فِیْ غَفْلَةٍ مُّعْرِضُوْنَۚ 1
1. মানুষের হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে দেবার সময় খুবই কাছে এসে গেছে; অথচ তারা এখনো উদাসীন হয়ে সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে আছে।
مَا یَاْتِیْهِمْ مِّنْ ذِكْرٍ مِّنْ رَّبِّهِمْ مُّحْدَثٍ اِلَّا اسْتَمَعُوْهُ وَ هُمْ یَلْعَبُوْنَۙ 2
2. হায়! যখনই ওদের কাছে ওদের রবের পক্ষ থেকে কোনো নতুন উপদেশবাণী আসে, তখনই ওরা অবজ্ঞার সাথে তা নিয়ে হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠে।
لَاهِیَةً قُلُوْبُهُمْ ؕ وَ اَسَرُّوا النَّجْوَی ۖۗ الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا ۖۗ هَلْ هٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ ۚ اَفَتَاْتُوْنَ السِّحْرَ وَ اَنْتُمْ تُبْصِرُوْنَ 3
3. ওরা দুনিয়ার চিন্তায় মশগুল হয়ে পড়েছে। এসব সীমালঙ্ঘনকারী পাপিষ্ঠরা সলা-পরামর্শ করে একযোগে বলে, আরে! সে তো তোমাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ; তবুও কি তোমরা দেখে-শুনে তার মায়াবী কথার যাদুতে ফেঁসে যাবে?
قٰلَ رَبِّیْ یَعْلَمُ الْقَوْلَ فِی السَّمَآءِ وَ الْاَرْضِ ؗ وَ هُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ 4
4. রসুল ওদের জবাবে এ কথাই বলতেন যে, তোমরা আকাশে কিংবা জমিনে যেখানেই যা কিছু বলো না কেন, আমার রব তার সবই জানেন। বস্তুত তিনি সব শোনেন, সব জানেন।
بَلْ قَالُوْۤا اَضْغَاثُ اَحْلَامٍۭ بَلِ افْتَرٰىهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ ۖۚ فَلْیَاْتِنَا بِاٰیَةٍ كَمَاۤ اُرْسِلَ الْاَوَّلُوْنَ 5
5. ওরা কখনো বলে, সে যেসব আজেবাজে স্বপ্ন দেখে, তাকেই কুরআন বলছে। আবার কখনো বলে, আসলে সে নিজেই এসব রচনা করে আল্লাহর নামে চালিয়ে দিচ্ছে। আবার কখনো বলে, না! আসলে সে তো এক জবরদস্ত কবি। সে যদি সত্যিই নবী হবে তবে আগের সব নবীদের মতো কিছু নিদর্শন এনে আমাদের দেখাক।
مَاۤ اٰمَنَتْ قَبْلَهُمْ مِّنْ قَرْیَةٍ اَهْلَكْنٰهَا ۚ اَفَهُمْ یُؤْمِنُوْنَ 6
6. অথচ ওদের পূর্বে আমি যেসব জনপদ ধ্বংস করেছি, তারা আমার নিদর্শন দেখেও ঈমান আনেনি। এখন কি নিদর্শন দেখালে, ওরা ঈমান আনবে বলে মনে হয়?
وَ مَاۤ اَرْسَلْنَا قَبْلَكَ اِلَّا رِجَالًا نُّوْحِیْۤ اِلَیْهِمْ فَسْـَٔلُوْۤا اَهْلَ الذِّكْرِ اِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ 7
7. হে নবী, আমি তোমার আগে যাদেরকে অহি দিয়েছি, তাদের প্রত্যেকেই ছিলো মানুষ। ওদেরকে বলো, তোমরা এ বিষয়টা না জানলে পূর্ববর্তী কিতাবীদের জিজ্ঞেস করে দেখো।
وَ مَا جَعَلْنٰهُمْ جَسَدًا لَّا یَاْكُلُوْنَ الطَّعَامَ وَ مَا كَانُوْا خٰلِدِیْنَ 8
8. সে রসুলেরা অন্যান্য মানুষের মতোই দৈহিক আকৃতি-প্রকৃতির ছিলো। তারা খাবার খেতো এবং অন্যদের মতো একসময় মারাও যেতো।
ثُمَّ صَدَقْنٰهُمُ الْوَعْدَ فَاَنْجَیْنٰهُمْ وَ مَنْ نَّشَآءُ وَ اَهْلَكْنَا الْمُسْرِفِیْنَ 9
9. ইতিহাস দেখো, শেষ পর্যন্ত আমি ঐ রসুলদের দেয়া আমার আযাবের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছি। আমি তাদের এবং যাদের চেয়েছি, আযাব থেকে উদ্ধার করেছি। আর অবাধ্য পাপীদের নাম-নিশানাও ধ্বংস করে দিয়েছি।
لَقَدْ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكُمْ كِتٰبًا فِیْهِ ذِكْرُكُمْ ؕ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ۠ 10
10. হে মানুষ, আমি তোমাদের জন্যেই এ কিতাব নাযিল করেছি। এতে রয়েছে তোমাদের জন্য উপদেশ। এরপরেও কি বুঝবে না?
وَ كَمْ قَصَمْنَا مِنْ قَرْیَةٍ كَانَتْ ظَالِمَةً وَّ اَنْشَاْنَا بَعْدَهَا قَوْمًا اٰخَرِیْنَ 11
11. ইতিহাস সাক্ষী, আমি বহু অত্যাচারী জনবসতিকে ধ্বংস করে গুড়িয়ে দিয়েছি এবং ওদের স্থলে নতুন জাতির উত্থান ঘটিয়েছি।
فَلَمَّاۤ اَحَسُّوْا بَاْسَنَاۤ اِذَا هُمْ مِّنْهَا یَرْكُضُوْنَؕ 12
12. ঐসব জালেমেরা যখন আমার আযাব টের পেলো, তখন ওরা জনপদ ছেড়ে পালাতে লাগলো।
لَا تَرْكُضُوْا وَ ارْجِعُوْۤا اِلٰی مَاۤ اُتْرِفْتُمْ فِیْهِ وَ مَسٰكِنِكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْـَٔلُوْنَ 13
13. তখন ওদের বলা হলো, পালাচ্ছো কেন? লাভ নেই। বরং এতোদিন তোমরা যে ঘর-বাড়ি ও আমোদ-ফুর্তির মধ্যে ছিলে, সেখানেই পড়ে থাকো। আজ তোমাদের এমন পরিণতি হবে, যা দেখে পরবর্তীরা শিক্ষা নিবে।
قَالُوْا یٰوَیْلَنَاۤ اِنَّا كُنَّا ظٰلِمِیْنَ 14
14. সেদিন ওরা আর্তনাদ করে বলছিলো, হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! আসলেই আমরা সীমালঙ্ঘনকারী ছিলাম।
فَمَا زَالَتْ تِّلْكَ دَعْوٰىهُمْ حَتّٰی جَعَلْنٰهُمْ حَصِیْدًا خٰمِدِیْنَ 15
15. আফসোস! সেদিন ওরা আর্তনাদ করতেই ছিলো, যতক্ষণ না আমি ওদেরকে কুচিকুচি শস্য দানা কিংবা নির্বাপিত আগুনের ছাইভস্মের মতো স্তব্ধ করে দিয়েছি।
وَ مَا خَلَقْنَا السَّمَآءَ وَ الْاَرْضَ وَ مَا بَیْنَهُمَا لٰعِبِیْنَ 16
16. ওদের জানা উচিত, মহাকাশ ও পৃথিবী এবং এ দু’য়ের মাঝে যা কিছু রয়েছে আমি এর কোনোটাই খেলার জন্য সৃষ্টি করিনি।
لَوْ اَرَدْنَاۤ اَنْ نَّتَّخِذَ لَهْوًا لَّاتَّخَذْنٰهُ مِنْ لَّدُنَّاۤ ۖۗ اِنْ كُنَّا فٰعِلِیْنَ 17
17. আমার যদি সত্যিই খেলার শখ থাকতো, তবে এসব কেন, আমার কাছে ভিন্ন উপায়-উপকরণও রয়েছে। কিন্তু না! আমি খেলতে চাইনি।
بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَی الْبَاطِلِ فَیَدْمَغُهٗ فَاِذَا هُوَ زَاهِقٌ ؕ وَ لَكُمُ الْوَیْلُ مِمَّا تَصِفُوْنَ 18
18. বরং তোমরা এ সৃষ্টি জগতের ব্যবস্থাপনা খেয়াল করো, এখানে প্রতিনিয়তই সত্য মিথ্যার উপর আঘাত হানছে। মিথ্যাকে চুর্ণবিচুর্ণ করে দিচ্ছে। এমনকি মিথ্যা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। হায়! এ সত্য অস্বীকারকারীরা যে মিথ্যাচার করছে, তার জন্য ওদের দুর্ভোগ অবশ্যম্ভাবী।
وَ لَهٗ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ وَ مَنْ عِنْدَهٗ لَا یَسْتَكْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِهٖ وَ لَا یَسْتَحْسِرُوْنَۚ 19
19. মহাকাশ ও পৃথিবীতে যত সৃষ্টি আছে, সবই আল্লাহর। আর তাঁর নৈকট্যশীল ফেরেশতারা তার জন্য সর্বদা অক্লান্ত ইবাদতে মগ্ন রয়েছে। এর জন্য তাদের মধ্যে অহংকারের ছিটে ফোটাও নেই।
یُسَبِّحُوْنَ الَّیْلَ وَ النَّهَارَ لَا یَفْتُرُوْنَ 20
20. তারা রাত-দিন সদা সর্বদা বিরতিহীনভাবে তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা জপ করছে।
اَمِ اتَّخَذُوْۤا اٰلِهَةً مِّنَ الْاَرْضِ هُمْ یُنْشِرُوْنَ 21
21. এসব সত্য অস্বীকারকারীরা আবার কিছু মাটির তৈরি মূর্তিকেও নিজেদের উপাস্য হিসাবে মানে। আচ্ছা! এসব দেবতারা কি কোনো নিষ্প্রাণ জিনিসে প্রাণ দিতে পারে?
لَوْ كَانَ فِیْهِمَاۤ اٰلِهَةٌ اِلَّا اللّٰهُ لَفَسَدَتَا ۚ فَسُبْحٰنَ اللّٰهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا یَصِفُوْنَ 22
22. ওরা কি চিন্তা করে না যে, মহাকাশ ও পৃথিবীতে যদি এক আল্লাহ ছাড়া অন্য আরো ইলাহ থাকতো, তবে তো তাদের মধ্যকার সংঘর্ষে-সংঘর্ষে এ মহাবিশ্বের সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যেতো। সুবহানাল্লহ! ওদের মিথ্যাচার থেকে আরশের রব মহান আল্লাহ বড়ই পবিত্র।
لَا یُسْـَٔلُ عَمَّا یَفْعَلُ وَ هُمْ یُسْـَٔلُوْنَ 23
23. আল্লাহ কারো কাছেই তাঁর কাজের কৈফিয়ত দেন না; বরং মহাবিশ্বের প্রত্যেকেই তাঁর কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য।
اَمِ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِهٖۤ اٰلِهَةً ؕ قُلْ هَاتُوْا بُرْهَانَكُمْ ۚ هٰذَا ذِكْرُ مَنْ مَّعِیَ وَ ذِكْرُ مَنْ قَبْلِیْ ؕ بَلْ اَكْثَرُهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ ۙ الْحَقَّ فَهُمْ مُّعْرِضُوْنَ 24
24. এখনও কি ওরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে ভ্রান্ত খোদাদের উপাসনা চালিয়ে যাবে? হে নবী, ওদের বলো, এ খোদাদের পক্ষে মাত্র একটা চাক্ষুষ প্রমাণ দেখাও। আর আমাদের ব্যাপারটা দেখো! কুরআন এবং পূর্ববর্তী সব কিতাবের বক্তব্য এক ও অভিন্ন। হায়! ওদের অধিকাংশই সত্য সম্পর্কে অজ্ঞতায় ডুবে আছে। হায়! ওরা সত্য প্রত্যাখ্যানে জেদ ধরে চলছে।
وَ مَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا نُوْحِیْۤ اِلَیْهِ اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعْبُدُوْنِ 25
25. হে নবী, আমি তোমার আগে যেসব নবীকে পাঠিয়েছি, তাদের প্রত্যেককেই বলেছি যে, নিশ্চয়ই আমি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই। কাজেই একমাত্র আমারই ইবাদত করো।
وَ قَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمٰنُ وَلَدًا سُبْحٰنَهٗ ؕ بَلْ عِبَادٌ مُّكْرَمُوْنَۙ 26
26. ওরা বলে, দয়াময় ফেরেশতাদেরকে নিজ কন্যা হিসাবে গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লহ! তিনি এসব থেকে বড়ই পবিত্র। তারা তো আল্লাহর সম্মানিত বান্দা মাত্র।
لَا یَسْبِقُوْنَهٗ بِالْقَوْلِ وَ هُمْ بِاَمْرِهٖ یَعْمَلُوْنَ 27
27. ওরা জেনে রাখুক, ফেরেশতারা নিজের থেকে আগ বাড়িয়ে কোনো কথাই বলে না। তারা কেবল আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী কাজ করে যায়।
یَعْلَمُ مَا بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَ مَا خَلْفَهُمْ وَ لَا یَشْفَعُوْنَ ۙ اِلَّا لِمَنِ ارْتَضٰی وَ هُمْ مِّنْ خَشْیَتِهٖ مُشْفِقُوْنَ 28
28. আল্লাহ তাদের আগ-পিছ সব কিছুই জানেন। আল্লাহর সন্তোষভাজন লোক ছাড়া আর কারো জন্যই তারা সুপারিশ করতে পারে না। এমনকি তারা নিজেরাও সর্বদা আল্লাহর ভয়ে তটস্থ থাকে।
وَ مَنْ یَّقُلْ مِنْهُمْ اِنِّیْۤ اِلٰهٌ مِّنْ دُوْنِهٖ فَذٰلِكَ نَجْزِیْهِ جَهَنَّمَ ؕ كَذٰلِكَ نَجْزِی الظّٰلِمِیْنَ۠ 29
29. তারা ভালো করেই জানে যে, তাদের কেউ যদি দাবি করে, আল্লাহর বাইরে আমিও একজন ইলাহ, তবে আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। কেননা জালেমদের এটাই উপযুক্ত পরিণতি।
اَوَ لَمْ یَرَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَنَّ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنٰهُمَا ؕ وَ جَعَلْنَا مِنَ الْمَآءِ كُلَّ شَیْءٍ حَیٍّ ؕ اَفَلَا یُؤْمِنُوْنَ 30
30. হে নবী, এসব কাফেরেরা কি একবারও ভেবে দেখে না যে, একসময় এ মহাকাশ ও পৃথিবী একসাথে মিলিত ছিলো, অতঃপর আমিই এগুলোকে আলাদা অস্তিত্বে এনেছি? এ পৃথিবীর সব প্রাণের উন্মেষ আমি পানি থেকেই করেছি। এসব জানার পরেও কি ওরা ঈমান আনবে না?
وَ جَعَلْنَا فِی الْاَرْضِ رَوَاسِیَ اَنْ تَمِیْدَ بِهِمْ ۪ وَ جَعَلْنَا فِیْهَا فِجَاجًا سُبُلًا لَّعَلَّهُمْ یَهْتَدُوْنَ 31
31. ওরা কি সত্যিই ভেবে দেখে না যে, আমি জমিনকে স্থীরভাবে ধরে রাখার জন্য তার উপর পাহাড়গুলো গেড়ে দিয়েছি? এ জমিনের বুকে কতো শত প্রশস্ত পথ তৈরী করে দিয়েছি, যাতে লোকেরা সহজেই চলাচল করতে পারে?
وَ جَعَلْنَا السَّمَآءَ سَقْفًا مَّحْفُوْظًا ۖۚ وَّ هُمْ عَنْ اٰیٰتِهَا مُعْرِضُوْنَ 32
32. আর আকাশকে সুরক্ষিত নিরাপদ ছাদের মতো করেছি। আফসোস! ওরা এতসব নিদর্শন দেখার পরেও সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
وَهُوَ الَّذِیْ خَلَقَ الَّیْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ؕ كُلٌّ فِیْ فَلَكٍ یَّسْبَحُوْنَ 33
33. আল্লাহই দিন ও রাতের স্রষ্টা। সূর্য ও চন্দ্র তাঁরই সৃষ্টি। মহাকাশের প্রতিটি জিনিসই নিজ নিজ কক্ষপথে অবিরাম ঘুরে বেড়াচ্ছে।
وَ مَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِّنْ قَبْلِكَ الْخُلْدَ ؕ اَفَاۡىِٕنْ مِّتَّ فَهُمُ الْخٰلِدُوْنَ 34
34. হে নবী, আমি তো তোমার পূর্বেও কাউকে এ দুনিয়ায় অমরত্ব দেইনি। এখন যদি তোমার মৃত্যু হয়, তবে এসব পাপীরা কি চিরজীবন বেঁচে থাকতে পারবে?
كُلُّ نَفْسٍ ذَآىِٕقَةُ الْمَوْتِ ؕ وَ نَبْلُوْكُمْ بِالشَّرِّ وَ الْخَیْرِ فِتْنَةً ؕ وَ اِلَیْنَا تُرْجَعُوْنَ 35
35. না! বরং প্রত্যেক প্রাণীকেই একদিন না একদিন মৃত্যুর স্বাদ পেতেই হবে। আর আমি তোমাদেরকে ভালো ও খারাপ- উভয় অবস্থায় ফেলে পরীক্ষা করি। শেষ পর্যন্ত তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরেতেই হবে।
وَ اِذَا رَاٰكَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِنْ یَّتَّخِذُوْنَكَ اِلَّا هُزُوًا ؕ اَهٰذَا الَّذِیْ یَذْكُرُ اٰلِهَتَكُمْ ۚ وَ هُمْ بِذِكْرِ الرَّحْمٰنِ هُمْ كٰفِرُوْنَ 36
36. হে নবী, সত্য অস্বীকারকারীরা তোমাকে দেখে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে। হাসি-ঠাট্টাচ্ছলে বলাবলি করে, এ কি সেই ব্যক্তি, যে আমাদের দেব দেবীদের সমালোচনা করে? অথচ ওদের অবস্থা দেখো, দয়াময় আল্লাহর কথা শুনলেই ওদের গায়ে জ্বালাপোড়া ধরে।
خُلِقَ الْاِنْسَانُ مِنْ عَجَلٍ ؕ سَاُورِیْكُمْ اٰیٰتِیْ فَلَا تَسْتَعْجِلُوْنِ 37
37. আসলে মানুষ সৃষ্টিগতভাবেই তাড়াহুড়ো প্রবণ। আর হ্যাঁ, শীঘ্রই আমি তোমাদেরকে আমার নিদর্শন দেখাবো। দয়া করে তোমরা আমাকে আর তাড়াহুড়ো করতে বলো না।
وَ یَقُوْلُوْنَ مَتٰی هٰذَا الْوَعْدُ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ 38
38. ওরা মুমিনদের বলে, তোমরা যদি আসলেই সত্যবাদী হও, তবে আর কবে তোমাদের হুমকির আযাব বাস্তবায়িত হবে?
لَوْ یَعْلَمُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا حِیْنَ لَا یَكُفُّوْنَ عَنْ وُّجُوْهِهِمُ النَّارَ وَ لَا عَنْ ظُهُوْرِهِمْ وَ لَا هُمْ یُنْصَرُوْنَ 39
39. হায় আফসোস! এসব কাফেরেরা যদি সেদিনের অবস্থা জানতে পারতো! আযাবের আগুন ওদের সামনে-পিছনে, ডানে-বামে সবদিক দিয়ে আঘাত হানলে, ওরা মোটেই তা ঠেকাতে পারবে না। এমনকি ওদের সাহায্য করারও কেউ থাকবে না।
بَلْ تَاْتِیْهِمْ بَغْتَةً فَتَبْهَتُهُمْ فَلَا یَسْتَطِیْعُوْنَ رَدَّهَا وَ لَا هُمْ یُنْظَرُوْنَ 40
40. মূলত সে আযাব ধাঁ করে ওদেরকে পাকড়াও করে ফেলবে। ওরা তখন দিগবিদিক হারিয়ে হতভম্ব হয়ে যাবে। ফলে প্রতিরোধ গড়া তো দূরের কথা, এক মুহূর্ত অবকাশও পাবে না।
وَ لَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّنْ قَبْلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِیْنَ سَخِرُوْا مِنْهُمْ مَّا كَانُوْا بِهٖ یَسْتَهْزِءُوْنَ۠ 41
41. হে নবী, কষ্ট নিও না, তোমার পূর্বে বহু নবীকেই তার লোকেরা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে। কিন্তু যে আযাব নিয়ে ওরা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতো, শেষ পর্যন্ত সে আযাবই ওদেরকে গ্রাস করে নিয়েছে।
قُلْ مَنْ یَّكْلَؤُكُمْ بِالَّیْلِ وَ النَّهَارِ مِنَ الرَّحْمٰنِ ؕ بَلْ هُمْ عَنْ ذِكْرِ رَبِّهِمْ مُّعْرِضُوْنَ 42
42. হে নবী, ওদের জিজ্ঞেস করো, আচ্ছা! দিনের আলোয় কিংবা রাতের আঁধারে দয়াময় আল্লাহর আযাব যদি এসে পড়ে, তবে তোমাদেরকে কে বাঁচাতে পারবে? হায়! এরপরেও ওরা প্রভুর স্মরণ থেকে দূরে থাকছে।
اَمْ لَهُمْ اٰلِهَةٌ تَمْنَعُهُمْ مِّنْ دُوْنِنَا ؕ لَا یَسْتَطِیْعُوْنَ نَصْرَ اَنْفُسِهِمْ وَلَا هُمْ مِّنَّا یُصْحَبُوْنَ 43
43. তবে কি ওরা মনে করে যে, আমার মোকাবেলায় ওদের কল্পিত খোদারা ওদের রক্ষা করতে আসবে? হায়! ঐ খোদারা তো নিজেদেরকেই রক্ষা করতে পারে না। তারা আমার বিরুদ্ধে ওদেরকে সাহায্য করবে কিভাবে?
بَلْ مَتَّعْنَا هٰۤؤُلَآءِ وَاٰبَآءَهُمْ حَتّٰی طَالَ عَلَیْهِمُ الْعُمُرُ ؕ اَفَلَا یَرَوْنَ اَنَّا نَاْتِی الْاَرْضَ نَنْقُصُهَا مِنْ اَطْرَافِهَا ؕ اَفَهُمُ الْغٰلِبُوْنَ 44
44. বরং আমিই ওদেরকে ও ওদের বাপ-দাদাকে প্রচুর পার্থিব ভোগ-সামগ্রী দিয়েছিলাম, যা ওরা দীর্ঘদিন ধরে উপভোগ করছে। কিন্তু ওরা কি একবারও খেয়াল করছে না যে, আমি দিনে দিনে ওদের জন্য জমিনকে চারদিক থেকে সংকুচিত করে আনছি? এখন ওরা কিভাবে আশা করছে যে, শেষ পর্যন্ত ওরাই জয়ী হবে?
قُلْ اِنَّمَاۤ اُنْذِرُكُمْ بِالْوَحْیِ ۖؗ وَ لَا یَسْمَعُ الصُّمُّ الدُّعَآءَ اِذَا مَا یُنْذَرُوْنَ 45
45. হে নবী, ওদেরকে বলো, আমি তো তোমাদেরকে বারবার অহির বাণী দ্বারা সতর্ক করছি। কিন্তু না! যারা নিজের থেকে বধির থাকে, তারা তোমার এ সতর্কবাণীতে কান দিবে না।
وَ لَىِٕنْ مَّسَّتْهُمْ نَفْحَةٌ مِّنْ عَذَابِ رَبِّكَ لَیَقُوْلُنَّ یٰوَیْلَنَاۤ اِنَّا كُنَّا ظٰلِمِیْنَ 46
46. কিন্তু তোমার রবের আযাব ওদেরকে সামান্য স্পর্শ করা মাত্রই ওরা আর্তনাদ করে উঠবে। বলবে, হায়! আমাদের কপাল! আমরা কেন অবাধ্য পাপিষ্ঠ ছিলাম!
وَ نَضَعُ الْمَوَازِیْنَ الْقِسْطَ لِیَوْمِ الْقِیٰمَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَیْـًٔا ؕ وَ اِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ اَتَیْنَا بِهَا ؕ وَ كَفٰی بِنَا حٰسِبِیْنَ 47
47. জেনে রেখো, কিয়ামতের দিন আমি অবশ্যই ন্যায় বিচারের মানদন্ড প্রতিষ্ঠা করবো। সেদিন কারো প্রতি একচুল পরিমাণও জুলুম করা হবে না। সামান্য তিল পরিমাণ কর্মও কারো হিসাব থেকে বাদ যাবে না। আর হিসাব গ্রহণের জন্য আমি নিজেই যথেষ্ট।
وَ لَقَدْ اٰتَیْنَا مُوْسٰی وَ هٰرُوْنَ الْفُرْقَانَ وَ ضِیَآءً وَّ ذِكْرًا لِّلْمُتَّقِیْنَۙ 48
48. আমি এর আগে মুসা ও হারুনকে আমার কিতাব দিয়ে পাঠিয়েছিলাম। সে কিতাব ছিলো সত্য ও মিথ্যার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্যকারী। মানবজাতির জন্য এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা ও মুত্তাকীদের জন্য এক উপদেশনামা।
الَّذِیْنَ یَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَیْبِ وَ هُمْ مِّنَ السَّاعَةِ مُشْفِقُوْنَ 49
49. ঐসব মুত্তাকী বান্দারা না দেখেই তাদের রবকে ভয় করে চলে এবং বিচারের দিনের নিজ নিজ পরিণতির বিষয়ে সর্বদা ভয়ে তটস্থ থাকে।
وَ هٰذَا ذِكْرٌ مُّبٰرَكٌ اَنْزَلْنٰهُ ؕ اَفَاَنْتُمْ لَهٗ مُنْكِرُوْنَ۠ 50
50. আর হ্যাঁ, এ কুরআনকেও আমি কল্যাণময় উপদেশের বাহক বানিয়ে তোমাদের কাছে পঠিয়েছি। তবুও কি তোমরা একে মানবে না?
وَ لَقَدْ اٰتَیْنَاۤ اِبْرٰهِیْمَ رُشْدَهٗ مِنْ قَبْلُ وَ كُنَّا بِهٖ عٰلِمِیْنَۚ 51
51. এর আগে আমি ইবরাহিমকেও সত্যজ্ঞান ও শুভবুদ্ধি দান করেছিলাম এবং আমি জেনে-বুঝেই তাকে বাছাই করেছিলাম।
اِذْ قَالَ لِاَبِیْهِ وَ قَوْمِهٖ مَا هٰذِهِ التَّمَاثِیْلُ الَّتِیْۤ اَنْتُمْ لَهَا عٰكِفُوْنَ 52
52. ইবরাহিমের সে ঘটনা স্মরণ করো, সে তার পিতা ও সম্প্রদায়ের লোকদের জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা! যেসব মূর্তিকে তোমরা ভক্তিসহ পূজা করছো, এগুলো তোমাদের খোদা হলো কিভাবে?
قَالُوْا وَجَدْنَاۤ اٰبَآءَنَا لَهَا عٰبِدِیْنَ 53
53. তারা বললো, আমাদের বাপ-দাদারা এদের উপাসনা করে গেছে, তাই আমারাও করছি।
قَالَ لَقَدْ كُنْتُمْ اَنْتُمْ وَ اٰبَآؤُكُمْ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ 54
54. ইবরাহিম বললো, ও আচ্ছা! তাহলে তো তোমাদের বাপ-দাদারাও তোমাদের মতো পথভ্রষ্ট ছিলো।
قَالُوْۤا اَجِئْتَنَا بِالْحَقِّ اَمْ اَنْتَ مِنَ اللّٰعِبِیْنَ 55
55. তারা ভ্রু কুচকে বললো, ইবরাহিম! তুমি কি সত্যি সত্যি মন থেকে এ কথা বলছো, নাকি আমাদের সাথে মজা করছো?
قَالَ بَلْ رَّبُّكُمْ رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ الَّذِیْ فَطَرَهُنَّ ۖؗ وَ اَنَا عَلٰی ذٰلِكُمْ مِّنَ الشّٰهِدِیْنَ 56
56. ইবরাহিম বললো, না! না! মজা করবো কেন? বরং তোমাদের আসল রব তো কেবল তিনিই, যিনি এ মহাকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা এবং এর রক্ষণাবেক্ষণকারী। আমি তোমাদের সামনে এ কথার পক্ষে জোরালো সাক্ষ্য দিচ্ছি।
وَ تَاللّٰهِ لَاَكِیْدَنَّ اَصْنَامَكُمْ بَعْدَ اَنْ تُوَلُّوْا مُدْبِرِیْنَ 57
57. ইবরাহিম মনে মনে বললো, আল্লাহর শপথ, দাড়াও! তোমাদের কেউ যখন এ ঠাকুরঘরে থাকবে না, তখন আমি এ মূর্তিগুলোর একটা বেহাল দশা করে ছাড়বো।
فَجَعَلَهُمْ جُذٰذًا اِلَّا كَبِیْرًا لَّهُمْ لَعَلَّهُمْ اِلَیْهِ یَرْجِعُوْنَ 58
58. এরপর একদিন ইবরাহিম সব মূর্তিগুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিলো। কিন্তু সবচেয়ে বড় মূর্তিটাকে ভাঙলো না, যাতে অভীযোগকারীদের তীর ঐ বড়টার দিকে ফিরিয়ে দেয়া যায়।
قَالُوْا مَنْ فَعَلَ هٰذَا بِاٰلِهَتِنَاۤ اِنَّهٗ لَمِنَ الظّٰلِمِیْنَ 59
59. পরে যখন পূজারীরা এসে এ বিধ্বস্ত অবস্থায় তাদের খোদাদেরকে দেখলো, তখন চিৎকার দিয়ে বললো, কোন্ জালেম আমাদের উপাস্যদের এ বেহাল দশা করেছে?
قَالُوْا سَمِعْنَا فَتًی یَّذْكُرُهُمْ یُقَالُ لَهٗۤ اِبْرٰهِیْمُؕ 60
60. কিছু লোক বললো, আমরা এক যুবককে এ খোদাদের সমালোচনা করতে শুনেছি। আর হ্যাঁ! যতটুকু জানি, লোকেরা তাকে ইবরাহিম নামে ডাকে।
قَالُوْا فَاْتُوْا بِهٖ عَلٰۤی اَعْیُنِ النَّاسِ لَعَلَّهُمْ یَشْهَدُوْنَ 61
61. তখন পুরোহিত-পূজারীরা বললো, তাকে ধরে আনো। সবার সামনে তাকে এমন শাস্তি দেবো, যাতে অন্যরা শিক্ষা পায়।
قَالُوْۤا ءَاَنْتَ فَعَلْتَ هٰذَا بِاٰلِهَتِنَا یٰۤاِبْرٰهِیْمُؕ 62
62. ইবরাহিমকে আনা হলো, পুরোহিতেরা জিজ্ঞেস করলো, ইবরাহিম! তুমি কি আমাদের উপাস্যদের এ অবস্থা করেছো?
قَالَ بَلْ فَعَلَهٗ ۖۗ كَبِیْرُهُمْ هٰذَا فَسْـَٔلُوْهُمْ اِنْ كَانُوْا یَنْطِقُوْنَ 63
63. ইবরাহিম বললো, আমি! আজব! বরং ঐ বড় মূর্তিটা এ কাজ করেছে হয়তো, তাকে জিজ্ঞেস করে দেখো। অবশ্য সে যদি কথা বলতে পারে, তবেই তো তোমাদের প্রশ্নের জবাব দেবে!
فَرَجَعُوْۤا اِلٰۤی اَنْفُسِهِمْ فَقَالُوْۤا اِنَّكُمْ اَنْتُمُ الظّٰلِمُوْنَۙ 64
64. একথা শুনে তারা নিজেদের মধ্যে চোখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগলো। আর বললো, তোমরা খামোখাই ইবরাহিমকে দোষ দিচ্ছো। তোমরা নিজেরাই তো এসব খোদাদেরকে অরক্ষিত রেখে গিয়েছো।
ثُمَّ نُكِسُوْا عَلٰی رُءُوْسِهِمْ ۚ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا هٰۤؤُلَآءِ یَنْطِقُوْنَ 65
65. কিন্তু পরক্ষণেই ওদের চেহারা পাল্টে গেলো। বললো, ইবরাহিম, তুমি তো ভালো করেই জানো যে, আমাদের এসব খোদারা কখনো কথা বলতে পারে না।
قَالَ اَفَتَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ مَا لَا یَنْفَعُكُمْ شَیْـًٔا وَّ لَا یَضُرُّكُمْؕ 66
66. তখন ইবরাহিম উপস্থিত জনতাকে প্রশ্ন করলো, তাহলে কেন এক আল্লাহকে বাদ দিয়ে এসব খোদাদের উপাসনা করছো, যারা তোমাদের উপকার কিংবা অপকার কোনোটাই করতে পারে না?
اُفٍّ لَّكُمْ وَ لِمَا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ؕ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ 67
67. ধিক্ তোমাদের প্রতি! তোমাদের এসব ভ্রান্ত খোদাদের প্রতি, আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের উপাসনা করে যাচ্ছো! এরপরও কি সত্যটা বুঝবে না?
قَالُوْا حَرِّقُوْهُ وَ انْصُرُوْۤا اٰلِهَتَكُمْ اِنْ كُنْتُمْ فٰعِلِیْنَ 68
68. এসব শুনে পুরোহিতেরা চিৎকার দিয়ে উঠলো, একে ধরো। আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করো। তোমাদের খোদাদের সাহায্যে এগিয়ে এসো। এটাই তোমাদের করণীয়।
قُلْنَا یٰنَارُ كُوْنِیْ بَرْدًا وَّ سَلٰمًا عَلٰۤی اِبْرٰهِیْمَۙ 69
69. অতঃপর ওরা যখন সত্যিই ইবরাহিমকে আগুনে ফেললো, আমি তখন সে আগুনকে হুকুম করলাম, সাবধান হে আগুন, ইবরাহিমের জন্য শীতল ও শান্তিময় হয়ে যাও।
وَ اَرَادُوْا بِهٖ كَیْدًا فَجَعَلْنٰهُمُ الْاَخْسَرِیْنَۚ 70
70. ওরা ইবরাহিমকে শেষ করে দেবার পরিকল্পনা করেছিলো। কিন্তু না! উল্টো ওরাই ভয়ানক ব্যর্থতার মুখোমুখি হলো।
وَ نَجَّیْنٰهُ وَ لُوْطًا اِلَی الْاَرْضِ الَّتِیْ بٰرَكْنَا فِیْهَا لِلْعٰلَمِیْنَ 71
71. এরপর আমি ইবিরাহিম ও তার শিষ্য লুতকে ওদের হাত থেকে বাঁচিয়ে এমন এলাকায় নিয়ে গেলাম, যে এলাকাকে জগতবাসীর জন্য কল্যাণময় করেছি।
وَ وَهَبْنَا لَهٗۤ اِسْحٰقَ ؕ وَ یَعْقُوْبَ نَافِلَةً ؕ وَ كُلًّا جَعَلْنَا صٰلِحِیْنَ 72
72. পরে আমি সেখানে ইবরাহিমকে পুত্র ইসহাক দান করলাম এবং তার ঘরে ইয়াকুবকেও দান করলাম। আর তারা উভয়েই আমার নেক বান্দা ছিলো।
وَ جَعَلْنٰهُمْ اَىِٕمَّةً یَّهْدُوْنَ بِاَمْرِنَا وَ اَوْحَیْنَاۤ اِلَیْهِمْ فِعْلَ الْخَیْرٰتِ وَ اِقَامَ الصَّلٰوةِ وَ اِیْتَآءَ الزَّكٰوةِ ۚ وَ كَانُوْا لَنَا عٰبِدِیْنَۚۙ 73
73. আমি তাদের প্রত্যেককেই নেতৃত্ব দান করেছিলাম। তারা মানুষদেরকে আমার নির্দেশ অনুযায়ী সৎপথ প্রদর্শন করতো। আমি তাদেরকে অহির মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছিলাম সৎকাজ করার, নামাজ কায়েম করার ও যাকাত আদায় করার। আর তারা সব সময়ই আমার ইবাদতে সক্রিয় ছিলো।
وَ لُوْطًا اٰتَیْنٰهُ حُكْمًا وَّ عِلْمًا وَّ نَجَّیْنٰهُ مِنَ الْقَرْیَةِ الَّتِیْ كَانَتْ تَّعْمَلُ الْخَبٰٓىِٕثَ ؕ اِنَّهُمْ كَانُوْا قَوْمَ سَوْءٍ فٰسِقِیْنَۙ 74
74. আমি লুতকে প্রজ্ঞা ও অহির জ্ঞান দিয়েছিলাম। তাকে এমন এক জনপদে নবুওয়াতের দায়িত্ব দিয়েছিলাম, যারা নিকৃষ্ট সমকামিতার পাপে ডুবে ছিলো। আমি ওদের ধ্বংস করে দিলেও লুতকে উদ্ধার করেছিলাম। আসলেই তার সে সম্প্রদায় ছিলো ভ্রষ্ট, বিকৃত ও সত্যত্যাগী।
وَ اَدْخَلْنٰهُ فِیْ رَحْمَتِنَا ؕ اِنَّهٗ مِنَ الصّٰلِحِیْنَ۠ 75
75. সে সময় আমি লুতকে সত্যিই আমার দয়ার চাদরে ঢেকে নিয়েছিলাম। সে ছিলো আমার সৎকর্মশীল বান্দাদের অন্যতম।
وَ نُوْحًا اِذْ نَادٰی مِنْ قَبْلُ فَاسْتَجَبْنَا لَهٗ فَنَجَّیْنٰهُ وَ اَهْلَهٗ مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِیْمِۚ 76
76. স্মরণ করো, এর আগে আমি নুহের ডাকেও সাড়া দিয়েছিলাম। যখন নুহ নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করে আমার ফায়সালা চাইলো, তখন আমি তাকে ও তার ঈমানদার সাথীদের মহাপ্লাবন থেকে বাঁচালাম।
وَ نَصَرْنٰهُ مِنَ الْقَوْمِ الَّذِیْنَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا ؕ اِنَّهُمْ كَانُوْا قَوْمَ سَوْءٍ فَاَغْرَقْنٰهُمْ اَجْمَعِیْنَ 77
77. সেদিন আমার আয়াত অস্বীকারকারী জনগোষ্ঠীর উপর আমি তাকে সাহায্য করলাম। আর তার জাতির অবাধ্য খারাপ লোকগুলোকে প্লাবনের পানিতে ডুবিয়ে মারলাম।
وَ دَاوٗدَ وَ سُلَیْمٰنَ اِذْ یَحْكُمٰنِ فِی الْحَرْثِ اِذْ نَفَشَتْ فِیْهِ غَنَمُ الْقَوْمِ ۚ وَ كُنَّا لِحُكْمِهِمْ شٰهِدِیْنَۗۙ 78
78. দাউদ ও সুলাইমানকেও আমি অনুগ্রহ করেছিলাম। তাদের সেই শস্যখেত নিয়ে বিচারের ঘটনা মনে করে দেখো। কিছু লোকের ছাগল রাতের অন্ধকারে অন্যের ক্ষেতে ঢুকে সব ফসল নষ্ট করে ফেলে। তারা উভয়ে নিজ নিজ জায়গা থেকে ঐ মামলার ফয়সালা দিচ্ছিলো। আর আমি তা পর্যবেক্ষণ করছিলাম।
فَفَهَّمْنٰهَا سُلَیْمٰنَ ۚ وَ كُلًّا اٰتَیْنَا حُكْمًا وَّ عِلْمًا ؗ وَّ سَخَّرْنَا مَعَ دَاوٗدَ الْجِبَالَ یُسَبِّحْنَ وَ الطَّیْرَ ؕ وَ كُنَّا فٰعِلِیْنَ 79
79. সে সময় আমি সুলাইমানকে এ মামলার আভ্যন্তরীণ বোঝার জ্ঞান দিলাম। আমি দাউদ ও সুলাইমান- উভয়কেই প্রজ্ঞা ও অহির জ্ঞান দিয়েছিলাম। আর আমার নির্দেশেই পাহাড় ও পাখ-পাখালি দাউদের সাথে আমার পবিত্রতা জপতো। আসলে এ সবকিছুই আমার ইশারায় হয়েছিলো।
وَعَلَّمْنٰهُ صَنْعَةَ لَبُوْسٍ لَّكُمْ لِتُحْصِنَكُمْ مِّنْۢ بَاْسِكُمْ ۚ فَهَلْ اَنْتُمْ شٰكِرُوْنَ 80
80. আমি দাউদকে লোহার নির্মিত বর্ম তৈরির কলাকৌশল শিখালাম, যাতে তোমরা যুদ্ধের ময়দানে প্রতিপক্ষের আঘাত থেকে বাঁচতে পারো। এরপরও কি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হবে না?
وَ لِسُلَیْمٰنَ الرِّیْحَ عَاصِفَةً تَجْرِیْ بِاَمْرِهٖۤ اِلَی الْاَرْضِ الَّتِیْ بٰرَكْنَا فِیْهَا ؕ وَ كُنَّا بِكُلِّ شَیْءٍ عٰلِمِیْنَ 81
81. আর আমি সুলাইমানের জন্য সমুদ্রের বাতাসকে বশীভূত করে দিয়েছিলাম। বাতাস তার নির্দেশে ক্ষীপ্র গতিতে সেই দেশের দিকে তার নৌবহরকে নিয়ে যেতো, যেখানে আমি তার জন্য কল্যাণ রেখেছি। বস্তুত আমি প্রতিটি জিনিসের ব্যাপারে পূর্ণ জ্ঞাত ছিলাম।
وَ مِنَ الشَّیٰطِیْنِ مَنْ یَّغُوْصُوْنَ لَهٗ وَ یَعْمَلُوْنَ عَمَلًا دُوْنَ ذٰلِكَ ۚ وَ كُنَّا لَهُمْ حٰفِظِیْنَۙ 82
82. বিদ্রোহী জিনদের অনেককে আমি সুলাইমানের অনুগত করে দিয়েছিলাম, যারা তার জন্য ডুবুরির কাজ করতো এবং আরো বিভিন্ন কাজ করতো। তবে আমিই ছিলাম ঐসব জীনের মূল নিয়ন্ত্রক।
وَ اَیُّوْبَ اِذْ نَادٰی رَبَّهٗۤ اَنِّیْ مَسَّنِیَ الضُّرُّ وَ اَنْتَ اَرْحَمُ الرّٰحِمِیْنَۚۖ 83
83. আইয়ুবও ছিলো আমার অনুগ্রহে সিক্ত এক বান্দা। এক সময় সে তার রবকে করুণ স্বরে ডাকলো, হে আমার রব, রোগ আমায় ধরেছে। আর তুমিই সবার চেয়ে বড় দয়ালু।
فَاسْتَجَبْنَا لَهٗ فَكَشَفْنَا مَا بِهٖ مِنْ ضُرٍّ وَّ اٰتَیْنٰهُ اَهْلَهٗ وَ مِثْلَهُمْ مَّعَهُمْ رَحْمَةً مِّنْ عِنْدِنَا وَ ذِكْرٰی لِلْعٰبِدِیْنَ 84
84. আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম। তার সব দুঃখ-কষ্ট দূর করলাম। তাকে তার পরিবার-পরিজনের কাছে ঠিক আগের মতো ফিরিয়ে দিলাম। বিশেষ অনুগ্রহ হিসাবে তার পরিজনের সংখ্যা আরো বাড়িয়ে দিলাম। আসলে আইয়ুব ইবাদতকারীদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
وَ اِسْمٰعِیْلَ وَ اِدْرِیْسَ وَ ذَا الْكِفْلِ ؕ كُلٌّ مِّنَ الصّٰبِرِیْنَۚۖ 85
85. আমি ইসমাঈল, ইদরিস ও জুলকিফল- প্রত্যেককেই প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছিলাম। তারা সকলেই আমার ধৈর্যশীল বান্দা ছিলো।
وَاَدْخَلْنٰهُمْ فِیْ رَحْمَتِنَا ؕ اِنَّهُمْ مِّنَ الصّٰلِحِیْنَ 86
86. তাদেরকে আমি নিজ অনুগ্রহের চাদরে ঢেকে নিয়েছিলাম। তারা সত্যিই আমার সৎকর্মশীল প্রিয়জন ছিলো।
وَ ذَا النُّوْنِ اِذْ ذَّهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ اَنْ لَّنْ نَّقْدِرَ عَلَیْهِ فَنَادٰی فِی الظُّلُمٰتِ اَنْ لَّاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنْتَ سُبْحٰنَكَ ۖۗ اِنِّیْ كُنْتُ مِنَ الظّٰلِمِیْنَۚۖ 87
87. সেই মাছওয়ালা ইউনুসের প্রতিও আমি অনুগ্রহ করেছিলাম। একসময় সে তার জাতির প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে জনপদ ছেড়ে চলে যাচ্ছিলো। ভেবেছিলো আমি এর জন্য তাকে পাকড়াও করবো না। কিন্তু না! আমি তাকে পাকড়াও করলাম। ফলে সে মাছের পেটের অন্ধকারে বসে ক্ষমা প্রার্থনা করলো, হে আমার রব, তুমি ছাড়া আমার কোনো ইলাহ নাই। তুমি মহান, তুমি নির্দোষ। নিশ্চয়ই আমি অন্যায় করেছি।
فَاسْتَجَبْنَا لَهٗ ۙ وَ نَجَّیْنٰهُ مِنَ الْغَمِّ ؕ وَ كَذٰلِكَ نُـْۨجِی الْمُؤْمِنِیْنَ 88
88. তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম। তাকে দুশ্চিন্তা মুক্ত করলাম। এভাবেই আমি মুমিনদের উদ্ধার করে থাকি।
وَ زَكَرِیَّاۤ اِذْ نَادٰی رَبَّهٗ رَبِّ لَا تَذَرْنِیْ فَرْدًا وَّ اَنْتَ خَیْرُ الْوٰرِثِیْنَۚۖ 89
89. এভাবে যাকারিয়াকেও আমি রহম করেছিলাম। সে তার রবের কাছে প্রার্থনা করলো, হে আমার পরোয়ারদিগার, দয়াকরে আমাকে নিঃসন্তান রেখো না। অবশ্য তুমিই সবচেয়ে উত্তম উত্তরাধিকারী।
فَاسْتَجَبْنَا لَهٗ ؗ وَ وَهَبْنَا لَهٗ یَحْیٰی وَ اَصْلَحْنَا لَهٗ زَوْجَهٗ ؕ اِنَّهُمْ كَانُوْا یُسٰرِعُوْنَ فِی الْخَیْرٰتِ وَ یَدْعُوْنَنَا رَغَبًا وَّ رَهَبًا ؕ وَ كَانُوْا لَنَا خٰشِعِیْنَ 90
90. এ সময় আমি তার দোয়া কবুল করলাম। ফলে তার স্ত্রীকে সন্তান গ্রহণের যোগ্য করে দিলাম এবং তাদেরকে ইয়াহিয়া নামে এক পুত্র সন্তান দান করলাম। তারা প্রত্যেকেই ভালো কাজে আপ্রাণ চেষ্টা চালাতো। আশা ও শঙ্কা নিয়ে সব সময় আমায় ডাকতো এবং আমার প্রতি সর্বদাই বিনয়াবনত হয়ে থাকতো।
وَالَّتِیْۤ اَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِیْهَا مِنْ رُّوْحِنَا وَجَعَلْنٰهَا وَابْنَهَاۤ اٰیَةً لِّلْعٰلَمِیْنَ 91
91. আমি সেই মারিয়ামের প্রতিও রহম করেছিলাম, যে নারী তার সতীত্ব রক্ষা করেছিলো। আমি তার গর্ভে আমার পক্ষ থেকে রূহ ফুঁকে দিলাম। তাকে ও তার সন্তান ঈসাকে জগতবাসীর জন্য এক উজ্জ্বল নিদর্শন বানালাম।
اِنَّ هٰذِهٖۤ اُمَّتُكُمْ اُمَّةً وَّاحِدَةً ۖؗ وَّ اَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوْنِ 92
92. হে মানুষ, তোমরা সবাই এক জাতিসত্তার অন্তর্ভুক্ত। আর আমিই তোমাদের একমাত্র রব। কাজেই একমাত্র আমার ইবাদতে মশগুল হও।
وَ تَقَطَّعُوْۤا اَمْرَهُمْ بَیْنَهُمْ ؕ كُلٌّ اِلَیْنَا رٰجِعُوْنَ۠ 93
93. অবশ্য কালক্রমে লোকেরা নিজেরাই নিজেদের কার্যকলাপের দ্বারা নানা মত ও পথে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ওরা জেনে রাখুক, ওদের সবাইকে শেষ পর্যন্ত আমার কাছে ফিরেতেই হবে।
فَمَنْ یَّعْمَلْ مِنَ الصّٰلِحٰتِ وَ هُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا كُفْرَانَ لِسَعْیِهٖ ۚ وَ اِنَّا لَهٗ كٰتِبُوْنَ 94
94. অতএব কেউ যদি পার্থিব জীবনে ঈমানের সাথে সৎকাজ করে চলে, তবে তার প্রতিটি চেষ্টা-সাধনার পূর্ণ পুরস্কার সে পাবে। কেননা আমি তা যথাযথভাবেই লিখে রাখছি।
وَ حَرٰمٌ عَلٰی قَرْیَةٍ اَهْلَكْنٰهَاۤ اَنَّهُمْ لَا یَرْجِعُوْنَ 95
95. আর এটা চিরন্তন সত্য যে, যেসব জনপদকে আমি পাপাচারের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছি, তার অধিবাসীরা আর কোনোদিনই ফিরে আসবে না।
حَتّٰۤی اِذَا فُتِحَتْ یَاْجُوْجُ وَ مَاْجُوْجُ وَهُمْ مِّنْ كُلِّ حَدَبٍ یَّنْسِلُوْنَ 96
96. যতক্ষণ পর্যন্ত না ইয়াজুজ ও মাজুজকে ছেড়ে দেয়া হবে এবং তারা উভয় দলই চারদিক দিয়ে সকল সীমা ছাড়িয়ে পঙ্গপালের মতো জমিনকে ছেয়ে যাবে।
وَ اقْتَرَبَ الْوَعْدُ الْحَقُّ فَاِذَا هِیَ شَاخِصَةٌ اَبْصَارُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا ؕ یٰوَیْلَنَا قَدْ كُنَّا فِیْ غَفْلَةٍ مِّنْ هٰذَا بَلْ كُنَّا ظٰلِمِیْنَ 97
97. যখন কিয়ামতের ওয়াদা ঘনিয়ে আসবে, তখন সে দৃশ্য দেখে কাফেরদের চোখ বিষ্ফোরিত হবে। ওরা আর্তনাদ করে বলতে থাকবে, হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! আমরা এ দিনটি সম্পর্কে একেবারেই উদাসীন ছিলাম। হায়! আমরা এ দিনটিকে অস্বীকার করেছিলাম।
اِنَّكُمْ وَ مَا تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ ؕ اَنْتُمْ لَهَا وٰرِدُوْنَ 98
98. ওদেরকে বলা হবে, আজ তোমরা ও আল্লাহ ছাড়া তোমাদের ঐসব ভ্রান্ত খোদারা জাহান্নামের জ্বালানি হবে। শীঘ্রই তোমাদেরকে সেখানে নিক্ষেপ করা হবে।
لَوْ كَانَ هٰۤؤُلَآءِ اٰلِهَةً مَّا وَرَدُوْهَا ؕ وَ كُلٌّ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ 99
99. সেদিন ওরা বুঝবে, এসব খোদারা যদি সত্যিকারেই ইলাহ হতো, তবে কখনোই জাহান্নামে প্রবেশ করতো না। কিন্তু না! ওরা চিরদিনের জন্যই জাহান্নামের পড়ে থাকবে।
لَهُمْ فِیْهَا زَفِیْرٌ وَّ هُمْ فِیْهَا لَا یَسْمَعُوْنَ 100
100. সেখানে ওরা সবাই কানফাটা আর্তনাদ করতে থাকবে। কারো কথাই কারো কানে ঢুকবে না।
اِنَّ الَّذِیْنَ سَبَقَتْ لَهُمْ مِّنَّا الْحُسْنٰۤی ۙ اُولٰٓىِٕكَ عَنْهَا مُبْعَدُوْنَۙ 101
101. অন্যদিকে ঈমানদার সৎকর্মশীলদের জন্য আমি আগে থেকেই কল্যাণ নির্ধারণ করে রেখেছি। তাদেরকে সেদিন জাহান্নাম থেকে যোজন যোজন দূরে রাখা হবে।
لَا یَسْمَعُوْنَ حَسِیْسَهَا ۚ وَهُمْ فِیْ مَا اشْتَهَتْ اَنْفُسُهُمْ خٰلِدُوْنَۚ 102
102. তারা জাহান্নামের ক্ষীনতম আওয়াজও শুনবে না। তারা জান্নাতে চিরকাল থাকবে। মন যা চাইবে তাই পাবে।
لَا یَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْاَكْبَرُ وَ تَتَلَقّٰىهُمُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ ؕ هٰذَا یَوْمُكُمُ الَّذِیْ كُنْتُمْ تُوْعَدُوْنَ 103
103. বিচারের সমাবেশ ময়দানের কঠিন বিভীষিকা ঈমানদারদের একচুলও বিচলিত করবে না; বরং ফেরেশতারা এগিয়ে এসে তাদেরকে সাদরে অভ্যর্থনা জানাবে এ বলে যে, আজ তোমাদের সেই শুভদিন, যার ওয়াদা তোমাদের দেয়া হয়েছিলো।
یَوْمَ نَطْوِی السَّمَآءَ كَطَیِّ السِّجِلِّ لِلْكُتُبِ ؕ كَمَا بَدَاْنَاۤ اَوَّلَ خَلْقٍ نُّعِیْدُهٗ ؕ وَعْدًا عَلَیْنَا ؕ اِنَّا كُنَّا فٰعِلِیْنَ 104
104. হে মানুষ, সেদিনের ভয়াবহতা চিন্তা করো, যেদিন আমি মহাকাশকে ভাঁজ করে গুটিয়ে ফেলবো, যেভাবে দপ্তরের লিখিত কাগজগুলোকে ভাঁজ করে গুটিয়ে বান্ডিল করা হয়। এরপর আমি সবকিছুই আবার নতুন রূপে সৃষ্টি করবো, যেভাবে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম। এটা আমার পাক্কা ওয়াদা। আর আমি অবশ্যই করবো।
وَ لَقَدْ كَتَبْنَا فِی الزَّبُوْرِ مِنْۢ بَعْدِ الذِّكْرِ اَنَّ الْاَرْضَ یَرِثُهَا عِبَادِیَ الصّٰلِحُوْنَ 105
105. আমি যাবুর কিতাবে কিছু উপদেশ দেবার পর একথা লিখে দিয়েছিলাম যে, আমার সৎকর্মশীল যোগ্য বান্দারাই শেষ বিচারে এ জমিনের একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসাবে টিকে থাকবে।
اِنَّ فِیْ هٰذَا لَبَلٰغًا لِّقَوْمٍ عٰبِدِیْنَؕ 106
106. আর এ ঘোষণার মধ্যে অনুগত দাসদের জন্য বার্তা রয়েছে।
وَ مَاۤ اَرْسَلْنٰكَ اِلَّا رَحْمَةً لِّلْعٰلَمِیْنَ 107
107. হে নবী, আমি তোমাকে জগতবাসীর জন্য করুণা বানিয়ে পাঠিছি।
قُلْ اِنَّمَا یُوْحٰۤی اِلَیَّ اَنَّمَاۤ اِلٰهُكُمْ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ ۚ فَهَلْ اَنْتُمْ مُّسْلِمُوْنَ 108
108. নবী হে, ওদের বলো, আমাকে অহি করে হয়েছে যে, আল্লাহই তোমাদের একমাত্র ইলাহ। এরপরেও কি তোমরা মুসলিম হবে না?
فَاِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ اٰذَنْتُكُمْ عَلٰی سَوَآءٍ ؕ وَ اِنْ اَدْرِیْۤ اَقَرِیْبٌ اَمْ بَعِیْدٌ مَّا تُوْعَدُوْنَ 109
109. হে নবী, এরপরেও ওরা যদি সত্যবিমুখ থাকে, তবে তুমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দাও, আমি তোমাদের কাছে আমার রবের বাণী যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছি। এখন তোমরা যদি না মানো, তবে আমি জানি না যে, তাঁর ঘোষিত আযাবের সময় কি কাছে নাকি দূরে!
اِنَّهٗ یَعْلَمُ الْجَهْرَ مِنَ الْقَوْلِ وَ یَعْلَمُ مَا تَكْتُمُوْنَ 110
110. আর তোমরা মুখে যা প্রকাশ করো তাও যেমন আল্লাহ জানেন, একইভাবে তোমাদের মনের গোপন কথাও তিনি জানেন।
وَ اِنْ اَدْرِیْ لَعَلَّهٗ فِتْنَةٌ لَّكُمْ وَ مَتَاعٌ اِلٰی حِیْنٍ 111
111. আর আমি এটাও জানি না যে, তোমাদের উপর তাঁর আযাব বিলম্বিত হওয়া আসলে তোমাদের জন্য কোনো পরীক্ষা, নাকি সাময়িক জীবনভোগের সুযোগ মাত্র?
قٰلَ رَبِّ احْكُمْ بِالْحَقِّ ؕ وَ رَبُّنَا الرَّحْمٰنُ الْمُسْتَعَانُ عَلٰی مَا تَصِفُوْنَ۠ 112
112. সবশেষে রসুল ফরিয়াদ করলো, হে আমার রব, তুমি আমাদের মধ্যে সঠিক ফায়সালা করে দাও। হে নবী, লোকদের বলো, হে লোকেরা, জেনে রেখো, আমাদের রব বড়ই দয়াময়। তোমরা যেসব অবমাননাকর কথা রচনা করেছো, সে সবের মোকাবেলায় তিনিই আমাদের সহায়।