22. আল হজ্জ

یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّكُمْ ۚ اِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَیْءٌ عَظِیْمٌ 1
1. হে মানুষ, তোমাদের রবের পাকড়াও থেকে নিজেদের বাঁচাও। কেননা কিয়ামতের লয়-প্রলয় এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার।
یَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّاۤ اَرْضَعَتْ وَ تَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَ تَرَی النَّاسَ سُكٰرٰی وَ مَا هُمْ بِسُكٰرٰی وَ لٰكِنَّ عَذَابَ اللّٰهِ شَدِیْدٌ 2
2. যেদিন মহাপ্রলয় শুরু হবে, সেদিন তোমরা দেখবে, প্রত্যেক দুধদানকারিনী মা তার দুধের শিশুকে দুধ পান করাতে করাতে ফেলে পালাতে থাকবে। প্রত্যেক গর্ভবতী নারীর গর্ভপাত ঘটে যাবে। নেশাগ্রস্ত না হওয়া সত্ত্বেও সকল মানুষকে মনে হবে নেশার মাতালে টালমাটাল হয়ে আছে। আসলে তারা আল্লাহর আযাবের ভয়ে এভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়বে।
وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یُّجَادِلُ فِی اللّٰهِ بِغَیْرِ عِلْمٍ وَّ یَتَّبِعُ كُلَّ شَیْطٰنٍ مَّرِیْدٍۙ 3
3. কিছু মানুষ তো এমন যে, না জানা সত্ত্বেও আল্লাহর ব্যাপারে তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হচ্ছে। ওরা মূলত উদ্ধত শয়তানের অনুসারী।
كُتِبَ عَلَیْهِ اَنَّهٗ مَنْ تَوَلَّاهُ فَاَنَّهٗ یُضِلُّهٗ وَ یَهْدِیْهِ اِلٰی عَذَابِ السَّعِیْرِ 4
4. অথচ একথা লিখিত সত্য যে, কেউ শয়তানের অনুসরণ করে চললে, শয়তান তাকে অবশ্যই পথভ্রষ্ট করে ছাড়বে এবং জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুনে পোড়ার ব্যবস্থা করবে।
یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اِنْ كُنْتُمْ فِیْ رَیْبٍ مِّنَ الْبَعْثِ فَاِنَّا خَلَقْنٰكُمْ مِّنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِنْ مُّضْغَةٍ مُّخَلَّقَةٍ وَّ غَیْرِ مُخَلَّقَةٍ لِّنُبَیِّنَ لَكُمْ ؕ وَ نُقِرُّ فِی الْاَرْحَامِ مَا نَشَآءُ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوْۤا اَشُدَّكُمْ ۚ وَ مِنْكُمْ مَّنْ یُّتَوَفّٰی وَ مِنْكُمْ مَّنْ یُّرَدُّ اِلٰۤی اَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَیْلَا یَعْلَمَ مِنْۢ بَعْدِ عِلْمٍ شَیْـًٔا ؕ وَ تَرَی الْاَرْضَ هَامِدَةً فَاِذَاۤ اَنْزَلْنَا عَلَیْهَا الْمَآءَ اهْتَزَّتْ وَ رَبَتْ وَ اَنْۢبَتَتْ مِنْ كُلِّ زَوْجٍۭ بَهِیْجٍ 5
5. হে মানুষ, পুনরুত্থানের সত্যতা নিয়ে যদি সন্দেহে থাকো, তবে একটু তোমার জীবন বৃত্তান্ত ভেবে দেখো। আমি তোমাদের সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম কাদামাটি থেকে। অতঃপর আমি এ সৃষ্টির ধারা অব্যাহত রেখেছি শুক্রবিন্দু থেকে, যা ক্রমান্বয়ে রক্তপিন্ডে রূপ নেয়, অতঃপর তা গোশত টুকরায় পরিণত হয় যা কখনো পূর্ণ আকৃতির, আবার কখনো অপূর্ণ আকৃতির হয়। প্রকৃত সত্যকে বুঝানোর জন্য এভাবেই আমি সৃষ্টি রহস্য তোমাদেরকে জানাচ্ছি। এরপর আমি শুক্রাণুকে আমার ইচ্ছানুযায়ী নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত মায়ের গর্ভে ধরে রাখি। তারপর তোমাদেরকে একটি শিশু হিসাবে দুনিয়ায় আনি। এভাবেই তোমরা একসময় পরিণত বয়সে উপনীত হও। যৌবনের আগেই তোমাদের কাউকে কাউকে মৃত্যু দেই, আবার কাউকে এমন বয়সে নিয়ে যাই, যখন সে পুরনো জানা কথাগুলোও ভুলে যায়। হে মানুষ, এখনো তোমরা সন্দিহান থাকলে জমিনের পুনরুত্থানের দিকে তাকাও। দেখো! একসময় জমিন শুষ্ক-নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে থাকে, এরপর যখনই আমি আকাশের মেঘমালা থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখনই সে সতেজ হয়ে ওঠে। ফুলে-ফেপে উর্বর হয়ে যায় এবং সেখানে সব ধরনের সবুজ শ্যামল উদ্ভিদ গজাতে শুরু করে।
ذٰلِكَ بِاَنَّ اللّٰهَ هُوَ الْحَقُّ وَ اَنَّهٗ یُحْیِ الْمَوْتٰی وَ اَنَّهٗ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌۙ 6
6. এ কারণেই ঘটবে যে, আল্লাহই চূড়ান্ত সত্য। তিনিই মৃতকে জীবন দেন। সন্দেহ নেই, আল্লাহ সব বিষয়ের উপর সর্বশক্তিমান।
وَّ اَنَّ السَّاعَةَ اٰتِیَةٌ لَّا رَیْبَ فِیْهَا ۙ وَ اَنَّ اللّٰهَ یَبْعَثُ مَنْ فِی الْقُبُوْرِ 7
7. অতএব মহাবিচার অবশ্যম্ভাবী। এতে বিঁন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। আর যারা মরে পঁচে কবরে মিশে গেছে, তাদেরকেও আল্লাহ পুনরুত্থিত করবেন।
وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یُّجَادِلُ فِی اللّٰهِ بِغَیْرِ عِلْمٍ وَّ لَا هُدًی وَّ لَا كِتٰبٍ مُّنِیْرٍۙ 8
8. অথচ এরপরেও কিছু মানুষ আল্লাহর ব্যাপারে অযথা তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। যাদের না আছে কোনো জ্ঞান, না আছে সঠিক পথনির্দেশ, আর না পেয়েছে কোনো আলোকময় কিতাব।
ثَانِیَ عِطْفِهٖ لِیُضِلَّ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ؕ لَهٗ فِی الدُّنْیَا خِزْیٌ وَّ نُذِیْقُهٗ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ عَذَابَ الْحَرِیْقِ 9
9. ওরা মিথ্যাভরে আল্লাহর ব্যাপারে বিতর্কে নামে, যাতে সাধারণ লোকদেরকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরানো যায়। ওরা পার্থিব জীবনে যেমন লাঞ্ছনার শিকার হবে, তেমনি পরকালে ভোগ করবে কঠিন আগুনের দহন-যন্ত্রণা।
ذٰلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ یَدٰكَ وَ اَنَّ اللّٰهَ لَیْسَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِیْدِ۠ 10
10. বলা হবে, তোমরা আজ যে শাস্তি ভোগ করছো, তা তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল। কেননা আল্লাহ কখনোই তাঁর বান্দাদের প্রতি অবিচার করেন না।
وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یَّعْبُدُ اللّٰهَ عَلٰی حَرْفٍ ۚ فَاِنْ اَصَابَهٗ خَیْرُ ِ۟اطْمَاَنَّ بِهٖ ۚ وَ اِنْ اَصَابَتْهُ فِتْنَةُ ِ۟انْقَلَبَ عَلٰی وَجْهِهٖ ۚ۫ خَسِرَ الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَةَ ؕ ذٰلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِیْنُ 11
11. আবার কিছু কিছু মানুষ রয়েছে, যারা বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে দাঁড়িয়ে আল্লাহর ইবাদত করে। যদি পার্থিব কল্যাণ দেখে, তবে বিশ্বস্ত মনে ইবাদত চালিয়ে যায়। আর যদি পরীক্ষা হিসাবে কোনো বিপদাপদের মুখোমুখি হয়, তবে আগের মতো অবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। ফলে ওরা দুনিয়া ও আখেরাত দুটোই হারায়। আর এ তো সবক‚ল হারানো এক সুস্পষ্ট ক্ষতি।
یَدْعُوْا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ مَا لَا یَضُرُّهٗ وَ مَا لَا یَنْفَعُهٗ ؕ ذٰلِكَ هُوَ الضَّلٰلُ الْبَعِیْدُۚ 12
12. ওরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমনসব ভ্রান্ত খোদাদেরকে সাহায্যের জন্য ডাকে, যারা উপকার বা অপকার কোনোটাই করতে পারে না। এভাবেই ওরা ভ্রষ্টতার চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
یَدْعُوْا لَمَنْ ضَرُّهٗۤ اَقْرَبُ مِنْ نَّفْعِهٖ ؕ لَبِئْسَ الْمَوْلٰی وَ لَبِئْسَ الْعَشِیْرُ 13
13. বস্তুত ওরা যেসব ভ্রান্ত খোদাদেরকে ডাকে, তারা ওদের উপকার করার পরিবর্তে বরং ক্ষতিই করে বেশি। হায়! কতো নিকৃষ্ট সেই অভিভাবক! কতো নিকৃষ্ট সেই সহচর!
اِنَّ اللّٰهَ یُدْخِلُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یَفْعَلُ مَا یُرِیْدُ 14
14. অন্যদিকে যারা সত্যিকারেই ঈমান এনেছে এবং আমৃত্যু ভালোকাজ করেছে, আল্লাহ তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার পাদদেশে থাকবে প্রবহমান ঝর্নাধারা। আসলে আল্লাহ তাঁর ইচ্ছানুযায়ী যা খুশি তাই করতে পারেন।
مَنْ كَانَ یَظُنُّ اَنْ لَّنْ یَّنْصُرَهُ اللّٰهُ فِی الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَةِ فَلْیَمْدُدْ بِسَبَبٍ اِلَی السَّمَآءِ ثُمَّ لْیَقْطَعْ فَلْیَنْظُرْ هَلْ یُذْهِبَنَّ كَیْدُهٗ مَا یَغِیْظُ 15
15. আর যে ব্যক্তি এমনটা মনে করে যে, আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে কোনোই সাহায্য-সহযোগিতা করবেন না, সে তাহলে নিজের ভাগ্য ফেরানোর জন্য যে কোনো উপায়ে আকাশে আরোহণ করে কোনো কৌশল করে দেখুক, কাজ হয় কিনা? না! লাভ হবে না।
وَ كَذٰلِكَ اَنْزَلْنٰهُ اٰیٰتٍۭ بَیِّنٰتٍ ۙ وَّ اَنَّ اللّٰهَ یَهْدِیْ مَنْ یُّرِیْدُ 16
16. এভাবেই আমি আমার নাযিলকৃত কুরআনের মধ্যে আমার বাণীগুলোকে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে যাচ্ছি। বস্তুত যে চায়, কেবল সেই আল্লাহর দেখানো পথ খুঁজে পায়।
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ الَّذِیْنَ هَادُوْا وَ الصّٰبِـِٕیْنَ وَ النَّصٰرٰی وَ الْمَجُوْسَ وَ الَّذِیْنَ اَشْرَكُوْۤا ۖۗ اِنَّ اللّٰهَ یَفْصِلُ بَیْنَهُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ شَهِیْدٌ 17
17. জেনে রেখো, মহাবিচারের দিন আল্লাহ নিজেই ঈমানদার, ইহুদি, সাবেয়ি, খ্রিস্টান, অগ্নিপূজক ও মুশরিকেরা আল্লাহ সম্পর্কে যে ধ্যান-ধারণা ও আকীদা-বিশ্বাস চর্চা করছে, তার ব্যাপারে চুড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন। কেননা সবার সবকিছুই আল্লাহর চোখের সামনে রয়েছে।
اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللّٰهَ یَسْجُدُ لَهٗ مَنْ فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَنْ فِی الْاَرْضِ وَ الشَّمْسُ وَ الْقَمَرُ وَ النُّجُوْمُ وَ الْجِبَالُ وَ الشَّجَرُ وَ الدَّوَآبُّ وَ كَثِیْرٌ مِّنَ النَّاسِ ؕ وَ كَثِیْرٌ حَقَّ عَلَیْهِ الْعَذَابُ ؕ وَ مَنْ یُّهِنِ اللّٰهُ فَمَا لَهٗ مِنْ مُّكْرِمٍ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یَفْعَلُ مَا یَشَآءُؕ۩ 18
18. হে মানুষ, তুমি কি দেখতে পাচ্ছো না যে, মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে এবং সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ-নক্ষত্র, পাহাড়-পর্বত, গাছপালা ও জীবজন্তু সবাই আল্লাহর সেজদায় লুটিয়ে আছে? আর মানুষের মধ্যেও অনেকে স্বেচ্ছায় আল্লাহকে সেজদা করে চলছে। তবে যারা তাঁকে অমান্য করে চলছে, তাদের ভাগ্যে কঠিন আযাব লিখে রাখা হয়েছে। আল্লাহ যাকে লাঞ্ছিত-অপমানিত করেন, তাকে কেউই সম্মানিত করতে পারে না। বস্তুত আল্লাহ তা-ই করেন, যা তিনি ইচ্ছা করেন। (সিজদা)
هٰذٰنِ خَصْمٰنِ اخْتَصَمُوْا فِیْ رَبِّهِمْ ؗ فَالَّذِیْنَ كَفَرُوْا قُطِّعَتْ لَهُمْ ثِیَابٌ مِّنْ نَّارٍ ؕ یُصَبُّ مِنْ فَوْقِ رُءُوْسِهِمُ الْحَمِیْمُۚ 19
19. আসলে আল্লাহ সম্পর্কে যারা বিবাদে জড়িত, তারা মোটাদাগে দুই ভাগে বিভক্ত। এদেরই একদল হলো সত্য অস্বীকারকারী, যাদের জন্য ইতোমধ্যেই জাহান্নামে আগুনের পোশাক কেটে প্রস্তুত করা হয়েছে। সেদিন ওদের মাথার উপর ঢেলে দেয়া হবে ফুটন্ত আগুনসম পানি।
یُصْهَرُ بِهٖ مَا فِیْ بُطُوْنِهِمْ وَ الْجُلُوْدُؕ 20
20. যা শুধু ওদের গায়ের চামড়াই নয়; বরং পেটের নাড়িভুড়ি পর্যন্ত গলিয়ে দেবে।
وَ لَهُمْ مَّقَامِعُ مِنْ حَدِیْدٍ 21
21. এমনকি ওদেরকে পিটানোর জন্য সেখানে থাকবে বড় বড় লোহার মুগুর।
كُلَّمَاۤ اَرَادُوْۤا اَنْ یَّخْرُجُوْا مِنْهَا مِنْ غَمٍّ اُعِیْدُوْا فِیْهَا ۗ وَ ذُوْقُوْا عَذَابَ الْحَرِیْقِ۠ 22
22. যখনই ওরা যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে জাহান্নাম থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করবে, তখনই ওদেরকে আবার জাহান্নামের মাঝখানে ঠেলে দেয়া হবে। বলা হবে, স্বাদ গ্রহণ করো দহনযন্ত্রণার।
اِنَّ اللّٰهَ یُدْخِلُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ یُحَلَّوْنَ فِیْهَا مِنْ اَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَّ لُؤْلُؤًا ؕ وَ لِبَاسُهُمْ فِیْهَا حَرِیْرٌ 23
23. আর অপরদল, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার পাশ দিয়ে স্রোতস্বিনী নদী বয়ে যাবে। সেখানে তাদেরকে সোনা-মুক্তার বাহারি অলংকারে ভুষিত করা হব। আর তাদের পোশাক হবে মসৃণ রেশমের।
وَ هُدُوْۤا اِلَی الطَّیِّبِ مِنَ الْقَوْلِ ۖۚ وَ هُدُوْۤا اِلٰی صِرَاطِ الْحَمِیْدِ 24
24. আসলে এসব লোকেরা দুনিয়ায় সত্যবাণী গ্রহণে ইচ্ছুক ছিলো। তাই তারা পরম প্রশংসিত আল্লাহর পথে চলার সৌভাগ্য লাভ করেছে।
اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ یَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ الَّذِیْ جَعَلْنٰهُ لِلنَّاسِ سَوَآءَ ِ۟الْعَاكِفُ فِیْهِ وَ الْبَادِ ؕ وَ مَنْ یُّرِدْ فِیْهِ بِاِلْحَادٍۭ بِظُلْمٍ نُّذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ اَلِیْمٍ۠ 25
25. আর সেসব লোক অবশ্যই কঠিন শাস্তির উপযুক্ত হয়ে পড়েছে, যারা সত্যকে অস্বীকার করে চলছে, লোকদেরকে আল্লাহর সরল-সঠিক পথে আসতে বাধা দিচ্ছে। এমনকি মসজিদে হারামের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। অথচ এ কাবায় আমি স্থানীয় ও বহিরাগত সবার সমান অধিকার দিয়েছি। কাজেই এখন যারা এ কাবার চত্বরে সত্য বিরোধী পাপের চর্চা করবে, সেসব জালেমকে আমি অবশ্যই মর্মান্তিক শাস্তি দেবো।
وَ اِذْ بَوَّاْنَا لِاِبْرٰهِیْمَ مَكَانَ الْبَیْتِ اَنْ لَّا تُشْرِكْ بِیْ شَیْـًٔا وَّ طَهِّرْ بَیْتِیَ لِلطَّآىِٕفِیْنَ وَ الْقَآىِٕمِیْنَ وَ الرُّكَّعِ السُّجُوْدِ 26
26. স্মরণ করো, আমি ইবরাহিমকে কাবাঘর নির্মাণ করার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা দেখিয়ে দিলাম। তাকে হুকুম করলাম, খবরদার! কখনোই আমার সাথে কাউকে শরিক করো না। আর আমার এ ঘরকে পবিত্র রাখো দুনিয়ার সকল তাওয়াফকারী, কিয়ামকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য।
وَ اَذِّنْ فِی النَّاسِ بِالْحَجِّ یَاْتُوْكَ رِجَالًا وَّ عَلٰی كُلِّ ضَامِرٍ یَّاْتِیْنَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِیْقٍۙ 27
27. বললাম, হে ইবরাহিম, লোকদেরকে এখানে হজ করার জন্য আহবান করো। ফলে কাছের ও দূরের সব লোকেরাই হেঁটে-হেঁটে কিংবা উটের পিঠে চড়ে এখানে হজ করতে আসবে।
لِّیَشْهَدُوْا مَنَافِعَ لَهُمْ وَ یَذْكُرُوا اسْمَ اللّٰهِ فِیْۤ اَیَّامٍ مَّعْلُوْمٰتٍ عَلٰی مَا رَزَقَهُمْ مِّنْۢ بَهِیْمَةِ الْاَنْعَامِ ۚ فَكُلُوْا مِنْهَا وَ اَطْعِمُوا الْبَآىِٕسَ الْفَقِیْرَؗ 28
28. এভাবে তারা চিরকল্যাণময় স্থানগুলোর উপকার লাভ করতে পারবে এবং আল্লাহর দেয়া জীবনোপকরণ হিসাবে যেসব গবাদি পশু রয়েছে, তা থেকে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নামে কুরবানি দিতে পারবে। আর হ্যাঁ! তোমাদের ঐসব কুরবানির পশু থেকে তোমরা যেমন খাবে, তেমনি দুস্থ-অভাবিদেরকেও খাওয়াবে।
ثُمَّ لْیَقْضُوْا تَفَثَهُمْ وَ لْیُوْفُوْا نُذُوْرَهُمْ وَ لْیَطَّوَّفُوْا بِالْبَیْتِ الْعَتِیْقِ 29
29. তারপর এসব হাজীরা নিজেদের অপরিচ্ছন্নতা দূর করবে, কোনো মানত থাকলে তা পূর্ণ করবে এবং পুনরায় এ প্রাচীন ঘর তাওয়াফ করবে।
ذٰلِكَ ۗ وَ مَنْ یُّعَظِّمْ حُرُمٰتِ اللّٰهِ فَهُوَ خَیْرٌ لَّهٗ عِنْدَ رَبِّهٖ ؕ وَ اُحِلَّتْ لَكُمُ الْاَنْعَامُ اِلَّا مَا یُتْلٰی عَلَیْكُمْ فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْاَوْثَانِ وَ اجْتَنِبُوْا قَوْلَ الزُّوْرِۙ 30
30. এটাই কাবা ও হজের ইতিহাস। অতএব যে কেউ আল্লাহর নির্ধারিত এ অনুষ্ঠানগুলোকে যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করবে, তার রবের দৃষ্টিতে এটা তার জন্য বড় কল্যাণময় হবে। আর জেনে রেখো, ইতোমধ্যে তোমাদের জন্য যা হারাম করা হয়েছে, তা ছাড়া অন্যান্য সকল গবাদি পশু তোমাদের জন্য হালাল। সুতরাং মূর্তিগুলোর অপবিত্রতা থেকে অনেক-অনেক দূরে থাকো এবং সকল ধরনের মিথ্যাচার থেকে বেঁচে থাকো।
حُنَفَآءَ لِلّٰهِ غَیْرَ مُشْرِكِیْنَ بِهٖ ؕ وَ مَنْ یُّشْرِكْ بِاللّٰهِ فَكَاَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَآءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّیْرُ اَوْ تَهْوِیْ بِهِ الرِّیْحُ فِیْ مَكَانٍ سَحِیْقٍ 31
31. অতএব আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হও। তাঁর সাথে কাউকেই শরিক করো না। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরিক করে, তার উপমা হচ্ছে সেই ব্যক্তির মত, যে আকাশের মতো উঁচু কোনো জায়গা থেকে নিচে পড়ছে আর মুহূর্তের মধ্যেই কোনো মৃতভোজী পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেলো কিংবা ঝড়ো হাওয়া তাকে উড়িয়ে নিয়ে কোনো এক অজানা জায়গায় আছড়ে ফেললো।
ذٰلِكَ ۗ وَ مَنْ یُّعَظِّمْ شَعَآىِٕرَ اللّٰهِ فَاِنَّهَا مِنْ تَقْوَی الْقُلُوْبِ 32
32. এ সবই আল্লাহর বিধান। আসলে যে অন্তর আল্লাহ সচেতনতায় পূর্ণ, কেবল সেই আল্লাহর এসব নিদর্শনাবলির প্রতি সম্মান দেখাতে পারে।
لَكُمْ فِیْهَا مَنَافِعُ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ثُمَّ مَحِلُّهَاۤ اِلَی الْبَیْتِ الْعَتِیْقِ۠ 33
33. তবে এসব কুরবানির পশুগুলোকে নির্ধারিত সময়ের আগ পর্যন্ত তোমাদের উপকারে লাগাতে পারো। আর এগুলো জবেহ করার স্থান তো আল্লাহর ঘরের নিষিদ্ধ সীমানার মধ্যে বিস্তৃত।
وَ لِكُلِّ اُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا لِّیَذْكُرُوا اسْمَ اللّٰهِ عَلٰی مَا رَزَقَهُمْ مِّنْۢ بَهِیْمَةِ الْاَنْعَامِ ؕ فَاِلٰهُكُمْ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ فَلَهٗۤ اَسْلِمُوْا ؕ وَ بَشِّرِ الْمُخْبِتِیْنَۙ 34
34. আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যই কুরবানির বিধান দিয়েছিলাম, যাতে তারা জীবনোপকরণ হিসেবে যে গবাদি পশু পেয়েছে, তা আল্লাহর নামে জবেহ করে নিজেদের জন্য কল্যাণ বয়ে নিতে পারে। কাজেই হে লোকেরা, আমিই একমাত্র তোমাদের ইলাহ। সুতরাং আমার প্রতি পূর্ণ অনুগত থাকো। হে নবী, আমার প্রতি একনিষ্ঠ বিনয়াবনতদের সুসংবাদ দাও।
الَّذِیْنَ اِذَا ذُكِرَ اللّٰهُ وَ جِلَتْ قُلُوْبُهُمْ وَ الصّٰبِرِیْنَ عَلٰی مَاۤ اَصَابَهُمْ وَ الْمُقِیْمِی الصَّلٰوةِ ۙ وَ مِمَّا رَزَقْنٰهُمْ یُنْفِقُوْنَ 35
35. কেননা তারা তো এমনসব লোক, আল্লাহর নাম শোনামাত্রই যাদের অন্তরে আলোড়ন সৃষ্টি হয়, বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ করে, নামাজ কায়েম করে এবং আল্লাহ প্রদত্ত জীবনোপকরণ থেকে ন্যায়পন্থায় খরচ করে।
وَ الْبُدْنَ جَعَلْنٰهَا لَكُمْ مِّنْ شَعَآىِٕرِ اللّٰهِ لَكُمْ فِیْهَا خَیْرٌ ۖۗ فَاذْكُرُوا اسْمَ اللّٰهِ عَلَیْهَا صَوَآفَّ ۚ فَاِذَا وَجَبَتْ جُنُوْبُهَا فَكُلُوْا مِنْهَا وَ اَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَ الْمُعْتَرَّ ؕ كَذٰلِكَ سَخَّرْنٰهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ 36
36. আর আমি কুরবানির উটকে তোমাদের জন্য আল্লাহর এক বড়ই নিদর্শন বানিয়েছি। তোমাদের জন্য এর মধ্যে নানাবিধ কল্যাণ রেখেছি। কাজেই কুরবানির দিন এসব উট সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে, এগুলোকে জবেহ করে দাও। এরপর যখন উটগুলো জমিনে হেলে পড়ে, তখন তোমরা নিজেরা এগুলোর মাংস খাও এবং যারা চায় ও যারা চায় না উভয়কেই খাওয়াও। বস্তুত আমিই এগুলোকে তোমাদের ক্ষমতার অধীন করে রেখেছি। আশা করা যায়, তোমরা কৃতজ্ঞ হবে।
لَنْ یَّنَالَ اللّٰهَ لُحُوْمُهَا وَ لَا دِمَآؤُهَا وَ لٰكِنْ یَّنَالُهُ التَّقْوٰی مِنْكُمْ ؕ كَذٰلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللّٰهَ عَلٰی مَا هَدٰىكُمْ ؕ وَ بَشِّرِ الْمُحْسِنِیْنَ 37
37. কিন্তু মনে রেখো, কুরবানির মাংস কিংবা রক্ত কোনোটাই আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না; বরং কেবল তোমাদের মনের তাকওয়াই আল্লাহর কাছে পৌঁছায়। আর এ উদ্দেশ্যেই কুরবানির পশুকে তোমাদের অধীন করে দেয়া হয়েছে। অতএব আল্লাহ তোমাদেরকে যে সৎপথ দেখিয়েছেন, তার বিনিময়ে তোমরা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমা ঘোষণা করো। আর শোনো! সৎকর্মশীলদের জন্য অবশ্যই সুসংবাদ রয়েছে।
اِنَّ اللّٰهَ یُدٰفِعُ عَنِ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یُحِبُّ كُلَّ خَوَّانٍ كَفُوْرٍ۠ 38
38. আর আল্লাহ অবশ্যই ঈমানদারদের রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো বিশ্বাসঘাতক, অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না।
اُذِنَ لِلَّذِیْنَ یُقٰتَلُوْنَ بِاَنَّهُمْ ظُلِمُوْا ؕ وَ اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی نَصْرِهِمْ لَقَدِیْرُۙ 39
39. এতোদিন যারা অন্যায়ভাবে আক্রান্ত ও অত্যাচারিত হয়েছে, আজ তাদেরকে সেসব জালেমের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হলো। আল্লাহ অবশ্যই এসব মাজলুমদের সাহায্য করতে পূর্ণ সক্ষম।
ِ۟الَّذِیْنَ اُخْرِجُوْا مِنْ دِیَارِهِمْ بِغَیْرِ حَقٍّ اِلَّاۤ اَنْ یَّقُوْلُوْا رَبُّنَا اللّٰهُ ؕ وَ لَوْ لَا دَفْعُ اللّٰهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَّهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَ بِیَعٌ وَّ صَلَوٰتٌ وَّ مَسٰجِدُ یُذْكَرُ فِیْهَا اسْمُ اللّٰهِ كَثِیْرًا ؕ وَ لَیَنْصُرَنَّ اللّٰهُ مَنْ یَّنْصُرُهٗ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَقَوِیٌّ عَزِیْزٌ 40
40. কেননা এসব মাজলুমদের শুধু একথা বলার কারণেই নিজ ঘর-বাড়ি থেকে অন্যায়ভাবে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে যে, আল্লাহই আমাদের একমাত্র রব। আসলে আল্লাহ যদি এভাবে মানবজাতির একদলকে অন্যদল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে জমিনের ইবাদতখানা পর্যন্ত আশ্রম, গীর্জা, সিনাগগ ও মসজিদ, যেখানে আল্লাহর নাম অধিক পরিমাণে স্মরণ করা হয়, সবকিছুই তছনছ হয়ে যেতো। অতএব যারা আল্লাহর এ কাজে অগ্রসর হয়, তাদেরকে তিনি অবশ্যই সাহায্য করবেন। বস্তুত আল্লাহ সর্বশক্তিমান, আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী।
اَلَّذِیْنَ اِنْ مَّكَّنّٰهُمْ فِی الْاَرْضِ اَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتَوُا الزَّكٰوةَ وَ اَمَرُوْا بِالْمَعْرُوْفِ وَ نَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ ؕ وَ لِلّٰهِ عَاقِبَةُ الْاُمُوْرِ 41
41. তারা তো এমনসব লোক, যারা জমিনে ক্ষমতাবান হলে নামাজ কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে ও অন্যায় কাজে প্রতিরোধ করবে। বস্তুত সকল বিষয়ের চুড়ান্ত পরিণতি তো আল্লাহর হাতে।
وَ اِنْ یُّكَذِّبُوْكَ فَقَدْ كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوْحٍ وَّ عَادٌ وَّ ثَمُوْدُۙ 42
42. হে নবী, সত্য অস্বীকারকারীরা যদি তোমার উপর মিথ্যারোপ করে, তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কেননা এর আগে নুহ, আদ ও সামুদেরাও তাদের নবীকে মিথ্যাবাদী বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলো।
وَ قَوْمُ اِبْرٰهِیْمَ وَ قَوْمُ لُوْطٍۙ 43
43. ইবরাহিম ও লুতের লোকেরাও তাদের সাথে একই আচরণ করেছিলো।
وَّ اَصْحٰبُ مَدْیَنَ ۚ وَ كُذِّبَ مُوْسٰی فَاَمْلَیْتُ لِلْكٰفِرِیْنَ ثُمَّ اَخَذْتُهُمْ ۚ فَكَیْفَ كَانَ نَكِیْرِ 44
44. আর মাদিয়নবাসীরাও তাদের রসুলকে মানেনি। এমনকি মিথ্যার অপবাদ থেকে মুসাও রক্ষা পায়নি। ইতিহাস সাক্ষী, আমি ঐসব কাফেরদের কিছুটা অবকাশ দিলেও; শেষ পর্যন্ত কঠিনভাবে পাকড়াও করেছি। একবার দেখে নাও, সে শাস্তি কতো ভয়ানক ছিলো।
فَكَاَیِّنْ مِّنْ قَرْیَةٍ اَهْلَكْنٰهَا وَ هِیَ ظَالِمَةٌ فَهِیَ خَاوِیَةٌ عَلٰی عُرُوْشِهَا وَ بِئْرٍ مُّعَطَّلَةٍ وَّ قَصْرٍ مَّشِیْدٍ 45
45. সীমালঙ্ঘনের শাস্তি হিসাবে কতো জালেম জনপদকেই আমি ধ্বংস করে দিয়েছি। আহ! সেসব জনপদ আজ কেবল ধ্বংসস্তুপ। হায়! কতো কুপ পরিত্যক্ত হয়ে আছে! কতো সুরম্য প্রাসাদ বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে আছে!
اَفَلَمْ یَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَتَكُوْنَ لَهُمْ قُلُوْبٌ یَّعْقِلُوْنَ بِهَاۤ اَوْ اٰذَانٌ یَّسْمَعُوْنَ بِهَا ۚ فَاِنَّهَا لَا تَعْمَی الْاَبْصَارُ وَ لٰكِنْ تَعْمَی الْقُلُوْبُ الَّتِیْ فِی الصُّدُوْرِ 46
46. আচ্ছা! এসব সত্য অস্বীকারকারীরা কি পৃথিবীতে ঘুরে ঘুরে এসব দৃশ্য দেখে না? দেখলে ওদের অন্তর অনেক কিছুই বুঝতে পেতো। ওদের কান অনেক কিছুই শুনতে পেতো। আসলে এসব নির্বোধদের চোখ অন্ধ নয়; বরং ওদের বুকের ভিতরের অন্তরটা অন্ধ হয়ে আছে।
وَ یَسْتَعْجِلُوْنَكَ بِالْعَذَابِ وَ لَنْ یُّخْلِفَ اللّٰهُ وَعْدَهٗ ؕ وَ اِنَّ یَوْمًا عِنْدَ رَبِّكَ كَاَلْفِ سَنَةٍ مِّمَّا تَعُدُّوْنَ 47
47. হে নবী, ওরা তোমাকে আল্লাহর আযাব ত্বরান্বিত করার জন্য চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে। অথচ আল্লাহর ওয়াদা কখনোই হেরফের হয় না। তবে মনে রেখো, তোমাদের রবের হিসাবে একদিন, তোমাদের গণনার হাজার বছরের সমান।
وَ كَاَیِّنْ مِّنْ قَرْیَةٍ اَمْلَیْتُ لَهَا وَ هِیَ ظَالِمَةٌ ثُمَّ اَخَذْتُهَا ۚ وَ اِلَیَّ الْمَصِیْرُ۠ 48
48. চেয়ে দেখো, সীমালঙ্ঘন করার পরও আমি বহু জনপদকে কিছু অবকাশ দিয়েছি। কিন্তু না! সময় ফুরিয়ে যাবার সাথেসাথেই আমি ঐসব জালেমদের ধ্বংস করেছি। শেষ পর্যন্ত আমার কাছে ওদের ফিরতেই হবে।
قُلْ یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اِنَّمَاۤ اَنَا لَكُمْ نَذِیْرٌ مُّبِیْنٌۚ 49
49. হে নবী, তুমি ঘোষণা করো, হে মানুষ, আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
فَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَهُمْ مَّغْفِرَةٌ وَّ رِزْقٌ كَرِیْمٌ 50
50. অতএব তোমাদের যারা ঈমান আনবে এবং সৎকাজ করে চলবে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমার ঘোষণা এবং সম্মানজনক জীবিকার নিশ্চয়তা।
وَ الَّذِیْنَ سَعَوْا فِیْۤ اٰیٰتِنَا مُعٰجِزِیْنَ اُولٰٓىِٕكَ اَصْحٰبُ الْجَحِیْمِ 51
51. আর যারা আমার আয়াতকে নিভিয়ে দেয়ার চক্রান্ত করবে, তাদের জন্য জাহান্নামের কঠিন আযাব প্রস্তুত হয়ে আছে।
وَ مَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَّسُوْلٍ وَّ لَا نَبِیٍّ اِلَّاۤ اِذَا تَمَنّٰۤی اَلْقَی الشَّیْطٰنُ فِیْۤ اُمْنِیَّتِهٖ ۚ فَیَنْسَخُ اللّٰهُ مَا یُلْقِی الشَّیْطٰنُ ثُمَّ یُحْكِمُ اللّٰهُ اٰیٰتِهٖ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌۙ 52
52. আর হে নবী, তোমার পূর্বে এমন কোনো নবী বা রসুল ছিলো না, যার অন্তরে কোনো বিষয়ের আকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছিলো; অথচ শয়তান সে আকাক্সক্ষার ব্যাপারে লোকদেরকে ভুলভাল বুঝায়নি। তবে আল্লাহ নিজেই শয়তানের সব অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দেন এবং তাঁর আয়াতসমূহকে মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
لِّیَجْعَلَ مَا یُلْقِی الشَّیْطٰنُ فِتْنَةً لِّلَّذِیْنَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ وَّ الْقَاسِیَةِ قُلُوْبُهُمْ ؕ وَ اِنَّ الظّٰلِمِیْنَ لَفِیْ شِقَاقٍۭ بَعِیْدٍۙ 53
53. কেবল মুনাফেকি রোগে আক্রান্ত অন্তর ও পাষাণ হৃদয়গুলোকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলার জন্যেই আল্লাহ শয়তানকে এভাবে সত্যের ব্যাপারে সন্দেহ-সংশয় ঢোকানোর সুযোগ করে দেন। বস্তুত পাপিষ্ঠ জালেমেরা সত্যের বিরোধিতায় বহুদূর চলে গিয়েছে।
وَّ لِیَعْلَمَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْعِلْمَ اَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَّبِّكَ فَیُؤْمِنُوْا بِهٖ فَتُخْبِتَ لَهٗ قُلُوْبُهُمْ ؕ وَ اِنَّ اللّٰهَ لَهَادِ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ 54
54. অন্যদিকে শয়তানের এসব প্ররোচনা দেখেই সতর্ক জ্ঞানীরা বুঝে নেয়, এটাই আসল সত্য, যা অবশ্যই তোমার রবের পক্ষ থেকে এসেছে। ফলে তাদের ঈমান আরো মজবুত হয়। তাদের অন্তর পরিতৃপ্ত হয়। আসলে এ ধরনের ঈমানদারদেরকে আল্লাহ অবশ্যই সত্য-সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
وَ لَا یَزَالُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا فِیْ مِرْیَةٍ مِّنْهُ حَتّٰی تَاْتِیَهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً اَوْ یَاْتِیَهُمْ عَذَابُ یَوْمٍ عَقِیْمٍ 55
55. বাস্তবে এ কাফেরেরা অকস্মাৎ কিয়ামতের মহপ্রলয় কিংবা ভাগ্যাহত কঠিন বিপর্যয়ের মুখোমুখি না হওয়া পর্যন্ত সত্যের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করতেই থাকবে।
اَلْمُلْكُ یَوْمَىِٕذٍ لِّلّٰهِ ؕ یَحْكُمُ بَیْنَهُمْ ؕ فَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ 56
56. মহবিচারের দিন চুড়ান্ত কর্তৃত্ব থাকবে আল্লাহর হাতে। তিনিই ওদের বিচার-ফায়সালা করবেন। সেদিন যারা ঈমানের সাথে সৎকর্ম নিয়ে হাজির হবে, তারা হাজারো নেয়ামতে ভরা জান্নাত লাভ করবে।
وَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا فَاُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِیْنٌ۠ 57
57. অন্যদিকে যারা কুফরি করে এবং আল্লাহর আয়াতসমূহকে অমান্য করে বিচারের মুখোমুখি হবে, তাদের জন্য থাকবে লাঞ্ছনাকর কঠিন আযাব।
وَ الَّذِیْنَ هَاجَرُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ثُمَّ قُتِلُوْۤا اَوْ مَاتُوْا لَیَرْزُقَنَّهُمُ اللّٰهُ رِزْقًا حَسَنًا ؕ وَ اِنَّ اللّٰهَ لَهُوَ خَیْرُ الرّٰزِقِیْنَ 58
58. কাজেই যারা আল্লাহর জন্য নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়েছে, এরপর তাঁর পথে লড়াই করে শহীদ হয়েছে কিংবা দ্বীনের পথে মারা গেছে নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাদের জন্য উত্তম জীবনোপকরণের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। বস্তুত আল্লাহই সর্বোত্তম রিযিকদাতা।
لَیُدْخِلَنَّهُمْ مُّدْخَلًا یَّرْضَوْنَهٗ ؕ وَ اِنَّ اللّٰهَ لَعَلِیْمٌ حَلِیْمٌ 59
59. তিনি নিশ্চিতভাবে তাদেরকে এমন সুখময় জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যা তাদেরকে দারুণভাবে খুশি ও পরিতৃপ্ত করবে। সত্যিই আল্লাহ মহাপ্রজ্ঞাময়, পরমসহিষ্ণু।
ذٰلِكَ ۚ وَ مَنْ عَاقَبَ بِمِثْلِ مَا عُوْقِبَ بِهٖ ثُمَّ بُغِیَ عَلَیْهِ لَیَنْصُرَنَّهُ اللّٰهُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَعَفُوٌّ غَفُوْرٌ 60
60. এ তো গেলো তাদের অবস্থা। অন্যদিকে কেউ নির্যাতনের প্রতিক্রিয়ায় সমপরিমাণ প্রতিশোধ নেবার পর, যদি আবারও নির্যাতিত হয়, তবে পরবর্তী প্রতিশোধ গ্রহণে আল্লাহ তাকে অবশ্যই সাহায্য করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ভুল-ত্রুটি মার্জনাকারী, আল্লাহ ক্ষমাপরায়ণ।
ذٰلِكَ بِاَنَّ اللّٰهَ یُوْلِجُ الَّیْلَ فِی النَّهَارِ وَ یُوْلِجُ النَّهَارَ فِی الَّیْلِ وَ اَنَّ اللّٰهَ سَمِیْعٌۢ بَصِیْرٌ 61
61. এসব সেই আল্লাহই করে থাকেন, যিনি রাতকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাতের মধ্যে আবর্তন ঘটান। সন্দেহ নেই, আল্লাহ সব শোনেন এবং সব দেখেন।
ذٰلِكَ بِاَنَّ اللّٰهَ هُوَ الْحَقُّ وَ اَنَّ مَا یَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِهٖ هُوَ الْبَاطِلُ وَ اَنَّ اللّٰهَ هُوَ الْعَلِیُّ الْكَبِیْرُ 62
62. আল্লাহর সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। কেননা তিনিই একমাত্র সত্য। আর লোকেরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে উপাস্য হিসাবে ডাকে, তারা সবাই মিথ্যা, কাল্পনিক। নিশ্চয়ই আল্লাহ এককভাবে সুউচ্চ, সুমহান।
اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللّٰهَ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً ؗ فَتُصْبِحُ الْاَرْضُ مُخْضَرَّةً ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَطِیْفٌ خَبِیْرٌۚ 63
63. তোমরা কি লক্ষ্য করো না, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, আর তাতেই শুষ্ক জমিন সবুজ-শ্যামলে ভরে ওঠে? আসলেই আল্লাহ সুক্ষ্ণদর্শী এবং সব বিষয়ে জ্ঞাত।
لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ ؕ وَ اِنَّ اللّٰهَ لَهُوَ الْغَنِیُّ الْحَمِیْدُ۠ 64
64. মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। একমাত্র তিনিই অভাবমুক্ত এবং সদা সপ্রশংসিত।
اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللّٰهَ سَخَّرَ لَكُمْ مَّا فِی الْاَرْضِ وَ الْفُلْكَ تَجْرِیْ فِی الْبَحْرِ بِاَمْرِهٖ ؕ وَ یُمْسِكُ السَّمَآءَ اَنْ تَقَعَ عَلَی الْاَرْضِ اِلَّا بِاِذْنِهٖ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوْفٌ رَّحِیْمٌ 65
65. আচ্ছা! তোমরা কি লক্ষ্য করো না, পৃথিবীর প্রতিটি জিনিসকে আল্লাহ তোমাদের অধীন করেছেন? সমুদ্রে চলমান নৌযানও তাঁর নিয়মের অধীন করে রেখেছেন। খেয়াল করে দেখো, একমাত্র তিনিই মহাকাশের প্রতিটি বস্তুকে স্থিতিশীল রেখেছেন, যাতে তা হঠাৎ করে তাঁর হুকুম ছাড়াই পৃথিবীর উপর আছড়ে না পড়ে। প্রকৃতই আল্লাহ মানুষের প্রতি অতিব দয়ালু এবং বড়ই মেহেরবান।
وَ هُوَ الَّذِیْۤ اَحْیَاكُمْ ؗ ثُمَّ یُمِیْتُكُمْ ثُمَّ یُحْیِیْكُمْ ؕ اِنَّ الْاِنْسَانَ لَكَفُوْرٌ 66
66. আল্লাহ তোমাদেরকে জীবন দেন এবং মৃত্যুও দেবেন। আবার তিনিই তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন। অবশ্য মানুষ সহজে সত্যকে স্বীকার করতে চায় না।
لِكُلِّ اُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا هُمْ نَاسِكُوْهُ فَلَا یُنَازِعُنَّكَ فِی الْاَمْرِ وَ ادْعُ اِلٰی رَبِّكَ ؕ اِنَّكَ لَعَلٰی هُدًی مُّسْتَقِیْمٍ 67
67. আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যই ইবাদতের পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছি। কাজেই ওরা যেনো তোমার ইবাদত পদ্ধতির ব্যাপারে বিতর্কে না জড়ায়। আর হে নবী, তুমি ওদেরকে তোমার রবের দিকে আহ্বান করো। নিশ্চয়ই তুমি সত্য-সঠিক পথের উপর প্রতিষ্ঠিত।
وَ اِنْ جٰدَلُوْكَ فَقُلِ اللّٰهُ اَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ 68
68. এরপরও যদি ওরা তোমার সাথে বিতর্কে জড়ায়, তবে বলে দাও, তোমরা যা কিছু করে বেড়াচ্ছো, আল্লাহ সে সম্পর্কে অবহিত রয়েছেন।
اَللّٰهُ یَحْكُمُ بَیْنَكُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ فِیْمَا كُنْتُمْ فِیْهِ تَخْتَلِفُوْنَ 69
69. আর জেনে রেখো, তোমরা এখন যেসব ব্যাপারে মতবিরোধ করছো, মহাবিচারের দিন স্বয়ং আল্লাহই সে বিষয়ে চুড়ান্ত ফায়সালা করে দেবেন।
اَلَمْ تَعْلَمْ اَنَّ اللّٰهَ یَعْلَمُ مَا فِی السَّمَآءِ وَ الْاَرْضِ ؕ اِنَّ ذٰلِكَ فِیْ كِتٰبٍ ؕ اِنَّ ذٰلِكَ عَلَی اللّٰهِ یَسِیْرٌ 70
70. হে মানুষ, তোমরা কি এটা জানো না যে, আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে সব ব্যাপারেই আল্লাহ জানেন? নিশ্চয়ই সবকিছু আল্লাহ এক কিতাবে লিখে রেখেছেন। আর আল্লাহর জন্য এটা খুবই সহজ কাজ।
وَ یَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ مَا لَمْ یُنَزِّلْ بِهٖ سُلْطٰنًا وَّ مَا لَیْسَ لَهُمْ بِهٖ عِلْمٌ ؕ وَ مَا لِلظّٰلِمِیْنَ مِنْ نَّصِیْرٍ 71
71. এরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন সব জিনিসের উপাসনা করছে, যার যথার্থতা প্রমাণে আল্লাহ কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি। এমনকি এ ব্যাপারে ওদের নিজেদেরও সঠিক কোনো জ্ঞান নেই। কাজেই এ জালেমেরা আমার মোকাবেলায় কোনো সাহায্যকারী পাবে না।
وَ اِذَا تُتْلٰی عَلَیْهِمْ اٰیٰتُنَا بَیِّنٰتٍ تَعْرِفُ فِیْ وُجُوْهِ الَّذِیْنَ كَفَرُوا الْمُنْكَرَ ؕ یَكَادُوْنَ یَسْطُوْنَ بِالَّذِیْنَ یَتْلُوْنَ عَلَیْهِمْ اٰیٰتِنَا ؕ قُلْ اَفَاُنَبِّئُكُمْ بِشَرٍّ مِّنْ ذٰلِكُمْ ؕ اَلنَّارُ ؕ وَعَدَهَا اللّٰهُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا ؕ وَ بِئْسَ الْمَصِیْرُ۠ 72
72. আর যখনই এসব সত্য অস্বীকারকারীদের সামনে আমার সুস্পষ্ট আয়াতগুলো পড়ে শুনানো হয়, তখনই ওদের চেহারায় বিদ্বেষ-অসন্তোষের ছাপ ফুটে ওঠে। যারা ওদের সামনে আমার আয়ত পাঠ করে, তাদের দিকে মারমুখী হয়ে তেড়ে আসে। হে নবী, এসব অবাধ্যদের বলো, আমি কি তোমাদেরকে এরচেয়েও খারাপ সংবাদ জানাবো? জাহান্নাম! সেটা জাহান্নামের আগুন! কাফেরদের জন্য এটা আল্লাহর পাক্কা ওয়াদা। হায়! কী নিকৃষ্ট পরিণতি!
یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوْا لَهٗ ؕ اِنَّ الَّذِیْنَ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ لَنْ یَّخْلُقُوْا ذُبَابًا وَّ لَوِ اجْتَمَعُوْا لَهٗ ؕ وَ اِنْ یَّسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَیْـًٔا لَّا یَسْتَنْقِذُوْهُ مِنْهُ ؕ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَ الْمَطْلُوْبُ 73
73. হে মানুষ, তোমাদের কাজের একটি উপমা দেয়া হচ্ছে, মনযোগ দিয়ে শোনো। তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব খোদাদের উপাসনা করে যাচ্ছো, তারা সবাই একসাথ হয়েও কখনো সামান্য একটা মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না। এমনকি উল্টো যদি কোনো মাছি তাদের থেকে ক্ষুদ্র কোনো জিনিসও ছিনিয়ে নেয়, তবে তাও উদ্ধার করার ক্ষমতা তাদের নেই। হায়! যারা সাহায্য চাচ্ছে এবং যার কাছে চাচ্ছে উভয়ে কতোইনা দুর্বল!
مَا قَدَرُوا اللّٰهَ حَقَّ قَدْرِهٖ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَقَوِیٌّ عَزِیْزٌ 74
74. প্রকৃত অর্থে, এসব সত্য অস্বীকারকারীরা আল্লাহকে যথার্থ মর্যাদা দিতে পারেনি। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং মহা পরাক্রমশালী।
اَللّٰهُ یَصْطَفِیْ مِنَ الْمَلٰٓىِٕكَةِ رُسُلًا وَّ مِنَ النَّاسِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ سَمِیْعٌۢ بَصِیْرٌۚ 75
75. জেনে রেখো, আল্লাহ তাঁর বাণী পৌঁছে দেবার জন্যই কেবল ফেরেশতা ও মানুষের মধ্য থেকে কাউকে কাউকে রসুল হিসাবে বাছাই করে নিয়েছেন। বস্তুত তিনি সব শোনেন, সব দেখেন।
یَعْلَمُ مَا بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَ مَا خَلْفَهُمْ ؕ وَ اِلَی اللّٰهِ تُرْجَعُ الْاُمُوْرُ 76
76. আল্লাহর কাছে তাদের প্রকাশ্য ও গোপন, অতীত-ভবিষ্যৎ কোনো কিছুই অজানা নয়। শেষ পর্যন্ত সবকিছু তাঁর দিকেই ফিরে যাবে।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا ارْكَعُوْا وَ اسْجُدُوْا وَ اعْبُدُوْا رَبَّكُمْ وَ افْعَلُوا الْخَیْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَۚ۩ 77
77. অতএব হে ঈমানদারেরা, তোমাদের রবের জন্য রুকু করো, সেজদা করো, একনিষ্ঠভাবে তাঁর বন্দেগিতে মত্ত হও এবং ভালো কাজ করে যাও। হয়তো তোমরা এ পথ ধরে সাফল্য খুঁজে পাবে। (সিজদা)
وَ جَاهِدُوْا فِی اللّٰهِ حَقَّ جِهَادِهٖ ؕ هُوَ اجْتَبٰىكُمْ وَ مَا جَعَلَ عَلَیْكُمْ فِی الدِّیْنِ مِنْ حَرَجٍ ؕ مِلَّةَ اَبِیْكُمْ اِبْرٰهِیْمَ ؕ هُوَ سَمّٰىكُمُ الْمُسْلِمِیْنَ ۙ۬ مِنْ قَبْلُ وَ فِیْ هٰذَا لِیَكُوْنَ الرَّسُوْلُ شَهِیْدًا عَلَیْكُمْ وَ تَكُوْنُوْا شُهَدَآءَ عَلَی النَّاسِ ۖۚ فَاَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ وَ اعْتَصِمُوْا بِاللّٰهِ ؕ هُوَ مَوْلٰىكُمْ ۚ فَنِعْمَ الْمَوْلٰی وَ نِعْمَ النَّصِیْرُ۠ 78
78. হে ঈমানদারেরা, আল্লাহর পথে লড়াই-সংগ্রামে তোমাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করো। মনে রেখো, তোমাদেরকে তিনি বিশেষভাবে তাঁর কাজের জন্য বাছাই করেছেন এবং তোমাদেরকে সংকীর্ণতামুক্ত এক উদার ও সহজ জীবনবিধান দিয়েছেন। তোমাদের পিতা ইবরাহিমের জীবনাদর্শ এমনই ছিলো। তোমরা তার উপর কায়েম থাকো। জেনে রেখো, তোমাদের আগের ঈমানদারদেরকেও আল্লাহ মুসলিম নাম দিয়েছিলেন। আর এখন তোমাদেরকেও একই নাম দিচ্ছেন। এভাবে রসুল তোমাদের উপর সাক্ষী হবেন এবং তোমরা সাক্ষী হবে অন্যান্য লোকদের উপর। অতএব সদা সর্বদা নামাজ কায়েম করে চলো, যাকাত আদায় করো এবং আল্লাহকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো। তিনিই তোমাদের অভিভাবক, রক্ষাকারী। তিনি কতোইনা চমৎকার অভিভাবক! চমৎকার সাহায্যকারী!