23. আল মুমিনুন

قَدْ اَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوْنَۙ 1
1. নিশ্চয়ই ঈমানদারেরা সফল হয়েছে।
الَّذِیْنَ هُمْ فِیْ صَلَاتِهِمْ خٰشِعُوْنَۙ 2
2. কেননা তারা (এক) নিজেদের নামাজে বিনম্র থাকে।
وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُوْنَۙ 3
3. (দুই) অনর্থক কথা ও বেহুদা কাজ থেকে বহু দূরে থাকে।
وَ الَّذِیْنَ هُمْ لِلزَّكٰوةِ فٰعِلُوْنَۙ 4
4. (তিন) সার্বিক পরিশুদ্ধির কাজে সদা সর্বদা সচেষ্ট থাকে।
وَ الَّذِیْنَ هُمْ لِفُرُوْجِهِمْ حٰفِظُوْنَۙ 5
5. (চার) নিজেদের লজ্জাস্থানকে হেফাযত করে।
اِلَّا عَلٰۤی اَزْوَاجِهِمْ اَوْ مَا مَلَكَتْ اَیْمَانُهُمْ فَاِنَّهُمْ غَیْرُ مَلُوْمِیْنَۚ 6
6. অবশ্য আপন স্ত্রী ও মালিকানাধীন দাসীদের সাথে হেফাযত না করলে, কোনো দোষ নেই।
فَمَنِ ابْتَغٰی وَرَآءَ ذٰلِكَ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْعٰدُوْنَۚ 7
7. তবে যে এ দুটির বাইরে অন্য কোনো কিছু কামনা করবে, সে অবশ্যই সীমালঙ্ঘনকারী বলে গণ্য হবে।
وَ الَّذِیْنَ هُمْ لِاَمٰنٰتِهِمْ وَ عَهْدِهِمْ رٰعُوْنَۙ 8
8. (পাঁচ) নিজেদের কাছে থাকা সব ধরনের আমানত সংরক্ষণ করে (ছয়) এবং অন্যকে দেয়া ওয়াদা-অঙ্গীকার মেনে চলে।
وَ الَّذِیْنَ هُمْ عَلٰی صَلَوٰتِهِمْ یُحَافِظُوْنَۘ 9
9. (সাত) নিজেদের নামাজসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে।
اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْوٰرِثُوْنَۙ 10
10. সন্দেহ নেই, এসব ঈমানদারেরাই জান্নাতুল ফেরদাউসের অধিকারী হবে,
الَّذِیْنَ یَرِثُوْنَ الْفِرْدَوْسَ ؕ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ 11
11. এবং সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
وَ لَقَدْ خَلَقْنَا الْاِنْسَانَ مِنْ سُلٰلَةٍ مِّنْ طِیْنٍۚ 12
12. আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মাটির মৌল উপাদান থেকে।
ثُمَّ جَعَلْنٰهُ نُطْفَةً فِیْ قَرَارٍ مَّكِیْنٍ۪ 13
13. এরপর তাকে শুক্রবিন্দুতে পরিণত করি এবং কিছু সময়ের জন্য এক সুরক্ষিত স্থানে রাখি।
ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظٰمًا فَكَسَوْنَا الْعِظٰمَ لَحْمًا ۗ ثُمَّ اَنْشَاْنٰهُ خَلْقًا اٰخَرَ ؕ فَتَبٰرَكَ اللّٰهُ اَحْسَنُ الْخٰلِقِیْنَؕ 14
14. এরপর সে শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে তৈরি করি। তারপর সে জমাট রক্তকে বিবর্তিত করি মাংসপিন্ড এবং পরে সে মাংসপিন্ডর সাথে হাড় সংস্থাপন করি। এরপর সে হাড়গুলোকে ঢেকে দেই মাংস দ্বারা। অবশেষে তাকে এক অনন্য সৃষ্টিরূপে তৈরি করি। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কতইনা মহান!
ثُمَّ اِنَّكُمْ بَعْدَ ذٰلِكَ لَمَیِّتُوْنَؕ 15
15. কিন্তু না! তোমাদেরকে একসময় অবশ্যই মরতে হবে।
ثُمَّ اِنَّكُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ تُبْعَثُوْنَ 16
16. এরপর মহাবিচারের দিন তোমাদেরকে আবার পুনরুজ্জীবিত করা হবে।
وَ لَقَدْ خَلَقْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعَ طَرَآىِٕقَ ۖۗ وَ مَا كُنَّا عَنِ الْخَلْقِ غٰفِلِیْنَ 17
17. আমি তোমাদের উপরে আকাশকে বিন্যস্ত করেছি সাত স্তরে। সৃষ্টির বিষয়ে আমি কখনেই উদাসীন-বেখেয়াল নই।
وَ اَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءًۢ بِقَدَرٍ فَاَسْكَنّٰهُ فِی الْاَرْضِ ۖۗ وَ اِنَّا عَلٰی ذَهَابٍۭ بِهٖ لَقٰدِرُوْنَۚ 18
18. আমি আকাশ থেকে পরিমিত পানি বর্ষণ করি এবং তা জমিনে সংরক্ষণ করে রাখি। আবার আমি চাইলে সে পানি গায়েবও করে দিতে পারি।
فَاَنْشَاْنَا لَكُمْ بِهٖ جَنّٰتٍ مِّنْ نَّخِیْلٍ وَّ اَعْنَابٍ ۘ لَكُمْ فِیْهَا فَوَاكِهُ كَثِیْرَةٌ وَّ مِنْهَا تَاْكُلُوْنَۙ 19
19. আমি সে পানি দিয়েই তোমাদের জন্য খেজুর ও আঙুরের বাগান তৈরি করেছি। সেসব বাগান থেকে তোমরা প্রচুর সুস্বাদু ফল সংগ্রহ করছো, যা নিজেরা খেয়েও চলছো।
وَ شَجَرَةً تَخْرُجُ مِنْ طُوْرِ سَیْنَآءَ تَنْۢبُتُ بِالدُّهْنِ وَ صِبْغٍ لِّلْاٰكِلِیْنَ 20
20. আর আমিই সিনাই পাহাড়ে যাইতুন গাছ উৎপন্ন করি, যা আহারকারীদের জন্য তেল ও তরকারির যোগান দেয়।
وَ اِنَّ لَكُمْ فِی الْاَنْعَامِ لَعِبْرَةً ؕ نُسْقِیْكُمْ مِّمَّا فِیْ بُطُوْنِهَا وَ لَكُمْ فِیْهَا مَنَافِعُ كَثِیْرَةٌ وَّ مِنْهَا تَاْكُلُوْنَۙ 21
21. আর তোমাদের জন্য গবাদি পশুর মধ্যেও অনেক শিক্ষা রয়েছে। তোমরা এগুলোর দুধ পান করো, যা তোমাদের জন্য খুবই উপকারী। আবার এগুলোর মাংসও খেয়ে থাকো।
وَ عَلَیْهَا وَ عَلَی الْفُلْكِ تُحْمَلُوْنَ۠ 22
22. তোমরা এগুলোর কোনো কোনোটার উপর আরোহণও করে থাকো। আবার তোমরা নৌযানেও আরোহণ করে থাকো।
وَ لَقَدْ اَرْسَلْنَا نُوْحًا اِلٰی قَوْمِهٖ فَقَالَ یٰقَوْمِ اعْبُدُوا اللّٰهَ مَا لَكُمْ مِّنْ اِلٰهٍ غَیْرُهٗ ؕ اَفَلَا تَتَّقُوْنَ 23
23. স্মরণ করে দেখো, একসময় আমি নুহকে তার জাতির কাছে রসুল করে পাঠালাম। সে তার জাতির লোকদের বললো, হে আমার লোকেরা, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করো। তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই। এরপরও কি তোমরা তাকে ভয় করবে না?
فَقَالَ الْمَلَؤُا الَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْ قَوْمِهٖ مَا هٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ ۙ یُرِیْدُ اَنْ یَّتَفَضَّلَ عَلَیْكُمْ ؕ وَ لَوْ شَآءَ اللّٰهُ لَاَنْزَلَ مَلٰٓىِٕكَةً ۖۚ مَّا سَمِعْنَا بِهٰذَا فِیْۤ اٰبَآىِٕنَا الْاَوَّلِیْنَۚ 24
24. কিন্তু না! নুহের জাতির নেতারা এ সত্যকে মানলো না। বরং তারা লোকদের বললো, দেখো! এ তো তোমাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ। তার আসল মতলব হচ্ছে, তোমাদের উপর নিজের কর্তৃত্ব ও প্রাধান্য বিস্তার করা। আসলে আল্লাহ যদি তোমাদের কাছে কোনো রসুল পাঠাতেই চাইতেন, তবে তিনি তাঁর ফেরেশতাদেরকেই পাঠাতেন। কোনো মানুষ আল্লাহর রসুল হতে পারে এটা আমাদের বাপ-দাদার জীবনেও শুনিনি।
اِنْ هُوَ اِلَّا رَجُلٌۢ بِهٖ جِنَّةٌ فَتَرَبَّصُوْا بِهٖ حَتّٰی حِیْنٍ 25
25. আসলে তেমন কিছুই না, শুধুমাত্র এ লোকটার একটু মাথা খারাপ হয়েছে। কয়েকটা দিন অপেক্ষা করো, দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে।
قَالَ رَبِّ انْصُرْنِیْ بِمَا كَذَّبُوْنِ 26
26. নুহ ফরিয়াদ করলো, হে আমার রব, আমাকে সাহায্য করো। ওরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে।
فَاَوْحَیْنَاۤ اِلَیْهِ اَنِ اصْنَعِ الْفُلْكَ بِاَعْیُنِنَا وَ وَحْیِنَا فَاِذَا جَآءَ اَمْرُنَا وَ فَارَ التَّنُّوْرُ ۙ فَاسْلُكْ فِیْهَا مِنْ كُلٍّ زَوْجَیْنِ اثْنَیْنِ وَ اَهْلَكَ اِلَّا مَنْ سَبَقَ عَلَیْهِ الْقَوْلُ مِنْهُمْ ۚ وَ لَا تُخَاطِبْنِیْ فِی الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا ۚ اِنَّهُمْ مُّغْرَقُوْنَ 27
27. তখন আমি নুহকে অহি পাঠালাম, ঠিক আছে! এবার তুমি আমার নির্দেশনার আলোকে আমারই তত্ত্বাবধানে একটি জাহাজ নির্মাণ করো। এরপর যখন আমার হুকুম এসে পড়বে এবং সেই বিশেষ চুলাটির তলা থেকে পানি উত্থিত হবে, তখন তুমি সব ধরনের প্রাণী থেকে এক জোড়া করে তোমার জাহাজে তুলবে এবং নিজেও তোমার ঈমানদার পরিবার ও সঙ্গী-সাথিদের নিয়ে জাহাজে উঠবে। তবে মনে রেখো, তোমার পরিবারের সীমালঙ্ঘনকারীরা জাহাজে উঠবে না এবং তাদের ব্যাপারে কখনো আমায় সুপারিশও করবে না। সমস্ত জালেমেরাই পানিতে ডুবে মরবে।
فَاِذَا اسْتَوَیْتَ اَنْتَ وَ مَنْ مَّعَكَ عَلَی الْفُلْكِ فَقُلِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْ نَجّٰىنَا مِنَ الْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ 28
28. আর নিজ সঙ্গী-সাথিদের নিয়ে জাহাজে উঠার সময় বলবে, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর শোকর, যিনি আমাদেরকে জালেমদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।
وَ قُلْ رَّبِّ اَنْزِلْنِیْ مُنْزَلًا مُّبٰرَكًا وَّ اَنْتَ خَیْرُ الْمُنْزِلِیْنَ 29
29. এবং দোয়া করবে, হে আমার রব, যেখানে আমার জন্য কল্যাণ রয়েছে, সেখানেই আমাকে নামাও। আর যথার্থ গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যাপারে তুমিই সর্বশ্রেষ্ঠ।
اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ وَّ اِنْ كُنَّا لَمُبْتَلِیْنَ 30
30. এ ঘটনার মধ্যে মানুষের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে। আর লোকদেরকে পরীক্ষা করে নেয়া আমার চিরন্তন নীতি।
ثُمَّ اَنْشَاْنَا مِنْۢ بَعْدِهِمْ قَرْنًا اٰخَرِیْنَۚ 31
31. এভাবেই নুহের জাতি ধ্বংস হয়ে গেলো। ওদের পরে আমি আদ জাতির উত্থান ঘটাই।
فَاَرْسَلْنَا فِیْهِمْ رَسُوْلًا مِّنْهُمْ اَنِ اعْبُدُوا اللّٰهَ مَا لَكُمْ مِّنْ اِلٰهٍ غَیْرُهٗ ؕ اَفَلَا تَتَّقُوْنَ۠ 32
32. এভাবে এক সময় ঐ আদ জাতির কাছেও একজন রসুল পাঠালাম। সে তাদের ডেকে বললো, তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করো। তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই। তোমরা কি তাঁর ব্যাপারে সতর্ক হবে না?
وَقَالَ الْمَلَاُ مِنْ قَوْمِهِ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ كَذَّبُوْا بِلِقَآءِ الْاٰخِرَةِ وَ اَتْرَفْنٰهُمْ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۙ مَا هٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ ۙ یَاْكُلُ مِمَّا تَاْكُلُوْنَ مِنْهُ وَ یَشْرَبُ مِمَّا تَشْرَبُوْنَ۪ۙ 33
33. কিন্তু আদ জাতির নেতারাও ছিলো সত্য অস্বীকারকারী। ওরা আখেরাতের সাক্ষাতকে মিথ্যা মনে করতো। অথচ আমি ওদেরকে পার্থিব জীবনে প্রচুর ভোগসম্ভার ও প্রাচুর্য দান করেছিলাম। এসব নেতারা জাতির সাধারণ লোকদের বোঝাতে লাগলো, ভাইসব, দেখো! এ লোক তোমাদের মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছুই নয়। তোমরা যা খাও, সেও তা-ই খায়। তোমরা যা পান করো, সেও তা-ই পান করে।
وَ لَىِٕنْ اَطَعْتُمْ بَشَرًا مِّثْلَكُمْ اِنَّكُمْ اِذًا لَّخٰسِرُوْنَۙ 34
34. কাজেই এখন যদি তোমাদের মতো সাধারণ একজনের আনুগত্য মেনে নাও, তবে তোমরা ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
اَیَعِدُكُمْ اَنَّكُمْ اِذَا مِتُّمْ وَ كُنْتُمْ تُرَابًا وَّ عِظَامًا اَنَّكُمْ مُّخْرَجُوْنَ۪ۙ 35
35. সে কি তোমাদেরকে এ কথা বলে যে, মরার পর অস্থিমজ্জা মাটিতে মিশে পঁচে গেলেও তোমাদেরকে কবর থেকে আবার তুলে আনা হবে?
هَیْهَاتَ هَیْهَاتَ لِمَا تُوْعَدُوْنَ۪ۙ 36
36. অসম্ভব! তার এ ওয়াদা কখনোই ঘটবে না।
اِنْ هِیَ اِلَّا حَیَاتُنَا الدُّنْیَا نَمُوْتُ وَ نَحْیَا وَ مَا نَحْنُ بِمَبْعُوْثِیْنَ۪ۙ 37
37. শোনো! দুনিয়ার জীবনই আমাদের একমাত্র জীবন। আমরা এখনেই মরি, এখানেই বাঁচি। কাজেই আমাদের কোনো পুনরুত্থান নেই।
اِنْ هُوَ اِلَّا رَجُلُ ِ۟افْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا وَّ مَا نَحْنُ لَهٗ بِمُؤْمِنِیْنَ 38
38. ভাইসব, আসলে এ লোকটি আল্লাহর নামে নিছক মিথ্যার বেসাতি করে বেড়াচ্ছে। আমরা তাকে কখনোই মানি না।
قَالَ رَبِّ انْصُرْنِیْ بِمَا كَذَّبُوْنِ 39
39. শেষ পর্যন্ত রসুল ফরিয়াদ করলো, হে আমার রব, ওরা আমায় মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। এখন তুমিই আমাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করো।
قَالَ عَمَّا قَلِیْلٍ لَّیُصْبِحُنَّ نٰدِمِیْنَۚ 40
40. আল্লাহ বললেন, শীঘ্রই ওরা নিজের কৃতকর্মের জন্য ভীষণ অনুশোচনা করবে।
فَاَخَذَتْهُمُ الصَّیْحَةُ بِالْحَقِّ فَجَعَلْنٰهُمْ غُثَآءً ۚ فَبُعْدًا لِّلْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ 41
41. এরপর সত্যিসত্যি এক প্রচন্ড বিকট শব্দ ওদের আঘাত হানলো, ফলে ওরা বন্যায় ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনার মতো এখানে-সেখানে পড়ে রইলো। অবাধ্য জালেমেরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো।
ثُمَّ اَنْشَاْنَا مِنْۢ بَعْدِهِمْ قُرُوْنًا اٰخَرِیْنَؕ 42
42. ওদের পরও আমি বহু জাতির উত্থান ঘটিয়েছি।
مَا تَسْبِقُ مِنْ اُمَّةٍ اَجَلَهَا وَ مَا یَسْتَاْخِرُوْنَؕ 43
43. কোনো জাতিই তার সময় সীমার পূর্বে শেষ হয়ে যায়নি এবং তারপরে টিকেও থাকতে পারেনি।
ثُمَّ اَرْسَلْنَا رُسُلَنَا تَتْرَا ؕ كُلَّمَا جَآءَ اُمَّةً رَّسُوْلُهَا كَذَّبُوْهُ فَاَتْبَعْنَا بَعْضَهُمْ بَعْضًا وَّ جَعَلْنٰهُمْ اَحَادِیْثَ ۚ فَبُعْدًا لِّقَوْمٍ لَّا یُؤْمِنُوْنَ 44
44. আমি ঐসব জাতির কাছে একের পর এক রসুল পাঠিয়েছি। অথচ আফসোস! যে জাতির কাছেই আমার রসুল এসেছে, সে জাতিই তাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে আমি ওদেরকে একের পর এক ধ্বংস করে দিয়েছি। হায়! শেষ পর্যন্ত ওরা কাহিনীর বিষয়ে পরিণত হয়েছে। হায়! এসব বেঈমানেরা ধ্বংস হয়েছে।
ثُمَّ اَرْسَلْنَا مُوْسٰی وَ اَخَاهُ هٰرُوْنَ ۙ۬ بِاٰیٰتِنَا وَ سُلْطٰنٍ مُّبِیْنٍۙ 45
45. এরপর আমি এক সময় মুসা ও তার ভাই হারুনকে আমার নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ পাঠালাম,
اِلٰی فِرْعَوْنَ وَ مَلَاۡىِٕهٖ فَاسْتَكْبَرُوْا وَ كَانُوْا قَوْمًا عَالِیْنَۚ 46
46. ফেরাউন ও তার রাজ পরিষদবর্গের কাছে। কিন্তু ওরা অহংকার দেখালো। আসলে ওরা ছিলো বড়ই উদ্ধত স্বভাবের।
فَقَالُوْۤا اَنُؤْمِنُ لِبَشَرَیْنِ مِثْلِنَا وَ قَوْمُهُمَا لَنَا عٰبِدُوْنَۚ 47
47. ওরা তখন বললো, আমাদের মতো দু’জন মানুষকে আমরা কিভাবে আল্লাহর রসুল বলে মেনে নেই? বিশেষভাবে যাদের সম্প্রদায় আমাদের দাসত্ব করে চলছে?
فَكَذَّبُوْهُمَا فَكَانُوْا مِنَ الْمُهْلَكِیْنَ 48
48. শেষ পর্যন্ত ওরা উভয়কেই মিথ্যাবাদী বলে প্রত্যাখ্যান করলো। ফলশ্রুতিতে ওরাও ধ্বংস হয়ে গেলো।
وَ لَقَدْ اٰتَیْنَا مُوْسَی الْكِتٰبَ لَعَلَّهُمْ یَهْتَدُوْنَ 49
49. আমি মুসাকে আমার কিতাব দিয়েছিলাম, যাতে তারা নিজেদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে।
وَ جَعَلْنَا ابْنَ مَرْیَمَ وَ اُمَّهٗۤ اٰیَةً وَّ اٰوَیْنٰهُمَاۤ اِلٰی رَبْوَةٍ ذَاتِ قَرَارٍ وَّ مَعِیْنٍ۠ 50
50. এভাবেই আমি মারিয়াম ও তার পুত্র ঈসাকে জগতবাসীর সামনে আমার নিদর্শন হিসাবে পেশ করেছিলাম। তাদেরকে প্রবহমান ঝর্নার ধারে এক নিরাপদ শান্ত উঁচু ভূমিতে আশ্রয়ও দিয়েছিলাম।
یٰۤاَیُّهَا الرُّسُلُ كُلُوْا مِنَ الطَّیِّبٰتِ وَ اعْمَلُوْا صَالِحًا ؕ اِنِّیْ بِمَا تَعْمَلُوْنَ عَلِیْمٌؕ 51
51. হে রসুলগণ, তোমরা সর্বদা পাক-পবিত্র খাবার গ্রহণ করো এবং ভালোকাজ করে চলো। বস্তুত তোমরা যা কিছুই করো না কেন, আমি তা ভালোকরেই জানি।
وَ اِنَّ هٰذِهٖۤ اُمَّتُكُمْ اُمَّةً وَّاحِدَةً وَّ اَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُوْنِ 52
52. তোমরা ও তোমাদের ঈমানদার সঙ্গী-সাথিরা মূলত একই আদর্শবাহী উম্মতের অন্তর্ভুক্ত। আমিই তোমাদের রব। অতএব আমাকেই ভয় করে চলো।
فَتَقَطَّعُوْۤا اَمْرَهُمْ بَیْنَهُمْ زُبُرًا ؕ كُلُّ حِزْبٍۭ بِمَا لَدَیْهِمْ فَرِحُوْنَ 53
53. কিন্তু পরে এ নবীদের অনুসারীরা এ সত্য দ্বীনকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে নানা ধর্মে বিভক্ত হয়ে গেছে এবং প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ মতাদর্শ নিয়ে আনন্দিত রয়েছে।
فَذَرْهُمْ فِیْ غَمْرَتِهِمْ حَتّٰی حِیْنٍ 54
54. কাজেই ওদেরকে উপেক্ষা করো। সময় আসা পর্যন্ত ওরা নিজেদের বিভ্রান্তির মধ্যে ডুবে থাকুক।
اَیَحْسَبُوْنَ اَنَّمَا نُمِدُّهُمْ بِهٖ مِنْ مَّالٍ وَّ بَنِیْنَۙ 55
55. আচ্ছা! আমি যে ওদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি দিয়ে সাহায্য করে যাচ্ছি, এ সম্পর্কে ওদের ধারণা কী?
نُسَارِعُ لَهُمْ فِی الْخَیْرٰتِ ؕ بَلْ لَّا یَشْعُرُوْنَ 56
56. ওরা কি মনে করে যে, এসব দ্বারা আমি ওদের কল্যাণই সাধন করছি? না! তা নয়, ওরা বুঝতে পারছে না যে, এর মাধ্যমে বরং ওদেরকে আরো কঠিন পরীক্ষায় ফেলছি।
اِنَّ الَّذِیْنَ هُمْ مِّنْ خَشْیَةِ رَبِّهِمْ مُّشْفِقُوْنَۙ 57
57. আসল সত্য হচ্ছে, যারা তাদের রবের আযাবের ভয়ে সব সময় ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে।
وَ الَّذِیْنَ هُمْ بِاٰیٰتِ رَبِّهِمْ یُؤْمِنُوْنَۙ 58
58. যারা তাদের রবের বাণীকে নিষ্ঠার সাথে মেনে নিয়েছে।
وَ الَّذِیْنَ هُمْ بِرَبِّهِمْ لَا یُشْرِكُوْنَۙ 59
59. যারা তার রবের সাথে অন্য কাউকেই শরিক করে না।
وَ الَّذِیْنَ یُؤْتُوْنَ مَاۤ اٰتَوْا وَّ قُلُوْبُهُمْ وَجِلَةٌ اَنَّهُمْ اِلٰی رَبِّهِمْ رٰجِعُوْنَۙ 60
60. এবং যারা তার রবের কাছে ফিরে যেতে হবে এ চেতনা নিয়ে কম্পিত হৃদয়ে আন্তরিকতার সাথে দান করে।
اُولٰٓىِٕكَ یُسٰرِعُوْنَ فِی الْخَیْرٰتِ وَ هُمْ لَهَا سٰبِقُوْنَ 61
61. কেবল তারাই, হ্যাঁ কেবল তারাই কল্যাণ লাভের পথে এগিয়ে চলছে। তারাই কল্যাণ পাওয়ার পথে অগ্রগামী।
وَ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا وَ لَدَیْنَا كِتٰبٌ یَّنْطِقُ بِالْحَقِّ وَ هُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ 62
62. হে মনুষ, আমি তোমাদেরকে সাধ্যের অতিরিক্ত কোনো কিছুই করতে বলিনি। আর হ্যা! সবার আমলনামা আমি সত্যসহ সংরক্ষণ করছি। কাজেই বিচারের দিন কারো প্রতি একবিন্দু অবিচারও করা হবে না।
بَلْ قُلُوْبُهُمْ فِیْ غَمْرَةٍ مِّنْ هٰذَا وَ لَهُمْ اَعْمَالٌ مِّنْ دُوْنِ ذٰلِكَ هُمْ لَهَا عٰمِلُوْنَ 63
63. আফসোস! ওদের অন্তর সত্যের ব্যাপারে অজ্ঞতায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে। ওরা কেবল সত্য দ্বীন থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়নি; বরং আরো অসংখ্য খারাপ কাজ করে বেড়াচ্ছে। আসলে ওরা পাপাচার করেই যাবে,
حَتّٰۤی اِذَاۤ اَخَذْنَا مُتْرَفِیْهِمْ بِالْعَذَابِ اِذَا هُمْ یَجْـَٔرُوْنَؕ 64
64. যতক্ষণ না আমি ওদের ভোগ-বিলাসীদের কঠিন আযাবে পাকড়াও করবো। দেখবে, সেদিন ওরা আর্তনাদ করতে থাকবে।
لَا تَجْـَٔرُوا الْیَوْمَ ۫ اِنَّكُمْ مِّنَّا لَا تُنْصَرُوْنَ 65
65. তখন বলা হবে, আজ আর্তনাদ করে কোনো লাভ নেই। তোমাদের বাঁচানোর কেউ নেই।
قَدْ كَانَتْ اٰیٰتِیْ تُتْلٰی عَلَیْكُمْ فَكُنْتُمْ عَلٰۤی اَعْقَابِكُمْ تَنْكِصُوْنَۙ 66
66. ভুলে গেছো, আমার বাণী যখন তোমাদের শোনানো হতো, তখন তোমরা না শোনার জন্য পিছন ফিরে কেটে পড়তে?
مُسْتَكْبِرِیْنَ ۖۗ بِهٖ سٰمِرًا تَهْجُرُوْنَ 67
67. আর দম্ভভরে তা অগ্রাহ্য করতে এবং এসব নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে-সেখানে অবাস্তব অর্থহীন সমালোচনা ও গালগল্পে মেতে থাকতে?
اَفَلَمْ یَدَّبَّرُوا الْقَوْلَ اَمْ جَآءَهُمْ مَّا لَمْ یَاْتِ اٰبَآءَهُمُ الْاَوَّلِیْنَؗ 68
68. তবে কেন এ সত্যকে ওরা মানছে না? ওরা কি আল্লাহর কথাগুলো বুঝতে পারছে না, নাকি ওদের কাছে এমন কিছু এসেছে, যা ওদের বাপ-দাদার ইতিহাসে কখনো আসেনি?
اَمْ لَمْ یَعْرِفُوْا رَسُوْلَهُمْ فَهُمْ لَهٗ مُنْكِرُوْنَؗ 69
69. নাকি ওরা নিজেদের রসুল সম্পর্কে কিছুই জানে না? ফলে তাকে মানতে পারছে না?
اَمْ یَقُوْلُوْنَ بِهٖ جِنَّةٌ ؕ بَلْ جَآءَهُمْ بِالْحَقِّ وَ اَكْثَرُهُمْ لِلْحَقِّ كٰرِهُوْنَ 70
70. অথবা ওরা কি বলবে যে, এ রসুল একজন উন্মাদ? না, কখনো নয়; বরং রসুল তো ওদের সামনে মহাসত্য পেশ করেছেন। আর ওদের অধিকাংশই এ সত্যকে অপছন্দ করছে।
وَ لَوِ اتَّبَعَ الْحَقُّ اَهْوَآءَهُمْ لَفَسَدَتِ السَّمٰوٰتُ وَ الْاَرْضُ وَ مَنْ فِیْهِنَّ ؕ بَلْ اَتَیْنٰهُمْ بِذِكْرِهِمْ فَهُمْ عَنْ ذِكْرِهِمْ مُّعْرِضُوْنَؕ 71
71. আসলে ওরা চায় যে, সত্য ওদের কামনা-বাসনা অনুযায়ী আসুক। এমনটা হলে মহাকাশ ও পৃথিবী এবং এর মধ্যে যা কিছু রয়েছে সবই তছনছ হয়ে যেতো। কিন্তু আমি আমার বাণীর মাধ্যমে ওদের কল্যাণার্থে উপদেশ দিচ্ছি। অথচ দেখো, ওরা উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
اَمْ تَسْـَٔلُهُمْ خَرْجًا فَخَرَاجُ رَبِّكَ خَیْرٌ ۖۗ وَّ هُوَ خَیْرُ الرّٰزِقِیْنَ 72
72. আচ্ছা! হে নবী, এসবের জন্য কি ওদের কাছে কোনো বিনিময় চেয়েছো? না, তাতো চাওনি; বরং তোমার জন্য তো তোমার রবের দেয়া বিনিময়ই উত্তম। আর তিনিই শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।
وَ اِنَّكَ لَتَدْعُوْهُمْ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ 73
73. হে নবী, তুমি তো ওদেরকে সত্য-সঠিক পথের দিকে ডাকছো।
وَ اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ عَنِ الصِّرَاطِ لَنٰكِبُوْنَ 74
74. কিন্তু যারা আখেরাতের জবাবদিহিতার কথা অস্বীকার করে, ওরা সত্য-সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হতে বাধ্য।
وَ لَوْ رَحِمْنٰهُمْ وَ كَشَفْنَا مَا بِهِمْ مِّنْ ضُرٍّ لَّلَجُّوْا فِیْ طُغْیَانِهِمْ یَعْمَهُوْنَ 75
75. ওরা বর্তমানে যে দুঃখ-কষ্ট ও দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়ে আছে, যদি এসব থেকে আমি ওদের মুক্তি দেই এবং ওদেরকে আমার করুণায় সিক্ত করি, তবুও দেখবে, ওরা অবাধ্যতার স্রোতেই গা ভাসিয়ে চলবে।
وَ لَقَدْ اَخَذْنٰهُمْ بِالْعَذَابِ فَمَا اسْتَكَانُوْا لِرَبِّهِمْ وَ مَا یَتَضَرَّعُوْنَ 76
76. ওদের অবস্থা দেখো, আমি ওদেরকে অভাব-অনটন ও দুঃখ-কষ্ট দিয়ে শাস্তি দিলাম। অথচ এরপরেও ওরা নিজেদের রবের সামনে নত হয়নি, কাতর কণ্ঠে মিনতি করেনি।
حَتّٰۤی اِذَا فَتَحْنَا عَلَیْهِمْ بَابًا ذَا عَذَابٍ شَدِیْدٍ اِذَا هُمْ فِیْهِ مُبْلِسُوْنَ۠ 77
77. ওদের যে অবস্থা তাতে শেষ পর্যন্ত ওদের উপর আমার কঠিন শাস্তির দরজা খুলে দেবো। তখন দেখবে, ওরা চ‚ড়ান্তভাবে হতভম্ব হয়ে হা-হুতাশ করবে।
وَ هُوَ الَّذِیْۤ اَنْشَاَ لَكُمُ السَّمْعَ وَ الْاَبْصَارَ وَ الْاَفْـِٕدَةَ ؕ قَلِیْلًا مَّا تَشْكُرُوْنَ 78
78. হে মানুষ, ভেবে দেখো, আমিই তোমাদেরকে দেখার জন্য চোখ দিয়েছি, শোনার জন্য কান দিয়েছি, চিন্তা করার জন্য অন্তর দিয়েছি। হায়! এরপরও তোমরা শোকরগুজার হচ্ছো না।
وَ هُوَ الَّذِیْ ذَرَاَكُمْ فِی الْاَرْضِ وَ اِلَیْهِ تُحْشَرُوْنَ 79
79. তিনিই তোমাদের বিচরণের জন্য এ পৃথিবীকে উপযুক্ত করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তোমাদেরকে তাঁর কাছে সমবেত হতেই হবে।
وَ هُوَ الَّذِیْ یُحْیٖ وَ یُمِیْتُ وَ لَهُ اخْتِلَافُ الَّیْلِ وَ النَّهَارِ ؕ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ 80
80. তিনিই জীবন দান করেন, আবার মৃত্যু ঘটান। দিন ও রাতের ক্রমাগত আবর্তন তাঁরই ক্ষমতার অধীন। এরপরও কি তোমরা নিজেদের বিবেক বুদ্ধি খাটিয়ে চলবে না?
بَلْ قَالُوْا مِثْلَ مَا قَالَ الْاَوَّلُوْنَ 81
81. কিন্তু না, ওরা ওদের মূর্খ বাপ-দাদার মতোই কথা বলে যাচ্ছে।
قَالُوْۤا ءَاِذَا مِتْنَا وَ كُنَّا تُرَابًا وَّ عِظَامًا ءَاِنَّا لَمَبْعُوْثُوْنَ 82
82. ওরা বলছে, আমাদের মৃত্যুর পর দেহ মাটিতে মিশে পঁচে-গলে অস্থিসার হয়ে যাবার পরও কি আমাদের জীবিত করে উঠানো হবে?
لَقَدْ وُعِدْنَا نَحْنُ وَ اٰبَآؤُنَا هٰذَا مِنْ قَبْلُ اِنْ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیْرُ الْاَوَّلِیْنَ 83
83. আমরা এ ধরনের প্রতিশ্রুতি বহু শুনেছি। অতীতে আমাদের বাপ-দাদাকেও এ গল্প শুনানো হতো। আসলে এসব অবাস্তব গল্পকাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়।
قُلْ لِّمَنِ الْاَرْضُ وَ مَنْ فِیْهَاۤ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ 84
84. হে নবী, ওদেরকে জিজ্ঞেস করো, পৃথিবী ও তার অধিবাসীদের মালিক কে? যদি জানো তবে উত্তর দাও।
سَیَقُوْلُوْنَ لِلّٰهِ ؕ قُلْ اَفَلَا تَذَكَّرُوْنَ 85
85. ওরা উত্তর দেবে, হ্যাঁ! সবকিছুই আল্লাহর। হে নবী, বলো, তবে কেন সে আল্লাহর ব্যাপারে সচেতন হচ্ছো না?
قُلْ مَنْ رَّبُّ السَّمٰوٰتِ السَّبْعِ وَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِیْمِ 86
86. ওদের জিজ্ঞেস করো, কে সাত আকাশ ও মহান আরশের অধিপতি?
سَیَقُوْلُوْنَ لِلّٰهِ ؕ قُلْ اَفَلَا تَتَّقُوْنَ 87
87. ওরা বলবে, হ্যাঁ! আল্লাহ। বলো, তাহলে কেন তাঁকে ভয় করছো না?
قُلْ مَنْۢ بِیَدِهٖ مَلَكُوْتُ كُلِّ شَیْءٍ وَّ هُوَ یُجِیْرُ وَ لَا یُجَارُ عَلَیْهِ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ 88
88. জিজ্ঞেস করো, মহাবিশ্বের সবকিছুর উপর কার কর্তৃত্ব চলছে? কে সেই, যে একমাত্র আশ্রয় দিতে পারেন এবং তাঁর মোকাবেলায় কোনো আশ্রয়দাতা নেই? জানা থাকলে এর জবাব দাও।
سَیَقُوْلُوْنَ لِلّٰهِ ؕ قُلْ فَاَنّٰی تُسْحَرُوْنَ 89
89. ওরা অবশ্যই বলবে, হ্যাঁ! আল্লাহই। বলো, তবে কেন এরপরও তোমরা মিথ্যার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে আছো?
بَلْ اَتَیْنٰهُمْ بِالْحَقِّ وَ اِنَّهُمْ لَكٰذِبُوْنَ 90
90. হে নবী, আমি তো ওদের সামনে সত্যকে প্রকাশ করে ধরেছি। কিন্তু না, ওরা মিথ্যাকেই আঁকড়ে পড়ে আছে।
مَا اتَّخَذَ اللّٰهُ مِنْ وَّلَدٍ وَّ مَا كَانَ مَعَهٗ مِنْ اِلٰهٍ اِذًا لَّذَهَبَ كُلُّ اِلٰهٍۭ بِمَا خَلَقَ وَ لَعَلَا بَعْضُهُمْ عَلٰی بَعْضٍ ؕ سُبْحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا یَصِفُوْنَۙ 91
91. আর হ্যাঁ, আল্লাহ কখনোই কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি। তাঁর কোনো শরিক নেই। যদি সত্যিই তাঁর কোনো শরিক থাকতো, তবে প্রত্যেক শরিক খোদাই তার নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে আলাদা হয়ে যেতো এবং নিজের প্রাধান্য বিস্তারের জন্য এক খোদা আরেক খোদার উপর চড়াও হতো। সুবহানাল্লহ! এসব মুশরিকেরা আল্লাহ সম্পর্কে যেসব আজেবাজে কথা বলে বেড়াচ্ছে, আল্লাহ তা থেকে বড়ই পবিত্র।
عٰلِمِ الْغَیْبِ وَ الشَّهَادَةِ فَتَعٰلٰی عَمَّا یُشْرِكُوْنَ۠ 92
92. প্রকাশ্য ও গোপন সব কিছুই তিনি জানেন। ওরা যে শরিক করছে, তিনি তার থেকে অনেক অনেক উর্ধ্বে।
قُلْ رَّبِّ اِمَّا تُرِیَنِّیْ مَا یُوْعَدُوْنَۙ 93
93. হে নবী, বলো, হে আমার রব, এসব ওদের যে আযাবের প্রতিশ্রুতি তুমি দিয়েছো, আমাকে যদি সত্যিই সেই আযাবের চাক্ষুষ সাক্ষী বানাতে চাও,
رَبِّ فَلَا تَجْعَلْنِیْ فِی الْقَوْمِ الظّٰلِمِیْنَ 94
94. তবে হে আমার রব, তুমি আমাকে কখনোই জালেমদের দলভুক্ত করো না।
وَ اِنَّا عَلٰۤی اَنْ نُّرِیَكَ مَا نَعِدُهُمْ لَقٰدِرُوْنَ 95
95. আর হে নবী, আমি ওদেরকে যে আযাবের ব্যাপারে সতর্ক করছি, তা চাইলে আমি তোমার চোখের সামনেই ঘটাতে পারি। এ ব্যাপারে আমার পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে।
اِدْفَعْ بِالَّتِیْ هِیَ اَحْسَنُ السَّیِّئَةَ ؕ نَحْنُ اَعْلَمُ بِمَا یَصِفُوْنَ 96
96. অতএব তুমি ওদের মন্দের মোকবেলা করো ভালোর মাধ্যমে। আর আমি জানি, ওরা তোমার সম্পর্কে কী কী বলে বেড়াচ্ছে।
وَقُلْ رَّبِّ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ هَمَزٰتِ الشَّیٰطِیْنِۙ 97
97. দোয়া করো, হে আমার রব, শয়তানের উস্কানিমূলক প্ররোচনা থেকে আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই।
وَاَعُوْذُ بِكَ رَبِّ اَنْ یَّحْضُرُوْنِ 98
98. বরং হে রব, শয়তানকে আমার কাছেই ঘেষতে দিও না।
حَتّٰۤی اِذَا جَآءَ اَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُوْنِۙ 99
99. জেনে রেখো, এ সব সত্য অস্বীকারকারীরা যখন মৃত্যুর মুখোমুখি হবে, তখন ওরা কাতর কণ্ঠে বলতে থাকবে, হে আমাদের রব, আর একবার! মাত্র একবার আমাদেরকে পৃথিবীতে ফেরত পাঠাও।
لَعَلِّیْۤ اَعْمَلُ صَالِحًا فِیْمَا تَرَكْتُ كَلَّا ؕ اِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَآىِٕلُهَا ؕ وَ مِنْ وَّرَآىِٕهِمْ بَرْزَخٌ اِلٰی یَوْمِ یُبْعَثُوْنَ 100
100. যাতে আমরা সৎকাজ করে আসতে পারি। আমরাতো কিছুই নিয়ে আসতে পারিনি। কিন্তু না, কোনো লাভ হবে না। এ ধরনের কথাতো তখন বলবেই। ওরা মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের আগ পর্যন্ত অবশ্যই বারযাখে অন্তর্বর্তীকাল কাটাবে।
فَاِذَا نُفِخَ فِی الصُّوْرِ فَلَاۤ اَنْسَابَ بَیْنَهُمْ یَوْمَىِٕذٍ وَّ لَا یَتَسَآءَلُوْنَ 101
101. এরপর পুনরুত্থানের জন্য যেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে, সেদিন কোনো আত্মীয়তা থাকবে না। এমনকি কেউ কারো খোঁজও নেবে না।
فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِیْنُهٗ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ 102
102. যাদের সৎকাজের পাল্লা ভারি হবে, সেদিন কেবল তারাই সফল হবে।
وَ مَنْ خَفَّتْ مَوَازِیْنُهٗ فَاُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ خَسِرُوْۤا اَنْفُسَهُمْ فِیْ جَهَنَّمَ خٰلِدُوْنَۚ 103
103. আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারা চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ভোগ করবে। তারা নিজেরাই এ পরিণতি জন্য দায়ী থাকবে।
تَلْفَحُ وُجُوْهَهُمُ النَّارُ وَ هُمْ فِیْهَا كٰلِحُوْنَ 104
104. জাহান্নামের আগুন ওদের চেহারা ঝলসে দেবে। দেখতে ওরা ভয়ানক বীভৎস রূপ ধারণ করবে।
اَلَمْ تَكُنْ اٰیٰتِیْ تُتْلٰی عَلَیْكُمْ فَكُنْتُمْ بِهَا تُكَذِّبُوْنَ 105
105. সেদিন আল্লাহ ওদের ডেকে বলবেন, তোমরা কি সেইসব লোক নও, যাদের কাছে আমার আয়াত পাঠ করে শুনানো হলে বলতে, এ সবই মিথ্যে?
قَالُوْا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَیْنَا شِقْوَتُنَا وَ كُنَّا قَوْمًا ضَآلِّیْنَ 106
106. জাহান্নামীরা বলবে, হে আমাদের রব, আমরা সত্যিই সেইসব পথভ্রষ্ট পাপী লোক। দুর্ভাগ্য আমাদের উপর ছেয়ে বসেছিলো।
رَبَّنَاۤ اَخْرِجْنَا مِنْهَا فَاِنْ عُدْنَا فَاِنَّا ظٰلِمُوْنَ 107
107. হে আমাদের রব, দয়াকরে এবারের মতো আমাদেরকে এ আগুন থেকে মুক্তি দাও। কথা দিচ্ছি, আমরা যদি আবার এ ধরনের অপরাধ করে আসি, তবে সীমালঙ্ঘনকারী হিসেবে তোমার যে কোনো শাস্তিই মেনে নেবো।
قَالَ اخْسَـُٔوْا فِیْهَا وَ لَا تُكَلِّمُوْنِ 108
108. আল্লাহ বলবেন, দূর হও, আমার সাথে কথা বলবে না। লাঞ্ছনাকর জীবন নিয়ে এখানেই পড়ে থাকো।
اِنَّهٗ كَانَ فَرِیْقٌ مِّنْ عِبَادِیْ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَ ارْحَمْنَا وَ اَنْتَ خَیْرُ الرّٰحِمِیْنَۚۖ 109
109. তোমরা তো সেইসব লোক, যখন তোমাদের সামনে আমার একদল প্রিয় বান্দা ফরিয়াদ করে বলতো, হে আমাদের রব, আমরা ঈমান এনেছি। কাজেই তুমি আমাদের পাপগুলো মাফ করো, আমাদের প্রতি দয়া করো। নিশ্চয়ই তুমি সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ দয়াবান।
فَاتَّخَذْتُمُوْهُمْ سِخْرِیًّا حَتّٰۤی اَنْسَوْكُمْ ذِكْرِیْ وَ كُنْتُمْ مِّنْهُمْ تَضْحَكُوْنَ 110
110. তখন তোমরা তাদের নিয়ে হাসি-ঠাট্টায় ফেটে পড়তে। এমনকি আমি যে একজন আছি, সে কথাও ভুলে যেতে। হায়! সেদিন তোমরা তাদের নিয়ে কেবল ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মজাই লুটেছিলে!
اِنِّیْ جَزَیْتُهُمُ الْیَوْمَ بِمَا صَبَرُوْۤا ۙ اَنَّهُمْ هُمُ الْفَآىِٕزُوْنَ 111
101. কিন্তু সেদিন ঈমানদারেরা তোমাদের মোকাবেলায় ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলো। আজ আমি তাদেরকে সেই পুরস্কার দিয়েছি। দেখো, তারাই সফল হয়েছে।
قٰلَ كَمْ لَبِثْتُمْ فِی الْاَرْضِ عَدَدَ سِنِیْنَ 112
102. এরপর আল্লাহ ঐ সাজাপ্রাপ্তদের জিজ্ঞেস করবেন, আচ্ছা! বলো তো পৃথিবীতে তোমরা কতো বছর কাটিয়ে এলে?
قَالُوْا لَبِثْنَا یَوْمًا اَوْ بَعْضَ یَوْمٍ فَسْـَٔلِ الْعَآدِّیْنَ 113
103. ওরা বলবে, এই তো একদিন বা তার চেয়ে কিছু কম সময়। আমরা নিশ্চিত নই, আপনি বরং গণনাকারীদের জিজ্ঞেস করুন।
قٰلَ اِنْ لَّبِثْتُمْ اِلَّا قَلِیْلًا لَّوْ اَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ 114
104. আল্লাহ বলবেন, হ্যাঁ! বাস্তবেই তোমরা খুব কম সময়ই পৃথিবীতে ছিলে। হায়! যদি এ বুঝটা তোমরা সেই সময়ে বুঝতে।
اَفَحَسِبْتُمْ اَنَّمَا خَلَقْنٰكُمْ عَبَثًا وَّ اَنَّكُمْ اِلَیْنَا لَا تُرْجَعُوْنَ 115
105. আল্লাহ আরো বলবেন, আচ্ছা! তোমরা কি মনে করতে যে, আমি খেলাচ্ছলে আমোদ-ফুর্তি করতে করতে খামোখাই তোমাদের সৃষ্টি করে ফেলেছি? তোমাদেরকে কখনোই আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না?
فَتَعٰلَی اللّٰهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ ۚ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِیْمِ 116
106. আজ তো বুঝলে, আল্লাহই মহান মহিমান্বিত। সর্বশক্তিমান বাদশা। তিনিই চুড়ান্ত সত্য। তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তিনিই মহিমান্বিত আরশের অধিপতি।
وَ مَنْ یَّدْعُ مَعَ اللّٰهِ اِلٰهًا اٰخَرَ ۙ لَا بُرْهَانَ لَهٗ بِهٖ ۙ فَاِنَّمَا حِسَابُهٗ عِنْدَ رَبِّهٖ ؕ اِنَّهٗ لَا یُفْلِحُ الْكٰفِرُوْنَ 117
107. আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্যান্য ভ্রান্ত খোদাদের ডেকে চলছে, অথচ এর বৈধতার জন্য কোনো দলিল প্রমাণ নেই তাকে তার রবের কাছে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। এ কাফেরেরা কখনোই সফল হবে না।
وَ قُلْ رَّبِّ اغْفِرْ وَ ارْحَمْ وَ اَنْتَ خَیْرُ الرّٰحِمِیْنَ۠ 118
108. অতএব হে নবী, দোয়া করো, হে আমার রব, আমায় ক্ষমা করো। রহম করো। তুমিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবান।