2. আল বাকারা
الٓمّٓۚ 1
1. আলিফ- লাম- মীম।
ذٰلِكَ الْكِتٰبُ لَا رَیْبَ ۛۖۚ فِیْهِ ۛۚ هُدًی لِّلْمُتَّقِیْنَۙ 2
2. এটি যে আসমানি কিতাব- এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। বাস্তবে মুত্তাকীরাই কেবল এ কিতাব থেকে সঠিক পথ খুঁজে পায়।
الَّذِیْنَ یُؤْمِنُوْنَ بِالْغَیْبِ وَیُقِیْمُوْنَ الصَّلٰوةَ وَمِمَّا رَزَقْنٰهُمْ یُنْفِقُوْنَۙ 3
3. কেননা তারা (এক) ঈমান রাখে গায়েবের প্রতি, (দুই) নামাজ কায়েম করে এবং (তিন) আমার দেয়া জীবিকা থেকে ন্যায়পন্থায় খরচ করে।
وَالَّذِیْنَ یُؤْمِنُوْنَ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْكَ وَمَاۤ اُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ ۚ وَبِالْاٰخِرَةِ هُمْ یُوْقِنُوْنَ 4
4. (চার) তোমায় দেয়া অহিকে তারা সত্যবলে মানে এবং পূর্ববর্তী সব অহিকেও সত্যবলে স্বীকার করে। (পাঁচ) আর তারা মজবুতভাবে আখেরাতের উপর ঈমান রাখে।
اُولٰٓىِٕكَ عَلٰی هُدًی مِّنْ رَّبِّهِمْ ۗ وَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ 5
5. সন্দেহ নেই, এরা আপন রবের দেখানো সঠিক পথেই রয়েছে। মূলত এরাই সফলকাম।
اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا سَوَآءٌ عَلَیْهِمْ ءَاَنْذَرْتَهُمْ اَمْ لَمْ تُنْذِرْهُمْ لَا یُؤْمِنُوْنَ۶
خَتَمَ اللّٰهُ عَلٰی قُلُوْبِهِمْ وَعَلٰی سَمْعِهِمْ ؕ وَعَلٰۤی اَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ ؗ وَّ لَهُمْ 6
6. নিশ্চয়ই যারা সত্যকে অস্বীকার করে, ওদের তুমি সতর্ক করো কিংবা নাই করো- ওদের জন্যে দুটোই সমান। ওরা কখনোই ঈমান আনবে না।
خَتَمَ اللّٰهُ عَلٰی قُلُوْبِهِمْ وَعَلٰی سَمْعِهِمْ ؕ وَعَلٰۤی اَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ ؗ وَّ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِیْمٌ۠ 7
7. কেননা আল্লাহ ওদের অন্তর এবং শ্রবণশক্তির উপর সীলমোহর মেরে দিয়েছেন। ওদের দৃষ্টিশক্তির উপরেও পর্দা পড়ে গেছে। এখন ওদের জন্যে অপেক্ষা করছে কেবল ভয়ানক শাস্তি।
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ اٰمَنَّا بِاللّٰهِ وَ بِالْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِیْنَۘ 8
8. এদিকে কিছু লোক বলে বেড়ায়, আমরা আল্লাহর উপর ঈমান রাখি এবং শেষ বিচারের দিনকেও মানি। অথচ ওরা মুমিনদের দলের সাথে নেই।
یُخٰدِعُوْنَ اللّٰهَ وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا ۚ وَمَا یَخْدَعُوْنَ اِلَّاۤ اَنْفُسَهُمْ وَمَا یَشْعُرُوْنَؕ 9
9. . ওরা আল্লাহকে ধোঁকা দিতে চাইছে এবং মুমিনদের সাথেও ধোঁকাবাজি খেলছে। কিন্তু বাস্তবে নিজেদেরকেই প্রতারিত করছে। হায়! এর পরিণতি ওরা বুঝতে পারছে না।
فِیْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ ۙ فَزَادَهُمُ اللّٰهُ مَرَضًا ۚ وَلَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌۢ ۙ۬ بِمَا كَانُوْا یَكْذِبُوْنَ 10
10. ওদের মনের মধ্যে মুনাফিকি রোগ রয়েছে। আল্লাহ সে রোগের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। হায়! ক্রমাগত মিথ্যাচারের কারণে এখন ওদের জন্যে অপেক্ষা করছে কেবল যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
وَاِذَا قِیْلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوْا فِی الْاَرْضِ ۙ قَالُوْۤا اِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُوْنَ 11
11. যখন ওদের বলা হয়, জনপদে তোমরা বিশৃঙ্খলা করো না, তখন ওরা দাবি করে, আমরাতো এসব শান্তি রক্ষার জন্যেই করছি।
اَلَاۤ اِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُوْنَ وَلٰكِنْ لَّا یَشْعُرُوْنَ 12
12. না! সাবধান! ওরাই আসল বিশৃঙ্খলাকারী। তবে ওরা এসবের ফল বুঝতে পারছে না।
وَاِذَا قِیْلَ لَهُمْ اٰمِنُوْا كَمَاۤ اٰمَنَ النَّاسُ قَالُوْۤا اَنُؤْمِنُ كَمَاۤ اٰمَنَ السُّفَهَآءُ ؕ اَلَاۤ اِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَآءُ وَلٰكِنْ لَّا یَعْلَمُوْنَ 13
13. ওদের যদি বলা হয়, সত্যিকার ঈমানদারদের মতো তোমরাও ঈমান আনো। ওরা উত্তর দেয়, আমরা কি ঐসব বোকাদের মতো ঈমান আনবো? খবরদার! নিঃসন্দেহে ওরাই বোকার দল। বাস্তবে ওরা অজ্ঞতা-মূর্খতার মধ্যে ডুবে আছে।
وَاِذَا لَقُوا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا قَالُوْۤا اٰمَنَّا ۖۚ وَاِذَا خَلَوْا اِلٰی شَیٰطِیْنِهِمْ ۙ قَالُوْۤا اِنَّا مَعَكُمْ ۙ اِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِءُوْنَ 14
14. . ওরা ঈমানদারদের সাথে মিলিত হলে বলে, আমরা তোমাদের মতোই ঈমানদার; কিন্তু যখনই গোপনে নিজেদের শয়তানি দলের সাথে মিলিত হয়, তখন হলফ করে বলে, নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের দলেই আছি, আসলে আমরা ঈমানদারদের সথে ঠাট্টা-বিদ্রƒপের মজা নিচ্ছি মাত্র।
اَللّٰہُ یَسۡتَہۡزِئُ بِہِمۡ وَیَمُدُّهُمْ فِیْ طُغْیَانِهِمْ یَعْمَهُوْنَ 15
15. সত্য হলো, আল্লাহ নিজেই ওদের সাথে তামাশা করছেন। ওদের রশিকে ঢিল দিয়ে রেখেছেন। ফলে ওরা অন্ধের মতো নিজেদের স্বেচ্ছাচারিতায় ঘুরপাক খাচ্ছে।
اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ اشْتَرَوُا الضَّلٰلَةَ بِالْهُدٰی ۪ فَمَا رَبِحَتْ تِّجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوْا مُهْتَدِیْنَ 16
16. ওরা সত্যের সহজ-সরল পথের বিনিময়ে ভ্রান্তির পথ কিনে নিয়েছে। এ বেচা-কেনায় ওরা মোটেই লাভবান হয়নি। বাস্তবে ওরা সঠিক পথ হারিয়েছে।
مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِی اسْتَوْقَدَ نَارًا ۚ فَلَمَّاۤ اَضَآءَتْ مَاحَوْلَهٗ ذَهَبَ اللّٰهُ بِنُوْرِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِیْ ظُلُمٰتٍ لَّا یُبْصِرُوْنَ 17
17. . উপমা হলো এমন জনতার, যারা ঘন অন্ধকারে আগুন জ¦ালালো। কিন্তু যখন সে আগুনে চারপাশ আলোকিত হলো, তখন আল্লাহ তাদের সে আলোকে নিভিয়ে দিলেন। ফলে তারা ঘোর অন্ধকারে ওদের পড়ে গেলো। অন্ধকারে তারা কিছুই দেখতে পেলো না।
صُمٌّۢ بُكْمٌ عُمْیٌ فَهُمْ لَا یَرْجِعُوْنَۙ 18
18. আসলে ওরা অন্ধ, বোবা ও বধির হয়ে আছে। কাজেই ওরা আর কখনোই সঠিক পথে ফিরে আসবে না।
اَوْ كَصَیِّبٍ مِّنَ السَّمَآءِ فِیْهِ ظُلُمٰتٌ وَّ رَعْدٌ وَّ بَرْقٌ ۚ یَجْعَلُوْنَ اَصَابِعَهُمْ فِیْۤ اٰذَانِهِمْ مِّنَ الصَّوَاعِقِ حَذَرَ الْمَوْتِ ؕ وَاللّٰهُ مُحِیْطٌۢ بِالْكٰفِرِیْنَ 19
19. অথবা ওদের দৃষ্টান্ত এভাবেও দেয়া যায় যে, আকাশ থেকে মুষলধারে ঝড়বৃষ্টি পড়ছে, চারদিক ঘোর অন্ধকারে ছেয়ে গেছে, মুহুর্মুহু বিদ্যুৎ চমকানির সাথে প্রচন্ড বজ্রপাতও হচ্ছে। লোকেরা বজ্রপাতের আওয়াজ শুনে মৃত্যুভয়ে নিজেদের কানে আঙুল ঢুকিয়ে রাখছে। বাস্তবে আল্লাহ নিজেই এসব কাফেরদের চারদিক দিয়ে ঘিরে রেখেছেন।
یَكَادُ الْبَرْقُ یَخْطَفُ اَبْصَارَهُمْ ؕ كُلَّمَاۤ اَضَآءَ لَهُمْ مَّشَوْا فِیْهِ ۙۗ وَ اِذَاۤ اَظْلَمَ عَلَیْهِمْ قَامُوْا ؕ وَلَوْ شَآءَ اللّٰهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَاَبْصَارِهِمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ۠ 20
20. অবস্থা প্রায় এমন দাঁড়িয়েছে যে, বিদ্যুতের চমকানি অচিরেই তাদের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দেবে। তারা যখনই বিদ্যুৎ চমকানিতে কিছুটা আলো পায় তখন একটু পথ চলে, আবার যখন অন্ধকার নেমে আসে, তখন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে। আসলে আল্লাহ চাইলে ওদের শোনার ও দেখার ক্ষমতা তুলে নিতে পারেন। সন্দেহ নেই, তিনি সব কিছুর উপর প্রচন্ড শক্তিশালী।
ٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوْا رَبَّكُمُ الَّذِیْ خَلَقَكُمْ وَالَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَۙ 21
21. হে মানুষেরা, কেবল তোমাদের রবের দাসত্ব করো। কেননা তিনিই তোমাদের ও তোমাদের পূর্বের সকলকে সৃষ্টি করেছেন। হ্যাঁ! এ পথেই তোমরা নিজেদের বাঁচাতে পারবে।
الَّذِیْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَرْضَ فِرَاشًا وَّالسَّمَآءَ بِنَآءً ۪ وَّاَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَخْرَجَ بِهٖ مِنَ الثَّمَرٰتِ رِزْقًا لَّكُمْ ۚ فَلَا تَجْعَلُوْا لِلّٰهِ اَنْدَادًا وَّاَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ 22
22. দেখো! তিনি তোমাদের জন্যে জমিনকে বিছানার মতো ব্যবহারযোগ্য বানিয়েছেন। আকাশকে বানিয়েছেন ছাদের মতো। আকাশ থেকে পানি দিয়েছেন এবং তা দিয়েই তোমাদের জীবিকা হিসেবে ফল-ফসলাদি উৎপন্ন করেছেন। কাজেই এতসব জানার পরেও তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে অংশীদার বানিও না।
وَاِنْ كُنْتُمْ فِیْ رَیْبٍ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلٰی عَبْدِنَا فَاْتُوْا بِسُوْرَةٍ مِّنْ مِّثْلِهٖ ۪ وَادْعُوْا شُهَدَآءَكُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ 23
23. আচ্ছা! আমি আমার বান্দার উপর যে কিতাব নাযিল করেছি, তার ব্যাপারে যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ-সংশয় থাকে, তবে তোমরা এ কিতাবের কোনো সূরার মতো একটি সূরা বানিয়ে দেখাও। প্রয়োজনে এ কাজে এক আল্লাহ ছাড়া তোমাদের অন্যান্য সব সাহায্যকারী উপাস্যদের ডেকে নাও। তোমাদের সন্দেহের দাবি যদি সত্য হয়, তবে এ কাজ করে দেখাও।
فَاِنْ لَّمْ تَفْعَلُوْا وَلَنْ تَفْعَلُوْا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِیْ وَقُوْدُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ ۖۚ اُعِدَّتْ لِلْكٰفِرِیْنَ 24
24. কিন্তু যদি তোমরা এ কাজ না করো, অবশ্য চাইলেও তোমরা কখনো এ কাজ করতে সক্ষম হবে নাহ তবে জাহান্নামের ভয়ঙ্কর আগুনের ব্যাপারে সতর্ক হও, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। শুনে রেখো, কাফেরদের জন্যে এ শাস্তি প্রস্তুত রয়েছে।
وَبَشِّرِ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ اَنَّ لَهُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ ؕ كُلَّمَا رُزِقُوْا مِنْهَا مِنْ ثَمَرَةٍ رِّزْقًا ۙ قَالُوْا هٰذَا الَّذِیْ رُزِقْنَا مِنْ قَبْلُ ۙ وَاُتُوْا بِهٖ مُتَشَابِهًا ؕ وَلَهُمْ فِیْهَاۤ اَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ ۙۗ وَّ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ 25
25. আর যারা ঈমানের সাথে সৎকাজ করে, হে নবী, তাদের সুখবর দাও। নিশ্চয়ই তাদের জন্যে এমনসব জান্নাত রয়েছে, যার পাদদেশে ঝর্ণাধারা বহমান থাকবে। যখনই ঐ জান্নাতে তাদের কোনো ফল খেতে দেয়া হবে, তারা তা দেখেই বলে উঠবে, আরে! আমরা দুনিয়াতেও এমন ফল খেতাম। আসলে ঐ জান্নাতের ফল দেখতে অনেকটা দুনিয়ার ফলের মতোই। জান্নাতে প্রত্যেকেই তাদের পবিত্র সঙ্গী-সঙ্গিনী পাবে। আর এ সুখ তারা চিরদিন উপভোগ করবে।
اِنَّ اللّٰهَ لَا یَسْتَحْیٖۤ اَنْ یَّضْرِبَ مَثَلًا مَّا بَعُوْضَةً فَمَا فَوْقَهَا ؕ فَاَمَّا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا فَیَعْلَمُوْنَ اَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَّبِّهِمْ ۚ وَاَمَّا الَّذِیْنَ كَفَرُوْا فَیَقُوْلُوْنَ مَا ذَاۤ اَرَادَ اللّٰهُ بِهٰذَا مَثَلًا ۘ یُضِلُّ بِهٖ كَثِیْرًا ۙ وَّ یَهْدِیْ بِهٖ كَثِیْرًا ؕ وَمَا یُضِلُّ بِهٖۤ اِلَّا الْفٰسِقِیْنَۙ 26
26. নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য প্রকাশের জন্যে মশা-মাছি বা তার চেয়ে তুচ্ছ কোনো জিনিসের উপমা দিতেও লজ্জা পান না। সুতরাং যারা এ সত্যকে মেনে নিয়েছে তারা ভালো করে জানে- তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে আসা এ সবকিছুই সত্য। আর যারা সত্যকে অস্বীকার করছে, ওরা তাচ্ছিল্যের সুরে জিজ্ঞেস করে, এসব তুচ্ছ জিনিসের উপমা দিয়ে আসলে আল্লাহ কী বুঝাতে চান? বস্তুত আল্লাহ এমনসব উপমা দ্বারা অনেককে বিপথগামিতায় ছেড়ে দেন, আবার অনেককে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। তবে অবাধ্য পাপাচারীরাই কেবল বিপথগামী হয়।
الَّذِیْنَ یَنْقُضُوْنَ عَهْدَ اللّٰهِ مِنْۢ بَعْدِ مِیْثَاقِهٖ ۪ وَیَقْطَعُوْنَ مَاۤ اَمَرَ اللّٰهُ بِهٖۤ اَنْ یُّوْصَلَ وَیُفْسِدُوْنَ فِی الْاَرْضِ ؕ اُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْخٰسِرُوْنَ 27
27. এসব বিপথগামী লোকেরা আল্লাহর সাথে মজবুতভাবে অঙ্গীকার করার পর তা ভেঙ্গে ফেলে, আল্লাহ যে মানবিক সম্পর্ক রক্ষা করে চলতে বলেছেন, তা ছিন্ন করে এবং জনপদে বিশৃঙ্খলা করে বেড়ায়। নিঃসন্দেহে এরা ক্ষতিগ্রস্ত।
كَیْفَ تَكْفُرُوْنَ بِاللّٰهِ وَكُنْتُمْ اَمْوَاتًا فَاَحْیَاكُمْ ۚ ثُمَّ یُمِیْتُكُمْ ثُمَّ یُحْیِیْكُمْ ثُمَّ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ 28
28. তোমরা কিভাবে আল্লাহকে অস্বীকার করতে পারো? অথচ এ জগতে এক সময় তোমাদের কোনো অস্তিত্বই ছিলো না। তিনি তোমাদের অস্তিত্বে এনেছেন। এরপর তিনিই তোমাদের আবার মৃত্যু দিবেন এবং পুনরায় জীবিত করবেন। এভাবেই তোমরা তাঁর কাছে ফিরে যাবে।
هُوَ الَّذِیْ خَلَقَ لَكُمْ مَّا فِی الْاَرْضِ جَمِیْعًا ۗ ثُمَّ اسْتَوٰۤی اِلَی السَّمَآءِ فَسَوّٰىهُنَّ سَبْعَ سَمٰوٰتٍ ؕ وَ هُوَ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ۠ 29
29. আল্লাহ তো সেই সত্তা, যিনি প্রথমে জমিনে যা কিছু রয়েছে তা তোমাদের জন্যে তৈরি করলেন। এরপর আকাশের দিকে লক্ষ্য করলেন এবং তাকে সাত স্তরে সাজালেন। বস্তুত তিনি সব বিষয়েই মহাজ্ঞানী।
وَاِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلٰٓىِٕكَةِ اِنِّیْ جَاعِلٌ فِی الْاَرْضِ خَلِیْفَةً ؕ قَالُوْۤا اَتَجْعَلُ فِیْهَا مَنْ یُّفْسِدُ فِیْهَا وَ یَسْفِكُ الدِّمَآءَ ۚ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ؕ قَالَ اِنِّیْۤ اَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ 30
30. স্মরণ করো, যখন আল্লাহ ফেরেশতাদের ডেকে বললেন, নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীর খলিফা হিসেবে মানব জাতিকে নিয়োগ দিচ্ছি। তখন ফেরেশতারা বিনয়ের সাথে জানতে চাইলো, আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে বানাতে চান, যারা সেখানে বিশৃঙ্খলা করবে এবং নিজেদের মধ্যে রক্তপাত ঘটাবে? অবশ্য আমরা আপনার প্রশংসার তাসবিহ পাঠ করছি এবং আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আল্লাহ জবাব দিলেন, নিশ্চয়ই আমি সেসব জানি, যা তোমরা জানো না।
وَعَلَّمَ اٰدَمَ الْاَسْمَآءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَی الْمَلٰٓىِٕكَةِ ۙ فَقَالَ اَنْۢبِـُٔوْنِیْ بِاَسْمَآءِ هٰۤؤُلَآءِ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ 31
31. অতঃপর আল্লাহ আদমকে সেখানকার সব জিনিসের নাম শেখালেন। এরপর সেসব জিনিস ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করে বললেন, যদি তোমাদের অনুমান সঠিক হয়ে থাকে, তবে আমায় বলোতো এ জিনিসগুলোর নাম কী?
قَالُوْا سُبْحٰنَكَ لَا عِلْمَ لَنَاۤ اِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا ؕ اِنَّكَ اَنْتَ الْعَلِیْمُ الْحَكِیْمُ 32
32. ফেরেশতারা বললো, নিঃসন্দেহে আপনিই কেবল দোষমুক্ত ও পবিত্র। আমরা তো কেবল ততটুকু জানি, যতটুকু আপনি আমাদের শিখিয়েছেন। আর একমাত্র আপনিই সব বিষয়ে ভালো জানেন, ভালো বোঝেন।
قَالَ یٰۤاٰدَمُ اَنْۢبِئْهُمْ بِاَسْمَآىِٕهِمْ ۚ فَلَمَّاۤ اَنْۢبَاَهُمْ بِاَسْمَآىِٕهِمْ ۙ قَالَ اَلَمْ اَقُلْ لَّكُمْ اِنِّیْۤ اَعْلَمُ غَیْبَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ۙ وَاَعْلَمُ مَا تُبْدُوْنَ وَمَا كُنْتُمْ تَكْتُمُوْنَ 33
33. আল্লাহ আদমকে বললেন, তুমি এসব জিনিসের নাম তাদের শুনাও। অতঃপর আদম যখন এসব জিনিসের নাম তাদের শুনালো, তখন আল্লাহ ফেরেশতাদের বললেন, আমি কি তোমাদের বলিনি যে, মহাকাশ ও পৃথিবীর এমন অনেক গোপন রহস্য রয়েছে যা তোমাদের সাধ্যের বাইরে; কেবল আমিই জানি? এমনকি, আমি তারও খবর রাখি, যা তোমরা প্রকাশ করো এবং যা গোপন রাখো।
وَاِذْ قُلْنَا لِلْمَلٰٓىِٕكَةِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْۤا اِلَّاۤ اِبْلِیْسَ ؕ اَبٰی وَاسْتَكْبَرَ ؗۗ وَكَانَ مِنَ الْكٰفِرِیْنَ 34
34. স্মরণ করো, আমি ফেরেশতাদের আদেশ করলাম, তোমরা আদমের সামনে সেজদাবনত হও। তখন সকল ফেরেশতা নত হলো। জ্বীনদের থেকে একমাত্র ইবলিস সেজদা করলো না। সে নিজের বড়ত্বের অহংকার দেখালো। এভাবে সে কাফেরদের দলভুক্ত হয়ে পড়লো।
وَقُلْنَا یٰۤاٰدَمُ اسْكُنْ اَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا حَیْثُ شِئْتُمَا ۪ وَلَا تَقْرَبَا هٰذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُوْنَا مِنَ الظّٰلِمِیْنَ 35
35. তারপর আমি আদমকে বললাম, তুমি ও তোমার স্ত্রী উভয়ে এ জান্নাতে বসবাস করো। এখানে তোমরা উভয়ে বাধাহীনচিত্তে নিজেদের রুচি অনুযায়ী যার যা খুশি খেতে থাকো। তবে হ্যাঁ, কেবল ঐ গাছটি থেকে দূরে থেকো। অন্যথায় তোমরা দুজনেই সীমালঙ্ঘনকারীদের দলভুক্ত হয়ে পড়বে।
فَاَزَلَّهُمَا الشَّیْطٰنُ عَنْهَا فَاَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِیْهِ ۪ وَقُلْنَا اهْبِطُوْا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۚ وَلَكُمْ فِی الْاَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَّمَتَاعٌ اِلٰی حِیْنٍ 36
36. অবশেষে শয়তান তাদের উভয়কে সে গাছটির ব্যাপারে আল্লাহর আনুগত্য থেকে সরিয়ে নিলো এবং তারা যে আরাম-আয়েশে ছিলো, তা থেকে তাদের বের করে ছাড়লো। এ ঘটনার পর আমি আদেশ করলাম, এখান থেকে তোমরা উভয়েই নেমে যাও। মনে রেখো, তোমরা একজন আরেকজনের শত্রু। এখন থেকে তোমরা পৃথিবীতে একটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অবস্থান করবে। অবশ্য সেখানে তোমাদের জীবনধারণের সব উপকরণ পাবে।
فَتَلَقّٰۤی اٰدَمُ مِنْ رَّبِّهٖ كَلِمٰتٍ فَتَابَ عَلَیْهِ ؕ اِنَّهٗ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِیْمُ 37
37. সে সময় আদম তার রবের পক্ষ থেকে তওবা করার জন্যে কিছু কথা শিখে নিলো। অতঃপর যখন সে তওবা করলো, তার রব তা কবুল করলেন। আসলে তার রব বড়ই তওবা কবুলকারী, বড়ই দয়াবান।
قُلْنَا اهْبِطُوْا مِنْهَا جَمِیْعًا ۚ فَاِمَّا یَاْتِیَنَّكُمْ مِّنِّیْ هُدًی فَمَنْ تَبِعَ هُدَایَ فَلَا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَلَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ 38
38. আমি বললাম, এখন তোমরা সবাই এখান থেকে বেরিয়ে যাও। এরপর নিশ্চিতভাবে তোমাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে সঠিক নির্দেশিকা পৌঁছবে। তোমাদের যারা সে নির্দেশিকা অনুসরণ করে চলবে, তাদের কোনো ভয় নেই। এমনকি, দুশ্চিন্তারও কারণ নেই।
وَالَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَاۤ اُولٰٓىِٕكَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ۠ 39
39. কিন্তু যারা আমার দেয়া পথনির্দেশকে অস্বীকার করবে এবং আমার অসংখ্য নিদর্শনকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেবে, ওদেরকে জাহান্নামের আগুনের সঙ্গী বানিয়ে দেবো। সেখান থেকে ওরা কোনোদিনই মুক্তি পাবে না।
ٰبَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ اذْكُرُوْا نِعْمَتِیَ الَّتِیْۤ اَنْعَمْتُ عَلَیْكُمْ وَ اَوْفُوْا بِعَهْدِیْۤ اُوْفِ بِعَهْدِكُمْ ۚ وَاِیَّایَ فَارْهَبُوْنِ 40
40. ওহে বনি ইসরাইল, তোমাদের আমি যেসব নেয়ামতরাজি দিয়েছিলাম, তা একবার স্মরণ করো। আমায় দেয়া তোমাদের অঙ্গীকারগুলো পূরণ করো; তাহলে তোমাদের দেয়া আমার প্রতিশ্রæতিও পূরণ করবো। আর জীবনযাত্রায় কেবল আমাকেই ভয় করে চলো।
وَاٰمِنُوْا بِمَاۤ اَنْزَلْتُ مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَكُمْ وَلَا تَكُوْنُوْۤا اَوَّلَ كَافِرٍۭ بِهٖ ۪ وَلَا تَشْتَرُوْا بِاٰیٰتِیْ ثَمَنًا قَلِیْلًا ؗ وَ اِیَّایَ فَاتَّقُوْنِ 41
41. আমার অবতীর্ণ করা এ কিতাবের প্রতি ঈমান আনো। এ কিতাব তোমাদের কাছে পাঠানো আমার আগের কিতাবের সত্যতা সমর্থন করে। সুতরাং তোমরাই এ কিতাবের ব্যাপারে প্রথম অস্বীকারকারী হয়ো না। সাবধান! জাগতিক ক্ষুদ্্র স্বার্থে আমার আয়াতগুলো বিক্রি করো না। আমার কঠিন শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক হও।
وَلَا تَلْبِسُوا الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوا الْحَقَّ وَاَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ 42
42. খবরদার! তোমরা মিথ্যা দিয়ে সত্যকে আড়াল করো না এবং জেনে বুঝে সত্যকে লুকানোর চেষ্টা করো না।
وَاَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتُوا الزَّكٰوةَ وَارْكَعُوْا مَعَ الرّٰكِعِیْنَ 43
43. তোমাদের মধ্যে নামাজ প্রতিষ্ঠা রাখো, যাকাত আদায় করো এবং অন্যান্য বিনীত লোকদের সাথে তোমরাও আমার প্রতি অবনত হও।
اَتَاْمُرُوْنَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنْسَوْنَ اَنْفُسَكُمْ وَاَنْتُمْ تَتْلُوْنَ الْكِتٰبَ ؕ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ 44
44. তোমাদের এ কেমন আচরণ! সাধারণ লোকদেরকে তোমরা সৎপথে চলার জন্যে বলে বেড়াও; কিন্তু নিজেরাই সে পথের কথা বেমালুম ভুলে থাকো। অথচ আবার তোমরাই অন্যদের মাঝে আমার কিতাব পাঠ করছো। তবে কি এ কিতাবের বক্তব্য তোমাদের বুঝে আসে না?
وَاسْتَعِیْنُوْا بِالصَّبْرِ وَالصَّلٰوةِ ؕ وَاِنَّهَا لَكَبِیْرَةٌ اِلَّا عَلَی الْخٰشِعِیْنَۙ 45
45. হে ঈমানদারেরা, সত্যপথে টিকে থাকার জন্যে তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। আসলে আল্লাহর প্রতি বিনীত-অবনত লোক ছাড়া অন্যদের জন্যে এমনটা করা অনেক কঠিন।
الَّذِیْنَ یَظُنُّوْنَ اَنَّهُمْ مُّلٰقُوْا رَبِّهِمْ وَاَنَّهُمْ اِلَیْهِ رٰجِعُوْنَ۠ 46
46. . কেননা বিনীত-অবনতরা এ চেতনা রাখে যে, নিশ্চিতভাবে তারা আপন প্রভুর সাথে একদিন মিলিত হবে এবং সবশেষে তাঁর কাছেই ফিরবে।
بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ اذْكُرُوْا نِعْمَتِیَ الَّتِیْۤ اَنْعَمْتُ عَلَیْكُمْ وَاَنِّیْ فَضَّلْتُكُمْ عَلَی الْعٰلَمِیْنَ 47
47. হে বনি ইসরাইল, আমার সেসব নেয়ামতের কথা মনে করে দেখো, যা আমি তোমাদের দিয়েছিলাম। স্মরণ করো, পৃথিবীর তৎকালীন অন্যান্য জাতির উপর তোমাদের বিশেষ মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছিলাম।
وَاتَّقُوْا یَوْمًا لَّا تَجْزِیْ نَفْسٌ عَنْ نَّفْسٍ شَیْـًٔا وَّلَا یُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَّلَا یُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَّلَا هُمْ یُنْصَرُوْنَ 48
48. সুতরাং আগামী ঐ দিনের ব্যাপারে সতর্ক হয়ে চলো, যেদিন কোনো মানুষ অন্যের সামান্য উপকারেও আসবে না। কারো জন্যে কারো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। কোনো মুক্তিপণের বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেয়া হবে না। এমনকি, অপরাধীরা কোনো ধরনের সাহায্যও পাবে না।
َاِذْ نَجَّیْنٰكُمْ مِّنْ اٰلِ فِرْعَوْنَ یَسُوْمُوْنَكُمْ سُوْٓءَ الْعَذَابِ یُذَبِّحُوْنَ اَبْنَآءَكُمْ وَ یَسْتَحْیُوْنَ نِسَآءَكُمْ ؕ وَ فِیْ ذٰلِكُمْ بَلَآءٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ عَظِیْمٌ 49
49. স্মরণ করো সে ইতিহাস, যখন আমি তোমাদের বাঁচিয়েছিলাম ফেরাউন ও তার দলবলের দাসত্ব থেকে। ওরা তোমাদের নানাভাবে কঠিন শাস্তির মধ্যে রেখেছিল। তোমাদের পুত্র সন্তানদের জবেহ করে ফেলতো। পক্ষান্তরে কন্যা সন্তানদের জীবিত রেখে দাসী বানাতো। বস্তুত তখন তোমরা তোমাদের প্রভুর দেয়া এক কঠিন পরীক্ষায় পড়েছিলে।
وَاِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ الْبَحْرَ فَاَنْجَیْنٰكُمْ وَ َغْرَقْنَاۤ اٰلَ فِرْعَوْنَ وَ اَنْتُمْ تَنْظُرُوْنَ 50
50. মনে করে দেখো, তোমাদের জন্যে সাগর চিড়ে রাস্তা বানিয়ে দিয়েছিলাম। এভাবেই তোমাদের বাঁচিয়েছিলাম এবং তোমাদের চোখের সামনেই সেদিন ফেরাউন ও তার দলবলকে সাগরে ডুবিয়ে মেরেছিলাম।
وَاِذْ وٰعَدْنَا مُوْسٰۤی اَرْبَعِیْنَ لَیْلَةً ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِنْۢ بَعْدِهٖ وَاَنْتُمْ ظٰلِمُوْنَ 51
51. মনে করে দেখো সে দিনগুলোর কথা, আমি মুসাকে মাত্র চল্লিশ দিন-রাতের জন্যে ডেকে নিয়েছিলাম। তার চলে আসার সুযোগে তোমরা একটা গো-বাছুরকে উপাস্য বানিয়ে পূজা করতে লাগলে। আসলে তখন তোমরা মারাত্মকভাবে সীমালঙ্ঘন করেছিলে।
ثُمَّ عَفَوْنَا عَنْكُمْ مِّنْۢ بَعْدِ ذٰلِكَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ 52
52. এতকিছুর পরেও আমি তোমাদের ক্ষমা করেছিলাম। আশা করেছিলাম তোমরা কৃতজ্ঞ হবে।
وَاِذْ اٰتَیْنَا مُوْسَی الْكِتٰبَ وَالْفُرْقَانَ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ 53
53. এ সময় আমি মুসাকে কিতাব দান করলাম। সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী মানদন্ডও দিলাম, যাতে তোমরা জীবনযাত্রায় সঠিক পথে চলতে পারো।
وَاِذْ قَالَ مُوْسٰی لِقَوْمِهٖ یٰقَوْمِ اِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ اَنْفُسَكُمْ بِاتِّخَاذِكُمُ الْعِجْلَ فَتُوْبُوْۤا اِلٰی بَارِىِٕكُمْ فَاقْتُلُوْۤا اَنْفُسَكُمْ ؕ ذٰلِكُمْ خَیْرٌ لَّكُمْ عِنْدَ بَارِىِٕكُمْ ؕ فَتَابَ عَلَیْكُمْ ؕ اِنَّهٗ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِیْمُ 54
54. এরপর মুসা ফিরে এসে তার লোকদের এ পাপাচার দেখে বললো, হে আমার লোকেরা, তোমরা গো-বাছুরকে উপাস্য হিসেবে পূজা করে নিশ্চিতভাবে নিজেদের উপর ভয়ানক জুলুম করেছো। কাজেই এখন তোমরা তোমাদের সৃষ্টিকর্তার দিকে ফিরে এসো এবং তার প্রমাণ স্বরূপ নিজেদের অপরাধীদের হত্যা করো। এ পথেই তোমরা স্রষ্টার কাছ থেকে কল্যাণ লাভ করবে। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের তওবা কবুল করলেন। নিশ্চয়ই তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই মেহেরবান।
وَاِذْ قُلْتُمْ یٰمُوْسٰی لَنْ نُّؤْمِنَ لَكَ حَتّٰی نَرَی اللّٰهَ جَهْرَةً فَاَخَذَتْكُمُ الصّٰعِقَةُ وَاَنْتُمْ تَنْظُرُوْنَ 55
55. স্মরণ করে দেখো, যখন তোমরা মুসাকে বলেছিলে, আমরা আল্লাহকে সরাসরি না দেখা পর্যন্ত কখনোই তোমাকে নবী হিসেবে মেনে নিবো না। এর ফলে তোমাদের চোখের সামনেই ভয়াবহ বজ্রপাত হলো এবং তাতে তোমরা নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে থাকলে।
ثُمَّ بَعَثْنٰكُمْ مِّنْۢ بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ 56
56. এভাবে তোমাদের মরে যাওয়ার পর আবার জীবিত করেছিলাম। আশা করেছিলাম, এসব দেখে তোমরা কৃতজ্ঞ হবে।
وَظَلَّلْنَا عَلَیْكُمُ الْغَمَامَ وَاَنْزَلْنَا عَلَیْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوٰی ؕ كُلُوْا مِنْ طَیِّبٰتِ مَا رَزَقْنٰكُمْ ؕ وَمَا ظَلَمُوْنَا وَ لٰكِنْ كَانُوْۤا اَنْفُسَهُمْ یَظْلِمُوْنَ 57
57. এরপর মরুভ‚মিতে আমি তোমাদের মেঘমালার ছায়া দিলাম। খাবার হিসেবে তোমাদের জন্যে মান্না ও সালওয়া পাঠালাম এবং তোমাদের বললাম, আমার দেয়া উত্তম খাবার থেকে খেতে থাকো। এতকিছুর পরেও তোমরা যা করেছিলে, তাতে আমার প্রতি নয়; বরং নিজেরাই নিজেদের প্রতি অবিচার করেছিলে।
وَاِذْ قُلْنَا ادْخُلُوْا هٰذِهِ الْقَرْیَةَ فَكُلُوْا مِنْهَا حَیْثُ شِئْتُمْ رَغَدًا وَّادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَّقُوْلُوْا حِطَّةٌ نَّغْفِرْ لَكُمْ خَطٰیٰكُمْ ؕ وَسَنَزِیْدُ الْمُحْسِنِیْنَ 58
58. স্মরণ করো সেই ঘটনা, আমি বললাম, তোমরা সামনের ঐ জনপদে প্রবেশ করো এবং সেখানের যে কোনো খাবার ইচ্ছেমতো প্রচুর পরিমাণে খেতে থাকো। তবে নগরের প্রধান দরজা দিয়ে ঢোকার সময় সিজদাবনত হবে এবং বলতে থাকবে ‘ক্ষমা চাই-ক্ষমা চাই’। এমনটা করলে তোমাদের ভুলগুলো ক্ষমা করে দেবো এবং সৎকর্মশীলদের প্রতি নেয়ামত আরো বাড়িয়ে দেবো।
فَبَدَّلَ الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا قَوْلًا غَیْرَ الَّذِیْ قِیْلَ لَهُمْ فَاَنْزَلْنَا عَلَی الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا رِجْزًا مِّنَ السَّمَآءِ بِمَا كَانُوْا یَفْسُقُوْنَ۠ 59
59. আফসোস! যে কথা বলতে বলা হয়েছিলো, ওদের অবাধ্য সীমালঙ্ঘনকারীরা তার পরিবর্তে অন্যসব কথা বললো। ফলে আমি আকাশ থেকে ওদের উপর ভয়ঙ্কর শাস্তি পাঠালাম। বস্তুত এসব ছিলো ওদের পাপাচারেরই শাস্তি।
وَ اِذِ اسْتَسْقٰی مُوْسٰی لِقَوْمِهٖ فَقُلْنَا اضْرِبْ بِّعَصَاكَ الْحَجَرَ ؕ فَانْفَجَرَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَیْنًا ؕ قَدْ عَلِمَ كُلُّ اُنَاسٍ مَّشْرَبَهُمْ ؕ كُلُوْا وَاشْرَبُوْا مِنْ رِّزْقِ اللّٰهِ وَلَا تَعْثَوْا فِی الْاَرْضِ مُفْسِدِیْنَ 60
60. আরো স্মরণ করো, যখন মুসা তার জাতির লোকদের জন্যে আল্লাহর কাছে পানি চাইলো, তখন আমি মুসাকে বললাম, ঐ পাথরটার গায়ে তোমার লাঠি দিয়ে আঘাত করো। অতঃপর তার আঘাতের ফলে সেখানে বারোটি পানির ধারা প্রবাহিত হলো। সহসা প্রত্যেক গোত্র নিজেদের পানি নেয়ার স্থান জেনে নিলো। আদেশ দেয়া হলো, আল্লাহর দেয়া জীবিকা থেকে খাও এবং পান করো। তবে এর বিনিময়ে জমিনে দাঙ্গা-ফাসাদ করে বেড়াইও না।
وَاِذْ قُلْتُمْ یٰمُوْسٰی لَنْ نَّصْبِرَ عَلٰی طَعَامٍ وَّاحِدٍ فَادْعُ لَنَا رَبَّكَ یُخْرِجْ لَنَا مِمَّا تُنْۢبِتُ الْاَرْضُ مِنْۢ بَقْلِهَا وَ قِثَّآىِٕهَا وَ فُوْمِهَا وَعَدَسِهَا وَبَصَلِهَا ؕ قَالَ اَتَسْتَبْدِلُوْنَ الَّذِیْ هُوَ اَدْنٰی بِالَّذِیْ هُوَ خَیْرٌ ؕ اِهْبِطُوْا مِصْرًا فَاِنَّ لَكُمْ مَّا سَاَلْتُمْ ؕ وَضُرِبَتْ عَلَیْهِمُ الذِّلَّةُ وَالْمَسْكَنَةُ ۗ وَبَآءُوْ بِغَضَبٍ مِّنَ اللّٰهِ ؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ كَانُوْا یَكْفُرُوْنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ وَیَقْتُلُوْنَ النَّبِیّٖنَ بِغَیْرِ الْحَقِّ ؕ ذٰلِكَ بِمَا عَصَوْا وَّكَانُوْا یَعْتَدُوْنَ۠ 61
61. স্মরণ করে দেখো তোমাদের সে কথাগুলো, যখন তোমরা মুসাকে বলেছিলে, আমরা একই ধরনের খাবারের উপর আর ধৈর্য ধরে থাকতে পারছি না। হে মুসা, তুমি তোমার প্রভুর কাছে দোয়া করো, তিনি যেনো আমাদের জন্য জমিন থেকে উৎপন্ন কৃষিজাত খাদ্য দ্রব্যের ব্যবস্থা করে দেন। এই যেমন, শাক-সবজি, শশা জাতীয় ফল, গম, পেয়াজ-রসুন ও ডাল ইত্যাদি। তোমাদের আবদারের জবাবে মুসা বলেছিলো, তোমরা কি খাদ্যদ্রব্য হিসেবে উৎকৃষ্ট জিনিসের পরিবর্তে নিকৃষ্ট জিনিস নিতে চাও? তবে এ জনপদ ছেড়ে অন্য কোনো নগরে গিয়ে বসবাস করো। তোমরা যা কিছু দাবি করছো, তা সেখানে সহজে পেয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত ওদের অবস্থা এমন হয়েছিল যে, অধঃপতন, লাঞ্ছনা, দারিদ্র ও দুরাবস্থা ওদের উপর ছেয়ে গিয়েছিলো। এমনকি, আল্লাহর গজব ওদের ঘিরে ধরলো। এ শাস্তি ওরা পেয়েছিলো এ জন্যেই যে, ওরা আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে বারবার কুফরি করেছে এবং যুগের পর যুগ আল্লাহর নবী-রসুলদের সম্পূর্ণ বে-আইনিভাবে হত্যা করেছে। এ সবকিছু ছিলো ওদের নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনের ফল।
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَالَّذِیْنَ هَادُوْا وَالنَّصٰرٰی وَالصّٰبِـِٕیْنَ مَنْ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَالْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُمْ اَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ ۪ۚ وَلَا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَلَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ 62
62. জেনে রেখো, যেসব সাধারণ লোক ঈমান এনে মুসলিম হয়েছে এবং ইহুদি, খ্রিস্টান ও সাবেয়ীদের থেকে যারা আল্লাহর ও আখেরাতের উপর ঈমান এনে মুসলিম হয়েছে তারা দুনিয়ায় যে ভালোকাজ করবে তার উত্তম প্রতিদান অবশ্যই পাবে। আর ভবিষ্যতের ব্যাপারে তাদের কোনো ভয় নেই, দুশ্চিন্তা নেই।
وَاِذْ اَخَذْنَا مِیْثَاقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ الطُّوْرَ ؕ خُذُوْا مَاۤ اٰتَیْنٰكُمْ بِقُوَّةٍ وَّاذْكُرُوْا مَا فِیْهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ 63
63. স্মরণ করো সে ঘটনা, যখন তুর পাহাড়কে মাথার উপর তুলে ধরে তোমাদের থেকে মজবুত অঙ্গীকার নিয়েছিলাম। বলেছিলাম, আমি তোমাদের যে কিতাব দিয়েছি তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং এর সব বিধি-বিধান স্মরণ রেখে চলো। আশা করা যায়, এভাবে তোমরা আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচতে পারবে।
ثُمَّ تَوَلَّیْتُمْ مِّنْۢ بَعْدِ ذٰلِكَ ۚ فَلَوْ لَا فَضْلُ اللّٰهِ عَلَیْكُمْ وَرَحْمَتُهٗ لَكُنْتُمْ مِّنَ الْخٰسِرِیْنَ 64
64. কিন্তু এতসব কিছুর পরেও তোমরা কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে। যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও দয়া না থাকতো, তবে তোমরা বহু আগেই ধ্বংস হয়ে যেতে।
وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِیْنَ اعْتَدَوْا مِنْكُمْ فِی السَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُوْنُوْا قِرَدَةً خٰسِـِٕیْنَۚ 65
65. আর নিজেদের জাতির সেসব লোকদের ঘটনা তোমরা ভালো করেই জানো, যারা আমার দেয়া শনিবারের বিধান ভেঙ্গেছিলো। ফলে আমি ওদের ব্যাপারে ফয়সালা করে বলেছিলাম, তোমরা ঘৃণিত ও লাঞ্ছিত বানরে পরিণত হও।
فَجَعَلْنٰهَا نَكَالًا لِّمَا بَیْنَ یَدَیْهَا وَمَا خَلْفَهَا وَمَوْعِظَةً لِّلْمُتَّقِیْنَ 66
66. এভাবে আমি ঐ ঘটনাকে সমকালীনদের এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে শিক্ষণীয় বানিয়ে রাখলাম। আর যারা আল্লাহর ব্যাপারে সতর্ক হয়ে চলে, তাদের জন্যে এ ঘটনায় অনেক অনেক উপদেশ রয়েছে।
وَاِذْ قَالَ مُوْسٰی لِقَوْمِهٖۤ اِنَّ اللّٰهَ یَاْمُرُكُمْ اَنْ تَذْبَحُوْا بَقَرَةً ؕ قَالُوْۤا اَتَتَّخِذُنَا هُزُوًا ؕ قَالَ اَعُوْذُ بِاللّٰهِ اَنْ اَكُوْنَ مِنَ الْجٰهِلِیْنَ 67
67. এবার স্মরণ করো সে ঘটনার কথা, যখন মুসা তার জাতির আবেদনের প্রেক্ষিতে বললো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের একটা গাভী যবেহ করার আদেশ করেছেন। একথা শুনে ওরা বললো, তুমি কি আমাদের সাথে ঠাট্টা-তামাশা করছো? মুসা জবাব দিলো, না, মূর্খদের মতো আচরণ করা থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি।
قَالُوا ادْعُ لَنَا رَبَّكَ یُبَیِّنْ لَّنَا مَا هِیَ ؕ قَالَ اِنَّهٗ یَقُوْلُ اِنَّهَا بَقَرَةٌ لَّا فَارِضٌ وَّلَا بِكْرٌ ؕ عَوَانٌۢ بَیْنَ ذٰلِكَ ؕ فَافْعَلُوْا مَا تُؤْمَرُوْنَ 68
68. জাতির লোকেরা বললো, ঠিক আছে! তাহলে আমাদের জন্যে তোমার প্রভুর কাছে আবেদন করো, তিনি যেন গাভী সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দেন। মুসা জবাব দিলো, আল্লাহ তোমাদের জানাচ্ছেন, সে গাভীটি অবশ্যই এমন হবে- যা বেশি বয়সি বুড়োও নয় এবং কম বয়সি বাছুরও নয়; বরং মাঝারি বয়সের। অতএব এখন যে আদেশ পেয়েছো, বাহানা না করে তা ঠিকমতো পালন করো।
َالُوا ادْعُ لَنَا رَبَّكَ یُبَیِّنْ لَّنَا مَا لَوْنُهَا ؕ قَالَ اِنَّهٗ یَقُوْلُ اِنَّهَا بَقَرَةٌ صَفْرَآءُ ۙ فَاقِعٌ لَّوْنُهَا تَسُرُّ النّٰظِرِیْنَ 69
69. ওরা আবার মুসাকে বললো, আমাদের জন্যে তোমার প্রভুর কাছ থেকে স্পষ্টভাবে জেনে নাও, এ গাভীর রঙ কেমন হবে? মুসা জবাব দিলো, আল্লাহ বলেছেন, গাভীটির রঙ অবশ্যই হলুদ হতে হবে। এর রঙ এতোই উজ্জ্বল ও গাঢ় হবে, যা দেখে মানুষের মন ভরে যায়।
قَالُوا ادْعُ لَنَا رَبَّكَ یُبَیِّنْ لَّنَا مَا هِیَ ۙ اِنَّ الْبَقَرَ تَشٰبَهَ عَلَیْنَا ؕ وَاِنَّاۤ اِنْ شَآءَ اللّٰهُ لَمُهْتَدُوْنَ 70
70. এরপর ওরা আবার এসে বললো, তোমার প্রভুর কাছে নিবেদন করো গাভীটি কোন্ ধরণের হবে, তা যেন তিনি স্পষ্ট করে বলে দেন। আসলে গাভীর ধরণ সম্পর্কে আমরা সংশয়ে রয়েছি। ইনশা আল্লাহ! এবার হয়ত আমরা গাভীটি খুঁজে পাবো।
قَالَ اِنَّهٗ یَقُوْلُ اِنَّهَا بَقَرَةٌ لَّا ذَلُوْلٌ تُثِیْرُ الْاَرْضَ وَلَا تَسْقِی الْحَرْثَ ۚ مُسَلَّمَةٌ لَّا شِیَةَ فِیْهَا ؕ قَالُوا الْـٰٔنَ جِئْتَ بِالْحَقِّ ؕ فَذَبَحُوْهَا وَمَا كَادُوْا یَفْعَلُوْنَ۠ 71
71. মুসা জানালো, আল্লাহ বলেছেন, গাভীটি অবশ্যই এমন হতে হবে- যার দ্বারা কোনো কাজকর্ম করা হয় নাই। এর দ্বারা না জমি চাষ করা হয়েছে, আর না ক্ষেতে পানি সেচ দেয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ, সবল ও নিখুঁত ধরনের। এ বর্ণনা শুনে ওরা বলে উঠলো, হ্যাঁ, এবার তুমি ঠিকঠাক সন্ধান দিয়েছো। অতঃপর ওরা এমন একটা গাভী যবেহ করলো। আসলে ওরা মন থেকে এ কাজ করতে চাইছিলো না।
وَاِذْ قَتَلْتُمْ نَفْسًا فَادّٰرَءْتُمْ فِیْهَا ؕ وَاللّٰهُ مُخْرِجٌ مَّا كُنْتُمْ تَكْتُمُوْنَۚ 72
72. হে বনি ইসরাইল, তোমাদের সে ঘটনার কথা কি মনে আছে, যখন তোমরা নিজেদের একজনকে খুন করে বসলে এবং সে খুনের দায় নিয়ে একজন আরেকজনকে অভিযুক্ত করছিলে? আর আল্লাহ তোমাদের এ গোপন হত্যাকান্ডের বিবরণ প্রকাশ করে দিতে চাইলেন।
فَقُلْنَا اضْرِبُوْهُ بِبَعْضِهَا ؕ كَذٰلِكَ یُحْیِ اللّٰهُ الْمَوْتٰی ۙ وَیُرِیْكُمْ اٰیٰتِهٖ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُوْنَ 73
73. সে সময় আমি আদেশ করলাম, নিহত ব্যক্তির লাশের সাথে যবেহ করা গাভীটির কোনো এক অংশ স্পর্শ করো। আসলে আল্লাহ এভাবেই মৃতদের জীবিত করেন এবং তোমাদেরকে তার নিদর্শন দেখান। হয়তো এর মাধ্যমে তোমাদের সঠিক বুঝ আসবে।
ثُمَّ قَسَتْ قُلُوْبُكُمْ مِّنْۢ بَعْدِ ذٰلِكَ فَهِیَ كَالْحِجَارَةِ اَوْ اَشَدُّ قَسْوَةً ؕ وَاِنَّ مِنَ الْحِجَارَةِ لَمَا یَتَفَجَّرُ مِنْهُ الْاَنْهٰرُ ؕ وَاِنَّ مِنْهَا لَمَا یَشَّقَّقُ فَیَخْرُجُ مِنْهُ الْمَآءُ ؕ وَاِنَّ مِنْهَا لَمَا یَهْبِطُ مِنْ خَشْیَةِ اللّٰهِ ؕ وَمَا اللّٰهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ 74
74. এতসব নিদর্শন দেখার পরেও তোমাদের অন্তরগুলো কঠিন-শক্ত হয়ে রইলো। পাথরের মতো কঠিন, এমনকি তার চেয়েও বেশি কঠিন। অথচ এমন অনেক পাথর রয়েছে, যার ভিতর দিয়ে ঝর্নাধারা বেরিয়ে আসে। আবার কিছু পাথর এমনও রয়েছে, যা ফেটে গেলে তার ভিতর থেকে পানি বের হয়ে আসে। এমনকি, কিছু পাথর আল্লাহর ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নিচের দিকে ধসে পড়ে। বস্তুত তোমরা যেসব কাজকর্ম করে বেড়াও, আল্লাহ সে সম্পর্কে মোটেই বেখবর নন।
اَفَتَطْمَعُوْنَ اَنْ یُّؤْمِنُوْا لَكُمْ وَقَدْ كَانَ فَرِیْقٌ مِّنْهُمْ یَسْمَعُوْنَ كَلٰمَ اللّٰهِ ثُمَّ یُحَرِّفُوْنَهٗ مِنْۢ بَعْدِ مَا عَقَلُوْهُ وَهُمْ یَعْلَمُوْنَ 75
75. হে মুসলমানেরা, তোমরা কি বনি ইসরাইলিদের ব্যাপারে আশা করো যে, ওরা তোমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ঈমানদার হয়ে যাবে? অথচ রীতিমতো ওদের এক অংশের অভ্যাস হয়ে গেছে যে, ওরা আল্লাহর বাণীর পাঠ শোনে, এরপর জেনে-বুঝে সজ্ঞানে তার মধ্যে বিকৃতি সাধন করে।
وَاِذَا لَقُوا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا قَالُوْۤا اٰمَنَّا ۖۚ وَاِذَا خَلَا بَعْضُهُمْ اِلٰی بَعْضٍ قَالُوْۤا اَتُحَدِّثُوْنَهُمْ بِمَا فَتَحَ اللّٰهُ عَلَیْكُمْ لِیُحَآجُّوْكُمْ بِهٖ عِنْدَ رَبِّكُمْ ؕ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ 76
76. এসব ইসরাইলিদের অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, যখন ওরা শেষ নবীর প্রতি ঈমান আনা লোকদের সাথে সাক্ষাত করে, তখন বলে, আমারও তো তোমাদের মতো ঈমান রাখি। কিন্তু ওরা যখন পরস্পর একাকিত্বে মিলিত হয়, তখন বলে, আল্লাহ যেসব সত্য তোমাদের কাছে প্রকাশ করেছেন, তা কি তোমরা মুসলমানদের জানিয়ে দিচ্ছো? এমনটা করেলে তারা তোমাদের প্রভুর কাছে এসব সত্যকে তোমাদের বিরুদ্ধেই প্রমাণ হিসেবে পেশ করবে। তোমরা কি এ সহজ ব্যাপারটাও বুঝতে পারছো না?
اَوَ لَا یَعْلَمُوْنَ اَنَّ اللّٰهَ یَعْلَمُ مَا یُسِرُّوْنَ وَمَا یُعْلِنُوْنَ 77
77. আফসোস! ওরা কি জানে না যে, যা কিছু ওরা গোপন করে আর যা কিছু প্রকাশ করে সবই আল্লাহ জানেন?
وَمِنْهُمْ اُمِّیُّوْنَ لَا یَعْلَمُوْنَ الْكِتٰبَ اِلَّاۤ اَمَانِیَّ وَاِنْ هُمْ اِلَّا یَظُنُّوْنَ 78
78. ওদের মধ্যে আরেকটি দল রয়েছে যারা নিরক্ষর। আল্লাহর দেয়া কিতাবের কোনো জ্ঞানই ওদের নেই। কতগুলো ভিত্তিহীন আশা-ভরসা নিয়ে বেঁচে আছে। নিছক আন্দাজ অনুমানের ভিত্তিতেই ওরা পথ চলছে।
فَوَیْلٌ لِّلَّذِیْنَ یَكْتُبُوْنَ الْكِتٰبَ بِاَیْدِیْهِمْ ۗ ثُمَّ یَقُوْلُوْنَ هٰذَا مِنْ عِنْدِ اللّٰهِ لِیَشْتَرُوْا بِهٖ ثَمَنًا قَلِیْلًا ؕ فَوَیْلٌ لَّهُمْ مِّمَّا كَتَبَتْ اَیْدِیْهِمْ وَ وَیْلٌ لَّهُمْ مِّمَّا یَكْسِبُوْنَ 79
79. জেনে রেখো, ওদের জন্যে ধ্বংস অবধারিত হয়েছে। ওরা আল্লাহর নামে নিজেরাই কিতাব রচনা করে। এরপর জাগতিক সামান্য স্বার্থসিদ্ধির জন্যে লোকদের বলে, এ কিতাব আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। আসলে ওদের হাত যা কিছু রচনা করেছে, তাই ওদের ধ্বংস ডেকে আনবে। আর এ রচনার বিনিময় হিসেবে যা কিছু উপার্জন করেছে, তা হবে ওদের ধ্বংসের উপকরণ।
وَقَالُوْا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ اِلَّاۤ اَیَّامًا مَّعْدُوْدَةً ؕ قُلْ اَتَّخَذْتُمْ عِنْدَ اللّٰهِ عَهْدًا فَلَنْ یُّخْلِفَ اللّٰهُ عَهْدَهٗۤ اَمْ تَقُوْلُوْنَ عَلَی اللّٰهِ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ 80
80. আবার ওরা বলে বেড়ায়, জাহান্নামের আগুনে আমরা কখনোই পুড়বো না। তবে যদি কোনো কারণে পুড়তে হয়, তবে তা হবে খুব সামান্য কয়েক মুহূর্তের জন্য। ওদের জিজ্ঞেস করো, তোমরা কি আল্লাহর কাছ থেকে এ মর্মে কোনো অঙ্গীকার নিয়েছো, যা তিনি পরিবর্তন করবেন না? নাকি তোমরা আল্লাহর উপর এমনসব অপবাদ দিচ্ছো, যে সম্পর্কে তোমাদের কোনো জ্ঞানই নেই?
بَلٰی مَنْ كَسَبَ سَیِّئَةً وَّاَحَاطَتْ بِهٖ خَطِیْٓـَٔتُهٗ فَاُولٰٓىِٕكَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ 81
81. হ্যাঁ, এভাবে যেসব লোক খারাপ কাজ করে বেড়ায়, এমনকি চারদিক দিয়ে পাপের মধ্যে ডুবে থাকে, নিশ্চিতভাবে ওরা চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে।
وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ اُولٰٓىِٕكَ اَصْحٰبُ الْجَنَّةِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ۠ 82
82. অন্যদিকে যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে চলে, তারাই হবে জান্নাতী। তারা জান্নাতের সুখ চিরকাল ভোগ করবে।
وَاِذْ اَخَذْنَا مِیْثَاقَ بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ لَا تَعْبُدُوْنَ اِلَّا اللّٰهَ ۫ وَ بِالْوَالِدَیْنِ اِحْسَانًا وَّذِی الْقُرْبٰی وَ الْیَتٰمٰی وَ الْمَسٰكِیْنِ وَقُوْلُوْا لِلنَّاسِ حُسْنًا وَّاَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتُوا الزَّكٰوةَ ؕ ثُمَّ تَوَلَّیْتُمْ اِلَّا قَلِیْلًا مِّنْكُمْ وَاَنْتُمْ مُّعْرِضُوْنَ 83
83. স্মরণ করো, একসময় আমি বনি ইসরাইলের থেকে এ কথার উপর মজবুত অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, (এক) এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো দাসত্ব করবে না। (দুই) পিতা মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। (তিন) আত্মীয়-স্বজন, এতিম ও অসহায়-দরিদ্রের প্রতি ভালো আচরণ করবে। (চার) সাধারণ লোকদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে। (পাঁচ) নিজেদের মধ্যে নামাজ প্রতিষ্ঠা রাখবে এবং (ছয়) যাকাত আদায় করবে। কিন্তু আফসোস! সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা সবাই সে অঙ্গীকার থেকে পিছু হটলে এবং এখানো তোমরা মুখ ফিরিয়ে আছো।
وَاِذْ اَخَذْنَا مِیْثَاقَكُمْ لَا تَسْفِكُوْنَ دِمَآءَكُمْ وَلَا تُخْرِجُوْنَ اَنْفُسَكُمْ مِّنْ دِیَارِكُمْ ثُمَّ اَقْرَرْتُمْ وَ اَنْتُمْ تَشْهَدُوْنَ 84
84. আমি আরো অঙ্গীকার নিয়েছিলাম, (সাত) তোমরা নিজেদের মধ্যে রক্তপাত করবে না। (আট) একে অন্যকে আবাস ভ‚মি থেকে উচ্ছেদ করবে না। তখন তোমরা সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে, তোমরা নিজেরাই এর সাক্ষী।
ثُمَّ اَنْتُمْ هٰۤؤُلَآءِ تَقْتُلُوْنَ اَنْفُسَكُمْ وَ تُخْرِجُوْنَ فَرِیْقًا مِّنْكُمْ مِّنْ دِیَارِهِمْ ؗ تَظٰهَرُوْنَ عَلَیْهِمْ بِالْاِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ؕ وَاِنْ یَّاْتُوْكُمْ اُسٰرٰی تُفٰدُوْهُمْ وَ هُوَ مُحَرَّمٌ عَلَیْكُمْ اِخْرَاجُهُمْ ؕ اَفَتُؤْمِنُوْنَ بِبَعْضِ الْكِتٰبِ وَتَكْفُرُوْنَ بِبَعْضٍ ۚ فَمَا جَزَآءُ مَنْ یَّفْعَلُ ذٰلِكَ مِنْكُمْ اِلَّا خِزْیٌ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ۚ وَیَوْمَ الْقِیٰمَةِ یُرَدُّوْنَ اِلٰۤی اَشَدِّ الْعَذَابِ ؕ وَمَا اللّٰهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ 85
85. কিন্তু সে তোমরাই আজ নিজেদের লোকদের অন্যায়ভাবে হত্যা করছো, আপন বংশের এক শ্রেণিকে ঘর বাড়ি ছাড়া করছো। অন্যায়-অবিচার এবং অত্যাধিক বাড়াবাড়ির মধ্য দিয়ে এসব দুর্বল লোকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছো। আবার এসব নির্যাতিত-অসহায় লোকেরা যুদ্ধবন্দী হয়ে এলে, তোমরা তাদের থেকে মুক্তিপণও আদায় করছো। অথচ তাদের আবাস ভূমি থেকে উচ্ছেদ করাই তোমাদের জন্যে ছিলো অবৈধ। তবে কি তোমরা আল্লাহর কিতাবের কিছু বিধান মেনে নিচ্ছো আর কিছু বিধান অস্বীকার করতে চাচ্ছো? মনে রেখো, যারা এমন দ্বিমুখী আচরণ করবে, দুনিয়ায় ওরা লাঞ্ছিত ও অপমানিত জীবন পাবে। আর কেয়ামতের দিন ওদের আরো ভয়ঙ্কর শাস্তির দিকে হাকিয়ে নেয়া হবে। ভুলে যেয়ো না, তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে আল্লাহ পুঙ্খানুপুঙ্খ খবর রাখছেন।
اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ اشْتَرَوُا الْحَیٰوةَ الدُّنْیَا بِالْاٰخِرَةِ ؗ فَلَا یُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلَا هُمْ یُنْصَرُوْنَ۠ 86
86. আসলে ওরা দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের জন্য আখেরাতের স্থায়ী সুখের জীবনকে বিক্রি করে দিয়েছে। কাজেই সেদিন ওদের শাস্তি কমানো হবে না। ওরা সেখানে কোনো সাহায্যও পাবে না।
وَلَقَدْ اٰتَیْنَا مُوْسَی الْكِتٰبَ وَقَفَّیْنَا مِنْۢ بَعْدِهٖ بِالرُّسُلِ ؗ وَاٰتَیْنَا عِیْسَی ابْنَ مَرْیَمَ الْبَیِّنٰتِ وَاَیَّدْنٰهُ بِرُوْحِ الْقُدُسِ ؕ اَفَكُلَّمَا جَآءَكُمْ رَسُوْلٌۢ بِمَا لَا تَهْوٰۤی اَنْفُسُكُمُ اسْتَكْبَرْتُمْ ۚ فَفَرِیْقًا كَذَّبْتُمْ ؗ وَفَرِیْقًا تَقْتُلُوْنَ 87
87. আমি তোমাদের কাছে মুসাকে আমার কিতাব দিয়ে পাঠিয়েছি। এরপর আমি একের পর এক ক্রমাগত রসুল পাঠিয়েছি। আমি মারিয়াম পুত্র ঈসাকেও সুস্পষ্ট নিদর্শন দিয়ে পাঠিয়েছি। আমি তাকে পবিত্র আত্মার মাধ্যমে নানাভাবে সাহায্য করেছি। অথচ তোমাদের এ কেমন আচরণ, যখনই কোনো নবী তোমাদের কাছে এমন সব বিধি-বিধান নিয়ে এসেছে যা তোমাদের প্রবৃত্তির কামনা বিরোধী হয়েছে, তখনই তোমরা অহংকারী আচরণ করেছো। তোমরা সেসব নবীর অনেককে মিথ্যাবাদী বলেছো। এমনকি, অনেককে হত্যাই করে ফেলেছো।
وَقَالُوْا قُلُوْبُنَا غُلْفٌ ؕ بَلْ لَّعَنَهُمُ اللّٰهُ بِكُفْرِهِمْ فَقَلِیْلًا مَّا یُؤْمِنُوْنَ 88
88. ওরা আবার বলে, আমাদের অন্তর সত্যের মাধ্যমে সুরক্ষিত হয়ে আছে। না! আসল ব্যাপার হলো, কুফরির কারণে ওদের উপর আল্লাহর অভিশাপ পড়েছে। সুতরাং ওরা খুব কমই সত্যকে মানে।
وَلَمَّا جَآءَهُمْ كِتٰبٌ مِّنْ عِنْدِ اللّٰهِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَهُمْ ۙ وَكَانُوْا مِنْ قَبْلُ یَسْتَفْتِحُوْنَ عَلَی الَّذِیْنَ كَفَرُوْا ۖۚ فَلَمَّا جَآءَهُمْ مَّا عَرَفُوْا كَفَرُوْا بِهٖ ؗ فَلَعْنَةُ اللّٰهِ عَلَی الْكٰفِرِیْنَ 89
89. ওদের আচরণ দেখো, ওদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক নতুন কিতাব এলো যা ওদের কাছে থাকা পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর সত্যতা স্বীকার করে, তবুও ওরা এ কিতাবকে সত্য জেনেও মেনে নিতে অস্বীকার করলো। অথচ ইতোপূর্বে ওরাই তৎকালীন অন্যান্য কাফেরদের মোকাবেলায় বিজয় ও সাহায্যের জন্য এ কিতাবের নামে দোয়া করতো। এমন দ্বিমুখী আচরণের কারণে এসব অস্বীকারকারীদের উপর আল্লাহর অভিশাপ নামুক।
بِئْسَمَا اشْتَرَوْا بِهٖۤ اَنْفُسَهُمْ اَنْ یَّكْفُرُوْا بِمَاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ بَغْیًا اَنْ یُّنَزِّلَ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِهٖ عَلٰی مَنْ یَّشَآءُ مِنْ عِبَادِهٖ ۚ فَبَآءُوْ بِغَضَبٍ عَلٰی غَضَبٍ ؕ وَلِلْكٰفِرِیْنَ عَذَابٌ مُّهِیْنٌ 90
90. আফসোস! কতোই না নিকৃষ্ট বিনিময়ে ওরা নিজেদের জীবন বেঁচে দিচ্ছে। আল্লাহ ওদের পরিবর্তে অন্য কাউকে নিজের অনুগ্রহ দান করেছেন শুধু এ কারণে জেদ ও ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে আল্লাহর নাযিল করা এ কিতাবকে ওরা মেনে নিতে অস্বীকার করছে। ফলে ওরা এখন একের পর এক গযবের উপযুক্ত হয়ে গেছে। নিশ্চিতভাবে এসব কাফেরদের জন্যে অপেক্ষা করছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।
وَاِذَا قِیْلَ لَهُمْ اٰمِنُوْا بِمَاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ قَالُوْا نُؤْمِنُ بِمَاۤ اُنْزِلَ عَلَیْنَا وَ یَكْفُرُوْنَ بِمَا وَرَآءَهٗ ۗ وَ هُوَ الْحَقُّ مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَهُمْ ؕ قُلْ فَلِمَ تَقْتُلُوْنَ اَنْۢبِیَآءَ اللّٰهِ مِنْ قَبْلُ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ 91
91. ওদের যখন বলা হয়, শেষ নবীর প্রতি আল্লাহ যা কিছু নাযিল করেছেন, তা সত্য বলে মেনে নাও। ওরা বলে, আমরা কেবল আমাদের লোকদের উপর নাযিল হওয়া জিনিস মানি। ওদের বাইরে অন্যদের কাছে যে সত্য এসেছে, ওরা তা মানতে রাজি নয়। যদিও এ কিতাব ওদের কাছে থাকা আল্লাহর পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যতা স্বীকার করে। ওদের জিজ্ঞেস করো, যদি তোমাদের বংশে পাঠনো আল্লাহর কিতাবকে সত্যিই মেনে থাকো, তবে ইতোপূর্বে আল্লাহর অসংখ্য নবীকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছিলে কেন?
وَلَقَدْ جَآءَكُمْ مُّوْسٰی بِالْبَیِّنٰتِ ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِنْۢ بَعْدِهٖ وَ اَنْتُمْ ظٰلِمُوْنَ 92
92. অতীত মনে করে দেখো, তোমাদের মাঝে মুসা সুস্পষ্ট প্রমাণসহ হাজির হয়েছিলো। তোমরা এতবড় জালেম ছিলে যে, সে একটু আড়াল হতেই তোমরা একটা গো-বাছুরকে উপাস্য হিসেবে পূজা করতে লাগলে।
وَاِذْ اَخَذْنَا مِیْثَاقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ الطُّوْرَ ؕ خُذُوْا مَاۤ اٰتَیْنٰكُمْ بِقُوَّةٍ وَّاسْمَعُوْا ؕ قَالُوْا سَمِعْنَا وَ عَصَیْنَا ۗ وَاُشْرِبُوْا فِیْ قُلُوْبِهِمُ الْعِجْلَ بِكُفْرِهِمْ ؕ قُلْ بِئْسَمَا یَاْمُرُكُمْ بِهٖۤ اِیْمَانُكُمْ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ 93
93. হে বনি ইসরাইল, তোমাদের সে অঙ্গীকারের কথা একবার মনে করে দেখো, যা আমি তুর পাহাড়কে তোমাদের মাথার উপর তুলে ধরে গ্রহণ করেছিলাম। বলেছিলাম, তোমাদের যে বিধি-বিধান দিচ্ছি, তা দৃঢ়ভাবে মেনে চলো এবং মন দিয়ে আমার সব কথা শুনতে থাকো। তৎকালীন তোমরা বলেছিলে, আমরা আপনার কথা শুনেছি; কিন্তু তোমাদের মনভাব ছিলে এমন যে আমরা কখনোই মানবো না। আসলে সত্যকে অস্বীকার করে চলায় ওদের অন্তরে গো-বাছুরের প্রেম জমে গিয়েছিলো। ওদের বলো, তোমরা যদি সত্যি মুমিন হয়ে থাকো, তবে এ কোন্ ধরনের ঈমান, যা তোমাদের এসব খারাপ কাজ করতে বলে?
قُلْ اِنْ كَانَتْ لَكُمُ الدَّارُ الْاٰخِرَةُ عِنْدَ اللّٰهِ خَالِصَةً مِّنْ دُوْنِ النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ 94
94. ওদের আরো বলো, আল্লাহ সকল মানুষকে বাদ দিয়ে কেবল তোমাদের জন্যে আখেরাতে জান্নাত নির্দিষ্ট করে রেখেছেন তোমাদের এ দাবি যদি সত্য হয়ে থাকে, তবে তো তোমাদের খুশি মনে মৃত্যুকে স্বাগত জানানো উচিত।
وَلَنْ یَّتَمَنَّوْهُ اَبَدًۢا بِمَا قَدَّمَتْ اَیْدِیْهِمْ ؕ وَاللّٰهُ عَلِیْمٌۢ بِالظّٰلِمِیْنَ 95
95. . কিন্তু না, ওরা কখনোই মৃত্যুকে কামনা করবে না। কারণ ওরা জানে, পৃথিবীতে ওরা কী উপার্জন করেছে। আল্লাহ এসব জালেমদের অবস্থা ভালো করেই জানেন।
وَ لَتَجِدَنَّهُمْ اَحْرَصَ النَّاسِ عَلٰی حَیٰوةٍ ۛۚ وَمِنَ الَّذِیْنَ اَشْرَكُوْا ۛۚ یَوَدُّ اَحَدُهُمْ لَوْ یُعَمَّرُ اَلْفَ سَنَةٍ ۚ وَمَا هُوَ بِمُزَحْزِحِهٖ مِنَ الْعَذَابِ اَنْ یُّعَمَّرَ ؕ وَاللّٰهُ بَصِیْرٌۢ بِمَا یَعْمَلُوْنَ۠ 96
96. নিশ্চিতভাবে দেখবে, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ওরাই বেশি দিন দুনিয়ায় বেঁচে থাকতে চায়। এমনকি, এ ব্যাপারে ওরা মুশরিকদেরও ছাড়িয়ে গেছে। ওদের প্রত্যেকেই দুনিয়ায় হাজার বছর বাঁচতে চায়। অথচ দীর্ঘায়ু আল্লাহর শাস্তি থেকে কখনোই ওদের বাঁচাতে পারবে না। ওরা যেসব কাজ করে চলছে, আল্লাহ সেসবের উপর সজাগ দৃষ্টি রাখছেন।
قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِّجِبْرِیْلَ فَاِنَّهٗ نَزَّلَهٗ عَلٰی قَلْبِكَ بِاِذْنِ اللّٰهِ مُصَدِّقًا لِّمَا بَیْنَ یَدَیْهِ وَهُدًی وَّبُشْرٰی لِلْمُؤْمِنِیْنَ 97
97. তুমি এসব ইসরাইলিদের স্পষ্টকরে জানিয়ে দাও, যারা জিবরিলকে নিজেদের শত্রু মনে করে, তারা জেনে রাখুক, কেবল আল্লাহর নির্দেশেই জিবরিল এ কিতাব তোমার অন্তরে ক্রমাগতভাবে অবতীর্ণ করে চলছে। এ কিতাব পূর্বে আগত কিতাবগুলোর সত্যতা স্বীকার করে। পাশাপাশি ঈমানদারদের জন্যে পথনির্দেশ ও সুসংবাদ বহন করে।
مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِّلّٰهِ وَمَلٰٓىِٕكَتِهٖ وَرُسُلِهٖ وَجِبْرِیْلَ وَمِیْكٰىلَ فَاِنَّ اللّٰهَ عَدُوٌّ لِّلْكٰفِرِیْنَ 98
98. ওদের এমন মনোভাবের জবাবে বলো, যারা আল্লাহর, তার ফেরেশতাদের, রসুলদের এবং জিবরিল ও মিকাইল এর সাথে শত্রুতা রাখে ওরা জেনে রাখুক, নিশ্চয়ই স্বয়ং আল্লাহ ঐসব কাফেরদের শত্রু ।
وَلَقَدْ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكَ اٰیٰتٍۭ بَیِّنٰتٍ ۚ وَمَا یَكْفُرُ بِهَاۤ اِلَّا الْفٰسِقُوْنَ 99
99. আমি তোমার প্রতি এমন বহু আয়াত নাযিল করেছি, যা সত্যকে প্রকাশ করে। একমাত্র অবাধ্য পাপাচারী ছাড়া আর কেউ এগুলো মেনে নিতে অস্বীকার করে না।
اَوَ كُلَّمَا عٰهَدُوْا عَهْدًا نَّبَذَهٗ فَرِیْقٌ مِّنْهُمْ ؕ بَلْ اَكْثَرُهُمْ لَا یُؤْمِنُوْنَ 100
100. যখনই ওরা কোনো ধরনের অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়েছে, তখনই ওদের কোনো না কোনো দল খোলাখুলিভাবে সে অঙ্গীকারকে ছুড়ে ফেলেছে। আসলে ওদের খুব কম সংখ্যকই সত্যকে মেনেছিলো।
وَلَمَّا جَآءَهُمْ رَسُوْلٌ مِّنْ عِنْدِ اللّٰهِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِیْقٌ مِّنَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ ۙۗ كِتٰبَ اللّٰهِ وَرَآءَ ظُهُوْرِهِمْ كَاَنَّهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَؗ 101
101. ওদের অবস্থা এমন যে, যখনই ওদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো রসুল এসেছে যে ওদের কাছে থাকা পূর্ববর্তী আল্লাহর কিতাবের সত্যতা স্বীকার করতো, তখনই এসব কিতাবওয়ালাদের একটা দল এমনভাবে ওদের কাছে থাকা আল্লাহর কিতাবকে লুকিয়ে ফেলেছে, যেনো ওরা কিছু জানেই না।
وَاتَّبَعُوْا مَا تَتْلُوا الشَّیٰطِیْنُ عَلٰی مُلْكِ سُلَیْمٰنَ ۚ وَمَا كَفَرَ سُلَیْمٰنُ وَلٰكِنَّ الشَّیٰطِیْنَ كَفَرُوْا یُعَلِّمُوْنَ النَّاسَ السِّحْرَ ۗ وَمَاۤ اُنْزِلَ عَلَی الْمَلَكَیْنِ بِبَابِلَ هَارُوْتَ وَمَارُوْتَ ؕ وَمَا یُعَلِّمٰنِ مِنْ اَحَدٍ حَتّٰی یَقُوْلَاۤ اِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ ؕ فَیَتَعَلَّمُوْنَ مِنْهُمَا مَا یُفَرِّقُوْنَ بِهٖ بَیْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهٖ ؕ وَمَا هُمْ بِضَآرِّیْنَ بِهٖ مِنْ اَحَدٍ اِلَّا بِاِذْنِ اللّٰهِ ؕ وَیَتَعَلَّمُوْنَ مَا یَضُرُّهُمْ وَلَا یَنْفَعُهُمْ ؕ وَلَقَدْ عَلِمُوْا لَمَنِ اشْتَرٰىهُ مَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ ؕ۫ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهٖۤ اَنْفُسَهُمْ ؕ لَوْ كَانُوْا یَعْلَمُوْنَ 102
102. . ওরা রসুলদের পথ অনুসরণ না করে বরং সেসব জিনিসের অনুসরণে মত্ত হলো, যা সুলাইমানের রাজত্বের নামে শয়তান ওদের শিখাচ্ছিলো। আসল সত্য হলো, সুলাইমান কখনোই কুফরি করেনি; বরং কুফরি করেছে জিন ও মানুষরূপী ঐসব শয়তানেরা, যারা মানুষকে যাদু শিখাতো। ওরা যাদু শিখেছিলো ব্যাবিলন শহরে আসা দুই ফেরেশতা হারুত ও মারুত এর কাছে। অথচ এ দুই ফেরেশতা যখন কাউকে যাদুমন্ত্র শিখাতো, তখন তাকে পরিষ্কার ভাষায় সতর্ক করে বলতো, মনে রেখো! আমরা উভয়ে তোমাদের জন্যে পরীক্ষা স্বরূপ। সুতরাং তুমি এসব দ্বারা কুফরিতে লিপ্ত হয়ো না। এমন সতর্কবাণী শোনার পরেও ওরা তাদের থেকে এমন যাদুমন্ত্র শিখতো, যা দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে ফাটল ধরাতো। যদিও একথা সুস্পষ্ট যে, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া এ পন্থায় কেউ কারোর ক্ষতি করতে পারে না। সবকিছু বোঝার পরেও ওরা এমন সব জিনিস শিখতো, যা ওদের কোনো উপকার করেনি; বরং ক্ষতি করেছে। ওরা ভালোভাবে জানতো, এ পথে নিজেকে বেঁচে দিলে পরকালে কোনো অংশই পাবে না। হায় আফসোস! ওরা যদি সত্যিই জানতো, কত খারাপ বিনিময়ে ওরা নিজেদের জীবন বেঁচে দিলো।
وَلَوْ اَنَّهُمْ اٰمَنُوْا وَاتَّقَوْا لَمَثُوْبَةٌ مِّنْ عِنْدِ اللّٰهِ خَیْرٌ ؕ لَوْ كَانُوْا یَعْلَمُوْنَ۠ 103
103. অথচ ওরা যদি সত্যকে মেনে নিতো এবং সতর্কতার পথ অবলম্বন করতো, তবে নিশ্চিতভাবে আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদান পেত। হায়! যদি ওরা এসব জানতো।
ٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَقُوْلُوْا رَاعِنَا وَ قُوْلُوا انْظُرْنَا وَ اسْمَعُوْا ؕ وَ لِلْكٰفِرِیْنَ عَذَابٌ اَلِیْمٌ 104
104. হে ঈমানদারেরা, রসুলের দৃষ্টি আকর্ষণে তোমরা ‘রইনা’ শব্দ বলো না; বরং তোমরা বলো ‘উনর্যুনা’ এবং তার কথা মনোযোগসহ শোনো। জেনে রেখো, সত্য অস্বীকারকারীদের জন্যে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি অপেক্ষা করছে।
مَا یَوَدُّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا مِنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ وَلَا الْمُشْرِكِیْنَ اَنْ یُّنَزَّلَ عَلَیْكُمْ مِّنْ خَیْرٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ ؕ وَاللّٰهُ یَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهٖ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِیْمِ 105
105. যারা আমার কিতাব পাওয়ার পরেও কুফরির পথ ধরেছে এবং যারা আমার সাথে শরিক করে চলছে এ দুই শ্রেণি কখনোই পছন্দ করে না যে, তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমরা কোনো কল্যাণ লাভ করো। অথচ আল্লাহ তাঁর নিজের পছন্দ অনুযায়ী যাকে ইচ্ছে অনুগ্রহের পাত্র বানিয়ে নেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ বড়ই অনুগ্রহশীল।
مَا نَنْسَخْ مِنْ اٰیَةٍ اَوْ نُنْسِهَا نَاْتِ بِخَیْرٍ مِّنْهَاۤ اَوْ مِثْلِهَا ؕ اَلَمْ تَعْلَمْ اَنَّ اللّٰهَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ 106
106. আমি কখনো কখনো পূর্বে পাঠানো কোনো আয়াতকে রহিত করি কিংবা সে আয়াত সম্পর্কে তোমাদের ভুলিয়ে দেই। আর সেটা এ জন্যে যে, তার জায়গায় আগের চেয়ে কল্যাণকর কিছু দেই অথবা অন্তত আগের মতো মানসম্মত কিছু দিয়ে থাকি। আসলে তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান?
اَلَمْ تَعْلَمْ اَنَّ اللّٰهَ لَهٗ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ وَمَا لَكُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ مِنْ وَّلِیٍّ وَّلَا نَصِیْرٍ 107
107. তুমি কি এটা জানো না যে, পৃথিবী ও মহাকাশের একক মালিকানা কেবল আল্লাহর? সুতরাং মনে রেখো, সেই আল্লাহ ছাড়া তোমাদের আর কোনো অভিভাবক নেই, কোনো সাহায্যকারী নেই।
اَمْ تُرِیْدُوْنَ اَنْ تَسْـَٔلُوْا رَسُوْلَكُمْ كَمَا سُىِٕلَ مُوْسٰی مِنْ قَبْلُ ؕ وَمَنْ یَّتَبَدَّلِ الْكُفْرَ بِالْاِیْمَانِ فَقَدْ ضَلَّ سَوَآءَ السَّبِیْلِ 108
108. হে ঈমানদারেরা, তবে কি তোমরা তোমাদের এ রসুলের কাছে এমনভাবে প্রশ্ন ও দাবি পেশ করতে চাও, যেভাবে এর আগে মুসার কাছে তার লোকজন করেছিলো? মনে রেখো, যারা সত্যকে মেনে নেয়ার পরিবর্তে অস্বীকার করার নীতি অবলম্বন করবে, তারা অবশ্যই সঠিক পথ হারাবে।
وَدَّ كَثِیْرٌ مِّنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ لَوْ یَرُدُّوْنَكُمْ مِّنْۢ بَعْدِ اِیْمَانِكُمْ كُفَّارًا ۖۚ حَسَدًا مِّنْ عِنْدِ اَنْفُسِهِمْ مِّنْۢ بَعْدِ مَا تَبَیَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ ۚ فَاعْفُوْا وَاصْفَحُوْا حَتّٰی یَاْتِیَ اللّٰهُ بِاَمْرِهٖ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ 109
109. কিতাবওয়ালাদের প্রায় সবাই মনে মনে এটা চায় যে, তোমরা কোনোক্রমে ঈমানের পথ থেকে কুফরির দিকে ফিরো এসো। ভালোভাবে সত্য সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরেও কেবল নিজেদের হিংসাত্মক মানসিকতার কারণে ওরা এমনটা কামনা করে। ওদের প্রতিরোধে তোমরা ক্ষমা ও এড়িয়ে যাবার নীতি অবলম্বন করো, যতক্ষণ না আল্লাহ নিজেই এ বিষয়ে কোনো ফয়সালা করে দেন। মনে রেখো, সবকিছুর উপর কেবল আল্লাহই একমাত্র ক্ষমতাশালী।
وَاَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتُوا الزَّكٰوةَ ؕ وَمَا تُقَدِّمُوْا لِاَنْفُسِكُمْ مِّنْ خَیْرٍ تَجِدُوْهُ عِنْدَ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ 110
110. তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে চলো এবং যাকাত আদায় করতে থাকো। জেনে রেখো, পরকালের কল্যাণের জন্যে তোমরা যা কিছু সৎকাজ আগে পাঠিয়ে দেবে, তার সবটাই আল্লাহর কাছে জমা পাবে। দুনিয়ায় তোমরা যা কিছু করো না কেন, আল্লাহ সবই দেখেন।
وَقَالُوْا لَنْ یَّدْخُلَ الْجَنَّةَ اِلَّا مَنْ كَانَ هُوْدًا اَوْ نَصٰرٰی ؕ تِلْكَ اَمَانِیُّهُمْ ؕ قُلْ هَاتُوْا بُرْهَانَكُمْ اِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ 111
111. ওরা এমনটাও বলে বেড়ায়, কেউ ইহুদি বা খ্রিস্টান না হলে, কখনোই জান্নাতে যেতে পারবে না। আসলে এ কথাগুলো ওদের কল্পনাবিলাস। তোমরা ওদের বলো, তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে নিজেদের এ কথার স্বপক্ষে প্রমাণ হাজির করো।
َلٰی ۗ مَنْ اَسْلَمَ وَجْهَهٗ لِلّٰهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهٗۤ اَجْرُهٗ عِنْدَ رَبِّهٖ ۪ وَلَا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَلَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ۠ 112
112. তবে হ্যাঁ, জান্নাতে কেবল সে-ই যাবে, যে পূর্ণরূপে নিজেকে আল্লাহর জন্যে সঁপে দিয়েছে এবং বাস্তব জীবনে সৎপথে চলেছে। অবশ্যই তার প্রভুর কাছে তার জন্যে উত্তম প্রতিদান রয়েছে। এ ধরনের লোকদের কোনো ভয় নেই, কোনো দুশ্চিন্তা নেই।
وَقَالَتِ الْیَهُوْدُ لَیْسَتِ النَّصٰرٰی عَلٰی شَیْءٍ ۪ وَّقَالَتِ النَّصٰرٰی لَیْسَتِ الْیَهُوْدُ عَلٰی شَیْءٍ ۙ وَّهُمْ یَتْلُوْنَ الْكِتٰبَ ؕ كَذٰلِكَ قَالَ الَّذِیْنَ لَا یَعْلَمُوْنَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ ۚ فَاللّٰهُ یَحْكُمُ بَیْنَهُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ فِیْمَا كَانُوْا فِیْهِ یَخْتَلِفُوْنَ 113
113. ইহুদিরা বলে, খ্রিস্টানদের দ্বীনের কোনো সঠিক ভিত্তি নেই। আবার খ্রিস্টানেরাও বলে, ইহুদিদের দ্বীনের কোনো সঠিক ভিত্তি নেই। অথচ এ উভয় দলই তাদের কাছে থাকা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে। ওদের দেখাদেখি যাদের কাছে আল্লাহর কিতাবের কোনো জ্ঞান নেই সেই মুশরিকেরাও এমনসব দাবি করে বসে আছে। সুতরাং জেনে রেখো, ওরা সবাই যে দাবিতে মতবিরোধ করছে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ স্বয়ং সে বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা করে দিবেন।
وَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ مَّنَعَ مَسٰجِدَ اللّٰهِ اَنْ یُّذْكَرَ فِیْهَا اسْمُهٗ وَسَعٰی فِیْ خَرَابِهَا ؕ اُولٰٓىِٕكَ مَا كَانَ لَهُمْ اَنْ یَّدْخُلُوْهَاۤ اِلَّا خَآىِٕفِیْنَ ؕ۬ لَهُمْ فِی الدُّنْیَا خِزْیٌ وَّلَهُمْ فِی الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ عَظِیْمٌ 114
114. তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট ইবাদতগৃহগুলোতে আল্লাহর নাম সঠিকভাবে উচ্চারণে লোকদের বাধা দেয়। এমনকি, এসব ইবাদতগৃহগুলোতে ধ্বংসের জন্যে তান্ডব চালায়। অথচ এসব জালেমেরা ভীত-সন্ত্রস্ত না হয়ে আল্লাহর ঘরে প্রবেশের অধিকারই রাখে না। জেনে রেখো, এসব জালেমরা দুনিয়ায় লাঞ্ছিত হবে। আর পরকালেতো ওদের জন্যে কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছেই।
وَلِلّٰهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ۗ فَاَیْنَمَا تُوَلُّوْا فَثَمَّ وَجْهُ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ وَاسِعٌ عَلِیْمٌ 115
115. মনে রেখো, পূর্ব কিংবা পশ্চিম- সবই আল্লাহর। সুতরাং তোমরা যে দিকেই মুখ ফিরাও না কেন, সে দিকেই আল্লাহকে পাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বব্যাপী ও সব বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন।
وَقَالُوا اتَّخَذَ اللّٰهُ وَلَدًا ۙ سُبْحٰنَهٗ ؕ بَلْ لَّهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ؕ كُلٌّ لَّهٗ قٰنِتُوْنَ 116
116. আবার ওরা এমনটাও দাবি করে যে, আল্লাহ নিজের জন্যে সন্তান গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লহ! নিশ্চিতভাবে আল্লাহ এসব দাবি থেকে পূতঃপবিত্র। আসল কথা হচ্ছে, পৃথিবী ও মহাকাশের সবকিছুই তাঁর একক মালিকানাধীন। সবকিছুই তাঁর নির্দেশের অনুগত।
بَدِیْعُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ؕ وَاِذَا قَضٰۤی اَمْرًا فَاِنَّمَا یَقُوْلُ لَهٗ كُنْ فَیَكُوْنُ 117
117. আল্লাহই মহাকাশ ও পৃথিবীকে অস্তিত্বদান করেছেন। তিনি যখনই কোনো কিছু সূচনা করতে চান, তখন শুধু সেটার উদ্দেশ্যে হুকুম করেন, ‘হও’, সাথে সাথেই তা হয়ে যায়।
وَقَالَ الَّذِیْنَ لَا یَعْلَمُوْنَ لَوْ لَا یُكَلِّمُنَا اللّٰهُ اَوْ تَاْتِیْنَاۤ اٰیَةٌ ؕ كَذٰلِكَ قَالَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِّثْلَ قَوْلِهِمْ ؕ تَشَابَهَتْ قُلُوْبُهُمْ ؕ قَدْ بَیَّنَّا الْاٰیٰتِ لِقَوْمٍ یُّوْقِنُوْنَ 118
118. কেবল অজ্ঞ-মূর্খরাই বলে, আল্লাহ নিজে আমাদের সাথে সরাসরি কথা বলেন না কেন? কিংবা আমাদের কাছে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট নিদর্শন আসে না কেন? আসলে ওদের পূর্ববর্তী অজ্ঞরাও ওদের মতো দাবি করতো। ওদের সবার মন মানসিকতা একই রকম। বাস্তব সত্য হলো, দৃঢ় বিশ্বাসীদের কাছে আমার নিদর্শনাবলী সুস্পষ্ট হয়েই আছে।
اِنَّاۤ اَرْسَلْنٰكَ بِالْحَقِّ بَشِیْرًا وَّنَذِیْرًا ۙ وَّ لَا تُسْـَٔلُ عَنْ اَصْحٰبِ الْجَحِیْمِ 119
119. হে নবী, নিশ্চিতভাবে আমি তোমাকে সত্যদ্বীনসহ পাঠিয়েছি, লোকদের কাছে একজন সুসংবাদ দানকারী এবং একইসাথে ভীতি প্রদর্শনকারী হিসেবে। জেনে রেখো, এসব জানার পরেও যারা জাহান্নামী হবে, ওদের ব্যাপারে তোমাকে জবাবদিহি করতে হবে না।
وَلَنْ تَرْضٰی عَنْكَ الْیَهُوْدُ وَلَا النَّصٰرٰی حَتّٰی تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ ؕ قُلْ اِنَّ هُدَی اللّٰهِ هُوَ الْهُدٰی ؕ وَلَىِٕنِ اتَّبَعْتَ اَهْوَآءَهُمْ بَعْدَ الَّذِیْ جَآءَكَ مِنَ الْعِلْمِ ۙ مَا لَكَ مِنَ اللّٰهِ مِنْ وَّلِیٍّ وَّلَا نَصِیْرٍؔ 120
120. হে নবী, যতক্ষণ তুমি ইহুদি বা খ্রিস্টানদের দ্বীন গ্রহণ না করবে, ততক্ষণ ওরা তোমার প্রতি খুশি হবে না। ওদের পরিষ্কার বলে দাও, নিশ্চয়ই আল্লাহর দেখানো পথই একমাত্র গ্রহণীয় পথ। হে নবী, তোমার কাছে সত্য জ্ঞান থাকার পরেও যদি ওদের কামনা-বাসনা অনুযায়ী চলতে থাকো, তবে মনে রেখো, আল্লাহর পাকড়াও থেকে তোমায় বাঁচানোর জন্যে কোনো বন্ধু থাকবে না। এমনকি, কোনো সাহায্যকারীও পাবে না।
اَلَّذِیْنَ اٰتَیْنٰهُمُ الْكِتٰبَ یَتْلُوْنَهٗ حَقَّ تِلَاوَتِهٖ ؕ اُولٰٓىِٕكَ یُؤْمِنُوْنَ بِهٖ ؕ وَمَنْ یَّكْفُرْ بِهٖ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْخٰسِرُوْنَ۠ 121
121. আহলে কিতাবের কেউ কেউ তাদের কাছে থাকা আমার কিতাব যথাযথভাবে পাঠ করে এবং খাঁটি মনে এ কিতাবের কথায় ঈমান রাখে। অপরদিকে যারা এ কিতব মেনে নিতে অস্বীকার করে, ওরাই ক্ষতিগ্রস্ত।
ٰبَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ اذْكُرُوْا نِعْمَتِیَ الَّتِیْۤ اَنْعَمْتُ عَلَیْكُمْ وَاَنِّیْ فَضَّلْتُكُمْ عَلَی الْعٰلَمِیْنَ 122
122. হে বনি ইসরাইল, আমার সে নিয়ামতের কথা মনে করে দেখো, যা দিয়ে আমি তোমাদের অনুগ্রহ করেছিলাম। ভুলে যেয়ো না, আমিই জগতের তৎকালীন অন্যান্য জাতির উপর তোমাদের বিশেষ মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছিলাম।
وَاتَّقُوْا یَوْمًا لَّا تَجْزِیْ نَفْسٌ عَنْ نَّفْسٍ شَیْـًٔا وَّلَا یُقْبَلُ مِنْهَا عَدْلٌ وَّلَا تَنْفَعُهَا شَفَاعَةٌ وَّلَا هُمْ یُنْصَرُوْنَ 123
123. কাজেই আগামী ঐ দিনের ব্যাপারে তোমরা সতর্ক হও, যেদিন কেউ কারো সামান্য উপকারেও আসবে না। মুক্তিপণের বিনিময়ে কোনো অপরাধীকে ছেড়ে দেয়া হবে না। এমনকি ওদের জন্যে কারো সুপারিশও কাজে আসবে না। বাস্তবে সেদিন ওরা কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাবে না।
وَاِذِ ابْتَلٰۤی اِبْرٰهٖمَ رَبُّهٗ بِكَلِمٰتٍ فَاَتَمَّهُنَّ ؕ قَالَ اِنِّیْ جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ اِمَامًا ؕ قَالَ وَمِنْ ذُرِّیَّتِیْ ؕ قَالَ لَا یَنَالُ عَهْدِی الظّٰلِمِیْنَ 124
124. তোমরা স্মরণ করো নবী ইবরাহিমের ইতিহাস। তার প্রভু তাকে অনেক ব্যাপারে পরীক্ষা করলেন। ইবরাহিম সব পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হলো। এরপর আল্লাহ তাকে বললেন, আমি তোমাকে জগতের সব মানুষের নেতা হিসেবে মনোনীত করছি। সে আরজ করলো, আমার বংশধরের মধ্যেও কি কালক্রমে এ নেতৃত্ব বজায় থাকবে? আল্লাহ জানালেন, হ্যাঁ, তবে আমার এ অঙ্গীকার অবাধ্য সীমালঙ্ঘনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
وَاِذْ جَعَلْنَا الْبَیْتَ مَثَابَةً لِّلنَّاسِ وَاَمْنًا ؕ وَاتَّخِذُوْا مِنْ مَّقَامِ اِبْرٰهٖمَ مُصَلًّی ؕ وَعَهِدْنَاۤ اِلٰۤی اِبْرٰهٖمَ وَاِسْمٰعِیْلَ اَنْ طَهِّرَا بَیْتِیَ لِلطَّآىِٕفِیْنَ وَالْعٰكِفِیْنَ وَالرُّكَّعِ السُّجُوْدِ 125
125. আরো স্মরণ করো, যখন আমি কাবাঘরকে বিশ্বাবসীর একক মিলনকেন্দ্র এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করলাম, তখন লোকদের নির্দেশ দিলাম, ইবরাহিম এ কাবার যে স্থানে ইবাদতের জন্যে দাঁড়ায়, তোমরা সে স্থানকে নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো। পাশাপাশি ইবরাহিম ও ইসমাইলের প্রতি জোর নির্দেশনা জারি করলাম, আমার এ ঘরকে তাদের জন্যে পাক-পবিত্র রাখো, যারা এখানে তওয়াফ করবে, ইতিকাফ করবে এবং রুকু ও সিজদা করবে।
وَاِذْ قَالَ اِبْرٰهٖمُ رَبِّ اجْعَلْ هٰذَا بَلَدًا اٰمِنًا وَّارْزُقْ اَهْلَهٗ مِنَ الثَّمَرٰتِ مَنْ اٰمَنَ مِنْهُمْ بِاللّٰهِ وَالْیَوْمِ الْاَخِرِ ؕ قَالَ وَمَنْ كَفَرَ فَاُمَتِّعُهٗ قَلِیْلًا ثُمَّ اَضْطَرُّهٗۤ اِلٰی عَذَابِ النَّارِ ؕ وَبِئْسَ الْمَصِیْرُ 126
126. স্মরণ করতে থাকো, এরপর ইবরাহিম দোয়া করলো, হে আমার প্রভু, এ শহরকে পূর্ণ শান্তি ও নিরাপত্তার শহর বানিয়ে দাও। এ শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে যারা আল্লাহ এবং পরকালীন জীবনের ব্যাপারে ঈমান রাখবে, তাদের জীবিকা হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ফলমূল সরবরাহ করো। জবাবে তার প্রভু বললেন, ঠিক আছে! তবে যে কুফরির নীতি অবলম্বন করে চলবে, তাকেও দুনিয়ার সামান্য কয়েক দিনের ভোগ সামগ্রী দেবো। এরপর একদিন ওকে জাহান্নামের কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ করবো। আহ! জাহান্নাম তো এক ভয়ানক নিকৃষ্ট আবাস।
وَاِذْ یَرْفَعُ اِبْرٰهٖمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَیْتِ وَاِسْمٰعِیْلُ ؕ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ؕ اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ 127
127. এরপর ইবরাহিম ও ইসমাইল যখন কাবাঘরের প্রাচীরের ভিত নির্মাণ করছিলো, তখন তারা উভয়ে দোয়া করলো, হে আমাদের প্রভু, আমাদের এ খেদমতটুকু কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি সব শোনো এবং সব জানো।
رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَیْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّیَّتِنَاۤ اُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ ۪ وَاَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَیْنَا ۚ اِنَّكَ اَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِیْمُ 128
128. তারা আরো দোয়া করলো, হে আমাদের মালিক, আমাদের দু’জনকেই তোমার একান্ত অনুগত গোলামে পরিণত করো। আর কালক্রমে আমাদের বংশধরদের মধ্যেও তোমার অনুগত একটি জাতি অব্যাহত রাখো। তোমার ইবাদতের নিয়ম নীতি আমাদের শিখিয়ে দাও। আমাদের দোষত্রুটি ক্ষমা করো। আসলে তুমি বড়ই ক্ষমাশীল এবং অনুগ্রহকারী।
رَبَّنَا وَابْعَثْ فِیْهِمْ رَسُوْلًا مِّنْهُمْ یَتْلُوْا عَلَیْهِمْ اٰیٰتِكَ وَیُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَیُزَكِّیْهِمْ ؕ اِنَّكَ اَنْتَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ۠ 129
129. হে আমাদের রব, সে জাতির কাছে তাদেরই কোনো একজনকে তোমার রসুল করে পাঠাও। যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াত পাঠ করবে, তোমার কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবে এবং তাদের কর্ম ও আচরণকে পরিশুদ্ধ করে তুলবে। প্রকৃতপক্ষে তুমি বড়ই প্রতিপত্তিশালী এবং প্রজ্ঞাময়।
وَمَنْ یَّرْغَبُ عَنْ مِّلَّةِ اِبْرٰهٖمَ اِلَّا مَنْ سَفِهَ نَفْسَهٗ ؕ وَلَقَدِ اصْطَفَیْنٰهُ فِی الدُّنْیَا ۚ وَاِنَّهٗ فِی الْاٰخِرَةِ لَمِنَ الصّٰلِحِیْنَ 130
130. হায়! কেবল নির্বোধ ও আহাম্মক লোকেরাই ইবরাহিমের জীবনাদর্শ থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকে। নিঃসন্দেহে আমি ইবরাহিমকে দুনিয়ায় নেতা হিসেবে মনোনীত করেছি। আর পরকালীন জীবনেতো সে সৎকর্মশীলদের মধ্যে শীর্ষে থাকবে।
اِذْ قَالَ لَهٗ رَبُّهٗۤ اَسْلِمْ ۙ قَالَ اَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَ 131
131. ইবরাহিমের অবস্থাতো এমন ছিলো, যখন তার প্রভু হুকুম করলেনÑ আত্মসমর্পণ করো। সে সাথেসাথেই বলে উঠলো, আমি মহাবিশ্বের রবের কাছে আত্মসমর্পণ করলাম।
وَوَصّٰی بِهَاۤ اِبْرٰهٖمُ بَنِیْهِ وَیَعْقُوْبُ ؕ یٰبَنِیَّ اِنَّ اللّٰهَ اصْطَفٰی لَكُمُ الدِّیْنَ فَلَا تَمُوْتُنَّ اِلَّا وَاَنْتُمْ مُّسْلِمُوْنَؕ 132
132. এভাবে ইবরাহিম তার আদর্শে সন্তানদের চলার উপদেশ দিতো। ইয়াকুবও তার সন্তানদের একই উপদেশ দিতো। তারা উভয়ে বলতো, হে আমার প্রিয় সন্তানেরা, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্যে আমার মেনে চলা জীবন ব্যবস্থাকে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং মৃত্যু পর্যন্ত তোমরা আল্লাহর পূর্ণ অনুগত হয়ে থেকো।
اَمْ كُنْتُمْ شُهَدَآءَ اِذْ حَضَرَ یَعْقُوْبَ الْمَوْتُ ۙ اِذْ قَالَ لِبَنِیْهِ مَا تَعْبُدُوْنَ مِنْۢ بَعْدِیْ ؕ قَالُوْا نَعْبُدُ اِلٰهَكَ وَاِلٰهَ اٰبَآىِٕكَ اِبْرٰهٖمَ وَاِسْمٰعِیْلَ وَاِسْحٰقَ اِلٰهًا وَّاحِدًا ۖۚ وَّنَحْنُ لَهٗ مُسْلِمُوْنَ 133
133. ওহে বনি ইসরাইল, মৃত্যু শয্যায় ইয়াকুব তার সন্তানদের থেকে কী প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলো, তোমরা কি তার সাক্ষী নও? সে তার সন্তানদের জিজ্ঞেস করলো, আমার বিদায়ের পর তোমরা র্কা ইবাদত করবে? তারা সবাই এক বাক্যে বললো, নিশ্চয়ই আমরা একক আল্লাহরই ইবাদত করব, যার ইবাদত আপনি করেছেন এবং আপনার পূর্বপুরুষ ইবরাহিম, ইসমাঈল এবং ইসহাক যাকে ইলাহ মেনে ইবাদত করতেন। আর আমরা সর্বদা আল্লাহর জন্যে পূর্ণ অনুগত রয়েছি ।
تِلْكَ اُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُمْ مَّا كَسَبْتُمْ ۚ وَلَا تُسْـَٔلُوْنَ عَمَّا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ 134
134. হ্যাঁ, একসময় এ ধরনের অনুগত একটি জনগোষ্ঠী ছিলো, বর্তমানে যাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। তারা যেসব কাজকর্ম করে গেছে, তার ফল কেবল তারা পাবে। আর এখন তোমরা যা কিছু করছো, এর ফল তোমরাই ভোগ করবে। পূর্ববর্তীদের কাজের জবাবদিহি তোমাদের করতে হবে না।
وَقَالُوْا كُوْنُوْا هُوْدًا اَوْ نَصٰرٰی تَهْتَدُوْا ؕ قُلْ بَلْ مِلَّةَ اِبْرٰهٖمَ حَنِیْفًا ؕ وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِیْنَ 135
135. ইহুদি ও খ্রিস্টান উভয়ে বলে, আমাদের ধর্ম মেনে নাও, তবেই সত্য সঠিক পথ পাবে। তুমি বলো, না! তোমাদের পথে নয়; বরং একনিষ্ঠভাবে ইবরাহিমের জীবনাদর্শেই রয়েছে সঠিক পথ। আর শুনে রেখো, ইবরাহিম কখনো মুশরিক ছিলো না।
قُوْلُوْۤا اٰمَنَّا بِاللّٰهِ وَمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْنَا وَمَاۤ اُنْزِلَ اِلٰۤی اِبْرٰهٖمَ وَاِسْمٰعِیْلَ وَاِسْحٰقَ وَیَعْقُوْبَ وَالْاَسْبَاطِ وَمَاۤ اُوْتِیَ مُوْسٰی وَعِیْسٰی وَمَاۤ اُوْتِیَ النَّبِیُّوْنَ مِنْ رَّبِّهِمْ ۚ لَا نُفَرِّقُ بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْهُمْ ۖؗ وَنَحْنُ لَهٗ مُسْلِمُوْنَ 136
136. হে মুসলমানেরা, তোমরা ওদের বলো, আমরা পূর্ণ ঈমান রাখি আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের নবীর মাধ্যমে যা কিছু পাঠানো হয়েছে তার প্রতি। আমরা আরো ঈমান রাখি সেসবের প্রতি, যা নাযিল হয়েছিলো নবী ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং কালক্রমে তার সন্তানদের প্রতি। আমরা সেসব জিনিসকেও সত্য বলে মানি, যা দেয়া হয়েছিলো মুসা, ঈসা এবং আল্লাহর অন্যান্য নবীদের। আমরা এমন নই যে, এসব নবীদের কাউকে মানি আর কাউকে মানি না। কেননা আমরা আল্লাহর জন্যেই নিজেদেরকে সঁপে দিয়েছি।
فَاِنْ اٰمَنُوْا بِمِثْلِ مَاۤ اٰمَنْتُمْ بِهٖ فَقَدِ اهْتَدَوْا ۚ وَاِنْ تَوَلَّوْا فَاِنَّمَا هُمْ فِیْ شِقَاقٍ ۚ فَسَیَكْفِیْكَهُمُ اللّٰهُ ۚ وَهُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُؕ 137
137. আর হ্যাঁ, তোমরা যেসব বিষয়ের উপর যে পদ্ধতিতে ঈমান এনেছো, ওরাও যদি সেভাবে ঈমান আনে, তবেই ওরা সত্য-সঠিক পথ লাভ করবে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বুঝে নিও, ওরা ভয়ঙ্কর গোঁড়ামী ও হঠকারিতায় মজে গেছে। হে নবী, ওদের মোকাবেলায় আল্লাহই তোমার জন্যে যথেষ্ট। বস্তুত তিনি সব শোনেন, সব জানেন।
صِبْغَةَ اللّٰهِ ۚ وَمَنْ اَحْسَنُ مِنَ اللّٰهِ صِبْغَةً ؗ وَّ نَحْنُ لَهٗ عٰبِدُوْنَ 138
138. ওদের বলো, আমরা আল্লাহর রঙে নিজেদের রাঙিয়ে নিয়েছি। আর জীবন রাঙানোর জন্যে আল্লাহর চেয়ে সুন্দর রঙ আর কার হতে পারে? আমরা কেবল তাঁরই ইবাদতকারী।
قُلْ اَتُحَآجُّوْنَنَا فِی اللّٰهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَ رَبُّكُمْ ۚ وَلَنَاۤ اَعْمَالُنَا وَلَكُمْ اَعْمَالُكُمْ ۚ وَنَحْنُ لَهٗ مُخْلِصُوْنَۙ 139
139. ইহুদি-খ্রিস্টানদের বলো, তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে আমাদের সাথে ঝগড়া করতে চাও? অথচ তোমরা জানো যে, তিনি যেমন আমাদের রব, তেমন তোমাদেরও। আমাদের কাজের ফল আমরা ভোগ করবো এবং তোমাদের কাজের ফল তোমরা পাবে। তবে শোনো! আমাদের সব ধরনের কাজ একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্যে নিবেদিত।
اَمْ تَقُوْلُوْنَ اِنَّ اِبْرٰهٖمَ وَ اِسْمٰعِیْلَ وَ اِسْحٰقَ وَیَعْقُوْبَ وَالْاَسْبَاطَ كَانُوْا هُوْدًا اَوْ نَصٰرٰی ؕ قُلْ ءَاَنْتُمْ اَعْلَمُ اَمِ اللّٰهُ ؕ وَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنْ كَتَمَ شَهَادَةً عِنْدَهٗ مِنَ اللّٰهِ ؕ وَمَا اللّٰهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ 140
140. নাকি তোমরা এমনটা দাবি করতে চাও যে, ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তার সন্তানেরা সবাই ছিলেন ইহুদি বা খ্রিস্টান? ওদের জিজ্ঞেস করো, এ ব্যাপারে তোমরা ভালো জানো, নাকি আল্লাহ ভালো জানেন? আসলে সেই সবচেয়ে বড় জালেম, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পেয়েও তা গোপন করে যায়। আর আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে মোটেও বেখবর নন।
تِلْكَ اُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُمْ مَّا كَسَبْتُمْ ۚ وَلَا تُسْـَٔلُوْنَ عَمَّا كَانُوْا یَعْمَلُوْنَ۠ 141
141. আসলে তারা এমন এক জনগোষ্ঠী, যারা অতীত হয়ে গেছে। আর তারা যা কিছু করে গেছে তার ফল তারা পাবে এবং তোমরা যা কিছু করছো তার ফল তোমরা পাবে। জেনে রেখো, পূর্ববর্তীদের কাজের জবাবদিহি তোমাদের করতে হবে না।
سَیَقُوْلُ السُّفَهَآءُ مِنَ النَّاسِ مَا وَلّٰىهُمْ عَنْ قِبْلَتِهِمُ الَّتِیْ كَانُوْا عَلَیْهَا ؕ قُلْ لِّلّٰهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ؕ یَهْدِیْ مَنْ یَّشَآءُ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ 142
142. অচিরেই নির্বোধ লোকেরা মুসলমানদের সম্পর্কে বলবে, এতদিন তারা যে কিবলা অনুসরণ করে নামাজ পড়তো, হঠাৎ কেনো তা থেকে অন্যদিকে মুখ ফিরালো? হে নবী, ওদের বলো, পূর্ব কিংবা পশ্চিম সবটাই আল্লাহর। আর একমাত্র তিনিই যাকে চান সত্যের সরল-সহজ পথ দেখান।
وَكَذٰلِكَ جَعَلْنٰكُمْ اُمَّةً وَّسَطًا لِّتَكُوْنُوْا شُهَدَآءَ عَلَی النَّاسِ وَیَكُوْنَ الرَّسُوْلُ عَلَیْكُمْ شَهِیْدًا ؕ وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِیْ كُنْتَ عَلَیْهَاۤ اِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ یَّتَّبِعُ الرَّسُوْلَ مِمَّنْ یَّنْقَلِبُ عَلٰی عَقِبَیْهِ ؕ وَاِنْ كَانَتْ لَكَبِیْرَةً اِلَّا عَلَی الَّذِیْنَ هَدَی اللّٰهُ ؕ وَمَا كَانَ اللّٰهُ لِیُضِیْعَ اِیْمَانَكُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوْفٌ رَّحِیْمٌ 143
143. আর এভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী জাতি বানিয়েছি, যাতে দুনিয়ার সকল মানুষের উপর তোমরা সাক্ষী হতে পারো এবং আমার এ রসুল তোমাদের ব্যাপারে সাক্ষী হবেন। হে নবী, এ যাবতকাল তুমি যে কিবলার দিক ফিরে নামাজ পড়তে, সেটি তো শুধু এ কারণে নির্দিষ্ট করেছিলাম, যাতে পরিষ্কার বুঝা যায়, কে আমার রসুলের অনুসরণ করে; আর কে উল্টো দিকে মুখ ফিরায়। এটা ছিলো খুবই কঠিন পরীক্ষা। তবে যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে সরল-সঠিক পথ পেয়েছিলো, তাদের জন্যে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সহজ হয়েছিলো। বস্তুত আল্লাহ কখনোই তোমাদের ঈমানের ক্ষতি করবেন না। জেনে রেখো, নিশ্চিতভাবে আল্লাহ মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীলএবং পরম দয়াময়।
قَدْ نَرٰی تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِی السَّمَآءِ ۚ فَلَنُوَلِّیَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضٰىهَا ۪ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ؕ وَحَیْثُ مَا كُنْتُمْ فَوَلُّوْا وُجُوْهَكُمْ شَطْرَهٗ ؕ وَاِنَّ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ لَیَعْلَمُوْنَ اَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَّبِّهِمْ ؕ وَمَا اللّٰهُ بِغَافِلٍ عَمَّا یَعْمَلُوْنَ 144
144. হে নবী, আকাশের দিকে তোমার বারবার তাকানোকে অবশ্যই আমি লক্ষ্য করেছি। এবার তাহলে তোমাকে সে কিবলার দিকে ফিরিয়ে দিচ্ছি, যে দিকে মুখ ফিরাতে তুমি উৎসুক ছিলে। কাজেই এখন সরাসরি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরাও। হে মুসলমানেরা, এখন থেকে তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, কাবাঘরের দিকে মুখ করে নামাজ পড়বে। আর আহলে কিতাবেরা ভালোকরেই জানে যে, কিবলা পরিবর্তনের এ বিধান তাদের প্রভুর পক্ষ থেকেই এসেছে এবং এ বিধান যথার্থ বাস্তবসম্মত। মনে রেখো, ওদের সব কাজকর্মের উপরে আল্লাহর পূর্ণ নজরদারি রয়েছে।
وَلَىِٕنْ اَتَیْتَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْكِتٰبَ بِكُلِّ اٰیَةٍ مَّا تَبِعُوْا قِبْلَتَكَ ۚ وَمَاۤ اَنْتَ بِتَابِعٍ قِبْلَتَهُمْ ۚ وَ مَا بَعْضُهُمْ بِتَابِعٍ قِبْلَةَ بَعْضٍ ؕ وَلَىِٕنِ اتَّبَعْتَ اَهْوَآءَهُمْ مِّنْۢ بَعْدِ مَا جَآءَكَ مِنَ الْعِلْمِ ۙ اِنَّكَ اِذًا لَّمِنَ الظّٰلِمِیْنَۘ 145
145. এসব ইহুদি-খ্রিস্টানদের কাছে তুমি যতোই দলিল-প্রমাণ পেশ করো না কেন, ওরা কখনোই তোমার কিবলা অনুসরণ করবে না। আর যখন ওদের একটি দল অন্য দলের কিবলা অনুসরণ করে না, তখন তোমার পক্ষেও ওদের কিবলার অনুসারী হওয়া সম্ভব নয়। হে নবী, সাবধান থেকো, আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য জ্ঞান পাবার পরেও যদি এসব ভ্রান্তদের কামনা-বাসনার অনুসরণ করো, তবে নিশ্চিতভাবে তুমি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
اَلَّذِیْنَ اٰتَیْنٰهُمُ الْكِتٰبَ یَعْرِفُوْنَهٗ كَمَا یَعْرِفُوْنَ اَبْنَآءَهُمْ ؕ وَاِنَّ فَرِیْقًا مِّنْهُمْ لَیَكْتُمُوْنَ الْحَقَّ وَهُمْ یَعْلَمُوْنَؔ 146
146. আসলে আহরে কিতাবেরা এ শেষ নবীকে এত ভালো করে চেনে, যেমনি ওরা আপন সন্তানদের চেনে। এরপরেও ওদের একটা দল জেনে-বুঝে এ সত্যকে গোপন করে চলছে।
اَلْحَقُّ مِنْ رَّبِّكَ فَلَا تَكُوْنَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِیْنَ۠ 147
147. হে নবী, নির্ভয় থাকো, এ মহাসত্য তোমার রবের পক্ষ থেকেই এসেছে। কাজেই এর ব্যাপারে কোনো সন্দেহকে প্রশ্রয় দিও না।
وَلِكُلٍّ وِّجْهَةٌ هُوَ مُوَلِّیْهَا فَاسْتَبِقُوْا الْخَیْرٰتِ ؔؕ اَیْنَ مَا تَكُوْنُوْا یَاْتِ بِكُمُ اللّٰهُ جَمِیْعًا ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ 148
148. আসলে প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব কিবলা, যে দিকে মুখ করে তারা ইবাদত করে। কাজেই কল্যাণকর সব বিষয়ে তোমরা প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যাও। মনে রেখো, তোমরা যেখানেই থাকো না কেন আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের সবাইকে কেয়ামতের দিনে হাজির করবেন। নিশ্চয়ই তাঁর ক্ষমতার বাইরে কিছুই নেই।
وَمِنْ حَیْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ؕ وَاِنَّهٗ لَلْحَقُّ مِنْ رَّبِّكَ ؕ وَ مَا اللّٰهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ 149
149. যেখান থেকেই তুমি নামাজের জন্যে বের হও না কেন, অবশ্যই তোমার মুখ মসজিদুল হারামের দিকে ফিরিয়ে নাও। কারণ এ যথার্থ-সঠিক নির্দেশ এসেছে তোমার প্রভুর কাছ থেকে। বস্তুত আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে বেখবর নন।
وَمِنْ حَیْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ؕ وَحَیْثُ مَا كُنْتُمْ فَوَلُّوْا وُجُوْهَكُمْ شَطْرَهٗ ۙ لِئَلَّا یَكُوْنَ لِلنَّاسِ عَلَیْكُمْ حُجَّةٌ ۙۗ اِلَّا الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا مِنْهُمْ ۗ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِیْ ۗ ولِاُتِمَّ نِعْمَتِیْ عَلَیْكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَۙۛ 150
150. আর যেখান থেকেই তুমি যাত্রা করো না কেন, নামাজের সময় তোমার মুখ মসজিদুল হারামের দিকে ফিরাও। এমনকি, যেখানেই তোমার অবস্থান হোক না কেন, নামাজের জন্যে মসজিদুল হারামের দিকেই মুখ ফিরাও। এমনটা করার ফলে বিরোধী লোকেরা তোমাদের বিপক্ষে কোনো অভিযোগ দাঁড় করাতে পারবে না। অবশ্য জালেমদের কথা ভিন্ন। সুতরাং এসব জালেমদের পরোয়া করোনা; বরং শুধু আমাকেই ভয় করো চলো। ফলে তোমাদের উপর আমার নেয়ামত পূর্ণ করে দেবো। আশা করা যায়, এভাবে তোমরা সত্য-সঠিক পথের সন্ধান পাবে।
كَمَاۤ اَرْسَلْنَا فِیْكُمْ رَسُوْلًا مِّنْكُمْ یَتْلُوْا عَلَیْكُمْ اٰیٰتِنَا وَیُزَكِّیْكُمْ وَیُعَلِّمُكُمُ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَیُعَلِّمُكُمْ مَّا لَمْ تَكُوْنُوْا تَعْلَمُوْنَؕۛ 151
151. আমার একান্ত অনুগ্রহ হিসেবে তোমাদের কাছে স্বয়ং তোমাদেরই একজনকে রসুল বানিয়ে পাঠালাম। সে তোমাদের কাছে আমার আয়াত পড়ে শুনায়। তোমাদের জীবনমান পরিশুদ্ধ করে। তোমাদের কিতাব ও হিকমত শিখায়। এমনকি, তোমাদের আরো অনেক অনেক জিনিস শিখায়, যা তোমরা আগে জানতে না।
فَاذْكُرُوْنِیْۤ اَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوْا لِیْ وَ لَا تَكْفُرُوْنِ۠ 152
152. অতএব তোমরা একমাত্র আমাকেই স্মরণ করে চলো, তাহলে আমিও তোমাদেরকে স্মরণে রাখবো। আমার প্রতি কৃতজ্ঞ থেকো; কখনো অকৃতজ্ঞ হয়ো না।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اسْتَعِیْنُوْا بِالصَّبْرِ وَ الصَّلٰوةِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ مَعَ الصّٰبِرِیْنَ 153
153. হে ঈমানদারেরা, সর্বদা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও। নিশ্চিতভাবে জেনে রেখো, ধৈর্যশীলদের সাথে আল্লাহ আছেন।
وَلَا تَقُوْلُوْا لِمَنْ یُّقْتَلُ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ اَمْوَاتٌ ؕ بَلْ اَحْیَآءٌ وَّلٰكِنْ لَّا تَشْعُرُوْنَ 154
154. আর হে ঈমানদারেরা, তোমাদের যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদেরকে মৃত বলো না। আসলে ঐ সব লোকেরা জীবিতই রয়েছে; যদিও তাদের এ জীবন সম্পর্কে তোমাদের ধারণা নেই।
وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَیْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوْعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْاَمْوَالِ وَالْاَنْفُسِ وَالثَّمَرٰتِ ؕ وَبَشِّرِ الصّٰبِرِیْنَۙ 155
155. জেনে রেখো, আমি অবশ্যই অনেকভাবে তোমাদের ঈমানের পরীক্ষা নেবো। কখনো নানা ভয়-ভীতি দিয়ে, কখনো ক্ষুধা-অনাহার দিয়ে, কখনোবা তোমাদের সহায়-সম্পত্তির, এমনকি জীবনের কিছু ক্ষতি সাধন করেও, আবার কখনো তোমাদের ফল-ফসলের বিনষ্ট করে। তবে হ্যাঁ, যারা এ পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত ধৈর্যের সাথে টিকে থাকবে, তাদের জন্য সুসংবাদ।
الَّذِیْنَ اِذَاۤ اَصَابَتْهُمْ مُّصِیْبَةٌ ۙ قَالُوْۤا اِنَّا لِلّٰهِ وَاِنَّاۤ اِلَیْهِ رٰجِعُوْنَؕ 156
156. এ ধরনের পরীক্ষার মুখোমুখি হলে ধৈর্যশীল লোকেরা বলে ওঠে, আমরা তো কেবল আল্লাহর জন্যেই এবং নিশ্চিতভাবে তাঁর কাছেই ফিরে যাবো।
اُولٰٓىِٕكَ عَلَیْهِمْ صَلَوٰتٌ مِّنْ رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ ۫ وَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُهْتَدُوْنَ 157
157. তারা আপন প্রভুর ক্ষমা ও বিশেষ অনুগ্রহ লাভ করবে। লাভ করবে তাঁর দয়া ও করুণা। প্রকৃতপক্ষে তারাই সত্য-সঠিক পথের অভিযাত্রী।
اِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَآىِٕرِ اللّٰهِ ۚ فَمَنْ حَجَّ الْبَیْتَ اَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَیْهِ اَنْ یَّطَّوَّفَ بِهِمَا ؕ وَمَنْ تَطَوَّعَ خَیْرًا ۙ فَاِنَّ اللّٰهَ شَاكِرٌ عَلِیْمٌ 158
158. নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর ঘরে হজ পালন করে কিংবা ওমরাহ আদায় করে, তার জন্যে এ দুই পাহাড়ের মাঝে ‘সাঈ’ করায় কোনো পাপ নেই। আর যে ব্যক্তি নিজ ইচ্ছা ও আগ্রহের সাথে কোনো ভালো কাজ করে, আল্লাহ নিশ্চয়ই তার প্রতিদান দেন। কেননা তিনি সব বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন।
اِنَّ الَّذِیْنَ یَكْتُمُوْنَ مَاۤ اَنْزَلْنَا مِنَ الْبَیِّنٰتِ وَالْهُدٰی مِنْۢ بَعْدِ مَا بَیَّنّٰهُ لِلنَّاسِ فِی الْكِتٰبِ ۙ اُولٰٓىِٕكَ یَلْعَنُهُمُ اللّٰهُ وَیَلْعَنُهُمُ اللّٰعِنُوْنَۙ 159
159. আমার অবতীর্ণ করা কিতাবসমূহে উল্লিখিত সত্যের সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ ও নির্ভুল পথনির্দেশ, যা আমি মানুষের জন্যে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করেছি তা যারা গোপন করে, ওরা জেনে রাখুক, এমন পাপিষ্ঠদের উপর আল্লাহ নিজে অভিশাপ দেন এবং জগতের অন্যান্য সব অভিশাপকারীরাও অভিশাপ দেয়।
اِلَّا الَّذِیْنَ تَابُوْا وَاَصْلَحُوْا وَبَیَّنُوْا فَاُولٰٓىِٕكَ اَتُوْبُ عَلَیْهِمْ ۚ وَاَنَا التَّوَّابُ الرَّحِیْمُ 160
160. তবে ওদের মধ্যে যারা এসব কাজ থেকে অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসবে, নিজেদের কর্মপন্থা সংশোধন করে নেবে এবং এতদিন যা কিছু গোপন করে রেখেছিলো, সেসব মানুষের সামনে প্রকাশ করবে, তারা আমার ক্ষমা লাভ করবে। আসলে আমি বড়ই ক্ষমাশীল এবং অসীম দয়াময়।
اِنَّ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا وَمَاتُوْا وَهُمْ كُفَّارٌ اُولٰٓىِٕكَ عَلَیْهِمْ لَعْنَةُ اللّٰهِ وَالْمَلٰٓىِٕكَةِ وَالنَّاسِ اَجْمَعِیْنَۙ 161
161. আর যারা সত্যকে গোপন করে চলে এবং এ ধরনের কুফরি কাজ করতে করতেই মৃত্যুবরণ করে, নিশ্চিতভাবে ওদের উপর আল্লাহর অভিশাপ রয়েছে। এমনকি, ফেরেশতাকুল ও মানবজাতির অভিশাপও ওদের উপর।
خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ۚ لَا یُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلَا هُمْ یُنْظَرُوْنَ 162
162. ফলে এসব পাপীরা জাহান্নামের স্থায়ী আযাব ভোগ করবে। ওদের শাস্তি না কমানো হবে, আর না এক মুহূর্তের জন্যে বিরতি দেয়া হবে।
وَاِلٰهُكُمْ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ ۚ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِیْمُ۠ 163
163. জেনে রেখো, তোমাদের ইলাহ একক ও অদ্বিতীয়। বস্তুত দয়াবান ও করুণাময় আল্লাহ ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই।
اِنَّ فِیْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَاخْتِلَافِ الَّیْلِ وَ النَّهَارِ وَ الْفُلْكِ الَّتِیْ تَجْرِیْ فِی الْبَحْرِ بِمَا یَنْفَعُ النَّاسَ وَ مَاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ مِنَ السَّمَآءِ مِنْ مَّآءٍ فَاَحْیَا بِهِ الْاَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِیْهَا مِنْ كُلِّ دَآبَّةٍ ۪ وَّتَصْرِیْفِ الرِّیٰحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخَّرِ بَیْنَ السَّمَآءِ وَالْاَرْضِ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یَّعْقِلُوْنَ 164
164. নিশ্চিতভাবে জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন লোকদের জন্যে অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি রহস্যের মধ্যে, রাত ও দিনের ক্রমাগত আবর্তনের মধ্যে, মানুষের প্রয়োজনীয় ও উপকারী দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে সাগরের বুকে ভেসে চলা নৌযানের মধ্যে। নিদর্শন রয়েছে সেই বৃষ্টির মধ্যে, যা আল্লাহ মৃত ভূমিকে সজীব ও জীবন্ত করতে আকাশ থেকে নাযিল করেন। জমিনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নানা প্রজাতির প্রাণিক‚লের মধ্যেও নিদর্শন রয়েছে। এমনকি, মৌসুমি বায়ু প্রবাহে এবং আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে মেঘমালার সুনিয়ন্ত্রিত ভ্রমণচক্রের মধ্যেও রয়েছে উজ্জ্বল নিদর্শন।
وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یَّتَّخِذُ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ اَنْدَادًا یُّحِبُّوْنَهُمْ كَحُبِّ اللّٰهِ ؕ وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَشَدُّ حُبًّا لِّلّٰهِ ؕ وَلَوْ یَرَی الَّذِیْنَ ظَلَمُوْۤا اِذْ یَرَوْنَ الْعَذَابَ ۙ اَنَّ الْقُوَّةَ لِلّٰهِ جَمِیْعًا ۙ وَّ اَنَّ اللّٰهَ شَدِیْدُ الْعَذَابِ 165
165. এতসব সুস্পষ্ট নিদর্শন দেখার পরেও কিছু লোক আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে তাঁর সমকক্ষ ও প্রতিপক্ষ হিসেবে মেনে নেয়। ওরা ওদেরকে এমনভাবে ভালোবাসে, যেমন কেবল আল্লাহকে ভালোবাসা উচিত। অন্যদিকে ঈামানদার লোকেরা নিষ্ঠার সাথে কেবল আল্লাহকেই ভালোবাসে। হায়! কেয়ামতের দিন এসব জালেমেরা যে ভয়ঙ্কর শাস্তি দেখবে, তার খানিকটা যদি ওরা বেঁচে থাকতেই অনুধাবন করতো, তবে বুঝতে পারতো, সমস্ত শক্তি ও ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর অধীন। আর আল্লাহ শাস্তি প্রদানে খুবই ভয়ানক হয়ে থাকেন।
اِذْ تَبَرَّاَ الَّذِیْنَ اتُّبِعُوْا مِنَ الَّذِیْنَ اتَّبَعُوْا وَرَاَوُا الْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الْاَسْبَابُ 166
166. দুনিয়ার জীবনে অনুসারী কর্মীবৃন্দ যেসব ভ্রান্ত নেতাদের অনুসরণ করে চলে; মহাবিচারের দিন ঐসব নেতারা তাদের এসব অনুসারীদের দায়ভার নিতে অস্বীকার করবে। ওরা যখন নিজেদের সামনে আল্লাহর আযাব দেখবে, তখন ওদের মধ্যকার সব ধরনের সম্পর্কই ছিন্ন হয়ে যাবে।
وَقَالَ الَّذِیْنَ اتَّبَعُوْا لَوْ اَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَتَبَرَّاَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّءُوْا مِنَّا ؕ كَذٰلِكَ یُرِیْهِمُ اللّٰهُ اَعْمَالَهُمْ حَسَرٰتٍ عَلَیْهِمْ ؕ وَمَا هُمْ بِخٰرِجِیْنَ مِنَ النَّارِ۠ 167
167. এসব অনুসারী কর্মীরা সেদিন আফসোস করে বলবে, হায়! যদি আমাদেরকে আরেকবার দুনিয়ার জীবনের সুযোগ দেয়া হতো, তবে আজ এসব নেতারা যেভাবে আমাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলো, ঠিক সেভাবে আমরাও ওদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেখে নিতাম। এভাবেই ওরা দুনিয়ায় যেসব কাজকর্ম করে এসেছে, আল্লাহ সেগুলো এমনভাবে সেদিন দেখাবেন, যাতে ওরা কেবল দুঃখ ও আক্ষেপ করতে থাকবে। কিন্তু জাহান্নামের আগুন থেকে বের হবার কোনো পথই খুঁজে পাবে না।
یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ كُلُوْا مِمَّا فِی الْاَرْضِ حَلٰلًا طَیِّبًا ۖؗ وَّلَا تَتَّبِعُوْا خُطُوٰتِ الشَّیْطٰنِ ؕ اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِیْنٌ 168
168. হে মানুষেরা, পৃথিবীতে যেসব হালাল ও ভালো-স্বাস্থ্যকর খাবার রয়েছে, তা থেকে তোমরা খাও। এ ব্যাপারে শয়তানের দেখানো পথে চলো না। কেননা শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।
اِنَّمَا یَاْمُرُكُمْ بِالسُّوْٓءِ وَ الْفَحْشَآءِ وَاَنْ تَقُوْلُوْا عَلَی اللّٰهِ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ 169
169. শয়তান সব সময় তোমাদের খারাপ ও অশালীন কাজে প্রলুব্ধ করে। আর সে আল্লাহর নামে এমন সব কথা বলতে বলে, যেগুলো আল্লাহ বলেছেন বলে তোমাদের জানা নেই।
وَاِذَا قِیْلَ لَهُمُ اتَّبِعُوْا مَاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ قَالُوْا بَلْ نَتَّبِعُ مَاۤ اَلْفَیْنَا عَلَیْهِ اٰبَآءَنَا ؕ اَوَ لَوْ كَانَ اٰبَآؤُهُمْ لَا یَعْقِلُوْنَ شَیْـًٔا وَّلَا یَهْتَدُوْنَ 170
170. যখন সত্য অস্বীকারকারীদের বলা হয়, আল্লাহ যেসব বিধি-বিধান নাযিল করেছেন একমাত্র তা-ই মেনে চলো, তখন ওরা জবাব দেয়, না! বরং আমাদের বাপ-দাদাদের দেখানো পথেই চলবো। এ কেমন কথা! যদি ওদের বাপ-দাদারা বিবেক-বুদ্ধি না খাটিয়ে থাকে কিংবা সত্য-সঠিক পথের নির্দেশনা না পেয়ে থাকে, তবুও কি ওরা সে পথের অনুসরণ করে যাবে?
وَمَثَلُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا كَمَثَلِ الَّذِیْ یَنْعِقُ بِمَا لَا یَسْمَعُ اِلَّا دُعَآءً وَّنِدَآءً ؕ صُمٌّۢ بُكْمٌ عُمْیٌ فَهُمْ لَا یَعْقِلُوْنَ 171
171. শোনো, মানুষের মধ্যে যারা কুফরির পথে চলে, ওদের অবস্থা ঠিক ঐ পশুপালের মতো, যার রাখাল ক্রমাগত ওদের নানাভাবে ডাকে; কিন্তু ওরা কেবল হাঁকডাক ও চেঁচামেচিই শুনতে পায়। আসলে এসব কাফেরেরা সত্যের ব্যাপারে বধির, বোবা ও অন্ধ হয়ে আছে। ফলে ওদের বিবেক-বুদ্ধি কোনো কাজে আসছে না।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا كُلُوْا مِنْ طَیِّبٰتِ مَا رَزَقْنٰكُمْ وَاشْكُرُوْا لِلّٰهِ اِنْ كُنْتُمْ اِیَّاهُ تَعْبُدُوْنَ 172
172. হে ঈমানদারেরা, আমি তোমাদের জীবিকা হিসাবে যে হালাল ও ভালো-স্বাস্থকর জিনিস দিয়েছি, কেবল তা থেকে খাও এবং এসবের বিনিময়ে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। যদি তোমরা সত্যিকারার্থে কেবল আল্লাহর ইবাদত করে থাকো, তবে এ বিধান মেনে চলো।
اِنَّمَا حَرَّمَ عَلَیْكُمُ الْمَیْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِیْرِ وَمَاۤ اُهِلَّ بِهٖ لِغَیْرِ اللّٰهِ ۚ فَمَنِ اضْطُرَّ غَیْرَ بَاغٍ وَّلَا عَادٍ فَلَاۤ اِثْمَ عَلَیْهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 173
173. জেনে রেখো, আল্লাহ কেবল তোমাদের জন্য হারাম করেছেন মৃত পশুপাখির মাংস, কোনো প্রাণীর রক্ত এবং শূকরের মাংস। আরো হারাম করেছেন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা পশুপাখির মাংস খেতে। তবে তোমাদের কেউ যদি আল্লাহর এ বিধানের বিরুদ্ধাচরণ না করে, কেবল ব্যক্তিগত অক্ষমতার কারণে এসব হারাম জিনিস থেকে নিজের প্রয়োজন পূরণ করে, তবে তাতে তার দোষ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি বড় ক্ষমাশীল এবং অতি দয়ালু।
اِنَّ الَّذِیْنَ یَكْتُمُوْنَ مَاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ مِنَ الْكِتٰبِ وَیَشْتَرُوْنَ بِهٖ ثَمَنًا قَلِیْلًا ۙ اُولٰٓىِٕكَ مَا یَاْكُلُوْنَ فِیْ بُطُوْنِهِمْ اِلَّا النَّارَ وَلَا یُكَلِّمُهُمُ اللّٰهُ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ وَلَا یُزَكِّیْهِمْ ۖۚ وَلَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ 174
174. শোনো, যারা দুনিয়ার সামান্য ভোগ সামগ্রী পাওয়ার জন্য আল্লাহর নাযিল করা বিধি-বিধান মানুষের কাছে গোপন করে চলে, আসলে ওরা নিজেদের পেটে আগুন ঢুকাচ্ছে। কেয়ামতের দিন আল্লাহ এসব পাপীদের সাথে কোনো কথা বলবেন না, ওদের পবিত্রতার ঘোষণাও দিবেন না। কাজেই ওদের জন্যে কেবল ভয়ানক শাস্তিই অপেক্ষা করছে।
اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ اشْتَرَوُا الضَّلٰلَةَ بِالْهُدٰی وَالْعَذَابَ بِالْمَغْفِرَةِ ۚ فَمَاۤ اَصْبَرَهُمْ عَلَی النَّارِ 175
175. ওরা সত্য-সঠিক পথের বিনিময়ে ভ্রান্ত পথ কিনে নিয়েছে। এ কেনা-বেচার মাধ্যমে ওরা মূলত আল্লাহর ক্ষমার বদলে শাস্তিকেই গ্রহণ করলো। কী অদ্ভুত ব্যাপার! ওদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, ওরা জাহান্নামের ভয়ঙ্কর শাস্তির ব্যাপারে খুবই উৎসুক।
ذٰلِكَ بِاَنَّ اللّٰهَ نَزَّلَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ ؕ وَاِنَّ الَّذِیْنَ اخْتَلَفُوْا فِی الْكِتٰبِ لَفِیْ شِقَاقٍۭ بَعِیْدٍ۠ 176
176. ওদের এ ধ্বংসের মূল কারণ তো এই যে, আল্লাহ সত্য ও সঠিক বিধি-বিধান দিয়ে যে কিতাব নাযিল করেছিলেন, ওরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যে সে কিতাবের বিভিন্ন নিজস্ব ব্যাখ্যা তৈরি করে নিয়েছে। আফসোস! এসব মতবিরোধের ক্ষেত্রে ওরা সত্য সঠিকের তোয়াক্কাও করেনি।
لَیْسَ الْبِرَّ اَنْ تُوَلُّوْا وُجُوْهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَ لٰكِنَّ الْبِرَّ مَنْ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَالْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَالْمَلٰٓىِٕكَةِ وَالْكِتٰبِ وَ النَّبِیّٖنَ ۚ وَاٰتَی الْمَالَ عَلٰی حُبِّهٖ ذَوِی الْقُرْبٰی وَالْیَتٰمٰی وَالْمَسٰكِیْنَ وَابْنَ السَّبِیْلِ ۙ وَالسَّآىِٕلِیْنَ وَفِی الرِّقَابِ ۚ وَاَقَامَ الصَّلٰوةَ وَاٰتَی الزَّكٰوةَ ۚ وَالْمُوْفُوْنَ بِعَهْدِهِمْ اِذَا عٰهَدُوْا ۚ وَالصّٰبِرِیْنَ فِی الْبَاْسَآءِ وَالضَّرَّآءِ وَحِیْنَ الْبَاْسِ ؕ اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ صَدَقُوْا ؕ وَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْمُتَّقُوْنَ 177
177. মনে রেখো, কেবল পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে মুখ ফিরালেই পুণ্য লাভ করা যায় না। আসলে তখনই তোমাদের কেউ পুণ্য লাভ করবে যখন (এক) সে সত্যিকার ঈমান আনবে এক আল্লাহর প্রতি, (দুই) মৃত্যু পরবর্তী জীবনের প্রতি এবং (তিন) ফেরেশতাদের প্রতি। (চার) সত্যবলে মেনে নেবে আল্লাহর নাযিল করা কিতাবকে এবং (পাঁচ) তাঁর মনোনীত নবীদেরকে। পাশাপশি আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় নিজের ধন-সম্পদ খরচ করবে (এক) আপন আত্মীয়-স্বজনের জন্যে, (দুই) এতিমদের সহযোগিতায় (তিন) দরিদ্র-অসহায়দের কল্যাণে, (চার) মুসাফিরদের সাহায্য সহযোগিতায়, (পাঁচ) সাহায্যপ্রার্থীদের দাবি পূরণে এবং (ছয়) মানুষদের বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেয়ার জন্যে। এসবের সাথেসাথে (এক) নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে, (দুই) ন্যায়পন্থায় যাকাত আদায় করবে। (তিন) কারো সাথে কোনো বিষয়ে চুক্তি করলে তা ঠিকঠাকভাবে রক্ষা করবে। আর ধৈর্য ধারণ করবে (এক) অর্থনৈতিক অভাব-অনটনে, (দুই) নানা ধরনের রোগে-শোকে এবং (তিন) সত্য-ন্যায়ের পথের লড়াই-সংগ্রামে। নিঃসন্দেহে এ ধরনের লোকেরাই পূণ্য পাওয়ার দাবিতে সত্যবাদী ও এরাই সত্যিকারের মুত্তাকী বান্দা।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَیْكُمُ الْقِصَاصُ فِی الْقَتْلٰی ؕ اَلْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالْاُنْثٰی بِالْاُنْثٰی ؕ فَمَنْ عُفِیَ لَهٗ مِنْ اَخِیْهِ شَیْءٌ فَاتِّبَاعٌۢ بِالْمَعْرُوْفِ وَاَدَآءٌ اِلَیْهِ بِاِحْسَانٍ ؕ ذٰلِكَ تَخْفِیْفٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَرَحْمَةٌ ؕ فَمَنِ اعْتَدٰی بَعْدَ ذٰلِكَ فَلَهٗ عَذَابٌ اَلِیْمٌ 178
178. হে ঈমানদারেরা, তোমাদের জন্যে হত্যা মামলায় কিসাসের লিখিত বিধান দেয়া হচ্ছে। হত্যাকারী স্বাধীন ব্যক্তি হলে তার বদলে ঐ স্বাধীন ব্যক্তিকেই হত্যা করবে। হত্যাকারী দাস হলে ঐ দাসকেই হত্যা করবে কিংবা হত্যাকারী কোনো মহিলা হলে ঐ মহিলাকেই হত্যা করবে। তবে নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীরা যদি হত্যাকারীর শাস্তি কিছুটা ক্ষমা করে কমিয়ে দেয়, তবে প্রচলিত ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতি অনুযায়ী রক্তপণ আদায়ের ব্যবস্থা করবে। সততার সাথে এ রক্তপণ আদায় করা হত্যাকারীর জন্যে আবশ্যক। এ ব্যবস্থাপনা তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের শাস্তিকে কমিয়ে দেয়ার জন্যে এবং এটি তোমাদের প্রভুর বড়ই দয়ার প্রমাণ। এরপরেও যে ব্যক্তি এসব ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করবে, তার জন্যে কঠিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি অপেক্ষা করছে।
وَلَكُمْ فِی الْقِصَاصِ حَیٰوةٌ یّٰۤاُولِی الْاَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ 179
179. হে বিবেক বুদ্ধিওয়ালারা, তোমাদের জন্যে কিসাসের বিধানের মধ্যে জীবনের নিরাপত্তা রয়েছে। আশা করা যায়, এ বিধান পালনে তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে।
كُتِبَ عَلَیْكُمْ اِذَا حَضَرَ اَحَدَكُمُ الْمَوْتُ اِنْ تَرَكَ خَیْرَا ۖۚ ِ۟الْوَصِیَّةُ لِلْوَالِدَیْنِ وَالْاَقْرَبِیْنَ بِالْمَعْرُوْفِ ۚ حَقًّا عَلَی الْمُتَّقِیْنَؕ 180
180. তোমাদের আরো বিধান দেয়া হচ্ছে, তোমাদের কোনো সম্পদশালী ব্যক্তির যখন মৃত্যু মুহূর্ত আসে, তখন সে যেনো তার পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি প্রচলিত ন্যায়পন্থায় বণ্টন করার জন্যে অসিয়ত করে যায়। এ বিধানানুযায়ী কাজ করা সতর্ক ব্যক্তিদের জন্যে একটি গুরুদায়িত্ব।
فَمَنْۢ بَدَّلَهٗ بَعْدَ مَا سَمِعَهٗ فَاِنَّمَاۤ اِثْمُهٗ عَلَی الَّذِیْنَ یُبَدِّلُوْنَهٗ ؕ اِنَّ اللّٰهَ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌؕ 181
181. অসিয়তকারীর কাছ থেকে অসিয়তের বর্ণনা শোনার পর, কেউ যদি নিজেদের স্বার্থে তার মধ্যে কম-বেশি করে, তবে এর সব পাপের ভার ঐসব পরিবর্তনকারীরাই বহন করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সবকথা শোনেন, সবকিছু জানেন।
فَمَنْ خَافَ مِنْ مُّوْصٍ جَنَفًا اَوْ اِثْمًا فَاَصْلَحَ بَیْنَهُمْ فَلَاۤ اِثْمَ عَلَیْهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ۠ 182
182. তবে হ্যাঁ, কেউ যদি দেখে যে অসিয়তকারী তার অসিয়তে কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে অথবা কোনো ব্যক্তিকে নির্ধারিত প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করছে, তাহলে সে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে এ বিষয়েটিকে ন্যায়পন্থায় মীমাংসা করে দেবে। এ কাজে তার কোনো দোষ নেই। বস্তুত আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَیْكُمُ الصِّیَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَۙ 183
183. হে ঈমানদারেরা, তোমাদের জন্যে রোযার বিধান লিখে দেয়া হয়েছে। এ রকম বিধান তোমাদের পূর্ববর্তী ঈমানদারদেরও দেয়া হয়েছিলো। আশা করা যায়, এ ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে।
اَیَّامًا مَّعْدُوْدٰتٍ ؕ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَّرِیْضًا اَوْ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ اَیَّامٍ اُخَرَ ؕ وَعَلَی الَّذِیْنَ یُطِیْقُوْنَهٗ فِدْیَةٌ طَعَامُ مِسْكِیْنٍ ؕ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَیْرًا فَهُوَ خَیْرٌ لَّهٗ ؕ وَاَنْ تَصُوْمُوْا خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ 184
184. তোমরা এ রোযা পালন করবে নির্দিষ্ট কিছু দিনে। তবে হ্যাঁ, এসব নির্দিষ্ট দিনগুলোতে তোমাদের কেউ যদি শারীরিক অসুস্থ হয় কিংবা সফরে থাকার কারণে রোযা রাখতে না চায়, তবে অন্য দিনগুলোতে সেই সমপরিমাণ সংখ্যা আদায় করে নেবে। আর তোমাদের যারা সামর্থ থাকা সত্ত্বেও কষ্টের কারণে রোযা রাখতে চায় না, তারা যেনো ফিদইয়া আদায় করে। একটি রোযার ফিদইয়া হলো একজন দরিদ্রকে খাওয়ানো। জেনে রেখো, কেউ যদি স্বেচ্ছায় ও সানন্দে কল্যাণকর কাজে এগিয়ে আসে, তবে তা তার জন্য কল্যাণকর। যদি তোমরা জ্ঞানী হয়ে থাকো তবে বুঝবে, কষ্ট সত্ত্বেও রোযা রাখাই তোমাদের জন্যে বেশি লাভজনক।
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِیْۤ اُنْزِلَ فِیْهِ الْقُرْاٰنُ هُدًی لِّلنَّاسِ وَبَیِّنٰتٍ مِّنَ الْهُدٰی وَالْفُرْقَانِ ۚ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْیَصُمْهُ ؕ وَمَنْ كَانَ مَرِیْضًا اَوْ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ اَیَّامٍ اُخَرَ ؕ یُرِیْدُ اللّٰهُ بِكُمُ الْیُسْرَ وَلَا یُرِیْدُ بِكُمُ الْعُسْرَ ؗ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللّٰهَ عَلٰی مَا هَدٰىكُمْ وَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ 185
185. রমযান মাস, এ মাসেই কুরআন নাযিল হয়েছে। এ কুরআন মানব জাতির জন্যে সুস্পষ্ট পথনির্দেশ বহন করে। এতে মানুষের জীবন পরিচালনার সকল বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং সত্য-মিথ্যার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য করে দেখানো হয়েছে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে এ রমযান মাসের সাক্ষাত পাবে, সে যেনো এই সম্পূর্ণ মাসই রোযা পালন করে। তবে হ্যাঁ, কেউ শারীরিক অসুস্থ হলে অথবা সফরে থাকলে, তবে সে চাইলে অন্যদিনগুলোতে সেই সমপরিমাণ রোযা পালন করে নেবে। আসলে আল্লাহ তোমাদের সাথে কঠোর নীতির পরিবর্তে সহজনীতি গ্রহণ করতে চান। এ নীতির ফলেই তোমরা অন্যদিনগুলোতে রোযা রাখার সুযোগ পাচ্ছো। কাজেই আল্লাহর বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো। কেননা তিনিই তোমাদের সঠিক পথ দেখিয়েছেন। আশা করা যায়, এসব নেয়ামতের বিনিময়ে তোমরা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।
وَاِذَا سَاَلَكَ عِبَادِیْ عَنِّیْ فَاِنِّیْ قَرِیْبٌ ؕ اُجِیْبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ اِذَا دَعَانِ ۙ فَلْیَسْتَجِیْبُوْا لِیْ وَلْیُؤْمِنُوْا بِیْ لَعَلَّهُمْ یَرْشُدُوْنَ 186
186. হে নবী, আমার বান্দাদের কেউ তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জানতে চাইলে বলে দাও, নিঃসন্দেহে আমি আমার বান্দার খুব কাছেই আছি। যখনই সে আমায় ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দেই। সুতরাং আমার বান্দারও উচিত আমার ডাকে সাড়া দেয়া এবং আমার প্রতি পূর্ণ ঈমান রাখা। বস্তুত আমার ডাকে সাড়া দিলেই তারা সত্য-সঠিক পথে চলতে পারবে।
اُحِلَّ لَكُمْ لَیْلَةَ الصِّیَامِ الرَّفَثُ اِلٰی نِسَآىِٕكُمْ ؕ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَاَنْتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ ؕ عَلِمَ اللّٰهُ اَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُوْنَ اَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَیْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ ۚ فَالْـٰٔنَ بَاشِرُوْهُنَّ وَابْتَغُوْا مَا كَتَبَ اللّٰهُ لَكُمْ ۪ وَ كُلُوْا وَاشْرَبُوْا حَتّٰی یَتَبَیَّنَ لَكُمُ الْخَیْطُ الْاَبْیَضُ مِنَ الْخَیْطِ الْاَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ۪ ثُمَّ اَتِمُّوا الصِّیَامَ اِلَی الَّیْلِ ۚ وَلَا تُبَاشِرُوْهُنَّ وَاَنْتُمْ عٰكِفُوْنَ ۙ فِی الْمَسٰجِدِ ؕ تِلْكَ حُدُوْدُ اللّٰهِ فَلَا تَقْرَبُوْهَا ؕ كَذٰلِكَ یُبَیِّنُ اللّٰهُ اٰیٰتِهٖ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ یَتَّقُوْنَ 187
187. হে ঈমানদারেরা, রোযার রাতগুলোতে তোমরা স্ত্রীদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে পারো। এটাকে তোমাদের জন্যে হালাল করা হলো। বাস্তবে তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের পোশাক এবং তোমরাও তাদের পোশাক। আর আল্লাহ জেনে গেছেন, তোমাদের অনেকেই এ ব্যাপারে নিজেদের সাথে খেয়ানত করেছিলে। অবশ্য এ ব্যাপারে আল্লাহ তোমাদের তওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদের ক্ষমাও করেছেন। সুতরাং এখন তোমরা চাইলে রোযার রাতগুলোতে আপন স্ত্রীদের সাথে মিলিত হতে পারো। আর এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্যে যেসব সন্তান-সন্তুতি নির্ধারণ করে রেখেছেন তা খুঁজে নাও। রোযার রাতে তোমরা খাও এবং পান করতে থাকো, যতক্ষণ রাতের কালো রেখা শেষ হয়ে সকালের সাদা রেখা পরিষ্কারভাবে দেখা না যায়। এরপর পরবর্তী রাত আসা পর্যন্ত তোমাদের রোযাকে পূর্ণ করো। আর মসজিদে ইতিকাফ করা অবস্থায় তোমরা আপন স্ত্রীদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করবে না। মনে রেখো, এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। তোমরা কখনো এ সীমারেখা অতিক্রম করার ধারে-কাছেও যেয়ো না। এভাবেই আল্লাহ তার নির্দেশনাগুলো মানুষের জন্যে খুলে-খুলে বর্ণনা করেন, যাতে এ লোকেরা সতর্ক হয়।
وَلَا تَاْكُلُوْۤا اَمْوَالَكُمْ بَیْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوْا بِهَاۤ اِلَی الْحُكَّامِ لِتَاْكُلُوْا فَرِیْقًا مِّنْ اَمْوَالِ النَّاسِ بِالْاِثْمِ وَاَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ۠ 188
188. হে ঈমানদারেরা, তোমরা কখনোই অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ দখল করে খেয়ো না। আর প্রকৃত সত্য জানার পরেও সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে অন্যের সম্পদ ভোগ দখল করার জন্যে আদালতের দ্বারস্থও হয়ো না।
یَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ الْاَهِلَّةِ ؕ قُلْ هِیَ مَوَاقِیْتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ ؕ وَلَیْسَ الْبِرُّ بِاَنْ تَاْتُوا الْبُیُوْتَ مِنْ ظُهُوْرِهَا وَلٰكِنَّ الْبِرَّ مَنِ اتَّقٰی ۚ وَاْتُوا الْبُیُوْتَ مِنْ اَبْوَابِهَا ۪ وَاتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ 189
189. হে নবী, লোকেরা তোমার কাছে চাঁদ ছোট-বড় হওয়ার কারণ জানতে চাইছে। তুমি জানিয়ে দাও, এটা হচ্ছে মানুষের জন্য দিন তারিখ নির্ণয় এবং হজের মৌসুম নির্ধারণের মাধ্যম। তাদের আরো বলো, তোমাদের বাপ-দাদাদের রেওয়াজ অনুযায়ী পিছনের দিক দিয়ে লুকিয়ে ঘরে ঢোকার ভিতরে কোনো পুণ্য নেই; বরং পুণ্য কেবল তাকওয়ার জীবনের মধ্যেই। সুতরাং তোমরা মূল দরজা দিয়েই নিজেদের ঘরে প্রবেশ করো। আল্লাহর ব্যাপারে সতর্ক হয়ে চলো; তবেই তোমরা সাফল্য লাভ করবে।
وَقَاتِلُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ الَّذِیْنَ یُقَاتِلُوْنَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوْا ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یُحِبُّ الْمُعْتَدِیْنَ 190
190. হে ঈমানদারেরা, তোমরা আল্লাহর পথে ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। তবে তোমরা এ যুদ্ধের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না। জেনে রেখো, আল্লাহ কখনোই বাড়াবাড়িকারীদের পছন্দ করেন না।
وَ اقْتُلُوْهُمْ حَیْثُ ثَقِفْتُمُوْهُمْ وَاَخْرِجُوْهُمْ مِّنْ حَیْثُ اَخْرَجُوْكُمْ وَالْفِتْنَةُ اَشَدُّ مِنَ الْقَتْلِ ۚ وَلَا تُقٰتِلُوْهُمْ عِنْدَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ حَتّٰی یُقٰتِلُوْكُمْ فِیْهِ ۚ فَاِنْ قٰتَلُوْكُمْ فَاقْتُلُوْهُمْ ؕ كَذٰلِكَ جَزَآءُ الْكٰفِرِیْنَ 191
191. আর যুদ্ধের ময়দানে দুশমনকে যেখানে পাও হত্যা করো। এমনকি, ওদেরকে আবাসভূমি থেকেও উচ্ছেদ করে দাও। কেননা ইতিপূর্বে ওরাও তোমাদের সেখান থেকে বের করে দিয়েছিলো। জেনে রেখো, যদিও হত্যা খারাপ বিষয়; তবে ফিতনা তার চেয়েও ভয়ঙ্কর খারাপ। তবে সাবধান! কাবার সীমানায় যুদ্ধে জড়াবে না। তবে ওরা সেখানে যুদ্ধ করতে চাইলে, তোমরা নিঃসংকোচে ওদের সেখানে হত্যা করো। এটাই এ ধরনের কাফেরদের উপযুক্ত শাস্তি।
فَاِنِ انْتَهَوْا فَاِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 192
192. এ সবকিছুর পর ওরা যদি যুদ্ধ থামাতে চায়, তবে মনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল, বড় অনুগ্রহকারী।
وَقٰتِلُوْهُمْ حَتّٰی لَا تَكُوْنَ فِتْنَةٌ وَّیَكُوْنَ الدِّیْنُ لِلّٰهِ ؕ فَاِنِ انْتَهَوْا فَلَا عُدْوَانَ اِلَّا عَلَی الظّٰلِمِیْنَ 193
193. আর হ্যাঁ, তোমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাও, যতক্ষণ না জমিন থেকে ফিতনার শেষ বিন্দু পর্যন্ত নির্মূল হয় এবং দ্বীন হিসেবে মানুষের ইবাদত ও জীবনাচার এককভাবে কেবল আল্লাহর জন্যে পালিত হয়। এরপর যদি ওরা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতে চায়, তবে জেনে রেখো, কেবল জালিম ছাড়া আর কারো সাথে তোমাদের দুশমনি নেই।
اَلشَّهْرُ الْحَرَامُ بِالشَّهْرِ الْحَرَامِ وَالْحُرُمٰتُ قِصَاصٌ ؕ فَمَنِ اعْتَدٰی عَلَیْكُمْ فَاعْتَدُوْا عَلَیْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدٰی عَلَیْكُمْ ۪ وَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ مَعَ الْمُتَّقِیْنَ 194
194. হারাম মাসের বিনিময় কেবল হারাম মাসই হবে। প্রতিটি মর্যাদাবান জিনিসের কিসাস তার সমমর্যাদার জিনিসের দ্বারাই হতে পারে। কাজেই কেউ যদি এ হারাম সময়ে তোমাদের আক্রমণ করে, তবে তোমরাও ওদের উপযুক্ত আক্রমণ দ্বারা জবাব দেবে। তবে সাবধান! এসব ব্যাপারে অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করে চলবে। জেনে রেখো, আল্লাহ কেবল তাদের সাথে থাকেন, যারা তাঁর নির্ধারিত সীমা মেনে চলে।
وَ اَنْفِقُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَلَا تُلْقُوْا بِاَیْدِیْكُمْ اِلَی التَّهْلُكَةِ ۛۖۚ وَ اَحْسِنُوْا ۛۚ اِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الْمُحْسِنِیْنَ 195
195. আর তোমরা আল্লাহর পথের এ লড়াইয়ে নিজেদের জীবন ও সম্পদ ব্যয় করো। এ কাজ না করে নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস ডেকে এনো না। তোমরা কল্যাণ ও দয়ার পথ অবলম্বন করো। বস্তুত আল্লাহ ইহসানকারীদের ভালোবাসেন।
وَاَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلّٰهِ ؕ فَاِنْ اُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَیْسَرَ مِنَ الْهَدْیِ ۚ وَلَا تَحْلِقُوْا رُءُوْسَكُمْ حَتّٰی یَبْلُغَ الْهَدْیُ مَحِلَّهٗ ؕ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَّرِیْضًا اَوْ بِهٖۤ اَذًی مِّنْ رَّاْسِهٖ فَفِدْیَةٌ مِّنْ صِیَامٍ اَوْ صَدَقَةٍ اَوْ نُسُكٍ ۚ فَاِذَاۤ اَمِنْتُمْ ۥ فَمَنْ تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ اِلَی الْحَجِّ فَمَا اسْتَیْسَرَ مِنَ الْهَدْیِ ۚ فَمَنْ لَّمْ یَجِدْ فَصِیَامُ ثَلٰثَةِ اَیَّامٍ فِی الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ اِذَا رَجَعْتُمْ ؕ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ ؕ ذٰلِكَ لِمَنْ لَّمْ یَكُنْ اَهْلُهٗ حَاضِرِی الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ؕ وَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ شَدِیْدُ الْعِقَابِ۠ 196
196. হে ঈমানদারেরা, তোমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় হজ ও ওমরাহ আদায় করো। এ যাত্রাপথে তোমরা যদি কোথাও বাধাপ্রাপ্ত হও, তবে সেখানেই তোমরা যে পশু সহজে পেয়ে যাবে, তা দিয়েই কুরবানি করো। আর এ কুরবানির পশু যথাস্থানে পৌঁছানোর পর তোমরা নিজেদের মাথা মুন্ডণ করো। তবে হ্যাঁ, তোমাদের কেউ যদি এ সময় শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে অথবা মাথায় কোনো ধরনের কষ্টদায়ক রোগ দেখা দেয়, তবে সে চাইলে আগেও মাথা মুন্ডণ করে নিতে পারে। তবে এর বিনিময় হিসেবে সে ফিদইয়া আদায় করবে। আর এ অবস্থার ফিদইয়া হলো, রোযা রাখা অথবা সদকা দেয়া কিংবা পশু কুরবানি করা। অতঃপর তোমরা যদি যাত্রাপথের বাধা দূর হয়ে নিরাপত্তা লাভ করো এবং হজের দিন আসার আগেই কাবায় পৌঁছে যাও, তবে তোমাদের মধ্যে যে কেউ চাইলে হজের পূর্বে ওমরাহ পালন করতে পারে। এ হজে সে অবশ্যই তার সামর্থানুযায়ী পশু কুরবানি করবে। আর যদি কুরবানির পশু সংগ্রহ করতে না পারে, তবে হজের দিনগুলোর মধ্যে তিনটি রোযা রাখবে এবং হজ থেকে ফিরে আরো সাতটি রোযা রাখবে। এভাবে ফিদইয়া হিসেবে মোট দশটি রোযা পূর্ণ করবে। আর এ ওমরাহ করার সুযোগ কেবল তাদের জন্যে, যাদের ঘর-বাড়ি কাবার আশেপাশে নয়। আল্লাহকে ভয় করো! ভুলে যেয়ো না, আল্লাহর শাস্তি খুবই কঠোর হয়ে থাকে।
اَلْحَجُّ اَشْهُرٌ مَّعْلُوْمٰتٌ ۚ فَمَنْ فَرَضَ فِیْهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوْقَ ۙ وَلَا جِدَالَ فِی الْحَجِّ ؕ وَ مَا تَفْعَلُوْا مِنْ خَیْرٍ یَّعْلَمْهُ اللّٰهُ ؔؕ وَتَزَوَّدُوْا فَاِنَّ خَیْرَ الزَّادِ التَّقْوٰی ؗ وَاتَّقُوْنِ یٰۤاُولِی الْاَلْبَابِ 197
197. হজের মাসগুলো নির্ধারিত এবং সবাই তা জানে। সুতরাং এ নির্দিষ্ট মাসগুলোতে যে ব্যক্তি নিজের উপর হজকে ফরয করে নিলো, তার জানা উচিত, হজের সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক করবে না। নিষিদ্ধ কোনো কাজে জড়াবে না। এমনকি, কারো সাথে সামান্য ঝগড়াঝাটিও করবে না। তোমরা যেসব সৎকাজ করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানেন। আর হ্যাঁ, তোমরা যাত্রাপথের জন্য প্রয়োজনীয় পাথেয় সাথে নেবে। তবে মনে রেখো, সবচেয়ে ভালো পাথেয় হচ্ছে আল্লাহর প্রতি দায়িত্ব সচেতনতা। সুতরাং হে বিবেক-বুদ্ধিওয়ালারা, আমার নাফরমানী করা থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে চলো।
لَیْسَ عَلَیْكُمْ جُنَاحٌ اَنْ تَبْتَغُوْا فَضْلًا مِّنْ رَّبِّكُمْ ؕ فَاِذَاۤ اَفَضْتُمْ مِّنْ عَرَفٰتٍ فَاذْكُرُوا اللّٰهَ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ ۪ وَاذْكُرُوْهُ كَمَا هَدٰىكُمْ ۚ وَاِنْ كُنْتُمْ مِّنْ قَبْلِهٖ لَمِنَ الضَّآلِّیْنَ 198
198. ১৯৮. আর এ হজের যাত্রাপথে তোমরা যদি আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে জীবিকা উপার্জনের চেষ্টা করো, তবে তাতে কোনো দোষ নেই। এরপর যখন আরাফাতের ময়দান থেকে অগ্রসর হয়ে মাশয়ারুল হারাম মুযদালিফায় এসে পৌঁছবে, তখন সেখানে অবস্থান করো। আর সেখানে তোমরা আল্লাহর দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁকে স্মরণ করতে থাকো। অবশ্য এর আগে তোমরা অনেক কিছুই জানতে না।
ثُمَّ اَفِیْضُوْا مِنْ حَیْثُ اَفَاضَ النَّاسُ وَاسْتَغْفِرُوا اللّٰهَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 199
199. এরপর যে স্থান থেকে অন্যান্য সকল হাজীরা ফিরে আসে তোমরাও সে স্থান থেকে ফিরে এসো। আর আল্লাহর কাছে নিজেদের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
فَاِذَا قَضَیْتُمْ مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللّٰهَ كَذِكْرِكُمْ اٰبَآءَكُمْ اَوْ اَشَدَّ ذِكْرًا ؕ فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا وَمَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ 200
200. এভাবে হজের সব অনুষ্ঠানাদি সঠিকভাবে পালন করে যখন ফিরে যাবে, তখন আল্লাহকে এমনভাবে স্মরণে রাখবে, যেভাবে জাহেলি যুগে তোমরা বাপ-দাদাদের স্মরণ রাখতে। আসলে তার চেয়েও অনেক বেশি আল্লাহকে স্মরণ করা উচিত। তবে সাবধান! মানুষের মধ্যে এমনও লোক রয়েছে, যে বলে, হে আমাদের প্রভু, আমাদের যা কিছু দিবে তা দুনিয়াতেই দাও। শোনো! এমন দুর্ভাগাদের জন্য আখেরাতে কোনো অংশ নেই।
وَمِنْهُمْ مَّنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا حَسَنَةً وَّفِی الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ 201
201. তাদের মধ্যে অবশ্য এমন লোকও রয়েছে, যারা বলে, হে আমাদের মালিক, আমাদের দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ দাও এবং আখেরাতের জীবনেও কল্যাণ দাও। আর আমাদের জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে বাঁচাও।
اُولٰٓىِٕكَ لَهُمْ نَصِیْبٌ مِّمَّا كَسَبُوْا ؕ وَاللّٰهُ سَرِیْعُ الْحِسَابِ 202
202. এ উভয় ধরনের লোকেরা নিজেদের উপার্জন অনুযায়ী ভবিষ্যতে ফল ভোগ করবে। মনে রেখো, আল্লাহর হিসাব সম্পন্ন করতে একটুও বিলম্ব হয় না।
وَاذْكُرُوا اللّٰهَ فِیْۤ اَیَّامٍ مَّعْدُوْدٰتٍ ؕ فَمَنْ تَعَجَّلَ فِیْ یَوْمَیْنِ فَلَاۤ اِثْمَ عَلَیْهِ ۚ وَمَنْ تَاَخَّرَ فَلَاۤ اِثْمَ عَلَیْهِ ۙ لِمَنِ اتَّقٰی ؕ وَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاعْلَمُوْۤا اَنَّكُمْ اِلَیْهِ تُحْشَرُوْنَ 203
203. হজের সময় মিনায় অবস্থানের জন্য কয়েকটি দিন নির্দিষ্ট করা হলো। এ সময় তোমরা আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো। কেউ যদি প্রয়োজনে সেখানে দুই দিন অবস্থান করেই মক্কায় ফিরে আসে, তবে তাতে কোনো দোষ নেই। কিংবা কেউ যদি সেখানে আরো কিছু বেশি সময় অবস্থান করে, তবে তাতেও কোনো সমস্যা নেই। তবে অবশ্যই তাকে এ সময়টুকু তাকওয়ার সাথে কাটাতে হবে। হে হাজীরা, আল্লাহর বিধান পালনের ব্যাপারে সতর্ক থেকো। জেনে রেখো, তোমাদেরকে হিসাবের জন্যে একদিন তাঁর দরবারে হাজির হতেই হবে।
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ یُّعْجِبُكَ قَوْلُهٗ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ یُشْهِدُ اللّٰهَ عَلٰی مَا فِیْ قَلْبِهٖ ۙ وَ هُوَ اَلَدُّ الْخِصَامِ 204
204. হে নবী, দুনিয়ার জীবনে তুমি এমন কিছু লোকের সাক্ষাৎ পাবে, যাদের সুন্দর সুন্দর কথায় তোমার মন গলে যাবে। এমনকি নিজেদের মনের সদিচ্ছা প্রকাশ করতে কথায় কথায় আল্লাহকে সাক্ষী রাখবে। কিন্তু আসলে ওরা সত্যের বিরোধিতায় প্রচন্ড ঝগড়াটে।
وَ اِذَا تَوَلّٰی سَعٰی فِی الْاَرْضِ لِیُفْسِدَ فِیْهَا وَ یُهْلِكَ الْحَرْثَ وَالنَّسْلَ ؕ وَاللّٰهُ لَا یُحِبُّ الْفَسَادَ 205
205. এদের কেউ জনপদের নেতৃত্ব লাভ করলে, সেখানে সন্ত্রাস-বিশৃঙ্খলা করে বেড়ায়। শস্যক্ষেতগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এমনকি, অন্যায়ভাবে মানব বংশ নির্মূলের চেষ্টা করে। অথচ আল্লাহ কখনো এমন বিশৃঙ্খলাকে পছন্দ করেন না।
وَاِذَا قِیْلَ لَهُ اتَّقِ اللّٰهَ اَخَذَتْهُ الْعِزَّةُ بِالْاِثْمِ فَحَسْبُهٗ جَهَنَّمُ ؕ وَلَبِئْسَ الْمِهَادُ 206
206. ওদেরকে যখন বলা হয়, আল্লাহর বিরোধিতা করা থেকে বেঁচে থাকো, তখন ওদের ব্যক্তিত্বের অহমিকা প্রকাশ পায়। এভাবে ওরা আরো বেশি পাপাচারে ডুবে যায়। আসলে ওদের জন্যে জাহান্নামই যথেষ্ট এবং সেটা খুবই নিকৃষ্ট আবাস।
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّشْرِیْ نَفْسَهُ ابْتِغَآءَ مَرْضَاتِ اللّٰهِ ؕ وَاللّٰهُ رَءُوْفٌۢ بِالْعِبَادِ 207
207. অন্যদিকে এমন লোকও রয়েছে, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় জীবনের সবকিছু উৎসর্গ করে দেয়। নিঃসন্দেহে এমন বান্দাদের প্রতি আল্লাহ অত্যন্ত ¯স্নেহশীল।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا ادْخُلُوْا فِی السِّلْمِ كَآفَّةً ۪ وَّلَا تَتَّبِعُوْا خُطُوٰتِ الشَّیْطٰنِ ؕ اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِیْنٌ 208
208. হে ঈমানদারেরা, ইসলামের সব বিষয় পূর্ণভাবে মেনে চলার চেষ্টা করো। এ ব্যাপারে তোমরা কখনো শয়তানের পথে হেঁটো না। কেননা শয়তানতো তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।
فَاِنْ زَلَلْتُمْ مِّنْۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْكُمُ الْبَیِّنٰتُ فَاعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ عَزِیْزٌ حَكِیْمٌ 209
209. এ ব্যাপারে স্পষ্ট সতর্কবাণী শোনানোর পরেও যদি তোমরা শয়তানের পথে হাঁটো, তবে জেনে রেখো, আল্লাহ প্রচÐ শক্তির অধিকারী এবং তিনি জানেন কিভাবে ব্যবস্থা নিতে হয়।
هَلْ یَنْظُرُوْنَ اِلَّاۤ اَنْ یَّاْتِیَهُمُ اللّٰهُ فِیْ ظُلَلٍ مِّنَ الْغَمَامِ وَ الْمَلٰٓىِٕكَةُ وَ قُضِیَ الْاَمْرُ ؕ وَ اِلَی اللّٰهِ تُرْجَعُ الْاُمُوْرُ۠ 210
210. হায়! এতসব কিছুর পরেও কি ওরা এখন এমনটা চাইছে যে, স্বয়ং আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের বিরাট দল নিয়ে মেঘের ছায়ায় ওদের সামনে নেমে আসবেন এবং ওদের সাথে বৈঠক করে এসব বিষয়ে মীমাংসা করে নেবেন? কী আশ্চর্য! অথচ সব ব্যাপারই একদিন আল্লাহর সামনে উপস্থাপিত হবে।
سَلْ بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ كَمْ اٰتَیْنٰهُمْ مِّنْ اٰیَةٍۭ بَیِّنَةٍ ؕ وَ مَنْ یُّبَدِّلْ نِعْمَةَ اللّٰهِ مِنْۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْهُ فَاِنَّ اللّٰهَ شَدِیْدُ الْعِقَابِ 211
211. যারা আল্লাহর চাক্ষুষ নিদর্শন চাও, তারা বনি ইসরাইলদের জিজ্ঞেস করে দেখো, আমি কী পরিমাণ সুস্পষ্ট নিদর্শন ওদের দেখিয়েছিলাম। ওদের থেকে এ কথাও জেনে নাও যে, আল্লাহর নেয়ামত পাবার পরে যারা এর অপব্যবহার করে, তাদেরকে আল্লাহ কেমন কঠিন শাস্তি দিয়ে থাকেন।
زُیِّنَ لِلَّذِیْنَ كَفَرُوا الْحَیٰوةُ الدُّنْیَا وَیَسْخَرُوْنَ مِنَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا ۘ وَ لَّذِیْنَ اتَّقَوْا فَوْقَهُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ وَاللّٰهُ یَرْزُقُ مَنْ یَّشَآءُ بِغَیْرِ حِسَابٍ 212
212. বস্তুত কাফেরদের জন্য দুনিয়ার জীবনকে বড়ই মজার ও আকর্ষণীয় করা হয়েছে। ওরা দুনিয়ায় ঈমানদারদের সাথে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের আচরণ করে। অথচ কেয়ামতের দিন ঐসব ঈমানদারেরা ওদের মোকাবেলায় উচ্চ মর্যাদায় আসীন হবে। জেনে রেখো, দুনিয়ার জীবনে আল্লাহ তাঁর ইচ্ছানুযায়ী যাকে খুশি বে-হিসাব জীবিকা দিয়ে থাকেন।
كَانَ النَّاسُ اُمَّةً وَّاحِدَةً ۫ فَبَعَثَ اللّٰهُ النَّبِیّٖنَ مُبَشِّرِیْنَ وَمُنْذِرِیْنَ ۪ وَاَنْزَلَ مَعَهُمُ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ لِیَحْكُمَ بَیْنَ النَّاسِ فِیْمَا اخْتَلَفُوْا فِیْهِ ؕ وَمَا اخْتَلَفَ فِیْهِ اِلَّا الَّذِیْنَ اُوْتُوْهُ مِنْۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْهُمُ الْبَیِّنٰتُ بَغْیًۢا بَیْنَهُمْ ۚ فَهَدَی اللّٰهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لِمَا اخْتَلَفُوْا فِیْهِ مِنَ الْحَقِّ بِاِذْنِهٖ ؕ وَاللّٰهُ یَهْدِیْ مَنْ یَّشَآءُ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ 213
213. শুরুতে সকল মানুষই সত্যপন্থী ছিল। পরে তারা নানা পথে বিভক্ত হয়। আল্লাহ তাদের কাছে নবীদের পাঠাতে থাকেন। নবীরা তাদেরকে সত্যপথে চলার শুভ পরিণতি এবং ভ্রান্ত পথে চলার করুণ বিপদের জন্যে সতর্ক করতেন। নবীদের সাথে আল্লাহ কিতাবও নাযিল করেছেন, যাতে লোকেরা সত্য সম্পর্কে যেসব মতবিরোধে জড়ায়, তার মীমাংসা করা যায়। অথচ কী আশ্চর্য! যাদেরকে কিতাব দেয়া হলো, তারা নিজেরাই একটা সময় মতবিরোধে জড়ালো। ওরা সুস্পষ্ট পথনির্দেশ পাওয়ার পরেও কেবল অন্যের প্রতি বিদ্বেষ ও বাড়াবাড়ির কারণে নিজেরা ভিন্ন ভিন্ন পথ তৈরি করে নিলো। এরপর যারা নবীর প্রতি ঈমান এনেছে, তাদেরকে আল্লাহ নিজ ইচ্ছায় সত্যপথে চালিত করলেন; যদিও তারা ঈমান আনার আগে নানা মতে বিভক্ত ছিলো। বস্তুত আল্লাহ যাকে চান, সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
اَمْ حَسِبْتُمْ اَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا یَاْتِكُمْ مَّثَلُ الَّذِیْنَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ ؕ مَسَّتْهُمُ الْبَاْسَآءُ وَالضَّرَّآءُ وَزُلْزِلُوْا حَتّٰی یَقُوْلَ الرَّسُوْلُ وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مَعَهٗ مَتٰی نَصْرُ اللّٰهِ ؕ اَلَاۤ اِنَّ نَصْرَ اللّٰهِ قَرِیْبٌ 214
214. তোমরা কি মনে করেছো যে, কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এমনি এমনি জান্নাতে চলে যাবে? অথচ এখনো তোমরা পূর্ববর্তী ঈমানদারদের মতো পরীক্ষার মুখোমুখি হওনি। তারা তীব্র অভাব-অনটনে পড়েছে, দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত হয়েছে। উপরন্তু ঈমান আনার অপরাধে অত্যাচার-নির্যাতনের ভয়ে কম্পিত হয়ে। এমনকি, পরিবেশ এতোটাই ভয়ানক ছিলো যে, স্বয়ং রসুল তার ঈমানদার সাথিদের নিয়ে ফরিয়াদ করে বলতো, হে আল্লাহ, তোমার সাহায্য আর কবে আসবে? তখন তাদের অভয় দিয়ে বলা হয়েছিলো, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য তোমাদের খুব কাছেই এসে গেছে।
یَسْـَٔلُوْنَكَ مَا ذَا یُنْفِقُوْنَ ؕ۬ قُلْ مَاۤ اَنْفَقْتُمْ مِّنْ خَیْرٍ فَلِلْوَالِدَیْنِ وَالْاَقْرَبِیْنَ وَالْیَتٰمٰی وَالْمَسٰكِیْنِ وَابْنِ السَّبِیْلِ ؕ وَمَا تَفْعَلُوْا مِنْ خَیْرٍ فَاِنَّ اللّٰهَ بِهٖ عَلِیْمٌ 215
215. হে নবী, লোকেরা সম্পদ ব্যয় করার পদ্ধতি সম্পর্কে তোমার কাছে জানতে চাচ্ছে। বলো, তোমাদের সম্পদ ব্যয় করো আপন পিতা-মাতার কল্যাণে, পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনের উপকারে, এতিমদের কল্যাণে, দরিদ্র-অসহায়দের সহযোগিতায় এবং পথবাসীদের জন্য। জেনে রেখো, তোমাদের সব ভালো কাজের ব্যাপারে আল্লাহ পূর্ণ অবগত রয়েছেন।
كُتِبَ عَلَیْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَّكُمْ ۚ وَعَسٰۤی اَنْ تَكْرَهُوْا شَیْـًٔا وَّهُوَ خَیْرٌ لَّكُمْ ۚ وَعَسٰۤی اَنْ تُحِبُّوْا شَیْـًٔا وَّهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ ؕ وَاللّٰهُ یَعْلَمُ وَاَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ۠ 216
216. হে ঈমানদারেরা, তোমাদেরকে যুদ্ধের লিখিত হুকুম দেয়া হচ্ছে; যদিও এ বিধান তোমাদের কারো কারো অপছন্দ হবে। আসলে তোমরা হয়তো এমন অনেক জিনিস অপছন্দ করবে, যা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আবার হয়তো এমন জিনিস পছন্দ করবে, যা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। প্রকৃতপক্ষে তোমাদের কল্যাণ ও অকল্যাণ সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন; তোমরা জানো না।
یَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِیْهِ ؕ قُلْ قِتَالٌ فِیْهِ كَبِیْرٌ ؕ وَصَدٌّ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَكُفْرٌۢ بِهٖ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۗ وَاِخْرَاجُ اَهْلِهٖ مِنْهُ اَكْبَرُ عِنْدَ اللّٰهِ ۚ وَالْفِتْنَةُ اَكْبَرُ مِنَ الْقَتْلِ ؕ وَلَا یَزَالُوْنَ یُقَاتِلُوْنَكُمْ حَتّٰی یَرُدُّوْكُمْ عَنْ دِیْنِكُمْ اِنِ اسْتَطَاعُوْا ؕ وَمَنْ یَّرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِیْنِهٖ فَیَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَاُولٰٓىِٕكَ حَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ فِی الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَةِ ۚ وَاُولٰٓىِٕكَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ 217
217. হে নবী, হারাম মাসে যুদ্ধ করার ব্যাপারে লোকেরা তোমার মতামত জানতে চায়। তুমি সাফসাফ জানিয়ে দাও, হারাম মাসে যুদ্ধ করা বড়ই খারাপ কাজ। কিন্তু তার চেয়েও আল্লাহর কাছে ভয়ঙ্কর কাজ হচ্ছে, সাধারণ লোকদের আল্লাহর পথে আসতে বাধা দেয়া, জমিনে আল্লাহকে অমান্য করে চলতে থাকা, আল্লাহর সত্যিকার ইবাদতকারীদের জন্যে কাবাঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়া এবং সেসব লোকদেরকে ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা। আসলে জুলুম-নিপীড়নের মাধ্যমে যে ফিতনা তৈরি করা হয়, তা সাধারণ হত্যার চেয়েও বেশি মারত্মক। হে ঈমানদারেরা, মনে রেখো, এসব কাফেরেরা সক্ষম হলে তোমাদেরকে আল্লাহর দ্বীন থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। প্রয়োজনে যুদ্ধ করতেও ওরা পিছপা হবে না। এতসব কিছু বোঝার পরেও তোমাদের কেউ যদি দ্বীন ত্যাগ করে এবং সে অবস্থায় কাফের হয়ে মারা যায়, তবে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানে তার সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যাবে। জাহান্নামই হবে তার আবাস এবং সেখান থেকে কোনোদিনই সে মুক্তি পাবে না।
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَالَّذِیْنَ هَاجَرُوْا وَجٰهَدُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ۙ اُولٰٓىِٕكَ یَرْجُوْنَ رَحْمَتَ اللّٰهِ ؕ وَاللّٰهُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 218
218. অন্যদিকে যারা সত্যিকারের ঈমান আনে এবং সে ঈমান রক্ষায় নিজ ঘরবড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েও আল্লাহর পথে লড়াই-সংগ্রামে সক্রিয় থাকে, তারাই কেবল আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী হতে পারে। বস্তত আল্লাহ এ ধরনের বান্দাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন এবং তাদের প্রতি আপন করুণা পূর্ণ করবেন।
یَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَیْسِرِ ؕ قُلْ فِیْهِمَاۤ اِثْمٌ كَبِیْرٌ وَّمَنَافِعُ لِلنَّاسِ ؗ وَ اِثْمُهُمَاۤ اَكْبَرُ مِنْ نَّفْعِهِمَا ؕ وَيَسْـَٔلُوْنَكَ مَا ذَا یُنْفِقُوْنَ ؕ۬ قُلِ الْعَفْوَ ؕ كَذٰلِكَ یُبَیِّنُ اللّٰهُ لَكُمُ الْاٰیٰتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُوْنَۙ 219
219. হে নবী, লোকেরা তোমার কাছে মদ ও জুয়ার বিধান জানতে চায়। তাদের বলো, এ দুটোর মধ্যে তোমাদের জন্যে মারাত্মক ক্ষতি রয়েছে। যদিও লোকদের কিছুটা উপকারিতাও রয়েছে; কিন্তু বাস্তবে উপকারিতার চেয়ে ক্ষতির পরিমাণই বেশি। লোকেরা তোমার কাছে আরো জানতে চায়, তারা কী পরিমাণ সম্পদ ব্যয় করবে? বলো, তোমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত যা কিছু থাকে, তাই ব্যয় করো। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্যে তার বিধি-বিধান স্পষ্টভাষায় বলে দিচ্ছেন। আশা করা যায় তোমরা চিন্তাভাবনা করে চলবে।
فِی الدُّنْیَا وَالْاٰخِرَةِ ؕ وَیَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ الْیَتٰمٰی ؕ قُلْ اِصْلَاحٌ لَّهُمْ خَیْرٌ ؕ وَاِنْ تُخَالِطُوْهُمْ فَاِخْوَانُكُمْ ؕ وَاللّٰهُ یَعْلَمُ الْمُفْسِدَ مِنَ الْمُصْلِحِ ؕ وَلَوْ شَآءَ اللّٰهُ لَاَعْنَتَكُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَزِیْزٌ حَكِیْمٌ 220
220. দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের চিন্তা করো। আর লোকেরা তোমার কাছে এতিমদের ব্যাপারে জানতে চায়, তাদের বলো, তোমরা এতিমদের জন্যে সুব্যবস্থা নিশ্চিত করো। তোমরা যদি তাদের ও তোমাদের খরচাদি ও থাকা-খাওয়া একই সাথে চালাও, তবে তাতে তোমাদের দোষ নেই। কেননা তারাতো তোমাদেরই ভাই। আসলে আল্লাহ ভালোকরেই জানেন, তোমাদের মধ্যে কে তাদের ক্ষতি চায় আর কে কল্যাণ চায়। আল্লাহ চাইলে এ ব্যাপারে তোমাদের আরো কঠোর বিধান দিতে পারতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রবল ক্ষমতাবান এবং সবচেয়ে ভালো বোঝেন ।
وَلَا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكٰتِ حَتّٰی یُؤْمِنَّ ؕ وَلَاَمَةٌ مُّؤْمِنَةٌ خَیْرٌ مِّنْ مُّشْرِكَةٍ وَّلَوْ اَعْجَبَتْكُمْ ۚ وَلَا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِیْنَ حَتّٰی یُؤْمِنُوْا ؕ وَلَعَبْدٌ مُّؤْمِنٌ خَیْرٌ مِّنْ مُّشْرِكٍ وَّلَوْ اَعْجَبَكُمْ ؕ اُولٰٓىِٕكَ یَدْعُوْنَ اِلَی النَّارِ ۖۚ وَاللّٰهُ یَدْعُوْۤا اِلَی الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِاِذْنِهٖ ۚ وَیُبَیِّنُ اٰیٰتِهٖ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ یَتَذَكَّرُوْنَ۠ 221
221. হে ঈমানদারেরা, তোমরা কখনোই মুশরিক মহিলাদেরকে ঈমান না আনা অবস্থায় বিয়ে করবে না। মনে রেখো, একজন স্বাধীন সম্ভ্রান্ত মুশরিক মহিলা তোমাদের যতোই পছন্দ হোক না কেন, তার চেয়ে একজন সাধারণ মুমিন দাসী অনেক কল্যাণকর। একইভাবে একজন ঈমানদার মহিলা কোনো মুশরিক পুরুষকেও ঈমান না আনা পর্যন্ত বিয়ে করবে না। কেননা একজন সমান্য মুমিন দাসও ঐ স্বাধীন সম্ভ্রান্ত মুশরিক পুরুষের চেয়ে বেশি কল্যাণকর যদিও মুশরিক পুরুষ তোমাদের খুবই পছন্দ হয়। আসলে এসব মুশরিকেরা তোমাদের জাহান্নামের আগুনের দিকে ডাকে। অথচ আল্লাহ নিজ উদ্যোগে তোমাদের ডাকেন জান্নাত ও তাঁর ক্ষমার দিকে। এভাবেই আল্লাহ মানুষের জন্যে তাঁর কথাগুলো পরিষ্কারভাবে বলে থাকেন, যাতে লোকেরা এসব থেকে শিক্ষা ও উপদেশ নিতে পারে।
وَیَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ الْمَحِیْضِ ؕ قُلْ هُوَ اَذًی ۙ فَاعْتَزِلُوا النِّسَآءَ فِی الْمَحِیْضِ ۙ وَلَا تَقْرَبُوْهُنَّ حَتّٰی یَطْهُرْنَ ۚ فَاِذَا تَطَهَّرْنَ فَاْتُوْهُنَّ مِنْ حَیْثُ اَمَرَكُمُ اللّٰهُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ التَّوَّابِیْنَ وَیُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِیْنَ 222
222. লোকেরা তোমার কাছে ‘মহিলাদের ঋতুস্রাব’ সম্পর্কে জানতে চায়। তাদের বলো, এটা মহিলাদের জন্যে এক প্রকার কষ্টদায়ক ব্যাপার। তোমরা এ সময় তোমাদের স্ত্রীদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করো না। অতঃপর তোমাদের স্ত্রীরা যখন এ অবস্থা থেকে পাক-পবিত্র হবে, তখন তোমরা তাদের সাথে মিলিত হতে পারো। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই আল্লাহর দেয়া নির্দেশিকা স্মরণ রাখবে। জেনে রেখো, আল্লাহ অবশ্যই তাদের ভালোবাসেন, যারা স্বেচ্ছায় পাপে জড়ায় না; বরং সব সময় পাক-পবিত্র থাকে।
نِسَآؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ ۪ فَاْتُوْا حَرْثَكُمْ اَنّٰی شِئْتُمْ ؗ وَقَدِّمُوْا لِاَنْفُسِكُمْ ؕ وَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاعْلَمُوْۤا اَنَّكُمْ مُّلٰقُوْهُ ؕ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِیْنَ 223
223. স্ত্রীরা হলো তোমাদের শস্যক্ষেত। তোমরা তোমাদের সুবিধানুযায়ী ন্যায়পন্থায় যেভাবে চাও, তোমাদের এ শস্যক্ষেতে বিচরণ করো। এভাবে তোমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম সংরক্ষণ করো। আর এ সম্পর্কের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। জেনে রেখো, একদিন তোমাদের সাথে আল্লাহর সাক্ষাৎ ঘটবেই। হে নবী, তুমি মুমিনদের সাফল্যের সুখবর দাও।
وَلَا تَجْعَلُوا اللّٰهَ عُرْضَةً لِّاَیْمَانِكُمْ اَنْ تَبَرُّوْا وَتَتَّقُوْا وَتُصْلِحُوْا بَیْنَ النَّاسِ ؕ وَاللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ 224
224. আর সৎকাজ করা, তাকওয়ার নীতিতে জীবন চালানো এবং মানুষের মধ্যে সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য তোমরা আল্লাহর নামে শপথ করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করো না। মনে রেখো, আল্লাহ সবকথা শোনেন, সবকিছু জানেন।
لَا یُؤَاخِذُكُمُ اللّٰهُ بِاللَّغْوِ فِیْۤ اَیْمَانِكُمْ وَلٰكِنْ یُّؤَاخِذُكُمْ بِمَا كَسَبَتْ قُلُوْبُكُمْ ؕ وَاللّٰهُ غَفُوْرٌ حَلِیْمٌ 225
225. তোমরা উদ্দেশ্যহীনভাবে যেসব অর্থহীন শপথ করে থাকো, সেসবের জন্য আল্লাহ তোমাদের পাকড়াও করবেন না। তিনি তোমাদের কঠিনভাবে পাকড়াও করবেন কেবল সেসব শপথের জন্য, যা তোমরা আন্তরিকতার সাথে করেছিলে। যদিও আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই সহনশীল।
لِلَّذِیْنَ یُؤْلُوْنَ مِنْ نِّسَآىِٕهِمْ تَرَبُّصُ اَرْبَعَةِ اَشْهُرٍ ۚ فَاِنْ فَآءُوْ فَاِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ 226
226. তোমাদের যারা স্ত্রীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক না রাখার শপথ নেয়, তাদের জন্যে চার মাসের অবকাশ রয়েছে। এরপর যদি তারা স্ত্রীদের কাছে ফিরে আসে তবে আল্লাহকে বড়ই ক্ষমাশীল এবং পরম দয়ালু হিসেবে পাবে।
وَاِنْ عَزَمُوا الطَّلَاقَ فَاِنَّ اللّٰهَ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ 227
227. আর যদি তারা তালাক দিতে চায়, তবে তাদের জানা উচিত, আল্লাহ তাদের সব আলাপ-আলোচনা শোনেন এবং তাদের সব কাজের রহস্যও তিনি জানেন।
وَالْمُطَلَّقٰتُ یَتَرَبَّصْنَ بِاَنْفُسِهِنَّ ثَلٰثَةَ قُرُوْٓءٍ ؕ وَلَا یَحِلُّ لَهُنَّ اَنْ یَّكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللّٰهُ فِیْۤ اَرْحَامِهِنَّ اِنْ كُنَّ یُؤْمِنَّ بِاللّٰهِ وَالْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ وَبُعُوْلَتُهُنَّ اَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِیْ ذٰلِكَ اِنْ اَرَادُوْۤا اِصْلَاحًا ؕ وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِیْ عَلَیْهِنَّ بِالْمَعْرُوْفِ ۪ وَلِلرِّجَالِ عَلَیْهِنَّ دَرَجَةٌ ؕ وَاللّٰهُ عَزِیْزٌ حَكِیْمٌ۠ 228
228. যেসব মহিলা তালাক প্রাপ্তা হয়েছে, নতুন স্বামী গ্রহণ করার আগে তারা অবশ্যই ‘তিনবার মাসিক হওয়া সময়’ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। এসব মহিলা যদি আল্লাহর প্রতি সত্যিই ঈমান রাখে এবং পরকালের জবাবদিহিতার কথা মানে, তবে যেনো নিজের গর্ভে সন্তান থাকলে তা গোপন না করে। আর এ সময়ের মধ্যে যদি তাদের স্বামীরা তাদের সাথে পুনঃসম্পর্ক তৈরি করতে চায়, তবে তারা নিজেদের স্ত্রীদের ফিরিয়ে নেবার অধিকার রাখে। জেনে রেখো, স্ত্রীদের উপর যেমন স্বামীদের অধিকার রয়েছে, ঠিক তেমনি স্বামীদের উপরেও স্ত্রীদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে। তবে একটি বিষয়ে স্ত্রীদের উপর স্বামীদের অগ্রাধিকার রয়েছে। মনে রেখো, আল্লাহ প্রচন্ড ক্ষমতার অধিকারী এবং তিনি সবকিছুই বোঝেন।
اَلطَّلَاقُ مَرَّتٰنِ ۪ فَاِمْسَاكٌۢ بِمَعْرُوْفٍ اَوْ تَسْرِیْحٌۢ بِاِحْسَانٍ ؕ وَلَا یَحِلُّ لَكُمْ اَنْ تَاْخُذُوْا مِمَّاۤ اٰتَیْتُمُوْهُنَّ شَیْـًٔا اِلَّاۤ اَنْ یَّخَافَاۤ اَلَّا یُقِیْمَا حُدُوْدَ اللّٰهِ ؕ فَاِنْ خِفْتُمْ اَلَّا یُقِیْمَا حُدُوْدَ اللّٰهِ ۙ فَلَا جُنَاحَ عَلَیْهِمَا فِیْمَا افْتَدَتْ بِهٖ ؕ تِلْكَ حُدُوْدُ اللّٰهِ فَلَا تَعْتَدُوْهَا ۚ وَمَنْ یَّتَعَدَّ حُدُوْدَ اللّٰهِ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الظّٰلِمُوْنَ 229
229. আর তালাক কেবল দুবার দিতে পারবে। এরপর হয় তোমাদের স্ত্রীদের ন্যায়পন্থায় ফিরিয়ে নেবে অথবা ভালোভাবে তাদের মুক্ত করে দেবে। মনে রেখো, স্ত্রীদের যা কিছু দিয়েছিলে, বিদায়ের সময় তার কোনো অংশই রেখে দেয়া তোমাদের জন্যে হালাল নয়। আসলে যদি এমন আশঙ্কা তৈরি হয় যে, স্বামী-স্ত্রী আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা মেনে সংসার করতে পারবে না, তবে তাদের আলাদা হয়ে যাওয়াই ভালো। যদি সত্যিই এ আশঙ্কা করো যে, স্বামী-স্ত্রী উভয়ের পক্ষেই আল্লাহর সীমারেখা মেনে চলা সম্ভব হবে না এবং এ অবস্থায় যদি স্ত্রী আগ বাড়িয়ে কিছু সম্পদের বিনিময়ে স্বামীর কাছ থেকে তালাক নিয়ে নেয়, তবে এ পদ্ধতিতে কোনো দোষ নেই। এ হলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। কখানোই এ সীমা অতিক্রম করার চেষ্টা করো না। ভালো করে জেনে রেখো, যারা আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করবে, ওরাই আল্লাহর কাছে জালিম বলে গণ্য হবে।
فَاِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهٗ مِنْۢ بَعْدُ حَتّٰی تَنْكِحَ زَوْجًا غَیْرَهٗ ؕ فَاِنْ طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَیْهِمَاۤ اَنْ یَّتَرَاجَعَاۤ اِنْ ظَنَّاۤ اَنْ یُّقِیْمَا حُدُوْدَ اللّٰهِ ؕ وَتِلْكَ حُدُوْدُ اللّٰهِ یُبَیِّنُهَا لِقَوْمٍ یَّعْلَمُوْنَ 230
230. এরপর কেউ যদি তৃতীয়বারের মতো স্ত্রীকে তালাক দেয়, তবে তার জন্যে ঐ স্ত্রী আর হালাল হবে না। তবে যদি দ্বিতীয় কোনো পুরুষের সাথে বিয়ে হয় এবং সে পুরুষও তাকে ন্যায়পন্থায় স্বাভাবিকভাবে তালাক দেয়, তবে ভিন্ন কথা। এভাবে তালাক হবার পর, যদি প্রথম স্বামী ও ঐ মহিলা মনে করে যে, তারা এবার আল্লাহর সীমারেখা মেনে চলতে পারবে, তবে তারা পুনরায় বিয়ে করতে পারে। এ কাজে তাদের কোনো দোষ নেই। এগুলো আল্লাহর দেয়া নির্দিষ্ট সীমারেখা। আল্লাহ জ্ঞানীদের জন্যে এভাবে তার বিধান বর্ণনা করেন।
وَاِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَآءَ فَبَلَغْنَ اَجَلَهُنَّ فَاَمْسِكُوْهُنَّ بِمَعْرُوْفٍ اَوْ سَرِّحُوْهُنَّ بِمَعْرُوْفٍ ۪ وَّلَا تُمْسِكُوْهُنَّ ضِرَارًا لِّتَعْتَدُوْا ۚ وَمَنْ یَّفْعَلْ ذٰلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهٗ ؕ وَلَا تَتَّخِذُوْۤا اٰیٰتِ اللّٰهِ هُزُوًا ؗ وَّاذْكُرُوْا نِعْمَتَ اللّٰهِ عَلَیْكُمْ وَمَاۤ اَنْزَلَ عَلَیْكُمْ مِّنَ الْكِتٰبِ وَالْحِكْمَةِ یَعِظُكُمْ بِهٖ ؕ وَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ۠ 231
231. যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দিয়ে দাও এবং তাদের ইদ্দত পালনের সময় প্রায় শেষ হয়ে আসে, তখন তোমরা অবশ্যই সিদ্ধান্ত নেবে। হয় তাদের ন্যায়পন্থায় স্ত্রী হিসেবে ফিরিয়ে নেবে অথবা ভালো আচরণের মাধ্যমে তাদের মুক্ত করে দেবে। কেবল কষ্ট দেয়ার জন্য তাদেরকে আটকে রেখো না। কেননা এমনটা করা সুস্পষ্ট বাড়াবাড়ি। মনে রেখো, কেবল নিজের উপর জুলুমকারীরাই এমন অপরাধ করে থাকে। আর সাবধান! আমার দেয়া এসব বিধি-বিধান নিয়ে খেল-তামাশা করো না। আর আমি তোমাদের যেসব নেয়ামত দিয়েছি তা স্মরণে রেখো। পাশাপাশি উপদেশ গ্রহণ করো তা থেকে যা আমি কিতাব আকারে এবং বিবেক-বুদ্ধির গভীর বুঝ হিসেবে তোমাদের দিয়েছি। আল্লাহকে ভয় করো। জেনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের সম্পর্কে সব কিছুই জানেন।
وَاِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَآءَ فَبَلَغْنَ اَجَلَهُنَّ فَلَا تَعْضُلُوْهُنَّ اَنْ یَّنْكِحْنَ اَزْوَاجَهُنَّ اِذَا تَرَاضَوْا بَیْنَهُمْ بِالْمَعْرُوْفِ ؕ ذٰلِكَ یُوْعَظُ بِهٖ مَنْ كَانَ مِنْكُمْ یُؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَالْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ ذٰلِكُمْ اَزْكٰی لَكُمْ وَاَطْهَرُ ؕ وَاللّٰهُ یَعْلَمُ وَاَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ 232
232. তোমাদের তালাক দেয়া স্ত্রীরা যখন অপেক্ষামূলক নির্ধারিত ইদ্দত অতিক্রম করে এবং এরপর প্রচলিত ন্যায়পন্থায় তাদের পূর্বের স্বামীর সাথে অথবা অন্য কোনো পুরুষের সাথে নতুনভাবে বিয়ে করতে সম্মত হয়, তখন তোমাদের কোনো পক্ষেরই তাদের বাধা দেয়া জায়েয নয়। যদি তোমরা আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখো, তবে এ উপদেশ তোমাদের জন্য। বস্তুত আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলাই তোমাদের জন্যে বিশুদ্ধ ও পবিত্রতম পদ্ধতি। আসলে আল্লাহই সবকিছু জানেন; তোমরা তেমন কিছুই জানো না।
وَالْوَالِدٰتُ یُرْضِعْنَ اَوْلَادَهُنَّ حَوْلَیْنِ كَامِلَیْنِ لِمَنْ اَرَادَ اَنْ یُّتِمَّ الرَّضَاعَةَ ؕ وَعَلَی الْمَوْلُوْدِ لَهٗ رِزْقُهُنَّ وَ كِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ ؕ لَا تُكَلَّفُ نَفْسٌ اِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَا تُضَآرَّ وَالِدَةٌۢ بِوَلَدِهَا وَلَا مَوْلُوْدٌ لَّهٗ بِوَلَدِهٖ ۗ وَعَلَی الْوَارِثِ مِثْلُ ذٰلِكَ ۚ فَاِنْ اَرَادَا فِصَالًا عَنْ تَرَاضٍ مِّنْهُمَا وَتَشَاوُرٍ فَلَا جُنَاحَ عَلَیْهِمَا ؕ وَاِنْ اَرَدْتُّمْ اَنْ تَسْتَرْضِعُوْۤا اَوْلَادَكُمْ فَلَا جُنَاحَ عَلَیْكُمْ اِذَا سَلَّمْتُمْ مَّاۤ اٰتَیْتُمْ بِالْمَعْرُوْفِ ؕ وَاتَّقُوا اللّٰهَ وَاعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ 233
233. কোনো পিতা যদি তার সন্তানের দুধপানের মেয়াদ পূর্ণ করাতে চায়, সেক্ষেত্রে সন্তানের মা তালাকপ্রাপ্তা হলেও নিজের সন্তানকে পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে। এ সময়ে সন্তানের পিতাকে প্রচলিত ন্যায়পন্থায় সন্তানের মাকে খাওয়া-পরার ব্যবস্থা করতে হবে। মনে রেখো, আল্লাহর নীতি হলো- কারো উপর তার সামর্থের অতিরিক্ত বোঝা চাপানো যাবে না। সুতরাং সন্তান জন্ম দিয়েছে বলে, কোনো মায়ের প্রতি অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেয়া যাবে না। একইভাবে সন্তানটি পিতার বলে, তার প্রতিও অতিরিক্ত বোঝা চাপানো যাবে না। আর পিতার অবর্তমানে তার উত্তরাধিকারীরা সন্তানের মায়ের প্রতি ঠিক পিতার মতোই দায়িত্বশীল আচরণ করবে। জেনে রেখো, দুধ পানের মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই যদি সন্তানের পিতা ও মাতা উভয়ে পরামর্শের ভিত্তিতে সন্তানকে দুধ ছাড়াতে সম্মত হয়, তবে তারা এমনটা করতে পারে। আর যদি সন্তানের পিতারা মনে করো যে, সন্তানের আপন মা ছাড়া অন্য কোনো মহিলার দুধপান করাবে, তবে তাও করাতে পারো। কিন্তু শর্ত হচ্ছে, এ জন্যে প্রচলিত নিয়মে যে বিনিময় ধার্য করে নেবে, তা যথাযথভাবে পরিশোধ করবে। হে ঈমারদারেরা, তোমরা এসব বিধি-বিধান মেনে চলার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। ভালোভাবে জেনে রেখো, তোমরা যা কিছুই করো, সেসবই আল্লাহ পর্যবেক্ষণ করেন।
وَالَّذِیْنَ یُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَیَذَرُوْنَ اَزْوَاجًا یَّتَرَبَّصْنَ بِاَنْفُسِهِنَّ اَرْبَعَةَ اَشْهُرٍ وَّعَشْرًا ۚ فَاِذَا بَلَغْنَ اَجَلَهُنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَیْكُمْ فِیْمَا فَعَلْنَ فِیْۤ اَنْفُسِهِنَّ بِالْمَعْرُوْفِ ؕ وَاللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرٌ 234
234. তোমাদের যেসব স্ত্রীদের স্বামী মারা যায়, তারা নতুন স্বামী গ্রহণ করার পূর্বে কমপক্ষে চারমাস দশদিন ইদ্দত পালন করবে। তারা এ ইদ্দতের মেয়াদ পূর্ণ করার পর স্বাধীনভাবে প্রচলিত ন্যায়পন্থায় নিজেদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তাদের এ সিদ্ধান্তে তোমাদের কোনো দায়ভার নেই। মনে রেখো, তোমরা যেসব কাজ করে থাকো, আল্লাহ সেসবের পূর্ণ খবর রাখেন।
وَلَا جُنَاحَ عَلَیْكُمْ فِیْمَا عَرَّضْتُمْ بِهٖ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَآءِ اَوْ اَكْنَنْتُمْ فِیْۤ اَنْفُسِكُمْ ؕ عَلِمَ اللّٰهُ اَنَّكُمْ سَتَذْكُرُوْنَهُنَّ وَلٰكِنْ لَّا تُوَاعِدُوْهُنَّ سِرًّا اِلَّاۤ اَنْ تَقُوْلُوْا قَوْلًا مَّعْرُوْفًا ؕ۬ وَلَا تَعْزِمُوْا عُقْدَةَ النِّكَاحِ حَتّٰی یَبْلُغَ الْكِتٰبُ اَجَلَهٗ ؕ وَاعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ یَعْلَمُ مَا فِیْۤ اَنْفُسِكُمْ فَاحْذَرُوْهُ ۚ وَاعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ حَلِیْمٌ۠ 235
235. ইদ্দত পালনকালে এসব বিধবাদের কাছে যদি তোমরা আকারে-ইঙ্গিতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাও কিংবা মনে মনে বিয়ের জন্যে পছন্দ করে রাখো, তবে তাতে তোমাদের কোনো পাপ হবে না। আল্লাহ জানেন যে, তাদের খেয়াল তোমাদের মনে জাগবে, এটা স্বাভাবিক। তোমরা প্রচলিত ন্যায়পন্থায় বিয়ের প্রস্তাব দাও; কিন্তু কখনো গোপনে প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখো না। তবে সাবধান! তাদের নির্ধারিত ইদ্দত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেবে না। ভালোভাবে জেনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের মনের অবস্থাও জানেন। সুতরাং তাঁকে ভয় করে চলো এবং মনে রেখো, আল্লাহ বান্দার প্রতি বড়ই ক্ষমাপরায়ন, বড়ই সহনশীল।
لَا جُنَاحَ عَلَیْكُمْ اِنْ طَلَّقْتُمُ النِّسَآءَ مَا لَمْ تَمَسُّوْهُنَّ اَوْ تَفْرِضُوْا لَهُنَّ فَرِیْضَةً ۖۚ وَّمَتِّعُوْهُنَّ ۚ عَلَی الْمُوْسِعِ قَدَرُهٗ وَعَلَی الْمُقْتِرِ قَدَرُهٗ ۚ مَتَاعًۢا بِالْمَعْرُوْفِ ۚ حَقًّا عَلَی الْمُحْسِنِیْنَ 236
236. তোমরা স্ত্রীদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক বা মোহরানা নির্ধারণ করার আগেই যদি তাদের তালাক দিতে চাও, তবে তা দিতে পারো। তবে এ অবস্থায় অবশ্যই তাদেরকে কিছু না কিছু সম্পদ দেবে। প্রচলিত ন্যায়পন্থায় স্বচ্ছল ও অস্বচ্ছলÑ উভয় ব্যক্তিই তার সামর্থানুযায়ী তা আদায় করবে। সৎলোকদের উপর এটি আল্লাহর দেয়া একটি গুরু দায়িত্ব।
وَاِنْ طَلَّقْتُمُوْهُنَّ مِنْ قَبْلِ اَنْ تَمَسُّوْهُنَّ وَقَدْ فَرَضْتُمْ لَهُنَّ فَرِیْضَةً فَنِصْفُ مَا فَرَضْتُمْ اِلَّاۤ اَنْ یَّعْفُوْنَ اَوْ یَعْفُوَا الَّذِیْ بِیَدِهٖ عُقْدَةُ النِّكَاحِ ؕ وَاَنْ تَعْفُوْۤا اَقْرَبُ لِلتَّقْوٰی ؕ وَلَا تَنْسَوُا الْفَضْلَ بَیْنَكُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ 237
237. আর যদি মোহরানা নির্ধারিত হয়েছে; কিন্তু শারীরিক সম্পর্ক হয়নি এ অবস্থায় তাদের তালাক দাও, তবে ধার্যকৃত মোহরানার অর্ধেক পরিশোধ করো। এ সময় স্ত্রীরা যদি তাদের পক্ষ থেকে মোহরানা না নিতে চায় কিংবা স্বামী যদি তার পক্ষ থেকে পূর্ণ মোহরানা আদায় করতে চায়, তবে তা ভিন্ন কথা। অবশ্য এ ব্যাপারে স্বামীদের এগিয়ে আসা উচিত। এটাই তাদের কাছে তাকওয়ার দাবি। আর নিজেদের মধ্যে তোমরা উদারতা ও সহৃদয়তা ভুলে যেয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ করছেন।
حٰفِظُوْا عَلَی الصَّلَوٰتِ وَالصَّلٰوةِ الْوُسْطٰی ۗ وَقُوْمُوْا لِلّٰهِ قٰنِتِیْنَ 238
238. তোমাদের নামাজগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করো। বিশেষভাবে মধ্যবর্তী নামাজে বেশি যতœবান হও। আর নামাজে তোমরা আল্লাহর সামনে বিনয়-অবনত হয়ে দাঁড়াও।
فَاِنْ خِفْتُمْ فَرِجَالًا اَوْ رُكْبَانًا ۚ فَاِذَاۤ اَمِنْتُمْ فَاذْكُرُوا اللّٰهَ كَمَا عَلَّمَكُمْ مَّا لَمْ تَكُوْنُوْا تَعْلَمُوْنَ 239
239. তবে তোমরা যদি প্রকাশ্যে স্বাভাবিকভাবে নামাজ আদায়ে ভয় পাও, তবে যাত্রাপথে হাঁটার ভঙ্গিতে অথবা যানবাহনে যেভাবে সম্ভব নামাজ আদায় করে নাও। এরপর যখন তোমরা পূর্ণ নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছাবে, তখন আল্লাহর শেখানো সেই পদ্ধতিতে তাঁকে স্মরণ করো; যে পদ্ধতি তোমরা আগে জানতে না।
وَالَّذِیْنَ یُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَیَذَرُوْنَ اَزْوَاجًا ۖۚ وَّصِیَّةً لِّاَزْوَاجِهِمْ مَّتَاعًا اِلَی الْحَوْلِ غَیْرَ اِخْرَاجٍ ۚ فَاِنْ خَرَجْنَ فَلَا جُنَاحَ عَلَیْكُمْ فِیْ مَا فَعَلْنَ فِیْۤ اَنْفُسِهِنَّ مِنْ مَّعْرُوْفٍ ؕ وَاللّٰهُ عَزِیْزٌ حَكِیْمٌ 240
240. হে ঈমানদারেরা, তোমাদের যেসব স্বামীরা মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তারা যেনো তাদের রেখে যাওয়া স্ত্রীদের ব্যাপারে উত্তরাধিকারীদের অসিয়ত করে যায়, যাতে তার বিধবা স্ত্রী অন্তত এক বছরের ভরণ-পোষণ পায় এবং আগের বাড়ি-ঘরে থাকার সুযোগ পায়। স্ত্রীরা যদি এ সময়ের মধ্যে নিজেরা স্বেচ্ছায় বাড়ি-ঘর ছেড়ে চলে যায়, তবে প্রচলিত ন্যায়পন্থায় তারা নিজেদের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নিক না কেন, তাতে তোমাদের কোনো দায়ভার নেই। জেনে রেখো, আল্লাহ তোমদের সবার উপরেই ক্ষমতাবান এবং তিনি অতি বিচক্ষণ।
وَلِلْمُطَلَّقٰتِ مَتَاعٌۢ بِالْمَعْرُوْفِ ؕ حَقًّا عَلَی الْمُتَّقِیْنَ 241
241. একইভাবে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীরাও নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত প্রচলিত ন্যায়পন্থায় ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার রাখে। আল্লাহর মুত্তাকী বান্দাদের জন্যে এটি আবশ্যই পালনীয় দায়িত্ব।
كَذٰلِكَ یُبَیِّنُ اللّٰهُ لَكُمْ اٰیٰتِهٖ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُوْنَ۠ 242
242. আল্লাহ এভাবেই একটা একটা করে তাঁর সব বিধি-বিধান তোমাদের পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছেন। আশা করা যায়, তোমরা এসব ব্যাপারে ভেবেচিন্তে কাজ করবে।
اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْنَ خَرَجُوْا مِنْ دِیَارِهِمْ وَهُمْ اُلُوْفٌ حَذَرَ الْمَوْتِ ۪ فَقَالَ لَهُمُ اللّٰهُ مُوْتُوْا ۫ ثُمَّ اَحْیَاهُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَذُوْ فَضْلٍ عَلَی النَّاسِ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا یَشْكُرُوْنَ 243
243. হে নবী, তুমি কি বনি ইসরাইলের সেসব হাজার হাজার লোকের পরিণতি দেখো নাই, যারা মৃত্যু থেকে বাঁচার জন্যে নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলো? ঐ সময় আল্লাহ হুকুম জারি করলেন, তোমরা সবাই মরে যাও। ফলে তাদের সবার মৃত্যু হলো। অতঃপর আল্লাহ তাদের নতুন করে জীবন দিলেন। আসলে আল্লাহ মানুষের প্রতি খুবই দয়া ও অনুগ্রহ করে থাকেন। কিন্তু আফসোস! অধিকাংশ লোকই এসব অনুগ্রহের শোকর আদায় করে না।
وَقَاتِلُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَاعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ 244
244. হে ঈমানদারেরা, তোমরা আল্লাহর নির্দেশিত পথে যুদ্ধে নামো। জেনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের সব শোনেন, সব জানেন।
مَنْ ذَا الَّذِیْ یُقْرِضُ اللّٰهَ قَرْضًا حَسَنًا فَیُضٰعِفَهٗ لَهٗۤ اَضْعَافًا كَثِیْرَةً ؕ وَاللّٰهُ یَقْبِضُ وَیَبْصُۜطُ ۪ وَاِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ 245
245. তোমাদের মধ্যে কে আল্লাহকে ‘কর্জে হাসানা’ হিসেবে ঋণ দেবে? জেনে রেখো, আল্লাহ এসব ঋণকে বহুগুণে বাড়িয়ে দাতাকে ফিরিয়ে দিবেন। প্রকৃতার্থে আল্লাহই তোমাদের সম্পদ বাড়ান এবং কমান। আর একদিন তোমাদের তাঁর কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে।
اَلَمْ تَرَ اِلَی الْمَلَاِ مِنْۢ بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ مِنْۢ بَعْدِ مُوْسٰی ۘ اِذْ قَالُوْا لِنَبِیٍّ لَّهُمُ ابْعَثْ لَنَا مَلِكًا نُّقَاتِلْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ؕ قَالَ هَلْ عَسَیْتُمْ اِنْ كُتِبَ عَلَیْكُمُ الْقِتَالُ اَلَّا تُقَاتِلُوْا ؕ قَالُوْا وَمَا لَنَاۤ اَلَّا نُقَاتِلَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَقَدْ اُخْرِجْنَا مِنْ دِیَارِنَا وَاَبْنَآىِٕنَا ؕ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَیْهِمُ الْقِتَالُ تَوَلَّوْا اِلَّا قَلِیْلًا مِّنْهُمْ ؕ وَاللّٰهُ عَلِیْمٌۢ بِالظّٰلِمِیْنَ 246
246. হে নবী, তুমি কি বনি ইসরাইলের সেসব নেতাদের আচরণ দেখেছো, যারা তাদের নবীর কাছে আবেদন করে বললো আমাদের উপর একজন বাদশাহ নিযুক্ত করুন, যার নেতৃত্বে আমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবো। এ ঘটনা ঘটেছিলো মুসার মৃত্যুর অনেক পরে। নবী সেসব নেতাদের জিজ্ঞেস করলো, যুদ্ধের হুকুম দেবার পর যুদ্ধ না করে তোমরা পালিয়ে যাবে নাতো? তারা নবীকে অভয় দিয়ে বলতে লাগলো, যখন আমাদেরকে ঘর-বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, আমাদের থেকে আপন সন্তানদের ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে, এরপরেও আল্লাহর পথে কেন যুদ্ধে নামবো না? আমরা অবশ্যই যুদ্ধ করবো। কী আজব! দেখো, এরপর যখন সত্যি সত্যি ওদেরকে যুদ্ধে যাবার হুকুম দেয়া হলো, তখন ওদের অল্প ক’জন ছাড়া প্রায় সবাই যুদ্ধ থেকে পালিয়ে গেলো। আল্লাহ এসব জালেমদের আচার-ব্যবহার সম্পর্কে খুব ভালোই জানেন।
وَقَالَ لَهُمْ نَبِیُّهُمْ اِنَّ اللّٰهَ قَدْ بَعَثَ لَكُمْ طَالُوْتَ مَلِكًا ؕ قَالُوْۤا اَنّٰی یَكُوْنُ لَهُ الْمُلْكُ عَلَیْنَا وَنَحْنُ اَحَقُّ بِالْمُلْكِ مِنْهُ وَلَمْ یُؤْتَ سَعَةً مِّنَ الْمَالِ ؕ قَالَ اِنَّ اللّٰهَ اصْطَفٰىهُ عَلَیْكُمْ وَزَادَهٗ بَسْطَةً فِی الْعِلْمِ وَالْجِسْمِ ؕ وَاللّٰهُ یُؤْتِیْ مُلْكَهٗ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰهُ وَاسِعٌ عَلِیْمٌ 247
247. এরপর এসব নেতাদের ডেকে নবী বললো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তালুতকে তোমাদের বাদশাহ নিযুক্ত করেছেন। একথা শুনে নেতারা অবাক হয়ে বলতে লাগলো, বাদশাহ হওয়ার জন্যে আমাদের মতো নেতারাই অধিক যোগ্য ছিলো; তালুততো একজন সাধারণ ব্যক্তি, সে আমাদের উপর কিভাবে বাদশাহী করতে পারে? এমনকি তার তো তেমন একটা ধন-সম্পদও নেই। নবী জবাব দিলো, আল্লাহ তোমাদের পরিবর্তে তালুতকেই বাদশাহ হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। আর এ বাদশাহী চালানোর জন্য তাকে প্রচুর জ্ঞান ও শারীরিক সক্ষমতা দান করেছেন। জেনে রাখো, আল্লাহ যাকে চান কেবল সে-ই বাদশাহী পেয়ে থাকে। আসলে আল্লাহ সবচেয়ে প্রাচুর্যময় এবং সবকিছুর ভালো-মন্দ তিনিই জানেন।
وَقَالَ لَهُمْ نَبِیُّهُمْ اِنَّ اٰیَةَ مُلْكِهٖۤ اَنْ یَّاْتِیَكُمُ التَّابُوْتُ فِیْهِ سَكِیْنَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَبَقِیَّةٌ مِّمَّا تَرَكَ اٰلُ مُوْسٰی وَاٰلُ هٰرُوْنَ تَحْمِلُهُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ۠ 248
248. এ সময় নবী তাদের সামানে তালুতের সফল বাদশাহীর একটি নিদর্শন পেশ করলো। সে বললো, তার শাসনামলেই তোমাদের হারিয়ে যাওয়া সেই সিন্দুকটি ফিরে পাবে, যার মধ্যে তোমাদের মানসিক প্রশান্তির জন্যে তোমাদের প্রভুর দেয়া নেয়ামত রয়েছে এবং মুসা ও হারুনের পরিবারের রেখে যাওয়া কিছু বরকতময় জিনিসপত্রও রয়েছে। আসলে বর্তমানে সে সিন্দুকটি ফেরেশতারা বহন করে ফিরছে। যদি তোমরা সত্যিকারের মুমিন হয়ে থাকো, তবে এ ঘটনায় তোমাদের জন্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে।
فَلَمَّا فَصَلَ طَالُوْتُ بِالْجُنُوْدِ ۙ قَالَ اِنَّ اللّٰهَ مُبْتَلِیْكُمْ بِنَهَرٍ ۚ فَمَنْ شَرِبَ مِنْهُ فَلَیْسَ مِنِّیْ ۚ وَمَنْ لَّمْ یَطْعَمْهُ فَاِنَّهٗ مِنِّیْۤ اِلَّا مَنِ اغْتَرَفَ غُرْفَةًۢ بِیَدِهٖ ۚ فَشَرِبُوْا مِنْهُ اِلَّا قَلِیْلًا مِّنْهُمْ ؕ فَلَمَّا جَاوَزَهٗ هُوَ وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مَعَهٗ ۙ قَالُوْا لَا طَاقَةَ لَنَا الْیَوْمَ بِجَالُوْتَ وَجُنُوْدِهٖ ؕ قَالَ الَّذِیْنَ یَظُنُّوْنَ اَنَّهُمْ مُّلٰقُوا اللّٰهِ ۙ كَمْ مِّنْ فِئَةٍ قَلِیْلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِیْرَةًۢ بِاِذْنِ اللّٰهِ ؕ وَاللّٰهُ مَعَ الصّٰبِرِیْنَ 249
249. এরপর তালুতের ইতিহাসের দিকে তাকাও, সে তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে যুদ্ধের জন্যে এগিয়ে চললো। এক সময় সে সৈন্যদের বললো, সামনে একটি নদী রয়েছে। এ নদীর পানি পান করা ও না করার উপর আল্লাহ তোমাদের পরীক্ষা নেবেন। তোমাদের কেউ যদি সেখানকার পানি পান করে, তবে তাকে বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হবে। বাহিনীতে কেবল তারাই থাকবে, যারা পানি পান করবে না। তবে কেউ সামান্য দুই এক আঁজলা পান করলে, তাকে ক্ষমা করা হবে। এতসব হুশিয়ারির পরেও সেদিন তাদের অল্প কয়েকজন ছাড়া সবাই নদীর পনিতে আকণ্ঠ মজে গেলো। এরপর তালুত ও তার ঈমানদার সৈন্যরা নদী পার হয়ে এলো। এ সময় সৈন্যদের একাংশ বলতে লাগলো, আজ জালুত ও তার বিরাট সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই। কিন্তু যে সামান্য কয়েকজন একথা দৃঢ়ভাবে ধারণ করতো যে, একদিন না একদিন আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ ঘটবেই, তারা এসব ভীরু সৈন্যদের বুঝাতে লাগলো। তারা বললো, ইতিহাস সাক্ষী! অসংখ্যবার বিরাট সৈন্য বাহিনীর উপর আল্লাহ অল্প সৈন্য বাহিনীকে বিজয় দিয়েছেন। বস্তুত আল্লাহ কেবল ধৈর্যশীলদেরই সঙ্গী হয়ে থাকেন।
وَلَمَّا بَرَزُوْا لِجَالُوْتَ وَجُنُوْدِهٖ قَالُوْا رَبَّنَاۤ اَفْرِغْ عَلَیْنَا صَبْرًا وَّثَبِّتْ اَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَی الْقَوْمِ الْكٰفِرِیْنَؕ 250
250. এ সবকিছুর পর যখন তারা জালুত ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলো, তখন তারা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করলো, হে আমাদের রব, যুদ্ধের ময়দানে আমাদের ধৈর্য দান করো, ময়দানে আমাদের পা’গুলো মজবুত রাখো এবং কাফের বাহিনীর মোকাবেলায় আমাদের বিজয় দান করো।
فَهَزَمُوْهُمْ بِاِذْنِ اللّٰهِ ۙ۫ وَقَتَلَ دَاوٗدُ جَالُوْتَ وَاٰتٰىهُ اللّٰهُ الْمُلْكَ وَ الْحِكْمَةَ وَعَلَّمَهٗ مِمَّا یَشَآءُ ؕ وَلَوْ لَا دَفْعُ اللّٰهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ ۙ لَّفَسَدَتِ الْاَرْضُ وَلٰكِنَّ اللّٰهَ ذُوْ فَضْلٍ عَلَی الْعٰلَمِیْنَ 251
251. অতঃপর যুদ্ধে তালুত বাহিনী আল্লাহর সাহায্যে কাফেরদের পরাজিত করলো। এ যুদ্ধে দাউদ কাফের প্রধান জালুতকে হত্যা করলো। আর এভাবেই আল্লাহ দাউদকে বাদশাহী দিলেন এবং বাদশাহী পরিচালনার হেকমতও দান করলেন। পাশাপাশি তাকে নিজের ইচ্ছানুযায়ী আরো অনেক কিছু শিখালেন। জেনে রেখো, এভাবে আল্লাহ যদি মানুষের এক দলকে আরেক দলের সাহায্যে দমন না করতেন, তবে পৃথিবী বিশৃঙ্খলায় ভরে যেতো। কিন্তু আল্লাহ এ পদ্ধতিতে দুনিয়াবাসীদের উপর অপার দয়া ও অনুগ্রহ করে থাকেন।
تِلْكَ اٰیٰتُ اللّٰهِ نَتْلُوْهَا عَلَیْكَ بِالْحَقِّ ؕ وَاِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِیْنَ 252
252. হে নবী, এতোক্ষণ যা শুনলে, এর প্রত্যেকটি আল্লাহর আয়াত। আমি ঠিকঠাক এগুলো তোমাকে শুনালাম। আর নিশ্চিত থাকো যে, তুমি একজন আল্লাহর রসুল।
تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلٰی بَعْضٍ ۘ مِنْهُمْ مَّنْ كَلَّمَ اللّٰهُ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجٰتٍ ؕ وَاٰتَیْنَا عِیْسَی ابْنَ مَرْیَمَ الْبَیِّنٰتِ وَاَیَّدْنٰهُ بِرُوْحِ الْقُدُسِ ؕ وَلَوْ شَآءَ اللّٰهُ مَا اقْتَتَلَ الَّذِیْنَ مِنْۢ بَعْدِهِمْ مِّنْۢ بَعْدِ مَا جَآءَتْهُمُ الْبَیِّنٰتُ وَلٰكِنِ اخْتَلَفُوْا فَمِنْهُمْ مَّنْ اٰمَنَ وَ مِنْهُمْ مَّنْ كَفَرَ ؕ وَلَوْ شَآءَ اللّٰهُ مَا اقْتَتَلُوْا ۫ وَلٰكِنَّ اللّٰهَ یَفْعَلُ مَا یُرِیْدُ۠ 253
253. এভাবে অনেক রসুল এসেছে। আমি প্রত্যেক রসুলকে ভিন্ন ভিন্ন মর্যাদা দিয়েছি। তাদের কারো সাথে আল্লাহ সরাসরি কথা বলেছেন। আবার কাউকে ভিন্নভাবে মর্যাদা দিয়েছেন। তাদেরই একজন মরিয়াম পুত্র ঈসা যাকে সুস্পষ্ট নিদর্শন দিয়েছি এবং পবিত্র আত্মা দ্বারা সাহায্য করেছি। এসব নবীদের বিদায়ের পর তাদের অনুসারীরা সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়ার পরেও নিজেদের মধ্যে দলাদলি করে লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে। আল্লাহ জোর করে ওদেরকে তখন ঝগড়া-ফাসাদ থেকে বাঁচাননি। কেননা ওরা নবীদের রেখে যাওয়া নির্দেশনার ব্যাপারে মতবিরোধ করেছে। একদল ঈমান এনেছে; অপরদল কুফরি করেছে। হ্যাঁ! আল্লাহ চাইলে ওরা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে জড়াতো না; কিন্তু আল্লাহ কেবল নিজের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করেন।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَنْفِقُوْا مِمَّا رَزَقْنٰكُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ یَّاْتِیَ یَوْمٌ لَّا بَیْعٌ فِیْهِ وَلَا خُلَّةٌ وَّلَا شَفَاعَةٌ ؕ وَ الْكٰفِرُوْنَ هُمُ الظّٰلِمُوْنَ 254
254. হে ঈমানদারেরা, আমি তোমাদের যে ধন-সম্পদ দিয়েছি, তা থেকে কেয়ামত আসার আগেই খরচ করো। কেননা সেদিন কোনো বেচা-কেনা থাকবে না। কোনো বন্ধু বন্ধুর উপকারে আসবে না। এমনকি, কেউ কারো জন্যে সুপারিশও করবে না। কাজেই এখন যারা কুফরির পথে হাটবে, ওরাই জালেম বলে গণ্য হবে।
اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ اَلْحَیُّ الْقَیُّوْمُ ۚ۬ لَا تَاْخُذُهٗ سِنَةٌ وَّلَا نَوْمٌ ؕ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ ؕ مَنْ ذَا الَّذِیْ یَشْفَعُ عِنْدَهْۤ اِلَّا بِاِذْنِهٖ ؕ یَعْلَمُ مَا بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۚ وَلَا یُحِیْطُوْنَ بِشَیْءٍ مِّنْ عِلْمِهٖۤ اِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِیُّهُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ ۚ وَ لَا یَـُٔوْدُهٗ حِفْظُهُمَا ۚ وَ هُوَ الْعَلِیُّ الْعَظِیْمُ 255
255. আল্লাহ এমন এক চিরঞ্জীব সত্তা, যিনি সৃষ্টি জগতের সবকিছু ধারণ করে আছেন। তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তাঁকে ঘুম কিংবা তন্দ্রা কিছুই স্পর্শ করে না। মহাকাশ ও পৃথিবীর সবকিছইু তাঁর একক মালিকানায়। কে আছে এমন, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে কোনো ধরনের সুপারিশ করার সাহস দেখাতে পারে? তিনি মানুষের অতীত ও ভবিষ্যৎ একইসাথে জানেন। মানুষের পক্ষে তাঁর জ্ঞানের সীমা খুঁজে পাওয়া কোনোদিনই সম্ভব নয়। তিনি যেটুকু জ্ঞান মানুষকে দিয়েছেন, মানুষ কেবল তাই পেয়েছে। তাঁর সুমহান কর্তৃত্ব মহাকাশ ও পৃথিবীর সবকিছুর উপর ব্যাপ্ত। এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে কখনো ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত করে না। আসলে তিনি এক সুউচ্চ ও সুমহান সত্তা।
لَاۤ اِكْرَاهَ فِی الدِّیْنِ ۙ۫ قَدْ تَّبَیَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَیِّ ۚ فَمَنْ یَّكْفُرْ بِالطَّاغُوْتِ وَیُؤْمِنْۢ بِاللّٰهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقٰی ۗ لَا انْفِصَامَ لَهَا ؕ وَاللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ 256
256. মনে রেখো, দ্বীন গ্রহনের ব্যাপারে কাউকে জোর-জবরদস্তি করা হবে না। কেননা ভ্রান্তপথ থেকে সঠিকপথকে সুস্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখানো হয়েছে। সুতরাং এখন কেউ যদি তাগুতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহকে মেনে নেয়, তবে সে এমন একটি মজবুত অবলম্বন ধারণ করলো, যা কোনোদিনই ভেঙ্গে যাবে না। বস্তুত আল্লাহ সব শোনেন, সব জানেন।
اَللّٰهُ وَلِیُّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا ۙ یُخْرِجُهُمْ مِّنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوْرِ ؕ۬ وَالَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اَوْلِیٰٓـُٔهُمُ الطَّاغُوْتُ ۙ یُخْرِجُوْنَهُمْ مِّنَ النُّوْرِ اِلَی الظُّلُمٰتِ ؕ اُولٰٓئِكَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ۠ 257
257. প্রকৃতার্থে আল্লাহই হলেন ঈমানদারদের বন্ধু-অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধকারের শতপথ থেকে বের করে আলোর পথে নিয়ে আসেন। পক্ষান্তরে যারা কুফরির পথে হাঁটে, ওদের অভিভাবক হলো তাগুত। এ তাগুতেরা ওদেরকে আলোর মহাসড়ক থেকে অন্ধকারের শত অলিগলিতে নিয়ে যায়। সন্দেহ নেই, ওরাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে ওরা চিরকাল পড়ে থাকবে।
اَلَمْ تَرَ اِلَی الَّذِیْ حَآجَّ اِبْرٰهٖمَ فِیْ رَبِّهٖۤ اَنْ اٰتٰىهُ اللّٰهُ الْمُلْكَ ۘ اِذْ قَالَ اِبْرٰهٖمُ رَبِّیَ الَّذِیْ یُحْیٖ وَ یُمِیْتُ ۙ قَالَ اَنَا اُحْیٖ وَ اُمِیْتُ ؕ قَالَ اِبْرٰهٖمُ فَاِنَّ اللّٰهَ یَاْتِیْ بِالشَّمْسِ مِنَ الْمَشْرِقِ فَاْتِ بِهَا مِنَ الْمَغْرِبِ فَبُهِتَ الَّذِیْ كَفَرَ ؕ وَاللّٰهُ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الظّٰلِمِیْنَۚ 258
258. হে নবী, তুমি কি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু জানো, যে ইবরাহিমের সাথে তাদের আসল প্রভু কে এই বিষয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলো? আসলে ঐ লোকটিকে আল্লাহ সামান্য রাজত্ব দান করেছিলেন। যখন ইবরাহিম বললো, আমার প্রভু সবকিছুর জীবন ও মৃত্যু দান করেন, তখন লোকটি বলে উঠলো, আমিইতো সবাইকে জীবন দেই, আবার চাইলে মৃত্যুও দেই। জবাব শুনে ইবরাহিম বললো, ও আচ্ছা! শোনো, আমার প্রভু নিয়মিত পূর্বদিক থেকে সূর্য উঠান। তুমি যদি সত্যি সত্যি প্রভু হয়ে থাকো, তবে এ সূর্যকে অন্তত একদিন পশ্চিম দিক থেকে উঠাও দেখি! এ যুক্তি শুনে সে কাফের লোকটি হতভম্ব হয়ে গেলো। আসলে আল্লাহ জালেমদের কখনো সঠিক পথ দেখান না।
اَوْ كَالَّذِیْ مَرَّ عَلٰی قَرْیَةٍ وَّهِیَ خَاوِیَةٌ عَلٰی عُرُوْشِهَا ۚ قَالَ اَنّٰی یُحْیٖ هٰذِهِ اللّٰهُ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ فَاَمَاتَهُ اللّٰهُ مِائَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهٗ ؕ قَالَ كَمْ لَبِثْتَ ؕ قَالَ لَبِثْتُ یَوْمًا اَوْ بَعْضَ یَوْمٍ ؕ قَالَ بَلْ لَّبِثْتَ مِائَةَ عَامٍ فَانْظُرْ اِلٰی طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ یَتَسَنَّهْ ۚ وَانْظُرْ اِلٰی حِمَارِكَ وَ لِنَجْعَلَكَ اٰیَةً لِّلنَّاسِ وَ انْظُرْ اِلَی الْعِظَامِ كَیْفَ نُنْشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوْهَا لَحْمًا ؕ فَلَمَّا تَبَیَّنَ لَهٗ ۙ قَالَ اَعْلَمُ اَنَّ اللّٰهَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ 259
259. অথবা তুমি সেই লোকটিকে দেখো, যে তার যাত্রাপথে এমন একটি জনপদ অতিক্রম করছিলো, যার ঘর-বাড়ির ছাদগুলো পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে মাটির সাথে মিশে গিয়েছিলো। সে নিজে নিজে বলে উঠলো, এ ধরনের ধ্বংসপ্রাপ্ত জনবসতিকে আল্লাহ আবার কিভাবে জীবিত করবেন? একথা বলার পরেই লোকটিকে আল্লাহ মৃত্যু দিলেন এবং সে ঐ অবস্থায় সেখানে একশ বছর পড়ে রইল। এরপর আল্লাহ তাকে আবার জীবন দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা! বলোতো, তুমি এখানে কত সময় ধরে পড়েছিলে? লোকটি বললো, এইতো কয়েক ঘন্টা বা বড়জোর একদিন হবে। আল্লাহ বললেন, না! বরং তুমি এখানে একশ বছর মৃতাবস্থায় পড়েছিলে। আচ্ছা! এবার তোমার খাবার ও পানীয়র দিকে তাকাও, দেখো! তা মোটেও নষ্ট হয়নি। অন্যদিকে তোমার গাধাটার দিকে তাকাও, দেখো! তার কয়েকটা হাড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আসলে আমি তোমাকে মানুষের কাছে আমার সক্ষমতার একটি নিদর্শন বানাতে চাই। এবার দেখো, কিভাবে এ গাধার হাড়গুলোকে একত্র করে, তার গয়ে গোশত ও চামড়া লাগিয়ে জীবিত করে তুলি। এভাবে যখন আমার সক্ষমতার প্রমাণ সে দেখলো, তখন সে বলে উঠলো, আমি এখন ভালোভাবেই জানি, আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
وَاِذْ قَالَ اِبْرٰهٖمُ رَبِّ اَرِنِیْ كَیْفَ تُحْیِ الْمَوْتٰی ؕ قَالَ اَوَ لَمْ تُؤْمِنْ ؕ قَالَ بَلٰی وَ لٰكِنْ لِّیَطْمَىِٕنَّ قَلْبِیْ ؕ قَالَ فَخُذْ اَرْبَعَةً مِّنَ الطَّیْرِ فَصُرْهُنَّ اِلَیْكَ ثُمَّ اجْعَلْ عَلٰی كُلِّ جَبَلٍ مِّنْهُنَّ جُزْءًا ثُمَّ ادْعُهُنَّ یَاْتِیْنَكَ سَعْیًا ؕ وَاعْلَمْ اَنَّ اللّٰهَ عَزِیْزٌ حَكِیْمٌ۠ 260
260. হে নবী, তুমি ইবরাহিমের সে কথাগুলো স্মরণ করো, যখন সে আল্লাহকে বললো, হে আমার প্রভু, তুমি কিভাবে মৃতকে জীবিত বানাবে- আমাকে একটু দেখাও। আল্লাহ বললেন, তুমি কি আমার এ সক্ষমতার উপর ঈমান রাখো না? ইবরাহিম আরজ করলো, হ্যাঁ! ঈমানতো অবশ্যই রাখি; তবে দেখতে পেলে অন্তর প্রশান্ত হতো। আল্লাহ বললেন, আচ্ছা! তাহলে তুমি চারটা পাখিকে ভালো করে পোষ মানিয়ে নাও। এরপর এগুলোকে টুকরা টুকরা করে বিভিন্ন পাহাড়ের উপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখো। অতঃপর এ পাখিগুলোকে ডাক দাও, দেখবে এগুলো তোমার কাছে ছুটে এসেছে। কাজেই জেনে রেখো, আল্লাহ সবকিছুর উপর প্রবল পরাক্রমশালী এবং পরম প্রজ্ঞাময়।
مَثَلُ الَّذِیْنَ یُنْفِقُوْنَ اَمْوَالَهُمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ اَنْۢبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِیْ كُلِّ سُنْۢبُلَةٍ مِّائَةُ حَبَّةٍ ؕ وَ اللّٰهُ یُضٰعِفُ لِمَنْ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰهُ وَاسِعٌ عَلِیْمٌ 261
261. হে ঈমানদারেরা, যারা নিজেদের ধন-সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে, তাদের এ ব্যয়ের উপমা এমন একটি শস্যবীজের মতো, যা থেকে সাতটি শীষ উৎপন্ন হয় যার প্রতিটি শীষেই থাকে একশ শস্যদানা। এভাবেই আল্লাহ যাকে চান বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। জেনে রেখো, আল্লাহ যথেষ্ট প্রাচুর্যময় এবং মহাজ্ঞানী।
اَلَّذِیْنَ یُنْفِقُوْنَ اَمْوَالَهُمْ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ ثُمَّ لَا یُتْبِعُوْنَ مَاۤ اَنْفَقُوْا مَنًّا وَّلَاۤ اَذًی ۙ لَّهُمْ اَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ ۚ وَلَا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَ لَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ 262
262. যারা আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে এবং এরপর সে দানের কথা মানুষের মধ্যে বলে বেড়ায় না, এমনকি যাকে সাহায্য করেছে তাকেও এ দানের বিনিময়ে খোটা বা কষ্ট দেয় না তাদের প্রতিদান আল্লাহর জিম্মায় রয়েছে। এদের কোনো ভয় নেই, কোনো দুঃশ্চিন্তা নেই।
قَوْلٌ مَّعْرُوْفٌ وَّمَغْفِرَةٌ خَیْرٌ مِّنْ صَدَقَةٍ یَّتْبَعُهَاۤ اَذًی ؕ وَ اللّٰهُ غَنِیٌّ حَلِیْمٌ 263
263. কাউকে দান করে কষ্ট দেয়ার চেয়ে, তার সাথে হাসিমুখে উপকারী কথা বলা কিংবা কোনো তাকে ক্ষমা করে দেয়া অনেক বেশি ভালো। বস্তুত আল্লাহই একমাত্র অভাবমুক্ত। বড়ই সহনশীল।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تُبْطِلُوْا صَدَقٰتِكُمْ بِالْمَنِّ وَ الْاَذٰی ۙ كَالَّذِیْ یُنْفِقُ مَالَهٗ رِئَآءَ النَّاسِ وَلَا یُؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ فَمَثَلُهٗ كَمَثَلِ صَفْوَانٍ عَلَیْهِ تُرَابٌ فَاَصَابَهٗ وَابِلٌ فَتَرَكَهٗ صَلْدًا ؕ لَا یَقْدِرُوْنَ عَلٰی شَیْءٍ مِّمَّا كَسَبُوْا ؕ وَاللّٰهُ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الْكٰفِرِیْنَ 264
264. হে ঈমানদারেরা, তোমরা খোটা কিংবা কষ্ট দিয়ে তোমাদের দানকে ঐ ব্যক্তির মতো নষ্ট করে ফেলো না, যে নিছক লোক দেখানোর জন্যে দান করে। আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি তার কোনো বিশ্বাস নেই। এ ধরনের লোকদের দৃষ্টান্ত হলো ঐ মসৃণ পাথরের মতো, যার উপর মাটির প্রলেপ পড়েছিলো। অতঃপর প্রবল বৃষ্টিতে সব মাটি ধুয়ে গেলো। ফলে কেবল পাথরটিই পড়ে রইলো। আসলে এ ধরনের দানকারীরা দানের যে বিনিময় পাবার কথা, তার কিছুই পায় না। বস্তুত কাফেরেরা আল্লাহর দেখানো সত্য-সঠিক পথ খুঁজে পায় না।
وَمَثَلُ الَّذِیْنَ یُنْفِقُوْنَ اَمْوَالَهُمُ ابْتِغَآءَ مَرْضَاتِ اللّٰهِ وَتَثْبِیْتًا مِّنْ اَنْفُسِهِمْ كَمَثَلِ جَنَّةٍۭ بِرَبْوَةٍ اَصَابَهَا وَابِلٌ فَاٰتَتْ اُكُلَهَا ضِعْفَیْنِ ۚ فَاِنْ لَّمْ یُصِبْهَا وَابِلٌ فَطَلٌّ ؕ وَاللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ 265
265. অন্যদিকে তোমাদের যারা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে নিজেদের ধন-সম্পদ দান করে, তাদের এ দানের দৃষ্টান্ত হলো এমন যে, কোনো উঁচু জায়গায় একটি বাগান করা হলো। এখানে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে প্রত্যাশার দ্বিগুন ফল পাওয়া যায়। আর যদি বৃষ্টিপাত কমও হয়, তবুও সেখানে পর্যাপ্ত ফল জন্মে। জেনে রেখো, তোমাদের সব কাজকর্মই আল্লাহর দৃষ্টিসীমার মধ্যে রয়েছে।
اَیَوَدُّ اَحَدُكُمْ اَنْ تَكُوْنَ لَهٗ جَنَّةٌ مِّنْ نَّخِیْلٍ وَّاَعْنَابٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ ۙ لَهٗ فِیْهَا مِنْ كُلِّ الثَّمَرٰتِ ۙ وَاَصَابَهُ الْكِبَرُ وَلَهٗ ذُرِّیَّةٌ ضُعَفَآءُ ۪ۖ فَاَصَابَهَاۤ اِعْصَارٌ فِیْهِ نَارٌ فَاحْتَرَقَتْ ؕ كَذٰلِكَ یُبَیِّنُ اللّٰهُ لَكُمُ الْاٰیٰتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُوْنَ۠ 266
266. আচ্ছা! ভেবে দেখো! তোমাদের কারো খেজুর ও আঙুরসহ রকমারি ফল-মূলে ভরপুর একটি সবুজ-শ্যামল বাগান রয়েছে। এমনকি, বাগানের পাশ দিয়ে ঝর্নাধারাও প্রবাহিত। এদিকে বাগানওয়ালা বার্ধক্যে উপনীত; কিন্তু তার সন্তানগুলো এখনো ছোট-ছোট। বলো! এমন অবস্থায় সে কি চাইবে যে, তার জীবিকার অবলম্বন এই বাগানটি অগ্নিঝড়ের আঘাতে জ্বলে-পুড়ে ধ্বংস হয়ে যাক? এভাবে উদাহরণ দিয়ে আল্লাহ তাঁর কথাগুলো তোমাদের বুঝান, যাতে তোমরা ভেবে-চিন্তে জীবন চালাও।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَنْفِقُوْا مِنْ طَیِّبٰتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّاۤ اَخْرَجْنَا لَكُمْ مِّنَ الْاَرْضِ ۪ وَلَا تَیَمَّمُوا الْخَبِیْثَ مِنْهُ تُنْفِقُوْنَ وَلَسْتُمْ بِاٰخِذِیْهِ اِلَّاۤ اَنْ تُغْمِضُوْا فِیْهِ ؕ وَاعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ غَنِیٌّ حَمِیْدٌ 267
267. হে ঈমানদারেরা, তোমাদের উপার্জন থেকে কিংবা জমিনে উৎপাদিত ফল-ফসল থেকে যখন দান করবে তখন ভালো ও উৎকৃষ্ট অংশ দান করো। বেছে বেছে খারাপ জিনিস দান করতে যেয়ো না। কেননা এসব খারাপ জিনিস তোমরা নিজেরাও দেখে শুনে নিতে রাজি হবে না। তাহলে অন্যদের কিভাবে তা দাও? তোমাদের জেনে রাখা উচিত, নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত, সপ্রশংসিত।
اَلشَّیْطٰنُ یَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَیَاْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَآءِ ۚ وَاللّٰهُ یَعِدُكُمْ مَّغْفِرَةً مِّنْهُ وَ فَضْلًا ؕ وَاللّٰهُ وَاسِعٌ عَلِیْمٌۖۙ 268
268. মনে রেখো, শয়তান তোমাদের দারিদ্রের ভয় দেখায় এবং অশালীন কাজে প্রলুব্ধ করে। অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে অনবরত ক্ষমা ও অনুগ্রহের আশ্বাস দেন। বাস্তবে আল্লাহই প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।
یُّؤْتِی الْحِكْمَةَ مَنْ یَّشَآءُ ۚ وَ مَنْ یُّؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ اُوْتِیَ خَیْرًا كَثِیْرًا ؕ وَمَا یَذَّكَّرُ اِلَّاۤ اُولُوا الْاَلْبَابِ 269
269. আল্লাহ তাঁর ইচ্ছানুযায়ী পছন্দনীয়দেরকে হিকমত গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার শক্তি দিয়ে থাকেন। যে ব্যক্তি এ হিকমত পেলো, সে আসলে অবারিত কল্যাণ লাভ করলো। যদিও এসব কথা থেকে কেবল বিবেক-বুদ্ধিওয়ালারাই উপদেশ নিতে পারে।
وَمَاۤ اَنْفَقْتُمْ مِّنْ نَّفَقَةٍ اَوْ نَذَرْتُمْ مِّنْ نَّذْرٍ فَاِنَّ اللّٰهَ یَعْلَمُهٗ ؕ وَ مَا لِلظّٰلِمِیْنَ مِنْ اَنْصَارٍ 270
270. আর তোমরা আল্লাহর পথে যা কিছু ব্যয় করছো কিংবা মানত হিসেবে পেশ করছো, সে ব্যাপারে আল্লাহ পুঙ্খানুপুঙ্খ জ্ঞান রাখেন। কাজেই এ ব্যাপারে যারা জুলুমের পথে হাটবে, তারা কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাবে না।
اِنْ تُبْدُوا الصَّدَقٰتِ فَنِعِمَّا هِیَ ۚ وَ اِنْ تُخْفُوْهَا وَ تُؤْتُوْهَا الْفُقَرَآءَ فَهُوَ خَیْرٌ لَّكُمْ ؕ وَیُكَفِّرُ عَنْكُمْ مِّنْ سَیِّاٰتِكُمْ ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرٌ 271
271. হে ঈমানদারেরা, তোমরা চাইলে প্রকাশ্যেই অন্যদের দান করতে পারো। এমনটা করা তোমাদের জন্যে খারাপ নয়। আর যদি অসহায়-দরিদ্রদের গোপনে দান করো, তবে সেটা অধিক উত্তম পন্থা। এ পথে তোমাদের অনেক গুনাহ নির্মূল হয়ে যাবে। বস্তুত আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে পূর্ণ খবর রাখেন।
لَیْسَ عَلَیْكَ هُدٰىهُمْ وَ لٰكِنَّ اللّٰهَ یَهْدِیْ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَمَا تُنْفِقُوْا مِنْ خَیْرٍ فَلِاَنْفُسِكُمْ ؕ وَمَا تُنْفِقُوْنَ اِلَّا ابْتِغَآءَ وَجْهِ اللّٰهِ ؕ وَ مَا تُنْفِقُوْا مِنْ خَیْرٍ یُّوَفَّ اِلَیْكُمْ وَ اَنْتُمْ لَا تُظْلَمُوْنَ 272
272. হে নবী, লোকদের সত্য-সঠিক পথ গ্রহণ করানোর সব দায়-দায়িত্ব তোমাকে দেয়া হয় নাই; বরং আল্লাহ তাঁর ইচ্ছানুযায়ী পছন্দনীয়দের পথ দেখান। আর তোমরা যে ধন-সম্পদ দান করে থাকো, তা মূলত তোমাদের জন্যেই লাভজনক। যেহেতু তোমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে দান করো, তাই এসব দানের পূর্ণ বিনিময় তোমরা পাবে। সামান্য জুলুমের শিকারও হবে না।
لِلْفُقَرَآءِ الَّذِیْنَ اُحْصِرُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ لَا یَسْتَطِیْعُوْنَ ضَرْبًا فِی الْاَرْضِ ؗ یَحْسَبُهُمُ الْجَاهِلُ اَغْنِیَآءَ مِنَ التَّعَفُّفِ ۚ تَعْرِفُهُمْ بِسِیْمٰىهُمْ ۚ لَا یَسْـَٔلُوْنَ النَّاسَ اِلْحَافًا ؕ وَ مَا تُنْفِقُوْا مِنْ خَیْرٍ فَاِنَّ اللّٰهَ بِهٖ عَلِیْمٌ۠ 273
273. হে ঈমানদারেরা, তোমাদের দানের একটি বিশেষ অংশ সেসব দরিদ্রদের দেবে, যারা আল্লাহর কাজে এমনভাবে ব্যস্ত রয়েছে যার ফলে নিজেদের প্রয়োজনীয় অর্থোপার্জনের সময় পায় না। এসব লোকেরা নিজেদের জন্যে কারো কাছে হাত পাতে না; ফলে অজ্ঞ লোকেরা মনে করে তাদের কোনো অভাব নেই। আসলে তুমি তাদের চেহারা-সুরত দেখলেই ভিতরের দারিদ্র আঁচ করতে পারবে। তারা এমন লোক নয় যে, নাছোড়বান্দা হয়ে মানুষের কাছ থেকে কোনোকিছু চেয়ে আদায় করে নেবে। তাদের সাহায্যার্থে তোমরা যেসব অর্থ-সম্পদ ব্যয় করবে, আল্লাহ তার বিনিময় দেয়ার ক্ষেত্রে খুবই সজাগ রয়েছেন।
اَلَّذِیْنَ یُنْفِقُوْنَ اَمْوَالَهُمْ بِالَّیْلِ وَالنَّهَارِ سِرًّا وَّعَلَانِیَةً فَلَهُمْ اَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ ۚ وَ لَا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَ لَا هُمْ یَحْزَنُوْنَؔ 274
274. জেনে রেখো, তোমাদের যে কেউ নিজেদের ধন-সম্পদ দিনে বা রাতে, প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে যখন যেভাবে দান করুক না কেন, অবশ্যই তারা এসবের বিনিময় আপন রবের কাছে পাবে। এ ব্যাপারে তাদের কোনো ভয় নেই, দুঃখ-দুশ্চিন্তা নেই।
اَلَّذِیْنَ یَاْكُلُوْنَ الرِّبٰوا لَا یَقُوْمُوْنَ اِلَّا كَمَا یَقُوْمُ الَّذِیْ یَتَخَبَّطُهُ الشَّیْطٰنُ مِنَ الْمَسِّ ؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ قَالُوْۤا اِنَّمَا الْبَیْعُ مِثْلُ الرِّبٰوا ۘ وَاَحَلَّ اللّٰهُ الْبَیْعَ وَحَرَّمَ الرِّبٰوا ؕ فَمَنْ جَآءَهٗ مَوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّهٖ فَانْتَهٰی فَلَهٗ مَا سَلَفَ ؕ وَ اَمْرُهٗۤ اِلَی اللّٰهِ ؕ وَمَنْ عَادَ فَاُولٰٓىِٕكَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ 275
275. যারা সুদ খায়, ওরা শয়তানের খপ্পরে পড়ে পাগলের মতো কথা বলছে। ওরা বলে, ব্যবসা তো সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে বৈধতা দিয়েছেন; কিন্তু সুদকে করেছেন হারাম। সুতরাং তোমাদের যার কাছে তার প্রভুর এ নির্দেশনা পৌঁছেছে এবং এর আলোকে সে সুদ থেকে নিজেকে ফিরিয়ে নিয়েছে, তার ক্ষেত্রে অতীতে যা কিছু সে খেয়েছে তাতো খেয়েছেই বর্তমানে তার ব্যাপারটি আল্লাহর মর্জির উপর ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এ নির্দেশনার পরেও যে ব্যক্তি এ সুদের সাথে জড়িয়ে থাকবে, সে নিশ্চিত জাহান্নামী হবে। ওরা জাহান্নাম থেকে কোনোদিনই মুক্তি পাবে না।
یَمْحَقُ اللّٰهُ الرِّبٰوا وَ یُرْبِی الصَّدَقٰتِ ؕ وَ اللّٰهُ لَا یُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ اَثِیْمٍ 276
276. বস্তুত আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করে দেন। পক্ষান্তরে দানকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বাড়িয়ে তোলেন। আসলে আল্লাহ কখনো অকৃতজ্ঞ পাপাচারীকে পছন্দ করেন না।
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَ اَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتَوُا الزَّكٰوةَ لَهُمْ اَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ ۚ وَلَا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَلَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ 277
277. তবে যারা সত্যি সত্যি ঈমান এনেছে, সৎকাজ করে চলেছে, নামাজ কায়েম করেছে, যাকাত আদায় করেছে অবশ্যই তাদের প্রভুর কাছে তাদের জন্যে উত্তম বিনিময় রয়েছে। ফলে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ভয় কিংবা দুশ্চিন্তার কারণ নেই।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ وَذَرُوْا مَا بَقِیَ مِنَ الرِّبٰۤوا اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ 278
278. হে ঈমানদারেরা, আল্লাহকে ভয় করে চলো। তোমাদের ঈমান যদি পাকাপোক্ত হয়ে থাকে, তবে লোকদের কাছে যে সুদের পাওনা বকেয়া রয়েছে, তা ছেড়ে দাও।
فَاِنْ لَّمْ تَفْعَلُوْا فَاْذَنُوْا بِحَرْبٍ مِّنَ اللّٰهِ وَرَسُوْلِهٖ ۚ وَاِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوْسُ اَمْوَالِكُمْ ۚ لَا تَظْلِمُوْنَ وَ لَا تُظْلَمُوْنَ 279
279. কিন্তু সাবধান! যদি এরপরেও সুদ না ছাড়ো, তবে তা হবে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের সাথে যুদ্ধে নামার শামিল। তবে হ্যাঁ, যদি তোমরা সুদ ছেড়ে দিয়ে ফিরে আসো, তবে তোমাদের আসল মূলধন ফেরত নিতে পারবে। এ ব্যাপারে তোমরা অন্যের প্রতি জুলুম করবে না এবং জুলুমের শিকারও হবে না।
وَاِنْ كَانَ ذُوْ عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ اِلٰی مَیْسَرَةٍ ؕ وَاَنْ تَصَدَّقُوْا خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ 280
280. আর ঋণগ্রহীতা যদি অভাবে থাকে, তবে সচ্ছল হওয়ার পরেই তার থেকে মূলধন ফেরত নাও। আর যদি এ মূলধন তাকে দান করে দাও, তবে জেনে রেখো, সেটা তোমাদের জন্য তুলনামূলক বেশি লাভজনক।
وَاتَّقُوْا یَوْمًا تُرْجَعُوْنَ فِیْهِ اِلَی اللّٰهِ ۫ۗ ثُمَّ تُوَفّٰی كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَ هُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ۠ 281
281. হে লোকেরা, তোমরা প্রত্যেকেই আল্লাহর দরবারে হাজির হবার দিনের ব্যাপারে সতর্ক হও। সেদিন প্রত্যেকে তার উপার্জনের পূর্ণ বিনিময় পেয়ে যাবে। কারো প্রতি সামান্য জুলুমও করা হবে না।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِذَا تَدَایَنْتُمْ بِدَیْنٍ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی فَاكْتُبُوْهُ ؕ وَلْیَكْتُبْ بَّیْنَكُمْ كَاتِبٌۢ بِالْعَدْلِ ۪ وَلَا یَاْبَ كَاتِبٌ اَنْ یَّكْتُبَ كَمَا عَلَّمَهُ اللّٰهُ فَلْیَكْتُبْ ۚ وَلْیُمْلِلِ الَّذِیْ عَلَیْهِ الْحَقُّ وَلْیَتَّقِ اللّٰهَ رَبَّهٗ وَلَا یَبْخَسْ مِنْهُ شَیْـًٔا ؕ فَاِنْ كَانَ الَّذِیْ عَلَیْهِ الْحَقُّ سَفِیْهًا اَوْ ضَعِیْفًا اَوْ لَا یَسْتَطِیْعُ اَنْ یُّمِلَّ هُوَ فَلْیُمْلِلْ وَلِیُّهٗ بِالْعَدْلِ ؕ وَاسْتَشْهِدُوْا شَهِیْدَیْنِ مِنْ رِّجَالِكُمْ ۚ فَاِنْ لَّمْ یَكُوْنَا رَجُلَیْنِ فَرَجُلٌ وَّامْرَاَتٰنِ مِمَّنْ تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَآءِ اَنْ تَضِلَّ اِحْدٰىهُمَا فَتُذَكِّرَ اِحْدٰىهُمَا الْاُخْرٰی ؕ وَلَا یَاْبَ الشُّهَدَآءُ اِذَا مَا دُعُوْا ؕ وَلَا تَسْـَٔمُوْۤا اَنْ تَكْتُبُوْهُ صَغِیْرًا اَوْ كَبِیْرًا اِلٰۤی اَجَلِهٖ ؕ ذٰلِكُمْ اَقْسَطُ عِنْدَ اللّٰهِ وَ اَقْوَمُ لِلشَّهَادَةِ وَ اَدْنٰۤی اَلَّا تَرْتَابُوْۤا اِلَّاۤ اَنْ تَكُوْنَ تِجَارَةً حَاضِرَةً تُدِیْرُوْنَهَا بَیْنَكُمْ فَلَیْسَ عَلَیْكُمْ جُنَاحٌ اَلَّا تَكْتُبُوْهَا ؕ وَاَشْهِدُوْۤا اِذَا تَبَایَعْتُمْ ۪ وَ لَا یُضَآرَّ كَاتِبٌ وَّلَا شَهِیْدٌ ؕ۬ وَ اِنْ تَفْعَلُوْا فَاِنَّهٗ فُسُوْقٌۢ بِكُمْ ؕ وَاتَّقُوا اللّٰهَ ؕ وَ یُعَلِّمُكُمُ اللّٰهُ ؕ وَ اللّٰهُ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمٌ 282
282. হে ঈমানদারেরা, যখন তোমরা নিজেদের মধ্যে নির্ধারিত মেয়াদে ঋণের আদান-প্রদান করো, তখন তার চুক্তিপত্র লিখে রাখো। উভয় পক্ষের মধ্যে ন্যায়নিষ্ঠভাবে একজন লেখক এ চুক্তিপত্র লিখে দেবে। তোমাদের মধ্যে যাকে আল্লাহ লেখাপড়ার যোগ্যতা দান করেছেন, তার লিখে দিতে অস্বীকার করা উচিত নয়। সুতরাং সে চুক্তিপত্র লিখে দেবে; তবে লেখার বিষয়বস্তুর সঠিক বর্ণনা ঋণগ্রহীতা বলে দেবে। এ ব্যাপারে কম-বেশি করা থেকে তার আল্লাহকে ভয় করা উচিত। কিন্তু যদি ঋণগ্রহীতা বুদ্ধিহীন হয় কিংবা দুর্বলচিত্তের হয় অথবা লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে না পারে, তবে তার অভিভাবক ন্যায়নিষ্ঠভাবে এ চুক্তিপত্র লেখাবে। অতঃপর চুক্তিপত্র লেখা হলে তোমাদের দুজন পুরুষকে এর উপর সাক্ষী রাখবে। তবে কোনো কারণে দুজন পুরুষ না পেলে ন্যুনতম একজন পুরুষ ও দুজন মহিলাকে সাক্ষী রাখবে। এসব সাক্ষী অবশ্যই তোমাদের পছন্দনীয় বিশ^স্ত লোক হতে হবে। এভাবে একাধিক সাক্ষী থাকায় একজন ভুলে গেলে অন্যজন তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারবে। তোমাদের যারা সাক্ষী হবে, সাক্ষ্য দেবার জন্য তাদের ডাকা হলে, তারা যেনো অস্বীকার না করে। মনে রেখো, তোমাদের লেনদেন ছোট হোক কিংবা বড় হোক সময়সীমা উল্লেখ করে চুক্তিপত্র লিখতে কখনো অবহেলা করবে না। এভাবে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে লেনদেন করা আল্লাহর দৃষ্টিতে অধিক ন্যায়সঙ্গত। এর সাহায্যে ন্যায় বিচারের জন্যে সাক্ষ্য প্রতিষ্ঠা সহজ হয় এবং তোমাদের মনেও কোনো সন্দেহ-সংশয় থাকে না। আর তোমরা নিজেদের মধ্যে নগদ যে ব্যবসায়িক লেনদেন করে থাকো, সেগুলো না লিখলেও কোনো সমস্যা নেই। তবে ব্যবসায়িক বিষয়গুলো নির্ধারণ করার সময় সাক্ষী রেখো। আর সাবধান! লেখক ও সাক্ষীদের কখনো কষ্ট দিও না। যদি তাদের কষ্ট দাও, তবে তা হবে মারাত্মক অপরাধ। এসব ব্যাপারে আল্লাহকে সব সময় ভয় করে চলো। মনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের প্রতিটি বিষয়ে সঠিক কর্মপদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন। বস্তুত আল্লাহ তোমাদের সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন।
وَاِنْ كُنْتُمْ عَلٰی سَفَرٍ وَّلَمْ تَجِدُوْا كَاتِبًا فَرِهٰنٌ مَّقْبُوْضَةٌ ؕ فَاِنْ اَمِنَ بَعْضُكُمْ بَعْضًا فَلْیُؤَدِّ الَّذِی اؤْتُمِنَ اَمَانَتَهٗ وَ لْیَتَّقِ اللّٰهَ رَبَّهٗ ؕ وَلَا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ ؕ وَمَنْ یَّكْتُمْهَا فَاِنَّهٗۤ اٰثِمٌ قَلْبُهٗ ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ عَلِیْمٌ۠ 283
283. যদি তোমরা সফরে থাকার কারণে চুক্তিপত্র লেখানোর জন্যে কাউকে খুঁজে না পাও, তবে আপাতত কোনো কিছু বন্ধক রেখে লেনদেন করো। এভাবে পারস্পরিক বিশ^স্ততার ভিত্তিতে যে লেনদেন হয়, সে ক্ষেত্রে ভরসাকৃত ব্যক্তির উচিত ঠিকঠাকমতো বন্ধককৃত আমানত ফেরত দেয়া। এসব ব্যাপারে সে তার রবকে ভয় করে চলবে। আর তোমাদের মধ্যের সাক্ষীরা যেনো কখনো তাদের সাক্ষ্য গোপন না করে। কেননা এসব ক্ষেত্রে যে সাক্ষ্য গোপন করে, তার অন্তর মূলত পাপে জর্জরিত হয়ে গেছে। মনে রেখো, তোমরা যা কিছুই করো না কেন, আল্লাহ সবই জানেন।
لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ وَ اِنْ تُبْدُوْا مَا فِیْۤ اَنْفُسِكُمْ اَوْ تُخْفُوْهُ یُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللّٰهُ ؕ فَیَغْفِرُ لِمَنْ یَّشَآءُ وَ یُعَذِّبُ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ 284
284. মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে, তার সবই এককভাবে আল্লাহর মালিকানাধীন। তোমাদের মনের কথা যা তোমরা প্রকাশ করো কিংবা গোপন রাখো, আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের কাছ থেকে এসবের হিসাব নেবেন। এরপর তিনি তাঁর ইচ্ছানুযায়ী যাকে খুশি ক্ষমা করবেন এবং যাকে খুশি পাকড়াও করবেন। আসলে আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে এককভাবে সর্বময় ক্ষমতার মালিক।
اٰمَنَ الرَّسُوْلُ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْهِ مِنْ رَّبِّهٖ وَ الْمُؤْمِنُوْنَ ؕ كُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ مَلٰٓىِٕكَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَ رُسُلِهٖ ۫ لَا نُفَرِّقُ بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِهٖ ۫ وَقَالُوْا سَمِعْنَا وَاَطَعْنَا ؗۗ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَاِلَیْكَ الْمَصِیْرُ 285
285. রসুল নিজেই তার রবের পক্ষ থেকে আসা প্রতিটি অহির প্রতি ঈমান এনেছে। আর যারা এ রসুলের প্রতি ঈমান এনেছে, তারাও এসব অহিকে মনে-প্রাণে সত্যবলে স্বীকার করছে। তারা সবাই আল্লাহকে, তাঁর ফেরেশতাদেরকে, তাঁর কিতাবসমূহকে এবং তাঁর সব রসুলকে মনে প্রাণে মেনে নিয়েছে। তারা বলে, আমরা আল্লাহর এসব রসুলের একজনকে আরেকজন থেকে আলাদাভাবে দেখি না। আমরা নির্দেশ শুনেছি এবং তার অনুগত হয়েছি। তারা দোয়া করে, হে আমাদের মালিক, আমাদের ক্ষমা করো। আর আমরা তোমার কাছেই ফিরে আসছি।
لَا یُكَلِّفُ اللّٰهُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا ؕ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَیْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ؕ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَاۤ اِنْ نَّسِیْنَاۤ اَوْ اَخْطَاْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَیْنَاۤ اِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهٗ عَلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهٖ ۚ وَ اعْفُ عَنَّا ۥ وَاغْفِرْ لَنَا ۥ وَارْحَمْنَا ۥ اَنْتَ مَوْلٰىنَا فَانْصُرْنَا عَلَی الْقَوْمِ الْكٰفِرِیْنَ۠ 286
286. জেনে রেখো, কারো উপর তার সামর্থ্যরে অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া আল্লাহর নীতি নয়। সুতরাং তোমাদের যারা নেকির কাজ করবে, তারা এর উত্তম বিনিময় পাবে। আর যারা পাপের কাজ করবে, তারা এর জন্যে পাকড়াও হবে। অতএব হে ঈমানদারেরা, তোমরা এভাবে দোয়া করো, হে আমাদের প্রভু, ভুলত্রুটি করে আমরা যেসব গুনাহ করে ফেলি, তুমি তার জন্যে আমাদের পাকড়াও করো না। হে প্রভু, আমাদের পূর্ববর্তীদের মতো বড় বড় দায়িত্বের বোঝা আমাদের উপর চাপিয়ে দিও না। হে আমাদের প্রতিপালক, এমনকি আমাদের সাধ্যে কুলায় না, এমন কোনো দায়িত্বও দিও না। ওহে আমাদের রব, আমাদের আমলনামা থেকে পাপগুলো মুছে দাও, আমাদের ক্ষমা করো, আমাদের দয়া করো। হে আমাদের মালিক, আসলে তুমি ছাড়া আমাদেরতো আর কোনো অভিভাবক নেই। কাজেই তুমি কাফেরদের মোকাবেলায় আমাদের সাহায্য করো।