35. ফাতির

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ فَاطِرِ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ جَاعِلِ الْمَلٰٓىِٕكَةِ رُسُلًا اُولِیْۤ اَجْنِحَةٍ مَّثْنٰی وَ ثُلٰثَ وَ رُبٰعَ ؕ یَزِیْدُ فِی الْخَلْقِ مَا یَشَآءُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ 1
1. আলহামদুলিল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা কেবল মহাকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা মহান আল্লাহর জন্য। তিনি দুই, তিন বা চার জোড়া ডানাবিশিষ্ট ফেরেশতাদের মাধ্যমে তাঁর বাণী পৌঁছিয়ে থাকেন। তিনি তাঁর আপন সৃষ্টির সাথে যা ইচ্ছা সংযোজন করেন। সন্দেহ নেই, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
مَا یَفْتَحِ اللّٰهُ لِلنَّاسِ مِنْ رَّحْمَةٍ فَلَا مُمْسِكَ لَهَا ۚ وَ مَا یُمْسِكْ ۙ فَلَا مُرْسِلَ لَهٗ مِنْۢ بَعْدِهٖ ؕ وَهُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ 2
2. আল্লাহ কারো জন্য তাঁর রহমতের দরজা খুলে দিলে, তা বন্ধ করার কেউ নেই। একইভাবে তিনি তা বন্ধ করে দিলে, তা খোলার সাধ্য কারো নেই। তিনি মহাপরাক্রমশালী এবং পরম প্রজ্ঞাময়।
یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اذْكُرُوْا نِعْمَتَ اللّٰهِ عَلَیْكُمْ ؕ هَلْ مِنْ خَالِقٍ غَیْرُ اللّٰهِ یَرْزُقُكُمْ مِّنَ السَّمَآءِ وَ الْاَرْضِ ؕ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۖؗ فَاَنّٰی تُؤْفَكُوْنَ 3
3. হে মানুষ, তোমাদেরকে দেওয়া আল্লাহর নেয়ামতগুলোকে একটু স্মরণ করো। ভেবে দেখো, আল্লাহ ছাড়া কি অন্য কোনো স্রষ্টা আছে, যে তোমাদেরকে আকাশ ও পৃথিবী হতে জীবিকা সরবরাহ করেন? না, নেই। কেননা আল্লাহই একক ও অদ্বিতীয় ইলাহ। হায়! তোমরা কোন্ ধোঁকায় পড়ে আছো!
وَ اِنْ یُّكَذِّبُوْكَ فَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِّنْ قَبْلِكَ ؕ وَ اِلَی اللّٰهِ تُرْجَعُ الْاُمُوْرُ 4
4. হে নবী, আজ যদি ওরা তোমায় মিথ্যাবাদী বলে প্রত্যাখ্যান করে, তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ওদের মতো লোকেরা পূর্বেও বহু রসুলকে মিথ্যাবাদী বলেছে। অপেক্ষা করো, সবকিছু শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছেই ফিরে আসবে।
یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اِنَّ وَعْدَ اللّٰهِ حَقٌّ فَلَا تَغُرَّنَّكُمُ الْحَیٰوةُ الدُّنْیَا ۥ وَ لَا یَغُرَّنَّكُمْ بِاللّٰهِ الْغَرُوْرُ 5
5. হে মানুষ, আল্লাহর প্রতিশ্রুত মহাবিচার এক অনিবার্য সত্য। কাজেই পার্থিব জীবনের মোহ যেনো তোমাদেরকে প্রতারিত না করে। ধোঁকাবাজ শয়তান যেনো তোমাদেরকে তার ধোঁকার জালে আটকে না ফেলে।
اِنَّ الشَّیْطٰنَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوْهُ عَدُوًّا ؕ اِنَّمَا یَدْعُوْا حِزْبَهٗ لِیَكُوْنُوْا مِنْ اَصْحٰبِ السَّعِیْرِؕ 6
6. ভুলে যেয়ো না, শয়তান তোমাদের ভয়ানক শত্রু। সুতরাং তাকে শত্রু হিসাবেই গ্রহণ করো। আসলে শয়তান তার দলবলকে জাহান্নামের লেলিহান শিখার দিকেই ডেকে নিয়ে যাচ্ছে।
اَلَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَهُمْ عَذَابٌ شَدِیْدٌ ؕ۬ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَهُمْ مَّغْفِرَةٌ وَّ اَجْرٌ كَبِیْرٌ۠ 7
7. অতএব যারা এরপরেও সত্যকে অস্বীকার করবে, ওদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন আযাব। অন্যদিকে যারা ঈমানের সাথে ভালো কাজ করে যাবে, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা, রয়েছে মহাপুরস্কার।
اَفَمَنْ زُیِّنَ لَهٗ سُوْٓءُ عَمَلِهٖ فَرَاٰهُ حَسَنًا ؕ فَاِنَّ اللّٰهَ یُضِلُّ مَنْ یَّشَآءُ وَ یَهْدِیْ مَنْ یَّشَآءُ ۖؗ فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَیْهِمْ حَسَرٰتٍ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلِیْمٌۢ بِمَا یَصْنَعُوْنَ 8
8. ভেবে দেখো! কারো কাছে যদি তার খারাপ কাজগুলো আকর্ষণীয় ও চাকচিক্যময় হয়ে ওঠে এবং সে নিজে এসব খারাপকে যথার্থ-সঠিক ও ভালোকাজ মনে করতে থাকে, তবে সে কিভাবে সত্য পথ খুঁজে পাবে? বস্তুত যে গোমরাহির পথে চলতে চায়, আল্লাহ তাকে গোমরাহিতে ছেড়ে দেন। আর যে আলোর পথে হাঁটতে চায়, আল্লাহ তাকে সৎপথ দেখান। কাজেই হে নবী, অযথা ওদের জন্য দুঃখ করে নিজেকে শেষ করে দিও না। আল্লাহ ভালোকরেই জানেন, ওরা কী করে বেড়াচ্ছে।
وَ اللّٰهُ الَّذِیْۤ اَرْسَلَ الرِّیٰحَ فَتُثِیْرُ سَحَابًا فَسُقْنٰهُ اِلٰی بَلَدٍ مَّیِّتٍ فَاَحْیَیْنَا بِهِ الْاَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ؕ كَذٰلِكَ النُّشُوْرُ 9
9. ওরা জেনে রাখুক, মানুষের পুনরুত্থান ঠিক এভাবেই ঘটবে, যেভাবে প্রথমে আল্লাহ বাতাস পাঠান এবং সে বাতাস মেঘমালাকে সঞ্চালিত করে নিষ্প্রাণ ভূখন্ডের দিকে নিয়ে যায়। অতঃপর এর মাধ্যমে তিনি প্রাণহীন জমিনে জীবনের বিকাশ ঘটান।
مَنْ كَانَ یُرِیْدُ الْعِزَّةَ فَلِلّٰهِ الْعِزَّةُ جَمِیْعًا ؕ اِلَیْهِ یَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّیِّبُ وَ الْعَمَلُ الصَّالِحُ یَرْفَعُهٗ ؕ وَ الَّذِیْنَ یَمْكُرُوْنَ السَّیِّاٰتِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِیْدٌ ؕ وَ مَكْرُ اُولٰٓىِٕكَ هُوَ یَبُوْرُ 10
10. যারা সম্মান ও ক্ষমতার প্রত্যাশী, তাদের জেনে রাখা উচিত, সমস্ত সম্মান ও ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে। আর তিনি কেবল ভালো কথা ও ভালো কাজকেই কবুল করে থাকেন। কাজেই যারা সত্যের বিরুদ্ধে খারাপ ফন্দি-ফিকির করে চলছে, ওদের জন্য অবশ্যই কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে। ওদের সব চক্রান্ত শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবেই।
وَ اللّٰهُ خَلَقَكُمْ مِّنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُّطْفَةٍ ثُمَّ جَعَلَكُمْ اَزْوَاجًا ؕ وَ مَا تَحْمِلُ مِنْ اُنْثٰی وَ لَا تَضَعُ اِلَّا بِعِلْمِهٖ ؕ وَ مَا یُعَمَّرُ مِنْ مُّعَمَّرٍ وَّ لَا یُنْقَصُ مِنْ عُمُرِهٖۤ اِلَّا فِیْ كِتٰبٍ ؕ اِنَّ ذٰلِكَ عَلَی اللّٰهِ یَسِیْرٌ 11
11. জেনে রেখো, আল্লাহ তোমাদের সৃষ্টির সূচনা করেছেন মাটি থেকে। অতঃপর শুক্রবিন্দু থেকে জন্মধারা অব্যাহত রেখেছেন এবং তোমাদেরকে পুরুষ ও নারীর জোড়া বানিয়েছেন। কোনো নারী তার গর্ভে কী ধারণ করে এবং কী প্রসব করে তার কোনোটাই আল্লাহর অজানা নয়। আর আল্লাহ প্রত্যেক ব্যক্তির জীবনকাল নির্দিষ্ট এক কিতাবে লিখে রেখেছেন। কাজেই তা কমেও না, বাড়েও না। আর এসব করা আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।
وَ مَا یَسْتَوِی الْبَحْرٰنِ ۖۗ هٰذَا عَذْبٌ فُرَاتٌ سَآىِٕغٌ شَرَابُهٗ وَ هٰذَا مِلْحٌ اُجَاجٌ ؕ وَ مِنْ كُلٍّ تَاْكُلُوْنَ لَحْمًا طَرِیًّا وَّ تَسْتَخْرِجُوْنَ حِلْیَةً تَلْبَسُوْنَهَا ۚ وَ تَرَی الْفُلْكَ فِیْهِ مَوَاخِرَ لِتَبْتَغُوْا مِنْ فَضْلِهٖ وَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ 12
12. চেয়ে দেখো! দুটিই সমুদ্র, অথচ একটি আরেকটি থেকে আলাদা। একটার পানি সুমিষ্ট ও সুপেয়। আর অন্যটার লবণাক্ত ও বিস্বাদ। কিন্তু এ দুটি থেকেই খাবারের জন্য তোমরা তাজা মাছ পাচ্ছো এবং অলংকার হিসাবে মণি-মুক্তা আহরণ করছো। তোমরা নিজ চোখেই দেখতে পাচ্ছো যে, উভয়ের বুক চিরে নৌযান চলাচল করছে, যাতে তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ-রিযিক সন্ধান করতে পারো। এসবের বিনিময়ে তাঁর প্রতি তোমাদের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত।
یُوْلِجُ الَّیْلَ فِی النَّهَارِ وَ یُوْلِجُ النَّهَارَ فِی الَّیْلِ ۙ وَ سَخَّرَ الشَّمْسَ وَ الْقَمَرَ ۖؗ كُلٌّ یَّجْرِیْ لِاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ ذٰلِكُمُ اللّٰهُ رَبُّكُمْ لَهُ الْمُلْكُ ؕ وَ الَّذِیْنَ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِهٖ مَا یَمْلِكُوْنَ مِنْ قِطْمِیْرٍؕ 13
13. ভেবে দেখো! আল্লাহই রাতকে টেনে দিনের মধ্যে ঢুকিয়ে দেন, আবার দিনকে রাতের মধ্যে বিলীন করে দেন। দেখো, তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে এক বিশেষ নিয়মের অধীন করেছেন, ফলে প্রত্যেকেই নিজ কক্ষপথে এক নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব। সকল কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা তাঁরই। কাজেই হে সত্যবিমুখেরা, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য যাদেরকে খোদা হিসাবে ডাকছো, তারা তো সামান্য তুচ্ছ কোনো জিনিসের উপরও ক্ষমতাবান নয়।
اِنْ تَدْعُوْهُمْ لَا یَسْمَعُوْا دُعَآءَكُمْ ۚ وَ لَوْ سَمِعُوْا مَا اسْتَجَابُوْا لَكُمْ ؕ وَ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ یَكْفُرُوْنَ بِشِرْكِكُمْ ؕ وَ لَا یُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِیْرٍ۠ 14
14. এমনকি তোমাদের এসব খোদারা তোমাদের ডাকও শুনতে পায় না। আর যারা শুনতে পায়, তারাও কোনো কাজে আসতে পারে না। মহাবিচারের দিন এসব খোদারা তোমাদের এ শরিক করাকে প্রত্যাখ্যান করবে। সর্বজ্ঞ আল্লাহর ন্যায় কেউই তোমাদের প্রকৃত সত্য অবহিত করতে পারে না।
یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اَنْتُمُ الْفُقَرَآءُ اِلَی اللّٰهِ ۚ وَ اللّٰهُ هُوَ الْغَنِیُّ الْحَمِیْدُ 15
15. হে মানুষ, তোমরা তো আল্লাহর মুখাপেক্ষী। কিন্তু আল্লাহ! তিনি অভাবমুক্ত এবং সদা সপ্রশংসিত।
اِنْ یَّشَاْ یُذْهِبْكُمْ وَ یَاْتِ بِخَلْقٍ جَدِیْدٍۚ 16
16. তিনি ইচ্ছে করলে তোমাদের বিলুপ্ত করে নতুন কোনো সৃষ্টিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করতে পারেন।
وَ مَا ذٰلِكَ عَلَی اللّٰهِ بِعَزِیْزٍ 17
17. এমনটা করা আল্লাহর জন্য এক মামুলি ব্যাপার।
وَ لَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِّزْرَ اُخْرٰی ؕ وَ اِنْ تَدْعُ مُثْقَلَةٌ اِلٰی حِمْلِهَا لَا یُحْمَلْ مِنْهُ شَیْءٌ وَّ لَوْ كَانَ ذَا قُرْبٰی ؕ اِنَّمَا تُنْذِرُ الَّذِیْنَ یَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَیْبِ وَ اَقَامُوا الصَّلٰوةَ ؕ وَ مَنْ تَزَكّٰی فَاِنَّمَا یَتَزَكّٰی لِنَفْسِهٖ ؕ وَ اِلَی اللّٰهِ الْمَصِیْرُ 18
18. মহাবিচারের দিন কেউই অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না। কেউ সেদিন যদি তার সামান্য বোঝা বহন করার জন্যও কাউকে ডাকে, তবুও কেউ সাড়া দেবে না। এমনকি, কাছের আপনজন হলেও না। হে নবী, আসলে তুমি কেবল তাদেরকেই সতর্ক করতে পারো, যারা না দেখেও তাদের প্রভুকে ভয় করে এবং নামাজ কায়েম করে। যে ব্যক্তি নিজেকে পবিত্র-পরিশুদ্ধ করে, সে নিজের কল্যাণই বয়ে আনে। বস্তুত সবাইকে একদিন আল্লাহর কাছে ফিরতে হবে।
وَ مَا یَسْتَوِی الْاَعْمٰی وَ الْبَصِیْرُۙ 19
19. মনে রেখো, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কখনো সমান হতে পারে না।
وَ لَا الظُّلُمٰتُ وَ لَا النُّوْرُۙ 20
20. অন্ধকার ও আলো এক হতে পারে না।
وَ لَا الظِّلُّ وَ لَا الْحَرُوْرُۚ 21
21. সুশীতল ছায়া ও প্রখর রোদের তাপ কোনোদিনই সমপর্যায়ের নয়।
وَ مَا یَسْتَوِی الْاَحْیَآءُ وَ لَا الْاَمْوَاتُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یُسْمِعُ مَنْ یَّشَآءُ ۚ وَ مَاۤ اَنْتَ بِمُسْمِعٍ مَّنْ فِی الْقُبُوْرِ 22
22. তেমনি জীবিত ও মৃত কখনো সমান হবে না। হে নবী, আল্লাহ চাইলে যে কাউকেই শোনাতে পারেন। কিন্তু যার অন্তর মৃত কবরবাসীদের মতো নিরব-নিষ্প্রাণ হয়ে গেছে, তুমি তাকে কখনোই তোমার কথা শুনাতে পারবে না।
اِنْ اَنْتَ اِلَّا نَذِیْرٌ 23
23. হে নবী, তুমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র।
اِنَّاۤ اَرْسَلْنٰكَ بِالْحَقِّ بَشِیْرًا وَّ نَذِیْرًا ؕ وَ اِنْ مِّنْ اُمَّةٍ اِلَّا خَلَا فِیْهَا نَذِیْرٌ 24
24. আমি তোমাকে সত্যসহ পাঠিয়েছি একজন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসাবে। কেননা এমন কোনো সম্প্রদায় নেই, যাদের কাছে আমি আমার সতর্ককারী পাঠাইনি।
وَ اِنْ یُّكَذِّبُوْكَ فَقَدْ كَذَّبَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ ۚ جَآءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَیِّنٰتِ وَ بِالزُّبُرِ وَ بِالْكِتٰبِ الْمُنِیْرِ 25
25. আজ তোমার লোকেরা যদি তোমাকে প্রত্যাখ্যান করে, তবে ভেঙ্গে পড়ো না। তোমার পূর্বেও অসংখ্য রসুলকে মিথ্যারোপ করা হয়েছিলো। অথচ তারা লোকদের সামনে নবুওতের সুস্পষ্ট প্রমাণ পেশ করেছিলো। উপদেশপূর্ণ বাণী শুনিয়েছিলো। এমনকি সমুজ্জ্বল কিতাব পর্যন্ত দিয়েছিলো।
ثُمَّ اَخَذْتُ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا فَكَیْفَ كَانَ نَكِیْرِ۠ 26
26. কিন্তু না, শেষ পর্যন্ত আমি ঐসব কাফেরদের কঠিনভাবে পাকড়াও করেছিলাম। আহ! কী কঠিন শাস্তিই না আমি ওদের দিয়েছিলাম!
اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللّٰهَ اَنْزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً ۚ فَاَخْرَجْنَا بِهٖ ثَمَرٰتٍ مُّخْتَلِفًا اَلْوَانُهَا ؕ وَ مِنَ الْجِبَالِ جُدَدٌۢ بِیْضٌ وَّ حُمْرٌ مُّخْتَلِفٌ اَلْوَانُهَا وَ غَرَابِیْبُ سُوْدٌ 27
27. আচ্ছা! তোমরা কি খেয়াল করো না, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর সে পানি দিয়েই উৎপন্ন করেন নানা রঙ্গের ফলমূল। চেয়ে দেখো, পাহাড়ের পাথরের গায়েও রয়েছে সাদা, কালো, লাল ও নানা রঙের বিচিত্র সমাহার।
وَ مِنَ النَّاسِ وَ الدَّوَآبِّ وَ الْاَنْعَامِ مُخْتَلِفٌ اَلْوَانُهٗ كَذٰلِكَ ؕ اِنَّمَا یَخْشَی اللّٰهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمٰٓؤُا ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَزِیْزٌ غَفُوْرٌ 28
28. এবং একইভাবে মানুষ, পশু-পাখি ও গবাদি পশুর মধ্যেও নানা রঙ-বেরঙের সমাহার দৃশ্যমান। আসল সত্য হচ্ছে, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা সত্যের জ্ঞান রাখে, কেবল তারাই আল্লাহকে ভয় করে চলে। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী এবং অতীব ক্ষমাশীল।
اِنَّ الَّذِیْنَ یَتْلُوْنَ كِتٰبَ اللّٰهِ وَ اَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَ اَنْفَقُوْا مِمَّا رَزَقْنٰهُمْ سِرًّا وَّ عَلَانِیَةً یَّرْجُوْنَ تِجَارَةً لَّنْ تَبُوْرَۙ 29
29. জেনে রেখো, কেবল তারাই সফল ও সার্থক ব্যবসার আশাবাদী হতে পারে, যারা আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ করে, নামাজ কায়েম করে এবং আমার দেয়া জীবনোপকরণ থেকে প্রকাশ্যে ও গোপনে অন্যের কল্যাণে ব্যয় করে।
لِیُوَفِّیَهُمْ اُجُوْرَهُمْ وَ یَزِیْدَهُمْ مِّنْ فَضْلِهٖ ؕ اِنَّهٗ غَفُوْرٌ شَكُوْرٌ 30
30. আল্লাহ অবশ্যই এসব লোকদের কাজের বিনিময় পূর্ণমাত্রায় আদায় করবেন। পাশাপাশি নিজের অনুগ্রহ ভান্ডার থেকেও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল এবং বড়ই গুণগ্রাহী।
وَ الَّذِیْۤ اَوْحَیْنَاۤ اِلَیْكَ مِنَ الْكِتٰبِ هُوَ الْحَقُّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَیْنَ یَدَیْهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِعِبَادِهٖ لَخَبِیْرٌۢ بَصِیْرٌ 31
31. হে নবী, তুমি নিশ্চিত থাকো, যে কিতাব আমি তোমার উপর নাযিল করেছি তা অবশ্যই সত্য। এ কিতাব পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবগুলোর সত্যতা স্বীকার করে। মনে রেখো, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে সব খবর রাখেন, সব দেখেন।
ثُمَّ اَوْرَثْنَا الْكِتٰبَ الَّذِیْنَ اصْطَفَیْنَا مِنْ عِبَادِنَا ۚ فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِّنَفْسِهٖ ۚ وَ مِنْهُمْ مُّقْتَصِدٌ ۚ وَ مِنْهُمْ سَابِقٌۢ بِالْخَیْرٰتِ بِاِذْنِ اللّٰهِ ؕ ذٰلِكَ هُوَ الْفَضْلُ الْكَبِیْرُؕ 32
32. শোনো! আমি আমার কিছু বাছাইকৃত বান্দাদেরকে এ কিতাবের উত্তরাধিকার দান করেছিলাম। বর্তমানে এসব বান্দাদের মধ্যে একদল নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে আদায় করছে না। অপরদল ভালো-মন্দের মাঝখানে রয়েছে এবং আরেকদল আল্লাহর ইচ্ছায় সৎকর্মে বেশ অগ্রগামী হয়েছে। নিশ্চয়ই এটা আল্লাহর এক মহানুগ্রহ।
جَنّٰتُ عَدْنٍ یَّدْخُلُوْنَهَا یُحَلَّوْنَ فِیْهَا مِنْ اَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَّ لُؤْلُؤًا ۚ وَ لِبَاسُهُمْ فِیْهَا حَرِیْرٌ 33
33. অনুগ্রহপ্রাপ্তরা আখেরাতের জীবনে জান্নাতের স্থায়ী মেহমান হবে। তারা সেখানে রেশমি পোশাকে ও স্বর্ণ-মুক্তোখচিত অলংকারে ভূষিত হবে।
وَ قَالُوا الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْۤ اَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ ؕ اِنَّ رَبَّنَا لَغَفُوْرٌ شَكُوْرُۙ 34
34. সেদিন জান্নাতে প্রবেশ করা মাত্রই তারা বলবে, আলহামদুলিল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহর। তিনিই আমাদের সব দুঃখ-দুশ্চিন্তা দূর করেছেন। সন্দেহ নেই, আমাদের রব বড়ই ক্ষমাশীল ও গুণের সমাদরকারী।
ِ۟الَّذِیْۤ اَحَلَّنَا دَارَ الْمُقَامَةِ مِنْ فَضْلِهٖ ۚ لَا یَمَسُّنَا فِیْهَا نَصَبٌ وَّ لَا یَمَسُّنَا فِیْهَا لُغُوْبٌ 35
35. আল্লাহ মেহেরবানি করে আমাদেরকে এমন এক স্থায়ী নিবাস দান করেছেন, যেখানে কোনো কষ্ট বা ক্লান্তি আমাদের স্পর্শ করে না।
وَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْا لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ ۚ لَا یُقْضٰی عَلَیْهِمْ فَیَمُوْتُوْا وَ لَا یُخَفَّفُ عَنْهُمْ مِّنْ عَذَابِهَا ؕ كَذٰلِكَ نَجْزِیْ كُلَّ كَفُوْرٍۚ 36
36. অন্যদিকে যারা কুফরি করছে, ওদের জন্য অপেক্ষা করছে জাহান্নামের লেলিহান অগ্নিশিখা। সেখানে ওদের হায়াত কোনোদিনও শেষ হবে না, যাতে মরে না মুক্তি পায়। কিংবা আযাবের মাত্রা সামান্য কমানোও না। আমি এভাবেই প্রত্যেক অবাধ্যচারীকে কঠিন শাস্তি দিয়ে থাকি।
وَ هُمْ یَصْطَرِخُوْنَ فِیْهَا ۚ رَبَّنَاۤ اَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا غَیْرَ الَّذِیْ كُنَّا نَعْمَلُ ؕ اَوَ لَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَّا یَتَذَكَّرُ فِیْهِ مَنْ تَذَكَّرَ وَ جَآءَكُمُ النَّذِیْرُ ؕ فَذُوْقُوْا فَمَا لِلظّٰلِمِیْنَ مِنْ نَّصِیْرٍ۠ 37
37. আহ! জাহান্নামে ওরা সে সময় চিৎকার করে বলতে থাকবে, হে আমাদের রব, আমাদের দয়া করে একটা বারের জন্য মুক্তি দাও। কথা দিচ্ছি, আমরা অবশ্যই এবার সৎকাজ করে আসবো। আগের মতো ভুল আর কখনোই করবো না। আল্লাহ জবাব দিবেন, এখন! আমি কি তোমাদেরকে এক দীর্ঘজীবন দেইনি? সতর্ক হতে চাইলে তোমরা তখনই হতে পারতে। আর তোমাদের কাছে সতর্ককারীও এসেছিলো। এখন নিজেদের পাপের শাস্তি ভোগ করতে থাকো। আজ তোমাদের মতো জালেমদের কোনো সাহায্যকারী নেই।
اِنَّ اللّٰهَ عٰلِمُ غَیْبِ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ اِنَّهٗ عَلِیْمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ 38
38. মহাকাশ ও পৃথিবীর সকল গোপন রহস্য ও বাস্তবতা একমাত্র আল্লাহই জানেন। মানুষের অন্তরের গোপন ভাবনা-চিন্তা সম্পর্কেও আল্লাহ সম্যক অবহিত।
هُوَ الَّذِیْ جَعَلَكُمْ خَلٰٓىِٕفَ فِی الْاَرْضِ ؕ فَمَنْ كَفَرَ فَعَلَیْهِ كُفْرُهٗ ؕ وَ لَا یَزِیْدُ الْكٰفِرِیْنَ كُفْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ اِلَّا مَقْتًا ۚ وَ لَا یَزِیْدُ الْكٰفِرِیْنَ كُفْرُهُمْ اِلَّا خَسَارًا 39
39. হে মানুষ, আল্লাহই তোমাদেরকে পৃথিবীর দায়িত্বে স্থলাভিষিক্ত করেছেন। অতএব কেউ নাফরমানী করলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে। মনে রেখো, কাফেরদের অবাধ্যতা কেবল তাদের রবের ক্রোধকেই বাড়িয়ে তোলে। সন্দেহ নেই, কুফরির কারণে কাফেরদের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বাড়ে না।
قُلْ اَرَءَیْتُمْ شُرَكَآءَكُمُ الَّذِیْنَ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ؕ اَرُوْنِیْ مَا ذَا خَلَقُوْا مِنَ الْاَرْضِ اَمْ لَهُمْ شِرْكٌ فِی السَّمٰوٰتِ ۚ اَمْ اٰتَیْنٰهُمْ كِتٰبًا فَهُمْ عَلٰی بَیِّنَتٍ مِّنْهُ ۚ بَلْ اِنْ یَّعِدُ الظّٰلِمُوْنَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا اِلَّا غُرُوْرًا 40
40. হে নবী, এ মুশরিকদের জিজ্ঞেস করো, আচ্ছা! তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য যাদেরকে উপাস্য হিসাবে ডাকছো, তাদের ব্যাপারটা কি একবারও ভেবে দেখেছো? তারা পৃথিবীর কোনো কিছু সৃষ্টি করে থাকলে আমায় একটু দেখাও তো। নাকি বলবে, মহাকাশ সৃষ্টি ও ব্যবস্থাপনায় তাদের কোনো হাত রয়েছে? আচ্ছা! তোমাদের এ শিরকের স্বপক্ষে আল্লাহর দেয়া কোনো দলিল থাকলে দেখাও। না, আসলে সীমালঙ্ঘনকারীরা পরস্পরকে নিছক প্রতারণাময় আশা-ভরসা দিয়ে চলছে।
اِنَّ اللّٰهَ یُمْسِكُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ اَنْ تَزُوْلَا ۚ۬ وَ لَىِٕنْ زَالَتَاۤ اِنْ اَمْسَكَهُمَا مِنْ اَحَدٍ مِّنْۢ بَعْدِهٖ ؕ اِنَّهٗ كَانَ حَلِیْمًا غَفُوْرًا 41
41. প্রকৃতপক্ষে আল্লাহই মহাকাশ ও পৃথিবীকে যথাযথ স্থানে অটল ও অনড় করে ধরে রেখেছেন। অন্যথায় তা স্থানচ্যুত হয়ে পড়তো। আচ্ছা! এগুলো যদি একবার সত্যিই স্থানচ্যুত হয়ে পড়ে, তবে আল্লাহ ছাড়া আর কে এগুলোকে যথাস্থানে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে পারে? বাস্তবে আল্লাহ অতি সহনশীল, অতি ক্ষমাশীল।
وَ اَقْسَمُوْا بِاللّٰهِ جَهْدَ اَیْمَانِهِمْ لَىِٕنْ جَآءَهُمْ نَذِیْرٌ لَّیَكُوْنُنَّ اَهْدٰی مِنْ اِحْدَی الْاُمَمِ ۚ فَلَمَّا جَآءَهُمْ نَذِیْرٌ مَّا زَادَهُمْ اِلَّا نُفُوْرَاۙ۴۲ِ۟ 42
42. হে নবী, এসব সত্য অস্বীকারকারীরা এতদিন প্রায়শই আল্লাহর নামে দৃঢ়ভাবে শপথ করে বলতো, যদি ওদের কাছে কোনো সতর্ককারী নবী আসে, তবে ওরা দুনিয়ার অন্য যে কোনো সম্প্রদায়ের চেয়ে সত্যপথ অনুসরণে অগ্রগামী হবে। কিন্তু সত্যিই যখন ওদের কাছে সতর্ককারী এলো, তখন ওদের উল্টো সত্যবিমুখতাই বেড়ে গেলো।
اسْتِكْبَارًا فِی الْاَرْضِ وَ مَكْرَ السَّیِّئِ ؕ وَ لَا یَحِیْقُ الْمَكْرُ السَّیِّئُ اِلَّا بِاَهْلِهٖ ؕ فَهَلْ یَنْظُرُوْنَ اِلَّا سُنَّتَ الْاَوَّلِیْنَ ۚ فَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللّٰهِ تَبْدِیْلًا ۚ۬ وَ لَنْ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللّٰهِ تَحْوِیْلًا 43
43. ৪৩. ওরা পৃথিবীতে আরো অহংকারী হয়ে উঠলো। ভয়ংকার সব চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করতে লাগলো। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, শেষ পর্যন্ত ওদের চক্রান্তের ফাঁদে ওরা নিজেরাই আটকা পড়লো। আচ্ছা! ওদের পূর্বসূরিদের ভাগ্যে যে পরিণতি জুটেছিলো, ওরাও কি সে পরিণতির জন্য অপেক্ষা করছে? তবে ওরা জেনে রাখুক, অবাধ্যদের ব্যাপারে আল্লাহর নীতির কোনো পরিবর্তন নেই।
اَوَ لَمْ یَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَیَنْظُرُوْا كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَ كَانُوْۤا اَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً ؕ وَ مَا كَانَ اللّٰهُ لِیُعْجِزَهٗ مِنْ شَیْءٍ فِی السَّمٰوٰتِ وَ لَا فِی الْاَرْضِ ؕ اِنَّهٗ كَانَ عَلِیْمًا قَدِیْرًا 44
44. ওরা কি দেশ-বিদেশ ঘুরে দেখে না? ওরা কি দেখে না, ওদের পূর্বসূরিদের ভাগ্যে কী পরিণামই না জুটেছিলো। আহ! অথচ তারা ওদের চেয়েও অনেক ক্ষমতাদর্পী ছিলো। ওদের জেনে রাখা উচিত, মহাকাশ ও পৃথিবীর কোনো কিছুই আল্লাহর ক্ষমতার বাইরে যেতে পারে না। তিনি সবই জানেন, সব করতে পারেন।
وَ لَوْ یُؤَاخِذُ اللّٰهُ النَّاسَ بِمَا كَسَبُوْا مَا تَرَكَ عَلٰی ظَهْرِهَا مِنْ دَآبَّةٍ وَّ لٰكِنْ یُّؤَخِّرُهُمْ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ۚ فَاِذَا جَآءَ اَجَلُهُمْ فَاِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِعِبَادِهٖ بَصِیْرًا۠ 45
45. জেনে রেখো, আল্লাহ মানুষকে তার অপরাধের জন্য সাথেসাথেই পাকড়াও করলে পৃথিবীতে জীবিত কাউকেই রেহাই দিতেন না। কিন্তু তিনি সত্য পথে ফিরে আসার জন্য প্রত্যেককে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে থাকেন। অতঃপর যখন সে মেয়াদও ফুরিয়ে যায়, তখনই আল্লাহ পাকড়াও করেন। সন্দেহ নেই, তিনি তাঁর বান্দাদের সব ব্যাপারে পূর্ণ নজর রাখেন।