43. আয্ যুখরুফ
وَ الْكِتٰبِ الْمُبِیْنِۙۛ 2
2. শপথ মহাসত্য প্রকাশক এ কিতাবের।
اِنَّا جَعَلْنٰهُ قُرْءٰنًا عَرَبِیًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُوْنَۚ 3
3. আমি এ কুরআনকে নাযিল করেছি আরবি ভাষায়, যাতে বিবেক-বুদ্ধি খাটিয়ে তোমরা সঠিক বিষয় বুঝতে পারো।
وَ اِنَّهٗ فِیْۤ اُمِّ الْكِتٰبِ لَدَیْنَا لَعَلِیٌّ حَكِیْمٌؕ 4
4. নিশ্চয়ই এ কুরআন আমার লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত রয়েছে। আর এটি এক মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞানগর্ভ কিতাব।
اَفَنَضْرِبُ عَنْكُمُ الذِّكْرَ صَفْحًا اَنْ كُنْتُمْ قَوْمًا مُّسْرِفِیْنَ 5
5. ওহে সীমালঙ্ঘনকারীরা, তোমরা ক্রমাগত সত্যকে অস্বীকার করে চলছো বলে কি আমি আমার উপদেশবাণী প্রত্যাহার করে নেবো?
وَ كَمْ اَرْسَلْنَا مِنْ نَّبِیٍّ فِی الْاَوَّلِیْنَ 6
6. না, বরং আমি অতীতেও তোমাদের মতো অবাধ্যদের কাছে বহু নবী পাঠিয়েছি।
وَ مَا یَاْتِیْهِمْ مِّنْ نَّبِیٍّ اِلَّا كَانُوْا بِهٖ یَسْتَهْزِءُوْنَ 7
7. কিন্তু ওরা ওদের কাছে আসা প্রত্যেক নবীকেই ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে প্রত্যাখ্যান করেছিলো।
فَاَهْلَكْنَاۤ اَشَدَّ مِنْهُمْ بَطْشًا وَّ مَضٰی مَثَلُ الْاَوَّلِیْنَ 8
8. শেষ পর্যন্ত আমি ওদের ধ্বংস করে দিয়েছিলাম। অথচ ওরা এদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ছিলো। আজ ওরা কেবল ভুলে যাওয়া এক অতীত।
وَ لَىِٕنْ سَاَلْتَهُمْ مَّنْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ لَیَقُوْلُنَّ خَلَقَهُنَّ الْعَزِیْزُ الْعَلِیْمُۙ 9
9. হে নবী, যদি ওদের জিজ্ঞেস করো, কে এ মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? ওরা বলবে, হ্যাঁ! মহাপরাক্রমশালী, মহাজ্ঞানী আল্লাহই এসব সৃষ্টি করেছেন।
الَّذِیْ جَعَلَ لَكُمُ الْاَرْضَ مَهْدًا وَّ جَعَلَ لَكُمْ فِیْهَا سُبُلًا لَّعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَۚ 10
10. দেখো! তিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানার মতো বিছিয়ে দিয়েছেন এবং এর মধ্যে তোমাদের সঠিক গন্তেব্য চলাচলের জন্য অসংখ্য রাস্তা-ঘাট তৈরি করে রেখেছেন।
وَ الَّذِیْ نَزَّلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءًۢ بِقَدَرٍ ۚ فَاَنْشَرْنَا بِهٖ بَلْدَةً مَّیْتًا ۚ كَذٰلِكَ تُخْرَجُوْنَ 11
11. তিনি আকাশ থেকে তোমাদের প্রয়োজন অনুপাতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। অতঃপর সে পানি দিয়ে নিষ্প্রাণ বিবর্ণ জমিনকে সজীব করে তোলেন। হ্যাঁ, এভাবে তোমাদেরকেও একদিন পুনরুত্থিত করা হবে।
وَ الَّذِیْ خَلَقَ الْاَزْوَاجَ كُلَّهَا وَ جَعَلَ لَكُمْ مِّنَ الْفُلْكِ وَ الْاَنْعَامِ مَا تَرْكَبُوْنَۙ 12
12. তিনিই এ বিশ্ব জগতের সব কিছুকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। তোমাদের চলাচলের জন্য নৌযান বানিয়েছেন। গৃহপালিত পশু সৃষ্টি করেছেন।
لِتَسْتَوٗا عَلٰی ظُهُوْرِهٖ ثُمَّ تَذْكُرُوْا نِعْمَةَ رَبِّكُمْ اِذَا اسْتَوَیْتُمْ عَلَیْهِ وَ تَقُوْلُوْا سُبْحٰنَ الَّذِیْ سَخَّرَ لَنَا هٰذَا وَ مَا كُنَّا لَهٗ مُقْرِنِیْنَۙ 13
13. যাতে তোমরা এসব পশুর পিঠে চড়ে চলাচল করতে পারো। আর হ্যাঁ, যখন তোমরা এসব পশুর উপর সওয়ার হবে, তখন আল্লাহর মেহেরবানির কথা স্মরণ করবে। বলবে, ‘সুবহানাল্লাহ! তিনি বড়ই পবিত্র ও মহামহিম, যিনি এসব বাহনকে আমাদের অধীন করে দিয়েছেন। অন্যথায় আমরা এদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম না।
وَاِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ 14
14. আর আমরা অবশ্যই একদিন আমাদের রবের কাছে ফিরে যাবো।
وَ جَعَلُوْا لَهٗ مِنْ عِبَادِهٖ جُزْءًا ؕ اِنَّ الْاِنْسَانَ لَكَفُوْرٌ مُّبِیْنٌؕ۠ 15
15. হায়! এ সত্য জানার পরেও ওরা আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে কাউকে কাউকে তাঁর সন্তান হিসাবে গণ্য করছে। আফসোস! ওরা কতই না অকৃতজ্ঞ!
اَمِ اتَّخَذَ مِمَّا یَخْلُقُ بَنٰتٍ وَّ اَصْفٰىكُمْ بِالْبَنِیْنَ 16
16. এ তোমাদের কেমন কথা যে, আল্লাহ বেছে বেছে তার সৃষ্টি থেকে নিজের জন্য কেবল কন্যা সন্তান রাখলেন, আর তোমাদের সব পুত্র সন্তান দিয়ে ধন্য করলেন!
وَ اِذَا بُشِّرَ اَحَدُهُمْ بِمَا ضَرَبَ لِلرَّحْمٰنِ مَثَلًا ظَلَّ وَجْهُهٗ مُسْوَدًّا وَّ هُوَ كَظِیْمٌ 17
17. অথচ দেখো! দয়াময়ের সন্তান হিসাবে ওরা যাদেরকে অবহিত করে, এমনসব কন্যা সন্তানের জন্মের সুসংবাদ যদি ওদের কাউকে দেয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে আসে, অন্তর দুঃখ-কষ্টে ভেঙ্গে যাবার উপক্রম হয়।
اَوَ مَنْ یُّنَشَّؤُا فِی الْحِلْیَةِ وَ هُوَ فِی الْخِصَامِ غَیْرُ مُبِیْنٍ 18
18. বলতে থাকে, আহ! কন্যা সন্তান! যাকে শুধু অলংকার হিসাবেই লালন-পালন করতে হবে। যে কিনা প্রতিপক্ষের সাথে তর্ক-বিতর্কে নিজের কথাটা পর্যন্ত দৃঢ়ভাবে বলতে পারে না!
وَ جَعَلُوا الْمَلٰٓىِٕكَةَ الَّذِیْنَ هُمْ عِبٰدُ الرَّحْمٰنِ اِنَاثًا ؕ اَشَهِدُوْا خَلْقَهُمْ ؕ سَتُكْتَبُ شَهَادَتُهُمْ وَ یُسْـَٔلُوْنَ 19
19. এসব দুরাচারীরা দয়াময় আল্লাহর বান্দা ফেরেশতাদেরকে নারী হিসাবে ধরে নিয়েছে। আচ্ছা! ওরা কি ফেরেশতাদের সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছিল? না, বরং ওদের এসব মিথ্যাচার লিখে রাখা হচ্ছে। মহাবিচারের দিন ওদেরকে এসবের জবাব দিতে হবে।
وَ قَالُوْا لَوْ شَآءَ الرَّحْمٰنُ مَا عَبَدْنٰهُمْ ؕ مَا لَهُمْ بِذٰلِكَ مِنْ عِلْمٍ ۗ اِنْ هُمْ اِلَّا یَخْرُصُوْنَؕ 20
20. ওরা আবার বলে, দয়াময় আল্লাহ চাইছেন বলেই আমরা এসব ফেরেশতাদের উপাসনা করছি। না, এ বিষয়ে ওদের কাছে কোনো সুনিশ্চিত জ্ঞান নেই। কেবল আন্দাজ-অনুমানের উপর ভর করে ওরা এসব বলে যাচ্ছে।
اَمْ اٰتَیْنٰهُمْ كِتٰبًا مِّنْ قَبْلِهٖ فَهُمْ بِهٖ مُسْتَمْسِكُوْنَ 21
21. নাকি ইতঃপূর্বে আমি ওদের কাছে ফেরেশতাদের উপাসনার স্বপক্ষে কোনো কিতাব নাযিল করেছিলাম, যা ওরা এখনো মজবুতভাবে মেনে চলছে?
بَلْ قَالُوْۤا اِنَّا وَجَدْنَاۤ اٰبَآءَنَا عَلٰۤی اُمَّةٍ وَّ اِنَّا عَلٰۤی اٰثٰرِهِمْ مُّهْتَدُوْنَ 22
22. না, তা নয়। বরং ওরা বলে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের যে পথ ও মতের উপর পেয়েছি, আমরা কেবল তারই অনুসরণ করছি।
وَ كَذٰلِكَ مَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِیْ قَرْیَةٍ مِّنْ نَّذِیْرٍ اِلَّا قَالَ مُتْرَفُوْهَاۤ ۙ اِنَّا وَجَدْنَاۤ اٰبَآءَنَا عَلٰۤی اُمَّةٍ وَّ اِنَّا عَلٰۤی اٰثٰرِهِمْ مُّقْتَدُوْنَ 23
23. হে নবী, অতীতেও এমনটা হয়েছে। যখনই কোনো জনপদবাসীকে সতর্ক করার জন্য কোনো রসুল পাঠিয়েছি, তখনই সেখানকার প্রতিষ্ঠিত বিত্তশালী লোকেরা বলেছে, আমরা আমাদের বাপ-দাদার সময় থেকে যে পথ ও মতের উপর চলে আসছি, আমরা তারই অনুসরণ করে যাবো।
قٰلَ اَوَ لَوْ جِئْتُكُمْ بِاَهْدٰی مِمَّا وَجَدْتُّمْ عَلَیْهِ اٰبَآءَكُمْ ؕ قَالُوْۤا اِنَّا بِمَاۤ اُرْسِلْتُمْ بِهٖ كٰفِرُوْنَ 24
24. প্রত্যেক রসুলই ওদের বলেছে, আমি যদি তোমাদের বাপ-দাদার পথের চেয়েও উত্তম কোনো পথ দেখাই, তবুও কি তোমরা বাপ-দাদার পথে পড়ে থাকবে? আফসোস! সব সময় ওরা একটাই উত্তর দিয়েছে, হ্যাঁ, আমরা তোমার দেখানো পথে কখনোই চলবো না।
فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَانْظُرْ كَیْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِیْنَ۠ 25
25. শেষ পর্যন্ত আমি ওদের অবাধ্যতার প্রতিশোধ নিয়েছি। চেয়ে দেখো, সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের কপালে কী মর্মান্তিক পরিণতিই না হয়েছিলো!
وَ اِذْ قَالَ اِبْرٰهِیْمُ لِاَبِیْهِ وَ قَوْمِهٖۤ اِنَّنِیْ بَرَآءٌ مِّمَّا تَعْبُدُوْنَۙ 26
26. স্মরণ করো! ইবরাহিম তার পিতা ও সম্প্রদায়কে বলেছিলো, তোমরা যাদের উপাসনা করো, তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।
اِلَّا الَّذِیْ فَطَرَنِیْ فَاِنَّهٗ سَیَهْدِیْنِ 27
27. আমার সম্পর্ক তো কেবল আমার স্রষ্টার সাথে। কেননা একমাত্র তিনিই আমায় সত্য-সঠিক পথ দেখান।
وَ جَعَلَهَا كَلِمَةًۢ بَاقِیَةً فِیْ عَقِبِهٖ لَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَ 28
28. ইবরাহিমের এ ঘোষণা তার পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও বর্তমান ছিলো, যাতে এ বাণী তাদেরকে সত্যের পথে ফিরিয়ে আনে।
بَلْ مَتَّعْتُ هٰۤؤُلَآءِ وَ اٰبَآءَهُمْ حَتّٰی جَآءَهُمُ الْحَقُّ وَ رَسُوْلٌ مُّبِیْنٌ 29
29. তবে পরবর্তীতে অনেকেই সত্যপথ হারিয়েছিলো। তবুও আমি ওদের এবং ওদের বাপ-দাদাদের দুনিয়ার জীবন উপভোগ করার সুযোগ দিয়েছিলাম। এমনকি এভাবেই একসময় ওদের কাছে সত্য এসে হাজির হলো, সুস্পষ্ট রসুল এলো।
وَ لَمَّا جَآءَهُمُ الْحَقُّ قَالُوْا هٰذَا سِحْرٌ وَّ اِنَّا بِهٖ كٰفِرُوْنَ 30
30. কিন্তু ওরা সত্যকে দেখতে পেয়েও বললো, না, এতো স্রেফ যাদু। আমরা কখনো এসব মেনে নেবো না।
وَ قَالُوْا لَوْ لَا نُزِّلَ هٰذَا الْقُرْاٰنُ عَلٰی رَجُلٍ مِّنَ الْقَرْیَتَیْنِ عَظِیْمٍ 31
31. হে নবী, এসব সত্য অস্বীকারকারীরা আবার বলে, তাহলে কেন এ কুরআন মক্কা ও তায়েফের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির উপর নাযিল হলো না?
اَهُمْ یَقْسِمُوْنَ رَحْمَتَ رَبِّكَ ؕ نَحْنُ قَسَمْنَا بَیْنَهُمْ مَّعِیْشَتَهُمْ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ رَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجٰتٍ لِّیَتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا سُخْرِیًّا ؕ وَ رَحْمَتُ رَبِّكَ خَیْرٌ مِّمَّا یَجْمَعُوْنَ 32
32. আচ্ছা! তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ কি ওরা বণ্টন করে? না, বরং আমিই ওদের মধ্যে পার্থিব জীবনোপকরণ আমার মতো করে বণ্টন করি। ওদের কিছু লোককে অন্যদের উপর অধিক মর্যাদা দান করি, যাতে একে অপরের সেবা-সহযোগিতা লাভ করতে পারে। আর হ্যাঁ, ওদের ক্ষমতাদর্পী বিত্তশালীরা যা কিছু জমা করেছে, তার চেয়ে তোমার রবের অনুগ্রহ অনেক অনেক উত্তম।
وَ لَوْ لَاۤ اَنْ یَّكُوْنَ النَّاسُ اُمَّةً وَّاحِدَةً لَّجَعَلْنَا لِمَنْ یَّكْفُرُ بِالرَّحْمٰنِ لِبُیُوْتِهِمْ سُقُفًا مِّنْ فِضَّةٍ وَّ مَعَارِجَ عَلَیْهَا یَظْهَرُوْنَۙ 33
33. ওদের দেখাদেখি সত্য প্রত্যাখ্যানে সকল মানুষ এক মতাবলম্বী হয়ে পড়ার আশঙ্কা না থাকলে, যারা দয়াময়কে অস্বীকার করে চলছে, আমি ওদের ঘর-বাড়ির ছাদ এবং আরোহনের সিড়িগুলোও রূপা দিয়ে বানিয়ে দিতাম।
وَ لِبُیُوْتِهِمْ اَبْوَابًا وَّ سُرُرًا عَلَیْهَا یَتَّكِـُٔوْنَۙ 34
34. ওদের ঘরের প্রত্যেকটা দরজা, এমনকি ওদের হেলান দিয়ে বসার আসনগুলো পর্যন্ত আমি রূপা দিয়ে বানিয়ে দিতাম।
وَ زُخْرُفًا ؕ وَ اِنْ كُلُّ ذٰلِكَ لَمَّا مَتَاعُ الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا ؕ وَ الْاٰخِرَةُ عِنْدَ رَبِّكَ لِلْمُتَّقِیْنَ۠ 35
35. এমনকি, চাইলে কাড়িকাড়ি স্বর্ণ দিয়ে ওদের পুরো বাড়িটাই সাজিয়ে দিতাম। কিন্তু তারপরেও এসব হতো দুনিয়ার সামান্য কয়েকটা দিনের ভোগমাত্র। আর আখেরাত! সেদিন তো কেবল মুত্তাকীরাই তোমার রবের অনুগ্রহ লাভ করবে।
وَ مَنْ یَّعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمٰنِ نُقَیِّضْ لَهٗ شَیْطٰنًا فَهُوَ لَهٗ قَرِیْنٌ 36
36. যখন কেউ দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকে, তখন মূলত কুমন্ত্রণাদানকারী এক শয়তান তার পিছনে লাগে। তখন শয়তানই হয়ে যায় তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।
وَ اِنَّهُمْ لَیَصُدُّوْنَهُمْ عَنِ السَّبِیْلِ وَیَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ مُّهْتَدُوْنَ 37
37. এ শয়তান এদেরকে বারবারই সত্যের পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। কিন্তু তারা ভাবতে থাকে যে, তারা সত্য-সঠিক পথেই চলছে।
حَتّٰۤی اِذَا جَآءَنَا قَالَ یٰلَیْتَ بَیْنِیْ وَ بَیْنَكَ بُعْدَ الْمَشْرِقَیْنِ فَبِئْسَ الْقَرِیْنُ 38
38. এভাবেই এক সময়ে সে আমার বিচারের মুখেমুখি এসে দাঁড়াবে। সেদিন সে শয়তানকে ডেকে আফসোস করে বলতে থাকবে, হায়! তোমার ও আমার মধ্যে যদি পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্ব থাকতো। আহ! বন্ধু হিসাবে তুমি কতোই না নিকৃষ্ট ছিলে।
وَ لَنْ یَّنْفَعَكُمُ الْیَوْمَ اِذْ ظَّلَمْتُمْ اَنَّكُمْ فِی الْعَذَابِ مُشْتَرِكُوْنَ 39
39. সেদিন ওদের বলা হবে, আজ অনুশোচনা করে তোমাদের কোনো লাভ হবে না। যে সীমালঙ্ঘন তোমরা করেছো, তার শাস্তি তোমাদের ভোগ করতেই হবে।
اَفَاَنْتَ تُسْمِعُ الصُّمَّ اَوْ تَهْدِی الْعُمْیَ وَ مَنْ كَانَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ 40
40. হে নবী, কোনো বধিরকে কি তুমি কখনো শুনাতে পারবে? কিংবা কোনো অন্ধ বা সুস্পষ্ট গোমরাহিতে ডুবে থাকা কাউকে সঠিক পথে আনতে পারবে?
فَاِمَّا نَذْهَبَنَّ بِكَ فَاِنَّا مِنْهُمْ مُّنْتَقِمُوْنَۙ 41
41. এখন এসব সত্য অস্বীকারকারীরা অবশ্যই শাস্তি পাবে। চাই তুমি ওদের মধ্যে থাকো বা নাই থাকো।
اَوْ نُرِیَنَّكَ الَّذِیْ وَعَدْنٰهُمْ فَاِنَّا عَلَیْهِمْ مُّقْتَدِرُوْنَ 42
42. আমি ওদেরকে যে শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করেছি, তা পুরো করার ক্ষমতা আমার রয়েছে। আমি চাইলে তোমার চোখের সামনেই তা ওদেরকে দেখাতে পারি।
فَاسْتَمْسِكْ بِالَّذِیْۤ اُوْحِیَ اِلَیْكَ ۚ اِنَّكَ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ 43
43. অতএব হে নবী, তোমার প্রতি যা অহি করা হয়েছে, তুমি তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে চলো। সন্দেহ নেই, তুমি সহজ-সঠিক পথেই রয়েছো।
وَ اِنَّهٗ لَذِكْرٌ لَّكَ وَ لِقَوْمِكَ ۚ وَ سَوْفَ تُسْـَٔلُوْنَ 44
44. নিশ্চয়ই হে নবী, এ কিতাব তোমার ও তোমার জাতির জন্য বড়ই সম্মানের বিষয়। কাজেই সতর্ক থেকো, এর হক আদায়ের ব্যাপারে অচিরেই তোমাদের জবাবদিহি করতে হবে।
وَ سْـَٔلْ مَنْ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُّسُلِنَاۤ اَجَعَلْنَا مِنْ دُوْنِ الرَّحْمٰنِ اٰلِهَةً یُّعْبَدُوْنَ۠ 45
45. প্রয়োজনে তোমার আগে যে রসুলদের পাঠিয়েছি, তাদের সবাইকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারো যে, দয়াময় আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে উপাস্য হিসাবে গ্রহণ করার অনুমতি আমি দিয়েছিলাম কি না?
وَ لَقَدْ اَرْسَلْنَا مُوْسٰی بِاٰیٰتِنَاۤ اِلٰی فِرْعَوْنَ وَ مَلَاۡىِٕهٖ فَقَالَ اِنِّیْ رَسُوْلُ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ 46
46. আমি মুসাকে আমার মহিমার অসংখ্য নিদর্শন দিয়ে ফেরাউন ও তার সভাসদের কাছে পাঠিয়েছিলাম। সে গিয়ে তাদেরকে বললো, আমি তোমাদের কাছে মহাবিশ্বের রবের বার্তা নিয়ে এসেছি।
فَلَمَّا جَآءَهُمْ بِاٰیٰتِنَاۤ اِذَا هُمْ مِّنْهَا یَضْحَكُوْنَ 47
47. এরপর যখন মুসা তাদের সামনে আমার দেয়া অলৌকিক নিদর্শন পেশ করলো, তখন ওরা তা নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতে লাগলো।
وَ مَا نُرِیْهِمْ مِّنْ اٰیَةٍ اِلَّا هِیَ اَكْبَرُ مِنْ اُخْتِهَا ؗ وَ اَخَذْنٰهُمْ بِالْعَذَابِ لَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَ 48
48. পরে আমি ওদেরকে একের পর এক এমন সব নিদর্শন দেখাতে লাগলাম, যার প্রতিটাই আগেরটার চেয়ে ছিলো আরো শাক্তিশালী। আমি ওদেরকে বারবার আযাবের মুখোমুখি করলাম, যাতে ওরা সত্যের পথে ফিরে আসে।
وَ قَالُوْا یٰۤاَیُّهَ السّٰحِرُ ادْعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِنْدَكَ ۚ اِنَّنَا لَمُهْتَدُوْنَ 49
49. কিন্তু না, প্রত্যেক বারই আযাবের শিকার হলে মুসাকে বলতো, ওহে যাদুকর! তোমার রবের প্রদত্ত পদমর্যাদার জোরে আমাদের রক্ষার জন্য তোমার রবের কাছে দোয়া করো। কথা দিচ্ছি, এবার আমরা তোমার সত্য দাওয়াত মেনে নেবো।
فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ الْعَذَابَ اِذَا هُمْ یَنْكُثُوْنَ 50
50. কিন্তু যখনই আমি ওদের উপর থেকে আযাব সরিয়ে নিতাম, মুহূর্তের মধ্যেই ওরা সে অঙ্গীকার ভঙ্গ করতো।
وَ نَادٰی فِرْعَوْنُ فِیْ قَوْمِهٖ قَالَ یٰقَوْمِ اَلَیْسَ لِیْ مُلْكُ مِصْرَ وَ هٰذِهِ الْاَنْهٰرُ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِیْ ۚ اَفَلَا تُبْصِرُوْنَؕ 51
51. এভাবে এক সময় ফিরাউন ওর সম্প্রদায়কে ডেকে বললো, তোমরাই বলো, এ মিশরের রাজা কি আমি নই? এসব নদ-নদী কি আমার অধীনে প্রবাহিত হচ্ছে না? তোমরা কি দেখতে পাচ্ছো না যে, তোমাদের জন্য আমি কতো কী করে চলছি?
اَمْ اَنَا خَیْرٌ مِّنْ هٰذَا الَّذِیْ هُوَ مَهِیْنٌ ۙ۬ وَّ لَا یَكَادُ یُبِیْنُ 52
52. তোমরাই বলো, আমি কি এ তুচ্ছ, ছোটলোক মুসার চেয়ে শ্রেষ্ঠ নই? সে তো নিজের বক্তব্য এখনো তোমাদেরকে পরিষ্কারভাবে বুঝাতেও পারেনি।
فَلَوْ لَاۤ اُلْقِیَ عَلَیْهِ اَسْوِرَةٌ مِّنْ ذَهَبٍ اَوْ جَآءَ مَعَهُ الْمَلٰٓىِٕكَةُ مُقْتَرِنِیْنَ 53
53. সে যদি সত্যিই আল্লাহর বার্তাবাহক হবে, তবে তার মাথায় কেন স্বর্ণের বালা নেই? কেন তার সেবায় একদল ফেরেশতা পাঠানো হয়নি?
فَاسْتَخَفَّ قَوْمَهٗ فَاَطَاعُوْهُ ؕ اِنَّهُمْ كَانُوْا قَوْمًا فٰسِقِیْنَ 54
54. এভাবেই ফেরাউন তার সম্প্রদায়কে বোকা বানালো। আর তারা ওর কথা মেনেও নিলো। আসলে পুরো সম্প্রদায়ই ছিলো এক অবাধ্য পাপাচারী।
فَلَمَّاۤ اٰسَفُوْنَا انْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَاَغْرَقْنٰهُمْ اَجْمَعِیْنَۙ 55
55. শেষ পর্যন্ত ওরা যখন আমায় রাগান্বিত করে তুললো, তখন আমি ওদের থেকে কঠিন প্রতিশোধ নিলাম। ওদের সবাইকে এক সাথে পানিতে ডুবিয়ে মারলাম।
فَجَعَلْنٰهُمْ سَلَفًا وَّ مَثَلًا لِّلْاٰخِرِیْنَ۠ 56
56. এভাবেই ওদেরকে এক অতীত ইতিহাস বানিয়ে দিলাম। পরবর্তীদের জন্য এক দৃষ্টান্ত বানিয়ে রাখলাম।
وَ لَمَّا ضُرِبَ ابْنُ مَرْیَمَ مَثَلًا اِذَا قَوْمُكَ مِنْهُ یَصِدُّوْنَ 57
57. হে নবী, যখনই তোমার জাতির এসব পাপাচারী লোকদের সামনে মারিয়াম পুত্র ঈসার দৃষ্টান্ত পেশ করা হয়, তখনই ওরা শোরগোল বাঁধিয়ে দেয়।
وَ قَالُوْۤا ءَاٰلِهَتُنَا خَیْرٌ اَمْ هُوَ ؕ مَا ضَرَبُوْهُ لَكَ اِلَّا جَدَلًا ؕ بَلْ هُمْ قَوْمٌ خَصِمُوْنَ 58
58. বলতে থাকে, উপাস্য হিসাবে আমাদের খোদারা শ্রেষ্ঠ নাকি এ-ই ঈসা? আসলে ওরা এ দৃষ্টান্ত দিচ্ছে কেবল তোমার সাথে ঝগড়া বাঁধানোর জন্য। আফসোস! ওরা বড়ই ঝগড়াটে লোক।
اِنْ هُوَ اِلَّا عَبْدٌ اَنْعَمْنَا عَلَیْهِ وَ جَعَلْنٰهُ مَثَلًا لِّبَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَؕ 59
59. ওদের শোনা উচিত, মারিয়াম পুত্র ঈসা আমার বান্দা ছাড়া আর কিছুই ছিলো না। আমি তার উপর বিশেষ অনুগ্রহ করেছিলাম এবং তাকে বনি ইসরাইলের জন্য আমার কুদরতের এক দৃষ্টান্ত বানিয়েছিলাম।
وَ لَوْ نَشَآءُ لَجَعَلْنَا مِنْكُمْ مَّلٰٓىِٕكَةً فِی الْاَرْضِ یَخْلُفُوْنَ 60
60. আর হ্যাঁ, আমি ইচ্ছা করলে তোমাদের পরিবর্তে ফেরেশতাদেরকে এ পৃথিবীর উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করতে পারতাম।
وَ اِنَّهٗ لَعِلْمٌ لِّلسَّاعَةِ فَلَا تَمْتَرُنَّ بِهَا وَ اتَّبِعُوْنِ ؕ هٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِیْمٌ 61
61. আর ঈসা! নিশ্চয়ই তার জীবন ইতিহাসের মধ্যে কিয়ামতের সত্যতার প্রমাণ রয়েছে। কাজেই কিয়ামতের ব্যাপারে তোমরা কোনো সন্দেহে পড়ে থেকো না। আমার পথনির্দেশ অনুসরণ করে চলো। এটাই একমাত্র মুক্তির সহজ-সঠিক পথ।
وَ لَا یَصُدَّنَّكُمُ الشَّیْطٰنُ ۚ اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِیْنٌ 62
62. শয়তান যেনো কিছুতেই তোমাদেরকে এ পথ থেকে দূরে সরাতে না পারে। নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
وَ لَمَّا جَآءَ عِیْسٰی بِالْبَیِّنٰتِ قَالَ قَدْ جِئْتُكُمْ بِالْحِكْمَةِ وَ لِاُبَیِّنَ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِیْ تَخْتَلِفُوْنَ فِیْهِ ۚ فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَ اَطِیْعُوْنِ 63
63. ঈসা সুস্পষ্ট নিদর্শন দেখিয়ে তার সম্প্রদায়কে বলেছিলো, শোনো! আমি তোমাদের কাছে এক বড়ই প্রজ্ঞাপূর্ণ জিনিস নিয়ে এসেছি, যাতে তোমরা সত্যের ব্যাপারে যে নানা মত ও পথের জন্ম দিয়েছো, তার সমাধান করতে পারি। অতএব আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার কথা মেনে নাও।
اِنَّ اللّٰهَ هُوَ رَبِّیْ وَ رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوْهُ ؕ هٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِیْمٌ 64
64. নিঃসন্দেহে আল্লাহই আমার রব এবং তিনি তোমাদেরও রব। অতএব একমাত্র তাঁরই ইবাদত করো। এটাই মুক্তির সহজ-সঠিক পথ।
فَاخْتَلَفَ الْاَحْزَابُ مِنْۢ بَیْنِهِمْ ۚ فَوَیْلٌ لِّلَّذِیْنَ ظَلَمُوْا مِنْ عَذَابِ یَوْمٍ اَلِیْمٍ 65
65. কিন্তু না, পরবর্তীতে ঈসার অনুসারীরাও তার ব্যাপারে নানা দল ও মতে বিভক্ত হয়ে পড়লো। কাজেই জালেমদের জন্য এখন কেবল এক মর্মান্তিক দিনের শাস্তিই অপেক্ষা করছে।
هَلْ یَنْظُرُوْنَ اِلَّا السَّاعَةَ اَنْ تَاْتِیَهُمْ بَغْتَةً وَّ هُمْ لَا یَشْعُرُوْنَ 66
66. তাহলে কি এসব পাপিষ্ঠরা সে-ই কিয়ামতের জন্য অপেক্ষা করছে, যা ওদের অজান্তেই হঠাৎ এসে যাবে?
اَلْاَخِلَّآءُ یَوْمَىِٕذٍۭ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ اِلَّا الْمُتَّقِیْنَؕ۠ 67
67. হায়! সেদিন মুত্তাকী বান্দারা ছাড়া অন্যসব বন্ধুই একে অপরের দুশমন হয়ে যাবে।
یٰعِبَادِ لَا خَوْفٌ عَلَیْكُمُ الْیَوْمَ وَ لَاۤ اَنْتُمْ تَحْزَنُوْنَۚ 68
68. সেদিন আল্লাহ বলবেন, হে আমার অনুগত বান্দারা, আজ তোমাদের কোনো ভয় নেই। দুশ্চিন্তার কারণ নেই।
اَلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِاٰیٰتِنَا وَ كَانُوْا مُسْلِمِیْنَۚ 69
69. যেহেতু তোমরা আমার আয়াতকে মেনে নিয়েছিলে এবং নিজেকে আমার প্রতি পুরোপুরি সপে দিয়েছিলে।
اُدْخُلُوا الْجَنَّةَ اَنْتُمْ وَ اَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُوْنَ 70
70. অতএব আজ তোমরা তোমাদের সঙ্গী-সাথিদের নিয়ে সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ করো।
یُطَافُ عَلَیْهِمْ بِصِحَافٍ مِّنْ ذَهَبٍ وَّ اَكْوَابٍ ۚ وَ فِیْهَا مَا تَشْتَهِیْهِ الْاَنْفُسُ وَ تَلَذُّ الْاَعْیُنُ ۚ وَ اَنْتُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَۚ 71
71. সেখানে সোনার থালা ও পানপাত্র নিয়ে ঘুরেঘুরে তাদেরকে আপ্যায়িত করা হবে। তাদের মন যা চাইবে, তা-ই পাবে। চোখ জুড়ানো এসব নেয়ামত তারা চিরকালের জন্য উপভোগ করবে।
وَ تِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِیْۤ اُوْرِثْتُمُوْهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ 72
72. বলা হবে, এটা সেই প্রতিশ্রুত জান্নাত। দুনিয়ার সৎকর্মের পুরস্কার হিসাবে আজ তোমরা এর মালিক।
لَكُمْ فِیْهَا فَاكِهَةٌ كَثِیْرَةٌ مِّنْهَا تَاْكُلُوْنَ 73
73. বলা হবে, দেখো! কতো বাহারি রকমের সুস্বাদু ফলমূল এখানে রয়েছে, যা থেকে তোমরা যতো খুশি খেতে পারো।
اِنَّ الْمُجْرِمِیْنَ فِیْ عَذَابِ جَهَنَّمَ خٰلِدُوْنَۚۖ 74
74. আর অন্যদিকে অপরাধীরা! সেদিন চিরদিনের জন্য ওরা জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে।
لَا یُفَتَّرُ عَنْهُمْ وَ هُمْ فِیْهِ مُبْلِسُوْنَۚ 75
75. আহ! সেদিন ওদের শাস্তি ক্ষণিকের জন্যেও কমানো হবে না। শাস্তির পর শাস্তি ভোগ করতে করতে বাঁচার শেষ আশাটুকুও ওরা হারিয়ে ফেলবে।
وَ مَا ظَلَمْنٰهُمْ وَ لٰكِنْ كَانُوْا هُمُ الظّٰلِمِیْنَ 76
76. না, আমি ওদের শাস্তি দিয়ে অবিচার করিনি; বরং ওদের নিজেদের অনাচারই ওদের সর্বনাশ করেছে।
وَ نَادَوْا یٰمٰلِكُ لِیَقْضِ عَلَیْنَا رَبُّكَ ؕ قَالَ اِنَّكُمْ مّٰكِثُوْنَ 77
77. সেদিন ওরা আর্তনাদ করে জাহান্নামের প্রধান রক্ষী মালেক কে ডাকতে থাকবে। বলবে, হে মালেক, তোমার রবকে বলো, এর চেয়ে আমাদেরকে একেবারে শেষ করে দিক। জবাবে সে বলবে, না, তোমরা এভাবেই চিরদিনের জন্য শাস্তি ভোগ করতে থাকবে।
لَقَدْ جِئْنٰكُمْ بِالْحَقِّ وَ لٰكِنَّ اَكْثَرَكُمْ لِلْحَقِّ كٰرِهُوْنَ 78
78. তখন আল্লাহ বলবেন, কেন ওহে পাপিষ্ঠরা? আমি তো তোমাদের কাছে মহাসত্য পৌঁছে দিয়েছিলাম; কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই সে সত্যকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলে।
اَمْ اَبْرَمُوْۤا اَمْرًا فَاِنَّا مُبْرِمُوْنَۚ 79
79. হে নবী, এসব সত্য অস্বীকারকারীরা কি তোমার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে? বেশ! তবে আমিও আমার পদক্ষেপ ঠিক করে রাখছি।
اَمْ یَحْسَبُوْنَ اَنَّا لَا نَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَ نَجْوٰىهُمْ ؕ بَلٰی وَ رُسُلُنَا لَدَیْهِمْ یَكْتُبُوْنَ 80
80. ওরা কি মনে করে যে, আমি ওদের গোপন আলাপ-আলোচনা এবং সলাপরামর্শ সম্পর্কে কোনোই খবর রাখি না? অবশ্যই রাখি। আমার নিযুক্ত ফেরেশতারা ওদের কাছ থেকে সবকিছুই রেকর্ড করছে।
قُلْ اِنْ كَانَ لِلرَّحْمٰنِ وَلَدٌ ۖۗ فَاَنَا اَوَّلُ الْعٰبِدِیْنَ 81
81. হে নবী, ওদের বলো, সত্যিই যদি দয়াময় আল্লাহর কোনো সন্তান থাকতো, তবে তোমাদের মধ্যে আমিই প্রথম তার ইবাদত করতাম।
سُبْحٰنَ رَبِّ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا یَصِفُوْنَ 82
82. সুবহানাল্লহ! মহাকাশ ও পৃথিবীর রব, মহান আরশের অধিপতি ওদের এসব মিথ্যারোপ থেকে অতি পবিত্র এবং মহামহিম।
فَذَرْهُمْ یَخُوْضُوْا وَ یَلْعَبُوْا حَتّٰی یُلٰقُوْا یَوْمَهُمُ الَّذِیْ یُوْعَدُوْنَ 83
83. ঠিক আছে! প্রতিশ্রুত মহাবিচার দিন পর্যন্ত ওদেরকে ওদের মতো থাকতে দাও। ওরা মিথ্যা ধ্যান-ধারণায় ডুবে থাকুক। মিথ্যাচারের খেলায় মেতে থাকুক।
وَ هُوَ الَّذِیْ فِی السَّمَآءِ اِلٰهٌ وَّ فِی الْاَرْضِ اِلٰهٌ ؕ وَ هُوَ الْحَكِیْمُ الْعَلِیْمُ 84
84. কিন্তু সেদিন ঠিকই বুঝতে পারবে, দয়াময় আল্লাহই এককভাবে মহাকাশ ও পৃথিবীর ইলাহ। তিনি বড়ই প্রজ্ঞাময়, বড়ই জ্ঞানী।
وَ تَبٰرَكَ الَّذِیْ لَهٗ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ مَا بَیْنَهُمَا ۚ وَ عِنْدَهٗ عِلْمُ السَّاعَةِ ۚ وَ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ 85
85. দয়াময় আল্লাহ কতোই না বরকতময়! মহাকাশ ও পৃথিবী এবং এর মধ্যবর্তী সব কিছুর সার্বভৌম ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই। আর তিনিই জানেন, কবে সে-ই মহাবিচারের দিনটি আসবে। সন্দেহ নেই, তাঁর কাছেই সবাইকে ফিরতে হবে।
وَ لَا یَمْلِكُ الَّذِیْنَ یَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِهِ الشَّفَاعَةَ اِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَ هُمْ یَعْلَمُوْنَ 86
86. ওরা দয়াময় আল্লাহর পরিবর্তে যাদের উপাসনা করে, তাদের কারোরই সুপারিশ করার সামান্য এখতিয়ারও নেই। তবে কেউ জ্ঞানের ভিত্তিতে সত্য সাক্ষ্য দিলে তা ভিন্ন কথা।
وَ لَىِٕنْ سَاَلْتَهُمْ مَّنْ خَلَقَهُمْ لَیَقُوْلُنَّ اللّٰهُ فَاَنّٰی یُؤْفَكُوْنَۙ 87
87. হে নবী, তুমি যদি ওদের জিজ্ঞেস করো, কে তাদের সৃষ্টি করেছে? জবাবে ওরা নিজেরাই বলবে, হ্যাঁ, আল্লাহ। তাহলে কিভাবে ওরা আল্লাহর ব্যাপারে প্রতারিত হচ্ছে?
وَ قِیْلِهٖ یٰرَبِّ اِنَّ هٰۤؤُلَآءِ قَوْمٌ لَّا یُؤْمِنُوْنَۘ 88
88. শপথ রসুলের সে-ই অভিযোগের, হে আমার রব, নিশ্চয়ই এ সম্প্রদায় সত্যকে মেনে নেবার নয়।
فَاصْفَحْ عَنْهُمْ وَ قُلْ سَلٰمٌ ؕ فَسَوْفَ یَعْلَمُوْنَ۠ 89
89. অতএব হে নবী, এসব পাপাচারীদের উপেক্ষা করে যাও। অচিরেই ওরা এর পরিণতি টের পাবে।