61. আস-সফ

سَبَّحَ لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ ۚ وَ هُوَ الْعَزِیْزُ الْحَكِیْمُ 1
1. মহাকাশ ও পৃথিবীর সবকিছুই আল্লাহর পবিত্র মহিমা ঘোষণা করে। তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لِمَ تَقُوْلُوْنَ مَا لَا تَفْعَلُوْنَ 2
2. হে ঈমানদারেরা, তোমাদের কথা ও কাজের মধ্যে মিল নেই কেন?
كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللّٰهِ اَنْ تَقُوْلُوْا مَا لَا تَفْعَلُوْنَ 3
3. কেন তোমরা এমন কথা বলছো, যা নিজেরা আমল করছো না? এটা আল্লাহর কাছে খুবই অপছন্দনীয় ব্যাপার।
اِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الَّذِیْنَ یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِهٖ صَفًّا كَاَنَّهُمْ بُنْیَانٌ مَّرْصُوْصٌ 4
4. শোনো, আল্লাহ কেবল সে লোকদেরকেই পছন্দ করেন, যারা সুদৃঢ় প্রাচীরের মতো সারিবদ্ধভাবে আল্লাহর পথে লড়াই করে।
وَ اِذْ قَالَ مُوْسٰی لِقَوْمِهٖ یٰقَوْمِ لِمَ تُؤْذُوْنَنِیْ وَ قَدْ تَّعْلَمُوْنَ اَنِّیْ رَسُوْلُ اللّٰهِ اِلَیْكُمْ ؕ فَلَمَّا زَاغُوْۤا اَزَاغَ اللّٰهُ قُلُوْبَهُمْ ؕ وَ اللّٰهُ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الْفٰسِقِیْنَ 5
5. ঈমানদারেরা, তোমরা মুসার সে কওমের মতো হয়ো না, যাদেরকে মুসা বলেছিলো, হে আমার লোকেরা, তোমরা কেন আমায় কষ্ট দিচ্ছো? অথচ তোমরা জানো যে, আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রসুল। কিন্তু না, এরপরও ওরা বাঁকা পথ ধরে হাঁটলো। ফলে আল্লাহ ওদের অন্তরকে বাঁকা করে দিলেন। বস্তুত আল্লাহ ফাসেকদের সহজ-সঠিক পথ দেখান না।
وَ اِذْ قَالَ عِیْسَی ابْنُ مَرْیَمَ یٰبَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ اِنِّیْ رَسُوْلُ اللّٰهِ اِلَیْكُمْ مُّصَدِّقًا لِّمَا بَیْنَ یَدَیَّ مِنَ التَّوْرٰىةِ وَ مُبَشِّرًۢا بِرَسُوْلٍ یَّاْتِیْ مِنْۢ بَعْدِی اسْمُهٗۤ اَحْمَدُ ؕ فَلَمَّا جَآءَهُمْ بِالْبَیِّنٰتِ قَالُوْا هٰذَا سِحْرٌ مُّبِیْنٌ 6
6. স্মরণ করো! এক সময় মারিয়াম পুত্র ঈসা বলেছিলো, হে বনি ইসরাইল, আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রসুল। আমি তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং আমি সুসংবাদ দিচ্ছি, আমার পরে ‘আহমদ’ নামে একজন রসুল আসবেন; কিন্তু পরে যখন সেই প্রতিশ্রুত রসুল যার ব্যাপারে ঈসা ভবিষ্যৎবাণী করেছিলো, সুস্পষ্ট প্রমাণসহ হাজির হলো, তখন এসব ইহুদি-খ্রিস্টানেরা একযোগে বলতে লাগলো, না! না! এতো স্পষ্ট যাদু, প্রতারণা।
وَ مَنْ اَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ الْكَذِبَ وَ هُوَ یُدْعٰۤی اِلَی الْاِسْلَامِ ؕ وَ اللّٰهُ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الظّٰلِمِیْنَ 7
7. বস্তুত কাউকে আল্লাহর প্রতি নিজেকে সমার্পণের জন্য আহ্বান করার পর, সে যদি উল্টো আল্লাহর বাণী সম্পর্কে মিথ্যা ছড়ায়, তবে তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে? এ ধরনের জালেমেরা কখনোই আল্লাহর দেখানো সহজ-সঠিক পথ খুঁজে পায় না।
یُرِیْدُوْنَ لِیُطْفِـُٔوْا نُوْرَ اللّٰهِ بِاَفْوَاهِهِمْ وَ اللّٰهُ مُتِمُّ نُوْرِهٖ وَ لَوْ كَرِهَ الْكٰفِرُوْنَ 8
8. এরা কথায় কথায় আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়। কিন্তু না, এ কাফেরেরা যতোই বিরোধিতা করুক না কেন, আল্লাহ তাঁর নূরকে উদ্ভাসিত করবেনই।
هُوَ الَّذِیْۤ اَرْسَلَ رَسُوْلَهٗ بِالْهُدٰی وَ دِیْنِ الْحَقِّ لِیُظْهِرَهٗ عَلَی الدِّیْنِ كُلِّهٖ وَ لَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُوْنَ۠ 9
9. আল্লাহ তো এ কারণেই তাঁর রসুলকে সঠিক জীবনাদর্শ এবং নির্ভুল পথনির্দেশ দিয়ে পাঠিয়েছেন। কাজেই শরিককারীরা যতোই অপছন্দ করুক না কেন, পৃথিবীর সকল মিথ্যা দ্বীনের উপর আল্লাহর দ্বীনের বিজয় অবশ্যই হবে।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا هَلْ اَدُلُّكُمْ عَلٰی تِجَارَةٍ تُنْجِیْكُمْ مِّنْ عَذَابٍ اَلِیْمٍ 10
10. হে ঈমানদারেরা, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসার বায়নাপত্র লিখে দেবো, যা তোমাদেরকে মর্মান্তিক আযাব থেকে বাঁচিয়ে দেবে?
تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ وَ تُجَاهِدُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ بِاَمْوَالِكُمْ وَ اَنْفُسِكُمْ ؕ ذٰلِكُمْ خَیْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَۙ 11
11. তবে শোনো, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের উপর পূর্ণ ঈমান আনার সাথে সাথে আল্লাহর পথে নিজেদের জান-মাল দিয়ে সর্বাত্মক লড়াই-সংগ্রাম চালাও। তোমরা যদি বুঝতে, তবে এ পথেই নিজেদের কল্যাণ খুঁজে পেতে ।
یَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَ یُدْخِلْكُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ وَ مَسٰكِنَ طَیِّبَةً فِیْ جَنّٰتِ عَدْنٍ ؕ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُۙ 12
12. বিনিময়ে আল্লাহ তোমাদের জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দিবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার পাদদেশেই থাকবে প্রবহমান ঝর্নাধারা, থাকবে মনোমুগ্ধকর বাসগৃহ। চিরদিনের জন্য তোমরা সে সুখ উপভোগ করবে। আর এটাই প্রকৃত সাফল্য।
وَ اُخْرٰی تُحِبُّوْنَهَا ؕ نَصْرٌ مِّنَ اللّٰهِ وَ فَتْحٌ قَرِیْبٌ ؕ وَ بَشِّرِ الْمُؤْمِنِیْنَ 13
13. আর হ্যাঁ, এ পথেই তোমরা পার্থিব জীবনে আল্লাহর সাহায্য এবং অতি নিকট সময়ে দ্বীনের বিজয় দেখতে পাবে, যা তোমরা খুবই পছন্দ করো। অতএব হে নবী, তুমি ঈমানদারদের এ সুখবর দাও।
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا كُوْنُوْۤا اَنْصَارَ اللّٰهِ كَمَا قَالَ عِیْسَی ابْنُ مَرْیَمَ لِلْحَوَارِیّٖنَ مَنْ اَنْصَارِیْۤ اِلَی اللّٰهِ ؕ قَالَ الْحَوَارِیُّوْنَ نَحْنُ اَنْصَارُ اللّٰهِ فَاٰمَنَتْ طَّآئِفَةٌ مِّنْۢ بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ وَ كَفَرَتْ طَّآئِفَةٌ ۚ فَاَیَّدْنَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا عَلٰی عَدُوِّهِمْ فَاَصْبَحُوْا ظٰهِرِیْنَ۠ 14
14. কাজেই হে ঈমানদারেরা, এখন তোমরা পূর্ণভাবে আল্লাহর সাহায্যকারী হয়ে যাও। যেভাবে মারিয়াম পুত্র ঈসা তার সাথিদের বলেছিলো, তোমাদের মধ্যে কারা কারা আল্লাহর জন্য আমার সাহায্যকারী হবে? তখন তার নিষ্ঠাবান সাথিরা বলেছিলো, হ্যাঁ, আমরাই আল্লাহর জন্য আপনার সাহায্যকারী হবো। সে সময় ঈসার দাওয়াতে বনি ইসরাইলের একটি অংশ সত্যকে মেনে নিলেও অপর এক অংশ সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকলো। শেষ পর্যন্ত আমি শত্রুর মোকাবেলায় সে ঈমানদারদের শক্তি যোগালাম। ফলে তারাই বিজয়ী হলো।