78. আন-নাবা

عَمَّ یَتَسَآءَلُوْنَۚ 1
1. আচ্ছা! ওরা নিজেদের মধ্যে কী নিয়ে কানাঘুষা করছে?
عَنِ النَّبَاِ الْعَظِیْمِۙ 2
2. কিয়ামতের মহাসংবাদ নিয়ে?
الَّذِیْ هُمْ فِیْهِ مُخْتَلِفُوْنَؕ 3
3. ওরা এ নিয়ে নানা ধরনের কথা বলছে, ঠাট্টা-বিদ্রুপ করছে।
كَلَّا سَیَعْلَمُوْنَۙ 4
4. কখনো নয়, সময় এলেই ওরা জানতে পারবে।
ثُمَّ كَلَّا سَیَعْلَمُوْنَ 5
5. হ্যাঁ, আবারো বলছি, ওরা সেদিন আসল সত্যটা জানতে পারবে।
اَلَمْ نَجْعَلِ الْاَرْضَ مِهٰدًاۙ 6
6. ভেবে দেখো, আমি কি জমিনকে সমতল করে বিছিয়ে দেইনি?
وَّالْجِبَالَ اَوْتَادًا۪ۙ 7
7. পাহাড়গুলোকে পেরেকের মতো বসিয়ে ভারসাম্য স্থাপক বানাইনি?
وَّ خَلَقْنٰكُمْ اَزْوَاجًاۙ 8
8. দেখো! আমি তোমাদেরকে নারী ও পুরুষ জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি।
وَّ جَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًاۙ 9
9. তোমাদের ঘুমকে বিশ্রামের বাহক বানিয়েছি।
وَّ جَعَلْنَا الَّیْلَ لِبَاسًاۙ 10
10. রাতকে অন্ধকার দিয়ে ঢেকে দিয়েছি।
وَّ جَعَلْنَا النَّهَارَ مَعَاشًا۪ 11
11. দিনকে জীবিকা উপার্জনের জন্য আলোকিত করেছি।
وَّ بَنَیْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعًا شِدَادًاۙ 12
12. তোমাদের মাথার উপর সাতটি মজবুত আকাশ নির্মাণ করেছি।
وَّ جَعَلْنَا سِرَاجًا وَّهَّاجًا۪ۙ 13
13. সূর্যকে এক উত্তপ্ত-উজ্জ্বল প্রদীপ বানিয়ে রেখেছি।
وَّ اَنْزَلْنَا مِنَ الْمُعْصِرٰتِ مَآءً ثَجَّاجًاۙ 14
14. আর মেঘমালা থেকে বর্ষণ করেছি অবিরাম বৃষ্টি।
لِّنُخْرِجَ بِهٖ حَبًّا وَّ نَبَاتًاۙ 15
15. যা দ্বারা উৎপন্ন হয় শাক-সবজি ও গাছ-গাছালি।
وَّ جَنّٰتٍ اَلْفَافًاؕ 16
16. এবং সৃষ্টি হয় ঘন পত্র-পুষ্প শোভিত বাগান।
اِنَّ یَوْمَ الْفَصْلِ كَانَ مِیْقَاتًاۙ 17
17. সন্দেহ নেই, মহাবিচারের দিনক্ষণ ঠিক হয়ে আছে।
یَّوْمَ یُنْفَخُ فِی الصُّوْرِ فَتَاْتُوْنَ اَفْوَاجًاۙ 18
18. এখন শুধু শিঙ্গায় ফুৎকারের অপেক্ষা। সেদিন দলে দলে তোমরা হাজির হয়ে যাবে।
وَّ فُتِحَتِ السَّمَآءُ فَكَانَتْ اَبْوَابًاۙ 19
19. পুরো আকাশকে খুলে দেয়া হবে। ফলে দৃশ্যত তা দিগন্ত জোড়া দরজার পর দরজায় পরিণত হবে।
وَّ سُیِّرَتِ الْجِبَالُ فَكَانَتْ سَرَابًاؕ 20
20. বিশাল বিশাল পাহাড়-পর্বতগুলো মরীচিকার ন্যায় উধাও হয়ে যাবে।
اِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتْ مِرْصَادًا۪ۙ 21
21. আসলে জাহান্নাম ওদের জন্য ওঁৎ পেতে আছে।
لِّلطَّاغِیْنَ مَاٰبًاۙ 22
22. দেখামাত্র এসব সীমালঙ্ঘনকারীদের নিজের পেটে পুরে নেবে।
لّٰبِثِیْنَ فِیْهَاۤ اَحْقَابًاۚ 23
23. আহ! যুগ যুগ ধরে ওরা সেখানে পড়ে থাকবে।
لَا یَذُوْقُوْنَ فِیْهَا بَرْدًا وَّ لَا شَرَابًاۙ 24
24. ওরা সেখানে না কোনো ঠান্ডা আবহাওয়া পাবে, আর না তৃষ্ণা নিবারণের জন্য একটু পানি।
اِلَّا حَمِیْمًا وَّ غَسَّاقًاۙ 25
25. ওরা কেবল পুঁজ ও ফুটন্ত আঠালো পানিই পাবে।
جَزَآءً وِّفَاقًاؕ 26
26. হ্যাঁ! এটাই হবে ওদের পাপের উপযুক্ত প্রতিফল।
اِنَّهُمْ كَانُوْا لَا یَرْجُوْنَ حِسَابًاۙ 27
27. ওরা আশা করেনি যে, একদিন না একদিন আমার কাছে হিসাব দিতেই হবে।
وَّ كَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا كِذَّابًاؕ 28
28. তাই ওরা একরোখাভাবে আমার সত্যবাণীকে প্রত্যাখ্যান করে চলেছিলো।
وَ كُلَّ شَیْءٍ اَحْصَیْنٰهُ كِتٰبًاۙ 29
29. অথচ ওদের প্রতিটি কাজকর্মই আমি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংরক্ষণ করেছি।
فَذُوْقُوْا فَلَنْ نَّزِیْدَكُمْ اِلَّا عَذَابًا۠ 30
30. কাজেই যে পাপ তোমরা কামিয়েছো, আজ তার মজা বোঝো। এখানে তোমাদের আযাব ছাড়া আর কিছুই বাড়ানো হবে না।
اِنَّ لِلْمُتَّقِیْنَ مَفَازًاۙ 31
31. অন্যদিকে মুত্তাকী বান্দারা সেদিন সাফল্যের চূড়ায় থাকবে।
حَدَآئِقَ وَ اَعْنَابًاۙ 32
32. সেখানে তাদের জন্য থাকবে আঙুর ও ফুলে-ফলে শোভিত বাগান।
وَّ كَوَاعِبَ اَتْرَابًاۙ 33
33. থাকবে সমবয়স্কা সমুজ্জ্বল সাথিরা।
وَّ كَاْسًا دِهَاقًاؕ 34
34. এবং উচ্ছসিত সুখের পানপাত্র।
لَا یَسْمَعُوْنَ فِیْهَا لَغْوًا وَّ لَا كِذّٰبًاۚ 35
35. সেখানে তাদের সাথে কেউ আজে-বাজে বা মিথ্যা কথা বলবে না।
جَزَآءً مِّنْ رَّبِّكَ عَطَآءً حِسَابًاۙ 36
36. তোমার রবের পক্ষ থেকে এটাই হবে তাদের জন্য যথোচিত দান ও পূর্ণমাত্রার পুরস্কার।
رَّبِّ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ مَا بَیْنَهُمَا الرَّحْمٰنِ لَا یَمْلِكُوْنَ مِنْهُ خِطَابًاۚ 37
37. দয়াময় আল্লাহ। তিনিই মহাকাশ ও পৃথিবী এবং এর মধ্যবর্তী সব কিছুর রব। সেদিন তাঁর সামনে কারও কথা বলার শক্তি থাকবে না ।
یَوْمَ یَقُوْمُ الرُّوْحُ وَ الْمَلٰٓئِكَةُ صَفًّا ۙۗؕ لَّا یَتَكَلَّمُوْنَ اِلَّا مَنْ اَذِنَ لَهُ الرَّحْمٰنُ وَ قَالَ صَوَابًا 38
38. সেদিন জিবরিলসহ সকল ফেরেশতা সারিবদ্ধ হয়ে নিরবে দাঁড়িয়ে থাকবে। দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দিবেন, সেই কেবল কথা বলবে এবং যথার্থ সত্য বলবে।
ذٰلِكَ الْیَوْمُ الْحَقُّ ۚ فَمَنْ شَآءَ اتَّخَذَ اِلٰی رَبِّهٖ مَاٰبًا 39
39. কিয়ামত অবশ্যই আসবে। এটাই চূড়ান্ত সত্য। সুতরাং এখন যার ইচ্ছা আপন রবের দিকে ফেরার পথ ধরুক।
اِنَّاۤ اَنْذَرْنٰكُمْ عَذَابًا قَرِیْبًا ۖۚ۬ یَّوْمَ یَنْظُرُ الْمَرْءُ مَا قَدَّمَتْ یَدٰهُ وَ یَقُوْلُ الْكٰفِرُ یٰلَیْتَنِیْ كُنْتُ تُرٰبًا۠ 40
40. হে মানুষ, আমি তোমাদের সতর্ক করছি। শাস্তি খুব কাছেই এসে গেছে। সেদিন প্রত্যেকেই তার বিগত দিনের সকল কৃতকর্ম চোখের সামনে দেখতে পাবে। আহ! সেদিন কাফেরেরা আর্তনাদ করে বলতে থাকবে, হায়! হায়! আমি যদি স্রেফ ধূলামাটি হতাম।