79. আন-নাযি'আত

وَ النّٰزِعٰتِ غَرْقًاۙ 1
1. কসম ফেরেশতাদের, তারা খুব নির্মমভাবে সত্যত্যাগীদের জান কবজ করে।
وَّ النّٰشِطٰتِ نَشْطًاۙ 2
2. তবে সত্যপন্থীদের জান আস্তে আস্তে বের করে নেয়।
وَّالسّٰبِحٰتِ سَبْحًاۙ 3
3. তারা এ মহাবিশ্বে তীব্র গতিতে সাতরে চলছে।
فَالسّٰبِقٰتِ سَبْقًاۙ 4
4. তারা নিজ দায়িত্ব পালনে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলে।
فَالْمُدَبِّرٰتِ اَمْرًاۘ 5
5. আর এভাবেই তারা আল্লাহর হুকুমগুলো বাস্তবায়ন করে।
یَوْمَ تَرْجُفُ الرَّاجِفَةُۙ 6
6. হ্যাঁ! এসবের মতো কিয়ামতও সত্য। সেদিন প্রথম শিঙ্গা ধ্বনিতেই সবকিছু ভেঙ্গে খান-খান হয়ে যাবে।
تَتْبَعُهَا الرَّادِفَةُؕ 7
7. তারপর আসবে শিঙ্গার দ্বিতীয় বজ্রনিনাদ।
قُلُوْبٌ یَّوْمَئِذٍ وَّاجِفَةٌۙ 8
8. সেদিন অনেক হৃদয় ভয়ে থরথর করে কাঁপতে থাকবে।
اَبْصَارُهَا خَاشِعَةٌۘ 9
9. ভয়ে তাদের দৃষ্টি ভীত বিহ্বল-অবনত হয়ে রবে।
یَقُوْلُوْنَ ءَاِنَّا لَمَرْدُوْدُوْنَ فِی الْحَافِرَةِؕ 10
10. ওরা বলে! সত্যিই কি আমাদেরকে আগের অবস্থায় পুনর্জীবিত করা হবে?
ءَاِذَا كُنَّا عِظَامًا نَّخِرَةًؕ 11
11. পঁচে-গলে সব হাড্ডিতে পরিণত হয়ে যাবার পরও?
قَالُوْا تِلْكَ اِذًا كَرَّةٌ خَاسِرَةٌۘ 12
12. ওরা বলতে থাকে, তাই যদি হয়, তবে তো সে পুনর্জীবন হবে বড়ই সর্বনাশের!
فَاِنَّمَا هِیَ زَجْرَةٌ وَّاحِدَةٌۙ 13
13. অথচ এটা করতে শুধু একটা বিকট আওয়াজই যথেষ্ট।
فَاِذَا هُمْ بِالسَّاهِرَةِؕ 14
14. মুহূর্তের মধ্যেই ওরা সবাই হাশরের ময়দানে জমা হয়ে যাবে।
هَلْ اَتٰىكَ حَدِیْثُ مُوْسٰیۘ 15
15. হে নবী, তুমি কি মুসার সেই কাহিনী জানো?
اِذْ نَادٰىهُ رَبُّهٗ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًیۚ 16
16. শোনো, এক সময় মুসাকে তার রব পবিত্র তুয়া উপত্যকায় ডেকে বললেন,
اِذْهَبْ اِلٰی فِرْعَوْنَ اِنَّهٗ طَغٰیؗۖ 17
17. ফেরাউনের কাছে যাও। সে আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে।
فَقُلْ هَلْ لَّكَ اِلٰۤی اَنْ تَزَكّٰیۙ 18
18. তাকে গিয়ে বলো, তোমার কি শোধরানোর কোনো ইচ্ছে আছে?
وَ اَهْدِیَكَ اِلٰی رَبِّكَ فَتَخْشٰیۚ 19
19. যদি চাও, তবে আমি তোমায় মহান রবের পথ দেখাতে পারি। ফলে তুমি তাঁর আযাবকে ভয় করবে।
فَاَرٰىهُ الْاٰیَةَ الْكُبْرٰیؗۖ 20
20. এরপর মুসা ফেরাউনকে একের পর এক অলৌকিক নিদর্শন দেখালো।
فَكَذَّبَ وَعَصٰیؗۖ 21
21. কিন্তু ফেরাউন সবগুলোকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করলো। সে অবাধ্যতা আরো বাড়িয়ে দিলো।
ثُمَّ اَدْبَرَ یَسْعٰیؗۖ 22
22. সে চালবাজি করার নিয়তে মুসাকে কয়েকদিনের সময় দিলো।
فَحَشَرَ فَنَادٰیؗۖ 23
23. তারপর সে জাতির লোকদের সমবেত করে দম্ভভরে ঘোষণা করলো,
فَقَالَ اَنَا رَبُّكُمُ الْاَعْلٰیؗۖ 24
24. আমি তোমাদের সবচেয়ে বড় খোদা।
فَاَخَذَهُ اللّٰهُ نَكَالَ الْاٰخِرَةِ وَ الْاُوْلٰیؕ 25
25. অবশেষে আল্লাহ ওকে দুনিয়া ও আখেরাতের কঠিন আযাবে পাকড়াও করলেন।
اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَعِبْرَةً لِّمَنْ یَّخْشٰی ؕ۠ 26
26. কাজেই যে আল্লাহকে ভয় করে, তার জন্য এ ঘটনায় অনেক শিক্ষা রয়েছে।
ءَاَنْتُمْ اَشَدُّ خَلْقًا اَمِ السَّمَآءُ ؕ بَنٰىهَاۥ 27
27. হে মানুষ, ভেবে দেখো, তোমাদের সৃষ্টি করা বেশি কঠিন, নাকি ঐ আকাশটাকে বানানো?
رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوّٰىهَاۙ 28
28. চেয়ে দেখো, আল্লাহ আকাশটাকে ছাদের মতো উঁচু করে রেখেছেন, সুবিন্যস্ত করেছেন।
وَ اَغْطَشَ لَیْلَهَا وَ اَخْرَجَ ضُحٰىهَا۪ 29
29. তিনি রাতকে করেছেন অন্ধকারচ্ছন্ন এবং দিনকে করেছেন আলোকজ্জ্বল।
وَ الْاَرْضَ بَعْدَ ذٰلِكَ دَحٰىهَاؕ 30
30. ভাবো! তিনি জমিনকে বিছানার মতো সমতল করেছেন।
اَخْرَجَ مِنْهَا مَآءَهَا وَ مَرْعٰىهَا۪ 31
31. জমিন থেকে উৎসারিত করেছেন ঝর্নাধারা এবং তাতে তৈরি করেছেন চারণভূমি।
وَ الْجِبَالَ اَرْسٰىهَاۙ 32
32. এবং পাহাড়-পর্বতগুলো জমিনের বুকে গেড়ে দিয়েছেন।
مَتَاعًا لَّكُمْ وَ لِاَنْعَامِكُمْؕ 33
33. আর এ জমিনে তোমাদের ও তোমাদের গৃহপালিত পশুর জীবিকার সকল বন্দবস্তও করেছেন।
فَاِذَا جَآءَتِ الطَّآمَّةُ الْكُبْرٰیؗۖ 34
34. অতঃপর যখন সত্যিই কিয়ামতের সেই মহাবিপর্যয় ঘটবে,
یَوْمَ یَتَذَكَّرُ الْاِنْسَانُ مَا سَعٰیۙ 35
35. তখন প্রত্যেক মানুষই অতীত কৃতকর্ম স্মরণ করতে থাকবে।
وَ بُرِّزَتِ الْجَحِیْمُ لِمَنْ یَّرٰی 36
36. সে সময় প্রত্যেক অপরাধীই চোখের সামনে জাহান্নামকে দেখতে পাবে।
فَاَمَّا مَنْ طَغٰیۙ 37
37. আসলে যে সীমালঙ্ঘন করেছে
وَ اٰثَرَ الْحَیٰوةَ الدُّنْیَاۙ 38
38. এবং পার্থিব জীবনের ভোগ-বিলাসকেই বেছে নিয়েছে,
فَاِنَّ الْجَحِیْمَ هِیَ الْمَاْوٰیؕ 39
39. জাহান্নামই হবে ওদের শেষ ঠিকানা।
وَ اَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهٖ وَ نَهَی النَّفْسَ عَنِ الْهَوٰیۙ 40
40. অপরদিকে যারা আপন রবের দরবারে হাজির হওয়ার ভয়ে সর্বদা ভীত ছিলো এবং সে কারণে নিজের প্রবৃত্তির কামনা-বাসনাকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলো,
فَاِنَّ الْجَنَّةَ هِیَ الْمَاْوٰیؕ 41
41. জান্নাতই হবে তাদের আবাস।
یَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ السَّاعَةِ اَیَّانَ مُرْسٰىهَاؕ 42
42. হে নবী, এসব সত্য অস্বীকারকারীরা তোমায় জিজ্ঞেস করে, কখন আসবে সেই কিয়ামত?
فِیْمَ اَنْتَ مِنْ ذِكْرٰىهَاؕ 43
43. কিয়ামতের দিনক্ষণ বলার সাথে তোমার কী সম্পর্ক!
اِلٰی رَبِّكَ مُنْتَهٰىهَاؕ 44
44. এর জ্ঞান তো একমাত্র তোমার রবের কাছে রয়েছে।
اِنَّمَاۤ اَنْتَ مُنْذِرُ مَنْ یَّخْشٰىهَاؕ 45
45. তুমি তো শুধু একজন সতর্ককারী মাত্র। অবশ্য তোমার কথা কেবল আল্লাহভীরুদেরই কাজে আসবে।
كَاَنَّهُمْ یَوْمَ یَرَوْنَهَا لَمْ یَلْبَثُوْۤا اِلَّا عَشِیَّةً اَوْ ضُحٰىهَا۠ 46
46. যেদিন ওরা সত্যিই কিয়ামতের মুখোমুখি হবে, সেদিন ওদের মনে হবে, ওরা পৃথিবীতে মাত্র একটা সন্ধ্যা বা একটা সকাল পার করে এসেছে।